Tag: মাধ্যম বাংলা

  • Ayushman Bharat: আয়ুষ্মান ভারত যোজনায় ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা, যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি কীভাবে করবেন জানেন?

    Ayushman Bharat: আয়ুষ্মান ভারত যোজনায় ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা, যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি কীভাবে করবেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রত্যেক ভারতীয়দের সাধারণ স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকারের অন্যতম যুগান্তকারী প্রকল্প হলো ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (AB-PMJAY)। এই প্রকল্পের অধীনে দেশের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস বা বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেয়ে থাকে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের (BJP Bengal) পর এবং রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক তৎপরতায় এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে রাজ্যে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ অনুমতি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, বিগত মমতা সরকার এই কেন্দ্র সরকারের প্রকল্পকে বাস্তবায়ন করতে দেয়নি। এখন থেকে রাজ্যের কোনও মানুষ আয়ুষ্মান ভারতের (Ayushman Bharat) সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না।

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কী (Ayushman Bharat)?

    আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) হলো বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রায় ৫০ কোটি মানুষকে অর্থাৎ ১০ কোটিরও বেশি পরিবার উন্নত মানের চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা। এই কার্ডের মাধ্যমে নথিভুক্ত সরকারি (BJP Bengal) ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে জটিল অস্ত্রোপচার থেকে শুরু করে ক্যানসার বা হৃদরোগের মতো ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা বিনামূল্যে করা সম্ভব।

    কারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন? (যোগ্যতা)

    এই প্রকল্পের (Ayushman Bharat) সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট মাপকাঠি রয়েছে। মূলত ২০১১ সালের আর্থ-সামাজিক ও জাতিগত জনগণনার (SECC) তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে সাধারণ অর্থে নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

    (গ্রামীণ এলাকার জন্য)

    • ● গ্রামীণ এলাকায় যাদের শুধুমাত্র একটি কাঁচা ঘর (মাটির দেওয়াল ও চাল) আছে, তারা পাবেন সুবিধা।
    • ● পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সি কোনও সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য না থাকলে আবেদনের যোগ্য।
    • ● পরিবারের প্রধান যদি একজন মহিলা হন, সেখানে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্য না থাকে।
    • ● তফশিলি জাতি (SC) বা তফশিলি উপজাতি (ST) ভুক্ত পরিবার পাবেন সুবিধা।
    • ● ভূমিহীন পরিবার, যাদের আয়ের প্রধান উৎস কায়িক শ্রম তারা পাবেন।
    • ● পরিবারে যদি কোনও বিশেষভাবে সক্ষম (দিব্যাঙ্গন) সদস্য থাকেন ও দেখাশোনা করার মতো কোনও সুস্থ সদস্য না থাকে।

    শহুরে এলাকার জন্য কী যোগ্যতা লাগবে?

    • ● রাস্তার হকার, মুচি বা ফেরিওয়ালা।
    • ● পরিচারিকা (Domestic workers)।
    • ● আবর্জনা সংগ্রহকারী (Ragpickers)।
    • ● নির্মাণ শ্রমিক, প্লাম্বার, রাজমিস্ত্রি, রং মিস্ত্রি।
    • ● রিকশাচালক বা পরিবহণ শ্রমিক।
    • ● দোকানের কর্মচারী, ঝাড়ুদার বা মালি।

    নতুন সংযোজন (৭০ উর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক)

    • ● ২০২৪-২৫ সালের আপডেট অনুযায়ী, ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি দেশের সমস্ত প্রবীণ নাগরিক এই সুবিধার আওতায় আসবেন। এক্ষেত্রে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা যাই হোক না কেন, তারা আলাদাভাবে ৫ লক্ষ টাকার কভারেজ পাবেন।

    কারা এই সুবিধা পাবেন না

    • ● যাদের নিজস্ব পাকা বাড়ি আছে।
    • ● যাদের বাড়িতে টু-হুইলার, থ্রি-হুইলার বা ফোর-হুইলার (গাড়ি)
    • ● যাদের বাড়িতে কৃষি যন্ত্রপাতি (যেমন ট্রাক্টর) আছে।
    • ● সরকারি চাকরিজীবী বা মাসে ১০,০০০ টাকার বেশি আয় করেন এমন পরিবার।
    • ● যাদের কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের লিমিট ৫০,০০০ টাকার উপরে।
    • ● যারা আয়কর (Income Tax) জমা দেন।

    পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারতের প্রাসঙ্গিকতা

    দীর্ঘদিন যাবৎ পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) এবং রাজ্য সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিতর্ক ছিল। তবে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক (BJP Bengal) রদবদলের পর, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজ্যবাসী যাতে সর্বভারতীয় স্তরের এই চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখন কেবল রাজ্যের গণ্ডিতে নয়, বরং ভিনরাজ্যের বড় বড় হাসপাতালেও ৫ লক্ষ টাকার বিমার সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

    অনলাইনে আবেদন ও কার্ড সংগ্রহের পদ্ধতি

    প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে এখন ঘরে বসেই আয়ুষ্মান ভারত কার্ড বা ‘গোল্ডেন কার্ড’ (Golden Card)-এর জন্য আবেদন করা সম্ভব:

    ১> পোর্টাল ভিজিট: প্রথমে আয়ুষ্মান ভারতের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (beneficiary.nha.gov.in) অথবা ‘Ayushman App’ ডাউনলোড করতে হবে।

    ২> লগ-ইন: আবেদনকারীকে তাঁর মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি-র (OTP) মাধ্যমে লগ-ইন করতে হবে।

    ৩>যোগ্যতা যাচাই: নিজের রাজ্য (West Bengal), জেলা এবং রেশন কার্ড নম্বর বা আধার নম্বর দিয়ে সার্চ করলে দেখা যাবে আপনার নাম তালিকায় আছে কি না।

    ৪> ই-কেওয়াইসি (e-KYC): যদি তালিকায় নাম থাকে, তবে আধার কার্ডের সাহায্যে বায়োমেট্রিক বা ওটিপি দিয়ে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে হবে।

    ৫> কার্ড ডাউনলোড: ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার কিছু সময় বা কয়েক দিনের মধ্যে ডিজিটাল ‘আয়ুষ্মান কার্ড’ ডাউনলোড করা যাবে।

    এছাড়া নিকটবর্তী ‘কমন সার্ভিস সেন্টার’ (CSC) বা তালিকাভুক্ত হাসপাতালে গিয়েও আধিকারিকদের সহায়তায় এই কার্ড তৈরি করা যায়।

    এই বিমার মাধ্যমে আপনি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অনায়াসে চিকিৎসা করাতে পারবেন। আর সেটা বিনামূল্যেই সম্ভব হবে।

    কত টাকা পাওয়া যাবে?
    পরিবার পিছু প্রতি বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে বিমা মিলবে। সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এই টাকা মিলবে।

    সারা ভারতে হাসপাতালে ভর্তির সুবিধা
    এই বিমার অধীনে রয়েছে প্রচুর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল। সেই তালিকাভুক্ত হাসপাতালে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে।

    হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে ও পরে খরচের কভারেজ
    যতদূর খবর, শুধু হাসপাতালে ভর্তির সময়ের খরচই নয়, বরং চিকিৎসা প্যাকেজ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে এবং ছাড়া পাওয়ার পরের খরচও মিলতে পারে।

    গোটা পরিবার পাবেন?
    পরিবারের সমস্ত সদস্যেরা পেতে পারেন এই বিমার সুবিধা। এই প্রকল্পের সুবিধা সব বয়সিরা পাবেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা যতই থাকুক না কেন, এই কভারেজ মিলবে। আগে থেকে থাকা রোগগুলিতেও অপেক্ষা করতে হবে না। এমনিতেই মিলবে কভারেজ।

    বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সুবিধা
    এই স্কিমে হাজার হাজার সার্জারি ও চিকিৎসা হবে। তাই চিন্তার কোনও কারণ নেই।

    দেশজুড়ে পোর্টেবিলিটি সুবিধা
    এই স্কিমে অধীনস্ত ব্যক্তিরা নিজের রাজ্যের বাইরে ভারতের যে কোনও লিস্টেড হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারেন। বিনামূল্যেই মিলবে পরিষেবা।

    কোনও প্রিমিয়াম দিতে হবে?
    এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ খরচ সরকার বহন করে। উপভোক্তাদের কোনও প্রিমিয়াম দিতে হয় না।

    কীভাবে মিলবে সুবিধা? 
    এই কার্ড নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। তাতেই মিলবে ক্যাশলেশের সুবিধা।

    ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাতে ভীষণ কার্যকরী

    স্বাস্থ্যই সম্পদ, আর সেই সম্পদ রক্ষায় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) একটি মজবুত ঢাল হিসেবে কাজ করে। পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ নাগরিকরা এখন রাজ্যের বিজেপি শাসিত সরকার (BJP Bengal) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সমন্বয়ে আরও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে যে সকল পরিবার ক্যানসার, কিডনি বা হার্টের রোগের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাতে অক্ষম, তাঁদের কাছে এই ৫ লক্ষ টাকার বিমা এক নতুন জীবনদানের সমান। সঠিক নথিপত্র দিয়ে দ্রুত আবেদন করে এই সরকারি সুরক্ষাকবচ গ্রহণ করা বর্তমান সময়ে প্রতিটি সচেতন নাগরিকের কর্তব্য।

  • Suvendu Adhikari: নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক, বকেয়া ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

    Suvendu Adhikari: নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক, বকেয়া ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সোমবার নবান্নে নবগঠিত সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার (Cabinet Meeting) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনকল্যাণমূলক একাধিক পদক্ষেপের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট বললেন, “পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন ও সুরক্ষার যে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, তা দেশের অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের উন্নয়নের ধারাকে অনুসরণ করেই এগিয়ে যাবে।” একই ভাবে ডিএ  ও সপ্তম পে কমিশন নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

    মহার্ঘ ভাতা (DA) ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে বড় ঘোষণা

    রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন–

    • আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
    • ওই বিশেষ বৈঠকেই ডিএ (DA) এবং সপ্তম বেতন কমিশন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
    • পূর্ববর্তী সরকারের বাজেট পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন।

    উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন দেখা গেল।

    দুর্নীতি দমন ও নারী সুরক্ষা

    প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন, সুরক্ষা এবং ডবল ইঞ্জিন সরকারের যে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, তা দেশের অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের উন্নয়নের পথ অনুসরণ করেই এগোবে।রাজ্য সরকারের কর্মীরা কবে পাবেন বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পরের সোমবার আবার বৈঠকে বসবে মন্ত্রিসভা। ওই দিনই ডিএ, সপ্তম পে কমিশন-সহ একাধিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” শুভেন্দু আরও বলেন, “রাজ্যে কোনোভাবেই নারী নির্যাতন ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। বিশেষ করে আর জি কর-সহ বিভিন্ন নারী নির্যাতনের ঘটনা এবং বিগত আমলের নিয়োগ বা অন্যান্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী সোমবারের বৈঠকে এই বিষয়গুলি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”

    মন্ত্রিসভার প্রথম দিনের সিদ্ধান্ত

    এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পাঁচ পূর্ণমন্ত্রী— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, ক্ষুদিরাম টুডু, অশোক কীর্তনিয়া ও নিশীথ প্রামাণিক। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “সরকার গঠনের পর পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় এখনই সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যেসব নথিপত্র প্রস্তুত ছিল, তার ভিত্তিতে কয়েকটি জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

    কর্মচারী মহলে আশার আলো

    রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে নবগঠিত সরকারের এই আশ্বাস কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী সোমবারের বৈঠকে যদি কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং নতুন বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা আসে, তবে তা হবে রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক বড় পদক্ষেপ।

    মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) পরিশেষে আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষা করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।

  • CM Suvendu Initiates Census: পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা শুরুতে ছাড়পত্র, আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

    CM Suvendu Initiates Census: পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা শুরুতে ছাড়পত্র, আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা (Census) প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, অবিলম্বে কেন্দ্রের নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে এবং প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতিও শুরু হবে।

    মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর

    এই ঘোষণা করতে গিয়েই আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া-র দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছিল, যেখানে রাজ্যে আসন্ন জনগণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল সরকার সংবিধান এবং রাজ্যের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছিল, যাতে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর না হয়। আজ মন্ত্রিসভা অবিলম্বে ওই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করার অনুমোদন দিয়েছে।”

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই জনগণনা?

    ভারতে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা হয়। শেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। ২০২১ সালের জনগণনা কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে স্থগিত হয়ে যায়। এরপর এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে সেই প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।

    জনগণনা শুধুমাত্র জনসংখ্যা গণনার বিষয় নয়, এর উপর নির্ভর করে—

    • ● কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা
    • ● খাদ্য নিরাপত্তা ও রেশন বণ্টন
    • ● স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অবকাঠামো পরিকল্পনা
    • ● নগরায়ণ ও আবাসন নীতি
    • ● ভবিষ্যতের নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation)
    • ● মহিলাদের সংরক্ষণ ইস্যুতে রাজনৈতিক তাৎপর্য
    • ● বিরোধী রাজ্যগুলি এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে!

    শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে নয়, রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে নতুন সরকার। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম অনুযায়ী লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে নতুন জনগণনা এবং পরবর্তী ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া জরুরি। এই কারণেই জনগণনা বিলম্বিত হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছিল। বিজেপির অভিযোগ, বিরোধী শাসিত কিছু রাজ্য পরোক্ষে এই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছে।

    কী কী প্রস্তুতি শুরু হবে?

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর থেকেই বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতর জেলাশাসক, ব্লক প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় শুরু করবে।

    প্রাথমিক পর্যায়ে যে কাজগুলি শুরু হতে পারে—

    • ● প্রশাসনিক সীমানা ও ওয়ার্ড সংক্রান্ত তথ্য আপডেট
    • ● বাড়ি তালিকাকরণ (House Listing)
    • ● তথ্য সংগ্রহের জন্য ফিল্ড স্টাফ ও এনুমেরেটর প্রস্তুতি
    • ● ডিজিটাল ডেটা সংগ্রহের অবকাঠামো গড়ে তোলা
    • ● জেলা ও পুরসভা স্তরে সমন্বয় বৈঠক

    রাজ্য প্রশাসনের একাংশ জানিয়েছে, ক্যাবিনেট অনুমোদনের পর থেকেই বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কাজ শুরু হবে।

    নতুন সরকারের প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ

    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিজেপি সরকারের এটি অন্যতম প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। সরকার ইতিমধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় বাড়ানোর মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল জনগণনা। নতুন সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বার্তা দিতে চাইছে যে, তারা কেন্দ্রের নীতি ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে দ্রুত সামঞ্জস্য স্থাপন করছে।

    এখনও স্পষ্ট নয় সময়সূচি

    যদিও জনগণনা শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এখনও পর্যন্ত সরকার কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেনি।

    এখনও জানা যায়নি—

    • ● বাড়ি তালিকাকরণ কবে শুরু হবে
    • ● মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কবে হবে
    • ● জনগণনা প্রক্রিয়া শেষ করতে কত সময় লাগবে

    তবে সরকারি সূত্রের দাবি, কেন্দ্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয়ের পর বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

  • NIA: মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র বড় পদক্ষেপ, কালিয়াচকের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

    NIA: মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র বড় পদক্ষেপ, কালিয়াচকের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

    মাধ্যাম নিউজ ডেস্ক: মালদার মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকায় সাম্প্রতিক হিংসাত্মক আক্রমণ এবং গোলমালের ঘটনায় এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় কালিয়াচক-১ (Kaliachak Mothabari Case) নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সারিউল শেখ এবং সুজাপুর অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি ইউসুফ শেখ-কে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই জোড়া গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও জিজ্ঞাসাবাদ (NIA)

    এনআইএ (NIA) সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার ঠিক প্রাক্কালে সুজাপুর বিধানসভার প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুর রহমান এবং ব্লক সভাপতি সারিউল শেখসহ মোট ৯ জন নেতাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকায় শুরুতে তাঁরা হাজিরা এড়িয়ে গেলেও, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তলবে সাড়া দিতে বাধ্য হন। এরপর হাজিরা দিতে গেলেই তথ্য়ে গোলমাল ঘটলে গ্রেফতার করা হয়। গত বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের সময় সারিউল ও ইউসুফের (Kaliachak Mothabari Case)  মোবাইল ফোন দুটি বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। এরপর শুক্রবার পুনরায় তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে ম্যারাথন জেরা করা হয়। বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনআইএ।

    অভিযোগের নেপথ্যে

    তদন্তকারীদের (NIA) দাবি, মোথাবাড়িতে বিচারকদের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং সুজাপুর হাসপাতালের নিকটবর্তী জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় এই দুই নেতার প্রত্যক্ষ উস্কানি ও যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। উল্লেখ্য, ধৃত ইউসুফ শেখ সুজাপুর হাসপাতালের সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের মালিক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনেই সেই দিন জনতাকে সংগঠিত করে বড়সড় আন্দোলনের রূপ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে জাতীয় সড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে অবরোধের পিছনে আরও বড়সড় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাই তদন্তে এই সমস্ত বিষয়গুলিকেও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

    ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ

    কালিয়াচকে (Kaliachak Mothabari Case) এনআইএ-র (NIA) এই অভিযান এখানেই শেষ হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত মিলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মোথাবাড়ি ও সুজাপুর কাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে শাসকদলের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতার নামও বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এই এলাকায় আরও কিছু প্রভাবশালীর গ্রেফতারির সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। বর্তমানে এই দুই ধৃত নেতাকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী এবং বাকি সদস্যদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছে এনআইএ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন ঠিকানা আলিপুরের ‘সৌজন্য’, আপাতত এটাই তাঁর বাসভবন

    Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন ঠিকানা আলিপুরের ‘সৌজন্য’, আপাতত এটাই তাঁর বাসভবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এতদিন বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কলকাতায় নিজের ফ্ল্যাটে থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর স্থায়ী ঠিকানা বদলাতে চলেছে। সূত্রের খবর আলিপুরের ভিভিআইপি গেস্ট হাউস ‘সৌজন্য’ হবে শুভেন্দুর থাকার জায়গা। একই ভাবে নবান্নতে (Nabanna Meeting) আজ সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। কেন্দ্রীয় জনমুখী প্রকল্পকে বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপ।

    ‘সৌজন্য’-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার (Suvendu Adhikari)

    ২০১৮ সালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এই ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। মূলত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা ভিভিআইপিদের থাকার জন্য এটি তৈরি করা হলেও, এখন এটিই হতে চলেছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সরকারি বাসভবন। ইতিমধ্যেই ‘সৌজন্য’-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় বৈঠকও সেরে ফেলা হয়েছে।

    পৈতৃক ভিটে ‘শান্তিকুঞ্জ’ ও পারিবারিক মুহূর্ত

    শপথ নেওয়ার পর প্রথম রবিবারটি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কাটিয়েছেন তাঁর কাঁথির পৈতৃক বাড়ি ‘শান্তিকুঞ্জ’-এ। ৯ মে শপথ গ্রহণের পর শনিবার রাতেই মেদিনীপুরের তিনি বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। রবিবার দিনভর মা ও মাসির হাতের রান্না করা বাঙালি খাবারে আপ্যায়িত হন তিনি। মেনুতে ছিল— করলা সেদ্ধ, মোচার তরকারি থেকে শুরু করে সর্ষে ইলিশ ভাপা ও মুরগির মাংস। এরপর বিকেলেই তিনি প্রশাসনিক কাজের উদ্দেশ্যে কলকাতার পথে রওনা দেন।

    আজকের প্রশাসনিক কর্মসূচি

    নবান্নে (Nabanna Meeting) প্রথম দিন আজ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ব্যস্ত দিন। তাঁর সূচিতে রয়েছে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। বিকেল তিনটে নাগাদ নবান্ন সভাঘরে বিজয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক হবে। পাশাপাশি তিনটি প্রশাসনিক বৈঠকও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। প্রথম বৈঠকটি দুপুরে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে প্রথমে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি। এর পর বিকেল ৪টে নাগাদ সব জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক। বিকেল ৫টা নাগাদ ডিজি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা, সিপি ও এসপিদের নিয়ে বৈঠক করবেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন ইনিংসের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

  • West Bengal Government: ‘‘এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে’’, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর বার্তা শমীকের

    West Bengal Government: ‘‘এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে’’, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর বার্তা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, “সরকার তার নিজস্ব নিয়মে চলবে। বিজেপির সঙ্কল্পপত্র বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সঙ্গে দলের সমন্বয় থাকবে। তবে এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে।” শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য বেশ স্পষ্ট। বার্তাটা পরিষ্কার, বর্তমান সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে।

    শমীকের বাড়িতে শুভেন্দু

    সোমবার সকালে চিনার পার্কের বাসভবন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় প্রথমে পৌঁছয় সল্টলেকের বিএইচ ব্লকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পৈতৃক বাড়িতে। সেখানে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন দু’জন। কিছু সময় ব্যক্তিগত আলাপচারিতার পর শমীকের সঙ্গে একই গাড়িতে বিজেপির সেক্টর ফাইভের রাজ্য কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর আগমন ঘিরে সকাল থেকেই শমীকের বাড়ির সামনে ভিড় জমায় বহু সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে পদ্মফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বাড়ির ভিতরে শমীক ভট্টাচার্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভেন্দুর পরিচয়পর্ব ও সৌজন্য বিনিময় হয়। মিষ্টিমুখ এবং এক কাপ চায়ের পর দু’জনে একসঙ্গে দলীয় কার্যালয়ের উদ্দেশে বেরিয়ে যান।

    ফুলে-মালায় বরণ শুভেন্দুকে

    বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সেক্টর ফাইভের দলীয় দফতরে শমীক-শুভেন্দুর বৈঠক আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তবে তার আগে রাজ্য সভাপতির বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ছিল সৌজন্যমূলক। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কাজ শুরুর আগে শুভেচ্ছা জানাতেই তিনি শমীকের বাড়িতে যান বলে দলীয় সূত্রের দাবি। এদিকে, বিজেপির সল্টলেক কার্যালয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। শঙ্খধ্বনি, উত্তরীয় এবং ২০৭টি পদ্মফুলের মালা দিয়ে তাঁকে বরণ করা হয়। মহিলা বিজেপি কর্মীরা বরণডালা নিয়ে শুভেন্দুকে স্বাগত জানান এবং তাঁকে মা দুর্গার একটি মূর্তি উপহার দেন।

    ‘‘বিজেপি সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার’’

    এরপর বিজেপির রাজ্য দফতরে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে শমীক আবারও জোর দিয়ে বলেন, সরকার দলীয় সীমারেখা ছাড়িয়ে রাজ্যের স্বার্থে কাজ করবে। তিনি বলেন, “এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে।”  এই বার্তার মাধ্যমে মূলত নতুন সরকারকে শুধুমাত্র দলীয় সরকারের ছাপ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী নবান্নের উদ্দেশে রওনা দেন। শমীক বলেছেন, “সরকার সরকারের মতো চলবে, দলের সঙ্কল্পপত্র বাস্তবায়নে যোগাযোগ থাকবে।” অর্থাৎ দল নীতিগত দিশা দেবে, কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সরকার নেবে। এতে বোঝানো হচ্ছে যে সরকার শুধুমাত্র পার্টি অফিস থেকে পরিচালিত হবে না।

    নবান্নয় শুভেন্দুর কর্মসূচি

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে সোমবার প্রথম নবান্নে শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নবান্নে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা। আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। বিকেল তিনটে নাগাদ নবান্ন সভাঘরে বিজয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক হবে। পাশাপাশি তিনটি প্রশাসনিক বৈঠকও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। প্রথম বৈঠকটি দুপুরে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে প্রথমে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি। এর পর বিকেল ৪টে নাগাদ সব জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক। বিকেল ৫টা নাগাদ ডিজি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা, সিপি ও এসপিদের নিয়ে বৈঠক করবেন শুভেন্দু।

  • Diarrhea Hepatitis Risk: ডায়রিয়া থেকে হেপাটাইটিস, একাধিক রোগের নেপথ্যে এই রোজের অভ্যাস?

    Diarrhea Hepatitis Risk: ডায়রিয়া থেকে হেপাটাইটিস, একাধিক রোগের নেপথ্যে এই রোজের অভ্যাস?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার মাঝেই মায়ের খাবার খাওয়ার জন্য ডাক! হাত ধোয়ার সময় পাওয়াই মুশকিল। তাই তাড়াতাড়ি কোনও মতে খাবার মুখে ঢুকিয়েই আবার ছুটে যাওয়া! কিংবা অফিসের কাজে ল্যাপটপে চোখ আটকে রয়েছে। হাত-মুখ ধোয়ার ফুরসত কোথায়! তাই কাজ করতে করতেই মুখে খাবার চালান হচ্ছে! এমনটা তো প্রায়ই হয়! অনেকেই কমবেশি খাবার আগে বা পরে হাত ধোয়ায় বিশেষ নজর দেন না। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই অভ্যাস বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ঠিকমতো হাত পরিষ্কার না করলে একাধিক রোগের দাপট বাড়ে। বিশেষত সংক্রামক রোগের প্রকোপ বেশি হয়। তাই ঠিকমতো হাত ধোয়া জরুরি। মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে হ্যান্ড হাইজিন নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি পালন হচ্ছে। বিশ্ব জুড়ে হাত পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা বোঝানো হচ্ছে! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, হাত ঠিকমতো পরিষ্কার করলে বিশ্বের ৩০ শতাংশ সংক্রামক রোগের দাপট সহজেই কমানো যাবে‌। শ্বাসযন্ত্র কিংবা লিভারের সংক্রমণ থেকে পেটের অসুখ, বিশ্বের একাধিক রোগের নেপথ্যে থাকে অপরিচ্ছন্ন হাত। কয়েক লাখ মানুষ রোগে আক্রান্ত হন। তাই এই বিষয়ে স্কুল স্তর থেকে সচেতনতা জরুরি।

    কোন রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হাত অপরিচ্ছন্ন থাকলে সবচেয়ে বেশি বিপদ বাড়ায় ডায়রিয়া। পেটের অসুখের অন্যতম কারণ অপরিচ্ছন্নভাবে খাবার খাওয়া‌। তাঁরা জানাচ্ছেন, অপরিচ্ছন্ন হাতে খাবার খেলে শরীরে সহজেই জীবাণু সংক্রমণ ঘটে‌। এর ফলে পেটের সমস্যা দেখা দেয়। ডায়রিয়ার মতো দেখা দিতে পারে। বিশেষত শিশুদের জন্য বাড়তি বিপদ। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, খেলাধুলার সময় শিশুর হাতে একাধিক জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। হাত পরিষ্কার করে না খেলে, সহজেই সেই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তার থেকে ডায়রিয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়‌। শিশুদের শরীরে দ্রুত ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকিও থাকে। তাই ডায়রিয়া প্রাণঘাতি হয়ে উঠতে পারে।

      • ● হাত পরিষ্কার করে না ধুলে হেপাটাইটিস এ-র মতো লিভারের অসুখের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশু থেকে বয়স্ক, যেকেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। অপরিচ্ছন্ন খাবার এবং জল থেকে লিভারের অসুখের ঝুঁকি বাড়ে‌। লিভারের সংক্রমণ থেকেই হেপাটাইটিসের মতো রোগ হয়। অপরিচ্ছন্ন হাতে খাবার খেলে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
      • ● অপরিচ্ছন্ন হাত টাইফয়েডের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, টাইফয়েড অপরিচ্ছন্ন খাবার ও জল থেকে সংক্রামিত হয়। হাত ঠিকমতো পরিষ্কার না করে খাবার খেলে এই রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে।
      • ● ভাইরাস ঘটিত জ্বর এবং সর্দি-কাশি সংক্রমণের অন্যতম কারণ অপরিচ্ছন্নতা। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনও ভাইরাস ঘটিত জ্বরের সংক্রমণের অন্যতম কারণ অপরিচ্ছন্নভাবে খাবার খাওয়া এবং সর্দি-কাশি হলে নিজেদের হাত ঠিকমতো না ধোয়ার অভ্যাস। এর ফলে জীবাণু সহজেই সংক্রামিত হয়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কী পরামর্শ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, স্কুল স্তর থেকেই হাতের পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতা জরুরি। কখন হাত পরিষ্কার করতে হবে সে সম্পর্কে সচেতনতা দরকার।‌ খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে হাত পরিষ্কার আবশ্যক। পরিষ্কার জলে সাবন দিয়ে অন্তত ১৫ সেকেন্ড হাত পরিষ্কার করতে হবে। তারপরে খাবার খাওয়া উচিত। খাওয়া শেষ হলেও ঠিকমতো হাত ধোয়া জরুরি। বাথরুমে যাওয়ার পরে অবশ্যই হাত ধোয়ার অভ্যাস থাকতে হবে। শিশুদের এই অভ্যাস গড়ে উঠছে কিনা সেটা নজরদারি প্রয়োজন। শৌচালয় ব্যবহারের পরে হাত পরিষ্কার না করলে নানান জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। আবার বাইরে থেকে ফিরেও হাত পরিষ্কার করা দরকার। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাইরে থেকে ফিরে হাত-মুখ ভালোভাবে না ধুয়ে কিছুই করা উচিত নয়। হাত পরিষ্কার করে ধুলে একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

  • Pakistan: মধ্যরাতে দুঃস্বপ্ন পাকিস্তানে! লিটার প্রতি ৪১৫ টাকা ছুঁল পেট্রোল-ডিজেলের দাম, দিশেহারা মানুষ

    Pakistan: মধ্যরাতে দুঃস্বপ্ন পাকিস্তানে! লিটার প্রতি ৪১৫ টাকা ছুঁল পেট্রোল-ডিজেলের দাম, দিশেহারা মানুষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত পাকিস্তানের (Pakistan) সাধারণ মানুষ। মধ্যরাতে যেন ভয়াবহ এক দুঃস্বপ্ন ধেয়ে এল জঙ্গিরাষ্ট্রে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি ঘোষণা করায় দেশজুড়ে হাহাকার পড়ে গিয়েছে। নয়া ঘোষণা অনুযায়ী, পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের (Petrol Diesel Price) দাম লিটার প্রতি ৪১৫ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে।

    রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি

    পাক সরকারের (Pakistan) এই সিদ্ধান্তে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। পেট্রোলের পাশাপাশি ডিজেল এবং কেরোসিন তেলের (Petrol Diesel Price) দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং আইএমএফের (IMF) কঠিন শর্ত পূরণ করতেই পাক সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে খবর।

    জনজীবনে প্রভাব

    রাতারাতি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকিস্তানের (Pakistan) পরিবহণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার জোগাড়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। মুদ্রাস্ফীতির চাপে আগে থেকেই পর্যুদস্ত পাক নাগরিকদের ওপর এই নতুন বোঝা যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। অনেক জায়গায় পেট্রোল (Petrol Diesel Price) পাম্পগুলিতে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে, ক্ষুব্ধ নাগরিকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।

    অর্থনৈতিক সঙ্কট ও আইএমএফের শর্ত

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএমএফের থেকে বেলআউট প্যাকেজ বা আর্থিক সহায়তা (Pakistan) পাওয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারকে ভর্তুকি কমাতে এবং কর বৃদ্ধি করতে হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের পকেটে। তেলের দাম (Petrol Diesel Price) ৪০০ টাকার গণ্ডি পার করায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির জীবনযাত্রার মান তলানিতে ঠেকার জোগাড়। এই মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলিও সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই পরিস্থিতি আরও উসকে দিতে পারে পাকিস্তানে গণ-অসন্তোষ এবং অস্থিরতাকে।

  • Hindu Victims Report: ভারতে এক বছরেই প্রাণ হারিয়েছেন ২০৯ জন হিন্দু, নেপথ্যে সাম্প্রদায়িক টার্গেটেড কিলিং-সন্ত্রাসবাদ

    Hindu Victims Report: ভারতে এক বছরেই প্রাণ হারিয়েছেন ২০৯ জন হিন্দু, নেপথ্যে সাম্প্রদায়িক টার্গেটেড কিলিং-সন্ত্রাসবাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালে ভারতজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া প্রাণঘাতী হামলার এক শিউরে ওঠা পরিসংখ্যান সামনে এল। ‘হিন্দু ভিকটিমস রিপোর্ট ২০২৫’ (Hindu Victims Report) শীর্ষক এক বার্ষিক সংকলনে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ২০৯ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী (Hindu society) বিভিন্ন হিংসাত্মক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স, সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট এবং গ্রাউন্ড-লেভেল সাংবাদিকতার ওপর ভিত্তি করে এই তথ্য সংকলিত হয়েছে।

    কোন রাজ্যে কত হিংসার শিকার (Hindu Victims Report)!

    ভৌগোলিক পরিসংখ্যান ও রাজ্যভিত্তিক এক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে,  এই হিন্দু প্রাণহানির ঘটনাগুলি (Hindu Victims Report) ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকলেও উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতে সবচেয়ে বেশি।

    • উত্তরপ্রদেশ: সর্বোচ্চ ৫৪ জন।
    • মহারাষ্ট্র: ২৮ জন।
    • দিল্লি: ২৪ জন।
    • রাজস্থান ও পশ্চিমবঙ্গ: ১৩ জন করে।
    • মধ্যপ্রদেশ: ১২ জন এবং বিহার: ১০ জন।
    • জম্মু-কাশ্মীর ও গুজরাট: ৯ জন করে।

    হত্যাকাণ্ডের ধরণ ও মোটিভ

    প্রতিবেদনটি (Hindu society) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৯৬টি ক্ষেত্রে হিন্দুদের (Hindu Victims Report) সরাসরি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ৩৫টি ক্ষেত্রে ছুরিকাঘাত, ১১টি গণপিটুনি (Lynching), ১১টি গুলি এবং ১১টি শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। শিরশ্ছেদ ও ধর্ষণের পর হত্যার মতো নৃশংস ঘটনাও রয়েছে এই তালিকায়।

    হত্যার কারণ বা ‘মোটিভ’ হিসেবে দেখা গিয়েছে:

    • টার্গেটেড কিলিং: ৭০টি ঘটনা।
    • লাভ জিহাদ: ৩৭টি ঘটনা।
    • সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ: ৩৬টি ঘটনা।

    ২০২৫-এর দুটি বড় জঙ্গি হামলা

    প্রতিবেদনে গত বছরের দুটি ভয়াবহ জঙ্গি হামলার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:

    ১. পহেলগাম হামলা (২২ এপ্রিল)

    কাশ্মীরের পহেলগামে লস্কর-ই-তৈবা ও টিআরএফের জঙ্গিরা পর্যটকদের ধর্ম পরিচয় (Hindu Victims Report) যাচাই করার পর গুলি চালায়। এই ঘটনায় ২৬ জন প্রাণ হারান, যাঁদের মধ্যে ২৫ জনই ছিলেন হিন্দু পর্যটক।

    ২. লাল কেল্লা বিস্ফোরণ (১০ নভেম্বর)

    দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে ১৩ থেকে ১৫ জন প্রাণ হারান। এই হামলার নেপথ্যে উমর উন নবী নামে এক ব্যক্তির যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে।

    সামাজিক বার্তা

    প্রতিবেদনটির উপসংহারে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এই হিন্দুদের (Hindu society) রক্তক্ষয়ী পরিসংখ্যান কেবল অপরাধের খতিয়ান নয়, বরং এটি সভ্যতার ওপর এক বড় আঘাত (Hindu Victims Report)। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এই প্রতিবেদনটি হিন্দু সমাজের ওপর ক্রমাগত হওয়া পরিকল্পিত আক্রমণের একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে, যা ন্যায়বিচার এবং সতর্কতার দাবি রাখে।

  • West Bengal Election 2021: ২০২১-এর স্মৃতিতে ফিরল রক্তক্ষয়ী বাংলা, বিজেপি প্রার্থীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব কন্যা

    West Bengal Election 2021: ২০২১-এর স্মৃতিতে ফিরল রক্তক্ষয়ী বাংলা, বিজেপি প্রার্থীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব কন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2021) সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আরও একবার ফিরে এল জনমানসে। ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে প্রাণ হারানো এক বিজেপি (BJP Bengal) প্রার্থীর পরিবার দীর্ঘ কয়েক বছরের নীরবতা ভেঙে এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হন। মগরাহাট পশ্চিমের প্রার্থী ছিলেন ধূর্জটি সাহা ওরফে মানস সাহা। তাঁকে ২ মে ২০২১ সালের ভোটের ফল ঘোষণার পর পিটিয়ে হত্যা করেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বিজেপির সরকার গড়ার প্রেক্ষাপটে নিহতের কন্যা এবার প্রশাসনের কাছে খুনিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট (West Bengal Election 2021)

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2021) সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক হিংসার খবর সামনে এসেছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমে সেই সময় নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রার্থী মানসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ (BJP Bengal) ছিল, তৎকালীন শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল। সেই সময় দেশজুড়ে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হলেও, ন্যায়বিচার অধরাই থেকে গিয়েছিল।

    ভয় ও নীরবতা ভেঙে প্রতিবাদ

    নিহত প্রার্থীর কন্যা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বিগত বছরগুলিতে (West Bengal Election 2021) প্রাণের ভয়ে এবং পরিস্থিতির চাপে আমরা মুখ খুলতে পারেননি। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক সমীকরণে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আর তাই আমরা নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আমরা শুধু বিচার চাই। আমার বাবার খুনিরা আজও খোলা আকাশে নীচে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

    ন্যায্য তদন্তের দাবি

    বিজেপি প্রার্থীর (BJP Bengal) পরিবারটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ওপর তাদের আস্থা নেই। তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা অন্য কোনও নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পুনরায় তদন্ত শুরু করা হোক। দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের কঠোরতম সাজা দেওয়াই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

    রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন

    রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মী এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই পরিবারের (BJP Bengal)  পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাটি পুনরায় সামনে আসায় তৎকালীন রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলি আবারও আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ভোটের রাজনীতিতে (West Bengal Election 2021) মানুষের জীবনের মূল্য ঠিক কতটুকু, সেই প্রশ্নই আবার তুলে দিল এই ঘটনা। ন্যায়বিচারের আশায় থাকা এই পরিবারটির লড়াই এখন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।

LinkedIn
Share