Tag: Rashtriya Swayamsevak Sangh

Rashtriya Swayamsevak Sangh

  • Mohan Bhagwat: ভাগবতের কানাডা সফরের অনুমতি চেয়ে কার্নিকে চিঠি শতাধিক হিন্দু সংগঠনের

    Mohan Bhagwat: ভাগবতের কানাডা সফরের অনুমতি চেয়ে কার্নিকে চিঠি শতাধিক হিন্দু সংগঠনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডায় আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) সফরের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে চিঠি দিল শতাধিক কানাডীয় (Canada Visit) হিন্দু সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী। ভাগবতকে কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করার যে দাবি উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত যেন রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়—চিঠিতে এমনই আবেদন জানানো হয়েছে।

    কানাডা সরকারকে চিঠি (Mohan Bhagwat)

    কার্নির পাশাপাশি জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারী, অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ দিয়াব এবং বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের কাছেও চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে। আরএসএস প্রধানকে কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং সংগঠনটিকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কিছু খালিস্তানপন্থী নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাংসদ, যাঁদের মধ্যে জেনি কোয়ান ও হিদার ম্যাকফারসন রয়েছেন। কিছু ইসলামপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনও একই দাবি তুলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, কানাডার বৃহৎ হিন্দু জনগোষ্ঠীর কাছে ভাগবতের প্রস্তাবিত সফর “যথেষ্ট আগ্রহের বিষয়”। শতাধিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী ১০১টিরও বেশি কানাডীয় সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবতের কানাডা সফরের প্রস্তাবের প্রতি আমাদের সমর্থন জানাতে লিখছি। এই সফর কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে হিন্দু ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত ১০ লাখেরও বেশি কানাডীয় নাগরিক রয়েছেন।”

    আরএসএস ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন

    চিঠিতে আরএসএসকে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জনপরিসরে মতপ্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সামাজিক প্রকল্প এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠনটি পরিচিত। সেখানে আরও বলা হয়েছে, “তাই আমরা নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাংসদ জেনি কোয়ান ও হিদার ম্যাকফারসন এবং কয়েকটি সংগঠনের সাম্প্রতিক সেই আহ্বান নিয়ে উদ্বিগ্ন, যেখানে কানাডা সরকারকে ভাগবতকে দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং তাঁকে প্রবেশের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

    ভাগবতের (Mohan Bhagwat) কানাডা সফর ঠেকানোর এই প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, ভাগবতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি তোলা হয়েছে, সেগুলির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। দুই সাংসদের তরফে ভাগবতের বিরুদ্ধে ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ইতিহাস, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসাকে সমর্থন, পরিকল্পিতভাবে ভয় দেখানো এবং সন্ত্রাসবাদী বা অপরাধমূলক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের মতো অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

    চিঠিতে যা লেখা হয়েছে

    এই বিষয়ে চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “গুরুতর অভিযোগের জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।”

    আরও বলা হয়েছে, “এগুলি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। স্পষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এগুলিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা বা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয় (Canada Visit)।”

    চিঠিতে কানাডীয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগগুলির সমর্থনে থাকা প্রমাণ খুঁজে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যথাযথ আইনি ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হবে।

    ভাগবতের উপস্থিতি কানাডার জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে কিংবা সামাজিক অশান্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও খারিজ করেছে সংগঠনগুলি। তাদের প্রশ্ন, কানাডায় ভাগবত বা আরএসএসের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার নির্দিষ্ট কোনও নজির রয়েছে কি না। তাঁর কানাডা সফর জননিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, “কানাডার অভিবাসন ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত আইন, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হওয়া উচিত,  অনুমান বা রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়।”

    হিন্দু সংগঠনগুলির বক্তব্য

    সংগঠনগুলির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনাও বৈধ। তবে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও বিদেশি নেতাকে কানাডায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে তা (Mohan Bhagwat) বহুত্ববাদ ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে।

    চিঠিতে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ভাগবতকে কানাডায় প্রবেশ করতে না দিলে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর তার বৃহত্তর প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে কানাডীয় হিন্দু ও তাঁদের সংগঠনগুলির সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে—এমন ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংগঠনগুলির বক্তব্য, “কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ব্যবস্থা এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত যে বিভিন্ন ধর্ম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মানুষ জনজীবনে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অন্য সব ধর্মীয় বা অ-ধর্মীয় পটভূমির কানাডীয়দের মতো হিন্দুরাও মর্যাদা, নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সংগঠনের অধিকার এবং আইনের চোখে সমতার অধিকারী।”

    “হিন্দুফোবিয়া”য় উদ্বেগ

    ভাগবতের বিরুদ্ধে চলা প্রচারাভিযানকে কিছু কানাডীয় হিন্দু “হিন্দুবিরোধী পক্ষপাত” বা “হিন্দুফোবিয়া” হিসেবে দেখছেন বলেও চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কয়েকটি সংগঠন বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতামত দিয়ে কানাডার সব নাগরিক কিংবা সমস্ত কানাডীয় হিন্দুর অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করা উচিত নয়।

    চিঠিতে ভাগবতের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “ভাগবতের বক্তব্যের মূল গুরুত্ব সব সময় সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক পরিচয়, সমাজসেবা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগের উপর ছিল। তাই আমরা রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলিকে তাঁদের প্রকাশ্য বক্তব্যে দায়িত্বশীল হওয়ার এবং এমন ভাষা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাই, যা কানাডার বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়গুলির মধ্যে বিভাজন আরও গভীর করতে পারে (Mohan Bhagwat)।”

    চিঠির শেষাংশে সংগঠনগুলি বলেছে, “কানাডার প্রয়োজন আরও আলোচনা, বিভাজন নয়; আরও প্রমাণ, অভিযোগ নয়; আরও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক চাপ নয়; এবং তার বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি আরও সম্মান। কোনও একটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক নেতাকে স্বাগত জানানোর বৈধ অধিকারকে স্তব্ধ করার প্রচেষ্টা নয়। আমরা সম্মানের সঙ্গে কানাডা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, মোহন ভাগবতের প্রস্তাবিত সফর বিবেচনার সময় সমতা, বহুত্ববাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সংগঠনের অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নীতিগুলি বজায় রাখা হোক।”

    চিঠিতে যারা স্বাক্ষর করেছে

    এই যৌথ উদ্যোগে কানাডা ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, কানাডিয়ান আর্য সমাজ, ব্র্যাম্পটন হিন্দু সোসাইটি, হিন্দু সোসাইটি অব কানাডা, হিন্দু মিশন অব কানাডা, হিন্দু সভা টেম্পল, হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কানাডা-সহ একাধিক মন্দির, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠন অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে (Canada Visit)।

    চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ভাগবতের প্রস্তাবিত সফরকে কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী—ইসলামপন্থী, বামপন্থী ও খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির সমন্বয়ে একটি প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে। অনলাইন আবেদন, লিখিত আবেদন এবং প্রতিবাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য—এই তিন দেশের সরকারের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    তবে ভাগবতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বিভিন্ন সংগঠনের পাল্টা দাবিগুলি চিঠিতে উল্লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতেই এসেছে, এগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন যাচাই ও প্রমাণের মূল্যায়ন প্রয়োজন (Mohan Bhagwat)।

     

  • RSS: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ও যুবসমাজের মাদকাসক্তি ইস্যুতে শুরু আরএসএসের তিন দিনের সমন্বয় বৈঠক

    RSS: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ও যুবসমাজের মাদকাসক্তি ইস্যুতে শুরু আরএসএসের তিন দিনের সমন্বয় বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা, যুবসমাজের মাদকাসক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা নিয়ে আগামী তিন দিন ধরে আলোচনা করবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। বুধবার বিশাখাপত্তনমের কাছে গুড়িলোভায় বিজ্ঞান বিহার বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে আরএসএসের এই বার্ষিক সর্বভারতীয় সমন্বয় বৈঠক। মঙ্গলবার বিকেলে বৈঠকের জায়গায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রচারপ্রমুখ সুনীল আম্বেকর। তিনি জানান, ১৯ অগাস্ট (বুধবার) সকাল ৯টায় বৈঠক শুরু হবে, চলবে ২১ অগাস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত। সঙ্ঘের ভাবধারায় প্রাণিত ৩২টি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা তিন দিনের এই বৈঠকে অংশ নেবেন। আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত, সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সহ-সরকার্যবাহ এবং কেন্দ্রীয় স্তরের অন্যান্য পদাধিকারীরাও উপস্থিত রয়েছেন।

    বৈঠকে যোগ দিয়েছেন যাঁরা (RSS)

    সংঘ সূত্রে খবর, এদিন শুরু হওয়া ওই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন (Demographic Imbalance) ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, ভারতীয় জনতা পার্টি, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, ভারতীয় কিষান সঙ্ঘ এবং রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি-সহ বিভিন্ন সঙ্ঘ-প্রাণিত সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠন সম্পাদকরা। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২৭ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগঠনগুলির ২৫৩ জন পদাধিকারী। এঁদের মধ্যে আবার রয়েছেন, ৪৯ জন মহিলা। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন আরএসএসের শীর্ষ নেতারাও।

    সুনীল আম্বেকরের বক্তব্য

    সুনীল আম্বেকর স্পষ্ট করে জানান, এটি কোনও নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈঠক নয়। বিভিন্ন সংগঠনের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সমাজের কল্যাণে তাদের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। জনকল্যাণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের মতো বিষয় নিয়ে সঙ্ঘ ও তার অনুপ্রাণিত সংগঠনগুলি কাজ করে। সেই কাজের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে বৈঠকে আলোচনা হবে। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, সামাজিক পরিবর্তন এবং উদীয়মান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়েও পর্যালোচনা হবে, হবে আলোচনাও। বৈঠকে দেশের জনসংখ্যার পরিবর্তিত প্রবণতা, তার বৃহত্তর প্রভাব এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব

    তিন দিনের এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত রাখার বিষয়টি। ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে একটি সুসংবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হবে (RSS)।আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের প্রাক্কালে সমাজে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘পঞ্চ পরিবর্তন’। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক সম্প্রীতি, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, পরিবারবোধ ও পারিবারিক মূল্যবোধ, স্ব-বোধ বা দেশীয় চেতনা এবং নাগরিক কর্তব্য পালন। শতবর্ষের এই পর্বে দেশজুড়ে এই পাঁচটি বিষয় নিয়ে আলোচনা ও প্রচার চালানো হচ্ছে। তিন দিনের এই সমন্বয় বৈঠকেও পঞ্চ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে পরবর্তী কর্মসূচি ও উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে (Demographic Imbalance)।

    ‘ভারতীয় উন্নয়ন মডেল’

    সুনীল আম্বেকর এও জানান, অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি সামগ্রিক ‘ভারতীয় উন্নয়ন মডেল’ গড়ে তোলার বিষয়টিও রয়েছে বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে। তাঁর মতে, প্রকৃত উন্নয়নকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সূচকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। সমাজের সব ক্ষেত্রে সামগ্রিক অগ্রগতিই প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি হওয়া উচিত। আরএসএসের শতবর্ষের এই পর্বে সংগঠনটির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে। ‘আরএসএসে যোগ দিন’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৪২৩ জন নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। ২০২৬ সালে ওই একই সময়ে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ২৮৭। নথিভুক্তদের মধ্যে ৬৫ শতাংশেরও বেশি ৩০ বছরের কম বয়সি এবং প্রায় ৮৫ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের কম (RSS)।

    এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে সুনীল আম্বেকর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ-মধ্য ক্ষেত্রের (Demographic Imbalance) সহ-সঙ্ঘচালক শ্রী দুঙ্গি রামকৃষ্ণ, সহ-প্রচারপ্রমুখ শ্রী প্রদীপ জোশী, অন্ধ্রপ্রদেশ প্রান্তের প্রচারপ্রমুখ বায়্যা বাসু এবং সহ-প্রচারপ্রমুখ বাসুদেব রাও (RSS)।

     

  • RSS: অন্ধ্রপ্রদেশে সংঘ-প্রাণিত ৩২ সংগঠনের বার্ষিক সমন্বয় বৈঠক, আলোচনায় জনসংখ্যার ভারসাম্য-পঞ্চ পরিবর্তন

    RSS: অন্ধ্রপ্রদেশে সংঘ-প্রাণিত ৩২ সংগঠনের বার্ষিক সমন্বয় বৈঠক, আলোচনায় জনসংখ্যার ভারসাম্য-পঞ্চ পরিবর্তন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ বছর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রেরণায় পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠনের বার্ষিক অখিল ভারতীয় সমন্বয় বৈঠক (RSS) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম জেলার গুডিলোভায়। আগামী ১৯ থেকে ২১ অগাস্ট এই (Akhil Bharatiya Samanvay Baithak) তিন দিন ধরে হবে এই বৈঠক। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, দিনগুলি যুগাব্দ ৫১২৮, বিক্রম সংবৎ ২০৮৩ এবং শ্রাবণ শুক্ল সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী।

    বৈঠকে অংশ নেবে কারা (RSS)

    এই বৈঠকে সংঘের প্রেরণায় পরিচালিত মোট ৩২টি সংগঠন অংশ নেবে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির অখিল ভারতীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সংগঠন সম্পাদক এবং নির্বাচিত পদাধিকারীরা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই সংগঠনগুলি দেশের সামাজিক জীবনে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে। জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে জনসচেতনতা গড়ে তোলা এবং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনগুলি। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি নিজেদের কাজের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও মতামত পেশ করা হবে। সব সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হবে। জনকল্যাণ এবং নীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতামত বিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে।

    বৈঠকে আলোচ্যসূচি

    বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বৈঠকের আলোচনায় ঠাঁই পাবে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতা, নেশামুক্তি, যুবসমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে উন্নয়নের ধারণা (RSS)। বৈঠকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত, সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সমস্ত সহ-সরকার্যবাহ এবং অখিল ভারতীয় কার্যবিভাগের প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন (Akhil Bharatiya Samanvay Baithak)। বৈঠকে ভারতীয় মজদুর সংঘ, ভারতীয় কিষান সংঘ, ভারতীয় জনতা পার্টি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, সক্ষম এবং রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি-সহ ৩২টি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা অংশ নেবেন (RSS)।

     

  • RSS: আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক শুরু, বেলগাভির সভায় শাখা সম্প্রসারণ, শতবর্ষ কর্মসূচিতে জোর

    RSS: আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক শুরু, বেলগাভির সভায় শাখা সম্প্রসারণ, শতবর্ষ কর্মসূচিতে জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার কর্নাটকের বেলগাভিতে শুরু হয়ে গেল আরএসএসের (RSS) বার্ষিক সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক।তিনদিনের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে (Belagavi Meet) দেশজুড়ে শাখা সম্প্রসারণের গতি বাড়ানো, শতবর্ষ উপলক্ষে নেওয়া কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং আগামী এক বছরের সাংগঠনিক অগ্রাধিকার চূড়ান্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    বৈঠকে উপস্থিত মোহন ভাগবত (RSS)

    বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সমস্ত সহ-সরকার্যবাহ, সর্বভারতীয় বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, ক্ষেত্র প্রচারক, সহ-ক্ষেত্র প্রচারক, দেশের ৪৬টি প্রান্তের প্রান্ত প্রচারক ও সহ-প্রচারক এবং সংঘ-অনুপ্রাণিত বিভিন্ন সংগঠনের সাংগঠনিক মন্ত্রীরা। বৈঠকে তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চের পর দেশজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবিরের রিপোর্ট বেলগাভির বৈঠকে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি শাখা স্তরে গৃহীত কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হবে।

    আলোচ্য সূচি

    আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী যে শাখা সম্প্রসারণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তার অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি আগামী দিনে আরও কীভাবে শাখার বিস্তার ঘটানো যায়, সেই কৌশলও নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া শতবর্ষ উপলক্ষে ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির মূল্যায়ন এবং আগামী ২০ অক্টোবর বিজয়াদশমী পর্যন্ত নির্ধারিত বাকি অনুষ্ঠানগুলির পরিকল্পনাও এই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। বিজয়াদশমীর দিনই বছরব্যাপী শতবর্ষ উদ্‌যাপনের সমাপ্তি হবে। বৈঠকে মোহন ভাগবতের ২০২৬-২৭ সালের দেশব্যাপী সফরসূচি এবং সংঘের অন্যান্য সাংগঠনিক অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা হবে (RSS)। এদিকে, কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (কেপিসিসি) সভাপতি বি কে হরিপ্রসাদ বেলগাভিতে অনুষ্ঠিত আরএসএসের এই বৈঠক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বেলগাভিতে কেন এই বৈঠক হচ্ছে, তা আমি জানি না। কী ধরনের বিপর্যয় ঘটে, তা দেখা যাক। তারপর আমি এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেব।” অযোধ্যার রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার জেরে (Belagavi Meet) কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করছে (RSS)।”

     

  • Mohan Bhagwat: অগাস্টের শেষে প্রথমবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: অগাস্টের শেষে প্রথমবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের অগাস্টের শেষের দিকে প্রথমবারের মতো কানাডা (Canada) সফরে যেতে পারেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। যাঁরা তাঁর সফরের আয়োজন করছেন, তাঁদের একটি সূত্রের খবর ৩১ অগাস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর তাঁর কানাডা সফরের সম্ভাব্য সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সফরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। এই সফরে তিনি শুধুমাত্র টরেন্টো সফর করবেন। কানাডা সফরের আগে ভাগবত পাঁচ দিনের জন্য আমেরিকা সফরে যাবেন। সফরের শেষ দিনে নিউ ইয়র্ক সিটিতে একটি জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। তার পরেই ভাগবত রওনা দেবেন টরন্টোর উদ্দেশে।

    আরএসএস কর্তার সফরসূচি (Mohan Bhagwat)

    টরন্টোয় প্রবাসী ভারতীয়দের একটি বড় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন আরএসএস কর্তা। পাশাপাশি একাধিক বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। যদিও সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও করা হয়নি, তাই আয়োজকদের তরফে কেউই প্রকাশ্যে পরিচয় দিতে চাননি। কানাডা সফর শেষে ভাগবত যাবেন ব্রিটেন সফরে। আয়োজকদের দাবি, আরএসএসের আন্তর্জাতিক জনসংযোগ ও ভাবমূর্তি তুলে ধরার লক্ষ্যেই ভাগবতের এই সফরের আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, পশ্চিমি দেশগুলিতে, বিশেষ করে কানাডায়, আরএসএস সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তা সংশোধন করাই আরএসএস কর্তার এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁর সফরে বিক্ষোভ দেখাতে পারে খালিস্তানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী। সেই সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে (Mohan Bhagwat) বলেও জানিয়েছেন আয়োজকরা।

    ভারত-কানাডা সম্পর্ক

    উল্লেখ্য, এটি ভাগবতের প্রথম কানাডা সফর। এর আগে ২০০৫ সালে তৎকালীন আরএসএস প্রধান কেএস সুদর্শন কানাডা সফরে গিয়েছিলেন। তারপর কেটে গিয়েছে দু’দশকেরও বেশি সময়। এবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন বর্তমান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত।আয়োজকদের একাংশের দাবি, কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর (Justin Trudeau) আমলে অবনতি ঘটেছিল ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। তাই আরএসএস কর্তার কানাডা সফরের উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না। চলতি বছরের মার্চ মাসে ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হন মার্ক কার্নি। তার (Canada) পরেই উন্নতি হয় ভারত-কানাডা সম্পর্কের। তাই এবার ভাগবতের সফর (Mohan Bhagwat) বাস্তবায়িত হতে চলেছে বলে তাঁদের ধারণা।

     

  • Narendra Modi Untold Story: জরুরি অবস্থার অন্ধকারে ‘স্বামীজি’ থেকে ‘সর্দারজি’! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে লড়েছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি?

    Narendra Modi Untold Story: জরুরি অবস্থার অন্ধকারে ‘স্বামীজি’ থেকে ‘সর্দারজি’! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে লড়েছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গণতন্ত্রের অন্ধকারতম সময়! ২৫ জুন, সালটা ১৯৭৫। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) ঘোষণা করলেন জরুরি অবস্থার (Emergency Period)। ১৯৭৭ সাল অবধি, ২১ মাস জারি থাকে এই জরুরি অবস্থা। সাংবিধানিক মূল্য়বোধের সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে দেশে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল এই সময়। সরকারের বিরোধিতা, মানেই আশ্রয় হত অন্ধ কারাগার। সেই সময় সবচেয়ে সক্রিয় ও দক্ষ কর্মীদের জেলের বাইরে রেখে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের নীতি। আরএসএস-এর সেই পরিকল্পনার অন্যতম মুখ ছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। গুজরাটের বিভিন্ন প্রান্তে—বরোদা, আমেদাবাদ, রাজকোটে ঘুরে ঘুরে তিনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করছিলেন জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে। পুলিশের চোখ এড়িয়ে আরএসএস-এর বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি নানা রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন—কখনও ‘সর্দারজি’, কখনও ‘বটুকভাই’, তো কখনও ‘স্বামীজি’।

    ‘বটুকভাই’ থেকে ‘স্বামীজি’ – ছদ্মবেশের কাহিনী

    ১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন থেকে ২১ মাসব্যাপী দেশে জারি হওয়া জরুরি অবস্থার সময়, সরকারের কড়া দমননীতি থেকে বাঁচতে নানা ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় তাঁকে ‘বেশভূষার মাস্টার’ বলেও ডাকা হতো। জরুরি অবস্থার সময় আরএসএস-এর নীতি ছিল যে কোনও মূল্যে জেলের বাইরে থেকে অস্থির সময়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আরএসএস তখন কার্যত আন্ডারগ্রাউন্ডে। সেই সময় তৈরি করা হয়েছিল গুজরাট লোক সংঘর্ষ সমিতি। সেই সময় মাত্র ২৫ বছর বয়সে আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক পদে উঠে এসেছিলেন মোদি। সেই সময় নানা লেখালেখি করতেন মোদি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁর সেই লেখা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সেই সময় যাতে চিহ্নিত না হয়ে যান সেকারণে নরেন্দ্র মোদি কখনও স্বামীজি, কখনও শিখের ছদ্মবেশ ধরতেন। তখনই গুজরাট ভ্রমণের সময় মোদি ‘বটুকভাই’ নাম নিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করেন। পরে এক পর্যায়ে, তিনি সন্ন্যাসীর বেশ নেন—গায়ে গেরুয়া বসন, মুখে ধর্মীয় ভাষ্য। একদিন, তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, সেখানে স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়ের একজন আচার্য উপস্থিত হন। তখন পরিবারের লোকেরা তাঁকে ‘উদয়পুর থেকে আগত স্বামীজি’ বলে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর আচার্য ও ছদ্মবেশী ‘স্বামীজি’-র মধ্যে ধর্মীয় বিতর্কও শুরু হয়!

    ভবনগর জেলে ‘সৎসঙ্গ’ করে বার্তা পৌঁছানো

    জরুরি অবস্থা জারির পরেই মোদি তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেই সময় তিনি ও তাঁর সতীর্থরা নানা ধরনের মিটিং করতেন কিছুটা আড়ালে। সিনিয়র আরএসএস নেতা নাথ জাগড়া, বসন্ত গজেন্দ্রগড়করের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তথ্য় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কিছুটা অভিনব পথ নিয়েছিলেন। সাবধানে পরিকল্পনা করে, ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে মোদি ‘স্বামীজি’ ছদ্মবেশে ভবনগর জেলে পৌঁছান। সেখানে আটক আরএসএস নেতা বিশ্নুভাই পাণ্ড্যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। একটি ‘সৎসঙ্গ’-এর অজুহাতে তিনি জেলের ভিতরে প্রবেশ করেন এবং এক ঘণ্টা ধরে গোপনে আলোচনা করেন। পুলিশের চোখ এড়িয়ে নির্বিঘ্নে বেরিয়েও আসেন।

    ‘সর্দারজি’ সেজে কলেজ ছাত্রদের মাঝে

    কংগ্রেসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেই সময় গুজরাটে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে গুজরাটে শুরু হয়েছিল নবনির্মাণ আন্দোলন। সেই সময় দেখা গিয়েছিল পড়ুয়াদের শক্তি। সেই সময় আরএসএসের যুব প্রচারক ছিলেন মোদি। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের আওতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন করেন। তখন তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মবেশ ছিল ‘সর্দারজি’। মাথায় পাগড়ি পরে, শিখ বেশে তিনি ঘোরাফেরা করতেন। এমনকি কলেজপড়ুয়া ছাত্ররা তাঁর উপস্থিতিতে উচ্চস্বরে সর্দারজি-র কৌতুক বলতেও কুণ্ঠাবোধ করত না। পরিচিত পরিবারের শিশু ও তাদের বন্ধুরাও এসে তাঁকে এই নতুন রূপে দেখতে পেত।

    রহস্যময় এবং কৌশলী অধ্যায়

    এই সব ছদ্মবেশ ও বুদ্ধিদীপ্ত চালচলনের জোরেই প্রশাসন তাঁর অবস্থান কখনও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারেনি। প্রায়ই দেখা যেত, পুলিশ এসে পৌঁছানোর আগেই অন্য জায়গায় সরে গিয়েছেন মোদি। ১৯৭৭ সালে জরুরী অবস্থা উঠে যাওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদি ক্রমেই জাতীয় ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ছড়িয়ে দিতে থাকেন। আরএসএস-এর হাত ধরে ১৯৮৫ সালে বিজেপিতে যোগদান। তারপর ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীত্ব গ্রহণ। ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন মোদি। তারপর ভারতে আচ্ছে দিন-এর শুরু। কিন্তু আজও জরুরি অবস্থার অন্ধকার দিনে মোদির এই নানা ছদ্মবেশী কাহিনী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক রহস্যময় এবং কৌশলী অধ্যায় হয়ে রয়ে গিয়েছে।

  • Amit Shah: “হেডগেওয়ারের ‘নেশন ফার্স্ট’ দর্শন আজও ভারতের অগ্রগতির ভিত্তি”, বললেন শাহ

    Amit Shah: “হেডগেওয়ারের ‘নেশন ফার্স্ট’ দর্শন আজও ভারতের অগ্রগতির ভিত্তি”, বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএসের (RSS) প্রতিষ্ঠাতা ড. কেশব বালিরাম হেডগেওয়ারের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “হেডগেওয়ারের (Amit Shah) ‘নেশন ফার্স্ট’, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এবং আত্মবিশ্বাস ও স্বদেশি ভাবনায় গড়ে ওঠা সংগঠিত সমাজের ধারণা আজও ভারতের অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।” এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা পরম পূজ্য ড. হেডগেওয়ারজির মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।”

    হেডগেওয়ারের অবদান (Amit Shah)

    হেডগেওয়ারের অবদানের কথা স্মরণ করে শাহ বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি জাতি গঠন ও সামাজিক ঐক্যের লক্ষ্য নিয়ে তিনি আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।” তাঁর মতে, হেডগেওয়ার ‘নেশন ফার্স্ট’ এবং সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের আদর্শ দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধশালী ও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্র গঠনের। শাহ বলেন, “হেডগেওয়ার এমন একটি সংগঠিত সমাজের কল্পনা করেছিলেন, যা অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বৈষম্যমুক্ত হবে এবং আত্মবিশ্বাস ও স্বনির্ভরতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ থাকবে। তাঁর সেই স্বদেশি-ভিত্তিক চিন্তাধারাই বর্তমানে ভারতের উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে”।

    কী বললেন শাহ?

    হেডগেওয়ারের জীবন ও আদর্শের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “দেশমাতৃকার প্রতি অসীম ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও আত্মনিবেদনের এক অক্ষয় উৎস হল তাঁর জীবন (Amit Shah)।” এদিকে, এদিনই মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার ইচলকরঞ্জিতে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা এবং গ্রামীণ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, “এক সময় ভারতে একটি গুলিও তৈরি হত (RSS) না। আজ আমরা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছি, এবং আত্মনির্ভর ভারতের শক্তি নিয়ে বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।” তিনি জানান, মোদি সরকারের আমলে আধুনিক এবং আরও শক্তিশালী করে তোলা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীকে (Amit Shah)।

     

  • Dattatreya Hosabale: “আরএসএস হল জনগণের স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন”, বললেন হোসাবলে

    Dattatreya Hosabale: “আরএসএস হল জনগণের স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন”, বললেন হোসাবলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আরএসএস (RSS) জনগণের একটি স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন, যা ভারতের প্রাচীন সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সভ্যতার মূল্যবোধ থেকে প্রাণিত, যা সাধারণত হিন্দু সংস্কৃতি নামে পরিচিত।” ২৩ এপ্রিল আরএসএসের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে (Dattatreya Hosabale) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির হাডসন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনায় সংগঠনের তৃণমূলস্তরের কাজ এবং মতাদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন।

    আরএসএস স্বেচ্ছাসেবী জনআন্দোলন (Dattatreya Hosabale)

    আরএসএসের কাজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে হোসাবলে বলেন, “আরএসএস জনগণের একটি স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন, যা ভারতের প্রাচীন সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সভ্যতার মূল্যবোধ থেকে অনুপ্রাণিত, যা সাধারণত হিন্দু সংস্কৃতি নামে পরিচিত…।” তিনি বলেন, “চরিত্র, আত্মবিশ্বাস, সমাজের প্রতি সেবাবোধ এবং সমাজকে সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে আরএসএস প্রতিদিন এবং সাপ্তাহিক এক ঘণ্টার সমাবেশের আয়োজন করে (Dattatreya Hosabale)।”

    জীবনের মূল্যবোধ গড়ে তুলি

    সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, “এই এক ঘণ্টার সমাবেশের মাধ্যমে আমরা জীবনের মূল্যবোধ গড়ে তুলি… সমাজের উন্নতি ও জাতীয় ঐক্যের জন্য মানবিক সামাজিক পুঁজি তৈরি করি… প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আরএসএস ত্রাণ কার্য পরিচালনা করে… আরএসএস স্বেচ্ছাসেবকরা প্রায় ৪০টি নাগরিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে (RSS)।” ভারতীয় উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে পরিচয় এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে হোসাবলে বলেন, “হিন্দু পরিচয়কে আরএসএস একটি বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে। আরএসএসের মতে, হিন্দু পরিচয় একটি সভ্যতাগত পরিচয়, ধর্মীয় নয়… আরএসএস সব সময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সভ্যতার মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়েছে, যা সরাসরি কোনও ধর্মের সঙ্গে যুক্ত নয় (Dattatreya Hosabale)।”

    আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরএসএসের বক্তব্য

    ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থ, ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা এবং অন্যান্য কারণে মাঝেমধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আরএসএস বিশ্বাস করে যে সকল গোষ্ঠীর সঙ্গে ধারাবাহিক ও বিস্তৃত আলাপ-আলোচনা এই ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সাহায্য করবে… আরএসএস সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এবং তাদের নেতৃত্বের সঙ্গেও আলোচনায় যুক্ত রয়েছে (RSS)।” আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “বিভিন্ন কারণে প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে, বিশেষত তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে। গত কয়েক দশকে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে… সমস্যা মূলত একটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে, যা ভারতের গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে। এখন তা প্রতিবেশী দেশ হলেও, অনেক শক্তি সেই দেশকে ব্যবহার করে সমস্যা তৈরি করছে।”

    হিন্দুদের ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই নেই

    আরএসএসকে ‘হিন্দু আধিপত্যবাদী’ সংগঠন বলা হয়। এহেন অভিযোগের উত্তর দিতে গিয়ে হোসাবলে বলেন, “হিন্দু দর্শন ও সংস্কৃতি স্বভাবতই আধিপত্যবাদী নয়… আমরা সব কিছুর মধ্যেই ঐক্য দেখি—জীবিত বা জড়। যখন এটাই হিন্দুদের মৌলিক দর্শন, তখন আধিপত্যবাদী হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ইতিহাসে হিন্দুরা কখনও অন্য দেশ আক্রমণ করেনি বা কাউকে দাসত্বে আবদ্ধ করেনি (RSS)। হিন্দুদের ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই নেই (Dattatreya Hosabale)।”

     

  • Mohan Bhagwat: “সংস্কৃত ভাষা আমাদের ভারতকে বুঝতে সাহায্য করে”, বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “সংস্কৃত ভাষা আমাদের ভারতকে বুঝতে সাহায্য করে”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সংস্কৃত (Sanskrit) ভাষা জানা আমাদের ভারতকে বুঝতে সাহায্য করে”, বললেন আরএসএসের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। আজ, ২০ এপ্রিল ২০২৬-এ ডিডিইউ মার্গে সংস্কৃত ভারতীর কার্যালয় ‘প্রণবে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথাগুলি বলেন তিনি। ভাগবত বলেন, “‘প্রণব’ নামে নতুন কার্যালয়ের এই উদ্বোধন একটি শুভ মুহূর্তে হচ্ছে। এটি আমাদের সবার জন্য আনন্দ ও উৎসাহের বিষয়। বিশ্বাস করা হয় যে অক্ষয় তৃতীয়ায় শুরু করা যে কোনও কাজ স্থায়ী ও সফল হয়।”

    সংস্কৃত ভারতের প্রাণশক্তি (Mohan Bhagwat)

    তিনি বলেন, “সংস্কৃত ভারতের প্রাণশক্তি, কারণ চিন্তা, জীবন ও সংস্কৃতির প্রাচীনতম জীবন্ত ঐতিহ্য এখনও এর মাধ্যমে বিদ্যমান। ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এমন এক ধারার প্রতিনিধিত্ব করে যা জীবিত ও জড়—সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে ধারণ করে। এই কর্তব্য পালন করতে হলে ভারতকে জানতে, গ্রহণ করতে এবং নিজেকে ভারতের অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” সমবেত শ্রোতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, “সংস্কৃত একটি ভাষা হলেও, এটি শুধু ভাষা নয়। আপনি যদি সংস্কৃত জানেন, তবে যে কোনও ভারতীয় ভাষা বোঝা সম্ভব। ভারতে সংস্কৃত জাতির আত্মা, কারণ এটি চিন্তা, জীবন ও সংস্কৃতির প্রাচীনতম ঐতিহ্য, যা আজও জীবন্ত (Sanskrit)।”

    ভারত একটি জীবন্ত ঐতিহ্য

    তিনি ভারতের দার্শনিক ধারণা ব্যাখ্যা করে বলেন, “ভারতের অস্তিত্ব শুধু ভৌগোলিক নয়, এটি কেবল রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সত্তাও নয়। ভারত একটি জীবন্ত ঐতিহ্য, যার ওপর জীবনের ধারাবাহিকতা নির্ভর করে।” সরসংঘচালক বলেন, “শৈশবে স্কুলে সংস্কৃত শেখা কঠিন মনে হত। পাঠ্যক্রমে ‘শ্লোক’ মুখস্থ করতে হত, যা ভাষাটিকে কঠিন বলেই মনে করাত। কিন্তু বাড়িতে যখন সেই একই শ্লোক শুনতাম, তখন তা আর কঠিন বলে মনে হত না।” আরএসএস কর্তা বলেন, “আজও এই সমস্যাটি রয়ে গিয়েছে। শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতকে কঠিন মনে করে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন? বাস্তবে ভাষা শেখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হল কথোপকথন, বই নয় (Sanskrit)।”

    কথোপকথনই ভাষা শেখার সেরা উপায়

    তিনি বলেন, “কথোপকথনই ভাষা শেখার সেরা উপায়, ব্যাকরণ নয়। আমি যখন ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করি, স্থানীয় ভাষার সব শব্দ না জানলেও মূল ভাব বুঝতে পারি। নিয়মিত শোনা ও বলার মাধ্যমে ভাষা স্বাভাবিকভাবে শেখা যায়। তাই ভাষা শেখার সর্বোত্তম উপায় হল সেই ভাষাভাষীদের মধ্যে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং নিজেও বলা (Mohan Bhagwat)।” সংস্কৃত ভারতীর প্রশংসা করে ভাগবত বলেন, “এই সংগঠন অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশে সংস্কৃতের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে এবং কথোপকথন পদ্ধতিতে ভাষাটিকে জনপ্রিয় করেছে।” তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে সমাজে সংস্কৃতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতি মানুষকে তাদের সাংস্কৃতিক শেকড়ের সঙ্গে ফের যুক্ত করছে, ফলে সংস্কৃত শেখা ও বোঝার সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।” তিনি বলেন, “নতুন কার্যালয় নির্মাণ অবশ্যই আনন্দের বিষয়। তবে মনে রাখতে হবে, কার্যালয় কাজের কারণ নয়, বরং কাজের বিস্তারের ফল।”

    সংস্কৃত সংরক্ষণ

    এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “অক্ষয় তৃতীয়ার পবিত্র দিবসে ‘প্রণব’ নামে সংস্কৃত ভারতীর নতুন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনের খবর জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি ভারতের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ (Mohan Bhagwat)।” তিনি এও বলেন, “সংস্কৃত আমাদের প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের বাহক। এর মধ্যে বিজ্ঞান, দর্শন-সহ নানা জ্ঞানের ধারাবাহিক প্রবাহ রয়েছে, যা মানবতার পক্ষে আশীর্বাদস্বরূপ। সংস্কৃতের (Sanskrit) মহিমা অসীম।” প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, গত ১১ বছরে সংস্কৃত সংরক্ষণ ও প্রচারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন শিক্ষা নীতিতে ভারতীয় ভাষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সংস্কৃত ভবিষ্যতেরও ভাষা

    তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমি ‘সুভাষিত’ শেয়ার করে শাস্ত্রের জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তরুণদের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে। সংস্কৃত শুধু অতীতের ভাষা নয়, বর্তমান এবং ভবিষ্যতেরও ভাষা।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভাষার শিক্ষা ও প্রসারের মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক (Sanskrit) আত্মা নতুন শক্তি লাভ করবে। সংস্কৃত ভারতীর সকল কর্মীদের নিষ্ঠা এবং সংস্কৃত ভাষার উন্নয়নে তাঁদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় (Mohan Bhagwat)।” তাঁর আশা, ‘প্রণব’ কার্যালয়ের উদ্বোধন এই যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

     

LinkedIn
Share