Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Weather Update: ১৮ বছরে শীতলতম বর্ষবরণ শহর কলকাতার! ভিড় চিড়িয়াখানা থেকে ইকো পার্কে

    Weather Update: ১৮ বছরে শীতলতম বর্ষবরণ শহর কলকাতার! ভিড় চিড়িয়াখানা থেকে ইকো পার্কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরেও জাঁকিয়ে শীত (Weather Update)। বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতার (Winter in Kolkata) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামল ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৬ ডিগ্রি কম। গত ১৮ বছরে ১ জানুয়ারিতে কখনও এতটা পারদ পতন হয়নি কলকাতায়। ২০০৮ সালে বছরের প্রথম দিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৪। তার পর ২০২৬-এমন হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সাক্ষী থাকল শহরবাসী। গত বছরের শেষ দিনে শহর কলকাতার তারপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি। জাঁকিয়ে শীতকে সঙ্গে নিয়ে এবার ভরা পৌষে চলছে কল্পতরু উৎসবও। বছরের প্রথম দিনে উৎসবের মেজাজে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন চিড়িয়াখানা, ইকো পার্ক, ভিক্টোরিয়ায়। কল্পতরু উপলক্ষে ভিড় দক্ষিণেশ্বর, জয়রামবাটী-কামারপুকুরে।

    ফের পারদ পতনের সম্ভাবনা

    বুধবার মরসুমের শীতলতম দিন কাটিয়ে ফেলেছে কলকাতা। বুধবার ভোরে কলকাতার (Winter in Kolkata) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার ভোরে তা সামান্য বেড়ে ১১.৬ ডিগ্রি হয়েছে। আজ শহর কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘুরপাক খেতে পারে। গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল, যা স্বাভাবিকের থেকে ৫.৩ ডিগ্রি কম ছিল। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী তিন দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমবে। তার পরের চার দিন তাপমাত্রায় হেরফের হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ, আগামী সাত দিন শীতের কনকনানি থেকে খানিক রেহাই মিলতে পারে। তার পর ফের পারদ পতনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস। আগামী কয়েক দিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিশেষ পরিবর্তন হবে না। তবে এর পরের চার দিন ধীরে ধীরে কমতে পারে শীত।

    জেলায় জেলায় কুয়াশার দাপট

    নদিয়া, সিউড়ি, শ্রীনিকেতন, আসানসোলের তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে ৯ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে তাপমাত্রা। কোথাও তা ১২ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। উপকূলের জেলাতে ১৩ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৩ দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একটু বাড়তে পারে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী চার-পাঁচ দিনই কুয়াশা থাকবে। বৃহস্পতিবার ঘন কুয়াশার সতর্কতা রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানে। শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় সকালের দিকে ঘন কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্রই হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর ফলে দৃশ্যমানতা ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত নামতে পারে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও সকালের দিকে কুয়াশার দাপট থাকবে। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পং জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে দার্জিলিঙের পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতও হতে পারে। থাকবে কুয়াশাও।

  • Sukanta Majumdar: “তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে”, বললেন সুকান্ত

    Sukanta Majumdar: “তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে”, বললেন সুকান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ছাব্বিশ সালের নির্বাচন তৃণমূলের বিসর্জন বলে জানিয়েছেন আমাদের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই নির্বাচনে তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে (Sukanta Majumdar) কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে। মনে রাখবেন (Amit Shah), কোচবিহার থেকে শুরু করে কাকদ্বীপ পর্যন্ত বিজেপির প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি এবং পদ্মফুল প্রার্থী। তাই পদ্মফুলকে জেতাতে হবে। অন্য কিছু দেখলে হবে না।” বুধবার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে নাগাড়ে কথাগুলি বলে খানিক থামলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

    কুরুক্ষেত্র (Sukanta Majumdar)

    এদিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে ছাব্বিশের নির্বাচনকে তিনি কুরুক্ষেত্র বলেও অভিহিত করেন। মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে সুকান্ত বলেন, “আমরা মহাভারতে গল্প শুনেছি, অর্জুন-সহ সবাইকে দ্রোণাচার্য জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কী দেখতে পাচ্ছ। কেউ বলেছিল, আমি গাছে পাতা দেখতে পাচ্ছি। কেউ বলেছিল, পাখির ঠোঁট দেখতে পাচ্ছি। অর্জুনই একমাত্র বলেছিলেন, আমি পাখির চোখ দেখতে পাচ্ছি। বন্ধুগণ, আপনারা কী দেখতে পাচ্ছেন, সেটা আমি বলতে পারব না। কিন্তু, প্রায় ৪ বছর ধরে রাজ্য সভাপতির কাজ করার পর আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে শপথ নিচ্ছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। আপনাদের দিকে তাকিয়ে আমি তা দেখতে পাচ্ছি। কলকাতার চারটি জেলার শক্তিকেন্দ্র ও মণ্ডলের লোককে ডাকা হয়েছে। তার বিশ্বরূপ যদি (Sukanta Majumdar) এটা হতে পারে, তাহলে মনে রাখবেন, এই কুরুক্ষেত্রে আমাদের জয় অর্থাৎ পাণ্ডবদের জয় হবেই।”

    বিজেপি আদর্শভিত্তিক দল

    তিনি বলেন, “বিজেপি আদর্শভিত্তিক দল। আমাদের কার্যকর্তা ও কর্মীরাই মূলধন। একুশের নির্বাচনের পর বিজেপি যখন কিছু ছন্নছাড়া হয়ে যায়, তখন কার্যকর্তারা পিঠে কুলো বেঁধে পার্টির কাজকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।” তৃণমূলকে কটাক্ষ করে সুকান্ত বলেন, “অমিত শাহের নাম শুনলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পুরো পার্টি থরথর করে কাঁপে।” এদিন সুকান্তের পরে ভাষণ দিতে ওঠেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলকে আবারও ২০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। দলের (Amit Shah) সবাই যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেন, তাহলে যে এ রাজ্যে বিজেপি আসবেই, তাও স্পষ্ট করে দেন শাহ (Sukanta Majumdar)।

  • Amit Shah: ২০০ আসনের লক্ষ্যেই অটল বিজেপি, কর্মী সম্মেলন থেকে বার্তা অমিত শাহের

    Amit Shah: ২০০ আসনের লক্ষ্যেই অটল বিজেপি, কর্মী সম্মেলন থেকে বার্তা অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গ সফরে এসে ফের একবার ‘২০০ আসন’-এর লক্ষ্যে দলকে নির্বাচনী ময়দানে নামার বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতার সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত বিজেপির কলকাতা জোনের কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানিয়ে দেন, বাংলায় বিজেপি কোনও ভাবেই থামার দল নয়। মঞ্চ থেকে কর্মী ও নেতৃত্বকে উদ্বুদ্ধ করে শাহ বলেন, “আমরা যদি ৩টি আসন থেকে ৭৭টি আসনে পৌঁছতে পারি, তাহলে ৭৭ থেকে ২০০টি আসনে পৌঁছনো অসম্ভব কেন হবে?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের লড়াইয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার বার্তা দেন।

    চার সাংগঠনিক জেলায় ২০ আসনের লক্ষ্য (Amit Shah)

    এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, কলকাতা উত্তর শহরতলি (দমদম লোকসভা এলাকার অন্তর্গত বিধানসভাগুলি) এবং যাদবপুর – এই চারটি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি কর্মী ও নেতানেত্রীরা। এই চার জেলায় মোট ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। সেখান থেকেই শাহ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ২০টি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন। দলীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালে অমিত শাহ বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকও করেন। সেই বৈঠকে বিশেষভাবে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্র ঘিরে দলের কৌশল নিয়েও কথা হয়।

    দলীয় পুনর্গঠনের ইঙ্গিত

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সায়েন্স সিটির এই কর্মী সম্মেলনে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত একাধিক প্রাক্তন বিধায়ককেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি রাজ্যে বিজেপির সংগঠন পুনর্গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। সব মিলিয়ে, রাজ্যে বিজেপির নির্বাচনী প্রস্তুতি যে নতুন করে গতি পাচ্ছে, তা স্পষ্ট শাহের এই সফর ও তাঁর বক্তব্যে।

     ‘সবচেয়ে বড় বিপদ’

    এদিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে দু’টি বিষয় যে সব চেয়ে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে, এদিন তাও জানিয়ে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই রাজ্যে দু’টো জিনিস মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, একটা অনুপ্রবেশ, আর একটা দুর্নীতি।” শুধু রাজ্যের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নয়, কলকাতার নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শাহ। তিনি বলেন, “কলকাতা আর আগের মতো নিরাপদ নয়। অনুপ্রবেশের দাপট ক্রমেই বাড়বে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই বিপদের মুখে পড়বেন।” এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে বর্তমান সরকারকে সমূলে উৎপাটিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বিজেপি কর্মীদের শাহি নির্দেশ

    ভাষণ দেওয়ার সময়ই বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে একাধিক সাংগঠনিক নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দলের প্রতিটি কর্মীর সঙ্গে আর এক কর্মীর যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে। “সবাইকে আরও সক্রিয় হতে হবে। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছনো এখন সবচেয়ে জরুরি”।

    ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান নিয়ে কটাক্ষ

    তৃণমূল সরকারের জনপ্রিয় স্লোগান ‘মা-মাটি-মানুষ’কে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, “মা আজ বিপন্ন, মাটিতে অনুপ্রবেশের দাপাদাপি চলছে। তাই মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছনো এখন বিজেপির দায়িত্ব।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। দলীয় কর্মীদের চাঙা করতে আত্মবিশ্বাসের সুরে শাহ বলেন, “কোনও কিছুর সঙ্গে আপোস করা যাবে না। এবারের লক্ষ্য একটাই, বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন।” তিনি বলেন, প্রার্থী যেই হোক না কেন, সবাইকে জেতাতে হবে। লিখে রাখুন, পশ্চিমবঙ্গে আমাদেরই সরকার হবে।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতায় নির্দিষ্ট আসনভিত্তিক লক্ষ্য স্থির করে দিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে নতুন করে সাজানোই এখন দলের পাখির চোখ। রাজ্যের শহর ও গ্রাম, দুই জায়গায়ই সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কৌশলেই এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির। তৃণমূলের সঙ্গে যে কোনও সমঝোতা নেই, এদিন তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে শাহ। এদিকে, এদিন বঙ্গ বিজেপির চার মুখ শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার এবং দিলীপ ঘোষকে নিয়ে আলাদা করে বৈঠকে বসেন শাহ। সঙ্গে ছিলেন ভূপেন্দ্র যাদব, সুনীল বনসল এবং বিপ্লব দেব।

  • Sambit Patra: ‘‘আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন, রক্ষা করছেন অনুপ্রবেশকারীদের’’, মমতাকে তোপ বিজেপির

    Sambit Patra: ‘‘আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন, রক্ষা করছেন অনুপ্রবেশকারীদের’’, মমতাকে তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আপনি কেবল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেই নয়, গোটা দেশকেই হুমকি দিচ্ছেন।” বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ভাষাতেই আক্রমণ শানালেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। অনুপ্রবেশকারী ইস্যু ও এসআইআর (SIR) নিয়ে অমিত শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তীব্র বাক্‌যুদ্ধের পর সাংবাদিক সম্মেলনে সম্বিত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনি হোটেলের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। আমরা চাইলে আপনাকে হোটেল থেকে বেরোতেই দিতাম না। আমরা আপনাকে বেরোতে দিয়েছি, এটাই আপনার সৌভাগ্য।’ এটাই প্রথম নয়, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে।” তিনি বলেন, “আপনি অমিত শাহকে হুমকি দিচ্ছেন না, আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে।”

    বিজেপি কর্মী খুন ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে তোপ

    সম্বিতের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের দ্বারা পশ্চিমবঙ্গে ৩০০-এরও বেশি বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। তাঁর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডারা পশ্চিমবঙ্গে ৩০০-এর বেশি বিজেপি কর্মীকে হত্যা করেছে। অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়াতেই তাঁর সমস্যা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংস করেছেন।” তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছেন।

    সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে তোপ

    সম্বিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগকেও সমর্থন করেন। তিনি বলেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিচ্ছে না।” এদিন সে প্রসঙ্গ টেনেই সম্বিত বলেন, “অমিত শাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি, অবিচার ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে রাজনীতি চলছে। মমতা সরকার সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দিচ্ছে না। ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ পড়ছে বলেই তৃণমূল নেতৃত্ব অস্বস্তিতে।” ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে এ রাজ্যে। মঙ্গলবার শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র বাক্যবাণ ছোড়েন।

    ভয় ও দুর্নীতি তত্ত্বে তৃণমূলকে শাহি আক্রমণ

    শাহের অভিযোগ, গত ১৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গের পরিচয় হয়ে উঠেছে ভয় ও দুর্নীতি। রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি না দেওয়ার বিষয়েও তিনি কাঠগড়ায় তোলেন তৃণমূল পরিচালিত সরকারকে। সাংবাদিক সম্মেলনে শাহ বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন থমকে গিয়েছে। মোদি সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এখানে কাটমানি সিন্ডিকেটের শিকার হয়েছে। গত ১৪ বছর ধরে ভয় ও দুর্নীতিই পশ্চিমবঙ্গের পরিচয়।” তিনি এও বলেছিলেন, “২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে আমরা বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন শুরু করব। এই বঙ্গভূমি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই মাটি থেকেই বিজেপির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।”

    মমতার জবাব

    শাহের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপি নেতাদের মহাভারতের দুর্যোধন ও দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা করেন। মমতা বলেন, “বাংলায় দুঃশাসন এসেছে। ভোট এলেই দুর্যোধন-দুঃশাসনের আবির্ভাব হয়। শকুনির শিষ্য দুঃশাসন এসেছে তথ্য সংগ্রহ করতে। আজ বলছে, আমি নাকি জমি দিইনি। আমি যদি জমি না দিতাম, তাহলে পেট্রাপোল বা আন্দালে জমি এল কোথা থেকে?” তাঁর দাবি, পেট্রাপোল ও আন্দাল, দুই জায়গায়ই সীমান্তে বেড়ার জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এসআইআর এবং অনুপ্রবেশই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মূল ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে।

  • Amit Shah: ‘‘ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে’’, আশ্বাস অমিত শাহর

    Amit Shah: ‘‘ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে’’, আশ্বাস অমিত শাহর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতায় এলে রাজ্যের কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে। রাজ্যে এসে স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government) এখন অনেকগুলি জনকল্যাণমূলক (WB Scheme) প্রকল্প চালায়। আর বাংলায় বিজেপি সরকার (BJP) এলেই নাকি সেই সব স্কিম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে অভিযোগ করে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। যদিও তৃণমূলের এই দাবি উড়িয়ে শাহ জানালেন, “এটা ভুল ধারণা। আমি এখানে বলতে চাই, ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার তৈরির পর একটাও স্কিম বন্ধ হবে না। শুধু তাই নয়, আমাদের ঘোষণাপত্রে যা যা স্কিম থাকবে, সেটাও বাস্তব হবে। এটা আমাদের রেকর্ড (Lakshmir Bhander)।”

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাংলায়

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়েও তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর অভিযোগ, দেশের প্রায় সব রাজ্যেই আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে তার বদলে চালু রয়েছে স্বাস্থ্যসাথী— যা তাঁর মতে আরও দুর্বল একটি প্রকল্প। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে শাহ বলেন, “বাংলার মানুষ কি ভিনরাজ্যে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর (Swasthya Sathi) সুবিধা পাবেন?” শুধু তাই নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, দেশের অন্যান্য রাজ্য আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভারেজের সঙ্গে নিজেদের তহবিল থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধাও যোগ করেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই রকম কোনও বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অর্থনীতিবিদরা মেয়েদের হাতে সরকারের এই টাকা দেওয়াকে ‘অপচয়’ বলতে রাজি নন। শাহ জানান মেয়েদের, বিশেষত দরিদ্র, প্রান্তিক মেয়েদের হাতে নগদ টাকা থাকলে তা সংসার ও সন্তানের কাজেই লাগে। বিজেপি-শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারও নগদ পাওয়ার এই প্রকল্পে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তিকে সক্ষমতার একটি সূচক বলেই দেখে।

    আজ শহরে শাহের সফর

    দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা ভোট। চড়ছে রাজনীতির পারদ। আর নতুন বছর শুরুর আগেই রাজ্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনদিনের সফরে আজ, বুধবারই শেষ দিন। আজ একাধিক কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। বিজেপি সূত্রে খবর, হোটেলে দলীয় সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এর পাশাপাশি দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সায়েন্স সিটিতে বৈঠক রয়েছে অমিত শাহের। কলকাতার সমস্ত বুথ কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন অমিত শাহ। ইতিমধ্যেই শাহ জানিয়েছেন, আগামী বছর দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি।

  • Winter in Bengal: বছরের শেষ দিনই শীতলতম! নতুন বছরের শুরুতেও কনকনে ঠান্ডার পূর্বাভাস

    Winter in Bengal: বছরের শেষ দিনই শীতলতম! নতুন বছরের শুরুতেও কনকনে ঠান্ডার পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীতের ঝোড়ো ব্যাটিং চলছে বাংলায়। নেটিজেনদের ভাষায় কলকাতাও হয়ে গিয়েছে ‘কোল্ডকাতা’। বুধবার ভোরে কলকাতায় এক ধাক্কায় পারদ নেমে গেল ১১ ডিগ্রিতে! এখনও পর্যন্ত শহরে এটাই এই মরসুমের শীতলতম দিন (Winter in Bengal)। এর আগে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা হয়েছিল মঙ্গলবার। তবে বুধবার তার চেয়েও অনেকটা পারদপতন হয়েছে। পুরু কুয়াশার চাদরে মুড়ে আছে শহরতলির পথঘাট। তার ফলে যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

    কনকনে কলকাতা

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার এক ধাক্কায় তা হয়েছে ১১ ডিগ্রি। অর্থাৎ, এক দিনে পতন প্রায় ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়েও তা ২.৮ ডিগ্রি কম। এ ছাড়া মঙ্গলবারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ১৯.৬ ডিগ্রির উপরে ওঠেনি, স্বাভাবিকের চেয়ে যা ৫.৮ ডিগ্রি কম। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে বেলা পর্যন্ত শহরে কমবেশি কুয়াশা থাকবে। দুপুরের পর থেকে আকাশ পরিষ্কার এবং মেঘমুক্ত হবে। গত কয়েক দিনে জাঁকিয়ে শীত পড়েছে শহরে। অনেকেই মনে করতে পারছেন না, শেষ কবে এমন হাড় কাঁপানো ঠান্ডা পড়েছিল। গত বছরের সঙ্গেও চলতি মরসুমের শীতের তুলনা টানা যাচ্ছে না।

    বাংলায় শীতের সুনামি

    শীতের (Winter in Bengal) প্রবল স্রোত বয়ে যাচ্ছে গোটা বাংলা জুড়ে। কলকাতা থেকে শুরু করে জেলা, সর্বত্রই মারকাটারি ঠান্ডায় কাঁপছে বঙ্গবাসী। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, উত্তুরে হাওয়ার পথে এই মুহূর্তে কোনও বাধা নেই। ফলে রাজ্য জু়ড়ে অবাধে তা প্রবেশ করছে। তার প্রভাবেই শীত বাড়ছে। অর্থাৎ নতুন বছরের শুরুর দিকেও জেলায় জেলায় বইবে শীতের সুনামি। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বীরভূমে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। এই সব জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। অন্যদিকে উপকূলবর্তী জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

    কুয়াশায় ঢাকা উত্তরবঙ্গ

    উত্তরবঙ্গে কুয়াশার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কোচবিহার, জলপাইগুড়ির মতো জায়গায় বিকেলের দিকে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে যাচ্ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বুধবার সকালে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দৃশ্যমানতা থাকবে ১৯৯ মিটার থেকে ৫০ মিটার পর্যন্ত। আপাতত আগামী ৪৮ ঘণ্টা রাজ্যজুড়ে এই শীতের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন দিন পর থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তুরে হাওয়ার গতিও কিছুটা কমতে পারে।

  • Amit Shah: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি”, প্রত্যয়ী শাহ

    Amit Shah: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি”, প্রত্যয়ী শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি।” মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথাগুলি বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনদিনের সফরে সোমবার রাতেই কলকাতায় (TMC) এসেছেন তিনি। বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে এ রাজ্যে দলের সাংগঠনিক হালহকিকত বুঝতে বঙ্গ সফরে এসেছেন তিনি। এই সফরে মঙ্গলবার বাংলায় যে এবার বিজেপি আসছে, তা জানিয়ে দিলেন শাহ। তাঁর গলায় ঝরে পড়ল প্রত্যয়।

    জমি দিচ্ছে না রাজ্য (Amit Shah)

    কেন্দ্রীয় সরকার কী কী উন্নয়ন করেছে, এদিন তারও ফিরিস্তি দেন শাহ। তবে তার সবগুলিরই যে রাজ্যের তৃণমূল সরকার বিরোধিতা করেছে, তাও জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে রাজ্য সরকার জমি দিচ্ছে না বলেও অনুযোগ করেন শাহ। তাঁর মতে, সেই কারণেই শেষ করা যাচ্ছে না সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ। তাই বেনো জলের মতো এ রাজ্যে ঢুকে পড়ছে অনুপ্রবেশকারীরা। পুলিশ-প্রশাসন দেখেও নিশ্চুপ। আর বিএসএফ কী করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তিনি বলেন, “অসম এবং ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেও, এ রাজ্যে কেন হচ্ছে না? আসলে বাংলার জনবিন্যাসে বদল আনতেই সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্যের তরফে জমি দেওয়া হচ্ছে না।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলার সীমান্ত দিয়ে যে অনুপ্রবেশ হচ্ছে, তা শুধু বাংলার বিষয় নয়। এটি পুরো দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন। এমন (Amit Shah) মজবুত সরকার এখানে আনুন, যারা এখানে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে।”

    তোলাবাজির প্রসঙ্গ

    তিনি বলেন, “আগে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা হত এই বাংলা থেকেই। আজ তোলাবাজির কারণে এ রাজ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন শিল্পপতিরা (TMC)।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কামানোর অধিকার এখানে রয়েছে একমাত্র ভাইপোর। আর কারও অধিকার নেই। শিল্প ক্ষেত্রে বাংলা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তা আপনার আমলে হয়েছে। বামেরা অর্ধেক শেষ করে গিয়েছিল। আপনি পুরোটা শেষ করে দিয়েছেন।” তিনি বলেন, “আজ মমতার নেতৃত্বে পুরো বাংলার বিকাশ থমকে গিয়েছে। মোদির সব যোজনা পুরো দেশে গরিবের উন্নয়ন করছে, এখানে সিন্ডিকেট চলছে। ১৪ বছর ধরে ভয় ও দুর্নীতি বাংলার পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি সরকারের সঙ্কল্প, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ এর পর যখন বিজেপির সরকার হবে, তখন বাংলার সংস্কৃতি ফেরানোর চেষ্টা করব (Amit Shah)।” তিনি বলেন, “দেশের যেখানে যেখানে এনডিএ, বিজেপির সরকার রয়েছে, সেখানে গরিবদের উন্নয়নকে প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানেও দেব। বন্ধ করব অনুপ্রবেশ। শুধু তাই নয়, অনুপ্রবেশকারীদের ধরে একে একে দেশ থেকে বের করে দেবে বিজেপি (TMC)।”

    কংগ্রেস বিগ জিরো

    বিজেপির সেকেন্ড ইন কমান্ড শাহ বলেন, “ছাব্বিশের বাংলায় বিজেপিরই সরকার হবে। এর মজবুত আধার বিজেপির কাছে রয়েছে। ২০১৪ সালে ১৭ শতাংশ ভোট ও মাত্র ২টি আসন পেয়েছিলাম। পাঁচ বছর পরে আমরাই ৭৭টি আসনে জিতেছি। আর কংগ্রেস বিগ জিরো হয়েছে। বামফ্রন্টও একটাও আসন পায়নি। এ রাজ্যে আমরা প্রধান বিরোধী দল হয়েছি, শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা (Amit Shah)। ২০২৪ সালে ১২টি আসন পেয়েছি। আর ছাব্বিশে প্রচণ্ড বহুমতের সঙ্গে বিজেপির সরকার হবে। ২৪ সালে টানা তৃতীয়বারের জন্য মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার এবং দিল্লিতে বিজেপির সরকার হয়েছে। ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশেও বিজেপি বা এনডিএর সরকার হয়েছে। আমার বিশ্বাস, ছাব্বিশের ভোটেও বাংলায় বিজেপির সরকার হবে।”

    মতুয়াদেরও আশ্বাস

    মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে পাশে নিয়েই শাহ বলেন, “মতুয়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। যাঁরা শরণার্থী হয়ে বাংলায় এসেছেন, তাঁদের ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পারবেন না (TMC)। তাঁদের সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।” শাহ বলেন, “ছাব্বিশ সালের ভোট হবে মূলত অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ভোট।” দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তৃণমূলের একাধিক নেতা ও মন্ত্রীর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। আপনারা বলছেন বাংলায় দুর্নীতি নেই? নিয়োগ দুর্নীতি থেকে পুরসভা পর্যন্ত সর্বত্রই কেলেঙ্কারির ছায়া।”

    মন্দির-মসজিদ রাজনীতি

    মন্দির-মসজিদ রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, “বাংলায় মন্দির-মসজিদের রাজনীতি করছে কে? তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া এক বিধায়ক এবং তৃণমূল নিজে (Amit Shah)।” তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় এটা যে করা ঠিক হয়নি, বাংলার মানুষকে তা বুঝতে হবে।মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্য সরকারকে তোপ দাগেন শাহ। আরজি কর, দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনের ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার বাংলার মানুষকে (TMC) সুশাসন দিতে ব্যর্থ (Amit Shah)।”

  • Amit shah: ভয়, দুর্নীতি, কুশাসন এবং অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে চরম অসন্তোষ! তৃণমূলকে তোপ আমিত শাহের

    Amit shah: ভয়, দুর্নীতি, কুশাসন এবং অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে চরম অসন্তোষ! তৃণমূলকে তোপ আমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit shah) মঙ্গলবার বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারকে (BJP Government) নির্বাচিত করার সংকল্প গ্রহণ করেছে। বিজেপিই বাংলায় উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনবে এবং গরিব কল্যাণ-এর উপর জোর দেবে। খুব দ্রুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কুশাসন মুক্ত হবে পশ্চিমবঙ্গ।”

    ১৫ বছরের শাসনে রাজ্যে ভয় আর দুর্নীতি (Amit shah)

    তৃণমূল সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের উৎসাহিত করে। এই অভিযোগ করে আমিত শাহ (Amit shah) বলেন, “৩০ ডিসেম্বর ভারতীয়দের জন্য গর্বের দিন, কারণ এই দিনেই ১৯৪৩ সালে বাংলার সুপুত্র সুভাষ চন্দ্র বসু পোর্ট ব্লেয়ারে ভারতের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। আজ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই সময়টা বাংলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়েই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (BJP Government) অনুষ্ঠিত হবে। বাংলার মানুষ এমন একটি শক্তিশালী সরকার বেছে নেওয়ার সংকল্প করেছে যা ভয়, দুর্নীতি, কুশাসন এবং অনুপ্রবেশের বদলে ঐতিহ্য, উন্নয়ন এবং কল্যাণ নিয়ে আসবে। বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের গত ১৫ বছরের শাসনে রাজ্যে ভয়, দুর্নীতি, কুশাসন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কারণে নাগরিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।”

    জাতীয় গ্রিড গঠনের ঘোষণা

    আমিত শাহ (Amit shah) পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা হবে এবং অন্যান্য রাজ্যে যেমন করা হয়েছে, তেমনি দরিদ্রদের কল্যাণের (BJP Government) ওপর অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে।” অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্ত থেকে দূরে রাখার জন্য আমিত শাহ একটি জাতীয় গ্রিড গঠনের ঘোষণা করেন এবং পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “মানুষ ছেড়ে দিন, একটি পাখিও পা রাখতে পারবে না। আমরা এই ধরনের একটি শক্তিশালী গ্রিড তৈরি করব। আমরা কেবল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ বন্ধ করব না। আমরা নিশ্চিত করব যে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়।” পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সুযোগ থাকবে

    তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজের বিরোধিতা করছে। এমন সময়েই অমিত শাহের (Amit shah) এই সফর হলো। নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংশোধন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভোটারদের তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ আগামী ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত খোলা থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • Bengal Assembly Election: ‘আমি আমার কাজ করতে এসেছি’: বিএলএ ইস্যুতে অচল শুনানি, নির্বাচনী আধিকারিকের গাড়িতে হামলা

    Bengal Assembly Election: ‘আমি আমার কাজ করতে এসেছি’: বিএলএ ইস্যুতে অচল শুনানি, নির্বাচনী আধিকারিকের গাড়িতে হামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুথ-লেভেল এজেন্টদের (BLA) শুনানিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সোমবার পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত শুনানি বন্ধ রাখতে হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে বিশেষ রোল অবজারভার সি মুরুগানের গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের এসআইআর পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা আইএএস অফিসার সি মুরুগান মগরাহাট ১ ও ২ ব্লকে পরিদর্শনে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা তাঁর গাড়িতে ধাক্কা দেয় এবং একটি দরজার হাতল ভেঙে যায়। ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন মুরুগানকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

    ভয় পাওয়ার কিছু নেই

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল জানান, এই ঘটনার বিষয়ে রাজ্যের ডিজিপি রাজীব কুমার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককেও রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এই উত্তেজনার সূত্রপাত নির্বাচন কমিশনের একটি সিদ্ধান্ত থেকে। যেখানে কমিসন সূত্রে বলা হয় এসআইআর শুনানিতে রাজনৈতিক দল মনোনীত বিএলএদের উপস্থিতি অনুমোদিত নয়। বিক্ষোভ সত্ত্বেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন মুরুগান। তিনি বলেন, “আমি আমার কাজ করতে এসেছি এবং তা করবই। আমার ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি একজন আইএএস অফিসার এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই এখানে এসেছি। আমাকে নিরাপত্তা দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব।”

    শুনানি হতে দেব না

    একই সময়ে হুগলি ও মেদিনীপুরেও অনুরূপ পরিস্থিতি তৈরি হয়। হুগলির চুঁচুড়া-মগরা ব্লক অফিসে তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার বিএলএদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানালে শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “বিএলএদের অনুমতি না দিলে বা লিখিতভাবে জানানো না হলে আমরা শুনানি হতে দেব না।” এরপর ব্লক অফিসের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপে জেলাশাসক ও অন্যান্য আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শুনানি পুনরায় চালু করেন। মেদিনীপুরে জেলাশাসকের দফতরে শুনানির সময় বিএলএরা ঢুকে পড়ে এবং ভিতরে থাকার দাবি জানায়। তাঁদের সরানো সম্ভব না হওয়ায় প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য শুনানি বন্ধ রাখতে হয়।

    নিজের অবস্থানে অনড় কমিশন

    তবে নির্বাচন কমিশন নিজের অবস্থানে অনড়। সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, “শুনানি কক্ষে বিএলএদের প্রবেশাধিকার নেই। বিহার বা অন্যান্য রাজ্যেও এসআইআর চলাকালীন এই নিয়মই মানা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র ইআরও, এইআরও, বিএলও, বিএলও সুপারভাইজার, মাইক্রো অবজারভার এবং সংশ্লিষ্ট ভোটারই শুনানি কক্ষে থাকতে পারবেন। ভার্চুয়াল শুনানির কোনও বিধানও নেই বলে স্পষ্ট করেন তিনি। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে আগরওয়াল বলেন, প্রয়োজন হলে রাজ্য সরকারই সেই অনুরোধ জানাবে।

  • Amit Shah: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপির প্রস্তুতির হিসেব নিলেন শাহ, আজ সংঘ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক

    Amit Shah: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপির প্রস্তুতির হিসেব নিলেন শাহ, আজ সংঘ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় এখনও পর্যন্ত মরসুমের শীতলতম দিন। ১২ ডিগ্রিতে নেমেছে তাপমাত্রা। তবে ভোটের পারদ ক্রমশ চড়ছে বাংলায়। তিনদিনের সফরে সোমবারই শহরে পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। পাশাপাশি মঙ্গলবার দুপুরেই সাংবাদিক বৈঠক করার কথাও আছে তাঁর। সামনেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সব রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো ঘুঁটি সাজাচ্ছে। সেই আবহে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে এ রাজ্যের বিজেপির প্রথম সারির নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক সারলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপি সূত্রে খবর, ভোটের আগে রাজ্য জুড়ে পথসভা, জনসভা বা রথযাত্রার যে পরিকল্পনা রয়েছে পদ্মশিবিরের, তার প্রস্তুতি বা ভাবনা সম্পর্কে শাহ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জেনেছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের কাছে।

    তিন দিনের সফরে কলকাতায় শাহ

    বছরশেষে তিন দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন শাহ। সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর বিমান পৌঁছোয় দমদম বিমানবন্দরে। সেখান থেকে তিনি সোজা পৌঁছে যান সল্টলেকে বিজেপির দফতরে। রাতেই সেখানে রাজ্য বিজেপির নেতাদের সঙ্গে একটি সাংগঠনিক বৈঠক সারেন তিনি। রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতারা ছাড়াও ওই বৈঠকে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারাও। প্রায় ঘণ্টাখানেক রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে। বিজেপি সূত্রে খবর, এই বৈঠকে মূলত জনসংযোগের বিষয় আলোচনা হয়েছে। জনসংযোগের ক্ষেত্রে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব কী কী পরিকল্পনা করেছেন, সেই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে— সেই সব সম্পর্কে জানতে চান শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সেই হিসেবই তুলে ধরেন তুলে ধরেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। সোমবারের বৈঠক মূলত ছিল রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক বিষয়ে। এ ছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জেনেছেন শাহ।

    রথযাত্রার পরিকল্পনা রাজ্যে

    রাজ্যে ভোটের দামামা বাজার অনেক আগে থেকেই জনসংযোগের দিকে মনোনিবেশ করেছে রাজ্য বিজেপি। সদস্য সংগ্রহ থেকে মণ্ডলে মণ্ডলে পথসভা করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির কাজ করছে তারা। সূত্রের খবর, সেই সব বিষয়ে খোঁজখবর নেন শাহ। কোন কোন মণ্ডলে পথসভা হয়েছে, কাদের ডাকা হয়েছে, কারা এসেছিলেন, কেমন প্রতিক্রিয়া— এমন নানা প্রশ্নের উত্তর রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের থেকে জেনে নিতে চান শাহ। জনসংযোগ হিসেবে এ রাজ্যে রথযাত্রারও আয়োজন করবে বিজেপি। পাঁচ দিক থেকে রথ এসে জড়ো হবে এক জায়গায়। সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি সম্পর্কেও শাহ জেনেছেন।

    মঙ্গলবার দলের কোর গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক

    মঙ্গলবার দলের কোর গ্রুপের বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক ও কলকাতার দলের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর মত বিনিময় হবে বলেও এক্স হ্যান্ডলে লেখেন শাহ। শাহর নেতৃত্বে রাতের বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদাররা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরাও। রাজ্য নেতারা দলের সংগঠনিক প্রস্তুতি, প্রচার ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন শাহকে। সরকার গঠন হচ্ছেই, বৈঠকে জানান প্রত্যয়ী শাহ। প্রচারে কোন বিষয় জোর দিতে হবে সেটা ঠিক করে দিয়েছেন। অনুপ্রবেশ, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি যেমন রয়েছে তেমনই শিল্প কৃষি, সড়ক পরিবহন, মহিলাদের ক্ষমতায়নের মতো বিকল্প উন্নয়নের মডেল প্রচারে আনার কথা বলেছেন বলে খবর। আজ মধ্যাহ্নভোজনের পর হোটেলে নির্দিষ্ট কয়েকজন শীর্ষনেতার সঙ্গেও বৈঠক করার কথা।

    সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে

    মঙ্গলবার বিকেলে সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন অমিত শাহ। কেশব ভবনে হবে সেই বৈঠক। এর আগেও একাধিক নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে এবং প্রচারের অভিমুখ নির্ধারণে নেতৃত্ব দিয়েছেন শাহ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জন‍্য আলাদা করে সংঘ নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক আগে কখনও করেননি তিনি। এবার নির্বাচনী প্রচারে সর্বাত্মক ভাবে ঝাঁপানোর আগে সংঘের সঙ্গে সমন্বয় সেরে নিতে চাইছেন তিনি। শাহের কর্মসূচিতে সংঘের সঙ্গে এই বিশেষ বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। কাল বুধবার সায়েন্স সিটিতে কলকাতা মহানগরীর মণ্ডল, জোন, জেলা এবং রাজ্যস্তরের নেতৃত্বদের নিয়ে সভা করবেন শাহ। তার আগে যাবেন ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share