SSC Recruitment: দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি ৭ হাজার পদ তৈরি এসএসসি-তে?

Protest_teacher

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : স্কুল সার্ভিস কমিশনে দুর্নীতির(ssc scam) অভিযোগে ল্যাজেগোবরে দশা তৃণমূল(tmc) পরিচালিত রাজ্য সরকারের। সেই দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই তড়িঘড়ি সৃষ্টি করা হল প্রায় সাত হাজার পদ। ওয়েটিং লিস্টে থাকা শিক্ষকদের চাকরি দিতেই জারি হয়েছে বিজ্ঞপ্তিও। মেধাতালিকার শেষের দিকে নাম থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের এক মন্ত্রীর মেয়েকে অন্যায়ভাবে শিক্ষকের চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল জমানায় শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতিও হয়েছে। জোড়া অভিযোগে সরগরম রাজ্য। এই কেলেঙ্কারির(scam) দিক থেকে নজর ঘোরাতেই রাজ্য সরকারের এই বিজ্ঞপ্তি জারি বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

আরও পড়ুন : “সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে কোনও ভুল নেই”, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বহাল সিবিআই তদন্ত

২০১১ সালে বামেদের হঠিয়ে রাজ্যের কুর্সিতে আসে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী হন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(mamata banerjee) স্বয়ং। অভিযোগ, তার পরেই শুরু হয় ‘পাইয়ে দেওয়ার’ খেলা। কাউকে অন্যায়ভাবে চাকরি, কাউকে বড় কোনও পদ দিয়ে দলে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সময় যত গড়িয়েছে, পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতির খেলায় ততই পোক্ত হয়েছে তৃণমূলের ভিত। সম্প্রতি সেই কেলেঙ্কারিই প্রকাশ্যে এসেছে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের নেওয়া পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। দলীয় কর্মী কিংবা তাঁদের ছেলেমেয়ে অথবা তাঁদের সুপারিশ করা পরীক্ষার্থীদের শিক্ষকের চাকরি দেওয়া হয়েছে অন্যায়ভাবে। যার জেরে বঞ্চিত হয়েছেন যোগ্য প্রার্থীরা। ওয়েটিং লিস্টে নাম থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাননি অনেকে। আবার মেধাতালিকার শেষের দিকে নাম থাকলেও, কেউ হয়তো চাকরি পেয়েছেন তালিকার ওপরে থাকা পরীক্ষার্থীদের টপকে গিয়ে। অন্যায়ভাবে চাকরি পাওয়ায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর(paresh adhikary) মেয়ে অঙ্কিতাকে বরখাস্ত করার নির্দেশও দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও জেরা করেছেন সিবিআই আধিকারিকরা।  

আরও পড়ুন : চাকরি থেকে বরখাস্ত পরেশ-কন্যা অঙ্কিতা, বেতন ফেরতের নির্দেশ হাইকোর্টের

গত কয়েকদিন ধরে এসএসসির এই দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসায় জেরবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য সরকার। তার পরেই শুরু হয় সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার প্রচেষ্টা। সেই মতো রাতারাতি সৃষ্টি করা হয় ৬ হাজার ৮৬১টি পদ। রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরে তাতে সই করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তার পরেই বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য সরকার। ওয়েটিং লিস্টে থাকা শারীর শিক্ষা, কর্মশিক্ষা এসএলএসটিসহ যাবতীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের চাকরি দিতেই নয়া বিজ্ঞপ্তি। এই সব শূন্য পদে নিয়োগ, যাচাই পর্ব এবং সুপারিশের দায়িত্বে থাকবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। যদিও যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে আদালতের নির্দেশ মেনে।

আরও পড়ুন : নথি নষ্টের আশঙ্কায় “সিল” এসএসসি দফতর, নিরাপত্তায় সিআরপিএফ, মধ্যরাতে নির্দেশ হাইকোর্টের

জানা গিয়েছে, নবম-দশম শ্রেণির সহকারি শিক্ষকের জন্য নয়া পদ সৃষ্টি হয়েছে ১৯৩২টি। একাদশ-দ্বাদশে ২৪৭টি, গ্রুপ সি ১১০২, গ্রুপ ডি ১৯৮০টি এবং কর্মশিক্ষা ও শারীর শিক্ষার সহকারি শিক্ষক নিয়োগে মোট ১৬০০ নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share