Blog

  • NGT: আইনি বাধার পাহাড় পার হল নয়াদিল্লির উচ্চাকাঙ্ক্ষী কৌশলগত নিকোবর দ্বীপ উন্নয়ন প্রকল্প

    NGT: আইনি বাধার পাহাড় পার হল নয়াদিল্লির উচ্চাকাঙ্ক্ষী কৌশলগত নিকোবর দ্বীপ উন্নয়ন প্রকল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড়সড় আইনি বাধার পাহাড় পার হল নয়াদিল্লির সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী কৌশলগত দ্বীপ উন্নয়ন প্রকল্প। এটি রয়েছে (NGT) ভারতের সর্বদক্ষিণ প্রান্ত ইন্দিরা পয়েন্ট থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে (Andaman Island China Trade)। এটি রয়েছে বিশ্বের ব্যস্ততম সমুদ্রপথগুলির নাগালের মধ্যেই। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) ৮১ হাজার কোটি টাকার গ্রেট নিকোবর মেগা পরিকাঠামো প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্রে হস্তক্ষেপ করতে রাজি নয় জানিয়ে প্রকল্পের পথ পরিষ্কার করে দিয়েছে।

    ‘হংকং’ গড়ার স্বপ্ন (NGT)

    প্রসঙ্গত, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধীরা একসময় এই প্রকল্পকে ‘অপরিণত এবং ভুল পরিকল্পিত’ বলে অভিহিত করেছিল। তবে এনজিটির এই রায় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ভারতের ‘হংকং’ গড়ার স্বপ্ন—গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লক্ষ্য হল, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ প্রান্তে একটি ট্রান্সশিপমেন্ট ও লজিস্টিকস হাব গড়ে তোলা, যা চিনের জন্য হংকং যে ভূমিকা পালন করেছে, ভারতের জন্যও তেমন ভূমিকা পালন করবে। কেন্দ্র ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাণিজ্য প্রবাহকে শক্তিশালী করবে, বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং মালাক্কা প্রণালীর নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে ভারতের সামুদ্রিক শক্তির উপস্থিতি জোরদার করবে (Andaman Island China Trade)।

    উদ্বেগের অবসান

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কংগ্রেস সাংসদ সোনিয়া গান্ধী পরিবেশ ও আদিবাসী অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রকল্প পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। একাধিক আবেদনে উপকূলীয় নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয় এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ছয় সদস্যের এনজিটি বিশেষ বেঞ্চ রায়ে জানায়, “ছাড়পত্রে হস্তক্ষেপের মতো উপযুক্ত কারণ তারা পায়নি।” বেঞ্চ প্রকল্পের কৌশলগত গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়ে বলেছে যে যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে একগুচ্ছ আইনি চ্যালেঞ্জের নিষ্পত্তি হয়েছে। এনজিটির চেয়ারপার্সন বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ জানায়, ২০২২ সালে প্রদত্ত পরিবেশগত ছাড়পত্রে হস্তক্ষেপের যথার্থ ভিত্তি নেই। ছাড়পত্রের শর্তাবলীতে যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করে। বেঞ্চ এই বিষয়টিকে ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখেছে। তাদের মতে, প্রকল্পের কৌশলগত গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না, আবার আইল্যান্ড কোস্টাল রেগুলেশন জোন (আইসিআরজেড) বিধিও উপেক্ষা করা যায় না (NGT)।

    এইচপিসির রিপোর্ট

    এনজিটি একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির (এইচপিসি) প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন পরিবেশ সচিব লীনা নন্দন। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এনজিটির নির্দেশে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল পরিবেশগত ছাড়পত্রের কিছু বিষয় পুনর্বিবেচনার জন্য। প্রকল্পের কোনও অংশ নিষিদ্ধ আইসিআরজেড অঞ্চলে পড়ে কি না, সে বিষয়ে এনজিটি জানিয়ে দিয়েছে, প্রকল্পের কোনও অংশই নিষিদ্ধ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে না (Andaman Island China Trade)। আইসিআরজেড হল কেন্দ্রের জারি করা পরিবেশগত বিধিমালা, যা বিশেষ করে আন্দামান-নিকোবর ও লক্ষদ্বীপ দ্বীপপুঞ্জের উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রণীত। পরিবেশ সুরক্ষা আইনের অধীনে জারি হওয়া এই বিধিতে উপকূলীয় এলাকাকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে, যেমন আইসিআরজেড-১, যা পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

    এনজিটির বিশেষ বেঞ্চ

    এনজিটির বিশেষ বেঞ্চ জানায়, পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্তাবলী আবেদনে উত্থাপিত উদ্বেগের যথাযথভাবে সমাধান করেছে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, সরকারকে আরোপিত শর্ত কঠোরভাবে মানতে হবে (NGT)। ১৬৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত গ্রেট নিকোবর প্রকল্প সাম্প্রতিক বছরগুলির অন্যতম বৃহৎ গ্রিনফিল্ড পরিকাঠামো পরিকল্পনা। এতে ১৩০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি অন্য খাতে রূপান্তর এবং প্রায় ১০ লাখ গাছ কাটার প্রস্তাব রয়েছে (Andaman Island China Trade)। প্রকল্পের মূল উপাদানগুলি হল, একটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর, সমন্বিত টাউনশিপ, বেসামরিক ও সামরিক বিমানবন্দর এবং ৪৫০ এমভিএ গ্যাস ও সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

    ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু

    ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। লক্ষ্য হল, মালাক্কা প্রণালীর নিকটবর্তী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে গ্রেট নিকোবরকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিষ্ঠিত বন্দরগুলির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলা। এই কৌশলগত সমুদ্রপথ দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক বাণিজ্য হয়। চিনের অধিকাংশ জ্বালানি আমদানিও এই পথেই পরিবাহিত হয় (NGT)। বর্তমানে ভারত ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য ব্যাপকভাবে বিদেশি বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। প্রস্তাবিত এই হাব পূর্ব-পশ্চিম সমুদ্রপথে চলাচলকারী পণ্যের বড় অংশ আকর্ষণ করতে চায়। টাউনশিপ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মী ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সমর্থন করবে। বিমানবন্দরটি বেসামরিক ও কৌশলগত উভয় উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত। বিদ্যুৎকেন্দ্র শক্তি স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করবে (Andaman Island China Trade)।

    গ্রেট নিকোবরের উচ্চাকাঙ্ক্ষা

    ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব নৌসীমান্তে গ্রেট নিকোবরের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও পরিসরই এই প্রকল্পের পরিচয় নির্ধারণ করে। এনজিটি স্পষ্টভাবে এর কৌশলগত গুরুত্ব স্বীকার করেছে, যা তাৎপর্যপূর্ণ (NGT)। গ্রেট নিকোবর পূর্ব ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক চোকপয়েন্টগুলির কাছে অবস্থিত। এখান থেকে নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি ও দ্রুত বাহিনী মোতায়েনের ক্ষমতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক উপস্থিতি জোরদার করবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বন্দর ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য বিমানবন্দর নৌ ও বিমান অভিযানে লজিস্টিক সহায়তা বাড়াবে।চিনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি এই প্রকল্পকে শক্তি-বর্ধক  হিসেবে দেখছে। ফলে এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, একটি কৌশলগত আপগ্রেডও (Andaman Island China Trade)। ২০২১ সালে নীতি আয়োগ কমিশন করা সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই প্রকল্পটি বিতর্কে জড়ায়। পরিবেশবাদী আশিস কোঠারি আইসিআরজেড ২০১৯ লঙ্ঘনের অভিযোগে এনজিটিতে আবেদন করেন। দাবি করা হয়েছিল, প্রস্তাবিত এলাকার প্রায় ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত উপকূলীয় অঞ্চলে পড়ে। বিশেষ বেঞ্চ এই দাবি খারিজ করে দেয়।

    প্রবালপ্রাচীর

    প্রবালপ্রাচীর সম্পর্কিত উদ্বেগের কথাও বিবেচনা করা হয়। জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার পূর্ববর্তী উপস্থাপনার ভিত্তিতে এনজিটি জানায়, প্রকল্প এলাকার ভেতরে কোনও প্রবালপ্রাচীর নেই। ছড়িয়ে থাকা প্রবাল বৈজ্ঞানিকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্থানান্তরিত করা হবে। পরিবেশমন্ত্রককে প্রবাল পুনরুজ্জীবন নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (NGT)। উপকূলবর্তী এলাকায় উন্নয়নের কারণে যেন ক্ষয় বা তটরেখা পরিবর্তন না হয়, সেই বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। কচ্ছপ ও পাখির গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল বালুকাময় সৈকত সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে (Andaman Island China Trade)। লেদারব্যাক সামুদ্রিক কচ্ছপ, নিকোবর মেগাপোড, লবণাক্ত জলের কুমির, রবার ক্র্যাব এবং নিকোবর বানরের মতো প্রজাতি সংরক্ষণের শর্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এনজিটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পরিবেশগত শর্ত মানা বাধ্যতামূলক।

    এই রায়ে গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের ওপর থাকা বড় আইনি অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক ও পরিবেশগত বিতর্ক শেষ হয়নি, তবে কেন্দ্রীয় সরকার এখন স্থগিত পরিকাঠামো উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে (NGT)। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ভারতের সামুদ্রিক ভূগোল বদলে দিতে পারে। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য বিমান চলাচল কেন্দ্র গড়ে উঠবে। এনজিটির এই ছাড়পত্র ভারতের কৌশলগত সামুদ্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার ইঙ্গিত (Andaman Island China Trade)।

     

  • India AI Impact Summit: চিনা রোবট-কুকুরকে নিজস্ব উদ্ভাবন দাবি করায় এআই সম্মেলন থেকে বরখাস্ত গালগোটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

    India AI Impact Summit: চিনা রোবট-কুকুরকে নিজস্ব উদ্ভাবন দাবি করায় এআই সম্মেলন থেকে বরখাস্ত গালগোটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনে তৈরি রোবট-কুকুর নিয়ে বিতর্কের জেরে গালগোটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে (Galgotia University) ইন্ডিয়া এআই সামিট থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানে আয়োজিত ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট (India AI Impact Summit) থেকে গালগোটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের স্টল সরিয়ে নিতে এবং জায়গা খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিনে তৈরি একটি রোবট-কুকুরকে নিজেদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি হিসেবে প্রদর্শনের দায়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বিতর্কের কেন্দ্রে ‘ওরিয়ন’ (India AI Impact Summit)

    পুরো ঘটনাটি ঠিক কী? জানা গিয়েছে, ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে (India AI Impact Summit) গালগোটিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের স্টলে (Galgotia University) সরাসরি চিনে তৈরি করা একটি রোবট-কুকুরকে নিজেদের উদ্ভাবন ও উৎপাদন দাবি করে প্রচার করে বেরিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় দাবি করে, ওই  রোবট-কুকুরটির নাম ‘ওরিয়ন’। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা দাবি করেছিলেন যে, এটি তাদের নিজস্ব ৩৫০ কোটি টাকার এআই প্রজেক্টের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এমনকি বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা যায় যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে এই রোবটটির ভিডিও শেয়ার করে প্রশংসা করেছিলেন।

    একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে এটা করল?

    কিন্তু পরে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টি যাকে নিজেদের উদ্ভাবন হিসেবে তুলে ধরছে সেটি আসলে চিনা কোম্পানি ‘ইউনিট্রি’ (Unitree) তৈরি করেছে। যার দাম আনুমানিক ২-৩ লক্ষ টাকা। সামাজিক মাধ্যমের অনেকই তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে নেট নাগরিকরা বলেন, রোবটটি আসলে ইউনিট্রি গো-২ (Unitree Go2) মডেলের একটি চিনা পণ্য, যা অনলাইনে সহজেই কেনা যায়। এমনকি রোবটটির শরীরের এক জায়গায় চিনা কোম্পানির লোগোও স্পষ্টই দেখা যাচ্ছিল। খবর জানাজানি হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে, কীভাবে অন্য দেশের প্রস্তুত সামগ্রীকে নিজেদের বলে প্রচার করল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান? একটি চিনা সংস্থার তৈরি পণ্যকে নিজেদের বলে দাবি করে ফলাও প্রচার চালানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। নেটাগরিকদের একাংশ কেন্দ্রীয় সরকারকেও একহাত নেয়। তাদের প্রশ্ন, কী করে এধরনের জিনিস সম্মেলনে প্রবেশ করল? কেন কেউ খতিয়ে দেখল না? এর পরই, পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। এইভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এআই সামিটে অংশগ্রহণ করায় কড়া অবস্থান নিয়েছে আয়োজক সংস্থা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা

    সরকারের কড়া পদক্ষেপ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এআই সামিটের (India AI Impact Summit) আয়োজকরা। কারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে চিনা পণ্যকে ‘ভারতীয় উদ্ভাবন’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। এর ফলে মেক ইন ইন্ডিয়া (Make in India) এবং ভারতের এআই মিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ফলে এই বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয় (Galgotia University) কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে সামিট প্রাঙ্গণ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশের পর তাদের স্টলটি ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    চিনের একটি সংস্থার দাবি

    বিশ্ববিদ্যালয়ের (Galgotia University) বক্তব্যের বিরুদ্ধে একটি এক্স হ্যান্ডল কমিউনিটি ব্যাপক ভাবে আপত্তি জানিয়েছে। এতে দাবি করা হয়, রোবটটিকে নিজস্ব হিসেবে উপস্থাপন করেনি বলে যে দাবি করছে তা কার্যত মিথ্যা। কমিউনিটি নোটে বলা হয়েছে, এআই সামিটের (India AI Impact Summit) উপস্থাপনার সময় রোবটটিকে স্পষ্টভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক তৈরি করেছে বলে বর্ণনা করেছিল। এমনকি চিন-সংযুক্ত একটি এক্স অ্যাকাউন্টও বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিটি পোস্ট করেছে। দিল্লিতে এআই সামিটে এই বিতর্কিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিনা রোবট ইউনিট্রি গো২-কে তাদের নিজস্ব উদ্ভাবন হিসেবে সাফ জানিয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য

    গালগোটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (Galgotia University) তরফে বলা হয়, আমরা কখনই বলেনি যে রোবটটি আমাদের তৈরি। এটিকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য এবং এআই সিস্টেম পরীক্ষার জন্য কেনা হয়েছিল। সেই সঙ্গে আরও বলা হয়, রোবটটির সফটওয়্যার মডিউল নিয়ে তারা কাজ করছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে (India AI Impact Summit) দেখা যাচ্ছে কীভাবে তাঁকে ঘিরে একতা উত্তেজনা এবং আকর্ষণের ভরকেন্দ্র হয়েছে। রোবোডগটি আসলে একটি চীন-নির্মিত ইউনিট্রি গো২ এবং অভ্যন্তরীণ উদ্ভাবন নয়। প্রকৃতপক্ষে, ইউনিট্রি গো২ একটি বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ, ব্যাপকভাবে উৎপাদিত রোবোডগ যা প্রায় ২-৩ লক্ষ টাকা দিয়ে সহজেই কেনা যায়।

    কংগ্রেসের তোপ

    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বিরোধীরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারকে কটাক্ষ করেছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপি সরকার যাচাই না করেই চিনা পণ্যকে ভারতের সাফল্য হিসেবে প্রচার করছে। এই ‘রোবোডগ ফিয়াস্কো’ বা রোবট-কুকুর কেলেঙ্কারি (India AI Impact Summit) বর্তমানে ভারতের প্রযুক্তি মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সরকারকে আরও দায়বদ্ধতার দিকে নজর দিতে হবে।

  • Bangladesh: বাংলাদেশে বিএনপির মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দুই সংখ্যালঘুর, জানেন তাঁরা কারা?

    Bangladesh: বাংলাদেশে বিএনপির মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দুই সংখ্যালঘুর, জানেন তাঁরা কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) বিএনপির মন্ত্রিসভায় (BNP Led Cabinet) ঠাঁই হল দুই সংখ্যালঘুরও। বিএনপির নবনির্বাচিত সাংসদরা ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে বিএনপি নেতা তথা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠনের পথ সুগম হয়েছে। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে যাঁরা শপথ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হিন্দু নেতা নিতাই রায়চৌধুরী এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দীপেন দেওয়ান। নতুন মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের সাউথ প্লাজায় শপথ নেন।

    নয়া মন্ত্রিসভা (Bangladesh)

    সংবাদ মধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ জন নেতা পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। মুসলিম-প্রধান দেশে হিন্দু ও বৌদ্ধ পরিচয়ের কারণে চৌধুরী ও দেওয়ানকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর সংখ্যালঘুরা, বিশেষ করে হিন্দুরা, বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এরপর থেকে বাংলাদেশে হাজার হাজার হিন্দুর বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। সাধারণ নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকজন হিন্দুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, এবং সেই সব ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় ফলাও করে। যদিও বিএনপি মন্ত্রিসভায় একজন হিন্দু ও একজন বৌদ্ধ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তবুও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন কমাতে এর প্রভাব পড়বে কি না—তা সময়ই বলবে (BNP Led Cabinet)।

    পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকা

    এবার দেখে নেওয়া যাক পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকাটি (Bangladesh)। মন্ত্রিসভায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরি, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, খালিলুর রহমান, আবদুল আওয়াল মিন্টু, কাজি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কাইকোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরি, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, আফরোজা খানম রিতা, শহিদউদ্দিন চৌধুরি অ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মহম্মদ আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, এএনএম এহসানুল হক মিলন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এবং শেখ রাবিউল আলম।

    প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় ঠাঁই হয়েছে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মহম্মদ শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক, মির মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মহম্মদ রাজীব আহসান, মহম্মদ আবদুল বারি, মির শাহে আলম, জুনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক, ইয়াসের খান চৌধুরি, একে ইকবাল (BNP Led Cabinet) হোসেন, এমএ মুহিত, আহমেদ সোহেল মনজুর, ববি হাজ্জাজ এবং আলি নেওয়াজ মাহমুদ খাইয়াম (Bangladesh)।

  • Indian Army Used AI: প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সক্রিয় চিন! আগাম জানতে অরুণাচলে এআই-এর সাহায্য নিচ্ছে ভারতীয় সেনা

    Indian Army Used AI: প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সক্রিয় চিন! আগাম জানতে অরুণাচলে এআই-এর সাহায্য নিচ্ছে ভারতীয় সেনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর চিন কি সক্রিয় হচ্ছে? অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে লাল ফৌজ? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Indian Army Used AI) সাহায্যে তা আগাম জেনে সতর্ক হচ্ছে ভারতীয় সেনা। শুধু তা-ই নয়, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চিন সেনার অতি সক্রিয়তাকেও কৃত্রিম বুদ্ধমত্তার সাহায্যে রুখে দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এর মঞ্চে এমনই দাবি করলেন স্ট্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড-এর কমান্ডার-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল দীনেশ সিং রানা। জানালেন, আধুনিক যুদ্ধ, কৌশলগত নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এআই এখন বড় পরিবর্তন আনছে।

    অরুণাচলে এআই–এর সফল প্রয়োগ

    বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সামরিক এবং প্রতিরক্ষা দুনিয়ার ধরনও বদলে দিতে পারে আগামী দিনে। এমনটাই মনে করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এআই যে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, অরুণাচলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় কীভাবে এআই-কে কাজে লাগাচ্ছে ভারতীয় সেনা তা জানালেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল। তিনি জানিয়েছেন, খুব কম খরচে এবং স্থানীয় ভাবে তৈরি এআই ব্যবস্থাকে অরুণাচলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় কাজে লাগানো হয়েছিল। সেই ব্যবস্থাই ভারতীয় সেনাকে সতর্ক করে দেয় যে, চিনা ফৌজ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় অতি সক্রিয়। নতুন সামরিক ঘাঁটি বানানোর কাজ শুরু করেছে তারা। লেফটেন্যান্ট জেনারেলের দাবি, চিনা ফৌজের এই অতিসক্রিয়তা সম্পর্কে আগাম জানতে পারায় ভারতীয় সেনার পক্ষেও পদক্ষেপ করতে অনেক সুবিধা হচ্ছে। যার জেরে আগাম রণকৌশল ঠিক করা, সেনা হতাহতের বিষয়টিও এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল দীনেশ সিং বলেন, “আমরা এআই সিস্টেমের মাধ্যমে বুঝতে পারি যে কিছু একটা বড় প্রস্তুতি চলছে। শেষ পর্যন্ত আমরা তাদের পদক্ষেপের সময়ও অনুমান করতে পেরেছিলাম।”

    চলমান “এআই রেস”

    রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল। সেখানে কী ভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার হয়েছে, সে কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আগামী দিনে এআই যে একটা বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল। লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানা বলেন, এআই আর ভবিষ্যতের ধারণা নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে এটি এখন কেন্দ্রীয় উপাদান। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের বাড়তি বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি একে চলমান “এআই রেস” বলে অভিহিত করেন।

    কৃত্রিম সুপারইন্টেলিজেন্সের ঝুঁকি

    নির্দিষ্ট বা সীমিত এআই থেকে কৃত্রিম সুপারইন্টেলিজেন্স (ASI)–এ উত্তরণের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবার্তাও দেন তিনি। তাঁর মতে, উন্নত এআই প্রযুক্তি যেমন সুযোগ সৃষ্টি করবে, তেমনি অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়াবে। তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের মতো এআই–ও কৌশলগত প্রতিরোধের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তবে ডিজিটাল প্রকৃতির কারণে এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা পারমাণবিক প্রযুক্তির তুলনায় অনেক কঠিন হবে। তিনি ভারতের জন্য একটি সমন্বিত এআই নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান। এৎ ফলে অর্থনীতি, সাইবার, মহাকাশ ও সামরিক খাতে এআই সমন্বিত তথ্যের ব্যবহার সুবিধাজনক হবে।

  • Airbus H125 Helicopter: এভারেস্টে উড়তে সক্ষম হেলিকপ্টার তৈরি হবে ভারতেই! ‘এয়ারবাস এইচ১২৫’ কতটা কার্যকর? কী এর বৈশিষ্ট্য?

    Airbus H125 Helicopter: এভারেস্টে উড়তে সক্ষম হেলিকপ্টার তৈরি হবে ভারতেই! ‘এয়ারবাস এইচ১২৫’ কতটা কার্যকর? কী এর বৈশিষ্ট্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ফ্রান্স যৌথভাবে বিশ্বের প্রথম এমন হেলিকপ্টার তৈরি করবে, যা মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হবে। মঙ্গলবার ‘বন্ধু’ ইমানুয়েল মাক্রঁকে পাশে নিয়ে এই কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই উদ্যোগকে তিনি ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ কর্নাটকের কোলার জেলার ভেমাগালে ‘এয়ারবাস এইচ১২৫’ হেলিকপ্টারের অ্যাসেম্বলি লাইনের উদ্বোধন করেন। মোদি ও মাক্রঁ মুম্বই থেকে ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরুতে সেই সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ভারতে এই হেলিকপ্টার অ্যাসেম্বলি শুরুর মাধ্যমে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি হল। আমরা গর্বিত যে ভারত ও ফ্রান্স এমন একটি হেলিকপ্টার তৈরি করবে, যা মাউন্ট এভারেস্ট পর্যন্ত উড়তে পারবে। এটি বিশ্বজুড়েও রফতানি করা হবে। অর্থাৎ, ভারত–ফ্রান্স অংশীদারিত্বের কোনও সীমা নেই—এটি গভীর সমুদ্র থেকে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।”

    তৈরি হবে সামরিক সংস্করণও

    সূত্রের খবর, ভারতে তৈরি প্রথম এয়ারবাস এইচ১২৫ হেলিকপ্টার সরবরাহ করা হবে ২০২৭ সালের শুরুতে। অসামরিক সংস্করণের পাশাপাশি ভেমাগালের কারখানায় এই হেলিকপ্টারের সামরিক সংস্করণও উৎপাদিত হবে, যার নাম হবে ‘এইচ১২৫এম’ (এম ফর মিলিটারি)। এই উৎপাদন কেন্দ্রটি ইউরোপীয় বিমান নির্মাণ সংস্থা এয়ারবাসের সহযোগিতায় টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (TASL) নির্মাণ করেছে। এই প্রথমবার কোনও বেসরকারি ভারতীয় সংস্থা দেশের মাটিতে সম্পূর্ণভাবে হেলিকপ্টার সংযোজন ও পরীক্ষার কাজ করবে।

    এয়ারবাস এইচ১২৫ হেলিকপ্টার কী?

    • ● এয়ারবাসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এইচ১২৫ বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত সিঙ্গল-ইঞ্জিন হেলিকপ্টার।
    • ● এয়ারবাস এইচ১২৫ একমাত্র হেলিকপ্টার, যা ইতিহাসে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় অবতরণ করেছে। এর ফলে এটি বিদ্যমান লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টারগুলির তুলনায় অনেক বেশি উচ্চতায় কার্যক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
    • ● ভারতীয় সেনাবাহিনী যেসব অত্যন্ত-উচ্চ ও উচ্চ-তাপমাত্রার অঞ্চলে কাজ করে, সেখানে এই ক্ষমতা একটি বড় কৌশলগত সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
    • ● এয়ারবাস এইচ১২৫ প্রথম উড়ান দেয় ১৯৭৪ সালে এবং ১৯৭৫ সালে পরিষেবায় যোগ দেয় একটি বহুমুখী লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার হিসেবে। এর সামরিক সংস্করণ এয়ারবাস এইচ১২৫এম চালু হয় ১৯৯০ সালে, যা সশস্ত্র নজরদারি, হালকা আক্রমণ ও পাইলট প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
    • ● বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৫টিরও বেশি দেশের ৪৪টি সশস্ত্র বাহিনীর কাছে এয়ারবাস এইচ১২৫ ও এয়ারবাস এইচ১২৫এম-এর ৪০০টির বেশি সামরিক সংস্করণ পরিষেবায় রয়েছে। প্রধান ব্যবহারকারী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, ব্রাজিল (বায়ুসেনা ও নৌসেনা), মেক্সিকো, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও তাইল্যান্ড।

    এয়ারবাস এইচ১২৫-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য

    • ● রোটরের ব্যাস: ১০.৬৯ মিটার (৩৫.০৭ ফুট)
    • ● মোট দৈর্ঘ্য: ১২.৯৪ মিটার (৪২.৪৫ ফুট)
    • ● কেবিনের আয়তন: ৩ ঘনমিটার (পাইলট বাদে)

    ওজন ও বহনক্ষমতা:

    • ● সর্বাধিক টেক-অফ ওজন:
    • ● ডুয়াল হাইড্রোলিক্স সহ ২,৩৭০ কেজি
    • ● বাহ্যিক লোড বহনের ক্ষেত্রে ২,৮০০ কেজি
    • ● কার্যকর লোড ক্ষমতা: ১,০৭৫ কেজি

    প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:

    • ● হেলিওনিক্স (Helionix) অ্যাভিওনিক্স সিস্টেম
    • ● ৪-অক্ষের (Axis) অটোপাইলট
    • ● সিন্থেটিক ভিশন সিস্টেম
    • ● ট্র্যাফিক অ্যাভয়ডেন্স ফাংশন
    • ● ডুয়াল হাইড্রোলিক্স ও ক্র্যাশওয়ার্দি ডিজাইন (নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য)

    এই হেলিকপ্টারে একজন পাইলটসহ সর্বোচ্চ ছয়জন যাত্রী বসতে পারেন। এটি এমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস (EMS) স্ট্রেচার বহন করতে পারে এবং বাহ্যিক স্লিং লোড হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। স্লিং লোড বহনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১,৪০০ কেজি।

    ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কীভাবে শক্তি বাড়াবে

    • ● এইচ১২৫এম মূলত অধিক-উচ্চতার অঞ্চলে বহুমুখী সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য উন্নত করা হয়েছে। এয়াবাসের মতে, এই হেলিকপ্টার কম শব্দ ও কম হিট সিগনেচার নির্গমন করে। ফলে ট্যাকটিক্যাল নজরদারি ও গোয়েন্দা অভিযানে এটি বিশেষভাবে কার্যকর।
    • ● যে সব অঞ্চলে ভৌগোলিক অবস্থান ও উচ্চতা বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এইচ১২৫এম-এর কর্মক্ষমতা এবং দেশীয় উৎপাদন মিলিয়ে এটি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
    • ● এই হেলিকপ্টার জাতি গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, বিশেষ করে বেসামরিক ও আধা-সরকারি পরিষেবাগুলিকে শক্তিশালী করতে।
    • ● এটি জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হবে। কেন্দ্রের উড়ান (UDAN) প্রকল্পের আওতায় এই হেলিকপ্টার প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় শেষ মাইল সংযোগ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, ফলে পর্যটন বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রী পরিবহণ সহজ হবে।
    • ● স্থানীয়ভাবে এইচ১২৫এম উৎপাদন ভারতের সামরিক ক্ষমতাকে অধিক-উচ্চতা, সন্ত্রাসদমন এবং প্রশিক্ষণমূলক অভিযানে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।
  • Rajya Sabha: রাজ্যের ৫ সহ দেশের ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

    Rajya Sabha: রাজ্যের ৫ সহ দেশের ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদের ৩৭টি রাজ্যসভা আসনের জন্য নির্বাচন কমিশন দিন ঘোষণা করেছে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য মোট ৫টি রাজ্যসভার (Rajya Sabha) আসনে ভোট গ্রহণ হবে। আগামী ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ আসন-সহ দেশের মোট ৩৭টি রাজ্যসভার আসনে ভোট হবে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভা ৩৭টি আসনে নির্বাচনের (Election Commission) জন্য ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ৫ মার্চ। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ৬ মার্চ, এবং প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ মার্চ। ভোটগ্রহণ ১৬ মার্চ। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এর পরে, ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ভোট গণনা একই দিনে বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়সীমা ২০ মার্চ।

    পাঁচের বেশি মনোনয়ন হলে ভোটাভুটি হবে (Election Commission)

    রাজ্যের রাজ্যসভার (Rajya Sabha) সাংসদের মধ্যে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান করেছেন মৌসুম বেনজির নূর। তৃণমূলের এখন রাজ্যসভায় সাংসদ রয়েছেন সাকেত গোখলে, ঋতব্রত বন্দ্যপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী। যাদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২ এপ্রিল। সেই সঙ্গে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে কার্যকালের মেয়াদ দেশ করবেন সিপিএমের নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বিধানসভার প্রেক্ষিতে ৫ আসনের মধ্যে ৪টিতে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় খুব পাকা। বিধানসভায় বিজেপির সমীকরণ অনুযায়ী একটি আসনে জয়ী (Election Commission) হওয়ার কথা বিজেপির। তবে পাঁচের বেশি মনোনয়ন হলে ভোটাভুটি হবে।

    কোন রাজ্যে কটা আসন?

    ১০টি রাজ্য থেকে মোট ৩৭টি রাজ্যসভার (Rajya Sabha) আসন খালি হচ্ছে। মহারাষ্ট্রে সর্বাধিক সংখ্যক আসন রয়েছে ৭টি, তামিলনাড়ু-বিহারে মোট ৬টি করে, পশ্চিমবঙ্গে ৫টি, ওড়িশায় ৪টি, আসামে ৩টি, তেলেঙ্গানায়-ছত্তিশগড়-হরিয়ানায় ২টি করে, হিমাচল প্রদেশে ১টি করে। তবে রাজ্যভার এই আসনগুলিতে এপ্রিল মাসে সদস্যদের অবসর গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। বুধবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission) একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, “আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভার ৩৭টি আসনে নির্বাচনের জন্য ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ৫ মার্চ। মনোনয়ন যাচাই করা হবে ৬ মার্চ। মনোনয়ন প্রত্যহারের শেষদিন ৯ মার্চ। তবে একটি আসনে যদি মাত্র একজন মনোনয়ন জমা করেন তাহলে নির্বাচনের প্রয়োজন হবে না।

  • SIR in Bengal: কমিশনের কড়া ‘ডোজ’, সময়সীমা শেষের আগেই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর রাজ্যের

    SIR in Bengal: কমিশনের কড়া ‘ডোজ’, সময়সীমা শেষের আগেই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ডেকে আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিল জাতীয় কমিশন। সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সময় অতিক্রম করার আগেই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর (SIR in Bengal) করল রাজ্য সরকার। এই চার জনের মধ্যে ২ জন ইআরও এবং ২ জন এইআরও। শেষ পর্যন্ত কমিশনের চাপে রাজ্য সরকার এফআইআর করায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। পাল্টা বিজেপির বক্তব্য নিয়ম না মানলে এই রকম আরও অনেক এফআইআর (FIR files against 4 officials) হবে।

    নন্দিনী চক্রবর্তীকে ডেকে কড়া বার্তা (SIR in Bengal)

    এসআইআর-এ (SIR in Bengal) ২ জন ইআরও এবং ২ জন এইআরও–র বিরুদ্ধে ভোটার লিস্টে কারচুপি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর সঙ্গে নাম জারিয়েছে ডেটা অপারেটারের। সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ না মানার অভিযোগও উঠেছিল নবান্নের বিরুদ্ধে। শেষে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে ডেকে কড়া বার্তা দেয় নির্বাচন কমিশন। চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার বিকেল ৪ টে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল। সেই সময় শেষ হওয়ার আগেই সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR files against 4 officials) করল রাজ্য সরকার।

    এই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা নিয়ে তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা আইন নিশ্চয় মানব। আইন আইনের পথে চলবে। তুঘলকি কমিশনের যেটুকু আইন মানার প্রয়োজনে সেটা নিশ্চয় মানব। কিন্তু, তার একটা বাউন্ডারি আছে। বাউন্ডারির বাইরে গেলে কিন্তু ছক্কা খেতে হবে।”

    সাত জনকে সাসপেন্ড করেছে

    অপরদিকে বিজেপির মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “গতকালই তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে যেমন সাত জনকে সাসপেন্ড করেছে, তেমন মুখ্যসচিবকে বলা হয়েছিল, যদি ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তাতে কাজ হয়েছে। ইআরও এবং এইআরও-দের (SIR in Bengal) কাছে স্পষ্ট বার্তা, সাত ও চার মিলে এগারো হল, এটা ১১১ হতে বেশি সময় লাগবে না। এটা ২০০২ সালের মতো এসআইআর হচ্ছে না। এখানে কোন বিএলও, কোন ইআরও, কোন ডিইও কী কাজ করছেন, তার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট রয়ে যাচ্ছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কোনও গাফিলতি ধরা পড়লে, তাহলে নির্বাচন কমিশন কী করতে পারে, তার হাল্কা ইঙ্গিত (FIR files against 4 officials) দিয়েছে।”

  • India France Deal: ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২১টি চুক্তি ও নথি বিনিময়

    India France Deal: ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২১টি চুক্তি ও নথি বিনিময়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির পর এবার ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি, সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং স্বাস্থ্য-সহ মোট ২০টি ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি (India-France Deal) সই করল ভারত। মঙ্গলবার মুম্বইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর (Emmanuel Macron) দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করা হয়। উদ্ভাবন ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগী ফ্রান্স (India France Deal) একথা স্পষ্ট করে দেন প্রেসিডেন্ট মাক্রঁ।

    সম্পর্কের গভীরতাই আমাদের শক্তি

    এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর আলোচনায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি-সহ একাধিক কৌশলগত বিষয় উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। মুম্বইয়ে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আজ বিশ্ব এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “ফ্রান্স ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু দেশ, এই সম্পর্কের গভীরতাই আমাদের শক্তি।” মঙ্গলবার মোদি-মাক্রঁ বৈঠকের পরে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং স্বাস্থ্যের মতো ২১টি বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি সইয়ের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, তিন দিনের সফরে সস্ত্রীক ভারতে এসেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। সোমবার গভীর রাতে মুম্বইয়ে অবতরণ করে তাঁর বিমান। মঙ্গলবার সকালে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের বাসভবনে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠক হয়। এর পরে একই গাড়িতে চড়ে তাঁরা যান একটি হোটেলে আয়োজিত ভারত-ফ্রান্স ইনোভেশন ফোরামে যোগ দিতে।

    বিশ্বস্ত অংশীদার ভারত

    এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাক্রঁ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসারকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর কথায়, “রাফাল জেট থেকে সাবমেরিন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা সম্প্রসারণ করছি।” পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, “ফ্রান্সের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অংশীদারদের মধ্যে ভারত অন্যতম।” নয়াদিল্লির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরা ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতা আরও গভীর শক্তিশালী করতে চাই। আগামি কয়েক বছরের মধ্যে ৩০ হাজার ভারতীয় পড়ুয়াকে স্বাগত জানাতে ফ্রান্স প্রস্তুত।’’

    এআই সামিটে যোগ

    মুম্বইয়ে বৈঠক শেষে মঙ্গলবার রাতেই কৃত্রিম মেধা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন মাক্রঁ। এরপর বৃহস্পতিবার এই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

    ভারত-ফ্রান্স ২১টি চুক্তি

    ভারত ও ফ্রান্স দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে “স্পেশাল গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ”-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোদি-মাক্রঁ। বৈঠকের পর মোট ২১টি চুক্তির কথা ঘোষণা করা হয়। উভয় দেশ ‘হরাইজন ২০৪৭ রোডম্যাপ’ ও উন্নীত অংশীদারিত্বের বাস্তবায়ন নিয়মিত পর্যালোচনার জন্য বার্ষিক আলেচনার কথা বলেছে। দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্যে এই আলোচনার কথা হবে। পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইয়ার অব ইনোভেশন’ এবং ‘ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইনোভেশন নেটওয়ার্ক’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে চুক্তি

    প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে কর্ণাটকের ভেমাগালে ভারতের প্রথম এইচ১২৫ হেলিকপ্টার সংযোজন লাইন উদ্বোধন করা হয়েছে। কর্নাটকে এইচ-১২৫ হেলিকপ্টারে ‘ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন’-র (যন্ত্রাংশ একত্রিত করা) উদ্বোধন করা হল। যা ভারতের প্রথম বেসরকারি হেলিকপ্টারের ‘ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন’। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস এবং এয়ারবাসের যৌথ উদ্যোগে সেই কাজ চলবে। যে প্রকল্পকে ভারতে বিমান তৈরির ক্ষেত্রে বড় ‘বুস্টার ডোজ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আর সেই প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হেলিকপ্টার তৈরি করবে ভারত এবং ফ্রান্স।

    ‘হ্যামার’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে সম্মত

    দুই দেশ ভারত সরকার ও ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি নবীকরণ এবং বিএইএল ও সাফরানের যৌথ উদ্যোগে ভারতে ‘হ্যামার’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে সম্মত হয়েছে। ভারতে হ্যামার মিসাইল তৈরির বিষয়ে মউ স্বাক্ষর করেছে ভারত ইলেকট্রনিকস লিমিটেড এবং সাফরান ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ডিফেন্স। যে মিসাইল আপাতত রাফাল যুদ্ধবিমানে ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হ্যামার মিসাইল মোটামুটি ৬০-৭০ কিলোমিটার দূরে থাকা গ্রাউন্ড ‘টার্গেট’-কে নিখুঁতভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে। পাহাড়ি এলাকা এবং বাঙ্কারের মধ্যে একেবারে নিখুঁতভাবে ধ্বংসলীলা চালাতে পারে হ্যামার এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিসাইল।

    রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা

    ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ফরাসি ল্যান্ড ফোর্সেসের প্রতিষ্ঠানে পারস্পরিকভাবে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। মঙ্গলবার মোদি-মাক্রঁ বৈঠকে দ্বিতীয় দফায় ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা এবং ডুবোজাহাজ নির্মাণের বিষয়টি নিয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর। সমঝোতা হয়েছে যৌথ উদ্যোগে হিমালয়ের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে উড়ানে সক্ষম হেলিকপ্টার নির্মাণের বিষয়ে।

    উদীয়মান প্রযুক্তি ক্ষেত্র

    গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি, বিশেষত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উন্নত প্রযুক্তি উন্নয়ন গোষ্ঠী গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ধাতু নিয়ে সহযোগিতার জন্য যৌথ অভিপ্রায় ঘোষণা করা হয়েছে। উন্নত উপকরণ বিষয়ক একটি কেন্দ্র স্থাপনে ডিএসটি ও সিএনআরএস-এর মধ্যে ইচ্ছাপত্র বিনিময় হয়েছে। এছাড়াও ভারত-ফ্রান্স দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির প্রোটোকলে সংশোধন আনা হবে। স্টার্ট-আপ, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতার জন্য টি-হাব ও নর্ড ফ্রান্সের মধ্যে অভিপ্রায়পত্র এবং ডিএসটি ও সিএনআরএস-এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    ইন্দো-ফ্রেঞ্চ কেন্দ্র স্থাপন

    ডিজিটাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে একটি ইন্দো-ফ্রেঞ্চ কেন্দ্র স্থাপনে যৌথ অভিপ্রায় ঘোষণা করা হয়েছে। নয়াদিল্লির এইমসে ‘ইন্দো-ফ্রেঞ্চ সেন্টার ফর এআই ইন হেলথ’ চালু হবে। সংক্রামক রোগ ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণায় সহযোগিতার জন্য ডিবিটি ও এএনআরএস-এর মধ্যে অভিপ্রায়পত্র বিনিময় হয়েছে। এছাড়া ‘ইন্দো-ফ্রেঞ্চ সেন্টার ফর মেটাবলিক হেলথ সায়েন্সেস’ প্রতিষ্ঠায় চুক্তি হয়েছে। এর পাশাপাশি এরোনটিক্স ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি জাতীয় উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপনে অভিপ্রায়পত্র বিনিময় হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতায় ভারতের নব ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রক এবং ফ্রান্সের অর্থ, শিল্প, জ্বালানি ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব মন্ত্রকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নবীকরন করা হয়েছে। ভারতীয় ডাক বিভাগ, যোগাযোগ মন্ত্রক ও ফ্রান্সের লা পোস্টের মধ্যেও একটি অভিপ্রায়পত্র বিনিময় হয়েছে।

    মহাকাশ প্রযুক্তির বিভিন্ন পরিকাঠামো

    মঙ্গলবার ফ্রান্সের সংস্থা এক্সোট্রেলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে তিন ভারতীয় সংস্থা ধ্রুব স্পেস, পিক্সেল এবং এক্সডিলিঙ্ক্‌স ল্যাব্স-এর সঙ্গে। মঙ্গলবার দুপুরে এক্সোট্রেল নিজেই এই চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। এক্সোট্রেল মূলত বিভিন্ন মহাকাশ প্রযুক্তি তৈরি করে। জানা যাচ্ছে, তারা তিন ভারতীয় সংস্থাকে ‘প্রোপালশন সিস্টেম’ বিক্রি করবে। কত টাকার প্রযুক্তি কেনার বিষয়ে এই চুক্তি হয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। যে তিন ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে এক্সোট্রেল চুক্তি সেরেছে, তিনটিই মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত। ধ্রুব স্পেস কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করে। পিক্সেল তৈরি করে মহাকাশ প্রযুক্তির বিভিন্ন পরিকাঠামো। এক্সডিলিঙ্ক্‌স ল্যাব্স-ও ছোট কৃত্রিম উপগ্রহের ডিজাইন তৈরি করে। দুই দেশই এই নতুন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসহ কৌশলগত খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

  • Red Fort Blast: দিল্লিকাণ্ডের আগেই ‘আনসার ইন্টেরিম’ সন্ত্রাসী সংগঠন গড়েছিল চিকিৎসক-জঙ্গি উমর নবি

    Red Fort Blast: দিল্লিকাণ্ডের আগেই ‘আনসার ইন্টেরিম’ সন্ত্রাসী সংগঠন গড়েছিল চিকিৎসক-জঙ্গি উমর নবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের লালকেল্লা (Red Fort Blast) বিস্ফোরণের জন্য দায়ী আইসিসের সন্ত্রাসী মডিউলের বিরুদ্ধে তদন্তে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে । জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ প্রথমে এই মডিউলটি আবিষ্কার করেছিল। এখন জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ তদন্ত করছে। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, ধৃত ব্যক্তিরা ২০১৬ সালেই জেহাদি সংগঠনে যোগদান করেছিল এবং “আনসার ইন্টেরিম” নামে (Terrorist Umar Un Nabi) তাদের নিজস্ব সন্ত্রাসী সংগঠন গঠন করেছিল।

    ইদগাহে মিলিত হয়েছিল (Red Fort Blast)

    তদন্তকারী অফিসাররা বলছেন, “২০২২ সালের এপ্রিল মাসে শ্রীনগর শহরের ইদগাহে এই সংগঠনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মিলিত হয়েছিল। সভায় উপস্থিত ছিল মুজাম্মিল গনাই, লালকেল্লা বিস্ফোরণের আত্মঘাতী জঙ্গি উমর-উন নবি (Terrorist Umar Un Nabi), আদিল রাথের, তার পলাতক ভাই মুজাফফর রাথের, মৌলবি ইরফান, ক্বারি আমির এবং তুফায়েল গাজি। এই বৈঠকে তারা আনসার ইন্টেরিম (Red Fort Blast) নামে একটি নতুন সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

    আদিলকে দলের প্রধান হিসেবে মনোনীত করা হয়। মৌলবি ইরফান উপ-প্রধান নির্বাচিত হয় এবং গনাই আর্থিক বিষয়গুলি দেখাশোনা করত। “আনসার” শব্দটি প্রায়শই বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত। অভিযুক্তরা তদন্তকারীদের জানিয়েছে, তারা সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই তারা নিজস্ব দল গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই বৈঠকের সময় বিস্ফোরণের পরিকল্পনা এবং গোপন কোডগুলি দেওয়া হয়েছিল।

    মৌলবাদ এবং বিস্ফোরক প্রস্তুতি

    তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, উমর-উন নবি ছিল সবচেয়ে কট্টরপন্থী (Red Fort Blast) সদস্যদের একজন। ২০১৬ সালে এবং ২০১৮ সালে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে যোগদানের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে হামলার পরিকল্পনায় গভীরভাবে জড়িত হয়ে পড়ে। এর পর, ২০২৩ সালে, এই জঙ্গি সংগঠনটি হরিয়ানার সোহনা এবং নুহ থেকে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। উমেরের নির্দেশে, ফরিদাবাদের একটি রাসায়নিক দোকান থেকে এনপিকে পটাসিয়াম নাইট্রেট  কেনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময়, ধৃতরা স্বীকার করেছে যে, উমর ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) তৈরি শেখার জন্য অনলাইন ভিডিও দেখতে শুরু করেছিল। অবশেষে সে ট্রায়াসিটোন ট্রাইপেরক্সাইড (TATP) তৈরি করতে সক্ষম হয়। এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বিস্ফোরক যা বিশ্বব্যাপী বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে।

    আদিল রাথার আরও নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরু করে। দক্ষিণ কাশ্মীরের বাসিন্দা দানিশ, যার নাম জসির— আদিল তাকে ফরিদাবাদের আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভাড়া ঘরে নিয়ে যায়, যেখানে উমর এবং গনাই বিস্ফোরক তৈরি করছিল। উমর দানিশকে আত্মঘাতী হামলা চালাতে রাজি করানোর চেষ্টাও করেছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সে পিছু হটে যায়। দানিশ জানিয়েছিল যে, ইসলামে আত্মহত্যা নিষিদ্ধ এবং তার আর্থিক অবস্থা খারাপ।

    প্লট এবং পতন

    তদন্তকারী অফিসারদের মতে, উমর কোনও জনাকীর্ণ স্থানে, সম্ভবত দিল্লিতে অথবা কোনও ধর্মীয় স্থানে, যানবাহনে বহনযোগ্য বিস্ফোরক ডিভাইস (ভিবিআইইডি) হামলার পরিকল্পনা করছিল। কর্মকর্তাদের ধারণা, মূল পরিকল্পনা ছিল বিস্ফোরক-বোঝাই (Red Fort Blast) গাড়িটি রেখে পালিয়ে যাওয়া। তবে, শ্রীনগর পুলিশ যখন তাদের তদন্ত জোরদার করে তখন পরিকল্পনাটি উন্মোচিত হতে শুরু করে।

    জৈশ-ই-মহম্মদের পোস্টার

    ১৯ অক্টোবর শ্রীনগরের উপকণ্ঠে নওগামের বুনপোরায় জৈশ-ই-মহম্মদের পোস্টার দেখা যাওয়ার পর এই সাফল্য আসে। পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে আগে পাথর ছোড়ার মামলায় জড়িত তিন স্থানীয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মৌলবি ইরফান আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়, যে একজন প্রাক্তন প্যারামেডিক ছিল এবং শোপিয়ানে ইমাম হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে পোস্টার সরবরাহ এবং গোষ্ঠীর সদস্যদের মৌলবাদ (Terrorist Umar Un Nabi) প্রচার করার ভূমিকা পালনের অভিযোগ দায়ের হয়।

    এর পরপরই, গনাইকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিস্ফোরক (Red Fort Blast) বাজেয়াপ্ত করা হয়। অফিসাররা মনে করেন, এই ঘটনায় ফরিদাবাদস্থিত নেটওয়ার্কের শীর্ষস্তরে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। চাপ বাড়ার সঙ্গে উমর অকাল আক্রমণে এগিয়ে যায়, যার ফলে লাল কেল্লার বাইরে মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। তদন্তে এখন একটি আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে যারা সম্মানজনক পেশার আড়ালে বছরের পর বছর ধরে জঙ্গি কর্মকাণ্ডকে নীরবে কাজ করে আসছিল। এনআইএ তাদের তদন্ত অব্যাহত রাখার সঙ্গে সঙ্গে অফিসাররা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলিতে এই “হোয়াইট-কলার” সন্ত্রাসী মডিউলের তহবিল, নিয়োগ এবং সম্ভাব্য বিস্তৃত সংযোগ সম্পর্কে আরও বিশদ প্রকাশ পেতে পারে।

    লাল কেল্লা বিস্ফোরণ এবং হোয়াইট কলার সন্ত্রাসী মডিউল

    গত বছরের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার (Red Fort Blast) কাছে এক বড় গাড়ি বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত এবং ২৫ জনের বেশি আহত হন। এই বিস্ফোরণে, বিস্ফোরক ভর্তি একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়ি চালাচ্ছিল পুলওয়ামার বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সি চিকিৎসক-জঙ্গি উমর-উন নবি। লালকেল্লা বিস্ফোরণের (Terrorist Umar Un Nabi) তদন্ত এবং কাশ্মীরে “হোয়াইট-কলার” মডিউল প্রকাশ্যে আসায় একটি আন্তঃসংযুক্ত জিহাদি নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হয়েছে, যার কেন্দ্রে ছিল ধৃত জিএমসি অনন্তনাগের র্মী আদিল এবং মুজাম্মিল গনাই।

    ডাক্তারদের ছদ্মবেশে গভীর ষড়যন্ত্র

    প্রথমে যাকে একটি স্বতন্ত্র সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে হয়েছিল, এখন তা আরও গভীর এবং সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের উন্মোচন করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন পুলওয়ামার ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল গনাই, অনন্তনাগের ডাঃ আদিল আহমেদ রাথের, লখনউয়ের ডাঃ শাহিন সঈদ এবং শোপিয়ানের মুফতি ইরফান আহমেদ ওয়াগে। ফরিদাবাদের আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত দুই চিকিৎসককেও (Red Fort Blast) দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

  • Liver Diseases: লিভারের রোগ বাড়ছে ভারতীয়দের! সতর্কবার্তা আইসিএমআর-এর, কেন চিন্তার বিষয়?

    Liver Diseases: লিভারের রোগ বাড়ছে ভারতীয়দের! সতর্কবার্তা আইসিএমআর-এর, কেন চিন্তার বিষয়?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য পরিমাণ খাবার খেলেও বমি, হজমের অসুবিধা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাই মুশকিল। পেটের চর্বি দিন দিন বাড়ছে। আবার খাবার খাওয়ার পরেই বুকের ভিতরে এক ধরনের অস্বস্তি বোধ হয়। এমন অসুবিধায় ভুগছেন অনেকেই। বিশেষত কম বয়সী ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে এই উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে। আবার পঞ্চাশোর্ধ্ব ভারতীয় মহিলাদের অনেকেই এই ধরনের ভোগান্তির শিকার। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণ হজমের অসুবিধা বলে এই সমস্যা এড়িয়ে গেলেই বিপদ বাড়বে। ভারতীয়দের লিভারের অসুখ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ভারতীয়দের মধ্যে লিভারের অসুখ বাড়ছে। বিশেষত কম বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে এই অসুখ বেশি দেখা দিচ্ছে। এর ফলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

    কী বলছে সাম্প্রতিক রিপোর্ট?

    সম্প্রতি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-র এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ৪০ শতাংশ ভারতীয় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। যাদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ৩০-৪০ বছর। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, মদ্যপানে অভ্যস্ত না হলেও কম বয়সী ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের অসুখ দেখা দিচ্ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আবার ঋতুস্রাব পরবর্তী পর্বে ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই অসুখ দেখা দিচ্ছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রায় ৪৫ শতাংশ ভারতীয় মহিলা নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিপুল সংখ্যক ভারতীয়ের এই অসুখ যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার উদ্বেগজনক রোগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফ্যাটি লিভার আসলে লিভারের সমস্যা। লিভারে অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট জমে যাওয়ার ফলেই এই রোগ হয়। সাধারণত অতিরিক্ত মদ্যপানে অভ্যস্ত হলে অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হন। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মদ্যপান না করলেও লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার বলা হচ্ছে। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলেই লিভারে ক্ষত তৈরি হচ্ছে। ফলে লিভারের কার্যকারিতা কমছে। লিভার শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সেটার কার্যকারিতা নষ্ট‌ হলে শরীর সুস্থ থাকবে না। নানান জটিলতা তৈরি হবে। বিশেষত কম বয়সীদের মধ্যে এই নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ দীর্ঘ সুস্থ জীবন‌যাপনের পথে অন্তরায় হয়ে উঠছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক দশকে ভারতীয়দের জীবন যাপনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। খাদ্যাভাসের পরিবর্তন ঘটেছে। অধিকাংশ ভারতীয় এখন চটজলদি খাবারে অভ্যস্ত। আর চটজলদি খাবারে অধিকাংশ সময়েই পুষ্টিগুণ থাকে না। তাই শরীরের অপ্রয়োজনীয় ওজন বাড়ছে। ভারতীয়দের মধ্যে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ার অন্যতম কারণ প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস। একদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত প্রোটিন খাবার খাওয়া, আরেকদিকে নিয়মিত শারীরিক কসরত না করা। এই দুইয়ের জন্য ভারতীয়রা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাছাড়া পঞ্চাশ বছরের পরে মহিলাদের শরীরে নানান হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। তাই পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলাদের এই রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি? এই রোগ থেকে বাঁচার উপায় কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হলে অন্যদের আগাম সতর্ক থাকা জরুরি। তাছাড়া ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই খাবারে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার না খাওয়া, প্রাণীজ প্রোটিনের পাশপাশি সব্জি, ফাইবার জাতীয় খাবার সমান পরিমাণে খাওয়া জরুরি। তাহলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে। আবার ছোটো থেকেই নিয়মিত শারীরিক কসরতে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি। কারণ, তাতে শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি নষ্ট হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাহলে লিভারেও অতিরিক্ত ফ্যাট জমবে না। রোগের ঝুঁকিও কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share