Rath Yatra 2022: প্রতিবছর রথযাত্রার আগে জ্বর আসে জগন্নাথদেবের, কেমন করা হয় চিকিৎসা?

jagannath-rath-yatra

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শাস্ত্র মতে, জ্যেষ্ঠ পূর্ণিমা ভগবান জগন্নাথের (Lord Jagannath) জন্মতিথি। জগন্নাথ ধামে, ভগবান বিষ্ণু (Lord Vishnu) জগন্নাথ রূপে বিরাজ করেন। এটিই একমাত্র মন্দির যেখানে ভগবানের বিগ্রহ কাষ্ঠের আর এখানে জগন্নাথ নিজের দাদা বলভদ্র ও বোন সুভদ্রার সঙ্গে পূজিত হন। হাজার বছরের পরম্পরা অনুযায়ী, প্রতি বছর জ্যেষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে জগন্নাথ নিজের ভাই এবং বোনের সঙ্গে ১০৮টি কলসির জলে পবিত্র স্নান করেন।

পৌরাণিক ধ্যান-ধারণা মতে, অত্যাধিক স্নানের কারণে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শাস্ত্র অনুসারে, ভগবান জগন্নাথের অসুস্থতাকে তাঁর ‘জ্বরলীলা’ বলা হয়। যে কারণে একান্তবাসে থাকতে হয় তাঁদের। এর পর ১৫ দিনের জন্য মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েকজন পুরোহিত বৈদ্যের মতো ভগবানের সেবা করে তাঁর চিকিৎসা করেন। তাঁদের আয়ুর্বেদিক ক্বাথ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: পুরীর রথযাত্রার তিন রথের আলাদা মাহাত্ম্য আছে, জানেন কি?

অসুস্থ হয়ে পড়ার পর রত্নজড়িত বস্ত্রের পরিবর্তে সুতির শ্বেত বস্ত্র পরিধান করেন তাঁরা, আভুষণও খুলে রাখা হয়। ভোজনে দেওয়া হয় ফল, ফলের রস, তরল পদার্থ। পঞ্চম দিন বড় ওড়িয়া মঠ থেকে ফুলেরি তেল আসে, যা দিয়ে হাল্কা মালিশ করা হয়। এর পর রক্তচন্দন ও কস্তুরির প্রলেপ লাগানো হয়। এ সময় তাঁকে হাল্কা খাবার, যেমন, দুধ, ফলের রস ও কয়েকটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ খাওয়ানো হয়। 

ভগবানের চিকিৎসার জন্য ভেষজ দশমূলী ওষুধ প্রস্তুত করা হয়। যার মধ্যে স্থানীয় ভাষায় অুসারে, শালা পার্নি, বেল, কৃষ্ণ পার্নি, গামহারি, আগিবাথু, লুবিং কলি, অঙ্কান্তি, তিগোখারা, ফানফানা, সুনারি, বৃহাটি ও পোটলি মিশিয়ে ওষুধ তৈরি করা হয়। আয়ুর্বেদে এই ওষুধগুলির উল্লেখ আছে। এমতাবস্থায় তাদের দেওয়া হবে ঘোল, খিচড়ি, মুগ ডালসহ হালকা খাবার। দশম দিনে দশমুলারিষ্ঠে নীম, হলুদ, হরড়, বহেড়া, লবঙ্গ ইত্যাদি জড়িবুটির জল দিয়ে নরম মোদক বানিয়ে খেতে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বিপদ এড়াতে বিপত্তারিণী পুজো! জানুন এই ব্রতর মাহাত্ম্য

রথযাত্রার (Jagannath Rath Yatra) একদিন আগে, জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁদের মন্দিরের গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনা হয়। এর পর তাঁরা নিজের মাসির সঙ্গে দেখা করতে গুন্ডীচা মন্দির যান। এখানে বিভিন্ন প্রকারের ব্যঞ্জন তাঁকে ভোগে দেওয়া হয়। মাসির বাড়িতে ৯ দিন কাটিয়ে পুনরায় মন্দিরে ফিরে আসেন।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share