Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • ISI: রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশে গড়া হয়েছে ‘ফোর ব্রাদার্স অ্যালায়েন্স’, মদত জোগাচ্ছে আইএসআই!

    ISI: রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশে গড়া হয়েছে ‘ফোর ব্রাদার্স অ্যালায়েন্স’, মদত জোগাচ্ছে আইএসআই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের (Bharat) বিরুদ্ধে নয়া অস্ত্র শানাচ্ছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা (মায়ানমারের মুসলমানরা এই নামেই পরিচিত)-দের নিয়ে তৈরি হয়েছে সংগঠন। আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, ইসলামি মহাজ, আরাকান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (ANDF) এবং আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি জোট বেঁধে গঠন করেছে “ফোর ব্রাদার্স অ্যালায়েন্স” (ISI)। বাংলাদেশের এই ফোর ব্রাদার্স অ্যালায়েন্স ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য নয়া নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    রোহিঙ্গা আর্মি (ISI)

    বাংলাদেশের এই জোট “দ্য রোহিঙ্গা আর্মি” নামেও পরিচিত। কক্সবাজারে তারা তাদের নতুন সংগঠনের কথা ঘোষণা করে। সংগঠন ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিল প্রচুর পরিমাণ শরণার্থী। পৃথকভাবে পরিচালিত এই সংগঠনগুলো আইএসআইয়ের সহায়তায় একাধিক কৌশলগত আলোচনার পর একত্রে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার পরেই গঠিত হয় এই অ্যালায়েন্স (ISI)। আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যান আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনা। তার পর থেকেই বাংলাদেশে বেড়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কার্যকলাপ। বাংলাদেশে রয়েছে মহম্মদ ইউনূসের সরকার। বন্ধুত্বপূর্ণ সরকার ক্ষমতায় থাকায়, আইএসআই সেখানে কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ দেখতে পাচ্ছে। সেই কারণেই আইএসআইয়ের বাড়বাড়ন্ত বাংলাদেশেও। জেহাদি উপাদানগুলি ইতিমধ্যেই এতে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, আইএসআই মনে করেছিল যে, ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই চারটি রোহিঙ্গা গোষ্ঠীকে একজোট করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

    রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ

    আইএসআই (ISI) বুঝতে পেরেছিল, উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে এই গোষ্ঠীটির সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ইতিমধ্যেই (Bharat) সেখানে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এই পরিস্থিতি এই গোষ্ঠীর জন্য লাভজনক হতে পারে তখনই, যখন তারা ওই অঞ্চলে বড় ধরনের কোনও অভিযান পরিচালনা করতে চাইবে। আইএসআই উপলব্ধি করেছিল যে, এই গোষ্ঠীগুলি পৃথকভাবে কাজ করছে। তাদের একজোট করে সম্মিলিতভাবে লড়াই চালানোর ব্যবস্থা করা হলে, তারা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে—এমনটাই মনে করেছিল আইএসআই। পাকিস্তানের এই গোয়েন্দা সংস্থা এই “ফোর ব্রাদার্স অ্যালায়েন্স” গঠনের মিশনে সফল হয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    বাংলাদেশ-আইএসআই যোগ!

    তবে এই উদ্যোগে একা আইএসআই নেই। বাংলাদেশের সরকারের একাংশের ভেতরের কিছু লোকও আইএসআইকে এই জোট গঠনে সাহায্য করেছিল। বাংলাদেশিরাও যখন এই গোষ্ঠী গঠনে সমর্থন জুগিয়েছে, তখন তার ইঙ্গিতের অভিমুখ যে ভারত, অন্য কোনও অঞ্চল নয়, তা স্পষ্ট। গত ২৫ ডিসেম্বর কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে জোটটা মায়ানমারে ফের এলাকা দখলের চেষ্টা করবে। তাদের লক্ষ্য হল, আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই করা। এই আরাকান আর্মি একটি জাতিগত গোষ্ঠী। এরাই হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে (ISI)। বাংলাদেশের ডিজিএফআই এবং বিশেষ করে আরএসওকে উল্লেখযোগ্য সহায়তাও দিয়েছে।

    লস্কর-ই-তৈবা

    আরএসওকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এআরএসএ-র মোকাবিলা করার কৌশল হিসেবে। তবে, আইএসআই এই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করায়, এসব গোষ্ঠী তাদের পারস্পরিক বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইএসআই নিয়মিতভাবে লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Tayiba) এবং জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের (JMB) প্রশিক্ষকদের পাঠিয়ে রোহিঙ্গা গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে (Bharat)। কয়েক বছর আগে যখন রোহিঙ্গা সঙ্কট ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল, তখন লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সঈদ প্রকাশ্যে তাদের প্রতি সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি তাদের দলে যোগ দিয়ে লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানান। ইউনূস সরকার পাকিস্তানিদের বাংলাদেশে স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত আগ্রহী। বাংলাদেশের শীর্ষ কর্তাদের আইএসআই (ISI) কর্তাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকই বহন করে আসন্ন ঘটনার ইঙ্গিত।

    বাংলাদেশ ক্রমেই এগোচ্ছে তালিবানের পথে!

    বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশ ক্রমেই তালিবানের পথে এগোচ্ছে। এটিও আরও একটি দমনমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বাংলাদেশের নারীদের দশা হবে আফগানিস্তানের নারীদের মতোই। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের “আমার বাংলা বই” সংস্করণে একটি অধ্যায় ছিল যেখানে ছেলে ও মেয়েরা একসঙ্গে গৃহস্থালির কাজ ভাগ করে নেবে বলে লেখা হয়েছিল। ২০২৫ সালের সংস্করণে এই সব কাজ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে নারীদের ওপর। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই চরমপন্থী ইসলামের উত্থানের কারণে হারতে থাকা এক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এখন এটি আর একটি বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। সেটা হল রোহিঙ্গা সমস্যা। ইউনূস ও তার অনুগামীদের একমাত্র লক্ষ্য হল ভারতকে ধ্বংস করা। এই কারণেই তারা আমন্ত্রণ জানিয়েছে আইএসআইকে। সন্ত্রাস দমন সংস্থাগুলির বক্তব্য, আগামিদিনে বাংলাদেশকে শুধুমাত্র ইসলামি জঙ্গিদের সঙ্গেই (ISI) লড়াই করতে হবে না, তাদের মোকাবিলা করতে হবে রোহিঙ্গাদের (Bharat) সঙ্গেও।

  • Mahakumbh 2025: মহাকাশ থেকে কতটা উজ্জ্বল রাতের মহাকুম্ভ? আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন পাঠাল ছবি

    Mahakumbh 2025: মহাকাশ থেকে কতটা উজ্জ্বল রাতের মহাকুম্ভ? আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন পাঠাল ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকুম্ভের (Mahakumbh 2025) কারণে কোটি কোটি মানুষের সমাগম চলছে প্রয়াগরাজে। মহাকুম্ভ পরিণত হওয়ার ফলে এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের বৃহত্তম ইভেন্টে পরিণত হয়েছে মহাকুম্ভ। মহাকাশ (Mahakumbh 2025) থেকে কেমন লাগছে প্রয়াগরাজকে? সেই ছবিই প্রকাশ করল নাসা (NASA)। দুনিয়াজুড়ে ইতিমধ্যেই সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (International Space Station) থেকে নাসার মহাকাশচারী ডন পেটিট মহাকুম্ভের একটি ছবি শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘রাতের আইএসএস থেকে মহাকুম্ভের ছবি। সত্যিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানুষের জমায়েত।’’

     

    বিভিন্ন মত উঠে এসেছে (Mahakumbh 2025)

    এমন ছবি দেখার পর স্বাভাবিকভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়। নানা মন্তব্য ভেসে এসেছে, এক ব্যবহারকারী লিখছেন, মনে হচ্ছে মহাকাশে বড় কোনও তারার বিস্ফোরণ ঘটেছে। কেউ আবার এত আলো দেখে মুগ্ধ হয়ে এটিকে কোনও গ্যালাক্সির সঙ্গে তুলনা করছেন। প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগেই মহাকুম্ভের (Mahakumbh 2025) একাধিক উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করা হয়েছিল ইসরোর তরফ থেকে। হায়দরাবাদের ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টারও পরপর ছবি নিয়েছে এই মহাকুম্ভ মেলার। সেই ছবিতেই ফুটে উঠেছে মেলার একাধিক তাঁবু, পার্কিং লট এবং অন্য একাধিক প্রস্তুতির ছবি। এবার ছবি এল নাসার আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন (International Space Station) থেকে।

     

    ৪ হাজার হেক্টর জমির ওপর আয়োজন করা হয়েছে মহাকুম্ভ (Mahakumbh 2025)

    প্রসঙ্গত, ১২টা পূর্ণ কুম্ভে হয় একটা মহাকুম্ভ (Mahakumbh 2025)। ১৪৪ বছর পর মহাযোগ। ৪৫ দিনের এই মেলায় ৪০ কোটি বা তার বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলেই অনুমান করা হয়েছে প্রশাসনেরক তরফ থেকে। এখনও পর্যন্ত হিসেব করে দেখা গিয়েছে, কুম্ভমেলা থেকে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের লাভ হতে পারে অন্তত ২ লক্ষ কোটি টাকা! এই সংখ্যাটা ৪ লক্ষ কোটিও হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ৪ হাজার হেক্টর জমির ওপর আয়োজন করা হয়েছে মহাকুম্ভ। শুরু হয়েছে ১৩ জানুয়ারি থেকে চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ৪৫ দিনের এই মেলার জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকারের বাজেট ৭ হাজার কোটি টাকা।

  • Bangladesh: ছাত্র আন্দোলনে ফের অশান্ত ঢাকা, বাতিল পরীক্ষা, ব্যাপক ক্ষোভ ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে

    Bangladesh: ছাত্র আন্দোলনে ফের অশান্ত ঢাকা, বাতিল পরীক্ষা, ব্যাপক ক্ষোভ ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দফায় দফায় ছাত্র সংঘর্ষের (Student Clash) জেরে অস্থির বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজধানী ঢাকার জনজীবন। ইউনূস সরকারকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। সোমবার সকালেই আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য মামুন আহমেদের পদত্যাগ সহ ৬ দাবি পূরণ করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে, আন্দোলন তীব্র হবে বলে জানিয়েছেন পড়ুয়ারা। এমন আন্দোলনের জেরে ফের একবার গত বছরের জুলাই-অগাস্টের ছায়া দেখা যাচ্ছে।

    বাতিল পরীক্ষা (Bangladesh)

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রবিবার রাতেই কলেজ ছাত্রদের ক্যাম্পাস ছাড়া করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা একে একে হস্টেল থেকে বেরিয়ে এসে ধাওয়া করে। এরপরেই দু-পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। রাত তিনটে পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। ঢাকার সাতটি কলেজের পড়ুয়াদের ডাকা হরতালের জেরে বিস্তীর্ণ এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন ব্যহত হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও সেনার যৌথ বাহিনী। পড়ুয়াদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। তবে সোমবার ক্যাম্পাস অন্যদিনের তুলনায় ফাঁকা। ব্যাপক অশান্তির আশঙ্কায় ঢাকার রাস্তায় যানবাহন তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। অবস্থা এতটাই খারাপ যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Bangladesh) সোমবারের সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এই আবহে রবিবার রাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ঘটনাস্থলে যান, তবে তীব্র ক্ষোভের মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

    ঘটনার সূত্রপাত কী নিয়ে (Bangladesh)

    জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে। ঢাকার সাতটি কলেজ বহু বছর ধরেই স্বশাসন দাবি করছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজের শিক্ষার মান প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। ঠিক এই আবহে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় সাতটি কলেজের কয়েকশো পড়ুয়া পাঁচ দফা দাবি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য মামুন আহমেদের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান। অভিযোগ সেসময় মামুন দুর্ব্যবহার করেন। এরপরেই ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যায় ছাত্রদের মধ্যে। এরপরই সোমবার সকালে ৭টি কলেজের পড়ুয়ারা সাংবাদিক বৈঠক করেন। তাঁরা জানিয়ে দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ইস্তফা দিতে হবে। একইসঙ্গে গতকালের হামলার জন্য নিউমার্কেট থানা এলাকার ওসি, এসি সহ আধিকারিকদের কাজ থেকে বরখাস্ত করার দাবিও জানান তাঁরা।

  • Bangladesh Crisis: বাংলাদেশকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করল আমেরিকা, ট্রাম্পের নির্দেশে বিপাকে ইউনূস

    Bangladesh Crisis: বাংলাদেশকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করল আমেরিকা, ট্রাম্পের নির্দেশে বিপাকে ইউনূস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরতেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ইউনূসের বাংলাদেশ। গতকালই একটি তালিকা প্রকাশ করে বিশ্বের একাধিক দেশে যে ত্রাণ পাঠিয়ে থাকে আমেরিকা, তা বন্ধের ঘোষণা করে দিয়েছিলেন সদ্য় নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সেই তালিকায় নাম বাংলাদেশেরও। আমেরিকার থেকে আগামী ৯০ দিনের জন্য আর কোনও রকম সাহায্য পাবে না ইউনূসের সরকার। ফলে আমেরিকার টাকায় যেসব কাজ বাংলাদেশে চলছিল তা বন্ধ হতে বসেছে।

     

    সাহায্য বন্ধ কোন কোন খাতে

    মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির (USAID) অর্থায়নে বাংলাদেশে সব প্রকল্প ও কর্মসূচির ব্যয় অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউএসএআইডির বাংলাদেশ কার্যালয়ের পরিচালক রিচার্ড বিষয় অ্যারন গত শনিবার সংস্থাটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ সব স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠনের জন্য এ নির্দেশনামা জারি করে চিঠি দেন। এতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংস্থাটির সঙ্গে চুক্তির আওতাধীন সকল প্রকল্প ও কর্মসূচির মার্কিন অংশের ব্যয় বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশে পরিবেশ, শিক্ষা, কৃষকদের জন্য রোজগারে বিপুল অর্থসাহায্য করে আমেরিকা। পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রাখার জন্য টাকা দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এবার থেকে সেই সুবিধা আর পাবেন না মহম্মদ ইউনূসের সরকার।

     

    টালমাটাল বাংলাদেশ

    ইতিমধ্যেই ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশে তাদের সমস্ত কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। যার হাত ধরে আপাতত আর্থিক অনুদান ও ত্রাণবিলি ছাড়াও বাংলাদেশে আমেরিকার উন্নয়নমূলক সকল কাজে বাধ পড়ে গেল বলে মত বিশেষজ্ঞদের। জানা গিয়েছে, গত বছর পালাবদলের পর দেশের টালমাটাল পরিস্থিতিকে সামাল দিতে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলির কাছে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের আবেদন করেছিল ইউনূসের সরকার। যার মধ্যে ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের থেকে নিয়েছিল তারা। যা বাংলাদেশকে চারটি কিস্তিতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আইএমএফ। কিন্তু, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্ট বলছে, এখনও পর্যন্ত আইএমএফ-এর চতুর্থ ও শেষ কিস্তির টাকা পায়নি ইউনূস সরকার। তার মধ্যে আবার হাত তুলে নিল আমেরিকা।

     

    আমেরিকা-বাংলাদেশ সম্পর্কে টান

    গত বছর, বাংলাদেশ- আমেরিকার সম্পর্কের ৫০ বছর উপলক্ষে মার্কিন দূতাবাস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিগত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আরও অনেক কিছু মোকাবিলায় ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ‘ফরেইন অ্যাসিস্ট্যান্স ডট গভ’ ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্নভাবে বাংলাদেশে ২০২১ সালে ৫০০ মিলিয়ন ডলার, ২০২২ সালে ৪৭০ মিলিয়ন ডলার, ২০২৩ সালের ৪৯০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪ সালে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে নানাভাবে সহায়তা দিয়েছে দেশটি। রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটন বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। বিগত কয়েক বছরে মার্কিন সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যেই ছিল বাংলাদেশ। প্রসঙ্গত, ওই সাহায্য বন্ধ হওয়ার পর এবার স্বাভাবিকভাবেই বিপাকে পড়বে বাংলাদেশ।

     

    ট্রাম্প সরকার আসতেই চাপে ঢাকা

    অতীতে বাইডেনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহায্যের জন্য কথা বলেছিল মহম্মদ ইউনূসের সরকার। মনে করা হচ্ছিল, মার্কিন নির্বাচনে জিতেই বাংলাদেশ সফরে আসবেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেডিডেন্ট জো বাইডেন। যদিও নির্বাচনে উল্টে ফল হতেই আশঙ্কা বাড়ছিল বাংলাদেশে। কারণ, মার্কিন নির্বাচনের প্রচারে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর আক্রমণ নিয়ে সরব হয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার ক্ষমতায় এসেই বাংলাদেশে সব ধরনের আর্থিক সাহায্য় বন্ধ করলেন তিনি। এর আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে বসেই ইউক্রেন (Ukraine) ছাড়াও অনেক দেশে আর্থিক সাহায্য় বন্ধ করে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন , আগামী ৯০ দিন কোনও দেশকে আর্থিক সাহায্য় দেবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকা থেকে বিদেশে যে আর্থিক সাহায্য যাচ্ছে, তা তাঁর নীতি অনুসারে হচ্ছে কি না তা আগে দেখে নেবেন তিনি। একবার ছাড়পত্র পেলে তবেই ছাড়া হবে ফান্ড।

  • Bangladesh: সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গে, জানালেন ইউনূস সরকারের রাষ্ট্রদূত

    Bangladesh: সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গে, জানালেন ইউনূস সরকারের রাষ্ট্রদূত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে ইউনূস জমানার বাংলাদেশের (Bangladesh)। দুই দেশের মধ্যে এবার সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হতে চলেছে, গতকাল শনিবার এরকমই ঘোষণা করেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার (রাষ্ট্রদূত) মহম্মদ ইকবাল হোসেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে সরাসরি কোনও বিমান যোগাযোগ নেই। এমন সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হলে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশের এক উচ্চ পদস্থ সেনা আধিকারিক পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। আলাদা করে সেখানে পাক সেনাপ্রধানের সঙ্গে দেখাও করেন তিনি। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। ঠিক এই আবহে সরাসরি বিমান পরিষেবার কথা ঘোষণা করলেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

    কবে থেকে সরাসরি বিমান উড়বে, সে বিষয়ে কিছু খোলসা করেননি

    তবে বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে পাকিস্তানের (Pakistan) উদ্দেশে সরাসরি বিমান কবে উড়বে, তা অবশ্য জানায়নি বাংলাদেশ দূতাবাস। এই ধরনের বিমান পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। ইকবাল জানিয়েছেন, সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হলে শুধু যোগাযোগ বা যাতায়াতের ক্ষেত্রে নয়, পর্যটন, শিক্ষা এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও লাভবান হবে ঢাকা এবং ইসলামাবাদ।

    বিনিয়োগের আদর্শ জায়গা পাকিস্তান!

    একই সঙ্গে পাকিস্তানে (Pakistan) প্রচুর বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশের (Bangladesh) রাষ্ট্রদূত। বিনিয়োগের স্থান হিসেবে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, পাকিস্তানের ওই প্রদেশে স্বাস্থ্য এবং বৃহৎ শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশে উৎপন্ন পণ্যের চাহিদাও পাকিস্তানে অনেক বেশি বলে জানান তিনি। সবশেষে পাকিস্তানের বায়ুসেনার ভূয়সী প্রশংসা করতেও শোনা যায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে। গত বছরের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে বাংলাদেশে। দেশ ছাড়তে বাধ্য হন হাসিনা। বর্তমানে তিনি ভারতেই রয়েছেন।হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে ইউনূস সরকার ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

  • Israeli: আরও চার ইজরায়েলি মহিলা সেনাকর্মীকে মুক্ত করল হামাস, উচ্ছ্বসিত আত্মীয়রা

    Israeli: আরও চার ইজরায়েলি মহিলা সেনাকর্মীকে মুক্ত করল হামাস, উচ্ছ্বসিত আত্মীয়রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গাজায় ১৫ মাস হামাসের (Hamas) কাছে বন্দি থাকার পর দ্বিতীয় ধাপে আরও চারজন ইজরায়েলি (Israeli) মহিলা সেনাকর্মীকে মুক্ত করল। ইজরায়েল-হামাসের বন্দি বিনিময় চুক্তির ফলে বন্দি দশা থেকে মুক্তি পেয়েই পরিবারের আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্তে মিলনের ছবি ধরা পড়ল এদিন। মুক্তির পর মহিলাদের রাবিন মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁদের। বর্তমানে তাঁদের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল এবং জঙ্গিসংগঠন হামাসের যুদ্ধের অবসানকে বড় ঘটনা বলে মনে করছেন।

    বাবা-মাকে খুশিতে চিৎকার করে হাসতে দেখা গিয়েছে

    ইজরায়েল (Israeli) ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) দ্বারা প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে মহিলা সেনাকর্মীরা তাঁদের পরিবারগুলির সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন। ফিরে আসার আনন্দ, উল্লাস এবং করতালি দিয়ে সকলকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে মুক্তি পাওয়া সেনাকর্মীরা হলেন, লিরি আলবাগ, ড্যানিয়েলা গিলবোয়া, করিনা আরিয়েভ এবং নামা লেভি। তাঁদের খুব আবেগ প্রবণ হতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে লিরি এবং তাঁর বাবা-মাকে খুশিতে চিৎকার করে হাসতে দেখা গিয়েছে। এরপর তাঁদের হ্যালিকপ্টারে করে রাবিন মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ড্যানিয়েলা গিলবোয়ার ১৫ বছরের বোন বলেন, “আমরা আশাবাদী ছিলাম যে আমাদের পরিবারের সদস্যরা হামাসের (Hamas) হাত থেকে ঠিক ফিরে আসবেন।”

    পাল্টা ২০০ প্যালেস্তিনীয় মুক্ত

    এদিকে ইজরায়েলের পক্ষ থেকে ২০০ প্যালেস্তিনীয় নাগরিককে বন্দি দশা থেকে মুক্তি দিয়েছে। ইজরায়েল (Israeli) এবং হামাসের (Hamas) মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে এই বন্দি বিনিময়ের প্রথম ধাপে ৩ ইজরায়েল বন্দির মুক্তির বিনিময়ে ৯৩ প্যালেস্তিনীয়কে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

  • Attorney Karan Joshi: নতুন দিল্লি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী অ্যাটর্নি করণ জোশী, সাফল্যের চাবিকাঠি কী জানেন?

    Attorney Karan Joshi: নতুন দিল্লি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী অ্যাটর্নি করণ জোশী, সাফল্যের চাবিকাঠি কী জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অ্যাটর্নি করণ জোশী (Attorney Karan joshi) হলেন ভারতের নতুন দিল্লির (New Delhi) একজন সফল অভিবাসী। জীবনের চরম সাফল্যের পথ কতটা মসৃণ ছিল জানেন? তাঁর সাফল্য এখন লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনের অনুপ্রেরণা। তাঁর অধ্যাবসায়, উচ্চাকাঙ্খা এবং কঠোর পরিশ্রম দারুণ ভাবে প্রভাবিত করছে ভারতীয়দের। নিজের দেশ থেকে মার্কিন মুলুকে গিয়ে সেখানকার নানা কঠিন প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে সংঘর্ষ করে আজ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই বর্তমানে সফলতার আর এক নাম অ্যাটর্নি করণ জোশী। বর্তমানে তিনি অরেঞ্জ ল-ইউএসএ-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। এনআরআই ভারতীয় নাগরিক এবং মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার মধ্যে ব্যবধান দূর করার কাজকে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এই যুবক এখন ভারতীয় সমাজের কাছে আইডিয়াল। দেশের গণ্ডি পার করে কীভাবে বিদেশের মাটিতে গিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে হয়, সেই পথ দেখালেন তিনি। তিনি এখন সংবাদ মাধ্যমে বহুল চর্চিত এক ব্যক্তিত্ব।

    প্রথম জীবন (Attorney Karan joshi)

    করণ জোশী শৈশবে পড়াশোনা করেছেন নতুন দিল্লির (New Delhi) বারাখাম্বা রোডের মর্ডান স্কুলে। তাঁর পরিবার ছিল উচ্চ-মধ্যবিত্ত। তাঁর আশপাশের লোকজনের গতানুগতিক কেরিয়ার গঠনের বাইরে খুব একটা নজর ছিল না। তাই স্কুল জীবন শেষ করে অভিবাসী জীবনের দিকে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। একদিকে ভিন্ন দেশে ভাষার প্রতিবন্ধকতা, সাংস্কৃতিক পার্থক্য এবং সম্পূর্ণ একটি নতুন দেশে সবদিক থেকে মানিয়ে নেওয়া খুব কষ্টসাধ্য ছিল। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইমে চাকরিও করতে শুরু করেছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে পরিবর্তনশীল পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেন। একদিকে নতুন সংস্কৃতিকে গ্রহণ এবং নিজের পুরাতন সংস্কৃতিকে নিজের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখা তাও খুব কঠিন কাজ ছিল। তবুও নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন তিনি।

    আইনি জগতে বিশেষ স্বীকৃতি

    করণ জোশী (Attorney Karan joshi) তাঁর আইনি শিক্ষা শেষ করে চাকিরি জীবনে প্রবেশ করেন। প্রথমে ছোট একটি আইনি সহযোগিতার সংস্থায় কাজ করতেন। এরপর সমস্যা এবং সমস্যা সমাধানের জন্য নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরে কারিগরি এবং স্টার্টআপ জগতে কাজের দক্ষতা অর্জন করেন। ধীরে ধীরে ওই দেশের একাধিক শীর্ষ কোম্পানিতে নিজের দক্ষতায় আইন বিশেষজ্ঞরূপে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে করণ হিউস্টন, টেক্সাস, অরেঞ্জ ল-এর বাইরে ক্রমবর্ধমান আইন সংস্থার মালিক এবং পরিচালনার কাজও করেছেন। আইন জাগতে একজন সফল ব্যক্তি হয়েও সব সময় নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা শোনাতেন নবীন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের। উৎসাহও দিতেন। নানা রকমের ইভেন্ট এবং সেমিনারে অংশগ্রহণ করে কীভাবে ভালো কেরিয়ার গড়া যায় সেই দিকে পথনির্দেশিকা দিয়ে থাকেন তিনি। সব সময় ঝুঁকি নেওয়া এবং আত্মবিশ্বাসের কথা বলে অনুপ্রেরণা দেওয়ার কাজও করেন তিনি।

    বর্তমান প্রজন্মের কাছে আদর্শ

    করণ জোশী (Attorney Karan joshi) মনে প্রাণে বিশ্বাস রাখতেন যে ভারতীয়রা (New Delhi) পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে গিয়ে নিজের প্রতিভা, শ্রম, নিষ্ঠা এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ করতে পিছপা হয় না। তাঁরা সব রকমের স্বপ্ন পূরণ করতে সব কাজ করতে জান লড়িয়ে দেন। করণ নিজেও একজন অভিবাসী হয়ে সবরকম ভাবে নিজেকে আজ প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি বর্তমান প্রজন্মের কাছে আদর্শ। দেশের বাইরে আজ ভারতীয়রা নানা ভাবে নেতৃত্ব দানের কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হলেন করণ। শুধু আমেরিকায়ই নয়, আজ ইংল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, কানাডা, জাপান এবং মধ্য প্রাচ্যেও ভারতীয়দের ব্যবসা, শিল্প, কারিগরি, প্রযুক্তি, বিনিয়োগে ভারতীয় বা ভারতীয় বংশোদ্ভূতরাই নেতৃত্ব দিতে শুরু করেছেন। ফলে অভিজ্ঞমহলের মত ২০৩০ সালের মধ্যে গোটা বিশ্বে ভারতের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Whatsapp, Facebook, Twitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • 26/11 Convict: ‘‘ভারতের বড় জয়’’, ২৬/১১ হামলার অন্যতম চক্রী তাহাউরকে প্রত্যর্পণে সায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের

    26/11 Convict: ‘‘ভারতের বড় জয়’’, ২৬/১১ হামলার অন্যতম চক্রী তাহাউরকে প্রত্যর্পণে সায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাস দমনে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বড় জয় ভারতের। ২৬/১১ মুম্বই হামলায় (26/11 Convict) অভিযুক্ত তাহা‌উর রানাকে (Tahawwur Rana) ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার অনুমতি দিল আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। ফলে তাঁকে ভারতে ফেরাতে আর কোনও বাধা রইল না।  ২০০৮ সালে মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলায় তাঁর যোগ পেয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তাহাউর রানাকে প্রত্যর্পণের চেষ্টা চালাচ্ছিল ভারত। আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম  এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর কথায় সন্ত্রাসবাদ রুখতে এটা ভারতের বড় জয়।

    আইনি লড়াইয়ে জয় ভারতের

    আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টই ছিল তহাউর রানার শেষ ভরসা। এর আগে একাধিক নিম্ন আদালতে আইনি লড়াই হেরে যান তিনি। সান ফ্রান্সিসকোতে নর্থ সার্কিট আমেরিকান কোর্ট অফ আপিলেও হেরে গিয়ে শেষ পর্যন্ত মার্কিন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুম্বই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত তাহাউর। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাঁকে এ দেশে প্রত্যর্পণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। প্রথমে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তা বিলম্বিত হচ্ছিল। প্রথমে নিম্ন আদালতে, তার পরে ওয়াশিংটনের প্রাদেশিক আদালতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আবেদন করেন রানা। কোথাও সুরাহা হয়নি। সান ফ্রান্সিসকোর আপিল আদালতেও প্রত্যর্পণের পক্ষেই রায় গিয়েছে। এ বার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টও রানাকে প্রত্যর্পণের অনুমতি দিল। ১৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাহাউর রানা। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দিনই তাহাউর রানার রিট পিটিশন খারিজ করে দেয় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।

    প্রত্যর্পণের পথ প্রশস্ত

    মুম্বই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত ডেভিড কোলম্যান হেডলির সঙ্গী রানাকে পাওয়ার জন্য প্রায় দেড় দশক আগে ওয়াশিংটনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু তাতে সায় মেলেনি। বরং পরবর্তীকালে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে যান। যদিও ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর পাকিস্তান থেকে আগত ১০ লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গির মুম্বইয়ে হামলার পরিকল্পনায় রানা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ছিল ভারতের। পরবর্তী সময়ে দ্বিপাক্ষিক বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে আবার রানাকে আমেরিকার থেকে ফেরত চায় ভারত। তার পরে ২০২০ সালের জুন মাসে মুম্বই নাশকতার ঘটনাতেই ফের রানাকে গ্রেফতার করে আমেরিকার পুলিশ। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে রানার তরফে জামিনের আবেদন জানানো হলেও বছর দেড়েক আগে তা খারিজ হয়ে গিয়েছিল। ফলে তাঁর প্রত্যর্পণের পথ প্রশস্ত হয়।

    দোষী সাব্যস্ত তাহাউর

    ইতিমধ্যেই আমেরিকার ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট তাহাউরকে দু’টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। প্রথমত, বিদেশি জঙ্গি সংগঠনকে মদত। দ্বিতীয়ত, ডেনমার্কে একটি সন্ত্রাস হামলার ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকা। তবে, ভারতে হামলার ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্যের যে অভিযোগ উঠেছিল, তাতে তাহাউরকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। প্রথম দু’টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সাত বছর জেল খাটেন তাহাউর। তাঁকে মুক্তি দেওয়ার কথাবার্তা শুরু হতেই প্রত্যর্পণের আর্জি জানায় ভারত। নয়াদিল্লির যুক্তি ছিল, মুম্বই সন্ত্রাস হানায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ভারতের মাটিতে তাঁর বিচার হওয়া প্রয়োজন। ভারতের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে প্রথমে এক্সট্রাডিশন কোর্ট, তার পর সেখান থেকে ধাক্কা খেয়ে মার্কিন আপিল আদালতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানেও ধোপে টেকেনি তাঁর দাবি। ফলে সুপ্রিম কোর্টই একমাত্র রাস্তা ছিল তাঁর হাতে। এ বার বন্ধ হল সমস্ত রাস্তা। 

    আরও পড়ুন: ১৭৯টি সম্প্রদায়কে এসসি, এসটি এবং ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ নীতি আয়োগের

    ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

    ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বই হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ছ’জন মার্কিন নাগরিকও। ওই হামলায় যোগ পাওয়া গিয়েছে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক রানার। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন ৬৪ বছর বয়সি রানা। জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের কাছে রানার আবেদন খারিজ করে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিল মার্কিন সরকারও। মার্কিন সলিসিটর জেনারেল এলিজাবেথ বি প্রিলোগার আগেই জানিয়েছিলেন যে, এই মামলায় প্রত্যর্পণ থেকে অব্যাহতি পাবেন না রানা। এবার শীঘ্রই তাঁকে ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম বলেন, ‘‘এটি ভারতের জন্য একটি বড় জয়। তাহাউর রানা হলেন সেই ব্যক্তি যিনি মুম্বই হামলার পিছনে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অনেক তথ্য জানেন।’’

    ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার মসনদে দ্বিতীয়বার বসার পরই ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত তাহাউর রানাকে ভারতের হাতে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ভারত-মার্কিন বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এটা ভারতের অন্যতম বড় জয় বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

     

  • US Citizenship: নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক, স্থগিতাদেশ মার্কিন আদালতের

    US Citizenship: নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক, স্থগিতাদেশ মার্কিন আদালতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভের জন্য যে সময় বেঁধে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধ করার ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত স্থগিত করল আমেরিকার প্রাদেশিক আদালত। ওয়াশিংটন প্রদেশের সিয়াটেলের আদালতের বিচারক ট্রাম্পের ওই নির্দেশ কার্যকরের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। 

    কী বলল আদালত

    প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার পরেই ট্রাম্প আদেশ দিয়েছিলেন অভিবাসীদের সন্তানরা জন্মসূত্রে আর আমেরিকার নাগরিকত্ব পাবে না। রিপাবলিকান নেতার এই আদেশনামা প্রকাশিত হওয়ার পরেই এহেন নির্দেশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে ২২টি মার্কিন প্রদেশ। আদেশনামার কড়া বিরোধিতা করে মামলা দায়ের করেছে কলম্বিয়া, সান ফ্রান্সিসকোর মতো প্রদেশগুলি। ট্রাম্পের নির্দেশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বস্টন, সিয়াটল, ম্যাসাচুসেটস ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের আদালতে। বৃহস্পতিবার এই মামলা নিয়ে শুনানি ছিল সিয়াটল আদালতে বিচারক জন কোহেনরের এজলাসে। শুনানি শেষে বিচারক জানিয়ে দেন, ট্রাম্পের নির্দেশে সংবিধানের আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে। 

    ট্রাম্পের নির্দেশ নামা

    আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ, এখন থেকে আমেরিকায় জন্মালেই সেখানকার নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে না। শিশুর বাবা এবং মা উভয়েই যদি আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা (পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট) হন, তবে শিশুও জন্মানোর পরেই সে দেশের নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে। কিন্তু বাবা অথবা মায়ের মধ্যে যে কোনও এক জনের যদি নাগরিকত্ব না-থাকে, সে ক্ষেত্রে সদ্যোজাতকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির পর আমেরিকায় এই নির্দেশ কার্যকর করার কথা জানান ট্রাম্প।

    এতদিন কী ছিল

    আমেরিকায় এত দিন যে নিয়ম প্রচলিত ছিল, তাতে বাবা অথবা মায়ের পরিচয় না-দেখেই আমেরিকায় ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানকে জন্মগত ভাবে সে দেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হত। এর পর ওই শিশুর বয়স যখন ২১ বছর পূর্ণ হয়, তখন বাবা-মায়েরও আমেরিকায় পাকাপাকি ভাবে থাকার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যায়। এই সুযোগটি বন্ধ করতে চান ট্রাম্প। ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকে আমেরিকায় ভারতীয় দম্পতিরা উদ্বেগে। ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিজার চেয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে আবেদনও করছেন অনেক অন্তঃসত্ত্বা। সময়ের আগেই সন্তান ভূমিষ্ঠ করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর।

    ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি

    উল্লেখ্য, বিগত প্রায় ১৫০ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া শিশুরা ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব’ পেয়ে আসছেন। তবে সেই অধিকারকে বাতিল করে নির্বাহী নির্দেশিকায় সই করেন ট্রাম্প। এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে। এই আবহে বিচারক ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘স্পষ্টতই অসাংবিধানিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। ১৮৬৮ সালে আমেরিকার সংবিধানে ১৪তম সংশোধনী যোগ করা হয়। সেখানে বলা হয়, আমেরিকায় জন্মালেই সেখানকার নাগরিকত্ব মিলবে। ১৯৫২ সালের অভিবাসন এবং জাতীয়তা আইনেও একই কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্পের নির্দেশ এই আইন এবং সংবিধানের বিরোধী, আদালতে সওয়াল করেছেন বিরোধী পক্ষের আইনজীবীরা। আমেরিকার ডেমোক্র্যাট প্রদেশগুলির বক্তব্য, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত যে নির্দেশ ট্রাম্প দিয়েছেন, তা যদি কার্যকর করা হয়, তবে দেড় লক্ষের বেশি সদ্যোজাত আমেরিকার নাগরিক হওয়ার ‘সাংবিধানিক’ অধিকার হারাবে।

    আরও পড়ুন: আমেরিকার ভিসা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, ওয়াশিংটনে ক্ষোভ জয়শঙ্করের

    প্রবাসী ভারতীয়দের উপর প্রভাব

    ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী, মার্কিন মুলুকে যদি অবৈধ অভিবাসীর সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে সেই শিশুরা আর মার্কিন নাগরিক হবেন না। এদিকে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা-মা যদি বৈধভাবেই আমেরিকায় গিয়ে থাকেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে কোনও একজন সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা নন, তাহলেও সেই শিশু মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না। এছাড়া কেউ যদি স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক ভিসা বা টুরিস্ট ভিসায় আমেরিকায় গিয়ে সন্তানের জন্ম দেন, তাহলেও সেই শিশু আর মার্কিন নাগরিক হবে না। এদিকে নয়া নিয়মে যে সব ভারতীদের সন্তান ১০০+ গ্রিন কার্ড ওয়েটিং লিস্টে আছে, তারা মার্কিন নাগরিক হতে পারবে না।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকায় মেক্সিকান বংশোদ্ভূতরা সর্বোচ্চ সংখ্যায় নাগরিকত্ব পেয়েছেন। আর এখন এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা। গত ২০২২ সালে আমেরিকায় ৬৫ হাজার ৯৬০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। আর ২০২৩ সালের হিসেবে ভারতে জন্ম নেওয়া মোট ২ কোটি ৮ লাখ ৩১ হাজার ৩৩০ জন মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন এখনও পর্যন্ত। রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের প্রায় ৪২ শতাংশ বর্তমানে মার্কিন নাগরিক হওয়ার জন্য অযোগ্য।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

  • S Jaishankar: ‘‘মোদির বিশেষ দূত’’, ট্রাম্পের শপথ গ্রহণে প্রথম সারিতে বসা নিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত জবাব জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ‘‘মোদির বিশেষ দূত’’, ট্রাম্পের শপথ গ্রহণে প্রথম সারিতে বসা নিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত জবাব জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধুর সম্পর্কের কথা সবাই জানে। সেই সম্পর্কের রসায়ণ ধরেই ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে বসেছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সুকৌশলী অভিমত জয়শঙ্করের। তাঁর মতে, প্রথম ট্রাম্প সরকার যেভাবে ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল, সেই ভিত থেকেই আবারও তৈরি হবে ইন্দো-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। তিনি বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদির বিশেষ দূতের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই ভালো আচরণ করা হয়।’’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হয়ে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর (S Jaishankar)। ওয়াশিংটন সফর এবং পরবর্তীকালে ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের বিস্তারিত এদিন বর্ণনা করেছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “যদি আমি আমার সামগ্রিক অনুভূতি তুলে ধরি তাহলে বলব, এটা খুবই স্পষ্ট ছিল যে ট্রাম্প প্রশাসন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতকে উপস্থিত রাখতে আগ্রহী ছিল। তারা স্পষ্টতই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বৈঠকগুলিতে এটাও স্পষ্ট ছিল যে তারা সম্পর্কের ভিত গড়ে তুলতে চায়, এমন একটি ভিত যা তৈরিতে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনও অনেক অবদান রেখেছিল।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘তৃতীয়ত, আমার দৃঢ় ধারণা যে নতুন ট্রাম্প প্রশাসনও আমাদের মতোই কোয়াডকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং এর কার্যক্রম তীব্র করতে আগ্রহী।” 

    এমনিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে এশিয়ায় মহাদেশে ভারতের গুরুত্ব যে অপরিসীম তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে আমেরিকা। তাই চিনের বাড়াবাড়িতে লাগাম টানতে ভারতকে আরও কাছে পেতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। কোয়াড শক্তিশালী করার প্রস্তাব দিয়ে জয়শঙ্করের কাছেও পরিষ্কার এই বার্তা দেওয়া হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে। বুধবার মার্কিন বিদেশ সচিব মারো রুবিও ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালজের সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। সেই বৈঠক সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের বিষয়ে খুবই উৎসাহী। ভারতকে পাশে চাই, সেটা প্রথম থেকেই পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছে তারা।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share