Category: খেলা

Get updates on Sports News Cricket, Football, Tennis, from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Neeru Dhanda Shooting Gold: এশিয়ান গেমসে ইতিহাস নীরু ধান্ডার, ট্র্যাপে প্রথম ভারতীয় শুটার হিসেবে সোনা, ভাঙলেন এশিয়ান রেকর্ড

    Neeru Dhanda Shooting Gold: এশিয়ান গেমসে ইতিহাস নীরু ধান্ডার, ট্র্যাপে প্রথম ভারতীয় শুটার হিসেবে সোনা, ভাঙলেন এশিয়ান রেকর্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের শুটিংয়ে নতুন ইতিহাস লিখলেন নীরু ধান্ডা। মঙ্গলবার এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ট্র্যাপ ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিতে দেশের প্রথম শুটার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পথে মহাদেশীয় রেকর্ডও ভেঙেছেন ভারতীয় এই শুটার। এদিনের সাফল্যে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনার পদকের সংখ্যা বেড়ে হল ৫।

    বৃষ্টিভেজা ফাইনালে নীরুর দাপট

    মহিলাদের ট্র্যাপ ব্যক্তিগত ইভেন্টের যোগ্যতা পর্ব থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন নীরু। ফাইনালের আট প্রতিযোগীর মধ্যে তিনিই শেষ পর্যন্ত ২৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন। বৃষ্টির কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলেও ফাইনালে নিজের স্নায়ুর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন ভারতীয় শুটার।

    ফাইনালের প্রথম সিরিজেই পাঁচটির মধ্যে পাঁচটি টার্গেট ভেঙে শুরু করেন নীরু। দ্বিতীয় সিরিজে একটি টার্গেট মিস করলেও দ্রুত ছন্দে ফিরে আসেন। তৃতীয় সিরিজে ফের নিখুঁত পারফরম্যান্স করে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেন তিনি। চতুর্থ সিরিজ শেষে ২০টি শটের মধ্যে ১৯টি টার্গেট হিট করে সোনার দৌড়ে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেন।

    ২৫টি শটের পর নীরুর স্কোর ছিল ২৩, চিনের সুন ইউনং-এর ২১ এবং কুয়েতের হাজর আবদুলমালিকেরও ২১। এরপর শেষ ধাপে অসাধারণ সংযম দেখিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন নীরু। সুন ইউনং এবং হাজর ২১ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে পরবর্তী দুই স্থান দখল করেন। কাতারের রে বাসিল ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ হন।

    যোগ্যতা পর্বেও শীর্ষে ছিলেন নীরু

    নীরুর সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, শুধু ফাইনাল নয়, যোগ্যতা পর্বেও তিনি শীর্ষে ছিলেন। কাতারের রে বাসিলের সঙ্গে সমান স্কোরে যোগ্যতা পর্ব শেষ করেছিলেন তিনি। ফলে ফাইনালে টাই হলে নীরুর হাতে ছিল গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। ফাইনালে সেই সুবিধাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিজের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন ভারতীয় শুটার। শেষ পর্যন্ত ২৬ পয়েন্ট নিয়ে সোনার পদক নিশ্চিত করে ভারতীয় শুটিংয়ের ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ী করে ফেলেন তিনি।

    একই দিনে দলগত ইভেন্টেও রুপো

    নীরুর মঙ্গলবারের সাফল্য অবশ্য শুধু ব্যক্তিগত সোনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগেই মহিলাদের ট্র্যাপ দলগত ইভেন্টে নীরু ধান্ডা, আশিমা আহলাওয়াত এবং মনীষা কীর জুটি রুপোর পদক জিতেছিল। তিন ভারতীয় শুটারের সম্মিলিত স্কোর ছিল ৩২৮। ৩৪৬ স্কোর করে চিন সোনা এবং ৩২৫ স্কোর নিয়ে কুয়েত ব্রোঞ্জ জেতে। দলগত ইভেন্টে ভারতের হয়ে নীরুই ছিলেন সেরা পারফর্মার—১২৫টির মধ্যে ১১৮টি টার্গেট হিট করেন তিনি। অর্থাৎ, একই দিনে দলগত ইভেন্টে রুপো এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা—দুটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন নীরু।

    দুর্দান্ত এক বছরের পর এশিয়ান গেমসে সোনা

    নীরু ধান্ডার এই এশিয়ান গেমস সাফল্য তাঁর দুর্দান্ত ২০২৬ সালেরই ধারাবাহিকতা। জুলাইয়ে ইতালির লোনাতোয় মহিলাদের ট্র্যাপ ইভেন্টে নিজের প্রথম আইএসএসএফ বিশ্বকাপ সোনা জিতেছিলেন তিনি। এর আগে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এই ভারতীয় শুটার। ভারতীয় সেনার মার্কসম্যানশিপ ইউনিট-এর সদস্য নীরু বর্তমানে নায়েব সুবেদার পদে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক সাফল্যের ফলে ভারতীয় শটগান শুটিংয়েও তাঁর গুরুত্ব দ্রুত বেড়েছে।

    পারিবারিক অনুপ্রেরণায় শুটিং শুরু

    নীরুর শুটিং কেরিয়ারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পারিবারিক অনুপ্রেরণাও। তাঁর মামাতো ভাই লক্ষয় শেওরান ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ট্র্যাপ ইভেন্টে রুপোর পদক জিতেছিলেন। তাঁকে দেখেই শুটিংয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল নীরুর। এবার এশিয়ান গেমসের মঞ্চেই লক্ষয়ের এক ধাপ এগিয়ে গেলেন নীরু। কাজিন যেখানে রুপো জিতেছিলেন, সেখানে নীরু ব্যক্তিগত ট্র্যাপ ইভেন্টে জিতে নিলেন সোনা।

    ভারতের পদক তালিকায় ৪৭

    নীরু ধান্ডার ব্যক্তিগত সোনা ভারতের এশিয়ান গেমস পদক তালিকাতেও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তাঁর সোনার ফলে ভারতের মোট পদকসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৭—এর মধ্যে রয়েছে ৫টি সোনা, ২১টি রুপো এবং ২১টি ব্রোঞ্জ।

    বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাইফেল ও পিস্তল বিভাগের তুলনায় ভারতীয় শুটিংয়ে শটগান বিভাগ থেকে ঐতিহাসিকভাবে বড় প্রতিযোগিতায় তুলনামূলক কম পদক এসেছে। সেই জায়গায় ট্র্যাপ ইভেন্টে নীরুর এই সাফল্য ভারতীয় শটগান শুটিংয়ের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    নীরু ধান্ডার সোনা তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত পদক নয়। এটি ভারতীয় মহিলা শুটিংয়ের নতুন মাইলফলক এবং এশিয়ান গেমসের ট্র্যাপ ইভেন্টে দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

  • Virat Kohli: ৫৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি! সচিন-গাভাসকরকে পিছনে ফেলে বিরাট রেকর্ড কিং কোহলির

    Virat Kohli: ৫৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি! সচিন-গাভাসকরকে পিছনে ফেলে বিরাট রেকর্ড কিং কোহলির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিরুঅনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। তাঁর অপরাজিত ১৩৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের সৌজন্যে তিন ম্যাচের সিরিজের (India vs West Indies) প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটে জয় পেল ভারত। ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৪১.৪ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৩০০ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। ৮৮ বলে অপরাজিত ১৩৯ রান করেন কোহলি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৯টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫৭-এরও বেশি। অন্যদিকে শুভমন গিল করেন ১০৮ বলে ১১০ রান। দ্বিতীয় উইকেটে কোহলি ও গিলের ১৫১ রানের জুটি ভারতের জয়ের ভিত শক্ত করে দেয়।

    বিরাট-রেকর্ড

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এই ইনিংসে একাধিক নজির গড়েছেন কিং কোহলি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৩টি সেঞ্চুরি করে সুনীল গাভাসকরের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন কোহলি। গাভাসকর ৩৮ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছিলেন, কোহলি তা করলেন ৭৪ ম্যাচে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেও ১০টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি রয়েছে কোহলির। ওয়ানডে কেরিয়ারে এক ইনিংসে সর্বাধিক ৯টি ছক্কা মারলেন কোহলি। এর আগে ২০২৩ সালে তিরুঅনন্তপুরমেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৮টি ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দশম সেঞ্চুরি করে নিজেরই রেকর্ড স্পর্শ করলেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৩৫১ ম্যাচে ৬০টি সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন কোহলি। এই তালিকায় তাঁর পিছনে রয়েছেন গ্রাহাম গুচ ও কুমার সঙ্গাকারা। এই ইনিংসেই ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০ ছক্কা পূর্ণ করেন কোহলি।

    সচিনের রেকর্ড ভাঙলেন কোহলি

    ভারতের মাটিতে ১৩১ ম্যাচে ৭,০০৬ রান করে সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড ভেঙেছেন কোহলি। ভারতীয় মাটিতে সচিনের রান ছিল ৬,৯৭৬। মাত্র ৩০৩ ইনিংসে ১৫,০০০ ওয়ানডে রান পূর্ণ করলেন কোহলি। এই নজিরে তিনি দ্বিতীয় ব্যাটার হলেও দ্রুততম। পিছনে ফেললেন সচিন তেন্ডুলকরকে, যিনি ৩৭৭ ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। ওয়ানডে কেরিয়ারে এটি কোহলির তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। তাঁর দ্রুততম সেঞ্চুরি এসেছিল ২০১৩ সালে জয়পুরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাত্র ৫২ বলে। সফল রান তাড়ার ক্ষেত্রে ২৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করলেন কোহলি। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সচিন তেন্ডুলকরের সেঞ্চুরি ১৪টি।

    গিলের সেঞ্চুরি, কুলদীপের চার উইকেট

    ভারতের এই বড় জয়ের পিছনে কোহলির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন শুভমন গিল এবং কুলদীপ যাদব। গিল ১০৮ বলে ১১০ রান করেন। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে জাস্টিন গ্রিভস ১০১ এবং জন ক্যাম্পবেল ৬২ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে ২৯৫ রান তুললেও কুলদীপ যাদব ৪০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তাদের রান আটকে দেন। শেষ পর্যন্ত কোহলির অপরাজিত ১৩৯ রানের ইনিংসেই সহজে জয় নিশ্চিত করে ভারত।

  • India vs Panama: ৯৪ স্থান ওপরে থাকা পানামাকে রুখে দিল ভারত! ব্রাজিল, উরুগুয়ে ম্যাচের আগে মিলল বড় বার্তা

    India vs Panama: ৯৪ স্থান ওপরে থাকা পানামাকে রুখে দিল ভারত! ব্রাজিল, উরুগুয়ে ম্যাচের আগে মিলল বড় বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পানামার বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র ভারতের ফুটবলকে রাতারাতি বদলে দিয়েছে—এমন দাবি করার জায়গা নেই। তবে এই ম্যাচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৩৮ নম্বরে থাকা ভারত ৪৪ নম্বরে থাকা পানামার বিরুদ্ধে শুধু রক্ষণ সামলেই ম্যাচ শেষ করেনি। গোল করেছে, গোল হজমের পরও আক্রমণে ফিরেছে এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের কাঠামো ধরে রেখেছে।

    পানামার দলে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা ১৪ জন ফুটবলার ছিলেন। অর্থাৎ অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মানের বিচারে দুই দলের মধ্যে বড় ব্যবধান ছিল। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই ফারাক সবসময় ধরা পড়েনি।

    ৪১ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামসের গোলে এগিয়ে যায় ভারত। বাম প্রান্ত দিয়ে আকাশ মিশ্রর তৈরি করা আক্রমণ থেকে পানামার রক্ষণভাগের পিছনে জায়গা তৈরি করে গোল করেন উইলিয়ামস। পরিকল্পিত এই আক্রমণ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক। শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এমন দ্রুত ট্রানজিশনই ভবিষ্যতে ভারতের অন্যতম অস্ত্র হতে পারে।

    গোল খেয়েও পিছিয়ে যায়নি ভারত

    ৬৮ মিনিটে ওমর ভ্যালেন্সিয়া পানামাকে সমতায় ফেরানোর পর ভারত চাইলে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক হয়ে যেতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। বাম দিক দিয়ে আশিক কুরুনিয়নের গতি ব্যবহার করে ফের আক্রমণে ওঠে ভারত। শেষদিকে এডমুন্ড লারিডোঙ্কা এবং মনবীর সিংয়ের জন্য গোলের সুযোগও তৈরি হয়। এই জায়গাটিই পানামা ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। প্রতিপক্ষ গোল করলেই ম্যাচকে শুধুমাত্র ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এ নিয়ে যায়নি ভারত। বরং সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে উঠেছে।

    ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এই কৌশলই ভরসা?

    ৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের পরীক্ষা আরও কঠিন। বলের দখল দীর্ঘ সময় ধরে রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু তাই বলে ৯০ মিনিট নিজেদের বক্সের সামনে আটকে থাকলে চলবে না।

    উইলিয়ামস ও আশিকের গতি এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভারত যদি কয়েকটি সফল ট্রানজিশনও তৈরি করতে পারে, তাহলে ব্রাজিলের ফুল-ব্যাকদের অতিরিক্ত সামনে ওঠার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। সেই সঙ্গে ভারতীয় মাঝমাঠও কিছুটা সময় পাবে নিজেদের সংগঠিত করার। অর্থাৎ লক্ষ্য শুধু বলের দখল নয়—বল পেলেই সেটিকে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

    রক্ষণে ভুলের জায়গা কম

    তবে পানামা ম্যাচ ভারতের দুর্বলতাও দেখিয়েছে। ভ্যালেন্সিয়ার গোলের সময় লালেংমাউইয়া রালতের ক্লোজ-ডাউন সামান্য দেরিতে হওয়ায় শট নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ব্রাজিলের মতো দলের দ্রুত পাসিং ও ফিনিশিংয়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের ছোট ভুলও বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

    তাই আক্রমণাত্মক মানসিকতার সঙ্গে রক্ষণাত্মক সংহতি বজায় রাখাটাই হবে ভারতের বড় পরীক্ষা। মাঝমাঠ ও ডিফেন্সের মধ্যে ফাঁক কমাতে হবে। একজন সেন্টার-ব্যাক সামনে উঠে গেলে অন্যদের কভার করতে হবে। ফুল-ব্যাক আক্রমণে গেলে বিপরীত প্রান্তও খালি রাখা যাবে না।

    এই জায়গায় অনোয়ার আলির পারফরম্যান্স অবশ্য ইতিবাচক। বিপদের মুহূর্তে পিছিয়ে না গিয়ে সামনে গিয়ে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে সেই আগ্রাসনকে দলের সামগ্রিক কাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করতে হবে।

    উরুগুয়ের বিরুদ্ধে অন্য পরীক্ষা

    ব্রাজিলের মাত্র তিন দিন পর, ৬ অক্টোবর উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত। এই ম্যাচের চ্যালেঞ্জ কিছুটা আলাদা হতে পারে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে বলের দখল সামলানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, উরুগুয়ের বিরুদ্ধে শারীরিক লড়াই এবং দ্বিতীয় বল দখলের বিষয়টি বড় হয়ে উঠতে পারে।

    পানামার বিরুদ্ধে প্রথম আক্রমণ সামলানোর পর দ্বিতীয় পর্যায়ের বল কখনও কখনও প্রতিপক্ষের হাতে চলে গিয়েছে। উরুগুয়ের মতো দলের বিরুদ্ধে বারবার এমন হলে ভারত নিজেদের বক্সের কাছেই আটকে পড়তে পারে।

    আসল পরীক্ষা এখনই

    পানামার বিরুদ্ধে ড্র-কে তাই ভারতের বিশ্বমানের ফুটবলের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি দেখিয়েছে, প্রতিপক্ষের মান অনেক বেশি হলেও ভারত নিজেদের পরিকল্পনা, আগ্রাসন এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা ধরে রাখতে পারে।

    ৩ অক্টোবর ব্রাজিল এবং ৬ অক্টোবর উরুগুয়ের বিরুদ্ধে সেই দাবিরই পরীক্ষা হবে। পানামা ম্যাচে দেখা কমপ্যাক্ট রক্ষণ, দ্রুত ট্রানজিশন, উইলিয়ামস-আশিকের গতি, অনোয়ারের আগ্রাসন এবং গোল হজমের পরও আক্রমণে ফেরার মানসিকতা—এই বৈশিষ্ট্যগুলি যদি আরও শক্তিশালী দুই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও ধরে রাখা যায়, তাহলেই এই ড্র-এর প্রকৃত গুরুত্ব বোঝা যাবে।

  • Asian Games 2026: ইতিহাস সুরুচি-কমলজিতের! হকিতে জয় মেয়েদের, এশিয়ান গেমসে শুটিংয়ে সোনা-রুপো ভারতের

    Asian Games 2026: ইতিহাস সুরুচি-কমলজিতের! হকিতে জয় মেয়েদের, এশিয়ান গেমসে শুটিংয়ে সোনা-রুপো ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) শেষ পর্যন্ত শুটিংয়ে সোনা জিতল ভারত। শুক্রবার ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে মিক্সড টিম ইভেন্টে সোনার পদক জিতলেন সুরুচি সিং ও কমলজিৎ। ফাইনালে মোট ৪৮৪.৬ স্কোর করে শুধু সোনা জয়ই নয়, নতুন এশিয়ান রেকর্ডও গড়েছেন ভারতীয় জুটি। এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ এই নিয়ে দ্বিতীয় সোনা জিতল ভারত। এর আগে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সোনা জিতেছে। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে ভারতের জন্য এটি ছিল শেষ পদকের সুযোগ।

    ফাইনালে দুরন্ত সুরুচি-কমলজিৎ

    ম্যাচের শুরু থেকেই সুরুচি ও কমলজিৎ এগিয়ে ছিলেন। প্রথম সিরিজ শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার থেকে ৪.৯ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল ভারত। দ্বিতীয় সিরিজে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় মাত্র ১.২ পয়েন্টে। তবে চাপের মুখেও খেই হারাননি দুই ভারতীয় শুটার। ক্রমাগত হাই স্কোর করে ফের ব্যবধান বাড়াতে শুরু করেন তাঁরা। ১৮তম শটে ইন্দোনেশিয়া চতুর্থ হয়ে ছিটকে যাওয়ার পরে ভারত ৫.৮ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। এর ঠিক দু’টি শট পরেই সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৭.১ পয়েন্টে। শেষ দুই শটে ৭.২ পয়েন্টের লিড নিয়ে নামেন সুরুচি ও কমলজিৎ। পেনাল্টিমেট শটে সুরুচি ১০.৫ এবং কমলজিৎ ৯.৫ স্কোর করলেও ভারতের লিড কমে দাঁড়ায় ৬.২ পয়েন্টে। শেষ শটে সুরুচি ১০.৮ স্কোর করে ভারতের সোনা নিশ্চিত করেন। ফাইনাল শেষে ভারতীয় জুটির মোট স্কোর দাঁড়ায় ৪৮৪.৬। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের মিক্সড টিম ইভেন্টের ফাইনালে রুপো জিতেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সুহিয়ন হং ও গেউন চু জুটি। ৪৭৮.০ স্কোর করেন তাঁরা। অর্থাৎ, কোরিয়ান জুটির থেকে ৬.৬ পয়েন্ট এগিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন ভারতের দুই শুটার। ইরান ৪১৫.৮ স্কোর করে ব্রোঞ্জ জেতে।

    হকিতে জয় মেয়েদের

    ব্যক্তিগত ইভেন্টে অবশ্য সুরুচি ও কমলজিৎ, দু’জনেই হতাশ করেন। কমলজিৎ ব্যক্তিগত ইভেন্টের বাছাই পর্বে নবম হয়ে ফাইনালে জায়গা করতে পারেননি। সুরুচি শেষ করেন ২৬ নম্বরে। পুরুষ ও মহিলাদের দলগত ইভেন্টেও পদক আসেনি। তবে মিক্সড টিম ইভেন্টে সেই হতাশা কাটিয়ে এশিয়ান রেকর্ড-সহ সোনা জিতলেন তাঁরা। শুটিংয়ে আরও একটি পদক আসে পুরুষদের ৫০ মিটার রাইফেল ৩ পজিশন টিম ইভেন্টে। ঐশ্বর্য প্রতাপ সিং তোমর, নীরজ কুমার এবং রুদ্রাক্ষ পাটিলের ভারতীয় দল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে রুপোর পদক জিতে নেয়। ফলে শুক্রবার শুটিং থেকে ভারতের ঝুলিতে যোগ হল একটি সোনা এবং একটি রুপো। এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ ভারতীয় মহিলা হকি দলের (Indian Women Hockey Team) দুরন্ত ছন্দ অব্যাহত। শুক্রবার পুল বি-র ম্যাচে আয়োজক জাপানকে (India vs Japan) ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলল ভারত। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল ভারতীয় দল। পরে আরও একটি গোল করে ব্যবধান বাড়ায় তারা। জাপান একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করেনি ভারত।

  • Mirabai Chanu: ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান, এশিয়ান গেমসে রুপো মীরাবাই চানুর

    Mirabai Chanu: ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান, এশিয়ান গেমসে রুপো মীরাবাই চানুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অলিম্পিক্সে রুপো, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা, কমনওয়েলথ গেমসে একের পর এক সাফল্য— কিন্তু একটাই সাফল্য অধরা ছিল মীরাবাই চানুর (Mirabai Chanu)। এশিয়ান গেমসে কোনও পদক ছিল না ভারতের এই তারকা ওয়েটলিফটারের। অবশেষে মিটল সেই অপূর্ণতা। বুধবার এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ৪৯ কেজি ভারোত্তোলনে রুপো জিতলেন মীরাবাই চানু। মোট ১৯৮ কেজি ওজন তুলে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন মণিপুরের তারকা ভারোত্তোলক। একই সঙ্গে এশিয়ান গেমসে ভারোত্তোলনে ভারতের ২৮ বছরের পদক-খরা কাটালেন তিনি। চলতি এশিয়াডে ভারতের পদক সংখ্যা বেড়ে হলো ১২।

    ভারোত্তোলনে পদক-খরা কাটল

    শেষবার এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) ভারোত্তোলনে ভারত পদক জিতেছিল ১৯৯৮ সালে। ব্যাংককে রুপো জিতেছিলেন কারনাম মল্লেশ্বরী। ২৮ বছর আর কোনও পদক পায়নি ভারত। বুধবার সেই খরা কাটালেন মীরাবাই চানু। ব্যক্তিগত ভাবেও অধরা ছিল এশিয়ান গেমসের পদক। সেটাও পূর্ণ করলেন চানু। উল্লেখ্য, এর আগে দু’বার এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েও পদক জিততে পারেননি মীরাবাই। এদিন সোনা জেতেন উত্তর কোরিয়ার রি সং গাম। মোট ২১৫ কেজি ওজন (স্ন্যাচে ৯৪ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২১ কেজি) তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি।

    জয়ের ধারা অব্যাহত ভারতের কবাডি দলের

    এশিয়ান গেমসে জয়ের ধারা অব্যাহত ভারতের কবাডি দলের। বুধবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আইচি-নাগোয়াতে ইরানকে ৩৭-২৩ গোলে হারাল ভারতের মেয়েরা। শুরুটা মন্থর করে ভারত। প্রথমার্ধে একটা সময় ৯-১১ গোলে পিছিয়ে পড়ে। তারপর দুরন্ত কামব্যাক। মোমেন্টাম ফিরে পায় ভারতের মেয়েরা। প্রথমার্ধের শেষে ১৯-১৫ তে লিড নিয়ে নেয়। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ভাবনা দেবী। কয়েকটি দুর্দান্ত ট্যাকেল করেন। ম্যাচের কন্ট্রোল ধরে রাখেন পূজা। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ায় ভারত। শেষপর্যন্ত ৩৭-২৩ গোলে ইরানকে হারায়। এশিয়ান গেমসে কবাডিতে জোড়া জয় তুলে নিল ভারতের মেয়েরা। এর আগে ওপেনিং ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪২-২১ গোলে হারায় ভারত। বৃহস্পতিবার জাপানের মুখোমুখি ভারতের মেয়েরা। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে (Bangladesh) সহজেই হারিয়ে চলতি এশিয়ান গেমসে পুরুষদের কবাডির সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারতীয় দল। বুধবার আইচির টোকাই সিটিজেন জিমন্যাশিয়ামে ভারতের পক্ষে ম্যাচের ফল ৪৮-২৫। চলতি এশিয়ান গেমসে এখনও পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে ভারতের পুরুষ কবাডি দল। গ্রুপ এ-তে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখায় গতবারের এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী ভারতীয় দল। দুই সেমি-ফাইনালে পরাজিত দলই ব্রোঞ্জ পদক পাবে। ফলে ভারতীয় দলের পদক নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। পুরুষদের কবাডিতে ভারত এশিয়ান গেমসের রেকর্ড আটবারের চ্যাম্পিয়ন। এশিয়ান গেমসে কবাডি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর জাকার্তা ২০১৮ ছাড়া প্রতিটি আসরেই সোনা জিতেছে ভারত। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইরান।

    ভারতের সাফল্য

    এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ শুটিংয়ে ভারতের পদক অভিযান অব্যাহত। মহিলাদের স্কিট দলের পর এবার পুরুষদের স্কিট দলও ব্রোঞ্জ পদক জিতে নিল। ভবতেগ সিং গিল, অনন্তজিৎ সিং নারুকা এবং মেরাজ আহমেদ খানের ত্রয়ী ফাইনালে ৩৪৬ স্কোর করে তৃতীয় স্থান দখল করেছে। তবে এদিন পদক হাতছাড়া হয় মনু ভাকেরের। তাঁকে ঘিরে সোনা জয়ের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু পঞ্চম স্থানে শেষ করেন অলিম্পিকের জোড়া পদকজয়ী। সফট টেনিসেও নিশ্চিত হয় পদক। পুরুষদের সিঙ্গলস কোয়ার্টার ফাইনালে ফিলিপিন্সের শেরউইন নাগুইটকে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৪-৩ গেমে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন জয় মীনা। শেষ চারে ওঠা চার খেলোয়াড়ই পদক নিশ্চিত করায়, সফট টেনিসে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে ভারতের প্রথম পদক নিশ্চিত হয়েছে। এর পাশাপাশি রোয়িং, ক্যানো স্প্রিন্ট এবং টেবিল টেনিসেও নজরকাড়া পারফরম্যান্স ভারতের।

  • Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসে প্রথম সোনা ভারতের! মাঠেই নেই নকভি, শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে দুরমুশ করে জয় মহিলা ক্রিকেট দলের

    Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসে প্রথম সোনা ভারতের! মাঠেই নেই নকভি, শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে দুরমুশ করে জয় মহিলা ক্রিকেট দলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেটের হাত ধরে এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) প্রথম সোনা এল ভারতে। মহিলাদের ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে হারিয়ে সোনা জিতল হরমনপ্রীত কৌররা। এই নিয়ে পরপর দুটো এশিয়ান গেমসে সোনা পেল ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। এই পদকের ফলে ভারতের মোট পদক সংখ্যা দাঁড়াল ৭। প্রথমে ব্যাট করে স্মৃতি মন্ধানা, শেফালি বর্মা ও রিচা ঘোষের দাপটে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৬ রান করে ভারত। সেই রান তাড়া করা যে কঠিন হবে তা বোঝা গিয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কা এ ভাবে আত্মসমর্পণ করবে তা ভাবা যায়নি। ভারতের চার স্পিনারের সামনে খেই হারাল শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং আক্রমণ। ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৬৯ রানে অল আউট হয়ে গেল গোটা দল। স্মৃতি মান্ধানা প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ১১ হাজার রান করেন।

    অসম্মানের ভয়! মাঠেই এলেন না নকভি

    এদিন পুরো ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করে টিম ইন্ডিয়া। কোনও লড়াই দিতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। এই ম্যাচের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ক্রিকেট। যেখানে সোনা জিতল ভারত। রুপো ও ব্রোঞ্জ জিতল যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। এশিয়ান গেমসেও এশিয়া কাপের ছবি দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। ভারতের মহিলা দল এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান মহসিন নকভি পুরস্কার দিতে আসবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। নকভি পুরস্কার দিতে এলে ভারত তা নেবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছিল। কিন্ত আদতে সে সব কিছু হল না। নকভি এলেনই না। এশিয়ান গেমসের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের হারানোর পর দেখা যায় মাঠেই উল্লাস করছেন ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। জাতীয় পতাকা নিয়ে ছবি তোলেন হরমনপ্রীত কৌর, স্মৃতি মন্ধানা, রিচা ঘোষেরা। নিজেদের অনুভূতির কথাও বলেন তাঁরা। কিছু ক্ষণ পরেই শুরু হয় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। পুরস্কার দেওয়ার জন্য নিশিন শহরের মেয়র, পুলিশ সুপার-সহ কয়েক জন আধিকারিক হাজির ছিলেন। তাঁরাই পদক পরিয়ে দেন। নকভি মাঠেই ছিলেন না।

    স্মৃতির সোনালি রেকর্ড

    ইতিহাসের পাতায় নাম তুললেন ভারতের মহিলা ক্রিকেট তারকা স্মৃতি মান্ধানা। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ফাইনালে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১১ হাজার আন্তর্জাতিক রান পূর্ণ করলেন মান্ধানা। বিশ্বের প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে স্মৃতির রান এখন ১১,০৬৬। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনাল খেলতে নামার আগে ১১ হাজার রানের মাইলফলক থেকে মাত্র কয়েক রান দূরে ছিলেন মান্ধানা। ফাইনালে স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় তাঁকে। মাত্র ৪৫ বলে ৭৯ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন ভারতীয় ওপেনার। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার এবং সাতটি ছক্কা। মান্ধানার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সৌজন্যেই বড় রানের ভিত গড়ে নেয় ভারত। চলতি মাসেই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড নিজের নামে করেছিলেন মান্ধানা। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক মিতালি রাজকে টপকে মহিলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক রানের মালিক হয়েছিলেন তিনি। এবার সেই রেকর্ডের মুকুটে যোগ হল আরও একটি পালক। ১১ হাজার আন্তর্জাতিক রান। তিন ফরম্যাটেই দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ব্যাটিংয়ের অন্যতম প্রধান ভরসা মান্ধানা। মহিলা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সর্বাধিক রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি শীর্ষে রয়েছেন।

  • Asian Games: এশিয়ান গেমসে দ্বিতীয় দিনেও ভারতের দাপট, শুটিংয়ে জোড়া পদক-সহ ঝুলিতে একাধিক সাফল্য

    Asian Games: এশিয়ান গেমসে দ্বিতীয় দিনেও ভারতের দাপট, শুটিংয়ে জোড়া পদক-সহ ঝুলিতে একাধিক সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানে চলতি ২০২৬ এশিয়ান গেমসে (Asian Games) দ্বিতীয় দিনেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাল ভারত। শুটিংয়ে এল তিনটি পদক। মিক্সড মার্শাল আর্টস থেকেও মিলল আরও একটি ব্রোঞ্জ। মহিলা হকি, কবাডি, টেবিল টেনিস-সহ একাধিক খেলায়ও জয় পেল ভারতীয় দল (India)।

    দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এল পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে। ব্যক্তিগত ফাইনালে জোড়া পদক জিতল ভারত। হিমাংশু ধিলোঁ রুপোর পদক দখল করেন, আর রুদ্রাংশ পাটিল জেতেন ব্রোঞ্জ। এর আগে ধিলোঁ ও পাটিল পার্থ মানের সঙ্গে মিলে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল দলগত বিভাগেও রুপোর পদক জিতেছিলেন।

    মার্শাল আর্টস বিভাগেও মেডেল (Asian Games)

    মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী ৬০ কেজি মিক্সড মার্শাল আর্টস বিভাগেও ব্রোঞ্জ এল ভারতের ঘরে। সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরের হুই হুন তেও-র কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হারেন সুচিকা তারিয়াল। ম্যাচের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দল আবেদন জানালেও সেই সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ফলে ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় সুচিকাকে।

    হকিতে অবশ্য ভারতের জয়ের ধারা অব্যাহত। পুল বি-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ১৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারতের মহিলা দল। প্রতিযোগিতায় এটি ভারতের টানা দ্বিতীয় জয়। শুরু থেকেই দুরন্ত পারফরম্যান্স করে টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত।

    কবাডিতেও জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল ভারতের পুরুষ দল। গ্রুপ এ-র ম্যাচে জাপানকে ৪৯-২৪ পয়েন্টে হারায় ভারত। ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে দাপটের সঙ্গে জয় তুলে নেয় ভারতীয় দল।

    মহিলাদের টেবিল টেনিসেও সাফল্য এসেছে। পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ এফ-এর শীর্ষে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ভারত। ব্যাডমিন্টনে পুরুষদের শেষ ষোলো পর্বে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শুরুতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত।

    জয় সাঁতারেও

    সাঁতারে পুরুষদের ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন শ্রীহরি নটরাজ। ঋষভ দাস রিজার্ভ হিসেবে শেষ করেন। অন্যদিকে, পুরুষদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলের ফাইনালে উঠতে পারেননি আকাশ মণি ও গীতেশ শাহ। ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের ফাইনালেও জায়গা হয়নি ধনুষ সুরেশের (Asian Games)।

    সফট টেনিসের মিক্সড ডাবলসে গ্রুপ বি-র ম্যাচে কম্বোডিয়ার ভিভা চাও ও চানরোসেকা খুনকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে শুরু করেছিলেন আধ্যা তিওয়ারি ও জয় মীনা। তবে পরের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কিম ইয়ন-হোয়া ও জ্যাকিউ পার্কের কাছে ১-৫ ব্যবধানে হারেন তাঁরা। সেপাকটাকরোতেও জয় পেল জাপান। গ্রুপ বি-র ম্যাচে ভারতকে ২-১ ব্যবধানে হারায় আয়োজক দেশ।

    উশুতে মহিলাদের চাংছুয়ান ফাইনালে ১৫তম স্থানে শেষ করেন নিয়েমান ওয়াংসু। সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় দিনটি (India) একাধিক খেলায় সাফল্যে ভরা ছিল ভারতের। শুটিংয়ে পদক জয়ের পাশাপাশি দলগত খেলাগুলিতেও একের পর এক জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে (Asian Games) ভারতীয় শিবিরে।

     

  • BCCI Chief Selector: প্রধান নির্বাচকের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত আজিত আগরকরের, নতুন নির্বাচক খুঁজবে বিসিসিআই

    BCCI Chief Selector: প্রধান নির্বাচকের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত আজিত আগরকরের, নতুন নির্বাচক খুঁজবে বিসিসিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড়সড় পরিবর্তনের পথে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI Chief Selector)। জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের পদে আর থাকতে চান না আজিত আগরকর (Ajit Agarkar)। বিসিসিআইয়ের শীর্ষ কর্তাদের ইতিমধ্যেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। ফলে তাঁর উত্তরসূরি খুঁজতে শীঘ্রই প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে বোর্ড। আগরকরের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৪ অক্টোবর। শুক্রবার বিসিসিআইয়ের ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-তেও তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বোর্ডের সদস্য ইউনিটগুলি নির্বাচক কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অফিস-বেয়ারারদের হাতে তুলে দেয়।

    জুনিয়র নির্বাচকদের নিয়েও সিদ্ধান্ত

    এজিএম শেষে এক সিনিয়র বিসিসিআই (BCCI) কর্তা বলেন, “নির্বাচক কমিটি সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অফিস-বেয়ারারদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।” তবে আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। সূত্রের খবর, আগরকর ইতিমধ্যেই বোর্ডকে জানিয়েছেন যে তিনি আর এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন। ২০২৩ সালে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারতীয় দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এদিকে শুধু সিনিয়র নির্বাচক কমিটিই নয়, জুনিয়র নির্বাচক কমিটির পাঁচটি পদও পূরণ করতে চলেছে বিসিসিআই। এই পদের জন্য বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। তিনি বলেন, আবেদনকারীদের প্রাথমিক বাছাইয়ের পর তালিকা ক্রিকেট কমিটির কাছে পাঠানো হবে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বোর্ডের। কারণ বর্তমান জুনিয়র নির্বাচকদের পাঁচজনেরই মেয়াদ খুব শীঘ্রই শেষ হতে চলেছে।

    ফিল্ডিং কোচ নিয়োগ নিয়ে আলোচনা

    ভারতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ শুভদীপ ঘোষের নিয়োগ নিয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন সাইকিয়া। আপাতত তাঁকে স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বেঙ্গালুরুর বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্সেও তিনি ফিল্ডিং কোচ হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। সাইকিয়া জানান, ভারতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে শুভদীপ ঘোষের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হবে। দলের ম্যানেজমেন্টের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে তাঁর সঙ্গে চুক্তি দীর্ঘায়িত করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এজিএমে বিসিসিআইয়ের বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন ভারতীয় পেসার বেঙ্কটেশ প্রসাদও।

  • India vs Brazil: ঢেলে সাজছে স্টেডিয়াম, টিকিটে সিট নম্বর! ব্রাজিল ম্যাচের আগে যুবভারতীতে আমূল পরিবর্তন

    India vs Brazil: ঢেলে সাজছে স্টেডিয়াম, টিকিটে সিট নম্বর! ব্রাজিল ম্যাচের আগে যুবভারতীতে আমূল পরিবর্তন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাশক্তিকে বরণ করে নিতে তৈরি হচ্ছে শহর কলকাতা। নতুন সাজে সেজে উঠছে তিলোত্তমা। ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোর প্রীতি ম্যাচে ভারতীয় ফুটবল দলের মুখোমুখি হতে শহরে পা রাখছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল (India vs Brazil)। দুর্গাপুজোর আগে এও এক যেন পুজো ফুটবলপ্রেমী মানুষের কাছে। আগামী ৩ অক্টোবর সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হবে এই ম্যাচ। শুধু ব্রাজিলই নয়, এরপরের ৬ তারিখ এই একই ময়দানে খেলবে উরুগুয়েও। তবে মহারণের বাঁশি বাজার আগেই গ্যালারি ও দর্শক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা জানালেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)-এর সভাপতি কল্যাণ চৌবে।

    ফুটবল ম্যাচের টিকিটে ‘সিট নম্বর’

    ফেডারেশন সভাপতি জানিয়েছেন, যুবভারতীর সুবিশাল ইতিহাসের পাতায় এই প্রথমবার কোনও ফুটবল ম্যাচের টিকিটে নির্দিষ্ট আসন বা ‘সিট নম্বর’ উল্লেখ করা থাকবে। এর আগে স্টেডিয়ামে সর্বসাধারণের জন্য মুক্ত বা ‘ফ্রি সিটিং’ ব্যবস্থা থাকত, অর্থাৎ দর্শকেরা নিজেদের পছন্দ মতো ফাঁকা আসনে গিয়ে বসতে পারতেন। তবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে সেই নিয়মে আসছে আমূল বদল। ইতিমধ্যেই এই ম্যাচের সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সমর্থকদের মাঠে আসার সময় ই-টিকিট সঙ্গে রাখতে হবে এবং গেটে তা স্ক্যান করিয়ে ভিতরে ঢুকতে হবে। এরপর টিকিটে বরাদ্দ থাকা নম্বর দেখেই নির্ধারিত চেয়ারটিতে বসতে হবে, অন্য কোথাও বসা যাবে না। প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বে মেসি কলকাতায় আসার পর গ্যালারিতে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে ভেঙে গিয়েছিল একাধিক বাকেট চেয়ার। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আইএফএ-র (IFA) মাধ্যমে ভাঙা চেয়ারগুলি মেরামতির পাশাপাশি প্রতিটিতে নিখুঁত নম্বর বসানোর কাজ দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছে।

    গেরুয়া রঙে সাজছে গ্যালারি

    রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুবভারতীর পরিচিত নীল-সাদা রঙ বদলে এই প্রথমবার রূপ পাচ্ছে গৈরিকিকরণে। পুরো স্টেডিয়ামকে গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে তোলার পাশাপাশি ড্রেসিংরুম ও শৌচাগারগুলিকেও ঢেলে সাজিয়ে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলা হচ্ছে। ম্যাচের আনন্দে সামিল করা হচ্ছে কলকাতার তিন প্রথাগত ফুটবল শক্তিকেও। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহামেডান স্পোর্টিং – এই তিন প্রধানের সমর্থকদের জন্য ফেডারেশনের পক্ষ থেকে টিকিটের ওপর বিশেষ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের ‘B2’ এবং ‘D2’ – এই নির্দিষ্ট দুটি গ্যালারির নির্ধারিত সংখ্যক টিকিটে দেওয়া হবে ১০ শতাংশ (10%) ছাড়। উদাহরণস্বরূপ, ওই টিকিটের দর যদি ১০ টাকা হয়ে থাকে, তবে ১০% ছাড়ের সুবিধায় তা কেনা যাবে। এই ছাড়ের টিকিটগুলি উপলব্ধ থাকবে তিন প্রধানের নিজস্ব ক্লাব টেন্ট এবং আইএফএ-র অফিস থেকে।

  • Asian Games 2026: আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, এশিয়ান গেমসে আবাসন সমস্যা সামলাতে নাগোয়ায় ২,০০০ ভারতীয় প্রস্তুত

    Asian Games 2026: আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, এশিয়ান গেমসে আবাসন সমস্যা সামলাতে নাগোয়ায় ২,০০০ ভারতীয় প্রস্তুত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে ভারতীয় অ্যাথলিটদের আবাসন সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে তা সামাল দিতে এবার অভিনব বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করেছে ভারত। জাপানের নাগোয়ায় বসবাসকারী প্রায় ২,০০০ ভারতীয়কে জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের থাকার ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলের একাংশ জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই আবাসন, অ্যাক্রেডিটেশন এবং পরিবহণ নিয়ে সমস্যার মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতীয় দূতাবাসও স্থানীয় ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ভারতের চিফ দ্য মিশন সহদেব যাদব জানিয়েছেন, প্রথম দিকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন অ্যাথলিটের নাম সরকারি আবাসনের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাওয়ায় তাঁদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ব্যাডমিন্টন ও শুটিং-সহ বিভিন্ন ক্রীড়ার অ্যাথলিট ছিলেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় কর্তারা দ্রুত অতিরিক্ত হোটেল কক্ষের ব্যবস্থা করেন। প্রাথমিকভাবে ১৮টি অতিরিক্ত হোটেল রুম বুক করা হয়েছে এবং আরও ১০টি রুমের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিন স্তরের সহায়তা ব্যবস্থা

    এশিয়ান গেমসে আগত ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের যাতে ফের একই ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, তার জন্য কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক নাগোয়ায় তিন স্তরের সহায়তা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। প্রথম স্তরে বিমানবন্দরে দু’জন আধিকারিককে রাখা হয়েছে। তাঁরা জাপানে পৌঁছনোর পর ভারতীয় দলের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন। দ্বিতীয় স্তরে অ্যাথলিট ওয়েলকাম সেন্টারে আরও তিনজন আধিকারিক রয়েছেন, যাঁরা আবাসন ও অন্যান্য আগমন-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সাহায্য করছেন। তৃতীয় স্তরে রয়েছে নাগোয়ায় বসবাসকারী প্রায় ২,০০০ ভারতীয়ের স্থানীয় সম্প্রদায়। সরকারি আবাসন ব্যবস্থায় ফের কোনও সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজনে তাঁদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে।

    আপাতত ব্যক্তিগত বাড়িতে থাকার প্রয়োজন নেই

    তবে ভারতীয় কর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনও অ্যাথলিটকে ব্যক্তিগত বাড়িতে থাকার প্রয়োজন হয়নি। জাপানে পৌঁছনো সমস্ত ভারতীয় ক্রীড়াবিদের জন্য ইতিমধ্যেই আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় ভারতীয় সম্প্রদায়ের সহায়তার এই ব্যবস্থা তাই আপাতত শুধুমাত্র জরুরি বিকল্প বা ব্যাকআপ ব্যবস্থা হিসেবে রাখা হয়েছে। এশিয়ান গেমসের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অ্যাথলিটদের আবাসন ও অন্যান্য লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। নাগোয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের এই স্বেচ্ছাসহায়তা প্রয়োজন হলে ভারতীয় দলের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও সহায়তার স্তর হিসেবে কাজ করতে পারে।

    এশিয়ান গেমস নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক

    শুরু হওয়ার আগেই একের পর এক বিতর্কে পড়ছে এশিয়ান গেমস। এর আগে সামনে এসেছিল অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড যাচাই ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে অব্যবস্থা। এবার আবাসন সংক্রান্ত অব্যবস্থা নিয়ে আবার চর্চায় জাপানের এশিয়ান গেমস। বাঙালি জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েক ও তাঁর কোচ অশোক মিশ্রকে একই ঘরে থাকতে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। এশিয়ান গেমসের শুরু থেকেই একের পর এক বিশৃঙ্খলাতে ভুগছে নানা দল। আয়োজকদের তরফ থেকে পরে দুঃখপ্রকাশ করা হয়। এর আগে, ভারতের শুটিং দল পৌঁছনোর পর ঘর না পেয়ে সারা রাত তাদের লবির সোফায় শুয়ে কাটাতে হয়েছিল। একইভাবে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে ভারতীয় কবাডি দলকেও। পর্যাপ্ত অনুশীলনের জায়গার অভাব, দূরের ভেন্যু এবং খাবার নিয়ে ভোগান্তির জেরে ক্ষোভে ফুঁসছে অন্য দেশও; দক্ষিণ কোরিয়া তো প্রকাশ্যেই এই গেমসকে তাদের অভিজ্ঞতার ‘নিকৃষ্টতম’ বলে কটাক্ষ করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। তবে তার আগেই ফুটবল, বাস্কেটবল, ক্রিকেট, সফ্ট টেনিস, টেকবলসহ বেশ কয়েকটি ইভেন্ট শুরু হয়ে গিয়েছে।

    এশিয়ান গেমস-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

    এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর (Asian Games 2026) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় বসছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের ২০তম সংস্করণ। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে প্রতিযোগিতা। যদিও ফুটবল, ক্রিকেট-সহ কয়েকটি খেলায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে লড়াই, শনিবারই হবে এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কখন শুরু হবে? আয়োজকদের দেওয়া সূচি অনুযায়ী, জাপানের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। জাপান ভারতের থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা এগিয়ে থাকায় ভারতীয় সময় অনুযায়ী ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২:৩০টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান। আয়োজক কমিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলবে এবং জাপানের স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে শেষ হওয়ার কথা। অর্থাৎ ভারতীয় সময় অনুযায়ী আনুমানিক বিকেল ৪:৩০টা পর্যন্ত চলতে পারে অনুষ্ঠান। তবে অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তন হলে সময়েও সামান্য হেরফের হতে পারে।

    ভারতের পতাকা বহন করবেন কারা

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের হয়ে পতাকা বহন করবেন শুটিংয়ের তারকা মনু ভাকের এবং অ্যাথলেটিক্সের তাজিন্দরপাল সিং তূর। মনু ভাকের দু’বারের অলিম্পিক পদকজয়ী, আর তাজিন্দরপাল সিং তূর এশিয়ান গেমসে শট পাটের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। তাঁদের হাতেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতীয় দলের নেতৃত্বের প্রতীকী দায়িত্ব থাকবে। ভারতে এশিয়ান গেমসের সম্প্রচার ও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের দায়িত্ব রয়েছে সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক এবং সোনি লিভ-এর হাতে। ফলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও ভারতীয় দর্শকরা টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুসরণ করতে পারবেন।

LinkedIn
Share