Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Harish Rana Case: ১৩ বছর কোমায় থাকা যুবককে নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি, হরিশ রানা মামলায় ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

    Harish Rana Case: ১৩ বছর কোমায় থাকা যুবককে নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি, হরিশ রানা মামলায় ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া (Passive Euthanasia) বা নিষ্কৃতিমৃত্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা ৩২ বছর বয়সি হরিশ রানাকে (Harish Rana Case) চিকিৎসা প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর ফলে কার্যত ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যু’ (Death with Dignity) পাওয়ার পথ খুলে গেল তাঁর সামনে। আদালতের নির্দেশে এটি দেশের প্রথম প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই রায় দেন বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন–এর বেঞ্চ। আবেগঘন পর্যবেক্ষণে আদালত ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক রায়ের বিভিন্ন দিক আরও স্পষ্ট করে দেয়, যেখানে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়াকে (Supreme Court Passive Euthanasia) আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

    ফিডিং টিউবের মাধ্যমে খাবারও চিকিৎসার অংশ: আদালত

    হরিশ রানা মামলায় (Harish Rana Case) একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন ছিল—ফিডিং টিউবের মাধ্যমে দেওয়া খাবার ও পুষ্টি কি চিকিৎসার অংশ হিসেবে ধরা হবে কি না। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে টিউবের মাধ্যমে দেওয়া পুষ্টি ও জলও চিকিৎসারই অংশ। ফলে যদি প্রাথমিক ও দ্বিতীয় মেডিক্যাল বোর্ড মনে করে যে এই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া রোগীর স্বার্থে নয়, তাহলে তা বন্ধ করা যেতে পারে।

    জীবন ও মৃত্যু নিয়ে আদালতের আবেগঘন পর্যবেক্ষণ

    রায় ঘোষণার (Supreme Court Passive Euthanasia)  সময় বেঞ্চ জীবন ও মৃত্যুর জটিলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে। আদালত মার্কিন ধর্মপ্রচারক হেনরি ওয়ার্ড বিচারের উক্তি উদ্ধৃত করে জানায়— “ঈশ্বর মানুষকে জিজ্ঞেস করেন না সে জীবন গ্রহণ করবে কি না। জীবন গ্রহণ করতেই হয়, প্রশ্ন হল কীভাবে।” এছাড়া উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত ‘To be or not to be’ দ্বিধার কথাও উল্লেখ করেন বিচারপতিরা।

    কী ঘটেছিল হরিশ রানার সঙ্গে

    ২০১৩ সালে একটি বহুতলের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গুরুতরভাবে আহত হন হরিশ রানা (Harish Rana Case)। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি পারসিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেটে (Persistent Vegetative State) চলে যান এবং সম্পূর্ণ কোয়াড্রিপ্লেজিয়ায় (Quadriplegia) আক্রান্ত হন। মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর ঘুম ও জেগে ওঠার চক্র থাকলেও কোনও অর্থপূর্ণ নড়াচড়া বা প্রতিক্রিয়া নেই। দুর্ঘটনার পর থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বসানো ফিডিং টিউবের সাহায্যে তাঁকে খাবার দেওয়া হচ্ছিল।

    আদালতের দ্বারস্থ হন বাবা-মা

    বছরের পর বছর কোনও উন্নতি না হওয়ায় হরিশ রানার (Harish Rana Case) বাবা-মা আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের দাবি ছিল, তাঁদের ছেলে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে এবং এই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার আর কোনও বাস্তব উপকার নেই। সব দিক বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট চিকিৎসা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয় (Supreme Court Passive Euthanasia)।

    গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

    রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন মৃত্যু নয়, বরং চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া রোগীর সর্বোত্তম স্বার্থে কি না। আদালতের মতে, যতক্ষণ চিকিৎসা রোগীর উপকারে আসে ততক্ষণ তা চালিয়ে যাওয়া চিকিৎসকদের দায়িত্ব। কিন্তু যখন চিকিৎসা কেবলমাত্র আরোগ্যের কোনও সম্ভাবনা ছাড়াই জৈবিক জীবন দীর্ঘায়িত করে, তখন সেই চিকিৎসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে ভারতে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া সংক্রান্ত মামলাগুলিতে (Supreme Court Passive Euthanasia)  গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাবে। বিশেষ করে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে, যাঁরা দীর্ঘদিন ভেজিটেটিভ স্টেটে থেকে শুধুমাত্র চিকিৎসা প্রযুক্তির সাহায্যে বেঁচে আছেন, সেখানে এই রায় একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করল।

  • India Nepal Relation: “ভারত ও নেপালের সম্পর্ককে নয়া উচ্চতায় পৌঁছবে” প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন বলেন্দ্র শাহ

    India Nepal Relation: “ভারত ও নেপালের সম্পর্ককে নয়া উচ্চতায় পৌঁছবে” প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন বলেন্দ্র শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে নতুন সূর্যোদয়। এতদিন ধরে ক্ষমতার রাশ ধরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলিকে কার্যত ধুয়ে মুছে দিয়েছে নেপালের (India Nepal Relation) নয়া রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। প্রায় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছেন নেপালের জেন-জি মুখ বালেন শাহ (Balen Shah To PM Modi)। নেপালের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ৩৫ বছরের বলেন্দ্র। তাঁর জয় কার্যত নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার বলেন্দ্রকে ফোন করে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টির নেতা, বলেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তার শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের জন্য শাহ ভারত ক্রিকেট দলকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    ভারতকে অভিনন্দন বালেন শাহ-র

    প্রধানমন্ত্রী মোদির অভিনন্দন জানিয়ে লেখা পোস্টের জবাবে শাহ লিখেছেন, “শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ। আমি আমার আস্থা প্রকাশ করছি যে আমরা আগামী দিনে নেপাল ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক, ঘনিষ্ঠ এবং বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী, গভীর এবং আরও ফলাফলমুখী করার জন্য একসঙ্গে কাজ করব।” টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ভারতকে অভিনন্দন জানিয়ে শাহ বলেন, টানা দুইবার সফলভাবে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের জন্য ভারত সরকার এবং ভারতীয় জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন। এর আগে, সোমবার প্রধানমন্ত্রী মোদি বালেনের পাশাপাশি আরএসপির চেয়ারম্যান রবি লামিছানের সঙ্গেও কথা বলেন। সেই ফোনালাপের কথা এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। লেখেন, “আরএসপির চেয়ারম্যান রবি লামিছানে এবং অন্যতম নেতা বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা হয়েছে। জয়ের জন্য দু’জনকেই অভিনন্দন জানিয়েছি। নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি আমরা দুই দেশের পারস্পরিক সমৃদ্ধি, অগ্রগতি এবং কল্যাণের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি নিশ্চিত আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা আগামী বছরগুলিতে ভারত ও নেপালের সম্পর্ককে নয়া উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।”

    নেপালের জেন-জি মুখ বালেন শাহ

    উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন জি আন্দোলনের জেরে ওলি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। বিভিন্ন স্তরে আলাপ-আলোচনা শেষে সে দেশের নির্বাচন কমিশন ৫ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে। সেইমতো বৃহস্পতিবার নেপালে ১৬৫টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। লড়াইয়ে ছিল ৬৫টি রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে এবারের নির্বাচনে কোনও দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সন্দেহ ছিল। কেউ ভাবতে পারেননি প্রাক্তন র‍্যাপার বালেন শাহের নেতৃত্বে নবগঠিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) সংসদীয় নির্বাচনে প্রথম সারির প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হবে। কিন্তু সেটাই হতে চলেছে। কারণ, নেপালের জেন জি-র বড় অংশের পছন্দ ছিলেন বালেন শাহ। কমিশনের রিপোর্ট বলছে, ১৬৫ আসনের মধ্যে ১২৫ আসনে জয় পেয়েছে আরএসপি। ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল ৮টি আসন জয়ের পথে। নেপালি কংগ্রেসও দুই অঙ্ক পার করতে পারেনি।

  • Early Diabetes: কৈশোর পেরিয়েই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন ভারতীয় মহিলারা! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    Early Diabetes: কৈশোর পেরিয়েই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন ভারতীয় মহিলারা! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভারতে বাড়ছে ডায়াবেটিসের বোঝা! আর গত কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। কৈশোর পার করার পরেই ভারতীয় মেয়েদের শরীরে ডায়াবেটিস হানা দিচ্ছে। আর সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থাকাই, ভারতীয় মহিলাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। আগামী কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলাদের সুস্থ জীবন যাপনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে উঠবে ডায়াবেটিস। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক অসংক্রমিত রোগের তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছে ডায়াবেটিস। এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ১০ কোটি মানুষ টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ১৫ বছরের উর্ধ্বে ভারতীয় মহিলাদের প্রায় ৫ শতাংশ ডায়াবেটিস আক্রান্ত। ভারতে মোট মহিলা মৃত্যুর ৫ শতাংশ ডায়াবেটিসের কারণে মারা যান। ভারতীয় গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে প্রায় ১৬ শতাংশের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। অর্থাৎ পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, এ দেশে মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। যা আগামী প্রজন্মের জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই এই রোগে আক্রান্ত হলে পরবর্তী জীবনে একাধিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। সুস্থ জীবন যাপনের পথে অন্তরায় হয়ে ওঠে।

    কেন ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের জীবন যাপন ও খাদ্যাভ্যাসের ধরনের জেরেই ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের শারীরিক কার্যকলাপ কমছে। অর্থাৎ নিয়মিত পর্যাপ্ত সময় ব্যায়াম করা, যোগাভ্যাস করা কিংবা নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস থাকছে না। এর ফলে স্থুলতা বাড়ছে। তাছাড়া চটজলদি প্যাকেটজাত খাবারে অনেকেই কম বয়স থেকেই অভ্যস্থ হয়ে উঠছে। এর ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। হরমোন ঘটিত ভারসাম্যের অভাব দেখা দিচ্ছে। এগুলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    মহিলাদের ডায়াবেটিস চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, রোগ নির্ণয় না হওয়া। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় মহিলার ডায়াবেটিস পরীক্ষা হয় না। ফলে, তিনি আক্রান্ত কিনা সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না। তাই রোগের চিকিৎসাও হয় না। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের একাংশ গর্ভবতী হওয়ার পরে জানতে পারেন, তিনি ডায়াবেটিস আক্রান্ত! এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, “অনেকক্ষেত্রে হয়তো মহিলা বয়ঃসন্ধিকাল থেকে ডায়াবেটিস আক্রান্ত। কিন্তু সে রোগ সম্পর্কে জানেন না। কারণ তাঁর কোনো পরীক্ষা হয়নি। গর্ভবতী হওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা হওয়ার জন্য তিনি পরীক্ষা করে রোগ সম্পর্কে জানতে পারলেন। ফলে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। চিকিৎসাও জটিল হয়ে যায়! ” চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকালে একাধিক লক্ষণ ডায়াবেটিস আক্রান্ত জানান দেয়। কিন্তু সে সম্পর্কে সজাগ না থাকলে বিপদ বাড়ে!

    কীভাবে ডায়াবেটিসের প্রকোপ কমাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের দীর্ঘ সুস্থ জীবন‌ যাপনের জন্য নিয়মিত ডায়বেটিস পরীক্ষা করানো জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, বয়স ২৫ পার হলেই ভারতীয় মহিলাদের বছরে অন্তত একবার রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। রোগ নির্ণয় হলে তবেই চিকিৎসা সম্ভব। তাছাড়া প্রথম থেকেই নিয়মিত শারীরিক কসরতের দিকে নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষত শহুরে মেয়েদের শারীরিক কসরতের সুযোগ কমছে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে এক ঘণ্টা যোগাভ্যাস কিংবা হাঁটার মতো এমন কিছু কার্যকলাপ করা জরুরি, যাতে ক্যালোরি ক্ষয় হয়। খাদ্যাভাসের ক্ষেত্রেও সুষম আহারের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। পেট ভরানোর জন্য অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত বা রুটি খাওয়া নয়। ভাত-রুটির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রেখে সব্জি, ডাল, প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া দরকার। বাড়ির তৈরি খাবার খেলে তবেই শরীরের একাধিক রোগের ঝুঁকি কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • T20 World Cup 2026: ‘যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন’ বললেন আফ্রিদি, ‘মেনে নিন ভারত এক নম্বর’, নিন্দকদের একহাত মিঁয়াদাদের

    T20 World Cup 2026: ‘যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন’ বললেন আফ্রিদি, ‘মেনে নিন ভারত এক নম্বর’, নিন্দকদের একহাত মিঁয়াদাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও ষড়যন্ত্র নয়, যোগ্য দল হিসেবেই টি-২০ বিশ্বকাপ জয় করেছে ভারত, মেনে নিল পাকিস্তান। বরাবর ভারতীয় দল নিয়ে তিক্ত মন্তব্য করেছেন তিনি। কখনও বয়কট নিয়ে, কখনও সাফল্য ঘিরে—বিসিসিআই কিংবা টিম ইন্ডিয়া—কাউকেই রেয়াত করেননি পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদি। বারবার মুখ খুলেছেন৷ আলগা মন্তব্য করেছেন৷ যার জেরে কমার বদলে বিতর্ক বেড়েছে কয়েক গুণ৷ এবার অপ্রত্যাশিতভাবে অতীতের এই জের মুছে ফেললেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক। মেনে নিলেন ভারতীয় দলের কর্তৃত্ব৷

    ভারতীয় দলের প্রশংসায় আফ্রিদি

    ক্রিকেট দুনিয়ায় এক নয়া ইতিহাস কায়েম করেছে ভারতীয় দল। পরপর ২ বার তারা টি-২০ বিশ্বকাপের (ICC T20I World Cup 2026) খেতাব জয় করেছে। ২০২৪ সালে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর গত রবিবার (৮ মার্চ) জিতল নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) নেতৃত্বে টিম ইন্ডিয়া ৯৬ রানে জয়লাভ করে। এরপরই দ্ব্যর্থহীন গলায় আফ্রিদি জানালেন, যোগ্য টিম হিসেবেই টি-২০ বিশ্বকাপ খেতাব ঘরে তুলেছে সূর্য বাহিনী। টুর্নামেন্টের আগাগোড়া নিখুঁত ক্রিকেট খেলে যারা, চ্যাম্পিয়ন হওয়া তাদেরই সাজে! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ‘ইতিবাচক’ ও ‘প্রশস্তিমূলক’ বক্তব্যে ভারতের গুণ গেয়েছেন আফ্রিদি। যা স্বাভাবিকভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার ইন্ধন জুগিয়েছে৷

    অন্যতম সেরা বোলার বুমরা

    এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা ভিডিয়োতে আফ্রিদি (Shahid Afridi) বলেন, ‘বিশ্বকাপ শেষ। ভারত শিরোপার যোগ্য দল। কম্বিনেশন দুর্দান্ত। বেঞ্চে যারা বসে ছিল, তারাও প্রথম একাদশে খেলার উপযুক্ত। আমি এই কারণেই বলে থাকি, বেঞ্চ শক্তিশালী হওয়া খুবই জরুরি! গোটা টুর্নামেন্টটাই ভারত চ্যাম্পিয়নের মতো খেলেছে!’ আর সবার পাশাপাশি সঞ্জু স্যামসনের (Sanju Samson) আলাদা করে প্রশংসা করেছেন আফ্রিদি। বললেন, ‘সুযোগ পেয়েছে, কাজে লাগিয়েছে। বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং, ইনিংস গড়ার ক্ষমতা—অসাধারণ!’ এ ছাড়া অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষাণেরও (Ishan Kishan) সুখ্যাতি শোনা গেল। জসপ্রীত বুমরা (Jasprit Bumrah) প্রসঙ্গে মন্তব্য, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বোলিংয়ের মেরুদণ্ড। নতুন বল, পুরনো বল, স্লোয়ার, ইয়র্কার—সব পরিস্থিতিতেই সফল। আমার মতে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার।’

    কেন হোঁচট খাচ্ছে পাকিস্তান?

    আফ্রিদির মতো প্রাক্তন পাক অধিনায়ক রশিদ লতিফও (Rashid Latif) ভারতের জয়কে ‘অপ্রত্যাশিত’ মনে করছেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘বড় ইভেন্টের ফাইনালে বারবার যখন খেলতে হয়, তখন চাপ সামলানোটা অভ্যেসে পরিণত হয়। ভারতের খেলোয়াড়রা সেটাই করে দেখিয়েছেন!’ পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, টিম ইন্ডিয়ার সাফল্যের পেছনে রয়েছে ধারাবাহিকতা ও স্থিরতা। বারবার দল বদল, অধৈর্য সিদ্ধান্ত—এই ফাঁদে পা না দেওয়া। পাকিস্তান ঠিক এই জায়গাতেই বারবার হোঁচট খেয়েছে বলে মনে করেন লতিফ।

    ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো বন্ধ করা উচিত

    সূর্য-ব্রিগেডের এই সাফল্যের পর পাকিস্তানের কয়েকজন প্রাক্তন ক্রিকেটার ভারতের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেছেন, অযথা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর বদলে পাকিস্তানের উচিত ভারতের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া। কিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার মুহাম্মদ ওয়াসিম বলেন, “ভারত যখন বড় টুর্নামেন্টে ভালো খেলে বা আমাদের হারায়, তখন আমরা অনেক সময় অজুহাত খুঁজি এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াই। এটা বন্ধ করা দরকার। আমাদের মেনে নিতে হবে যে ভারত খুবই শক্তিশালী দল এবং নিজেদের উন্নতির জন্য আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।”

    ভারতের ক্রিকেট কাঠামোর প্রশংসা

    শুধু ওয়াসিমই নন, পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটার জাভেদ মিয়াঁদাদও ভারতের ক্রিকেট কাঠামোর প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, শক্তিশালী ও প্রক্রিয়াভিত্তিক ক্রিকেট ব্যবস্থার ফলই আজ পাচ্ছে ভারত। মিয়াঁদাদ বলেন, “ভারতের ক্রিকেট কাঠামো খুবই শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত। সেই কারণেই তারা নিয়মিতভাবে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরি করছে। তাদের দলে ব্যাটার, স্পিনার বা পেসারের কোনো অভাব নেই। নতুন ক্রিকেটাররা ফলাফলমুখী এবং ম্যাচ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন।” তিনি আরও বলেন, “এক সময় পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমেও এমন পরিবেশ ছিল, যার ফলে আমরা নিয়মিত জিততাম।”

    ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন

    টি-২০ ক্রিকেটে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আবারও প্রমাণ করেছে ভারত। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতে নেয় তারা এবং টি-২০ বিশ্বকাপে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রথম দল হিসেবে ইতিহাস গড়ে। তবে ভারতের এই সাফল্যে প্রথমে প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে দেখা দেয় হতাশা, যা ফুটে উঠেছে দুই দেশের কয়েকজন প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটারের মধ্যেও। আসলে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এই দুই দেশকে ঘিরে। রাজনৈতিক কারণে ভারতে এসে খেলতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ (Bangladesh)। অন্যদিকে পাকিস্তানের (Pakistan) তরফেও ভারত-বিরোধিতার সুর শোনা গিয়েছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে নেমে হারের মুখই দেখতে হয় পাকিস্তানকে। আর এবার ভারতের বিশ্বজয়ের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার শোয়েব আখতার (Shoaib Akhtar)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ব্যাপারটা এমন হয়েছে, যেন পাশের বড়লোক বাড়ির ছেলে গরিব ছেলেকে ডেকে বলছে—আয় ক্রিকেট খেলবি। ভারত সেই বখাটে ছেলের মতো করছে। প্রথমে চারজনকে ডাকবে, তারপর তিনজনকে ডাকবে। সব শেষে বলবে দেখ, জিতে গেলাম। ওরা ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দিয়েছে।”

    শিয়া কাপের ট্রফি আটকে রেখেছে, বিশ্বকাপ! 

    প্রাক্তন পাকিস্তানি পেসার মহম্মদ আমির (Mohammad Amir) বিশ্বকাপের আগে থেকেই দাবি করে আসছিলেন, ভারত চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না। কিন্তু ভারতের জয় সেই ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করেছে। এরপর কিছুটা বিরক্ত সুরে আমির বলেন, “ওরা জিতেছে। ঠিক আছে। ট্রফি ওরাই ঘরে নিয়ে যাবে। আমার বাড়িতে তো নিয়ে আসব না।” তবে আপনাদের অনেকেরই হয়ত মনে আছে, ২০২৫ সালে এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025) খেলতে নেমেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন করা হয়। সেই ম্য়াচে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে দুরমুশ করেছিল সূর্য অ্যান্ড কোম্পানি। কিন্তু, আজ পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট দলের হাতে সেই ট্রফি দেওয়া হয়নি। আসলে ম্য়াচ শুরু হওয়ার আগেই টিম ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi) হাত থেকে তারা ট্রফি গ্রহণ করবেন না। কারণ, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানও তিনি। কিন্তু, ভারতীয় ক্রিকেট দলের সেই যুক্তিকে পাত্তা দেয়নি এসিসি। চ্যাম্পিয়ন হয়েও এখনও ট্রফি পায়নি ভারত। ইতিমধ্যে আবার ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ খেতাব জয় করল টিম ইন্ডিয়া। এশিয়া কাপের তুলনায় বিশ্বকাপের মর্যাদা যে অনেকটাই বেশি, সেটা আর আলাদা করে বলে দেওয়ার দরকার পড়ে না। ফলে গোটা বিষয়টা নিয়েই ক্রিকেট বিশ্বে এখন রীতিমতো হাসাহাসি শুরু হয়েছে।

  • SIR in Bengal: বাংলার ভোটারদের আপিল শুনবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল! এসআইআর মামলায় সুপ্রিম-নির্দেশ

    SIR in Bengal: বাংলার ভোটারদের আপিল শুনবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল! এসআইআর মামলায় সুপ্রিম-নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও বৈধ ভোটার বাদ যাবে না। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মামলায় কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট ৷ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ জানিয়ে দিল, যেসব আবেদন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাতিল হয়েছে, সেই আপিল শুনতে একটি বিশেষ অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে ৷ আর এই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে থাকবেন একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং কয়েকজন প্রাক্তন বিচারপতি। একই সঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আগাম পিটিশনে বিরক্তিও প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

    আগাম পিটিশন ভুল বার্তা

    মঙ্গলবার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে বললেন, আগাম পিটিশন ভুল বার্তা দেবে। একইসঙ্গে আইনজীবী তথা তৃণমূলের সদ্য জয়ী রাজ্যসভার সাংসদ গুরুস্বামীকে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আগাম পিটিশনের মাধ‍্যমে বার্তা যাচ্ছে, আপনারা সিস্টেমে ভরসা রাখতে পারছেন না।” পিটিশন ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যও গুরুস্বামীকে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর কথায়, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ১০ লক্ষ কাজ হয়ে গিয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসারদের কোনও প্রশ্নের মুখে ফেলবেন না, আমি কড়াভাবে বলছি।” এর পরই ‘সুপ্রিম’ ভরসা দিয়ে তিনি বলেন, “জুডিশিয়াল অফিসাররা কাজ করছেন। যাঁরা জেনুইন, তাঁদের যুক্ত করা হবে।” রাজ্যের নতুন আবেদনে বিরক্তি প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এই পিটিশন প্রিম‍্যাচিওর।” পিটিশন প্রত্যাহার করে নিতে গুরুস্বামীকে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। তিনি জানান, ভোটের আগে এই কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এদিন অবশ্য বলে, “আমরা প্রয়োজনে এই আবেদনের প্রেক্ষিতে অবমাননার নোটিস দিতে পারি। যে পরিস্থিতি এসেছে, তাতে আমরা সব পক্ষকে সন্দেহের আওতায় রাখছি।” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসাররা অমীমাংসিতের তালিকা খতিয়ে দেখছে। এদিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, “রাজ‍্য ও নির্বাচন কমিশনকে সবরকমভাবে জুডিশিয়াল অফিসারদের সাহায‍্য করতে হবে। যখন জুডিশিয়াল অফিসারদের লগ-ইন আইডি লাগবে, তখনই ইসিআইকে তার ব‍্যবস্থা করে দিতে হবে।”

    একাধিক নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    রাজ্যের এসআইআর মাময়ায় একাধিক নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত ৷ প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি মহাদেবনের বেঞ্চ এদিন নির্দেশে জানিয়েছেন, ১০ লক্ষের বেশি নামের নিস্পত্তি হয়ে গেলেও অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে ৷ লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সিতে নিস্পতি হওয়া ভোটারদের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের বিষয়ে কমিশন এবং রাজ্য দু’পক্ষই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানাতে পারবে ৷ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে; তাঁদের বিষয়ে আপিল জানাতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা অন্যান্য বিচারপতি বা পাশ্ববর্তী রাজ্যের হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিদের নিয়ে বেঞ্চ গঠন করতে ৷ বেঞ্চ এ বিষয়ে নিস্পত্তি করবে ৷ বেঞ্চে কতজন করে সদস্য থাকবে, তা স্থির করবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ৷ এদের নিয়োগের সমস্ত খরচ নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে ৷ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য হবে নির্বাচন কমিশন ৷

  • BrahMos Deal: দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিংকে রোখাই উদ্দেশ্য! ভারত থেকে ব্রহ্মস কিনছে ইন্দোনেশিয়া, চুক্তি স্বাক্ষর

    BrahMos Deal: দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিংকে রোখাই উদ্দেশ্য! ভারত থেকে ব্রহ্মস কিনছে ইন্দোনেশিয়া, চুক্তি স্বাক্ষর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে প্রায় এক দশক ধরেই কাজ করছে ভারত। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি কমিয়ে, দেশেই প্রয়োজনীয় অস্ত্র উৎপাদন হচ্ছে বলে বারবার জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। শুধু অস্ত্র তৈরিতে স্বনির্ভরতাই নয়, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানিতেও মোদি সরকারের আমলে কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে ভারত। অস্ত্রের বাজারে বাড়ছে ভারতের ‘ব্রহ্মস’ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা। এ বার ভারতের থেকে সেই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয় চূড়ান্ত করে ফেলল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত জানিয়েছেন, ‘ব্রহ্মস’ কেনার ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে একটা চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে ইন্দোনেশিয়া।

    ২০ থেকে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি

    এক সূত্রের দাবি, ২০ থেকে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি সই হয়েছে দু’দেশের মধ্যে। যদিও রিকো এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেননি। রিকার্ডো জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বিশেষত সমুদ্রপথে আধুনিকীকরণের অংশ। রিকার্ডো সিরাইত জানিয়েছেন ব্রহ্মস কেনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি তাঁদের সমরাস্ত্র সম্ভার ও প্রতিরক্ষা শক্তিকে সমৃদ্ধ করবে। তাঁর কথায়, এই চুক্তিটি ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর সামরিক হার্ডওয়্যার এবং প্রতিরক্ষা ক্ষমতার আধুনিকীকরণের অংশ। যদিও তিনি চুক্তির মোট মূল্য জানাতে রাজি হননি। ব্রহ্মস এবং ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও একটি দেশ ‘ব্রহ্মস’ নিয়ে চুক্তি করে ভারতের সঙ্গে। ২০২২ সালে ফিলিপিন্সের সঙ্গে ৩৭ কোটি ৪০ লক্ষ আমেরিকার ডলারের চুক্তি হয় ভারতের। ২০২৪ সালে সেই ডেলিভারিও হয়ে যায়। যা পাওয়ার পর ফিলিপিন্স সেনার তরফে ভারত থেকে আগামী দিনে আরও এমন সমরাস্ত্র কেনার কথা জানানো হয়েছিল। এবার ফিলিপিন্সের পর ইন্দোনেশিয়া হল দ্বিতীয় দেশ যারা ভারত থেকে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি করল।

    প্রচণ্ড গতি সম্পন্ন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র

    ব্রহ্মস একটি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। যা ভারতীয় সমরাস্ত্রের অন্যতম ভরসা। ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়ার যৌথ উদ্যোগে গঠিত। ব্রহ্মস নামটি দু’টি নদীর নাম থেকে তৈরি ব্রহ্মপুত্র (ভারত) এবং মস্কোভা (রাশিয়া)। এটি শব্দের প্রায় ২.৮ থেকে ৩ গুণ গতিতে ভ্রমণ করে। যার ফলে বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এটিকে আটকানো প্রায় অসম্ভব। এখানে বলে রাখা দরকার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হল এমন এক ক্ষেপণাস্ত্র যা মাটির কাছাকাছি দিয়ে উড়ে যায়। প্রচণ্ড গতি সম্পন্ন। মাটির কাছ দিয়ে ওড়ায় তাকে রেডারে ধরা মুশকিল। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি নয়াদিল্লির ‘ব্রহ্মস’ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের তিনটি মূল শ্রেণি রয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং স্থলে থাকা লঞ্চার থেকে একে শত্রুর উপর ছুড়তে পারে সেনা। এর নির্মাণকারী সংস্থার নাম ‘ব্রহ্মস এরোস্পেস লিমিটেড’। ক্ষেপণাস্ত্রটি সাধারণ বোমা থেকে পারমাণবিক বোমা নিয়ে উড়ে যেতে পারে। এটি ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ নীতিতে কাজ করে যার সার্কুলার এরর প্রবাবিলিটি (CEP) মাত্র ১ মিটার। এর পাল্লা ২৯০ কিমি। যা ৪৫০ থেকে ৮০০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

    কেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি ‘ব্রহ্মস’-এ আগ্রহী

    কেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি তাদের অস্ত্রভান্ডারে ‘ব্রহ্মস’ ক্ষেপণাস্ত্র রাখতে চাইছে? দক্ষিণ চিন সাগরের একটি কাল্পনিক সামুদ্রিক রেখা হল বেজিংয়ের ‘নাইন-ড্যাশ লাইন’। এই রেখার মধ্যে পড়ছে একাধিক দ্বীপ এবং দেশ। কাল্পনিক রেখাটির উপরে থাকা সমস্ত এলাকাকেই নিজেদের বলে দাবি করে বেজিং। ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের সঙ্গে চিনের সীমান্ত সংঘাত লেগেই থাকে। এই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার জন্য ভারতের ‘ব্রহ্মস’ ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর হবে বলে মনে করছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সেনাকর্তারা। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের যুদ্ধর সময় “অপারেশন সিঁদুর”-এ ভারত ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছিল বলে সূত্রের দাবি।

    অনেকদিন ধরেই চলছে পরিকল্পনা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়া সম্ভবত ব্রহ্মসের নৌবাহিনীর সংস্করণে আগ্রহী। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মুহাম্মদ আলি (Muhammad Ali) ভারতে এসে ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের কারখানা পরিদর্শন করেন। এর আগে ২০১৮ সালেই ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের একটি দল সুরাবায়ার শিপইয়ার্ডে গিয়ে ইন্দোনেশিয়ার যুদ্ধজাহাজে এই ক্ষেপণাস্ত্র বসানো সম্ভব কি না তা পরীক্ষা করে দেখেছিল। এছাড়া ভারত ইন্দোনেশিয়াকে আরও কয়েকটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে, যেমন— উপকূলীয় প্রতিরক্ষা রেডার, সামুদ্রিক যানের ইস্পাত, রুশ নির্মিত সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান সার্ভিসিং।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত

    এক সময়ে ভারত অস্ত্র বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আমদানিতে প্রথম সারিতে ছিল। মূলত রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল ছিল ভারত। হেলিকপ্টার, ব্রহ্মস মিসাইল, সাবমেরিন, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম রাশিয়া থেকে পেয়েছে ভারত। রাশিয়াকে বাদ দিলে ফ্রান্স থেকেও বিপুল পরিমাণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে ভারত। সম্প্রতি আমেরিকা থেকেও অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে ভারত। তবে গত এক দশকে আমদানির ছবিটা ক্রমশ বদলে গিয়েছে। এই সেক্টরে ক্রমশ আমদানি কমিয়েছে ভারত। গত এক দশকে অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি প্রায় ৩০ গুণ বাড়িয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্লোগানে ভর করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ভারত ক্রমশ ‘আত্মনির্ভর’ হয়ে উঠছে দেশ। একসময়ে বিশ্বের উন্নত দেশগুলির অস্ত্রের জন্য মুখাপেক্ষী থাকা ভারত বর্তমানে বিশ্বের ৯০টি দেশকে অস্ত্র বিক্রি করছে। বেসরকারি অর্থানুকুল্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনও বাড়ছে দ্রুত গতিতে। মূলত আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি ভারতীয় অস্ত্রের ক্রেতা। ফিলিপিন্সের সঙ্গে সম্প্রতি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের চুক্তি করেছে ভারত।

  • Indian Army: অবসর নিচ্ছেন বর্তমান জিওসি-ইন-সি, এপ্রিল থেকে সেনা ইস্টার্ন কমান্ডের দায়িত্বে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণন

    Indian Army: অবসর নিচ্ছেন বর্তমান জিওসি-ইন-সি, এপ্রিল থেকে সেনা ইস্টার্ন কমান্ডের দায়িত্বে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পরিবর্তন হবে। এই রদবদলের ফলে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের নেতৃত্ব বদলাবে এবং নতুন করে নিয়োগ হবে ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ পদে।

    সেনা উপ-প্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ

    বর্তমানে পুনে-স্থিত সেনার সাদার্ন কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ (Lt Gen Dhiraj Seth) আগামী ১ এপ্রিল থেকে নয়াদিল্লিতে ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ (VCOAS) হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। এই পদটি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চিফ অফ আর্মি স্টাফের (সেনাপ্রধান) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ। ভাইস চিফের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর অপারেশনাল পরিকল্পনা, আধুনিকীকরণ, নীতি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন ফরমেশনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা। পাশাপাশি সামরিক কমান্ড ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    আর্মার্ড কোরের অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেঠ আর্মার্ড কোরের অফিসার এবং তিনি ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪-এর জুলাইতে সাদার্ন কমান্ডের প্রধান হওয়ার আগে তিনি মথুরায় অবস্থিত সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইক ফোর্স ২১ স্ট্রাইক কোরের কমান্ডার ছিলেন। এছাড়াও তিনি অতীতে একটি স্বতন্ত্র আর্মার্ড ব্রিগেড, একটি আর্মার্ড ডিভিশন, এবং দিল্লি এরিয়া-র কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছেন। কর্মজীবনের শুরুর দিকে তিনি অ্যাঙ্গোলায় রাষ্ট্রসংঘ মিশনে মিলিটারি অবজারভার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ খড়্গওয়াসলার ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির প্রাক্তনী। পাশাপাশি তিনি ওয়েলিংটনের ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ, নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এবং অস্ট্রেলিয়ার এআইসিএসসি-তে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

    ওয়েস্টার্ন কমান্ডের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুষ্পেন্দ্র সিং

    এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওয়েস্টার্ন কমান্ডেও নতুন কমান্ডার আসছেন। বর্তমান ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুষ্পেন্দ্র সিং (Lt Gen Pushpendra Singh) আগামী ১ এপ্রিল থেকে ওয়েস্টার্ন আর্মি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। তিনি এই পদে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ কুমার কাটিয়ারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। চণ্ডীমন্দিরে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন কমান্ড পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার সামরিক প্রস্তুতি এবং অপারেশন পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুষ্পেন্দ্র সিং এলিট প্যারাশুট রেজিমেন্ট (প্যারা) স্পেশাল ফোর্সেস থেকে উঠে আসা অফিসার। স্পেশাল ফোর্সেস থেকে খুব কম সংখ্যক অফিসারই কখনও একটি আর্মি কমান্ডের নেতৃত্ব পেয়েছেন। ভাইস চিফের পদ থেকে কমান্ডে যাওয়াকে পদাবনতি হিসেবে মনে হলও, আদতে তা নয়। সেনায় বিষয়টি সেভাবে দেখা হয় না। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী, শীর্ষ পদে ওঠার আগে সিনিয়র অফিসারদের স্টাফ ও ফিল্ড কমান্ড—দু’ধরনের অভিজ্ঞতা দেওয়া হয়।

    ইস্টার্ন কমান্ডে নতুন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণন

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে ইস্টার্ন কমান্ডে। বর্তমানে সেনা সদর দফতরে কোয়ার্টারমাস্টার জেনারেল হিসেবে কর্মরত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণন (Lt Gen VMB Krishnan) আগামী ১ এপ্রিল থেকে ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ (জিওসি-ইন-সি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। কলকাতায় সদর দফতর থাকা ইস্টার্ন কমান্ড চিনের সঙ্গে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC)-এর পূর্বাঞ্চলীয় অংশ— বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিমের সামরিক পরিস্থিতি সামলায়। পাশাপাশি এই কমান্ড মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্ত এবং গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও অপারেশন তদারকি করে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল কৃষ্ণন এর আগে ১৭ কোরের কমান্ডার ছিলেন, যা চিন সীমান্তে অপারেশনের জন্য গঠিত সেনাবাহিনীর মাউন্টেন স্ট্রাইক ফরমেশন। এছাড়া তিনি সেনা সদর দফতরে ডিরেক্টর জেনারেল অব ইনফরমেশন টেকনোলজি হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাম চন্দর তিওয়ারির স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং চলতি মাসেই অবসর নিতে চলেছেন।

    সাদার্ন কমান্ডে নতুন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সন্দীপ জৈন

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ সেঠ দিল্লিতে যাওয়ায় সাদার্ন কমান্ডের নতুন প্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সন্দীপ জৈন (Lt Gen Sandeep jain)। বর্তমানে তিনি সাদার্ন কমান্ডের চিফ অব স্টাফ হিসেবে কর্মরত। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জৈন এতদিন পর্যন্ত কমান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে ছিলেন এবং অপারেশনাল ও প্রশাসনিক কাজকর্মে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁকে আর্মি কমান্ডার পদে উন্নীত করা ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোর স্বাভাবিক অগ্রগতিরই প্রতিফলন। এর আগে তিনি অম্বালায় অবস্থিত ২ কোর, যা খড়্গ কোর নামেও পরিচিত, তার কমান্ডার ছিলেন। এটি পশ্চিম সীমান্তে সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইক ফরমেশন। পুনে-ভিত্তিক সাদার্ন কমান্ড উপদ্বীপীয় ভারতের বিভিন্ন সামরিক গঠন ও ইউনিটের তত্ত্বাবধান করে। উত্তরাঞ্চলের কমান্ডগুলির তুলনায় এই অঞ্চলে সরাসরি সীমান্ত উত্তেজনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও, প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক অবকাঠামো, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং কৌশলগত রিজার্ভ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাদার্ন কমান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক রদবদল নয়। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সামরিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই নতুন নেতৃত্ব সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

  • T20 World Cup 2026: “দারুণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আইসিসি ও আমার বন্ধু জয় শাহকে অভিনন্দন” বার্তা ফিফা সভাপতির

    T20 World Cup 2026: “দারুণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আইসিসি ও আমার বন্ধু জয় শাহকে অভিনন্দন” বার্তা ফিফা সভাপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ-পাকিস্তান বোর্ডের তরফে হাজারো বিতর্ক সৃষ্টির পরেও সফল আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026)। চ্যাম্পিয়ন ভারত (Team India)। পর পর দু’বার, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। রবিবার সূর্যকুমার যাদবের দল ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৪ সালে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ট্রফি জিতেছিল ভারত। তার পর ফের বিশ্বসেরা টিম সূর্য। ক্রীড়া জগতে আইসিসি তথা ভারতের সাফল্যকে কুর্নিশ করছেন সকলেই। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকে আইসিসি পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ সফলভাবে আয়োজন করার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    ভারতীয় দলের জার্সি হাতে ছবি শেয়ার

    নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভারতীয় দলের জার্সি হাতে একটি ছবি শেয়ার করে ইনফান্তিনো আইসিসি এবং জয় শাহকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় ক্রিকেট দলকেও রেকর্ড তৃতীয় টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। ইনফান্তিনো লিখেছেন, “আরেকটি দারুণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আইসিসি এবং আমার বন্ধু জয় শাহকে অভিনন্দন। আরেকটি শিরোপার জন্য ভারতকে অনেক অভিনন্দন। তোমাদের অসাধারণ দেশটি পরিদর্শন করার পর আমি জানি, এটি তোমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।” উল্লেখ্য, রবিবার আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে পরাজিত করে টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ জয় করে। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত প্রথম দল হিসেবে ঘরের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ জেতে এবং টানা দু’বার (২০২৪ ও ২০২৬) শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে। এছাড়া ভারতই প্রথম দল যারা তিনবার (২০০৭, ২০২৪ ও ২০২৬) টি-২০ বিশ্বকাপ জয় করল।

    দুই জনপ্রিয় খেলার মেলবন্ধন

    এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ইতালির মিলানে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং জয় শাহের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়। বিশ্বের দুই জনপ্রিয় খেলাধুলা—ফুটবল ও ক্রিকেটের প্রশাসনিক প্রধানদের এই সাক্ষাৎকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়। সেই সময় ইনফান্তিনো সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে জয় শাহের ক্রিকেটের উন্নয়নে অবদানের প্রশংসা করেন এবং ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তনের জন্য শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি তিনি খেলাধুলার মাধ্যমে বিশ্বকে একত্রিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে সহযোগিতার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

  • Assembly Election 2026: “ভোটের সময় বাংলায় এত হিংসা কেন?” রাজ্যকে প্রশ্ন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের

    Assembly Election 2026: “ভোটের সময় বাংলায় এত হিংসা কেন?” রাজ্যকে প্রশ্ন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের (Assembly Election 2026) সময় বাংলায় এত কেন হিংসা হয়? রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে এই প্রশ্ন করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোট হবে অহিংস, শান্তিপূর্ণ! তা না হলে কারওর রেয়াত নেই। সোমবার বাংলায় এসে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ রাজ্য়ের উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের ‘ক্লাস’ নিলেন জ্ঞানেশ কুমার। আরও বেশি কড়া হাতে নির্বাচন সামাল দিতে হবে বলেই মত তাঁর। এদিন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনের ফুল বেঞ্চ বৈঠকে বসেছে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে।

    রাজ্য প্রশাসনকে ধমক নির্বাচন কমিশনের

    কমিশনের তরফে বেআইনি অস্ত্র, মদ ও বেআইনি অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের দ্রুত এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সতর্ক করেছে কমিশন। জ্ঞানেশ কুমার বলেছিলেন, “অন্য রাজ্যে এত হিংসা দেখা যায় না। বাংলাতেই কেন ভোটের সময় এত অশান্তি? সব রাজনৈতিক দলগুলি আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। এবার এই সব চলবে না।” কোনও রকম বোমা-পিস্তলের খবর যেন না থাকে, বারেবারে জেলাশাসকদের সতর্ক করা হয়। পদের ‘মোহ’ ভুলে বাংলায় শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তিনি আরও বলেন, “জেলাশাসক হন বা পুলিশ কমিশনার, গাফিলতি দেখলে রেয়াত নেই। কেউ পালাতে পারবেন না। নির্বাচনের পর দোষী সাব্যস্ত হলে পদক্ষেপ তাঁদের বিরুদ্ধে অনিবার্য।” এমনকি নির্বাচন পরবর্তী হিংসার অভিযোগ এলেও ‘শেষ দেখে ছাড়বেন’ বলে জানিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। এ দিন যখন এসপি-ডিএম ও পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক চলছিল, সেখানে এডিজি আইন-শৃঙ্খলা বীনিত গোয়েলকে কড়া ধমক দেন তিনি। একেবারে প্রথমের সারিতেই বসেছিলেন বিনীত গোয়েল। কথা হচ্ছিল নার্কোটিক্স অ্যাডভাইজারি বোর্ড নিয়ে। জ্ঞানেশ জানতে চান, অন্য রাজ্যের মতো বাংলায় কেন নার্কোটিক্স অ্যাডভাইজারি বোর্ড নেই? সূত্রের খবর, এই প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন বিনীত গোয়েল। আর তখনই ধমক দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

    বিজেপি’র ১৬ দফা দাবিপত্র

    সোমবার কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠকে মোট ১৬ দফা দাবিপত্র পেশ করে বিজেপি। বাংলায় নির্বাচনকালীন হিংসা, কারচুপি-সহ নানাবিধ ইস্যুতে সুর চড়ায় তাঁরা। বৈঠক শেষে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা কমিশনের কাছে ভয়মুক্ত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি।” এছাড়াও ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদ্ব্যবহার’ করতে হবে কমিশনের কাছে আর্জি করেন বিজেপি নেতা।

    নবান্নে জরুরি বৈঠক মুখ্যসচিবের

    নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর নবান্নে জরুরি বৈঠক ডাকেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। ওই বৈঠকে জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন পুলিশ কমিশনারেটের কর্তারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের বৈঠকে যে নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কমিশনের বৈঠকের পর মুখ্যসচিবকে রিপোর্ট দেওয়ার প্রথা থাকায় এই বৈঠক ডাকা হয়। জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

  • Maharashtra Radicalisation: জইশের সক্রিয় “স্লিপার সেল”! মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার ২১ বছরের ইঞ্জিনিয়ার ছাত্র

    Maharashtra Radicalisation: জইশের সক্রিয় “স্লিপার সেল”! মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার ২১ বছরের ইঞ্জিনিয়ার ছাত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ের রাস্তায় সাধারণ ছেলেদের মতোই কলেজ যাওয়া-আসা করছিল ২১ বছরের আয়ান শেখ (Ayan Sheikh)। কেউ ভাবেনি যে এই ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের পিছনে লুকিয়ে আছে জঙ্গি সংগঠনের ছায়া। মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) কয়েকদিন আগে তাকে গ্রেফতার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (জেএম) এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে।

    কীভাবে জঙ্গিদের জালে

    এটিএস-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সূত্র থেকে খবর আসে যে মুম্বইয়ের কুর্লা, গোভান্ডি এবং শিবাজী নগর এলাকায় কয়েকজন যুবক অনলাইনে জইশ এবং ইসলামিক স্টেট-এর প্রচারমূলক উপাদান ছড়াচ্ছে। গত ২ মার্চ রাতে এই তিন জায়গায় সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আয়ান শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ডিভাইসগুলোয় জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ রয়েছে। এছাড়া টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে জইশ এবং আইএসআইএস-এর প্রোপাগান্ডা শেয়ার করা হয়েছে।

    “স্লিপার সেল”-এর সক্রিয় সদস্য

    তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ছয় মাস ধরে সে মুম্বইয়ে জইশ-ই-মহম্মদের একটি “স্লিপার সেল” হিসেবে সক্রিয় ছিল। তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যুবসমাজকে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা এবং জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য নতুন সদস্য নিয়োগ করা। এটিএস সূত্রে জানা যায়, আয়ান তার দুই সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করেছিল। এমনকি তাদের ওপর এতটাই চাপ সৃষ্টি করেছিল যে তারা বিদেশে গিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল। ওই দুই ছাত্রের বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করেছে এটিএস, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। অভিযানের সময় আয়ান ও অন্য দুই ছাত্রের একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-সমর্থকদের সঙ্গে তার যোগাযোগের প্রমাণ এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের ভিডিও উদ্ধার হয়েছে।

    পাকিস্তান ও সৌদি আরবে থাকা হ্যান্ডলারদের থেকে সাহায্য

    এছাড়াও তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তাও পেত আয়ান। এই অর্থ ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনের প্রচার ও নিয়োগ কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এটিএস-এর দাবি, আয়ান টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জইশ ও আইএসআইএসের প্রচারমূলক কনটেন্ট ছড়াত এবং বন্ধুদের বিভিন্ন উগ্রপন্থী গ্রুপে যুক্ত করত। এসব গ্রুপে বিদেশি নাগরিক এবং সম্ভাব্য জঙ্গি হ্যান্ডলাররাও উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে আরও জানা গেছে, জইশ-ই-মহম্মদ ভবিষ্যতে মুম্বইয়ে সম্ভাব্য জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য আয়ানকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিল। আয়ান শেখের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA)-এর ধারা ৩৮ (জঙ্গি সংগঠনের সদস্যপদ) এবং ৩৯ (জঙ্গি সংগঠনকে সহায়তা) সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৫২, ১৯৬ ও ১৯৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    সোশ্যাল মিডিয়া জঙ্গিদের প্রধান অস্ত্র

    দুই যুবকের ভূমিকা এখনও তদন্তাধীন। এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে অনলাইন জগত কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যুবকরা সহজেই জঙ্গি প্রোপাগান্ডার ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। আয়ান একজন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র যার জীবনের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। কিন্তু কোনও অজানা কারণে সে জঙ্গি আদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এটিএস জানিয়েছে, তাঁর ডিভাইসে মাসুদ আজহারের বক্তৃতা, জেএম-এর প্রশিক্ষণ ভিডিও এবং আইএসআইএস-এর ক্যালিফেটের প্রচার ছিল। এগুলো দেখে তিনি অন্যদেরও প্রভাবিত করতে চেয়েছিল। মুম্বইয়ের এই গ্রেফতারি দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। অনেকে বলছেন, শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে র‌্যাডিকালাইজেশনের প্রবণতা বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং মেসেজিং অ্যাপগুলো এখন জঙ্গিদের প্রধান অস্ত্র। এটিএস-এর এই অভিযান সময়মতো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদি না ধরা পড়ত, তাহলে হয়তো আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র জন্ম নিত।

LinkedIn
Share