Category: খেলা

Get updates on Sports News Cricket, Football, Tennis, from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • FIFA World Cup 2026: বিতর্কের বিশ্বকাপ! ‘মার্কিন হানা’য় নিহত ১৬৮ শিশুর স্মারক নিয়ে হাজির ইরান! সেনেগাল-উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের দেহ তল্লাশি

    FIFA World Cup 2026: বিতর্কের বিশ্বকাপ! ‘মার্কিন হানা’য় নিহত ১৬৮ শিশুর স্মারক নিয়ে হাজির ইরান! সেনেগাল-উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের দেহ তল্লাশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মুলুকে ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া সেনেগাল এবং উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের দেহ তল্লাশি করা হল আমেরিকায়। নিরাপত্তাকর্মীরা প্রকাশ্যে ফুটবলারদের তল্লাশি নেন। ব্যবহার করা হয় মাদক সন্ধানী কুকুরও। এই ঘটনায় তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রশ্নের মুখে ফিফার ভূমিকাও। ইরানের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) খেলা নিয়েও বিস্তর টানাপোড়েন চালিয়েছে আমেরিকা। ইরানের এক ডজন ফুটবল আধিকারিকের ভিসা আটকে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যা নিয়ে ইরানি ফুটবলাররা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।

    ইরানের ক্ষোভ

    রবিবারই মেক্সিকো পৌঁছেছে ইরান। সে দেশে পা দেওয়া মাত্র ইরান কোচ আমির ঘালেনোই বলেন, “বারো ঘণ্টার টাইম ডিফারেন্স সামলাতে অন্তত দু’সপ্তাহ আগে এখানে আসা উচিত ছিল আমাদের। পরিবেশের সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট বলেও তো একটা বিষয় থাকে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে টেকনিক্যাল ব্যাপারস্যাপার দেখার আগে প্রয়োজন মানবিক আর নৈতিক বিষয়গুলো মন দিয়ে দেখা।” তুরস্কে লম্বা সময় ট্রেনিং করার পর মেক্সিকোর সীমান্ত-নিকটবর্তী শহর তিজুয়ানাতে গতকাল এসে পৌঁছেছে ইরান দল। আর নামার পর শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিশানা করা শুধু নয়, বিতর্ক সৃষ্টি করেছে ইরানি প্লেয়ারদের পরিহিত একখানা সোনালি পিন! যা একটা সংখ্যা। ১৬৮! ইরান বনাম ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জোটের যুদ্ধ নতুন কোনও খবর নয়। যে যুদ্ধে ইরানের এক প্রাথমিক স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হানায় প্রাণ যায় ১৬৮ জনের। যাদের বেশিরভাগই শিশু ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, দক্ষিণ ইরানের মিনাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হানা হয়। যার দায় সম্পূর্ণ ভাবে গিয়ে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর। হাঙ্গেরির ইরানীয় দূতাবাস থেকে এই ‘পিন’-এর ব্যাপারে পুরোটা বলে দেওয়া হয়েছে।

    ফুটবলারদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ

    বিভিন্ন দেশের ফুটবলার, রেফারিদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পারদ আরও চড়ল সেনেগাল এবং উজবেকিস্তান দল পৌঁছোনোর পর। বিমান থেকে নামার পর টারম্যাকেই সেনেগালের ফুটবলারদের তল্লাশি করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তল্লাশি শেষ হওয়ার আগে তাঁদের বিমানবন্দরের ভিতরেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সেনেগালের ফুটবলারদের সব ব্যাগ খুলেও তল্লাশি চালানো হয়। প্রায় একই ঘটনা ঘটেছে উজবেকিস্তান দলের সঙ্গেও। অনুশীলনের জন্য নিউ ইয়র্কের আইকান স্টেডিয়ামে পৌঁছোনোর পর উজবেক ফুটবলারদের কড়া তল্লাশির মুখে পড়তে হয়। শুধু নিরাপত্তাকর্মীরাই নন, মাদক সন্ধানী কুকুর দিয়েও পরীক্ষা করা হয় প্রত্যেক ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফকে।

    ফুটবল-কে অসম্মান

    এর আগে আমেরিকায় পৌঁছেই দীর্ঘ জেরার মুখে পড়তে হয়েছে ইরাকের স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেনকে। ১০ ঘণ্টার বেশি জেরা করা হয়েছে ইরাকের বিশ্বকাপ দলের চিত্রগ্রাহক তালাল শাহকে। বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা রেফারি সেনেগালের ওমর আব্দুলকাদির আরতানকে। বিশ্বাব ফুটবলের মহাযজ্ঞে বারবার ট্রাম্প প্রশাসনের এই আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া বিভিন্ন দেশের ফুটবলারদের সঙ্গে অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা কর্তৃপক্ষও। আয়োজক দেশ নির্বাচন নিয়ে ফিফার উপর ক্ষোভ বাড়ছে।

  • FIFA World Cup 2026: ভারত না খেললেও, ২৬-এর বিশ্বকাপে ভারতীয় বংশোদ্ভূতের ছোঁয়া! জানেন তাঁরা কারা?

    FIFA World Cup 2026: ভারত না খেললেও, ২৬-এর বিশ্বকাপে ভারতীয় বংশোদ্ভূতের ছোঁয়া! জানেন তাঁরা কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর মাত্র দুই দিনের অপেক্ষা। এরপরই ঢাকে কাঠি পড়ে যাবে বিশ্বকাপ ফুটবলের (Fifa Football World Cup 2026)। কানাডা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের (Football World Cup 2026) আসর বসতে চলেছে। নিঃসন্দেহে এবারের টুর্নামেন্ট উল্লেখযোগ্য থাকবে বিশ্ব ফুটবলের ২ মহারথী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লিওনেল মেসির জন্য। দু’জনে তাঁদের কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে খেলতে নামছেন। তবে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ ভারতীয় ফুটবল প্রেমীদের জন্য়ও একটি বিশেষ কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রায় ২০ বছর পর অর্থাৎ ২০০৬ বিশ্বকাপের পর এবারই কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভুত ফুটবলার বিশ্বকাপের আসরে নামতে চলেছেন। তাও আবার একজন নয়। চার চারজন।

    ২০০৬-এর পর ২০২৬

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চার ফুটবলার। ভারতীয় ফুটবল দল (Indian Football Team) এবারও বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলেও, এই প্রথম একসঙ্গে চারজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিজেদের দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন। ২০০৬ সালে ফ্রান্সের জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলেছিলেন বিকাশ ধোরাসু। তিনি ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত। এরপর ফুটবল বিশ্বকাপের চারটি সংস্করণে কোনও ভারতীয়কে মাঠে দেখা যায়নি। কিন্তু আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে চলা মেগা টুর্নামেন্টে চারজন ভারতীয় বংশোদ্ভুত চারটি বিভিন্ন দেশের হয়ে খেলতে নামবেন। তাঁরা হলেন তাহসিন মহম্মদ জামশিদ, নিশান ভেলুপিল্লাই, স্যামুয়েল মুতুসামি ও সরপ্রীত সিং।

    তাহসিন মহম্মদ জামশিদ

    সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন কাতারের তরুণ উইঙ্গার তাহসিন মহম্মদ জামশিদ। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি কাতার স্টার্স লিগে খেলা প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। দোহায় জন্ম নেওয়া তাহসিনের বাবা-মা কেরলের মালয়ালি পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর বাবা কেরলে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলও খেলেছিলেন। এবার কাতারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তিনি।

    সরপ্রীত সিং

    নিউজিল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন সরপ্রীত সিং। পাঞ্জাবি পরিবার থেকে উঠে আসা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ২০১৮ সাল থেকেই ‘অল হোয়াইটস’ দলে নিয়মিত মুখ। ইউরোপিয় ফুটবলেও তিনি যথেষ্ট পরিচিত নাম। জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে সই করে একসময় বড় চমক দিয়েছিলেন সরপ্রীত। ২০১৯ সালে বায়ার্ন মিউনিখে কুতিনহোর বদলে মাঠে নেমেছিলেন সরপ্রীত। সে দিন তিনি প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভুত হিসেবে খেলেছিলেন বুন্দেশলিগায়। পাঞ্জাব থেকে সরপ্রীতের বাবা–মা পাড়ি দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডে। অকল্যান্ডের দক্ষিণ প্রান্তে পাপাতোয়তোয় অঞ্চলে বাড়ি তাঁদের। সেখানেই শুরু ফুটবল। তার পরে খেলেছেন ওনেহুঙ্গা ক্লাবে। সেখান থেকেই নজরে পড়ে যান ওয়েলিংটন ফিনিক্স যুব টিমের। তার পরে এই টিমের হয়েই খেলেছেন এ লিগে। তার পরে বায়ার্নের দ্বিতীয় ও প্রথম টিম এবং জার্মানির আরও কয়েকটি টিমে খেলে গত মরশুমে খেলেছেন পর্তুগালের ইউনিয়াও দে লেইরিয়াতে। আর ২০১৮ সালে অভিষেকের পরে ধীরে ধীরে নিয়মিত হয়ে উঠেছেন নিউ জিল্যান্ড টিমে।

    নিশান ভেলুপিল্লাই

    অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন নিশান ভেলুপিল্লাই। এই আগুন গতির উইঙ্গারের মা অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান এবং বাবা মালয়েশিয়ান তামিল বংশোদ্ভূত। ইতিমধ্যেই ‘সকারুজ়’ দলে নিজের জায়গা পাকা করতে শুরু করেছেন নিশান।

    স্যামুয়েল মাউতোসামি

    ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর হয়ে খেলবেন স্যামুয়েল মাউতোসামি। ফ্রান্সের প্যারিসে জন্ম হলেও, মায়ের সূত্রে তিনি কঙ্গোর প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর বাবা ইন্দো-গুয়াডেলুপিয়ান তামিল বংশোদ্ভূত। ফরাসি লিগ ওয়ানে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

    কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ

    ভারতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে না থাকলেও, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই চার ফুটবলারের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে গর্বের মুহূর্ত হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে রেকর্ড ৪৮টি দল অংশ নিতে চলেছে। মোট ১০৪টি ম্য়াচ হবে। ১১ জুন উদ্বোধনী ম্য়াচে আয়োজক দেশ মেক্সিকো মুখোমুখি হতে চলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার। আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই ফাইনাল ম্য়াচ। গত বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছিল কাতারে। সেবার ফাইনালে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল আর্জেন্তিনা। লিওনেল মেসির হাতে উঠেছিল বিশ্বকাপ ট্রফি। ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে দিয়েছিল তারা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কি পারবেন নিজের শেষ বিশ্বকাপ স্মরণীয় করে রাখতে?

    ৩৯ দিন ধরে চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট

    মোট ৩৯ দিন ধরে চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। তিনটি দেশের ১৬টি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবার ৪৮টি দল অংশ নেবে। এর আগে বিশ্বকাপে ৩২টি দল খেলত। শেষবার ১৯৯৮ সালে দলসংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। দলসংখ্যা বাড়ায় এবার ম্যাচের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক। এই বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিতে চলেছে কেপ ভার্দে, কুরাকাও, জর্ডন এবং উজবেকিস্তান। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই চার দেশের অভিষেক বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ৪৮টি দলের মোট ১,২৪৮ জন ফুটবলার এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেবেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এত সংখ্যক ফুটবলার আগে কখনও অংশ নেননি। এই ফুটবলাররা বিশ্বের ৭১টি দেশের ৪৪৯টি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

  • Indian Cricket Team: অস্তাচলে সূর্যকুমার, উদয় সূর্যবংশীর! ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড সফরে ভারতের টি২০ দলের অধিনায়ক শ্রেয়স

    Indian Cricket Team: অস্তাচলে সূর্যকুমার, উদয় সূর্যবংশীর! ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড সফরে ভারতের টি২০ দলের অধিনায়ক শ্রেয়স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ভারতীয় দলের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়স আয়ারের নাম ঘোষণা করল ভারতীয় বোর্ড। গত কয়েক দিন ধরেই এই নিয়ে জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেটে শুরু হয়ে গেল অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের যুগ। আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং এশিয়ান গেমসের দল নির্বাচনের পরেই এই ঘোষণা করে বিসিসিআই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দলে জায়গা পাননি। সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন তিলক বর্মা। যশপ্রীত বুমরাকে আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড সিরিজ না রাখা হলেও এশিয়ান গেমসের দলে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি দলে অবশেষে সুযোগ পেয়েছেন তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী।

    নতুন অধ্যায়ের সূচনা

    আগামী ২৬ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এর পরপরই ১ জুলাই থেকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে টিম ইন্ডিয়া। তারপর রয়েছে ২০২৬ এশিয়ান গেমস। এই দল ঘোষণার সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে রয়েছে অধিনায়কত্বে। ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বের ব্যাটন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav)। তাঁর পরিবর্তে আয়ারল্যান্ড সফর, ইংল্যান্ড সিরিজ এবং এশিয়ান গেমসে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে শ্রেয়স আয়ারের (Shreyas Iyer) কাঁধে। অনেকেই মনে করছেন, অজিত আগরকরের অধীনে নির্বাচক কমিটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

    উদয় সূর্যবংশীর

    মুম্বইয়ে বোর্ডের সদর দফতরে জাতীয় নির্বাচকদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। সেই বৈঠকেই সূর্যকুমার যাদবকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে হার্দিক পাণ্ডিয়া এবং রিঙ্কু সিংকে। তবে বড় চমক হিসাবে প্রথমবারের মতো ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছে মাত্র ১৫ বছর বয়সি বৈভব সূর্যবংশী। আইপিএলে দারুণ পারফরম্যান্স করে আলোচনায় আসা এই কিশোরকে নিয়ে আগে থেকেই আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ঘোষিত তিনটি দলেই তাকে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক হলে বয়সের দিক থেকে সে ভেঙে দিতে পারে শচীন তেণ্ডুলকরের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন লিটল মাস্টার। আর বৈভবের বয়স এখন মাত্র ১৫ বছর ৭১ দিন। ফলে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেই সেই রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে।

    বৈভবকে নিয়ে আশাবাদী নির্বাচকরা

    জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকর সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আইপিএলে টানা দুই মরশুম ও অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণেই তাকে দলে নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। তিনি বলেন, “বৈভব নিজের যোগ্যতায় সুযোগ পেয়েছে। ওর পারফরম্যান্সই ওকে দলে নিতে বাধ্য করেছে। ও খুবই তরুণ। কিন্তু আইপিএলে ও অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে ভালো খেলেছে। আমরা সবাই ওর প্রতিভা ও মানসিক দৃঢ়তা দেখতে পাচ্ছি। সুযোগ পেলে নিজের সামর্থ্য আবারও প্রমাণ করবে বলেই আমরা আশাবাদী।”

    আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে ভারতের দল: শ্রেয়স আয়ার (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষন, শিবম দুবে, তিলক বর্মা, নীতীশ কুমার রেড্ডি, অক্ষর পটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, সি ভি বরুণ, রবি বিষ্ণোই, মহম্মদ সিরাজ, হর্ষিত রানা, আরশদীপ সিংহ, প্রিন্স যাদব, বৈভব সূর্যবংশী।

    এশিয়ান গেমসের নির্বাচিত দল: শ্রেয়স আয়ার (অধিনায়ক), সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষন, শিবম দুবে, তিলক বর্মা, নীতীশ কুমার রেড্ডি, অক্ষর পটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, সিভি বরুণ, রবি বিষ্ণোই, হর্ষিত রানা, আর্শদীপ সিংহ, বৈভব সূর্যবংশী, যশপ্রীত বুমরা

  • Bengal Football: অভিষেকের ক্লাবে কালো টাকা! অরূপ-স্বরূপ জুটির ‘সিন্ডিকেট রাজ’, যুবভারতী থেকে আইএফএ— বিস্ফোরক অভিযোগে চাঞ্চল্য

    Bengal Football: অভিষেকের ক্লাবে কালো টাকা! অরূপ-স্বরূপ জুটির ‘সিন্ডিকেট রাজ’, যুবভারতী থেকে আইএফএ— বিস্ফোরক অভিযোগে চাঞ্চল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষা-স্বাস্থ্যের পর এবার রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রেও (Bengal Football) দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৃণমূলের নেতা-কর্মী তথা মন্ত্রী-সাংসদদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্ত শুরু করছে নয়া সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার সব স্তরের দুর্নীতি রুখতে বদ্ধ পরিকর। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ বার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সঙ্গে যুক্ত ডায়মন্ড হারবার এফসি-কে (Diamond Harbour FC) ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির তদন্ত করতে চলেছে। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (Nishith Pramanik) জানিয়েছেন, ক্লাবের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে এবং প্রতিটি অভিযোগই বিস্তারিত ভাবে খতিয়ে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকেও। তিনি ঘটনাচক্রে বাংলার ফুটবল সংস্থা আইএফএ-র সহ-সভাপতিও। স্বরূপ গ্রেফতার হওয়ার পরেই তাঁর এবং অরূপের বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কাজকর্ম নিয়ে সরব হয়েছেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্তও। তাঁর দাবি, জোর করে বৈঠক ভেস্তে দেওয়া, স্পনসর আসতে না দেওয়া, এমনকি যুবভারতীর জেনারেটর নিয়েও সিন্ডিকেটবাজি করা হয়েছে।

    অভিষেকের ক্লাব-এর অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

    এ বছরই আই লিগ (Indian Football League) জিতে আইএসএলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ডায়মন্ড হারবার এফসি। ঠিক তার আগেই ক্লাবকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্লাবের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। সংবাদমাধ্যমকে নিশীথ জানান, ক্লাবের গঠন এবং কার্যকলাপ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে সরকারের কাছে। নিশীথের কথায়, “ডায়মন্ড হারবারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পেয়েছি আমরা। সঠিক নিয়ম মেনে ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কি না তা নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। পাশাপাশি ক্লাব চালানোর অর্থ কোথা থেকে আসে, কোথায় অর্থ খরচ করা হয় তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আলোচনার জন্য স্পনসরদের ডাকা হতে পারে।”

    ফুটবল-ক্লাব ঘিরেও দুর্নীতি অভিষেকের!

    ডায়মন্ড হারবার যে মাঠে অনুশীলন করে, বিধাননগর স্পোর্টস কমপ্লেক্সের সেই মাঠ জোর করে দখল করে রাখার অভিযোগও জমা পড়েছে। নিশীথ বলেছেন, “দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে তার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত সব প্রকাশ্যে আনা হবে।”তিনি আরও বলেছেন, “ক্রীড়া দফতর তদন্ত শুরু করেছে। আমরা নিয়মিত আইএফএ-র সঙ্গে আলোচনা করছি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” নিশীথের দাবি, ডায়মন্ড হারবারের কিছু ফুটবলার সরকারি চাকরি করছেন। নিশীথ বলেন, “আমরা চাই সব ক্লাব ভাল খেলুক এবং উন্নতি করুক। কিন্তু অনৈতিক কোনও কাজ করলে কোনও ভাবেই তা বরদাস্ত করা হবে না।” প্রয়োজন হলে তদন্তে ইডি-র সাহায্যও নেওয়া হবে।

    সল্টলেক স্টেডিয়ামে সিন্ডিকেট-রাজ

    রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ তোলাবাজি ও নানা অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। সল্টলেক স্টেডিয়াম (যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন) চত্বরে তাঁর বিরুদ্ধে জেনারেটর সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর রাজ্য ফুটবল মহলেও তাঁর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিগত সরকারের আমলে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বাংলার ফুটবল সংস্থা আইএফএ-র সহ-সভাপতিও হন। সে সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সল্টলেক স্টেডিয়ামে দুর্নীতির জাল বুনেছিলেন স্বরূপ। এমনই দাবি করলেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত। তাঁর কথায়, “সল্টলেক স্টেডিয়ামে যারাই খেলা আয়োজন করে, তাদের জেনারেটর ভাড়া নিতে হয়। অথচ সরকারের চারটে জেনারেটর রয়েছে। তবু সেগুলো ব্যবহার করা হয় না। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী এবং স্বরূপের চেনাজানা লোকের থেকে সেটা ভাড়া নিতে হত। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, আইএফএ— সবাইকে একই কাজ করতে হয়েছে। বাইরে থেকে কাউকে ডেকে আনা সম্ভব ছিল না। কারণ ওঁদের লোক পুরো সেট-আপ জানত।”

    সরকার ছাড়া বাংলায় খেলাধুলো চালানো সম্ভব নয়!

    ২০২৩ সালে অনির্বাণ সচিব নির্বাচিত হওয়ার সময় স্বরূপও সহ-সভাপতি হয়েছিলেন। শোনা যায়, তাতেও প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর চাপ ছিল। অনির্বাণ বললেন, “এটা মানতেই হবে যে, সরকার ছাড়া বাংলায় খেলাধুলো চালানো সম্ভব নয়। একটা ম্যাচ করতে হলেও স্টেডিয়াম লাগবে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ‘অনুরোধ’ সেই সময়ে রাখা হয়েছিল। উনি বলেছিলেন, আমার ভাই কেন থাকতে পারবে না? ওকেও রাখতে হবে।” অনির্বাণ জানান, স্বরূপ নিজে থেকে কলকাঠি নাড়তেন না। পুরো ব্যাপারটিই করতেন আইএফএ-র গভর্নিং বডিতে থাকা স্বরূপের ‘কাছের লোকেরা’। অনির্বাণ নাম করে তাঁদের ভূমিকার তুলোধনা করলেন। বললেছন, “স্বরূপের সঙ্গে যাঁরা থাকতেন, তাঁরা দিনের পর দিন আইএফএ-কে বিরক্ত করেছেন। রবীন ঘোষ, নজরুল ইসলাম, সৌরভ পালেরা লাগাতার আইএফএ-কে অকারণে চিঠি দিয়েছেন, মামলা করেছেন। অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন গভর্নিং বডির বৈঠকে।”

    প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা চলত

    আইএফএ সচিবের দাবি, তিনি দায়িত্বে আসার পর প্রথম থেকে এতটা অসহযোগিতা ছিল না। আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করে। অনির্বাণের দাবি, “প্রথমে হয়তো ওঁদের ধারণা হয়েছিল যে, আইএফএ-তে আমি হাতের পুতুল হয়ে থাকব। ওঁরা ইচ্ছেমতো দাপাদাপি করবেন। যখন দেখলেন সেটা হচ্ছে না, তখন ঝামেলা করা শুরু করলেন। প্রথম বছর থেকেই ঝামেলা শুরু হয়েছিল। আইএফএ-র ঘরে বসে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন ওঁরা। অতীতে এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে কখনও এমন ঘটেনি। স্পনসর সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী সব জানতেন। কিছু সুবিধা হয়নি। ছ’জন ভূমিপুত্র খেলানোর সিদ্ধান্ত প্রায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কোচেস কমিটির বৈঠকে ওঁদের প্রতিনিধিরা বলেছেন, বিশেষ এক জনকেই কোচ করতে হবে। তা হলে কোচেস কমিটির ভূমিকা কী?” সবক্ষেত্রেই বিগত সরকারের একনায়কতন্ত্র চলত বলে দাবি করেন আইএফএ সচিব। রাজ্যে পালা বদলের পর নতুন সরকার ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি দূর করবে বলেই আশা অনির্বাণের।

  • R Praggnanandhaa: ইতিহাস রচনা প্রজ্ঞানন্দের, নরওয়ে দাবায় প্রথম ভারতীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন

    R Praggnanandhaa: ইতিহাস রচনা প্রজ্ঞানন্দের, নরওয়ে দাবায় প্রথম ভারতীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরওয়ে দাবায় (Norway Chess Title) খেতাব জিতলেন ভারতীয় গ্র‌্যান্ডমাস্টার আর প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa)। শুক্রবার শেষ রাউন্ডে তিনি হারান জার্মানির ভিনসেন্ট কেমারকে। প্রথম ভারতীয় দাবাড়ু হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন চেন্নাইয়ের ২০ বছরের তরুণ। শেষ দিনের খেলা শুরুর আগে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন প্রজ্ঞানন্দ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্নায়ুর চাপ বজায় রেখে ক্লাসিক্যাল বিভাগে জয় তুলে নেন তিনি। এই জয়ের ফলে তিন পয়েন্ট পেয়ে প্রজ্ঞার পয়েন্ট দাঁড়ায় ১৮-তে। যার ফলে তিনি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় চ‌্যাম্পিয়ন হন।

    প্রজ্ঞানন্দের জয়ের পথ

    দ্বিতীয় বারের মতো নরওয়ে দাবায় অংশ নেওয়া প্রজ্ঞানন্দ শুরুতে কিছুটা ধীর গতিতে এগোলেও প্রতিযোগিতার দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়ান। তার অভিযানের অন্যতম বড় অর্জন ছিল নরওয়ে দাবায় সাত বারের চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় ম‌্যাগনাস কার্লসেনকে দু’বার হারানো। এই বিরল কীর্তিই তাঁর জয়ের রাস্তাটা অনেকাংশে খুলে দেয়। এদিন প্রজ্ঞানন্দের সেরার সেরা হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হয় যখন শেষ রাউন্ডে ১৫.৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার ওয়েসলি সো প্রতিদ্বন্দ্বী আলিরেজা ফিরৌজার বিরুদ্ধে ড্র করেন৷ ফলে তাঁদের ম্যাচ গড়ায় আর্মাগেডন টাইব্রেকে। এই ফলাফল ভারতীয় দাবাড়ুর আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দেয়৷ কারণ তিনি জানতেন দশম রাউন্ডে জয় পেলেই ভারতীয় দাবার ইতিহাসে নয়া অধ্যায়ের সূচনা করবেন। সেটাই সত‌্যি হল।

    প্রথম ভারতীয় হিসেবে নজির

    চলতি বছরের শুরুতে ক‌্যান্ডিডেটসে হতাশাজনক ফলের পর নরওয়ে দাবায় নিজের প্রতিভার জোরালো প্রমাণ দিলেন প্রজ্ঞানন্দ। শেষ পর্যায়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশ শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে পড়লেও ভারতের আশা বাঁচিয়ে রাখেন প্রজ্ঞানন্দ এবং শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ করতেও সমর্থ হন। ২০১৩ সালে প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর ভারতীয় দাবার কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ বা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশও নরওয়ে দাবার খেতাব অর্জন করতে পারেননি।

  • India Vs New Zealand: ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সিরিজ’! শতবর্ষ উদযাপনে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলবে ভারত

    India Vs New Zealand: ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সিরিজ’! শতবর্ষ উদযাপনে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলবে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপিএল (IPL 2026) শেষ হতেই ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সি ছেড়ে দেশের জার্সি পরতে দেখা যাবে কোহলি (Virat Kohli), গিলদের (Shubman Gill)। চলতি বছরে নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছে ভারতীয় দল (India Vs New Zealand)। যেখানে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে বড় একটি সিরিজ খেলবে তারা। ৪০ দিনের সফরে মোট ১২ ম্যাচের এই সিরিজই হতে চলেছে কিউয়িদের মাটিতে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম সফর। এর মধ্যে পাঁচ ম্যাচে মাঠে নামবেন তারকা ক্রিকেটাররা। সবার নজর বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার দিকে। বুধবার পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট।

    কবে থেকে শুরু হচ্ছে সিরিজ

    নিউজিল্যান্ড বোর্ডের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ১ ডিসেম্বর হতে চলেছে এই সিরিজ। নিউজিল্যান্ডের প্রধান ৫ ভেন্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে ৫ টি-টোয়েন্টি, ৫ ওয়ান ডে ও ২ টেস্ট ম্যাচ খেলবেন স্যান্টনার, গ্লেন ফিলিপ্সরা। মোট ১২ ম্যাচের এই সফর আসলে কিউয়িদের ক্রিকেট ইতিহাসে সবথেকে বড় দ্বিপাক্ষিক সফর হতে চলেছে। অকল্যান্ডে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দুটি টেস্ট খেলা হবে ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চে। যেহেতু এই সিরিজের মধ্যে ওয়ান ডে ম্যাচও রয়েছে, তাই এই সিরিজে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে খেলতে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে সমর্থকদের কাছে। ওয়ান ডে ম্যাচগুলি শুরু হবে ৪ নভেম্বর থেকে। দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ সিরিজ আয়োজন করা হয়েছে। সফর শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে। তারপর ওয়ানডে সিরিজ এবং শেষে টেস্ট।

    ভারতের বিরুদ্ধে খেলা সব সময় আকর্ষণীয়

    নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের মুখ্য বাণিজ্যিক কর্তা গ্লেন ক্রিচলি এই সিরিজ নিয়ে বলেন, “ক্রিকেটের দুনিয়ায় ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের মতো বড় আকর্ষণ খুব কমই আছে। আমরা চাই সমর্থকদের এমন অভিজ্ঞতা দিতে, যা তারা আগে পায়নি। শুধু খেলা নয়, ভারত-নিউজিল্যান্ডের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের বন্ধনও উদ্‌যাপন করা হবে। বিরাট কোহলি, জশপ্রীত বুমরাহদের মতো তারকাদের খেলা দেখার সুযোগ পাওয়া সত্যিই বিশেষ ব্যাপার।” অন্যদিকে, আইসিসি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘আয়োজকরা ভারতের মুখোমুখি হবে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি, পাঁচটি ওয়ানডে এবং দু’টি টেস্ট ম্যাচে। মোট ম্যাচের সংখ্যার দিক থেকে এই ১২ ম্যাচের সূচিটি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ইতিহাসে বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সফর হতে চলেছে।’ উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ মরশুমের পর এই প্রথম নিউজিল্যান্ডে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে ভারত। যদিও কিউয়িরা সম্প্রতি দু’বার ভারত সফরে এসেছে। ২০২৪-২৫ মরশুমে ভারতকে হোয়াইটওয়াশও করেছে। নিউজিল্যান্ডের ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্পিনার ইশ সোধি বলেন, “ভারতের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়ই উপভোগ করি। ওরা অসাধারণ দল। তারকা ও প্রতিভায় ভরপুর। সিরিজটা খুব কঠিন হতে চলেছে।”

    ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড সিরিজের সূচি

    টি-টোয়েন্টি

    ২২ অক্টোবর, ক্রাইস্টচার্চ
    ২৪ অক্টোবর, ক্রাইস্টচার্চ
    ২৭ অক্টোবর, ওয়েলিংটন
    ৩০ অক্টোবর, অকল্যান্ড
    ১ নভেম্বর, হ্যামিল্টন

    ওয়ানডে

    ৪ নভেম্বর, অকল্যান্ড
    ৭ নভেম্বর, ওয়েলিংটন
    ১০ নভেম্বর, হ্যামিল্টন
    ১৩ নভেম্বর, মাউন্ট মাউনগানুই
    ১৫ নভেম্বর, মাউন্ট মাউনগানুই

    টেস্ট

    ১৯-২৩ নভেম্বর, ওয়েলিংটন
    ২৭ নভেম্বর-১ ডিসেম্বর, ক্রাইস্টচার্চ

  • Praggnanandhaa Defeats Carlsen: ইতিহাস গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ! একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারালেন ম্যাগনাস কার্লসেনকে, ছুঁলেন আনন্দকে

    Praggnanandhaa Defeats Carlsen: ইতিহাস গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ! একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারালেন ম্যাগনাস কার্লসেনকে, ছুঁলেন আনন্দকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার আর প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa) আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান দাবাড়ু হিসেবে ধরা হয়। নরওয়ে চেস ২০২৬-এর অষ্টম রাউন্ডে কিংবদন্তি ম্যাগনাস কার্লসেনকে (Magnus Carlsen) হারিয়ে এক বিরল কৃতিত্বের মালিক হলেন ২০ বছরের এই ভারতীয়।

    একই প্রতিযোগিতায় কার্লসেনকে দুবার মাত!

    এর আগে, ২৭ মে টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ডে সাদা ঘুঁটি নিয়ে কার্লসেনকে পরাজিত করেছিলেন প্রজ্ঞানন্দ। বুধবার অষ্টম রাউন্ডে কালো ঘুঁটি নিয়েও একই কীর্তি গড়ে তিনি কার্যত ইতিহাস সৃষ্টি করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের নরওয়ে চেসেও তিনি কার্লসেনকে হারিয়েছিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গত ১৯ বছরে ক্লাসিক্যাল দাবায় কোনও খেলোয়াড় একই টুর্নামেন্টে কার্লসেনকে দু’বার হারাতে পারেননি। সর্বশেষ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন ভারতেরই কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ (Viswanathan Anand), যিনি ২০০৭ সালের লিনারেস আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায় নরওয়েজিয়ান মহাতারকাকে দু’বার পরাজিত করেছিলেন।

    ‘কার্লসেনকে হারানো নয়, ম্যাচ জেতাটাই গুরুত্বপূর্ণ’

    বিশ্ব দাবা মহলে এই জয় নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও প্রজ্ঞানন্দ নিজে কিন্তু অত্যন্ত সংযত। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, তাঁর কাছে কার্লসেনকে হারানোর চেয়ে টুর্নামেন্টে জয় পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রজ্ঞানন্দ বলেন, “ম্যাগনাসকে হারানোর চেয়ে এই টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচ জেতা এই মুহূর্তে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি খুশি যে সেটা করতে পেরেছি।” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে সামগ্রিক টুর্নামেন্ট ফলাফল নিয়েই বেশি ভাবছেন ভারতের এই তরুণ তারকা।

    শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছেন কার্লসেন

    জয়ের পরেও প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি প্রজ্ঞানন্দ। তাঁর মতে, পুরো ম্যাচজুড়েই অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন কার্লসেন। ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার বলেন, “কার্লসেন অত্যন্ত ভালো খেলছিলেন এবং অসাধারণভাবে ডিফেন্ড করছিলেন। অনেক খেলোয়াড় এই ধরনের চাপে ছোটখাটো পজিশনাল ভুল করে বসতেন। কিন্তু তিনি বারবার সঠিক চাল খুঁজে বের করছিলেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “একটা সময় আমি সত্যিই ভেবেছিলাম ম্যাচটা ড্র হতে চলেছে। এত ভালোভাবে রক্ষণ করার পর শেষ পর্যন্ত ওর এমন ভুল করা কিছুটা বিস্ময়কর ছিল।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায় যে ম্যাচের ফলাফল যতটা না একতরফা ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল মানসিক ও কৌশলগত লড়াইয়ের ফল।

    টাইম স্ক্র্যাম্বলই এখন প্রধান চিন্তা

    বর্তমান ফর্ম নিয়ে সন্তুষ্ট প্রজ্ঞানন্দ। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সময় ব্যবস্থাপনা এখনও তাঁর দুর্বলতার জায়গা। তিনি বলেন, “সামগ্রিকভাবে আমি ভালো খেলছি। কিন্তু টাইম স্ক্র্যাম্বল পরিস্থিতিগুলো আমার পক্ষে যাচ্ছে না। তাই ঘড়িতে আরও সময় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করব এবং গত কয়েক রাউন্ডে যেভাবে খেলেছি, সেভাবেই খেলতে চাই।” টুর্নামেন্টের বাকি অংশের আগে বিশ্রাম নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    শেষ দুই রাউন্ডে কঠিন চ্যালেঞ্জ

    বিশ্রাম দিবসের পর টুর্নামেন্টের শেষ দুই রাউন্ডে নামবেন প্রজ্ঞানন্দ। নবম রাউন্ডে তাঁর প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশ (D Gukesh)। যদিও চলতি সপ্তাহে গুকেশ নিজের সেরা ছন্দে নেই, তবুও দুই ভারতীয় তারকার এই লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অন্তিম রাউন্ডে প্রজ্ঞানন্দের প্রতিপক্ষ জার্মানির ভিনসেন্ট কাইমার (Vincent Keymer)।

    শিরোপার দৌড়ে এখনও জোরালোভাবে রয়েছেন

    অষ্টম রাউন্ডের শেষে পয়েন্ট তালিকায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন প্রজ্ঞানন্দ। তাঁর সামনে রয়েছেন মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার ওয়েসলি সো (Wesley So), যার সংগ্রহ ১৪ পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা আলিরেজা ফিরুজা (Alireza Firouzja), যার ঝুলিতে ১৩ পয়েন্ট। শেষ দুই রাউন্ডে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারলে এখনও শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ভারতীয় তারকার সামনে। অন্তত পডিয়াম ফিনিশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি শেষ লড়াইয়ে নামবেন।

    ভারতীয় দাবার নতুন সোনালি অধ্যায়

    গত কয়েক বছরে বিশ্ব দাবায় ভারতের উত্থান অভূতপূর্ব। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশ, প্রজ্ঞানন্দ, অর্জুন এরিগাইসি, অরবিন্দ চিদম্বরমদের মতো তরুণরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক সাফল্য এনে দিচ্ছেন। তারই মধ্যে নরওয়ে চেসে ম্যাগনাস কার্লসেনকে একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারিয়ে প্রজ্ঞানন্দ যে নজির গড়লেন, তা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় দাবার ক্রমবর্ধমান শক্তিরও এক উজ্জ্বল প্রতীক। ১৯ বছর আগে বিশ্বনাথন আনন্দ যে কীর্তি গড়েছিলেন, আজ সেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নামও লিখিয়ে ফেললেন চেন্নাইয়ের এই বিস্ময়বালক।

  • FIFA World Cup 2026: আর চিন্তা নেই! ভারতে দেখা যাবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ, শেষ মুহূর্তে বড় ঘোষণা জি-র

    FIFA World Cup 2026: আর চিন্তা নেই! ভারতে দেখা যাবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ, শেষ মুহূর্তে বড় ঘোষণা জি-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) সম্প্রচার স্বত্ব অর্জন করল জি এন্টারটেইনমেন্ট (Zee Entertainment)। সোমবার সংস্থার তরফে এই ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ভারতের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী নিশ্চিন্ত হলেন যে, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরের ম্যাচগুলি তাঁরা দেশের মাটিতে বসেই দেখতে পারবেন।

    বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকি। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোয় যৌথভাবে শুরু হবে ফুটবলের মহারণ। অথচ এতদিন পর্যন্ত ভারত ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় বাজার, যেখানে এখনও কোনও সরকারি সম্প্রচারকারী চূড়ান্ত হয়নি। ফিফা এবং সম্ভাব্য সম্প্রচার সংস্থাগুলির মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত জি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

    ২০৩৪ সাল পর্যন্ত একাধিক ফিফা টুর্নামেন্টের স্বত্ব

    শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপই নয়, এই চুক্তির মাধ্যমে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত মোট ৩৮টি ফিফা ইভেন্ট সম্প্রচারের অধিকারও পেয়েছে জি। ফলে আগামী আট বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা ভারতীয় দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে সংস্থাটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি ভারতের ক্রীড়া সম্প্রচার বাজারে একটি বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। কারণ, ফিফার বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপ, মহিলা বিশ্বকাপ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সম্প্রচারও এখন জি-র হাতে চলে গেল।

    কত টাকায় হল চুক্তি?

    চুক্তির আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভারতীয় বাজারের জন্য ২০২৬ এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ প্রথমে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা) দাবি করেছিল ফিফা। পরে সেই দাবি কমিয়ে প্রায় ৬ কোটি মার্কিন ডলারে নামিয়ে আনা হয়। সূত্রের খবর, ভারতের বৃহত্তম ক্রীড়া সম্প্রচার সংস্থা জিওস্টার (JioStar) এই স্বত্বের জন্য প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব ফিফা গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারকারী সনি (Sony)-ও আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিড জমা দেয়নি।

    প্রথমবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপ

    ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে চলেছে। এবার প্রথমবারের মতো ৩২ দলের বদলে অংশ নেবে ৪৮টি দেশ। ম্যাচের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ফলে দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নাটকীয়তা এবং ফুটবল উৎসব। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম তিন দেশের যৌথ আয়োজিত সংস্করণ।

    নতুন ক্রীড়া চ্যানেল চালু করল জি

    ফিফার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি নিজেদের ক্রীড়া সম্প্রচার ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চারটি নতুন স্পোর্টস চ্যানেল চালুর ঘোষণা করেছে জি এন্টারটেইনমেন্ট।

    নতুন চ্যানেলগুলি হল—

    • ● Unite8 Sports 1
    • ● Unite8 Sports 1 HD
    • ● Unite8 Sports 2
    • ● Unite8 Sports 2 HD

    সংস্থার দাবি, এই নতুন চ্যানেলগুলির মাধ্যমে ভারতীয় দর্শকদের আরও উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন ক্রীড়া দেখার অভিজ্ঞতা দেওয়া হবে। আগামী কয়েক বছরে ফুটবলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সম্প্রচারে এই চ্যানেলগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    জি-র জন্য বড় কৌশলগত সাফল্য

    বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়া জি এন্টারটেইনমেন্টের জন্য একটি বড় ব্যবসায়িক এবং কৌশলগত সাফল্য। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় ক্রীড়া সম্প্রচার বাজারে জিওস্টার ও সনির মতো বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যে এই চুক্তি জি-র অবস্থানকে অনেকটাই শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও এটি সুখবর। কারণ বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে পর্যন্ত সম্প্রচার নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা দূর হল। ফলে ১১ জুন থেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের লড়াই উপভোগ করতে আর কোনও বাধা থাকল না।

  • RCB Wins IPL 2026: একটা ট্রফির জন্য ১৮ বছর, তারপর টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন! আইপিএলে আরসিবির অবিশ্বাস্য উত্থান

    RCB Wins IPL 2026: একটা ট্রফির জন্য ১৮ বছর, তারপর টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন! আইপিএলে আরসিবির অবিশ্বাস্য উত্থান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আঠারো বছরের অপেক্ষা, অসংখ্য ব্যর্থতা, হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত আর ট্রোলের পাহাড় পেরিয়ে ২০২৫ সালে প্রথমবার আইপিএল ট্রফি জিতেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। আর সেই সাফল্য যে কেবল একবারের বিস্ময় ছিল না, তা প্রমাণ করে দিল তারা ২০২৬ সালেও। টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম অভিজাত ক্লাবে নাম লিখিয়ে ফেলল বিরাট কোহলি-রজত পাটিদারদের দল। এর আগে কেবল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং চেন্নাই সুপার কিংসই আইপিএলে টানা দু’বার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরসিবির নাম। শুধু শিরোপা জয় নয়, গোটা মরশুমে আধিপত্য বিস্তার করে প্রতিপক্ষদের কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছে বেঙ্গালুরু।

    শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে আরসিবি

    লিগ পর্বে ১৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষস্থানে শেষ করেছিল আরসিবি। এরপর কোয়ালিফায়ার ১-এ গুজরাট টাইটান্সকে ৯২ রানে বিধ্বস্ত করে সরাসরি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে তারা। ফাইনালেও সেই একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একতরফা জয় তুলে নেয় বেঙ্গালুরু। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অবসর নিয়েছেন, দলে এসেছে একাধিক পরিবর্তন। কিন্তু মাঠে তার কোনও প্রভাবই দেখা যায়নি। যেন গত বছরের সফল অভিযানের ধারাবাহিকতাই বজায় রেখেছে তারা।

    আহমেদাবাদে গুজরাতের মাঠেও ছিল আরসিবির রাজত্ব

    নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম ছিল গুজরাট টাইটান্সের ‘হোম গ্রাউন্ড’। কিন্তু বাস্তবে ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ম্যাচের আগের দিন থেকেই হাজার হাজার আরসিবি সমর্থক লাল জার্সি পরে আহমেদাবাদে ভিড় জমাতে শুরু করেন। ফাইনালের দিন প্রায় এক লক্ষ দর্শকের মধ্যে সিংহভাগই ছিল আরসিবির সমর্থক। স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণে ধ্বনিত হচ্ছিল “আরসিবি, আরসিবি” স্লোগান। কার্যত নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছিল রজত পাটিদারের দল। আরসিবি ফাইনালের কয়েকদিন আগেই আহমেদাবাদে পৌঁছে প্রস্তুতি শুরু করেছিল। তীব্র গরমে অনুশীলন, উইকেট পর্যবেক্ষণ এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কাজ তারা নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে।

    বল হাতে গুজরাটকে শ্বাসরুদ্ধ করল বেঙ্গালুরু

    টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আরসিবি। রোদে পুড়ে শক্ত হয়ে যাওয়া উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ ছিল না। সেই সুযোগই পুরোপুরি কাজে লাগান বেঙ্গালুরুর বোলাররা। মরশুমে ৭০০-র বেশি রান করা গুজরাটের দুই ওপেনারকে পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ফেরত পাঠিয়ে দেয় তারা। চলতি মরশুমে তৃতীয়বারের মতো শুভমান গিল ও সাই সুদর্শনকে দ্রুত আউট করতে সক্ষম হয় আরসিবি। জশ হ্যাজেলউড বড় ম্যাচে নিজের অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন। ভুবনেশ্বর কুমার নিখুঁত পরিকল্পনায় সাই সুদর্শনকে বাউন্সারে ফাঁদে ফেলেন। অন্যদিকে রাসিখ সালাম দার, যাঁকে অনেকেই গুরুত্ব দেননি, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। মাত্র ৩.৪ ওভারে ২৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় গুজরাট। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। জস বাটলারও পাল্টা আক্রমণের সাহস দেখাতে পারেননি। ওয়াশিংটন সুন্দর একবার জীবনদান পেলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। শেষদিকে অরশাদ খানের ছোট্ট ঝোড়ো ইনিংস কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও গুজরাট নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৫ রানেই থেমে যায়।

    রান তাড়ায় কোহলির রাজকীয় ইনিংস

    ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় আরসিবিকে। ফিল সল্টের অনুপস্থিতিতে ওপেন করতে নামা ভেঙ্কটেশ আইয়ার এবং বিরাট কোহলি পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচকে একতরফা করে দেন। মাত্র পাঁচ ওভারের মধ্যেই দলীয় স্কোর ৬০ পেরিয়ে যায়। পাওয়ারপ্লে শেষে স্কোরবোর্ডে ৭০ রান। ভেঙ্কটেশ আইয়ার দ্রুত আউট হলেও কোহলি থামেননি। কাগিসো রাবাদার এক ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন তিনি। রশিদ খান নবম ওভারে রজত পাটিদার এবং ক্রুনাল পাণ্ডিয়াকে ফিরিয়ে সামান্য উত্তেজনা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সেটুকুই। কোহলির সঙ্গে টিম ডেভিডের ৪১ রানের জুটি গুজরাটের শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেয়। ২৫ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন কোহলি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৬ সালের ফাইনালের পর এবারই প্রথম আইপিএল প্লে-অফে অর্ধশতরান পেলেন তিনি।

    শেষ বলেও কোহলির ছক্কা

    ম্যাচের একমাত্র উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত আসে ১৬তম ওভারে। কোহলির একটি ক্যাচ ধরার চেষ্টা করেন শুভমান গিল। তৃতীয় আম্পায়ারের দীর্ঘ পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় ‘নট আউট’। এরপর আর কোনও বাধা ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন কোহলি। আরসিবির ঐতিহাসিক অভিযানের সমাপ্তিও হয় তাঁর ব্যাট থেকেই। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান আসে একটি বিশাল ছক্কায়।

    নতুন যুগের সূচনা

    ২০২৫ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, সেটি হয়ত দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া একবারের সাফল্য। কিন্তু ২০২৬ সালের অভিযান স্পষ্ট করে দিল, আরসিবি এখন কেবল জনপ্রিয় দল নয়, তারা এক শক্তিশালী ক্রিকেট সাম্রাজ্য। ১৮ বছর অপেক্ষা করে প্রথম ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু। এরপর মাত্র ১২ মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় শিরোপা। টানা দুইবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে রজত পাটিদার, বিরাট কোহলি, জশ হ্যাজেলউড, ভুবনেশ্বর কুমারদের এই দল জানিয়ে দিল— ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন এক শক্তির উত্থান হয়েছে। আর সেই সাম্রাজ্যের রং নিঃসন্দেহে লাল।

  • Vaibhav Sooryavanshi: চোখের জলে শেষ আইপিএল! ডাগআউটে ভেঙে পড়ল বৈভব, কাপ না জিতলেও কিশোর সূর্যবংশী জিতল মন

    Vaibhav Sooryavanshi: চোখের জলে শেষ আইপিএল! ডাগআউটে ভেঙে পড়ল বৈভব, কাপ না জিতলেও কিশোর সূর্যবংশী জিতল মন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বয়স মাত্র ১৫ বছর। কিন্তু ইতিমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত নাম এই কিশোর। ব্যাট হাতে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে আইপিএল ২০২৬-কে নিজের মঞ্চে পরিণত করেছিল বৈভব সূর্যবংশী। তবে ক্রিকেট যে শুধুই পরিসংখ্যানের খেলা নয়, তা আরও একবার প্রমাণ হল শুক্রবার রাতে। ব্যক্তিগতভাবে দুরন্ত ইনিংস খেলেও দলের পরাজয় মেনে নিতে পারল না রাজস্থান রয়্যালসের এই কিশোর তারকা। গুজরাট টাইটান্সের কাছে কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর ডাগআউটে বসেই চোখের জল ফেলতে দেখা গেল তাকে।

    পঞ্জাবের মুল্লানপুরে অবস্থিত মহারাজা যাদবিন্দ্র সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে আবেগঘন সেই দৃশ্য। রাজস্থানের ডাগআউটে চুপচাপ বসে বৈভব। মুখে হতাশার ছাপ, চোখে জল। পরিস্থিতি সামাল দিতে তার পাশে এসে দাঁড়ান সতীর্থরা। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাডেজাকেও দেখা যায় কিশোর ক্রিকেটারকে সান্ত্বনা দিতে। দলের সাপোর্ট স্টাফ ও ম্যানেজার রোমি ভিন্দরও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। একসময় ক্যামেরার নজর এড়াতে তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢাকতেও দেখা যায় বৈভবকে।

    আবারও ব্যাট হাতে বিস্ফোরণ

    ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালসকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয় বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ৪৭ বলে ৯৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে সে। শুরুতে মহম্মদ সিরাজ ও কাগিসো রাবাডার বিরুদ্ধে কিছুটা সতর্ক থাকলেও পরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেয়। একসময় মনে হচ্ছিল আরও একটি শতরান অপেক্ষা করছে তার ব্যাটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৯৬ রানেই থামতে হয়। ফলে শেষ চার ইনিংসের মধ্যে তৃতীয়বার নব্বইয়ের ঘরে আউট হওয়ার হতাশা সঙ্গী হয় তার। তবে বৈভবের এই ইনিংসের সুবাদেই রাজস্থান রয়্যালস নির্ধারিত ২০ ওভারে ২১৫ রানের বিশাল স্কোর তোলে। সেই মুহূর্তে অনেকেই মনে করেছিলেন, ফাইনালে ওঠার পথে এগিয়ে রয়েছে রাজস্থান।

    গিল-সুধর্শনের ঝড়ে উড়ে গেল রাজস্থান

    কিন্তু রান তাড়ায় নেমে গুজরাট টাইটান্সের দুই ওপেনার শুভমন গিল এবং সাই সুদর্শন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। দু’জনে মিলে মাত্র ৭৭ বলে ১৬৭ রানের বিধ্বংসী উদ্বোধনী জুটি গড়েন। সাই সুধর্শন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও গিল অত্যন্ত পরিণত ইনিংস খেলেন। মাত্র ৪৭ বলে শতরান পূর্ণ করে গুজরাটকে জয়ের একেবারে কাছে পৌঁছে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সাত উইকেট হাতে রেখেই ২১৫ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে গুজরাট টাইটান্স। এর ফলে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় রাজস্থান রয়্যালসের।

    হারলেও ইতিহাস গড়ল বৈভব

    রাজস্থান ফাইনালে উঠতে না পারলেও বৈভব সূর্যবংশীর আইপিএল ২০২৬ মরশুম ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নেবে। ১৬ ম্যাচে সে করেছে ৭৭৬ রান। গড় ৪৮.৫০ এবং অবিশ্বাস্য ২৩৭.৩১ স্ট্রাইক রেট। মরশুম শেষে তার মাথাতেই ওঠে অরেঞ্জ ক্যাপ। কিন্তু শুধু রান নয়, গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই একের পর এক রেকর্ড গড়েছে এই কিশোর বিস্ময়।

    আইপিএল ২০২৬-এ বৈভব সূর্যবংশীর উল্লেখযোগ্য কীর্তি—

    • ● বলের হিসেবে সবচেয়ে দ্রুত ১,০০০ আইপিএল রান (৪৪০ বল)
    • ● ইনিংসের হিসেবে দ্বিতীয় দ্রুততম ১,০০০ আইপিএল রান (২৩ ইনিংস)
    • ● টি-২০ ইতিহাসে এক মরশুমে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৫০০ পাওয়ারপ্লে রান
    • ● এক টি-২০ প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক পাওয়ারপ্লে রানের রেকর্ড
    • ● ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কিশোর ক্রিকেটার হিসেবে অন্যতম সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ
    • ● ৭৭৬ রান, স্ট্রাইক রেট ২৩৭-এরও বেশি
    • ● এক আইপিএল মরশুমে সর্বাধিক ৬৫টি ছক্কা

    সংখ্যার বাইরে এক মানবিক ছবি

    বৈভব সূর্যবংশী নিঃসন্দেহে আইপিএল ২০২৬-এর সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। বিশ্বের সেরা বোলারদের বিরুদ্ধে তার নির্ভীক ব্যাটিং, ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা এবং রেকর্ড ভাঙার ধারাবাহিকতা ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। তবে মরশুমের শেষ রাতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রইল না তার ৭৭৬ রান, ৬৫ ছক্কা কিংবা অরেঞ্জ ক্যাপ। বরং ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থেকে যাবে ডাগআউটে বসে থাকা এক কিশোরের চোখের জল— যে নিজের সেরাটা দেওয়ার পরও দলকে ফাইনালে তুলতে পারেনি। সম্ভবত এটাই খেলাধুলার সবচেয়ে নির্মম এবং একইসঙ্গে সবচেয়ে সুন্দর দিক। ব্যক্তিগত সাফল্য যত বড়ই হোক, দলের স্বপ্ন ভেঙে গেলে একজন প্রকৃত প্রতিযোগীর কাছে তার মূল্য অনেক কম। আর সেই কারণেই পরাজয়ের রাতে চোখের জলে ভেঙে পড়া বৈভব সূর্যবংশী আরও একবার প্রমাণ করল, সে শুধু এক অসাধারণ প্রতিভাই নয়, দলের জন্য নিবেদিত এক প্রকৃত যোদ্ধাও।

    কাপ হয়ত অধরা থেকে গেল, কিন্তু কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর মন জিতে নিয়েছে ১৫ বছরের কিশোর।

LinkedIn
Share