মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিমধ্যে জোশীমঠকে (Joshimath) ডুবতে থাকা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি দল জোশীমঠে (Joshimath) যায় গতকাল। বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতেই মূলত এই দল সেখানে পৌঁছায়। সেখানকার ভেঙেপড়া ঘরবাড়ি গুলোও দেখে তারা। জানা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় এই দল আজকে তাদের রিভিউ রিপোর্ট জমা দেবে রাজ্য সরকারের কাছে। সরকারী সূত্রে জানা যাচ্ছে,জোশীমঠের (Joshimath) এই পরিস্থিতির জন্য সমগ্র শহরকে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে।
জোশীমঠ (Joshimath) শহর অবস্থিত উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলাতে। চামোলি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে যে শহরের ৬০৩ টি নির্মাণে ইতিমধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে যে সমগ্র জোশীমঠ শহরকে তারা তিনটে জোনে ভাগ করেছে, ডেঞ্জার জোন, বাফার জোন, এবং সেফ জোন। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে জানানো হয়েছে প্রশাসন সর্বদাই কাজ করে চলেছে ডেঞ্জার জোন এবং বাফার জোনের জন্য, যে সমস্ত জোনগুলির সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ নয়, সেখান থেকে মানুষজনকে সরানো হচ্ছে। এবং বাফার জোন ভবিষ্যতের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে সেখান থেকেও মানুষজনকে সরানো হচ্ছে। একমাত্র তৃতীয় জোন হল সেফ জোন।
উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী কী বলছেন
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামি গতকাল বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দিয়েছেন যে সমস্ত রকমের সাহায্য কেন্দ্র সরকার করবে, পবিত্র তীর্থস্থান জোশীমঠকে (Joshimath) রক্ষা করার জন্য। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সর্বদাই জোশীমঠের (Joshimath) বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। শহরের নটি ওয়ার্ড এই মুহূর্তে ডুবতে থাকা অঞ্চল বা বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন আবেদন জানিয়েছেন যে এইরকম উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের সবার উচিত টিম ওয়ার্ক করা। ৬৮ টি বাড়ি যেগুলি একেবারে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের ইতিমধ্যে সরিয়ে অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জোশীমঠে (Joshimath) আসার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের একটি দলেরও। এই মুহূর্তে জোশীমঠের (Joshimath) সমস্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় নির্মাণ কাজগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে জেলা প্রশাসন জানায় যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য যে ক্যাম্প তৈরি হয়েছে অস্থায়ী সেখানে সমস্ত রকমের প্রয়োজনীয় দ্রব্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ২০০৫ সালের বিপর্যয় মোকাবিলা আইন অনুসারে হোটেলগুলিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এটা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ২২৯টি ঘর এই মুহূর্তে দেওয়া হয়েছে মোট ১২৭১ জনের জন্য।
কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জোশীমঠ (Joshimath)
জোশীমঠের এই উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সেখানকার উদ্ধারকার্য চালানোর জন্য সেনাবাহিনী কাজ করছে। জোশীমঠ কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান কারণ ঠিক ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ভারত চীন সীমান্ত রয়েছে।
Leave a Reply