Tag: মাধ্যম

  • 700-Year Old Banyan Tree: বিজ্ঞানের হাত ধরে ইতিহাসের হদিশ, মুঙ্গেরে মিলল ৭০০ বছরের পুরানো বটগাছ!

    700-Year Old Banyan Tree: বিজ্ঞানের হাত ধরে ইতিহাসের হদিশ, মুঙ্গেরে মিলল ৭০০ বছরের পুরানো বটগাছ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের মুঙ্গেরে খোঁজ মিলল বুড়ো বটের! গাছটির বয়স ৭০০ বছর। লোককথা নয়, সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বয়স নির্ধারণ করা হল ওই অতিকায় বট গাছের। এই আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের সবচেয়ে সঠিকভাবে বয়স নির্ণয় করা প্রাচীনতম বট গাছ (World’s Oldest Accurately Dated Banyan Tree) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল মুঙ্গেরের ওই গাছ।

    কীভাবে জানা গেল আসল বয়স? (700-Year Old Banyan Tree) 

    আমাদের মতো গরম ও আর্দ্র অঞ্চলের (Tropical region) গাছের গুঁড়িতে সাধারণত স্পষ্ট গোল গোল বৃদ্ধির বলয় বা ‘গ্রোথ রিংস’ (Growth Rings) তৈরি হয় না। আর এই বলয় দেখেই যেহেতু সাধারণ পদ্ধতিতে গাছের বয়স মাপা হয়, তাই এই ধরনের গাছের সঠিক বয়স জানা বিজ্ঞানীদের কাছে বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু লখনউয়ের Birbal Sahni Institute of Palaeosciences-এর বিজ্ঞানী তৃণা বোস, ময়াঙ্ক শেখর এবং অখিলেশ কে যাদব সেই কঠিন কাজটাও সহজ করে দিলেন। বিজ্ঞানীরা প্রথমে গাছটির ঝুরি থেকে তৈরি হওয়া একটা মোটা গুঁড়ি এবং একটি পুরানো ডাল থেকে সামান্য কাঠ কেটে নেন। এরপর ল্যাবরেটরিতে সেই কাঠের সবচেয়ে শক্ত অংশটুকু আলাদা করা হয়। সবশেষে, ‘রেডিওকার্বন ডেটিং’ (Radiocarbon dating) নামের এক আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং বিশেষ কম্পিউটারের সফটওয়্যারের সাহায্যে নিখুঁতভাবে মেপে দেখা যায় যে, গাছটির বয়স প্রায় ৭০০ বছর (700-Year Old Banyan Tree)! স্থানীয়রা জানতেন, মুঙ্গেরের ঐতিহাসিক ‘বড় বাংলোর’ পাশে ৩০০-৩৫০ বছর আগে কেউ হয়তো এই গাছটি (Banyan Tree) রোপণ করেছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞানীদের এই নতুন গবেষণা সব হিসেব ওলটপালট করে দিল! আসলে, ওই বাংলো তৈরি হওয়ারও বহু বছর আগে থেকেই বটগাছটি সেখানে রয়েছে।

    সাফল্যের মুকুটে আরও এক পালক(India’s Milestones)

    তবে এই প্রথম নয়, বিশ্বমঞ্চে এর আগেও একাধিকবার পরিবেশ ও বিজ্ঞানভিত্তিক মাইলফলক (Milestones) স্পর্শ করেছে ভারত। মুঙ্গেরের এই আবিষ্কার ভারতের সেই গৌরবময় তালিকায় আরও একটি অনন্য অধ্যায় হয়ে উঠল। চন্দ্রযান-৩ (Chandrayaan-3)-এর সফলভাবে চাঁদে অবতরণ থেকে শুরু করে মঙ্গলাকাশে ভারতের কৃতিত্ব বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ‘Project Tiger’ এবং ‘Project Elephant’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত আজ বিশ্বের দরবারে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অন্যতম পথপ্রদর্শক। এর আগে ভারতের প্রাচীন জলবায়ু (Past climates) এবং সিন্ধু সভ্যতার সমসাময়িক পরিবেশ গবেষণায়ও ভারতীয় বিজ্ঞানীরা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

    আমাদের সংস্কৃতিতে বট গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। মুঙ্গেরের এই ৭০০ বছরের বুড়ো গাছটি (700-Year Old Banyan Tree) কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, এটি নিজেই বাস্তুতন্ত্র। শত শত বছর ধরে অসংখ্য পাখি, কীটপতঙ্গ এবং বন্যপ্রাণের আশ্রয়স্থল এই বটগাছ। যুগ যুগ ধরে মানুষের সামাজিক মেলবন্ধন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই মহীরুহ। মুঙ্গেরের এই বট গাছের বয়স আবিষ্কার কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি ভারতের বিজ্ঞান সাধনার এক ঐতিহাসিক জয়। ৭০০ বছর ধরে ঝড়-ঝাপটা সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকা এই বটবৃক্ষ যেমন আমাদের অতীতের কথা মনে করায়, তেমনই বিজ্ঞানীদের এই সাফল্য আমাদের এক গর্বিত ভারতের ছবিও ফুটিয়ে তোলে।

  • National Education Policy: ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবসে’ পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার ডাক, ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজে চাঁদের হাট

    National Education Policy: ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবসে’ পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার ডাক, ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজে চাঁদের হাট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০০৪ সালের ঐতিহাসিক ‘শিক্ষা বাঁচাও আন্দোলনে’র স্মৃতি এবং ‘শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসে’র প্রতিষ্ঠা দিবসের স্মরণে দেশজুড়ে পালিত হল ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবস’ (Indian Education Day)। প্রতি বছরের মতো এবারও ২ জুলাই পালিত হয় ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবস’। সেই মতোই কলকাতার ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজ ও শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসের যৌথ উদ্যোগে ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবস’ (Indian Education Day) উদযাপন করা হয়। আয়োজন করা হয়েছিল আলোচনা সভারও।

    আলোচনার মূল বিষয় (National Education Policy)

    আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল ”পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর বাস্তবায়ন ” (National Education Policy)। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) পশ্চিমবঙ্গে কতখানি এবং কীভাবে কার্যকর করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা নিজেদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন ওই অনুষ্ঠানে।

    আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তথা বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরএসএসের পূর্ব ক্ষেত্রের ক্ষেত্র সঙ্ঘচালক জয়ন্ত রায়চৌধুরী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ সুরেশ গুপ্ত এবং পূর্ব ক্ষেত্র সংযোজক অধ্যাপক রঞ্জিত প্রসাদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রান্তের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ তথা আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী এবং প্রান্ত সংযোজিকা সুচেতা মুখার্জী।

    অতিথিদের তালিকায় ছিলেন প্রজ্ঞা প্রবাহের পূর্ব ক্ষেত্র সংযোজক অরবিন্দ দাস, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্র সংগঠনমন্ত্রী অপাংশু শেখর শীল এবং ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ সম্পাদক রমেশ প্রামাণিক। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা, কেন্দ্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা, বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, গবেষক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বহু অভিভাবক। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় জাতীয় শিক্ষানীতি (National Education Policy) প্রয়োগের বিভিন্ন দিক ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে এই আলোচনা ও যৌথ প্রয়াস আগামী দিনে এক অনন্য ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের।

    দেশের প্রগতি ও শিক্ষার মেলবন্ধন

    অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান বক্তা জয়ন্ত তাঁর বক্তব্যে ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকমে’র আদর্শের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই লক্ষ্যগুলি পূরণে শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। ন্যাসের পশ্চিমবঙ্গ প্রান্তের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী এ রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) কার্যকরের একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখা তুলে ধরেন। ভারতকেন্দ্রিক ও মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক বার্তা

    শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এবং পূর্ব ক্ষেত্র সংযোজক সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও বাংলায় এর বিস্তারের দিক-নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন।

    প্রযুক্তির ব্যবহার ও শিক্ষকদের ভূমিকা

    ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজের অধ্যক্ষ শুভ্রনীল সোম তাঁর বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন,”জাতীয় শিক্ষানীতি তখনই পুরোপুরি সফল হবে, যখন পঠন-পাঠনে শিক্ষকরা আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবেন এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে”। তিনি এও বলেন,”পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যালয় স্তরে এখনও রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতি এবং তার নির্ধারিত $৫+৩+৩+৪$ পাঠ্যক্রম প্রণালী চালু করা সম্ভব হয়নি, যা দ্রুত হওয়া প্রয়োজন”। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই নয়া শিক্ষানীতি চালু হলে ছাত্রছাত্রীরা অনেক বেশি সুবিধা পাবে। তখন আর শুধু মুখস্থ করে পাশ করার চাপ থাকবে না। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো বিষয় নিয়ে বাস্তবমুখী ও কাজের উপযোগী শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ পাবে। কোনও কারণে মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও, পরে ফের সেখান থেকেই পড়া শুরু করা যাবে। মাতৃভাষায় শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন বাংলার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল ও স্বাবলম্বী করে তুলবে বলেই আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত গুণীজনেরা।

  • Attack In Balochistan: বালোচিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা, গুঁড়িয়ে গেল পাক সেনা শিবির, নিহত ৩০

    Attack In Balochistan: বালোচিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা, গুঁড়িয়ে গেল পাক সেনা শিবির, নিহত ৩০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত গদর (Gwadar)। এবার সেখানেই আত্মঘাতী হামলা (Gwadar Attack) বালোচ বিদ্রোহীদের। পাকিস্তানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর (Coast Guard) শিবিরে হামলায় অন্তত ৩০ জন পাক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি ‘বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির’ (BLA)। রক্তক্ষয়ী হামলার পুরো দায় স্বীকার করেছে ‘বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (BLA)।

    স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত হামলার হুঁশিয়ারি

    বিএলএ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বালোচিস্তানের পূর্ণ স্বাধীনতাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে নিশানা করে এই ধরনের হামলা চলতেই থাকবে। এমনকী আগামী দিনে এই হামলার ঝাঁঝ এবং তীব্রতা আরও বাড়বে বলেও হুমকি দিয়েছে বিদ্রোহীরা।

    আত্মঘাতী হামলা (Attack In Balochistan)

    ইতিমধ্য়েই, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে হামলার (Attack In Balochistan) পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ এই অপারেশন চালানো হয়। বিএলএর এক আত্মঘাতী স্কোয়াড সদস্য বিস্ফোরক বোঝাই একটি বড় ট্রাক নিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে পাকিস্তানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর শিবিরে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে সেনা শিবিরের একটি বড় অংশ মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বিএলএ জানিয়েছে, এই আত্মঘাতী হামলাকারীর নাম আত্তাউল্লা বালোচ ওরফে আজমল।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই বালোচ বিদ্রোহীরা ভারী ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর শিবিরে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে। এরপরই পাকিস্তানি জওয়ানদের লক্ষ্য করে চলে এলোপাথাড়ি গুলি। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই সংঘর্ষে বহু পাক জওয়ান গুরুতর জখম হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

    ব্যর্থতা ঢাকতে ইসলামাবাদের দোষারোপের রাজনীতি

    পাক-ভূখণ্ডে এই বালোচ গোষ্ঠীটিকে অনেক আগেই নিষিদ্ধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অগাস্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও (USA) বিএলএকে একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নিজেদের দেশের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা এই সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেদের এই চরম ব্যর্থতা ঢাকতে পাক সরকার প্রতিবারের মতো এবারও ভারতের দিকে আঙুল তুলেছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা এবং সরকারের দাবি, বিএলএ আসলে ভারতের মদতপুষ্ট এবং ভারতই তাদের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করে।

    নয়াদিল্লির কড়া জবাব

    যদিও এই দাবির পক্ষে আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহলে কোনও তথ্য বা প্রমাণ দিতে পারেনি পাকিস্তান সরকার। স্বভাবতই ভারত সরকারও পাকিস্তানের এই সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং হাস্যকর বলেই দাবি করেছে। কিছু দিন আগেই ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “বালোচিস্তানের সমস্যার জন্য অন্য কোনও রাষ্ট্রকে দোষারোপ করার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত আয়নায় নিজেদের মুখ দেখা। অন্যকে কাঠগড়ায় না তুলে নিজেদের ত্রুটিপূর্ণ নীতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা নিয়ে পাকিস্তানের গভীরভাবে আত্মবিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।” আত্মঘাতী হামলা নিয়ে পাক সেনা এখনও নীরব। তারা এই হামলার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত যেমন করেনি, তেমনই ঠিক ক’জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে, সেই সংখ্যাও সাধারণ মানুষের সামনে আনেনি। ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পুরো ছবি জানতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে বিশ্ববাসীকে।

  • Defence Acquisition Council: স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার জন্য মেগা ঘোষণা কেন্দ্রের, ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সবুজ সংকেত

    Defence Acquisition Council: স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার জন্য মেগা ঘোষণা কেন্দ্রের, ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সবুজ সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা সংক্ষেপে ডিএসি (DAC) প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকার অত্যাধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার একাধিক প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের আওতায় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিন বাহু— স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনার জন্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি, কামিকাজে ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি প্ল্যাটফর্ম এবং নৌ-যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির একাধিক প্রকল্প রয়েছে। ডিএসি-র অনুমোদন মূলত ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রথম প্রশাসনিক ধাপ। এরপর ধাপে ধাপে টেন্ডার ও চুক্তি সম্পন্ন হবে।

    সেনাবাহিনীর জন্য অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোন

    ভারতীয় সেনার জন্য অনুমোদিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● ‘আকাশ তরঙ্গ’ (Akash Tarang) অ্যান্টি-UAV ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম
    • ● ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM)
    • ● মিডিয়াম-রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM)
    • ● ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (V-SHORADS)
    • ● ট্যাঙ্কের জন্য অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম
    • ● জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন

    স্থলসেনার শক্তিবৃদ্ধিতে ‘আকাশ তরঙ্গ’

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, ‘আকাশ তরঙ্গ’ শত্রুপক্ষের ড্রোন ও অন্যান্য মানববিহীন আকাশযান মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা নেবে। সাম্প্রতিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় এই প্রযুক্তির গুরুত্বও বহুগুণ বেড়েছে। অন্যদিকে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ম্যান-পোর্টেবল এটিজিএম’ শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতীয় পদাতিক বাহিনীর আক্রমণক্ষমতা বাড়াবে। ‘এমআরস্যাম’ ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দূরপাল্লার আকাশ হামলা বা স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে।

    ‘ভি-শোরাডস্’-এর প্রয়োজনীয়তা

    এছাড়া ‘ভি-শোরাডস্’-এ মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সিং প্রযুক্তি থাকায় এটি শত্রুর ইলেকট্রনিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারবে। ট্যাঙ্কের জন্য অনুমোদিত অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম শত্রুর অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য আক্রমণকারী অস্ত্রকে লক্ষ্যভেদ করার আগেই শনাক্ত করে ধ্বংস করার সক্ষমতা দেবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে রয়েছে জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন, যা নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একই সঙ্গে উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা, বেশি টিকে থাকার সক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম খরচে আক্রমণ পরিচালনার সুবিধাও মিলবে।

    নৌবাহিনীর নজরদারি ও মাইন ওয়ারফেয়ার আরও শক্তিশালী

    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ডিএসি অনুমোদন দিয়েছে—
    • ● মাল্টি-ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (MIGM)
    • ● নেভাল শিপবোর্ন আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (NSUAS)
    • ● ইলেকট্রিক প্রোপালশন প্রযুক্তির জন্য ল্যান্ড-বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (LBTF)

    সামুদ্রিক নজরদারি বৃদ্ধি

    এমআইজিএম ব্যবস্থার মাধ্যমে কৌশলগত সমুদ্র অঞ্চলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজের চলাচল ও মোতায়েন সীমিত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, অত্যাধুনিক সেন্সরযুক্ত ‘নেভাল ইউএএস’ নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নজরদারি ও মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস আরও বাড়াবে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে রিয়েল-টাইম নজরদারি সহজ হবে। নতুন ল্যান্ড-বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক প্রপালশন প্রযুক্তি পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে সহায়ক হবে।

    বায়ুসেনার জন্য উচ্চ-উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ নজরদারি প্ল্যাটফর্ম

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য অনুমোদিত হয়েছে ‘ফিক্সড-উইং হাই অল্টিটিউড পসুডো স্যাটেলাইট’ (FW-HAPS)। এই প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত উচ্চতায় অবস্থান করে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেল্যান্স এবং রিকনাইস্যান্স (ISR) পরিচালনা করতে সক্ষম। পাশাপাশি টেলিকমিউনিকেশন ও রিমোট সেন্সিংয়ের কাজেও এটি ব্যবহার করা যাবে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

    আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যেই জোর আধুনিকীকরণে

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দ্রুত বদলে যাওয়া যুদ্ধ প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক করে তোলাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির আওতায় দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া এবং বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর দিকেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। ডিএসি-র নীতিগত অনুমোদনের পর এবার এই সমস্ত প্রকল্প ক্রয় প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যাবে। প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।

  • Ishaq Dar Grandson Arrested: পাক উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি গ্রেফতার! দুই বিদেশিনীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও ১৫ লক্ষ ডলার মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

    Ishaq Dar Grandson Arrested: পাক উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি গ্রেফতার! দুই বিদেশিনীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও ১৫ লক্ষ ডলার মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি মুহাম্মদ রেজা দারকে গ্রেফতার করেছে লাহোর পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, আরও চার সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ, গণধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

    কী অভিযোগ উঠেছে?

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ জুন লাহোরে নেদারল্যান্ডস এবং ভেনেজুয়েলার দুই তরুণীকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাঁদের একটি বাড়িতে আটকে রেখে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করে। শুধু তাই নয়, তাঁদের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তির জন্য ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে দুই নারীকে হত্যা করা হবে এবং তাঁদের শরীরের অঙ্গ বিক্রি করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।

    কীভাবে উদ্ধার হলেন দুই বিদেশিনী?

    পুলিশের দাবি, বন্দিদশায় থাকা অবস্থায় এক নারী কোনওভাবে তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ওই ব্যক্তি নেদারল্যান্ডস থেকে জরুরি ভিত্তিতে লাহোর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুই বিদেশিনীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়ার পর নির্যাতিতারা অভিযোগ করেন, লাহোরে পৌঁছানোর পরই রেজা দার ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়, যেখানে তাঁদের ওপর গণধর্ষণ চালানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

    গ্রেফতার চার, পলাতক এক

    এই ঘটনায় লাহোর পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন— মহম্মদ রেজা দার, হাসান রেজা, সিকান্দার খান, ও সাজিদ আলি। অন্য এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক। তাকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আদালত ধৃত চার অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।

    কীভাবে পরিচয় হয়েছিল?

    নির্যাতিতাদের বয়ান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরে তাঁদের সঙ্গে রেজা দারের পরিচয় হয়। তাঁরা একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়িক উদ্যোগে অংশীদার ছিলেন। পরে রেজা দার তাঁদের পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণেই তাঁরা লাহোরে যান বলে অভিযোগ।

    গোপনে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ

    দুই বিদেশিনী আরও অভিযোগ করেছেন, নির্যাতনের সময় তাঁদের গোপনে ভিডিও করা হয়। পরে সেই ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে তাঁদের ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। আদালত সূত্রের দাবি, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে অভিযুক্তদের হাজির করা হলে নির্যাতিতারা সরাসরি রেজা দারকেই এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন।

    সংবেদনশীল মামলায় পুলিশের বক্তব্য

    এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, যেহেতু পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এই মামলায় অভিযুক্ত, তাই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

    নাটকীয় মোড়, থানার ওসি-সহ তিন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    এদিকে, ঘটনার একদিন পর মামলাটি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ, এই মামলার তদন্ত ও প্রাথমিক এফআইআর নথিভুক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাহোরের ডিফেন্স সি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) ফারিয়াদ আশরাফ-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে আরও দুই পুলিশকর্মীর সঙ্গে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই পদক্ষেপের নির্দেশ পাঞ্জাব পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দফতর থেকে জারি করা হয় এবং এর পেছনে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কার্যালয়ের নির্দেশও ছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। তবে এই পুলিশি পদক্ষেপের কারণ সম্পর্কে এখনও সরকারিভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

  • Suvendu at Uttarkanya: আসতে হবে না কলকাতায়! উত্তরবঙ্গেই মিলবে সরকারি পরিষেবা, উত্তরকন্যায় নতুন যুগ্ম সচিব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu at Uttarkanya: আসতে হবে না কলকাতায়! উত্তরবঙ্গেই মিলবে সরকারি পরিষেবা, উত্তরকন্যায় নতুন যুগ্ম সচিব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গকে প্রশাসনিকভাবে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার উত্তরকন্যায় দীর্ঘ প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি যেমন পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন, তেমনই বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, বিমান পরিষেবা, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তাও দিয়েছেন। প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিক, বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধি এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংযোগে বিস্তৃত পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের পর উত্তরবঙ্গের জন্য একাধিক নতুন সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসে।

    উত্তরকন্যা নিয়ে ক্ষোভ, কলকাতা নির্ভরতা কমানোর নির্দেশ

    বৈঠকের শুরুতেই উত্তরকন্যার বর্তমান কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের মানুষকে যাতে ছোটখাটো প্রশাসনিক কাজের জন্য কলকাতায় ছুটতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই উত্তরকন্যা গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর (NBDD) ছাড়া কার্যত অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ দফতরের উপস্থিতি নেই। এই পরিস্থিতি বদলাতে তিনি মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের কাছে জানতে চান, বর্তমানে কোন কোন দফতরের আধিকারিক উত্তরকন্যায় বসেন এবং সাধারণ মানুষ কী ধরনের পরিষেবা পান। একইসঙ্গে নির্দেশ দেন, গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলির যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার আধিকারিকদের দ্রুত উত্তরকন্যায় নিয়োগ করতে হবে, যাতে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের প্রশাসনিক কাজে আর কলকাতা যেতে না হয়।

    উত্তরকন্যায় চালু হবে পাবলিক গ্রিভ্যান্স সেল

    উত্তরবঙ্গের মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উত্তরকন্যায় একটি পাবলিক গ্রিভ্যান্স সেল চালুরও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সেলের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার সাধারণ মানুষ সরাসরি নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, খুব শিগগিরই যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়োগের পাশাপাশি গ্রিভ্যান্স সেল চালুর কাজও শুরু হবে।

    প্রশাসনের গড়হাজিরা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ

    প্রশাসনিক বৈঠকে জনপ্রতিনিধিদের একাংশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গের প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, পুরসভা এবং জিটিএ-র বহু জনপ্রতিনিধি নিয়মিত অফিস করছেন না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার সপ্তাহে পাঁচ দিন নয়, ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন কাজ করে। কোনও জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির কারণে সরকারি পরিষেবা ব্যাহত হওয়া চলবে না। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অফিসে অনুপস্থিত বা কার্যত পলাতক, তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শোকজ নোটিস জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    দুর্নীতি এবং কাটমানি প্রসঙ্গেও এদিন কঠোর অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েত, পুরসভা, কর্পোরেশন এবং জিটিএ-র দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা চুরি-চামারি করেছেন, তাঁরা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন। তিনি আরও বলেন, যদি কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার ভয়ে এলাকায় ফিরতে না পারেন, তবে প্রয়োজন হলে পদত্যাগ করুন। কিন্তু দায়িত্বে থেকে জনগণের কাজ ফেলে রেখে আত্মগোপন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বরাদ্দ দ্বিগুণ

    বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক বড় ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার উত্তরবঙ্গকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান—

    • ● উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের বাজেট ১,০০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
    • ● জিটিএ-র বরাদ্দ ১৮০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩৬০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
    • ● উত্তরবঙ্গে একটি এমস্, ক্যান্সার হাসপাতাল এবং কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও বালুরঘাটে নতুন মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার কাজ চলছে।
    • ● হাসিমারা সেনা এয়ারপোর্টকে বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে অতিরিক্ত জমি দেওয়া হচ্ছে।
    • ● মালদা ও বালুরঘাট বিমানবন্দর চালু করা এবং কোচবিহার বিমানবন্দর আধুনিকীকরণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতেই বর্তমান সরকার এই অঞ্চল থেকে ১০ জন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছে, যার মধ্যে একাধিক ক্যাবিনেট মন্ত্রী রয়েছেন।

    কর্মসংস্থানে নতুন প্রকল্প

    উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চালু হওয়া ‘বিকশিত ভারত জিরামজি’ প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই প্রকল্পে বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে—

    • ● অদক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৩০০ টাকা
    • ● আধা-দক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৪৫০ টাকা
    • ● দক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৬০০ টাকা

    এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য পঞ্চায়েত স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং সেল সক্রিয় করা এবং গ্রাম সংসদের মাধ্যমে প্রকল্প নির্বাচন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ডধারী এই প্রকল্পের আওতায় উপকৃত হতে পারেন।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নতুন নিয়মের ইঙ্গিত

    মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রকল্প নিয়েও এদিন বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পেয়েছেন। যদিও পোর্টালে তথ্য আপলোডে ত্রুটির কারণে প্রায় ২৬ হাজার আবেদন আপাতত আটকে রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভারতীয় ব্যক্তি, নির্দিষ্ট শর্তভঙ্গকারী আবেদনকারী এবং সরকারের নির্ধারিত কিছু মানদণ্ড পূরণ না করলে সংশ্লিষ্টরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

    বর্ষা মোকাবিলায় পাহাড়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী

    বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় সম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, পাহাড়ি এলাকায় ৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে মোতায়েন করা হবে। ভূমিধস, বন্যা বা অন্য কোনও দুর্যোগ দেখা দিলে তাঁরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেবেন। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী নিজেও প্রতি ১৫ দিনে অন্তত একবার শিলিগুড়ি সফর করে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নমূলক কাজ পর্যালোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে।

    ময়নাগুড়ি বাস দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ

    প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি উত্তরকন্যায় ২১ জুন ময়নাগুড়িতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জনের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বজনহারাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাজ্য সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

    উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্র করে সরকারের নতুন রোডম্যাপ

    সামগ্রিকভাবে এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে উত্তরবঙ্গকে আলাদা প্রশাসনিক গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সরকারি পরিষেবা বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন—এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, বিমান পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, কর্মসংস্থান এবং জনপরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গকে নতুন করে গড়ে তোলার বার্তাই তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Nabanna: পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর! চলতি মাসেই ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়ার ৫০% মেটাবে রাজ্য সরকার

    Nabanna: পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর! চলতি মাসেই ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়ার ৫০% মেটাবে রাজ্য সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিএ সংক্রান্ত পদক্ষেপের পর এবার রাজ্য সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য এল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পেনশনের এরিয়ার (Arrear) মেটাতে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিকভাবে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সাত বছরের বকেয়া অর্থের আনুমানিক হিসেব করে তার ৫০ শতাংশ পরিশোধ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    নবান্নর ঘোষণা…

    শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং অর্থদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য জানান সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া সংক্রান্ত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ভাস্কর ঘোষের এই বক্তব্য সামনে আসতেই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের মধ্যে আশাবাদের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    পেনশনভোগীদের পাশাপাশি আরও বহু কর্মী উপকৃত হতে পারেন

    ভাস্কর ঘোষ জানান, শুধু অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাই নন, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী, বিভিন্ন বোর্ড ও কর্পোরেশনের কর্মচারী, কলকাতার বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পেনশনপ্রাপক, ওয়ার্ক চার্জ কর্মী এবং হোমগার্ডদের বকেয়া সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের আর্থিক দাবি ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানের দিকেও সরকার ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

    কেন দেরি হচ্ছে বকেয়া মেটাতে?

    বৈঠকে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পুরনো তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে। ভাস্কর ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, আইএসএমওএস (ISMOS) পোর্টালে যাঁদের বেতন সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে, তাঁদের অনেকের এমপ্লয়ি আইডি বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে বলে সরকারি দফতরের দাবি। এছাড়া ২০১৫ সালের আগে ব্যাঙ্কগুলিতে ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পুরনো নথি সংগ্রহ করতেও সময় লাগছে। এই সমস্যা কাটাতে নতুন পোর্টালের মাধ্যমে তথ্য একত্রিত করার কাজ চলছে। তবে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্মীদের মূল পরিচয় অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে দ্রুত যাচাই শেষ করে বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে।

    কবে মিলবে ৫০ শতাংশ এরিয়ার?

    এখনও পর্যন্ত সরকার কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি। তবে বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, এরিয়রের ৫০ শতাংশ টাকা চলতি মাসেই মিটিয়ে দেবে রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, প্রক্রিয়া শেষ হলে চলতি মাসেই সম্ভবত প্রথম ধাপে ২০০৮-২০১৫ সময়কালের আনুমানিক বকেয়ার ৫০ শতাংশ প্রদান করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকি অর্থও পরিশোধ করা হবে।

    সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের

    বৈঠকের পর ভাস্কর ঘোষ জানান, সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন সরকারি কর্মীদের মতামত ও ফিডব্যাককে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তাঁর কথায়, কোনও কর্মী যেমন প্রাপ্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ চান না, তেমনই আইনসঙ্গত ও ন্যায্য প্রাপ্য থেকেও কেউ যেন বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টিই তাঁদের মূল দাবি। সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণের দিকেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • Suvendu Adhikari: ‘বিধায়কদের সম্মান ছিল না’! প্রশিক্ষণ শিবিরে তৃণমূল জমানাকে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘বিধায়কদের সম্মান ছিল না’! প্রশিক্ষণ শিবিরে তৃণমূল জমানাকে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নবনির্বাচিত বিধায়কদের উদ্দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বিধানসভার মর্যাদা এবং উন্নয়নমুখী রাজনীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিধায়কদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একদিকে যেমন বাংলার ঐতিহাসিক গৌরব পুনরুদ্ধারের ডাক দেন, তেমনই নাম না করে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনাও করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অতীতে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় এমন এক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হত না। তাঁর কথায়, ‘‘একজন বিধায়ক বা সাংসদের ফোন পর্যন্ত অনেক সময় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা ধরতেন না।’’ বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সরকারি অনুষ্ঠান কিংবা প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হত না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিধানসভার ইতিহাস তুলে ধরে শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ

    ভাষণের শুরুতেই বাংলার বিধানসভার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘দেশভাগের কঠিন সময় অবিভক্ত বাংলার একাংশকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখতে বিধানসভা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’ তাঁর দাবি, সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত না হলে আজকের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্ভব হত না।

    ‘৩৪ বছর পার্টি অফিস থেকেই সব নিয়ন্ত্রণ হত

    অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনে প্রশাসনের বড় অংশ দলীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হত। পাশাপাশি, গত ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের সময়ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও কোনও দলের নাম তিনি সরাসরি উল্লেখ করেননি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শুভেন্দু জানান, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁকে একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হয়নি। এমনকি বহুবার বিধানসভা থেকে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

    ‘এখন সব বিধায়কই সমান গুরুত্ব পাচ্ছেন’

    বর্তমান সরকারের দেড় মাসের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকার প্রশাসনিক বৈঠকে শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষের বিধায়কদেরই আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।’’ বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও কোনও রাজনৈতিক বিভাজন রাখা হয়নি বলে দাবি তাঁর। বাংলার উন্নয়নের জন্য দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    বিধায়কদের দায়িত্ব নিয়ে কী বললেন ওম বিড়লা?

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। তিনি নবনির্বাচিত বিধায়কদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য, যা স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে গোটা দেশের কাছে অনুপ্রেরণা।’’ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, সংসদীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং শুধু নিজের কেন্দ্র নয়, গোটা রাজ্যের উন্নয়নের দায়িত্বও প্রতিটি বিধায়কের বলে উল্লেখ করেন তিনি। ওম বিড়লা আরও জানান, এবারের বিধানসভায় ১২১ জন নতুন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাঁদের সংসদীয় রীতি-নীতি ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ মেনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    শুভেন্দুর প্রশংসায় হরিবংশ, ডিজিটাল বিধানসভার ঘোষণা রিজিজুর

    রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং বলেন, ‘‘খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’’ তাঁর বিশ্বাস, নতুন সরকার বাংলার অতীত গৌরবকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ঘোষণা করেন, ‘‘আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হবে।’’ ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের সমস্ত বিধানসভাকে একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    কারা ছিলেন অনুষ্ঠানে?

    বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারের এই প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুসহ একাধিক রাজ্যের বিধানসভার অধ্যক্ষরা। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা এবং উত্তরাখণ্ডের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

  • UNICORN Stealth Naval Mast: রেডারে সহজে ধরা পড়বে না যুদ্ধজাহাজ, ভারত-জাপানের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘ইউনিকর্ন’! কী এটা?

    UNICORN Stealth Naval Mast: রেডারে সহজে ধরা পড়বে না যুদ্ধজাহাজ, ভারত-জাপানের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘ইউনিকর্ন’! কী এটা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে একটি অত্যাধুনিক নৌ-প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরির প্রকল্পে হাত মিলিয়েছে দুই দেশ। এই প্রকল্পের নাম ইউনিফায়েড কমপ্লেক্স রেডিও অ্যান্টেনা, সংক্ষেপে ‘ইউনিকর্ন’ (UNICORN)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ভারত-জাপান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতার ‘‘নতুন অধ্যায়’’ বলে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকে আরও স্টেলথ বা রেডারে কম দৃশ্যমান করে তুলবে, ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে জাহাজ শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেশি কঠিন হবে।

    কী এই ইউনিকর্ন (UNICORN) প্রযুক্তি?

    বর্তমানের অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজে রেডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেভিগেশন ও অন্যান্য সেন্সরের জন্য ডেকের উপরে অসংখ্য অ্যান্টেনা বসানো থাকে। এই অ্যান্টেনাগুলিই রেডারে যুদ্ধজাহাজকে সহজে শনাক্ত করার অন্যতম কারণ। ইউনিকর্ন প্রযুক্তিতে সেই একাধিক অ্যান্টেনাকে একটি সমন্বিত রেডোম (Radome)-এর ভিতরে রাখা হয়। ফলে জাহাজের রেডার ক্রস সেকশন (RCS) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সহজ কথায়, যুদ্ধজাহাজের ‘রেডার সিগনেচার’ অনেকটাই কমে যাওয়ায় শত্রুপক্ষের রেডারে সেটি ধরা পড়া কঠিন হয়ে ওঠে। এটি শুধু স্টেলথ ক্ষমতাই বাড়ায় না, একই সঙ্গে বিভিন্ন যোগাযোগ ও সেন্সর ব্যবস্থার মধ্যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক হস্তক্ষেপও কমায়।

    ইউনিকর্ন মাস্টে কী কী থাকবে?

    ইউনিকর্ন সিস্টেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিকে একটি কমপ্যাক্ট মাস্টের মধ্যে একত্রিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● লিঙ্ক-১৬ ডেটা লিঙ্ক: নিরাপদ ও রিয়েল-টাইম তথ্য আদানপ্রদানের ব্যবস্থা।
    • ● ট্যাকান (ট্যাকটিক্যাল এয়ার নেভিগেশন): জাহাজভিত্তিক হেলিকপ্টারের নেভিগেশন ও অবতরণে সহায়তা করে।
    • ● আইএফএফ (আইডেন্টিফিকেশন ফ্রেন্ড অর ফো): বন্ধু ও শত্রুপক্ষের বিমান বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত করার ব্যবস্থা।
    • ● ইলেকট্রনিক সাপোর্ট মেজার্স (ইএসএম): শত্রুপক্ষের রেডার ও যোগাযোগ সংকেত শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণের প্রযুক্তি।
    • ● ইউএইচএফ/ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা: স্বল্প দূরত্বে ভয়েস ও ডেটা যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
    • ● অফশোর ওয়্যারলেস রাউটার: বাইস্ট্যাটিক ও মাল্টিস্ট্যাটিক সোনার অভিযানের সময় তথ্য আদানপ্রদানে সহায়তা করে।

    ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিকর্ন প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল স্টেলথ সক্ষমতা বৃদ্ধি। বর্তমানে সমুদ্রপথে নজরদারি ও যুদ্ধজাহাজ শনাক্তকরণে রেডার প্রযুক্তির উপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করা হয়। যুদ্ধজাহাজের রেডার সিগনেচার কমিয়ে আনলে প্রতিপক্ষের পক্ষে জাহাজের অবস্থান নির্ণয়, শ্রেণিবিন্যাস এবং লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়। জাপানের মোগামি-শ্রেণির স্টেলথ ফ্রিগেট ইতিমধ্যেই এই ইউনিকর্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, এই প্রযুক্তির ফলে ওই শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের রেডার প্রতিফলন প্রচলিত যুদ্ধজাহাজের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

    ভারত-জাপানের যৌথ উৎপাদন

    এখানে বলে দেওয়া প্রয়োজন, বেশ কিছুদিন আগেই মোগামি শ্রেণি জাহাজে ব্যবহৃত নকশা ও প্রযুক্তি ভারতকে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল জাপান। এবার সেই নিয়ে দুদেশের চুক্তি হল। এই প্রকল্পে উন্নত প্রযুক্তিগত নকশা ও ডিজাইন দেবে জাপান, আর ভারতে উৎপাদন ও সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকবে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এই অত্যাধুনিক স্টেলথ মাস্ট ভারতেই যৌথভাবে তৈরি করা হবে। এর ফলে শুধু প্রযুক্তি স্থানান্তরই নয়, ভবিষ্যতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ইউনিকর্ন প্রযুক্তি মূলত জাপানের এনইসি কর্পোরেশন, সাম্পা কোগিও কেকে এবং দ্য ইয়োকোহামা রাবার কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে তৈরি করেছে।

    আগে থেকেই শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি

    এই প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০২২ সালের ‘ভারত-জাপান ২+২’ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে টোকিওতে দুই দেশের মধ্যে একটি মেমোরান্ডাম অফ ইমপ্লিমেন্টেশন (MoI) সই হয়। সেই চুক্তির ফলেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের ঘোষণা করা হল।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি?

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘‘প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের প্রথম যৌথ কো-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প হিসেবে নৌবাহিনীর রেডিও অ্যান্টেনা ‘ইউনিকর্ন’-এর চুক্তি হয়েছে। এই প্রকল্প আমাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথভাবে এমন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করব, যা আঞ্চলিক শান্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।’’

    ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিকর্ন প্রকল্প শুধু একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নিরাপদ প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনীর ভবিষ্যতের যুদ্ধজাহাজ আরও কম দৃশ্যমান, বেশি নিরাপদ এবং প্রযুক্তিগতভাবে আরও আধুনিক হয়ে উঠবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

  • West Bengal Illegal Infiltration: ৭ জুলাই দিল্লিতে বড় বৈঠক, অনুপ্রবেশ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা

    West Bengal Illegal Infiltration: ৭ জুলাই দিল্লিতে বড় বৈঠক, অনুপ্রবেশ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে চলেছে। আগামী ৭ জুলাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং জনবিন্যাস সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনেই রাজ্য সরকার সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ রুখতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে এই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে।

    ৪৫ দিনে ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানোর দাবি

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনী (বিএসএফ)-এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় ১২টি বিশেষ ‘হোল্ডিং স্টেশন’ চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই হোল্ডিং স্টেশনগুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সীমান্ত পার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষ ওই কেন্দ্রগুলিতে রয়েছেন বলেও তিনি জানান। সরকারের দাবি, সীমান্তবর্তী থানাগুলি এখন বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি জেলে পাঠানোর পরিবর্তে প্রথমে হোল্ডিং স্টেশনে রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুসরণ করে পরে তাঁদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সরকার জানিয়েছে।

    ১ অগাস্ট থেকে ডিজিটাল জাতিগত জনগণনার পরিকল্পনা

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১ অগাস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জাতিগত জনগণনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমবারের মতো ‘সেলফ ডিক্লারেশন’ বা স্ব-ঘোষণার সুযোগ রাখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জনগণনার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সমীক্ষার মাধ্যমে রাজ্যের জনবিন্যাসের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এবং ভবিষ্যতে অনুপ্রবেশ রোধে আরও কার্যকর নীতি গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

    পশ্চিমবঙ্গে আসছে কেন্দ্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল

    এদিকে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ও তার প্রভাব খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি শীঘ্রই বিভিন্ন রাজ্য সফর শুরু করবে। প্রথম পর্যায়েই পশ্চিমবঙ্গ তাদের সফরসূচিতে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক হয়। জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিটি ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত প্রশ্নমালা তৈরি করেছে। বিভিন্ন সীমান্ত রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাসের পরিবর্তন এবং তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নই হবে এই কমিটির মূল লক্ষ্য।

LinkedIn
Share