Blog

  • CM Suvendu Adhikari: ‘নির্ভয়ে কাজ করুন’, বৈঠকে সচিবদের নির্দেশ নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: ‘নির্ভয়ে কাজ করুন’, বৈঠকে সচিবদের নির্দেশ নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শপথ নিয়েছিলেন শনিবার, ব্রিগেড ময়দানে। সোমবার গেলেন নবান্নে। সেখানে গিয়ে রাজ্যের সচিবদের নির্ভয়ে কাজ করতে বললেন পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। জানিয়ে দেন, এবার থেকে তাঁকে খুশি করতে কোনও হোর্ডিং বা ফলকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ লিখতে হবে না (Govt Officers)।

    ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ (CM Suvendu Adhikari)

    তৃণমূল জমানায় রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প থেকে কর্মসূচির হোর্ডিং, সর্বত্র ফলকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ শব্দটি লেখা থাকত। নবান্নে কাজে যোগ দিয়ে প্রথম দিনই সচিবদের এই বিষয়ে সতর্ক করে দেন শুভেন্দু। জানিয়ে দেন, পূর্বতন সরকার বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছিল। তাঁর সরকার সে রকম কিছু করবে না। এর পরেই সচিবদের নির্ভয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি। বলেন, “সরকার তথ্য, নিয়মের ওপরে চলে। সরকারি সিদ্ধান্ত হয় সংবিধানের কতগুলি বিষয়ের ওপরে। এই সরকার ‘আমিত্বে’ বিশ্বাস করে না, ‘আমরা’-নীতিতে চলবে। সংবিধানকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করব। আমরা আশা করব, এই সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচকরাও কোনও সমালোচনা করতে পারবেন না। এমন কোনও সুযোগ এই সরকার দেবে না, ভরসা রাখুন।”

    সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে হবে

    সচিবদের (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে হবে। অর্থের যাতে অপচয় না হয়, তা দেখতে হবে। যেখানে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে খরচ করতে হবে, বন্ধ করতে হবে অপ্রয়োজনীয় খরচ। রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের যে সব প্রকল্প এতদিন কার্যকর করা হয়নি, সেগুলি চালু করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নবান্নে আসার আগে শুভেন্দু গিয়েছিলেন সল্টলেকের বিজেপি দফতরে। সেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। বৈঠকের পরে শমীকও বলেছিলেন, “সরকার সরকারের মতো চলবে। দল দলের মতো (Govt Officers)। এটি কোনও বিজেপি সরকার নয়। এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার (CM Suvendu Adhikari)।”

     

  • Suvendu Adhikari: ‘চালু থাকা সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না’, তবে কারা পাবেন না, স্পষ্ট করলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: ‘চালু থাকা সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না’, তবে কারা পাবেন না, স্পষ্ট করলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোম-সকালে বঙ্গবাসীকে বিরাট সুখবর দিলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী তথা ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সাফ জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে যে সব সামাজিক প্রকল্প চালু রয়েছে, তা বন্ধ হচ্ছে না। এদিন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পরে একথা জানান (Existing Scheme) নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল সরকারের চালু করা প্রকল্পগুলির সুবিধা রাজ্যবাসী পাবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা ছড়াচ্ছিল রাজ্যে পালাবদলের পরেই।

    কী বললেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী? (Suvendu Adhikari)

    বঙ্গবাসীর সেই সংশয় দূর করে শুভেন্দু জানিয়ে দিলেন, রাজ্যবাসী আগে যে সব সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, এখনও তা পাবেন। অবশ্য কারা পাবেন, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মৃত বা ভারতীয় নন, এমন কেউ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না। আগে চালু থাকা সমস্ত প্রকল্পই থাকবে। প্রচারের সময়েও আমরা বলেছি। সেটা ৩০ বছর আগের হতে পারে বা ১০ বছর আগের হতে পারে— কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না।’’ তিনি বলেন, ‘‘পোর্টালগুলি আপডেট করব। মোদি সরকারের চালু করা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে সুবিধা পাবেন সকলে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘সবটাই স্বচ্ছতার সঙ্গে হবে। অ-ভারতীয় বা মৃত কেউ এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।’’

    প্রকল্প বন্ধের ভয় দেখিয়েছিল তৃণমূল!

    সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে নবান্নের কুর্সি অটুট রাখতে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল বার বার দাবি করেছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘যুবসাথী’র মতো সব প্রকল্প বন্ধ করে দেবে (Suvendu Adhikari)। যদিও বিজেপিও প্রচার পর্বেই জানিয়ে দিয়েছিল, সেরকম হবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সঙ্কল্পপত্র প্রকাশ করে এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্পে প্রতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে তাঁদের অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা দেওয়া হবে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মহিলারা অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন সময়ে ২১ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য এবং ৬টি পুষ্টিকর সরঞ্জাম পাবেন। অবিবাহিত ছাত্রীদের স্নাতক স্তরে ভর্তির আগে এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তবে যাঁরা ভারতীয় নন, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নয়া মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় অনুপ্রবেশকারীরা।

    শুভেন্দু জানান (Existing Scheme), প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কৃষক বিমা যোজনা, পিএম শ্রী, বিশ্বকর্মা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, উজ্জ্বলা যোজনা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সমস্ত আবেদন কেন্দ্রীয়মন্ত্রকে দ্রুত পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ডিএমদের (Suvendu Adhikari)।

     

  • BSF Land Allotment: “বাংলার সীমান্ত সুরক্ষার সঙ্গে দেশের সম্পর্ক জড়িত” বর্ডারে কাঁটাতারের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি রাজ্যের

    BSF Land Allotment: “বাংলার সীমান্ত সুরক্ষার সঙ্গে দেশের সম্পর্ক জড়িত” বর্ডারে কাঁটাতারের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্ত সুরক্ষায় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BSF)-কে জমি দিল রাজ্য। সোমবার প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্যাবিনেট মিটিং করার পর একাধিক বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের বৈঠকে যে’কটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া। সূত্রের খবর, বৈঠকে বিএসএফকে জমি দেওয়ার (BSF Land Allotment) সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছে। নদিয়ার করিমপুরে ০.৯ একর জমি দেওয়া হচ্ছে তাদের। সেই জমিতে নতুন আউটপোস্ট তৈরি হবে বলে খবর। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “বাংলার সীমান্ত সুরক্ষার সঙ্গে দেশের সুরক্ষা জড়িত রয়েছে। এই কাজ করা হচ্ছে দেশের হিতের জন্য। সেই কারণেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

    রাজ্যের সুরক্ষা, দেশের নিরাপত্তা

    এতদিন বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করতে ঢিলেমি করছিল রাজ্য। বিএসএফ জমি না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল। তাতেই বসানো যাচ্ছিল না কাঁটাতার। উন্মুক্ত ছিল রাজ্যের একাধিক সীমান্ত। এই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করেছিল বিজেপি। ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল অবস্থান। কোনওভাবেই যে রাজ্যের সুরক্ষার সঙ্গে কোনও রকমের আপোস করা হবে না, তা স্পষ্ট করা হয়েছিল। কারণ রাজ্যের এই অনুপ্রবেশ ইস্যুই দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রশ্নচিহ্ন হয়ে উঠছিল। মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবারের ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই ঘোষণা করেন, “বাংলার সুরক্ষার প্রশ্নে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, বিএসএফ-এর সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য ‘ল্যান্ড ট্রান্সফার প্রসেসে’ অনুমোদন দেওয়া হল। আজ থেকেই ল্যান্ড ট্রান্সফার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভূমি ও রাজস্ব সচিব ও মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর সম্পূর্ণ করতে হবে।”

    সীমান্তে কত অংশ খোলা-মুক্তাঞ্চল

    দক্ষিণবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২১৭ কিলোমিটার, যা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তর্গত। এই সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর কাজ চলছে, তবে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যার (Suvendu Adhikari on BSF Land Transfer) কারণে কাজে বিলম্ব হচ্ছিল। এখনও পর্যন্ত ১৬৪৮ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতার লাগানো হয়েছে। বাকি ৫৬৯ কিলোমিটারের মধ্যে ১১৩ কিলোমিটার এলাকা কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ এই অংশটি নদী সীমান্তের অন্তর্গত। বাকি ৪৫৬ কিলোমিটার এলাকা কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য পশ্চিমবঙ্গে ২২১৬.৭ কিমি। এর মধ্যে এখনও ৫৬৯ কিমি বেড়াহীন।

    কত একর জমির প্রয়োজন

    পরিসংখ্যান বলছে, ১৭ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে কাঁটাতার বসাতে প্রয়োজন ৬৭ একর জমি। ন’টি বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণে প্রয়োজন ১৮ একর জমি। জমি মালিকদের থেকে ক্রয় করে তা বিএসএফের হাতে তুলে দিতে জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিলেও তেমন ভাবে কার্যকর করা হয়নি। এর মধ্যেই কেন্দ্র ইতিমধ্যে ১৮১ কিমি জমির জন্য টাকা ছেড়ে দিয়েছে, অথচ রাজ্য সরকার সেই জমি হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেছিল। সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ১০৫ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এবার শুরু করল রাজ্য সরকার। এদিন বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “ভূমি দফতর ইতিমধ্যেই কাজ এগিয়ে রেখেছে। কিন্তু আগের সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য বিএসএফ-কে জমি দেয়নি। এমনকি হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে। আমি হিসেব করে বুঝতে পারলাম, প্রায় ৯০ শতাংশ জমি রাজ্যের ভূমি দফতর এমনিই বিএসএফ-কে দিতে পারে।”

    সীমান্ত সুরক্ষিত ছিল না

    এর আগে একাধিকবার রাজ্যে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে তৎকালীন সরকার বিএসএফ- কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের ব্যাপারে অসহযোগিতা করছে। আর এর জেরে যে সীমান্ত অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল, অনুপ্রবেশ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছিল, সীমান্ত সুরক্ষিত ছিল না – তা স্পষ্ট। ভুয়ো পাসপোর্ট চক্র, তার পরে রাজ্য থেকে একাধিক সন্দেহভাজন জঙ্গি ও অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিল রাজ্য প্রশাসন। তার পরেই পাল্টা বিএসএফের দিকে আঙুল তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি জানিয়েছিলেন, জঙ্গি অনুপ্রবেশের নেপথ্যে ভূমিকা রয়েছে বিএসএফের। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, বিএসএফই রাজ্যে গুন্ডা, লোক ঢোকাচ্ছে। সরকারি ভাবে তার জবাবও দিয়েছিল বিদেশ মন্ত্রক। জানিয়েছিল, অনিয়মের কোনও প্রশ্ন নেই।

    করিমপুরে আউটপোস্ট

    রাজ্যবাসীর নিরাপত্তার খাতিরে প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নদিয়ার করিমপুরে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও বিএসএফের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। নদিয়া জেলায় প্রায় ২১৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে এখনও প্রায় ২০.৬১১ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যায়নি বলে বিএসএফ সূত্রে খবর। কাঁটাতার ছাড়া সীমান্ত রয়েছে করিমপুরেও। সেখানে আউটপোস্ট তৈরি করতে চেয়েছিল বিএসএফ। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, সে কারণেই করিমপুরে আউটপোস্ট করতে চেয়েছিল বিএসএফ। এ বার তার জন্যই জমি দিচ্ছে রাজ্য।

    জনবিন্যাসে পরিবর্তন নয়

    পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গড়ার পরেই বিজেপি সরকার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসএফ- কে জমি হস্তান্তর করার ব্যাপারে। এর ফলে সীমান্তজুড়ে সঠিকভাবে কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব হবে, যা অনুপ্রবেশের পাশাপাশি সীমান্তে থাকা অন্যান্য সমস্যা রুখতেও সাহায্য করবে। আর সুরক্ষিত থাকবে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি। শুভেন্দুর কথায়, “দেশ ও রাজ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সীমান্ত এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তনের বিষয় মাথায় রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।”

  • PM Modi: পুনর্নির্মিত সোমনাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তিতে গুজরাটে প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: পুনর্নির্মিত সোমনাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তিতে গুজরাটে প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুনর্নির্মিত সোমনাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার গুজরাটের প্রভাস পাটানে এক বিরাট (Kumbhabhishek) রোডশোয়ের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এই মন্দিরটি ভারতের সভ্যতার স্থিতিশীলতা, আধ্যাত্মিক ধারাবাহিকতা এবং সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

    ‘সোমনাথ অমৃত মহোৎসব’ (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ছিল ‘সোমনাথ অমৃত মহোৎসবে’র অংশ। স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সালে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ কর্তৃক পুনরুদ্ধার করা মন্দিরের উদ্বোধনের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল এই রোড-শোয়ের। অনুষ্ঠানটি এ বছরের শুরুতে পালিত ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্বে’র সঙ্গেও যুক্ত। ১০২৬ সালে গজনির মামুদ প্রথম আক্রমণের হাজার বছর স্মরণে পালিত হয়েছিল এই ‘পর্ব’। এদিন হাজার হাজার ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দা হেলিপ্যাড থেকে মন্দির প্রাঙ্গনের নিকটবর্তী বীর হামিরজি সার্কেল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পথে হাজির হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে। গেরুয়া পতাকা নাড়িয়ে এবং স্লোগান দিতে দিতে মানুষ রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় ধীরে ধীরে অতিক্রম করে উপকূলীয় শহরটি।

    বর্ণময় উৎসব

    উৎসবকে আরও বর্ণময় করতে রোডশোয়ের বিভিন্ন অংশে লোকনৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যের শিল্পীরা। ফলে অনুষ্ঠানটি আদতে পরিণত হয় ভারতের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রদর্শনীতে (Kumbhabhishek)। রোডশোয়ের পর প্রধানমন্ত্রী সোমনাথ মন্দিরে যান, অংশগ্রহণ করেন একাধিক বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে। প্রধানমন্ত্রী ‘বিশেষ মহাপূজা’, ‘কুম্ভাভিষেক’ এবং ‘ধ্বজারোহণ’ অনুষ্ঠানেও অংশ নেন। আচার চলাকালীন হেলিকপ্টার থেকে মন্দিরের ওপর ফুলের পাপড়ি বৃষ্টি করা হয়, যা হিন্দুধর্মের অন্যতম পবিত্র জ্যোতির্লিঙ্গকে ঘিরে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি করে।

    একাধিকবার নিশানায় সোমনাথ মন্দির

    ভারতীয় সভ্যতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে রয়েছে গুজরাটের সোমনাথ মন্দির। একাধিকবার আক্রমণ ও ধ্বংসের পর বারবার পুনর্নির্মিত এই মন্দির দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু ধর্মবিশ্বাস ও ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। স্বাধীনতার পরে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা, যা সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল এবং কেএম মুন্সির মতো নেতাদের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল, হয়ে ওঠে ভারতের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের এক বৃহত্তর জাতীয় সংকল্পের প্রতীক। এদিন সদ্ভাবনা ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দেওয়া এবং ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি স্মারক ৭৫ টাকার মুদ্রা প্রকাশ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ৮ মে জারি করা (Kumbhabhishek) এক সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মুদ্রার এক পাশে সোমনাথ মন্দিরের ছবি থাকবে, তার সঙ্গে লেখা থাকবে: “ভারতের অটল বিশ্বাস ও ভক্তির ১০০০ বছরের উদ্‌যাপন”, এর পাশাপাশি উল্লেখ থাকবে ২০২৬ সালও। এই মুদ্রা তৈরি করা হবে কলকাতার সরকারি টাঁকশালে।

    ‘সর্দার ধাম ভবন-৩’

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) ভাদোদরায় ‘সর্দার ধাম ভবন-৩’, যা ‘শ্রী দুষ্যন্ত ও দক্ষ প্যাটেল কমপ্লেক্স’ নামে পরিচিত, তার উদ্বোধনও করবেন। প্রায় ৪.৭৫ লাখ বর্গফুট এলাকায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সে আবাসন কক্ষ, এনআরআই অতিথিশালা, ই-লাইব্রেরি, কেরিয়ার গাইডেন্স ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ১,০০০ আসনের অডিটোরিয়াম রয়েছে। দু’দিনের গুজরাট সফরের শুরুতে রবিবার রাতে মোদি জামনগরে পৌঁছন। হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানগুলিকে সামনে রেখে জামনগর, সোমনাথ ও ভাদোদরায় ব্যাপক প্রস্তুতি (PM Modi) ও স্বাগত কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে (Kumbhabhishek)।

     

  • CM Suvendu Initiates Census: পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা শুরুতে ছাড়পত্র, আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

    CM Suvendu Initiates Census: পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা শুরুতে ছাড়পত্র, আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা (Census) প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, অবিলম্বে কেন্দ্রের নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে এবং প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতিও শুরু হবে।

    মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর

    এই ঘোষণা করতে গিয়েই আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া-র দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছিল, যেখানে রাজ্যে আসন্ন জনগণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল সরকার সংবিধান এবং রাজ্যের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছিল, যাতে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর না হয়। আজ মন্ত্রিসভা অবিলম্বে ওই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করার অনুমোদন দিয়েছে।”

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই জনগণনা?

    ভারতে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা হয়। শেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। ২০২১ সালের জনগণনা কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে স্থগিত হয়ে যায়। এরপর এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে সেই প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।

    জনগণনা শুধুমাত্র জনসংখ্যা গণনার বিষয় নয়, এর উপর নির্ভর করে—

    • ● কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা
    • ● খাদ্য নিরাপত্তা ও রেশন বণ্টন
    • ● স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অবকাঠামো পরিকল্পনা
    • ● নগরায়ণ ও আবাসন নীতি
    • ● ভবিষ্যতের নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation)
    • ● মহিলাদের সংরক্ষণ ইস্যুতে রাজনৈতিক তাৎপর্য
    • ● বিরোধী রাজ্যগুলি এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে!

    শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে নয়, রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে নতুন সরকার। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম অনুযায়ী লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে নতুন জনগণনা এবং পরবর্তী ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া জরুরি। এই কারণেই জনগণনা বিলম্বিত হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছিল। বিজেপির অভিযোগ, বিরোধী শাসিত কিছু রাজ্য পরোক্ষে এই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছে।

    কী কী প্রস্তুতি শুরু হবে?

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর থেকেই বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতর জেলাশাসক, ব্লক প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় শুরু করবে।

    প্রাথমিক পর্যায়ে যে কাজগুলি শুরু হতে পারে—

    • ● প্রশাসনিক সীমানা ও ওয়ার্ড সংক্রান্ত তথ্য আপডেট
    • ● বাড়ি তালিকাকরণ (House Listing)
    • ● তথ্য সংগ্রহের জন্য ফিল্ড স্টাফ ও এনুমেরেটর প্রস্তুতি
    • ● ডিজিটাল ডেটা সংগ্রহের অবকাঠামো গড়ে তোলা
    • ● জেলা ও পুরসভা স্তরে সমন্বয় বৈঠক

    রাজ্য প্রশাসনের একাংশ জানিয়েছে, ক্যাবিনেট অনুমোদনের পর থেকেই বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কাজ শুরু হবে।

    নতুন সরকারের প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ

    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিজেপি সরকারের এটি অন্যতম প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। সরকার ইতিমধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় বাড়ানোর মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল জনগণনা। নতুন সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বার্তা দিতে চাইছে যে, তারা কেন্দ্রের নীতি ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে দ্রুত সামঞ্জস্য স্থাপন করছে।

    এখনও স্পষ্ট নয় সময়সূচি

    যদিও জনগণনা শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এখনও পর্যন্ত সরকার কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেনি।

    এখনও জানা যায়নি—

    • ● বাড়ি তালিকাকরণ কবে শুরু হবে
    • ● মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কবে হবে
    • ● জনগণনা প্রক্রিয়া শেষ করতে কত সময় লাগবে

    তবে সরকারি সূত্রের দাবি, কেন্দ্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয়ের পর বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

  • Suvendu Adhikari: রাজ্য সরকারি চাকরির আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা এক লাফে বেড়ে গেল ৫ বছর! কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    Suvendu Adhikari: রাজ্য সরকারি চাকরির আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা এক লাফে বেড়ে গেল ৫ বছর! কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ দুর্নীতির দিন শেষ। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই বিরাট ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জানিয়ে দিলেন, বাড়ানো হচ্ছে সরকারি চাকরির (Government Job Age Limit) জন্য আবেদনের বয়সসীমা। গত এক দশকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা এবং পূর্বতন সরকারের আমলে হওয়া নিয়োগ দুর্নীতির কারণে যাঁদের চাকরির বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার, নবান্নে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্যের আরও ৫ মন্ত্রী। দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে কথা বলে সাংবাদিকদের মন্ত্রিসভায় গৃহীত ৬ সিদ্ধান্তের কথা জানান শুভেন্দু।

    কেন বয়স সীমায় ছাড় দেওয়া হল

    প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২০১৫ সালের পর বাংলায় কোনও নিয়োগ হয়নি। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানো হল।” ২০১৫ সালের পর থেকে রাজ্যে বড় মাপের কোনও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এর ওপর পূর্বতন সরকারের আমলে নিয়োগ দুর্নীতির জেরে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। দিনের পর দিন আইনি লড়াই এবং রাজপথে আন্দোলনের ফলে অনেক প্রার্থীরই সরকারি চাকরিতে বসার নির্ধারিত বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল। এই ‘বয়স ফুরিয়ে যাওয়া’ প্রার্থীদের কথা চিন্তা করেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এই বিশেষ ছাড় দেওয়ার কথা ক্ষমতায় আসার আগেই বলে রেখেছিল বিজেপি।

    আমিত্ব নয়, আমরা নীতিতে চলবে সরকার

    বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে এসে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, “চাকরি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য এই বাংলায় যুবক যুবতীদের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে। এতে ওদের কোনও দোষ নেই। বিজেপি সরকার হলে যুবক যুবতীদের আবেদনের বয়সের ৫ বছরের ছাড় দেওয়া হবে।” সেই কথামতোই কাজ করা হল। সরকারের এই পদক্ষেপে খুশির হাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের মদ্যে। আন্দোলনকারীদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতির কারণে যে সময় নষ্ট হয়েছে, এই ৫ বছরের ছাড় তা কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারবে। এনিয়ে আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীদের মুখ চিন্ময় মণ্ডল বলেন, “১০-১২ বছর ধরে যাঁরা চাকরির পরীক্ষাতেই বসতে পারেননি, তার মধ্যে তো দুর্নীতি ছিল, সঙ্গে সরকারের এতো টালবাহানা। তাঁদের কাছে নিঃসন্দেহে এটা বড় খবর।” এদিন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমিত্ব নয়, আমরা নীতিতে চলবে এই সরকার। সংবিধান, নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়েই চলবে সরকার।”

  • NIA: মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র বড় পদক্ষেপ, কালিয়াচকের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

    NIA: মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র বড় পদক্ষেপ, কালিয়াচকের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

    মাধ্যাম নিউজ ডেস্ক: মালদার মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকায় সাম্প্রতিক হিংসাত্মক আক্রমণ এবং গোলমালের ঘটনায় এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় কালিয়াচক-১ (Kaliachak Mothabari Case) নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সারিউল শেখ এবং সুজাপুর অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি ইউসুফ শেখ-কে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই জোড়া গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও জিজ্ঞাসাবাদ (NIA)

    এনআইএ (NIA) সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার ঠিক প্রাক্কালে সুজাপুর বিধানসভার প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুর রহমান এবং ব্লক সভাপতি সারিউল শেখসহ মোট ৯ জন নেতাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকায় শুরুতে তাঁরা হাজিরা এড়িয়ে গেলেও, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তলবে সাড়া দিতে বাধ্য হন। এরপর হাজিরা দিতে গেলেই তথ্য়ে গোলমাল ঘটলে গ্রেফতার করা হয়। গত বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের সময় সারিউল ও ইউসুফের (Kaliachak Mothabari Case)  মোবাইল ফোন দুটি বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। এরপর শুক্রবার পুনরায় তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে ম্যারাথন জেরা করা হয়। বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনআইএ।

    অভিযোগের নেপথ্যে

    তদন্তকারীদের (NIA) দাবি, মোথাবাড়িতে বিচারকদের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং সুজাপুর হাসপাতালের নিকটবর্তী জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় এই দুই নেতার প্রত্যক্ষ উস্কানি ও যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। উল্লেখ্য, ধৃত ইউসুফ শেখ সুজাপুর হাসপাতালের সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের মালিক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনেই সেই দিন জনতাকে সংগঠিত করে বড়সড় আন্দোলনের রূপ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে জাতীয় সড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে অবরোধের পিছনে আরও বড়সড় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাই তদন্তে এই সমস্ত বিষয়গুলিকেও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

    ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ

    কালিয়াচকে (Kaliachak Mothabari Case) এনআইএ-র (NIA) এই অভিযান এখানেই শেষ হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত মিলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মোথাবাড়ি ও সুজাপুর কাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে শাসকদলের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতার নামও বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এই এলাকায় আরও কিছু প্রভাবশালীর গ্রেফতারির সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। বর্তমানে এই দুই ধৃত নেতাকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী এবং বাকি সদস্যদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছে এনআইএ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

  • WB Election Results 2026: পোস্টাল ব্যালটেও বাজিমাত বিজেপির, তৃণমূলকে দাঁড়িয়ে গোল দিয়েছেন পদ্ম-প্রার্থীরা

    WB Election Results 2026: পোস্টাল ব্যালটেও বাজিমাত বিজেপির, তৃণমূলকে দাঁড়িয়ে গোল দিয়েছেন পদ্ম-প্রার্থীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস, বাম কিংবা তৃণমূল – কোনও জমানায়ই এতদিন তেমন গুরুত্ব পেত না পোস্টাল ব্যালট গণনার ফল (WB Election Results 2026)। বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের মতে, শাসক দল এতই ছাপ্পা ভোট দিত যে, পোস্টাল ব্যালট (Postal Ballots) গণনার আগেই শুরু হয়ে যেত অকাল ‘হোলি খেলা’, আবির মাখামাখি। বাংলায় পালাবদলের এই ক্রান্তিকালে অবশ্য পোস্টাল ব্যালটের ভোটাররাও হাত উপুড় করে ভোট দিয়েছেন ঘাসফুল নয়, পদ্মফুল প্রতীকে। তার জেরে বিজেপির বঙ্গ-বিজয় হয়েছে নিছক কেক-ওয়াক।

    ৮০ শতাংশই গিয়েছে তৃণমূলের বিপক্ষে (WB Election Results 2026)

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পোস্টাল ব্যালটে মোট ভোটের ৮০ শতাংশই গিয়েছে তৃণমূলের বিপক্ষে। বেশিরভাগ আসনেই ধাক্কা খেয়েছে রাজ্যের শাসক দল। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “কর্মচারীরা উজাড় করে পোস্টাল ব্যালটে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। এর মধ্যে কোনও কিন্তু নেই।” ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে গোহারা হেরে যান স্বয়ং তৃণমূলেশ্বরী। বঙ্গে ২০৭টি আসন পেয়ে নবান্নের কুর্সিতে প্রথমবারের মতো বসেছে পদ্মশিবির। মোট ভোটের প্রায় ৪৬ শতাংশই পেয়েছে গেরুয়া শিবির। সেখানে তৃণমূলকে হুমড়ি খেয়ে পড়তে হয়েছে কমবেশি ৪১ শতাংশ ভোটের চৌকাঠ পার হতে গিয়ে।

    পোস্টাল ব্যালটেও ‘রামধাক্কা’

    নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, বদলের বাংলায় পোস্টাল ব্যালটেও ‘রামধাক্কা’ খেয়েছে তৃণমূল। সেখানেও স্পষ্ট প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ছাপ। জানা গিয়েছে, পোস্টাল ব্যালটে মোট ভোটের ৮০ শতাংশই গিয়েছে তৃণমূলের বিপক্ষে। বেশিরভাগ আসনেই ধাক্কা খেয়েছে তারা। যদিও, ছাব্বিশের নির্বাচনের ভরকেন্দ্র ভবানীপুরে তৃণমূল নেত্রী তথা সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়েছিলেন ৯টি পোস্টাল ভোটে। প্রাক্তন পেয়েছেন ৪৬৩টি ভোট। নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৪৫৪টি। পরিসংখ্যান বলছে, যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ৯৭৫টি পোস্টাল ভোট। সেখানে তৃণমূল পেয়েছে ৬৯৬টি এবং সিপিএম পেয়েছে ৬২৫টি পোস্টাল ভোট।
    রাসবিহারী কেন্দ্রে অবশ্য পোস্টাল ব্যালটের একটা বড় অংশই পড়েছে পদ্ম-ঝুলিতে। বিজেপির স্বপন দাশগুপ্ত পেয়েছেন ৭২৫টি ভোট। আর তৃণমূলের দেবাশিস কুমার পেয়েছেন ৫৯২টি ভোট। বিধাননগরে তৃণমূলের প্রার্থী সুজিত বসু পোস্টাল ব্যালটে পেয়েছেন ৫৬৭টি ভোট। বিজেপির শারদ্বত মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন ৭৯২টি ভোট (Postal Ballots)। এই তিন কেন্দ্রেই তৃণমূলকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গোল দিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা।

    বঞ্চনার অভিযোগ

    মলয় বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার বলেছেন আমরা নির্দিষ্ট নিয়মমতো ডিএ দেব, বেতন কমিশন গঠন করব ৪৫ দিনের মধ্যে। তৃণমূল সরকার একটা বেতন কমিশন পেয়েছিল যদিও ৪ বছর পরে আমাদের দিয়েছে ডিএ ছাড়াই। এতটা বঞ্চনা সিপিএম সরকারও করেনি (WB Election Results 2026)।” কমিশনের পরিসংখ্যান থেকেই জানা গিয়েছে, শুধু সরকারি কর্মচারীরাই নন, পোস্টাল ব্যালটে রাজ্যে পালাবদল   চেয়েছেন প্রবীণ ভোটাররাও। নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ১ হাজার ৩৩২টি পোস্টাল ব্যালট ভোট। সেখানে তৃণমূলের পবিত্র কর পেয়েছেন মাত্রই ৮৯৯টি। কামারহাটিতে তৃণমূলের মদন মিত্র পেয়েছেন ৩২৪টি। বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ৫১০টি পোস্টাল ব্যালট ভোট। ব্যারাকপুরে বিজেপি প্রার্থী কৌস্তুভ বাগচী পেয়েছেন ৯০৭টি পোস্টাল ভোট। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের রাজ চক্রবর্তীর ঝুলিতে গিয়েছে ৫৫১টি ভোট। পানিহাটিতে বিজেপির রত্না দেবনাথ পেয়েছেন ৬৯৮টি পোস্টাল ব্যালট ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ পেয়েছেন ৩৬২টি (Postal Ballots)।

    চর্চায় যখন পোস্টাল ব্যালট 

    প্রসঙ্গত, কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেন সার্ভিস ভোটার, নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত কর্মী প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটার এবং অত্যাবশ্যক পরিষেবা-কর্মীরা। কিছু ক্ষেত্রে ‘হোম ভোটিং’ ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। ভোট গণনার পর দেখা গিয়েছে, জেলার বহু বিধানসভা কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটেও তৃণমূলকে মাত দিয়েছে বিজেপি। বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৮৭২টি ভোট। আর গেরুয়া ঝুলিতে গিয়েছে ১ হাজার ৭৮টি ভোট। সোনারপুর দক্ষিণে বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায় পেয়েছেন ২ হাজার ২টি ভোট, সেখানে তৃণমূল পার্থী লাভলি মৈত্রকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মাত্রই ৮৩৩টি ভোট পেয়ে (WB Election Results 2026)।
    কোচবিহারের দিনহাটা কেন্দ্রে তৃণমূলের উদয়ন গুহ পেয়েছেন ৯৭৭টি পোস্টাল ব্যালট ভোট, পদ্ম প্রার্থী অজয় রায় পেয়েছেন ১ হাজার ৪৬০টি। আসানসোল দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন ৭৭৩টি, তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপালে জুটেছে মাত্রই ৩৯৬টি ভোট। বহরমপুরে অধীর চৌধুরী পোস্টাল ব্যালটে পেয়েছেন ১ হাজার ১০২ ভোট। তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন ৪৭০টি। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রে (Postal Ballots) নবগঠিত এজেইউপি সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর পেয়েছেন ২৭০টি পোস্টাল ব্যালট ভোট (WB Election Results 2026)। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপির বাপন ঘোষ। বাপন পেয়েছেন ৫৬৮টি পোস্টাল ব্যালট ভোট।

    কী বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পোস্টাল ব্যালটে যাঁরা পরিবর্তন চেয়ে ভোট দিয়েছেন বিজেপিকে, তাঁরা চেয়েছেন বঙ্গকে তৃণমূলশাসন-মুক্ত করতে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের গায়ে যেসব কলঙ্কের কালি লেগেছে, এবং নানা ক্ষেত্রে দুর্নীতি হওয়া সত্ত্বেও তিনি যেভাবে ‘ও কিছু নয়’ জাতীয় মন্তব্য করে দায় এড়িয়ে (Postal Ballots) গিয়েছেন এবং সর্বোপরি তুষ্টিকরণ এবং খয়রাতির রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি যেভাবে একপেশে হয়ে গিয়েছিলেন, তার সপাট জবাব (WB Election Results 2026)।

     

  • WBSSC 2016: বিজেপি জমানায় নতুন ‘সকাল’, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট প্রকাশ এসএসসি-র

    WBSSC 2016: বিজেপি জমানায় নতুন ‘সকাল’, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট প্রকাশ এসএসসি-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ ঝুলি থেকে বেরল বেড়াল! তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘নো হোয়্যার’ (মুখ্যমন্ত্রীর পদ খুইয়েছেন এবং বিধায়কও নির্বাচিত হননি) হতেই ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার (WBSSC 2016) ওএমআর শিট প্রকাশ করল এসএসসি। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশেই ওএমআর শিট প্রকাশ করা (BJP) হচ্ছে। এসএসসির নিজস্ব ওয়েবসাইটেই প্রকাশ করা হয়েছে রেজাল্ট। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পরেই পদক্ষেপ করল এসএসসি।

    ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ‘খেলা’ শুরু (WBSSC 2016)

    শনিবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ব্রিগেডে শপথ নিয়েছে বঙ্গের নয়া সরকার। অঙ্গ-কলিঙ্গের পর বিজেপির বঙ্গ বিজয় হওয়ায় প্রত্যাশিতভাবেই খুশি পদ্মশিবির। সেই কারণেই শনিবারের ব্রিগেডে আক্ষরিক অর্থেই বসেছিল চাঁদের হাট। সেই ‘হাটে’ই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। তার পরেই বঙ্গের উন্নয়নে ঝাঁপিয়ে পড়ে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার। শপথগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই এসএসসি প্রকাশ করে সিবিআইয়ের উদ্ধার করা সেই সব ওএমআর শিট। এসএসসির ‘যোগ্য’ এক চাকরিহারা বলেন, “তৃণমূল চেপে রেখেছিল বলে প্রকাশিত হয়নি। বিজেপি আসতেই প্রকাশিত হল। রি-প্যানেলিং হোক। যোগ্যরা চাকরি পাক।” এহেন (BJP) আবহে একাধিক দাবিতে ১৩ মে এসএসসি ভবনে ডেপুটেশন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, যাঁরা অযোগ্য বলে চিহ্নিত নন, চাকরিহারাদের সেই অংশ।

    ওএমআর শিট প্রকাশ

    জানা গিয়েছে, নিয়োগ দু্নীতির তদন্তে নেমে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে সিবিআই যে হার্ডডিস্কটি উদ্ধার করেছিল, সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ওএমআর শিট মেলে। এসএসসি তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সিবিআইয়ের কাছ থেকে পাওয়া ২০১৬ সালের নিয়োগ পরীক্ষার নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রার্থীদের ওএমআরের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের রায় এবং নির্দেশ মেনেই ছবিগুলি আপলোড করা হয়েছে (WBSSC 2016)। ২০১৬-র পরীক্ষায় গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি চাকরি প্রার্থীদের স্ক্যান করা ওএমআর শিটও আপলোড করা হবে শীঘ্রই।

    শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আদালত জানিয়ে দেয়, ‘চাল থেকে কাঁকর বাছতে না পারায়’ বাতিল করা হয় ২৬ হাজার চাকরি। চাকরি ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমে পুলিশের লাঠি থেকে লাথি খেয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। যাঁরা দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন, তাঁদেরও নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হয়। যোগ্য-অযোগ্যদের আলাদা করতে (BJP), বারবার ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন চাকরিহারারা। তৃণমূল সরকারের আমলে তা প্রকাশ করা হয়নি। রাজ্যে পালাবদল হতেই প্রকাশ করা হল সেই ইমেজ (WBSSC 2016)।

     

  • Suvendu Adhikari: সরকারি চাকরির বয়স ৫ বছর বৃদ্ধি, আয়ুষ্মান ভারত চালু, বিএসএফকে জমি হস্তান্তর, প্রথম দিনেই ৬ সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    Suvendu Adhikari: সরকারি চাকরির বয়স ৫ বছর বৃদ্ধি, আয়ুষ্মান ভারত চালু, বিএসএফকে জমি হস্তান্তর, প্রথম দিনেই ৬ সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগে থেকে চলতে থাকা কোনও সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না। চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত-সহ সব কেন্দ্রীয় স্কিম, নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আগে চালু থাকা সমস্ত প্রকল্প থাকবে। তবে অভারতীয় বা মৃত কেউ এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে জানান তিনি।

    নবান্নে শুভেন্দুর প্রথম দিন

    সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ নবান্নে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এরপর তাঁকে ভিআইপি করিডরে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। ১০-১৫ মিনিটের গার্ড অফ অনার দেওয়ার অনুষ্ঠান হয়। কলকাতা পুলিশের টিম, কলকাতা পুলিশের ব্যান্ড গার্ড অফ অনার দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। এরপর সোজা ১৪ তলায় পৌঁছন তিনি। নবান্নে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। ১৪ তলার একটি কনফারেন্স রুমে গিয়ে ৫ মন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক সারেন। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মন্ত্রী পদে শপথ নেওয়া ৫ জন— অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিক এবং দিলীপ ঘোষ। এছাড়াও, এই বৈঠকে হাজির ছিলেন বেশ কিছু দফতরের আধিকারিকরাও। এর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন, জানান ৬ সিদ্ধান্তের কথা ।

    প্রথম মন্ত্রিসভায় ৬ সিদ্ধান্ত

    মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলি হল—

    ● বিজেপির নিহত কর্মীদের পাশে সরকার

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপির অকালে ঝরে যাওয়া ৩২১ জনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছি, সমবেদনা জানিয়েছি। তাদের পরিবারের প্রতি এই সরকার দায়বদ্ধ। হত্যার বিচার চান তাঁরা। তা আমরা দেব। আত্ম বলিদানকারী বিজেপি কর্মীর পরিবারগুলির দায়িত্ব আমাদের। তাঁদের পরিবারের সামাজিক এবং অন্যান্য কল‍্যাণমূলক দায়িত্ব আমরা নিলাম।”

    ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর

    সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ এবং নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিএসএফ-কে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হল। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ

    ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ। বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বড় ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গ আয়ুষ্মান ভারত ( Ayushman Bharat ) প্রকল্পে যুক্ত হল। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (Pradhan Mantri Jan Arogya Yojana), প্রধানমন্ত্রী কৃষক বিমা যোজনা (Pradhan Mantri Kisan Bima Yojana), পিএম বিশ্বকর্মা (PM Vishwakarma), বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও (Beti Bachao Beti Padhao), পিএম উজ্জ্বলা (PM Ujjwala) যোজনা সহ কেন্দ্রীয় সমস্ত প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত হল রাজ্য।

    মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিভিন্ন গ্রাহক বিতরণ কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক স্তরে বহু আবেদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, “রাজনৈতিক কারণে প্রচুর আবেদন ফেলে রেখেছিলেন জেলা শাসকরা।” তিনি জানান, অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে সেই সমস্ত আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, উজ্জ্বলা প্রকল্পের আওতায় ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন করেছিলেন। সেগুলি আগের সরকার কেন্দ্রীয় সরকারে পাঠাতে দেননি। আজ সেই আবেদন গুলি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আইএএস-আইপিএসদের প্রশিক্ষণ

    প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে আইএএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। তিনি বলেন, এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকরাও দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “আগের মুখ্যমন্ত্রীর অলিখিত নির্দেশে আইএএস, আইপিএস-রা প্রশিক্ষণ নিতে পারতেন না।” এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব মুখ্যসচিবকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    বঙ্গে চালু হল বিএনএস

    আজ থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস-এ যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন সংবিধান অগ্রাহ্য করে অত্যন্ত অবৈধ ভাবে আগের আইপিসি, সিআরপিসি চলছিল। আজ থেকে বিএনএস-এ যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ।

    সরকারি চাকরিতে ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি

    সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি বলেছিলেন, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে সরকারি চাকরিতে কোনও নিয়োগ হয়নি। তাই প্রচুর শিক্ষিত যুবক-যুবতীর বয়স চলে গিয়েছে। সে কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়ঃসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হল।”

    একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, জনগণনার কাজ আজ থেকে শুরু করল রাজ্য। কেন্দ্রের নির্দেশ এখন থেকেই কার্যকর। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠক। তিনি বলেন, “পরবর্তী সোমবার আমরা মন্ত্রিসভার আরও একটি বৈঠক করব। আরজি কর-সহ নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, পে কমিশন, মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ), এরিয়ারের বিষয়ে আমরা ওই দিন আলোচনা করব।”

LinkedIn
Share