Tag: Amit Shah

Amit Shah

  • India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য চুক্তিতে সহমত হয়েছে ভারত এবং আমেরিকা (India US Trade Deal)। যার ফলে ভারতের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে বলে খবর। আর তাতেই ফাঁপড়ে পড়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিন। কারণ, তাদের থেকে ভারতের শুল্ক অনেকটাই কম। যার ফলে ভারতের বাণিজ্য বাড়বে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনবে এবং প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আমদানি করতে পারে।

    স্বাগত বার্তা মোদির

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে দারুণ আনন্দিত। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ওপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার এই ঘোষণায় আমি অত্যন্ত খুশি। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ।” তিনি আরও বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতন্ত্র ও অর্থনীতি একসঙ্গে কাজ করলে তা সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

    ঐতিহাসিক চুক্তি, শাহ

    অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁর পোস্টে এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ (Historic Deal) বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘শুল্ক ১৮ শতাংশে নামায় ভারত–মার্কিন বাণিজ্য (India-US Trade) নতুন মাত্রা পাবে। উভয় দেশের মানুষই এর সুফল পাবেন।’ দুই দেশের তুলনামূলক শুল্ক নিয়ে সরকারি সূত্র জানায়, এখন ভারতের শুল্ক ইন্দোনেশিয়া (১৯%), ভিয়েতনাম (২০%), বাংলাদেশ (২০%), এবং চিনের (৩৪%) চেয়ে কম। ফলে বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা আরও বাড়বে।

    ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    ভারত-মার্কিন বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি (India US Trade Deal) সম্পন্ন হওয়ায় আজ ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় উত্থানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫০% শুল্ক কমে ১৮%-এ নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তে অটোমোবাইল (Auto Stocks), আইটি (IT Stocks), ডিফেন্স (Defence Stocks) এবং ফার্মার (Pharma Stocks) মতো রফতানি-নির্ভর সেক্টরগুলি বিনিয়োগকারীদের (Investment) নজরে রয়েছে।ভারত-আমেরিকা শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে রফতানি বাণিজ্যে নতুন জোয়ার আসবে। বিশেষ করে আইটি এবং ডিফেন্স স্টকগুলোতে ভালো মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে, বলে মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

    অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের অবস্থান

    এই চুক্তির ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারত এখন এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে পড়ল, যাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে কম শুল্ক আরোপ করছে। চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের তুলনায় ভারতের শুল্কহার কম। তবে ইউরোপিয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় ভারতের শুল্ক সামান্য বেশি। এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা আগের ২৫ শতাংশ ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’-এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল। নতুন চুক্তির ফলে এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

    বেশি ট্যারিফ যাদের উপর

    চিন- ৩৭ শতাংশ

    ব্রাজিল- ৫০ শতাংশ

    দক্ষিণ আফ্রিকা- ৩০ শতাংশ

    মায়ানমার- ৪০ শতাংশ

    লাওস- ৪০ শতাংশ

    কম ট্যারিফ রয়েছে যাদের উপর

    ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন- ১৫ শতাংশ

    জাপান ১৫ শতাংশ

    দক্ষিণ কোরিয়া- ১৫ শতাংশ

    সুইৎজারল্যান্ড- ১৫ শতাংশ

    ইউকে- ১০ শতাংশ

    দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন শুল্ক

    বাংলাদেশ- ২০ শতাংশ

    ভিয়েতনাম- ২০ শতাংশ

    মালেয়শিয়া- ১৯ শতাংশ

    কম্বোডিয়া- ১৯ শতাংশ

    থাইল্যান্ড- ১৯ শতাংশ

    পাকিস্তান- ১৯ শতাংশ

    ভারত-মার্কিন চুক্তির শর্ত

    সূত্রের খবর, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যে অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়েছিল, তা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। একই সঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে জ্বালানি, কয়লা, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের মোট মার্কিন জ্বালানি ক্রয় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, ভারত ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যের দিকে নিয়ে যাবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগে ভারতের গড় শুল্কহার ছিল বিশ্বের অন্যতম উচ্চ—সাধারণভাবে প্রযোজ্য হার ১৫.৬ শতাংশ এবং কার্যকর হার ৮.২ শতাংশ।

    রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ!

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়ায় ভারতের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। বাণিজ্যে আরও সুবিধা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শুল্ক কমার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ভারত এবার থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। তার বদলে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে তেল কিনবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্টে এ কথা উল্লেখ নেই।

    এখনো যেসব বিষয় স্পষ্ট নয়

    এই চুক্তি কবে থেকে কার্যকর হবে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের সময়সীমা কী, কিংবা কোন কোন মার্কিন পণ্য ভারত কিনবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। সোমবার বিকেল পর্যন্ত হোয়াইট হাউস এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি বা ফেডারেল রেজিস্টার নোটিস জারি করেনি। ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই এখনো চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে রাশিয়াও ভারতের তেল আমদানি বন্ধের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগের বাণিজ্য চুক্তিগুলোতে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে ভারতের সঙ্গে ঘোষিত এই চুক্তিতে তেমন কোনো বিনিয়োগের উল্লেখ নেই। উল্লেখ্য, গত এক বছরে দু’দেশের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও উচ্চ শুল্ক এবং কূটনৈতিক মতবিরোধে সম্পর্ক কিছুটা চাপের মধ্যে ছিল। শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতাকে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

     

     

     

     

     

  • Amit Shah: “পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যর্থ তৃণমূল সরকার”, তোপ শাহের

    Amit Shah: “পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যর্থ তৃণমূল সরকার”, তোপ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যর্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার।” শনিবার এমনই আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ অনুপ্রবেশের প্রবেশদ্বারে পরিণত হয়েছে, যা শুধু রাজ্যের জন্য নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তার পক্ষেই বড় ধরনের হুমকি (Amit Shah)। ব্যারাকপুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ (BJP) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অপরিহার্য।”

    অনুপ্রবেশ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে (Amit Shah)

    শাহের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর দাবি, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে বাধা দিয়ে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যও তিনি খারিজ করে দেন যে, সীমান্তের দুর্বলতার জন্য কেন্দ্র দায়ী। শাহের মতে, প্রকৃত সমস্যা হল বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে রাজ্য সরকারের অনিচ্ছা। তিনি বলেন, “হাইকোর্ট বিএসএফের পক্ষে রায় দেওয়ার পরেও জমি হস্তান্তর করা হয়নি। এই অবস্থায় বেড়া কীভাবে সম্পূর্ণ হবে?” শাহের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণেই এই বিলম্ব হয়েছে। তাঁর দাবি, এর সুযোগ নিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা অবাধে রাজ্যে ঢুকছে এবং রাজনৈতিক চাপে রাজ্য প্রশাসনের একাংশ ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরিতে সাহায্য করছে।

    কী বললেন শাহ?

    আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে শাহ বলেন, “শাসক দল অনুপ্রবেশকারীদের ‘ভোটব্যাঙ্কে’ পরিণত করেছে। এপ্রিলের শেষের মধ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে সঙ্গে সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং ৪৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।” সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি (Amit Shah)। মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্বেগ নিয়েও কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি টিএমসি সরকারের বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে বলেন, “বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর এবং কেন্দ্রীয় সরকার মতুয়াদের পাশে রয়েছে। তাই ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।” মতুয়া সম্প্রদায়ের আইনি সুরক্ষা ও রাজনৈতিক সমর্থনের আশ্বাসও দেন তিনি। এসআইআর প্রসঙ্গে শাহ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি সত্ত্বেও সংবিধান ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।” তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য টিএমসি বৈধ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।

    শেকড়-সহ উৎখাত করার ডাক

    নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক দলকে শানিত আক্রমণ শানিয়ে শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে হবে (BJP)। এই সরকারকে শেকড়-সহ উৎখাত করতে হবে।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কল্পিত ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতিও দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপির নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শাহ বলেন, “দলটি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করবে।” তাঁর বক্তব্য, যে সরকার অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেয়, জনগণের রায়ে তারা টিকতে পারে না। শাসক দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রেখে শাহ বলেন, “ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে টিএমসি সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনার বিরোধিতা করেছে।” তাঁর মতে, এটি বাংলার সাংস্কৃতিক ও জাতীয় পরিচয়ের ওপর একটি বড় আঘাত (Amit Shah)।

    এর আগে, কলকাতার আনন্দপুরে একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়, বরং টিএমসি শাসনের দুর্নীতির ফল। বক্তব্যের শেষে সমর্থকদের হাত তুলে বিজেপি সরকারের সমর্থনে স্লোগান দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জনতার উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, “তাঁরা কি (BJP) বর্তমান সরকারকে সরিয়ে একটি নিরাপদ ও পুনর্গঠিত পশ্চিমবঙ্গ গড়তে প্রস্তুত?”

     

  • Amit Shah Attacks Mamata: “মমতা বাংলার ঐক্য ভেঙে দিয়েছেন” বাগডোগরায় তৃণমূলকে আক্রমণ শাহের

    Amit Shah Attacks Mamata: “মমতা বাংলার ঐক্য ভেঙে দিয়েছেন” বাগডোগরায় তৃণমূলকে আক্রমণ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার সমাজকে বিভক্ত করছে এবং বাংলার সামাজিক ঐক্য ধ্বংস করেছে। শনিবার বাগডোগরায় বিজেপির কার্যকর্তা সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah Attacks Mamata)। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার ঐক্য ছিন্নভিন্ন করেছেন। তিনি এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আরেক সম্প্রদায়কে দাঁড় করিয়েছেন। আদিবাসীদের সঙ্গে কুর্মিদের সংঘাত তৈরি করা হয়েছে। মমতা দিদি, আপনার সময় শেষ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে স্বামী বিবেকানন্দ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনের সময় এসে গিয়েছে।”

    বাংলার মানুষ ক্ষমা করবে না

    বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শাহ বলেন, গত সাড়ে চার দশক ধরে রাজ্য পিছিয়ে পড়েছে। প্রথমে বামফ্রন্ট সরকার এবং পরে ‘মা, মাটি, মানুষ’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন বলে তাঁর অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতীক বিরোধিতার অভিযোগও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ প্রসঙ্গে আলোচনার সময় তৃণমূলের বিরোধিতার কথা তুলে ধরে শাহ বলেন, “ব্যাঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলার মানুষ। অথচ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য তৃণমূল ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরোধিতা করেছে। বাংলার মানুষ এটা ক্ষমা করবে না।” ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে এর জবাব দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন শাহ।

    বাংলায় অনুপ্রবেশ, দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

    বাংলায় অনুপ্রবেশ ইস্যুকেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন বলে উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপ্রবেশে মদত দিচ্ছে। অসম, গুজরাট ও রাজস্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “যেখানে বিজেপি সরকার আছে, সেখানে অনুপ্রবেশ নেই।” কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালত ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, কিন্তু তৃণমূল সরকার তা মানবে না বলেই তাঁর আশঙ্কা। তিনি দাবি করেন, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হলে ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করা হবে এবং অনুপ্রবেশ বন্ধ করে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো হবে।

    নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব শাহ

    পশ্চিমবঙ্গে নারী নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, “আজ বাংলায় নারীরা নিরাপদ নন। তৃণমূল সরকারের আমলে বিজেপির এক আদিবাসী সাংসদের উপর হামলা হয়েছে, দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।” উত্তরবঙ্গে বিজেপির শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে শাহ বলেন, রাজ্যে ২৮টির মধ্যে সবকটি লোকসভা আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দল এগোচ্ছে। বিজেপির ভোট শতাংশ বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি এবং বলেন, “পরিবর্তন আসছে, এটা অনিবার্য।”

  • Beldanga Violence: বেলডাঙায় পৌঁছল এনআইএ, সঙ্গে ফরেন্সিক দল! স্বাগত জানালেন শুভেন্দু-সুকান্ত, বিজেপির দাবিই কী সত্যি?

    Beldanga Violence: বেলডাঙায় পৌঁছল এনআইএ, সঙ্গে ফরেন্সিক দল! স্বাগত জানালেন শুভেন্দু-সুকান্ত, বিজেপির দাবিই কী সত্যি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেলডাঙায় অশান্তির (Beldanga Violence) ঘটনার তদন্ত করবে এনআইএ ৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে ৷ ঝাড়খণ্ডে কাজ করতে গিয়ে কয়েক দিন আগে খুন হন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার এক পরিযায়ী শ্রমিক ৷ তাঁর মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছতেই অশান্ত হয়ে ওঠে এলাকা ৷ দীর্ঘ দু’দিন ধরে অশান্তি হয় ৷ এরপর পরিস্থিতি খানিক নিয়ন্ত্রণে আসে ৷ এবার এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-কে দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ৷ কেন টানা দু’দিন বেলডাঙায় অশান্তি হল, তা পরিকল্পিত ছিল কি না, কেন্দ্রীয় সংস্থা তা যাচাই করে দেখবে।

    এনআইএ-র প্রতিনিধিদলে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ

    শনিবার সকালেই কেন্দ্রীয় সংস্থার ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল বেলডাঙা থানায় পৌঁছে গিয়েছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে এনআইএ-র কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন অমিত শাহ। তদন্তকারীরা থানায় কেস ডায়েরি এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। এখনও পর্যন্ত বেলডাঙার ঘটনায় চারটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত-সহ ৩৬ জনকে। এনআইএ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে। এনআইএ-র প্রতিনিধিদলে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরাও আছেন। সূত্রের খবর, সাত থেকে আট সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।

    কী ঘটেছিল বেলডাঙায়

    ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনের দেহ সেখানে পৌঁছোতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। ভিন্‌রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, বাঙালি হওয়ায় বাংলাদেশি সন্দেহে হত্যা করা হয়েছে আলাউদ্দিনকে। তার পর তাঁর দেহ ঘরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ঝাড়খণ্ডের পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রাথমিক ভাবে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলেই দাবি করা হয়। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে ১৬ তারিখ জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এমনকি, বিক্ষোভে ব্যাহত হয় শিয়ালদহ-লালগোলা ট্রেন চলাচলও।

    পরিকল্পিত ভাবে অশান্তি বেলডাঙায়

    বেলডাঙায় (Beldanga Violence) সে দিন আক্রান্ত হয়েছিলেন এক মহিলা সাংবাদিক। প্রথম দিন পুলিশ বিক্ষোভ সরালেও পরের দিন সকাল থেকে বেলডাঙা ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরে আদালতে দাবি করেছে, বেলডাঙার প্রথম দিনের বিক্ষোভ কিছুটা হলেও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু দ্বিতীয় দিন পরিকল্পিত ভাবে সেখানে অশান্তি করা হয়। রাস্তা অবরোধ এবং ট্রেন আটকে দেওয়ায় বহু মানুষ ভোগান্তির শিকার হন। এই সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্ট জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায়, এনআইএ-কে দিয়ে বেলডাঙার ঘটনার তদন্ত করাতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও বাহিনী চাইতে পারবে রাজ্য। তার পরেই তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

    পিএফআই আর সিমি-র মতো নিষিদ্ধ সংগঠন জড়িত

    এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ৷ তাঁরা দুজনেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ৷ এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “এর আগেও মুর্শিদাবাদে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল ৷ সে সময় আমি কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলাম ৷ তাতে আদালত যে নির্দেশ দিয়েছিল তা এখনও বহাল হয়েছে ৷ কিন্তু জেলা প্রশাসন সেই নির্দেশ মানেনি ৷ এরপর আবারও বেলডাঙায় হিংসার ঘটনা ঘটে ৷ এনআইএ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ৷ আমি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই ৷ বেলডাঙায় যা হয়েছে সেটা প্রতিবাদ নয়, দেশ বিরোধী আচরণ ৷ পিএফআই আর সিমি-র মতো নিষিদ্ধ সংগঠন এই অশান্তির নেপথ্যে আছে ৷”

    খুন নয় আত্মহত্যাই

    ঝাড়খণ্ডে গত সপ্তাহে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়েছিল, সেই পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখ আত্মহত্যাই করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মৃত শ্রমিকের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের তদন্তে খুন বা কোনও ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের এক বিবৃতিতে শনিবার জানানো হয়েছে, আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর পর তদন্তের অংশ হিসেবে এক সাব-ইন্সপেক্টর ঝাড়খণ্ডের পালামুতে গিয়েছিলেন। সেখানে ওই এলাকায় বসবাসকারী ৮ থেকে ১০ জন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের বয়ান নেওয়া হয়। তবে তাঁদের কেউই খুনের কোনও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিজেপির দাবি, বেলডাঙার হিংসা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অভিযোগ করেন, এই অশান্তি স্বতঃস্ফূর্ত নয় এবং এর নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, কারা উপকৃত হল এবং কেন প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ নিল না।

    সঠিক তদন্ত করবে এনআইএ, প্রকাশ্যে আসবে সত্য

    কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমরা সকলে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই ৷ সেদিন যেভাবে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল তার থেকে স্পষ্ট এর নেপথ্যে কোনও বড় চক্রান্ত ছিল ৷ এনআইএ রাজ্য পুলিশের আওতার বাইরে ৷ আমি আশা করি, তারা সঠিক তদন্ত করে লুকিয়ে থাকা সত্যটা প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে পারবে ৷ ” বেলডাঙার অশান্তির ঘটনার তদন্তভার এনআইএ গ্রহণ করতেই রাজ্য পুলিশের কাছেও পৌঁছেছে একটি নির্দেশ। শুক্রবার পুলিশকে বিশেষ এনআইএ আদালতের নির্দেশ, অশান্তির ঘটনা সংক্রান্ত সমস্ত নথি যত দ্রুত সম্ভব কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের হাতে তুলে দিতে হবে।

  • Suspect Registry: সাইবার জালিয়াতি দমনে বড় সাফল্য, লক্ষাধিক জাল লেনদেন রুখল কেন্দ্রের ‘সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি’

    Suspect Registry: সাইবার জালিয়াতি দমনে বড় সাফল্য, লক্ষাধিক জাল লেনদেন রুখল কেন্দ্রের ‘সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাইবার জালিয়াতির বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উদ্যোগে চালু হওয়া জাতীয় সাইবার অপরাধ ‘সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি’  (Suspect Registry) ইতিমধ্যেই হাজার হাজার কোটি টাকা বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই রেজিস্ট্রির মাধ্যমে লক্ষাধিক প্রতারণামূলক লেনদেন রিয়েল-টাইমে আটকানো সম্ভব হয়েছে।

    কী এই ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি

    ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই রেজিস্ট্রির উদ্বোধন করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (I4C) এই উদ্যোগটি পরিচালনা করছে। এর মূল উদ্দেশ্য—সাইবার অপরাধীদের আগেভাগেই শনাক্ত করে অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ করা। এই রেজিস্ট্রি তৈরি হয়েছে ন্যাশনাল সাইবারক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (NCRP)-এ নাগরিকদের জমা দেওয়া অভিযোগ, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, গোয়েন্দা বিভাগ এবং বিভিন্ন পুলিশ দফতরের তথ্যের ভিত্তিতে।

    কীভাবে কাজ করে সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি

    বর্তমানে এই রেজিস্ট্রিতে প্রায় ১৪ লক্ষের বেশি সন্দেহভাজন সাইবার অপরাধীর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— মোবাইল নম্বর, ই-মেল আইডি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, অন্যান্য ডিজিটাল পরিচয়। যখনই ইউপিআই, নেট ব্যাঙ্কিং বা ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে কোনও লেনদেন শুরু হয়, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট গেটওয়ে সেই তথ্য সাসপেক্ট রেজিস্ট্রির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। যদি কোনও সন্দেহভাজন সাইবার অপরাধীর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়, তাহলে লেনদেনটি সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছনোর আগেই তা আটকানো সম্ভব হচ্ছে।

    এআই প্রযুক্তির ব্যবহার

    এই রেজিস্ট্রিতে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর ডেটা অ্যানালিসিস ও প্যাটার্ন রিকগনিশন টুল। নতুন অভিযোগ ও তথ্য যুক্ত হওয়ায় রেজিস্ট্রিটি প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে, যা একে আরও কার্যকর করে তুলছে। সাসপেক্ট রেজিস্ট্রির অ্যাক্সেস রয়েছে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে। সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED), রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশ এই রেজিস্ট্রি ব্যবহার করতে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ইতিমধ্যেই সব ব্যাঙ্ককে এই রেজিস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    কতটা সাফল্য মিলেছে

    সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ চালু হওয়ার পর প্রথম ৯০ দিনের মধ্যেই— ৬.১০ লক্ষের বেশি প্রতারণামূলক লেনদেন বাতিল করা হয়েছে। প্রায় ১৮০০ কোটি টাকার ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ৮,০৩১.৫৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সরকারি সূত্র স্পষ্ট করেছে, এই সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি জিএসটি জালিয়াতি শনাক্ত করার জন্য নয়। এটি শুধুমাত্র ফিশিং, অনলাইন প্রতারণা, ভুয়ো অ্যাপ, আইডেন্টিটি থেফট ও ডিজিটাল আর্থিক অপরাধ মোকাবিলার জন্য তৈরি। এই রেজিস্ট্রি তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে, যাতে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি নাগরিকদের গোপনীয়তাও বজায় থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি ভারতের জন্য একটি গেম-চেঞ্জার, যা ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্রতারণা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনবে।

  • JNU: জেএনইউ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর স্লোগান, অভিযোগ দায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের

    JNU: জেএনইউ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর স্লোগান, অভিযোগ দায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেএনইউয়ের চিফ সিকিউরিটি অফিসার বসন্ত কুঞ্জ (নর্থ) থানার স্টেশন হাউস অফিসারকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ, জেএনইউ ক্যাম্পাসের সবরমতী হস্টেলের বাইরে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিটি সংগঠিত করে জেএনইউ স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (JNUSU) সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পড়ুয়া।

    আইনানুগ ব্যবস্থা (JNU)

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি জেএনইউ ক্যাম্পাসে সংঘটিত হিংসার ষষ্ঠ বার্ষিকী পালন করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল “এ নাইট অফ রেজিস্ট্যান্স উইথ গেরিলা ধাবা”। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কর্মসূচির আড়ালে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর এবং উসকানিমূলক কিছু স্লোগানও দেওয়া হয়, যা ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ (JNU)।

    উসকানিমূলক স্লোগান

    ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তরফে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর (PM Modi)। চিঠিতে এও বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ওই অনুষ্ঠানটি একটি নির্দিষ্ট বার্ষিকী পালনের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল। এতে ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। যাঁদের নাম চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, অদিতি মিশ্র, গোপিকা বাবু, সুনীল যাদব, দানিশ আলি, সাদ আজমি, মেহবুব ইলাহি, কনিষ্ক, পাকিজা খান, শুভম-সহ আরও কয়েকজন। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিন সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পরেই অনুষ্ঠানের প্রকৃতি ও সুর বদলে যায়। সেই সময় কিছু ছাত্রছাত্রী অত্যন্ত আপত্তিকর, উসকানিমূলক এবং জ্বালা ধরানো ধরনের স্লোগান দিতে শুরু করেন (JNU)।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মত

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এই ঘটনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সরাসরি অবমাননা। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই (PM Modi) ধরনের স্লোগান, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, জেএনইউয়ের কোড অফ কন্ডাক্ট লঙ্ঘন করে এবং ক্যাম্পাসের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। ওই চিঠিতেই দাবি করা হয়েছে, স্লোগানগুলি ছিল শুনতে পাওয়া যায় এমন, ইচ্ছাকৃত এবং বারবার উচ্চারিত। অর্থাৎ, এটি কোনও তাৎক্ষণিক বা আবেগতাড়িত প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সচেতন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ। এই ধরনের ব্যবহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌহার্দ্যপূর্ণ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা। চিঠিতে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় এই ঘটনার বিষয়ে এফআইআর দায়ের করার অনুরোধ জানানো হয়েছে (JNU)।

    উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ

    চিঠি থেকেই জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করার পর, ক্যাম্পাসে বামপন্থী ছাত্রদের একাংশের তরফে একাধিক উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। স্লোগানগুলি দিল্লির হিন্দু-বিরোধী দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলার প্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, জেএনইউয়ে এই স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঘটনা গণতান্ত্রিক ভিন্নমতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি জেএনইউয়ের (PM Modi) আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। প্রশাসনের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার ওপর কড়া নজর রেখেছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে (JNU)।

    জেএনইউ প্রশাসন আরও জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ব্রাঞ্চ পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তদন্তে সহযোগিতা করবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, জেএনইউ সবসময় গণতান্ত্রিক আলোচনার পক্ষে থাকলেও, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা আচরণবিধি লঙ্ঘন (PM Modi) কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না (JNU)।

  • Gandiva AI Tool: গোয়েন্দাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’! সন্ত্রাস দমনে নয়া হাতিয়ার কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি টুল

    Gandiva AI Tool: গোয়েন্দাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’! সন্ত্রাস দমনে নয়া হাতিয়ার কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি টুল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্ত পার থেকে সন্ত্রাসী হামলা বা দেশের অভ্যন্তরে আর্থিক তছরুপ কিংবা ভিন্‌রাজ্যে গিয়ে ডাকাতি-খুন, ধর্ষণ, মাদক ও অস্ত্র পাচার! দেশ জুড়ে বেড়ে চলা যাবতীয় অপরাধের সূচককে নিম্নমুখী করতে এবার কৃত্রিম মেধা বা এআইয়ের (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স) সাহায্য নিচ্ছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই দেশের পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে তাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’ তুলে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক লোকসভায় জানিয়েছে যে জাতীয় গোয়েন্দা গ্রিড বা ন্যাটগ্রিড (NATGRID)-এর আইটি প্ল্যাটফর্মে একটি অরগানাইজড ক্রাইম নেটওয়ার্ক ডেটাবেস (Organised Crime Network Database) তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং রাজ্যগুলির অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াড (ATS)-এর মধ্যে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে। মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ত্রাস দমনে ন্যাটগ্রিড-এর উন্নত হাতিয়ারগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘গাণ্ডীব’। যা বহু উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    ন্যাটগ্রিড কী

    এনআইএ এবং এটিএসের মতো সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তকারী এবং পুলিশি দলগুলির মধ্যে নিরাপদে তথ্য ভাগাভাগির কাজটি সহজতর করতে ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড’ বা ন্যাটগ্রিড নামের একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একগুচ্ছ সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার রিয়েল টাইম তথ্য যখন-তখন হাতে পেতে পারবে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ‘গাণ্ডীব’ নামের এআই টুলটি এর সঙ্গেই কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে। ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ২০০৯ সালে ন্যাটগ্রিড-এর ধারণা প্রথম উঠে আসে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এটি গত বছর পুরোপুরি কার্যকর হয়। বর্তমানে শুধুমাত্র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (SP) পদমর্যাদার আধিকারিকরাই এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন। ন্যাটগ্রিড-এর মাধ্যমে অভিবাসন ও ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য, আর্থিক লেনদেন, টেলিকম ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মেটাডেটা, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। আগে এই ধরনের তথ্যের জন্য বিভিন্ন দফতরে আলাদা করে আবেদন করতে হতো।

    এনপিআরের সঙ্গে সংযুক্ত ন্যাটগ্রিড

    সম্প্রতি এই ন্যাটগ্রিডকে ‘ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার’ বা এনপিআরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে কেন্দ্র। এতে দেশের ১১৯ কোটি বাসিন্দার পরিবারভিত্তিক তথ্য রয়েছে। একে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ সিটিজেন) তৈরির প্রথম ধাপ হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে। ফলে ন্যাটগ্রিডকে ব্যবহার করে অধিকাংশ ভারতবাসীর তথ্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও এটিএসের মতো সংস্থার অফিসারেরা হাতে পেয়ে যাবেন, তা বলাই বাহুল্য। ২০১০ সালে ২০১১ সালের জনগণনার প্রথম পর্যায়ে এনপিআর-এর তথ্য সংগ্রহ শুরু হয় এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছিল। এনপিআর একটি মৌলিক পরিচয় ও আবাসিক ডেটাবেস হিসেবে কাজ করে, যা নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা ও গতি বাড়াতে সাহায্য করে। ন্যাটগ্রিড যেখানে বিভিন্ন সংস্থার ডেটা একত্র করে, সেখানে এনপিআর সেই তথ্যগুলির মধ্যে পরিচয় যাচাইকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলে।

    ‘গাণ্ডীব’-এর গুরুত্ব কী?

    গাণ্ডীব হল ন্যাটগ্রিড-এর একটি উন্নত অ্যানালিটিক্স টুল, যা তথ্য অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সংযোগের পদ্ধতিকে আরও আধুনিক করে তুলেছে। এই টুলটি ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং এনটিটি রেজোলিউশন-এর কাজে ব্যবহার করা যায়। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “যদি কোনও সন্দেহভাজনের ছবি পাওয়া যায়, সেটি গাণ্ডীব-এ আপলোড করা হলে টেলিকম কেওয়াইসি, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব। এতে তদন্তকারীদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচে।”

    পুরাণে ‘গাণ্ডীব’-এর উল্লেখ

    মহাভারত অনুসারে, গাণ্ডীব ছিল পাণ্ডব অর্জুনের ঐশ্বরিক ধনুক। এই কারণেই অর্জুনকে ‘গাণ্ডীবধারী’ নামেও ডাকা হয়। ব্রহ্মার দ্বারা নির্মিত এই ধনুকে ছিল ১০৮টি অলৌকিক তার, যা দেবশক্তিতে পরিপূর্ণ বলে বিশ্বাস করা হয়। অগ্নিদেবকে খাণ্ডব বন দহন করতে সহায়তার সময় অর্জুন গাণ্ডীব লাভ করেন। এই ঘটনা অর্জুন ও গাণ্ডীবের সম্পর্কের সূচনা তো বটেই, পাশাপাশি দেবইচ্ছা পূরণে এই অস্ত্রের ভূমিকার কথাও তুলে ধরে। এআই গাণ্ডীব টুল-ও গোয়েন্দাদের হাতে অর্জুনের ধনুকের মতো। গাণ্ডীব তথ্যগুলিকে নন-সেনসিটিভ, সেনসিটিভ এবং হাইলি সেনসিটিভ—এই তিন ভাগে ভাগ করবে। ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, আর্থিক লেনদেন, কর সংক্রান্ত তথ্য এবং রফতানি-আমদানি সংক্রান্ত ডেটাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাণ্ডীব মূলত ন্যাটগ্রিড-কে একটি সাধারণ ডেটা-অ্যাক্সেস প্ল্যাটফর্ম থেকে উন্নত এআই-চালিত গোয়েন্দা হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেছে, যেখানে একক অনুসন্ধান, দ্রুত সূত্র সন্ধান এবং বুদ্ধিমান বিশ্লেষণ সম্ভব হচ্ছে।

    ‘গাণ্ডীব’-এর ব্যবহারে সন্ত্রাস দমন সহজ

    কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক থেকে শুরু করে দুঁদে গোয়েন্দাকর্তাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ২৬/১১-র মুম্বই হামলা বা তার পরবর্তী সময়ের নাশকতার প্রতিটা ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, সীমান্তের ওপার থেকে এসেছে জঙ্গিরা। এ দেশে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়ে দিব্যি বিদেশে পালিয়েও গিয়েছে তাঁদের কয়েক জন। এই ব্যর্থতার মূল কারণ হল তথ্যের অভাব। তদন্তকারীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিরা এ দেশের কিছু ‘বিশ্বাসঘাতক’ নাগরিকের সাহায্য পেয়ে এসেছে। সরকারের কাছে তাঁদের ব্যাপারে যে কোনও তথ্য নেই, এমনটা নয়। কিন্তু সেটা এতটাই ছড়ানো-ছেটানো যে, প্রয়োজনের সময় দ্রুত একসঙ্গে সেগুলি পেতে সমস্যা হচ্ছিল। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নাশকতার সঙ্গে সঙ্গেই দেশ ছেড়ে চম্পট দিচ্ছিল অভিযুক্তেরা। ন্যাটগ্রিড ও গাণ্ডীবের সাহায্যে তা বন্ধ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কীভাবে কাজ করবে ‘গাণ্ডীব’

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, একসঙ্গে ২১ উৎসের তথ্য একত্রিত করে নিমেষে তদন্তকারীর প্রশ্নের জবাব দিতে পারে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির ‘গাণ্ডীব’। একটি উদাহরণের সাহায্যে এর কর্মপদ্ধতি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক, কোনও সন্দেহভাজন জঙ্গির স্কেচ তৈরি করল জন্মু-কাশ্মীর পুলিশের এটিএস। এর পর তা ‘গাণ্ডীব’ প্ল্যাটফর্মে তুলে দিলেই ওই ছবির মতো দেখতে কোনও লোক এ দেশে আছেন কি না, তা বলে দেবে সংশ্লিষ্ট এআই টুল। শুধু তা-ই নয়, এ ব্যাপারে তদন্তকারীদের আরও কিছু সাহায্য করবে ‘গাণ্ডীব’। সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবির সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক বা টেলি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থায় জমা করা ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ বা কেওয়াইসি ফর্মে সাঁটা ছবির সঙ্গে কোনও মিল আছে কি না তা-ও দ্রুত বলে দেবে ওই কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি। ফলে দ্রুত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নামতে পারবেন এটিএস এবং এনআইএ-র আধিকারিকেরা। এ-হেন ‘গাণ্ডীব’কে ন্যাটগ্রিডের মতো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ন্যাটগ্রিড আবার যুক্ত আছে এনপিআরের সঙ্গে। ফলে সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম মেধাভিত্তিক প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে ১১৯ কোটি বাসিন্দার মধ্যে থেকে অপরাধীকে চিহ্নিত করতে পারবেন তদন্তকারীরা।

  • Sukanta Majumdar: “তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে”, বললেন সুকান্ত

    Sukanta Majumdar: “তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে”, বললেন সুকান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ছাব্বিশ সালের নির্বাচন তৃণমূলের বিসর্জন বলে জানিয়েছেন আমাদের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই নির্বাচনে তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে (Sukanta Majumdar) কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে। মনে রাখবেন (Amit Shah), কোচবিহার থেকে শুরু করে কাকদ্বীপ পর্যন্ত বিজেপির প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি এবং পদ্মফুল প্রার্থী। তাই পদ্মফুলকে জেতাতে হবে। অন্য কিছু দেখলে হবে না।” বুধবার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে নাগাড়ে কথাগুলি বলে খানিক থামলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

    কুরুক্ষেত্র (Sukanta Majumdar)

    এদিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে ছাব্বিশের নির্বাচনকে তিনি কুরুক্ষেত্র বলেও অভিহিত করেন। মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে সুকান্ত বলেন, “আমরা মহাভারতে গল্প শুনেছি, অর্জুন-সহ সবাইকে দ্রোণাচার্য জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কী দেখতে পাচ্ছ। কেউ বলেছিল, আমি গাছে পাতা দেখতে পাচ্ছি। কেউ বলেছিল, পাখির ঠোঁট দেখতে পাচ্ছি। অর্জুনই একমাত্র বলেছিলেন, আমি পাখির চোখ দেখতে পাচ্ছি। বন্ধুগণ, আপনারা কী দেখতে পাচ্ছেন, সেটা আমি বলতে পারব না। কিন্তু, প্রায় ৪ বছর ধরে রাজ্য সভাপতির কাজ করার পর আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে শপথ নিচ্ছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। আপনাদের দিকে তাকিয়ে আমি তা দেখতে পাচ্ছি। কলকাতার চারটি জেলার শক্তিকেন্দ্র ও মণ্ডলের লোককে ডাকা হয়েছে। তার বিশ্বরূপ যদি (Sukanta Majumdar) এটা হতে পারে, তাহলে মনে রাখবেন, এই কুরুক্ষেত্রে আমাদের জয় অর্থাৎ পাণ্ডবদের জয় হবেই।”

    বিজেপি আদর্শভিত্তিক দল

    তিনি বলেন, “বিজেপি আদর্শভিত্তিক দল। আমাদের কার্যকর্তা ও কর্মীরাই মূলধন। একুশের নির্বাচনের পর বিজেপি যখন কিছু ছন্নছাড়া হয়ে যায়, তখন কার্যকর্তারা পিঠে কুলো বেঁধে পার্টির কাজকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।” তৃণমূলকে কটাক্ষ করে সুকান্ত বলেন, “অমিত শাহের নাম শুনলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পুরো পার্টি থরথর করে কাঁপে।” এদিন সুকান্তের পরে ভাষণ দিতে ওঠেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলকে আবারও ২০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। দলের (Amit Shah) সবাই যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেন, তাহলে যে এ রাজ্যে বিজেপি আসবেই, তাও স্পষ্ট করে দেন শাহ (Sukanta Majumdar)।

  • Amit Shah: ‘‘ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে’’, আশ্বাস অমিত শাহর

    Amit Shah: ‘‘ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে’’, আশ্বাস অমিত শাহর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতায় এলে রাজ্যের কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে। রাজ্যে এসে স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government) এখন অনেকগুলি জনকল্যাণমূলক (WB Scheme) প্রকল্প চালায়। আর বাংলায় বিজেপি সরকার (BJP) এলেই নাকি সেই সব স্কিম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে অভিযোগ করে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। যদিও তৃণমূলের এই দাবি উড়িয়ে শাহ জানালেন, “এটা ভুল ধারণা। আমি এখানে বলতে চাই, ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার তৈরির পর একটাও স্কিম বন্ধ হবে না। শুধু তাই নয়, আমাদের ঘোষণাপত্রে যা যা স্কিম থাকবে, সেটাও বাস্তব হবে। এটা আমাদের রেকর্ড (Lakshmir Bhander)।”

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাংলায়

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়েও তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর অভিযোগ, দেশের প্রায় সব রাজ্যেই আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে তার বদলে চালু রয়েছে স্বাস্থ্যসাথী— যা তাঁর মতে আরও দুর্বল একটি প্রকল্প। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে শাহ বলেন, “বাংলার মানুষ কি ভিনরাজ্যে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর (Swasthya Sathi) সুবিধা পাবেন?” শুধু তাই নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, দেশের অন্যান্য রাজ্য আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভারেজের সঙ্গে নিজেদের তহবিল থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধাও যোগ করেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই রকম কোনও বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অর্থনীতিবিদরা মেয়েদের হাতে সরকারের এই টাকা দেওয়াকে ‘অপচয়’ বলতে রাজি নন। শাহ জানান মেয়েদের, বিশেষত দরিদ্র, প্রান্তিক মেয়েদের হাতে নগদ টাকা থাকলে তা সংসার ও সন্তানের কাজেই লাগে। বিজেপি-শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারও নগদ পাওয়ার এই প্রকল্পে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তিকে সক্ষমতার একটি সূচক বলেই দেখে।

    আজ শহরে শাহের সফর

    দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা ভোট। চড়ছে রাজনীতির পারদ। আর নতুন বছর শুরুর আগেই রাজ্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনদিনের সফরে আজ, বুধবারই শেষ দিন। আজ একাধিক কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। বিজেপি সূত্রে খবর, হোটেলে দলীয় সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এর পাশাপাশি দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সায়েন্স সিটিতে বৈঠক রয়েছে অমিত শাহের। কলকাতার সমস্ত বুথ কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন অমিত শাহ। ইতিমধ্যেই শাহ জানিয়েছেন, আগামী বছর দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি।

  • Amit Shah: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি”, প্রত্যয়ী শাহ

    Amit Shah: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি”, প্রত্যয়ী শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি।” মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথাগুলি বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনদিনের সফরে সোমবার রাতেই কলকাতায় (TMC) এসেছেন তিনি। বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে এ রাজ্যে দলের সাংগঠনিক হালহকিকত বুঝতে বঙ্গ সফরে এসেছেন তিনি। এই সফরে মঙ্গলবার বাংলায় যে এবার বিজেপি আসছে, তা জানিয়ে দিলেন শাহ। তাঁর গলায় ঝরে পড়ল প্রত্যয়।

    জমি দিচ্ছে না রাজ্য (Amit Shah)

    কেন্দ্রীয় সরকার কী কী উন্নয়ন করেছে, এদিন তারও ফিরিস্তি দেন শাহ। তবে তার সবগুলিরই যে রাজ্যের তৃণমূল সরকার বিরোধিতা করেছে, তাও জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে রাজ্য সরকার জমি দিচ্ছে না বলেও অনুযোগ করেন শাহ। তাঁর মতে, সেই কারণেই শেষ করা যাচ্ছে না সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ। তাই বেনো জলের মতো এ রাজ্যে ঢুকে পড়ছে অনুপ্রবেশকারীরা। পুলিশ-প্রশাসন দেখেও নিশ্চুপ। আর বিএসএফ কী করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তিনি বলেন, “অসম এবং ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেও, এ রাজ্যে কেন হচ্ছে না? আসলে বাংলার জনবিন্যাসে বদল আনতেই সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্যের তরফে জমি দেওয়া হচ্ছে না।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলার সীমান্ত দিয়ে যে অনুপ্রবেশ হচ্ছে, তা শুধু বাংলার বিষয় নয়। এটি পুরো দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন। এমন (Amit Shah) মজবুত সরকার এখানে আনুন, যারা এখানে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে।”

    তোলাবাজির প্রসঙ্গ

    তিনি বলেন, “আগে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা হত এই বাংলা থেকেই। আজ তোলাবাজির কারণে এ রাজ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন শিল্পপতিরা (TMC)।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কামানোর অধিকার এখানে রয়েছে একমাত্র ভাইপোর। আর কারও অধিকার নেই। শিল্প ক্ষেত্রে বাংলা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তা আপনার আমলে হয়েছে। বামেরা অর্ধেক শেষ করে গিয়েছিল। আপনি পুরোটা শেষ করে দিয়েছেন।” তিনি বলেন, “আজ মমতার নেতৃত্বে পুরো বাংলার বিকাশ থমকে গিয়েছে। মোদির সব যোজনা পুরো দেশে গরিবের উন্নয়ন করছে, এখানে সিন্ডিকেট চলছে। ১৪ বছর ধরে ভয় ও দুর্নীতি বাংলার পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি সরকারের সঙ্কল্প, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ এর পর যখন বিজেপির সরকার হবে, তখন বাংলার সংস্কৃতি ফেরানোর চেষ্টা করব (Amit Shah)।” তিনি বলেন, “দেশের যেখানে যেখানে এনডিএ, বিজেপির সরকার রয়েছে, সেখানে গরিবদের উন্নয়নকে প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানেও দেব। বন্ধ করব অনুপ্রবেশ। শুধু তাই নয়, অনুপ্রবেশকারীদের ধরে একে একে দেশ থেকে বের করে দেবে বিজেপি (TMC)।”

    কংগ্রেস বিগ জিরো

    বিজেপির সেকেন্ড ইন কমান্ড শাহ বলেন, “ছাব্বিশের বাংলায় বিজেপিরই সরকার হবে। এর মজবুত আধার বিজেপির কাছে রয়েছে। ২০১৪ সালে ১৭ শতাংশ ভোট ও মাত্র ২টি আসন পেয়েছিলাম। পাঁচ বছর পরে আমরাই ৭৭টি আসনে জিতেছি। আর কংগ্রেস বিগ জিরো হয়েছে। বামফ্রন্টও একটাও আসন পায়নি। এ রাজ্যে আমরা প্রধান বিরোধী দল হয়েছি, শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা (Amit Shah)। ২০২৪ সালে ১২টি আসন পেয়েছি। আর ছাব্বিশে প্রচণ্ড বহুমতের সঙ্গে বিজেপির সরকার হবে। ২৪ সালে টানা তৃতীয়বারের জন্য মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার এবং দিল্লিতে বিজেপির সরকার হয়েছে। ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশেও বিজেপি বা এনডিএর সরকার হয়েছে। আমার বিশ্বাস, ছাব্বিশের ভোটেও বাংলায় বিজেপির সরকার হবে।”

    মতুয়াদেরও আশ্বাস

    মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে পাশে নিয়েই শাহ বলেন, “মতুয়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। যাঁরা শরণার্থী হয়ে বাংলায় এসেছেন, তাঁদের ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পারবেন না (TMC)। তাঁদের সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।” শাহ বলেন, “ছাব্বিশ সালের ভোট হবে মূলত অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ভোট।” দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তৃণমূলের একাধিক নেতা ও মন্ত্রীর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। আপনারা বলছেন বাংলায় দুর্নীতি নেই? নিয়োগ দুর্নীতি থেকে পুরসভা পর্যন্ত সর্বত্রই কেলেঙ্কারির ছায়া।”

    মন্দির-মসজিদ রাজনীতি

    মন্দির-মসজিদ রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, “বাংলায় মন্দির-মসজিদের রাজনীতি করছে কে? তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া এক বিধায়ক এবং তৃণমূল নিজে (Amit Shah)।” তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় এটা যে করা ঠিক হয়নি, বাংলার মানুষকে তা বুঝতে হবে।মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্য সরকারকে তোপ দাগেন শাহ। আরজি কর, দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনের ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার বাংলার মানুষকে (TMC) সুশাসন দিতে ব্যর্থ (Amit Shah)।”

LinkedIn
Share