Recruitment Scam: নতুন আরও ১০টি অ্যাকাউন্টের হদিশ! টিভি চ্যানেল খোলার পরিকল্পনা ছিল অয়নের

ayan-Sil

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রভাবশালী যোগের সূত্রেই একের পর এক পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রে (Recruitment Scam) জাল বিস্তার করেছিলেন বহিষ্কৃত যুব তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ প্রমোটার অয়ন শীল। তাঁর প্রভাব এতটাই ছিল যে অনেকে সবকিছু জেনেও চুপ করে থাকতে বাধ্য হতেন। সূত্রের খবর, কেউ আপত্তি তুললে, অনেক সময় এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ফোন ধরিয়ে দেওয়া হত সংশ্লিষ্ট পুরসভার শীর্ষকর্তাকে। এরই মধ্যে অয়নের নতুন আরও ১০টি অ্যাকাউন্টের হদিশ পেল ইডি। এই নিয়ে অয়নের ৪২টি অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলল। ইডি সূত্রে খবর, এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কাদের সঙ্গে লেনদেন হয়েছে, তার তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। ৪২টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে শান্তনুর সঙ্গে কী কী লেনদেন হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

টিভি চ্যানেল করার পরিকল্পনা

বছর দুয়েক আগে একটি সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেল করার পরিকল্পনাও করেছিলেন নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) মামলায় ধৃত অয়ন শীল। বেশ কয়েক জনের সঙ্গে বৈঠক করা থেকে কোথায় কত বিনিয়োগ করতে হবে, তার ছকও কষেছিলেন। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে অয়নের ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এই প্রোমোটারের টিভি চ্যানেল করার পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ২০২১ সালে একটি সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেল শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন অয়ন। তার জন্য কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। সেই অঙ্কটা প্রায় ১০০ কোটির কাছাকাছি।

আরও পড়ুন: দুই বছরের জেল রাহুল গান্ধীর! ‘মোদি’ পদবী নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত

অয়নের সল্টলেকের অফিস থেকে বেশ কয়েকটি নাম সংবলিত আইনি বিষয় সংক্রান্ত নথি উদ্ধার হয়েছে। সেই নথি থেকেই অয়নের পরিকল্পনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। নথিতে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে চ্যানেল শুরু করার প্রাথমিক কাজকর্ম করছিলেন অয়ন। টিভি চ্যানেল শুরু করতে কী কী করতে হবে, কোথা থেকে কী অনুমোদন নেওয়া আবশ্যক, সেই ব্যাপারেও তিনি পরামর্শ নিচ্ছিলেন। ইডি সূত্রেরই দাবি, দিল্লিতে এই বিষয়টি নিয়ে বৈঠকও করেছিলেন অয়ন। ইডি আধিকারিকদের একাংশের মত, ‘নিয়োগ দুর্নীতি’ থেকে উপার্জিত কালো টাকা সাদা করতেই চ্যানেলের পরিকল্পনা করে থাকতে পারেন অয়ন।

অয়নের অনুমোদনে চাকরি নিশ্চিত

পুরসভায় নিয়োগের (Recruitment Scam) ক্ষেত্রেও একচেটিয়া প্রভাব ছিল অয়নের। ২০১৭-তে উত্তর ২৪ পরগনার একের পর এক পুরসভায় নিয়োগের পরীক্ষার বরাত পায় অয়নের সংস্থা। জানা যাচ্ছে, ২০১৭-তে প্রথম পরীক্ষা হলেও নিয়োগ হয়েছিল ২০১৯ সালে। সেই নিয়োগের কয়েক মাসের মধ্যেই ফের ওই সমস্ত পুরসভায় পরীক্ষা নেওয়ার বরাত পেয়েছিলেন অয়ন। টেন্ডারের মাধ্যমে অয়নের সংস্থা নিয়োগ পরীক্ষার বরাত পেয়েছিল। একথা বলা হলেও, বেশির ভাগ পুরসভায় ‘ঠিকঠাক ভাবে নিয়ম মেনে’ কোনও টেন্ডার হয়নি বলেই ইডি সূত্রের খবর। অয়ন নিজের সংস্থার পাশাপাশি বেনামে আরও তিন-চারটি দরপত্র জমা করতেন। টাকার বিনিময়ে মিলত অয়নের সুপারিশ। আর অয়ন অনুমোদন করলেই চাকরি ছিল নিশ্চিত।

দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share