মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাসার (NASA) দুই মহাকাশযান ভয়েজার ১ (Voyager 1) ও ভয়েজার ২ (Voyager 2) পাঁচ দশক কাটিয়ে দিল মহাকাশে। কিছুদিন আগেই ভয়েজার ২ মহাকাশে ৪৫ বছর পূর্ণ করেছে, এরপর ভয়েজার ১, ৫ সেপ্টেম্বর ৪৫ বছর পূর্ণ করল। ১৯৭৭ সালে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল এই দুটি মহাকাশযান।
এই দুটি মহাকাশযানের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্ব অপরিসীম। মানবসভ্যতার পাঠানো প্রথম দুই মহাকাশযান ভয়েজার-১ এবং ভয়েজার-২, রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর (RTGs) দ্বারা চালিত, যা প্লুটোনিয়ামের প্রাকৃতিক ক্ষয় দ্বারা উৎপাদিত তাপ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। এই দুটি যানই মহাকাশে ঘণ্টায় ৩০ হাজার মাইলেরও বেশি গতিবেগে এগিয়ে চলছে।
আরও পড়ুন: ৮৬০ কোটি টাকায় ইসরোর পাঁচটি পিএসএলভি নির্মাণের বরাত পেল হ্যাল-এল অ্যান্ড টি
ভয়েজার-১ যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৭৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। আর তার ‘যমজ’ ভয়েজার-২ যাত্রা শুরু করেছিল তার ১৬ দিন আগে, ১৯৭৭-এর ২০ অগাস্ট। ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে টাইটান IIIE-সেন্টার রকেটে ( Titan IIIE-Centaur rocket) চাপিয়ে এই দুটি মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ভয়েজার ২ পৃথিবী থেকে ২৩.৩ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে ও ভয়েজার ২ প্রায় ১৯.৫ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে রয়েছে। উভয়েরই ওজন প্রায় ৮০০ কেজি এবং এতে ১১টি যন্ত্র রয়েছে যার সাহায্যে মহাকাশের বিভিন্ন জিনিসের ছবি তোলা এবং বিশ্লেষণ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
তবে এক দশক আগে, ২০১২ সালের ১ অগাস্ট ভয়েজার ১ সূর্যের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে ও প্রবেশ করেছে ‘ইন্টারস্টেলার স্পেস’-এ অর্থাৎ আন্তর্নক্ষত্রমণ্ডলের এলাকায়। দু’টি নক্ষত্রের মাঝের অঞ্চলকেই ‘ইন্টারস্টেলার স্পেস’ (Intersteller Space) বলা হয়। এর আগে আর কোনও মহাকাশযানই সূর্যের হেলিওস্ফিয়ার ছেড়ে ইন্টারস্টেলার স্পেসে যেতে পারেনি।
2012: Voyager 1 enters interstellar space ✨
Though other NASA missions can observe interstellar space (the space between the stars) from afar, we are the first *and only* spacecraft flying through interstellar space with science instruments. 🤓 pic.twitter.com/xBOiXMtgVV
— NASA Voyager (@NASAVoyager) August 25, 2022
এছাড়াও এটি বৃহস্পতির চারপাশে একটি পাতলা বলয় আবিষ্কার করেছে এবং এর দুটি নতুন জোভিয়ান চাঁদ- থিবে এবং মেটিস- এবং শনির চারপাশে পাঁচটি নতুন চাঁদ আবিষ্কার করেছে। ভয়েজার ১-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনির চাঁদ টাইটানের বায়ুমণ্ডলীয় তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, পৃথিবী ছাড়াও অন্য পৃথিবীতে তরল থাকতে পারে এবং নাইট্রোজেন, মিথেন এবং আরও জটিল হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতিতে প্রিবায়োটিক রাসায়নিক বিক্রিয়ার সম্ভাবনার তথ্যও পাওয়া গিয়েছে ভয়েজারের মাধ্যমে।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।
Leave a Reply