Karnataka High Court: স্ত্রী কোনও এটিএম মেশিন নয়! বিচ্ছেদের মামলায় পর্যবেক্ষণ কর্নাটক হাইকোর্টের

High-Court-of-Karnataka-on-hijab-row-controversyjpg

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনওরকম মানসিক সম্পর্ক ছাড়া স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া বা স্ত্রীকে এটিএম (ATM) হিসাবে ব্যবহার করা মানসিক হেনস্তার সমান। এক বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় এই পর্যবেক্ষণ করেছে কর্নাটক হাইকোর্ট (Karnataka High Court)। আদালতের মতে, মন থেকে ভালবাসা, আবেগ উবে গিয়েছে যে সম্পর্কে, দুগ্ধবতী গাভী এবং টাকার তোলার মেশিন হয়ে থাকা ছাড়া যে সম্পর্কে স্ত্রীর কোনও অস্তিত্ব নেই, সমাজের খাতিরে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কোনও মানে হয় না। তাতে ইতি টানার পক্ষে রায় দিল আদালত

দীর্ঘ তিন দশকের বিবাহে ইতি টানতে চেয়ে সম্প্রতি আদালতের দ্বারস্থ হন এক মহিলা। তিনি জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালে বিয়ে হয় তাঁর। ২০০১ সালে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে এক কন্যাসন্তানেরও আবির্ভাব হয় তাঁদের জীবনে।

মহিলার দাবি, পেশায় ব্যবসায়ী স্বামী ব্যবসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। দেনার দায়ে মাথা তুলতে পারছিলেন না। সেই অবস্থা থেকে স্বামীকে মুক্ত করতে ২০০৮ সাল থেকে টাকা দিয়ে সাহায্য করতেন তিনি। এই দেড় দশকে নয় নয় করে স্বামীকে ৬০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন তিনি।

মেয়ে এবং তাঁর নামে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে স্বামী ওই টাকা নিতেন বলে জানান আবেদনকারী ওই মহিলা। তিনি জানান, গত দেড় দশক ধরে শুধু তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়ে গিয়েছেন স্বামী। তার কানাকড়িও ফেরত দেননি। বরং দিনের পর দিন তাঁকে অবহেলা করে গিয়েছেন। তা নিয়ে অসম্ভব মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন তিনি। বাড়িতে অশান্তি লেগেই থাকে। তাই এই বিবাহ থেকে মুক্তি চান তিনি।

কিন্তু রাজ্যের পারিবারিক আদালতে ওই মহিলার বিবাহবিচ্ছেদের আরজি খারিজ হয়ে যায়। উল্টে আদালত জানায়, স্বামী তাঁর উপর নির্যাতন চালিয়েছেন, তার সপক্ষে কোনও প্রমাণই দিতে পারেননি আবেদনকারী ওই মহিলা।

আরও পড়ুন: গর্ভপাতের অনুমতি চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মহিলা

নিম্ন আদালতে বিচ্ছেদ পেতে ব্যর্থ হয়ে এর পর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। বিচারপতি অলোক আরাধে এবং জেএম কাজির ডিভিশন বেঞ্চে সেই আবেদন গৃহীত হয়। তাতে নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে দেয় আদালত। অনুমোদন দেওয়া হয় ওই মহিলার বিবাহবিচ্ছেদের আরজিতে। এই ধরনের ঘটনা, যেখানে সাংসারিক অশান্তি, মনোমালিন্যের বিষয় জড়িয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে নির্যাতন বলতে শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, মানসিক নির্যাতনের প্রশ্নও জড়িয়ে থাকে। তাই সবদিক ভাল করে খতিয়ে দেখা উচিত বলে জানায় আদালত।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share