Category: বিজ্ঞান

Get updated Science and Research related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • 2024 yr4: হিরোশিমার থেকে শক্তি বেশি ১০ গুণ! পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল গ্রহাণু

    2024 yr4: হিরোশিমার থেকে শক্তি বেশি ১০ গুণ! পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল গ্রহাণু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল বড় এক গ্রহাণু। হিরোশিমায় যে পরমাণু বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছিল তার থেকে ১০০ গুণ বেশি এর শক্তি। ২০২৪ ওয়াইআর৪ নামে ওই বিশাল অ্যাস্টেরয়েড ২ ডিসেম্বর ২০৩২-এ পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটাতে পারে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নাসা-অর্থিত টেলিস্কোপ ব্যবহার করে অ্যাস্টেরয়েড ২০২৪ ওয়াইআর৪ আবিষ্কার করে। প্রথমে এর সংঘর্ষের সম্ভাবনা ছিল ১.২%, তবে সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী এটি ২.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।

    কত বড় এই গ্রহাণু

    বর্তমানে, নাসা ও ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি হাজার হাজার অ্যাস্টেরয়েড পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ২০২৪ ওয়াইআর৪ একমাত্র অ্যাস্টেরয়েড যার সংঘর্ষের সম্ভাবনা ১%-এর বেশি। এটি বর্তমানে টোরিনো ইমপ্যাক্ট হ্যাজার্ড স্কেলে ৩ নম্বরে রয়েছে। এই স্কেলটি ০ থেকে ১০ পর্যন্ত, যেখানে ০ মানে কোন বিপদ নেই এবং ১০ মানে সভ্যতা শেষের সম্ভাবনা হতে পারে। এর আগের যে অ্যাস্টেরয়েডটি এই স্কেলে বেশি রেটিং পেয়েছিল, তা পরবর্তীতে ক্ষতিকর নয় বলে জানা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই অ্যাস্টরয়েডের ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা ১.৮% থেকে ২.৩% হতে পারে। এই অ্যাস্টরয়েডের সাইজ প্রায় ৩০০ ফুট (৯০মিটার) পর্যন্ত হতে পারে। যে সাইজের অ্যাস্টরয়েড আসছে তা পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হলে একটি পুরো শহরকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে৷ ১৯০৮ সালে সাইবেরিয়া তুঙ্গুস্কাতে যে অ্যাস্টরয়েড পড়েছিল এই গ্রহাণুর সাইজটিও সেইটার মতোই বড়৷

    সম্ভাব্য প্রভাব এবং ধ্বংসযজ্ঞ

    যদি ২০২৪ ওয়াইআর৪ পৃথিবীতে আঘাত হানে, তবে বিস্ফোরণের শক্তি ১৫ মেগাটন টিএনটি-এর সমান হবে, যা হিরোশিমা বোমার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি। সংঘর্ষের ক্ষেত্র থেকে ৫.৭ কিলোমিটার পর্যন্ত ধ্বংসাত্মক প্রভাব অনুভূত হবে। আরো বেশি ধ্বংস ৮.৮ কিলোমিটার এলাকায় হতে পারে, এবং মৃত্যু ঘটতে পারে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত। লন্ডনে সরাসরি আঘাত হানলে, ওয়েস্টমিনস্টার থেকে ক্রোয়ডন পর্যন্ত পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যাবে। ম্যানচেস্টার, বেলফাস্ট, অথবা এডিনবরা শহরেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হবে। এমনকি ছোট শহরগুলোও কয়েক মাইল জুড়ে বিধ্বস্ত হবে। তবে,বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এখনও সংঘর্ষের সম্ভাবনা কম। পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশই জলাশয়, তাই সাগরের উপর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি। এর আগে অনেক অ্যাস্টেরয়েডের সংঘর্ষের ঝুঁকি কমে গিয়েছে হিসেব-নিকেশের মাধ্যমে।

  • Chandrayaan 4: চাঁদ থেকে পাথর, মাটি সংগ্রহ করে ফিরবে পৃথিবীতে, কবে পাড়ি দিচ্ছে ‘চন্দ্রযান ৪’?

    Chandrayaan 4: চাঁদ থেকে পাথর, মাটি সংগ্রহ করে ফিরবে পৃথিবীতে, কবে পাড়ি দিচ্ছে ‘চন্দ্রযান ৪’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৭ সালে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেবে ‘চন্দ্রযান ৪’ (Chandrayaan 4)। ওই অভিযানে চাঁদের পাথর, মাটির নমুনা নিয়ে ফের পৃথিবীতে ফিরে আসবে মহাকাশযানটি। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh)। একইসঙ্গে, ‘গগনযান’ (Gaganyaan Mission) ও ‘সমুদ্রযান’ (Samudrayaan Mission) মিশনের সময়ও ঘোষণা করেন তিনি। ফলে, আগামী তিন বছর ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সময় আসতে চলেছে (ISRO Future Projects)।

    চাঁদের পাথর-মাটি নমুনা সংগ্রহ

    জিতেন্দ্র জানান, চন্দ্রযান ৪ (Chandrayaan 4) অভিযানে প্রথমবার ব্যবহার করা একটি নয়, দুটি হভি লিফ্ট এলভিএম ৩ রকেট (LVM3 Rocket)। দুই ভারী রকেটে করে পাঠানো হবে এই মিশনের জন্য প্রয়োজন পাঁচটি বিভিন্ন অংশকে। সেগুলি দুটি ভাগে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে সেখানে জুড়বে। চন্দ্রযান ৪ (Chandrayaan 4) মিশনের লক্ষ্য হল চাঁদের থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফিরে আসা। অন্যদিকে, গগনযান অভিযান সম্পর্কে বলতে গিয়ে জিতেন্দ্র জানান, আগামী বছর মহাকাশে পাড়ি দেবে গগনযান। ওই মিশনে পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে চার ভারতীয় মহাকাশচারীকে পাঠানো হবে। শুধু মহাকাশ নয়, সমুদ্রের গভীরেও বিশেষ অভিযান চালাবে ইসরো। সেটাও আগামী বছরেই। জিতেন্দ্র জানান, মিশন সমুদ্রযান-এর মাধ্যমে তিনজন বিজ্ঞানী বিশেষভাবে নির্মিত সাবমার্সিবল (ডুবো) ভেসেলে চেপে সমুদ্রের ৬ হাজার মিটার গভীরে গিয়ে গবেষণা চালাবেন। সিং বলেন, ‘‘বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষতার লক্ষ্যে দেশের এই অগ্রগতি বাকি বিশ্বের সঙ্গে ভারতকে একাসনে বসাবে।’’

    সমুদ্রযান অভিযানের গুরুত্ব অপরিসীম

    গত বছরের স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় সমুদ্রযানের কথা উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। এদিন জিতেন্দ্র জানান, সমুদ্রযান অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হল সমুদ্রতলের মূল্যবান সম্পদ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের উন্মোচন করা যা আখেরে ভারতের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত লক্ষ্যপূরণের জন্য অপরিহার্য। গগনযান মিশন নিয়ে বলতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, চলতি বছর এই অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে দেশে তৈরি হিউম্যানয়েড রোবট ‘বিয়োমিত্র’-কে মহাকাশে পাঠানো হবে এবং আবার ফিরিয়ে আনা হবে। এর পর, সামনের বছর মানব-অভিযান সম্পন্ন করা হবে (ISRO Future Projects)।

    মোদি জমানায় মহাকাশ সেক্টরে বিপুল উন্নতি

    জিতেন্দ্র সিংয়ের মতে, মোদি জমানায় গত এক দশকে মহাকাশ সেক্টরে (India Space Sector) প্রভূত পরিমাণ উন্নতি করেছে ভারত। পরিকাঠামোগত হোক বা বিনিয়োগ এই ক্ষেত্রে ভারত ব্যাপকহারে অগ্রসর হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ইসরো (ISRO) গঠন হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। এর দুদশক পার করার পর ১৯৯৩ সালে দেশে প্রথম লঞ্চপ্যাড (রকেট উৎক্ষেপণের প্ল্যাটফর্ম) গড়ে তোলে ভারত। দ্বিতীয় লঞ্চপ্যাড নির্মাণ হয় ২০০৪ সালে। তিনি বলেন, ‘‘এখন ভারী রকেট উৎক্ষেপণের জন্য আমরা প্রথমবার তৃতীয় লঞ্চপ্যাড নির্মাণ করছি। পাশাপাশি, শ্রীহরিকোটার চাপ কমাতে এবং ছোট রকেট উৎক্ষেপণের জন্য তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনে নতুন উৎক্ষেপণকেন্দ্র গড়ে তুলছি।’’

    দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে বিনিয়োগর জোয়ার

    বর্তমানে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির মূল্য প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই গতিতে চললে, আগামী এক দশকে তা ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। আর তেমনটা হলে, মহাকাশ-শক্তিধর হিসেবে বিশ্বের হাতে গোনা দেশগুলির সঙ্গে একই সরণিতে চলে আসবে ভারত। এটা সম্ভব হয়েছে কারণ, মোদি জমানায়, এই মহাকাশ বিজ্ঞান ক্ষেত্রে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে বহু বেসরকারি সংস্থাও। যার ফলে, এখন ভারতের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের জোয়ার চোখে পড়ছে (ISRO Future Projects)।

  • Shubhanshu Shukla: রাকেশ শর্মার পর প্রথম ভারতীয়, নাসার হাত ধরে মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন শুভাংশু

    Shubhanshu Shukla: রাকেশ শর্মার পর প্রথম ভারতীয়, নাসার হাত ধরে মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন শুভাংশু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে যেতে চলেছেন শুভাংশু শুক্ল। ১৯৮৪-তে রাকেশ শর্মার পর এবার মহাকাশে পাড়ি জমাবে কোনও ভারতীয়। নাসার মহাকাশ অভিযানে যাবেন উইং কমান্ডার শুভাংশু। নাসার অ্যাক্সিয়ম মিশন ৪ অভিযানে অংশ নিতে চলেছেন তিনি। এটি একটি বেসরকারি মহাকাশ অভিযান, যা স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযানের সঙ্গে যুক্ত। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ হবে।

    ইতিহাসের দরজায় ভারত

    দেখতে দেখতে ৪০ টা বছর পার হয়ে গেল। ভারতের মুকুটে পালক লাগল আবার। ভারতের গগনযান অভিযানের জন্য ইসরো ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশুকে মহাকাশচারী হিসেবে বেছে নিয়েছিল। এই মিশনের জন্য ইসরো, নাসা এবং অ্যাক্সিওম স্পেস একসঙ্গে কাজ করছে। নাসার অ্যাক্সিয়ম মিশন ৪ অভিযানে পাইলটের ভূমিকায় কাজ করবেন শুভাংশু শুক্ল। সঙ্গে থাকবেন আরও তিনজন মহাকাশচারী। অভিজ্ঞ মার্কিন মহাকাশচারী ও মিশন কমান্ডার পেগি হুইটসন, পোল্যান্ডের স্লাওসুজ উজনানস্কি-উইসনিয়েভস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবর কাপু।

    শুভাংশুর সফর

    শুভাংশু শুক্লর জন্ম ১৯৮৫ সালের ১০ অক্টোবর। উত্তরপ্রদেশের লখনউতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পাইলট হিসেবে শুভাংশু মোট ২০০০ ঘণ্টা আকাশে থেকেছেন। ২০০৬ সালে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার অফিসার হিসেবে কমিশন পান। তিনি যুদ্ধবিমানের টেস্ট পাইলট এবং কমব্যাট লিডার। সুখোই-৩০, মিগ ২১, মগ ২৯, জাগুয়ার, হক, ডর্নিয়ার সহ বিভিন্ন ধরনের বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা আছে তাঁর।

    ইসোরোর ঘোষণা

    এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর আমেরিকা সফরকালে ঘোষণা করেছিলেন এই অভিযানের কথা। মোদি বলেছিলেন, ভারতের একজন মহাকাশচারী খুব শীঘ্রই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে যাবেন। সেই ঘোষণাই অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে বলে জানিয়েছে ইসরো। তারা একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, আমেরিকার একটি বেসরকারি সংস্থা অ্যাক্সিয়ম স্পেস ইনকর্পোরেশনের সঙ্গে এ ব্যাপারে চুক্তি হয়েছিল তাদের। সেই চুক্তি অনুযায়ীই দু’জন ‘গগনযাত্রী’কে বেছে নিয়েছে ন্যাশনাল মিশন অ্যাসাইনমেন্ট বোর্ড। মূল মহাকাশচারী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে গ্রুপ ক্যাপটেন শুভাংশুকে। তাঁর বিকল্প হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে গ্রুপ ক্যাপটেন প্রশান্ত বালাকৃষ্ণন নায়ারকে। শীঘ্রই এই অভিযানের জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করবেন দু’জনে। তাঁরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দেবেন স্পেসএক্সের রকেটে।

  • ISRO 100th Mission: মহাকাশে ক্রমশ ডানা মেলছে ভারতের ‘নাবিক’, জিপিএস-এর বিকল্প হাতের মুঠোয়?

    ISRO 100th Mission: মহাকাশে ক্রমশ ডানা মেলছে ভারতের ‘নাবিক’, জিপিএস-এর বিকল্প হাতের মুঠোয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীঘ্রই অতীত হতে চলেছে এদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস-এর ব্যবহার? নির্ভুল দেশীয় নেভিগেশন সিস্টেম (NavIC Navigation System) কি হাতের মুঠোয় করে ফেলল নরেন্দ্র মোদির ভারত? প্রশ্নটা উঠছে, কারণ বুধবার এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। শততম উৎক্ষেপণে (ISRO 100th Mission) সফলভাবে মহাকাশে পৃথিবীর নির্দিষ্ট কক্ষপথে প্রতিস্থাপন করল এনভিএস-০২ উপগ্রহকে। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে ভোর ৬টা ২৩ মিনিটে স্যাটেলাইটকে নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দেয় জিওসিনক্রোনাস লঞ্চ ভেহিকল (জিএসএলভি-এফ১৫) রকেট। কিছুক্ষণ পরই, নির্দিষ্ট কক্ষপথে উপগ্রহটিকে প্রতিস্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়।

    মহাকাশ প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভর ভারত (ISRO 100th Mission)

    জিএসএলভি-এফ১৫ হল ভারতের নিজস্ব জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের ১৭তম উৎক্ষেপণ এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্রায়োজেনিক স্টেজ (ইঞ্জিন) ব্যবহৃত একাদশতম অভিযান। এদিনের সফল অভিযানের (ISRO 100th Mission) মাধ্যমে অত্যাধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার জায়গা ফের একবার মজবুত করল ভারত। সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে এবারের উৎক্ষেপণে ৩.৪ ব্যাসের ধাতব বস্তু দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল রকেটের পেলোড ফেয়ারিং (রকেটের মাথায় রাখা স্যাটেলাইটের রক্ষাত্মক বর্ম)।

    ইসরো জানিয়েছে, এনভিএস-০২ উপগ্রহ ভারতের নেভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় (NavIC Navigation System) সহায়তা প্রদান করবে। এতে রয়েছে দেশে তৈরি এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা অ্যাটমিক ঘড়ির কম্বিনেশন, যার মাধ্যমে নির্ভুল সময় (গন্তব্যে পৌঁছনোর) উপলব্ধ হবে। এনভিএস-০২ উপগ্রহটি হল ভারতে তৈরি দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন সিরিজের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট। ২০২৩ সালের মে মাসে এই সিরিজের প্রথম উপগ্রহ এনভিএস-০১ উৎক্ষেপিত হয়েছিল।

    এনভিএস-০২ স্যাটেলাইট আদতে ঠিক কী?

    দীর্ঘদিন ধরেই ভারত মার্কিন নেভিগেশন সিস্টেম জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম)-এর মতো নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম তৈরি (NavIC Navigation System) করার কাজ করছে। ভারতের এই স্বাধীন আঞ্চলিক সিস্টেমের নাম— ইন্ডিয়ান নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টিলেশন (সংক্ষেপে ‘নাবিক’)। ইসরো নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম উপগ্রহ ছিল এনভিএস-০১। এদিন এই সিরিজের দ্বিতীয় উপগ্রহ উৎক্ষেপণ (ISRO 100th Mission) হল। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, ‘নাবিক’ সিস্টেমে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার যে উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, তার সক্ষমতা, নির্ভুলতা, পারফরম্যান্সের ধার ও ভার পূর্বসুরীর তুলনায় ঢের বেশি।

    জিপিএস-এর শক্তিশালী বিকল্প হয়ে উঠছে ‘নাবিক’

    নিজস্ব উপগ্রহ-ভিত্তিক নেভিগেশন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ভারত যে কতটা বদ্ধপরিকর তার প্রমাণ এদিনের এনভিএস-০২ অভিযান। আরও বেশি নিখুঁত, আরও বেশি নির্ভরযোগ্যতা এবং ক্ষমতাবৃদ্ধি— এই তিনের মিশেল রয়েছে নতুন স্যাটেলাইটে। এর ফলে, কৃষি থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা— সর্বত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ‘নাবিক’ (NavIC Navigation System)। এদিনের সফল উৎক্ষেপণের (ISRO 100th Mission) ফলে একদিকে ভারতের প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা আরও প্রতিষ্ঠিত হল। একইভাবে, মহাকাশ প্রযুক্তিতে বিশ্বের দরবারে ভারতের ক্ষমতাও এক কদম এগলো।

  • ISRO: নতুন বছরেই সেঞ্চুরি ইসরোর! শততম উৎক্ষেপণে সাফল্য, মহাকাশে পৌঁছে দিল ‘নাবিক’-কে

    ISRO: নতুন বছরেই সেঞ্চুরি ইসরোর! শততম উৎক্ষেপণে সাফল্য, মহাকাশে পৌঁছে দিল ‘নাবিক’-কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরেই ফের সাফল্যের মুকুট ইসরোর। শততম মিশনেও সাফল্য পেল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ভোর ৬টা ২৩ মিনিটে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় জিএসএলভি-এফ১৫ রকেটকে। ইসরোর নতুন চেয়ারম্যান ভি নারায়ণের নেতৃত্বে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস রিসার্চ সেন্টার থেকে এই রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। এটাই ২০২৫ সালে ইসরোর প্রথম মিশন। এদিন দেশীয় ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ত্রিস্তরীয় রকেট জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (জিএসএলভি)-এফ-১৫ কক্ষপথে স্থাপন করল এনভিএস-০২ উপগ্রহকে। প্রসঙ্গত, এই উপগ্রহ হল, ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম ‘নাবিক’-এর অন্তর্ভুক্ত দ্বিতীয় প্রজন্মের দ্বিতীয় উপগ্রহ।

    ৪৬ বছর পর শততম উৎক্ষেপণ

    শ্রীহরিকোটা থেকে ইসরো প্রথম স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল উৎক্ষেপণ করা হয় ১৯৭৯ সালের ১০ অগাস্ট। স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল ৩-তে (এসএলভি-৩ ই-১০) চাপিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে রোহিণী  পে-লোডের উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। সেইসময় ভারতীয় মহাকাশ সংস্থায় ছিলেন এপিজে আবদুল কালাম। তিনি ওই মিশনের অধিকর্তা ছিলেন। প্রায় ৪৬ বছর পর শততম উৎক্ষেপণ করল ইসরো। ইসরো এই রকেটকে ‘নটি বয়’ নাম দিয়েছে। কারণ বারংবার উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হয়েছে এই রকেট। ১৬টি লঞ্চের মধ্যে মাত্র ১০ লঞ্চ বা উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে, বাকি সবই ব্যর্থ হয়েছে। ৩৭ শতাংশ ব্যর্থতার হার নিয়ে এবার ১০০ তম মিশনে ফুল মার্কস পেল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। উল্লেখ্য, শততম উৎক্ষেপণের নজির গড়ার আগে মঙ্গলবার চেয়ারম্যান ভি নায়ায়ণন-সহ সংস্থার শীর্ষকর্তারা পুজো দিতে যান অন্ধ্রের তিরুপতির বিশ্বখ্যাত তিরুমালা বেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে। তারপরেই ‘নটি বয়’ সাফল্য পেল।

    কী করবে জিএসএলভি এফ ১৫

    এদিন এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণের পরে ইসরোর তরফে বলা হয়েছে, ‘লিফট-অফ! এনভিএস ০২-কে নিয়ে সাফল্যের সঙ্গে উৎক্ষেপণ করেছে জিএসএলভি-১৫।’ ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, জিএসএলভি-এফ১৫ এনভিএস-০২ স্যাটেলাইটকে জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে পৌঁছে দেয়। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইসরোর এই সাফল্যকে কুর্নিশ করেছেন। তাঁর কথায়, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ক্রমশ উন্নতির পথে চলছে। দেশের মুকুটে যুক্ত হচ্ছে এক-একটি পালক।

  • Planetary Parade: আজ সন্ধ্যার আকাশে এক সারিতে ৬ গ্রহ! মহাকাশে ঘটবে বিরল ‘প্ল্যানেট প্য়ারেড’

    Planetary Parade: আজ সন্ধ্যার আকাশে এক সারিতে ৬ গ্রহ! মহাকাশে ঘটবে বিরল ‘প্ল্যানেট প্য়ারেড’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে পৃথিবী। মহাকাশে এক সারিতে আসবে সৌরজগতের ছয়টি গ্রহ (Planetary Parade)। তার বেশিরভাগটাই খালি চোখে দেখা যাবে। শনি-সন্ধ্যায় মহাকাশে ঘটতে চলেছে বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। সূর্যাস্তের ৪৫ মিনিট পর এক সারিতে আসছে ৬ গ্রহ। ঝকঝকে রাতের আকাশে চলবে গ্রহ নক্ষত্রের খেলা। ‘প্ল্যানেট প্য়ারেডে’ অংশ নিচ্ছে ইউরেনাস-নেপচুনও। এটাকে বলা হয় প্ল্যানেটারি অ্যালাইনমেন্ট। একই সরলরেখায় আসবে মঙ্গল-বৃহস্পতি-শুক্র-শনি-ইউরেনাস-নেপচুন।

    কতক্ষণ দেখা যাবে

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৩ ঘণ্টা স্থায়ী হবে গ্রহের প্যারেড। খালি চোখেই দেখা যাবে মঙ্গল-বৃহস্পতি-শুক্র-শনিকে। তবে ইউরেনাস-নেপচুনকে (Planetary Parade) দেখতে প্রয়োজন হবে টেলিস্কোপের। এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে চলছে জোর চর্চা। সকাল থেকেই বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামে ব্যাপক ভিড়। গ্রহের সারিবদ্ধতা এমন একটি ঘটনাকে বোঝায় যেখানে সৌরজগতের গ্রহগুলিকে পৃথিবী থেকে এক সরলরেখায় অবস্থান করতে দেখা যায়। খালি চোখের তুলনায় যন্ত্রের সাহায্যে এই দৃশ্য আরও ঝকঝকে হয়ে উঠবে।

    কখন, কোন আকাশে দেখা যাবে বিরল দৃশ্য 

    জ্যোতির্বিজ্ঞানী দেবীপ্রসাদ দুয়ারি বলছেন, সন্ধ্যা সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে দেখা যাবে এই অতি-বিরল দৃশ্য। তাঁর কথায়, “সন্ধ্যাবেলার আকাশে মোটামুটি ৭টা সাড়ে ৭টার দিকে খুব ক্ষীণভাবে হলেও শনি গ্রহকে দেখতে পাওয়া যাবে। তার ঠিক একটু উপরে দক্ষিণ-পশ্চিম দিগন্তে থাকবে শুক্র গ্রহ। ওটা কিন্তু বেশ উজ্জ্বল।” দেখা যাবে বৃহস্পতিকেও। তাঁর কথায়, “একইসময় মাথার মোটামুটি উপরে থাকবে বৃহস্পতি। বেশ কিছুটা পূর্ব দিগন্তে থাকবে মঙ্গলগ্রহ। সুতরাং পশ্চিম থেকে পূর্ব দিগন্ত ঘিরে একটা সরলরেখায় এই গ্রহগুলিকে দেখা যাবে। খালি চোখেই দেখা যাবে। আরও দুটো গ্রহ থাকছে এই রেখায়। তবে তাঁদের খালি চোখে দেখা যাবে না। ইউরেনাস-নেপচুন। ওরা থাকবে শুক্র গ্রহের কাছাকাছি অঞ্চলে। কিন্তু এত ক্ষীণ যে খালি চোখে দেখা কার্যত অসম্ভব।”

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Planetary Parade: আজ সন্ধ্যার আকাশে এক সারিতে ৬ গ্রহ! মহাকাশে ঘটবে বিরল ‘প্ল্যানেট প্য়ারেড’

    Planetary Parade: আজ সন্ধ্যার আকাশে এক সারিতে ৬ গ্রহ! মহাকাশে ঘটবে বিরল ‘প্ল্যানেট প্য়ারেড’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে পৃথিবী। মহাকাশে এক সারিতে আসবে সৌরজগতের ছয়টি গ্রহ (Planetary Parade)। তার বেশিরভাগটাই খালি চোখে দেখা যাবে। শনি-সন্ধ্যায় মহাকাশে ঘটতে চলেছে বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। সূর্যাস্তের ৪৫ মিনিট পর এক সারিতে আসছে ৬ গ্রহ। ঝকঝকে রাতের আকাশে চলবে গ্রহ নক্ষত্রের খেলা। ‘প্ল্যানেট প্য়ারেডে’ অংশ নিচ্ছে ইউরেনাস-নেপচুনও। এটাকে বলা হয় প্ল্যানেটারি অ্যালাইনমেন্ট। একই সরলরেখায় আসবে মঙ্গল-বৃহস্পতি-শুক্র-শনি-ইউরেনাস-নেপচুন।

    কতক্ষণ দেখা যাবে

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৩ ঘণ্টা স্থায়ী হবে গ্রহের প্যারেড। খালি চোখেই দেখা যাবে মঙ্গল-বৃহস্পতি-শুক্র-শনিকে। তবে ইউরেনাস-নেপচুনকে (Planetary Parade) দেখতে প্রয়োজন হবে টেলিস্কোপের। এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে চলছে জোর চর্চা। সকাল থেকেই বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামে ব্যাপক ভিড়। গ্রহের সারিবদ্ধতা এমন একটি ঘটনাকে বোঝায় যেখানে সৌরজগতের গ্রহগুলিকে পৃথিবী থেকে এক সরলরেখায় অবস্থান করতে দেখা যায়। খালি চোখের তুলনায় যন্ত্রের সাহায্যে এই দৃশ্য আরও ঝকঝকে হয়ে উঠবে।

    কখন, কোন আকাশে দেখা যাবে বিরল দৃশ্য 

    জ্যোতির্বিজ্ঞানী দেবীপ্রসাদ দুয়ারি বলছেন, সন্ধ্যা সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে দেখা যাবে এই অতি-বিরল দৃশ্য। তাঁর কথায়, “সন্ধ্যাবেলার আকাশে মোটামুটি ৭টা সাড়ে ৭টার দিকে খুব ক্ষীণভাবে হলেও শনি গ্রহকে দেখতে পাওয়া যাবে। তার ঠিক একটু উপরে দক্ষিণ-পশ্চিম দিগন্তে থাকবে শুক্র গ্রহ। ওটা কিন্তু বেশ উজ্জ্বল।” দেখা যাবে বৃহস্পতিকেও। তাঁর কথায়, “একইসময় মাথার মোটামুটি উপরে থাকবে বৃহস্পতি। বেশ কিছুটা পূর্ব দিগন্তে থাকবে মঙ্গলগ্রহ। সুতরাং পশ্চিম থেকে পূর্ব দিগন্ত ঘিরে একটা সরলরেখায় এই গ্রহগুলিকে দেখা যাবে। খালি চোখেই দেখা যাবে। আরও দুটো গ্রহ থাকছে এই রেখায়। তবে তাঁদের খালি চোখে দেখা যাবে না। ইউরেনাস-নেপচুন। ওরা থাকবে শুক্র গ্রহের কাছাকাছি অঞ্চলে। কিন্তু এত ক্ষীণ যে খালি চোখে দেখা কার্যত অসম্ভব।”

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • ISRO: মহাকাশে ফলবে বরবটি! অঙ্কুরোদ্গম করে বিশ্বকে তাক লাগাল ইসরো

    ISRO: মহাকাশে ফলবে বরবটি! অঙ্কুরোদ্গম করে বিশ্বকে তাক লাগাল ইসরো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশে ফলবে বরবটি (Cowpea Seeds Germinate)! অন্তত এমনই আশা ইসরোর (ISRO) বিজ্ঞানীদের। আশার কারণ, অঙ্কুরিত হয়েছে বরবটির বীজ। দিন কয়েকের মধ্যে গজাবে নতুন পাতাও। তাতেই আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা। মহাকাশে প্রাণের সন্ধান চলছে বহু দিন ধরেই। মহাকাশে কীভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীরা বেঁচে থাকতে পারে, তার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টাও চলছে। সেই চেষ্টায়ই মিলল সাফল্য। অঙ্কুরোদ্গম হল বরবটির বীজে।

    মহাকাশে বরবটির বীজ (ISRO)

    জানা গিয়েছে, গত ৩০ ডিসেম্বর পিএসএলভি সি-৬০ রকেটে করে স্পেডেক্স মহাকাশযানের সঙ্গে আটটি বরবটির বীজ মহাকাশে পাঠিয়েছিলেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর বিজ্ঞানীরা। সেই বীজই অঙ্কুরিত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়ে ইসরো জানিয়েছে, বরবটির বীজ অঙ্কুরিত হতে চার দিন সময় লাগে। সেই হিসেবে শনিবার অঙ্কুর বেরিয়েছে ওই বীজগুলির। শীঘ্রই কচি পাতাও ফুটবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, সংস্থার এই সাফল্য তাঁদের কমপ্যাক্ট রিসার্চ মডিউল ফর অরবাইটাল প্ল্যান্ট স্টাডিজ মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের আশা, এর ফলে মহাকাশের মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরিস্থিতিতে উদ্ভিদের অঙ্কুরোদ্গম ও বৃদ্ধি সংক্রান্ত গবেষণা আরও সমৃদ্ধ হবে।

    ইসরোর সাফল্য

    জানা গিয়েছে, বরবটির বীজ (ISRO) পাঠানোর পর থেকে প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। হাই রেজলিউশন সম্পন্ন ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল নজরদারির জন্য। অক্সিজেনের মাত্রা, কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ এবং তাপমাত্রার ওঠাপড়ার হিসেব রাখতেও পেলোডে বসানো হয়েছিল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। তাতেই দেখা গিয়েছে বীজের অঙ্কুরোদ্গম। 

    আরও পড়ুন: “গ্রামীণ ভারতে নতুন শক্তি জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    ইসরোর এই সাফল্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর বাইরে অন্যত্র উপনিবেশ গড়ার ক্ষেত্রে এটি যেমন সহায়ক হবে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের ক্ষেত্রে খাদ্যের জোগান অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রেও এই গবেষণা ফলদায়ক হয়ে উঠবে। মহাকাশ অভিযানে আমেরিকা, রাশিয়া, চিনের মতো দেশকে ভারত যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গোল দিতে পারে, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল ইসরো। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে (Cowpea Seeds Germinate) মহাকাশ যান পাঠিয়ে তামাম বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল ইসরো (ISRO)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

  • ISRO: ‘মহাকাশ ডকিং’ মিশনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ইসরোর,  সফল উৎক্ষেপণ পিএসএলভি-সি৬০-র

    ISRO: ‘মহাকাশ ডকিং’ মিশনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ইসরোর, সফল উৎক্ষেপণ পিএসএলভি-সি৬০-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও এক বার অন্তরীক্ষে নয়া ইতিহাস তৈরি করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। পৃথিবীর কক্ষপথে ঘূর্ণায়মাণ দু’টি কৃত্রিম উপগ্রহকে জুড়ে একটি মহাকাশযান তৈরি করল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ইসরোর এই পরীক্ষার পোশাকি নাম ‘স্পেস ডকিং এক্সপেরিমেন্ট মিশন’ (স্পাডেক্স)। মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দিল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’-র (ISRO) তৈরি করা পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যাল (পিএসএলভি)-সি৬০। পাড়ি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পৃথিবীর কক্ষপথে পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যাল-এর পেলোডগুলো সফল ভাবে স্থাপন করা হয়।

    সফল উৎক্ষেপণ

    অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সোমবার রাতে সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টারের লঞ্চিং প্যাড থেকে পিএসএলভি-সি৬০ (PSLV-C60) রকেটটির সফল উৎক্ষেপণ হয়েছে। ইসরো এ ব্যাপারে বলেছে, পিএসএলভি-সি৬০-র প্রধান পেলোড হিসাবে রয়েছে দু’খানা মহাকাশযান। একটি স্পাডেক্স ১ এবং অন্যটি স্পাডেক্স ২। এ ছাড়াও ২৪টি সেকেন্ডারি পেলোড রয়েছে। যা ইসরোর বিজ্ঞানীদের ‘মহাকাশ ডকিং’ মিশনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মিশনের প্রধান জয়কুমার জানিয়েছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজস্ব আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করতে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এই ‘মহাকাশ ডকিং’ পরীক্ষা।

    বুলেটের চেয়ে ১০ গুণ গতি

    মহাকাশ বিজ্ঞানীদের দাবি, পৃথিবীর কক্ষপথে বুলেটের চেয়ে ১০ গুণ গতিতে ঘুরে চলা দু’টি কৃত্রিম উপগ্রহকে জুড়ে একটি মহাকাশযান তৈরি করা যেমন কঠিন, তেমনই চ্যালেঞ্জিং। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এই বিষয়ে নিরন্তর গবেষণা চলছে। বর্তমানে কেবলমাত্র আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার কাছে রয়েছে এই প্রযুক্তি। ৩০ ডিসেম্বরের মিশনের পর চতুর্থ দেশ হিসাবে এই ক্লাবে যোগ দিতে চলেছে ভারত। মহাকাশ স্টেশন তৈরির ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যাবশ্যক। 

    কেমন হল গবেষণা

    ইসরো সূত্রে খবর, দু’টি বিশেষ ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহকে পৃথিবীর কক্ষপথে নিয়ে যাবে ‘পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল’ (পিএসএলভি) নামের রকেট। উপগ্রহগুলির প্রতিটির ওজন ২২০ কেজি। মহাশূন্যে সেগুলিকে ‘ডকিং’ এবং ‘আনডকিং’ করবেন এ দেশের মহাকাশ গবেষকেরা। মহাশূন্যে তীব্র গতিতে ঘূর্ণায়মান দু’টি বস্তুকে কাছাকাছি এনে জুড়ে দেওয়াকেই বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘ডকিং’। সেই কাজটাই করতে চলেছে ইসরো। পরীক্ষা সফল হলে ফের ওই দুই উপগ্রহকে আলাদা করা হবে। যাকে ‘আনডকিং’ বলে চিহ্নিত করেছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।

    পৃথিবীর ৪৭০ কিলোমিটার উপরে পরীক্ষা

    ইসরো জানিয়েছে, পৃথিবীর ৪৭০ কিলোমিটার উপরে চলে এই পরীক্ষা। এর জন্য বিশেষ একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ভারতীয় গবেষণা সংস্থা। এর নাম ‘ভারতীয় ডকিং সিস্টেম’। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এই কাজে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল ডকিং সিস্টেম স্ট্যান্ডার্ড’ (আইডিএসএস)। ভারতীয় প্রযুক্তিটি সমমানের বলে দাবি করা হয়েছে ইসরোর তরফে। এই প্রসঙ্গে ইসরোর চেয়ারম্যান এস সোমনাথ বলেন, ‘‘ভারত নিজস্ব ডকিং প্রযুক্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই ধরনের জটিল এবং সুক্ষ্ম প্রযুক্তি কখনওই কোনও দেশ হস্তান্তর করে না। এটা সত্যিই গর্বের।’’ ইসরো ইতিমধ্যেই এই ডকিং প্রযুক্তির স্বত্ব নিয়েছে। ইসরো চেয়ারম্যান এস সোমনাথ বলেছেন, ‘‘ডকিং হল একটা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। পদার্থবিদ্যার বহু হিসাব-নিকাশ মাথায় রাখতে হয়েছে। ওই সময়ে দু’টি উপগ্রহকে একই কক্ষপথে থাকতে হবে। জুড়ে যাওয়ার পর তারা যেন রাস্তা হারিয়ে না ফেলে সে দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখব আমরা।’’

    ডকিং সিস্টেম-এর গুরুত্ব

    মহাকাশ বিজ্ঞানীদের দাবি, অন্তরীক্ষে স্টেশন তৈরির ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি সবচেয়ে জরুরি। কারণ, ওই স্টেশন কখনওই একবারে নির্মাণ করা সম্ভব নয়। পৃথিবী থেকে ধাপে ধাপে মহাশূন্যে নিয়ে যাওয়া হয় এর এক একটি অংশ। এর পর ভাসমান অবস্থাতেই সেগুলি জুড়ে গিয়ে আত্মপ্রকাশ করে আস্ত একটা মহাকাশ স্টেশন। সোমনাথ জানিয়েছেন, পরবর্তী ‘চন্দ্রযান-৪’ মিশনেও ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হবে এই ডকিং প্রযুক্তি। আগামী দিনে চাঁদে নভচারী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইসরোর। মহাকাশযান নিয়ে পৃথিবীর উপগ্রহে নামতে প্রয়োজন হবে এই ডকিং প্রযুক্তির। স্পাডেক্স মিশনে এই প্রযুক্তির পরীক্ষার জন্য যে মোটর ব্যবহার হচ্ছে, তার ব্যাস ৪৫০ মিলিমিটার। তবে আগামী দিনে ৮০০ মিলিমিটারের ডকিং সরঞ্জাম তৈরির লক্ষ্য রয়েছে ইসরোর। গগনযান মিশনের মহাকাশচারীরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন বলে জানা গিয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • ISRO: ২০৪০ সালের মধ্যেই চাঁদে ভারতীয় নভোচারীকে অবতরণ করাবে ইসরো!

    ISRO: ২০৪০ সালের মধ্যেই চাঁদে ভারতীয় নভোচারীকে অবতরণ করাবে ইসরো!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO)-এর চেয়ারম্যান এস সোমানাথের (S Somanath) মতে, “ভারত একটি উচ্চাকাঙ্খী মহাকাশ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে। যার লক্ষ্য হল ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে একজন নভোচারীকে অবতরণ কারনো।” উল্লেখ্য, ভারতই একমাত্র দেশ যা চন্দ্রযান ৩কে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে ল্যান্ডিং করাতে পেরেছে। অত্যন্ত কম খরচে এই অভিযান চালিয়ে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ইসরো।

    দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গিতে বাজেট অনুমোদন মোদির (ISRO)

    ইসরো কর্ণধারের এই ঘোষণায় যারপরনাই খুশি বিভিন্ন মহল। ভারতের মহাকাশ সেক্টরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এবং অভূতপূর্ব উন্নয়নের জন্য চলতি বছরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার ইসরো (ISRO)-র প্রকল্পের জন্য ৩১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন করেছে। ফলে আগামী ২৫ বছর ধরে দেশের মহাকাশ প্রচেষ্টার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির রোডম্যাপকে বাস্তবায়নের কাজ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    আরও পড়ুনঃ হিন্দুরা চলে যাচ্ছেন, মিনি পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে আলিগড়ের বানিয়াপাড়া!

    ২৫ বছরের জন্য একটি রোড ম্যাপের পরিকল্পনা

    ইসরো (ISRO) প্রধান সোমনাথ (S Somanath) একটি বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, আমরা যে মিশনগুলি সম্পন্ন করেছি তাতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির রোডম্যাপ বিরাট সহযোগী হয়েছে। আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই বছরটি আমাদের জন্য একটি দুর্দান্ত বছর ছিল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মহাকাশ কর্মসূচির বিষয়ে আমাদের আগামী ২৫ বছরের জন্য একটি রোড ম্যাপ পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই রোডম্যাপের অংশ হিসাবে, ভারত ২০৩৫ সালের মধ্যে তার নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন, ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন স্থাপন করবে। এর একটি পর্যায় সম্পন্ন করে করা হবে ২০২৮ সালের মধ্যে একটি স্পেস স্টেশন মডিউল চালু করার মাধ্যমে। আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ রূপে অপারেশনের মঞ্চ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গির যদি চূড়ান্ত পরিণতি হয় তাহলে ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে একজন ভারতীয় মহাকাশচারীকে সফল ভাবে অবতরণ করানো যাবে।”

    ২৫০টির বেশি মহাকাশ স্টার্টআপ কাজ করছে

    ইসরো (ISRO) প্রধান সোমনাথ (S Somanath) আরও বলেন, “যখন আমরা দেশের স্বাধীনতার শততম বর্ষ উদযাপন করব, তখন একটি ভারতীয় পতাকা চাঁদে উড়বে এবং সেই সঙ্গে আমাদের দেশের মানুষও চাঁদে পৌঁছে যাবেন। একই ভাবে তাঁকে নিরাপদে আবার দেশের মাটিতে ফিরিয়েও আনাও হবে, আর এটাই আমাদের বিরাট কর্মযজ্ঞ হবে। তাই আমাদের লক্ষ্য হল ২০৪০ সাল। আগামী দিনে চন্দ্রযান ৪-সহ একাধিক প্রস্তুতিমূলক মিশন পরিচালিত হবে ইসরোর তরফ থেকে। স্পেস প্রোগ্রামে বৈজ্ঞানিক সাফল্য ব্যাপক ভাবে এসেছে। ২৫০টির বেশি মহাকাশ স্টার্টআপগুলি বর্তমানে উদ্ভাবনী শক্তির জোগানে কাজ করছে। ইতিমধ্যে অগ্নিকুল কসমস একটি তরল-চালিত সাব-অরবিটাল রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। মহাকাশে ব্যয় করা প্রতি টাকার খরচ বাড়িয়ে ২.৫২ টাকা করা হয়েছে।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share