Category: বিজ্ঞান

Get updated Science and Research related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • ISRO: এবার চন্দ্রযান ৫ মিশনের অনুমোদন দিল কেন্দ্র, জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে হবে অভিযান

    ISRO: এবার চন্দ্রযান ৫ মিশনের অনুমোদন দিল কেন্দ্র, জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে হবে অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার মহাকাশে পাড়ি দেবে ইসরোর (ISRO) চন্দ্রযান-৫। ইতিমধ্যে এবিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ছাড়পত্র পেয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)। এমনটাই জানিয়েছেন ইসরো প্রধান ভি নারায়ণন। প্রসঙ্গত, চন্দ্রযান ৩ সফল হওয়ার পরে চন্দ্রযান-৪ অভিযানের জন্য গত বছরেই অনুমোদন করে কেন্দ্র। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মোদি মন্ত্রিসভা চন্দ্রযান ৪ মিশন অনুমোদন করেছিল। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হল চাঁদে একটি মহাকাশযান অবতরণ করানো, চাঁদের মাটি এবং পাথরের নমুনা সংগ্রহ করা এবং নিরাপদে তা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। এই মিশনে জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২১০৪ কোটি টাকা। চন্দ্রযান ৪ মিশন নিয়ে এখন ইসরোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, ২০২৭ সালেই উৎক্ষেপণ করা হতে পারে চন্দ্রযান ৪। এই আবহে সামনে এল চন্দ্রযান ৫ এর অনুমোদনের খবর। চন্দ্রযান-৫ সম্পর্কে নারায়ণন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মাত্র তিন দিন আগে আমরা চন্দ্রযান-৫ অভিযানের অনুমোদন পেয়েছি (Chandrayaan 5 Mission)। আমরা জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করব।”

    চন্দ্রযান-৫ যে রোভার নিয়ে যাবে তার ওজন হবে ২৫০ কেজি (ISRO)

    প্রসঙ্গত, রবিবারই এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা ঘোষণা করেন ইসরো (ISRO) চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন। তিনি আরও জানিয়েছেন জাপানের সহযোগিতায় এই মিশন পরিচালিত হবে। সম্প্রতি, ইসরো চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ভি নারায়ণন। চন্দ্রযান ৫ মিশন নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, চন্দ্রযান ৩ মিশনে রোভার যন্ত্রটির ওজন ছিল ২৫ কেজি। তবে, চাঁদের পৃষ্ঠদেশে অনুসন্ধানের জন্য চন্দ্রযান ৫ যে রোভারটি নিয়ে যাবে, সেটির ওজন হবে ২৫০ কেজি। বস্তুত, চাঁদের পৃষ্ঠদেশ নিয়ে গবেষণার জন্যই চন্দ্রযান কর্মসূচি শুরু করে ইসরো।

    ২০০৮ সালে পাড়ি দেয় চন্দ্রযান ১, ২০১৯ সালে চন্দ্রযান ২

    চাঁদের দেশে গবেষণা (ISRO) করতে ভারত একাধিক চন্দ্রযান কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রথম মিশন শুরু হয় ২০০৮ সালে। চন্দ্রযান-১, ২০০৮ সালে সফলভাবেই পাড়ি দেয় মহাকাশে। চন্দ্রপৃষ্ঠে রাসায়নিক, খনিজ ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা চালায় চন্দ্রযান ১। ২০১৯ সালে উৎক্ষেপণ করা চন্দ্রযান-২-তে একটি ল্যান্ডার এবং রোভার ছিল, কিন্তু অবতরণের সময় ল্যান্ডারটি বিধ্বস্ত হয়ে মিশনটি (Chandrayaan 5 Mission) শেষ হয়ে যায়। তার পরে ২০১৯ সালে চন্দ্রযান-২ সম্পূর্ণ সাফল্য পায়নি। সেসময় ইসরো প্রধান জানান, লক্ষ্যে সফল না হলেও চন্দ্রযান ২-এর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা থেকে প্রচুর ছবি পাচ্ছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)।

    বিরাট সাফল্য পায় চন্দ্রযান ৩

    পরবর্তীকালে ভারতের মহাকাশ গবেষণা এবং চন্দ্রাভিযানে অন্যতম বড় সাফল্য এসেছে চন্দ্রযান ৩-এর হাত ধরেই। চন্দ্রযান ৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণ করে। উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে গোটা দেশ। চন্দ্রযান ৩-এর ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ যেখানে অবতরণ করে, বিশ্বের অন্য কোনও দেশ সেখানে আজও মহাকাশযান পাঠাতে পারেনি। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৩ অগাস্ট, চাঁদের মাটিতে পা রেখেছিল তৃতীয় চন্দ্রযানের ল্যান্ডার বিক্রম। পাখির পালকের মতো অবতরণ (সফ্‌ট ল্যান্ডিং) করে ওই ল্যান্ডারটি। যা এর আগে কোনও দেশ কখনও করতে পারেনি। তার পেট থেকে বেরিয়ে আসে রোভার প্রজ্ঞান। চাঁদের মাটি-পাথর নমুনা সংগ্রহ করে নিজের মধ্যে থাকা মিনি-গবেষণাগারে পরীক্ষা করে তার ফল পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল প্রজ্ঞান। ১৪ দিনের কাজের পর, ল্যান্ডার ও রোভার চির-ঘুমে চলে যায়। এই সাফল্যের পরেই ২০২৪ সালে চন্দ্রযান ৪ এর অনুমোদন দেয় কেন্দ্রের মোদি সরকার। পরবর্তীকালে ২০২৫ সালে চন্দ্রযান ৫ কেন্দ্রের অনুমোদন পেল।

    মহাকাশ অভিযানে ইসরোর (ISRO) অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প

    চন্দ্রযান অভিযানের বাইরেও, ইসরো বেশ কয়েকটি অন্যান্য কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে। যা নিয়ে চর্চা চলছে দেশজুড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল গগনযান অভিযান। ভারতের প্রথম মানব মহাকাশযান কর্মসূচি হতে চলেছে এই কর্মসূচি। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল ভারতীয় নভোচারীদের মহাকাশে পাঠানো। এছাড়াও, নারায়ণন ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন সাংবাদিক সম্মেলনে। যার নাম হবে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন। এই প্রকল্প ভারতের স্বাধীন মহাকাশ গবেষণার সুবিধা তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন ইসরো প্রধান। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইসরো ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মহাকাশচারী পাঠানোর জন্য কাজ করছে। বর্তমানে, আমেরিকাই একমাত্র দেশ যারা চাঁদে মানুষ পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। জানা গিয়েছে, চিন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভশ্চরদের পাঠানোর জন্যও কাজ করছে।

  • Science News: মৃত্যুর আগের মুহূর্তে মস্তিষ্কের মধ্যে ঠিক কী চলে? গবেষণার তথ্য চমকে দেওয়ার মতো

    Science News: মৃত্যুর আগের মুহূর্তে মস্তিষ্কের মধ্যে ঠিক কী চলে? গবেষণার তথ্য চমকে দেওয়ার মতো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের কৌতূহল থেকেই গিয়েছে যে মৃত্যুর পূর্বে মস্তিষ্কের ঠিক কী রকম পরিবর্তন ঘটে! এই নিয়েই সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফ্রন্টিয়ার্স ইন এজিং নিউরো সায়েন্স জার্নালে (Science News)। ওই প্রতিবেদন অনুসারে বলা হচ্ছে যে মৃত্যুর পূর্বে মস্তিষ্ক জীবনের (Human Brain Before Death) শেষ তথা গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিগুলিকে রোমন্থন করতে থাকে। প্রসঙ্গত, মৃত্যুর পূর্বে মানব মস্তিষ্কের এই পরিবর্তন নিয়ে জার্নালটি প্রকাশিত হয়েছিল আজ থেকে ৩ বছর আগেই। ২০২২ সালের প্রকাশিত হওয়া ওই জার্নাল নিয়ে ফের একবার চর্চা শুরু হয়েছে।

    পরিবর্তন হয় মস্তিষ্কের তরঙ্গের (Science News)

    বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে লক্ষ্য করেছেন মস্তিষ্কের (Science News) বেশ কিছু তরঙ্গেরও পরিবর্তন ঘটে। গামা তরঙ্গ যা কিনা মানুষের স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যান্য তরঙ্গগুলি হল ডেল্টা, থিটা, আলফা এবং বিটা- এই তরঙ্গগুলিও ওঠানামা করতে দেখা গিয়েছে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে। ওই গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মৃত্যুর পূর্বে মস্তিষ্কে জীবনের শেষ মুহূর্তগুলিতে ফিরে আসে জীবনের স্মৃতিগুলি। এনহ্যান্সড ইন্টারপ্লে অফ নিউরোনাল কোহেরেন্স অ্যান্ড কাপলিং ইন দ্য ডাইং হিউম্যান ব্রেন শিরোনামে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ২০২২ সালে।

    ৮৭ বছর বয়সি এক রোগীর ওপর গবেষণা (Science News)

    এই গবেষণায় মৃত্যুর আগে এবং পরে মস্তিষ্কের (Science News) কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি ৮৭ বছর বয়সী একজন মৃগী রোগীর ওপরে করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ওই ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে খবর। ডাক্তাররা মৃত্যুর সময় প্রায় ৯০০ সেকেন্ড ধরে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ রেকর্ড করেন। এর মধ্যে তাঁরা হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়ার আগে এবং পরের ৩০ সেকেন্ড মস্তিষ্কের পরিবর্তনগুলি পরীক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। কেন্টাকির লুইসভিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডঃ আজমল জেম্মার মতে, ‘‘মৃত্যুর আগে মস্তিষ্ক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ জীবনের ঘটনাগুলিকে শেষবারের মতো স্মরণ করে।’’

  • Science News: জীবনকে আলোকিত করে এক অদৃশ্য শক্তি, রয়েছে ঈশ্বরের অস্তিত্ব, দাবি হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীর

    Science News: জীবনকে আলোকিত করে এক অদৃশ্য শক্তি, রয়েছে ঈশ্বরের অস্তিত্ব, দাবি হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঈশ্বরের উপস্থিতি সত্যিই রয়েছে! এমনটা আর কোনও ধর্মগুরু নয়, বলছেন নামকরা বিজ্ঞানী (Science News)। অলমাইটি গড কিংবা ঈশ্বর যে নামই হোক না কেন! মানুষ সমস্যায় পড়লে তাঁকেই স্মরণ করে। এবার ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়েই অবাক দাবি করলেন বিজ্ঞানী উইলি সুন। প্রথমে এই বিজ্ঞানীর একটু পরিচয় জেনে নেওয়া যাক। ডঃ উইলি সুন আসলে একজন একজন জ্যোতির্পদার্থবিদ তথা এ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার। হার্ভার্ড অ্যান্ড স্মিথসন সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে দীর্ঘ সময়ে কর্মরত ছিলেন তিনি, এমনটাই জানা যায়।

    ঈশ্বরের অস্তিত্বের সপক্ষে কী বললেন বিজ্ঞানী?

    সৃ্ষ্টির সূচনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে রয়েছে ভিন্ন মত (Science News)। একইভাবে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়েও নানা মত রয়েছে। এই আবহে হার্ভার্ডের বিজ্ঞানী (Harvard Scientist) এবার ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে সওয়াল করলেন। জানালেন, ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ রয়েছে তাঁর কাছে। ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ হিসেবে গাণিতিক সূত্রও তুলে ধরেন বিজ্ঞানী। Tuckert Carlson Network-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঈশ্বরের অস্তিত্ব রয়েছে বলে দাবি করেন এই বিজ্ঞানী। নিজের দাবির সপক্ষে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের জীবনকে সর্বদা আলোকিত করে চলেছে কিছু শক্তি। ঈশ্বর (Science News) আমাদের এই আলো দিয়েছেন, যথাসাধ্য সেই আলোকে অনুসরণ করতে পারি আমরা। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি একটু দুর্বল হলেই গ্রহের সৃষ্টি হতো না। আবার একটু বেশি হলে গ্রহ কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হত। ব্রহ্মাণ্ডের সবকিছুতেই ঈশ্বরের হাত রয়েছে।’’

    Fine Tuning Arguement তত্ত্ব আসলে কী

    উইলি ওই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব (Science News) নিয়ে তাঁর যে তত্ত্ব, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে Fine Tuning Arguement. অর্থাৎ ব্রহ্মাণ্ডে ভৌত সমীকরণ প্রাণসৃষ্টির জন্য এতটাই নিখুঁত যে তা কোনও অপ্রত্যাশিত ভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনা হতে পারে না। কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। Tucker Carlson Network-এ উপস্থিত হয়ে তিনি Fine-Tuning Argument নিয়ে আলোচনা করেন। এই তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্বের ভৌত আইন ও ধ্রুবকগুলির মান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সজ্জিত। যা জীবনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে পৃথিবীতে। বিজ্ঞানী উইলির মতে, এই নিখুঁত সামঞ্জস্য নিছক কোনও দুর্ঘটনা হতে পারে না, বরং এর পিছনে একটি ঐশ্বরিক পরিকল্পনা থাকতে পারে।

    ১৯৬৩ সালে বিজ্ঞানী পল ডিরাক প্রথম এই দাবি করেন

    তবে উইলির আগে এই সূত্রটি প্রথম কেমব্রিজের গণিতবিদ পল ডিরাক উপস্থাপন করেন। ১৯৬৩ সালে পল ডিরাক প্রথম এই তত্ত্ব তুলে ধরেন। ওই বিজ্ঞানীর মত ছিল, কিছু মহাজাগতিক ধ্রুবক এতটাই নিখুঁত, তা নেহাত কোনও আকস্মিক ঘটনা হতে পারে না। ১৯৬৩ সালে ডিরাক লেখেন, ‘‘প্রকৃতির মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে অন্যতম হল, মৌলিক ভৌত সমীকরণগুলিকে গাণিতিক সূত্রের নিরিখে অত্যন্ত সুন্দর ও বলিষ্ঠ ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা বোঝার জন্য গণিতের যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।। প্রকৃতির গঠন অত্যন্ত সুন্দর। এটা মানতেই হবে। কেউ বলতেই পারেন যে ঈশ্বর আসলে গণিতবিদ, অত্যধিক উন্নত (Science News) গণিত প্রয়োগ করে ব্রহ্মাণ্ড তৈরি করেছেন তিনি।’’ ডিরাক আরও লিখেছিলেন, ‘‘ঈশ্বর একজন উচ্চমানের গণিতবিদ হতে পারেন, যিনি উন্নত গণিতের সাহায্যে মহাবিশ্ব গঠন করেছেন।’’

    জীবনকে আলোকিত করতে কাজ করে এক অদৃশ্য শক্তি

    Tucker Carlson Network-এ ডক্টর উইলি সুন ডিরাকের তত্ত্বের ভিত্তিতেই ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের জীবনকে আলোকিত করার জন্য সর্বদা এক অদৃশ্য শক্তি কাজ করে। ঈশ্বর আমাদের এই আলো দিয়েছেন, যা আমাদের অনুসরণ করা উচিত।’’ তাঁর মতে, ‘‘মহাবিশ্ব যে সুনির্দিষ্ট গাণিতিক নিয়ম অনুসরণ করে, তা ঈশ্বরের উপস্থিতির প্রমাণ হতে পারে।’’ উইলি সুনের এই বক্তব্যে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেউ কেউ মনে করেন, বিজ্ঞান ঈশ্বরের অস্তিত্বকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। আবার অনেকে মনে করছেন, বিজ্ঞান নিজেই ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে পারে।

    ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে স্টিফেন হকিং কী লিখেছিলেন

    ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে স্টিফেন হকিং-ও মুখ খুলেছিলেন। নিজের অসুস্থতা নিয়ে শেষ বই Brief Answwers to the Big Questions-তে হকিং লেখেন, ‘‘আমার মতো প্রতিবন্ধীরা ঈশ্বরের অভিশাপের ফলে দুর্দশা ভোগ করছেন বলে বহু শতাব্দী পর্যন্ত বিশ্বাস করতেন মানুষজন। হতে পারে উপরের কাউকে আমি কষ্ট দিয়েছি। কিন্তু আমার মনে হয়, প্রকৃতির নিয়ম মেনেই প্রত্যেকটি বিষয়কে অন্য ভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। আমার মতো আপনি যদি বিজ্ঞানে বিশ্বাস করেন, কিছু নীতিনিয়ম সর্বদা মেনে চলি আমরা। এই নীতি-নিয়ম ঈশ্বরের বলা যেতে পারে, কিন্তু তা ঈশ্বরের সংজ্ঞা, তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ নয়।’’

  • Death Study: মৃত্যুর পরে আত্মার শরীর ত্যাগের সময় কী করে মস্তিষ্ক? নতুন দিশা গবেষণায়

    Death Study: মৃত্যুর পরে আত্মার শরীর ত্যাগের সময় কী করে মস্তিষ্ক? নতুন দিশা গবেষণায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্ম অনুসারে মৃত্যুতে আমাদের শুধু শরীর বিনষ্ট হয়। আত্মা অবিনশ্বর। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যে আমরা যেমন জীর্ণ পোশাক ছেড়ে নতুন পোশাক পরি, তেমন আত্মাও জীর্ণ দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহে প্রবেশ করে। মৃত্যু নিয়ে আমাদের চিন্তা -ভাবনা অনেক গভীরে। মৃত্যুর (Death Study) পরেও কি জীবনকে অনুভব করতে পারে মানুষ? হৃদস্পন্দন, রক্তপ্রবাহ থেমে যাওয়ার পরেও কি সক্রিয় থাকে মস্তিষ্ক, অন্তত কিছু ক্ষণ? মস্তিষ্কে আন্দোলিত হয় কোনও তরঙ্গ যা কি না মৃত্যুর অতলে তলিয়ে যাওয়ার সময়ও তুলে ধরে ফেলে আসা জীবনের ছবি? সাম্প্রতিক একটি গবেষণা এই সব প্রশ্নকেই উস্‌কে দিল। যা হৃদস্পন্দন, রক্ত প্রবাহ পুরোপুরি থেমে যাওয়ার পরের কিছু ক্ষণ ধরে মস্তিষ্কে কী কী ঘটে সেই সব ঘটনাই রেকর্ড করল। এই প্রথম।

    আত্মার শরীর ত্যাগ

    মৃত্যুর পর (Death Study) নিথর হয়ে যায় দেহ। কিন্তু আত্মার শেষও (Soul Leaving the Body) কি মৃত্যুতে? কোনও ব্যক্তির শরীর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলে, সঙ্গে সঙ্গে আত্মাও কি শেষ হয়ে যায়, না কি আরও কিছু ক্ষণ শরীরে বিরাজ করে আত্মা? এ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চিকিৎসকরা যদি কাউকে মৃত ঘোষণা করেও দেন, তার পরও কিছু ক্ষণ মস্তিষ্ক কার্যকর থাকে। ওই সময়ই শরীর থেকে বেরিয়ে যায় আত্মা। মৃত্যুর আগের মুহূর্তে মানবশরীরে ঠিক কী ঘটে, তা নিয়ে গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মৃত্যু পথগামী রোগী, যাঁর কোনও হৃদস্পন্দন নেই, রক্তচাপও নেই, অথচ মস্তিষ্ক কিছু ক্ষণ সক্রিয় থাকে। একঝলকে কোনও শক্তি যেন খেলে যায়, যা শরীর থেকে আত্মার বেরিয়ে যাওয়ার প্রমাণ। অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট এবং মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডঃ স্টুয়ার্ট হামেরফ জানিয়েছেন, এর রোগীকে পর্যবেক্ষণ করে শরীর থেকে আত্মা বেরিয়ে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

    কী ঘটে মৃত্যুর পর

    ইউনিভার্সিটি অফ অ্যারিজোনার অধ্যাপক ডঃ হামেরফ জানিয়েছেন, ক্লিনিক্যালি ডেড এক রোগী, অর্থাৎ যাঁকে মৃত ঘোষণা করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা, তাঁর মস্তিষ্কে নজরদারি চালানো হয়। ব্যবহার করা হয় ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রামের (EEG) সেন্সর। রোগীর মৃত্যুর পরও ওই সেন্সরে অদ্ভূত এক শক্তির ঝলক ধরা পড়ে। ডঃ হামেরফ বলেন, “সব কিছু চলে গিয়েছিল, হঠাৎ শ্শ্শ্…হৃদস্পন্দন নেই, রক্তচাপ নেই, কিন্তু কার্যকলাপ চলছে। হতে পারে সেটি মৃত্যুর কাছাকাছি কোনও অভিজ্ঞতা, অথবা শরীর থেকে আত্মার বেরিয়ে যাওয়া।” আমেরিকার পত্রিকা নিউ ইয়র্ক পোস্টে ডঃ হামেরফ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।

    মৃত্যুর পর শক্তির বিচ্ছুরণ

    শরীর নিথর হয়ে যাওয়ার পর মস্তিষ্কের ওই কার্যকলাপকে গামা সিক্রোনি নামক কার্যকলাপের বিস্ফোরণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এটি একটি মস্তিষ্কে খেলে যাওয়া এক ধরনের তরঙ্গ, যা আমাদের সচেতন চিন্তা, সচেতনতা এবং উপলব্ধির সঙ্গে সংযুক্ত। ইইজি-তে সেই কার্যকলাপই ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন ডঃ হামেরফ। তিনি জানিয়েছেন, ৩০ থেকে ৯০ সেকেন্ড পর্যন্ত এই কার্যকলাপ স্থায়ী হতে পারে। মৃত ঘোষণা করে দেওয়ার পরও চলে। ৫০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটে বলে জানিয়েছেন ডঃ হামেরফ। ক্ষণস্থায়ী ওই কার্যকলাপকে অনেকে নিউরনের ‘শেষ নিঃশ্বাস’ বলেন।

    চেতনার অবলুপ্তি, বলছে বিজ্ঞান

    ডঃ হামেরফের মতে, আসলে চেতনা (Soul Leaving the Body) শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ারই প্রতীক ওই কার্যকলাপ। তাঁর মতে, চেতনা ধরে রাখতে বেশি শক্তির প্রয়োজন পড়ে না শরীরের। মস্তিষ্কের একেবারে গভীরে লুকিয়ে থাকে চেতনা। মানবশরীর যখন শেষ হয়, তাই একেবারে শেষে চেতনার অবলুপ্তি ঘটে। এ প্রসঙ্গে একটি গবেষণাপত্রেরও উল্লেখ করেন ডঃ হামেরফ, যার নেতৃত্বে ছিলেন ডঃ রবিন লেস্টার কারহার্ট-হ্যারিস। মানসিক স্বাস্থ্য এবং আচরণের উপর ওষুধের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। ইইজি-র পর্যবেক্ষণে এমআরআই করা হয় অনেকের, যেখানে সকলকে সাইকো অ্যাক্টিভ কমপাউন্ড দেওয়া হয়েছিল। চোখ বুজে সকলে শুয়েছিলেন। নড়াচড়া বারণ ছিল। সেই অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, তা পরীক্ষার পর ব্যাখ্যাও করতে হয় সকলকে।

    জীবনের চিরন্তন সত্য মৃত্যু

    প্রত্যেক জীবন্ত প্রাণীর জীবনে মৃত্যু অনিবার্য। এই পৃথিবীতে যার জন্ম হয়েছে, তার মৃত্যু হবেই। তবে মৃত্যু ঠিক কবে এবং কী ভাবে আমাদের সামনে আসবে, তা আমরা কেউ জানি না। কিন্তু আমাদের জীবনে আর কিছু ঘটুক বা না ঘটুক, মৃত্যু ঘটবেই। আর এই সত্য আমরা কেউ পরিবর্তন করতে পারি না। হিন্দুধর্মের অন্যতম শাস্ত্রগ্রন্থ হল গরুঢ় পুরাণ। এই শাস্ত্রে মৃত্যু ও মৃত্যুর পরের অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। গরুঢ় পুরাণে শ্রীবিষ্ণু নিজের বাহন গরুঢ় পাখিকে মানুষের কর্মফলের ভিত্তিতে যে মৃত্যুযন্ত্রণা ও মৃত্যুর পরের কষ্ট ভোগ করতে হয়, তার বর্ণনা দিয়েছেন ও কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। আধুনিক বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত মৃত্যুর পরের রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করছে। আগামী দিনে এ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ডঃ হামেরফ।

  • Chandrayaan 3: চাঁদের মেরুতে বরফ নিয়ে ধারণা বদলে দিল চন্দ্রযান ৩-এর পাঠানো তথ্য, কী আছে তাতে?

    Chandrayaan 3: চাঁদের মেরুতে বরফ নিয়ে ধারণা বদলে দিল চন্দ্রযান ৩-এর পাঠানো তথ্য, কী আছে তাতে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চাঁদে (Moon) থাকা বরফ নিয়ে ধারণা পালটে দেওয়ার মতো তথ্য সামনে এসেছে। চন্দ্রযান ৩-এর (Chandrayaan 3) পাঠানো ডেটা থেকে এটা জানতে পারা গিয়েছে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, চাঁদের মেরু অঞ্চলে অনেক স্থানে পৃষ্ঠের ঠিক নীচে বরফ থাকতে পারে। এর পাশাপাশি, এই বরফের পরিমাণ নিয়ে আগে যে ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়েও বেশি বরফ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৩ অগাস্ট চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল চন্দ্রযান ৩।

    রিপোর্ট তৈরি করেছেন দুর্গা প্রসাদ কর্ণম

    আহমেদাবাদে অবস্থিত ভৌতিক গবেষণাগারের ফ্যাকালটি সদস্য দুর্গা প্রসাদ কর্ণম এই রিপোর্টটি তৈরি করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি পিটিআই-কে জানিয়েছেন যে, চন্দ্রপৃষ্ঠের (Chandrayaan 3) তাপমাত্রায় বড় এবং স্থানীয় পরিবর্তনগুলি সরাসরি বরফের সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই বরফ কণাগুলি দেখে তাদের উৎপত্তি এবং ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসতে পারে।

    ‘কমিউনিকেশন্স আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে

    এই সম্পর্কিত রিপোর্টটি ‘কমিউনিকেশন্স আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এই নিয়ে দুর্গা প্রসাদ কর্ণম বলেছেন, ‘‘এই থেকে আমরা এটাও জানতে পারব যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে চাঁদে (Moon) বরফ জমা হয় এবং চাঁদের পৃষ্ঠে কীভাবে থেকে যায়। এর ফলে এই প্রাকৃতিক উপগ্রহের প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।’’

    চাঁদের পৃষ্ঠে অতি উচ্চ শূন্যতা থাকার কারণে তরল আকারে জল টিকে থাকতে পারে না

    চাঁদে (Chandrayaan 3) বরফ জলে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে পিটিআই-কে দুর্গা প্রসাদ কর্ণম বলেছেন, ‘‘চাঁদের পৃষ্ঠে অতি উচ্চ শূন্যতা থাকার কারণে তরল আকারে জল টিকে থাকতে পারে না। তাই, বরফ তরলে পরিণত হতে পারবে না, বরং বাষ্পে পরিণত হবে।’ কর্ণম বলেছেন, বর্তমান ধারণা অনুযায়ী, চাঁদে অতীতে বসবাস উপযোগী পরিবেশ ছিল না।’’

    ২০২৩ সালের ২৩ অগাস্ট দক্ষিণ মেরুর কাছে ‘সফট ল্যান্ডিং’ করেছিল চন্দ্রযান ৩

    প্রসঙ্গত, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) কর্তৃক বেঙ্গালুরু থেকে উৎক্ষেপিত চন্দ্রযান ৩, ২০২৩ সালের ২৩ অগাস্ট দক্ষিণ মেরুর কাছে ‘সফট ল্যান্ডিং’ করেছিল। এর তিন দিন পর, ২৬ অগাস্ট ‘ল্যান্ডিং’ স্থলের নামকরণ করা হয়েছিল ‘শিব শক্তি পয়েন্ট’। চাঁদের মাটিতে চন্দ্রযানের (Chandrayaan 3) ল্যান্ডার ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেছিল।

  • Earthquakes: কেন বার বার ভূমিকম্পে হচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশ অঞ্চলে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Earthquakes: কেন বার বার ভূমিকম্পে হচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশ অঞ্চলে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত সাত দিনে ভারতীয় উপমহাদেশের (Indian Subcontinent) চারটি বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প (Earthquakes) অনুভূত হয়েছে। সবগুলিই ছোট থেকে মাঝারি মানের। কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বললেই চলে। কিন্তু, বিশেষজ্ঞরা স্বস্তিতে থাকতে নারাজ। পর পর কম্পনের মধ্যে তাঁরা একটা অশনি সঙ্কেত দেখতে পাচ্ছেন। তাঁদের মতে, ছোট ছোট হতে হতে কোনওদিন এমন একটা শক্তিশালী কম্পন হবে যে বড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। আগাম সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। একইসঙ্গে এও ব্যাখ্যা করেছেন, কেন বার বার কেঁপে উঠছে ভারতীয় উপমহাদেশ (Indian Subcontinent) অঞ্চল।

    এক সপ্তাহে চার বার!

    কেন বার বার ভূমিকম্প (Earthquakes) হচ্ছে, এটা বোঝার আগে, দেখে নেওয়া যাক, গত সাতদিনে ঘটে যাওয়া চারটি ভূমিকম্পের খতিয়ান—

    বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে নেপাল। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.১। জানা গিয়েছে, নেপালের স্থানীয় সময় রাত ২টো ৫১ মিনিট নাগাদ হঠাৎই কেঁপে ওঠে নেপালের মধ্য এবং পূর্বাংশ। ভূ-কম্পন অনুভূত হয় শিলিগুড়ি এবং পাটনাতেও। বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পের (Earthquakes) উৎসস্থল নেপালের সিন্ধুপালচক জেলার ভৈরবকুণ্ড। জানা গিয়েছে, মাটির অন্তত ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনের উৎপত্তিস্থলটি।

    তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে, বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে অসম। প্রতিবেশী বাংলাদেশ, মায়ানমার, ভুটান ও চিনের একাধিক এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়। জানা গিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৫.০। অসমের মরিগাঁওতে ছিল ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মাটি থেকে ১৬ কিলোমিটার গভীরে।

    তার আগে, মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সাতসকালে ভূমিকম্পে (Earthquakes) কেঁপে উঠেছিল কলকাতা-সহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ কম্পন অনুভূত হয় কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার বিস্তীর্ণ অংশে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.১। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল বঙ্গোপসাগর।

    এর আগে, সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টা ৩৬ মিনিটে কেঁপে ওঠে দিল্লি। প্রায় ৫ থেকে ৬ সেকেন্ড ধরে স্থায়ী হয় কম্পন। ভূমিকম্পের সঙ্গে জোরালো আওয়াজও হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল দিল্লির ধৌলাকুঁয়া। রিখটার স্কেলে দিল্লির ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.০। দিল্লিতে ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা পর সেদিনই কেঁপে ওঠে বিহারও।

    কেন বার বার হচ্ছে ভূমিকম্প? (Earthquakes)

    প্রায়ই ছোট থেকে মাঝারি কম্পন হচ্ছে উত্তর, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারত– বিশেষ করে হিমালয়ান বেল্ট ও তার লাগোয়া অঞ্চলে (Indian Subcontinent)। এক সপ্তাহ জুড়ে পর পর ভূমিকম্প হয়ে চলেছে ভারতীয় উপমহাদেশ অঞ্চলে। কেন হচ্ছে?

    নেপাল — বিশ্বের তীব্র ভূমিকম্প (Earthquakes) প্রবণ এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম নেপাল। কারণ নেপালের তলায় ইউরেশীয় পাতকে প্রতি বছর ৫ সেমি করে দূরে সরিয়ে দেয় ভারতীয় পাত। যার জেরে সংঘর্ষে ভূমিকম্প হয় এই এলাকাগুলিতে। মাটির তলায় টেকটনিক প্লেটগুলির এহেন অবস্থানের কারণে হিমালয়ের কোলে বারবার ভূমিকম্প দেখা দেয়। উপরন্তু নেপালের ভূপৃষ্ঠ তৈরি হয়েছে নতুন শিলা দিয়ে। কাঠমাণ্ডুর মতো শহরগুলিতে অপরিকল্পিতভাবে নগরায়নের ফলেও মাটির উপর চাপ বাড়ছে।

    পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ-বঙ্গোপসাগর — বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইনসহ টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান। এ কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর বঙ্গোপসাগর ভূমিকম্পের (Earthquakes) ঝুঁকিতে রয়েছে। কলকাতার তলায় আছে ইন্ডিয়ান ও টিবেটান প্লেট। প্রতি বছর এই ইন্ডিয়ার প্লেট ৫ সেন্টিমিটার করে সরে যাচ্ছে টিবেটান প্লেটের দিকে। যার কারণে লাগছে ধাক্কা। হচ্ছে ভূমিকম্প।

    দিল্লি — গোটা হিমালয় অঞ্চলই ভূমিকম্পের দিক থেকে অত্যন্ত সক্রিয়। দিল্লি হিমালয়ে নিকটবর্তী হওয়ায় সেখানে কম্পনের ঝুঁকি রয়েছে। জাতীয় ভূকম্পন (Earthquakes) কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির কাছে আরও বেশ কিছু দুর্বল অঞ্চল এবং ফল্ট লাইনও রয়েছে। গোটা উত্তর-পশ্চিম ভারত দাঁড়িয়ে রয়েছে এমন একটি ‘কম্পন অধ্যুষিত’ অঞ্চলে যাকে ভূকম্প বিশেষজ্ঞেরা ‘হটস্পট’ বলে অভিহিত করেছেন। অর্থাৎ কি না এই অঞ্চলে প্রতিনিয়তই রিখটার স্কেলে ৪, সাড়ে ৪, ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েই থাকে। বিশেষজ্ঞেরা এই কম্পনে মোটেই বিচলিত নন।

    বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের (Indian Subcontinent)

    বার বার এই কম্পনে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে বিজ্ঞানীদের কপালে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এবার যে কোনও সময় হয়ত বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। যার জেরে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এই অঞ্চলে। তাঁদের মতে, একটি শক্তি ক্রমশ জমা হচ্ছে মাটির নীচে। যত শক্তি পুঞ্জীভূত হবে তত বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আছে। তাঁরা এ-ও জানাচ্ছেন, মাটির তলার জল কমে যাওয়ার কারণে হচ্ছে কম্পন (Earthquakes)। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ছোট ছোট ভূমিকম্পের পর বড় বিপর্যয়ের আভাস হতে পারে, এবং এ কারণে অবিলম্বে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা (Indian Subcontinent)।

  • Gautam Adani: ইসরোর সঙ্গে কাজ করবে আদানির সংস্থা! টক্কর দেবে ইলন মাস্কের স্পেস এক্সকে?

    Gautam Adani: ইসরোর সঙ্গে কাজ করবে আদানির সংস্থা! টক্কর দেবে ইলন মাস্কের স্পেস এক্সকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে এখন অনেকটা জায়গা করে নিয়েছে ইলন মাস্কের স্পেস এক্স বা জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের মতো সংস্থা। এবার ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোও গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল বা এসএসএলভি (SSLV) তৈরিতে দুটি সরকারি সংস্থার পাশাপাশি ইসরোকে সাহায্য করবে আদানি গ্রুপের একটি সংস্থাও। এর মধ্য দিয়েই গৌতম আদানি গ্লোবাল স্পেস ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করবেন। এর ফলে আদানি (Gautam Adani) গ্রুপ স্যাটেলাইট লঞ্চ মার্কেটে ইলন মাস্কের স্পেস এক্সের মতো শীর্ষস্থানীয় সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে।

    স্পেস সেক্টরে ভারতীয় বাজার তৈরির চেষ্টা

    ২০২৩ সালে স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের সফল উৎক্ষেপণের পর কেন্দ্রীয় সরকার এই রকেট উৎপাদনের জন্য কোনও বেসরকারি সংস্থাকে এই প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে চেয়েছিল। আর এর পিছনে সরকারের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য ছিল ভারতের স্পেস সেক্টরের বাণিজ্যিকরণ করা। মনে করা হচ্ছে, সরকারের এটা ছিল বেসরকারিকরণের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ। সরকার আশা করেছিল স্পেস সেক্টরের কিছুটা বেসরকারিকরণ হলে ভারতীয় সংস্থাগুলো এই সেক্টরে গোটা বিশ্বের বাজার আরও দ্রুত ধরতে পারবে। আর তাতে আখেরে লাভ হবে আমাদের দেশের অর্থনীতিরই। এই এসএসএলভির উৎপাদনের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য প্রায় ২০টি বেসরকারি সংস্থা আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত এই দায়িত্ব পেয়েছে ৩টি সংস্থার মধ্যে একটি। যার মধ্যে রয়েছে ভারত ডায়নামিক্স ও হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। এছাড়া তৃতীয় সংস্থা হিসাবে এই রকেট উৎপাদনের দায়িত্ব পেয়েছে আলফা ডিজাইন টেকনোলজিস। আর এই সংস্থাতেই অংশীদারিত্ব রয়েছে আদানি গ্রুপের অধীনস্ত সংস্থা আদানি ডিফেন্স সিস্টেমের।

    আদানির কৌশলগত পদক্ষেপ

    আদানি গ্রুপ (Gautam Adani) ভারতীয় স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (SSLV) তৈরির জন্য তিন ফাইনালিস্টের মধ্যে একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। অন্য দুটি প্রতিযোগী হল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ভারত ডাইনামিক্স লিমিটেড (BDL) এবং হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)। যদি আদানি ডিফেন্স সিস্টেমসকে চুক্তি প্রদান করা হয়, তবে তাদের সহযোগী আলফা ডিজাইন টেকনোলজিস এর সাথে মিলে তারা এই পরবর্তী প্রজন্মের লঞ্চ ভেহিকেলগুলি দেশে তৈরি করার দায়িত্ব নেবে। চুক্তি অনুযায়ী নির্বাচিত কোম্পানিকে ইসরোকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে, যার মধ্যে দুটি এসএসএলভি লঞ্চ সফলভাবে সম্পাদনের জন্য ২৪ মাসের চুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যদি এই প্রকল্পে আদানি গ্রুপ সফল হয়, তবে এটি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈচিত্র্য আনবে। আদানি ডিফেন্স সিস্টেমসের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বিশেষ জ্ঞান রয়েছে। এবার এক্ষেত্রে কাজ করলে আদানি গ্রুপ স্যাটেলাইট লঞ্চ মার্কেটে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এর ফলে ভারতের গ্লোবাল স্পেস প্লেয়ার হিসেবে অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

    এসএসএলভি কি?

    স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল (SSLV) হলো একটি খরচ সাশ্রয়ী রকেট যা ভারতীয় স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO) দ্বারা তৈরি হয়েছে। এটি ছোট স্যাটেলাইট লঞ্চের জন্য বিশ্বের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে তৈরি। এই এসএসএলভি ৫০০ কেজি বা ১ হাজার ১০০ পাউন্ড পর্যন্ত ভরের স্যাটেলাইটকে লোয়ার আর্থ অর্বিট বা এলইও-তে প্রতিস্থাপন করতে পারে। যোগাযোগ, আবহাওয়া পূর্বাভাস, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি নানা কাজে স্মল স্যাটেলাইটগুলি সাহায্য করে।

    ইলন মাস্ককে চ্যালেঞ্জ

    মহাকাশের দৌড়ে অনেক ক্ষেত্রেই ভারতীয় সংস্থা ইসরো পিছনে ফেলে দিয়েছে আমেরিকান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাকে। কম খরচে মহাকাশে নিখুঁতভাবে স্যাটেলাইট পাঠানো সংস্থাগুলোর তালিকায় ক্রমাগত উপরের দিকে উঠে এসেছে ইসরো। আর এবার তারা এসএসএলভি (SSLV) বা স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল উৎপাদনের জন্য গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে এখন অনেকটা জায়গা করে নিয়েছে ইলন মাস্কের স্পেস এক্স বা জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের মতো সংস্থা। কিন্তু সেদিক থেকে দেখতে গেলে, ভারতের মহাকাশ গবেষণায় এখনও তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য  বেসরকারি সংস্থার নাম উঠে আসেনি। তবে এবার গৌতম আদানির সংস্থা এসএসএলভি তৈরিতে সাহায্য করলে ভারতেও মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি ছায়া পড়বে। একই সঙ্গে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ককে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথে ধীরে ধীরে পা ফেলতে পারবেন গৌতম আদানি।

  • Mangalyaan 2: মঙ্গলে অবতরণ! মঙ্গলযান ২ ল্যান্ডার মিশনকে অনুমোদন মহাকাশ কমিশনের

    Mangalyaan 2: মঙ্গলে অবতরণ! মঙ্গলযান ২ ল্যান্ডার মিশনকে অনুমোদন মহাকাশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চাঁদের পর এবার মঙ্গল। নতুন মিশনে চোখ ভারতের। মঙ্গল গ্রহে মহাকাশযান অবতরণের জোরদার তৎপরতা চলছে। এই কৃতিত্ব অর্জন করে ফেললে ভারত হবে বিশ্বের চতুর্থ এমন দেশ যারা মঙ্গলে মহাকাশযান পাঠাবে। মার্স ল্যান্ডার মিশন (Mars Lander Mission) আবার মঙ্গলযান-২ (Mangalyaan-2) নামেও পরিচিত। এই মিশনের অনুমোদন দিয়েছে মহাকাশ বিষয়ক কমিশন। এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এই মিশন। মার্স ল্যান্ডার মিশন ভারতের মহাকাশ গবেষণার চেষ্টাকে প্রসারিত করার একটি বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গির অংশ।

    একের পর এক মিশন ইসরোর

    এই উদ্যোগ নেওয়ার পিছনে যা লক্ষ্য রয়েছে তা হল, ভারত ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশে স্পেশ স্টেশন গড়তে চাইছে। ২০৪০-এর মধ্যে প্রথম কোনও ভারতীয়কে চাঁদে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি একাধিক চন্দ্রযান মিশনের লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে ইসরো-র। বহু উচ্চাকাঙ্খা সমৃদ্ধ এইসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভারত নেক্সট জেনারেশন লঞ্চ ভেহিকেল (Next Generation Launch Vehicle)-ও গড়তে উদ্যোগী।

    মঙ্গলযান-২ এর লক্ষ্য

    ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) তাদের মাসিক রিপোর্টে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর মহাকাশ কমিশনের ১৫৪তম সভায় মঙ্গল ল্যান্ডার মিশন (MLM) অনুমোদন পেয়েছে। এই মিশনের লক্ষ্য হলো মঙ্গলের পৃষ্ঠে একটি ভারতীয় মহাকাশযান অবতরণ করা, যা আগে শুধুমাত্র তিনটি দেশ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। মঙ্গলযান ২, যা মঙ্গল অরবিটার মিশন (MOM)-এর পরবর্তী ধাপ, মঙ্গলে ভারতের দ্বিতীয় অভিযান। মিশনের অংশ হিসেবে, ইসরো একটি স্কাই ক্রেনের মাধ্যমে রেট্রোথ্রাস্টার ব্যবহার করে মঙ্গল পৃষ্ঠে ল্যান্ডারটি হাল্কাভাবে নামানোর পরিকল্পনা করেছে।

    একসময় মঙ্গলে জল ছিল!

    বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, একসময় মঙ্গলে জল ছিল। এর পৃষ্ঠে তরল প্রবাহিত হয়েছে। এর ফলে প্রাচীন জীবনের কোনো চিহ্ন মঙ্গল মাটিতে থাকতে পারে। ইসরো এই মিশনের (Mangalyaan 2) মাধ্যমে তাই খুঁজে বের করার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, ইসরো এই অভিযানের জন্য, একটি ছোট ফ্লাইং ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনাও করেছে (ISRO), যা মঙ্গলের পাতলা বায়ুমণ্ডলে কাজ করতে সক্ষম হবে। ড্রোনের পাখা এবং রোটরকে পৃথিবীর তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে ঘুরতে হবে, যাতে তা প্রয়োজনীয় উত্তোলন শক্তি সৃষ্টি করতে পারে।

  • 2024 yr4: হিরোশিমার থেকে শক্তি বেশি ১০ গুণ! পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল গ্রহাণু

    2024 yr4: হিরোশিমার থেকে শক্তি বেশি ১০ গুণ! পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল গ্রহাণু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল বড় এক গ্রহাণু। হিরোশিমায় যে পরমাণু বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছিল তার থেকে ১০০ গুণ বেশি এর শক্তি। ২০২৪ ওয়াইআর৪ নামে ওই বিশাল অ্যাস্টেরয়েড ২ ডিসেম্বর ২০৩২-এ পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটাতে পারে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নাসা-অর্থিত টেলিস্কোপ ব্যবহার করে অ্যাস্টেরয়েড ২০২৪ ওয়াইআর৪ আবিষ্কার করে। প্রথমে এর সংঘর্ষের সম্ভাবনা ছিল ১.২%, তবে সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী এটি ২.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।

    কত বড় এই গ্রহাণু

    বর্তমানে, নাসা ও ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি হাজার হাজার অ্যাস্টেরয়েড পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ২০২৪ ওয়াইআর৪ একমাত্র অ্যাস্টেরয়েড যার সংঘর্ষের সম্ভাবনা ১%-এর বেশি। এটি বর্তমানে টোরিনো ইমপ্যাক্ট হ্যাজার্ড স্কেলে ৩ নম্বরে রয়েছে। এই স্কেলটি ০ থেকে ১০ পর্যন্ত, যেখানে ০ মানে কোন বিপদ নেই এবং ১০ মানে সভ্যতা শেষের সম্ভাবনা হতে পারে। এর আগের যে অ্যাস্টেরয়েডটি এই স্কেলে বেশি রেটিং পেয়েছিল, তা পরবর্তীতে ক্ষতিকর নয় বলে জানা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই অ্যাস্টরয়েডের ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা ১.৮% থেকে ২.৩% হতে পারে। এই অ্যাস্টরয়েডের সাইজ প্রায় ৩০০ ফুট (৯০মিটার) পর্যন্ত হতে পারে। যে সাইজের অ্যাস্টরয়েড আসছে তা পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হলে একটি পুরো শহরকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে৷ ১৯০৮ সালে সাইবেরিয়া তুঙ্গুস্কাতে যে অ্যাস্টরয়েড পড়েছিল এই গ্রহাণুর সাইজটিও সেইটার মতোই বড়৷

    সম্ভাব্য প্রভাব এবং ধ্বংসযজ্ঞ

    যদি ২০২৪ ওয়াইআর৪ পৃথিবীতে আঘাত হানে, তবে বিস্ফোরণের শক্তি ১৫ মেগাটন টিএনটি-এর সমান হবে, যা হিরোশিমা বোমার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি। সংঘর্ষের ক্ষেত্র থেকে ৫.৭ কিলোমিটার পর্যন্ত ধ্বংসাত্মক প্রভাব অনুভূত হবে। আরো বেশি ধ্বংস ৮.৮ কিলোমিটার এলাকায় হতে পারে, এবং মৃত্যু ঘটতে পারে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত। লন্ডনে সরাসরি আঘাত হানলে, ওয়েস্টমিনস্টার থেকে ক্রোয়ডন পর্যন্ত পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যাবে। ম্যানচেস্টার, বেলফাস্ট, অথবা এডিনবরা শহরেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হবে। এমনকি ছোট শহরগুলোও কয়েক মাইল জুড়ে বিধ্বস্ত হবে। তবে,বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এখনও সংঘর্ষের সম্ভাবনা কম। পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশই জলাশয়, তাই সাগরের উপর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি। এর আগে অনেক অ্যাস্টেরয়েডের সংঘর্ষের ঝুঁকি কমে গিয়েছে হিসেব-নিকেশের মাধ্যমে।

  • Chandrayaan 4: চাঁদ থেকে পাথর, মাটি সংগ্রহ করে ফিরবে পৃথিবীতে, কবে পাড়ি দিচ্ছে ‘চন্দ্রযান ৪’?

    Chandrayaan 4: চাঁদ থেকে পাথর, মাটি সংগ্রহ করে ফিরবে পৃথিবীতে, কবে পাড়ি দিচ্ছে ‘চন্দ্রযান ৪’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৭ সালে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেবে ‘চন্দ্রযান ৪’ (Chandrayaan 4)। ওই অভিযানে চাঁদের পাথর, মাটির নমুনা নিয়ে ফের পৃথিবীতে ফিরে আসবে মহাকাশযানটি। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh)। একইসঙ্গে, ‘গগনযান’ (Gaganyaan Mission) ও ‘সমুদ্রযান’ (Samudrayaan Mission) মিশনের সময়ও ঘোষণা করেন তিনি। ফলে, আগামী তিন বছর ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সময় আসতে চলেছে (ISRO Future Projects)।

    চাঁদের পাথর-মাটি নমুনা সংগ্রহ

    জিতেন্দ্র জানান, চন্দ্রযান ৪ (Chandrayaan 4) অভিযানে প্রথমবার ব্যবহার করা একটি নয়, দুটি হভি লিফ্ট এলভিএম ৩ রকেট (LVM3 Rocket)। দুই ভারী রকেটে করে পাঠানো হবে এই মিশনের জন্য প্রয়োজন পাঁচটি বিভিন্ন অংশকে। সেগুলি দুটি ভাগে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে সেখানে জুড়বে। চন্দ্রযান ৪ (Chandrayaan 4) মিশনের লক্ষ্য হল চাঁদের থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফিরে আসা। অন্যদিকে, গগনযান অভিযান সম্পর্কে বলতে গিয়ে জিতেন্দ্র জানান, আগামী বছর মহাকাশে পাড়ি দেবে গগনযান। ওই মিশনে পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে চার ভারতীয় মহাকাশচারীকে পাঠানো হবে। শুধু মহাকাশ নয়, সমুদ্রের গভীরেও বিশেষ অভিযান চালাবে ইসরো। সেটাও আগামী বছরেই। জিতেন্দ্র জানান, মিশন সমুদ্রযান-এর মাধ্যমে তিনজন বিজ্ঞানী বিশেষভাবে নির্মিত সাবমার্সিবল (ডুবো) ভেসেলে চেপে সমুদ্রের ৬ হাজার মিটার গভীরে গিয়ে গবেষণা চালাবেন। সিং বলেন, ‘‘বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষতার লক্ষ্যে দেশের এই অগ্রগতি বাকি বিশ্বের সঙ্গে ভারতকে একাসনে বসাবে।’’

    সমুদ্রযান অভিযানের গুরুত্ব অপরিসীম

    গত বছরের স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় সমুদ্রযানের কথা উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। এদিন জিতেন্দ্র জানান, সমুদ্রযান অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হল সমুদ্রতলের মূল্যবান সম্পদ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের উন্মোচন করা যা আখেরে ভারতের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত লক্ষ্যপূরণের জন্য অপরিহার্য। গগনযান মিশন নিয়ে বলতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, চলতি বছর এই অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে দেশে তৈরি হিউম্যানয়েড রোবট ‘বিয়োমিত্র’-কে মহাকাশে পাঠানো হবে এবং আবার ফিরিয়ে আনা হবে। এর পর, সামনের বছর মানব-অভিযান সম্পন্ন করা হবে (ISRO Future Projects)।

    মোদি জমানায় মহাকাশ সেক্টরে বিপুল উন্নতি

    জিতেন্দ্র সিংয়ের মতে, মোদি জমানায় গত এক দশকে মহাকাশ সেক্টরে (India Space Sector) প্রভূত পরিমাণ উন্নতি করেছে ভারত। পরিকাঠামোগত হোক বা বিনিয়োগ এই ক্ষেত্রে ভারত ব্যাপকহারে অগ্রসর হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ইসরো (ISRO) গঠন হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। এর দুদশক পার করার পর ১৯৯৩ সালে দেশে প্রথম লঞ্চপ্যাড (রকেট উৎক্ষেপণের প্ল্যাটফর্ম) গড়ে তোলে ভারত। দ্বিতীয় লঞ্চপ্যাড নির্মাণ হয় ২০০৪ সালে। তিনি বলেন, ‘‘এখন ভারী রকেট উৎক্ষেপণের জন্য আমরা প্রথমবার তৃতীয় লঞ্চপ্যাড নির্মাণ করছি। পাশাপাশি, শ্রীহরিকোটার চাপ কমাতে এবং ছোট রকেট উৎক্ষেপণের জন্য তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনে নতুন উৎক্ষেপণকেন্দ্র গড়ে তুলছি।’’

    দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে বিনিয়োগর জোয়ার

    বর্তমানে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির মূল্য প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই গতিতে চললে, আগামী এক দশকে তা ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। আর তেমনটা হলে, মহাকাশ-শক্তিধর হিসেবে বিশ্বের হাতে গোনা দেশগুলির সঙ্গে একই সরণিতে চলে আসবে ভারত। এটা সম্ভব হয়েছে কারণ, মোদি জমানায়, এই মহাকাশ বিজ্ঞান ক্ষেত্রে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে বহু বেসরকারি সংস্থাও। যার ফলে, এখন ভারতের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের জোয়ার চোখে পড়ছে (ISRO Future Projects)।

LinkedIn
Share