Tag: Rashtriya Swayamsevak Sangh

Rashtriya Swayamsevak Sangh

  • 1984 Sikh Genocide: ১৯৮৪ সালের শিখ নিধন যজ্ঞ, অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল আরএসএস, দাবি

    1984 Sikh Genocide: ১৯৮৪ সালের শিখ নিধন যজ্ঞ, অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল আরএসএস, দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। নিজের দেহরক্ষী বিয়ন্ত সিং ও সতবন্ত সিংয়ের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর হত্যার পরবর্তী পাঁচ দিন ভারতের স্বাধীনতা-উত্তর ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে (1984 Sikh Genocide)। দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নেমে এসেছিল সংগঠিত হিংসার ভয়াবহতা। অভিযোগ, হাজার হাজার নিরপরাধ শিখকে খুন করা হয়, জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালানো হয়। সেই সময় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও উঠেছিল গুরুতর প্রশ্ন (RSS)।

    এই পরিস্থিতিতে আরএসএস এবং তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা শিখ পরিবারগুলিকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে এসেছিলেন বলে দাবি করা হয়। হিংসার পরিবেশে বহু শিখ পরিবারকে রক্ষা করতে সঙ্ঘের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পরিকল্পিত হিংসার অভিযোগ (1984 Sikh Genocide)

    ইন্দিরা হত্যার পর দিল্লিতে শিখবিরোধী হিংসা কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা নিয়ে একাধিক তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের একাংশ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমন কথাও বলা হয় যে, শিখদের এমন শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা তাঁরা কোনও দিন ভুলতে পারবেন না।

    অভিযোগ, দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করা হয়েছিল এবং বস্তি ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির সমাজবিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। শিখদের বাড়ি ও দোকান চিহ্নিত করা হয়। হামলার জন্য ট্রাক জোগাড় করা হয়েছিল। লোহার রড, কেরোসিন ও পেট্রল সংগ্রহেরও অভিযোগ ওঠে।

    ১ নভেম্বর ভোর থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় হামলা শুরু হয়। লোহার রড এবং কেরোসিন ও পেট্রলভর্তি পাত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা দলবদ্ধভাবে ঘুরে গুরুদ্বার-সহ শিখদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

    রকাবগঞ্জ সাহিব গুরুদ্বারে হামলার চেষ্টার ঘটনাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতা গুরুদ্বারের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে ভিতরে থাকা লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক এক ব্যক্তি হামলাকারীদের ভয় দেখাতে শূন্যে গুলি চালান। পরবর্তী সময়ে জনতার সংখ্যা আরও বাড়ে। ওই এলাকায় কংগ্রেস নেতা কমলনাথ ও বসন্ত সাঠেকেও দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

    কমলনাথের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    রকাবগঞ্জ সাহিব গুরুদ্বারে হিংসার ঘটনায় কমলনাথের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁর দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ ছিল, ১ নভেম্বর দুপুরে গুরুদ্বার ও তার আশপাশে হিংসার খবর পেয়ে তিনি কংগ্রেসের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে ঠিক কখন তিনি পৌঁছেছিলেন এবং কতক্ষণ সেখানে ছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

    বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত গুরুদ্বার চত্বরের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল। অভিযোগ, দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ কমলনাথকে উত্তেজিত জনতার মধ্যে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে, পুলিশ কমিশনার সেখানে পৌঁছন বিকেল সাড়ে ৩টেয়। এই সময়ের ব্যবধানকে কেন্দ্র করে তাঁর উপস্থিতির উদ্দেশ্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে (1984 Sikh Genocide)।

    শিখদের রক্ষায় আরএসএসের ভূমিকা

    ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার সময় শিখ পরিবারগুলিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন বিশিষ্ট শিখ বুদ্ধিজীবী তথা লেখক খুশবন্ত সিং। বিখ্যাত গ্রন্থ ‘এ হিস্ট্রি অব দ্য শিখস’-এর লেখক খুশবন্তের বক্তব্য অনুযায়ী, হিংসার সময় কংগ্রেসের সদস্যদের একাংশ যখন শিখদের নিশানা করছিলেন, তখন আরএসএসের সদস্যরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ঢাল হয়ে।

    খুশবন্ত সিংয়ের বক্তব্য ছিল, ইন্দিরা হত্যার আগে ও পরে দিল্লি-সহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু-শিখ ঐক্য বজায় রাখতে আরএসএস সম্মানজনক ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁর অভিযোগ, ১৯৮৪ সালে কংগ্রেসের নেতাদের একাংশ জনতাকে উসকে দিয়েছিলেন, যার পরিণতিতে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

    তিনি আরও বলেছিলেন, “সেই কঠিন সময়ে অসহায় শিখদের রক্ষা করতে সাহস দেখানোর জন্য আরএসএস এবং বিজেপিকে যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো ব্যক্তিও কয়েকটি জায়গায় নিজে হস্তক্ষেপ করে অসহায় ট্যাক্সিচালকদের সাহায্য করেছিলেন।”

    সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ১৯৮৪ সালের সেই ভয়াবহ সময়ে দিল্লি-সহ বিভিন্ন শহরে শিখ পরিবারগুলিকে রক্ষা করতে আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের এই উদ্যোগ হিন্দু-শিখ ভ্রাতৃত্বের এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে (RSS)।

    রাজীব গান্ধীর বিতর্কিত মন্তব্য

    ইন্দিরার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর একটি মন্তব্যও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ১৯৮৪ সালের ১৯ নভেম্বর এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “ইন্দিরাজির হত্যার পর দেশে কিছু দাঙ্গা হয়েছিল। মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল এবং কয়েক দিন ধরে মনে হয়েছিল যেন গোটা ভারত কেঁপে উঠেছে। যখন একটি বিশাল গাছ পড়ে যায়, তখন তার আশপাশের মাটি কিছুটা কেঁপে ওঠা স্বাভাবিক।”

    এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। সমালোচকদের বক্তব্য, শিখদের উপর সংগঠিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করার পরিবর্তে রাজীবের বক্তব্যে সেই হিংসাকে একপ্রকার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে (1984 Sikh Genocide)।

    কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক ও অস্ত্র বিলির অভিযোগ

    ১ নভেম্বর সকালে দিল্লির একাধিক এলাকায় কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমারকে দেখা গিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে উঠে এসেছে। পালাম কলোনিতে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে, কিরণ গার্ডেনে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে এবং সুলতানপুরীতে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে তাঁর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    পালাম কলোনির বাসিন্দা রাজকুমার নামে এক হিন্দু প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, পালাম রেলওয়ে প্রধান সড়কে পৌঁছে তিনি একটি জিপে সজ্জন কুমারকে দেখতে পান। জিপটির পিছনে স্কুটার ও মোটরসাইকেলে চড়ে একদল উত্তেজিত মানুষ যাচ্ছিলেন।

    অভিযোগ, সজ্জন কুমারের বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়ে ওই জনতা শিখবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের মুখে শোনা যাচ্ছিল, “শিখদের মেরে ফেলো!” এবং “ইন্দিরা গান্ধী আমাদের মা, আর এরাই তাঁকে হত্যা করেছে!” এই প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

    জগদীশ টাইটলারের ভূমিকা

    ১৯৮৪ সালের ৫ নভেম্বরের একটি ঘটনা তুলে ধরেছিলেন সাংবাদিক সুদীপ মজুমদার। তাঁর বিবরণ অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৫টা নাগাদ দিল্লির পুলিশ কমিশনার এস সি ট্যান্ডন সাংবাদিকদের সঙ্গে শহরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

    সেই সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, শিখবিরোধী হিংসার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুষ্কৃতীদের মুক্তি দিতে কংগ্রেস সাংসদ এবং দলের শীর্ষ নেতারা পুলিশকে চাপ দিচ্ছেন কি না। পুলিশ কমিশনার এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কংগ্রেস বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে পুলিশকে কোনও চাপ দেওয়া হচ্ছে না।

    কিন্তু তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন দিল্লির সদর কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ জগদীশ টাইটলার। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন ছিলেন।

    সাংবাদিকের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘরে ঢুকেই টাইটলার পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ট্যান্ডন সাহেব, কী হচ্ছে? আমি যে কাজের কথা বলেছিলাম, তা এখনও করেননি কেন?”

    এই ঘটনায় পুলিশ কমিশনার অস্বস্তিতে পড়েন। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। টাইটলার এরপরও কমিশনারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এক সাংবাদিক তাঁকে সংবাদ সম্মেলনে বিঘ্ন না ঘটানোর অনুরোধ জানালে তিনি পাল্টা বলেন, “এটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

    এরপর সাংবাদিকরা টাইটলারকে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে হিংসার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানান। টাইটলার সেখানে বসে পুলিশ কমিশনারকে বলেন, “আমার লোকজনকে হেফাজতে রেখে আপনারা ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছেন।”

    সুদীপ মজুমদারের দাবি, এই ঘটনার পর কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে পুলিশ কমিশনারকে আর কোনও প্রশ্ন করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি সেই সময়ের প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে (1984 Sikh Genocide)।

    দীর্ঘদিন পর বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি

    নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার একাধিক পুরনো মামলা নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমার এবং জগদীশ টাইটলারের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলিও ফের বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আসে।

    ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লির একটি আদালত সরস্বতী বিহার এলাকায় বাবা ও ছেলেকে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায়। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার সঙ্গে যুক্ত এই মামলার রায় দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রত্যাশী পরিবারগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

    অন্যদিকে, ২০২৩ সালে সিবিআই জগদীশ টাইটলারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। কয়েক দশক ধরে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক সুরক্ষা পাওয়ার অভিযোগের পর এই পদক্ষেপগুলি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে নতুন করে বিচারের আশা জাগায়।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা শিখ অধিকারকর্মী এইচ এস ফুলকা অতীতে ১৯৮৪ সালের ঘটনাকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন শিখবিরোধী হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের কিছু মুসলিম সমর্থকও হিংসায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। অন্যদিকে, বহু সাধারণ হিন্দু নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিখদের রক্ষা করেছিলেন (RSS)।

    ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়

    ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হত্যাকাণ্ড ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায়। শুধু ব্যাপক প্রাণহানি ও নৃশংসতাই নয়, এই হিংসার পিছনে রাজনৈতিক মদত এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

    সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবকরা শিখ পরিবারগুলিকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়েছিলেন বলে যে দাবি উঠে এসেছে, তা হিন্দু-শিখ সম্প্রীতি এবং বিপদের সময়ে মানবিক দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    তবে ১৯৮৪ সালের ঘটনাবলির পূর্ণাঙ্গ বিচার এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় নির্ধারণের প্রশ্ন আজও ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। নিহতদের পরিবারগুলির ন্যায়বিচার, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের মূল্যায়ন এবং ঐতিহাসিক সত্যের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানই এই অধ্যায়ের প্রকৃত নিষ্পত্তির জন্য অপরিহার্য (1984 Sikh Genocide)।

     

  • Naseeruddin Shah: কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র-টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে অশান্তি, নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক

    Naseeruddin Shah: কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র-টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে অশান্তি, নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে (এসআরএফটিআই) আন্দোলনের নামে হিংসাত্মক ঘটনার জেরে পড়ুয়াদের সম্মিলিত ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার উপর শারীরিক হামলার কয়েক দিন পর অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের (Naseeruddin Shah) মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের দাবি, ৫০০-র বেশি পড়ুয়ার নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং শিক্ষাগত ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতেই সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে (Srfti Controversy)। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীন এই প্রতিষ্ঠানের একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা জোরদার করতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর বিরোধিতা করেছিলেন পড়ুয়াদের একাংশ। ফলে তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, এই বিরোধিতার জেরে গোটা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া ও কর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।

    আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে নাসিরুদ্দিন (Naseeruddin Shah)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় নাসিরুদ্দিন শাহ আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ান। তাঁর অভিযোগ, “বাংলার নির্বাচনে জয়ের পর বিজেপি যেন তাদের বিশ্বাস ও নীতির সঙ্গে একমত নন, এমন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উঠেপড়ে লেগেছে।” পড়ুয়াদের তিনি ওই দলের প্রতিহিংসার শিকার বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, “দেশের ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের হয় মগজধোলাই করার, নয়তো ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।” তবে অভিনেতার বক্তব্য, “আমি আপনাদের কথা দিতে পারি, এমনটা হতে দেব না।”

    শাহের মন্তব্যের জবাবে বিজেপির সাংসদ তথা মুখপাত্র রাহুল সিনহা তাঁর বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের যোগ থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সিনহার দাবি, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর শাহ বিদেশি শক্তি এবং কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-সহ বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়ে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। এদিকে, প্রতিষ্ঠানের সূত্রের অভিযোগ, অভিনেতা মিথ্যা কথা বলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করছেন, যার ফলে পড়ুয়াদের ক্ষতি এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, এই ঘটনায় শাহ সরাসরি সংশ্লিষ্ট পক্ষ নন এবং ক্ষতির দায়ও তাঁকে বহন করতে হবে না।

    প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে অশান্তির সূত্রপাত। ওই দিন যথাযথ অনুমতি নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের সময় বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা মূল প্রেক্ষাগৃহে ঢুকে পড়েন। এর জেরে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পরেই উপাচার্যের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে (Naseeruddin Shah)।

    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

    ঘটনার পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। আহত পড়ুয়াদের চিকিৎসার খরচও প্রতিষ্ঠান বহন করে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে মূল ফটকের উচ্চতা বাড়ানো, বেড়ার তার বসানো এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ করা হয়। একই সঙ্গে মহিলা পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

    তবে ৪ অক্টোবর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওই দিন প্রায় ২৫০ জন পড়ুয়া রাত ১১টা পর্যন্ত মূল ফটকে উপাচার্য আজমেরাকে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ। ৬ অক্টোবর থেকে অন্তত ৫০-৬০ জন পড়ুয়া প্রায় দু’দিন তাঁর দফতর দখল করে রাখেন। সেই সময় তাঁর চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরের ভিতরেও তাণ্ডব চালানো হয় বলে অভিযোগ। ১৫ অক্টোবর শুভম নামে এক পড়ুয়া আজমেরার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ধস্তাধস্তি করেন বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের। পরের দিন তাঁর দফতর লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।

    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ

    প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন অনুমতি ছাড়াই মিছিল করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। সেই মিছিলে ক্যাম্পাসের বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ সংযত থাকার অনুরোধ জানালেও বিক্ষোভকারীরা উসকানিমূলক স্লোগান দেন বলে অভিযোগ।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অসদাচরণের অভিযোগে ছ’জন পড়ুয়াকে এক বছরের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নিরাপদ ও ভয়মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে পড়ুয়াদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের।

    এদিকে, চলচ্চিত্র পরিচালক পায়েল কাপাডিয়াও পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছেন (Srfti Controversy)। বিজেপির আদর্শগত অভিভাবক হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলির কথিত হামলার অভিযোগের জেরে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনায় চলচ্চিত্র মহল ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে (Naseeruddin Shah)।

     

  • Mohan Bhagwat: ‘পশ্চিম থেকে আসছে ঝড়’, ভারতকে নিয়ে বড় সতর্কবার্তা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘পশ্চিম থেকে আসছে ঝড়’, ভারতকে নিয়ে বড় সতর্কবার্তা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না। ক্ষমতার পালাবদল হলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে, এমন ধারণাও ভুল। মঙ্গলবার নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) বিজয়াদশমী উৎসবে ভাষণ দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করলেন সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারতের উন্নয়ন ও দৃঢ় নীতির অগ্রগতিতে বাধা দিতে একাধিক শক্তি সক্রিয় রয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আন্দোলন দেশে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে চলা প্রতিবাদের আবহে ভাগবতের এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ‘পশ্চিম থেকে আসছে ঝড়’, ভারতকে নিয়ে সতর্কবার্তা ভাগবতের

    ভাগবতের বক্তব্য, ভারত ক্রমশ এগিয়ে চলেছে বলেই দেশকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা করছে কিছু শক্তি। তাঁর কথায়, গত কয়েক দশকে দৃঢ় নীতি ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত যে অগ্রগতি করেছে, তা ব্যাহত করাই তাদের লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতকে ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি সঙ্ঘকেও দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

    সঙ্ঘপ্রধানের কথায়, “পশ্চিম দিক থেকে একটি ঝড় আসছে, যা সংস্কৃতি, ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাকে ঘৃণা করে। এই শক্তি ধ্বংস করতে চায়।” তাঁর দাবি, বিশ্বের একাধিক শক্তি চায় না ভারত নিজের উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাক। এই পরিস্থিতিতে সমাজকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

    নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ফ্রান্স, বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ভাগবত। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি আন্দোলনের পর কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতনের উদাহরণ দেন তিনি। ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জনপরিষেবার অবনতি ও শিক্ষাক্ষেত্রের সংস্কারকে ঘিরে বিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করেন।

    ভাগবতের অভিযোগ, ভারতে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা এই শক্তিগুলির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তাঁদের একাংশের মধ্যে ক্ষমতার লোভ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আন্দোলন নয়, সমাজের ভিতর থেকেই সমাধানের বার্তা

    রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আরএসএস প্রধান। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলন করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত বা উসকানিমূলক বিক্ষোভের ফলে উত্তেজনা, অরাজকতা এবং জনজীবনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

    তাঁর মতে, সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে সমাজের ভিতর থেকেই। প্রতিবাদের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানোর পরিবর্তে সামাজিক ঐক্য ও দায়িত্ববোধের উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

    এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ চলছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেছিলেন, দিল্লিতে এই প্রতিবাদ ক্রমশ ‘সরকার পরিবর্তনের লড়াই’-এ পরিণত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।

    বিজেপির তরফে এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী তরুণদের ব্যবহার করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। বিজেপির মুখপাত্র সি আর কেশবনও দাবি করেন, সরকার ফেলার উদ্দেশ্য আড়াল করতেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে বিরোধীদের অবস্থান নিয়ে প্রতিবেদনে পৃথক কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

    উন্নয়ন বনাম পরিবেশ, ভারসাম্যের উপর জোর

    রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি উন্নয়নের মডেল নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন ভাগবত। তাঁর মতে, ভারতকে এমন উন্নয়নের পথ দেখাতে হবে, যা মানবসমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠবে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি জরুরি হলেও পরিবেশ এবং নৈতিকতার প্রশ্নকে উপেক্ষা করা চলবে না।

    ভারতের ধর্মীয়, ভাষাগত ও খাদ্যাভ্যাসের বৈচিত্র্যকে সম্মান ও সুরক্ষিত রাখার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশের বৈচিত্র্যকে স্বীকার করেই সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

    উন্নয়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য বোঝাতে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গ টানেন সঙ্ঘপ্রধান। হিমালয় অঞ্চলে ভারত, নেপাল ও চিন—তিন দেশের ক্ষেত্রেই অপরিকল্পিত উন্নয়ন নতুন সমস্যা তৈরি করছে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, উন্নয়নের মূল্য যেন মানুষের প্রাণ দিয়ে চোকাতে না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    সব মিলিয়ে, বিজয়াদশমীর ভাষণে মোহন ভাগবতের বক্তব্যে উঠে এসেছে তিনটি প্রধান বিষয়—ভারতের অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা, রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিবর্তে সমাজের ভিতর থেকে সমস্যার সমাধান এবং পরিবেশ ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলা বিতর্কের আবহে তাঁর রাজনৈতিক মন্তব্যও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

  • Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যে আসছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিন দিনের সফরে বর্ধমানে থাকবেন তিনি। সফর ঘিরে একাধিক কর্মসূচি থাকলেও, মূলত সাংগঠনিক বিষয় নিয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা সংঘপ্রধানের। উত্তরবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের স্বয়ংসেবকদের পাশাপাশি পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান বিভাগের (Burdwan) ক্ষেত্রপ্রমুখদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বর্ধমানে ভাগবত (Mohan Bhagwat)

    জানা গিয়েছে, ট্রেনে সরাসরি বর্ধমান স্টেশনে পৌঁছবেন ভাগবত। সেখান থেকে বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে মূলত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। রাজ্যে, বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান জেলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও পর্যন্ত কতগুলি শাখা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই সংক্রান্ত সাংগঠনিক তথ্য নেবেন সংঘপ্রধান। পাশাপাশি আগামী এক বছরের কর্মসূচি নিয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর বর্ধমান মডেল স্কুলেও যাবেন ভাগবত। সেখানে সংঘের কর্মীদের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সন্ধ্যায় ফের বর্ধমানে সংঘের কর্মীদের স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    পরদিন, শুক্রবার সকালে সংগঠনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভাগবত। এরপর তিনি যাবেন সংঘের নতুন কার্যালয়ে। দিনভর সেখানে বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা। তাঁর সঙ্গে বর্ধমানে থাকার কথা সংঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলেরও।

    সংঘ সূত্রে খবর, সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে চলেছে। বর্ধমান সফরে সেই বিষয়গুলিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে। বৈঠক শেষে বর্ধমান বিভাগের সংঘকর্মীদের সঙ্গে আলাদা করে দেখা করার কথা রয়েছে ভাগবতের।

    সংঘ কর্তার ঠাসা কর্মসূচি

    এই সফরে মধ্যবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন সংঘপ্রধান। দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের একাংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। দেওয়ানদিঘির একটি স্কুলের হলঘরেও প্রায় ১২০০ প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। পরে উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যের সংঘের শীর্ষ পদাধিকারীরাও উপস্থিত থাকবেন।

    সংঘ সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বহু শাখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই শাখাগুলির বেশ কিছু ফের চালু হয়েছে। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যায় শাখা খোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সেই সাংগঠনিক বিস্তার নিয়েও ভাগবতের সফরে আলোচনা হতে পারে (Mohan Bhagwat)।

    বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে ভাগবত বলেছিলেন, “আরএসএসের দরজা সবার জন্য খোলা রয়েছে। যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন।” সেই সফরে টানা কয়েক দিন বর্ধমানে ছিলেন সংঘপ্রধান।

    রাজ্যে সংঘের ভূমিকার দিক নির্দেশ

    সংঘের এক নেতার দাবি, রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পিছনে সংগঠনের কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তাঁরা কাজ করেছেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর স্থানীয় স্তরে সংঘের কর্মীরা আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী তাঁদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি ওই নেতার। আগামী দিনে রাজ্যে সংঘের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও ভাগবতের সঙ্গে কর্মীদের আলোচনা হতে পারে। কর্মীদের বক্তব্য সরাসরি শোনার জন্যও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আরএসএস সূত্রে খবর(Mohan Bhagwat)।

    আর এক সংঘনেতার বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন জেলায় একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তোলাবাজি বা জরিমানা আদায়ের মতো ঘটনায় বিজেপি নেতাদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী দিনে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে পুরনো কর্মীদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে।

    বিজেপির জয়ে সংঘ প্রধানের অবদান

    তবে ভাগবতের এবারের সফরের সমস্ত কর্মসূচিই অভ্যন্তরীণভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে সংঘপ্রধান প্রকাশ্যে সভা করেছিলেন এবং টানা কয়েক দিন সেখানে (Burdwan) ছিলেন। সেই সফরের পর বিজেপি বর্ধমান-সহ মধ্যবঙ্গে উল্লেখযোগ্য ফল করেছিল বলে মনে করে সংঘ ও বিজেপির একাংশ। এবার আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Mohan Bhagwat) বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

     

  • Mohan Bhagwat: ভাগবতের কানাডা সফরের অনুমতি চেয়ে কার্নিকে চিঠি শতাধিক হিন্দু সংগঠনের

    Mohan Bhagwat: ভাগবতের কানাডা সফরের অনুমতি চেয়ে কার্নিকে চিঠি শতাধিক হিন্দু সংগঠনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডায় আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) সফরের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে চিঠি দিল শতাধিক কানাডীয় (Canada Visit) হিন্দু সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী। ভাগবতকে কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করার যে দাবি উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত যেন রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়—চিঠিতে এমনই আবেদন জানানো হয়েছে।

    কানাডা সরকারকে চিঠি (Mohan Bhagwat)

    কার্নির পাশাপাশি জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারী, অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ দিয়াব এবং বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের কাছেও চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে। আরএসএস প্রধানকে কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং সংগঠনটিকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কিছু খালিস্তানপন্থী নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাংসদ, যাঁদের মধ্যে জেনি কোয়ান ও হিদার ম্যাকফারসন রয়েছেন। কিছু ইসলামপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনও একই দাবি তুলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, কানাডার বৃহৎ হিন্দু জনগোষ্ঠীর কাছে ভাগবতের প্রস্তাবিত সফর “যথেষ্ট আগ্রহের বিষয়”। শতাধিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী ১০১টিরও বেশি কানাডীয় সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবতের কানাডা সফরের প্রস্তাবের প্রতি আমাদের সমর্থন জানাতে লিখছি। এই সফর কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে হিন্দু ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত ১০ লাখেরও বেশি কানাডীয় নাগরিক রয়েছেন।”

    আরএসএস ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন

    চিঠিতে আরএসএসকে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জনপরিসরে মতপ্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সামাজিক প্রকল্প এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠনটি পরিচিত। সেখানে আরও বলা হয়েছে, “তাই আমরা নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাংসদ জেনি কোয়ান ও হিদার ম্যাকফারসন এবং কয়েকটি সংগঠনের সাম্প্রতিক সেই আহ্বান নিয়ে উদ্বিগ্ন, যেখানে কানাডা সরকারকে ভাগবতকে দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং তাঁকে প্রবেশের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

    ভাগবতের (Mohan Bhagwat) কানাডা সফর ঠেকানোর এই প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, ভাগবতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি তোলা হয়েছে, সেগুলির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। দুই সাংসদের তরফে ভাগবতের বিরুদ্ধে ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ইতিহাস, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসাকে সমর্থন, পরিকল্পিতভাবে ভয় দেখানো এবং সন্ত্রাসবাদী বা অপরাধমূলক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের মতো অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

    চিঠিতে যা লেখা হয়েছে

    এই বিষয়ে চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “গুরুতর অভিযোগের জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।”

    আরও বলা হয়েছে, “এগুলি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। স্পষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এগুলিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা বা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয় (Canada Visit)।”

    চিঠিতে কানাডীয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগগুলির সমর্থনে থাকা প্রমাণ খুঁজে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যথাযথ আইনি ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হবে।

    ভাগবতের উপস্থিতি কানাডার জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে কিংবা সামাজিক অশান্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও খারিজ করেছে সংগঠনগুলি। তাদের প্রশ্ন, কানাডায় ভাগবত বা আরএসএসের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার নির্দিষ্ট কোনও নজির রয়েছে কি না। তাঁর কানাডা সফর জননিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, “কানাডার অভিবাসন ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত আইন, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হওয়া উচিত,  অনুমান বা রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়।”

    হিন্দু সংগঠনগুলির বক্তব্য

    সংগঠনগুলির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনাও বৈধ। তবে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও বিদেশি নেতাকে কানাডায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে তা (Mohan Bhagwat) বহুত্ববাদ ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে।

    চিঠিতে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ভাগবতকে কানাডায় প্রবেশ করতে না দিলে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর তার বৃহত্তর প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে কানাডীয় হিন্দু ও তাঁদের সংগঠনগুলির সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে—এমন ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংগঠনগুলির বক্তব্য, “কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ব্যবস্থা এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত যে বিভিন্ন ধর্ম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মানুষ জনজীবনে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অন্য সব ধর্মীয় বা অ-ধর্মীয় পটভূমির কানাডীয়দের মতো হিন্দুরাও মর্যাদা, নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সংগঠনের অধিকার এবং আইনের চোখে সমতার অধিকারী।”

    “হিন্দুফোবিয়া”য় উদ্বেগ

    ভাগবতের বিরুদ্ধে চলা প্রচারাভিযানকে কিছু কানাডীয় হিন্দু “হিন্দুবিরোধী পক্ষপাত” বা “হিন্দুফোবিয়া” হিসেবে দেখছেন বলেও চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কয়েকটি সংগঠন বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতামত দিয়ে কানাডার সব নাগরিক কিংবা সমস্ত কানাডীয় হিন্দুর অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করা উচিত নয়।

    চিঠিতে ভাগবতের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “ভাগবতের বক্তব্যের মূল গুরুত্ব সব সময় সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক পরিচয়, সমাজসেবা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগের উপর ছিল। তাই আমরা রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলিকে তাঁদের প্রকাশ্য বক্তব্যে দায়িত্বশীল হওয়ার এবং এমন ভাষা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাই, যা কানাডার বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়গুলির মধ্যে বিভাজন আরও গভীর করতে পারে (Mohan Bhagwat)।”

    চিঠির শেষাংশে সংগঠনগুলি বলেছে, “কানাডার প্রয়োজন আরও আলোচনা, বিভাজন নয়; আরও প্রমাণ, অভিযোগ নয়; আরও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক চাপ নয়; এবং তার বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি আরও সম্মান। কোনও একটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক নেতাকে স্বাগত জানানোর বৈধ অধিকারকে স্তব্ধ করার প্রচেষ্টা নয়। আমরা সম্মানের সঙ্গে কানাডা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, মোহন ভাগবতের প্রস্তাবিত সফর বিবেচনার সময় সমতা, বহুত্ববাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সংগঠনের অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নীতিগুলি বজায় রাখা হোক।”

    চিঠিতে যারা স্বাক্ষর করেছে

    এই যৌথ উদ্যোগে কানাডা ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, কানাডিয়ান আর্য সমাজ, ব্র্যাম্পটন হিন্দু সোসাইটি, হিন্দু সোসাইটি অব কানাডা, হিন্দু মিশন অব কানাডা, হিন্দু সভা টেম্পল, হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কানাডা-সহ একাধিক মন্দির, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠন অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে (Canada Visit)।

    চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ভাগবতের প্রস্তাবিত সফরকে কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী—ইসলামপন্থী, বামপন্থী ও খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির সমন্বয়ে একটি প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে। অনলাইন আবেদন, লিখিত আবেদন এবং প্রতিবাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য—এই তিন দেশের সরকারের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    তবে ভাগবতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বিভিন্ন সংগঠনের পাল্টা দাবিগুলি চিঠিতে উল্লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতেই এসেছে, এগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন যাচাই ও প্রমাণের মূল্যায়ন প্রয়োজন (Mohan Bhagwat)।

     

  • RSS: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ও যুবসমাজের মাদকাসক্তি ইস্যুতে শুরু আরএসএসের তিন দিনের সমন্বয় বৈঠক

    RSS: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ও যুবসমাজের মাদকাসক্তি ইস্যুতে শুরু আরএসএসের তিন দিনের সমন্বয় বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা, যুবসমাজের মাদকাসক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা নিয়ে আগামী তিন দিন ধরে আলোচনা করবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। বুধবার বিশাখাপত্তনমের কাছে গুড়িলোভায় বিজ্ঞান বিহার বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে আরএসএসের এই বার্ষিক সর্বভারতীয় সমন্বয় বৈঠক। মঙ্গলবার বিকেলে বৈঠকের জায়গায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রচারপ্রমুখ সুনীল আম্বেকর। তিনি জানান, ১৯ অগাস্ট (বুধবার) সকাল ৯টায় বৈঠক শুরু হবে, চলবে ২১ অগাস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত। সঙ্ঘের ভাবধারায় প্রাণিত ৩২টি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা তিন দিনের এই বৈঠকে অংশ নেবেন। আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত, সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সহ-সরকার্যবাহ এবং কেন্দ্রীয় স্তরের অন্যান্য পদাধিকারীরাও উপস্থিত রয়েছেন।

    বৈঠকে যোগ দিয়েছেন যাঁরা (RSS)

    সংঘ সূত্রে খবর, এদিন শুরু হওয়া ওই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন (Demographic Imbalance) ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, ভারতীয় জনতা পার্টি, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, ভারতীয় কিষান সঙ্ঘ এবং রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি-সহ বিভিন্ন সঙ্ঘ-প্রাণিত সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠন সম্পাদকরা। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২৭ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগঠনগুলির ২৫৩ জন পদাধিকারী। এঁদের মধ্যে আবার রয়েছেন, ৪৯ জন মহিলা। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন আরএসএসের শীর্ষ নেতারাও।

    সুনীল আম্বেকরের বক্তব্য

    সুনীল আম্বেকর স্পষ্ট করে জানান, এটি কোনও নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈঠক নয়। বিভিন্ন সংগঠনের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সমাজের কল্যাণে তাদের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। জনকল্যাণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের মতো বিষয় নিয়ে সঙ্ঘ ও তার অনুপ্রাণিত সংগঠনগুলি কাজ করে। সেই কাজের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে বৈঠকে আলোচনা হবে। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, সামাজিক পরিবর্তন এবং উদীয়মান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়েও পর্যালোচনা হবে, হবে আলোচনাও। বৈঠকে দেশের জনসংখ্যার পরিবর্তিত প্রবণতা, তার বৃহত্তর প্রভাব এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব

    তিন দিনের এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত রাখার বিষয়টি। ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে একটি সুসংবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হবে (RSS)।আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের প্রাক্কালে সমাজে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘পঞ্চ পরিবর্তন’। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক সম্প্রীতি, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, পরিবারবোধ ও পারিবারিক মূল্যবোধ, স্ব-বোধ বা দেশীয় চেতনা এবং নাগরিক কর্তব্য পালন। শতবর্ষের এই পর্বে দেশজুড়ে এই পাঁচটি বিষয় নিয়ে আলোচনা ও প্রচার চালানো হচ্ছে। তিন দিনের এই সমন্বয় বৈঠকেও পঞ্চ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে পরবর্তী কর্মসূচি ও উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে (Demographic Imbalance)।

    ‘ভারতীয় উন্নয়ন মডেল’

    সুনীল আম্বেকর এও জানান, অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি সামগ্রিক ‘ভারতীয় উন্নয়ন মডেল’ গড়ে তোলার বিষয়টিও রয়েছে বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে। তাঁর মতে, প্রকৃত উন্নয়নকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সূচকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। সমাজের সব ক্ষেত্রে সামগ্রিক অগ্রগতিই প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি হওয়া উচিত। আরএসএসের শতবর্ষের এই পর্বে সংগঠনটির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে। ‘আরএসএসে যোগ দিন’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৪২৩ জন নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। ২০২৬ সালে ওই একই সময়ে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ২৮৭। নথিভুক্তদের মধ্যে ৬৫ শতাংশেরও বেশি ৩০ বছরের কম বয়সি এবং প্রায় ৮৫ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের কম (RSS)।

    এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে সুনীল আম্বেকর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ-মধ্য ক্ষেত্রের (Demographic Imbalance) সহ-সঙ্ঘচালক শ্রী দুঙ্গি রামকৃষ্ণ, সহ-প্রচারপ্রমুখ শ্রী প্রদীপ জোশী, অন্ধ্রপ্রদেশ প্রান্তের প্রচারপ্রমুখ বায়্যা বাসু এবং সহ-প্রচারপ্রমুখ বাসুদেব রাও (RSS)।

     

  • RSS: অন্ধ্রপ্রদেশে সংঘ-প্রাণিত ৩২ সংগঠনের বার্ষিক সমন্বয় বৈঠক, আলোচনায় জনসংখ্যার ভারসাম্য-পঞ্চ পরিবর্তন

    RSS: অন্ধ্রপ্রদেশে সংঘ-প্রাণিত ৩২ সংগঠনের বার্ষিক সমন্বয় বৈঠক, আলোচনায় জনসংখ্যার ভারসাম্য-পঞ্চ পরিবর্তন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ বছর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রেরণায় পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠনের বার্ষিক অখিল ভারতীয় সমন্বয় বৈঠক (RSS) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম জেলার গুডিলোভায়। আগামী ১৯ থেকে ২১ অগাস্ট এই (Akhil Bharatiya Samanvay Baithak) তিন দিন ধরে হবে এই বৈঠক। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, দিনগুলি যুগাব্দ ৫১২৮, বিক্রম সংবৎ ২০৮৩ এবং শ্রাবণ শুক্ল সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী।

    বৈঠকে অংশ নেবে কারা (RSS)

    এই বৈঠকে সংঘের প্রেরণায় পরিচালিত মোট ৩২টি সংগঠন অংশ নেবে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির অখিল ভারতীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সংগঠন সম্পাদক এবং নির্বাচিত পদাধিকারীরা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই সংগঠনগুলি দেশের সামাজিক জীবনে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে। জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে জনসচেতনতা গড়ে তোলা এবং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনগুলি। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি নিজেদের কাজের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও মতামত পেশ করা হবে। সব সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হবে। জনকল্যাণ এবং নীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতামত বিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে।

    বৈঠকে আলোচ্যসূচি

    বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বৈঠকের আলোচনায় ঠাঁই পাবে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতা, নেশামুক্তি, যুবসমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে উন্নয়নের ধারণা (RSS)। বৈঠকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত, সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সমস্ত সহ-সরকার্যবাহ এবং অখিল ভারতীয় কার্যবিভাগের প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন (Akhil Bharatiya Samanvay Baithak)। বৈঠকে ভারতীয় মজদুর সংঘ, ভারতীয় কিষান সংঘ, ভারতীয় জনতা পার্টি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, সক্ষম এবং রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি-সহ ৩২টি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা অংশ নেবেন (RSS)।

     

  • RSS: আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক শুরু, বেলগাভির সভায় শাখা সম্প্রসারণ, শতবর্ষ কর্মসূচিতে জোর

    RSS: আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক শুরু, বেলগাভির সভায় শাখা সম্প্রসারণ, শতবর্ষ কর্মসূচিতে জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার কর্নাটকের বেলগাভিতে শুরু হয়ে গেল আরএসএসের (RSS) বার্ষিক সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক।তিনদিনের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে (Belagavi Meet) দেশজুড়ে শাখা সম্প্রসারণের গতি বাড়ানো, শতবর্ষ উপলক্ষে নেওয়া কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং আগামী এক বছরের সাংগঠনিক অগ্রাধিকার চূড়ান্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    বৈঠকে উপস্থিত মোহন ভাগবত (RSS)

    বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সমস্ত সহ-সরকার্যবাহ, সর্বভারতীয় বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, ক্ষেত্র প্রচারক, সহ-ক্ষেত্র প্রচারক, দেশের ৪৬টি প্রান্তের প্রান্ত প্রচারক ও সহ-প্রচারক এবং সংঘ-অনুপ্রাণিত বিভিন্ন সংগঠনের সাংগঠনিক মন্ত্রীরা। বৈঠকে তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চের পর দেশজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবিরের রিপোর্ট বেলগাভির বৈঠকে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি শাখা স্তরে গৃহীত কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হবে।

    আলোচ্য সূচি

    আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী যে শাখা সম্প্রসারণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তার অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি আগামী দিনে আরও কীভাবে শাখার বিস্তার ঘটানো যায়, সেই কৌশলও নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া শতবর্ষ উপলক্ষে ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির মূল্যায়ন এবং আগামী ২০ অক্টোবর বিজয়াদশমী পর্যন্ত নির্ধারিত বাকি অনুষ্ঠানগুলির পরিকল্পনাও এই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। বিজয়াদশমীর দিনই বছরব্যাপী শতবর্ষ উদ্‌যাপনের সমাপ্তি হবে। বৈঠকে মোহন ভাগবতের ২০২৬-২৭ সালের দেশব্যাপী সফরসূচি এবং সংঘের অন্যান্য সাংগঠনিক অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা হবে (RSS)। এদিকে, কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (কেপিসিসি) সভাপতি বি কে হরিপ্রসাদ বেলগাভিতে অনুষ্ঠিত আরএসএসের এই বৈঠক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বেলগাভিতে কেন এই বৈঠক হচ্ছে, তা আমি জানি না। কী ধরনের বিপর্যয় ঘটে, তা দেখা যাক। তারপর আমি এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেব।” অযোধ্যার রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার জেরে (Belagavi Meet) কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করছে (RSS)।”

     

  • Mohan Bhagwat: অগাস্টের শেষে প্রথমবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: অগাস্টের শেষে প্রথমবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের অগাস্টের শেষের দিকে প্রথমবারের মতো কানাডা (Canada) সফরে যেতে পারেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। যাঁরা তাঁর সফরের আয়োজন করছেন, তাঁদের একটি সূত্রের খবর ৩১ অগাস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর তাঁর কানাডা সফরের সম্ভাব্য সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সফরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। এই সফরে তিনি শুধুমাত্র টরেন্টো সফর করবেন। কানাডা সফরের আগে ভাগবত পাঁচ দিনের জন্য আমেরিকা সফরে যাবেন। সফরের শেষ দিনে নিউ ইয়র্ক সিটিতে একটি জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। তার পরেই ভাগবত রওনা দেবেন টরন্টোর উদ্দেশে।

    আরএসএস কর্তার সফরসূচি (Mohan Bhagwat)

    টরন্টোয় প্রবাসী ভারতীয়দের একটি বড় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন আরএসএস কর্তা। পাশাপাশি একাধিক বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। যদিও সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও করা হয়নি, তাই আয়োজকদের তরফে কেউই প্রকাশ্যে পরিচয় দিতে চাননি। কানাডা সফর শেষে ভাগবত যাবেন ব্রিটেন সফরে। আয়োজকদের দাবি, আরএসএসের আন্তর্জাতিক জনসংযোগ ও ভাবমূর্তি তুলে ধরার লক্ষ্যেই ভাগবতের এই সফরের আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, পশ্চিমি দেশগুলিতে, বিশেষ করে কানাডায়, আরএসএস সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তা সংশোধন করাই আরএসএস কর্তার এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁর সফরে বিক্ষোভ দেখাতে পারে খালিস্তানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী। সেই সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে (Mohan Bhagwat) বলেও জানিয়েছেন আয়োজকরা।

    ভারত-কানাডা সম্পর্ক

    উল্লেখ্য, এটি ভাগবতের প্রথম কানাডা সফর। এর আগে ২০০৫ সালে তৎকালীন আরএসএস প্রধান কেএস সুদর্শন কানাডা সফরে গিয়েছিলেন। তারপর কেটে গিয়েছে দু’দশকেরও বেশি সময়। এবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন বর্তমান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত।আয়োজকদের একাংশের দাবি, কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর (Justin Trudeau) আমলে অবনতি ঘটেছিল ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। তাই আরএসএস কর্তার কানাডা সফরের উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না। চলতি বছরের মার্চ মাসে ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হন মার্ক কার্নি। তার (Canada) পরেই উন্নতি হয় ভারত-কানাডা সম্পর্কের। তাই এবার ভাগবতের সফর (Mohan Bhagwat) বাস্তবায়িত হতে চলেছে বলে তাঁদের ধারণা।

     

LinkedIn
Share