Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • DA Case: ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতেই হবে রাজ্যকে, নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

    DA Case: ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতেই হবে রাজ্যকে, নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপেক্ষার অবসান। রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ সংক্রান্ত মামলার (DA Case) রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চ রায় ঘোষণা (Supreme Court) করে জানিয়ে দিল বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ এখনই মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। এজন্য সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।

    ২৫ শতাংশ ডিএ (DA Case)

    জানিয়ে দিয়েছে, ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্যকে মেটাতে হবে ২৫ শতাংশ ডিএ। ১৫ মে মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে এ সংক্রান্ত রিপোর্টও। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সুপ্রিম কোর্টের এহেন নির্দেশে যে খানিক বিপাকে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার, তা বলাই বাহুল্য। প্রসঙ্গত, ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলার চূড়ান্ত শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। তার পর থেকে রায়দানের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন সরকারি কর্মীরা। এর প্রায় চার মাস পর শেষমেশ রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্ট সেই সময় কেন্দ্রীয় হারে ৩১ শতাংশ ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। তার পর থেকে মামলা ঝুলেছিল সুপ্রিম কোর্টে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ওই মামলার শুনানি শেষ হয়। রায় হল আজ, বৃহস্পতিবার।

    শীর্ষ আদালতের রায়

    উল্লেখ্য যে, গত বছর ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে বকেয় ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। শীর্ষ আদালত প্রথমে জানিয়েছিল, বকেয়া ডিএ-র ৫০ শতাংশ দিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। সেই সময় রাজ্যের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি জানান (Supreme Court), ৫০ শতাংশ বকেয়া ডিএ এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। তাহলে রাজ্য চালানোই দায় হয়ে উঠবে। তখন আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী ছ’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে অন্তত ২৫ শতাংশ ডিএ দিতেই হবে (DA Case)। অর্থাৎ, ২০০৮ সালের অগাস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যে পরিমাণ ডিএ বকেয়া ছিল, তার ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

    অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল রাজ্য

    নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিএ দিতে না পারায় ফের একবার আদালতের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৬ মাস সময় চায় রাজ্য। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই শুনানি শুরু হয়েছিল ৪ অগাস্ট থেকে। ৮ সেপ্টেম্বর শেষ হয় শুনানি। এদিন আগের সেই রায়ই বহাল রাখল দেশের শীর্ষ আদালত। আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, রোপা রুল অনুযায়ী ডিএ সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। বাকি বকেয়ার ৭৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য নয়া কমিটি গঠনের কথাও বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই কমিটিতে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা এবং আরও দুই বিচারপতি। এই কমিটিই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বকেয়া ডিএ কীভাবে এবং কতগুলি কিস্তিতে দিতে হবে। সূত্রের খবর, আদালতের নির্দেশ মেনে এই ডিএ মেটাতে গেলে রাজ্যকে দিতে হবে ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

    কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএর ফারাক

    জানা গিয়েছে, বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা (Supreme Court) ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পান। আর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ডিএ পান ৫৮ শতাংশ হারে। ফারাক ৪০ শতাংশের (DA Case)। এই গোটা মামলায় মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন নিয়ম। বাংলার নিয়ম ছত্তিশগড়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। পশ্চিমবঙ্গ ২০১০ সাল পর্যন্ত নিজস্ব নিয়ম অনুসরণ করেছে। এর পর ২০১০ সালের নীতি থেকে সরে আসে রাজ্য সরকার। সেই সময় রাজ্য সরকার যে নিয়মে চলত, এখন তা অনুসরণ করা হয় না। ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট যে তাঁদের যুক্তি সমর্থন করেছে, তাও জানিয়েছেন বিকাশরঞ্জন। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, আজ বিচারপতিরা ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। আদালত বলেছে, ডিএ দিতে হবে। কর্মচারীদের জয় হয়েছে। ২৫ শতাংশ এরিয়ার-সহ ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে খানিকটা স্বস্তিতে রাজ্য সরকারের কর্মীরা। রায় ঘোষণার পরেই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ভাস্কর ঘোষ সাফ জানিয়ে দেন, এরপরও যদি রাজ্য সুপ্রিম (Supreme Court) নির্দেশ কার্যকর না করে, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে (DA Case)।

     

  • BJP: সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে হোঁচট খেলেন মমতা, কী বলল বিজেপি?

    BJP: সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে হোঁচট খেলেন মমতা, কী বলল বিজেপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবারের বারবেলায় সুপ্রিম কোর্টে নয়া ‘অবতারে’ হাজির পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রীতিমতো আইনজীবীর পোশাক কালো গাউন পরে দেশের শীর্ষ আদালতে হাজির হয়ে যান তিনি। আদালতে তাঁর (BJP) প্রথম বক্তব্য, “বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে। অসমে এসআইআর নয় কেন?”

    মমতাকে কটাক্ষ ‘জায়ান্ট কিলারে’র (BJP)

    তৃণমূল নেত্রীর এই ‘নব কলেবর’কে কটাক্ষ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক জায়ান্ট কিলার শুভেন্দু অধিকারী। এদিন আদালতে নির্বাচন কমিশনকে হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন বলেও কটাক্ষ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে আসলে ভোটারদের বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এ নিয়েই মমতাকে নিশানা করেন শুভেন্দু। বলেন, “গত ২-৩ দিন ধরে এসআইআর নিয়ে নাটক ও মিথ্যে প্রচার চালানোর চেষ্টা চলছে। প্রথম দিন কমিশনকে নিশানা, দিল্লি পুলিশকেও আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্টে দিল্লি পুলিশ ওঁর মিথ্যাচার ফাঁস করেছেন। উনি ইসিআইকে নিশানা করেছিলেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অহংকারী এবং মিথ্যেবাদীও বলেছিলেন। গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে থেকেও উনি এসআইআরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।”

    কী বললেন শুভেন্দু?

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “গতকাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে মমতার সওয়াল নিয়ে প্রচারের ঝড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে। যেন বড় বিস্ফোরণের অপেক্ষায় ছিল ভারত। কিন্তু আজ কোর্টে মমতা পেলেন রসগোল্লা। আইন বা রাজনীতির খোঁজ যাঁরা রাখেন, তাঁরা সকলেই জেনেছেন আজ শুনানি পর্বে ঠিক কী কী হয়েছে।” তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে এদিন সওয়াল করেননি। তিনি কোর্টে হাজির ছিলেন পিটিশনার হিসেবে (Mamata Banerjee)। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ঘুরিয়ে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। তার পরেও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উনি ওঁর কাজ করেছেন। ওঁর উচিত ছিল অনুবাদক নিয়ে যাওয়া। সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি ওঁকে সংশোধন করে দিচ্ছিলেন। যেভাবে ভুল (BJP) ইংরেজি বলছিলেন, তা রাজ্যের পক্ষে লজ্জার!”

    শুভেন্দুর তোপ

    শুভেন্দু বলেন, “মূলত উনি বা ওঁরা প্রথম দিন থেকেই দুটো কাজ করার মরিয়া চেষ্টা করে চলেছেন। এক, এসআইআর ভন্ডুল করা। আর দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালে বাংলাদেশি ও মৃত ভোটার তালিকায় নির্বাচন করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। যা ইতিমধ্যেই ওঁর বিএলওরাই বাদ দিয়েছেন। তাঁদের সুপারিশেরই পরিচ্ছন্নতার সঙ্গেই ৫৮ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।” শুভেন্দু বলেন, “এসআইআরের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন মমতা। উনি আজ যেগুলি চেয়েছেন শূন্য হাতে ফিরেছেন।” তিনি বলেন, “সব পক্ষকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল টার্গেট যেটা ছিল, সেটা হল মাইক্রো অবজারভারদের আটকানো। মাইক্রো অবজারভার নিয়োগে অসুবিধেটা কোথায়? ভারতের ১২টি রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে, কেন বাংলায় মাইক্রো অবজারভার (Mamata Banerjee)? কারণ কমিশনের নির্দেশ মেনে এসডিও র‍্যাঙ্কের ইআরও নিয়োগ করেনি রাজ্য। ২২৫ জন্য যাঁরা ইআরও হতে পারেন না, তাঁদের নিযুক্ত করেছেন মমতা প্রশাসন। কানাগলিতে ঢুকেছেন মমতা ও তাঁর প্রশাসন”। তিনি বলেন, “আপনি নিয়ম ভেঙেছেন। কমিশনকে সহযোগিতা করেননি (BJP)।”

    আবেগপ্রবণ মমতা

    এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে প্রবীণ আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান সওয়াল করলেও, মমতা নিজে আদালতের কাছে কিছু বলার অনুমতি চান। তিনি বলেন, “সমস্যা হল, আমাদের আইনজীবীরা লড়ছেন, আমরা শুরু থেকেই লড়ছি। কিন্তু সব শেষ হওয়ার পরেও যখন আমরা বিচার পাচ্ছি না, যখন বিচার দরজার আড়ালে কাঁদছে, তখন বাধ্য হয়েই আমায় আসতে হল। আমি সাধারণ পরিবারের মেয়ে, আমি আমার দলের জন্য লড়ছি না, লড়ছি সাধারণ মানুষের জন্য (Mamata Banerjee)।”

    সুকান্তর নিশানায় মমতা

    মমতার এদিনের সওয়ালকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধ্যাপক সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “দিল্লিতে ড্রামা করলেন মমতা ব্যানার্জি। প্রথমে বঙ্গভবনের সামনে ড্রামা করলেন, তারপর তার নাটক চলল নির্বাচন কমিশনে ও একেবারে শেষে সুপ্রিম কোর্টে। মমতা ব্যানার্জি সুপ্রিম কোর্টের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্বাচন কমিশনকে হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন বলে দিলেন। বিচারপতির অনুমতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে বলেছিল আপনার আইনজীবী অত্যন্ত দক্ষ, আমরা তাঁদের কথাই শুনব। এর থেকে (BJP) খারাপ শব্দে সুপ্রিম কোর্ট একজন মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে পারেন না যে আপনি চুপ থাকুন, আপনার কথা আমরা শুনতে চাইছি না।” মমতার এদিনের আচরণকে নাটক বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং-ও।

    আক্রমণ শানালেন শমীকও

    বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “পদবি বদল হয়ে গিয়েছে বলে মিথ্যে দাবি করা হয়েছে। জেনেবুঝে পরিকল্পনা করে নামের গন্ডগোল করছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাই বয়স্ক, অসুস্থ মানুষদের এসআইআরের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এসব পরিকল্পনা করে এসআইআর বন্ধ করতে চাইছে।” তিনি বলেন, “পুরো প্রশাসনকে এই এসআইআর বন্ধ করতে লাগিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনওভাবেই যেন এসআইআর চলতে না পারে, সেই চেষ্টাই চলছে। মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে শুধু এসআইআরের জন্য যাননি। আনন্দপুরের ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে রাজ্যবাসীর নজর ঘোরাতেই গিয়েছেন। সেখানে ২৫ জন মারা গিয়েছেন, এখনও ৩০ জন নিখোঁজ। মাত্র ১০ কিমি দূরে দুর্ঘটনা ঘটল, এখনও তিনি সেখানে যাওয়ার সময় পেলেন না, অথচ ১৫০০ কিমি পথ পেরিয়ে দিল্লি পৌঁছে গেলেন (Mamata Banerjee)! যে মুখ্যমন্ত্রী ইডির তল্লাশিতে চলে যান, পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে এই রকম পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের জনতা বুঝে গিয়েছেন এই সরকার চলতে দেওয়া যাবে না।”

    শমীক বলেন, “ভোটার লিস্ট শুদ্ধিকরণে ভারতের কোনও জায়গা থেকে এত অশান্তি হয়নি। তাহলে শুধু পশ্চিমবঙ্গে কেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ২০০৫ সালের অগাস্টে ভোটার কার্ডের দাবি করেছিলেন? যিনি ৪ অগাস্ট ২০০৫-এ সব পেপার স্পিকারের টেবিলের ওপর ছুড়ে ফেলে দিয়ে সেই সময় বলেছিলেন, ওই ভোটার তালিকা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীতে ভরা (BJP)। ২০০৫-এর যে নেত্রী এর বিরোধিতা করতেন আজ তিনিই এসআইআরের বিরুদ্ধে ধর্না দিতে দিল্লি পৌঁছে গেলেন। বিএলএদের কীভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে? তৃণমূলের অ্যাজেন্ডা পরিষ্কার যে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা, ভুয়ো ভোটাররা (Mamata Banerjee) ভোটার তালিকায় থাকুক। এটা কী করে চলতে পারে? সব বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন উনি (BJP)।”

     

  • Mamata on CEC Impeachment: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব স্রেফ একটা রাজনৈতিক কৌশল মরিয়া মমতার?

    Mamata on CEC Impeachment: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব স্রেফ একটা রাজনৈতিক কৌশল মরিয়া মমতার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র করল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) টিএমসি ইঙ্গিত দিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে তারা অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। বাংলায় এসআইআর শুরুর পর থেকেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নানা ইস্যুতে নিশানা করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata on CEC Impeachment)। মঙ্গলবার বঙ্গ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকের সময় তিনি বললেন, তাঁরা চান জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট হোক। তবে, এর জন্য যা প্রয়োজন, তা করার ক্ষমতা মমতার নেই, বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এর কোনও রাজনৈতিক ও আইনি ব্যাখ্যাও নেই। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচনের আগে রাজ্যে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশের মুখে দেশের সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য তৃণমূল পরিকল্পনা করে এই মিথ্যা কৌশল দেখাচ্ছে।

    তৃণমূলের অবস্থান

    দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, “যেভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। এতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন হচ্ছে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের এমপিচমেন্টের বিষয়টি বিবেচনা করছি।” এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নির্বাচিতভাবে তৃণমূল বিধায়কদের কেন্দ্রগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, বিজেপি-নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রগুলিতে যেখানে মাত্র ৩,০০০–৪,০০০ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, সেখানে তৃণমূল বিধায়কদের আসনে ৪০,০০০ থেকে শুরু করে এক লক্ষ পর্যন্ত নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নিজের ভবানীপুর কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খসড়া ভোটার তালিকা থেকেই প্রায় ৪০,০০০ নাম বাদ পড়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকায় তা এক লক্ষে পৌঁছতে পারে। তাঁর আরও দাবি, গোটা রাজ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম কোনও যথাযথ আলোচনা ছাড়াই খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের অবস্থান

    অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সব অভিযোগ স্পষ্টভাবে খারিজ করেছে। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর একটি সংবিধানস্বীকৃত ও নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য হল নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা। কমিশন দাবি করেছে, এই প্রক্রিয়া সব কেন্দ্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। সোমবারের বৈঠক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সূত্র জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেও কমিশনের শীর্ষ কর্তারা সংযত থেকে আইনি কাঠামোর ব্যাখ্যা দেন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে বাধা, অফিস ভাঙচুর বা আধিকারিকদের কাজে হস্তক্ষেপ হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

    রাহুলের পাশে মমতা!

    কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বারবার বলছেন, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে রেট্রোস্পেকটিভ আইন আনা হবে। সেকথা জানিয়ে সাংবাদিকরা মমতার কাছে জানতে চান, আপনি কি তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন? বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কি ভবিষ্যতে কোনও আইন আনা হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কোনও কিছু যদি জেনুইন হয়, প্র্যাকটিক্যাল হয় এবং জনতার ভালোর জন্য হয়। আমরাও চাইব তাঁর ইমপিচমেন্ট হোক। আমাদের নম্বর নেই। কিন্তু, ইমপিচমেন্ট তো হতে পারে। ধারা তো রয়েছে। রেকর্ড তো হয়ে যাবে। উনি যদি এমন করেন, তবে আমরা আমাদের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের স্বার্থে এককাট্টা হয়ে কাজ করি। এতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।”

    রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা তৃণমূলের

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদটি একটি সাংবিধানিক পদ। ফলত, সাংবিধানিক পদে কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। তবে, মৌসম নুরের ইস্তফার পর তৃণমূলের সাংসদ সদস্য সংখ্যা ৪১। সেই জায়গা থেকে যদি তৃণমূল এই লক্ষ্যে এগোয়, তাহললে সম্ভবত ইন্ডি ব্লকের অনেক দলকেই কাছে চাইবে তৃণমূল। এক্ষেত্রে অখিলেশের সমাজবাদী পার্টিকে ঘাসফুল শিবির পাশে পাবে বলে মনে করছে তৃণমূল। এই জায়গা থেকে রাজনৈতিক ঘূর্ণিতে দুটি দিক উঠে আসছে। সূত্রের খবর, এই ইম্পিচমেন্টের জন্য তৃণমূলের উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারটি, বিজেপি বিরোধী শিবির ইন্ডি ব্লকে তৃণমূলকে উজ্জ্বল জায়গায় রাখবে।

    বিরোধী ইন্ডি জোটের অন্দরেও বিতর্ক

    এই ইমপিচমেন্ট-সংক্রান্ত আলোচনা নতুন করে বিরোধী ইন্ডি জোটের অন্দরেও বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়াতেই কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী শরিকদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে তৃণমূল। তবে সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন প্রক্রিয়া।

    মমতার নাটক, অভিমত শুভেন্দুর

    এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর ও ইমপিচমেন্ট প্রসঙ্গকে “নাটক” বলে কটাক্ষ করেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘ইমপিচমেন্টের মানে জানেন উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)? কত সংখ্যা লাগে জানেন? ইমপিচমেন্ট কীভাবে পাশ করাতে হয় জানেন? কত সাংসদের ভোট লাগে জানেন? দুভার্গ্য, ১৫ বছরের মুখ্যমন্ত্রী, সাতবারের সাংসদ ইমপিচমেন্টের পদ্ধতিই জানেন না। সকাল থেকে উনি শুধু মিথ্যাচারের ন্যারেটিভ তৈরি করছেন।’ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ভোটার তালিকা সংশোধন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে ইমপিচমেন্টের হুমকি ততই রাজ্য রাজনীতির বড় ফ্ল্যাশপয়েন্ট হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    ইমপিচমেন্ট সম্ভব নয়

    আইনজ্ঞরা বলছেন, সিইসি–কে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এটা একটা স্বশাসিত সংস্থা। তাঁর অপসারণের জন‍্য সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাশ করাতে হবে। এর জন্য সংসদের দুই কক্ষেই দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। যদিও এই সংখ্যা বিরোধীদের কাছে নেই। ফলে জ্ঞানেশকে এখনই সরানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না। তবে বাংলা–সহ দেশের পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা ভোটের আগে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আর নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে ভুল বার্তা দিতেই মমতার এই পদক্ষেপ। বিজেপির দাবি, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে তৃণমূল।

  • TMC: ভাঙড়ে জলাশয় ভরাট করছে তৃণমূল আশ্রিত জমি মাফিয়ারা, অভিযোগ শুভেন্দুর

    TMC: ভাঙড়ে জলাশয় ভরাট করছে তৃণমূল আশ্রিত জমি মাফিয়ারা, অভিযোগ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে জলাশয় ভরাট করছে তৃণমূল (TMC) আশ্রিত জমি মাফিয়ারা (Land Mafia)। প্রকাশ্যে এই জলাশয় বোঝানোর কাজ চললেও, প্রশাসন কোনও পদক্ষেপই করেনি বলে অভিযোগ। সোমবার বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে জলাশয় ভরাট করার একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, “এই মুহূর্তে ভাঙড়ে যা ঘটছে, তা মানুষের জীবন ও পরিবেশের বিরুদ্ধে এক সুস্পষ্ট অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। আর তৃণমূল সরকারই এর সবচেয়ে বড় সহায়ক।”

    চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন শুভেন্দু (TMC)

    শুভেন্দু জানান, ওই পুকুরটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্পত্তি। তিনি বলেন, “ঘন অন্ধকার রাতের আড়ালে তৃণমূল-মদতপুষ্ট জমি মাফিয়ারা ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারের প্রবেশপথে অবস্থিত একটি বিশাল জনসাধারণের পুকুর নির্লজ্জভাবে ভরাট করছে। এটি কোনও সাধারণ জলাশয় নয়, এই জমিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দফতরের অধীন বলে সরকারিভাবে নথিভুক্ত।” রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “তবুও মাটি বোঝাই ডাম্পার এবং জেসিবি মেশিন সম্পূর্ণ দায়মুক্তির সঙ্গে সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ জলসম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে, আর প্রশাসনের অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো—তারা সব কিছু দেখেও না দেখার ভান করছে (TMC)।”

    শুভেন্দুর সতর্ক বার্তা

    বিজেপি নেতা সতর্ক করে বলেন, “এই ধরনের কার্যকলাপ মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে—যেমনটি কয়েক দিন আগে আনন্দপুরে দেখা গিয়েছিল।” শুভেন্দু বলেন, “এখানেও কার্যত বেআইনি নির্মাণ, নিয়ন্ত্রণহীন কার্যকলাপ এবং সরকারি দফতরগুলির কোনও নজরদারি ছাড়াই সব কিছু চলার জন্য ভিত গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি কোনও শাসনব্যবস্থা নয়, এটি মাফিয়ারাজ (Land Mafia)। ব্যক্তিগত মুনাফা ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য পরিকল্পিত ভাবে জলাশয়, পরিবেশ এবং জন-নিরাপত্তা ধ্বংস করা হচ্ছে (TMC)।”

     

  • Assembly Election 2026: ঘনিয়ে আসছে ভোট, চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর

    Assembly Election 2026: ঘনিয়ে আসছে ভোট, চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইভিএম, ভি ভি প্যাটের পর এবার গণনা কেন্দ্রের চূড়ান্ত প্রস্তুতিও সেরে ফেলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। চলতি বছর রাজ্যে যে বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election 2026) হতে চলেছে তার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর (ECI)। সেই মোতাবেক রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১৫০টি গণনা কেন্দ্রকে চূড়ান্ত করতে পেরেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের দফতর। বুধবার এই তালিকাই পাঠানো হবে নির্বাচন কমিশনে। কমিশনের তরফে চূড়ান্ত শিলমোহর পড়লেই রাজ্যের এই গণনা কেন্দ্রগুলিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। কেবলমাত্র গণনা কেন্দ্রই নয়, কোন গণনা কেন্দ্রে কত রাউন্ড গণনা হবে তারও তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের পদস্থ আধিকারিকের বক্তব্য (Assembly Election 2026)

    নির্বাচন কমিশনের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরেই রাজ্যে আসবে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। ফুল বেঞ্চ ঘুরে যাওয়ার পরেই অর্থাৎ মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাই নির্বাচন কমিশন আগেভাগেই সব কাজ সেরে রাখছে। ইতিমধ্যেই ইভিএম, ভিভিপ্যাট থেকে শুরু করে বুথের সংখ্যা একপ্রকার চূড়ান্ত করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। বাকি ছিল কেবলমাত্র গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা চূড়ান্ত করার। এবার সেই সংখ্যাও চূড়ান্ত করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর পাঠাতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে। সেখানে শিলমোহর পড়লেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সব রকম পদক্ষেপ করতে শুরু করবে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ৩০ হাজার বুথকে স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর এই সংখ্যা বাড়তেও পারে (Assembly Election 2026)। তবে সাম্প্রতিক অতীতে কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে যে প্যারামিটার ছিল, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সেই প্যারামিটার ভেঙে নয়া মানচিত্র তৈরি হয়ে গিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথের ভেতরে এবার থাকবে দু’টি করে ক্যামেরা, বুথের বাইরে একটি।

    নাকা চেকিংয়ের সংখ্যা

    বাকি বুথগুলিতে ভিতরে ও বাইরে একটি করে ক্যামেরা লাগানো হবে। নাকা চেকিংয়ের সংখ্যা বাড়ানো হবে। সেখানেও থাকবে প্রতি ক্ষেত্রে একটি করে ক্যামেরা, এর সঙ্গে থাকবে মোবাইল ভ্যান যার মাথায় লাগানো থাকবে একটি করে ক্যামেরা, আর এইসব ক্যামেরায় ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে লাইভ ওয়েবকাস্টিং করা হবে। যে পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে, তাতে এই বিধানসভা নির্বাচন সম্ভবত এক দফায়ই হতে চলেছে। আর সেই কারণেই রাজ্যে ভোটের দামামা বেজে গেলেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে এখনও প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় আছে (ECI)। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বিগত দিনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না করে নতুন আর এক ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। কমিশনের এক পদস্থ কর্তা জানান, কমিশনের লক্ষ্য এবার একদিকে যেমন এক দফায় নির্বাচন করা, তেমনি অন্যদিকে রক্তপাতহীন সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করে মানুষকে তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষমতা দেওয়া।

    স্পর্শকাতর, অতি-স্পর্শকাতর বুথ

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিস্তর বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকের মধ্যে দিয়েই উঠে এসেছে স্পর্শকাতর থেকে শুরু করে অতি-স্পর্শকাতর এবং সংবেদনশীল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকার বুথের সামগ্রিক চিত্র। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর প্রতি বুথে যেমন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, তেমনই এলাকায়ও টহলদারের কাজে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমেও নজরদারির কাজ চালাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীই। অর্থাৎ ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবার একদিকে যেমন বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে চলেছে, তেমনি অন্যদিকে বিগত দিনের ইতিহাস মুছে ফেলে রাজ্যে নয়া ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার, আদতে এই স্পর্শকাতর এবং অতি-স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা বেড়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় যেখানে এবার রাজ্যে বুথের সংখ্যা প্রায় এক লাখ ছুঁতে চলেছে (Assembly Election 2026)।

     

  • Bharats Frontiers: সীমান্তে বেড়া দেওয়া হয়নি কেন? রাজ্যকে ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের

    Bharats Frontiers: সীমান্তে বেড়া দেওয়া হয়নি কেন? রাজ্যকে ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সীমান্তের অখণ্ডতা কেবল প্রশাসনিক মানচিত্র নির্ধারণের বিষয় (Bharats Frontiers) নয়, এটি একটি অবিরাম হাইব্রিড যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষা-রেখা। ২০১৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে (Mamata Banerjee) আমরা এক উদ্বেগজনক প্রবণতা প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী, আইএসআইএস এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলি চাক্ষুষ ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর চেষ্টা করেছে।

    বিপজ্জনক হুমকি (Bharats Frontiers)

    তবে সবচেয়ে বিপজ্জনক হুমকি অনেক সময় বাইরে থেকে নয়, বরং ভেতর থেকেই আসে, বিশেষ করে যখন কোনও রাজ্য সরকার জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেয়। পশ্চিমবঙ্গে চলমান সঙ্কট, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ধারাবাহিকভাবে বিএসএফকে সীমান্ত সুরক্ষার কাজে বাধা দিয়ে এসেছে, তা সংবিধানগত দায়িত্বে গুরুতর অবহেলার শামিল। সীমান্তে বেড়া না দিয়ে ফাঁকফোকর রেখে দেওয়ার মাধ্যমে রাজ্য কার্যত অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সন্ত্রাসের প্রবেশদ্বার খুলে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তার প্রাধান্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। যে কোনও রাজ্য সরকারের পবিত্র দায়িত্ব হল দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করা। অথচ পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বারবার জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অনুপ্রবেশ, গবাদি পশু পাচার এবং রাষ্ট্রবিরোধী উপাদানের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বেড়ে চললেও, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিতে অস্বীকার করেছে বলে অভিযোগ।

    সীমান্তে বেড়া

    সীমান্তে বেড়া, চৌকি ও অন্যান্য পরিকাঠামোর জন্য জমি হস্তান্তরে এই পরিকল্পিত বিলম্ব কোনও সাধারণ প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, এটি ভারতের সার্বভৌম প্রতিরক্ষার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অন্তরায়। বিএসএফকে সীমান্ত সিল করার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করে রাজ্য সরকার কার্যত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধীদের জন্য লাল কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ মানতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একগুঁয়ে অস্বীকৃতি রাজ্যটিকে এমন এক দুর্বল প্রবেশদ্বারে পরিণত করছে, যা প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে (Bharats Frontiers)। জাতীয় অখণ্ডতার পক্ষে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে কলকাতা হাইকোর্ট অবশেষে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিপজ্জনক টালবাহানার অবসান ঘটাতে হস্তক্ষেপ করেছে। ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে ভর্ৎসনা করে জানিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সীমান্ত পরিকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি হস্তান্তর করতে হবে। এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, কীভাবে ন’টি সংবেদনশীল সীমান্ত জেলা জুড়ে অধিগৃহীত জমি হস্তান্তর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা তৈরি করে রেখেছিল, যার ফলে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা

    জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বড় জয়ে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তৈরি ব্যুরোক্রেটিক অবরোধ (Mamata Banerjee) ভেঙে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর অধিগৃহীত সমস্ত জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে (Bharats Frontiers)। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, প্রশাসনিক অজুহাত বা নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে জাতীয় নিরাপত্তাকে আটকে রাখা যাবে না। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য তালিকাভুক্ত করে আদালত বুঝিয়ে দিয়েছে, সীমান্ত ঝুঁকির মুখে রেখে আর কোনও বিলম্ব কৌশল সহ্য করা হবে না। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৪,০৯৬ কিলোমিটার, যার মধ্যে ২,২১৬ কিলোমিটার পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এই সীমান্ত অত্যন্ত ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এটি অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক চক্র, গবাদি পশু পাচার ও জাল নোট চক্রের প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে—যা ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমোদন

    ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বারবার অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ করলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ধারাবাহিকভাবে গড়িমসি করেছে। যার জেরে সীমান্তের প্রায় ২৬ শতাংশ এখনও বেড়াবিহীন। রাজ্যের ন’টি জেলায় ২৩৫ কিমি জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হলেও, রাজ্য মাত্র ৭১ কিমি জমি হস্তান্তর করেছে। অবশিষ্ট জমি না দেওয়ায় বিএসএফ কার্যত ঠুঁটো হয়ে রয়ে গিয়েছে। যদিও ‘জমি’ রাজ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত, তবে সংবিধানের ২৫৬, ২৫৭ ও ৩৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কেন্দ্রের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব রয়েছে। প্রায় এক দশক আগের মন্ত্রিসভা অনুমোদন কার্যকর না করা স্পষ্ট সংবিধান অবমাননা। স্থানীয় রাজনৈতিক স্বার্থকে ফেডারেল দায়িত্বের ঊর্ধ্বে তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেবল নিজের রাজ্যের নাগরিকদের নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তাকেই বিপন্ন করেছে (Bharats Frontiers)। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সমস্ত ক্ষতিপূরণপ্রাপ্ত জমি বিএসএফকে দিতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনী তালিকা সংশোধন বা ভোটের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়, জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রকল্পে কোনও ব্যুরোক্র্যাটিক অজুহাত চলবে না। বলা বাহুল্য, এই রায় প্রতিটি ভারতীয়ের জন্য একটি বড় বিজয়, যারা বিশ্বাস করেন, মাতৃভূমির নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না (Mamata Banerjee)।

    অখণ্ডতার ওপর আঘাত

    এই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত অবহেলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সুব্রত সাহা, যিনি দেশরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত ও পরিশ্রমের মূল্য ভালোই বোঝেন।
    তাঁর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায়  তিনি যুক্তি দেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিষ্ক্রিয়তা সরাসরি ভারতের প্রতিরক্ষা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অখণ্ডতার ওপর আঘাত। আবেদনে একটি উদ্বেগজনক ও দেশদ্রোহিতামূলক প্রবণতার কথা তুলে ধরা হয়, ২০১৬ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় জমির কেবলমাত্র একটি অংশই হস্তান্তর করেছে। সংসদীয় নথি উদ্ধৃত করে জানানো হয়, এই নির্দিষ্ট ফাঁকগুলোকেই কাজে লাগাচ্ছে চোরাকারবারি ও অনুপ্রবেশকারীরা, যে ফাঁক কেবলমাত্র রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই রয়ে গিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট আর অপেক্ষা করতে রাজি হয়নি। এর আগে, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ আদালত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে স্পষ্ট জবাব চায়, যে জমির পুরো অধিগ্রহণমূল্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পরিশোধ করেছে, তা কেন এখনও হস্তান্তর করা (Mamata Banerjee) হয়নি? প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া চূড়ান্ত রায় রাজ্যের বাধাদানমূলক রাজনীতির ওপর বড় আঘাত হানে। আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, অধিগৃহীত ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া সমস্ত জমি ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে।

    অজুহাত খারিজ

    ‘ভোটার তালিকা সংশোধন’ বা ‘আসন্ন নির্বাচন’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা আদালত খারিজ করে দেয়। জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য কেন্দ্র অর্থ জোগালে, কোনও প্রক্রিয়াগত অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না, এ কথা পরিষ্কার জানিয়ে দেয় বেঞ্চ (Bharats Frontiers)। এই রায় প্রতিটি ভারতবাসীর জয়, যাঁরা বিশ্বাস করেন যে মাতৃভূমির নিরাপত্তা কোনও রাজ্যস্তরের রাজনীতির দরকষাকষির বিষয় হতে পারে না। আইনের শক্তিতে অবশেষে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য পাতা ‘লাল কার্পেট’ গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ফেডারেল সহযোগিতার প্রতি চরম অবহেলা প্রকাশ্যে আসে। কেন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সাংবিধানিক আইনের দৃষ্টান্তমূলক ব্যাখ্যা দেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন, সংবিধানের ২৫৬, ২৫৭ ও ৩৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রের নির্দেশ মানতে আইনগত ও নৈতিকভাবে বাধ্য (Mamata Banerjee)। কেন্দ্রের যুক্তি, ভারতের সার্বভৌমত্ব যখন বিপন্ন, তখন কোনও রাজ্য নিশ্চুপ বসে থাকতে পারে না। ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ধারা ৪০-এর জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে কেন্দ্র স্পষ্ট করে দেয়, সন্ত্রাসবাদী, অনুপ্রবেশকারী ও চোরাকারবারিদের হাত থেকে সীমান্ত রক্ষা করা একটি স্থায়ী জরুরি অবস্থা, যা রাজ্যের ধীর আমলাতান্ত্রিক গতির ঊর্ধ্বে। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইনজীবীরা বিএসএফের জরুরি প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে তাদের ‘ডাইরেক্ট পারচেজ পলিসি (DPP)’-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁরা ‘স্ট্যান্ডার্ড রুল’ ও ‘মামলামুক্ত প্রক্রিয়া’র কথা বলেন, যেন রাষ্ট্রবিরোধী অনুপ্রবেশ রাজ্যের সুবিধামতো অপেক্ষা করতে পারে। জাতীয় প্রতিরক্ষাকে শুধুমাত্র একটি ‘পরিকাঠামো প্রকল্প’ হিসেবে দেখিয়ে জরুরি ক্ষমতাকে ব্যতিক্রম বলে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

    বিএসএফকে লাল ফিতের জালে জড়িয়ে রাখা

    এই ফাঁপা যুক্তির ফল ছিল স্পষ্ট, অবৈধ সীমান্ত কার্যকলাপের দরজা খোলা রেখে বিএসএফকে লাল ফিতের জালে জড়িয়ে রাখা। হাইকোর্ট রাজ্যের এই গড়িমসি কৌশলে বিভ্রান্ত হয়নি। ডিভিশন বেঞ্চ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের মতো গুরুতর বিষয়ে কীভাবে ‘অচল সেতু’র জন্য তৈরি নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে?
    আদালত সরাসরি জানতে চায়, এত বছর আগেই কেন ধারা ৪০ প্রয়োগ করা হয়নি, যা কার্যত সীমান্ত রক্ষায় রাজ্যের সদিচ্ছার অভাবকেই তুলে ধরে (Bharats Frontiers)। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আর কোনও বিলম্বের যৌক্তিকতা নেই। ‘ভোটার তালিকা সংশোধনে’র অজুহাত পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে জানানো হয়, জাতীয় নিরাপত্তাকে রাজ্যের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের দোহাই দিয়ে বন্দি করা  যাবে না (Mamata Banerjee)। রাজ্যের দীর্ঘদিনের অন্তর্ঘাত ঠেকাতে আদালত তিনটি স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। এগুলি হল, যেসব জমির মূল্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পরিশোধ করেছে, তা ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সম্পূর্ণ হস্তান্তর করা। ডিপিপি প্রক্রিয়ায় থাকা জমির ক্ষেত্রে একই সময়সীমার মধ্যে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দেওয়া। যেখানে কোনও কাজই হয়নি, সেখানে ধারা ৪০ অনুযায়ী জরুরি অধিগ্রহণের পথ খোলা।

    স্পষ্ট সংকেত

    এতে স্পষ্ট সংকেত দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রীয় মদতে সীমান্ত দুর্বল করার যুগের আইনি সমাপ্তি ঘটছে। এই হস্তক্ষেপ ভারতের প্রতিরক্ষার পক্ষে বড় জয় এবং টিএমসির ‘নরম সীমান্ত’ নীতির বিরুদ্ধে কড়া পরাজয়। বছরের পর বছর বেঙ্গলের অরক্ষিত সীমান্ত চোরাকারবারি, মাদকচক্র ও অনুপ্রবেশকারীদের প্রাণরক্ষার পথ ছিল। আদালতের নির্দেশে এবার সেই ফাঁক বন্ধ হতে চলেছে (Bharats Frontiers)। এপ্রিল ২০২৬-এর পর্যালোচনায় স্পষ্ট হবে, রাজ্য অবশেষে দেশপ্রেম দেখাবে, নাকি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা চালিয়ে যাবে। এই সময়সীমাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের শেষ পরীক্ষা। বিচারব্যবস্থা স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির বলিতে মাতৃভূমির নিরাপত্তা আর দেওয়া হবে না। বস্তুত, আইনের শাসন অবশেষে প্রহরীকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অন্তর্ঘাতকারীকে নয়।

     

  • Durgapur Industry Corridor: বেকার সমস্যার সমাধান থেকে পরিকাঠামো উন্নয়ন! শিল্প করিডর প্রস্তাবে আশাবাদী দুর্গাপুর

    Durgapur Industry Corridor: বেকার সমস্যার সমাধান থেকে পরিকাঠামো উন্নয়ন! শিল্প করিডর প্রস্তাবে আশাবাদী দুর্গাপুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ শিল্পঐতিহ্যের শহর দুর্গাপুর (Durgapur Industry Corridor) আসন্ন বাজেটে প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর থেকে বড়সড় সুবিধা পেতে পারে। ‘পুর্বোদয়া স্টেটস’ উদ্যোগের আওতায় গড়ে ওঠা এই করিডরের একটি সুসংযুক্ত নোড দুর্গাপুরে হলে শিল্পখাতে খরচ কমবে বলে মনে করছেন শহরের শিল্পপতিরা। রবিবার বাজেটে দুর্গাপুরে নয়া শিল্প করিডরের ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেট ভাষণে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ব ভারত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নের জন্য বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই রেশ ধরে ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট-কোস্ট করিডর তৈরি করা হবে। আর তার একটি কেন্দ্র তৈরি করা হবে দুর্গাপুরে।

    পূর্বোদয় পরিকল্পনার অংশ দুর্গাপুর শিল্প করিডর

    ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের বাজেটে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন৷ পূর্বোদয়, অর্থাৎ পূর্বের উদয় নামে একটি পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি৷ বাজেট বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, ‘‘আমি একটি সুসংযুক্ত দুর্গাপুর নোড-সহ একটি সমন্বিত পূর্ব উপকূল শিল্প করিডর (ইস্ট-কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর) গড়ে তোলা, পূর্বোদয় প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি রাজ্যে পাঁচটি পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন এবং চার হাজার ই-বাসের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করছি।’’এই ঘোষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, শিল্পশহর দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর তৈরি করা, যার মাধ্যমে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নতিও করা যাবে৷ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পর অত্যন্ত আশাবাদী দুর্গাপুর বণিক সভা।

    শিল্প-মানচিত্রে ফের শক্ত জায়গায় দুর্গাপুর

    অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এই করিডর উৎপাদন, লজিস্টিক্স ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেবে। দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী শিল্প পরিকাঠামো এবং ভৌগোলিক অবস্থানকে সামনে রেখে এই অঞ্চলকে শিল্প মানচিত্রে আরও শক্তপোক্ত জায়গা করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। ইস্পাত শিল্পের জন্য পরিচিত দুর্গাপুরে সেলের (SAIL) অন্যতম পুরনো কারখানা দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (DSP) অবস্থিত। শ্যাম স্টিলের ডিরেক্টর ললিত বেরিওয়ালা বলেন, এই করিডর চালু হলে এলাকার লজিস্টিক ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। তাঁর কথায়, দুর্গাপুরের অধিকাংশ শিল্পই বাইরে থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ প্রস্তুত পণ্য রাজ্যের বাইরে পাঠানো হয়। সে ক্ষেত্রে একটি শিল্প করিডর শিল্পগুলির জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে। অন্ডালের বিমানবন্দর পরিচালনাকারী বেঙ্গল অ্যারোট্রোপলিস (BAPL)-এর ডিরেক্টর উৎসব পারেখ জানান, এই প্রস্তাব নিয়ে তাঁরা অত্যন্ত উৎসাহী। তিনি বলেন, “এখানে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আমরা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাজ করছি।”

    দক্ষিণবঙ্গের অলিখিত রাজধানী হতে পারে দুর্গাপুর

    দুর্গাপুর (Durgapur Industry Corridor) চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি চন্দন দত্ত বলেন, ‘‘দুর্গাপুর শিল্পনগরী থেকে স্বাস্থ্য নগরী এবং শিক্ষা নগরীতেও পরিণত হয়েছে। যদিও দুর্গাপুরে একের পর এক ভারী শিল্প বন্ধ হওয়ার পর, তা আর খোলা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই দুর্গাপুর তার গৌরব অনেকখানি হারিয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বাজেট অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বেকার সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অলিখিত রাজধানী হয়ে যেতে পারে দুর্গাপুর।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পাশাপাশি অন্ডাল বিমাননগরীতে যে কারগো পরিষেবা চালু হয়েছে, তার আরও উন্নতি হলে আশপাশের জেলা বীরভূম, বাঁকুড়া, নদিয়া , পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান এমনকী প্রতিবেশী রাজ্য বিহার, ঝাড়খণ্ড দারুণভাবে উপকৃত হবে। মুম্বইয়ের পুনে এবং নয়াদিল্লির নয়ডা যেভাবে উন্নয়ন ঘটছে, কলকাতা থেকে মাত্র ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে দুর্গাপুরে সেই উন্নয়নে জরুরি।’’

    দুর্গাপুরের কী কী সুবিধা

    দুর্গাপুরকে এই করিডোরের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে লৌহ-ইস্পাত এবং ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বার্জার পেইন্টসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও অভিজিৎ রায় বলেন, দুর্গাপুর সংলগ্ন পানাগড়ে তাঁদের প্রস্তাবিত উৎপাদন কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এই শিল্প করিডর লজিস্টিক ও সংযোগ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, আসানসোল চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক শম্ভু ঝা বলেন, দুর্গাপুরকে বড় শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত এবং এই করিডর পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের সময়কালে দুর্গাপুরে ডিভিসির ৮০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন পরিবেশবান্ধব নতুন ইউনিট গড়ার প্রস্তুতি চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় বাজেটে দুর্গাপুরকে নিয়ে নতুন করে শিল্প করিডর গড়ার ঘোষণা অত্যন্ত আশাবাদী দুর্গাপুরের আমজনতা।

    শিল্পের জোয়ার আসবে জেলায় জেলায়

    দীর্ঘদিন ধরে শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ঘিরে যে প্রশ্ন উঠছিল পশ্চিমবঙ্গে, বাজেটের এই ঘোষণায় তারই একটি সম্ভাব্য উত্তর মিলেছে বলে মনে করছেন শিল্প ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ। রাজ্য সরকার যেখানে বারবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে এসেছে, সেখানে দুর্গাপুরে শিল্প করিডরের প্রস্তাব বাংলাকে ঘিরে কেন্দ্রের আগ্রহই স্পষ্ট করছে বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। যদিও বাজেটে এই প্রকল্পের আর্থিক পরিমাণ বা নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, তবুও শিল্প মহলের মতে এটি বাংলার শিল্প পুনরুজ্জীবনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন,‘‘আমরা বলেছিলাম, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে শিল্পায়ন হবে। ক্ষমতায় আসার আগেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী দুর্গাপুরে শিল্পের কথা ঘোষণা করলেন। এ বার আর দুর্গাপুর ও আশপাশের যুবকদের ভিন রাজ্যে কাজে যেতে হবে না।’’ বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, ‘‘এই রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা দেখা দিল আবার দুর্গাপুরকে সামনে রেখেই। তৃণমূল কংগ্রেসের ইউনিয়ন তাদের জঙ্গিপনার কারণে এ রাজ্যে শিল্প আসেনি। আবার নতুন করে শিল্প আসবে, এটা বেকার যুবকদের কাছে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এই রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠিত হলে শিল্পের জোয়ার আসবে জেলায় জেলায়।’’

     

     

     

     

     

  • Swami Suryananda: সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি স্বামী সূর্যানন্দ মহারাজ

    Swami Suryananda: সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি স্বামী সূর্যানন্দ মহারাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি স্বামী সূর্যানন্দ মহারাজ (Swami Suryananda)। রবিবার ঘটনাটি ঘটে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর এলাকায়। গুরুতর জখম হন ওই হিন্দু সাধু (Suvendu Adhikari)। হিন্দু সম্মেলন চলাকালীনই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও লক্ষ্যভিত্তিক হিংসার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভগবানপুরে আয়োজিত ওই হিন্দু সম্মেলনে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও ভক্তরা শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হয়েছিলেন। তবে সমাবেশস্থলে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যার পরিপ্রেক্ষিতে স্বামী সূর্যানন্দ মহারাজ গুরুতর জখম হন। তাঁকে তড়িঘড়ি ভর্তি করা হয় স্থানীয় একটি হাসপাতালে।

    হিন্দু সন্ন্যাসী আক্রান্ত (Swami Suryananda)

    হাসপাতাল সূত্রে খবর, স্বামীজি একাধিক আঘাত নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। তাঁকে দেখতে যাঁরা হাসপাতালে গিয়েছিলেন, তাঁদের মতে, মহারাজের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলেও স্থিতিশীল। মহারাজের ওপর হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত করা হয়নি। ধর্মীয় সমাবেশে কীভাবে হিংসা ছড়াল, সে বিষয়েও রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন নীরব। ঘটনার প্রেক্ষিতে এফআইআর দায়ের হয়েছে কি না, অথবা ঘটনাটিকে মারধর, দাঙ্গা নাকি হত্যার চেষ্টার মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে, তা-ও স্পষ্ট নয়। হিন্দু সন্ন্যাসীর আক্রান্ত হওয়ায় খবর পেয়েই মহারাজকে দেখতে হাসপাতালে ছোটেন শুভেন্দু। মহারাজের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটির বিশদ বিবরণ দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা (Swami Suryananda)।

    ‘জয় শ্রী রাম’

    শুভেন্দুর দাবি, ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দেওয়ায় সম্মেলনের সময় ওই সাধুর ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, “এটি (জয় শ্রীরাম ধ্বনি) হিন্দু ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশমাত্র।” তাঁর দাবি, হাসপাতালের বেড থেকেই স্বামীজি তাঁকে ঘটনার ধারাবিবরণী দেন (Suvendu Adhikari)। শুভেন্দু বলেন, “বুনো জন্তুর মতো তারা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। স্বামীজির গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টাও করেছিল। ঘুষি, লাথি ও বুকে আঘাত করাও হয়েছে। হয়েছে মারধর করাও।” নন্দীগ্রামের বিধায়কের অভিযোগ, হামলাকারীরা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের মধ্যে যাদের তিনি “জেহাদি” বলে উল্লেখ করেন, তারাও ছিল। তাঁর মতে, এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার হত্যার চেষ্টা।

    “রাষ্ট্র-পোষিত সন্ত্রাস”

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু এই ঘটনাকে “রাষ্ট্র-পোষিত সন্ত্রাস” বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসা চালাতে রাজ্য প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে মদত দিচ্ছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “এটি নিছক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয় (Suvendu Adhikari)। এটি হিন্দু গর্ব প্রকাশের সাহস দেখানো যে কাউকে লক্ষ্য করে সংগঠিত সন্ত্রাস।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের রাজত্বে হিন্দু সাধুদের ওপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর এবং ভক্তদের ভয় দেখানো নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্য পুলিশকে নীরব দর্শক বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার একটি পরিচিত ধারারই পুনরাবৃত্তি হয়েছে (Swami Suryananda)।

    সভ্যতার সঙ্কট!

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দু জাতপাত ও আঞ্চলিক বিভাজন ভুলে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। তাঁর মতে, স্বামী সূর্যানন্দ মহারাজের ওপর হামলা আসলে সমগ্র হিন্দু বিশ্বাস ও পরিচয়ের ওপর আঘাত। তাঁর প্রশ্ন, “আর কতদিন হিন্দুরা নীরবে অত্যাচার সহ্য করবে?” শুভেন্দুর মতে, ঘটনাটি কোনও বিচ্ছিন্ন হিংসার ঘটনা নয়, এটি একটি বৃহত্তর সভ্যতার সঙ্কট।এদিকে, হাসপাতাল সূত্রে খবর, স্বামী সূর্যানন্দ মহারাজের শারীরিক অবস্থার ওপর চিকিৎসকেরা কড়া নজর রাখছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে (Suvendu Adhikari) কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে (Swami Suryananda)।

     

  • Amit Shah: “পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যর্থ তৃণমূল সরকার”, তোপ শাহের

    Amit Shah: “পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যর্থ তৃণমূল সরকার”, তোপ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যর্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার।” শনিবার এমনই আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ অনুপ্রবেশের প্রবেশদ্বারে পরিণত হয়েছে, যা শুধু রাজ্যের জন্য নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তার পক্ষেই বড় ধরনের হুমকি (Amit Shah)। ব্যারাকপুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ (BJP) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অপরিহার্য।”

    অনুপ্রবেশ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে (Amit Shah)

    শাহের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর দাবি, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে বাধা দিয়ে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যও তিনি খারিজ করে দেন যে, সীমান্তের দুর্বলতার জন্য কেন্দ্র দায়ী। শাহের মতে, প্রকৃত সমস্যা হল বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে রাজ্য সরকারের অনিচ্ছা। তিনি বলেন, “হাইকোর্ট বিএসএফের পক্ষে রায় দেওয়ার পরেও জমি হস্তান্তর করা হয়নি। এই অবস্থায় বেড়া কীভাবে সম্পূর্ণ হবে?” শাহের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণেই এই বিলম্ব হয়েছে। তাঁর দাবি, এর সুযোগ নিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা অবাধে রাজ্যে ঢুকছে এবং রাজনৈতিক চাপে রাজ্য প্রশাসনের একাংশ ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরিতে সাহায্য করছে।

    কী বললেন শাহ?

    আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে শাহ বলেন, “শাসক দল অনুপ্রবেশকারীদের ‘ভোটব্যাঙ্কে’ পরিণত করেছে। এপ্রিলের শেষের মধ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে সঙ্গে সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং ৪৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।” সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি (Amit Shah)। মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্বেগ নিয়েও কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি টিএমসি সরকারের বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে বলেন, “বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর এবং কেন্দ্রীয় সরকার মতুয়াদের পাশে রয়েছে। তাই ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।” মতুয়া সম্প্রদায়ের আইনি সুরক্ষা ও রাজনৈতিক সমর্থনের আশ্বাসও দেন তিনি। এসআইআর প্রসঙ্গে শাহ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি সত্ত্বেও সংবিধান ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।” তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য টিএমসি বৈধ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।

    শেকড়-সহ উৎখাত করার ডাক

    নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক দলকে শানিত আক্রমণ শানিয়ে শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে হবে (BJP)। এই সরকারকে শেকড়-সহ উৎখাত করতে হবে।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কল্পিত ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতিও দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপির নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শাহ বলেন, “দলটি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করবে।” তাঁর বক্তব্য, যে সরকার অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেয়, জনগণের রায়ে তারা টিকতে পারে না। শাসক দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রেখে শাহ বলেন, “ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে টিএমসি সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনার বিরোধিতা করেছে।” তাঁর মতে, এটি বাংলার সাংস্কৃতিক ও জাতীয় পরিচয়ের ওপর একটি বড় আঘাত (Amit Shah)।

    এর আগে, কলকাতার আনন্দপুরে একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়, বরং টিএমসি শাসনের দুর্নীতির ফল। বক্তব্যের শেষে সমর্থকদের হাত তুলে বিজেপি সরকারের সমর্থনে স্লোগান দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জনতার উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, “তাঁরা কি (BJP) বর্তমান সরকারকে সরিয়ে একটি নিরাপদ ও পুনর্গঠিত পশ্চিমবঙ্গ গড়তে প্রস্তুত?”

     

  • Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav: ত্রিবেণীতে মুসলিম আক্রমণের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কুম্ভমেলা! ৭০০ বছর পর কীভাবে ফিরল?

    Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav: ত্রিবেণীতে মুসলিম আক্রমণের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কুম্ভমেলা! ৭০০ বছর পর কীভাবে ফিরল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাঁশবেড়িয়া সংলগ্ন ত্রিবেণীতে (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) রচিত হয়েছে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। ইসলামি আগ্রাসনের কারণে ৭০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এক প্রাচীন কুম্ভমেলা পুনরায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে। একে বলা হচ্ছে “বঙ্গ ত্রিবেণী কুম্ভ মহোৎসব।” বঙ্গের প্রাচীন সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছেন উদ্যোক্তারা।

    দক্ষিণ প্রয়াগ হিসেবে ত্রিবেণী (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav)

    হুগলি জেলার ত্রিবেণীকে (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) ঐতিহাসিকভাবে ‘দক্ষিণ প্রয়াগ’ (Daksina Prayag) বলা হয়। এলাহাবাদের (প্রয়াগরাজ) মতো এখানেও রয়েছে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গমস্থল। তবে প্রয়াগরাজের ত্রিবেণীকে বলা হয় ‘যুক্তবেণী’, আর বাংলার ত্রিবেণীকে বলা হয় ‘মুক্তবেণী’। প্রাচীন শাস্ত্র অনুযায়ী, এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান। সমুদ্র মন্থনের ফলে এখানেও অমৃতের ফোঁটা পড়েছিল। এখানে স্নান করলে এই স্নান অমৃত স্নানের সমান। সূর্য দেবতার দক্ষিণায়ণের ফলে যেমন সব কিছুর পরিবর্তন হয় ঠিক তেমনি মানুষের মনেরও পরিবর্তন হয়।

    মানবজাতির পাপ মুছে ফেলা হত

    বৈষ্ণব পণ্ডিত বৃন্দাবন দাস সপ্তগ্রাম ত্রিবেণী ঘাটকে সেই স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেখানে সপ্তর্ষিরা তপস্যা করেছিলেন এবং যেখানে স্নানের মাধ্যমে মানবজাতির পাপ মুছে ফেলা যায়। ত্রিবেণীর ভিক্ষু এবং ঋষিরা সপ্তর্ষি (মৈত্রেয়ী, অত্রি, পুলস্ত, পুলহ, ব্যাস, বশিষ্ঠ এবং বিশ্বামিত্র নামে ৭ জন ঋষি তপস্যা করেছিলেন। এখানেই প্রতিবছর সমবেত হন লাখ লাখ ভক্ত। সাধু-সন্তদের নির্দেশনা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহায়তায়, মাঘী সংক্রান্তি ভৈমি-একাদশী উপলক্ষে কুম্ভমেলা এবং কুম্ভ স্নানের আয়োজন করা হয়।

    ত্রিবেণীর (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং কুম্ভ ঐতিহ্যের গর্ব পুনরুজ্জীবিত করতে গত বছর এখানে কুম্ভ মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। ৭ শতাব্দী পর, তিন দিনের কুম্ভ মহাস্নান এবং মেলা এই অঞ্চলে এক নতুন শক্তির সঞ্চার করেছে। ৩ দিন ধরে চলা গঙ্গা আরতি, রুদ্রাভিষেক এবং যজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছিলেন লাখ লাখ ভক্ত। এবার ৭০৩ বছর পর ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কুম্ভমেলাকে ২০২২ খ্রিস্টাব্দে আবারও পুনরুজ্জীবিত করা হল।

    কেন বন্ধ হয়েছিল এই মেলা?

    ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, ১২৯২-১২৯৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে মুসলমান আক্রমণকারী জাফর খান গাজির নেতৃত্বে ত্রিবেণী (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালানো হয়। সেখানে থাকা পাল যুগের বিষ্ণু মন্দির ধ্বংস করা হয় এবং হিন্দুদের ধর্মীয় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে প্রায় ৭০০ বছর আগে এই মেলা ও স্নানযাত্রা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে, ওই অঞ্চলে থাকা বহু মন্দির ও বিহার ধ্বংস করে তার উপরেই তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন মসজিদের ইমারত গড়ে তোলা হয়েছিল। মুসলিম শাসকরা যেভাবে যেদিকে এগিয়ে গিয়েছে সেখানকার পুরাতন সংস্কৃতিকে বরাবর ধ্বংস করেছে। ১২৮৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩১৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে, সপ্তগ্রাম এবং ত্রিবেণী (Daksina Prayag) দৃঢ়ভাবে ইসলামি আক্রমণকারীদের নিয়ন্ত্রণে আসে। ঐতিহাসিকদের একাংশের মতে, হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দির এবং মঠগুলি নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল এবং পূর্ববর্তী ধর্মীয় কাঠামোর ওপরেই মসজিদ এবং দরগা নির্মাণ করা হয়েছিল। ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস ব্যানার্জি এবং প্রণব রায় জাফর খান গাজি দরগার স্তম্ভ, ভাস্কর্যের স্থাপত্যের টুকরো খুঁজে পেয়েছেন যা হিন্দু, জৈন এবং বৌদ্ধ চিত্রের বিকৃত রূপ ধারণ করে। বিশ্বাস করা হয় যে এই অঞ্চলে শেষ কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৩১৯ খ্রিস্টাব্দে।

    পুনরুত্থানের প্রচেষ্টা

    দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী পর, স্থানীয় কিছু সাধু, সন্ন্যাসী এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের উদ্যোগে ২০২২ সালে প্রথমবার এই কুম্ভমেলা (Daksina Prayag) পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই আন্দোলনের নেপথ্যে ছিলেন কাঞ্চন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবাসী গবেষক এবং স্থানীয় ‘ত্রিবেণী কুম্ভ পরিচালনা সমিতি’। তাঁদের গবেষণায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু রেফারেন্সও ব্যবহার করা হয়েছিল। যার মাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে ১৩১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এখানে কুম্ভ মেলা হত। ফলে হুগলীর ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) করার ঘটনা কোনও বিছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সনাতনী সাংস্কৃতিক প্রবাহ।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা ও বর্তমান চিত্র

    ২০২৩ সালের ‘মন কি বাত’ (Mann Ki Baat) অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই মেলার পুনরুজ্জীবনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর যা হওয়া উচিত ছিল, তা হতে অনেক দেরি হয়ে গেল। ২০২৬ সালেও ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই উৎসব পালিত হতে চলেছে, যেখানে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ লাখ ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য

    বর্তমানে এই মেলায় কেবল পবিত্র স্নানই হয় না, বরং বাংলার লোকসংস্কৃতি যেমন—কীর্তন, বাউল গান, গৌড়ীয় নৃত্য, শ্রীখোল এবং গঙ্গাপুজোর মতো নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এটি এখন বাংলার হিন্দুদের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের এক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছরেই ত্রিবেণী কুম্ভ মেলার আয়োজন করা হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সাধু, সন্ন্যাসী, নাগারা আসেন। একই ভাবে প্রচুর পর্যটক এবং ভক্ত সমাগমও হয়।

    প্রতি ৬ বছর অন্তর হরিদ্বার এবং প্রয়াগরাজে অর্ধকুম্ভ অনুষ্ঠিত হলেও, প্রতি ১২ বছর অন্তর পূর্ণকুম্ভ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতি, সূর্য এবং চন্দ্রের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে, পূর্ণকুম্ভ চারটি নির্ধারিত স্থানের একটিতে অনুষ্ঠিত হয়-প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, উজ্জয়িনী এবং নাসিক। প্রতি ১৪৪ বছরে একবার মহাকুম্ভ মেলা (Daksina Prayag) অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে সর্বশেষটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালে, প্রয়াগরাজে।

    কবে কোন উৎসব?

    বঙ্গো ত্রিবেণী কুম্ভ মহোৎসবের (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) যাত্রাপথ নিম্নরূপ:

    ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    সূর্যোদয়, আদিত্য হৃদয় মন্ত্র ও শান্তি বচন

    নগর সংকীর্তন

    যোগ আসন (ক্লাব গ্রাউন্ড)

    রুদ্রাভিষেক ও রুদ্র মহাযজ্ঞ, শিব সহস্র নাম পাঠ (ক্লাব গ্রাউন্ড)

    শিশুদের বসে আঁক প্রতিযোগিতা

    ধর্মসভা

    গঙ্গা আরতি


    ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    শান্তি কুম্ভ শোভাযাত্রা এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী

    পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের ভাষণ

    গীতা পাঠ

    সাধু ভান্ডারা

    কালী কীর্তন

    গৌড়িয় নৃত্য

    গঙ্গা আরতি

    ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    অমৃতা স্নানযাত্রা

    ধর্মসভা

    সাধু ভোজন

    ধর্মীয় অনুষ্ঠান / কীর্তন (ক্লাব গ্রাউন্ড)

    গঙ্গা আরতি (সপ্তর্ষি ঘাট)

LinkedIn
Share