মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালয়েশিয়াকে হারিয়ে ছেলেদের হকিতেও সোনা জিতল ভারত। শনিবার ফাইনালে মালয়েশিয়াকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে খেতাব ধরে রাখল ভারত। প্রথম বার এশিয়ান গেমসে হকির দুই বিভাগেই সোনা জিতল ভারত। সোনা জিতলেন কুস্তিগির আমন সেহরাওয়াত। সব মিলিয়ে নাগোয়া গেমসে ভারত ২১টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ পদক পেল। মোট ৮৫টি পদক নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। প্রথম তিনটি স্থানে রয়েছে যথাক্রমে চিন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া।
হকিতে অলিম্পিক্সে জায়গা পাকা
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ভারত। ১১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ড্র্যাগ-ফ্লিকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। যদিও তিন মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে সমতা ফেরায় মালয়েশিয়া। ১৪ মিনিটে শেলো সিলভেরিয়াসের গোলে প্রথম কোয়ার্টার শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ফের এগিয়ে যায় ভারত। আট মিনিটের মাথায় পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন জুগরাজ সিং। ফলে প্রথমার্ধের শেষে ভারত এগিয়ে ছিল ২-১ গোলে। তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারতের দাপট আরও বাড়ে। ১২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন হার্দিক সিং। এরপর শেষ কোয়ার্টারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ভারত। ম্যাচ শেষ হতে ছ’ মিনিট বাকি থাকতে শিলানন্দ লাকরার গোলে ভারত ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টায় মালয়েশিয়া আক্রমণে খেলোয়াড় বাড়িয়ে দেয়। সেই সুযোগেই ফের পেনাল্টি কর্নার আদায় করে ভারত এবং সেখান থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হরমনপ্রীত। শেষ পর্যন্ত ৫-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত। এই জয়ের সুবাদে লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৮ অলিম্পিক্সের জন্য সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করল তারা।
কুস্তিতে কেরামতি ভারতীয়দের
ছেলেদের ফ্রিস্টাইল কুস্তির ৫৭ কেজি বিভাগে সোনা জিতলেন আমন। এই প্রথম ভারত এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে সোনা জিতল। ফাইনালে উত্তর কোরিয়ার হান চং সংকে ১১-৭ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন আমন। একটা সময় ৬-২ ব্যবধানে এগিয়ে যান আমন। ডান পায়ের হাঁটুতে চোট পান সং। তা-ও দুর্দান্ত ভাবে লড়াইয়ে ফেরেন তিনি। আমনের রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যান ৭-৬ ব্যবধানে। হাল ছাড়েননি ভারতীয় কুস্তিগিরও। শেষ মিনিটে সংকে বাগে পেয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১১-৭ ব্যবধানে জিতে যান আমন। মেয়েদের ফ্রিস্টাইল কুস্তির ৫৩ কেজি বিভাগের ফাইনালে হেরে গেলেন অন্তিম পাঙ্ঘাল। জাপানের মো কিয়োকার কাছে ৯-১ ব্যবধানে হারায় রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থকতে হল তাঁকে। ছেলেদের ৯৭ কেজি ফ্রিস্টাইল কুস্তিতে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন দীপক পুনিয়া। ৬০ বছর পর এশিয়াডের এই ইভেন্টে পদক পেল ভারত। ১৯৬৬ সালে রুপো পেয়েছিলেন বিশ্বনাথ সিং এবং ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন ভীম সিং।
Category: খেলা
Get updates on Sports News Cricket, Football, Tennis, from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com
-

Asian Games 2026: হকিতে প্রথম বার জোড়া সোনা! হরমনপ্রীতের গোল খেতাব ধরে রাখল ভারত, সোনা জিতে নজির আমনের
-

Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসেও ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট উত্তাপ! অভিষেক-তিলকের ব্যাটে পাক-বধ করে সোনা ভারতের
মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) ২২ গজে ভারত-পাকিস্তান দূরত্ব মিটল না। বদলাল না বড় আসরে ফলাফলও। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতল ভারত (India vs Pakistan)। ফাইনালে ১৯ রানে জয় পেয়েছে ভারত। বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, এশিয়া কাপ কিংবা এশিয়ান গেমস। যেখানেই দেখা হোক, ফলাফল একটাই। পাকিস্তানকে হেলায় হারানো অভ্যাসে পরিণত করেছে ভারত। এবার জাপানে এশিয়ান গেমসেও একই ফল। ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতল শ্রেয়স আইয়ারের ভারত। অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মার ব্যাটিং বিক্রমের সামনে পাত্তাই পেল না সাহিবজাদা ফারহানার দল।
করমর্দন নয় দুই দলের ক্রিকেটারদের
ভলিবল, স্কোয়াশ, হকির মতো খেলাগুলিতে দু’দেশের খেলোয়াড়দের হাসিমুখে জড়িয়ে ধরতে, করমর্দন করতে বা একসঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে আলাদা ছবি। শনিবার টসের পর শ্রেয়স আয়ার হাত মেলালেন না পাকিস্তানের অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ থেকেই ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানর ক্রিকেটারদের সবরকম ভাবে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন সূর্যকুমার যাদবেরা। সেই ধারা বজায় রইল নাগোয়া গেমসেও। টসের পর ফারহানের সঙ্গে হাত মেলালেন না শ্রেয়স। শুধু ছেলেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নয়, এই দূরত্ব তৈরি হয়েছে মেয়েদের ক্রিকেট-সহ বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেও।
পাক স্পিনারের বিদ্রুপ
ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্কের উত্তাপের আঁচ পাওয়া গেল ম্যাচের মধ্যেও। বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করার পর তাকে বিদ্রুপ করলেন পাক স্পিনার সাইম আয়ুব। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। প্রথম ওভারে মাত্র ৪ রান দেন সাইম আয়ুব। তারপরের ওভারে তাণ্ডব শুরু হয় বৈভব সূর্যবংশীর। শান মাসুদের পরপর দু’বলে ছক্কা হাঁকায়। ছক্কার খেলায় মাতেন ভারতের আরেক ওপেনার অভিষেক শর্মাও। কিন্তু তার পরের ওভারেই অঘটন। সাইমের বল অযথা রিভার্স সুইপ করতে যায় বৈভব। বল ব্যাটের কোণায় লেগে সোজা উইকেটকিপারের হাতে জমা পড়ে। মাত্র ১৫ রানে আউট হয় বৈভব। আর সে যখন ফিরে যাচ্ছে, তখন হাত দিয়ে কোলে বাচ্চা দোলানোর ইঙ্গিত করেন পাক অলরাউন্ডার। ভারতের ১৫ বছরের ব্যাটারকে সাইম বিদ্রুপ করলেও পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটারেরা সংযত ছিলেন। বৈভবও কোনও প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। শান্ত ছিলেন ভারতের অন্য ওপেনার অভিষেক শর্মাও।
ব্যাটেই বদলা ভারতের
তবে এই ঘটনার বদলা কথায় নয় ব্যাটেই নিয়েছেন অভিষেক শর্মারা। অভিষেক ২৮ বলে ৬১ রান করেন। চার-ছক্কায় পাক বোলারদের রীতিমতো চাপে ফেলে দেন অভিষেক। তাঁর ব্যাট থেকে আসে তিনটে চার ও ৭টা ছক্কা। কিন্তু রান পাননি সঞ্জু স্যামসন। অন্যদিকে অধিনায়ক শ্রেয়স ২১ রান করতে নিয়ে নেন ২৪ বল। ওই সময় ভারতের রানের গতি কিছুটা কমে যায়। ঈশান কিষান (২০) এই ম্যাচে বড় রান পাননি। তবে শেষবেলায় ঝড় তোলেন তিলক বর্মা ও শিবম দুবে। তিলক ২২ বলে ৫১ ও শিবম ১৫ বলে ২৭ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান তোলে ভারত। জবাবে পাকিস্তানের শুরুটা খারাপ হয়নি। তবে অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দররা আঁটসাঁট বোলিং করে রানের ধারা আটকে দেন। ৬ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের দৌড় থেমে যায় ১৯২ রানে। ভারত ১৯ রানে ম্যাচ জিতে ক্রিকেটে সোনা পকেটে ভরে নেয়। যা এশিয়ান গেমসে ভারতের ১৯তম সোনা।
-

India vs Brazil: ভারত-ব্রাজিল মহারণে মাঠে মুখ্যমন্ত্রী! তিন স্তরের তল্লাশি, ৩০০-র বেশি সিসিটিভি-তে নজরদারি
মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল (India vs Brazil) ফুটবল দলের মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উত্তেজনায় ফুটছেন ফুটবলপ্রেমীরা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারত-ব্রাজিল আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ দেখতে যাবেন। শুক্রবার আলিপুরদুয়ারে বন দফতরের একটি অনুষ্ঠানে তিনি নিজেই এ কথা জানান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এই ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা। এই ম্যাচকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ম্যাচ দেখতে বিপুল দর্শক সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় প্রায় ২ হাজার পুলিশকর্মী এবং ৪০০-র বেশি সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে বিধাননগর পুলিশ।
স্টেডিয়ামে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
ভারতীয় মাটিতে দুই দেশের সিনিয়র পুরুষ দলের এটাই প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ হওয়ায় ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমি বাঙালিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল বর্তমানে পঞ্চম স্থানে রয়েছে, অন্যদিকে ভারত রয়েছে ১৩৮ নম্বরে। ম্যাচকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সল্টলেক স্টেডিয়াম এবং কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের জায়গাগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দর্শকদের বিপুল ভিড়ের কথা মাথায় রেখে যান চলাচল ও প্রবেশপথ নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আগে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজনের জন্য সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে রাজ্য সরকারের তরফে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার নিজেই স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে ঐতিহাসিক এই ম্যাচ দেখার কথা জানালেন তিনি।
জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা
শনিবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ব্রাজিল ও ভারতের ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ম্যাচ দেখতে বিপুল দর্শক সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় প্রায় ২ হাজার পুলিশকর্মী এবং ৪০০-র বেশি সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে বিধাননগর পুলিশ। শহরে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ফুটবল ম্যাচ হিসেবে এই ম্যাচকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দর্শকদের ভিড় এড়াতে বিকেল ৫টার মধ্যে স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। দর্শকদের প্রবেশের জন্য আলাদা আলাদা গেট ও চ্যানেল নির্দিষ্ট করা হয়েছে। লাইনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবেশ ও বেরনোর পথ আলাদা রাখতে গার্ডরেল ও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। স্টেডিয়ামে প্রবেশের আগে দর্শকদের তিন স্তরের তল্লাশি করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল টিকিট যাচাইয়ের পরই দর্শকদের ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। গোটা এলাকায় নজরদারির জন্য ৩০০-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
মেসি সফরের কথা মাথায় রেখে নিষেধাজ্ঞা
নিরাপত্তার কারণে স্টেডিয়ামের ভিতরে বাইরে থেকে খাবার বা জলের বোতল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। আতশবাজি, স্মোক ক্যান্ডেল, লাইটার, সিগারেট-সহ সমস্ত ধরনের দাহ্য সামগ্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও লেজার লাইট, ব্যানার, পোস্টার, ধারালো বস্তু, অস্ত্র, মদ ও মাদকদ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। ব্যানার ও ঢাক-ঢোলও নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে। মাঠে ছুড়ে দেওয়া যেতে পারে এমন কোনও বস্তু যাতে দর্শকরা সঙ্গে না আনেন, সে বিষয়েও নজর রাখবেন নিরাপত্তাকর্মীরা। গত ডিসেম্বরে লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের সময় স্টেডিয়ামে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এবার প্রবেশপথ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে এবং পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে দর্শকদের অনুরোধ করা হয়েছে। মোবাইল ফোনও পর্যাপ্ত চার্জ দিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামেও ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা
সল্টলেক স্টেডিয়ামের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে শনিবার কসবার অ্যাক্রোপলিস মলের পিছনে গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিনে ব্রাজিল-ভারত ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, সেখানে প্রায় ৩ হাজার দর্শকের বসার ব্যবস্থা থাকবে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হবে ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ভিড় সামলানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কোথায় দেখা যাবে ম্যাচ?
ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট না পেলেও সমস্যা নেই। অনায়াসে টিভিতেই দেখতে পারেন ম্যাচটি। সেক্ষেত্রে সোনি স্পোর্টসের চ্যানেলগুলিতে এই খেলা দেখা যাবে। ফুটবলের আবেগে যে কোনও জাতিকে টেক্কা দিতে পারে বাংলা। তাই ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের ম্যাচ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। আর এই খেলাটি বাংলা কমেন্ট্রিতেও দেখতে পারেন। টিভিতে সোনি আট চ্যানেলে বাংলায় এই খেলাটি দেখতে পারেন। তাই যাঁরা বাংলায় ব্রাজিল ম্যাচটি দেখতে চাইছেন, তাঁরা সোনি ৮ চ্যানেলে টিউন করুন। এখন অনেকেই আর টিভির দিকে চোখ রাখেন না। তাঁদের কাছে মোবাইলটাই জগৎ। সেখানেই খেলা থেকে ফিল্ম, ওয়েব সিরিজ দেখেন তাঁরা। আর এই দলের মানুষকে নিরাশ হতে হবে না। কারণ, মোবাইল ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও দেখা যাবে খেলাটি। এক্ষেত্রে সোনি লিভ অ্যাপে খেলাটি দেখতে পারেন। যাঁদের এই অ্যাপের সাবস্ক্রিপশন আসে, তাঁরা দেখতে পাবেন। এই অ্যাপে এইচডি কোয়ালিটিতে ম্যাচ দেখা যাবে। সেই সঙ্গে ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা সহ বেশ কিছু ভারতীয় ভাষায় শোনা যাবে কমেন্ট্রি। তাই যাঁর মোবাইলে খেলাটি দেখতে চাইছেন, তাঁরা অবশ্যই এই অ্যাপটি ইনস্টল করে নিন। তাহলেই টেনশন ফ্রি।
-

India at Asian Games: একদিনে জোড়া সোনা! প্রথম ভারতীয় মহিলা গল্ফার হিসেবে ইতিহাস প্রণবীর, তিরন্দাজিতে বাজিমাত কুমকুমের
মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনালি শনিবার। একই দিনে ইতিহাস গড়লেন দুই তরুণী—গল্ফে প্রণবী উর্স এবং তিরন্দাজিতে কুমকুম মহোদ। প্রণবী হলেন এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত গল্ফে সোনা জেতা প্রথম ভারতীয় মহিলা। আর রুদ্ধশ্বাস শুট-অফে দক্ষিণ কোরিয়ার ও ই-জিনকে হারিয়ে রিকার্ভে সোনা ছিনিয়ে নিলেন কুমকুম। দু’জনের হাত ধরেই এদিন ভারত পেল জোড়া সোনা।
গল্ফে ইতিহাস প্রণবীর
২৩ বছরের মাইসোরের গল্ফার প্রণবী উর্সকে শেষ দিন কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল। তৃতীয় হোলে ট্রিপল বোগি করে তিন শটের লিড হারান তিনি। কিন্তু দ্রুত ঘুরে দাঁড়ান। পরপর তিনটি বার্ডি করে ফের লড়াইয়ে ফেরেন।
শেষ রাউন্ডে ৭০, অর্থাৎ ইভেন-পার স্কোর করেন প্রণবী। চার রাউন্ড শেষে তাঁর মোট স্কোর ১৫-আন্ডার ২৬৫। এক শটের ব্যবধানে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি।
এই সাফল্যের সঙ্গে ভারতীয় গল্ফে নতুন অধ্যায় তৈরি হল। ২০০২ সালে শিব কাপুরের পর এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত গল্ফে ভারতের সোনা এসেছিল পুরুষ বিভাগে। এবার প্রথমবার সেই কীর্তি গড়লেন কোনও ভারতীয় মহিলা গল্ফার।
দলগত বিভাগেও রুপো
প্রণবীর পাশাপাশি অদিতি অশোক ও দীক্ষা ডাগরের পারফরম্যান্সে দলগত গল্ফেও পদক জিতেছে ভারত।
শেষ রাউন্ডে অদিতি করেন ৬৭, দীক্ষার স্কোর ৭৭। দুই সেরা স্কোর ধরেই দলগত ফল নির্ধারিত হয়। ভারতের মোট স্কোর ১৪-আন্ডার ৫৪৬। তাতে রুপো নিশ্চিত হয়। ২২-আন্ডার ৫৩৮ নিয়ে সোনা জেতে চিন।
তিরন্দাজিতে কুমকুমের নাটকীয় জয়
এরপরই আসে কুমকুম মহোদের সোনা। মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার ও ই-জিনের বিরুদ্ধে শুরুটা মোটেই ভাল হয়নি তাঁর। প্রথম দুই সেট হেরে ১-৩ পিছিয়ে পড়েন।
সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘোরান কুমকুম। পরের দুই সেট জিতে স্কোর করেন ৩-৩। পঞ্চম সেটে ৩০-২৮ জিতলেও নিষ্পত্তি হয়নি লড়াইয়ের। ম্যাচ গড়ায় শুট-অফে।
সেখানেই বাজিমাত। কুমকুমের তির গিয়ে লাগে ১০-এর ঘরে, বিপক্ষের স্কোর ৮। আর সেই নিখুঁত শটে নিশ্চিত হয় ভারতের আরও একটি সোনা।
ফাইনালের আগে বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারিয়েছিলেন
কুমকুমের ফাইনালে ওঠার পথও ছিল কঠিন। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি ৬-৪ ব্যবধানে হারান বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কাং চে-ইয়ংকে। সেমিফাইনালে চিনের জিংই ঝুকে হারান ৬-২ ব্যবধানে।
সেমিফাইনালে ওঠার সঙ্গেই ভারত ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের একটি কোটা স্থান নিশ্চিত করে। অর্থাৎ সোনা জয়ের আগেই কুমকুমের পারফরম্যান্স ভারতীয় তিরন্দাজির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
এক আসরেই তৃতীয় পদক
কুমকুমের এশিয়ান গেমসে এটি তৃতীয় পদক। অঙ্কিতা ভকত ও কীর্তি শর্মার সঙ্গে দলগত রিকার্ভে সোনা এবং ধীরজ বোম্মাদেভারার সঙ্গে মিক্সড পেয়ার ইভেন্টে রুপো জিতেছেন তিনি।
ফলে একই আসরে দলগত, মিক্সড এবং ব্যক্তিগত—তিন বিভাগেই পদক পেলেন কুমকুম।
একই দিনে দুই ইতিহাস
প্রণবীর সাফল্যে ভারতীয় মহিলা গল্ফ পেল নতুন মাইলফলক। কুমকুমের সোনায় তিরন্দাজিতে যোগ হল আরও একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। একজন তিন শটের ধাক্কা সামলে শেষ পর্যন্ত এক শটে সোনা জিতলেন, অন্যজন ১-৩ পিছিয়ে থেকেও শুট-অফে নিখুঁত ১০ মেরে ম্যাচ শেষ করলেন। এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ভারতের জন্য তাই শনিবার হয়ে রইল জোড়া সোনা এবং দুই তরুণীর ইতিহাস গড়ার দিন।
-

Asian Games 2026: হকি থেকে কুস্তি—এশিয়ান গেমসে ১৩তম দিনে ভারতের ঝুলিতে ৬ সোনা-সহ ১০ পদক
মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসের ১৩তম দিনটি ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে স্মরণীয় হয়ে থাকল। একদিনেই ৬টি সোনা, ২টি রুপো এবং ২টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ১০টি পদক জিতে নিল ভারত। তিরন্দাজি, বক্সিং, কুস্তি এবং হকিতে একের পর এক সাফল্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠল ভারতের পদক তালিকা। দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এল ভারতীয় মহিলা হকি দলের হাত ধরে—৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) সোনা জিতে তারা সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে জায়গা নিশ্চিত করল। শেষে মহিলা হকি দলের ১-০ ব্যবধানে চিনকে হারানো সেই দিনকে আরও স্মরণীয় করে তুলল। চলতি এশিয়ান গেমসে ১৬টি সোনা হল ভারতের।
৪৪ বছর পর মহিলা হকিতে এশিয়ান গেমস সোনা
দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ভারতীয় মহিলা হকি দলের হাত ধরে। গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে ফাইনালে চিনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে মহিলা হকির সোনা জেতে ভারত। ফাইনালের একমাত্র গোলটি করেন লালরেমসিয়ামি। তাঁর গোলই শেষ পর্যন্ত ভারতের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে। এই সোনার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় অলিম্পিক্সের টিকিট নিশ্চিত হওয়ায়। এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ভারত সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ১৯৮২ সালে প্রথম এশিয়ান গেমসে মহিলা হকিতে সোনা জিতেছিল ভারত। তার পর এ বারই সোনা জিতল তারা। ম্যাচের আগে সম্মান জানানো হয় লালরেমসিয়ামিকে। তিনি ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। সেই ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন গোল করে। তাঁর একমাত্র গোলেই ভারত এশিয়াডে সোনা জিতল দীর্ঘ দিন পর। গত অলিম্পিক্সে রুপো পেয়েছিল চিন। মহিলাদের হকিতে তারা যথেষ্ট শক্তিশালী দল। এ দিন শুরু থেকেই আক্রমণ করতে থাকে তারা। বার বার ঢুকে পড়তে থাকে ভারতের ডি বক্সে। তবে খেলার বিপরীতে গিয়ে প্রথম কোয়ার্টারেই এগিয়ে যায় ভারত। চিনের ডি বক্সে বল পেয়েছিল ভারত। বৃত্তের মধ্যে থেকে লালরেমসিয়ামির শট গোলে ঢুকে যায়। লেখা হয়ে যায় ইতিহাস।
জন্মদিনে সোনার মুকুট লাভলিনার
নিজের জন্মদিনেই সোনা জিতে নিলেন ভারতীয় বক্সার লাভলিনা বরগোহাঁই। মহিলা ৭৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনের বাও জিই-কে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি। এই সাফল্যের ফলে এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা বক্সার হলেন লাভলিনা। এর আগে ২০১৪ সালে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন এমসি মেরি কম। আগের এশিয়ান গেমসে রুপো জিতেছিলেন লাভলিনা। এবার সেই রুপোকে সোনায় বদলে দিলেন তিনি। জয়ী হওয়ার পর লাভলিনা বলেন, “আমি খুব ভালো অনুভব করছি। ভেবেছিলাম জন্মদিনে নিজেকেই সোনার পদক উপহার দিতে হবে। এক মুহূর্তের জন্যও হারার কথা মাথায় আসেনি। লড়াইটা কঠিন ছিল, কিন্তু আমি সব সময় ভেবেছি যে আমাকে জিততেই হবে।”
প্রত্যাবর্তনের পর পারভিন হুডার সোনা
বক্সিংয়ে ভারতের দ্বিতীয় সোনা আসে পারভিন হুডার হাত ধরে। মহিলা ৬৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনা তাইপেইয়ের চেন নিয়েন-চিনকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন পারভিন। চেন নিয়েন-চিন প্যারিস অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী। তাঁর বিরুদ্ধে এই জয় তাই পারভীনের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই সাফল্যের সঙ্গে ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের ইতিহাসেও নাম লেখালেন পারভীন। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা ভারতীয় মহিলা বক্সারদের তালিকায় তিনি তৃতীয়। এর আগে ২০১৪ সালে মেরি কম এবং এদিনই লভলিনা এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।
মহিলা রিকার্ভ দলগত তিরন্দাজিতে ঐতিহাসিক সোনা
দিনের শুরুতেই ইতিহাস গড়ে ভারত। মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতে অঙ্কিতা ভকত, কীর্তি শর্মা এবং ১৭ বছরের কুমকুম মহোদের দল। কঠিন আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের মধ্যেও ভারতীয় তিরন্দাজরা অসাধারণ সংযম দেখান। সেমিফাইনালে চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ভারত। এরপর কুমকুম মহোদ ধীরজ বোম্মাদেভারার সঙ্গে মিশ্র রিকার্ভ দলগত ইভেন্টেও ফাইনালে পৌঁছন। এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে প্রথমবার ফাইনালে ওঠে ভারত। তবে ফাইনালে চিনের কাছে ৩-৫ ব্যবধানে হেরে রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।
সুজিতের অবিশ্বাস্য কামব্যাক
কুস্তির ম্যাটেও দেখা গেল নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। পুরুষদের ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগের ফাইনালে তাজিকিস্তানের আবদুলমজিদ কুদিয়েভের বিরুদ্ধে একসময় ২-৯ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন সুজিত কালকাল। ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে দুর্দান্ত আক্রমণে ফিরে আসেন ভারতীয় কুস্তিগির। শেষদিকে একের পর এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০-৯ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। সেমিফাইনালেও বড় চমক দিয়েছিলেন সুজিত। জাপানের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোটারো কিয়োকাওয়াকে ৩-৩ ব্যবধানে আটকে দিয়ে ক্রাইটেরিয়ায় ফাইনালে ওঠেন তিনি।
২০১৮-এর পর পুরুষ বক্সিংয়ে আবার সোনা
ভারতের তৃতীয় বক্সিং সোনা আসে পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে। আনকুশ পাংহাল জিতে নেন এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব। এই সাফল্যের মাধ্যমে ২০১৮ সালের পর প্রথমবার কোনও ভারতীয় পুরুষ বক্সার এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলেন। ফলে একই দিনে লাভলিনা, পারভিন এবং আনকুশ—তিন ভারতীয় বক্সারের হাত ধরে তিনটি সোনা আসে।
-

Asian Games 2026: ৪৪ বছরের কোরীয় আধিপত্যের অবসান! এশিয়ান গেমসে রিকার্ভে ঐতিহাসিক সোনা ভারতের
মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রিকার্ভ আর্চারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৪ বছরের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় মহিলা দল। এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জিতলেন অঙ্কিতা ভকত, কীর্তি শর্মা ও কুমকুম মহোড। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কোরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের এই জয় নিঃসন্দেহে দেশের রিকার্ভ আর্চারির (Asian Games Recurve Gold) এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ফাইনালের আগে কোরিয়াকেই স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির অন্যতম সদস্য ছিলেন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে থাকা কাং চায়ে-ইয়ং। রিকার্ভ ইভেন্টে দীর্ঘদিন ধরেই কোরিয়ার দাপট। কিন্তু প্রতিপক্ষের খ্যাতি বা র্যাঙ্কিং নিয়ে মাথা ঘামাননি ভারতের তিন তিরন্দাজ।
চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে
সেমিফাইনালেই নিজেদের আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দিয়েছিল ভারত। চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে অঙ্কিতা-কীর্তি-কুমকুমের দল। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নাগোয়ার কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনজনের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। চিনের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কীর্তির নিখুঁত ১০ পয়েন্টের শট ভারতকে এগিয়ে দেয়। প্রথম ও দ্বিতীয় সেটের শেষ তিরে তাঁর ১০ পয়েন্ট ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শেষ সেটেও প্রয়োজনের সময় নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেন তিনি। এরপর ফাইনালে সামনে ছিল শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া। শুরু থেকেই কাং, লি এবং ওহ ই-জিনের কোরীয় দল চাপ তৈরি করেছিল। কিন্তু ভারতীয় দলও একটুও পিছিয়ে যায়নি। প্রথম সেটে কোরিয়া ৫৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করলে ভারতও একই স্কোর করে। দ্বিতীয় সেটে কোরিয়ার ৫৬ পয়েন্টের জবাবেও ৫৬-ই করে ভারত। ফলে দুই সেটের পর স্কোর দাঁড়ায় ২-২। তৃতীয় সেটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। কোরিয়ার ছয়টি তিরের মধ্যে চারটিই ৮ পয়েন্টে গিয়ে লাগে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত ৫৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে এবং সেট জিতে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। চতুর্থ সেটে কোরিয়া ৫৪ পয়েন্ট তোলে। ফলে সোনা নিশ্চিত করতে ভারতকে অন্তত ৫৪ পয়েন্ট করতেই হত। শুরুতে কীর্তির একটি তির ৮ পয়েন্টে গিয়ে লাগে। পরে রিভিউয়ের পর সেটি ৯ পয়েন্ট হিসেবে গণ্য হয়। শেষ পর্যন্ত ভারতও ৫৪ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। সেটটি টাই হওয়ায় ভারত ৫-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং ইতিহাসে প্রথমবার মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে কোরিয়াকে হারিয়ে সোনা জেতে।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সাফল্য
এই সাফল্যের নেপথ্যে তিন তিরন্দাজের পথচলাও আলাদা করে নজর কাড়ার মতো। কুমকুম মাত্র তিন বছর আগে রিকার্ভে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। তাঁর আর্চারির যাত্রা শুরু হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ধনুক দিয়ে। অন্যদিকে, কীর্তিকে একসময় বলা হয়েছিল যে তাঁর গড়ন খুবই পাতলা—রিকার্ভ বো ধরে রাখার মতো শক্তি তাঁর নেই। সেই সংশয়কে পিছনে ফেলে আজ তিনি এশিয়ান গেমসের সোনাজয়ী দলের সদস্য। অঙ্কিতা ভকত অবশ্য দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ মুখ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে মোট ২৩টি পদক। হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ভারতীয় মহিলা রিকার্ভ দল ব্রোঞ্জ জিতেছিল। সেটিই ছিল দলের আগের সেরা সাফল্য; ফাইনালে ওঠার সুযোগ হয়নি। এবার সেই ইতিহাস বদলে দিলেন অঙ্কিতা, কীর্তি ও কুমকুম। ভারতীয় মহিলা ক্রীড়াঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সাফল্য নতুন দিগন্ত খুলেছে। হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে কম্পাউন্ড আর্চাররা নজর কেড়েছিলেন। এবার রিকার্ভ বিভাগেও বিশ্বসেরাদের সঙ্গে সমানে টক্কর দেওয়ার বার্তা দিয়ে দিল ভারত। নাগোয়ায় তিন ‘সোনার মেয়ে’ দেখিয়ে দিলেন—কোরিয়ার দীর্ঘ আধিপত্যও ভাঙা সম্ভব। এখন মিশ্র দল ও পুরুষ রিকার্ভ দলও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
-

ICC World Cup 2027 Schedule: ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারতের অভিযান শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, ১০ অক্টোবর পাকিস্তানের মুখোমুখি
মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশিত হল ২০২৭ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের সূচি (ICC World Cup 2027 Schedule)। আগামী ২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে ক্রিকেটের মহাযজ্ঞ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়া যৌথভাবে আয়োজন করবে ১৪ দলের এই বিশ্বকাপ। ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। ফাইনালের জন্য ২২ নভেম্বর রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে। এবারের বিশ্বকাপে থাকছে নতুন ফরম্যাট। প্রথমে উইন্ডহোকে হবে তিন দলের সুপার সিরিজ। এরপর ১২ দলকে নিয়ে হবে গ্রুপ পর্ব। গ্রুপ পর্বের পর শুরু হবে ‘সুপার ৭’ পর্ব। সেখান থেকে সেরা চার দল জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শুরু ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান
ভারত রয়েছে গ্রুপ এ-তে। এই গ্রুপে ভারতের সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে এবং কোয়ালিফায়ার এ। ৭ অক্টোবর কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ভারত (India Australia Pakistan)। ফলে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি আবারও ফিরে আসবে। ২০২৩ সালে আহমেদাবাদের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। ভারতের দ্বিতীয় ম্যাচই রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই। ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে মুখোমুখি হবে দুই প্রতিবেশী দেশ। বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে এই লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।
কোন গ্রুপে কারা?
গ্রুপ এ: ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে ও কোয়ালিফায়ার এ।
গ্রুপ বি: নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও কোয়ালিফায়ার বি।
গ্রুপ পর্ব চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই গ্রুপের প্রথম তিনটি করে দল এবং চতুর্থ স্থানে থাকা দুই দলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকা দল—মোট সাতটি দল—সুপার ৭ পর্বে জায়গা করে নেবে।
নভেম্বরেই সেমিফাইনাল ও ফাইনাল
সুপার ৭ পর্বের শেষে সেরা চার দল সেমিফাইনালে উঠবে। প্রথম সেমিফাইনাল ১৭ নভেম্বর কেপটাউনে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ১৮ নভেম্বর তাসওয়ানে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। ফাইনালের রিজার্ভ ডে হিসেবে রাখা হয়েছে ২২ নভেম্বর। এবারের বিশ্বকাপে মোট ৫৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ার মোট ১২টি ভেন্যুতে হবে ম্যাচগুলি। এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে প্রথমবার সিনিয়র পুরুষদের বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করবে নামিবিয়া।
-

India Vs Pakistan: লাস্ট মিনিট থ্রিলারে এশিয়াড হকিতে পাক বধ! এশিয়ান গেমস ফাইনালে ২২ গজে ভারত-পাকিস্তান ‘মহারণ’
মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে পুরুষদের হকি সেমি ফাইনালে পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করল ভারত, সঙ্গে পদকও নিশ্চিত করল। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে শেষ মিনিট পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। এই ম্যাচেও তার অন্যথা ছিল না। বৃহস্পতিবার জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে দেখা গেল সেই ছবি। ভারত একটা সময়ে ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে পরে ৩-৩ সমতায় আটকে যায়। আর সেখান থেকে অন্তিম মিনিটে রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নেয়। নাটকীয়তায় মোড়া এই সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করল ভারত। অন্যদিকে , ক্রিকেটে সোনার পদকের জন্য মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান (India vs Pakistan)। ৩ অক্টোবর হবে বহু প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল। এশিয়ার দুই ক্রিকেট শক্তির লড়াই এবার এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নতুন মাত্রা পেতে চলেছে।
শুরু থেকে ভারতের আক্রমণ
এদিন হকির ময়দানে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল টিম ইন্ডিয়া। পঞ্চম মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের ট্রেডমার্ক ড্র্যাগ-ফ্লিকে বল জালে জড়িয়ে ভারতকে ১-০ এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। অষ্টম মিনিটে দিলপ্রীতের একটি গোল ব্যাক-স্টিকের কারণে ভিডিয়ো রিভিউতে বাতিল হলেও ভারতীয় আক্রমণ থামেনি। ১৩ মিনিটে রিভার্স হিটে পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নিখুঁত ফিনিশে ব্যবধান ২-০ করেন সেই হরমনপ্রীতই। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ২৩ মিনিটে মনপ্রীত ও শীলানন্দের দুর্দান্ত সমন্বয়ে পাকিস্তানের ডি-বক্সে বল পান সুখজিত সিং, যিনি আলতো টোকায় স্কোরলাইন ৩-০ করে দেন। কিন্তু এরপরেই ম্যাচে শুরু হয় পাকিস্তানের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। ৩০তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলরক্ষক মোহিতকে পরাস্ত করে পাকিস্তানের আবু মাহমুদ ব্যবধান ৩-১ করেন। বিরতির পর তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারত অনেকটাই স্লো হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে ৪৫ মিনিটে ভারতীয় ডিফেন্সের ব্যর্থতার ফায়দা তুলে হান্নান শাহিদ ৩-২ করেন। চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতে অর্থাৎ ৪৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা পাসে রানা ওয়াহিদ স্টিক ছুঁইয়ে ৩-৩ সমতা ফেরান। টানা তিনটে গোল খেয়ে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যায় ভারতীয় শিবির।
টানা ২১টা ম্যাচে অপরাজিত ভারত
ম্যাচের শেষ দশ মিনিট ছিল চরম উত্তেজনায় ভরা। খেলার ঘড়িতে যখন ঠিক ৬০ মিনিট, সার্কেলের ডান প্রান্তে সামান্য ফাঁকা জায়গা পেয়ে বিদ্যুৎগতিতে ঢুকে পড়েন অভিষেক। দুরূহ কোণ থেকে তাঁর নেওয়া জোরালো শট গোলরক্ষক রাজার পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। আর এর পরেই ম্যাচ শেষের হুটার বাজে। শেষ মুহূর্তের এই গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা ভারতীয় দল। এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা ২১টা ম্যাচে অপরাজিত রইল ভারত। পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার এশিয়াডের ইতিহাসে পুরুষ ও মহিলা উভয় দলকেই ফাইনালে তুলে এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করল ভারত।
ক্রিকেটে ফাইনালে ভারত-পাক মহারণ
এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ক্রিকেটে সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারত। ব্যাট হাতে প্রথমে ২০ ওভারে ১৬৯ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া। ঈশান কিষানের অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংস ভারতের বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। বৈভব সূর্যবংশীর ৩৮ রানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। জবাবে মাত্র ৪৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ভারতের হয়ে জসপ্রীত বুমরাহ, অভিষেক শর্মা ও অক্ষর প্যাটেল দুটি করে উইকেট নেন। শ্রীলঙ্কার তিন ব্যাটার রান-আউট হন। এবার ৩ অক্টোবর মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। অর্থাৎ এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ক্রিকেটে সোনার পদক নির্ধারণ হবে দুই প্রতিবেশী দেশের লড়াইয়ে। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে দুই দলের লড়াই বরাবরই আলাদা গুরুত্ব পায়। এবার সেই দ্বৈরথই দেখা যাবে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মঞ্চে।
ইতিহাস নীতেশ কুমারের
এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ১২তম দিনটি ভারতের জন্য ছিল সাফল্যে ভরা। ক্রিকেট-হকির সঙ্গেই গ্রিকো-রোমান কুস্তিতে ইতিহাস গড়েছেন নীতেশ কুমার। পাশাপাশি তিরন্দাজি, নৌক্রীড়া, স্কোয়াশ ও সেপাক তাকরায়ও পদক ও সাফল্য এসেছে ভারতের ঝুলিতে। পুরুষদের ৯৭ কেজি গ্রিকো-রোমান বিভাগে মঙ্গোলিয়ার গাঙ্কহুয়াগ গানবাতারকে ৯-০ ব্যবধানে টেকনিক্যাল সুপিরিয়রিটিতে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন নীতেশ কুমার। এর ফলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম ভারতীয় গ্রিকো-রোমান কুস্তিগির হিসেবে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে পৌঁছলেন তিনি। এবার সোনার পদকের জন্য লড়বেন নীতেশ। গ্রিকো-রোমান কুস্তিতে এশিয়ান গেমসে ভারতের শেষ সোনা এসেছিল ১৯৬২ সালে। এদিকে মহিলাদের ৬২ কেজি বিভাগে মানসি আহলাওয়াত সেমিফাইনালে উঠলেও জাপানের নোনোকা ওজাকির কাছে ৬-০ ব্যবধানে হেরে যান। এবার ব্রোঞ্জের জন্য লড়বেন তিনি।
স্কোয়াশে ভারতের ব্রোঞ্জ
মহিলাদের দলগত স্কোয়াশে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছে ভারত। সেমিফাইনালে হংকং চায়নার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ভারতীয় দল। প্রথম ম্যাচে আনাহত সিং চ্যান সিন ইউকের কাছে পরাজিত হন। এরপর তানভি খান্না ৩-১ ব্যবধানে লি কা ই-কে হারিয়ে ভারতকে সমতায় ফেরান। তবে নির্ণায়ক ম্যাচে জোশনা চিনাপ্পা হো তসে লোকের কাছে হেরে যান। ফলে ফাইনালে পৌঁছে যায় হংকং চায়না এবং ভারত পায় ব্রোঞ্জ। পুরুষদের কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছেন গণেশ মণি রত্নম থিরুমুরু। ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে ভিয়েতনামের দাং কং ডাককে ১৪৯-১৪৪ ব্যবধানে হারান তিনি। সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার কিম জংহোর কাছে হেরে গেলেও ব্রোঞ্জের ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান গণেশ। কম্পাউন্ড তিরন্দাজিতে ভারতীয় দলগত ইভেন্ট থেকে তিনটি সোনা এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টে একটি ব্রোঞ্জ জিতেছে।
নৌক্রীড়ায় রুপো ভারতের
পুরুষদের স্কিফ ইভেন্টে রুপোর পদক জিতেছেন ভারতের মানু ফ্রান্সিস ও প্রিন্স কুরিসিঙ্কাল নোবেল। ভারতীয় জুটি মোট ২৩ নেট পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে। ফাইনাল রেসের আগে চতুর্থ স্থানে থাকা ভারতীয় জুটি শেষ দৌড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। পুরুষদের কোয়াড্রান্ট বিভাগে সেমিফাইনালে পৌঁছে পদক নিশ্চিত করেছে ভারত। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকেই শেষ চারে জায়গা করে নেয় ভারতীয় দল। এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ১২তম দিন শেষে মোট ৬৩টি পদক নিয়ে পদক তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে ভারত। সোনা ১০টি, রুপো ২২টি ও ৩১টি ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে ভারতের ঝুলিতে।
-

India Vs Brazil: আজ শহরে ব্রাজিল! মেসি-কাণ্ড থেকে শিক্ষা, কড়া নিরাপত্তা, ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। রাত আটটায় শহরে পা রাখবেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, গুইমারেজ, মারকুইনসরা। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, সন্ধ্যে সাড়ে ছ’টা থেকে সাতটার মধ্যে কলকাতায় পৌঁছবে ব্রাজিল দল (India Vs Brazil)। কিন্তু সেটা পিছিয়ে গিয়েছে। ব্রিসবেন থেকে দীর্ঘ ১০-১১ ঘণ্টার যাত্রা অতিক্রম করে চার্টার্ড বিমানে রাত আটটায় কল্লোলিনী কলকাতায় পা রাখার কথা সেলেকাওদের। আগামী ৩ অক্টোবর সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঐতিহাসিক ম্যাচ। মুখোমুখি হবে ভারত ও ব্রাজিল। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ হলেও এই খেলাকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তাপ চরমে।
কঠোর নিরাপত্তা রাজ্য সরকারের
ম্যাচ ঘিরে প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট আঁটোসাঁটো রাখা হচ্ছে। কোনও রকম ফাঁক রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। বুধবার রাতে ভারত বনাম ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির খতিয়ান নিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ডা. ইন্দ্রনীল খান এবং এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। বিধাননগর পুলিশের আওতাধীন সল্টলেক স্টেডিয়ামে আগামী ৩ অক্টোবর ভারত বনাম ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে। বিধাননগর পুলিশ সূত্রে খবর, স্বেচ্ছাসেবক-সহ প্রায় তিন হাজার পুলিশ মোতায়ন থাকবে। যার মধ্যে থাকছে পুলিশের ব়্যাফ বাহিনী। এছাড়াও থাকছে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হবে সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে। তবে ড্রোন দিয়ে নজরদাড়ি বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই জানিয়েছে বিধাননগর পুলিশ।
বিশেষ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী
ভারত বনাম ব্রাজিল ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচের চূড়ান্ত প্রস্তুতি বৈঠকে বুধবার উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যুবভারতীর ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে বাড়তি কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে ৷ মেসি ইভেন্টে বিশৃঙ্খলা ঘটনার পরে এখন বাড়তি সতর্ক বিধাননগর পুলিশ। ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজিত হবে ৩ অক্টোবর। মোট ২৫০০ পুলিশ থাকবে সেই ম্যাচের নিরাপত্তার দায়িত্বে। ২০০-র কাছাকাছি অফিসার পদমর্যাদার পুলিশ থাকবেন। এবং ২০ জন আইপিএস অফিসার থাকবেন। রাজ্যের অন্য প্রান্ত থেকে এবং অন্য কমিশনারেট থেকে ২০ জন অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার নিযুক্ত থাকবেন। বিধাননগর ট্রাফিক বিভাগ সূত্রের খবর, সাধারণ মানুষকে জানানো হয়েছে, গণপরিবহন ব্যবহার করতে, নিজস্ব গাড়ি যতটা সম্ভব ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে যানজটের সম্ভাবনা অনেকটাই এড়ানো যাবে বলেই দাবি বিধাননগর পুলিশের। তবে কোন রাস্তা বন্ধ থাকবে তা এখনও বিধাননগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানায়নি। খুব জরুরি অবস্থা না হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও যানজট এড়ানোর জন্য কোনও রাস্তা বন্ধ রাখার নির্দেশ এখনও দেওয়া হয়নি।
দু’ঘণ্টা আগে মাঠে ঢুকতে হবে
মাঠে দর্শকদের জন্য তিন স্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে। এই প্রথম দর্শকদের সিট নম্বর দেখে, অর্থাৎ টিকিটে যে নম্বর থাকবে, সেখানেই তাঁদের বসতে হবে। এগুলি সবটাই গাইড করে দেবে পুলিশ এবং খেলা শুরুর দু’ঘণ্টা আগে মাঠে ঢুকতে হবে দর্শকদের। ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে প্রত্যাশিতভাবেই ভারতীয় ফুটবল মহলে সাজ সাজ রব। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন এবং রাজ্য সরকার প্রস্তুতির কোনও খামতি রাখতে চাইছে না। ওই মেগা ম্যাচ ঘিরে একাধিক চমকও থাকছে। সূত্রের খবর, ম্যাচের একদিন আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে দলকে সান্ধ্যকালীন ভোজনে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাতে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ব্রাজিল ও উরুগুয়ে দু’দলের প্রতিনিধিরা ছাড়াও ভারতীয় দলও থাকবে ওই সান্ধ্যভোজনে।
সামনে পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা
যুবভারতীতে ৩ অক্টোবর ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলি। ভিনিসিয়াসদের আটকানোর কঠিন পরীক্ষায় খালিদ জামিলের ভারত। কিছুদিন আগে বিশ্বকাপ খেলা পানামার সঙ্গে ঐতিহাসিক ড্র করেছে ভারত। প্রথমার্ধে রায়ান উইলিয়ামসের দুর্দান্ত ফিনিশে এগিয়ে গিয়েছিল ব্লু টাইগার্স। এবার সামনে পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা। ব্রাজিল কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি জানিয়েছিলেন ভারতে নাকি ‘ফুটবল সংস্কৃতি’ নেই। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৩৮ নম্বরে থাকলেও ভারতের ফুটবল সংস্কৃতি বহু পুরনো। সিনিয়র পুরুষদের ফুটবলে দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম সাক্ষাৎ। কার্লো আনচেলত্তি এই সফরের জন্য একটি তারকাখচিত দল ঘোষণা করেছেন। দলে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও এনড্রিক এবং বার্সেলোনার রাফিনহা। শনিবার ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরে এটি ব্রাজিলের তৃতীয় ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দু’টি ম্যাচ খেলে ভারতে আসছে সেলেকাওরা।
শহরে ব্রাজিলের নিরাপত্তা দল
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে উন্মাদনা তুঙ্গে। বিমানবন্দরে জমায়েত হবেন হাজার হাজার ব্রাজিল সমর্থক। তবে, প্রিয় তারকাদের চাক্ষুষ করতে বেগ পেতে হবে অনুরাগীদের। সূত্রের খবর, বিমানবন্দরের ভিতর থেকে ভিআইপি গেট দিয়ে ব্রাজিল দলকে টিম বাসে তুলে দেওয়া হবে। সেখান থেকে এসকর্ট করে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে বাইপাস সংলগ্ন পাঁচতারা হোটেলে। বিমানবন্দরের বাইরের ভিড় এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত। ব্রাজিল দলের সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ম্যাচের আগে বুধবার কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছে ব্রাজিলের আট সদস্যের নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল। সেই দলে রয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন সেনাকর্মীরা। কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল দায়িত্ব।
মেসি কাণ্ড থেকে শিক্ষা
ব্রাজিলের নিজস্ব নিরাপত্তা দল মূল দলের অনেক আগেই কলকাতায় এসেছে। ফুটবলার, প্রতিনিধি এবং দলের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন তাঁরা। মেসি কাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে শহরে আগাম আগমন ব্রাজিলের নিজস্ব নিরাপত্তা দলের। গত বছর ডিসেম্বরে কলকাতায় এসেছিলেন লিওনেল মেসি। সল্টলেক স্টেডিয়ামে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় পুলিশ। চূড়ান্ত অব্যবস্থার জন্য মেসি মাত্র ২৫ মিনিট স্টেডিয়ামে থাকার পর বেরিয়ে যান। অবশ্য এখন সরকার বদলেছে। তৃণমূল আমলের মতো বিশৃঙ্খলা এড়াতে সদা সক্রিয় শুভেন্দু-সরকার। মেসি ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেই কারণেই ব্রাজিলও এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে অনুশীলন মাঠের চারপাশে নতুন ফেন্সিংও বসানো হচ্ছে। ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় কলকাতা।
-

Asian Games 2026: চিনকে হারিয়ে মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারিতে সোনা! বিশ্বরেকর্ড স্কোর, রিলে রেসেও সোনা জিতল ভারতের মেয়েরা
মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারি টিম ইভেন্টে সোনা জিতে চমক দেখাল ভারত। বুধবার ফাইনালে চিনকে ২৩৮-২৩৪ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জয় করল ভারতের মহিলা দল। শেষ তিনটি তীরেই পরপর তিনটি ‘১০’ মেরে প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্সে ম্যাচ শেষ করেন জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম, চিকিথা তানিপারথি ও পৃথিকা প্রদীপ। এই জয়ের ফলে চলতি এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাতটিতে। সব মিলিয়ে ভারতের পদক সংখ্যা এখন ৫৩—সোনা ৭, রুপো ২১ এবং ব্রোঞ্জ ২৫। ভারতের ২৩৮ স্কোরটি ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার গড়া বিশ্বরেকর্ডের সমান। অর্থাৎ এদিন ফাইনালে ভারতের পারফরম্যান্স বিশ্বরেকর্ডের স্কোর ছুঁয়ে ফেলেছে। জ্যোতি সুরেখার জন্য এটি এশিয়ান গেমসে চতুর্থ সোনা। অন্যদিকে, এশিয়ান গেমসে অভিষেকেই সোনা জয়ের স্বাদ পেলেন চিকিথা তানিপারথি ও পৃথিকা প্রদীপ।
শুরু থেকেই ভারতের দাপট
ফাইনালের শুরু থেকেই চিনের উপর চাপ তৈরি করে ভারত। প্রথম তিনটি তীরেই তিনটি ‘১০’ মারেন জ্যোতি, চিকিথা ও পৃথিকা। চিনের তিনটি শট ছিল ‘৯’। ফলে প্রথম থেকেই এগিয়ে যায় ভারত। পরের সেটেও তিনটি নিখুঁত ‘১০’ আসে ভারতের কাছ থেকে। চিনের একটি শট রিভিউয়ের পর ‘১০’ হিসেবে গণ্য হওয়ায় প্রথম সেট শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৬০-৫৮। পরের সেটে ভারত একটি পয়েন্ট হারালেও ৮৯-৮৭ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। এরপর আবার তিনটি ‘১০’ মেরে হাফটাইমে ভারত লিড বাড়িয়ে নেয় ১১৯-১১৬। দ্বিতীয়ার্ধে চিন নিখুঁত একটি সেট দিয়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে। ভারতও পাল্টা তিনটি ‘১০’ মেরে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে। আরও একটি রিভিউয়ের পর চিনের স্কোর বাড়লেও ভারত তখনও ১৭৮-১৭৬ ব্যবধানে এগিয়ে।
শেষদিকে আর কোনও সুযোগ দেয়নি ভারত
ফাইনালের নির্ণায়ক মুহূর্তে চিন একটি ‘১০’ এবং দুটি ‘৯’ মারে। ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ২০৮-২০৪-এ। এরপর সোনা নিশ্চিত করতে শেষ তিনটি তীরই লক্ষ্যভেদ করেন ভারতের তিন সদস্য। চিকিথা, পৃথিকা এবং জ্যোতি—তিনজনই শেষ শটে ‘১০’ মারেন। ফলে ভারত ২৩৮-২৩৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং বিশ্বরেকর্ডের স্কোর স্পর্শ করে।
সেমিফাইনালেও কঠিন লড়াই
ফাইনালের আগে সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করতে হয়েছিল ভারতকে। ভারত ২৩৫-২৩৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। শুরুতে দুই দলই ৫৯-৫৯ সমতায় ছিল। এরপর ভারত এগিয়ে গিয়ে হাফটাইমে ১১৮-১১৫ লিড নেয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পরপর নিখুঁত সেট মেরে ম্যাচে ফিরে আসে দক্ষিণ কোরিয়া। একসময় স্কোর হয়ে যায় ১৭৫-১৭৫। শেষদিকে ভারত আবার সামান্য ব্যবধান তৈরি করে এবং শেষ সেটের আগে ২০৫-২০৪-এ এগিয়ে ছিল। দক্ষিণ কোরিয়া ২৩৩-এ থামার পর চিকিথা ও পৃথিকা ১০ করে এবং জ্যোতি ৯ মারেন। ভারত পৌঁছে যায় ২৩৫-এ এবং ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। তবে ফাইনালে চিনের বিরুদ্ধে আর কোনও নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেয়নি ভারতীয় দল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখে শেষ তিনটি নিখুঁত ‘১০’-এ সোনা নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়ল জ্যোতি-চিকিথা-পৃথিকার দল।
রিলে রেসে-ও সোনা ভারতের মেয়েদের
নীরু ধান্ডার পর এবার সোনা এল ৪*৪০০ রিলে রেসে। এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) শেষ দিনে অ্যাথলেটিক্সে প্রথম সোনা জিতল ভারত। বিথ্যা রামরাজ, কিরণ, প্রাচী এবং মাচেত্তিরা পোভাম্মার ভারতীয় মহিলা রিলে দল দেশের মুখ উজ্জ্বল করে দেশকে সোনা এনে দিলেন। তারা ৩:২৯.৬৯-এ দৌড় শেষ করে পোডিয়ামে শীর্ষে জায়গা করে নেন। বাহারিন ৩:৩০.২১-এ শেষ করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। তৃতীয় স্থানে শেষ করে চিন। ৪০০ মিটার হার্ডেলেও রামরাজ পদক জিতেছিলেন। সেক্ষেত্রে তাঁর ঝুলিতে এসেছিল ব্রোঞ্জ। তবে এবার একেবারে সোনা জিতলেন তিনি।
রিলে রেসে ব্রোঞ্জ ছেলেদের
মহিলারা ৪x৪০০ মিটার রিলেতে সোনা দিলেও পুরুষরা এবার ব্যর্থ। হিটের মতো পারফরম্যান্স করতে পারলেন না ভারতীয়েরা। ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল ভারতকে। মরসুমের সেরা সময়ের ধারে কাছেও দৌড় শেষ করতে পারলেন না ধর্মবীর চৌধরী, মনু থেক্কিনিল, জয় কুমার, বিশাল থেনারসু। হিটে ৩ মিনিট ০.৩২ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করা ভারতীয় দল ফাইনালে সময় নিলেন ৩ মিনিট ১.৬১ সেকেন্ড। হিটের সময়ে দৌড় শেষ করতে পারলেও সোনা জিতত ভারত।
মিক্সড ৪x১০০ মিটার রিলেতেও চমক
নাগোয়ায় চমক দেখাল ভারতের মিক্সড ৪x১০০ মিটার রিলে দল। হরিতা ভদ্র, অনিমেষ কুজুর, স্নেহা সত্যনারায়ণ এবং গুরবিন্দর সিংহ দৌড় শেষ করলেন ৪১.০৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে ব্রোঞ্জ জিতলেন। মরসুমের সেরা সময় করলেন তাঁরা ফাইনালে। এই ইভেন্ট থেকে পদকের তেমন আশা অবশ্য ছিল না।
নজির গড়লেন গুলবীর
নজির গড়লেন গুলবীর। ৫০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতলেন ১৩ মিনিট ৩২.৭৫ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে। এর আগে ১৫০০ মিটার এবং ১০ মিটারে রুপো জিতেছেন তিনি। ১৯৮৬ সালের গেমসে উষা পদক জয়ের হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তাঁর পর গুলবীরই হলেন ভারতের প্রথম অ্যাথলিট যিনি একটি গেমস থেকে অন্তত তিনটি ব্যক্তিগত পদক পেলেন। উষা অবশ্য সে বার চারটি পদক জেতেন। ২০০ মিটার, ৪০০ মিটার এবং ৪০০ মিটার হার্ডলসে সোনা জেতেন। সঙ্গে ১০০ মিটারে জেতেন রুপো। এ ছাড়াও সোনাজয়ী ৪x৪০০ মিটার রিলে দলেও ছিলেন তিনি।
মেয়েদের হাই জাম্পেও পদক
পদক এসেছে মেয়েদের হাই জাম্পেও। ১.৮৪ মিটার উচ্চতা টপকে ব্রোঞ্জ জিতেছেন পূজা সিংহ। এ বারের গেমসে অ্যাথলেটিক্সে ভারতের আর কোনও ইভেন্ট নেই। বক্সিংয়ে এল প্রথম পদক। ছেলেদের ৯০+ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ পেলেন নরেন্দর বেরওয়াল। তিনি সেমিফাইনালে কাজ়াখস্তানের আইবেক ওরালবের কাছে ০-৫ ব্যবধানে হেরে গিয়েছেন। তবে মেয়েদের ৬৫ কেজি বিভাগে পারভীন হুডা এবং ছেলেদের ৮০ কেজি বিভাগে অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল ফাইনালে উঠেছেন। তাঁদের রুপোর পদক নিশ্চিত। মোট ছ’জন বক্সার পদক নিশ্চিত করেছেন। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কাতারকে হারিয়ে ছেলেদের ভলিবলের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ভারত। প্রথম দু’সেট হারার পরও ম্যাচ বের করেছে ভারতীয় দল। তা-ও দু’টি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে। টান টান ম্যাচে ভারতীয় দল জিতেছে ২৬-২৮, ২৫-২৭, ২৫-২৩, ২৫-২০, ২৪-২২ ব্যবধানে। কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।
পদক জয়ের লক্ষ্যে
এছাড়াও মেয়েদের স্কোয়াশে পদক নিশ্চিত করল ভারত। মেয়েদের সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছেন তানভি খান্না এবং অনাহত সিং। ইতিমধ্যেই পদক তালিকায় প্রথম দশের মধ্যে উঠে এসেছে ভারত। এবার সেই সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ ভারতীয় কুস্তিগীর, বক্সার এবং তিরন্দাজদের ওপর। ফাইনালের ছাড়পত্র সংগ্রহের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে মেয়েদের হকি দল। তারকা জুডোকা অশ্মিতা দেবও বুধবার নামবে। ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক জয়ী নীরু ধান্ডাও এদিন মিক্সড টিম ইভেন্টে নামবে।