Kharagpur IIT: ‘‘আপনার ছেলে হলে…’’, ছাত্র-মৃত্যু মামলায় খড়্গপুর আইআইটির ডিরেক্টরকে তিরস্কার বিচারপতির

Calcutta_highcourt

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খড়্গপুর আইআইটি’র ছাত্রের রহস্যমৃত্যুতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ নিয়ে ডিরেক্টরের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। এক জন মেধাবী ছাত্রের মৃত্যুকে কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিতে চাইছেন না, শুক্রবার এমনই পর্যবেক্ষণ বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার। 

আদালতের নির্দেশ মতো আগামী ২৪ জানুয়ারি খড়্গপুর আইআইটির ডিরেক্টর ভি কে তিওয়ারির আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন তিনি টোকিও যাচ্ছেন তাই হাজিরা দিতে পারবেন না বলে জানান তিওয়ারি। বিষয়টি আদালতের নজরে নিয়ে আসা হয়। এর পরই বৃহস্পতিবার তিওয়ারির হাজিরার দিন নির্ধারিত করা হয়। শুক্রবার হাই কোর্টে হাজিরা দেন ডিরেক্টর। এদিন বিচারপতি মান্থা তাঁকে ভর্ৎসনা করে বলেন,‘‘আদালতের নির্দেশের পরও তাঁরা (আইআইটি কর্তৃপক্ষ) উদাসীন। এটা উচিত নয়। কোনটা বেশি জরুরি? আদালতের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নাকি টোকিও যাওয়া? আপনার বাড়িতে ছেলে মেয়ে নেই ? তাদের সঙ্গে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে কেমন লাগবে ?’’

আদালতে সওয়াল-জবাব

বিচারপতি মান্থা আরও বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বহু মেধাবী ছাত্ররা আইআইটি-তে পড়তে আসে, তাঁরা সুযোগ পেলে দেশ এবং দুনিয়ার উপকারে লাগবে। তাঁরা এভাবে বাধাপ্রাপ্ত হলে বিরাট ক্ষতি হবে।  র‍্যাগিং একটা জঘন্যতম ঘটনা। এটা না আটকানো গেলে ভবিষ্যতে অনেক বড় সমস্যা হবে।” আইআইটি-র ডিরেক্টরের আইনজীবী অনিন্দ্য মিত্র জানান, ওই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান করছে। এর জন্য অনুসন্ধান কমিটি গড়া (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি) হয়েছে। এর পর ডিসিপ্লিনারি কমিটি রিপোর্ট দেয়। তার ভিত্তিতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়া হয়েছে। এ কথা শোনার পর ডিরেক্টর তিওয়ারিকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি আরও বলেন,  “এখানে মামলাকারিরা গুয়াহাটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকেন, সেখান থেকে আসার অর্থ পর্যন্ত নেই। আর আপনি বিষয়টাকে  হালকা ভাবে নিচ্ছেন। আদালতের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না?”

আরও পড়ুন: সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের পর এবারে তৃণমূলের যুবনেতা কুন্তলের জোড়া ফ্ল্যাটে ইডির হানা!

গত ১৪ অক্টোবর খড়্গপুর আইআইটির হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় অসমের বাসিন্দা ফয়জান আহমেদের ঝুলন্ত দেহ। বিটেক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন তিনি। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, আত্মহত্যা নয়, তাঁকে খুন করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন ওই ছাত্র। শুক্রবার ডিরেক্টর যে রিপোর্ট জমা দেন তার ভিত্তিতে নিজেদের বক্তব্য জানাতে মৃত ছাত্রের পরিবারকে সুযোগ দেয় আদালত। এই মামলায় পুলিশকে বিচারপতি মান্থার নির্দেশ, ‘‘আপনাদের রিপোর্ট দিতে কত দেরি হবে? ১৫-২০ দিন সময় দেওয়া যাবে না, অনেক দেরি হয়ে যাবে। দয়া করে কোনও পক্ষ নেবেন না। আগামী দিনে কেস ডায়েরি নিয়ে আসবেন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি।’’

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share