Blog

  • BJP: সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে হোঁচট খেলেন মমতা, কী বলল বিজেপি?

    BJP: সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে হোঁচট খেলেন মমতা, কী বলল বিজেপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবারের বারবেলায় সুপ্রিম কোর্টে নয়া ‘অবতারে’ হাজির পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রীতিমতো আইনজীবীর পোশাক কালো গাউন পরে দেশের শীর্ষ আদালতে হাজির হয়ে যান তিনি। আদালতে তাঁর (BJP) প্রথম বক্তব্য, “বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে। অসমে এসআইআর নয় কেন?”

    মমতাকে কটাক্ষ ‘জায়ান্ট কিলারে’র (BJP)

    তৃণমূল নেত্রীর এই ‘নব কলেবর’কে কটাক্ষ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক জায়ান্ট কিলার শুভেন্দু অধিকারী। এদিন আদালতে নির্বাচন কমিশনকে হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন বলেও কটাক্ষ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে আসলে ভোটারদের বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এ নিয়েই মমতাকে নিশানা করেন শুভেন্দু। বলেন, “গত ২-৩ দিন ধরে এসআইআর নিয়ে নাটক ও মিথ্যে প্রচার চালানোর চেষ্টা চলছে। প্রথম দিন কমিশনকে নিশানা, দিল্লি পুলিশকেও আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্টে দিল্লি পুলিশ ওঁর মিথ্যাচার ফাঁস করেছেন। উনি ইসিআইকে নিশানা করেছিলেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অহংকারী এবং মিথ্যেবাদীও বলেছিলেন। গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে থেকেও উনি এসআইআরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।”

    কী বললেন শুভেন্দু?

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “গতকাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে মমতার সওয়াল নিয়ে প্রচারের ঝড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে। যেন বড় বিস্ফোরণের অপেক্ষায় ছিল ভারত। কিন্তু আজ কোর্টে মমতা পেলেন রসগোল্লা। আইন বা রাজনীতির খোঁজ যাঁরা রাখেন, তাঁরা সকলেই জেনেছেন আজ শুনানি পর্বে ঠিক কী কী হয়েছে।” তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে এদিন সওয়াল করেননি। তিনি কোর্টে হাজির ছিলেন পিটিশনার হিসেবে (Mamata Banerjee)। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ঘুরিয়ে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। তার পরেও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উনি ওঁর কাজ করেছেন। ওঁর উচিত ছিল অনুবাদক নিয়ে যাওয়া। সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি ওঁকে সংশোধন করে দিচ্ছিলেন। যেভাবে ভুল (BJP) ইংরেজি বলছিলেন, তা রাজ্যের পক্ষে লজ্জার!”

    শুভেন্দুর তোপ

    শুভেন্দু বলেন, “মূলত উনি বা ওঁরা প্রথম দিন থেকেই দুটো কাজ করার মরিয়া চেষ্টা করে চলেছেন। এক, এসআইআর ভন্ডুল করা। আর দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালে বাংলাদেশি ও মৃত ভোটার তালিকায় নির্বাচন করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। যা ইতিমধ্যেই ওঁর বিএলওরাই বাদ দিয়েছেন। তাঁদের সুপারিশেরই পরিচ্ছন্নতার সঙ্গেই ৫৮ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।” শুভেন্দু বলেন, “এসআইআরের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন মমতা। উনি আজ যেগুলি চেয়েছেন শূন্য হাতে ফিরেছেন।” তিনি বলেন, “সব পক্ষকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল টার্গেট যেটা ছিল, সেটা হল মাইক্রো অবজারভারদের আটকানো। মাইক্রো অবজারভার নিয়োগে অসুবিধেটা কোথায়? ভারতের ১২টি রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে, কেন বাংলায় মাইক্রো অবজারভার (Mamata Banerjee)? কারণ কমিশনের নির্দেশ মেনে এসডিও র‍্যাঙ্কের ইআরও নিয়োগ করেনি রাজ্য। ২২৫ জন্য যাঁরা ইআরও হতে পারেন না, তাঁদের নিযুক্ত করেছেন মমতা প্রশাসন। কানাগলিতে ঢুকেছেন মমতা ও তাঁর প্রশাসন”। তিনি বলেন, “আপনি নিয়ম ভেঙেছেন। কমিশনকে সহযোগিতা করেননি (BJP)।”

    আবেগপ্রবণ মমতা

    এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে প্রবীণ আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান সওয়াল করলেও, মমতা নিজে আদালতের কাছে কিছু বলার অনুমতি চান। তিনি বলেন, “সমস্যা হল, আমাদের আইনজীবীরা লড়ছেন, আমরা শুরু থেকেই লড়ছি। কিন্তু সব শেষ হওয়ার পরেও যখন আমরা বিচার পাচ্ছি না, যখন বিচার দরজার আড়ালে কাঁদছে, তখন বাধ্য হয়েই আমায় আসতে হল। আমি সাধারণ পরিবারের মেয়ে, আমি আমার দলের জন্য লড়ছি না, লড়ছি সাধারণ মানুষের জন্য (Mamata Banerjee)।”

    সুকান্তর নিশানায় মমতা

    মমতার এদিনের সওয়ালকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধ্যাপক সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “দিল্লিতে ড্রামা করলেন মমতা ব্যানার্জি। প্রথমে বঙ্গভবনের সামনে ড্রামা করলেন, তারপর তার নাটক চলল নির্বাচন কমিশনে ও একেবারে শেষে সুপ্রিম কোর্টে। মমতা ব্যানার্জি সুপ্রিম কোর্টের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্বাচন কমিশনকে হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন বলে দিলেন। বিচারপতির অনুমতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে বলেছিল আপনার আইনজীবী অত্যন্ত দক্ষ, আমরা তাঁদের কথাই শুনব। এর থেকে (BJP) খারাপ শব্দে সুপ্রিম কোর্ট একজন মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে পারেন না যে আপনি চুপ থাকুন, আপনার কথা আমরা শুনতে চাইছি না।” মমতার এদিনের আচরণকে নাটক বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং-ও।

    আক্রমণ শানালেন শমীকও

    বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “পদবি বদল হয়ে গিয়েছে বলে মিথ্যে দাবি করা হয়েছে। জেনেবুঝে পরিকল্পনা করে নামের গন্ডগোল করছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাই বয়স্ক, অসুস্থ মানুষদের এসআইআরের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এসব পরিকল্পনা করে এসআইআর বন্ধ করতে চাইছে।” তিনি বলেন, “পুরো প্রশাসনকে এই এসআইআর বন্ধ করতে লাগিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনওভাবেই যেন এসআইআর চলতে না পারে, সেই চেষ্টাই চলছে। মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে শুধু এসআইআরের জন্য যাননি। আনন্দপুরের ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে রাজ্যবাসীর নজর ঘোরাতেই গিয়েছেন। সেখানে ২৫ জন মারা গিয়েছেন, এখনও ৩০ জন নিখোঁজ। মাত্র ১০ কিমি দূরে দুর্ঘটনা ঘটল, এখনও তিনি সেখানে যাওয়ার সময় পেলেন না, অথচ ১৫০০ কিমি পথ পেরিয়ে দিল্লি পৌঁছে গেলেন (Mamata Banerjee)! যে মুখ্যমন্ত্রী ইডির তল্লাশিতে চলে যান, পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে এই রকম পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের জনতা বুঝে গিয়েছেন এই সরকার চলতে দেওয়া যাবে না।”

    শমীক বলেন, “ভোটার লিস্ট শুদ্ধিকরণে ভারতের কোনও জায়গা থেকে এত অশান্তি হয়নি। তাহলে শুধু পশ্চিমবঙ্গে কেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ২০০৫ সালের অগাস্টে ভোটার কার্ডের দাবি করেছিলেন? যিনি ৪ অগাস্ট ২০০৫-এ সব পেপার স্পিকারের টেবিলের ওপর ছুড়ে ফেলে দিয়ে সেই সময় বলেছিলেন, ওই ভোটার তালিকা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীতে ভরা (BJP)। ২০০৫-এর যে নেত্রী এর বিরোধিতা করতেন আজ তিনিই এসআইআরের বিরুদ্ধে ধর্না দিতে দিল্লি পৌঁছে গেলেন। বিএলএদের কীভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে? তৃণমূলের অ্যাজেন্ডা পরিষ্কার যে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা, ভুয়ো ভোটাররা (Mamata Banerjee) ভোটার তালিকায় থাকুক। এটা কী করে চলতে পারে? সব বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন উনি (BJP)।”

     

  • Rahul Gandhi: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে “বিশ্বাসঘাতক” কটাক্ষ রাহুলের, পাল্টা পেলেন “দেশ কে দুশমন” তকমা

    Rahul Gandhi: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে “বিশ্বাসঘাতক” কটাক্ষ রাহুলের, পাল্টা পেলেন “দেশ কে দুশমন” তকমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার সংসদের সিঁড়িতে এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু (Ravneet Singh Bittu) জনসমক্ষে একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম।)

    “দেশ কে দুশমন” (Rahul Gandhi)

    সংসদে নিয়ম ভঙ্গের অপরাধে আটজন সাংসদকে বরখাস্ত করার ঘটনায় লোকসভা মুলতবি করার পর এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কংগ্রেস নেতারা এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সংসদের মকরা দ্বারের কাছে জড়ো হয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিট্টু (Ravneet Singh Bittu), সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন সেই সময় তাঁকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে আক্রমণ করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। বলেন, “এই যে একজন বিশ্বাসঘাতক ঠিক পাশ দিয়ে হেঁটে আসছে। মুখের দিকে তাকান…”। তারপর, ঠাট্টা-বিদ্রুপের মিশ্রণে তিনি বিট্টুর দিকে হাত বাড়িয়ে বলেন, “হ্যালো ভাই, আমার বিশ্বাসঘাতক বন্ধু। চিন্তা করো না, তুমি কংগ্রেস ফিরে আসবে।” সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিট্টু রাহুলের করমর্দন প্রত্যাখ্যান করেন। বরং, তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “দেশ কে দুশমন, গান্ধীকে জাতির শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে।” ক্যামেরায় ধারণকৃত এই কথোপকথন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়।

    বার বার অসংসদীয় আচরণ

    সংসদে উত্তেজনা বৃদ্ধির পটভূমিতে এই ঝগড়া শুরু হয়। মঙ্গলবার, লোকসভায় রাহুল গান্ধী বক্তৃতা দেওয়ার সময় সংসদীয় নিয়ম ভঙ্গ করেন। সংসদের কাজে বার বার বাধা প্রদান করেন। শুধু তাই নয়, অধ্যক্ষের চেয়ারের দিকে কাগজপত্র ছোড়ার অভিযোগে বাজেট অধিবেশনের বাকি সময় আটজন সাংসদকে বরখাস্ত করা হয়। বিরোধী সদস্যদের তীব্র স্লোগানের মধ্যে বুধবার দুপুর পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন মুলতবি করা হয়।

    আট সাংসদ বরখাস্ত

    বরখাস্ত হওয়া সাংসদরা হলেন কংগ্রেস নেতা হিবি ইডেন, অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, মানিকম ঠাকুর, গুরজিৎ সিং আউজলা, প্রশান্ত ইয়াদোরাও পাডোলে, চামালা কিরণ কুমার রেড্ডি, ডিন কুরিয়াকোস এবং সিপিআই(এম) সাংসদ এস ভেঙ্কটেসন। সকলেই পরে সংসদের বাইরে বিক্ষোভ করেন।

    রাহুলের (Rahul Gandhi) পক্ষে দাঁড়িয়ে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ আনন্দ ভাদৌরিয়া অভিযোগ করে বলেন, “শাসক দল বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। বিরোধী দলনেতা তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করেন যাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন এবং মতবিরোধ দমনের ষড়যন্ত্র চলছে। যুক্তি দিয়ে কথা বলতে সরকার জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলিতে কথা বলতে ভয় পায়।”

    ম্যাগাজিন নিবন্ধ বা অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা উদ্ধৃত করা যায় না

    রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের বিতর্কের সময় পূর্ব লাদাখে ২০২০ সালে চিনের সঙ্গে সংঘর্ষের উল্লেখ উত্থাপনের জন্য রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বিকৃত তথ্য উত্থাপনই হল বিশৃঙ্খলার মূল কারণ। কোনও ম্যাগাজিন নিবন্ধ বা অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা উদ্ধৃত করা যায় না। কিন্তু রাহুল তাতে অনড় ছিলেন। সরকার তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলে, অপ্রকাশিত উপাদানের উল্লেখ অনুমোদিত নয়। নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে  বক্তৃতা দিতে হবে। এরপর নিয়ম ভঙ্গ করায় কড়া অবস্থান নেন লোকসভার অধ্যক্ষ।

  • New MCC laws: অবৈধ ব্যাট এবার বৈধ! নতুন আইন আনছে এমসিসি, অক্টোবর থেকে ক্রিকেটে ১০টি বড় পরিবর্তন

    New MCC laws: অবৈধ ব্যাট এবার বৈধ! নতুন আইন আনছে এমসিসি, অক্টোবর থেকে ক্রিকেটে ১০টি বড় পরিবর্তন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লন্ডনের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বসে নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তা নতুন করে প্রমাণ করল মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (New MCC laws)। ক্রিকেটের আইন সংশোধনের সর্বশেষ সংস্করণ কার্যকর হচ্ছে অক্টোবর ২০২৬ থেকে। ২০২২ সালের পর এই প্রথম বড় সংশোধন, যেখানে আধুনিক ক্রিকেটের বাস্তবতা ও অন্তর্ভুক্তিকেই মূল লক্ষ্য করা হয়েছে। এমসিসির ভাষায়, নতুন আইনগুলো শুধু প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং আরও সহজ ও স্পষ্ট—যাতে খেলোয়াড়, আম্পায়ার এবং সমর্থকরা সবাই আইন ভালোভাবে বুঝতে পারেন। মোট ৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হলেও, তার মধ্যে ১০টি নিয়ম সরাসরি খেলায় প্রভাব ফেলবে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে বলবৎ হবে নতুন নিয়মগুলি।

    ল্যামিনেটেড ব্যাট বৈধ

    এখন থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ক্রিকেটেও ব্যবহার করা যাবে ল্যামিনেটেড বা টাইপ ডি ব্যাট। একাধিক কাঠের টুকরো জোড়া দিয়ে তৈরি এই ব্যাট মূলত খরচ কমানো ও উইলোর অপচয় রোধের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক টুকরো ব্যাটই জনপ্রিয় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান উপকরণ ব্যাট। ব্যাটের দাম ক্রমশ বেড়ে চলায় উদ্বিগ্ন ক্রিকেট কর্তারা। দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেলে ক্রিকেটের প্রসারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই আগে নিষিদ্ধ হওয়া কয়েক ধরনের ব্যাটকে বৈধতার কথা বলা হয়েছে নতুন নিয়মে। এ বার থেকে ব্যবহার করা যাবে ল্যামিনেটেড বা কয়েক স্তরের কাঠ দিয়ে তৈরি ব্যাট। যা এক দিন শুধু জুনিয়র ক্রিকেটে অনুমোদিত ছিল। নতুন নিয়মে সব ধরনের অপেশাদার ক্রিকেটেই ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহার করা যাবে। এমসিসির বক্তব্য, ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহারে ক্রিকেটের গতিপ্রকৃতির তেমন হেরফের হবে না। তবে খরচ অনেকটাই কমবে। এমসিসির তরফে ফ্রেজার স্টুয়ার্ট বলেন, ‘‘ইংলিশ উইলোর এখন বেশ সংকট। আমরা গাছের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য না এনেই যদি সাধারণ মানুষের নাগালে খেলাটাকে রাখা যায়, তবে সেটিই বুদ্ধিমানের কাজ।’’

    মহিলা ও জুনিয়র ক্রিকেট বলের স্পষ্ট মানদণ্ড

    আগে মহিলা ক্রিকেট ও জুনিয়র ক্রিকেটে বলের আকার ও ওজনের সীমা ছিল তুলনামূলকভাবে ঢিলেঢালা। ফলে একই বল দুই বিভাগেই ব্যবহার করা যেত। ২০২৬ থেকে বলকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হচ্ছে—সাইজ ১, সাইজ ২ ও সাইজ ৩। পুরুষদের ক্রিকেটে বল অপরিবর্তিত থাকলেও, মহিলা ও জুনিয়র ক্রিকেটে আলাদা ও নির্দিষ্ট মানদণ্ড চালু হচ্ছে।

    দিনের শেষ ওভার সম্পূর্ণ করতেই হবে

    মাল্টি-ডে ক্রিকেট বা টেস্ট ক্রিকেটে এতদিন দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে সঙ্গে সঙ্গে খেলা শেষ হয়ে যেত। নতুন আইন অনুযায়ী, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে শেষ ওভার সম্পূর্ণ করতেই হবে। এতে ফিল্ডিং দলের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে এমসিসি।

    শর্ট রান নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা

    ইচ্ছাকৃত প্রতারণা ও প্রকৃত সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত শর্ট রান হলে আগের শাস্তির পাশাপাশি এবার ফিল্ডিং দল ঠিক করবে পরের বলে কোন ব্যাটার স্ট্রাইকে থাকবে। কোনও ব্যাটার ইচ্ছাকৃত শর্ট রান নিলে শাস্তি হিসাবে ৫ রান জরিমানা হয়। এবার থেকে শর্ট রানের পরের বল কোন ব্যাটার খেলবেন তা-ও ঠিক করবে ফিল্ডিং করা দল। ভুলবশত রান পূর্ণ না করলে অবশ্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

    বাউন্ডারিতে ‘বানি হপ’ ক্যাচে কড়াকড়ি

    বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে একাধিকবার বল ছোঁয়ার প্রবণতায় লাগাম টানা হয়েছে। নতুন নিয়মে, বাইরে থেকে লাফ দিলে ফিল্ডার একবারই বল স্পর্শ করতে পারবেন এবং তারপর পুরোপুরি মাঠের ভেতরে অবতরণ করতে হবে। আইসিসি আগেই প্লেয়িং কন্ডিশনে এই নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করেছে।

    ওভারথ্রোর সংজ্ঞা নির্দিষ্ট

    প্রথমবারের মতো ওভারথ্রো কী, তার স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। স্টাম্প লক্ষ্য করে থ্রো করলে তবেই তা ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য হবে। সাধারণ মিসফিল্ড এতে পড়বে না।

    বল কখন ‘ডেড’—নতুন ব্যাখ্যা

    এখন বল ‘ডেড’ হতে পারে যে কোনও ফিল্ডারের হাতে থাকলে বা মাটিতে স্থির অবস্থায় থাকলে। শুধু বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকা বাধ্যতামূলক নয়। বল কখন ‘ডেড’ হবে তা এখন মূলত নির্ভর করে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের উপর। এখন থেকে বল শুধু বোলার বা উইকেটরক্ষকের হাতে গেলেই ‘ডেড’ হবে না। কোনও ফিল্ডারের হাতে বল থাকলেও খেলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ‘ডেড’ ঘোষণা করতে পারবেন আম্পায়ারেরা।

    উইকেটকিপারের অবস্থানে ছাড়

    বোলারের দৌড়ের সময় উইকেটকিপারের গ্লাভস স্টাম্পের সামনে থাকলে আর নো-বল হবে না। বল ছোড়ার পর থেকেই নিয়ম কার্যকর হবে।

    হিট উইকেট আইনে স্পষ্টতা

    শট খেলার পর ব্যাটার ভারসাম্য ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তাকে এখনও ‘শট খেলার প্রক্রিয়ায়’ ধরা হবে। এই সময় স্টাম্প ভাঙলে আউট হবে। তবে ফিল্ডারের ধাক্কায় স্টাম্পে পড়লে ব্যাটার আউট হবেন না।

    বল নিয়ন্ত্রণের নতুন সংজ্ঞা

    রান আউট বা স্টাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু বল ছোঁয়া যথেষ্ট নয়। ক্যাচের মতোই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে—বল ধরে রাখার এবং ইচ্ছামতো ছাড়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।

    ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা

    এখন থেকে ম্যাচের শেষ ইনিংসে অধিনায়কেরা ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা বা ডিক্লেয়ার করতে পারবেন না।

    লিঙ্গ নিরপেক্ষ ভাষা

    ক্রিকেটে এখন থেকে পুরুষ বা নারীবাচক শব্দের বদলে লিঙ্গ নিরপেক্ষ শব্দ ব্যবহার করা হবে। যেমন ‘ব্যাটসম্যান’-এর বদলে সর্বত্র শুধু ‘ব্যাটার’ শব্দটিই ব্যবহার করা যাবে।

    ডিক্লেরেশন

    নতুন নিয়মে ম্যাচের শেষ ইনিংসে কোনও অধিনায়ক ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা বা ডিক্লেয়ার করতে পারবেন না।

    এমসিসির ২০২৬ সালের আইন (New MCC laws) বিপ্লব নয়, বরং পরিশীলন। অস্পষ্টতা দূর করা, ন্যায্যতা বাড়ানো এবং আধুনিক ক্রিকেটের বাস্তবতার সঙ্গে আইনকে মানানসই করাই এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য। ঐতিহ্যই ক্রিকেটের শক্তি, তবে এমসিসির বার্তা স্পষ্ট—খেলার চেতনাকে টিকিয়ে রাখতে হলে আইন হতে হবে নির্ভুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সময়োপযোগী। আইনপ্রণেতা এমসিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ক্রিকেট আইনের সর্বশেষ সংস্করণে ৪২টি আইনের কিছু ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ অপেশাদার ক্রিকেটারদের কাছে ক্রিকেটকে সস্তা ও সহজলভ্য করা। সে কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

     

     

     

     

     

  • Dhurandhar: খোদ পাকিস্তানেই সুপারহিট পাক-বিরোধী ভারতীয় ছবি ‘ধুরন্ধর’! কীভাবে সম্ভব হল?

    Dhurandhar: খোদ পাকিস্তানেই সুপারহিট পাক-বিরোধী ভারতীয় ছবি ‘ধুরন্ধর’! কীভাবে সম্ভব হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান-বিরোধী (Pakistan) বক্তব্যের জন্য সমালোচিত ভারতীয় বলিউড ছবি ‘ধুরন্ধর’ পাকিস্তানের নেটফ্লিক্স (Dhurandhar)চার্টে এক নম্বর স্থানে পৌঁছে গিয়েছে। আর এই খবর ফলাও করে প্রকাশ করেছে সেদেশেরই সংবাদমাধ্যম।  পাক সংবাদ মাধ্যম ‘পাকিস্তান টুডে’ প্রকাশিত খবরে আবারও মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। এই ভারতীয় সিনেমা পাকিস্তানের জন্য রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত অস্বস্তির। ভারতের বিরুদ্ধে হাজার ষড়যন্ত্র করেও ভারতীয় ছবিটি পাকিস্তানি দর্শকদের পছন্দের তালিকায় এক নম্বর স্থান দখল করে নিয়েছে।

    পাক বিরোধী অ্যাকশন-ভিত্তিক সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar)

    পাকিস্তান (Pakistan) টুডে নিজের একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতীয় জাতীয়তাবাদী থিমকে কেন্দ্র করে নির্মিত অ্যাকশন-ভিত্তিক সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ (Film Dhurandhar) বর্তমানে পাকিস্তানে নেটফ্লিক্সের সর্বাধিক দেখা সিনেমাগুলির শীর্ষে রয়েছে। ছবিটিতে পাকিস্তানকে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিপক্ষ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক শত্রুতার পরিচিত রূপগুলি তুলে ধরা হয়েছে। যদিও দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার ভারতীয় সিনেমার একটি অংশ পাকিস্তানের কার্যকলাপকে এই ভাবেই চিহ্নিত করা হয়। তবে পাকিস্তানে এই ছবির বিপুল জনপ্রিয় হওয়ার বিষয়টি অনেক সমালোচকদের রীতিমতো অবাক করেছে। কারণ এই ধরণের আখ্যান নতুন নয়, বরং ছবিটি কোথায় এবং কীভাবে কোন বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে সেটাও বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এমনটাই মনে করেছেন অনেক সিনেমা সমালোচকরা।

    এক অদ্ভুত বৈপরীত্য

    যখন পাকিস্তান ও ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্ক চরম  উত্তেজনাপূর্ণ  অবস্থায় রয়েছে, ঠিক সেই সময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বৈরী দৃষ্টিভঙ্গিতে নির্মিত একটি ভারতীয় ছবির পাকিস্তানেরই স্ট্রিমিং চার্টে সাফল্য ডিজিটাল যুগের এক অদ্ভুত বৈপরীত্যকে তুলে ধরছে। জাতীয় শত্রুতার আবহে নির্মিত একটি ছবিই এখন সবচেয়ে বেশি দেখা হচ্ছে সেই দেশের দর্শকদের মধ্যেই, যাদের লক্ষ্য করেই ছবিটি তৈরি করা হয়েছে, তা বিস্ময়ের বৈকি! পাকিস্তান বিরোধিতার উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি ভারতীয় ছবি পাক দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষিত করেছে— এই ট্রেন্ড নির্ঘাত পাক প্রশাসনের রাতের ঘুম উড়িয়ে নিয়েছে।

    নেটফ্লিক্সে পাক নাগরিকদের ব্যাপক ভিড়

    শিল্প বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, নেটফ্লিক্সের র‍্যাঙ্কিং অনুমোদন মোট দর্শক সংখ্যার উপর নির্ভর করে। কৌতূহল, বিতর্ক এবং সোশ্যাল মিডিয়া আলোচনার ফলে প্রায়শই দর্শকদের দেখার আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। তবে ছবির বার্তার সঙ্গে সকলে একমত হবেন এমনটা নাও হতে পারে। ‘ধুরন্ধর’ (Film Dhurandhar) সিনামা যখন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল সেই সময় পাক সরকার সিনেমার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু পরে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেলে পাকিস্তানে (Pakistan) ঐতিহাসিকভাবে আগ্রহ দেখা যায়। সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করে নেটফ্লিক্সের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিতে পাক দর্শকরা ভিড় জমান। কৌশলগত ভাবে এটাও ঠিক।

    বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হচ্ছে

    এই সিনেমা সমসাময়িক মিডিয়াকে ব্যবহারের মধ্যে একটি বৃহত্তর দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছে। আধিপত্য বা শত্রুতাকে জাহির করার জন্য তৈরি জাতীয় আখ্যানগুলি আর সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হচ্ছে। পাকিস্তানে (Pakistan) ‘ধুরন্ধর’ (Film Dhurandhar)  যখন ট্রেন্ডিং করে চলেছে, তখন এর সাফল্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্ট্রিমিং যুগে সাংস্কৃতিক প্রভাব আর কেবল উদ্দেশ্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। চলচ্চিত্র শক্তি প্রদর্শনের জন্য তৈরি করা যেতে পারে। সীমান্তের ওপারে ওপারের দর্শকের সংখ্যাটাও তুলনামূলক কম নয়। ভাবনাকে প্রভাবিত করতে সিনেমার ভাষা কতটা শক্তিশালী তা আরও একবার প্রমাণিত হয়।

    বিশদে জানতে পড়ুন…

    Anti-Pakistan film Dhurandhar tops Netflix chart in Pakistan, highlighting a streaming-era irony

  • EU Trade Agreement: ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, মোদির চালে কুপোকাত তিন দেশ

    EU Trade Agreement: ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, মোদির চালে কুপোকাত তিন দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি (EU Trade Agreement) শুধু প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যেই নয়, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভারত–ইইউয়ের (India) এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব শুধু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আমেরিকা এবং তুরস্কের গায়েও লাগবে এর আঁচ।

    ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহার (EU Trade Agreement)

    এই চুক্তির আওতায় ইইউ থেকে ভারতে রফতানি হওয়া পণ্যের ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতির ওপর সর্বোচ্চ ৪৪ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্যে ২২ শতাংশ এবং ওষুধে ১১ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক—যেগুলি ধাপে ধাপে প্রায় পুরোপুরিই তুলে নেওয়া হবে। ইউরোপীয় বিয়ারের ওপর শুল্ক কমিয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে। পাশাপাশি রাসায়নিক দ্রব্য, বিমান ও মহাকাশযানের ক্ষেত্রে প্রায় সব পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হবে। ইইউয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউয়ের রফতানি দ্বিগুণ হতে পারে এবং ইউরোপীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে। অবশ্য এই চুক্তি ভারতের প্রতিপক্ষ দেশগুলির জন্য নেতিবাচক প্রভাবও বয়ে আনবে।

    তুরস্কে তোলপাড়

    অপারেশন ‘সিঁদুরে’র পর ভারত ও তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই অভিযানের সময় আঙ্কারা পাকিস্তানকে ড্রোন ও লয়টারিং অ্যামুনিশন সরবরাহ করেছিল। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি তুরস্কের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, ইইউ–তুরস্ক কাস্টমস ইউনিয়নের চুক্তি অনুযায়ী, ইইউ যে কোনও অংশীদার দেশের সঙ্গে যে অভিন্ন বহির্শুল্ক নির্ধারণ করে, তা অনুসরণ করতে হয় তুরস্ককে। এ নিয়ে তুরস্ক আগে থেকেই ইইউর কাছে আপত্তি জানিয়ে আসছে। যদিও এখনও কোনও রফাসূত্র বের হয়নি। তাই সমাধান হয়নি সমস্যারও। ইইউ যখন কোনও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) অংশীদার—যেমন ভারতের—জন্য শুল্ক কমায়, তখন তুরস্ককেও সেই দেশের জন্য একই শুল্কছাড় দিতে বাধ্য হতে হয়। কিন্তু ভারত তুরস্কের ক্ষেত্রে পাল্টা কোনও শুল্কছাড় দিতে বাধ্য নয়। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটিই দেখার (EU Trade Agreement)।

    বিপাকে বাংলাদেশ

    তুরস্কের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়বে ভারতের পড়শি বাংলাদেশের ওপরও। কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর বেশি এবং বাংলাদেশের ওপর কম শুল্ক আরোপের কারণে ভারতীয় কোম্পানিগুলি তাদের উৎপাদন ঘাঁটি বাংলাদেশে স্থানান্তর করতে পারে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হওয়ায় বাংলাদেশ ইইউতে রফতানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা পায়, যেখানে ভারতকে তুলনামূলকভাবে বেশি শুল্ক দিতে হত (India)। এর ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল (EU Trade Agreement)। ইইউয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “ভারত খুব দ্রুত ইউরোপে বস্ত্র রফতানি ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৩০–৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পারে। আমাদের সবসময় প্রশ্ন করা হত, বাংলাদেশ কীভাবে ইউরোপে এত বেশি রফতানি করে। তারা শূন্য-শুল্ক সুবিধা পেয়েছে এবং ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার দখল করেছে।” ইইউয়ের বাজারে ভারতীয় পোশাক রফতানি যখন বাংলাদেশের পণ্যের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে, তখন মূল্য ও মানের দিক থেকে বাংলাদেশের বাজারের অংশীদারিত্ব যে কমবে, তা এক প্রকার নিশ্চিত (EU Trade Agreement)।

     পাকিস্তান কুপোকাত

    টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা দুর্বল অর্থনীতির পাকিস্তানও ইইউয়ের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে ক্ষুব্ধ। ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পাকিস্তান-সমর্থিত খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দিল্লিকে খালিস্তানি তৎপরতার বিরুদ্ধে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ করে দেবে (India)। কানাডা, জার্মানি ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলিকে ঘাঁটি করে গড়ে ওঠা খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলির ধারণা, ইইউ এবং ভারতের এই ঘনিষ্ঠতা তাদের আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর হবে। ভারত–ইইউ প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের আওতায় সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতাও রয়েছে, যা খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে (EU Trade Agreement)।

    এদিকে, এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও অসন্তুষ্ট। ওয়াশিংটনের চাপ সত্ত্বেও ভারত নতি স্বীকার না করায় ভারত–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য সত্ত্বেও নয়াদিল্লি তার অবস্থান বদলায়নি। এখন ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি ট্রাম্পের ওপর তার সমর্থক ও রাজনৈতিক নেতাদের চাপ আরও বাড়াবে। কারণ আমেরিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ (India) কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি হাতছাড়া করছে (EU Trade Agreement)।

     

  • Saif Al Islam Gaddafi: লিবিয়ার প্রয়াত স্বৈরাচারী শাসক মুয়াম্মার গদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যা

    Saif Al Islam Gaddafi: লিবিয়ার প্রয়াত স্বৈরাচারী শাসক মুয়াম্মার গদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লিবিয়ার (Libya) প্রয়াত স্বৈরাচারী শাসক মুয়াম্মার গদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার ফেসবুকে দুটি পৃথক পোস্টে ৫৩ বছর বয়সি সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির (Saif Al Islam Gaddafi) মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেন তাঁর আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান। তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, অজ্ঞাত পরিচয় চারজন অস্ত্র-সশস্ত্র নিয়ে নজরদারিতে রাখা ক্যামেরাকে প্রথমে নিষ্ক্রিয় করে। এরপর সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির বাসভবনে হামলা চালায় এবং তারপর তাঁকে হত্যা করা হয়।  এই খবর আল-আহরার টিভি চ্যানেলকে জানিয়েছেন তাঁর উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান আবদুর রহিম।

    কমান্ডো ইউনিট এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে (Saif Al Islam Gaddafi)

    আল-আহরার টিভি খবর অনুযায়ী, জাইদি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লিবিয়ার (Libya) জিনতান শহরে সাইফ গদ্দাফির বাড়িতে চার সদস্যের কমান্ডো ইউনিট এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে। গদ্দাফির (Saif Al Islam Gaddafi)  মৃত্যু সম্পর্কিত আর কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আবার বিবিসি অনুসারে জানা গিয়েছে, সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির বোন নিজে এই মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনাগুলির ভিন্ন বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন। একই ভাবে লিবিয়ান টিভিকে বলেছেন, “আলজেরিয়ার কাছে লিবিয়ার সীমান্তের কাছে মারা গেছেন আল-ইসলাম গদ্দাফি।” আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি সংস্থা ত্রিপোলি-ভিত্তিক হাই স্টেট কাউন্সিলের প্রাক্তন প্রধান খালেদ আল-মিশরি সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির হত্যার প্রয়োজনীয় ও স্বচ্ছ তদন্ত করার দাবি তুলেছেন।

    বাবার মৃত্যুর পর ছেলেকেও রাখা হয়েছিল জেলে

    ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ (এনটিসি) কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফিকে (Saif Al Islam Gaddafi)  তাঁর পিতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি কোনও সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না, তবুও তিনি তাঁর পিতার পরে একজন শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। লিবিয়াকে নিজের হাতের মুঠোয় রেখেছিলেন মুয়াম্মার গদ্দাফি। ১৯৬৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত লিবিয়া শাসন করেছিলেন। সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সাল থেকে লিবিয়ায় (Libya) গদ্দাফি শাসনের পতন না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমাদের সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বাবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর, সরকার বিরোধী বিক্ষোভের নৃশংস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিযোগে তাঁকে জিনতানে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়া প্রায় ছয় বছর ধরে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।

    মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০১১ সালে বিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে চেয়েছিল। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত একই অপরাধের জন্য তাঁকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যেখানে জাতিসংঘ-সমর্থিত সরকার রায় দেয়। দুই বছর পর টোব্রুক থেকে সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। গদ্দাফির পতনের পর থেকে, লিবিয়া বিভিন্ন মিলিশিয়া শাসিত অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এটি দুটো সরকার পরস্পর বিরোধী। এই অবস্থায় গদ্দাফির ছেলের মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগের।

  • Chicken’s Neck: মাটির তলা দিয়েই যাবে সেনার রসদ! চিকেন’স নেক রক্ষায় ভূগর্ভস্থ রেলপথ, মাস্টার স্ট্রোক ভারতের

    Chicken’s Neck: মাটির তলা দিয়েই যাবে সেনার রসদ! চিকেন’স নেক রক্ষায় ভূগর্ভস্থ রেলপথ, মাস্টার স্ট্রোক ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের কৌশলগতভাবে সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর অন্যতম ‘চিকেন’স নেক’ (Chicken’s Neck) বা শিলিগুড়ি করিডর। দীর্ঘদিন ধরেই এই সংকীর্ণ ভূখণ্ড ভারতের জন্য এক বড় দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এবার সেই দুর্বলতাকেই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিলিগুড়ি করিডরের প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশে ভূগর্ভস্থ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেলমন্ত্রী জানান, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ রক্ষায় এই করিডরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান রেললাইন চার লাইনে উন্নীত করার পাশাপাশি ২০–২৪ মিটার গভীরে ভূগর্ভস্থ রেলপথ বসানোর কাজ চলছে। এই ভূগর্ভস্থ রেললাইনটি পশ্চিমবঙ্গের তিন মাইল হাট থেকে রাঙাপানি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

    কেন তিন মাইল হাট–রাঙাপানি?

    ভৌগোলিক কারণেই রাঙাপানি ও তিন মাইল হাট এই দুই স্টেশনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তিন মাইল হাট শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে এবং বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি। বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা এখান থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে এই অংশটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ। চিকেন নেকের (Chicken’s Neck) সুরক্ষায় বছর দেড়েক আগেই কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ (Underground railway) তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই প্রস্তাব মেনে স্পর্শকাতর এলাকায় সমীক্ষাও করে রেল ও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের যৌথ দল। মাস ছয়েক আগে সেই সমীক্ষা রিপোর্ট জমা হয় কেন্দ্রের কাছে। সেইমতো উত্তর দিনাজপুরের তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ির রাঙাপানি পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ তৈরির কথা ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। সেনা সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ রেলপথ অসম পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হতে পারে। জাতীয় সুরক্ষায় ওই রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই জানিয়েছেন সেনাকর্তারা।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন’স নেক’?

    চিকেন’স নেক হল প্রায় ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড, যা ভারতের মূল অংশকে আটটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে। জাতীয় সড়ক, রেললাইন, জ্বালানি পাইপলাইন এবং সামরিক রসদের প্রধান সরবরাহ পথ এই করিডরের মধ্য দিয়েই যায়। এই করিডরের দক্ষিণে বাংলাদেশ, পশ্চিমে নেপাল এবং উত্তরে চিনের চুম্বি ভ্যালি। চুম্বি ভ্যালিতে চিনের সেনাবাহিনীর কৌশলগত সুবিধা থাকায় সংকটের সময় একাধিক দিক থেকে চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। এই করিডরে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই উত্তর-পূর্ব ভারত কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে ভারতের সামরিক অবস্থানেও।

    ভূগর্ভস্থ রেল কেন এত জরুরি?

    রেলপথই দ্রুততম পণ্য ও সেনা পরিবহণের মাধ্যম—একটি মালবাহী ট্রেন প্রায় ৩০০টি ট্রাকের সমান বোঝা বহন করতে পারে। বর্তমানে চিকেন’স নেকের বেশিরভাগ পরিকাঠামোই ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত, যা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ উন্নিথান জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ রেলপথ হলে আকাশ, আর্টিলারি বা ড্রোন হামলা থেকে তা অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে। সংঘর্ষের পরিস্থিতিতেও সেনা, জ্বালানি ও জরুরি সামগ্রীর নিরবচ্ছিন্ন পরিবহণ সম্ভব হবে। তাঁর কথায়, “ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামো শনাক্ত করা কঠিন এবং প্রথম আঘাত সামলানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর।”

    আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

    গত এক দশকে চিন ডোকলাম ও অরুণাচল সীমান্তে ব্যাপক পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কিছু চরমপন্থী মহল থেকে চিকেন’স নেক বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও শোনা গেছে। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের রংপুরের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ—যা শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি—নয়াদিল্লির কৌশলগত মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    ভারতের পাল্টা প্রস্তুতি

    এই পরিস্থিতিতে ভারতও একাধিক পদক্ষেপ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরায় থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিগুলি ফের চালু করা হচ্ছে। বাংলার চোপড়া, বিহারের কিশানগঞ্জ ও অসমের লাচিত বরফুকনে নতুন সেনাঘাঁটি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, হলদিয়ায় একটি নতুন নৌঘাঁটি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। গত বছর রেলভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার থেকে ‘অগ্নি প্রাইম’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত, যা রেলপথে ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহণ ও মোতায়েনের সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

    শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব স্পষ্ট

    শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব যে দিল্লির কাছে কতটা, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। রেলের অন্দরমহলের খবর, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড করিডর’-এর সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপও করা হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে সুড়ঙ্গপথ তৈরি করা যায়, তার জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের বিশেষ দল গড়বে রেল। রেলমন্ত্রী স্পষ্টই জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের জন্য টাকার কোনও অভাব হবে না। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল ইতিমধ্যেই ডিপিআর তৈরির কাজ শুরু করেছে। যেহেতু শিলিগুড়ির মাটি পাথুরে নয় এবং এলাকাটি সমতল, তাই এখানে টানেলের জন্য মাটি কাটা অনেক সহজ হবে। রেলের বাস্তুকারদের দাবি, কাজ শুরু হলে খুব দ্রুতই সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শেষ করা যাবে।

    যুদ্ধের সময় সেনার ‘লাইফলাইন’

    এই প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি করিডরে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণ শুধুমাত্র একটি পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নয় এর গুরুত্ব ব্যাপক। চিন ও বাংলাদেশের দিক থেকে সম্ভাব্য দ্বিমুখী চাপের মুখে দীর্ঘদিনের কৌশলগত দুর্বলতাকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয়ে রূপান্তর করার দিকেই ভারতের এই উদ্যোগ। এক কথায়, ‘চিকেন’স নেক’কে দুর্বল গলা নয়, এবার শক্ত মেরুদণ্ডে পরিণত করার পথে এগোচ্ছে ভারত। যুদ্ধের সময় সেনার ‘লাইফলাইন’ হতে পারে ওই সুড়ঙ্গপথ। প্রাক্তন সেনাকর্তারা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন আর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কত ট্যাঙ্ক বা সেনা পাঠানো হচ্ছে সব ওপর থেকে দেখে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু মাটির নীচে রেললাইন থাকলে শত্রুর চোখে ধুলো দেওয়া সহজ হবে। সুড়ঙ্গপথে সেনা আর রসদ সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া যাবে। বাগডোগরা বিমানঘাঁটি কাছে থাকলেও খারাপ আবহাওয়ায় আকাশপথ সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়। তাই অনেকসময় রেলই হয়ে ওঠে মূল ভরসা।

    চিকেনস নেক ঘিরে নয়া নিরাপত্তা বলয়

    ইতিমধ্যে চিকেনস নেক ঘিরে নয়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। নতুন ডিজাইনের বেড়ায় ঢেকেছে ৭৫ শতাংশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা। আধুনিক বেড়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শক্তিশালী নজরদারি ক্যামেরা এবং উন্নত এরিয়া ডমিনেশন ব্যবস্থা। সীমান্তে পাতা পড়লেও এখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নজরে আসবে। সেই সঙ্গে আত্মরক্ষার জন্য ঢাল করা হয়েছে এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম। রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে সীমান্তে। এছাড়াও ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত চিকেনস নেক রক্ষায় বাংলাদেশ সীমান্তের পাশে অসমের ধুবড়ি সংলগ্ন বামুনি, বিহারের কিশনগঞ্জ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকায় তিনটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে।

    চিকেনস নেক মাস্টারস্ট্রোক দিল মোদি সরকারের

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভারতকে দুর্বল করতে শিলিগুড়ি করিডরকেই পাখির চোখ করেছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। তিনটি দেশের সীমান্ত এক জায়গায় মেশায় এই পথে অস্ত্রশস্ত্র, মাদক ও জাল নোট ভারতে পাচার করার ছক কষেছে জঙ্গিরা! পাশাপাশি সীমান্তের ছিদ্রপথে সন্ত্রাসবাদীদের এদেশে প্রবেশের রাস্তা তৈরি করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এই চিকেনস নেক টার্গেট পাকিস্তানেরও। এই অঞ্চলকে ভারতের থেকে আলাদা করে দিতে চায় চিনও। ওই কারণে ভারতীয় বিমান বাহিনীর জরুরি অপারেশনাল সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পাঁচটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ অথবা বিমানঘাঁটি চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে নয়াদিল্লি। এবার মাটির তলায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার স্ট্র্যাটেজিক রেল করিডর গড়ার কথা ঘোষণা রেল মন্ত্রকের। বাংলাদেশের ইউনূস সরকারের ‘শকুনের চোখ’ শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেন’স নেক-এর দিকে। বার বার উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রসঙ্গ টেনেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। ভারত তো আর চুপ করে বসে থাকবে না। ইতিমধ্যেই চিকেনস নেক-এ সেনা বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। এবার রেলপথেও মাস্টার স্ট্রোক দিল মোদি সরকার। যার নির্যাস, শত্রুরা কোনও ভাবে হামলা করলেও রেল যোগাযোগে সেনার কাছে সহজেই রসদ পৌঁছে যাবে। রেলপথে কোনও প্রভাব পড়বে না।

  • RSS: “সংঘকে বুঝতে হলে অনুভব করতে হবে, সকল স্বয়ংসেবকদের স্বতন্ত্রতা দেয় সংঘ”, বার্তা মোহন ভাগবতের

    RSS: “সংঘকে বুঝতে হলে অনুভব করতে হবে, সকল স্বয়ংসেবকদের স্বতন্ত্রতা দেয় সংঘ”, বার্তা মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভাগ্যনগরে (হায়দরাবাদ) ‘সংঘের ১০০ বছরের যাত্রা–নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের উদ্দেশে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (RSS) সঠিকভাবে বোঝার জন্য সংঘের অংশ হয়ে সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করা প্রয়োজন। স্বয়ংসেবকদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে না সংঘ। সম্পূর্ণ স্বায়ত্ত শাসনের দ্বারা সকলে কাজ করেন। সংঘের আদর্শ এবং মূল্যবোধের দ্বারা কাজ করে প্রত্যেক স্বয়ংসেবক।”

    সংঘকে বোঝা সহজ নয় (RSS)

    সংঘের (RSS) কাজ গত ১০-২০ বছরে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভাগবত সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “সংঘকে বোঝা সহজ কাজ নয় এবং সমাজে সংঘের সমতুল্য অন্য কোনও প্রকার কাজ নেই। ওপর ওপর দেখে বিচার করলে সংঘ (Mohan Bhagwat) সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই সংঘের অংশ হয়েই এর কাজকে প্রকৃতভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব। সংঘের শাখায় এসে সংঘের আদর্শকে বুঝতে হবে।”

    ব্যক্তি গঠন ও দেশ গড়া

    ভাগবত জানান, সংঘের (RSS) মূল নীতি হল ব্যক্তির চরিত্র গঠন, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হল, একটি শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র নির্মাণ করা। সংঘ সম্পূর্ণভাবে এই কাজের ওপরই আলোকপাত করে। ব্যক্তি যে ভাবে নির্মিত হয় তাঁকে সেই ভাবেই জীবন যাপন করতে হয়। এই কাজে অনেক সময় নেয় কিন্তু দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় কাজ করতে পারেন উক্ত ব্যক্তি। সংঘ সব সময় ব্যক্তি নির্মাণের উপর কাজ করে। ব্যক্তি নির্মাণ হলে তবেই সংঘের আদর্শ বাস্তবায়ন হয়।

    সেবামূলক কাজের ধরণ

    সর সংঘ সঙ্ঘ (RSS) চালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “বর্তমানে স্বয়ংসেবকরা সারা দেশে ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি ছোট-বড় সেবা কেন্দ্র পরিচালনা করছেন। সংঘ কেবল একটি সেবা সংস্থা নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। শাখাগুলোতে লাঠি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও এটি কোনও সাধারণ আখড়া নয়। একইভাবে সংঘের নিয়ম শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর মতো হলেও এটি কোনও প্রকার আধাসামরিক বাহিনী নয়।”

    পঞ্চ পরিবর্তন

    জাতির সর্বাঙ্গীণ উন্নতির জন্য মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) পাঁচটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। যথা-

     ১. কুটুম্ব প্রবোধন: ভজন, ভোজন, ভাষা, ভূষা, ভবন ও ভ্রমণের মাধ্যমে পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। ২. পরিবেশ সুরক্ষা: পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য কাজ করা। ৩. সামাজিক সমরসতা: জাতিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ৪. স্বদেশী: দেশীয় পণ্য ব্যবহার ও স্বনির্ভরতা। ৫. নাগরিক কর্তব্য: সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করা।

    সাংস্কৃতিক জাগরণ

    আরএসএস (RSS) প্রধান ভাগবত স্পষ্ট করে বলেন, “সংঘ কোনো রাজনৈতিক লাভালাভের জন্য কাজ করে না। এর মূল লক্ষ্য হলো সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে সঠিক মানসিকতার মানুষ ও সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা।”

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

    ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “প্রতিটি দেশ তার জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী চলে এবং ভারতকেও নিজের স্বার্থে আপষহীন হতে হবে। ভারত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী হলেই বিশ্ব দরবারে প্রভাব ফেলতে পারবে।”

    ভাগবত পরিশেষে বলেন, সংঘের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। সমাজকে জাগ্রত করার এই প্রক্রিয়া জারি থাকবে। যারা সংঘের (RSS) মতো কাজ স্বতন্ত্রভাবে করছেন, তাদের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা জানান। তিনি আহ্বান জানান, সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যেন নিজেদের আচরণের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করেন, যাতে সমাজ তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারে।

  • S Jaishankar: যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তির পর এবার লক্ষ্য ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, আমেরিকায় পর পর বৈঠক জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তির পর এবার লক্ষ্য ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, আমেরিকায় পর পর বৈঠক জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তি (India-US Trade Deal)। এর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ৩ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা সফরে গিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। এই সফরের মাধ্যমে তিনি একটি স্পষ্ট বার্তা দেন, দুটি গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এখন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে ক্রিটিক্যাল মিনারেলস্ (Critical Minerals) একটি মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে।

    আমেরিকায় জয়শঙ্কর

    ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমেরিকায় রয়েছেন জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। এই পর্বে তিনি একের পর এক বৈঠক করেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে। এই সময় নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন বাণিজ্য, জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার দিকে অগ্রসর হয়। তাঁর এই সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে যখন এর আগের দিনই ট্রাম্প মোদির সঙ্গে আলোচনার পর ভারতের সঙ্গে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তির (India-US Trade Deal) কথা ঘোষণা করেন। ওই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। এই শুল্কছাড়কে বিশেষ করে উৎপাদন, ওষুধ শিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ভারতীয় রফতানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে । ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির আধিকারিকরা এই চুক্তিকে বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং নিয়ন্ত্রক বাধা কমানোর ভিত্তি হিসেবে দেখছেন।

    জয়শঙ্করের বার্তা

    জয়শঙ্কর (S Jaishankar) এই চুক্তিকে দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পোন্নয়নের প্রসঙ্গে। তিনি একে সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভারতের উৎপাদন খাতকে আরও মজবুত করবে এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধিকে সাহায্য করবে। সফরের শুরুতেই তিনি ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। আধিকারিকদের মতে, রাজনৈতিক সমঝোতাকে বাস্তব নীতিতে রূপ দিতে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রবিবার ঘোষিত বাণিজ্য চুক্তির খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে এই আলোচনাকে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকের পর এক্স হ্যান্ডেলে জয়শঙ্কর (S Jaishankar) লেখেন, “অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আধিকারিকরা জানান, বৈঠকে বাণিজ্য সরলীকরণ, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং নিয়ন্ত্রক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে নতুন চুক্তি কার্যকর নিশ্চিত করা যায়।

    জয়শঙ্কর-রুবিও বৈঠক

    ট্রেজারি দফতরের সঙ্গে এই যোগাযোগকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপ দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরের দিনেই জয়শঙ্কর (S Jaishankar) মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উভয়পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মার্কিন বিদেশ দফতর জানায়, “আজ বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। উভয়পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) অনুসন্ধান, খনন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “রুবিও এবং জয়শঙ্কর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং অভিন্ন জ্বালানি নিরাপত্তা লক্ষ্যে অগ্রসর হতে দুই গণতান্ত্রিক দেশের একসঙ্গে কাজ করাও অত্যন্ত জরুরি।”

    অভিন্ন স্বার্থ

    দু’পক্ষই কোয়াডের মাধ্যমে সহযোগিতা সম্প্রসারণে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এ ব্যাপারে তাঁরা একমত হন যে সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল আমাদের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার জন্য অপরিহার্য। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জয়শঙ্কর (S Jaishankar) জানান, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়, এবং ভারত–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্বের বিভিন্ন স্তম্ভ, যেমন, বাণিজ্য, জ্বালানি, পারমাণবিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, “উভয় পক্ষই যৌথ অগ্রাধিকারগুলি এগিয়ে নিতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় দ্রুত বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে।” রুবিও তাঁর পোস্টে জানান, আলোচনার মূল ফোকাস ছিল গুরুত্বপূর্ণ খনিজে সহযোগিতা এবং নয়া অর্থনৈতিক সুযোগ উন্মোচন, এবং তিনি বাণিজ্য চুক্তিকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ওপর বাড়তি গুরুত্ব

    অপরিহার্য খনিজের (Critical Minerals) ওপর বাড়তি গুরুত্ব উভয় রাজধানীতেই কৌশলগত উদ্বেগের প্রতিফলন—বিশেষ করে সীমিত সংখ্যক সরবরাহকারীর ওপর, প্রধানত চিনের ওপর নির্ভরতার কারণে। মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা শিল্প, উন্নত প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরের জন্য অপরিহার্য খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সক্রিয় করতে চান রুবিও। বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিনিস্টেরিয়ালে’র আয়োজন করছে। এতে ৫০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন, যার লক্ষ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের বৈচিত্র্য ও সমন্বয় বাড়ানো। সফরের অংশ হিসেবে জয়শঙ্করেরও (S Jaishankar) এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা। সম্প্রতি মার্কিন স্বরাষ্ট্রসচিব ডাগ বার্গাম জানান, খনিজ  সরবরাহে চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রস্তাবিত একটি জোটে যোগ দিতে প্রায় ৩০টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে, এবং আরও অন্তত ২০টিও দেশ এতে প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই দেশের আধিকারিকদের মতে, জয়শঙ্করের ওয়াশিংটন সফর ভারত–আমেরিকার সম্পর্ককে কেবলমাত্র বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষার গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আলোচনায় অর্থনৈতিক সংযুক্তির পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতা, পারমাণবিক অংশীদারত্ব, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলিও উঠে আসে। বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজে সহযোগিতার উদ্যোগ যুক্ত করে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক (India-US Trade Deal) স্বার্থকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে চাইছে।

     

  • US Trade Deal: কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট কেন্দ্রের

    US Trade Deal: কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য আলোচনা (US Trade Deal) ডকুমেন্টেশনের পর্যায়ে এগোচ্ছে। তবে কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজেদের দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থানই বজায় রাখবে ভারত, এমনটাই (Agriculture Dairy) ইঙ্গিত মিলল সরকারের শীর্ষ কর্তাদের তরফে। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, সংবেদনশীল কৃষি খাতগুলিকে বড় ধরনের বাজার উন্মুক্তকরণ সংক্রান্ত কোনও প্রতিশ্রুতির আওতায় আনা হবে না।

    কৃষিপণ্য ও দুগ্ধ খাত (US Trade Deal)

    সংবেদনশীল কৃষিপণ্য ও দুগ্ধ খাতকে চুক্তির আওতার বাইরে রাখার বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান অপরিবর্তিতই রয়েছে। এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “যে অবস্থান ছিল, সেটাই রয়েছে।” তিনি বলেন, “কৃষি ও দুগ্ধ খাতে সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে আমাদের প্রচলিত অবস্থানই বজায় থাকবে। আমাদের কৃষকদের স্বার্থ কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ করা হবে না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে ওই খাতগুলির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

    বাণিজ্য চুক্তি

    প্রসঙ্গত, এই বক্তব্যটি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন এর একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির লক্ষ্য হল, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কার্যকর হতে চলা পারস্পরিক শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নামবে এবং ভারতের বাজারে প্রবেশকারী মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে। তবে নয়াদিল্লির কর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উভয় পক্ষের আলোচকরা এখনও চুক্তির সূক্ষ্ম শর্তাবলি ও আনুষ্ঠানিক নথি চূড়ান্ত করার কাজেই ব্যস্ত রয়েছেন (Agriculture Dairy)।

    দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন

    ভারতের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকা কৃষি ও দুগ্ধ খাতের সঙ্গে যুক্ত। লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এই খাতগুলির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে দুগ্ধ খাত মূলত ছোট, পারিবারিক স্তরের উৎপাদকদের দখলে—বড় কর্পোরেট খামার নয়। নীতিনির্ধারক ও মুক্ত বাণিজ্যের সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে— যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলির ভর্তুকিপ্রাপ্ত, বৃহৎ আকারের কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য ভারতীয় বাজার খুলে দিলে দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানে ধস নামতে পারে (US Trade Deal)। কৃষি খাতে অধিকতর প্রবেশাধিকার দিতে ভারতের অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বারবার সংঘাতের কারণ হয়েছে। দুগ্ধ ও সয়াবিনের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল খাত খুলে দিতে নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে, যদিও অন্যান্য আলোচনায় নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রে বাজারে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। সূত্রের খবর, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কাঠামোর আওতায় কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে (Agriculture Dairy)।

    চুক্তির অংশ

    এই চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্যভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করবে—এমন দাবিও করেছেন ট্রাম্প। তবে ভারতীয় সরকারি সূত্র এই দাবি খারিজ করে ‘মানুষ-প্রথম’ এবং বাজারনির্ভর জ্বালানি নিরাপত্তা নীতির কথা আবারও একবার জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন কর্তাদের। সরকারি এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “যে বাজারে সবচেয়ে ভালো চুক্তি পাওয়া যাবে এবং যেসব সংস্থা নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই, সেখান থেকেই আমরা তেল কিনব। আমাদের কৌশল নির্ধারিত হবে বাজারদরের ভিত্তিতে।” বিশ্বের তৃতীয় (US Trade Deal) বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ ভারত বর্তমানে রুশ অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করে, যা মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। অন্তত এমনটাই জানিয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষক সংস্থা ক্লেপলারের তথ্য।

    ভারতের অবস্থান

    এই অবস্থান ভারতের পরিশোধন শিল্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপেও প্রতিফলিত হয়েছে। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নিষেধাজ্ঞামুক্ত সরবরাহকারীদের মাধ্যমে ছাড়ে রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা আবার শুরু করেছে এবং সেই তেল গুজরাটের জামনগর শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে। দেশের বৃহত্তম রিফাইনারি সংস্থাটি আফ্রাম্যাক্স ট্যাঙ্কার ভাড়া করেছে এবং রুশ এক্সপোর্টের মতো সংস্থা থেকে তেল সংগ্রহ করে দৈনিক ৬ লক্ষ ৬০ হাজার ব্যারেল ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটে সরবরাহ করছে, যা মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটায় (Agriculture Dairy)। আধিকারিকরা বলেন, “নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলি থেকে ভারত তেল কিনবে না, তবে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় সেখান থেকে আমদানি পুনরায় শুরু হবে।” এক আধিকারিক বলেন, “নিষেধাজ্ঞা থাকাকালীন আমরা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনিনি। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে, তাই আমরা কিনব (US Trade Deal)।”

    ট্রাম্পের দাবি

    ট্রাম্পের আরও দাবি, ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—যার মধ্যে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা ও অন্যান্য খাত অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি শুল্ক ও অশুল্ক বাধা তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য, এই বিপুল অঙ্কটি মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিমান কেনা এবং সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকে নির্দেশ করে, তাৎক্ষণিক আমদানির বাধ্যবাধকতাকে নয় (Agriculture Dairy)। এর আগে এক আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন, “মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি ওষুধ, টেলিকম, প্রতিরক্ষা, পেট্রোলিয়াম ও বিমান খাতের মতো ক্ষেত্রগুলির অন্তর্ভুক্ত। এটি বহু বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।” সরকারের দাবি, প্রস্তাবিত এই চুক্তি ভারতের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানি বছরে প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়ে ৮৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি হয়েছে ৪৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (US Trade Deal)।

    তবে আপাতত নয়াদিল্লি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে সংবেদনশীল কৃষি খাতগুলিকে আলোচনার টেবিলের বাইরে রাখা হবে। বার্তা পরিষ্কার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে ভারত আগ্রহী হলেও, দেশের কৃষকদের জীবিকার (Agriculture Dairy) সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা হবে না।

     

LinkedIn
Share