Blog

  • Daily Horoscope 22 May 2026: কাজের চাপ বাড়লেও সফল হবেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 22 May 2026: কাজের চাপ বাড়লেও সফল হবেন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১. আজ কর্মক্ষেত্রে নতুন সুযোগ আসতে পারে।
    ২. পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকবে।
    ৩. অর্থ ব্যয়ে একটু সতর্ক থাকুন।

    বৃষ

    ১. পুরনো কাজের ভালো ফল মিলতে পারে।
    ২. বন্ধুদের সাহায্য পাবেন।
    ৩. মানসিক শান্তি বজায় থাকবে।

    মিথুন

    ১. কাজের চাপ বাড়লেও সফল হবেন।
    ২. নতুন পরিচয় লাভজনক হতে পারে।
    ৩. ভ্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    কর্কট

    ১. পরিবারের তরফে সুখবর আসতে পারে।
    ২. অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে।
    ৩. স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন।

    সিংহ

    ১. আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।
    ২. গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সাফল্য মিলবে।
    ৩. রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

    কন্যা

    ১. কর্মক্ষেত্রে প্রশংসা পাবেন।
    ২. শিক্ষার্থীদের জন্য শুভ দিন।
    ৩. পুরনো বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ হতে পারে।

    তুলা

    ১. খরচ কিছুটা বাড়তে পারে।
    ২. প্রেমের সম্পর্কে সুখ থাকবে।
    ৩. পরিবারের সমর্থন পাবেন।

    বৃশ্চিক

    ১. নতুন পরিকল্পনায় সাফল্য আসবে।
    ২. প্রতিযোগিতায় জয় লাভ করবেন।
    ৩. আর্থিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

    ধনু

    ১. শুভ সংবাদ পেতে পারেন।
    ২. ভ্রমণের যোগ রয়েছে।
    ৩. ধর্মীয় কাজে মন বসবে।

    মকর

    ১. কাজের চাপ বাড়বে।
    ২. অর্থনৈতিক দিক শক্তিশালী থাকবে।
    ৩. পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটবে।

    কুম্ভ

    ১. নতুন কাজে লাভ হতে পারে।
    ২. বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটবে।
    ৩. শরীরের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

    মীন

    ১. আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
    ২. ধৈর্য ধরলে কর্মক্ষেত্রে লাভ হবে।
    ৩. সন্ধ্যার পর সুখবর মিলতে পারে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 652: “দুই নৌকায় পা দিয়ে কি হবে, কাজ সেরে আসাই ভাল…যিনি কালী ঠিক চিনেছেন, তাঁকে দর্শন করলেই হবে”

    Ramakrishna 652: “দুই নৌকায় পা দিয়ে কি হবে, কাজ সেরে আসাই ভাল…যিনি কালী ঠিক চিনেছেন, তাঁকে দর্শন করলেই হবে”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৩ই এপ্রিল

    ঈশ্বরকোটির কি কর্মফল, প্রারব্ধ আছে? যোগবাশিষ্ঠ

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) সঙ্কেত করিয়া বলিতেছেন, “বেশ মা মা বলছে!”

    ব্রাহ্মণীর ছেলেমান্‌সের স্বভাব। ঠাকুর হাসিয়া রাখালকে ইঙ্গিত করিতেছেন, “ওকে গান গাইতে বল না।” ব্রাহ্মণী গান গাইতেছেন। ভক্তেরা হাসিতেছেন (Kathamrita)।

    ‘হরি খেলব আজ তোমার সনে,
    একলা পেয়েছি তোমায় নিধুবনে।’

    মেয়েরা উপরের ঘর হইতে নিচে চলিয়া গেলেন।

    বৈকাল বেলা। ঠাকুরের কাছে মণি ও দু-একটি ভক্ত বসিয়া আছেন। নরেন্দ্র ঘরে প্রবেশ করিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) ঠিকই বলেন, নরেন্দ্র যেন খাপখোলা তলোয়ার লইয়া বেড়াইতেছেন।

    সন্ন্যাসির কঠিন নিয়ম ও নরেন্দ্র

    নরেন্দ্র আসিয়া ঠাকুরের কাছে বসিলেন। ঠাকুরকে শুনাইয়া নরেন্দ্র মেয়েদের সম্বন্ধে যৎপরোনাস্তি বিরক্তিভাব প্রকাশ করিতেছেন। মেয়েদের সঙ্গ ঈশ্বরলাভের ভয়ানক বিঘ্ন, — বলিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) কোন কথা কহিতেছেন না, সকলি শুনিতেছেন।

    নরেন্দ্র আবার বলিতেছেন, আমি চাই শান্তি, আমি ইশ্বর পর্যন্ত চাই না। শ্রীরামকৃষ্ণ নরেন্দ্রকে একদৃষ্টে দেখিতেছেন। মুখে কোন কথা নাই। নরেন্দ্র মাঝে মাঝে সুর করিয়া বলিতেছেন — সত্যং জ্ঞানমনন্তম্‌।

    রাত্রি আটটা। ঠাকুর শয্যাতে বসিয়া আছেন, দু-একটি ভক্তও সম্মুখে বসিয়া। সুরেন্দ্র আফিসের কার্য সারিয়া ঠাকুরকে দেখিতে আসিয়াছেন, হস্তে চারিটি কমলালেবু ও দুইছড়া ফুলের মালা। সুরেন্দ্র ভক্তদের দিকে এক-একবার ও ঠাকুরের দিকে এক-একবার তাকাইতেছেন; আর হৃদয়ের কথা সমস্ত বলিতেছেন (Kathamrita)।

    সুরেন্দ্র (মণি প্রভৃতির দিকে তাকাইয়া) — আফিসের কাজ সব সেরে এলাম। ভাবলাম, দুই নৌকায় পা দিয়ে কি হবে, কাজ সেরে আসাই ভাল। আজ ১লা বৈশাখ, আবার মঙ্গলবার; কালীঘাটে যাওয়া হল না। ভাবলাম যিনি কালী — যিনি কালী ঠিক চিনেছেন, তাঁকে দর্শন করলেই হবে।

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ঈষৎ হাস্য করিতেছেন।

    সুরেন্দ্র — গুরুদর্শনে, সাধুদর্শনে শুনেছি ফুল-ফল নিয়ে আসতে হয়। তাই এগুলি আনলাম। আপনার জন্যে টাকা খরচ, তা ভগবান মন দেখেন। কেউ একটি পয়সা দিতে কাতর, আবার কেউ বা হাজার টাকা খরচ করতে কিছুই বোধ করে না। ভগবান মনের ভক্তি দেখেন তবে গ্রহণ করেন।

    ঠাকুর মাথা নাড়িয়া সঙ্কেত করিয়া বলিতেছেন (Kathamrita) , “তুমি ঠিক বলছ।” সুরেন্দ্র আবার বলিতেছেন, “কাল আসতে পারি নাই, সংক্রান্তি। আপনার ছবিকে ফুল দিয়ে সাজালুম।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) মণিকে সঙ্কেত করিয়া বলিতেছেন, “আহা কি ভক্তি!”

    সুরেন্দ্র — আসছিলাম, এই দুগাছা মালা আনলাম, চার আনা দাম।

    ভক্তেরা প্রায় সকলেই চলিয়া গেলেন। ঠাকুর মণিকে পায়ে হাত বুলাইয়া দিতে বলিতেছেন ও হাওয়া করিতে বলিতেছেন।

  • PM Modi: ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ, মন্ত্রিসভার রদবদল! প্রধানমন্ত্রী মোদির সভাপতিত্বে বৈঠক দিল্লিতে

    PM Modi: ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ, মন্ত্রিসভার রদবদল! প্রধানমন্ত্রী মোদির সভাপতিত্বে বৈঠক দিল্লিতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই দিল্লির ‘সেবা তীর্থে’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছে। এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার বিকেলের এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীরা। চলতি বছরে এটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE), নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালি— পাঁচ দেশে ছয় দিনের সফর শেষে এই বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যদের নিয়ে বৈঠক

    বিদেশ সফর শেষ করে এদিন দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। দেশে ফিরেই তিনি বৈঠকে যোগ দেন। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ইস্যু, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যকে। শুধু পূর্ণমন্ত্রী নন, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদেরও উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। এমনকি বিভিন্ন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানির দাম এবং আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। ফলে কেন্দ্র সরকার এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় বলে সূত্রের খবর অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে যে, কিছু নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিও এই মুহূর্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে। বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে বাংলা থেকে কাউকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

  • Pulwama Attack: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে খতম পুলওয়ামা হামলার মূলচক্রী! ফের পাকভূমে ভারত-বিরোধী জঙ্গি নিধন

    Pulwama Attack: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে খতম পুলওয়ামা হামলার মূলচক্রী! ফের পাকভূমে ভারত-বিরোধী জঙ্গি নিধন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে খতম পুলওয়ামা হামলার মূলচক্রী (Pulwama attack mastermind dead) হামজা বুরহান (Hamza Burhan)। বৃহস্পতিবার মুজাফ্ফরবাদে একদল অজ্ঞাত পরিচয় যুবক তাকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায়। এরপরই মৃত্যু তার। দীর্ঘদিন ধরে ভারত বিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হামজা বুরহানের মৃত্যুতে দক্ষিণ কাশ্মীরের জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

    পুলওয়ামা থেকে পাকিস্তান যাত্রা হামজার

    পুলওয়ামার রত্নীপোরা এলাকার খারবাতপোরায় জন্মগ্রহণ করে হামজা। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য সে পাকিস্তানে পাড়ি দেয়। সেখানেই সে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-বদরে যোগ দেয়। কয়েকদিনের মধ্যে সে কমান্ডার পদে উন্নীত হয়। এরপর সে পুলওয়ামায় ফিরে আসে। সেখানেই সে যুবকদের মগজধোলাই করে জঙ্গি বানানোর কাজে নিয়োজিত হয়। জানা যায়, পুলওয়ামা থেকে শোপিয়ান পর্যন্ত হামজার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল। পুলওয়ামা হামলা ছাড়াও জম্মু ও কাশ্মীরে বেশ কিছু সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত ছিল হামজা। বিশেষভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কাশ্মীরি যুবকদের বিপথে চালিত করার পেছনে তার বড় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ। পুলওয়ামার বাসিন্দা হামজা ‘ডাক্তার’ নামে পরিচিত ছিল। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাকে জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত করে। হামজার আসল নাম আরজুমান্দ গুলজার দার।

    পুলওয়ামায় হামলাকারীদের বিস্ফোরক জুগিয়েছিল হামজা 

    ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা। প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪০ জন সেনা জওয়ান। পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। এই হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে হামজা বুরহানকে চিহ্নিত করেছিল ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছিল, পুলওয়ামায় হামলাকারীদের গ্রেনেড, বিস্ফোরক জুগিয়েছিল হামজা। ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর সিআরপিএফ জওয়ানের উপরে হামলার ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছিল তার। তার পরে দীর্ঘ তল্লাশি চলে। কিন্তু হামজা কোনও মতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়।

    কীভাবে পাকিস্তানে নিরাপদে আশ্রয়

    ভারতে এত বড় নাশকতা চালানোর পর নিজের আসল পরিচয় লুকাতে পাকিস্তানে ‘শিক্ষক’ সেজে লুকিয়ে ছিল সে। এমনকী জানা গিয়েছে, সমাজের চোখে ধুলো দিতে সে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকও বনে গিয়েছিল। ওই স্কুলটিকে সে নিজের আত্মরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করত। অভিযোগ, ভারতের বিরুদ্ধে এত সব নাশকতামূলক কাজ করার জন্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তাকে সব রকম সাহায্য করত। মুজফফরাবাদে তাকে একটি অফিসও দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই তাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এখনও কোনও জঙ্গি সংগঠন তার দায় স্বীকার করেনি। সেখানেই তাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এখনও কোনও জঙ্গি সংগঠন তার দায় স্বীকার করেনি। গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বেছে বেছে ‘ভারতশত্রু’দের খতম করা হচ্ছে। কিন্তু এর নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে, সেটাই বড় প্রশ্ন।

  • RG kar Case: ৩ সদস্যের সিট গঠিত, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শুরু, আরজি কর মামলায় পুনরায় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

    RG kar Case: ৩ সদস্যের সিট গঠিত, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শুরু, আরজি কর মামলায় পুনরায় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর (RG kar Case) হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্যাতিতার পরিবারের তোলা অভিযোগ ও দাবিগুলি খতিয়ে দেখতে সিবিআই-কে (CBI) পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই লক্ষ্যে সিবিআই-এর একজন জয়েন্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শুরুর নির্দেশ

    আদালত জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফের তদন্ত শুরু করবে সিট। ঘটনার দিন রাতের ডিনার থেকে শুরু করে মৃতদেহ দাহ এবং প্রমান লোপাট সহ সব বিষয়ের তদন্ত হবে। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, অপরাধের বীভৎসতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২৪ জুন, বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই নবগঠিত বিশেষ দলটিকে আদালতে তাদের তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিশদ রিপোর্ট পেশ করতে হবে।

    পুনরায় পরিদর্শনে যাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা (RG kar Case)

    আদালতের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—

    • ঘটনাস্থল পুনঃপরিদর্শন: সিবিআই-এর (CBI) বিশেষ তদন্তকারী দলকে পুনরায় আরজি কর হাসপাতালের দুর্ঘটনাস্থলে যেতে হবে।
    • পরিবারের সঙ্গে সংযোগ: নির্যাতিতার (RG kar Case) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের অভিযোগ ও আশঙ্কার জায়গাগুলি বিশদভাবে শুনতে হবে।
    • তথ্য পুনর্মূল্যায়ন: মামলার যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ, নথিপত্র এবং পূর্ববর্তী কেস ডায়েরি নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে।

    তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

    উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানিতে (RG kar Case) ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই-এর কাছে কেস ডায়েরি, অডিও-ভিডিও প্রমাণ এবং আলোকচিত্রসহ সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি তলব করেছিল। গত মঙ্গলবার প্রাথমিক শুনানির পর আদালত নির্দেশ দেয় যে, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে তদন্তকারী আধিকারিককে (IO) সমস্ত নথিসহ সশরীরে হাজিরা দিতে হবে।

    মঙ্গলবার শুনানির সময় ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে সিবিআই-কে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। আদালত প্রশ্ন তোলে—তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বহিরাগতরা অকুস্থলে প্রবেশ করছে? এর পরেই সেমিনার রুমসহ আরজি কর হাসপাতালের সংবেদনশীল অংশগুলি অবিলম্বে সিল করার জন্য দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

    মামলার প্রেক্ষাপট

    প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট তারিখে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG kar Case) কর্তব্যরত এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যে আদালত আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। তবে মূল তদন্তের কিছু ফাঁকফোকর ও অন্যান্য রহস্য উদঘাটনের দাবি তুলে পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতার পরিবার।

    আইনি জটিলতার কারণে ইতিপূর্বে হাইকোর্টের তিনটি পৃথক বেঞ্চ এই মামলার শুনানি থেকে একে একে সরে দাঁড়ায়। গত ১২ মে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত শুনানির ওপর জোর দিয়ে এটি ছেড়ে দেন। এরপর প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেয় যে, নির্যাতিতার পরিবারের সমস্ত আবেদনের শুনানি একটি নতুন ডিভিশন বেঞ্চে হবে। সেই নির্দেশানুসারেই বর্তমানে মামলাটি বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন (CBI) রয়েছে।

  • Kolkata Pak Spy Case: জুতোর ব্যবসায়ী থেকে আইএসআই-এর গুপ্তচর! এনআইএ-র জালে কলকাতার জাফর, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

    Kolkata Pak Spy Case: জুতোর ব্যবসায়ী থেকে আইএসআই-এর গুপ্তচর! এনআইএ-র জালে কলকাতার জাফর, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে পাক গুপ্তচরবৃত্তির পর্দাফাঁস। খাস কলকাতায় এনআইএ-র জালে গুপ্তচর। গ্রেফতার কলকাতার এন্টালির বাসিন্দা জাফর রিয়াজ ওরফে রিজভি। কলকাতায় পারিবারিক জুতোর ব্যবসা ছিল জাফরের। দুটো কারখানাও ছিল। সেই জাফরই ব্যবসাপত্র ছেড়ে হয়ে ওঠে পাক গুপ্তচর! কীভাবে? তদন্তে নেমে এনআইএ-এর নামে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    কী জানাচ্ছে এনআইএ?

    এনআইএ জানিয়েছে, পাকিস্তানের লাহোরের মডেল টাউনের বাসিন্দা রাবিয়ার সঙ্গে ২০০৫ সালে বিয়ে হয় জাফরের। পারিবারিক পরিচয় সূত্রেই বিয়ে হয় দু’জনের। তার পরে ২০১২ সাল পর্যন্ত এন্টালিতে থাকত জাফর ও রাবিয়া। এর পরে একটি এক পথ দুর্ঘটনার পর জাফরের জুতো ব্যবসায় চরম ক্ষতি হয়। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার পর শারীরিক কারণে ব্যবসা চালাতে সমস্যার মুখে পড়ে জাফর। আর্থিক সমস্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। ওই সময়ে লাহোরের শ্বশুরবাড়ি থেকে জাফরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় পাকিস্তানে চলে যাওয়ার জন্য। সেই মতো ওই বছরেই প্রথমে স্ত্রী রাবিয়া ও দুই সন্তানকে লাহোরে রাবিয়ার বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় জাফর। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যারা বর্তমানে লাহোরের স্কুলেই পড়াশোনা করে। পরে কলকাতার সম্পত্তি বিক্রি করে পর্যটক ভিসা নিয়ে জাফর নিজেও পৌঁছে যায় লাহোরে।

    জাফরকে কাজে লাগায় আইএসআই

    সেই সময়ে জাফর পাকিস্তানের নাগরিকত্ব নেওয়ারও চেষ্টা করছিল। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগায় পাক গুপ্তচর সংস্থা। আর্থিক টোপ দিয়ে তাকে ভারতের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে লিপ্ত করা হয়। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, লাহোরেই বিদেশি নথিভুক্তিকরণ দফতরে আওয়াইশ নামে এক পাকিস্তানি আধিকারিকের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল জাফরের। জানা যাচ্ছে, ওই পাক আধিকারিকের সূত্র ধরেই পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। সেই থেকে পাক গুপ্তচর সংস্থার নির্দেশ মতোই চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ভারতে আসতে থাকে জাফর। এ দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ছবি, তথ্য পাক হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো শুরু করেন জাফর।

    নিয়মিত পাকিস্তান যাতায়াত শুরু…

    এরপর থেকেই পাকিস্তানে জাফরের নিয়মিত যাতায়াত শুরু হয়। এমনকি কলকাতা থেকে নিজের বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে দিল্লিতে এবং পরবর্তীতে পঞ্জাবে আস্তানা ছাড়ে জাফর। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ২০২২ সালে পঞ্জাব পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপের হাতে চরবৃত্তির অভিযোগেই গ্রেফতার হয় জাফর এবং তার সঙ্গী বিহারের মধুবনীর মহম্মদ সামসাদ। অমৃতসর স্টেশনের পাশে লেবু জল বিক্রির দোকান ছিল সামসাদের। তাকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্জাবের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য জাফর পাচার করছিল বলে অভিযোগ। পঞ্জাবে ঘাঁটি করেই এই কাজকর্ম চালাত জাফর। পরে ওই মামলায় জামিনও পেয়েছিল।

    পহেলগাঁওকাণ্ডেও জড়িত বলে সন্দেহ

    এমনকি, গত বছর পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরে পাকিস্তানি চরচক্রের খোঁজ করতে গিয়ে আবার উঠে আসে জাফরের নাম। পহেলগাঁও হামলার তদন্ত নেমে সিআরপিএফ কর্মী মোতিরাম জাটের নাম উঠে আসে। জঙ্গিহানার পাঁচ দিন আগেও পহেলগাঁওয়ে কর্মরত ছিল মোতিরাম। সেই মোতিরামের সঙ্গে পাক গুপ্তচরচক্রের যোগ পাওয়া গিয়েছিল। ধৃত মোতিরামকে জেরা করতে গিয়েই ফের উঠে আসে জাফরের নাম। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পাকিস্তানের এক গোয়েন্দা অফিসারকে ভারতীয় মোবাইল নম্বরের ওটিপি দিয়েছিল, যাতে হোয়্যাটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালু করা যায়। সেই নম্বর ব্যবহার করে ওই পাকিস্তানি অফিসার মোতিরাম জাট বলে একজনের সঙ্গে কথাবার্তা চালাত। মোতিরামও পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তি করত। তার বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে বলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

    ভারতের সিমকার্ড, ওটিপি পাঠিয়ে দিত আইএসআইকে

    তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, জাফর ভারতের বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর দফতর, সেনা ছাউনি এবং জওয়ানদের গতিবিধির ছবি ও ভিডিও তুলে সরাসরি আইএসআই-এর কাছে পাঠাত। এখানেই শেষ নয়, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেনামে ভারতীয় সিম কার্ড তুলে তার ওটিপি (OTP) পাঠাত পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে। পাক গুপ্তচররা সেই ভারতীয় নম্বরগুলি ব্যবহার করে সুন্দরী মেয়েদের নাম ও ছবি দিয়ে ফেক হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলত। এরপর সেই প্রোফাইল থেকে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের টার্গেট করে চলত ‘হানি ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলার খেলা, যার মূল পান্ডা ছিল এই জাফর।

    জারি হয়েছিল লুক-আউট নোটিস

    সূত্রের খবর, তার পর থেকেই জাফরের খোঁজ চালাচ্ছিলেন গোয়েন্দারা। তার বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছিল লুক-আউট নোটিস। এমনকী ‘ঘোষিত অপরাধী’-র তকমাও দেওয়া হয়েছিল জাফরের নামে। প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানোর পর কলকাতার উপকণ্ঠেই হদিস মেলে জাফরের। গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই তাঁকে দিল্লি নিয়ে গিয়েছেন। চরবৃত্তির অভিযোগও ওই ধৃত কলকাতাতেও কোনও নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রিয়াজের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক চক্রের খোঁজ…

    এই চক্রের জাল যে শুধু কলকাতা বা রাজস্থানেই সীমাবদ্ধ নয়, তা নিয়ে প্রায় নিশ্চিত এনআইএ। এই আন্তর্জাতিক গুপ্তচরবৃত্তির আন্তর্জাতিক র‍্যাকেটের পেছনে আর কারা জড়িয়ে রয়েছে, দেশের কোন কোন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এদের স্লিপার সেল— সেই সমস্ত রাঘব-বোয়ালদের খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জোর কদমে তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দারা। এই আন্তর্জাতিক গুপ্তচরবৃত্তি নেটওয়ার্ক এবং এর পেছনে থাকা বৃহত্তর দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের মূল উৎপাটন করতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। বর্তমানে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের শিকড় কতটা গভীরে, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।

  • Belur Math: বেলুড় মঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, নিলেন আশীর্বাদ

    Belur Math: বেলুড় মঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, নিলেন আশীর্বাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষপদে বসার পর এই প্রথম শ্রীরামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের পুণ্যতীর্থ বেলুড় মঠে (Belur Math) উপস্থিত হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি বেলুড় মঠে পৌঁছান। সেখানে মঠ ও মিশনের শীর্ষস্থানীয় সন্ন্যাসী ও মহারাজদের সঙ্গে এক অত্যন্ত আন্তরিক বৈঠকে মিলিত হন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর বেলুড় মঠের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে তাঁর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    ভাবগম্ভীর পরিবেশে পুজো ও শ্রদ্ধা নিবেদন (Belur Math)

    মঠে (Belur Math) প্রবেশ করার পর মুখ্যমন্ত্রীকে (Suvendu Adhikari) স্বাগত জানান মিশনের প্রবীণ সন্ন্যাসীরা। এরপর তিনি মূল মন্দিরে গিয়ে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, শ্রীশ্রীমা সারদা দেবী এবং স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিশ্বশান্তি ও রাজ্যের আপামর জনসাধারণের কল্যাণ কামনায় তিনি সেখানে কিছুক্ষণ ধ্যানে মগ্ন থাকেন বলেও মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আজ বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে শ্রীশ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, জগজ্জননী মা সারদা ও বীর সন্ন্যাসী স্বামীজির চরণে প্রণাম নিবেদন করলাম। বেলুড় মঠ-এর সাধারণ সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী সুবীরানন্দজি মহারাজ, ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক স্বামী বলভদ্রনন্দজি মহারাজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ওনাদের আশীর্বাদ লাভ করার সৌভাগ্য প্রাপ্ত হল। তাঁদের আশীর্বাদ ও সান্নিধ্য লাভ করে আমি ধন্য।’’

    মহারাজদের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক ও আশীর্বাদ গ্রহণ

    পুজো অর্চনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের (Belur Math) বর্তমান অধ্যক্ষ (প্রেসিডেন্ট) এবং অন্যান্য প্রবীণ মহারাজদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মহারাজরা উত্তরীয় পরিয়ে এবং মঠের পবিত্র প্রসাদ ও স্মারক গ্রন্থ তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। বৈঠকে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন, সামাজিক কর্মকাণ্ডে রামকৃষ্ণ মিশনের অবদান এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। মুখ্যমন্ত্রী মহারাজদের কাছ থেকে আশিস প্রার্থনা করেন এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    ‘শান্তি ও প্রেরণার ক্ষেত্র’

    সফর শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “বেলুড় মঠ (Belur Math) সর্বদা আত্মিক শান্তি এবং মানবসেবার এক মহান প্রেরণাভূমি। এখানে এসে মহারাজদের সান্নিধ্য ও আশীর্বাদ লাভ করে আমি ধন্য। স্বামীজির আদর্শকে পাথেয় করেই আমরা রাজ্যের মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখতে চাই।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে এদিন বেলুড় মঠ চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছিল। সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রেখেছিল হাওড়া সিটি পুলিশ।

  • PM Modi: উপহারের মোড়কে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: উপহারের মোড়কে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুচিন্তিত উপহারের মাধ্যমে (যার মধ্যে ‘মেলোডি-মেলোনি’ বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল) ভারতের কারুশিল্প, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আঞ্চলিক পরম্পরার গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    উপহারের মোড়কে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতি (PM Modi)

    প্রতিটি উপহার ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। এর মধ্যে রয়েছে মণিপুরের হ্যান্ডলুম ঐতিহ্য থেকে শুরু করে মার্বেল ইনলে শিল্পের চিরন্তন সৌন্দর্য এবং মহারাষ্ট্রের মিলেট সংস্কৃতিও। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জন্য প্রধানমন্ত্রী বেছে নিয়েছিলেন একটি শিরুই লিলি সিল্ক স্টোল, যা মণিপুরের এক টুকরো সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছে (PM Modi)। দুর্লভ শিরুই লিলি ফুলের অনুপ্রেরণায় তৈরি এই স্টোলটি ছিল ঘণ্টাকৃতি এক বিশেষ ফুলের প্রতিরূপ, যা শুধুমাত্র মণিপুরের উখরুল জেলার শিরুই কাশং পাহাড়ে ফোটে। এই স্টোলটি উত্তর-পূর্বের এই পাহাড়ি রাজ্যের সমৃদ্ধ বয়নশিল্পের প্রতীক। সূক্ষ্ম, মার্জিত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বস্ত্র-ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এই উপহারটি নীরবে তুলে ধরেছিল আদিবাসী ঐতিহ্য ও লোককথাকে।

    লিলি ফুলের গুরুত্ব

    এই লিলি ফুল ইতালির সংস্কৃতিতেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। সেখানে এটি দীর্ঘদিন ধরে পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও শিল্পকলার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে, বারবার ব্যবহৃত হয়েছে রেনেসাঁ শিল্পকলায়। এই অভিন্ন প্রতীকের মধ্যেই ভারত ও ইতালির মধ্যে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সংযোগ গড়ে ওঠে — যা ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে নির্মিত। শুধু স্টোল নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মেলেনিকে উপহার দেন মুগা সিল্কের একটি স্টোলও। এই সিল্ক অসমের ‘সোনালি রেশম’ নামে পরিচিত। এতে প্রাকৃতিক সোনালি আভা রয়েছে। এটি ভারতের অন্যতম মূল্যবান বস্ত্র। উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার এই রেশম তার টেকসই ক্ষমতা এবং অসাধারণ স্থায়িত্বের জন্য সুপরিচিত। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকতে পারে।

    উপহারে মার্বেল ইনলে কাজের বাক্স

    ইতালির রাষ্ট্রপতি সার্জিও মাত্তারেল্লাকে প্রধানমন্ত্রী উপহার হিসেবে দেন মার্বেল ইনলে কাজের একটি বাক্স। সঙ্গে ভারতের কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পন্ডিত ভীমসেন জোশী এবং এমএস শুভলক্ষ্মীর গাওয়া গানের সিডি। ভারতের দুই শ্রদ্ধেয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত কিংবদন্তির গানের সঙ্গে এই উপহারটি এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের রূপ নেয়। তাজমহলের মতো স্থাপত্যে দেখা যায় যে মার্বেল ইনলে শিল্প, তা ভারতের শতাব্দীপ্রাচীন সূক্ষ্ম কারুশিল্পের ঐতিহ্যের প্রতীক। ‘পচ্চিকারি’ বা ‘পিয়েত্রা দুরা’ নামে পরিচিত এই শিল্পধারা মূলত ইতালির ফ্লোরেন্স শহর থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়। পরে অবশ্য রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এটি মহিমান্বিত রূপ পায় ভারতে (PM Modi)।

    উপহার দেওয়া হয় স্বাস্থ্যকর মিলেট বারও

    এদিকে, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ডিরেক্টর কিউ ডংইউকে উপহার দেওয়া হয় স্বাস্থ্যকর মিলেট বার। এটি টেকসই ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের প্রতি ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতীক। মহারাষ্ট্রের সোলাপুর, আহমেদনগর ও মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে মিলেট দীর্ঘদিন ধরে কৃষি ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উপহারের মাধ্যমে ভারত বিশ্বব্যাপী মিলেটকে জলবায়ু সহনশীল ‘সুপারগ্রেন’ হিসেবে প্রচারের বার্তাও সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে — যা একদিকে ঐতিহ্যবাহী, অন্যদিকে ভবিষ্যতমুখী (PM Modi)।

    মোদির কূটনীতিতে বৈচিত্র্য

    এই উপহারগুলি স্রেফ আনুষ্ঠানিক বিনিময় ছিল না, বরং ভারতের ‘সফট পাওয়ার’-এর নীরব অভিব্যক্তি হয়ে উঠেছিল। বস্ত্র, সঙ্গীত, কারুশিল্প ও খাদ্যের মাধ্যমে ভারত তার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গভীরতা তুলে ধরেছে, একইসঙ্গে আরও মজবুত করেছে আন্তর্জাতিক মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে। এক অর্থে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারগুলি প্রমাণ করে, আজকের কূটনীতি শুধুই নীতি ও রাজনীতির দ্বারা নয়, বরং দেশগুলি বিশ্বের সঙ্গে যে গল্প, ঐতিহ্য ও পরিচয় ভাগ করে নিতে চায়, তার মাধ্যমেও গঠিত হয় (PM Modi)।

     

  • Howrah Corporation Election: চলতি বছরেই হাওড়া পুরভোট? জেলায় প্রশাসনিক বৈঠকের পর দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Howrah Corporation Election: চলতি বছরেই হাওড়া পুরভোট? জেলায় প্রশাসনিক বৈঠকের পর দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত হাওড়া পুরসভার নির্বাচন (Howrah Corporation Election) নিয়ে এবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, প্রশাসনিক সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে চলতি বছরের মধ্যেই হাওড়া পুরনিগমের (Suvendu Adhikari) নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

    হাওড়া ময়দান এলাকার শরৎসদনে আয়োজিত একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। দীর্ঘদিন ধরে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন বকেয়া থাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর তাতে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা (Howrah Corporation Election)

    উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে আইনি জটিলতা এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ (De-limitation) সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। বালি পুরসভাকে হাওড়া পুরনিগম থেকে আলাদা করা সংক্রান্ত বিল এবং তৎকালীন রাজ্য প্রশাসনের কিছু অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন রাজভবন ও নবান্নের মধ্যে ফাইল চালাচালি হয়েছিল, যার ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে পুরপ্রশাসক দিয়ে এই পুরনিগমের দৈনন্দিন কাজ চালানো হচ্ছে, যার কারণে নাগরিকদের পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। পুর নির্বাচনে (Howrah Corporation Election) আসবে গতি।

    মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস ও রাজনৈতিক বার্তা

    এই অচলাবস্থা নিরসনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কড়া বার্তা দিয়ে জানান, তাঁর সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পুনরুদ্ধার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, “প্রশাসনিক স্তরে যে সমস্ত জটিলতা ও ফাইল আটকে থাকার সমস্যা ছিল, তা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। আমি হাওড়াবাসীকে (Howrah Corporation Election) আশ্বস্ত করতে চাই যে, আর দীর্ঘ অপেক্ষা নয়। এই বছরের মধ্যেই আপনারা আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে নতুন পুরবোর্ড গঠন করতে পারবেন।” আপাতত তিনমাসের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যতদিন না ভোট হচ্ছে, ততদিন পর্যন্তও একটা পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। যতগুলি জলাশয় বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করা হবে।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাওড়া পুরসভার নির্বাচন শুধু পুরপরিষেবার নিরিখে নয়, রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে মুখ খোলায় নির্বাচন কমিশনও যে দ্রুত প্রস্তুতি শুরু করবে, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। আগামী দিনগুলিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ কবে ঘোষণা হয়, এখন সেটাই দেখার।

  • Vande Mataram: রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক, জারি নবান্নের নয়া নির্দেশিকা

    Vande Mataram: রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক, জারি নবান্নের নয়া নির্দেশিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসাতেও ক্লাস শুরুর পূর্ববর্তী প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিকাশ ভবনের পক্ষ থেকে জারি করা একটি সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

    নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনস্থ সমস্ত মাদ্রাসা, এসএসকে (শিশু শিক্ষা কেন্দ্র) এবং এমএসকে (মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র)-তে প্রতিদিনের প্রার্থনা সভায় নিয়মিতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধিকর্তা কর্তৃক জারিকৃত এই আদেশের অনুলিপি ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলা শাসক (DM), জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (DI), পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উপযুক্ত উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরেই এই নির্দেশ জারি করা হল।

    স্কুলের পর এবার মাদ্রাসায় জাতীয়তাবোধের প্রসারে জোর (Vande Mataram)

    এর আগে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার-পোষিত সাধারণ স্কুলগুলিতে ক্লাস শুরুর পূর্বে এই ‘জাতীয় সংগীত’ গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই একই নিয়ম মাদ্রাসাগুলির (Madrasahs) ক্ষেত্রেও সমভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। স্কুল শিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রতিদিনের প্রার্থনা সভায় জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ‘বন্দে মাতরম’(Vande Mataram)-ও গাইতে হবে। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এই নির্দেশ অত্যন্ত কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, আগামী সোমবার (১৮ মে) থেকে রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয়ে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’ চালু করা হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের মনে জাতীয়তাবোধ ও গভীর দেশপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি নবান্নে গিয়ে এই সমগ্র প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি নিজে তদারকি করব। আগামী সোমবার থেকেই সমস্ত বিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া শুরু করতে হবে।”

    ১ জুন থেকে কার্যকর হচ্ছে নিয়ম

    উল্লেখ্য, গত ১৩ মে স্কুল শিক্ষা দফতরের ‘ডিরেক্টর অফ এডুকেশন’-এর পক্ষ থেকে সমস্ত স্কুলপ্রধানদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, সকালের প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গাওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিয়মিতভাবে এই গানের মাধ্যমে দেশের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারে। তবে বর্তমানে রাজ্যে তীব্র গরমের কারণে স্কুলগুলিতে গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলায় এই সোমবার থেকে নির্দেশটি সম্পূর্ণ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। আগামী ১ জুন স্কুল খুললেই এই নিয়ম কঠোরভাবে বলবৎ হবে।

    আর তুষ্টিকরণ নয়, বলল বিজেপি

    মাদ্রাসায় প্রার্থনার সময় বন্দে মাতরম গাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে বঙ্গ বিজেপির তরফে। একইসঙ্গে সরকারের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করে অফিসিয়াল সমাজমাধ্যমে বিজেপি লিখছে, “এই সিদ্ধান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক ও অভিন্ন নিয়ম প্রতিষ্ঠার বার্তা দিচ্ছে। আর তুষ্টিকরণ নয় বরং সবার জন্য সমান নীতি প্রযোজ্য।”

    কী বলল মাদ্রাসা স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন

    ওয়েস্ট বেঙ্গল মাদ্রাসা স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য কমিটির সভাপতি ফিরোজউদ্দিন সাকি বললেন, ‘‘যে দেশে বাস করি, সেখানকার কানুন মেনে চলাই আমাদের কাছে ধর্মীয় নির্দেশ। সরকারের নির্দেশে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। যারা প্রগতিশীল মুসলিম, শিক্ষিত মুসলিম তাদের কোনও সমস্যা নেই। আমাদের সংগঠনের আওতায় ১১০০ মাদ্রাসা রয়েছে। গরমের ছুটির পর ১ জুন মাদ্রাসাগুলি খুলবে। প্রথমদিন থেকেই শুরু হবে বন্দে মাতরম সঙ্গীত। সারে জাঁহা সে আচ্ছা গাওয়া হত, এবার পাশাপাশি বন্দে মাতরম গানও গাওয়া হবে।’’

    ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রীতির পরিবর্তন

    এতদিন রাজ্যের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে মূলত জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ গাওয়ার রীতিই প্রচলিত ছিল। ইতিপূর্বে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গানটিকে ‘রাজ্য সঙ্গীত’ (State Song)-এর মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে বা শেষে এই গানটি পরিবেশন করা হত।

    তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক রীতিতে বড়সড় বদল এসেছে। বর্তমান সরকারের নতুন নীতি ও নির্দেশিকা মেনে এখন থেকে সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানের সূচনাতেই ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গাওয়া হচ্ছে, যা এবার বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রার্থনা সভাতেও বাধ্যতামূলক করা হল।

    বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর

    ১৮৭৫ সালে ৭ নভেম্বর বঙ্গ দর্শনের প্রকাশিত হয়েছিল বন্দে মাতরম গান। এই গানের স্রষ্টা সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। গানটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মূলমন্ত্র। বঙ্গে এই গানের সূচনা হলেও ধীরে ধীরে সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্রিটিশ সরকার গানকে নিষিদ্ধ করলেও দমিয়ে রাখতে পারেনি বাংলার বিপ্লবীদের। ২০২৬ সালে এই গান সার্ধশতবর্ষ। তাই গানের মাহাত্ম্যকে সর্বত্র প্রচার করতে সরকারের পদক্ষেপ।

LinkedIn
Share