Supreme Court: মা স্বাভাবিক অভিভাবক, তিনিই ঠিক করবেন সন্তানের পদবি, জানাল সুপ্রিম কোর্ট

supreme

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মা-ই সন্তানের একমাত্র স্বাভাবিক অভিভাবক (Natural Guardian)। তাই সন্তানের পদবি (Surname) কী হবে তা ঠিক করার অধিকার মায়ের আছে। এমনই যুগান্তকারী রায় দিল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। 

বৃহস্পতিবার বিচারপতি দীনেশ মহেশ্বরী এবং বিচারপতি কৃষ্ণ মুরারির বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। এই রায়ে উঠে আসে কোনও মহিলার দ্বিতীয় বিবাহের প্রসঙ্গ। বেঞ্চ রায় দেওয়ার সময় জানায়, “একজন মহিলা দ্বিতীয় বিবাহের পরে যদি তাঁর প্রথম বিবাহের সন্তানকে দ্বিতীয় স্বামীর পদবি দিতে চান, তাহলে তা তিনি করতেই পারেন। পদবি শুধু মাত্র কোন বংশের ইঙ্গিত নয়, এর আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি শিশুদের অনুভূতির সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে।”

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টে বরাদ্দ চেম্বার ছাড়লেন জগদীপ ধনখড়, কেন জানেন? 

শীর্ষ আদালত এও জানায়, “দ্বিতীয় স্বামীর নাম সন্তানের সৎ পিতা হিসেবে উল্লেখ করার উচ্চ আদালতের রায় নিষ্ঠুর। এতে শিশু মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ে।” 

উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৪ সালের অন্ধপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়। যেখানে বাবার পদবি যেন শিশু ব্যবহার করেন তা নিশ্চিত করতে মামলা করেছিল এক মহিলার প্রথম স্বামীর পরিবার। ওই মহিলার প্রথম স্বামী ২০০৬ সালে মারা যান। তখন তাঁর সন্তানের বয়স ছিল মাত্র আড়াই বছর। তিনি পুনরায় বিয়ে করেন ২০০৭ সালে। কিন্তু ওই শিশুটির জৈবিক পিতার পরিবারের তরফ থেকে আদালতে আবেদন করা হয় যেন শিশুটি তার জৈবিক পিতার পদবি ব্যবহার করে। আদালত রায় দেয়, “ওই শিশুটির পিতার নামের জায়গায় তার জৈবিক পিতার নাম লিখতে হবে।  আর তা না করলে ওই মহিলার দ্বিতীয় স্বামীর নাম সৎ পিতা হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।”  

আরও পড়ুন: সুপ্রিম জয় ইডি-র! পিএমএলএ আইনে সংস্থার অধিকাংশ ক্ষমতা বহাল রাখল শীর্ষ আদালত   

তখন শিশুটির মা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেন। ২০১৯ সালের শিশুটির সৎ বাবা শিশুটিকে দত্তক নেন। এবার এই বিষয়ে রায় দিল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট  জানায়, “একজন সৎ বাবা হিসেবে ওই মহিলার স্বামীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার হাইকোর্টের এই রায় নিষ্ঠুর। এটি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। যেহেতু মা সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক। তাই এক্ষেত্রে তিনিই ঠিক করবেন তাঁর সন্তান কোন পদবি নেবেন।”   

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share