Tag: Abhishek Banerjee

Abhishek Banerjee

  • TMC Inner Clash: কল্যাণের মুখে ‘কু-কথা’র ফুলঝুরি! লোকসভার স্পিকারকে চিঠি কাকলির, দুই তৃণমূলী সাংসদের লড়াই প্রকাশ্যে

    TMC Inner Clash: কল্যাণের মুখে ‘কু-কথা’র ফুলঝুরি! লোকসভার স্পিকারকে চিঠি কাকলির, দুই তৃণমূলী সাংসদের লড়াই প্রকাশ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দল এবং দলনেত্রী গোহারা হেরে গিয়ে গর্তে সেঁধিয়েছেন! ভয়াল ঘূর্ণিঝড় যেমন শক্তি খুইয়ে ডাঙায় আছড়ে পড়ে, ঠিক তেমনি মিউ মিউ করতে করতে ঘরে ঢুকে গিয়েছেন ‘ভাতিজা’ও! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর যে ‘বিক্রম’ দেখা গিয়েছিল প্রচার (Kalyan Banerjee) মঞ্চে, নায়কোচিত ভঙ্গিতে হেঁটে হেঁটে তাঁর সেই সব ‘উসকানিমূলক’ (অভিযোগ) ভাষণ এবং প্রতিষ্ঠান-বিরোধী মন্তব্য (যা নিয়ে এফআইআর দায়ের হয়েছে) যা শুনে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের হাততালিতে ফেটে পড়েছিল সভামঞ্চ, যেসব ‘বক্তিমে’ দিয়ে তৃণমূলে তিনি নিজেকে আক্ষরিক অর্থেই ‘লার্জার দ্যান পার্টি’ ইমেজ তুলে (Kakoli Ghosh Dastidar) ধরেছিলেন, নির্বাচনে দলের পাশাপাশি ‘পিসিমণি’ও হেরে যেতে, সেই তিনিই মিইয়ে গিয়েছেন, সস্তা দরে কেনা মুড়ির মতো! ‘বুয়া-ভাতিজা’র প্রবল প্রতাপের জেরে দলের অন্দরে যাঁরা এতদিন ট্যাঁ-ফোঁ করতে পারতেন না, নির্বাচন-উত্তর কালে তাঁরাই ‘খেলছেন’ চালিয়ে।

    স্পিকারকে চিঠি কাকলির (Kakoli Ghosh Dastidar)

    ফেরা যাক খবরে। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কাজকর্ম নিয়ে যখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, তখন আরও একটি খবর নজর কেড়েছে রাজ্যবাসীর। সেটি হল তৃণমূলের অন্দরে শুরু হওয়া মুষলপর্ব। দলের বিভিন্নস্তরের নেতা-কর্মীরা যেমন একদিকে তোপ দাগতে শুরু করেছেন নেত্রী এবং তাঁর স্তাবকদের তাক করে, তেমনি কল্যাণ-কাকলির দ্বন্দ্বও (Kalyan vs Kakoli) হেডলাইন হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমের। তবে এবার শ্রীরামপুরের সাংসদ তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন দলেরই সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। কল্যাণের বিরুদ্ধে মৌখিক হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি চেয়ে বুধবার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন বারাসতের ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী সাংসদ কাকলি (Kakoli Ghosh Dastidar)।

    কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের অভিযোগ

    বারাসতের সাংসদের অভিযোগ, কল্যাণ লোকসভার ভেতরে তাঁকে বার বার মৌখিকভাবে হেনস্থা করেছেন। কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের অভিযোগও তুলেছেন কাকলি। স্পিকারকে লেখা চিঠিতে তাঁর দাবি, লোকসভার মহিলা সদস্যদের প্রতি কল্যাণের নারীবিদ্বেষী মনোভাবও স্পষ্ট। তাই কল্যাণের শাস্তি পাওয়া উচিত বলেই মনে করেন কাকলি। কাকলি লিখেছেন, “আপনার কাছ থেকে লোকসভার সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফর্ম্যাল অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি চাইছি। লোকসভার ভেতরে আমায় বারবার মৌখিকভাবে অপমান করেছেন কল্যাণ। এই ধরনের নারীবিদ্বেষী আচরণ শুধু আমার বিরুদ্ধেই নয়, বহু মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধেও হয়েছে। এর (Kalyan Banerjee) উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।”

    কাকলির চাঁদমারি

    রবিবারই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী পদে ইস্তফা দেন কাকলি। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের ওপর অন্য এক অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা-সহানুভূতি পাওয়া যায় না, তখন আর সে পদে থাকার মানে হয় না।’’ নাম না-করলেও, তৃণমূলেরই নেতাদের একটা বড় অংশই মনে করেন কাকলির চাঁদমারি কল্যাণই।

    কী বললেন কল্যাণ

    শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, “আমি কোনও চিঠি পাইনি। স্পিকার যদি এই বিষয়ে কোনও ব্যাখা চান, তাহলে উত্তর দিয়ে দেব। এটা স্রেফ নিজের বাজারদর বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই নয়।” তাঁর প্রশ্ন, “চিঠিতে আজকের তারিখ অর্থাৎ ২৮ মে-র উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু, আজ তো ছুটি! তাহলে কীভাবে তিনি (কাকলি) অভিযোগ করলেন?” কল্যাণ বলেন, “অভিযোগ থাকলে আগে কেন জানানো হয়নি। এতদিন পর কেন জানানো হচ্ছে? আসলে এই অভিযোগ মিথ্যে। তাছাড়া, এটা আফটারশক (Kakoli Ghosh Dastidar)।” কাকলির অভিযোগ প্রসঙ্গে বুধবারই কল্যাণ বলেছিলেন, ‘‘২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদে ছিলাম। মাঝখানে কয়েক মাস ওই দায়িত্বে ছিলাম না। ওঁর (কাকলির) আবার কীসের এত কথা? নারদকাণ্ডে তো আমি পাঁচ লক্ষ টাকা নিইনি। উনি নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের জন্মদাত্রী কে? সকলেই জানেন। সেই সিন্ডিকেটের জন্মস্থান রাজারহাট।’’ কল্যাণের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করারও অভিযোগ তুলেছেন বারাসতের সাংসদ। যদিও কল্যাণের পাল্টা অভিযোগ, কাকলির মুখেই ছোটে কু-কথার ফুলঝুরি। এই একই অভিযোগ তুলে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন কাকলি (Kakoli Ghosh Dastidar)।

    প্রশ্ন যেখানে

    রাজনৈতিক মহলের মতে, রীতি অনুযায়ী, দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে তা প্রথমে জানাতে হয় দলীয় নেতৃত্বের কাছে। সেই অর্থে, কাকলির উচিত ছিল খাতায়-কলমে সংসদীয় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো। সেটা না করে কেন তিনি সটান স্পিকারকে চিঠি লিখে বসলেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন (Kalyan Banerjee)।

    আকচাআকচির ‘কহানি’

    যাঁরা দিল্লির রাজনীতির হাঁড়ির খবরাখবর রাখেন, তাঁদেরই কয়েকজন জানান, দল আলাদা হলেও স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে কল্যাণের সম্পর্ক বরাবরই ভাল। এই পরিস্থিতিতে কাকলির চিঠির প্রেক্ষিতে কল্যাণের বিরুদ্ধে স্পিকার কী স্টেপ নেন, সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাকলি-কল্যাণের এই দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। রাজ্যে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখনই প্রকাশ্যে চলে এসেছিল তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘনিষ্ঠ এই দুই নেতানেত্রীর আকচাআকচির ‘কহানি’। নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে এবং বিরোধীরা এই লড়াইকে হাতিয়ার করতে পারে ভেবে তৃণমূল নেত্রী এতদিন বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিলেন। দল মুখ থুবড়ে পড়তেই, বল্গাহীন ঘাসফুলের সৈনিকরা। এখন দেখার, এমন আগুনে-পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেন তৃণমূল নেত্রী (Kakoli Ghosh Dastidar)।

     

  • Abhishek Banerjee: ভোটের সময় ‘গুজরাটি গ্যাং’, রাষ্ট্র-বিরোধী মন্তব্যের জের, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

    Abhishek Banerjee: ভোটের সময় ‘গুজরাটি গ্যাং’, রাষ্ট্র-বিরোধী মন্তব্যের জের, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বুয়া’র পর এবার ‘ভাতিজা’কেও কাঠগড়ায় তোলার প্রস্তুতি শুরু! তৃণমূল সুপ্রিমো (TMC) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আগেই দায়ের হয়েছিল এফআইআর, এবার মামলা দায়ের হল তাঁরই ভাইপো তথা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধেও। তাঁর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হল একদা তৃণমূলের খাসতালুক ভবানীপুরে। ভবানীপুর থানায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সম্পাদক অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন অর্ণবকান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। বুধবারই মমতার নামে শিলিগুড়িতে এফআইআর দায়ের করেছিলেন এই আইনজীবী। এফআইআর দায়ের হয়েছিল অভিষেকের বিরুদ্ধেও। তবে উসকানিমূলক মন্তব্য করায় এবার মামলা দায়ের হল তাঁরই পাড়ায়, ভবানীপুর থানায়।

    ‘গুজরাটি গ্যাং’ মন্তব্য (Abhishek Banerjee)

    অর্ণবও ভবানীপুরেরই বাসিন্দা। তিনি জানান, ২ মে এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক লিখেছিলেন, “১০ বার জন্মালেও আপনাদের ‘বাংলা বিরোধী গুজরাটি গ্যাং’ আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলের ছিটেফোঁটাও ক্ষতি করতে পারবে না।” অভিষেকের এই মন্তব্যের জেরেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে ভবানীপুর থানায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে নানা সময় বুয়া-ভাতিজা উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। এর আগে উসকানিমূলক মন্তব্য এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। অভিষেকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের মোট ৬টি ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সমাজসেবী রাজীব সরকার।

    অভিযোগকারীর বক্তব্য

    অর্ণবের দাবি, অভিষেক ওই পোস্টে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতির পক্ষে ক্ষতিকর (Abhishek Banerjee)। এফআইআরে বলা হয়েছে, একজন সাংসদ হিসেবে সংবিধানের সার্বভৌমত্ব ও দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার শপথ নেওয়ার পরেও, অভিষেক সমগ্র গুজরাটি সম্প্রদায়কে একটি ‘গ্যাং’ বা অপরাধী চক্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি সম্প্রদায়কে অপমান করে না, বরং দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপরেও আঘাত হানে। গুজরাটি সমাজ দীর্ঘ দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিল্পোন্নয়ন এবং সমাজসেবামূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সেই সম্প্রদায়কে কটাক্ষ করা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ (TMC)।

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য নয়

    অভিযোগপত্রে এও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক মতভেদ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতন্ত্রের অংশ হলেও, কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাকে অপমান করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিকটবর্তী একটি সংবেদনশীল লোকসভা কেন্দ্রের (ডায়মন্ড হারবার) সাংসদের এমন মন্তব্য রাষ্ট্রবিরোধী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

    রাষ্ট্রকেও চ্যালেঞ্জ অভিষেকের!

    অর্ণবের আশঙ্কা, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল যদি উল্টোটা হত এবং তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরত তাহলে এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যে বসবাসকারী গুজরাটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিবেশ তৈরি করতে পারত (Abhishek Banerjee)। তাই এই পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর অভিযোগ, ওই পোস্টে অভিষেক কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাষ্ট্রকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তথাকথিত (TMC) ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ রোখার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তাই পুলিশের কাছে তৃণমূল সম্পাদকের ওই পোস্টের যথাযথ তদন্ত করে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অর্ণব (Abhishek Banerjee)।

     

  • Abhishek Illegal Construction: পুরসভার একের পর এক নোটিস! অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা তৃণমূলের বহু নেতার

    Abhishek Illegal Construction: পুরসভার একের পর এক নোটিস! অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা তৃণমূলের বহু নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভার আতসকাচের নীচে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের (Abhishek Illegal Construction) কোম্পানি, তাঁর পরিবারের সদস্য়দের সম্পত্তি। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে অভিষেককে। অথচ এই নোটিসের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না, এমনটাই দাবি করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। নোটিসকাণ্ডের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছেন বহু তৃণমূল নেতা।

    অভিষেকের জবরদখল!

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির প্রসঙ্গ উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। তিনি বলেছেন, “ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লিপস অ্য়ান্ড বাউন্ডসের ১৪টা, নিজের নামে ৪টে, বাবার নামে আরও ৬টা, ২৪টা প্রপার্টি।” রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই অ্যাকশনে নামে কলকাতা পুরসভা। নোটিস পড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ও আত্মীয়দের একের পর এক ঠিকানায়। কোনওটার বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ। আবার কোনও সম্পত্তির চরিত্র বদলের অভিযোগে দেওয়া হয় নোটিস।

    জানতেন না ফিরহাদ!

    কলকাতা পুরসভার এই নোটিসকাণ্ড নিয়ে একরকম হাত তুলে নেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “মেয়রকে জানানোর কথাই নয়। তার কারণ হচ্ছে, নোটিসটা হচ্ছে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের।” কখনও আবার মেয়রের গলায় কার্যত শোনা যায় ক্ষোভের সুর। তিনি বলেন, “ওঁর ব্যক্তিগত বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না। কারণ, আমি কোনও ইজারা নিইনি।”

    অভিষেকের থেকে দূরত্ব বজায়

    অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর পরিবারের সদস্য়দের একাধিক ঠিকানায় যে ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা, তার মধ্য়ে ১৪টি গেছে ৯ নম্বর বরো থেকে। এই নোটিস-পর্বের মধ্যেই বরোর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সংস্থা ও আত্মীয়দের সম্পত্তির নামে কলকাতা পুরসভা নোটিস দেওয়ার পর তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরি করেন বহু নেতা। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “এই বাড়ি, এই বিষয়টা, বাড়ি, নোটিস ইত্যাদি যার নাম জড়িয়েছে, তিনিই উত্তর দেওয়ার সঠিক ব্যক্তি।” তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক বুঝবে, আমি কী করে বলব ? ববি কিছু জানতে পারে, আমি জানি না।”

    কোন কোন ঠিকানায় নোটিশ দিয়েছে পুরসভা?

    ১৮৮-এ শান্তিনিকেতন

    ১৮৮-এ, হরিশ মুখার্জি রোডের এই বাড়িতে নোটিস দিয়েছে পুরসভা এবং এই নোটিস দেওয়া হয়েছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেডের নামে। এখানে যেটা বলা হয়েছে, যে অবৈধ অংশ রয়েছে, সেটাকে সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে অথবা ডেভিয়েশন কেন হল সেটা জানাতে হবে। লিফট, এসকেলেটর, সেগুলোর জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেগুলো জানাতে হবে। না হলে কলকাতা পুরসভা নিজেই অবৈধ অংশ ভেঙে দেবে। এবং ভেঙে দেওয়ার পর, তার যে খরচ, সেই খরচও যিনি হচ্ছেন মালিক তার থেকে আদায় করা হবে।

    ১১৯ কালীঘাট রোডের বাড়িতে

    ১১৯ কালীঘাট রোডের এই বাড়িতেও কলকাতা পুরসভার তরফে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এটা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে এই নোটিস করা হয়েছে।

    ১২১, কালীঘাট রোডের বাড়ি

    ১২১, কালীঘাট রোডের এই বাড়িতে সাত-সাতটা নোটিস পৌঁছেছে। যার মধ্যে পাঁচটি নোটিস লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে, একটি লতা ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, আর একটি শুধু লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে।

    প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণির ৩টি বাড়িতে

    প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলিতে তিনটে ঠিকানায় নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির এই গলির তিনটি প্রিমিসেস রয়েছে, যেখানে তিন জন অ্যাসেসিকে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। ৪৬-এর বি ও ২৯এ , ২৯-এর C  প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, লতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নোটিস করা হয়েছে।

    ওস্তাদ আমির খান সরণি ও পণ্ডিতিয়া রোড

    ১বি ওস্তাদ আমির খান সরণি এবং ৩৭ পণ্ডিতিয়া রোডের ঠিকানাতেও নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

    মেজাজ হারালেন অভিষেক

    অন্যদিকে, পৌরনিগম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁর বক্তব্য জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। আর তা শুনেই রীতিমতো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর দিতে গিয়ে রেগে গেলেন। বললেন, “কলকাতা পৌরনিগমে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, অবৈধ অংশটা কোথায়।” শুক্রবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকের পর বেরিয়ে আসছিলেন অভিষেক। তখনই তাঁর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পৌরনিগম, কী বলবেন? প্রশ্ন শুনে প্রথমে গাড়িতে উঠে যান অভিষেক। গাড়ির কাচ তোলা ছিল। তবে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে থাকায়, একসময় গাড়ির কাচ নামান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক বলেন, “আপনি জিজ্ঞাসা করে আসুন, কোন অবৈধ অংশ? যে অবৈধ অংশ মার্ক করে দেবে, উত্তর আমার থেকে নিয়ে যাবেন। যান।” বলেই গাড়ির কাচ তুলে দেন।

    কী বলছে বিজেপি?

    অভিষেকের মন্তব্য নিয়ে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “এত চুরি জোচ্চুরির বন্যার পর, যে লোকটা যাদের কাছে হিরো ছিল, সেই হিরোগিরি চুপসে গিয়েছে, এইসময় কেউ তাঁকে পৌরনিগমের নোটিস নিয়ে প্রশ্ন করে? এরকম কাটা ঘায়ে কেউ নুনের ছিটে দেয়? নিকটাত্মীয়র জোরে আইপ্যাক আর রাজ্যের প্রশাসন যদি স্যালুট না করত, তাহলে তো এমন হত না। স্বজনপোষণের বলে উনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আর যিনি এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তাঁর কাছ থেকে রাজনৈতিক কথা আশা করছেন কেন আপনারা?”

  • Abhishek Banerjee Properties: অভিষেকের ২৪, সোনা পাপ্পুর ২৪, জাভেদ খানের ছেলের ৯০টা সম্পত্তি! ‘‘আমি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নই’’ বললেন শুভেন্দু

    Abhishek Banerjee Properties: অভিষেকের ২৪, সোনা পাপ্পুর ২৪, জাভেদ খানের ছেলের ৯০টা সম্পত্তি! ‘‘আমি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নই’’ বললেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ফের তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সরকার গঠনের পর থেকেই দুর্নীতি ও সম্পত্তি কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতির কথা বলে আসা বিজেপি সরকার এবার সরাসরি নিশানায় আনে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক প্রভাবশালী নেতাকে। সম্প্রতি বিস্ফোরক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ চারজনের বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান সরকারের হাতে এসেছে এবং সেই সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    সক্রিয় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পত্তির নথি সংগ্রহের নির্দেশ দেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই তিনি জনসমক্ষে একাধিক নাম ও সম্পত্তির সংখ্যা প্রকাশ করেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “বাংলাকে যারা লুট করেছে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে যারা প্রাসাদ গড়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি করা হবে।”

    কার কত সম্পত্তি?

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ করা তালিকায় প্রথমেই উঠে আসে বেলেঘাটার তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের নাম। শুভেন্দুর দাবি, তাঁর নামে ১৮টি সম্পত্তি রয়েছে। দ্বিতীয় নাম কসবার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার, যার নামে ২৪টি সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলে দাবি সরকারের। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী আক্রমণের কেন্দ্রে আনেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর অভিযোগ, “ভাইপো”-অভিষেকের নামে ও তাঁর সঙ্গে যুক্ত সংস্থা লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস্-এর নামে মিলিয়ে মোট ২৪টিরও বেশি সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়াও অভিষেকের বাবার নামেও একাধিক সম্পত্তির উল্লেখ করেন তিনি। তালিকার চতুর্থ নাম হিসেবে উঠে আসে কসবার তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খানের ছেলের নাম, যার নামে একাই ৯০টি সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    অভিষেকের ৪৩টি সম্পত্তির তালিকা বিজেপির হাতে!

    সূত্রের দাবি, ২৪ নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত মোট ৪৩টি সম্পত্তির তালিকা নাকি হাতে এসেছে বিজেপি সরকারের। যদিও সেই তালিকার সব সম্পত্তিই তাঁর একক মালিকানাধীন নয়। বেশ কিছু ক্ষেত্রে তিনি যুগ্ম মালিক বা পারিবারিক অংশীদার হিসেবে রয়েছেন। তবুও এই বিপুল সম্পত্তির উৎস কী, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে হেম দে লেন, ধর্মতলা রোড, গিরিন্দ্র শেখর বোস রোড, পণ্ডিত মদন মোহন মালব্য সরণী, দেবেন্দ্র ঘোষ রোড, রাজকৃষ্ণ ঘোষাল রোড, বৈষ্ণবঘাটা বাই লেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রোড, পূর্বাচল রোড, বরাখোলা, ব্রহ্মপুর এবং কালিয়াপাড়া মুখার্জি রোডের একাধিক ঠিকানা। কয়েকটি সম্পত্তি ফ্ল্যাট, আবার কয়েকটি আবাসন ও বাণিজ্যিক ইউনিট হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে বলে দাবি।

    ‘‘আমি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নই’’

    এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কলকাতা পুরসভার ফাইল খোলা হচ্ছে। কীভাবে বাংলাকে লুট করা হয়েছে, মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না। আমরা ক্যাবিনেটে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটি প্রত্যেকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। আমি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নই।” শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, ইতিমধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বোস এবং পুলিশ আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও বড় রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযান চলবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    ইডির জালে সোনা পাপ্পু, পুলিশের হাতে রাজু নস্কর…

    এরইমধ্যে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি গ্রেফতার করেছে সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে। জমি দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, হাওয়ালা লেনদেন এবং তোলাবাজির অভিযোগে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, বেলেঘাটার রাজু নস্করও ইতিমধ্যেই অপহরণ ও মারধরের মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। ফলে তৃণমূলের একাধিক স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

    গ্রেফতারি এড়াতে হাইকোর্টে অভিষেক!

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে দায়ের হওয়া একটি মামলায় সম্ভাব্য গ্রেফতার এড়াতে সোমবারই তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জাান গিয়েছে। যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ জবাব দেওয়া হয়নি, দলের অন্দরে এই ইস্যু ঘিরে চাপা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।

    “দুর্নীতিবিরোধী সরকার” হওয়ার লক্ষ্যে…

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পর বিজেপি প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠছে দুর্নীতি ও সম্পত্তি তদন্ত। একদিকে যেমন বিরোধী শিবিরে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে এই অভিযানকে সামনে রেখে নিজেদের “দুর্নীতিবিরোধী সরকার” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। আগামী দিনে এই তদন্ত কতদূর গড়ায় এবং সত্যিই কোনও বড় আইনি পদক্ষেপ হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

  • FIR Against Abhishek: উস্কানিমূলক মন্তব্যের জের, অভিষেকর বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর, কোন কোন ধারায় অভিযোগ?

    FIR Against Abhishek: উস্কানিমূলক মন্তব্যের জের, অভিষেকর বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর, কোন কোন ধারায় অভিযোগ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর। বিধানসভা ভোটের প্রচারপর্বে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক সভা থেকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছিলেন তিনি। ভোটের ফল ঘোষণার পর বিজেপি কর্মীদের ‘দেখে নেওয়া’, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম করে হুঁশিয়ারি এবং ডিজে বাজানোর রূপক ব্যবহার করে মন্তব্য—এসব নিয়েই শুরু হয়েছিল বিতর্ক। সেই সমস্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এবার বিধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের (FIR Against Abhishek) করলেন বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার।

    কোন ধারায় মামলা?

    রাজীব সরকার নামে এক সমাজকর্মীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, হিংসায় উস্কানি, হুমকি-সহ একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর সোমনাথ সিনহা রায়কে। অভিযোগকারী রাজীব সরকারের দাবি, গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে-র মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনী জনসভা থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য পেশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, গত ৭ এপ্রিল কলকাতায় আয়োজিত একটি প্রাক-নির্বাচনী সভায় অভিষেকের একটি মন্তব্যকে ঘিরেও মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে তৃণমূল সাংসদকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “আমি দেখে নেব ৪ মে কে তাঁদের বাঁচাতে আসে। দিল্লি থেকে কোন গডফাদার তাঁদের রক্ষা করতে আসেন, তাও আমি দেখে নেব।”

    সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা

    অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উস্কানিমূলক ও ভয় দেখানোর মতো ভাষণ দিয়েছেন। অভিযোগে আরামবাগ, হরিণঘাটা ও নানুরের সভার উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে, ওই ভাষণগুলিতে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং এমন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল যা জনশৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে। আরও দাবি করা হয়েছে, সেই বক্তৃতার ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়া ও ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেই বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ তুলেছিল, নির্বাচনী প্রচারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষা ও শব্দচয়ন রাজনৈতিক সৌজন্যের সীমা ছাড়িয়েছে। বিজেপির দাবি, এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক হিংসাকে উসকে দিতে পারে। এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দাঙ্গা বাঁধানোর উসকানি, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা, ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা প্রচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূলের ঘরছাড়াদের ফেরাবে বিজেপি তবে…’ শোভনদেবকে শর্ত শুভেন্দুর, বিধানসভায় দেশবিরোধী স্লোগান বন্ধের দাবি তাপসের

    Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূলের ঘরছাড়াদের ফেরাবে বিজেপি তবে…’ শোভনদেবকে শর্ত শুভেন্দুর, বিধানসভায় দেশবিরোধী স্লোগান বন্ধের দাবি তাপসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবগঠিত বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কক্ষ। ভোট-পরবর্তী অশান্তি এবং কর্মীদের ঘরছাড়া হওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে যদি কোনও তৃণমূল নেতা ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা মামালায় অভিযুক্ত হন তাহলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেমে। পালটা যুক্তিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ওপর দিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করেই তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy)। ‘হাড়গোড় ভাঙা নয়”, রাজনৈতিক শিষ্টাচারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই ভাবে ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৃণমূলকে মনে করিয়েদিলেন দুর্বিষহ সন্ত্রাসের কথা।

    বিরোধী দলনেতার অভিযোগ ও উদ্বেগ (Suvendu Adhikari)

    স্পিকার হিসেবে রথীন্দ্র বসুর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পর অধিবেশন শুরু হতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, “বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। ভয় নয়, ভরসা বিজেপির এই স্লোগান অর্থহীন, সাধারণ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বহু তৃণমূল কর্মী বর্তমানে নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত। এই ঘরছাড়া কর্মীরা নিরাপদে নিজ নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন সেই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।”

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যয় ও শর্তসাপেক্ষ আশ্বাস

    বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রেখে জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘‘কোনও ব্যক্তি যদি প্রকৃতই ঘরছাড়া হয়ে থাকেন, তবে বিরোধী দলনেতা যেন সেই তালিকা ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP)-কে প্রদান করেন। কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি ঘরছাড়া থাকলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার সসম্মানে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে দেবেন। তবে একটি শর্তও রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেন ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী কোনও অপরাধমূলক অভিযোগ না থাকে। যদি কোনও অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে তাঁকে অবশ্যই আইনের সম্মুখীন হতে হবে। জেলে যেতে হবে।”

    ‘‘সদনে দেশবিরোধী স্লোগান চলবে না’’

    বিধানসভার প্রথম দিনের অধিবেশনে তৃণমূলের অপকর্মের আয়না দেখালেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy)। তিনি বলেন, “তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে এতদিনে ১৫০ জন বিজেপি কর্মী খুন হতেন। এটা শুধুমাত্র সরকার গড়ার আর নির্বাচিত হয়ে আসার নির্বাচন ছিল না। এটা ছিল ধর্মযুদ্ধ। আর সেই ধর্মযুদ্ধে যাঁরা জিতে এসেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানাই।” এই প্রসঙ্গে তাপস রায় নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উদ্দেশে বলেন, “স্যার, একটা জিনিস করতে হবে। এই সদনে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, দেশবিরোধী স্লোগান চলবে না। আইন করে বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে বিল এনে।”

    “পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত, পাপমুক্ত, ভয়মুক্ত হয়েছে”

    ২০২৬ সালের বিধান সভা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ভয়মুক্ত হয়েছে।” ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। গতকাল আদালতে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তাপস রায় বলেন, “গতকাল কেউ হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ব্লক অঞ্চল থেকে বিজেপি প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। কারও নাম করিনি। সে বলেছিল, হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হবে। আমি বলব, সে যেন এবার বেরোয়। বিজেপি কিছু করবে না। তার ব্যবস্থা জনগণ ও তৃণমূলই করবে।”

    ‘‘বেহায়া না হলে…ভোট পরবর্তী হিংসা এদের মুখে আসে’’

    বিধানসভায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তাপস রায় (Tapas Roy) তৃণমূলকে নির্লজ্জ এবং বেহায়া বলেছেন। যারা ক্ষমতায় আসার আগে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় তাঁদের মুখে এই কথা কি শোভা পায়। তাপস রায় বলেন, “নির্লজ্জ, বেহায়া না হলে আজকে ভোট পরবর্তী হিংসা এদের মুখে আসে। এর আগে একটাও রক্তপাতহীন, লাশহীন নির্বাচন হয়েছে? রক্তের উপর দিয়ে ভি সাইন দেখিয়েছে। স্যার, আজকে দেড়শোর উপর লাশ আপনাকে গুনতে হত বিজেপির। যদি এরা ক্ষমতায় ফিরে আসত। বাড়ি জ্বালিয়ে দিত। আর লক্ষ লক্ষ বিজেপি কর্মী সমর্থক বাড়িছাড়া থাকত। আমি যদি ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকি, আমার নাম থাকে, আমাকে জেলে পাঠাবেন।’’

    ‘‘অকারণে বিরোধিতা করতে চাই না’’

    উল্লেখ্য একসময় তৃণমূলে ছিলেন তাপস রায়। একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বরাহনগর থেকে জিতেছিলেন। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি দলের চরম দুর্নীতি এবং তোষণনীতির কারণে বিজেপিতে যোগদান করেন। এদিকে, ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওসদ সিদ্দিকি বলেন, ‘‘আজ তাপস রায় যা বলেছেন, তা খুব একটা ফেলে দেওয়ার নয়। ২০২১ সালে ভোটের জেতার পর, ৬ মাস এমন দিন পার করেছি, যখন ভেবেছিলাম, আমি ইস্তফা দিয়ে দিই, যাতে আমার ছেলেগুলোর উপর অত্যাচার বন্ধ হয়। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধায়ককের বলতেই দেওয়া হয়নি।’’

    পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান নওশাদ। তাঁর কথায়, “অতীতে আমাদের বক্তব্য শাসকদলের অপছন্দ হওয়ায় অনেক সময় মাইক বন্ধ করে দেওয়া হত। আশা করছি, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না। সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমাদের যে দাবিগুলি রয়েছে, সেগুলি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। আমরাও অকারণে বিরোধিতা করতে চাই না।”

  • Suvendu on Mamata-Abhishek Security: শুভেন্দুর প্রথম বড় নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত! মমতা পাচ্ছেন বিশেষ সুরক্ষা, কমছে অভিষেকের নিরাপত্তা

    Suvendu on Mamata-Abhishek Security: শুভেন্দুর প্রথম বড় নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত! মমতা পাচ্ছেন বিশেষ সুরক্ষা, কমছে অভিষেকের নিরাপত্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে ধারাবাহিকভাবে একাধিক বৈঠক করেন শুভেন্দু। প্রথমে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক, তারপর জেলাশাসক এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। শীর্ষ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে রাজনীতিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে তিনি নির্দেশ দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান নিরাপত্তা বলয় একই রকম বহাল থাকবে। তবে একইসঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, যাঁদের বাস্তবিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই, তাঁদের জন্য অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র প্রভাব বা মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয় কেন করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের জেরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মমতার নিরাপত্তায় গুরুত্ব

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন, যাতায়াত এবং জনসভা বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁকফোকর বা গাফিলতি যেন না থাকে, সে বিষয়েও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করছে। বিশেষ করে ভোটপর্বের পর শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় রাজ্যের হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর নিরাপত্তা একই রকম বহাল থাকবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যাতে কোনো রকম শিথিলতা বা ওঁর প্রতি কোনো অসম্মান না হয়, তা দেখার জন্য আমি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। এই সম্মান ওঁর প্রাপ্য।’’

    অভিষেকের নিরাপত্তায় কাটছাঁট

    অন্যদিকে, একই সময়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বলয়ে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, তাঁর জন্য বরাদ্দ অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিশেষ পাইলট কারের সুবিধা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হিসেবে যে নিরাপত্তা প্রটোকল প্রযোজ্য, ভবিষ্যতে অভিষেকের ক্ষেত্রেও সেই ব্যবস্থাই বহাল থাকবে। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা বলয়ে ছিলেন অভিষেক। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা ধাপে ধাপে কমানো শুরু হয়। সোমবার বিকেলেই এই সংক্রান্ত প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী নয়, পাইলট কারের সুবিধাও তুলে নেওয়া হচ্ছে। এতদিন অভিষেকের সঙ্গে পাইলট কার চলতে দেখা গেলেও সরকারি নির্দেশের পর আর সেই সুবিধা থাকবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনেই তাঁর নিরাপত্তা পুনর্গঠন করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি।

    শুভেন্দুর ইতিবাচক বার্তা

    ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই অভিষেকের নিরাপত্তা বলয়ে কাটছাঁট শুরু হয়। তৃণমূল সরকারের আমলে কড়া নিরাপত্তায় মোড়া থাকত ক্যামাক স্ট্রিট এলাকা। কিন্তু সরকার বদলের পর প্রথমেই তাঁর দফতরের সামনে থেকে পুলিশ প্রহরা তুলে নেওয়া হয়। পরে বাড়ির সামনের নিরাপত্তাও কমানো হয়। শান্তিনিকেতনে তাঁর বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশের স্ক্যানার-সহ অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম। শুধু অভিষেক নন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের নিরাপত্তাতেও পরিবর্তন আসে। ১৮৮এ, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তাঁর বাড়ির সামনে থাকা অতিরিক্ত নিরাপত্তা কমানো হয়। রাজ্যে পালাবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বাড়ির গলির মুখে থাকা ‘সিজার্স ব্যারিকেড’ সরিয়ে দেওয়া হয়, পরে লালবাজারের তরফেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হয়। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর এই সম্মান প্রদর্শনকে ইতিবাচক বলেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। প্রশাসনিক স্তরে এই নির্দেশ জারি করে তিনি যেমন সৌজন্য ও পরম্পরার বার্তা দিয়েছেন, তেমনই স্পষ্ট করেছেন যে রাজ্যে ভিভিআইপি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতের কোনও স্থান থাকবে না।

  • Sujit Bose Arrested: গ্রুপ সি ও ডি কর্মী থেকে গাড়ির চালক, ঝারুদার নিয়োগেও কারচুপি! পুর-দুর্নীতিতে ইডির জালে সুজিত

    Sujit Bose Arrested: গ্রুপ সি ও ডি কর্মী থেকে গাড়ির চালক, ঝারুদার নিয়োগেও কারচুপি! পুর-দুর্নীতিতে ইডির জালে সুজিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Municipality Recruitment Scam) গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose Arrested)। সোমবার প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টার জিজ্ঞাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি। ওএমআর শিটে কারচুপি থেকে অযোগ্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া, এরকম একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    কীভাবে ইডির জালে সুজিত

    ২০২৩ সালে নিয়োগ মামলায় অয়ন শীলকে (Ayan Shil) গ্রেফতার করেছিল গোয়েন্দারা। অয়নের বাড়িতেই পুর নিয়োগ দুর্নীতির হদিশ পায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এরপর ইডি সল্টলেক সেক্টর ফাইভে সুজিত বসুর ছেলে সমুদ্র বসুর রেস্তোঁরায় তল্লাশি চালায়। গোয়েন্দাদের সন্দেহ হয়, কোনও খাবার টেবিল, কিচেন ছাড়াই রেস্তোরাঁ কীভাবে চলছে? সেই রেস্তোঁরার আড়ালে কালো টাকা সাদা করতেন মন্ত্রী, দাবি ইডির আধিকারিকদের। এখানেই শেষ নয়, তারাতলায় সুজিত ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর অফিসে তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছিল তিন কোটি টাকা।

    কী কী অভিযোগ সুজিতের বিরুদ্ধে

    দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ৩২৯ জন অযোগ্য প্রার্থীর নিয়োগ হয়েছিল। গ্রুপ সি (group c) ও গ্রুপ ডি কর্মী (group d) নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গেই দেখা যায় গাড়ির চালক, ঝারুদার, স্বাস্থ্য কর্মীর নিয়োগেও দুর্নীতি রয়েছে। অয়ন শীলের সংস্থার মাধ্যমে ওএমআর শিটে কারচুপি করা হয়েছিল এই নিয়োগে, এমনই দাবি ইডির। সংশ্লিষ্ট পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম‍্যান পাঁচু রায়কে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বিরুদ্ধেও চার্জশিট দেওয়া হয়। অভিযোগ পাঁচু রায় ও সুজিত বসুর মাধ‍্যমে অয়ন শীলের সংস্থার সাহায্যে ওএমআর শিটে নম্বর বিকৃত করা হয়েছিল। এমনকী, নিয়োগ সংক্রন্ত মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্র শূন্য পেলেও পাঁচু ও সুজিতের নির্দেশে অযোগ্যদের চাকরি পাকা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    শুধু সুজিতই নয়, অভিষেকই আড়ালে

    তবে, শুধু সুজিতই নয়, এরপর আরও বড় বড় চোর ধরা পড়বে। বাদ যাবেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee), সুজিত বসুর গ্রেফতারের পর এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং (Arjun Singh)। রোলের দোকান থেকে সুজিত কীভাবে কোটি টাকার মালিক হলেন, সেই অঙ্কটাও বুঝিয়েছেন তিনি। অর্জুন সিংয়ের দাবি, “আগুন লাগাতেন ফিরহাদ হাকিম, আর আগুন নেভাতেন সুজিত বসু। টাকা কালেকশন করে একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরেকদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছত। এটাই তো সবাই জানে।” অর্জুন সিং আরও বলেন, “আরও সব চোররা ধরা পড়বে। ৬২টি পুরসভার চেয়ারম্যানের জেলে যাওয়া উচিত। সবাই তাঁরা চাকরি চুরিতে জড়িত রয়েছেন। এটা শুরু হয়েছে। শেষ হবে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত যাবে। চিন্তার কোনও কারণ নেই।”

  • Security Reduced: এবার ‘ভাতিজা’র বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হল দৈত্যাকার স্ক্যানার, ‘শান্তিনিকেতনে’ ফস্কা গেরো

    Security Reduced: এবার ‘ভাতিজা’র বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হল দৈত্যাকার স্ক্যানার, ‘শান্তিনিকেতনে’ ফস্কা গেরো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বুয়া’র পর এবার ‘ভাতিজা’! তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেকের (Abhishek Banerjee) প্রাসাদোপম বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’ থেকে সরিয়ে নেওয়া হল পুলিশের (Security Reduced) অতিকায় স্ক্যানার। পুলিশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেসব সামগ্রী ছিল ‘ভাইপো’র বাড়িতে, সে সবও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিষেকের বাড়িতে যে স্ক্যানার বসানো ছিল, সেই মানের স্ক্যানার বসানো থাকে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন কিংবা বড় কোনও প্রতিষ্ঠানে। বুধবার দুপুরে মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে শান্তিনিকেতন থেকে নীচে নামানো হয়েছে সেই দৈত্যাকার স্ক্যানার।

    নিরাপত্তার ‘বিলাসিতা’ নেই শান্তিনিকেতনে (Security Reduced)

    প্রসঙ্গত, সোমবার ফল প্রকাশ হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের। এদিনই জানা যায়, ২০০-এর বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। হেরে গিয়েছেন জেনেও বুধবার দুপুর পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি মমতা। মঙ্গলবার রাতেও পুলিশি প্রহরা ছিল ১৮৮এ, হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের শান্তিনিকেতনে। বুধবার দুপুরে দেখা গেল, শান্তিনিকেতনের সামনে কোনও বাড়তি নিরাপত্তা নেই। বাড়ির সামনে যে পুলিশ বুথটি রয়েছে, সেটিও ফাঁকা। পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমের একটি গাড়ি অবশ্য দাঁড়িয়ে ছিল বাড়ির সামনে। স্থানীয় থানার এক পুলিশকর্মীকে ‘রাউন্ড’ দিতেও দেখা গেল তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের বাড়ির সামনে। সূত্রের খবর, একজন সাংসদ হিসেবে যতটা নিরাপত্তা পাওয়া প্রয়োজন, সেইটুকুই পাবেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)।

    পালাবদলের ছবি!

    রাজ্যে পালাবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মমতার বাড়ি যাওয়ার পথে থাকা ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’ সরিয়ে নেওয়া (Security Reduced) হয়। পরে লালবাজার থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বাড়তি কোনও নিরাপত্তা থাকবে না। তবে এক জন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রোটোকল অনুযায়ী যতটা নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, ততটাই পাবেন মমতা। শেক্সপিয়র সরণি থানার অধীনে ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে রয়েছে অভিষেকের কার্যালয়। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দফতর এখানে তৈরি হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তার কড়া বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল এলাকা (Abhishek Banerjee)। সেখান থেকেও সরিয়ে নেওয়া হয় নিরাপত্তা। এবার অতিরিক্ত পুলিশি প্রহরা সরিয়ে নেওয়া হল শান্তিনিকেতনের সামনে থেকেও। কয়েকজন (Security Reduced) নিন্দুকের সরস মন্তব্য, নামকরণ সার্থক হল অভিষেকের বাড়ির!

     

  • TMC Internal Conflict: ‘‘দলে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’’, ‘‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’’, ‘‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’’! ভোটে ভরাডুবির পরেই ঘাসফুলে বিদ্রোহ!

    TMC Internal Conflict: ‘‘দলে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’’, ‘‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’’, ‘‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’’! ভোটে ভরাডুবির পরেই ঘাসফুলে বিদ্রোহ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের ১৫ বছরের সাম্রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ৪ মে রাজ্যে পালাবদল হতেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে দোষারোপের পালা। দীর্ঘদিন ধরে মনের ভিতর জমে থাকা ক্ষোভ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে বেরোতে শুরু করেছে। এঁদের মধ্যে কেউ জেলাস্তরের দলের সাংগঠনিক নেতা, তো কেউ বঞ্চিত টিকিটপ্রার্থী। নির্বাচনে তৃণমূল পর্যুদস্ত হতেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে এক এক করে যাবতীয় রাগ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূলের এই নেতানেত্রীরা। কারও মুখে দলের পরাজয়ের কারণ, তো কেউ ফাঁস করছেন টিকিট নিয়ে কালোবাজারির কথা। কেউ কেউ তো আবার সরাসরি হারের জন্য নাম করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের ভোট-কুশলী সংস্থা আই-প্যাককে দায়ীও করেছেন।

    ‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’

    এবারের নির্বাচনে গোটা উত্তরবঙ্গ পদ্মময়। কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল। এই প্রেক্ষিতে শিলিগুড়িতে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভানত্রী পাপিয়া ঘোষের সাফ কথা, “তৃণমূলে আমরা ছিলাম চাকর। তাই এমন হওয়ার ছিল। গত ৫ বছরে দল চলেছে শুধু-মালিক আর চাকর হিসাবে। আমাদের কাজ ছিল চাকর হয়ে নির্দেশ মানা।” তৃণমূলের এই দাপুটে নেত্রী বলেন, ‘‘২০২১ থেকে ২০২৬, এই পাঁচ বছর দল আর আগের মতো সিস্টেমে চলেনি। কোথাও যেন মনে হয়েছে গোটা দলটাই মালিক আর চাকরের হয়ে গিয়েছে। এই সময়কালে সিন্ডিকেট-রাজ মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে। আমাদের তো কথা বলার জায়গাই ছিল না। যে এজেন্সি এসেছিল তাঁদের হয়তো যাঁরা মিষ্টির প্যাকেট দিতে পারতেন তাঁদের কথা উপরে যেত।’’ তাঁর মতে, বাংলার সাধারণ মানুষ তৃণমূলের মতো দলকে প্রত্যাখ্যান করেনি। প্রত্যাখ্যান করেছে দাম্ভিক, অহংকারী নেতাদের।

    ‘অপরাধীদের বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক’

    উত্তরবঙ্গের আরও এক তৃণমূল নেতা হারের জন্য সরাসরি অভিষেককে দায়ী করেছেন। শিলিগুড়ি জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অত্রিদেও শর্মার দাবি, শওকত, জাহাঙ্গিরের মতো অপরাধীদের বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক। মানুষ এসব ভালোভাবে নেয়নি। আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, “আইপ্যাকের হাতে অসীম ক্ষমতা ছিল। রাজ্যস্তরের নেতারা কিছুই করতে পারছিল না। সব এদের মাধ্যমে হচ্ছিল। ফলে কোনও কিছুই সংগঠিতভাবে ছিল না। সবার দম্ভ দেখে মনে হয়েছিল আমরা যেভাবে চাইব সেভাবেই নির্বাচন হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রচেষ্টায়, নির্বাচন কমিশনের তীক্ষ্ণ নজরে আমরা আমাদের মতো ভোট করাতে পারিনি।”

    ‘দলের ভেতর ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’

    ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীও সরাসরি তোপ দেগেছেন অভিষেকের বিরুদ্ধে। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, “একজন ব্যক্তি দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিলেন, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।” কৃষ্ণেন্দুবাবুর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের ভেতর ‘ধৃতরাষ্ট্র’ করে রাখা হয়েছিল। টিভিতে নেত্রীর লাঞ্ছনার দৃশ্য দেখে ব্যথিত এই প্রবীণ নেতা বলেন, “মমতাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এমন দৃশ্য রাজনৈতিক জীবনে দেখিনি।” প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভিষেককে একহাত নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, হরিশ্চন্দ্রপুরে এমন একজনকে টিকিট দেওয়া হয়েছে যাঁর ভাষাজ্ঞান নেই, আবার রতুয়ায় দাঁড়িয়েছেন ৮৪ বছরের এক অশক্ত বৃদ্ধ। এই ভুল সিদ্ধান্তের মাসুলই দিচ্ছে দল।

    ‘ঔদ্ধত্ব ও অহংকার…পতনের মূল কারণ’

    চুঁচুড়া আসন নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। পোড়খাওয়া ও বর্ষীয়ান নেতা অসিত মজুমদারকে সাইডলাইন করে তৃণমূল টিকিট দিয়েছিল তরুণ তুর্কি দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার জানিয়েছেন, ‘‘আমরা অনেক দক্ষ লোক ছেড়ে, অদক্ষ লোক নিয়ে সংগঠন তৈরি করার চেষ্টা করেছিলাম। একবারে সমস্ত পুরনো নেতাদের বাদ দেওয়া দলের কর্মীরা ভালো চোখে নেয়নি। অনেকের ঔদ্ধত্ব ও অহংকার হয়ে গিয়েছিল যে, আমরাই হয়তো শেষ কথা বলার লোক। সেটাও মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। আর এটাই পতনের মূল কারণ।’’ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোট কুশলী সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁর সাফ কথা, দলের পুরনো ও অভিজ্ঞ ঘোড়াদের বসিয়ে দিয়ে ‘ভাড়াটে’ দিয়ে দল চালাতে যাওয়ার মাসুল দিতে হয়েছে এই নির্বাচনে। অসিত বলেন, ‘‘যাঁদের বাদ দেওয়া হল, তাঁদের সঙ্গে অন্তত আলোচনার প্রয়োজন ছিল। আই-প্যাকের প্রয়োজন আমাদের কখনও হয়নি। সিপিএমের চরম অত্যাচারের সময় যখন আমরা দুটো নির্বাচন জিতেছি, তখন তো কোনও ভাড়ার লোক লাগেনি!’’

    ‘আগে ভদ্র লোকেরা তৃণমূল করত’

    বর্ধমানের তৃণমূল নেতা নুরুল হাসান তৃণমূলের এই পরাজয়ের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তোলাবাজদের সংস্থার মাধ্যমে নেতৃত্ব গঠন করা, মাতাল গাঁজাখোরদের এলাকায় নেতৃত্ব দেওয়া হলে এটাই হবে। তাঁর দাবি, ‘‘আগে ভদ্র লোকেরা পার্টি করত, কিন্তু এখন যাদের হাতে পার্টিটা দিয়েছে, তারা কেউ কোনও দিন তৃণমূল করেনি। কেউ ১০১২, কেউ ২০১৬-এ দলে এসেছে। তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার পর দলে এসেছে। এই অহংকার ও দাম্ভিকতার জন্য তৃণমূলের এই হাল।’’

    ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’

    অসিতের মতোই এবারের নির্বাচনে টিকিট পাননি প্রাক্তন ক্রিকেটার-বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি। তাঁর বদলে তৃণমূল এবার শিবপুরে প্রার্থী করেছিল রানা চট্টোপাধ্যায়কে। ঘাসফুলের সেই শক্ত ঘাঁটিতেই ফুল ফুটিয়েছেন বিজেপি-র রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। পাঁচ বছর আগে, একুশের বিধানসভা ভোটে হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী রথীন চক্রবর্তীকে তিরিশ হাজারের উপর ভোটে হারিয়েই বিধায়ক হন তিনি। এরপর মনোজকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার, তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর মনোজের ইঙ্গিতবাহী পোস্ট— ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’। মনোজ জানিয়েছেন, শুধু তারাই টিকিট কিনতে পেরেছেন, যাঁরা মোটা অঙ্কের টাকা দিতে পেরেছেন। এবার অন্তত ৭০-৭২ জন প্রার্থী টিকিট পাওয়ার জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। মনোজের দাবি, তাঁকেও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় টিকিট পাননি। মনোজের আরও অভিযোগ, তৃণমূলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে। ক্রিকেটারের সংযোজন, ‘‘আমাকে ‘এমওএস’ (প্রতিমন্ত্রী) পদের একটি ললিপপ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার কার্যত কোনও অর্থই ছিল না। আমি যদি উঠে দাঁড়িয়ে বলতাম, দিদি, আমি একটি নির্দিষ্ট সমস্যার প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, তিনি মাঝপথেই আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলতেন, তোমাদের মতো লোকের জন্য আমার কাছে কোনও সময় নেই।’’ মনোজ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও ধুয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘অরূপদা তো খেলার এ-বি-সি-ডি’ই জানেন না। নিজের হীনমন্যতা বা নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমাকে আমার মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করতে দেননি।’’

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিদ্রোহ কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। একদিকে কর্পোরেট সংস্কৃতি আর অন্যদিকে প্রবীণদের ব্রাত্য করে রাখা, এই দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েই যে বাংলার মসনদ হারাতে হলো তৃণমূলকে, তা এখন ঘরোয়া কোন্দলেই স্পষ্ট।

LinkedIn
Share