মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিবাহ বিচ্ছেদ (Divorce) নিয়ে এক বড় সিদ্ধান্ত নিল কেরল হাইকোর্ট (Kerala High Court)। ইসলাম ধর্মের আইন অনুযায়ী, একজন মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদের দাবি জানাতেই পারেন। আর এই ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের দাবি করার জন্য স্বামীর অনুমতির কোনও প্রয়োজন নেই। মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এমনই মন্তব্য করল কেরল হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য, একজন মুসলিম নারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত রায় দিয়েছিল, মুসলিম নারীদের বিচ্ছেদের দাবি জানানোর অধিকার রয়েছে। এরপর সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কেরল হাইকোর্টে (Kerala High Court) মামলা হয়েছিল। আবেদনকারীর দাবি ছিল, যদি কোনও মুসলিম মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদ করতে চান, তাহলে তাঁকে তাঁর স্বামীর থেকে ‘তালাক’ চাইতে হবে। এরপরেই বিচারপতি মহম্মদ মুস্তাক এবং বিচারপতি এস ডিয়াসের ডিভিশন বেঞ্চ বলে যে, মহিলাদের বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য স্বামীর অনুমতি নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন: অন্য দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা উচিত এসসিও বৈঠকে চিনকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের
আদালত আরও জানান, এই আবেদনের মাধ্যমে এটাই মনে হচ্ছে, মুসলিম মহিলারা তাঁর স্বামীর অধীনে রয়েছে। এই ধারণার পিছনে মুসলিম ধর্মগুরু ও ওই সম্প্রদায়ের পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব রয়েছে বলে মনে হয়। ফলে মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনও আইনের প্রকৃত ব্যাখ্যা জানার জন্য আদালত এমন কোনও ধর্ম প্রচারকের ওপর নির্ভর করতে পারে না, যার আইন সম্পর্কে জ্ঞান নেই।
গতকাল আদালত থেকে এও বলা হয়েছে যে, মুসলিম মহিলাদের বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন জানানোর ক্ষমতা দেয় পবিত্র কোরান। এটা কোনও ভাবেই স্বামীর ইচ্ছে বা অনুমতির ওপর নির্ভর করে না। এমনকি আদালত এদিন ‘খুলা’ পদ্ধতিকেই স্বীকৃতি দিয়েছে। ‘খুলা’ হল মুসলিম সমাজের এমন একটি প্রথা যেখানে স্বামী বা স্ত্রী নিজের ইচ্ছেতে বিবাহ বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারেন। ফলে সেই মহিলা খুলার মাধ্যমে তাঁর স্বামীকে ডিভোর্স দিলে স্বামী সেটি অমান্য করে ও দাবি করে, বিশ্বে কোথাও মুসলিম মহিলারা নিজেদের ইচ্ছেতে ‘খুলা’র মাধ্যমে বিবাহ বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারে না। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোরানেই বলা হয়েছে যে একজন মুসলিম মহিলা ‘খুলা’র মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন।
Leave a Reply