Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • India Back Buddha’s Jewel: শেষ মুহূর্তে নিলাম থামাল ভারত, হংকং থেকে উদ্ধার আড়াই হাজার বছর পুরনো বুদ্ধের গয়না

    India Back Buddha’s Jewel: শেষ মুহূর্তে নিলাম থামাল ভারত, হংকং থেকে উদ্ধার আড়াই হাজার বছর পুরনো বুদ্ধের গয়না

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক আন্তর্জাতিক নিলাম, ২,৫০০ বছরের প্রাচীন ইতিহাস এবং শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক-আইনি নাটক—সব মিলিয়ে বাস্তবের এক রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। শেষ পর্যন্ত হংকং থেকে উদ্ধার হলো বুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত অমূল্য ধাতুরত্ন (India Back Buddha’s Jewel)। ভারতের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন সাফল্য।

    শুরুটা যেভাবে

    ঘটনার সূত্রপাত একটি ‘রুটিন অ্যালার্ট’ দিয়ে। কিন্তু খুব দ্রুতই তা বদলে যায় আন্তর্জাতিক স্তরের এক টানটান অভিযানে। জানা যায়, লন্ডনে থাকা পিপরাওয়া বুদ্ধ-রত্ন নিলামে (India Back Buddha’s Jewel) তুলতে চলেছে আন্তর্জাতিক নিলাম সংস্থা সোদেবি’স (Sotheby’s), হংকংয়ে (Hong Kong)। বেস প্রাইস— প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। ১৮৯৮ সালে প্রাচীন কাপিলাবস্তুর স্তূপে এই রত্নগুলি আবিষ্কার করেছিলেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ উইলিয়াম ক্ল্যাক্সটন পেপ্পে। ১২৭ বছর পরে তাঁরই বংশধর সেই রত্ন নিলামে তোলার উদ্যোগ নেন।

    যেভাবে গয়না ফেরাল ভারত

    পিপরাওয়া উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের কাছে অবস্থিত। বৌদ্ধ ইতিহাসে যার গুরুত্ব অপরিসীম। এই রত্নগুলি শুধু গয়না নয়, বুদ্ধের অস্থিধাতু, রেলিক, রিলিকোয়ারি ও খোদাই করা পাথরের সঙ্গে যুক্ত এক অনন্য ঐতিহ্য। প্রথমবার ১২৭ বছর পরে ব্রিটেনে নিয়ে যাওয়া এই রত্নগুলির একাংশ ভারতে থাকা বুদ্ধ-রেলিকের সঙ্গে পুনর্মিলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় ‘দ্য লাইট অ্যান্ড দ্য লোটাস: রেলিক্স অফ দ্য অ্যাওয়েকেন্ড ওয়ান’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে। কিন্তু নিলামের ঘণ্টা বাজলে এই সভ্যতার স্মারক চিরতরে ছড়িয়ে পড়ত ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের হাতে। আরও ভয় ছিল— চিনের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা। সেখানেই হস্তক্ষেপ করে ভারত। শেষ ৭২ ঘণ্টায় ভারত সরকার কূটনৈতিক চাপ, আইনি নোটিস ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আইন ব্যবহার করে নিলাম স্থগিত করতে সক্ষম হয়।

    আইনের চেয়েও দর্শন বড় অস্ত্র

    এই অভিযানের বিশেষত্ব এখানেই—ভারত কেবল মালিকানার আইনি দাবি করেনি। বরং যুক্তি দিয়েছে, এই রত্নগুলি নিছক বস্তু নয়, বরং বৌদ্ধ দর্শন, করুণা, অহিংসা ও জ্ঞানচর্চার জীবন্ত প্রতীক। ভারতের এই নৈতিক ও দার্শনিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে গভীর প্রভাব ফেলে। ‘বাণিজ্য নয়, বিবেক’—এই যুক্তিতেই কার্যত নিলাম স্থগিত হয়।

    ঐতিহাসিক প্রথম: সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রত্যাবর্তন

    সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব বিবেক আগরওয়াল, যিনি এই অভিযানের অন্যতম কারিগর, স্পষ্ট বলেন, “এই প্রথমবার ভারতে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে কোনও রত্ন প্রত্যাবর্তন হল।” তাঁর অভিজ্ঞতা, বিশেষত অর্থ মন্ত্রকের ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে কাজ করার সুবাদে নিলাম জগতের ফাঁকফোকর বুঝতে বড় ভূমিকা নেয়। শেষ ৭২ ঘণ্টায় আইনি নোটিস, কূটনৈতিক চাপ ও তথ্যপ্রমাণের দৌড়ে থামে নিলাম।

    দানশীলতার দৃষ্টান্ত: পিরোজশা গোদরেজ

    এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে এগিয়ে আসেন মুম্বইয়ের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও দানশীল ব্যক্তি পিরোজশা গোদরেজ। তিনি অঘোষিত মূল্যে রত্নগুলি কিনে নেন এবং ভারত সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে প্রদান করেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এই রত্নগুলি চিরকাল ভারতেই থাকবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে কেন এই রত্ন অমূল্য

    ন্যাশনাল মিউজিয়ামের ডেপুটি কিউরেটর অবিরা ভট্টাচার্য বলেন, “এই রত্নগুলি ভারতের সভ্যতার স্মৃতি বহন করে—যা সীমান্ত বা রাজনীতির ঊর্ধ্বে।” ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হেরিটেজের অধ্যাপক সবিতা কুমারী জানান, “২৫০০ বছরের প্রাচীন এই রত্নগুলি বৌদ্ধ জগতের প্রাচীনতম ধর্মীয় নিদর্শনের অন্যতম।”

    ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত

    এই ঘটনা প্রমাণ করল— সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা, দ্রুত গোয়েন্দা ও আইনি পদক্ষেপ, সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক যুক্তির ব্যবহার এই তিনের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষা সম্ভব।সংস্কৃতি মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি শুধু ধাতুরত্ন ফেরত আনার ঘটনা নয়—এটি ভারতের স্মৃতি, দর্শন, আত্মমর্যাদা ও সভ্যতাগত দায়িত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার মুহূর্ত।

  • UGC: ইউজিসি-র ‘ইকুইটি’ নিয়মে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, “ক্যাম্পাসে ভারতের ঐক্য প্রতিফলিত হওয়া উচিত”

    UGC: ইউজিসি-র ‘ইকুইটি’ নিয়মে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, “ক্যাম্পাসে ভারতের ঐক্য প্রতিফলিত হওয়া উচিত”

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (Suprim Court) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) ২০২৬ সালের নতুন ‘ইকুইটি’ (সাম্য) সংক্রান্ত সার্কুলেশনের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন পরিবেশ থাকা উচিত, যা ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতাকে তুলে ধরে। তাই বৈষম্য নয় সাম্যের বিষয়ে কোনও আপোষ থাকা উচিত নয়।

    পুরানো নিয়ম বহাল (UGC)

    ইউজিসির (UGC) নতুন ২০২৬ সালের নিয়মাবলি স্থগিত করে আদালত জানিয়েছে, আপাতত ২০১২ সালের ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হবে। যাতে কোনো অভিযোগকারী প্রতিকারহীন না থাকেন, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।

    বিভাজনমূলক আশঙ্কার ওপর গুরুত্ব

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছেন, নতুন সার্কুলেশনের ভাষা অস্পষ্ট এবং অপব্যবহার হতে পারে। আদালত সতর্ক করে বলেছে, “এই নিয়মগুলো সমাজকে বিভক্ত করতে পারে এবং দেশের ওপর এর বিপজ্জনক প্রভাব পড়তে পারে।”

    জাতপাতহীন সমাজের লক্ষ্য

    আদালত (Suprim Court) প্রশ্ন তুলেছে, “স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর যেখানে আমরা একটি ‘জাতপাতহীন সমাজ’ (casteless society) গড়ার পথে এগিয়েছি, সেখানে এই ধরনের নিয়ম আমাদের পেছনের দিকে (regressive) নিয়ে যাচ্ছে কি না।” বিচারপতির কথায়, “আমেরিকার মতো বর্ণবিদ্বেষী আলাদা আলাদা স্কুল বা হোস্টেলের ব্যবস্থা ভারতে কাম্য নয়। হোস্টেলে সব সম্প্রদায়ের ছাত্ররা (UGC) একসাথে থাকে এবং সেখান থেকেই জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়।”

    ইউজিসির অস্পষ্ট সংজ্ঞা

    নতুন সার্কুলেশন ৩(সি) ধারা নিয়ে আদালত আপত্তি তুলেছে, যেখানে ‘জাতিগত বৈষম্য’-এর সংজ্ঞাটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি যেমন এসসি, এসটি, ওবিসি (SC, ST, OBC) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, এই সংজ্ঞাটি বৈষম্যমূলক, কারণ এতে সাধারণ শ্রেণির (General Category) ছাত্রছাত্রীদের (UGC) সুরক্ষার কোনো উল্লেখ নেই।

    বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন

    সুপ্রিম কোর্ট (Suprim Court) সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে, প্রবীণ আইনজ্ঞ এবং পণ্ডিতদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হোক। এই কমিটি খতিয়ে দেখবে যে সামাজিক মূল্যবোধের ওপর এই নিয়মের প্রভাব কী হতে পারে।

    র‍্যাগিং-এর ইস্যু

    আদালত লক্ষ্য করেছে, যেখানে র‍্যাগিং ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় সমস্যা, সেখানে এই নতুন সার্কুলেশনে র‍্যাগিং-এর বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তর-দক্ষিণ বা উত্তর-পূর্ব ভারতের ছাত্রছাত্রীদের (UGC) সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়েও যে বৈষম্য হয়, তার সমাধানের অভাব এখানে রয়েছে।

    প্রেক্ষাপট

    গত ১৩ জানুয়ারি ইউজিসি এই নতুন নিয়মগুলো ঘোষণা করেছিল, যেখানে প্রতিটি কলেজে ‘ইকুইটি কমিটি’ (UGC) এবং ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন খোলার কথা বলা হয়েছিল। এর পরেই সাধারণ শ্রেণির পড়ুয়াদের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি হয় এবং সুপ্রিম কোর্টে (Suprim Court) একাধিক পিটিশন জমা পড়ে। পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯ মার্চ, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। ততদিন পর্যন্ত এই বিতর্কিত নিয়মের ওপর স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে।

  • Economic Survey 2025-26: ইথানল ব্যবহারের কারণে ভারতে ১.৪৪ লক্ষ কোটি টাকার অপরিশোধিত তেলে ব্যবহারে হ্রাস

    Economic Survey 2025-26: ইথানল ব্যবহারের কারণে ভারতে ১.৪৪ লক্ষ কোটি টাকার অপরিশোধিত তেলে ব্যবহারে হ্রাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইকোনমিক সার্ভে (অর্থনৈতিক সমীক্ষা) ২০২৫–২৬ (Economic Survey 2025-26) অনুযায়ী, ভারতের ইথানল (Ethanol) মিশ্রণ কর্মসূচি দেশকে ১.৪৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে সাহায্য করেছে। আবার সেইসঙ্গে প্রায় ২৪৫ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমিয়েছে।

    অপরিশোধিত তেলের আমদানি হ্রাস (Economic Survey 2025-26)

    সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। এই কর্মসূচির ফলে বহুমুখী সুবিধা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে — অপরিশোধিত তেলের আমদানি হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমন কমানো এবং ইথানল (Ethanol) উৎপাদনের কাঁচামাল সরবরাহকারী কৃষকদের আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি (Economic Survey 2025-26)।

    কাঁচামালের গণ্ডি পেরিয়ে খাদ্যশস্য

    ২০২৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত যে সাফল্যগুলি অর্জিত হয়েছে, তা পরিবহন জ্বালানিতে ইথানল মিশ্রণের ক্রমবর্ধমান মাত্রাকেই প্রতিফলিত করে। সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে যে, মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা ই-২০ (E20)-এর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কর্মসূচি এখন প্রথাগত চিনি-ভিত্তিক কাঁচামালের গণ্ডি পেরিয়ে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে ভুট্টা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই বৈচিত্র্যকরণের ফলে ইথানল (Ethanol) মিশ্রণের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের বিকল্প ব্যবহারের মাত্রা আরও বেড়েছে।

    ১১.৭ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে

    সমীক্ষায় আরও লক্ষ্য করা গিয়েছে, সরকার নির্ধারিত ইথানলের মূল্য এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির (OMCs) পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে পণ্য ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি উৎপাদন বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা পালন করেছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ভুট্টা-ভিত্তিক ইথানলের নির্ধারিত দাম বার্ষিক ১১.৭ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে (CAGR) বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কৃষক ও উৎপাদকদের উৎসাহিত করেছে।

    তবে একই সঙ্গে, সমীক্ষায় (Economic Survey 2025-26) সতর্ক করা হয়েছে, ইথানল মিশ্রণের ক্রমবর্ধমান মাত্রার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। ইথানলের কাঁচামালের চাহিদার কারণে চাষাবাদের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে, যা ফসলের বৈচিত্র্য এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কর্মসূচিটি যত পরিপক্ক হচ্ছে, জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্যের সঙ্গে কৃষি খাতের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

  • Wings India 2026: ভারতেই তৈরি হবে সুখোই সুপারজেট ১০০! হ্যালের সঙ্গে চুক্তি রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশনের

    Wings India 2026: ভারতেই তৈরি হবে সুখোই সুপারজেট ১০০! হ্যালের সঙ্গে চুক্তি রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত উইংস ইন্ডিয়া ২০২৬ আন্তর্জাতিক বিমান প্রদর্শনীতে (Wings India 2026) ভারত–রাশিয়া মহাকাশ সহযোগিতায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হলো। রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশন (UAC) এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) ভারতে সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) আঞ্চলিক যাত্রীবাহী বিমানের লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদনের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ২৮ জানুয়ারি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশন-এর জেনারেল ডিরেক্টর ভাদিম বাদেখা এবং হ্যাল-এর চেয়ারম্যান ড. ডি. কে. সুনীল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী গেন্নাদি আব্রামেনকভ, ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দেনিস আলিপভ, বাণিজ্য প্রতিনিধি আন্দ্রেই সোবোলেভ এবং রোসাভিয়াতসিয়ার এভিয়েশন ইকুইপমেন্ট সার্টিফিকেশনের প্রধান দিমিত্রি কোপিসভসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

    নয়া চুক্তির কী কী শর্ত

    চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সুখোই সুপারজেট ১০০ বিমানের টাইপ সার্টিফিকেট ভারতে স্বীকৃতি ও বৈধকরণ (Certification and Validation) প্রক্রিয়ায় হ্যাল, ইউএসি-কে সহায়তা করবে। এর বিনিময়ে হ্যাল ভারতে এই বিমান তৈরি, বিক্রি এবং রক্ষণাবেক্ষণের লাইসেন্স পাবে। পাশাপাশি, মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও উপাদান উৎপাদনের অধিকারও থাকবে হ্যাল-এর হাতে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সংস্থা রোস্তেকের অধীনস্থ ইউএসি, হ্যাল-কে প্রযুক্তিগত পরামর্শ, নকশা সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞ পরিষেবা দেবে, যাতে ভারতে সুখোই সুপারজেট ১০০-এর অ্যাসেম্বলি লাইনের জন্য উৎপাদন পরিকাঠামো পুনর্গঠন করা যায়। উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে মস্কোতে দুই সংস্থার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। নতুন এই চুক্তি সেই আলোচনাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিল।

    কীভাবে কাজের বণ্টন হবে

    এই চুক্তিকে একটি বিস্তৃত ‘মাস্টার এগ্রিমেন্ট’-এর দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ভবিষ্যতের সময়সূচি, আর্থিক কাঠামো এবং দুই পক্ষের মধ্যে কাজের বণ্টন বিস্তারিতভাবে নির্ধারিত হবে। সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) হলো মূল সুখোই সুপারজেটের একটি আধুনিক ও পুনর্নকশাকৃত সংস্করণ, যা সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ায় তৈরি উপাদান ও সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে পূর্বে ব্যবহৃত ফ্রাঙ্কো-রুশ ইঞ্জিনের পরিবর্তে এতে ব্যবহার করা হয়েছে রাশিয়ায় নির্মিত পিডি৮ ইঞ্জিন। ফলে সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) বর্তমানে একটি সম্পূর্ণ ‘ইমপোর্ট-সাবস্টিটিউটেড’ রাশিয়ান আঞ্চলিক জেট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এর সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দুটি সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) প্রোটোটাইপ ১০টি দেশের আকাশসীমা পেরিয়ে হায়দ্রাবাদে পৌঁছয়। ভারতের ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব সরকারের ‘উড়ে দেশ কা আম নাগরিক’ (UDAN) কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার লক্ষ্য সাশ্রয়ী বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলির উন্নয়ন। ভারতে স্থানীয় উৎপাদন শুরু হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) -এর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর ও রফতানির সুযোগও বাড়বে।

  • India-EU Trade Deal: এক বার্তায় ২৭ দেশের সঙ্গে সংযোগ প্রধানমন্ত্রীর! সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি

    India-EU Trade Deal: এক বার্তায় ২৭ দেশের সঙ্গে সংযোগ প্রধানমন্ত্রীর! সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সংসদ ভবনের বাইরে নিজের ভাষণ ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভবিষ্যতে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের অভিমুখ যে অনেকাংশে ইউরোপের দিকে ঘুরে যেতে পারে, সেই আভাস মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর এক ব্রিটিশ সংবাদপত্র নরেন্দ্র মোদিকে আখ্যা দিয়েছিল “ভারতের প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে। বারো বছর পর, সেই তকমার যথার্থতা আবারও প্রমাণ করলেন তিনি। মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সোশ্যাল মিডিয়াকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

    ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায় বার্তা

    চুক্তি ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি একটিমাত্র বার্তা পোস্ট করেন—কিন্তু সেটি ছিল ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি একসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে “বহুভাষিক মাস্টারস্ট্রোক” বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তিকে নিছক অর্থনৈতিক লেনদেনের বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের রূপ দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাম্পের বাণিজ্য কৌশলের প্রেক্ষাপটে ভারত-ইইউ ঘনিষ্ঠতা

    এই চুক্তি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বাণিজ্য নীতিতে বিশ্ব রাজনীতি উত্তাল। ভারত ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তিতে চাপের সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে অবস্থান নেওয়ার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানলে পড়েছে। ট্রাম্পের কৌশল—শুল্ককে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার—বিশ্বের বহু মিত্র দেশকেই প্রভাবিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত-ইইউ চুক্তিকে অনেকেই “মাদার অব অল ডিলস” বলে উল্লেখ করছেন।

    আত্মনির্ভর ভারতের চুক্তি

    ব্রিটেনের সঙ্গে আগেই মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করে ফেলেছে ভারত। দু’দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউরোপের ২৭ দেশের জোট)-এর সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। মোদীর কথায়, ভবিষ্যতের পথ কতটা উজ্জ্বল, তারই একটি ঝলক হল ইউরোপের সঙ্গে এই বাণিজ্যচুক্তি। তিনি বলেন, “এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারতের চুক্তি। দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ প্রজন্মের চুক্তি। আত্মনির্ভর ভারতের চুক্তি।” ইউরোপীয় জোটের সঙ্গে এই চুক্তিকে আগেও ‘সব চুক্তির জননী’ বলে ব্যাখ্যা করেছে দিল্লি। বৃহস্পতিবার ফের সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে। এখন খুব সস্তায় ভারতীয় পণ্য ইউরোপীয় দেশগুলিতে পৌঁছে যাবে বলেও দেশবাসীকে জানান তিনি।

    ২৭টি দেশের ক্রেতাদের মন জয়

    ইউরোপীয় বাজার যে ভারত একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখতে চাইছে, তা-ও স্পষ্ট মোদীর কথায়। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নির্মাতা এবং উদ্যোগপতিদের উদ্দেশে মোদী পরামর্শ দেন, অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে, সেখানে সস্তায় পণ্য রফতানি করা যাবে— এই ভেবে বসে থাকলে চলবে না। সেরা মানের পণ্য রফতানির উপরে জোর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “সেরা মানের পণ্যের উপরে জোর দেওয়ার এটাই সুযোগ। সেরার সেরা মানের পণ্য নিয়ে বাজারে আসুন। তা হলে আমরা ইউরোপের ২৭টি দেশের ক্রেতাদের থেকে শুধু টাকাই আয় করব না, গুণমানের জন্য তাদের মনও জয় করতে পারব। কয়েক দশক ধরে যার প্রভাব থাকবে।”

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বহুভাষিক বার্তা

    চুক্তি ঘোষণার পর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি ইংরেজিতে লেখেন— “আজ ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উপসংহার আমাদের সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইউরোপের সব নেতাদের তাঁদের গঠনমূলক মনোভাব ও প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই চুক্তি অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে, আমাদের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে ভারত-ইউরোপ অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে।” এরপর একই বার্তা তিনি ফরাসি, জার্মান, গ্রিক, ইতালিয়ানসহ ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায় পোস্ট করেন। এর জবাবে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতিসহ একাধিক ইউরোপীয় নেতা হিন্দিতে শুভেচ্ছা বার্তা দেন।

    মানবিক ও ব্যক্তিগত কূটনীতি

    ইউরোপীয় কমিশনের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. ক্রিস্টিনা ভ্যানবার্গেন এই উদ্যোগকে “২৭টি দেশের প্রতি একসঙ্গে সৌজন্যমূলক শ্রদ্ধা” বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, “প্রতিটি দেশের ভাষায় কথা বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি একটি বাণিজ্য চুক্তিকে সাংস্কৃতিক করমর্দনে রূপান্তর করেছেন। এই এফটিএ কাগজপত্রের চুক্তি নয়—এটি মানবিক ও ব্যক্তিগত। একবিংশ শতাব্দীর কূটনীতি ঠিক এভাবেই হওয়া উচিত।” ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মারিওস কারাতজিয়াস একে “ডিজিটাল যুগের সেরা জনকূটনীতি” হিসেবে আখ্যা দেন।

    ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তির মূল দিক

    দুই দশক ধরে আলোচনার পর সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি এখন আইনি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে, তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।

    • ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের শ্রমনির্ভর পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্য করবে
    • ভারতের ৯০ শতাংশের বেশি পণ্যের ওপর ইইউ শুল্ক প্রত্যাহার করবে
    • ইউরোপের ৯৬ শতাংশ রফতানিপণ্যের ওপর ভারতের শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়া হবে
    • ভারতের অটোমোবাইল বাজার ইউরোপীয় গাড়ির জন্য খুলে দেওয়া হবে
    • গাড়ির ওপর শুল্ক প্রথমে ৩০–৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে, পরে ধাপে ধাপে ১০ শতাংশে নামবে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপ—উভয়ের জন্যই লাভজনক। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষাভিত্তিক, লক্ষ্যভিত্তিক কূটনীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

  • India Remittances: রেমিট্যান্স প্রাপ্তির নিরিখে বিশ্বের শীর্ষে ভারত, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    India Remittances: রেমিট্যান্স প্রাপ্তির নিরিখে বিশ্বের শীর্ষে ভারত, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেমিট্যান্স (India Remittances) বা প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত (India)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ২০২৫–২৬ অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey) এই তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ পৌঁছেছে ১৩৫.৪ বিলিয়ন ডলারে, যা দেশের বৈদেশিক হিসেবের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে পেশ করা সমীক্ষায় জানিয়েছেন, উন্নত দেশগুলি থেকে রেমিট্যান্সের (India Remittances) অংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, দক্ষ ও পেশাদার কর্মীদের অবদান ক্রমেই বাড়ছে। রফতানিতে ভারতের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই সমীক্ষায়।

    উৎপাদনভিত্তিক রফতানি (India)

    সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, উৎপাদনভিত্তিক রফতানি ক্ষমতা বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক স্থিতিশীলতা এবং মুদ্রার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে। এ জন্য প্রয়োজন শৃঙ্খলাবদ্ধ ও উৎপাদনশীলতাভিত্তিক শিল্পনীতি, ভ্যালু চেইনজুড়ে কাঁচামাল ও উপকরণ ব্যয়ের সতর্ক ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চ-মূল্য সংযোজিত পরিষেবা খাতের সমান্তরাল বৃদ্ধি। বিশ্বজুড়ে আর্থিক পরিস্থিতি কড়াকড়ি হলেও ভারত ধারাবাহিকভাবে বড় অঙ্কের মোট বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পেরেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে মোট বিনিয়োগ প্রবাহ জিডিপির হার পৌঁছেছে ১৮.৫ শতাংশে। রাষ্ট্রসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD)-এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় মোট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) গ্রহণে ভারত শীর্ষস্থানে (India Remittances) রয়েছে এবং ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো বড় এশীয় অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে (India)।

    গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ

    ২০২৪ সালে গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ ঘোষণার ক্ষেত্রে বিশ্বে ভারত চতুর্থ স্থানে ছিল। ওই বছরে এক হাজারের বেশি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, ২০২০–২৪ সময়কালে গ্রিনফিল্ড ডিজিটাল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে মোট ১১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বর – এই পর্বে মোট এফডিআই প্রবাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪.৭ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৫.৮ বিলিয়ন ডলার। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, “ভারতে বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (FPI) বারবার প্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহের চক্রের মধ্য দিয়ে যায়। এই ওঠানামা অনেক সময় বৈশ্বিক আর্থিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। চলতি অর্থবর্ষে ছ’মাস নিট বহিঃপ্রবাহ এবং তিন মাস নিট প্রবাহ দেখা গেছে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে নিট অবস্থান তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়েছে।”

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

    এছাড়া, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার (India Forex) রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০১.৪ বিলিয়ন ডলারে (১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত), যা মার্চের শেষে ছিল ৬৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রিজার্ভের পর্যাপ্ততার দিক থেকে বলা হয়েছে, এই সঞ্চয় প্রায় ১১ মাসের পণ্য আমদানি এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে থাকা মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৯৪ শতাংশ মেটাতে সক্ষম। ফলে এটি একটি স্বস্তিদায়ক বাফার হিসেবে কাজ করছে (India)। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey) আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একটি দেশের মুদ্রার কার্যকারিতা নির্ভর করে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় সৃষ্টি, বৈদেশিক ভারসাম্য রক্ষা, স্থিতিশীল এফডিআই আকর্ষণ এবং উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা রফতানি প্রতিযোগিতার ক্ষমতার ওপর (India Remittances)। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে ভারতের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা মার্চ ২০২৫ শেষে ছিল ৭৩৬.৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ-জিডিপির অনুপাত ছিল ১৯.২ শতাংশ। তবে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের মোট ঋণের তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অংশ ৫ শতাংশেরও কম। এর ফলে বৈদেশিক খাতজনিত ঝুঁকি অনেকটাই সীমিত রয়েছে ।

     

  • Vande Bharat Sleeper: এবার ২৪ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার তৈরির ঘোষণা ভারতীয় রেলের

    Vande Bharat Sleeper: এবার ২৪ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার তৈরির ঘোষণা ভারতীয় রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাত্রীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং প্রিমিয়াম দূরপাল্লার রেল পরিষেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভারতীয় রেল (Indian Railways) এখন ২৪ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন (Vande Bharat Sleeper) তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি দেশের প্রথম স্লিপার ভেরিয়েন্ট চালুর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত ১৭ জানুয়ারি মালদা টাউন হয়ে হাওড়া ও কামাখ্যার মধ্যে চলাচলকারী ১৬ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি যাত্রীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই রেল কর্তৃপক্ষ এখন অধিক যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্রেন তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে।

    ব্যাপক যাত্রী ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি (Vande Bharat Sleeper)

    চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে (ICF) ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে এই নতুন ২৪ কোচের ট্রেনসেটটি বর্তমানে ডিজাইনের পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানের ৮২৩টি বার্থের পরিবর্তে নতুন এই ট্রেনে ১,২২৪টি বার্থ থাকবে (৪০১টি বেশি)। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এর প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। মোট ৫০টি রেক তৈরি করা হবে। এতে ১৭টি এসি ৩-টায়ার, ৫টি এসি ২-টায়ার, ১টি এসি ফার্স্ট ক্লাস কোচ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ এসি প্যান্ট্রিকার (Indian Railways) থাকবে।

    আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা

    যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের (Vande Bharat Sleeper) জন্য এই ভেরিয়েন্টে থাকছে—

    • আর্গোনমিক বার্থ, রিডিং লাইট, মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জিং পয়েন্ট।
    • ওয়াই-ফাই, প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম এবং ইনফোটেইনমেন্ট।
    • ভ্যাকুয়াম-অ্যাসিস্টেড টয়লেট এবং আধুনিক ইন্টিরিয়র।
    • দিব্যাঙ্গজনদের জন্য সুবিধা: বিশেষ টয়লেট (Indian Railways) এবং র‍্যাম্পের ব্যবস্থা।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    ট্রেন সংঘর্ষ এড়ানোর অত্যাধুনিক কবচ (Kavach) প্রযুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ। সিসিটিভি ও আন্তর্জাতিক মানের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। ঘণ্টায় ১৬০ কিমি সর্বোচ্চ গতিবেগ এবং শব্দ নিরোধক ব্যবস্থা।

    পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি

    পরিবেশের কথা মাথায় রেখে এতে ‘রিজেনারেটিভ ব্রেকিং’, এলইডি লাইটিং এবং ভ্যাকুয়াম বায়ো-টয়লেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ট্রেনের (Indian Rail) রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ‘রিমোট কন্ডিশন মনিটরিং’ সিস্টেমও যুক্ত করা হবে।

    ২৪ কোচের এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন (Vande Bharat Sleeper) ভারতীয় রেলের (Indian Railways) আধুনিকীকরণ এবং দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা প্রদানের এক বড় পদক্ষেপ। উল্লেখ্য যে, বিএইচইএল (BHEL) ইতিমধ্যেই এই ট্রেনের প্রপালশন সরঞ্জামের সরবরাহ শুরু করেছে।

  • India–EU FTA: ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে কার কী প্রাপ্তি হল? কে কী সুবিধা পাবে? বিশ্লেষণ

    India–EU FTA: ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে কার কী প্রাপ্তি হল? কে কী সুবিধা পাবে? বিশ্লেষণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এক ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement), সংক্ষেপে এফটিএ (FTA), যাকে উভয় পক্ষই আখ্যা দিয়েছে “মাদার অফ অল ডিলস” বা ‘সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি’ হিসেবে।

    মঙ্গলবার ঘোষিত এই চুক্তিটি প্রায় দুই দশকের টালবাহানা করা আলোচনার পর বাস্তব রূপ পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক ভূ-অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। ভারত ও ২৭ দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এই চুক্তি কার্যকর হলে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বাজার এক ছাতার নিচে আসবে। এর সম্মিলিত বাজারের পরিমাণ প্রায় ২৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্বের জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ।

    ২০ বছর আগে যেখানে আলোচনা ভেঙে গিয়েছিল, সেখানে এখন ভারতের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৩ সালে ভারত তার অটোমোবাইল খাত খুলতে অনিচ্ছুক হওয়ায় আলোচনা থমকে যায়। তবে নতুন চুক্তির আওতায় ভারত ইউরোপীয় গাড়ির জন্য নিজস্ব বাজার খুলে দিয়েছে। ইউরোপ থেকে আমদানি হওয়া অধিকাংশ গাড়ির ওপর শুল্ক ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানো হবে এবং ধাপে ধাপে তা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।

    চুক্তিতে কী কী অন্তর্ভুক্ত?

    এটি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও ব্যাপক বাণিজ্য চুক্তি যা পণ্য, পরিষেবা এবং বিনিয়োগ— তিন ক্ষেত্রকেই অন্তর্ভুক্ত করছে। ২০২৩ সালে ইইউ ভারতের জন্য জিএসপি (Generalised Scheme of Preferences) সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, যার ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের ওপর বাড়তি শুল্কের বোঝা পড়েছিল। এখন নতুন চুক্তিতে ভারতের জন্য বস্ত্র, ওষুধ, যন্ত্রপাতি, ইস্পাত, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খাতে বড় সুবিধা এনে দেবে। ইইউ ভারতকে ১৪৪টি পরিষেবা উপখাতে প্রবেশাধিকার দেবে, আর ভারত ইইউকে ১০২টি উপখাতে সুযোগ দেবে, যার মধ্যে আর্থিক পরিষেবা, সামুদ্রিক পরিবহণ ও টেলিযোগাযোগ খাত উল্লেখযোগ্য।

    বর্তমানে ভারত-ইইউ বাণিজ্যের চিত্র

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো ভারত ও ইইউ—উভয়েরই সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে গত এক দশকে ভারত-ইইউ পণ্য বাণিজ্য দ্রুত বেড়েছে। ২০২০ সালে যেখানে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৪ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬ বিলিয়ন ডলারে। ফলে ইইউ এখন ভারতের সবচেয়ে বড় পণ্য বাণিজ্য অংশীদার।

    বর্তমানে ভারতের ইইউ-র সঙ্গে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। ভারত ইইউতে রফতানি করে প্রায় ৭৫.৮৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যেখানে আমদানি করে ৬০.৬৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ইইউ মূলত যন্ত্রপাতি, পরিবহণ সরঞ্জাম ও রাসায়নিক পণ্য রফতানি করে। আর ভারত রফতানি করে রাসায়নিক, ধাতু, খনিজ পণ্য ও বস্ত্র। দুই পক্ষই ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

    ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পরিষেবা বাণিজ্যও বেড়েছে। ভারতীয় পরিষেবা রফতানি ২২.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৪ বিলিয়ন ডলার এবং ইইউ-র রফতানি বেড়েছে ১৭ বিলিয়ন থেকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে। মূলত ব্যবসায়িক পরামর্শ ও আইটি পরিষেবায় এই লেনদেন বেশি। বর্তমানে ইইউ-র মোট বাণিজ্যের মধ্যে ভারতের অংশ ২.৪ শতাংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ১৭.৩ শতাংশ এবং চিনের ১৪.৬ শতাংশ। ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯.৩ লাখ ভারতীয় নাগরিক ইইউ দেশগুলোতে বসবাস করছেন। ইইউ জানিয়েছে, প্রায় ৬,০০০ ইউরোপীয় সংস্থা ভারতে কাজ করছে এবং প্রায় ১,৫০০ ভারতীয় সংস্থার উপস্থিতি রয়েছে ইউরোপে।

    ভারতের কী লাভ হবে?

    • ● ইইউ ভারতের ৯০ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেবে এবং সাত বছরের মধ্যে তা ৯৩ শতাংশে পৌঁছাবে।
    • ● তাৎক্ষণিকভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে সামুদ্রিক খাদ্য (চিংড়ি ও হিমায়িত মাছ), রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও রাবার, চামড়া ও জুতো, বস্ত্র ও পোশাক, ধাতু, রত্ন ও গয়না শিল্প।
    • ● প্রায় ৬ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে আংশিক শুল্কছাড় ও কোটা প্রযোজ্য হবে। এতে ইইউ-র গড় শুল্কহার ৩.৮ শতাংশ থেকে নেমে আসবে ০.১ শতাংশে।
    • ● মোটের ওপর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ৯৯.৫ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে শুল্কছাড়ের সুবিধা পাবে।
    • ● তবে, ভারত এখনও ইস্পাত রফতানির কোটা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। বর্তমানে ইইউ ভারতকে বছরে ১৬ লাখ টন ইস্পাত শুল্কমুক্ত রফতানির অনুমতি দেবে, যা ভারতের বর্তমান রফতানির প্রায় অর্ধেক।

    ইইউ কী সুবিধা পাবে?

    • ● ভারত তাৎক্ষণিকভাবে ইইউ থেকে আমদানি হওয়া ৩০ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নেবে। মোটের ওপর ইইউ-র ৯৬.৬ শতাংশ পণ্যের শুল্ক কমানো বা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে। এতে ইউরোপীয় সংস্থাগুলির বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় হবে।
    • ● গাড়ি ছাড়াও যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও ওষুধের ওপর ভারতের বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক প্রায় পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে। বিমান ও মহাকাশ প্রযুক্তির পণ্যের ওপর শুল্ক প্রায় সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হবে।
    • ● ইইউ থেকে আমদানি হওয়া ওয়াইন ও মদের ওপর বর্তমান ১৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ২০–৩০ শতাংশ (ওয়াইন), ৪০ শতাংশ (স্পিরিটস) এবং ৫০ শতাংশ (বিয়ার) করা হবে।
    • ● এছাড়া আর্থিক ও সামুদ্রিক পরিষেবায় ইউরোপীয় সংস্থাগুলিকে আরও বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে। শুল্ক প্রক্রিয়া সহজ করা হবে এবং মেধাস্বত্ব (Intellectual Property) সুরক্ষা আরও জোরদার করা হবে।
    • ● বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি শুধু বাণিজ্য নয়, ভারত ও ইউরোপের কৌশলগত অংশীদারিত্বকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
  • Economic Survey: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার থাকতে পারে ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    Economic Survey: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার থাকতে পারে ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ (Economic Survey) পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ করা ওই সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়েছে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতির একটি আশাব্যঞ্জক ছবি । সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল (India Growth Rate) প্রধান অর্থনীতির দেশ। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে যেখানে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৭.৪ শতাংশ হবে, সেখানে  বলে অনুমান করা হয়েছে, জিভিএ বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭.৩ শতাংশ। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, ভারতের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা 

    ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও সমীক্ষায় (Economic Survey) বলা হয়েছে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, স্থিতিশীল কর্মসংস্থান এবং নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির কারণে ভারতের অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স আলাদা করে নজর কেড়েছে। কম মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে গৃহস্থালি ব্যয় দৃঢ় রয়েছে এবং গ্রামীণ ও শহুরে – উভয় ক্ষেত্রেই ভোগব্যয়ে ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। সমীক্ষায় বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। পুঁজি গঠন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সরকারি ব্যয় পরিকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উৎপাদন খাতে গতি সঞ্চার হয়েছে এবং পুনরুদ্ধারের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে (Economic Survey) । পরিষেবা খাত এখনও প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি, যা ভারতের জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখছে। ভারতের রাজস্ব অবস্থানেও উন্নতি হয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্রের রাজস্ব আদায় জিডিপির ৯.২ শতাংশে পৌঁছেছে। উন্নত কর ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের ফলে করদাতার পরিসরও বিস্তৃত হয়েছে। ২০২০ সালের পর থেকে সরকারি ঋণের পরিমাণ কমেছে, যদিও সরকারি বিনিয়োগ উচ্চ পর্যায়ে বজায় রয়েছে (India Growth Rate)।

    বড় ধরনের পরিবর্তন

    সমীক্ষা (Economic Survey) অনুযায়ী, ব্যাঙ্কিং খাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ খেলাপি ঋণের হার নেমে এসেছে ২.২ শতাংশে, যা বহু দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও গভীর হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৫ কোটিরও বেশি জনধন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে খুচরো বিনিয়োগকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই মহিলা। বৈদেশিক ক্ষেত্রে ভারতের রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যার প্রধান চালক পরিষেবা খাত। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি হয়েছে, যা বৈশ্বিক ধাক্কার বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে (India Growth Rate)। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১.৭ শতাংশ, যা ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) চালু হওয়ার পর থেকে সর্বনিম্ন (Global Headwinds)। ভালো বর্ষার ফলে কৃষিক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং খাদ্যশস্য উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

    উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

    সমীক্ষায় (Economic Survey) পরিকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল সংযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও বলা হয়েছে। ভারত এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বাজার। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও দেশটি বৈশ্বিক নেতৃত্বদানকারী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য, মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে (Indias Growth Rate)।সারসংক্ষেপে অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সংস্কার, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও স্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর জোরে ভারত ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার থেকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে। শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক আস্থার ফলে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের দিকে এগোতে ভারত সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

  • India Canada Relation: সেতুবন্ধনে ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে’র মঞ্চ, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা শুরু ভারত-কানাডার

    India Canada Relation: সেতুবন্ধনে ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে’র মঞ্চ, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা শুরু ভারত-কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গোয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া এনার্জি উইক (IEW) ২০২৬-এর মঞ্চে ফের আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রী পর্যায়ের জ্বালানি সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করেছে ভারত-কানাডা। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং কানাডার জ্বালানি (Energy Dialogue) ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী টিমোথি হজসন যৌথভাবে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি (LNG) এবং জ্বালানি রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন (India Canada Relation)। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি আট বছরের মধ্যে প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের যোগাযোগ। এটি জুন ২০২৫-এ কানানাস্কিসে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠকের ধারাবাহিকতার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়।

    কী বললেন হরদীপ সিং পুরি (India Canada Relation)

    মন্ত্রী বলেন, “উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা তার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়ে গিয়েছে। কানাডার কাছে সম্ভবত ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে।” পুরি জানান, সরবরাহ শৃঙ্খল ও দ্বিপাক্ষিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে এটি ছিল মন্ত্রী হজসনের সঙ্গে তাঁর তৃতীয় বৈঠক। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের মূল ক্ষেত্রগুলি হবে, জ্বালানি রফতানি, কানাডা থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG)-এর সরবরাহ বাড়ানো, এশীয় বাজারে অপরিশোধিত তেল রফতানি বাড়াতে ট্রান্স মাউন্টেন এক্সপ্যানশন (TMX) পাইপলাইনের ব্যবহার, ভারতের উচ্চ পরিশোধন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত থেকে কানাডায় পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ (India Canada Relation)।

    বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ দিক

    এই বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বৈদ্যুতিক যান এবং নবায়নযোগ্য শক্তি পরিকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড (OIL)-কে কানাডায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও অধিগ্রহণের জন্য একটি কনসর্টিয়ামের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “অয়েল ইন্ডিয়া লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং রেয়ার আর্থ খনিজ পদার্থের খনি অনুসন্ধানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পারে।” অয়েল ইন্ডিয়ার সিএমডি রঞ্জিত রাঠ বলেন, “অয়েল ইন্ডিয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস অনুসন্ধানের দিকে নজর দেবে। বৈদ্যুতিক যান উৎপাদনের জন্য অত্যাবশ্যক লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস সুরক্ষিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” দুই দেশ পারস্পরিক বিনিয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখবে। ভারত তার সম্পূর্ণ জ্বালানি মূল্য শৃঙ্খলে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরে। অন্যদিকে, কানাডা জানায় যে বর্তমানে তাদের দেশে প্রায় ১১৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি প্রকল্পে উন্নয়ন চলছে।

    এই বৈঠকে গ্রিন হাইড্রোজেন, বায়োফুয়েল এবং কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও সহযোগিতার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। দুই (Energy Dialogue) দেশের মন্ত্রীরাই বলেন, “বৈশ্বিক সরবরাহ কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকায় যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল বহুমুখীকরণ এখন অগ্রাধিকারের তালিকায়।” প্রসঙ্গত, পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ২০২৬ সালের মার্চ মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে, কানাডার একটি নির্ধারিত বাণিজ্য মিশনের সময় (India Canada Relation)।

     

LinkedIn
Share