Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Ghaziabad Murder: গাজিয়াবাদে বকরিদ পার্টির নামে ডেকে হিন্দু যুবককে খুনে মূল অভিযুক্ত আসাদ পুলিশি এনকাউন্টারে খতম

    Ghaziabad Murder: গাজিয়াবাদে বকরিদ পার্টির নামে ডেকে হিন্দু যুবককে খুনে মূল অভিযুক্ত আসাদ পুলিশি এনকাউন্টারে খতম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের (Ghaziabad Murder) খোড়া এলাকায় ১৭ বছর বয়সী হিন্দু যুবক সূর্য প্রতাপ চৌহানকে (Surya Pratap Chauhan) নৃশংসভাবে ছুরি মেরে খুনের ঘটনায় এক নাটকীয় মোড় এল। ঘটনার মূল অভিযুক্ত আসাদ শনিবার গভীর রাতে খোড়া এলাকায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সঙ্গে এক এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। তার মাথার উপর ৫০,০০০ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

    টাকা সংগ্রহ করে পালানোর ছক বানচাল (Ghaziabad Murder)

    গাজিয়াবাদের (Ghaziabad Murder) ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিপিসি) ধবল জয়সওয়াল জানিয়েছেন, পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় যে আসাদ খোড়া থানা এলাকায় তার কিছু সহযোগীদের সঙ্গে দেখা করতে আসছে। সেখান থেকে টাকা সংগ্রহ করে শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ছক ছিল তার (Surya Pratap Chauhan)।

    পুলিশের ওপর গুলি ও পাল্টা এনকাউন্টার

    সূত্রে আরও জানা গিয়েছে খোড়া ও ইন্দিরাপুরম থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং বিভিন্ন মোড়ে ব্যারিকেড বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে। সেই সময় একটি মোটরসাইকেলে চড়ে আসাদকে তার এক সহযোগীর সঙ্গে আসতে দেখে পুলিশ।

    পুলিশের পক্ষ থেকে মোটরসাইকেলটি (Ghaziabad Murder) থামানোর চেষ্টা করা হলে আসাদ আত্মসমর্পণ করার পরিবর্তে পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দুপক্ষের এই তীব্র গুলি বিনিময়ের মাঝে আসাদ গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হয়।

    রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা আসাদকে (Surya Pratap Chauhan) মৃত ঘোষণা করেন। এই গুলি বিনিময়ের সময় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক কনস্টেবলও হাতে গুলি লেগে আহত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। ঘটনাস্থল থেকে আসাদের ব্যবহৃত বাইক এবং একটি দেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তার সহযোগী অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

    বকরিদের দিন ছাগল কোরবানির উপমা দিয়ে খুনের অভিযোগ

    উল্লেখ্য, গত ২৮ মে খোড়া (Ghaziabad Murder) কলোনিতে একাদশ শ্রেণির ছাত্র সূর্য প্রতাপ চৌহানকে পেটে একাধিকবার ছুরি মেরে খুন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত আসাদ সূর্যকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করেছিল, “তুই কখনো ছাগল কোরবানি হতে দেখেছিস?” সূর্য (Surya Pratap Chauhan) ‘না’ বলে চলে যেতে চাইলে আসাদ বলে, “আয়, তোকে দেখাই”— এবং এরপরই তাকে একের পর এক ছুরির কোপ মারা হয়।

    চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সূর্যের মৃত্যুর পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা দোষীদের কঠোর শাস্তি ও তাদের বাড়িতে বুলডোজার চালানোর দাবিতে খোড়া থানার বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

    “বাকিদেরও এনকাউন্টার চাই”, দাবি মৃতের মায়ের

    আসাদের এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সূর্যের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করলেও তাদের ক্ষোভ কমেনি। সূর্যের (Surya Pratap Chauhan) মা সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি জানিয়েছেন, তিনি আসাদের মৃতদেহের ছবি দেখতে চান যাতে নিশ্চিত হতে পারেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলেকে মোট সাতজন মিলে এই হাল করেছিল। আমি আসাদের ছবি দেখে শান্ত হতে চাই এবং বাকি অপরাধীদেরও একই রকম এনকাউন্টার চাই। সবার ঘরবাড়ির ওপর বুলডোজার চালানো উচিত।”

    পুলিশ (Ghaziabad Murder) জানিয়েছে, এই মামলায় ইতিমধ্যেই ফারহান, আসিফ এবং নবাব-সহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

  • India Brahmos Missile Deal: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা উপস্থিতি বাড়াতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভারতের, জানুন বিশদে

    India Brahmos Missile Deal: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা উপস্থিতি বাড়াতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভারতের, জানুন বিশদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা উপস্থিতি আরও প্রসারিত করার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারত। প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং জানান, ভিয়েতনামের (Vietnam Indonesia Agreement) সঙ্গে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের চুক্তি (India Brahmos Missile Deal) ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই রকম আরও একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে।

    সাংগ্রি-লা ডায়ালগ (India Brahmos Missile Deal)

    শনিবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সাংগ্রি-লা ডায়ালগ (Shangri-La Dialogue)-এর ফাঁকে সাংবাদিক বৈঠকে রাজেশ জানান, হ্যানয় ইতিমধ্যেই ওই মিসাইল কেনা সংক্রান্ত চুক্তিটি সই করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ভিয়েতনামের এক প্রতিনিধির প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমার ধারণা, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম—উভয় দেশের ক্ষেত্রেই চুক্তিগুলি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যদিও এখনও প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে ব্রহ্মোস প্যাকেজের মূল্য প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা। এতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সাহায্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অগ্রগতি ভারতের একটি বড় প্রতিরক্ষা রফতানিকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রচেষ্টা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    প্রতিরক্ষা সচিবের বক্তব্য

    জানা গিয়েছে, ফিলিপিন্স ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম বিদেশি ক্রেতা। ২০২৪ সালে ম্যানিলা প্রথম ব্যাচের ক্ষেপণাস্ত্র কেনে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় চালান পায়। এর মাধ্যমে বৃহৎ প্রতিরক্ষা রফতানি চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতের ক্ষমতা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রতিরক্ষা সচিব জানান, ভারত আসিয়ান (ASEAN) দেশগুলির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখে। তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের সবাইকে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করি, যাদের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়া যায়।” তিনি জানান,  সাধারণত উন্নত সামরিক প্রযুক্তি কেবল সেইসব দেশের সঙ্গেই ভাগ করা হয় যাদের ওপর গভীর আস্থা এবং কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে (Vietnam Indonesia Agreement)।

    বৈশ্বিক পরিবেশে স্থিতিস্থাপকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

    ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে উন্নত ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম কার্যকর সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি কৌশলের অন্যতম প্রধান পণ্য হয়ে উঠেছে (India Brahmos Missile Deal)। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক প্রতিরোধক্ষমতা জোরদার করতে আগ্রহী বিভিন্ন দেশের মধ্যে ব্রহ্মোসের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজেশ বলেন, “ভারত এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অংশের অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল, নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব, নিরাপদ সামুদ্রিক পরিবেশ এবং উদ্ভাবনভিত্তিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে প্রস্তুত।” তিনি জানান, বর্তমান অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিবেশে স্থিতিস্থাপকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রয়োজনীয়তাগুলির একটি হয়ে উঠেছে (Vietnam Indonesia Agreement)।

    দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করায় জোর

    প্রতিরক্ষা সচিবের এই ঘোষণার আগে আগেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি হ্যানয় সফর করে এসেছেন। সেখানে তিনি ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফান ভানন জিয়াংয়ের (Phan Van Giang) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন (India Brahmos Missile Deal)। শাংরি-লা ডায়ালগের পাশাপাশি রাজেশ অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং নেদারল্যান্ডসের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এর মাধ্যমে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা কূটনীতি আরও জোরদার করছে।

    ইন্ডিয়া-অস্ট্রেলিয়া কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ

    অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা সচিব মেঘান কুইন (Meghan Quinn)-এর সঙ্গে আলোচনায় উভয়পক্ষই ইন্ডিয়া-অস্ট্রেলিয়া কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ (India-Australia Comprehensive Strategic Partnership)-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। অনুসন্ধান করে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রও। ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য ব্রহ্মোস চুক্তিগুলি ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রভাবের ইঙ্গিতও দিচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এমন একটা সময়ে এই (Vietnam Indonesia Agreement) অগ্রগতি হচ্ছে, যখন অঞ্চলটিতে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে (India Brahmos Missile Deal)।

     

  • Ahilyabai Holkar: পুণ্যশ্লোক অহল্যাবাই হোলকারের জন্মজয়ন্তী, সুশাসন, করুণা ও সাহসের এক ঐতিহাসিক ভারতীয় প্রতীক

    Ahilyabai Holkar: পুণ্যশ্লোক অহল্যাবাই হোলকারের জন্মজয়ন্তী, সুশাসন, করুণা ও সাহসের এক ঐতিহাসিক ভারতীয় প্রতীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩১ মে সারা দেশজুড়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপিত হল পুণ্যশ্লোক অহল্যাবাই হোলকারের (Ahilyabai Holkar) জন্মজয়ন্তী (Birth Anniversary)। তিনি কেবল অষ্টাদশ শতাব্দীর মালব সাম্রাজ্যের এক দূরদর্শী রানিই ছিলেন না, বরং ছিলেন ভারতীয় শাসনব্যবস্থা, সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণমূলক রাজনীতির এক শাশ্বত ও কালজয়ী প্রতীক। আজ যখন ভারত নতুন মহাসড়ক, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং এআই (AI) প্রযুক্তির হাত ধরে এক নতুন যুগের দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন অহল্যাবাই হোলকারের শাসন দর্শন আধুনিক ভারতের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

    এক সাধারণ গ্রাম থেকে লোকমাতা হয়ে ওঠার যাত্রা (Ahilyabai Holkar)

    ১৭২৫ সালে বর্তমান মহারাষ্ট্রের চোন্ডি নামক একটি ছোট গ্রামে অহল্যাবাইয়ের (Ahilyabai Holkar) জন্ম হয় (Birth Anniversary)। তাঁর ক্ষমতার পথ সহজ ছিল না। জীবনজুড়ে ব্যক্তিগত ক্ষতি, অকাল বৈধব্য এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও তিনি অসীম সাহসের সঙ্গে ইন্দোরের হোলকার রাজবংশের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। যে যুগে নারীদের পক্ষে জনসমক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া অত্যন্ত বিরল ও কঠিন ছিল, সেখানে তিনি নিজের শৃঙ্খলা এবং সেবামূলক মানসিকতার মাধ্যমে সমাজের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছিলেন। প্রজারা তাঁকে ভালোবেসে ‘লোকমাতা’ বলে ডাকতেন, কারণ তাঁর শাসন ক্ষমতার ভিত্তি ভয় নয়, বরং ছিল জনগণের আস্থা, ন্যায়বিচার ও গভীর করুণা।

    আধুনিক সুশাসনের আদি রূপকার

    আজকে আমরা রাজনীতিতে যে সমস্ত আধুনিক শব্দ বা নীতি যেমন — সুশাসন (Good Governance), নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন (Women-led development), এবং ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন (Heritage Restoration)-এর কথা শুনি, কয়েক শতাব্দী আগে অহল্যাবাই তার বাস্তবে রূপ দিয়ে দেখিয়েছিলেন। অহল্যাবাই (Ahilyabai Holkar) তাঁর রাজধানী মহেশ্বরকে (Maheshwar) কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং শিল্প, সংস্কৃতি ও জীবিকার এক পুণ্যভূমি হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। বিখ্যাত ‘মহেশ্বরী শাড়ি’-র বয়ন ঐতিহ্যকে তিনি রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতির এক মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

    সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো ও জাতীয় চেতনা গঠন

    সাম্রাজ্য বিস্তার বা সম্পদ সঞ্চয়ের চেয়েও অহল্যাবাই (Ahilyabai Holkar) বেশি স্মরণীয় হয়ে আছেন ভারতের পবিত্র ভূখণ্ডকে পুনর্গঠন করার জন্য। কাশী (বারাণসী), সোমনাথ, দ্বারকা, গয়া এবং রামেশ্বরম-সহ সমগ্র ভারতের বহু প্রাচীন ও পবিত্র তীর্থক্ষেত্র এবং মন্দিরগুলি তিনি সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করেন। রাস্তাঘাট, ঘাট, কুয়ো ও ধর্মশালা তৈরি করে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে আধ্যাত্মিক ও মানসিকভাবে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন। আজকের পরিভাষায় যাকে ‘সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো’ (Cultural Infrastructure) বলা হয়, অহল্যাবাইয়ের কাছে তা ছিল স্রেফ ‘ধর্ম ও কর্তব্য’।

    নারী ক্ষমতায়নে এক অনন্য মডেল

    আধুনিক ভারতের তরুণী ও নারীদের জন্য অহল্যাবাই হোলকারের (Ahilyabai Holkar) জীবন এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা। তিনি দেখিয়েছিলেন যে, নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কাউকে নিজের সহজাত মানবিক গুণাবলি বা কোমলতা বিসর্জন দিতে হয় না। তাঁর করুণা তাঁকে দুর্বল করেনি এবং তাঁর আধ্যাত্মিকতা তাঁকে কর্মবিমুখ করেনি। তিনি একই সঙ্গে ছিলেন প্রশাসনিকভাবে আধুনিক, রণকৌশলে পারদর্শী এবং সনাতন ধর্মের প্রতি গভীরভাবে আস্থাশীল। তাঁর শ্বশুর মলহার রাও হোলকার যেভাবে তাঁর ভেতরের প্রতিভাকে চিনে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তা আজকের কর্পোরেট জগত বা পারিবারিক ব্যবস্থার জন্যও একটি বড় শিক্ষা। তাঁর জন্মদিনে (Birth Anniversary) আধুনিক ভারতীয় নারী সমাজকে ভালো করে জানাশোনা দরকার।

    ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে অহল্যাবাইয়ের প্রাসঙ্গিকতা

    আজ ২০৪৬-৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ (Viktis Bharat) গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগোনোর সময়েও অহল্যাবাইয়ের নীতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রযুক্তি বা উন্নয়ন যেন মানুষের চেয়ে বড় না হয়ে ওঠে। উন্নয়ন যেন সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষটির কাছেও পৌঁছায়।

    যদি অহল্যাবাই (Ahilyabai Holkar) আজ আমাদের মাঝে থাকতেন, তবে তিনি নিশ্চয়ই জানতে চাইতেন— প্রযুক্তি কি মানুষের জীবনের অস্থিরতা বাড়াচ্ছে, নাকি সমাজের সেবা করছে? এআই (AI) কি মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে, নাকি নতুন দিগন্তের উন্মোচন করছে?

    প্রায় তিন শতাব্দী পরেও পুণ্যশ্লোক অহল্যাবাই হোলকার (Ahilyabai Holkar) আমাদের কাছে দূর অতীতের কোনও চরিত্র নন, বরং এক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় আদর্শ। তাঁর দেখানো পথ আমাদের মনে করিয়ে দেয় — ক্ষমতা যখন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে এবং উন্নয়ন যখন মানবিক রূপ পায়, একমাত্র তখনই একটি সভ্যতা দীর্ঘকাল টিকে থাকে এবং বিশ্বমঞ্চে স্বমহিমায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে।

  • Hindu Youth killed: গাজিয়াবাদে ‘বকরিদ পার্টি’র নামে ডেকে নিয়ে হিন্দু যুবককে ছুরি মেরে খুনের অভিযোগ, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

    Hindu Youth killed: গাজিয়াবাদে ‘বকরিদ পার্টি’র নামে ডেকে নিয়ে হিন্দু যুবককে ছুরি মেরে খুনের অভিযোগ, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) গাজিয়াবাদের খোড়া এলাকায় এক ১৭ বছর বয়সী হিন্দু যুবক (Hindu Youth killed) সূর্য চৌহানকে তাঁর মুসলিম পরিচিতরা বকরিদ উৎসবের কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে ছুরি মেরে খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৮ মে সন্ধ্যার সময় খোড়া থানার অন্তর্গত নবনীত বিহার কলোনিতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।

    বকরিদ পার্টির নামে ডেকে নিয়ে হামলা (Hindu Youth killed)

    মৃত যুবকের ভাই যশ চৌহানের (Hindu Youth Surya Chauhan) দায়ের করা পুলিশ অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সূর্য তাঁর দুই বন্ধু ভিকি ও আয়ুশের সঙ্গে বাড়ির কাছাকাছি হাঁটছিলেন। সেই সময় তাঁর পরিচিত আসাদ নামের এক যুবক ফোন করে সূর্যকে বকরিদ উদযাপনের জন্য ২ নম্বর গলির কাছে আসতে বলে। আসাদের কথামতো সূর্য ও তাঁর বন্ধুরা একটি কলার গুদামের (Uttar Pradesh) কাছে পৌঁছালে, সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল নবাব, ফারহান, আতিফ এবং সারিক।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী জানা গিয়েছে, হামলার ঠিক আগে অভিযুক্তরা সূর্যকে জিজ্ঞাসা করে, “তুই কখনো ছাগল কোরবানি দিতে দেখেছিস?” সূর্য তাদের সঙ্গে যেতে অস্বীকার করলে দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তর্কাতর্কির মাঝেই হঠাৎ ধারালো ছুরি নিয়ে সূর্যের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা।

    রক্তাক্ত অবস্থাতেই বাঁচার জন্য দৌড়

    পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আক্রমণকারীরা প্রথমে সূর্যের পেটে ছুরি মারে। পেটে ছুরিবিদ্ধ অবস্থাতেই প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ২০০ মিটার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন সূর্য। কিন্তু অভিযুক্তরা তাঁর পিছু ধাওয়া করে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং শরীর থেকে ছুরিটি টেনে বের করে আরও কয়েকবার কোপ মারে। এরপরই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় তারা।

    চিৎকার ও গোলমাল শুনে সূর্যের মা (Hindu Youth killed) এবং ভাই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নয়ডার (Uttar Pradesh) সেক্টর ৬২-র ফোর্টিস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ মে দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    পুলিশি তৎপরতা ও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

    প্রাথমিকভাবে পুলিশ খুনের চেষ্টার (Attempt to murder) মামলা রুজু করলেও, সূর্যের মৃত্যুর পর তা খুনের মামলায় (Murder case) রূপান্তরিত করা হয়েছে। ইন্দিরাপুরমের  (Uttar Pradesh) এসিপি অভিষেক শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে মূল অভিযুক্ত আসাদ এখনও পলাতক এবং তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

    এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা খোড়া থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং সমস্ত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Hormuz Strait: বন্ধ হরমুজ প্রণালী, কৌশলেই বাজিমাত করে চলেছে মোদির ভারত

    Hormuz Strait: বন্ধ হরমুজ প্রণালী, কৌশলেই বাজিমাত করে চলেছে মোদির ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরগুলির একটি হল হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait)। মাস তিনেক ধরে অবরুদ্ধ রয়েছে এই প্রণালী। ইরান ও ওমানের মাঝখানে থাকা (Indian Vessels) এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে পরিবাহিত হয় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস। তাই প্রণালী অবরোধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাহত হয়েছে সরবরাহ। প্রত্যাশিতভাবেই বেড়েছে জ্বালানির দামও। যদিও ৯ এপ্রিল ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বন্ধ হয়েছে সক্রিয় সংঘাত। তার পরেও এখনও স্বাভাবিক হয়নি ওই প্রণালী পথে ভেসেলগুলির চলাচল। সংঘাতের জেরে জাহাজ চলাচল এখনও ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে।

    ধারাবাহিক জাহাজ চলাচল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (Hormuz Strait)

    এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত বেশ কয়েকটি জাহাজ এই উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করেই চলাচল করছে। তার জেরে আঞ্চলিক বিস্তর বিঘ্ন সত্ত্বেও, ভারত তার জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে পেরেছে। এই ধারাবাহিক জাহাজ চলাচল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের কৌশলগত প্রভাব রয়েছে। প্রশ্ন হল, তাহলে কীভাবে ভারত বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পেরেছে, যখন ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইজরায়েলি (US-Israeli) হামলার জবাবে ইরান বারবার বিভিন্ন জাহাজকে চাঁদমারি করেছিল? এই হামলাই সংঘাতের সূচনা করেছিল এবং এর ফলে বিশ্বের বহু শিপিং অপারেটর এই রুট এড়িয়ে চলতে শুরু করে (Hormuz Strait)। শুক্রবার শিপিংমন্ত্রকের কর্তারা উত্তেজনাপূর্ণ এই জলপথে ভারতের জাহাজ চলাচল বজায় রাখার কৌশল সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিয়েছেন, যদিও নিরাপত্তার কারণে তাঁরা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি (Indian Vessels) হননি।

    আধিকারিকের বক্তব্য

    বন্দর, নৌ-পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রকের পরিচালক (শিপিং) ওপেশ কুমার শর্মা বলেন, “ভারত ও ইরানের মধ্যে আমরা কীভাবে সমন্বয় করি, কীভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করি—স্বাভাবিক কারণেই আমি সেই বিষয়গুলি প্রকাশ করতে চাই না। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রকের (MEA) মাধ্যমে সমন্বয় সাধন করি। বিষয়টি সেখানেই সীমাবদ্ধ (Hormuz Strait)।” তিনি “অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং সার মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করে। সেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে আমরা জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করি।”

    হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ

    সূত্রের খবর, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ১টি এলপিজি ট্যাঙ্কার, ৫টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, ১টি রাসায়নিক বা পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার, ৩টি কনটেইনার জাহাজ, ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ১টি ড্রেজার (Indian Vessels)। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ভারত এই রুটে সামুদ্রিক বাণিজ্য বজায় রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যার দিক থেকে এখনও শীর্ষ দেশগুলির মধ্যে রয়েছে (Hormuz Strait) ভারত। প্রসঙ্গত, ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের পর হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় বহু আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি এই রুট এড়িয়ে চলেছে। তবুও ভারত কৌশলগত সমন্বয় ও অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তার বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পেরেছে।

  • ISI Terror Plot: পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার ৯ জঙ্গি

    ISI Terror Plot: পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার ৯ জঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানভিত্তিক একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ন’জন জঙ্গিকে (ISI Terror Plot) গ্রেফতার করল দিল্লি (Delhi) পুলিশের স্পেশাল সেল। তদন্তকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই এবং মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিছু এলিমেন্টের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁরা জানান, অভিযুক্তরা দিল্লি, মুম্বই এবং দেশের অন্যান্য বড় শহরে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল।

    কলকাঠি নাড়া হচ্ছিল সীমান্তের ওপার থেকে (ISI Terror Plot)

    তদন্তকারীদের দাবি, এই গোষ্ঠী সীমান্তের ওপারে থাকা হ্যান্ডলারদের নির্দেশে কাজ করছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত করা। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ সেলের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর অস্ত্র ও বিস্ফোরক। উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে উন্নতমানের পিস্তল, গ্রেনেড এবং জঙ্গি কার্যকলাপ চালাতে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস।

    পাক-সমর্থিত অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা পাক-সমর্থিত অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে নির্দেশনা পাচ্ছিল। আধিকারিকদের সন্দেহ, এই চক্রটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল (ISI Terror Plot)। সূত্রের খবর, ধৃতরা দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও পাঞ্জাব-সহ বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দা। এদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশিও রয়েছে।  তবে পুলিশ এখনও তাদের পরিচয় এবং তারা কোন দেশের নাগরিক, তা জানায়নি (Delhi)। তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের সঙ্গে মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্ভাব্য সম্পর্কও খতিয়ে দেখছেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অনুমান, এই নেটওয়ার্কটি লজিস্টিক সহায়তা, অর্থায়ন এবং গোষ্ঠীর সদস্যদের চলাচলের জন্য অপরাধ চক্রের সাহায্য নিতে পারে।

    স্ক্যানারে চক্রের নেটওয়ার্ক

    স্পেশাল সেল বর্তমানে অর্থের উৎস ও প্রবাহ, যোগাযোগের রেকর্ড এবং এই চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই চক্রের আরও কেউ সক্রিয় রয়েছে কি না। অভিযুক্তরা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলির রেকি করেছে কি না (ISI Terror Plot)। তদন্তকারীরা এই অভিযানকে সম্ভাব্য একটি জঙ্গি ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্য বলে বর্ণনা করেছেন। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নেটওয়ার্কটির ব্যাপ্তি এবং সীমান্তপারের যোগাযোগের যে অভিযোগ উঠেছে, তার মাত্রা মূল্যায়ন করে চলেছে (Delhi)। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধারকরা সামগ্রী বিশ্লেষণ করে পুলিশ আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (ISI Terror Plot)।

     

  • Hydrogen Powered Train: রেলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়, পথ চলা শুরু করছে ভারতের প্রথম ১০ কামরার হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন

    Hydrogen Powered Train: রেলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়, পথ চলা শুরু করছে ভারতের প্রথম ১০ কামরার হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি-সাশ্রয়ী এবং টেকসই করে তোলার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল ভারতীয় রেল (Indian Railway)। হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত শাখায় পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলকভাবে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ফুয়েল (Hydrogen Powered Train) সেল-ভিত্তিক ১০ কামরার ট্রেনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১,২০০ কিলোওয়াটের হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রপালশন সিস্টেম দ্বারা চালিত এই অত্যাধুনিক ট্রেনটি দ্রুত যাত্রী পরিষেবা শুরু করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার নির্ধারিত হয়েছে।

    শক্তি দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব (Hydrogen Powered Train)

    এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ভারত জার্মানি, জাপান, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির এলিট ক্লাবে প্রবেশ করল, যারা পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রেল পরিবহণের জন্য হাইড্রোজেনের ব্যবহার শুরু করেছে। ভারতীয় রেলের (Indian Railway) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই প্রকল্পটি উদ্ভাবন, শক্তি দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহণের প্রতি ভারতীয় রেলের বৃহত্তর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি ভারতের জাতীয় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নীতি এবং ‘নেট-জিরো’ বা কার্বন নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যকে জোরালো সমর্থন জোগাবে।”

    কীভাবে কাজ করবে এই ট্রেন?

    ভারতীয় রেল ইতিমধ্যেই তার নেটওয়ার্কের প্রায় ১০০ শতাংশ অংশই বৈদ্যুতিকীকরণের আওতায় নিয়ে এসেছে, যা কার্বন নির্গমন বহুলাংশে হ্রাস করেছে। তবে হাইড্রোজেন ট্রেনের (Hydrogen Powered Train) ক্ষেত্রে রেল আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। এই ট্রেনগুলি বাইরে থেকে বিদ্যুৎ না নিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে ট্রেনের ভেতরেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে হাইড্রোজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি হয় এবং এর ফলে উপজাত বা বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প নির্গত হয়। ফলে প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় এটি সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত। জিন্দ-সোনিপত রুটের জন্য জিন্দে একটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির হাইড্রোজেন স্টোরেজ এবং রিফুয়েলিং বা জ্বালানি ভরার কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে, যা ‘পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন’ (PESO)-এর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও পেয়েছে। প্রথম দিকে ট্রেনটির সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত কারিগরি কর্মীরা ট্রেনের (Indian Railway) ভেতরে উপস্থিত থাকবেন।

    কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল

    যেহেতু বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তি এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে, তাই এর পরিচালনায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভারতীয় রেলের (Indian Railway) নির্দেশিকা অনুযায়ী যা যা জানা গিয়েছে তা হল–

    • ● হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং সিস্টেমের (Hydrogen Powered Train) চব্বিশ ঘণ্টা (২৪x৭) সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
    • ● অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির জন্য শুধুমাত্র প্রত্যয়িত এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মীদের মোতায়েন করা হবে।
    • ● হাইড্রোজেন উৎপাদন, সঞ্চয়স্থান এবং ফিলিং সেন্টারে উন্নত প্রযুক্তির ‘হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর’ এবং ‘ফ্লেম ডিটেক্টর’ (আগুন সনাক্তকারী যন্ত্র)-এর মতো সেন্সর বসানো হয়েছে।
    • ● ধুলোকণা জমে যাতে কোনও বিপদ না ঘটে, তার জন্য নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কড়া নিয়ম অনুসরণ করা হবে।

    হাইড্রোজেনের ব্যবহার বাড়ছে সড়ক পরিবহণেও

    পরিবহণ ক্ষেত্রে হাইড্রোজেনের (Hydrogen Powered Train) ব্যবহার বাড়াতে ভারত সরকার প্রতিনিয়ত তৎপরতা দেখাচ্ছে। সম্প্রতি সড়ক পরিবহণের ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য এসেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকেই দিল্লির সেন্ট্রাল ভিস্তা এলাকায় দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC) দেশের প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত শাটল বাস পরিষেবা চালু করেছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL)-এর দেওয়া এই বাসগুলিতে ৩৫ জন যাত্রীর বসার আসন রয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিংয়ের জন্য বাসগুলিতে জিপিএস ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, ভারতীয় রেলের (Indian Railway) এই সবুজ উদ্যোগ আগামী দিনে ভারতের সার্বিক পরিবহণ ব্যবস্থার ভোল বদলে দিতে পারে।

  • India Post: ডিজিটাল রূপান্তর ও লজিস্টিকস বিপ্লব! ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১৫,৩৭৩ কোটি টাকার রেকর্ড আয় ডাক বিভাগের

    India Post: ডিজিটাল রূপান্তর ও লজিস্টিকস বিপ্লব! ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১৫,৩৭৩ কোটি টাকার রেকর্ড আয় ডাক বিভাগের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক সাফল্যের দোরগোড়ায় ভারতের প্রাচীনতম যোগাযোগ মাধ্যম। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং বাণিজ্যিক কৌশলের আমূল পরিবর্তনের হাত ধরে আর্থিক দিক থেকে এক অভূতপূর্ব ঘুরে দাঁড়ানোর (Turnaround) নজির গড়ল ‘ইন্ডিয়া পোস্ট’ বা ভারতীয় ডাক বিভাগ। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে (FY26) ডাক বিভাগ (India Post) মোট ১৫,৩৭৩ কোটি টাকার রেকর্ড রাজস্ব (15373 Crore Revenue) অর্জন করেছে, যা সংস্থার ১৭০ বছরের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ আর্থিক পারফরম্যান্স হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

    ১৫ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি পার (India Post)

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ড. চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি এবং কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ডাক বিভাগের এই সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। ড. পেম্মাসানি বলেন, “বিগত অর্থবর্ষের তুলনায় এই এক বছরেই রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২,১০০ কোটি টাকা (15373 Crore Revenue)।” যেখানে ঐতিহাসিকভাবে ডাক বিভাগের (India Post) বার্ষিক বৃদ্ধির গড় হার ছিল মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা, সেখানে এক বছরে এই বিপুল লাভ একপ্রকার অবিশ্বাস্য এবং নজিরবিহীন। ২০১৬ সালে যেখানে ইন্ডিয়া পোস্টের রাজস্ব ছিল মাত্র ১১,৫০০ কোটি টাকা, সেখান থেকে আজ তা ১৫ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি পার করে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

    সাফল্যের চাবিকাঠি: ডিজিটাল সংস্কার ও ‘আইটি ২.০’

    ডাক বিভাগের (India Post) এই ঐতিহাসিক রূপান্তরের নেপথ্যে রয়েছে দ্বিমুখী কৌশল। একদিকে যেমন ওপর তলা থেকে লক্ষ্যমাত্রা (Target) নির্ধারণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে, তেমনই গ্রামীণ ডাক সেবকদের কাজের পরিধি ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, “পরিকাঠামোগত সংস্কার এবং কাজের গতি বাড়াতে সরকার ৫,৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ‘অ্যাডভান্সড পোস্টাল টেকনোলজি’ (APT) তথা ‘আইটি ২.০’ (IT 2.0) প্রকল্প চালু করেছে।”

    এই আধুনিকীকরণের মূল লক্ষ্য হল সম্পূর্ণ কাগজবিহীন এবং ডিজিটাল ডাক ও আর্থিক পরিষেবা নিশ্চিত করা। গ্রাহকেরা এখন ঘরে বসেই এক ক্লিকে বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্প ও জীবনবিমা (যেমন PLI এবং RPLI) কিনতে পারছেন, ডিজিটাল সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারছেন এবং পলিসির মেয়াদ শেষের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষকে আর বারবার পোস্ট অফিসে ছুটতে হচ্ছে না। পাশাপাশি, পোস্ট অফিসের সেভিংস অ্যাকাউন্টে দেওয়া ৪ শতাংশ সুদ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির তুলনায় আকর্ষণীয় হওয়ায় গ্রাহকদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়েছে।

    ই-কমার্স অংশীদারিত্ব ও লজিস্টিকস ক্ষেত্রে ৭০% বৃদ্ধি

    ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে তাল মেলাতে ইন্ডিয়া পোস্ট (India Post) এখন শুধু চিঠি বিলির মাধ্যম নয়, বরং দেশের অন্যতম বড় লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিগত অর্থবর্ষে পার্সেল এবং লজিস্টিকস বিভাগে রেকর্ড ৭০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেজিস্টার করা হয়েছে। অ্যামাজন, ফ্লিপকার্টের মতো বড় বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) ডেলিভারি শুরু করেছে ভারতীয় ডাক।

    গ্রাহকদের আধুনিক পরিষেবা দিতে ওটিপি-ভিত্তিক (OTP) ডেলিভারি, রিয়েল-টাইম এসএমএস ট্র্যাকিং এবং ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মেট্রো শহরগুলিতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘স্পিড পোস্ট’ পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবা চালু হয়েছে। মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, আগে যেখানে পার্সেল পরিষেবা থেকে মাত্র ৬০০ কোটি টাকা আয় হতো, তা আগামী দিনে ১০,০০০ কোটি টাকায় (15373 Crore Revenue) পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে ২১৪টি পোস্ট অফিসে ২৪ ঘণ্টা এবং প্রায় ৪,০০০ পোস্ট অফিসে কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

    সামাজিক কল্যাণ ও গ্রামীণ ভারতের উন্নয়ন

    কেবল ব্যবসাই নয়, সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও ইন্ডিয়া পোস্ট (India Post) বড় ভূমিকা পালন করছে। ‘ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্ক’ (IPPB)-এর মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকার সরকারি অনুদান সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে (Direct Benefit Transfer – DBT) পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’র আওতায় এ যাবৎ ৩.৮ কোটি কন্যাসন্তানের অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব হয়েছে। প্রায় ২.৫ লক্ষ গ্রামীণ ডাক সেবকের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং প্রান্তিক নারীদের আর্থিক ব্যবস্থার মূল স্রোতে শামিল করা হচ্ছে।

    বর্তমানে দেশে ডাকঘরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৬৪,৯৯৯টি, যার বড় অংশই উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং গ্রামীণ এলাকায় বিস্তৃত। পাশাপাশি, কর্মীদের ব্যবহারিক পরিবর্তন ও গ্রাহক পরিষেবা উন্নত করতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। এই সামগ্রিক আধুনিকীকরণ ও ডিজিটাল বিপ্লবের ফলেই লোকসানি (15373 Crore Revenue) তকমা ঘুচিয়ে লাভের মুখ দেখছে ভারতীয় ডাক বিভাগ। আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে ভারতের সমস্ত পোস্ট অফিসকে ‘প্রফিট সেন্টারে’ রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

  • SARTHAK-PDS: রেশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন, ২৫,৫৩০ কোটি টাকার ‘সার্থক-পিডিএস’ প্রকল্পে কেন্দ্রের অনুমোদন

    SARTHAK-PDS: রেশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন, ২৫,৫৩০ কোটি টাকার ‘সার্থক-পিডিএস’ প্রকল্পে কেন্দ্রের অনুমোদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রায়  ৮১ কোটি নাগরিকের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (Union Cabinet) বৈঠকে (CCEA) আগামী ৫ বছরের জন্য অর্থাৎ এপ্রিল ২০২৬ থেকে মার্চ ২০৩১ পর্যন্ত “সার্থক পিডিএস” (SARTHAK-PDS) নামক একটি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য মোট ২৫,৫৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, “এটি বর্তমান রেশন ব্যবস্থার কোনও বিকল্প বা প্রতিস্থাপন নয়; বরং এর লক্ষ্য হলো খাদ্যশস্য পরিবহন, লজিস্টিকস এবং সামগ্রিক বণ্টন প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করা।”

    প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যসমূহ (SARTHAK-PDS)

    কেন্দ্র সরকারের (Union Cabinet) এই প্রকল্পে রাজ্যগুলিকে আর্থিক ভাবে সহায়তা এবং রেশন দোকানদার পরিচালকদের কমিশন সংশোধন করতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    রাজ্যগুলিকে আর্থিক সহায়তা

    ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (FCI)-র বড় গুদাম থেকে বিভিন্ন জেলা ও ন্যায্য মূল্যের দোকানে (Fair Price Shops) খাদ্যশস্য পরিবহনের বিপুল খরচ বহন করতে অনেক রাজ্যই সমস্যায় পড়ত। নতুন প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্র রাজ্যগুলিকে এই আন্তঃরাজ্য পরিবহনের খরচে আর্থিক সহায়তা দেবে।

    রেশন ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি

    রেশন দোকান পরিচালনাকারীদের (FPS Dealers) মার্জিন বা কমিশন বাড়ানো এবং সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে শেষ প্রান্তের মানুষের কাছে রেশন পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি বাধাহীন হয়।

    প্রযুক্তির ব্যবহার তিনটি প্রধান স্তম্ভ (Three Pillars)

    কেন্দ্রীয় কেবিনেট (Union Cabinet) সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং (ML), ব্লকচেইন এবং ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পুরো ব্যবস্থাকে মূলত তিনটি স্তম্ভের (SARTHAK-PDS) ওপর দাঁড় করানো হয়েছে-

    • ১. নির্মল (Nirmal): এটি হলো একটি এআই-চালিত রিয়েল-টাইম রেশন উপভোক্তা রেজিস্ট্রি। এর মাধ্যমে প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং ভুয়ো রেশন কার্ড বা কারচুপি সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে।
    • ২. আশা (Asha): এটি মূলত সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিবারণ এবং ফিডব্যাক নেওয়ার জন্য একটি বহুভাষিক এআই প্ল্যাটফর্ম। সাধারণ মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ও চ্যাটবটের মাধ্যমে সহজেই নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারবেন।
    • ৩. সক্ষম (Saksham): এটি খাদ্যশস্যের জোগান বা সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণের একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা। প্রতিটি রেশনের বস্তায় কিউআর কোড (QR Code) থাকবে এবং পরিবহনকারী গাড়িগুলিতে জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং থাকবে, যার ফলে রেশনের চাল-গম মাঝপথে চুরি বা অন্য কোথাও পাচার হওয়া আটকানো যাবে।

    রাজ্যগুলির অভ্যন্তরীণ পরিবহন সহায়তা

    সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে খাদ্যশস্য পরিবহনের দূরত্ব ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে, যা লজিস্টিকস খরচ অনেকটাই কমাবে। এই নতুন সার্থক-পিডিএস (SARTHAK-PDS) প্রকল্পের অধীনে আগের দুটি প্রকল্পকে—অর্থাৎ রাজ্যগুলির অভ্যন্তরীণ পরিবহন সহায়তা এবং ‘স্মার্ট পিডিএস’ (SMART PDS) প্রযুক্তি সংস্কারকে—একত্রিত করা হয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’-সহ অন্যান্য খাদ্য সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

    ভারতের জনবণ্টন ব্যবস্থার এই আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত সরকারি ঘোষণার (Union Cabinet) সরাসরি বিবরণ দেখতে আপনি এই “সার্থক পিডিএস” (SARTHAK-PDS) প্রকল্প সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন, যেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের লজিস্টিকস ও টেকনোলজি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

  • Karnataka Politics: মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন সিদ্দারামাইয়া, জানুন আসল কারণ

    Karnataka Politics: মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন সিদ্দারামাইয়া, জানুন আসল কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেসের সিদ্দারামাইয়া। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের নিয়ে প্রাতরাশ বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানেই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারও। এই শিবকুমারই সিদ্ধারামাইয়ার সম্ভাব্য উত্তরসূরি বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। এদিনই বিকেলে সিদ্ধারামাইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলেই খবর। সিদ্ধারামাইয়া জানান, যদিও রাজ্যপাল ব্যক্তিগত কাজে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন, তবুও তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। কর্নাটক বিধানসভার নেতা নির্বাচনের জন্য শীঘ্রই কংগ্রেস বিধায়ক দলের বৈঠক হবে।

    এবার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে কে (Karnataka Politics)

    মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে, সিদ্ধারামাইয়া শিবকুমারকে আলিঙ্গন করছেন। আর একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ নিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে খবর, কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছ থেকে রাজ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়ার পর সিদ্ধারামাইয়া রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। তবে লোকভবনের সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এখনও কোনও অনুরোধ করা হয়নি। তিনি ব্যক্তিগত কারণে ইন্দোরে গিয়েছেন। বুধবার কংগ্রেস নেতা তথা কর্নাটকের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুর্যেওয়ালা (Randeep Singh Surjewala) জানিয়েছিলেন, দল কংগ্রেস বিধায়ক দলের কোনও বৈঠক ডাকেনি। এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি। সংবাদ মাধ্যমকে জল্পনা এড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

    সিদ্ধারামাইয়ার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কেন

    প্রসঙ্গত, বুধবারই বেঙ্গালুরু পৌঁছে সুরজেওয়ালা সিদ্ধারামাইয়া ও দলের অন্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। অসমর্থিত সূত্রের খবর, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বলেছেন। তাঁকে জাতীয় স্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সিদ্ধারামাইয়া এখনও সেই প্রস্তাবে হ্যাঁ বলেননি বলেই খবর। ওই সূত্রেরই খবর, সিদ্ধারামাইয়া পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কারণ এই বার্তাটি সরাসরি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁকে দিয়েছেন। এর আগে সিদ্ধারামাইয়া বলেছিলেন, “লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা যদি তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন, তবে তিনি তা করবেন।” জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই সিদ্ধারামাইয়া এবং শিবকুমারকে দলীয় নেতৃত্ব তলব করেছিল দিল্লিতে। কংগ্রেসের সদর দফতরে আয়োজিত ওই বৈঠকে রাহুল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, কেসি বেণুগোপাল এবং রণদীপ সিং সুর্যেওয়ালা। সেই বেশ কয়েক দফায় আলোচনা হয়েছে। তার পরেই সতীর্থদের কাছে পদত্যাগের ইচ্ছের কথা জানান সিদ্দারামাইয়া।

     

LinkedIn
Share