Tag: Bengali news

Bengali news

  • Ramakrishna 672: “সব ত্যাগ করেছে! কেদার নরেন্দ্রকে বলেছিল, এখন তর্ক কর বিচার কর, কিন্তু শেষে হরিনামে গড়াগড়ি দিতে হবে”

    Ramakrishna 672: “সব ত্যাগ করেছে! কেদার নরেন্দ্রকে বলেছিল, এখন তর্ক কর বিচার কর, কিন্তু শেষে হরিনামে গড়াগড়ি দিতে হবে”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    পঞ্চবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২৩শে – ২৪শে এপ্রিল

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও নরেন্দ্রাদি ভক্তের মজলিশ

    সুরেন্দ্র, শরৎ, শশী, লাটু, নিত্যগোপাল, কেদার, গিরিশ, রাম, মাস্টার 

    বৈকাল হইয়াছে। উপরের হলঘরে অনেকগুলি ভক্ত বসিয়া আছেন। নরেন্দ্র, শরৎ, শশী, লাটু, নিত্যগোপাল, কেদার, গিরিশ, রাম, মাস্টার, সুরেশ অনেকেই আছেন।

    সকলের অগ্রে নিত্যগোপাল আসিয়াছেন ও ঠাকুরকে দেখিবামাত্র তাঁহার চরণে মস্তক দিয়া বন্দনা করিয়াছেন। উপবেশনানন্তর নিত্যগোপাল বালকের ন্যায় বলিতেছেন (Kathamrita) কেদারবাবু এসেছে।

    কেদার অনেকদিন পরে ঠাকুরকে (Ramakrishna) দেখিতে আসিয়াছিলেন। তিনি বিষয়কর্ম উপলক্ষে ঢাকায় ছিলেন। সেখানে ঠাকুরের অসুখের কথা শুনিয়া আসিয়াছেন। কেদার ঘরে প্রবেশ করিয়াই ঠাকুরের ভক্তসম্ভাষণ দেখিতেছেন।

    কেদার ঠাকুরের পদধূলি নিকে মস্তকে গ্রহণ করিলেন ও আনন্দে সেই ধূলি লইয়া সকলেকে বিতরণ করিতেছেন। ভক্তেরা মস্তক অবনত করিয়া সেই ধূলি গ্রহণ করিতেছেন।

    শরৎকে দিতে যাইতেছেন, এমন সময় তিনি নিজেই ঠাকুরের চরণধূলি লইলেন। মাস্টার হাসিলেন। ঠাকুরও মাস্টারের দিকে চাহিয়া হাসিলেন। ভক্তেরা নিঃশব্দে বসিয়া আছেন। ঠাকুরের ভাব-লক্ষণ দেখা যাইতেছে। মাঝে মাযে নিঃশ্বাস ত্যাগ করিতেছেন, যেন ভাব চাপিতেছেন। অবশেষে কেদারকে ইঙ্গিত করিতেছেন—গিরিশ ঘোষের সহিত তর্ক কর। গিরিশ কান-নাক মলিতেছেন আর বলিতেছেন, “মহাশয় নাক-কান মলছি! আগে জানতাম না, আপনি কে! তখন তর্ক করেছি; সে এক!” (ঠাকুরের হাস্য)

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) নরেন্দ্রের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া কেদারকে দেখাইতেছেন ও বলিতেছেন, “সব ত্যাগ করেছে! (ভক্তদের প্রতি) কেদার নরেন্দ্রকে বলেছিল, এখন তর্ক কর বিচার কর, কিন্তু শেষে হরিনামে গড়াগড়ি দিতে হবে। (নরেন্দ্রের প্রতি) — কেদারের পায়ের ধুলা নাও।”

    কেদার (নরেন্দ্রকে) — ওঁর পায়ের ধুলা নাও; তাহলেই হবে।

    সুরেন্দ্র ভক্তদের পশ্চাতে বসিয়া আছেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ঈষৎ হাস্য করিয়া তাঁহার দিকে তাকাইলেন। কেদারকে বলিতেছেন (Kathamrita), আহা, কি স্বভাব! কেদার ঠাকুরের ইঙ্গিত বুঝিয়া সুরেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হইয়া বসিলেন।

  • Ramakrishna 671: “কি আশ্চর্য! এত বৎসর পড়ে তবু বিদ্যা হয় না; কি করে লোকে বলে যে, দু-তিনদিন সাধন করেছি, ভগবানলাভ হবে!”

    Ramakrishna 671: “কি আশ্চর্য! এত বৎসর পড়ে তবু বিদ্যা হয় না; কি করে লোকে বলে যে, দু-তিনদিন সাধন করেছি, ভগবানলাভ হবে!”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    চতুর্বিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২৩শে এপ্রিল
    মাস্টার, নরেন্দ্র, শরৎ প্রভৃতি

    মাস্টার ঠাকুরের কাছে বসিয়া। হীরানন্দ এইমাত্র চলিয়া গেলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — খুব ভাল; না?

    মাস্টার — আজ্ঞা হাঁ; স্বভাবটি বড় মধুর।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — বললে এগার শো ক্রোশ। অত দূর থেকে দেখতে এসেছে।

    মাস্টার — আজ্ঞা হাঁ, খুব ভালবাসা না থাকলে এরূপ হয় না।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — বড় ইচ্ছা, আমায় সেই দেশে নিয়ে যায়।

    মাস্টার — যেতে বড় কষ্ট হবে। রেলে ৪।৫ দিনের পথ।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Kathamrita)— তিনটে পাস!

    মাস্টার — আজ্ঞে, হাঁ।

    ঠাকুর একটু শ্রান্ত হইয়াছেন। বিশ্রাম করিবেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—পাখি খুলে দাও আর মাদুরটা পেতে দাও।

    ঠাকুর খড়খড়ির পাখি খুলিয়া দিতে বলিতেছেন। আর বড় গরম, তাই বিছানার উপর মাদুর পাতিয়া দিতে বলিতেছেন।

    মাস্টার হাওয়া করিতেছেন। ঠাকুরের একটু তন্দ্রা আসিয়াছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (একটু নিদ্রার পর, মাস্টারের প্রতি) — ঘুম কি হয়েছিল?

    মাস্টার — আজ্ঞে, একটু হয়েছিল।

    নরেন্দ্র, শরৎ ও মাস্টার নিচে হলঘরের পূর্বদিকে কথা কহিতেছেন।

    নরেন্দ্র — কি আশ্চর্য! এত বৎসর পড়ে তবু বিদ্যা হয় না; কি করে লোকে বলে যে, দু-তিনদিন সাধন করেছি, ভগবানলাভ হবে! ভগবানলাভ কি এত সোজা! (শরতের প্রতি) তোর শান্তি হয়েছে; মাস্টার মহাশয়ের শান্তি হয়েছে, আমার কিন্তু হয় নাই।

    মাস্টার (Kathamrita) — তাহলে তুমি বরং জাব দাও, আমরা রাজবাড়ি যাই; না হয় আমরা রাজবাড়ি যাই আর তুমি জাব দাও! (সকলের হাস্য)

    নরেন্দ্র (সহাস্যে) — ওই গল্প উনি (পরমহংসদেব) শুনেছিলেন — আর শুনতে শুনতে হেসেছিলেন।

  • Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) দু’টি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচনের ফল বেরল। একটি আসনে জয়ী হয়েছেন এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানি। অন্য আসনটি দখল করেছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)। জয়ী হয়েছেন বৈদ্যনাথ রাম। ভোটগ্রহণে ক্রস-ভোটিংয়ের (Cross Voting) অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    পরাজিত কংগ্রেস (Jharkhand)

    পরিমল কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝাকে পরাজিত করেছেন। আর বৈদ্যনাথ জয়ী হয়েছেন নির্ধারিত আসনে। নির্বাচনের ফল বেরলে দেখা যায়, পরিমল মোট ২৮টি ভোট পেয়েছেন। অথচ ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট বিধায়কের সংখ্যা ২৪। এই অতিরিক্ত চারটি ভোট কোথা থেকে এল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে ক্রস-ভোটিংয়ের জল্পনা। পরিমলের কাছে হেরে গিয়েছেন কংগ্রেসের প্রার্থী প্রণব। তিনি পেয়েছেন মাত্র ২০টি ভোট। অন্য আসনে জেএমএম প্রার্থী বৈদ্যনাথ নির্বাচিত হয়েছে ৩০টি ভোট পেয়ে। নির্বাচন পরিচালনাকারী এক আধিকারিকের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির দুই এবং কংগ্রেসের এক বিধায়কের ভোট অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    ভোটের অঙ্ক

    ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট ২৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এর মধ্যে বিজেপির ২১ জন, এবং এলজেপি (রামবিলাস), আজসু পার্টি এবং জেডিইউয়ের একজন করে বিধায়ক রয়েছেন। আর, ইন্ডিয়া জোটের মোট ৫৬ জন বিধায়কের মধ্যে জেএমএমের ৩৪, কংগ্রেসের ১৬, আরজেডির ৪ এবং সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ২ জন সদস্য রয়েছেন। ভোটের আগে এনডিএ তাদের বিধায়কদের রাঁচির একটি হোটেলে রাখায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিরোধী শিবিরের তরফে বিধায়ক ভাঙানোর আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছিল। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব শুরু থেকেই দাবি করেছিলেন, এনডিএ সমর্থিত প্রার্থীই জয়ী হবেন (Jharkhand)।

    ক্রস-ভোটিং!

    ঝাড়খণ্ডে এ বার প্রার্থীদের জিততে হলে প্রয়োজন ছিল ২৮ জন করে বিধায়কের সমর্থন। এর মধ্যে ‘ইন্ডি’ জোটের পক্ষে ছিল ৫৬ জনের সমর্থন। যার মধ্যে রয়েছেন জেএমএমের ৩৪ জন, কংগ্রেসের ১৬ জন, আরজেডির ৪ জন, এবং সিপিআই (এমএল)-এর ২জন বিধায়ক। নির্বাচনে জেএমএমের বৈদ্যনাথ পেয়েছেন ৩০টি প্রথম পছন্দের ভোট। তাদের সহযোগী কংগ্রেসের প্রণব পেয়েছেন ২০টি। অথচ ‘ইন্ডি’ জোটের ৫৬ জন বিধায়ক ছিলেন। সেই হিসেবে জেএমএমের প্রার্থী ৩০টি ভোট পেলে, কংগ্রেস প্রার্থীর পাওয়ার কথা ছিল ২৬টি। উল্লেখ্য (Cross Voting), জেএমএমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেনের মৃত্যুর কারণে রাজ্যসভার একটি আসন শূন্য হয়েছিল। আর, বিজেপি সাংসদ দীপক প্রকাশের মেয়াদ শেষ হবে ২১ জুন। তাই নির্বাচন হয়েছে সেই আসনেও (Jharkhand)।

     

  • CID: কালীঘাটে ফের সিআইডি হানা, এবার অভিষেকের অন্য এক পিসির দুয়ারে গোয়েন্দারা

    CID: কালীঘাটে ফের সিআইডি হানা, এবার অভিষেকের অন্য এক পিসির দুয়ারে গোয়েন্দারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ফের হানা সিআইডির। বৃহস্পতিবার দুপুরে আচমকাই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee Relative) বোন রিনা গায়েন ওরফে নান্টির বাড়িতে পৌঁছন সিআইডির (CID) আধিকারিকরা। ঘণ্টাখানেক ধরে চলে তল্লাশি। দুপুর ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ শুরু হওয়া এই অভিযান শেষ হয় বিকেল ৩টের খানিক আগে।

    অভিষেকের বিতর্কিত মন্তব্য (CID)

    সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তেই এই পদক্ষেপ করেছে সিআইডি। অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারে অভিষেক বলেছিলেন, “৪ মে গণনার পর ডিজে বাজানো হবে”, যা উসকানিমূলক মন্তব্য হিসেবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৯/ডি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দা রিনা। তাঁর মেয়ে অদিতি গায়েনকে বিভিন্ন সময় তৃণমূলের কর্মসূচিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। তিনি দলের সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত কার্যকলাপের সঙ্গেও যুক্ত বলে খবর।

    এর আগেও কালীঘাটে হানা দিয়েছে সিআইডি

    এদিন যে বাড়িতে হানা দিল সিআইডি, সেটি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার কালীঘাটের বাসভবন থেকে প্রায় ২৫০ মিটার দূরে। যদিও অভিষেকের মন্তব্য সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে মমতার বোন বা বোনঝির কী সম্পর্ক, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর আগেও একাধিক মামলায় অভিষেকের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে সিআইডি। বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে একাধিকবার হাজিরাও দিতে হয়েছে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডকে। সেই মামলায় দু’দিন এবং উসকানিমূলক মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় একদিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দিন কয়েক আগেই অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে খুঁজতে গভীর রাতে কালীঘাটে অভিযান চালিয়েছিল শালবনি থানার পুলিশ। তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকলেও, তাঁর সন্ধান মেলেনি। এবার ওই একই এলাকায় অভিষেকের আর এক পিসির বাড়িতে সিআইডি আধিকারিকদের হাজিরা, নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে (CID)।

    সই জালিয়াতিকাণ্ড

    প্রসঙ্গত, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে জমা পড়া একটি রেজোলিউশন ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। এই রেজোলিউশনকে কেন্দ্র করেই হাটে ভাঙে সই জালিয়াতির অভিযোগের হাঁড়ি। অভিযোগ, কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। অভিষেকের পাশাপাশি এই মামলায় সিআইডি জেরা করেছে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে মদন মিত্র-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতাকে। এদিকে, এদিন রাজ্যপালের ভাষণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে গিয়ে দেখা করেন মমতাপন্থী (Mamata Banerjee Relative) তৃণমূলের পাঁচ বিধায়ক। এঁরা হলেন, কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, আলিফা আহমেদ এবং অশোক দেব। বেশ কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা (CID)।

     

  • Operation Tiger: ‘অপারেশন টাইগার’ ঘিরে ফের জল্পনা মহারাষ্ট্রে, ভাঙনের আশঙ্কা উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায়

    Operation Tiger: ‘অপারেশন টাইগার’ ঘিরে ফের জল্পনা মহারাষ্ট্রে, ভাঙনের আশঙ্কা উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন টাইগারে’র (Operation Tiger) পর বুধবার মহারাষ্ট্রের রাজনীতির আকাশে নতুন করে জমেছে ঘোর অনিশ্চয়তার মেঘ। পুনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি ছয়লাপ ‘শুধু অপেক্ষা করুন এবং দেখুন’ লেখা পোস্টারে। এই ঘটনাই শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে (ইউবিটি) গোষ্ঠীর (Uddhav Thackeray) মধ্যে আরও এবার ভাঙনের জল্পনা উসকে দিয়েছে।এই পোস্টারগুলি এমন একটা সময়ে দেখা গেল, যখন শিবসেনার (ইউবিটি) কয়েকজন সাংসদ দল থেকে বেরিয়ে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট বাঁধার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    ‘অপারেশন টাইগার’ (Operation Tiger)

    যদিও কোনও শিবিরের পক্ষ থেকেই এখনও এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা হয়নি, তবে পোস্টারগুলি এখন রাজনৈতিক মহলে ‘অপারেশন টাইগার’ নামে পরিচিত একটি উদ্যোগের উজ্জ্বল প্রতীক হয়েই উঠেছে। এটি আদতে শিবসেনার মধ্যে আর একটি বড় ধরনের ভাঙন ধরানোর চেষ্টা। ‘অপারেশন টাইগার’ বলতে বোঝায় শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে (ইউবিটি) শিবিরের কয়েকজন সাংসদ ও বিধায়ককে যাঁদের ওই গোষ্ঠী থেকে বের করে শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় নিয়ে যাওয়ার একটি ছক।২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে বিদ্রোহ মাথা চাড়া দেয় শিবসেনায়। ভেঙে দু’খান হয়ে যায় প্রয়াত মারাঠি নেতা বালঠাকরের হাতে গড়া দল শিবসেনা। তার জেরে পতন হয় উদ্ধব ঠাকরে সরকারের।

    অশনি সঙ্কেত শিবসেনার সংসদীয় শাখায়

    তার পর এবার অশনি সঙ্কেত শিবসেনার সংসদীয় শাখায়। লোকসভায় রয়েছে শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীতে রয়েছেন ৯জন সাংসদ। এর মধ্যে ৬জনই পৃথক একটি সংসদীয় দল গঠনের পক্ষে। যদি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত হয়, তাহলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল সংসদের মধ্যে একটি স্বীকৃত আলাদ দল গঠন করা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে উদ্ধব ঠাকরের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে দেওয়া (Uddhav Thackeray)।

    নয়া গোষ্ঠীতে কারা?

    সংবাদমাধ্যমের দাবি, পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতির জন্য ইতিমধ্যেই একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে এবং ১৬ জুন সেই চিঠির নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এই গোষ্ঠীতে থাকতে পারেন বলে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁরা হলেন— সঞ্জয় দিনা পাটিল (মুম্বই উত্তর-পূর্ব), ওমরাজে নিম্বালকর (ধারাশিব), ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে (শিরডি), সঞ্জয় যাদব (পারভানি), নাগেশ পাটিল অষ্টিকার (হিঙ্গোলি), এবং সঞ্জয় দেশমুখ (যাবতমল-ওয়াশিম)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর, শিবসেনার শিন্ডে গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতারা দিল্লিতে গিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। এই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে ওই (বিদ্রোহী) সাংসদদের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সামনে হাজির হওয়ার কথা।

    এই স্বীকৃতির প্রয়োজন কী?

    প্রশ্ন হল, এই স্বীকৃতির প্রয়োজন কী? আসলে কোনও আনুষ্ঠানিক বিভাজনের আগে নীতিগত স্বীকৃতি পাওয়াটা বেশ কয়েকটি কৌশলগত উদ্দেশ্য পূরণ করে। প্রথমত, এটি শিবসেনা (ইউবিটি) নেতৃত্বের জারি করা যে কোনও হুইপের কার্যকারিতাকে দুর্বল করে দেবে। দ্বিতীয়ত, এটি দল ছেড়ে অন্য পার্টিতে যোগ দেওয়া সাংসদদের আইনি সুরক্ষা দেয়। তৃতীয়ত, দলটি যে একটি বৈধ গোষ্ঠী, এমন যুক্তিকেও জোরালো করে। উভয় শিবিরই যখন দলত্যাগ-বিরোধী আইন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে রীতিমতো আস্তিন গুটিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই শিবসেনা (ইউবিটি) দ্রুত পদক্ষেপ করে সাংসদদের সমর্থন একটাই ঝুলিতে পুরতে। দলটি তার সব সাংসদকেই নয়াদিল্লিতে একটি জরুরি সংসদীয় দলীয় সভায় যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিন লাইনের একটি হুইপ জারি করে।

    চিফ হুইপের বক্তব্য

    চিফ হুইপ অনিল দেশাই সাফ জানিয়ে দেন, প্রত্যেক সাংসদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যেসব সাংসদ দলীয় হুইপ অমান্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, মায় দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে (Operation Tiger)। উদ্ধব ঠাকরের শিবিরের পক্ষ থেকে এই বৈঠকটিকে লোকসভায় তাঁদের প্রকৃত শক্তি ঠিক কতটা, তা যাচাই করা এবং আরও একটি সাংগঠনিক বিভাজন রোধ করার গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এদিকে, দুই শিবিরেই যখন তৎপরতা তুঙ্গে, তখন জল্পনা আরও বেড়েছে দুই গোষ্ঠীর সাংসদদের আলাদা আলাদাভাবে দিল্লিতে হাজির হওয়ার ঘটনায়। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকজন সাংসদ ঘুরপথে দিল্লি গিয়েছেন। তাই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে (Operation Tiger)।

    অল দ্য রোডস…

    জানা গিয়েছে, শিবসেনার এক সাংসদ দিল্লিতে বিমানে ওঠার আগে হাদগাঁও থেকে সড়কপথে হায়দরাবাদে গিয়েছিলেন। আরও দু’জন একটি চার্টার্ড বিমানে ওঠার আগে গাড়ি চালিয়ে নান্দেদ বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। আরও এক সাংসদ মুম্বই থেকে এসেছিলেন, অন্য এক সাংসদ এসেছিলেন শিরডি থেকে (Uddhav Thackeray)। শিবসেনার প্রত্যেক সাংসদের দিল্লি যাত্রা আপাতভাবে সাধারণ মনে হলেও, একটু তলিয়ে দেখলে এটি স্পষ্ট হয়ে যায়, পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা চলা জল্পনার নেপথ্যের কারণ ঠিক কী।

    বিদ্রোহের জল্পনা ওড়ালেন শিবসেনা সাংসদ

    ক্রমবর্ধমান জল্পনার আবহে শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ রাজভাউ ওয়াজে বিদ্রোহের খবর উড়িয়ে দিয়েছেন। দিল্লি পৌঁছে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন উদ্ধবের প্রতি তাঁর সমর্থনের কথা। শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগের কথাও অস্বীকার করেছেন তিনি। ওয়াজে বলেন, “আমি উদ্ধবজির সঙ্গেই আছি, তাঁর সঙ্গেই থাকব। অন্য কারও সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ নেই। আমি কোনও ফোনও পাইনি, শিন্ডেজির পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগও করা হয়নি।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, একটি কমিটির বৈঠকে যোগ দিতেই ঝটিকা সফরে দিল্লিতে এসেছেন (Uddhav Thackeray) তিনি। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ২০২২ সালের রাজনৈতিক বিদ্রোহের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন টাইগার’ আদৌ নতুন কোনও ভাঙনের রূপ (Operation Tiger) নেয়, নাকি শুধুই রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল—সেদিকেই তাকিয়ে তামাম ভারত।

  • Abhishek Banerjee: অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের, ঘোর বিপাকে ‘ভাইপো’!

    Abhishek Banerjee: অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের, ঘোর বিপাকে ‘ভাইপো’!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গা থেকে খসে পড়ছে একের পর এক রক্ষাকবচ। ক্রমেই শিরঃপীড়া বাড়ছে তৃণমূলের সেনাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার ওপর দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। খারিজ করে দিয়েছে তাঁর আবেদনও (Defamation Case)।

    অভিষেকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা (Abhishek Banerjee)

    জানা গিয়েছে, ভোপালের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে দায়ের হওয়া একটি মানহানি মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ওই পরোয়ানার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। তবে এবার বিচারপতি প্রমোদ কুমার আগরওয়ালের সিঙ্গল বেঞ্চ সেই স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে মামলার আবেদন খারিজ করে দেয়। মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালে। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে তথা প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক আকাশ বিজয়বর্গীয় ভোপালের এমপি-এমএলএ আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আকাশকে ‘গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন তৃণমূলের ভাতিজা।

    স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

    এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভোপাল আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর আইনজীবীদের দাবি ছিল, তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এবং তাঁর পালিয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। সেই যুক্তির ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল আদালত। বুধবার এই মামলার শুনানির সময় আবেদনকারীর (পড়ুন, অভিষেকের) পক্ষে কোনও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারী সম্ভবত মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন। এরপরই আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে আবেদন খারিজ করে দেয় এবং আদেশের অনুলিপি অবিলম্বে ভোপাল আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় (Abhishek Banerjee)।

    আদালতের এহেন নির্দেশের ফলে আইনিভাবে অভিষেকের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার পথ ফের খুলে গেল বলেই মনে করছে আইনজ্ঞদের একাংশ (Defamation Case)। রাজনৈতিক মহলেও এই রায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে (Abhishek Banerjee)।

  • Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত যদি কখনও হামলার শিকার হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়াবে”, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই আশ্বাস দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে করেন যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানেই ভারতের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এহেন বার্তা থেকেই স্পষ্ট, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বরফ ফের গলছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন করে মজবুত করারই ইঙ্গিত।

    ভারতের পাশে থাকার বার্তা (Donald Trump)

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, ভারত ও আমেরিকা এই দুই দেশের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। তা সত্ত্বেও ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। কিন্তু ভারত আক্রান্ত হলে আমরা অবশ্যই সাহায্য করতে এগিয়ে আসব।” তাঁর এই মন্তব্যকে ভারতের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম শক্তিশালী প্রকাশ্য নিরাপত্তা আশ্বাস হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, মোদি বিশ্বের অন্যতম কঠিনতম নেতা এবং সবসময় ভারতের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেন।

    ‘উনি দেবদূতের মতো’

    ট্রাম্পের (Donald Trump) কথায়, “উনি খুবই ভদ্র মানুষ। কিন্তু অত্যন্ত কঠোর এক নেতা, যিনি সব সময় নিজের দেশের মানুষের জন্য লড়াই করেন।” তিনি বলেন, “মোদি যেমন ধীরস্থির, শান্ত এবং একই সঙ্গে কঠোর…আমি কিন্তু ওরকম নই!” ‘দেখতে দেবদূতের মতো’ এই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্পের গলায় বারবার শোনা গিয়েছে মোদি-প্রশস্তি। কথা প্রসঙ্গে এক সময় রসিকতার সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, মোদির শান্ত ও নম্র চেহারার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অত্যন্ত দৃঢ় এক নেতৃত্বের গুণ।তিনি বলেন, “উনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) দেখতে খুবই ভালো। দেখতে দারুণ লাগে, যেন সাক্ষাৎ দেবদূত। তবে, প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ করতে পিছপা হন না। কিন্তু এত সুন্দর দেখতে যে সবাই চমকে যান। এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়। উনি ভারতীয়দের যেমন ভালবাসেন, আমেরিকাকেও ভালবাসেন। হিউস্টনে ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান হয়েছিল। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়াম। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ফের ভারত সফরে যাব কখনও”।

    স্মৃতির সুখসাগরে ডুব ট্রাম্পের

    এর পরেই স্মৃতির সুখসাগরে ডুব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর (Donald Trump) ভারত সফরের কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জানান, সেই সফরে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে দিয়েছিল দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা (PM Modi)। আবারও একবার মোদির প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “উনি বেশ কঠোর।…তবে, একবার মানুষটির দিকে তাকান। অত্যন্ত সুন্দর দেখতে।” ট্রাম্পের (Donald Trump) এই মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির রোল পড়ে যায়।

    উষ্ণ বার্তা

    সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত এবং আমেরিকা দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ভারত সরকার ওই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অসামরিক নৌযান ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। এই ঘটনার পর ভারতকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করার চেষ্টা বলেই মত বিশ্লেষকদের।

    সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

    দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সরবরাহ শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলেই খবর। এছাড়াও, ভারত-আমেরিকার মধ্যে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প (PM Modi)।

    হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী সবসময় নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা জরুরি।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের সামুদ্রিক খাতে কর্মরত নাবিকদের প্রায় ১০ শতাংশই (Donald Trump) ভারতীয় এবং তাঁদের নিরাপত্তা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    আমেরিকায় ভারতের লগ্নিরও প্রশংসা

    ট্রাম্প ভারতের অর্থনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে, যা দুই দেশেরই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিনের বন্ধু। তাঁর সঙ্গে আবার দেখা হওয়া খুবই আনন্দের।”

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যে শেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (PM Modi) হয়েছিল। পরবর্তীকালে শুল্কনীতি ও ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে কিছু মতপার্থক্য তৈরি হলেও, সাম্প্রতিক এই বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে (Donald Trump) আরও এগিয়ে নেওয়ারই বার্তা দিয়েছে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের।

     

  • Ramakrishna 670: “ঠাকুর শুনিয়া বড় দুঃখিত হইলেন, আর বার বার তাঁহাকে বলিতেছেন, জলখাবার খাবে?”

    Ramakrishna 670: “ঠাকুর শুনিয়া বড় দুঃখিত হইলেন, আর বার বার তাঁহাকে বলিতেছেন, জলখাবার খাবে?”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    ত্রয়োবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২৩শে এপ্রিল

    প্রবৃত্তি না নিবৃত্তি? হীরানন্দকে উপদেশ — নিবৃত্তিই ভাল

    হীরানন্দ ঠাকুরের (Ramakrishna) পায়ে হাত বুলাইতেছেন। কাছে মাস্টার বসিয়া আছেন। লাটু ও আর দু-একটি ভক্ত ঘরে মাঝে মাঝে আসিতেছেন। শুক্রবার, ২৩শে এপ্রিল, ১৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দ। আজ গুড্‌ ফ্রাইডে, বেলা প্রায় দুই প্রহর একটা হইয়াছে। হীরানন্দ আজ এখানেই অন্নপ্রসাদ পাইয়াছেন। ঠাকুরের একান্ত ইচ্ছা হইয়াছিল যে, হীরানন্দ এখানে থাকেন।

    হীরানন্দ পায়ে হাত বুলাইতে বুলাইতে ঠাকুরের সহিত কথা কহিতেছেন। সেই মিষ্ট কথা আর মুখ হাসি হাসি। যেন বালককে বুঝাইতেছেন। ঠাকুর অসুস্থ। ডাক্তার সর্বদা দেখিতেছেন।

    হীরানন্দ — তা অত ভাবেন কেন? ডাক্তারে বিশ্বাস করলেই নিশ্চিন্ত। আপনি তো বালক।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) — ডাক্তারে বিশ্বাস কই? সরকার (ডাক্তার) বলেছিল, “সারবে না”।

    হীরানন্দ — তা অত ভাবনা কেন? যা হবার হবে।

    মাস্টার (হীরানন্দের প্রতি, জনান্তিকে) — উনি আপনার জন্য ভাবছেন না। ওঁর শরীররক্ষা ভক্তের জন্য।

    বড় গ্রীষ্ম। আর মধ্যাহ্নকাল। খসখসের পর্দা টাঙ্গানো হইয়াছে। হীরানন্দ উঠিয়া পর্দাটি ভাল করিয়া টাঙ্গাইয়া দিতেছেন। ঠাকুর দেখিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) হীরানন্দের প্রতি) — তবে পাজামা পাঠিয়ে দিও।

    হীরানন্দ বলিয়াছেন, তাদের দেশের পাজামা পরিলে ঠাকুর আরামে থাকিবেন। তাই ঠাকুর স্মরণ করাইয়া দিতেছেন, যেন তিনি পাজামা পাঠাইয়া দেন।

    হীরানন্দের খাওয়া ভাল হয় নাই (Kathamrita)। ভাত একটু চাল চাল ছিল। ঠাকুর শুনিয়া বড় দুঃখিত হইলেন, আর বার বার তাঁহাকে বলিতেছেন, জলখাবার খাবে? এত অসুখ, কথা কহিতে পারিতেছেন না; তথাপি বারবার জিজ্ঞাসা করিতেছেন।

    আবার লাটুকে জিজ্ঞাসা করিতেছেন, তোদেরও কি ওই ভাত খেতে হয়েছিল?

    ঠাকুর কোমড়ে কাপড় রাখিতে পারিতেছেন না। প্রায় বালকের মতো দিগম্বর হইয়াই থাকেন। হীরানন্দের সঙ্গে দুইটি ব্রাহ্ম ভক্ত আসিয়াছেন। তাই কাপড়খানি এক-একবার কোমরের কাছে টানিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (হীরানন্দের প্রতি) — কাপড় খুলে গেলে তোমরা কি অসভ্য বল?

    হীরানন্দ — আপনার তাতে কি? আপনি তো বালক।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Kathamrita) একটি ব্রাহ্ম ভক্ত প্রিয়নাথের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া — উনি বলেন।

    হীরানন্দ এইবার বিদায় গ্রহণ করিবেন। তিনি দু-একদিন কলিকাতায় থাকিয়া আবার সিন্ধুদেশে গমন করিবেন। সেখানে তাঁহার কাজ আছে। দুইখানি সংবাদপত্রের তিনি সম্পাদক। ১৮৮৪ খ্রীষ্টাব্দ হইতে চার বৎসর ধরিয়া ওই কার্য করিয়াছিলেন। সংবাদপত্রের নাম, সিন্ধু টাইমস্‌ (Sind Times) এবং সিন্ধু সুধার (Sind Sudhar); হীরানন্দ ১৮৮৩ খ্রীষ্টাব্দে বি. এ. উপাধি পাইয়াছিলেন। হীরানন্দ সিন্ধুবাসী। কলিকাতায় পড়াশুনা করিয়াছিলেন। শ্রীযুক্ত কেশব সেনকে সর্বদা দর্শন ও তাঁহার সহিত সর্বদা আলাপ করিতেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে কালীবাড়িতে মাঝে মাঝে আসিয়া থাকিতেন।

    হীরানন্দের পরীক্ষা—প্রবৃত্তি না নিবৃত্তি

    শ্রীরামকৃষ্ণ (হীরানন্দের প্রতি) — সেখানে নাই বা গেলে?

    হীরানন্দ (সহাস্যে) — বাঃ আর যে সেখানে কেউ নাই! আর সব যে চাকরি করি।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কি মাহিনা পাও?

    হীরানন্দ (সহাস্যে) — এ-সব কাজে কম মাহিনা।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কত?

    হীরানন্দ হাসিতে লাগিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — এখানে থাক না?

    [হীরানন্দ চুপ করিয়া আছেন।]

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কি হবে কর্মে?

    হীরানন্দ চুপ করিয়া আছেন।

    হীরানন্দ আর একটু কথাবার্তার পর বিদায় গ্রহণ করিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কবে আসবে?

    হীরানন্দ — পরশু সোমবার দেশে যাব। সোমবার সকালে এসে দেখা করব।

  • Absconding TMC Leader: কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ গ্রেফতার, পুরীতে গিয়ে ধরল এসটিএফ

    Absconding TMC Leader: কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ গ্রেফতার, পুরীতে গিয়ে ধরল এসটিএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুলিশের জালে কলকাতা পুরসভার আরও এক প্রাক্তন কাউন্সিলর (Absconding TMC Leader)। কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) পুরী থেকে গ্রেফতার করে সুশান্ত ঘোষ (Sushanta Ghosh) নামের ওই তৃণমূল নেতাকে। সূত্রের খবর, আজ, বুধবার পুরী থেকে গ্রেফতার করা হয় ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্তকে। তোলাবাজি-সহ একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।

    সুশান্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ (Absconding TMC Leader)

    সুশান্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ, হকারদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করতেন সুশান্তও। এই মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই গা-ঢাকা দেন তিনি। তাঁকে ধরতে কলকাতা পুলিশ হানা দেয় ওড়িশায়। তদন্তকারীদের দাবি, পুলিশি তল্লাশির সময় সুশান্ত রাস্তায় গাড়ি ফেলেই পালিয়ে যান। গ্রেফতার করা হয় তাঁর গাড়ির চালক সুজিত চৌধুরীকে। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের হকারদের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা তোলার অভিযোগে হকার্স কমিটির কয়েকজন সদস্য আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয় তদন্ত। সুশান্তকে ধরতে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে পুলিশ। শেষমেশ এদিন পুরী থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।

    সম্পদের পরিমাণ কয়েকশো কোটি টাকা

    প্রসঙ্গত, গত মাসে ১২ নম্বর বরো কমিটির চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন সুশান্ত। যদিও আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন কাউন্সিলর পদ। পরে মেয়র ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দিতেই ভেঙে যায় কলকাতা পুরসভার বোর্ড। প্রশাসক পদে বসানো হয় পুর-কমিশনার স্মিতা পান্ডেকে (Absconding TMC Leader)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে সুশান্তর নামে এবং বেনামে একাধিক সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁর সঙ্গে যুক্ত সম্পদের পরিমাণ কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং তোলাবাজির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়ক, নেতা এবং কাউন্সিলরের (Sushanta Ghosh) বিরুদ্ধে তদন্ত ও গ্রেফতারের ঘটনা সামনে আসছে। কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলরও ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে। এই তালিকায় (Absconding TMC Leader) নবতম সংযোজন সুশান্ত ঘোষ।

  • State Budget: বাজেটের আগে দিল্লিতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, বাড়ছে ‘চমক’ জল্পনা!

    State Budget: বাজেটের আগে দিল্লিতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, বাড়ছে ‘চমক’ জল্পনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এই প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপি সরকার। ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ পেশ (State Budget) করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সরকার। এই নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়ে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন ‘মেলা-খেলা’র মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বিপুল পরিমাণ জনমত নিয়ে নবান্নের কুর্সিতে বসে ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার (Swapan Dasgupta)।

    পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে শুভেন্দু সরকার (State Budget)

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে এই সরকারই। বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার থেকে। ২২ জুন বিধানসভায় বাজেট পেশ করবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তার আগে বুধবার সকালে আচমকাই দিল্লি উড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর এই ঝটিকা দিল্লি সফরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

    গুরুত্বপূর্ণ দুই বৈঠক

    সূত্রের খবর, দিল্লিতে অর্থমন্ত্রী দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। প্রথমে তিনি নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, কেন্দ্রীয় অনুদান এবং আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। পরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গেও বৈঠক করেন স্বপন। রাজ্যের আর্থিক পুনর্গঠন, কেন্দ্রীয় করের বকেয়া অংশ, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অতিরিক্ত আর্থিক সাহায্য এবং নয়া সরকারের জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নয়া সরকারের প্রথম বাজেটে একাধিক বড় চমক থাকবে। সেই মন্তব্যের পর বাজেট ঘোষণার মাত্র কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রীর দিল্লি উড়ে যাওয়া উসকে দিয়েছে জল্পনার আগুন।

    রাজ্যের হাঁড়ির হাল

    চৌত্রিশ বছরের বাম রাজত্ব এবং তার পরের টানা পনেরো বছর তৃণমূল শাসনে রাজ্যের হাঁড়ির হাল হয়েছে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের। তৃণমূল জমানায় পাহাড়-প্রমাণ দুর্নীতি এবং রাজ্যের প্রাক্তন প্রশাসনিক প্রধান মমতার খয়রাতির রাজনীতির জেরে আক্ষরিক অর্থেই মাজা ভেঙে গিয়েছে বঙ্গের অর্থনীতির। একের পর এক নির্বাচনে ভোট ‘কিনতে’ও বিস্তর খরচ হয়েছে বলেও অভিযোগ। আরও অভিযোগ, হরির লুটের বাতাসার মতো করে ‘করে-কম্মে’ খেয়েছেন রাজ্যের তৎকালীন শাসক দলের ছোট-বড়-মাঝারি নেতারা। বস্তুত, তৃণমূলের আমলে রাজ্যের আহামরি কোনও উন্নতি হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই সরকারের ওপর রাজ্যবাসী ছিলেন অসন্তুষ্ট। সেই অসন্তোষের আগুনে ধামা চাপা দিতেই প্রথম দিকে মেলা-খেলায় মেতে যায় সরকার।

    তৃণমূল সরকারের সস্তার রাজনীতি!

    রাজ্যে বড় কোনও শিল্প না হওয়ায়, হাজার হাজার মানুষ ‘জন’ খাটতে পাড়ি দিয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। শাসক দলের মেলা-খেলার রাজনীতির বিরুদ্ধে বিরোধীরা সোচ্চার হতেই, বন্ধ হয়ে যায় সেই ‘কালচার’। শুরু হয় খয়রাতির রাজনীতি। নানা রকম ‘শ্রী’-যুক্ত প্রকল্প চালু করে রাজ্যবাসীর দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয় কর্মসংস্থানের হা-পিত্যেশ দশার দিক থেকে। তাতেও বিশেষ চিড়ে না ভেজায়, শুরু হয় তোষণের রাজনীতি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দেওয়া হতে থাকে হাত উপুড় করে। পায়ের নীচের মাটি আরও আলগা হয়ে যাচ্ছে (State Budget) টের পেয়ে মমতার সরকার চালু করে ক্লাবগুলিকে পুজো উপলক্ষে অনুদান দেওয়ার নয়া প্রথা। তার পরেও অবশ্য শেষ রক্ষে হয়নি। পদ্ম-ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে মমতার সাধের দল তৃণমূল। ওই ঝড়েই উড়ে গিয়ে দলনেত্রী স্বয়ং পড়েছেন কালীঘাটে, আদি গঙ্গার পাড়ে।

    জনমুখী বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি!

    এমতাবস্থায় রাজ্য শাসনের গুরু দায়িত্ব বঙ্গবাসী তুলে দেন বিজেপির হাতে। প্রত্যাশিতভাবেই বিরাট বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রাজ্যের আর্থিক (Swapan Dasgupta) অবস্থা। বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা সামলেও, জনমুখী বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পদ্ম সরকার। তাই বাজেটের আগে কেন্দ্রের শীর্ষ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এদিকে, বুধবার ফলতার এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২২ তারিখ বাজেট আছে। সেখানেও বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়া হবে। আরও কিছু নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করা হবে।” যদিও এখনই খোলসা করে কিছু জানাতে চাননি (State Budget) তিনি।

    প্রসঙ্গত, রাজ্যের বাজেট অধিবেশন চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। পরে ৬ জুলাই সকাল ১১টায় ফের বিধানসভা বসবে। সেটা বাদল অধিবেশন। তাই জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পাবে বলেই আশা। তাই ২২ জুন, বাজেট ঘোষণার দিন বিজেপির ‘রাম-বাক্স’ থেকে বেরনো (Swapan Dasgupta) সান্টাক্লজ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া রাজ্যবাসীর জন্য কোন কোন উপহার আনেন, এখন তাই দেখার (State Budget)!

     

LinkedIn
Share