Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Donald Trump: বাতিল জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক, চিনা পণ্যের ওপর আরও ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

    Donald Trump: বাতিল জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক, চিনা পণ্যের ওপর আরও ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনা (China) পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। বর্তমানে চিনা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের পরিমাণ ৩০ শতাংশ। ট্রাম্প প্রশাসনের নয়া সিদ্ধান্তের জেরে ১ নভেম্বর থেকে চিনা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৩০ শতাংশ। প্রশ্ন হল, চিনের বিরুদ্ধে হঠাৎই বা কেন এমন পদক্ষেপ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? কেন চিনা পণ্যের ওপর চাপালেন এত চড়া শুল্ক?

    ট্রাম্পের যুক্তি (Donald Trump)

    এই সব প্রশ্নের উত্তর ট্রাম্প নিজেই দিয়েছেন তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে। তিনি লিখেছেন, “গত ছ’মাস চিনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো ছিল। বাণিজ্যে ওদের এমন একটা পদক্ষেপ সেই কারণেই আরও বিস্ময়কর লাগছে। আমার অবশ্য বার বার মনে হয়েছে, ওরা মিথ্যা বলছে। সেই সন্দেহই সত্যি হল। মনে তো হচ্ছে, অনেক দিন ধরে ওরা এই পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু চিনকে সারা বিশ্বের বাজারে এভাবে অচলাবস্থা তৈরি করতে দেওয়া যাবে না।” পাল্টা হুমকির সুরে ট্রাম্প লিখেছেন, “ওরা একটা একচেটিয়া অবস্থান নিতে চাইছে। কিন্তু আমেরিকার অবস্থানও একচেটিয়া এবং চিনের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। এখনও পর্যন্ত আমি তা ব্যবহার করার প্রয়োজন মনে করিনি। এবার করতে হবে।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, “তারা ক্রমশ বৈরী হয়ে উঠছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিঠি পাঠাচ্ছে। তাতে বলা হয়েছে, যে তারা দুর্লভ খনিজ ও উৎপাদনের প্রায় প্রতিটি উপাদানের ওপর রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়, এবং প্রায় যা কিছু তাদের মাথায় আসে।” ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে ‘অশুভ ও বৈরী পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়েছেন, যা বিশ্ববাজারকে বাধাগ্রস্ত করে পুরো বিশ্বকে ‘বন্দি’ করে রাখার জন্য নীল নকশা ছকা হয়েছে।

    কী লিখলেন ট্রাম্প

    ট্রাম্প লিখেছেন, “কেউ কখনও এ ধরনের কিছু দেখেনি। মূলত, এটি বাজারকে অবরুদ্ধ করবে এবং প্রায় সব দেশের জন্য জীবনকে কঠিন করে তুলবে, বিশেষ করে চিনের জন্য।” তিনি যোগ করেন, “আমরা অন্যান্য দেশের কাছ থেকেও সাড়া পেয়েছি যারা এই আকস্মিক বিরাট বাণিজ্যিক বৈরিতা নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।” গত অগাস্টেই ট্রাম্প (Donald Trump) বলেছিলেন, তিনি ৯০ দিনের আগে বেজিংয়ের (China) ওপরে শুল্ক চাপাবেন না। জানিয়েছিলেন, আগামী ১০ নভেম্বর রাত ১২টা বেজে ১ মিনিট পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে নয়া শুল্কহার লাগু করার সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ এই পর্বে আগে যে হারে শুল্ক নেওয়া হচ্ছিল, তা-ই বলবৎ থাকবে। কিন্তু সেই সময়কালের আগেই সিদ্ধান্ত বদল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চিনা পণ্যের ওপর চাপিয়ে দিলেন ১০০ শতাংশ শুল্ক।

    চিনা বাণিজ্যমন্ত্রকের নয়া রফতানি নিয়ন্ত্রণ

    প্রসঙ্গত, চিনা বাণিজ্যমন্ত্রক ৯ অক্টোবর নতুনভাবে রফতানি নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের কথা ঘোষণা করেছে। এতে আরও পাঁচটি নতুন বিরল মাটি (Rare Earth) উপাদানকে রফতানি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে এবং সেমিকন্ডাক্টর ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহৃত চালানের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। একইসঙ্গে পরিশোধন (refining) প্রযুক্তিকেও এই নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছে এবং চিনা কাঁচামাল ব্যবহারকারী বিদেশি উৎপাদকদের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলি, বিশেষত আমেরিকার প্রতিষ্ঠানগুলি, নিয়মিতভাবে এসব উপকরণ পাওয়া থেকে কার্যত বঞ্চিত হবে (Donald Trump)।

    ‘অ্যানাউন্সমেন্ট ১৮’

    এটি আসলে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ঘোষিত ‘অ্যানাউন্সমেন্ট ১৮’-এর আওতায় আরোপিত সীমাবদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সেই সময় ১৭টি বিরল মাটি উপাদানের মধ্যে ৭টি এবং সংশ্লিষ্ট চুম্বকের রফতানি সীমিত করা হয়েছিল। এই পদক্ষেপ ছিল মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিশোধ, যা বৈশ্বিক সরবরাহে সংকট সৃষ্টি করে এবং অনেক মার্কিন প্রস্তুতকারককে উৎপাদন লাইন বন্ধ করতে বাধ্য করে (China)। চিনের শি জিনপিং সরকার এই রফতানি সীমাবদ্ধতাকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তবে একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-চিন উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার আগে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, এর মাধ্যমে বেজিং বিরল মাটি উপাদানের ক্ষেত্রে তাদের প্রায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ অর্থাৎ বিশ্ব সরবরাহের প্রায় ৭০ শতাংশ আরও মজবুত করেছে। এই ধাতুগুলি বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে কম্পিউটার চিপ পর্যন্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে অপরিহার্য (Donald Trump)।

    ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠক বাতিল

    এদিকে, চলতি মাসের শেষে দক্ষিণ কোরিয়ায় সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল ট্রাম্প-জিনপিংয়ের। সেই বৈঠক বাতিল করে দেওয়া হয়েছে (China)। কারণ হিসেবে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমি প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলিনি, কথা বলার প্রয়োজনও নেই। দু’সপ্তাহের মধ্যে জিনপিংয়ের সঙ্গে আমার দেখা করার কথা ছিল। আর তার প্রয়োজন মনে করছি না। শুধু আমার কাছে নয়, সব রাষ্ট্রনেতার কাছেই এটা খুবই বিস্ময়কর (Donald Trump)।”

  • Nobel Peace Prize: নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভেনিজুয়েলার মারিয়া করিনা মাচাদো, জানেন তাঁর পরিচয়?

    Nobel Peace Prize: নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভেনিজুয়েলার মারিয়া করিনা মাচাদো, জানেন তাঁর পরিচয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশা ভেঙে দিয়ে ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার ( Nobel Peace Prize) পেলেন ভেনেজুয়েলার প্রধান বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। শুক্রবার নোবেল কমিটি ঘোষণা করে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে নিরলস লড়াইয়ের জন্য এই সম্মান পাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে আত্মগোপনে থাকা এই রাজনীতিক ‘ভেনেজুয়েলার আয়রন লেডি’ নামেও পরিচিত। ভেনেজুয়েলায় মুক্ত নির্বাচনের পক্ষে দশকের পর দশক ধরে সওয়াল করেছেন মারিয়া। বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, মানবাধিকারের দাবিতে আন্দোলন করেছেন। ২০২৪ সালে ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে বিরোধীদের মুখ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।

    মারিয়া ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা

    শুক্রবার অসলোতে ঘোষণা করা হল মারিয়ার নাম। এ বছর কমিটির ভাবনায় ছিল ৩৩৮টি নাম। যার মধ্যে ২৪৪ জন ব্যক্তি এবং ৯৪টি সংস্থা। তার মধ্যে কমিটি বেছে নিল মারিয়া করিনা মাচাদোকে। নোবেল কমিটি ঘোষণায় জানিয়েছে, গণতন্ত্রের জন্য মারিয়ার অবিচল সংগ্রাম ও অহিংস প্রতিরোধ সারা বিশ্বের কাছে অনুপ্রেরণা। মারিয়া কোরিনা মাচাদো শুধু ভেনেজুয়েলায় নয়, বরং সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে অনুপ্রেরণা। ভেনেজুয়েলাকে একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের পথে ফেরানোর সময়ে তাঁর লড়াইকে সম্মান জানানো হলো নোবেল কমিটির তরফে। কমিটির তরফে বলা হয়েছে, ‘২০২৫ সালে শান্তির জন্য লড়াই করা সাহসী এক ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হল। এক মহিলা, যিনি আঁধার ঘনিয়ে এলেও গণতন্ত্রের জন্য মশাল জ্বেলে রেখেছিলেন।’ কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক শক্তির অন্যতম মুখ মারিনা কোরিনা মাচাদো গোটা দক্ষিণ আমেরিকার নাগরিক আন্দোলনকে সাহস জুগিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ মুখও ইনি।

    হতাশ ট্রাম্প

    ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০৫ বার মোট ১৪২ জনকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ব্যক্তিগত ভাবে যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৯২ জন পুরুষ এবং ১৯ জন মহিলা। ২০২৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন জাপানের নিহন হিদানকো। পরমাণু বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে একটি সংগঠন রয়েছে তাঁর। বিশ্বকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন তিনি। তবে, চলতি বছর দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করে আসছেন যে, বিশ্বের ‘আটটি যুদ্ধ’ শেষ করার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁরই প্রাপ্য। তবে শেষমেষ নোবেল কমিটি এবার বেছে নিল মারিয়াকেই।

  • Jaish E Mohammed: গুপ্ত-মহিলা ব্রিগেড খুলছে পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ! দাবি গোয়েন্দা রিপোর্টে

    Jaish E Mohammed: গুপ্ত-মহিলা ব্রিগেড খুলছে পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ! দাবি গোয়েন্দা রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার গুপ্ত-মহিলা ব্রিগেড খুলতে চলেছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish E Mohammed)। এই ব্রিগেডের (Womens Brigade) নাম রাখা হয়েছে ‘জামাত আল মু’মিনাত’, বাংলায় তর্জমা করলে যার অর্থ দাঁড়ায় ‘বিশ্বাশী নারীদের সম্প্রদায়’।

    নারী সংগঠন (Jaish E Mohammed)

    জানা গিয়েছে, এই নয়া মহিলা সংগঠনটিকে জইশ-ই-মহম্মদের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও তৃণমূল পর্যায়ের নিয়োগ কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষত শিক্ষিত, শহরাঞ্চলের মুসলিম মহিলাদের প্রভাবিত করাই এদের লক্ষ্য, যার বিস্তার জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ এবং ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি পর্যন্ত। সূত্রের খবর, এই কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে এনক্রিপটেড অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম এবং ধর্মীয় প্রচার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। এই সংগঠনের কার্যকলাপ অত্যন্ত সুচারুভাবে ধর্মীয় ও ভক্তিমূলক ভাষায় আড়াল করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে যেন এটি একটি ইসলামি সংস্কারমূলক উদ্যোগ।

    মক্কা ও মদিনার ছবি

    জইশ-ই-মহম্মদের তরফে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে, যেখানে মক্কা ও মদিনার ছবি এবং কোরানের আয়াত ব্যবহার করা হয়েছে। সংগঠনে এক ধরনের ধর্মীয় বৈধতার ছাপ দিতেই এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। এক শীর্ষ গোয়েন্দা আধিকারিক বলেন, “নৈতিক শুদ্ধতা এবং ভক্তিমূলক ভাষার মাধ্যমে এই সূক্ষ্ম প্রোপাগান্ডা তৈরি করা হয়েছে, যা আত্মিক অন্বেষায় আগ্রহী শিক্ষিত মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করার জন্য পরিকল্পিত।” আধিকারিকদের মতে, এটি দু’ধাপের মগজধোলাইয়ের একটি পরিকল্পনা। প্রথম ধাপে রয়েছে আধ্যাত্মিক শর্তায়ন বা মানসিক প্রস্তুতি, আর পরবর্তী ধাপে রয়েছে নিয়োগপ্রাপ্তদের ধীরে ধীরে জইশ-ই-মহম্মদের রাজনৈতিক ও জেহাদি মতাদর্শের সঙ্গে পরিচয় করানো (Jaish E Mohammed)।

    ‘জামাত আল-মু’মিনাত’

    অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের গোয়েন্দা বার্তা থেকে জানা গিয়েছে, ‘জামাত আল-মু’মিনাত’ যথেষ্ট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই কাঠামোটি সেল-ভিত্তিক উল্লম্ব শৃঙ্খলায় পরিচালিত হচ্ছে। এর কাঠামো জইশ-ই-মহম্মদের বর্তমান সাংগঠনিক পরিকাঠামোর মতোই (Womens Brigade)।এক প্রবীণ গোয়েন্দাকর্তা বলেন, “এই মহিলাদের দলগুলিকে নিয়োগকারী, বার্তা বহনকারী এবং অর্থ সংগ্রাহক হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। তারা গোপনে থেকে পুরুষ সদস্যদের জন্য পরোক্ষ লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে।” প্রসঙ্গত, এই কৌশলগত পরিবর্তন জইশ-ই-মহম্মদের ২০২৪ সালের পরবর্তী অপারেশনাল পুনর্গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মূল জোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাব বিস্তার এবং পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ ও কাশ্মীরজুড়ে মাদ্রাসা নেটওয়ার্ককে কেন্দ্র করে কার্যকলাপ বিস্তারে।

    ধর্মের আড়ালে মারকাজ-স্তরের সমাবেশের

    বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের ইঙ্গিত, ধর্মের আড়ালে মারকাজ-স্তরের সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। সংগঠনের একটি পুস্তিকায় এই সব সভায় অংশগ্রহণকে আধ্যাত্মিক কর্তব্য এবং সমষ্টিগত দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের মতে, এই সব বাক্যাংশের সঙ্গে মিল রয়েছে বৈশ্বিক জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রাথমিক মহিলা জেহাদি বর্ণনার (Jaish E Mohammed)। এই ধরনের একটি পুস্তিকায় ১৩ই রবিউস সানির উল্লেখ রয়েছে, যা সম্ভাব্যভাবে একটি সমন্বিত পরিকল্পিত সভার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে হুন্ডি বা দান-ভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ থাকতে পারে। সূত্রের খবর, “এই ধরনের সভাগুলি প্রায়ই ধর্মীয় এনজিও এবং মাদ্রাসা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তহবিল স্থানান্তরের আড়াল হিসেবে কাজ করে, যেগুলিকে ইসলাহে উম্মাহ (সমাজ সংস্কার)-এর নামে দানের ছদ্মবেশে পরিচালনা করা হয়।”

    জামাত আল-মু’মিনাত

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জেনেছেন, জামাত আল-মু’মিনাতের সাহিত্যিক উপকরণের ধর্মীয় ভাষা, নকশা ও বিষয়বস্তুর কাঠামো পাকিস্তানভিত্তিক আল-মুহাজিরাত (জেইএম-এর আনুষ্ঠানিক মহিলা শাখা) এবং বাহাওয়ালপুরের মারকাজ-উসমান-ও-আলি (জেইএম-এর পরিচিত ঘাঁটি) কর্তৃক প্রকাশিত উপকরণের সঙ্গে যথেষ্ট সাদৃশ্যপূর্ণ (Womens Brigade)। জইশ-ই-মহম্মদ কৌশলগতভাবে তাদের মহিলা ইউনিটগুলিকে তথ্যযুদ্ধ অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তৈরি করছে। তারা অনলাইনে দাওয়াহ (ধর্মপ্রচার), ভ্রান্ত তথ্য প্রচার এবং আর্থিক কার্যকলাপ পরিচালনা করছে। এভাবেই তারা ফাঁকি দিচ্ছে প্রচলিত নজরদারি ব্যবস্থাকে (Jaish E Mohammed)।

    জইশ-ই-মহম্মদের মনস্তাত্ত্বিক অভিযান

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, “এই মহিলা কর্মীরা জইশ-ই-মহম্মদের মনস্তাত্ত্বিক অভিযানে ডিজিটাল পদাতিক সেনার ভূমিকা পালন করছে। তাদের অনলাইন বর্ণনাগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আদর্শগত বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়, চরমপন্থী মতাদর্শকে স্বাভাবিক করে তোলা যায়, এবং সরাসরি সশস্ত্র প্রশিক্ষণ ছাড়াই জেহাদি উদ্দেশ্যের প্রতি আনুগত্য জাগিয়ে তোলা যায়।” কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ সন্ত্রাসবাদী প্রভাব বিস্তারের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, যেখানে ধর্মীয় ভক্তি, লিঙ্গভিত্তিক আবেগময় আবেদন এবং ডিজিটাল গোপন কৌশল একত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে (Womens Brigade)।

    প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে জইশের শেকড় যে অনেক গভীরে প্রোথিত, তার প্রমাণ মেলে দিন কুড়ি আগে ভাইরাল হওয়া জইশ নেতা মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরির এক ভিডিও বার্তায়। তিনি বলেছেন, “২৫ বছরের ধৈর্য, সাহস ও সংকল্পের ফল যে পাকিস্তানের সরকার, সেনা, বায়ুসেনা এবং নৌবাহিনীকে জেহাদের পথে আনতে পেরেছি। যারা শহিদ হয়েছে, তারা জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য। পাক বায়ুসেনা এর বদলাও নিয়েছে (Jaish E Mohammed)।”

  • Nobel Prize: এবার পদার্থবিদ্যায় নোবেল পাচ্ছেন তিন বিজ্ঞানী

    Nobel Prize: এবার পদার্থবিদ্যায় নোবেল পাচ্ছেন তিন বিজ্ঞানী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার (Nobel Prize) পাচ্ছেন তিন বিজ্ঞানী। মঙ্গলবার তাঁদের নাম ঘোষণা করল রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি (Quantum Mechanic)। অ্যাকাডেমির তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, ২০২৫ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারের জন্য যৌথভাবে মনোনীত হয়েছেন ব্রিটেনের জন ক্লার্ক, ফ্রান্সের মিশেল এইচ ডেভোরেট এবং আমেরিকার জন এম মার্টিনিস। তিনজনেরই কর্মক্ষেত্র আমেরিকা।

    নোবেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য (Nobel Prize)

    সুইডেনের নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক সার্কিটে ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং এবং শক্তির পরিমাণ নির্ধারণ আবিষ্কারের জন্য তিন বিজ্ঞানীকে এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেলের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওঁদের আবিষ্কার কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। সুইডিশ কমিটির নিয়ম অনুযায়ী ক্লার্ক, মিশেল এবং মার্টিনিসকে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনারের (প্রায় ১১ লাখ মার্কিন ডলার) পুরস্কার।প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে কোয়ান্টাম মেকানিক্স সংক্রান্ত মৌলিক গবেষণার স্বীকৃতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন অ্যালান আসপেক্ট, জন ফ্রান্সিস ক্লাউসার এবং অ্যান্টন জাইলিঙ্গার। এর (Nobel Prize) ঠিক তিন বছর পরে ফের পদার্থবিদ্যার নোবেলে ফিরে এল সেই কোয়ান্টাম।

    পরবর্তী প্রজন্মের কোয়ান্টাম প্রযুক্তি বিকাশের জন্য সুযোগ সৃষ্টি

    রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমির তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন বিজ্ঞানীর পরীক্ষাগুলি প্রমাণ করেছে যে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের বৈশিষ্ট্যগুলিকে ম্যাক্রোস্কোপিক পর্যায়েও বাস্তবায়িত করা সম্ভব। তাঁদের কাজ কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি, কোয়ান্টাম কম্পিউটার এবং কোয়ান্টাম সেন্সর-সহ পরবর্তী প্রজন্মের কোয়ান্টাম প্রযুক্তি বিকাশের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত অধ্যাপক ক্লার্ক বলেন, এই আবিষ্কার কিছুটা হলেও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ভিত্তি। তিনি বলেন, “ঠিক এই মুহূর্তে এই আবিষ্কারটি কোথায় পুরোপুরি খাপ খায়, তা আমার কাছে সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়।”

    প্রসঙ্গত, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এমন এক নতুন ধরনের গণনা পদ্ধতি, যা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নীতিগুলি অর্থাৎ ক্ষুদ্রতম স্তরে কণার আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান ব্যবহার করে প্রচলিত কম্পিউটারের তুলনায় অনেক (Quantum Mechanic) দ্রুত হিসেব-নিকেশ করতে পারে। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, কোয়ান্টাম মেকানিক্সই সমস্ত ডিজিটাল প্রযুক্তির ভিত্তি (Nobel Prize)।”

  • India: ‘‘যারা ১৯৭১ সালে ৪ লক্ষ মহিলাকে গণধর্ষণ করেছিল…’’, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    India: ‘‘যারা ১৯৭১ সালে ৪ লক্ষ মহিলাকে গণধর্ষণ করেছিল…’’, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে একেবারে ধুয়ে দিল ভারত (India)। নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করেছিল পাকিস্তান। তারই জবাব দিতে গিয়ে পাকিস্তানকে একহাত নেন ভারতের প্রতিনিধি। তামাম বিশ্বকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামাবাদের অনুমোদিত ৪ লাখ মহিলার ওপর সংঘটিত গণধর্ষণ অভিযানের কথা। ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক’ আলোচনার সময় এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয় ভারতের তরফে।

    পাকিস্তানের মিথ্যাপূর্ণ তথ্যের কড়া সমালোচনা (India)

    বিতর্ক সভায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পর্বতনেনি হরিশ পাকিস্তানের মিথ্যাপূর্ণ তথ্যের কড়া সমালোচনা করেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চকে অপব্যবহার করে প্রচার চালানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। হরিশ বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত প্রতি বছরই আমাদের আমার দেশকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের এই ভ্রান্তিপূর্ণ বিষোদ্গার শুনতে হয়, বিশেষত জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে — যে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রতি তারা লোভাতুর দৃষ্টি দেয় সর্বক্ষণ।” তিনি বলেন, “এটাই সেই দেশ যারা ১৯৭১ সালে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পরিচালনা করেছিল এবং নিজেদের সেনাবাহিনী দিয়ে ৪ লক্ষ মহিলা নাগরিকের ওপর পরিকল্পিত গণধর্ষণ চালিয়ে এক গণহত্যার অভিযানে অনুমোদন দিয়েছিল। বিশ্ব পাকিস্তানের এই প্রচারের ভেতরটা স্পষ্টভাবেই দেখতে পায় (UNSC)।”

    পাকিস্তান নিজেদের জনগণকে বোমা মারে

    হরিশ পাকিস্তানকে এমন একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে তারা নিজেদের জনগণকে বোমা মারে এবং পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালায়। তিনি আরও বলেন, “ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক সমাজের নজর ঘোরাতে ভুল দিকনির্দেশনা করছে, করছে অতিরঞ্জনও। এভাবেই তারা তাদের দোষ আড়াল করার চেষ্টা করছে (India)।” ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ বলেন, যে দেশ নিজের নাগরিকদের ওপর বোমাবর্ষণ করে এবং গণহত্যা চালায়, সেই দেশ মানবাধিকারের নামে মুখ খোলার যোগ্যই নয়। রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী মিশনের কাউন্সিলর সাইমা সেলিম অভিযোগ করেন, কাশ্মীরি নারীরা কয়েক দশক ধরে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত যৌন হিংসার শিকার হয়ে আসছেন। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) প্রতিবেদনগুলিতে কাশ্মীরি নারীদের দুর্দশা প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

    বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত বক্তব্য

    পাকিস্তানের এহেন অভিযোগ খারিজ করে দেন ভারতের রাষ্ট্রদূত। তিনি রাষ্ট্রসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে ভারতের দীর্ঘদিনের অবদান ও শান্তির অপরিহার্য প্রতিনিধি হিসেবে নারীদের প্রাথমিক স্বীকৃতির কথা তুলে ধরেন (UNSC)। উদাহরণ হিসেবে তিনি ছয়ের দশকে কঙ্গোয় ভারতীয় নারী চিকিৎসক আধিকারিকের নিয়োগের ঘটনাটিরও উল্লেখ করেন (India)। কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের চিরাচরিত অভিযোগেরও কঠোর প্রতিবাদ করেন হরিশ। তিনি বলেন, প্রতি বছর পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীর সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত বক্তব্য পেশ করে। কিন্তু জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। হরিশ বলেন, পাকিস্তান অধিকার নিয়ে নানা কথা বলে। অথচ নিজের দেশেই বোমাবর্ষণের কথা ভুলে যায়। তিনি মনে করিয়ে দেন, গত মাসে পাক সেনা কীভাবে খাইবার পাখতুনখোয়ায় বোমাবর্ষণ করেছিল। নারী, শিশু নির্বিশেষে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে সেই হিংসায়। এর পরেই হরিশ বলেন, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল, চিরকালই থাকবে। কারও অতিরঞ্জিত বক্তব্য এখানে ছাপ ফেলতে পারবে না (India)।

    সাইমা সালেমের বক্তব্য

    পাক কূটনীতিবিদ সাইমা সালেম সভায় অভিযোগ করেছিলেন যে, কাশ্মীরি মহিলারা কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। তাঁর সেই বক্তব্যের জবাবে ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, যে দেশ নারী, শান্তি ও নিরাপত্তার নামে কুমিরের কান্না কাঁদে, তারাই সেনাবাহিনীর ইতিহাসে সব চেয়ে বর্বর যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটিয়েছে (UNSC)। পাকিস্তান নারী সুরক্ষার কথা বলার আগে নিজের অতীতের দিকে তাকাক। তিনি বলেন, নারীর অধিকার ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে তাদের রেকর্ড নিষ্কলঙ্ক ও অক্ষত। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার মিথ্যে প্রচার চালিয়ে পাকিস্তান বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, অপারেশন সার্চলাইটের নামে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (অধুনা বাংলাদেশ) অত্যাচার চালিয়েছিল তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান (অধুনা পাকিস্তান)। সেবার পাক সেনা হত্যা করেছিল তিন লাখেরও বেশি বাঙালিকে। শুধু তাই নয়, প্রায় চার লাখ মহিলাকে পাকিস্তানি সেনার ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল (India)। পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ভারতের সহায়তায় জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশের (UNSC)।

  • Danish Kaneria: ‘ভারতই আমার মাতৃভূমি!’ নাগরিকত্ব বিতর্কে বড় মন্তব্য, সিএএ নিয়ে সওয়াল প্রাক্তন পাক স্পিনার কানেরিয়ার

    Danish Kaneria: ‘ভারতই আমার মাতৃভূমি!’ নাগরিকত্ব বিতর্কে বড় মন্তব্য, সিএএ নিয়ে সওয়াল প্রাক্তন পাক স্পিনার কানেরিয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ভারত ও ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি নিজের গভীর আনুগত্য প্রকাশ করলেন প্রাক্তন পাক লেগ স্পিনার দানিশ কানেরিয়ায় (Danish Kaneria)। তিনি জানান, পাকিস্তান তাঁর জন্মভূমি হতে পারে, কিন্তু ভারত তাঁর মাতৃভূমি। তাঁর কাছে ভারত একটি মন্দিরের মতো। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেননি। এই মুহূর্তে তাঁর তেমন কোনও পরিকল্পনাও নেই। তবে ভবিষ্যতে কখনও তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব নিতে চাইলে তার জন্য সিএএ (CAA) মানে ২০১৯ সালে গৃহীত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন রয়েছে।

    ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে কানেরিয়া

    দানিশ কানেরিয়া স্পষ্ট ভাষায় জানান, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা পেলেও, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তিনি বারবার বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। বলেন, “পাকিস্তান আমার জন্মভূমি হতে পারে, কিন্তু ভারত আমার মাতৃভূমি। আমার কাছে ভারত একটি মন্দিরের মতো।” বারবার তাঁকে ভারতীয় নাগরিকত্ব (Danish Kaneria on CAA) নিয়ে মন্তব্য করতে বলায় তিনি বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন করছেন কেন আমি পাকিস্তান নিয়ে কথা বলি না, কেন ভারতীয় বিষয় নিয়ে মন্তব্য করি। কেউ কেউ বলেন আমি শুধু ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য এটা করছি। তাই আমি চাই সত্যিটা পরিষ্কার করতে।” তিনি জানান, বর্তমানে তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে যদি তিনি বা তাঁর মতো পাকিস্তান, বাংলাদেশ কিংবা আফগানিস্তানে নিপীড়িত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ ভারতের নাগরিকত্ব চাইতে চান, তাহলে ২০১৯ সালে গৃহীত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) তাঁদের জন্যই সহায়ক।

    ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি অটল থাকার প্রতিশ্রুতি

    দানিশ কানেরিয়া বলেন, নাগরিকত্ব না থাকলেও তিনি তাঁর ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষায় অটল থাকবেন। তিনি আরও বলেন, “আমি এমন কোনও স্বার্থে ভারতীয় মূল্যবোধকে সমর্থন করি না। আমি আমার ধর্ম রক্ষা করব, দেশবিরোধীদের ও ভণ্ড ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াব।” নিজের দীর্ঘ পোস্টের শেষে দানিশ কানেরিয়া লেখেন, “আমার নিরাপত্তা নিয়ে যারা উদ্বিগ্ন, তাঁদের জানাতে চাই— প্রভু শ্রী রামের আশীর্বাদে আমি ও আমার পরিবার নিরাপদ ও সুখে আছি। আমার ভাগ্য শ্রী রামের হাতে।”

    আরএসএস-এর প্রশংসা

    সম্প্রতি, আরএসএস-এর শতবর্ষ উপলক্ষে দানিশ কানেরিয়া শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, “বিশ্বের আরও অনেক সংগঠন থাকা উচিত আরএসএস-এর মতো, যারা স্বীকৃতি ছাড়াই সামাজিক সেবায় নিয়োজিত। আমি তাঁদের কাজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেখেছি— কোনও জাত, ধর্ম বা সীমানা নেই, শুধু নিঃস্বার্থ সেবা।” দানিশ কানেরিয়ার এই সাহসী ও স্পষ্ট বক্তব্য বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর ভারতীয় শিকড়ের প্রতি গর্ব এবং প্রকাশ্যে সেটি নিয়ে কথা বলার সাহস অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

    বৈষম্যের শিকার, সিএএ-র হয়ে সওয়াল

    কানেরিয়ার এই বক্তব্যের পর তাঁকে ঘিরে পাকিস্তানে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে ভারতে অনেকে তাঁর সাহসের প্রশংসাও করছেন। কানেরিয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে (X-এ) লিখেছেন, তিনি পাকিস্তানের মানুষের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভালবাসার জন্য কৃতজ্ঞ। তবে তিনি নিজের ক্রিকেট কেরিয়ারে বারবার বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। বরাবর সে দেশে তিনি নানা ধরনের অস্বস্তির সম্মুখীন হয়েছেন। এই ধরনের আচরণে তাঁর আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও দাবি করেন। পাকিস্তানের জাতীয় দলের হয়ে মাত্র দুইজন হিন্দু ক্রিকেটার এখনও পর্যন্ত প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এঁদের মধ্যে একজন দানিশ কানেরিয়া (Danish Kaneria)। পাকিস্তানি এই ক্রিকেটার ৬১টি টেস্ট এবং ১৮টি ওয়ান ডে ম্য়াচ খেলেছেন। প্রায় এক দশক দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। কানেরিয়া জানান, খেলোয়াড় জীবনে বারংবার তাঁর ধর্ম বদল করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে।

    দেশকে সম্মান করেছি

    উল্লেখ্য, সিএএ-এর অধীনে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে আসা নির্যাতিত সংখ্যালঘুরা (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান) ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হতে পারেন। সম্প্রতি, সরকার ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতে আসা এই ব্যক্তিদের পাসপোর্ট এবং ভিসার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানিয়েছে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত গায়ক আদনান সামিকে ২০১৬ সালে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই বছর তাকে পদ্মশ্রীও দেওয়া হয়েছে। কানেরিয়ার কথায়, ‘আমি সবসময় আমার দেশকে সম্মান করেছি। কিন্তু কিছু অভিজ্ঞতা গভীরভাবে আহত করেছে।’ স্বভাবতই, তাঁর এই পোস্ট মুহূর্তে ভাইরাল। অনেকে প্রশংসা করেছেন নির্ভীক অবস্থানকে, আবার কেউ কেউ ছুড়ে দিয়েছেন কটাক্ষ। তবে কানেরিয়া হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ। ঠান্ডা ভাষায়, সংযত মেজাজে বলেছেন—‘আমি কোনও দেশের বিরুদ্ধে নই। শুধু সত্যিটা বলেছি

  • Floods: নেপালে প্রবল বৃষ্টি, ভূমিধস, মৃত অন্তত ৬০, পাশে থাকার বার্তা মোদির

    Floods: নেপালে প্রবল বৃষ্টি, ভূমিধস, মৃত অন্তত ৬০, পাশে থাকার বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টানা ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় (Floods) ৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে নেপালে (Nepal)। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগের জেরে ভারতের এই প্রতিবেশী দেশটির বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইলাম জেলা। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) তরফে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    ভূমিধসে মৃত্যু মিছিল (Floods)

    এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে কোশি প্রদেশের ইলাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ভূমিধসের ঘটনায় মোট ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইলাম জেলার ডেউমাই ও মাইজোগমাই পুরসভায় ৮ জন করে, ইলাম পুরসভা ও সান্দাকপুর গ্রামীণ পুরসভায় ৬ জন করে, সূর্যোদয়ে ৫ জন, মাংসেবুঙে ৩ জন এবং ফাকফোকথুম গ্রামে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাঞ্চথর জেলায়ও ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে একজনের। খোটাং এবং উদয়পুর জেলায় বন্যায় ভেসে গিয়েছেন একজন করে। নেপালের প্রশাসন জানিয়েছে, রাসুয়া জেলার ৪ জন বন্যায় ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন এবং পাঞ্চথরে একজন ধসের নীচে চাপা পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন।

    বর্ষা এখনও সক্রিয়

    নেপাল সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টারের সাহায্যে ইলাম জেলা থেকে একজন গর্ভবতী মহিলা-সহ চারজনকে উদ্ধার করেছে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘন ঘন বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে নেপাল প্রশাসন। এদিকে, রবিবার সকালে রাউতাহাট জেলায় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। সারা দেশে বজ্রপাতে জখম হয়েছেন আরও সাতজন। নেপালের সাতটি প্রদেশের মধ্যে কোশি, মাধেশ, বাগমতী, গন্ডকী এবং লুম্বিনীতে বর্ষা এখনও সক্রিয় রয়েছে। জারি করা হয়েছে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা (Floods)।

    এদিকে, নেপালের বন্যায় মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “নেপালে (Nepal) ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রাণহানি এবং সম্পত্তির ক্ষতি উদ্বেগজনক। এই কঠিন সময়ে আমরা নেপালের জনগণ এবং সরকারের সঙ্গে আছি। প্রতিবেশী বন্ধু এবং প্রথম প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে, ভারত প্রয়োজনীয় যে কোনও সাহায্য দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (Floods)।”

  • RSS at 100: ‘‘বিশ্বে সংঘের মতো আরও সংগঠন প্রয়োজন’’, আরএসএস-এর শতবর্ষে অভিনন্দন দানিশ কানেরিয়ার

    RSS at 100: ‘‘বিশ্বে সংঘের মতো আরও সংগঠন প্রয়োজন’’, আরএসএস-এর শতবর্ষে অভিনন্দন দানিশ কানেরিয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (RSS at 100) শতবর্ষ উদযাপনে বিশেষ অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রাক্তন ক্রিকেটার দানিশ কানেরিয়া (Danish Kaneria)। বিশ্বে আরএসএসের মতো আরও সামাজিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন। এই পাক ক্রিকেটারের সাফ কথা, হিন্দু হওয়ার জন্য পাকিস্তানে তাঁকে নানা রকম ভাবে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। গত ২ অক্টোবর বিজয় দশমীর দিন শতবর্ষে পদার্পণ করেছে আরএসএস। ১৯২৫ সালের বিজয় দশমীর দিনেই ডাক্তার কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার সংঘকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

    ‘‘সংগঠনকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা’’ (RSS at 100)

    পাকিস্তানের হিন্দু ক্রিকেটার দানিশ (Danish Kaneria) বলেন, “নিজেদের পক্ষে কোনও রকম কৃতিত্ব বা স্বীকৃতি না চেয়ে আরএসএস সমাজে সেবামূলক কাজ করে যায়। এই ধরনের সংগঠন সমাজে আরও প্রয়োজন। আমি বিশ্বজুড়ে আরএসএস-এর কাজ দেখেছি। যে কোনও দুর্যোগের কাজে তারা কাজ করে, সমাজ সেবায় তারা সব সময় নিবেদিতপ্রাণ। দুর্গতদের ত্রাণ, অসহায় ও পিছিয়ে থাকাদের মধ্যে ক্ষমতায়ন করা এবং তরুণ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করা এই সংগঠনের প্রধান কাজ। জাতি, বর্ণ, ধর্মের সীমায় আবদ্ধ নয় কেবলমাত্র মানব সেবায় স্বয়ং সেবকরা কাজ করে চলেন। এই সংগঠনকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।”

    ‘‘পাকিস্তান একটি সন্ত্রাস উৎপাদনকারী দেশ’’

    উল্লেখ্য, পাকিস্তানের এই স্পিনার বারবার বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়নের কথা বলে সরব হয়েছিলেন। পাকিস্তানে কীভাবে ধর্মীয় বৈষম্যের স্বীকার হন হিন্দুরা, সেই কথাই বলেন। একজন ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর জীবনের কেরিয়ারকে শেষ করে দিয়েছে এই ইসলামপ্রধান রাষ্ট্র। অগত্যা দেশ ত্যাগ করে এখন আমেরিকায় বসবাস করছেন দানিশ। তিনি (Danish Kaneria) বলেছিলেন, “বর্তমানে পাকিস্তান একটি সন্ত্রাস উৎপাদনকারী দেশ। পহেলগাঁওতে হামলার পর পাকিস্তানের উপর প্রত্যঘাতে অভিনন্দন মোদিকে। জঙ্গি হামলায় যদি পাকিস্তানের হাত না থাকে তাহলে ওই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কেন নিন্দা জানাননি? আপনি সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। আপনার লজ্জা থাকা উচিত।” পাকিস্তানে হিন্দুদের কীভাবে জোর করে ধর্মান্তর করা হয় তা নিয়েও তোপ দেগেছিলেন দানিশ। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ ছিল শহিদ আফ্রিদি নানা ভাবে ইসলাম গ্রহণের জন্য চাপ দিতেন। হিন্দুদেবদেবীদের গালাগালি এবং অবমাননাকর যুক্ত মন্তব্যও করেছিলেন মুসলিম ক্রিকেটাররা।

  • Pakistan: “পাকিস্তান ডুবন্ত টাইটানিক, এই জাহাজে উঠতে রাজি নন কেউ,” বললেন জামিল মাকসুদ

    Pakistan: “পাকিস্তান ডুবন্ত টাইটানিক, এই জাহাজে উঠতে রাজি নন কেউ,” বললেন জামিল মাকসুদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পাকিস্তান (Pakistan) এখন ডুবন্ত টাইটানিক। পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ আর এই ডুবন্ত জাহাজে উঠতে রাজি নন।” কথাগুলি বললেন ইউনাইটেড কাশ্মীর পিপলস ন্যাশনাল পার্টির (UKPNP) বিদেশ বিষয়ক কমিটির সভাপতি জামিল মাকসুদ। তিনি বলেন, “দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চনা মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। এই সব কারণেই পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে হিংসাত্মক বিক্ষোভ হচ্ছে।”

    কী বললেন জামিল মাকসুদ (Pakistan)

    রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬০তম অধিবেশনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এখানে সীমাহীন দুর্নীতি চলছে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, স্বজনপ্রীতি ও যে ধরনের শাসন ব্যবস্থা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটাই আজকের পরিস্থিতির জন্য দায়ী। সাংবিধানিক বিধিনিষেধ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে দিয়েছে। পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর এখন পাকিস্তানে উৎপাদিত ভেজাল ও নকল খাদ্যপণ্যের অন্যতম বড় বাজারে পরিণত হয়েছে।” মাকসুদ বলেন, “এখানকার মানুষ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তরুণ প্রজন্ম এখন রাস্তায় নেমে বলছে আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জম্মু ও কাশ্মীর চাই। আমরা আমাদের স্থানীয় পরিচয়কে পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত, ধ্বংস বা বিলীন হতে দেব না। পাকিস্তান ডুবন্ত টাইটানিক, আর আমরা তাতে চড়তে রাজি নই।”

    সংঘর্ষ অব্যাহত

    প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরে পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। পাক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১০ জন নিহত এবং অনেকেই গুরুতর জখম হয়েছেন। এই অস্থিরতার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ একটি আট সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি মুজাফফরাবাদে পাঠিয়েছেন। এই কমিটিতে রানা সানাউল্লাহ, আহসান ইকবাল এবং পিপিপি নেতা রাজা পারভেজ আশরাফ-সহ অন্যরা রয়েছেন। তাঁরা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিভিল সোসাইটি অ্যালায়েন্সের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।

    ক্রম বর্ধমান দুর্নীতি

    ক্রম বর্ধমান দুর্নীতি, দুর্বল শাসনব্যবস্থা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ঘাটতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া (Pakistan) এই সব বিক্ষোভ সোমবার থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণ হয়েছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত থাকায় বিদেশে থাকা প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জামিল মাকসুদ পাকিস্তানকে একটি দুষ্কৃতিকারী রাষ্ট্র বলে অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, পাকিস্তান এমন একটি রাষ্ট্র যে বারবার স্বদেশের জনগণের ওপর বলপ্রয়োগ করেছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, তারা নিজেদের জনগণ, বিশেষ করে বালুচিস্তান, সিন্ধু এবং আরও অনেক অঞ্চলের মানুষের মৌলিক মানবাধিকার অস্বীকার করছে। তিনি বলেন, “পাকিস্তান একটি দুষ্কৃতিকারী রাষ্ট্র। এর জনগণকে দমন করার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বালুচিস্তান, সিন্ধু, খাইবার পাখতুনখোয়া, গিলগিট-বালটিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে মানুষ ক্রমাগত দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে।”

    হিংসাত্মক বিক্ষোভ

    তিনি বলেন, “এখন হিংসাত্মক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আর পাকিস্তান (Pakistan) এসব শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে জোরপূর্বক দমন করার চেষ্টা করছে।” তিনি জানান, পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ আর পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতে চায় না। তিনি বলেন, “মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে যে তারা আর পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতে রাজি নয়। এই সমস্ত অঞ্চলের মানুষের প্রধান দাবি এবং লক্ষ্যই হল ভেঙে যাওয়ার জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের সঙ্গে পুনর্মিলিত হওয়া। এই ধারণার কারণেই পাকিস্তান বলপ্রয়োগ করে জনগণের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু মানুষ আর চুপ করে থাকতে রাজি নয়।” মকসুদের অভিযোগ, পাকিস্তান পিওজেকের পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা করছে, সেটিকে পাকিস্তানের সংলগ্ন আবোটাবাদ ও মুরির মতো জেলাগুলির সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনার মাধ্যমে। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পিওজেকে এখন জঙ্গি সংগঠনগুলির ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।” তিনি মনে করিয়ে দেন, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি লস্কর-ই-তৈবা রাওয়ালাকোটে হামাসের সদস্যদের প্রকাশ্যে অস্ত্র-সহ শোভাযাত্রা করেছিল। তিনি বলেন, “মানুষকে জোর করে প্রক্সি সন্ত্রাসবাদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের বলির পাঁঠা হতে রাজি নই।”

    প্রতিবাদ পঞ্চম দিনে

    প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের (Pakistan) দখলদারির বিরুদ্ধে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রতিবাদ পঞ্চম দিনে পা দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক অবহেলার বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে, ভর্তুকিযুক্ত আটা, বিদ্যুৎ এবং শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত পরিষদ আসন বাতিল-সহ মৌলিক চাহিদা পূরণের দাবিও জানাচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই অস্থিরতা ১৯৪৭ সাল থেকে পাকিস্তানের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনগণের মধ্যে জমে থাকা হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

  • Pakistan Police: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হিংসার প্রতিবাদ করায় ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের ওপর হামলা পুলিশের, নিন্দার ঝড়

    Pakistan Police: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হিংসার প্রতিবাদ করায় ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের ওপর হামলা পুলিশের, নিন্দার ঝড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় প্রেস ক্লাবে হানা দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাল ইসলামাবাদ পুলিশ (Pakistan Police)। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হিংসার জেরে বন্ধ ইন্টারনেট। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগেও তপ্ত পাকিস্তান। এহেন আবহে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় বিশ্বজুড়ে।

    সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলা (Pakistan Police)

    পাক সংবাদমাধ্যমের খবর, রাজধানী ইসলামাবাদের কেন্দ্রে অবস্থিত এই প্রেস ক্লাবে কাশ্মীরি সাংবাদিকদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে পুলিশ অভিযান চালায়। ওই সাংবাদিকরা আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (JAAC) ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচি কভার করছিলেন। এই জেএএসি-ই শাহবাজ শরিফ সরকারের বিরুদ্ধে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, লাঠি হাতে পুলিশ কর্মীরা প্রেস ক্লাবের ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে প্রবেশ করছে এবং সেখানে বসা লোকজনের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আরও কিছু ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কয়েকজন পুলিশকর্মী কিছু প্রতিবাদকারীকে বাইরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    কী বলছেন সাংবাদিকরা

    আর একটি ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছে, এক সাংবাদিক এক হাতে তাঁর ক্যামেরা ধরে রয়েছেন। আর অন্য হাতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার আঁকড়ে ধরা কলার থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে চলেছেন (Pakistan Police)। এশিয়া ওয়ান টিভি চ্যানেলে কর্মরত সাংবাদিক আনাস মালিক সংবাদপত্রকে জানান, পুলিশ ক্লাবে এসেছিল কাশ্মীর থেকে আসা সেই সাংবাদিকদের গ্রেফতার করতে, যারা জেএএসির প্রতিবাদের ডাক কভার করছিলেন। তিনি বলেন, “পুলিশ কর্মীরা গুণ্ডাদের মতো আচরণ করছিল।”

    আর এক সাংবাদিক হামিদ মির জানান, পুলিশ জেএএসি সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছিল এবং ক্যাফেটেরিয়ায় উপস্থিত সাংবাদিকদের টার্গেটে পরিণত করেছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার এই অভিযান চালানো হয় যখন পাক অধিকৃত থেকে আসা লোকজন প্রেস ক্লাবের বাইরে ওই নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। সাংবাদিকদের ওপর বলপ্রয়োগের নিন্দা করে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে পাকিস্তান হিউম্যান রাইটস কমিশন (এইচআরসিপি)।

    পুলিশি অভিযানের ঘটনায় পাকিস্তান জুড়ে তীব্র নিন্দা শুরু হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন। সরকারের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে নকভি জানান, তিনি এই দুঃখজনক ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন এবং ইসলামাবাদের ইনসপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন (Pakistan Police)।

LinkedIn
Share