Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • India Reopens Tourist Visas: বাংলাদেশিদের জন্য ফের চালু হচ্ছে ভারতের পর্যটন ভিসা, ২৮ জুন থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু

    India Reopens Tourist Visas: বাংলাদেশিদের জন্য ফের চালু হচ্ছে ভারতের পর্যটন ভিসা, ২৮ জুন থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ফের পর্যটন ভিসা (India Reopens Tourist Visas) চালুর কথা ঘোষণা করল ভারত। বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশে (Bangladeshi Citizens) ভারতের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী এই খবর জানান। তিনি বলেন, “২৮ জুন, রবিবার থেকে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া আবারও শুরু হবে।” রাষ্ট্রদূত জানান, ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও স্বাভাবিক ও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশিরা আবারও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে ভ্রমণ করতে পারবেন।

    বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা (India Reopens Tourist Visas)

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা দেওয়া হচ্ছিল। এবার সেই বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যটন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া ফের চালু করা হচ্ছে।দীনেশ জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে পর্যটন ভিসার আবেদন নেওয়া হবে। তিনি এও জানান, বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় সফরের সময় ভিসা সংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও যাতায়াত অনায়াস করতেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ

    এদিন দুপুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দীনেশ। এই সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেন (India Reopens Tourist Visas)। গত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার দীনেশকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করেছিল। তিনি ভারতের প্রথম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পেয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দীনেশ কংগ্রেস, জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চলতি মাসে স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, “ভারত ও বাংলাদেশ দু’টি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশ। দুই দেশের সহযোগিতা আরও (Bangladeshi Citizens) জোরদার হলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।” উল্লেখ্য, প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন (India Reopens Tourist Visas) দীনেশ।

     

  • Narendra Modi Untold Story: জরুরি অবস্থার অন্ধকারে ‘স্বামীজি’ থেকে ‘সর্দারজি’! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে লড়েছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি?

    Narendra Modi Untold Story: জরুরি অবস্থার অন্ধকারে ‘স্বামীজি’ থেকে ‘সর্দারজি’! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে লড়েছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গণতন্ত্রের অন্ধকারতম সময়! ২৫ জুন, সালটা ১৯৭৫। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) ঘোষণা করলেন জরুরি অবস্থার (Emergency Period)। ১৯৭৭ সাল অবধি, ২১ মাস জারি থাকে এই জরুরি অবস্থা। সাংবিধানিক মূল্য়বোধের সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে দেশে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল এই সময়। সরকারের বিরোধিতা, মানেই আশ্রয় হত অন্ধ কারাগার। সেই সময় সবচেয়ে সক্রিয় ও দক্ষ কর্মীদের জেলের বাইরে রেখে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের নীতি। আরএসএস-এর সেই পরিকল্পনার অন্যতম মুখ ছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। গুজরাটের বিভিন্ন প্রান্তে—বরোদা, আমেদাবাদ, রাজকোটে ঘুরে ঘুরে তিনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করছিলেন জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে। পুলিশের চোখ এড়িয়ে আরএসএস-এর বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি নানা রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন—কখনও ‘সর্দারজি’, কখনও ‘বটুকভাই’, তো কখনও ‘স্বামীজি’।

    ‘বটুকভাই’ থেকে ‘স্বামীজি’ – ছদ্মবেশের কাহিনী

    ১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন থেকে ২১ মাসব্যাপী দেশে জারি হওয়া জরুরি অবস্থার সময়, সরকারের কড়া দমননীতি থেকে বাঁচতে নানা ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় তাঁকে ‘বেশভূষার মাস্টার’ বলেও ডাকা হতো। জরুরি অবস্থার সময় আরএসএস-এর নীতি ছিল যে কোনও মূল্যে জেলের বাইরে থেকে অস্থির সময়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আরএসএস তখন কার্যত আন্ডারগ্রাউন্ডে। সেই সময় তৈরি করা হয়েছিল গুজরাট লোক সংঘর্ষ সমিতি। সেই সময় মাত্র ২৫ বছর বয়সে আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক পদে উঠে এসেছিলেন মোদি। সেই সময় নানা লেখালেখি করতেন মোদি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁর সেই লেখা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সেই সময় যাতে চিহ্নিত না হয়ে যান সেকারণে নরেন্দ্র মোদি কখনও স্বামীজি, কখনও শিখের ছদ্মবেশ ধরতেন। তখনই গুজরাট ভ্রমণের সময় মোদি ‘বটুকভাই’ নাম নিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করেন। পরে এক পর্যায়ে, তিনি সন্ন্যাসীর বেশ নেন—গায়ে গেরুয়া বসন, মুখে ধর্মীয় ভাষ্য। একদিন, তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, সেখানে স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়ের একজন আচার্য উপস্থিত হন। তখন পরিবারের লোকেরা তাঁকে ‘উদয়পুর থেকে আগত স্বামীজি’ বলে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর আচার্য ও ছদ্মবেশী ‘স্বামীজি’-র মধ্যে ধর্মীয় বিতর্কও শুরু হয়!

    ভবনগর জেলে ‘সৎসঙ্গ’ করে বার্তা পৌঁছানো

    জরুরি অবস্থা জারির পরেই মোদি তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেই সময় তিনি ও তাঁর সতীর্থরা নানা ধরনের মিটিং করতেন কিছুটা আড়ালে। সিনিয়র আরএসএস নেতা নাথ জাগড়া, বসন্ত গজেন্দ্রগড়করের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তথ্য় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কিছুটা অভিনব পথ নিয়েছিলেন। সাবধানে পরিকল্পনা করে, ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে মোদি ‘স্বামীজি’ ছদ্মবেশে ভবনগর জেলে পৌঁছান। সেখানে আটক আরএসএস নেতা বিশ্নুভাই পাণ্ড্যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। একটি ‘সৎসঙ্গ’-এর অজুহাতে তিনি জেলের ভিতরে প্রবেশ করেন এবং এক ঘণ্টা ধরে গোপনে আলোচনা করেন। পুলিশের চোখ এড়িয়ে নির্বিঘ্নে বেরিয়েও আসেন।

    ‘সর্দারজি’ সেজে কলেজ ছাত্রদের মাঝে

    কংগ্রেসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেই সময় গুজরাটে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে গুজরাটে শুরু হয়েছিল নবনির্মাণ আন্দোলন। সেই সময় দেখা গিয়েছিল পড়ুয়াদের শক্তি। সেই সময় আরএসএসের যুব প্রচারক ছিলেন মোদি। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের আওতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন করেন। তখন তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মবেশ ছিল ‘সর্দারজি’। মাথায় পাগড়ি পরে, শিখ বেশে তিনি ঘোরাফেরা করতেন। এমনকি কলেজপড়ুয়া ছাত্ররা তাঁর উপস্থিতিতে উচ্চস্বরে সর্দারজি-র কৌতুক বলতেও কুণ্ঠাবোধ করত না। পরিচিত পরিবারের শিশু ও তাদের বন্ধুরাও এসে তাঁকে এই নতুন রূপে দেখতে পেত।

    রহস্যময় এবং কৌশলী অধ্যায়

    এই সব ছদ্মবেশ ও বুদ্ধিদীপ্ত চালচলনের জোরেই প্রশাসন তাঁর অবস্থান কখনও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারেনি। প্রায়ই দেখা যেত, পুলিশ এসে পৌঁছানোর আগেই অন্য জায়গায় সরে গিয়েছেন মোদি। ১৯৭৭ সালে জরুরী অবস্থা উঠে যাওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদি ক্রমেই জাতীয় ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ছড়িয়ে দিতে থাকেন। আরএসএস-এর হাত ধরে ১৯৮৫ সালে বিজেপিতে যোগদান। তারপর ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীত্ব গ্রহণ। ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন মোদি। তারপর ভারতে আচ্ছে দিন-এর শুরু। কিন্তু আজও জরুরি অবস্থার অন্ধকার দিনে মোদির এই নানা ছদ্মবেশী কাহিনী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক রহস্যময় এবং কৌশলী অধ্যায় হয়ে রয়ে গিয়েছে।

  • Iran: খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ ইরানের প্রেসিডেন্টের

    Iran: খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ ইরানের প্রেসিডেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ্ সৈয়দ আলি খামেনেইর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফনের অনুষ্ঠান প্রথমে মার্চ মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ইরান-ইজরায়েল এবং আমেরিকাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পরে ইরানি কর্তৃপক্ষ ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে একাধিক অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ করে।

    খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিতে আমন্ত্রণ ভারতের (Iran)

    অনুষ্ঠানের সূচনা হবে ৪ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে। সেখানে খামেনেইর মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। দেশজুড়ে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শোকানুষ্ঠান ও বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তেহরান এবং পবিত্র নগরী কোমে বিশাল শোকমিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরেও বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজা মাজারে খামেনেইকে দাফন দেওয়া হবে। মাশহাদই ছিল খামেনেইর জন্মস্থান। সপ্তাহব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানে লক্ষাধিক নয়, বরং কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা ইরানি প্রশাসনের (Iran)।

    ভারত-ইরান সম্পর্ক

    প্রসঙ্গত, ভারত এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রয়েছে। সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়া সঙ্কটকালেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর আগে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব দেখা গিয়েছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। একই বছরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি।

    সম্প্রতি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নয়াদিল্লি সফরে এসেছিলেন। ওই সফরে তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন, সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও (Iran)। ইরানের এই (PM Modi) রাষ্ট্রীয় শোকের অনুষ্ঠানে ইরাক, পাকিস্তান, রাশিয়া, চিন-সহ একাধিক আঞ্চলিক দেশের প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকতে পারে বলেও খবর।

     

  • Samvidhan Hatya Diwas: ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ কেন পালন করছে বিজেপি? ১৯৭৫-এর জরুরি অবস্থার অজানা ইতিহাস

    Samvidhan Hatya Diwas: ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ কেন পালন করছে বিজেপি? ১৯৭৫-এর জরুরি অবস্থার অজানা ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৫ জুন ভারতীয় গণতন্ত্রের কাছে এক কালো দিন। আজ থেকে ঠিক পঞ্চাশ বছর আগে, আচমকা মধ্যরাতে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। না, কোনও যুদ্ধ নয়। নিজের গদি বাঁচাতে দেশবাসীকে কার্যত বন্দি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। যার প্রতিবাদে আজ দেশজুড়ে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ পালন করছে বিজেপি। কী ঘটেছিল সেই সময়ে? কেমন ছিল সেই অন্ধকারময় অধ্যায়?

    ইতিহাসের পাতা উল্টে ফেরা যাক ঠিক ৫০ বছর আগেকার একটি অস্থির সময়ে। সালটা ১৯৭৫। যে সময় দেশ এক কঠিন সময়ের চরম নজির দেখেছিল ভারতবাসী। এমন একটা সময় যখন ক্ষমতাবলে দেশের সংবিধানকে হত্যা করেছিল দেশেরই শাসক। কংগ্রেস শাসনের স্বৈরতন্ত্রের সামনে ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল গণতন্ত্র। বিরোধে ওঠা সব কণ্ঠকে নির্বিচারে করা হয়ছিল রোধ। বিরোধী হলেই ঠাঁই ছিল গারদ।

    ক্ষমতা হারানোর ভয় পেলেন ইন্দিরা…

    ১৯৭১ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের রায়বেরিলি কেন্দ্র থেকে জয়ী হন ইন্দিরা গান্ধী। বিপক্ষ প্রার্থী ছিলেন সংযুক্ত সোশ্যালিস্ট পার্টির রাজনারায়ণ। এই ভোটে ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে কারচুপি করে জেতার অভিযোগ আনেন রাজনারায়ণ। সোশ্যালিস্ট পার্টির এই নেতা দ্বারস্থ হন এলাহাবাদ হাইকোর্টের। ইন্দিরার বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচন জেতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এক ঐতিহাসিক রায়ে ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে তাঁকে ৬ বছর পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি জগমোহনলাল সিনহা।

    ক্ষমতা হারানোর ভয়ে দিশাহারা ইন্দিরা তখন দ্বারস্থ হলেন সুপ্রিম কোর্টের। ১৯৭৫ সালের ২৩ জুন মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে। ২৪ জুন বিচারপতি আইয়ার নির্দেশ দিলেন, যতক্ষণ না চূড়ান্ত রায় আসছে, ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। তবে সাংসদ হিসেবে কাজ চালাতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর বিরোধীরা বলতে শুরু করেন, “চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত ইন্দিরা প্রধানমন্ত্রী থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।” অন্যদিকে, ইন্দিরার পদত্যাগের দাবিতে তখন দেশজুড়ে প্রবল আন্দোলন শুরু করেন জয়প্রকাশ নারায়ণ।

    চুপিসারে মধ্যরাতে জারি এমার্জেন্সি

    ক্ষমতা হারানোর ভয় আরও তাড়া করতে শুরু করে কংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রীকে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ঠিক একদিন পরেই, ১৯৭৫ সালের ২৫ এবং ২৬ জুন মধ্যরাতে, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করেন যাতে তাঁকে পদত্যাগ করতে না হয়। এই জরুরি অবস্থা চলেছিল ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত! এই গোটা সময় দেশ একটা চরম অন্ধকারময় অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। এই সময়ে গোটা দেশকে কার্যত কারাগারে পরিণত করেছিল কংগ্রেস সরকার। গণতন্ত্র এবং মানুষের মৌলিক অধিকার দুটোই সেদিন কেড়ে নেয় গান্ধী পরিবারের শাসন। সরকার চাইলে যে কোনও ব্যক্তিকে যতদিন খুশি জেলে ভরে রাখতে পারত। সব থেকে বড় কথা, কোনও রকমের শুনানি ছাড়াই কয়েক হাজার সরকার বিরোধী ব্যক্তি জেলে ছিলেন। তাঁদের জামিনের আবেদন করার অধিকারও ছিল না।

    প্রথম গ্রেফতারি ভোর আড়াইটেয়…

    ২৬ তারিখের ভোররাত, অর্থাৎ জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই করা হয় প্রথম গ্রেফতারি। সেই সময়ের বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ প্রভাবিত অর্গানাইজার পত্রিকার প্রধান সম্পাদক এইচ আর মালকানিকে পান্ডারা রোডে তাঁর বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। ওই রাতেই গ্রেফতার করা হয় লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণকে। কেন? কারণ, ইন্দিরা বিলক্ষণ জানতেন, তাঁর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে শুধুমাত্র আরএসএস ও জন সংঘের। তাই, আগেভাগে এদের গারদে পাঠাতে উদ্যত হয়েছিলেন ইন্দিরা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সকল অধ্যাপকদের তালিকা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল হাসানের কাছে চেয়ে নেন ইন্দিরা-পুত্র সঞ্জয় গান্ধী। সেসময় জনসংঘ এবং আরএসএস-এর বহু প্রচারক কার্যকর্তা গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন।

    সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ, বন্ধ নির্বাচন

    শুধু তাই নয়। গণমাধ্যমগুলির ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করে ইন্দিরা-সরকার। তালিকায় ছিল ৩,৮০১ সংবাদপত্র। সূর্য ওঠার আগেই দেশের প্রথমসারির সংবাদপত্রগুলির অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় সরকার। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরালকে নির্দেশ দেন ইন্দিরা। জানিয়ে দেওয়া হয়, সংবাদপত্রের খবর আগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে যাতে আসে। তারপর কোন খবর ছাপা হবে তা সরকার ঠিক করবে। বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশে সমস্ত ধরনের নির্বাচন।

    ভারতের ইতিহাসে কালো অধ্যায়

    এমনকি, ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও জানত না। ২৬ জুন সকাল ৬টার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত ১৫ জনেরও বেশি মন্ত্রী প্রথমবারের জন্য জানতে পারেন, জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে দেশে। এরপরই আকাশবাণীর বেতার ভাষণে জরুরি অবস্থা জারির কথা ঘোষণা করেন ইন্দিরা গান্ধী। পরিসংখ্যান বলছে, সেসময় মোট রাজনৈতিক গ্রেফতারির সংখ্যা ১,১০,৮০৬। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কোমরে দড়ি পরিয়ে পুলিশ জিপের সঙ্গে বেঁধে রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হত। আর থানার লক আপে চলত অকথ্য পুলিশি অত্যাচার! যার জেরে অকালে এই পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছে। শূন্য হয়েছে অনেক মায়ের কোল। মুছেছে অনেক শিঁথির সিঁদুর। এমনকি, দেহ লোপাটও করার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।

    তোষামোদের প্রতিদানে জোড়ে ‘সেকুলার’

    বেঁচে থাকার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। সেটাই তখন ছিল কংগ্রেস সরকারের কুক্ষিগত। ২৮ বছর ধরে তখন দেশ শাসন করছিল কংগ্রেস। কংগ্রেস বললে ভুল হবে। গান্ধী-নেহরু পরিবারের বাবা ও মেয়ের হাতেই ছিল ক্ষমতা। আর এই একটাই পরিবারের হাতে বন্দি ছিল একটা গোটা দেশ! দেশে যখন এই কালো অধ্যায় চলছে, বিরোধী সমস্ত নেতা যখন জেলের ভিতর, তখনই এক প্রকার গায়ের জোরে ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনী এনে প্রস্তাবনায় জোড়া হয় ‘সেকুলার’ শব্দ। কেন? কারণ, তাঁর এই স্বৈরচারে সঙ্গ দিয়েছিল কমিউনিস্ট ও মুসলিম লিগ! তার প্রতিদান স্বরূপ দেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় জোড়া হয় ‘সেকুলার’। প্রায় পৌনে ২ বছর পর, ১৯৭৭ সালের মার্চ মাসে দেশে লোকসভা নির্বাচন হলে, তাতে বিপুল পরাজয় হয় ইন্দিরা এবং কংগ্রেসের। গণতন্ত্রের হাতিয়ারে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বদলা নিয়েছিল দেশবাসী।

    ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ পালন

    সংবিধানকে ভূলুণ্ঠিত করা শাসকদের আসল রূপ যাতে মানুষ মনে রাখে, দেশের এই কালো অধ্যায়কে স্মরণ করে প্রতি-বছর ২৫ জুন ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ পালন করে আসছে বিজেপি। লক্ষ্য, তাঁদের শ্রদ্ধার্ঘ জানানো, যাঁরা জরুরি অবস্থার সময়ে স্বৈরাচারী সরকারের অবর্ণনীয় নির্যাতনের ভুক্তভোগী ছিলেন। সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের লড়াইকে সম্মান করা, যাঁরা প্রাণ বিপন্ন করেও গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করে গিয়েছেন। জরুরি অবস্থা চলাকালীন যারা অমানবিক কষ্ট সহ্য করেছিলেন, তাঁদের অবদানকে স্মরণ করা। প্রতিটি ভারতীয়ের মধ্যে ব্যক্তি স্বাধীনতার অমর জ্যোতিকে বাঁচিয়ে রাখা। যাতে ভবিষ্যতে কংগ্রেসের মতো কোনও একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতা এর পুনরাবৃত্তি করতে না পারে।

  • Bowbazar Blast: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ রশিদের আগাম মুক্তির আবেদন করেছিল মমতার সরকার?

    Bowbazar Blast: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ রশিদের আগাম মুক্তির আবেদন করেছিল মমতার সরকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৩ সালের কলকাতার বউবাজার বিস্ফোরণ (Bowbazar Blast) মামলায় দোষী সাব্যস্ত মহম্মদ রশিদ খানের মুক্তির নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি সুপ্রিম কোর্টের। দিল্লি হাইকোর্ট গত ৫ জুন রশিদের সাজা মকুব করে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে সেই নির্দেশে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবার ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় রশিদ খানকে মুক্তি দিলে রাজ্য সরকারের আপিল কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে। তাই পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জেলেই থাকবেন। আগামী ২৮ জুলাই হবে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

    কে এই রশিদ খান?

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবি, রশিদ খান ছিলেন ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ বউবাজার বিস্ফোরণের ‘মাস্টারমাইন্ড’। তদন্তে উঠে আসে, বাবরি মসজিদ ভাঙার পর দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আবহে কলকাতায় হিন্দুদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, মুসলিম যুবকদের দিয়ে বোমা তৈরি করিয়ে কলকাতায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই বোমা তৈরির গোপন কারখানায় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৬৯ জনের মৃত্যু হয় এবং জখম হন অন্তত ৪৬ জন। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় মধ্য কলকাতার একাধিক বহুতল।

    সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের যুক্তি

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে যুক্তি দেন, এত বড় মাপের বিস্ফোরণ এবং ব্যাপক প্রাণহানির মামলায় শুধুমাত্র ‘সংশোধনমূলক বিচারব্যবস্থা’র ভিত্তিতে মুক্তি দেওয়া উচিত নয়। তিনি আরও জানান, রাজ্যের সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড শেষ পর্যন্ত রশিদ খানের অকালমুক্তির বিরোধিতা করেছিল। এদিকে, রশিদের আইনজীবী এমআর শামশাদ জানান, তার মক্কেল ৩৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি। বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ৭৭। তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং জেলে তাঁর আচরণও ছিল অত্যন্ত ভালো। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য মন্তব্য করে, রশিদ খান সাধারণ কোনও অভিযুক্ত নন, বরং গোটা ষড়যন্ত্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’। আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, তাঁর অপরাধের চরিত্র ছিল ‘প্রায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সমতুল’।

    কেন মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট?

    গত ৫ জুন বিচারপতি নীনা বনসল কৃষ্ণার একক বেঞ্চ রশিদের আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয়। দিল্লি হাইকোর্ট স্বীকার করেছিল, বউবাজার বিস্ফোরণ সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল, এবং এটি কোনও ব্যক্তিগত অপরাধ ছিল না। আদালতের মতে, অবশ্য অপরাধের গুরুত্বই একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না যার কারণে কোনও বন্দিকে রিমিশন থেকে বঞ্চিত করা হবে (Rashid Khan)।আদালত উল্লেখ করে, রশিদ খানের বিরুদ্ধে জেলের ভেতরে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার রেকর্ড নেই। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপারিন্টেনডেন্টের দেওয়া চরিত্রগত শংসাপত্রে তাঁর আচরণকে ‘অত্যন্ত ভালো’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি ৯৩ দিন প্যারোলে বাইরে থেকেও নির্ধারিত সময়ে জেলে ফিরে এসেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ওঠেনি (Bowbazar Blast)।

    স্বাস্থ্যগত কারণও বিবেচনায়

    দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়, রশিদ খান ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘস্থায়ী বিপাকীয় রোগ, প্রস্টেটের সমস্যা, ছানি-সহ একাধিক বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত। আদালতের মতে, এত দীর্ঘ সময় কারাবাসের পর তাঁর পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তাই ৩৩ বছরের বেশি সময় ধরে জেলে রাখার আর কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

    রশিদের মুক্তির সুপারিশ করেছিল মমতার সরকার!

    রশিদের মুক্তি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০০৭ সালেই তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তাঁর অকালমুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। ২০১৫ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ডও তাঁর মুক্তির সুপারিশ করে। সেই সময় বোর্ড বন্দির বয়স, স্বাস্থ্য, জেলের আচরণ, পুনর্বাসনের সম্ভাবনা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং পুনরায় অপরাধ করার ঝুঁকি-সহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করেছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টে চলা ভি শ্রীহরণ মামলার কারণে রাজ্য সরকার সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারেনি। কারণ তখন কেন্দ্রীয় আইনে দণ্ডিত বন্দিদের রিমিশন (সাজা মকুব) দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল (Bowbazar Blast)।

    কেন বদলে গেল মমতা সরকারের অবস্থান?

    ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড ফের রশিদের রিমিশনের আবেদন খারিজ করে দেয়। কলকাতা পুলিশের আপত্তির ভিত্তিতে বোর্ড জানায়, অপরাধের গুরুত্ব, সামাজিক প্রভাব এবং বিস্ফোরণে রশিদের ভূমিকাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে নেতিবাচক সুপারিশ পাঠায়। কেন্দ্রও জাতীয় নিরাপত্তা এবং টাডা আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁর মুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যান করে (Rashid Khan)। তবে দিল্লি হাইকোর্ট পরে পর্যবেক্ষণে জানায়, ২০১৫ সালে মুক্তির সুপারিশ করার পর রশিদের বিরুদ্ধে নতুন কোনও নেতিবাচক তথ্য বা অসদাচরণের অভিযোগ ওঠেনি। ফলে পরবর্তী সিদ্ধান্তকে আদালত ‘পরিবর্তিত অবস্থান’ বলে উল্লেখ করে।

    বউবাজার বিস্ফোরণ

    ১৯৯৩ সালের ১৬ মার্চের রাত। মধ্য কলকাতার বউবাজার এলাকার বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের একটি ভবনে আচমকা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথমে একে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, পরে তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরক তৈরির একটি গোপন কারখানার অস্তিত্ব (Bowbazar Blast)।তদন্তকারীদের দাবি, রশিদের নির্দেশেই তাঁর সহযোগী মহম্মদ খালিদ নাইট্রোগ্লিসারিন-সহ বিভিন্ন রাসায়নিক সংগ্রহ করতেন। সেই উপকরণ দিয়ে বোমা ও গ্রেনেড তৈরি করা হচ্ছিল। রশিদ পরিচালিত অবৈধ সাট্টার আড্ডাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হত। গভীর রাত পর্যন্ত চলা কার্যকলাপের সুযোগে বিস্ফোরক আনা-নেওয়া এবং বোমা তৈরির কাজ চলত। অভিযোগ, এগুলি ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসমূলক হামলায় ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। কিন্তু বিস্ফোরক মজুত এবং বোমা তৈরির সময় অসাবধানতাবশত পুরো কারখানাটিই উড়ে যায় (Rashid Khan)।

    হতাহত, ধ্বংস একাধিক ভবন

    বিস্ফোরণের অভিঘাতে কেঁপে ওঠে গোটা তল্লাট। দুটি বহুতল ভবন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে, নিদারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি বাড়ি। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ঘটনায় ৬৯ জনের মৃত্যু হয়, জখম হন অন্তত ৪৬ জন। উদ্ধারকাজে নেমেছিল পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। সরু রাস্তা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযান হয়ে পড়েছিল অত্যন্ত কঠিন (Bowbazar Blast)।

    বোমা কারখানা

    ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের অবশিষ্টাংশ, তার, রাসায়নিক উপাদান এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো করে। পরে মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, বিস্ফোরক আইন এবং টাডা (TADA)-এর একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়।প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, রশিদ খান প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে তিনি মুসলিম সহযোগীদের মাধ্যমে কলকাতার হিন্দুদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে চান। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আদালতে তুলে ধরা হয়। শেষমেশ ২০০১ সালে বিশেষ টাডা আদালত রশিদ ও তাঁর সহযোগীদের দোষী সাব্যস্ত করে। পরবর্তী কালে সুপ্রিম কোর্টও সেই সাজাই বহাল রাখে।

    অতঃকিম?

    বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূল প্রশ্ন হল, ৬৯ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে বিবেচিত এবং বিস্ফোরণ চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে চিহ্নিত একজন টাডা দণ্ডিতকে ৩৩ বছরের কারাবাসের পর রিমিশন দেওয়া কতটা আইনসঙ্গত এবং যুক্তিযুক্ত। সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কারাগারেই থাকবেন (Rashid Khan) রশিদ। আগামী ২৮ জুলাইয়ের শুনানির দিকে নজর থাকবে আইনজ্ঞ, রাজনৈতিক মহল এবং বউবাজার বিস্ফোরণের নিহতদের পরিবারগুলির (Bowbazar Blast)।

     

  • Jammu Kashmir: ৩ জুলাই থেকে শুরু অমরনাথ যাত্রা, নজিরবিহীন নিরাপত্তার বলয়ে পুরো পথ

    Jammu Kashmir: ৩ জুলাই থেকে শুরু অমরনাথ যাত্রা, নজিরবিহীন নিরাপত্তার বলয়ে পুরো পথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ৩ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে অমরনাথ যাত্রা। চলবে ২৮ অগাস্ট পর্যন্ত। এই পবিত্র তীর্থযাত্রাকে (Amarnath Yatra) ঘিরে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir) প্রশাসন এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা। আগামী দু’মাসে লক্ষাধিক ভক্ত অমরনাথ গুহা মন্দিরে দর্শনে যাবেন জম্মু থেকে পাহেলগাঁও এবং বালতাল রুট ধরে। সেই কারণে গোটা যাত্রাপথে বহুস্তরীয় নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

    কড়া নিরাপত্তা বলয় (Jammu Kashmir)

    প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়েল-টাইম নজরদারি, ওয়াচ টাওয়ার, উন্নত যানবাহন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, আরএফআইডি ট্র্যাকিং এবং কড়া পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদিও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে যাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনও নির্দিষ্ট জঙ্গি হামলার সতর্কতা নেই, তবুও কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। উল্লেখ্য, গত বছর পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর জঙ্গি হামলার ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে।

    কিউআর-কোডযুক্ত ট্যাম্পার-প্রুফ পরিচয়পত্র

    এই (Jammu Kashmir) প্রথমবার তীর্থযাত্রার সঙ্গে যুক্ত ঘোড়াওয়ালা, পিঠু শ্রমিক ও অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য কিউআর-কোডযুক্ত ট্যাম্পার-প্রুফ পরিচয়পত্র চালু করেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, এর ফলে পরিষেবা প্রদানকারীর ছদ্মবেশে কোনও জঙ্গি অনুপ্রবেশ করতে পারবে না। কিউআর কোড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য মিলবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার ও ‘মাচান মোর্চা’ তৈরি করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত মক ড্রিল ও নজরদারি মহড়া চালাচ্ছে।

    ‘নো-ফ্লাই জোন’

    এছাড়াও, পুরো অমরনাথ যাত্রাপথকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এবারও হেলিকপ্টার পরিষেবা বন্ধ থাকছে। তীর্থযাত্রীদের কনভয় চলাচলের সুবিধার্থে শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক এবং উপত্যকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় (Amarnath Yatra) বিশেষ ট্রাফিক বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীগুলির মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ, এবং গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানই এবার যাত্রা সফল করার প্রধান চাবিকাঠি বলেই (Jammu Kashmir) ধারণা প্রশাসনের।

     

  • Rashid Khan: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রশিদ খানের মুক্তিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    Rashid Khan: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রশিদ খানের মুক্তিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৩ সালের কলকাতার বউবাজার বিস্ফোরণ (Bowbazar Blast) মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৭৭ বছর বয়সি মহম্মদ রশিদ খানের (Rashid Khan) আগাম মুক্তির নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন এই নির্দেশ জারি করে দিয়েছে। গত ৫ জুন রশিদ খানের দীর্ঘ ৩৩ বছরেরও বেশি কারাবাস, জেলে তাঁর আচরণ এবং সংশোধনমূলক বিচারব্যবস্থার নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আগাম মুক্তির পক্ষে রায় দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

    বউবাজার বিস্ফোরণ মামলা (Rashid Khan)

    মামলার শুনানিতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু প্রশ্ন তোলেন, যে বিস্ফোরণে ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু, শতাধিক মানুষ জখম এবং বহু ভবন ধ্বংস হয়েছিল, সেই মামলায় কীভাবে শুধুমাত্র সংশোধনমূলক তত্ত্বের ভিত্তিতে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া যায়? তিনি জানান, রাজ্যের স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড (SSRB) রশিদ খানের মুক্তির বিরুদ্ধেই মত দিয়েছিল। রশিদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এমআর শামশাদ জানান, তাঁর মক্কেল দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি এবং সহ-অভিযুক্ত পন্নালাল জয়সওয়ারা ২০১৪ সালেই রেমিশন পেয়েছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি আদালতের নজরে আনেন রশিদের বার্ধক্য ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিও (Rashid Khan)।

    রশিদ খানই মাস্টারমাইন্ড

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, রশিদ খান ওই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। আদালত আরও জানিয়েছে, তাঁকে যদি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে মুক্তি দেওয়া হয়, তাহলে পরবর্তী শুনানি অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে। প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে বিশেষ টাডা আদালত রশিদ খান-সহ পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC), অস্ত্র আইন এবং টাডা আইনের অধীনে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় (Bowbazar Blast)। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট উভয় আদালতই বহাল রাখে সেই সাজা (Rashid Khan)।

     

  • Bangladesh PM: চিন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিস্তা প্রকল্পে নজর ভারতের

    Bangladesh PM: চিন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিস্তা প্রকল্পে নজর ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দিনের সরকারি সফরে চিনে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (Bangladesh PM) বিএনপির তারেক রহমান। সোমবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ (Teesta Project Talks) ফ্লাইট চিনের দালিয়ান ঝৌশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    তারেকের কর্মসূচি (Bangladesh PM)

    এই সফরে তারেক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স (সামার দাভোস ফোরাম ২০২৬)-এ অংশ নেবেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং আয়োজিত নৈশভোজেও যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। সফরের মধ্যেই বেজিংয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ২৪ জুন তিনি বৈঠক করবেন কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। পরে দ্রুতগতির ট্রেনে তিনি যাবেন দালিয়ান থেকে বেজিংয়ে। বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, বাংলাদেশের নয়া সরকারের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বহুমাত্রিক বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে সমন্বয় জোরদার করার সুযোগ হিসেবে চিন এই সফরকে দেখছে (Bangladesh PM)।

    ভারতের নজর

    এদিকে, তারেকের এই সফরে তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে কোনও অগ্রগতি বা ঘোষণা করা হয় কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখছে ভারত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ জল উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না (POWERCHINA) তিস্তা যৌথ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (Teesta Comprehensive Management and Restoration Project) মউয়ের মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তি করে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হল, তিস্তা নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদী খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন বাঁধ নির্মাণ ও পুরোনো বাঁধ সংস্কার, খনন করা মাটি ব্যবহার করে জমি পুনরুদ্ধার এবং শুখা মরশুমে জল সংরক্ষণের জন্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা (Bangladesh PM)। এই প্রকল্পে চিন যুক্ত হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছে ভারত। কারণ তিস্তা অববাহিকার অবস্থান ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেকে’র কাছেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই এলাকায় চিনের প্রভাব বাড়লে ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে নয়া উদ্বেগ তৈরি (Teesta Project Talks) হতে পারে।

    ‘গোল্ডেন ৫০ ইয়ার্স’

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশে চিনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। চিনের দাবি, দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা গভীর হয়েছে এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা উভয় দেশের জনগণের জন্যই ইতিবাচক ফল নিয়ে আসছে। এই সফরে বাংলাদেশ ও চিনের মধ্যে একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং সমঝোতা সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য আর্থিক সাহায্য নিয়ে আলোচনা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ঢাকা চিনকে প্রযুক্তি, শিল্প বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অর্থায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, বাংলাদেশ-চিন সম্পর্কের ‘গোল্ডেন ৫০ ইয়ার্সে’ প্রবেশের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    এদিকে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে ভবিষ্যতে ভারত সফরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। ওই সূত্রের বক্তব্য, কিছু অমীমাংসিত ইস্যু এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বর্তমানে সেই পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হয়নি (Teesta Project Talks)। যদিও বাংলাদেশ মনে করে, ভারত ও চিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোনওভাবেই ‘জিরো-সাম গেম’ নয়, বরং (Bangladesh PM) উভয় দেশের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা।

     

  • POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফের সাম্প্রতিক যুদ্ধের হুমকির কড়া জবাব দিল (POK Atrocities) ভারত। মঙ্গলবার ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যর্থতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (POK Atrocities)

    সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য সম্পর্কে আমরা রিপোর্ট দেখেছি। এই ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানের ব্যর্থতা আড়াল করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি মরিয়া চেষ্টা। আমরা এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি।” পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) যে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, সে প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে নিশানা করেন তিনি। জয়সওয়ালের দাবি, পিওকের বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক দমননীতিরই ফল।

    আন্দোলন দমনে পুলিশি নির্যাতন

    তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন দমনে পাক প্রশাসন চরম পুলিশি নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধা, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানের এই কাজকর্ম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দমনপীড়ন নীতির জন্য জবাবদিহি চাইবে।”

    আসিফের হুঁশিয়ারি

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া (POK Atrocities) সাক্ষাৎকারে আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সিন্ধু নদীর জল নিয়ে যদি ভারতের পদক্ষেপ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে হুমকিস্বরূপ হয়ে ওঠে, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। তিনি বলেন, “যখনই আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জল নিরাপত্তা, হুমকির মুখে পড়েছে, তখন আমরা অবশ্যই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে পারি।” প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত বছরের জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। নয়াদিল্লির (India) অবস্থান, পাকিস্তান যতদিন না সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ করছে, ততদিন পর্যন্ত চুক্তি স্থগিতই থাকবে (POK Atrocities)।

     

  • Pune Murder: পরিকল্পিত খুন! কেতনকে বিয়ের আগে পাহাড় থেকে ফেলে দেন বাগদত্তা ও তাঁর বন্ধু, অনুমান তদন্তকারীদের

    Pune Murder: পরিকল্পিত খুন! কেতনকে বিয়ের আগে পাহাড় থেকে ফেলে দেন বাগদত্তা ও তাঁর বন্ধু, অনুমান তদন্তকারীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের পুণেতে ব্যবসায়ীর (Pune Murder) ছেলে কেতনবিশাল আগরওলকে (Ketan Bishal Agarwal) পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের। তদন্তকারী সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে এটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, এটি নিছক কোনও দুর্ঘটনা নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে বড় কোনও ষড়যন্ত্র। পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে কেতনকে। পাহাড়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আর এই ঘটনার স্মৃতি উস্কে দিয়েছে মেঘালয়ে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডকে। গত বছরের মে মাসে মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় স্বামী রাজা রঘুবংশীকে নিয়ে গিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে খুন করার অভিযোগ ওঠে সদ্যবিবাহিত স্ত্রী সোনম রঘুবংশীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। গ্রেফতার হয়েছেন সোনম, তাঁর প্রেমিক-সহ ন’জন।

    কেতন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মেঘালয়ের মিল

    কেতন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মেঘালয়ের মিল পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পুণে গ্রামীণ পুলিশের এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, ‘‘ব্যবসায়ীপুত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর এটা নিশ্চিত যে, কেতনের মৃত্যু কোনও দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যা। ইতিমধ্যেই কেতনের বাগদত্তা এবং তাঁর এক পুরুষ বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’ প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন বাগদত্তা সিয়া প্রবীণ বাসেশ্বর গয়াল এবং তাঁর বন্ধুর সঙ্গে পুণের লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন ব্যবসায়ীপুত্র কেতন। পাহাড়ের উপরে সেই দুর্গে নিজস্বী তুলতে গিয়ে পা পিছলে ৪৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক ভাবে এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, এমন বেশ কিছু তথ্য মিলেছে, যা থেকে এই ঘটনাকে স্রেফ দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে পারেননি তদন্তকারীরা। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যা।

    কেতনের বাগদত্তা সিয়ার কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি

    তদন্তকারীদের দাবি, কেতনের বাগদত্তা সিয়ার কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সিয়ার ফোন, সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কল ডিটেল-সহ বেশ কিছু গতিবিধি পরীক্ষা করার পর তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কেতনের বাগদত্তার। পুলিশের দাবি, সেই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন সিয়া। কিন্তু কেতনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে পাকাপাকি হয়ে গিয়েছিল। জুলাইয়েই তাঁদের বিয়ের কথা ছিল। জয়পুরে একটি বড় মহলও বিয়ের জন্য বুক করেছিল কেতনের পরিবার। সিয়ার প্রেমের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন কেতন। তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। গত ১৯ জুন ছিল কেতনের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন কেতন, তাঁর বাদগত্তা এবং কয়েক জন বন্ধু। বিয়ের আগে একটা ‘ট্যুর প্ল্যান’ করেছিলেন কেতন। সেখানেই এই ভয়াবহ পরিকল্পনাকে পরিণতি দেওয়া হয়, অনুমান তদন্তকারীদের।

LinkedIn
Share