মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে সাইবার জালিয়াতি ও অনলাইন প্রতারণা রুখতে হোয়াটসঅ্যাপ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ফিচার নিয়ে আসতে চলেছে, যার নাম ‘সিম-বাইন্ডিং’ (SIM-binding)। এই নতুন নিয়মের ফলে ব্যবহারকারীদের হোয়াটসঅ্যাপ (Whatsapp) অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে।
‘সিম-বাইন্ডিং’ আসলে কী (SIM-binding)?
বর্তমানে যে কোনও ডিভাইসে (SIM-binding) হোয়াটসঅ্যাপ লগ-ইন করার জন্য শুধুমাত্র একটি ওটিপি (OTP)-র প্রয়োজন হয়। কিন্তু ‘সিম-বাইন্ডিং’ প্রযুক্তি চালু হলে, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে থাকা ফিজিক্যাল সিম কার্ড বা ই-সিম (e-SIM)-এর সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ যে ফোনে আপনার সিম কার্ডটি রয়েছে, শুধুমাত্র সেই ফোনেই হোয়াটসঅ্যাপ সক্রিয় রাখা সম্ভব হবে।
কেন এই নতুন নিয়ম আনা হচ্ছে?
প্রতারণা রোধ (Whatsapp)
ওটিপি চুরির মাধ্যমে অন্যের হোয়াটসঅ্যাপ (Whatsapp) অ্যাকাউন্ট হাতিয়ে নেওয়ার যে প্রবণতা বা স্ক্যাম (Scam) ইদানীং বেড়েছে, এই ফিচারের ফলে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। সিম কার্ডটি ডিভাইসে না থাকলে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা যাবে না।
ভুয়ো অ্যাকাউন্টে লাগাম
অনেক ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল নম্বর ব্যবহার করে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট চালানো হয়। সিম-বাইন্ডিং প্রক্রিয়াটি বাধ্যতামূলক হলে এই ধরণের স্প্যাম অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
নিরাপত্তার অতিরিক্ত স্তর
এটি মূলত টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনের মতোই কাজ করবে, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত চ্যাট ও তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
ব্যবহারকারীদের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে?
ডিভাইস পরিবর্তন
আপনি যখন নতুন কোনও ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ (Whatsapp) ব্যবহার করতে চাইবেন, তখন পুরনো ফোন থেকে সিম কার্ডটি বের করে নতুন ফোনে লাগানো বাধ্যতামূলক হবে।
মাল্টি-ডিভাইস ফিচার
হোয়াটসঅ্যাপের (Whatsapp) বর্তমান ‘লিঙ্কড ডিভাইস’ (Linked Devices) ফিচারের ওপর এর প্রভাব কেমন হবে, তা নিয়ে প্রযুক্তি মহলে আলোচনা চলছে। তবে প্রাথমিক অ্যাকাউন্টটি সুরক্ষিত করতে এই বাইন্ডিং প্রক্রিয়াটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে টেলিকম সংস্থাগুলোকে সিম কার্ড সংক্রান্ত জালিয়াতি রুখতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের এই পদক্ষেপ সেই ডিজিটাল সুরক্ষা উদ্যোগেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply