মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কিছুদিন আগেই পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়াকে (PFI) ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখল কর্নাটক হাইকোর্ট। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সম্প্রতি কর্নাটক হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন পিএফআই-এর কর্নাটক শাখার সভাপতি নাসির পাশা। বুধবার সেই আবেদন খারিজ করে দিল আদালত। বিচারপতি এম নাগাপ্রসন্নর বেঞ্চ জানিয়েছে, আবেদনকারীরা এমন কোনও তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে পারেননি, যাতে এই মামলাটি চলতে পারে।
বুধবার আদালতে মামলার শুনানি চলাকালীন পিএফআই-এর (PFI) আইনজীবী দাবি করেন, এই গোষ্ঠীর উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনও যুক্তি দিতে পারেনি কেন্দ্র। তাই এই নিষেধাজ্ঞা অন্যায্য। বিভিন্ন অপরাধের ঘটনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সংখ্যালঘুদের যে মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা সেই অধিকারকে লঙ্ঘন করে। কিন্তু এই কোনও যুক্তিকেই মান্যতা দেয়নি উচ্চ আদালত।
কী অভিযোগ এই সংগঠনের বিরুদ্ধে?
গত সেপ্টেম্বর মাসে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ-র আওতায় পিএফআই (PFI) গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। তার আগে দেশজুড়ে পিএফআই-এর বিভিন্ন কার্যালয় এবং নসদস্যের বাড়িতে হানা দিয়েছিল রাজ্য পুলিশ, অপরাধ দমন শাখা এবং জাতীয় তদন্ত সংস্থার বিভিন্ন দল। প্রায় ৩০০ জনেরও বেশি পিএফআই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল সেই সময়। তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, গোটা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু ,সন্ত্রাসবাদী কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল এই গোষ্ঠী। পিএফআই সদস্যদের বিরুদ্ধে ১৪০০টিরও বেশি ফৌজদারী মামলাও রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের খুনের অভিযোগ রয়েছে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: তাপ বাড়ছে শহরের, ডিসেম্বরের শুরুতেও অধরাই শীত
গোয়েন্দাদের আরও দাবি, বিভিন্ন নিষিদ্ধ গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেও যোগ ছিল পিএফআই (PFI) নেতাদের। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া বা সিমি, জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবি, এমনকী, ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গেও যোগ ছিল পিএফআই সদস্যদের। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশ-বিদেশ থেকে হাওয়ালা এবং অনুদানের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করত পিএফআই।
সেপ্টেম্বর মাসে নিষেধাজ্ঞা জারি করে একটি বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বলেছিল, “বাইরে থেকে তহবিল এবং নীতিগত সমর্থনের জোরে, দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সংগঠন (PFI)।” বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, পিএফআই-এর অন্তত ২০ জন সদস্য ইসলামিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দাবি করে, এই গোষ্ঠী সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশকে চরমপন্থী করার গোপন পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশের সংবিধানকেও অশ্রদ্ধা করে এই সংগঠন।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।
Leave a Reply