Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • FIFA World Cup 2026: ষোল বছর পর ফ্রান্সকে একপেশে ম্যাচে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন, সামনে কে আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড?

    FIFA World Cup 2026: ষোল বছর পর ফ্রান্সকে একপেশে ম্যাচে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন, সামনে কে আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ষোল বছর পর ফের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) ফাইনালে স্পেন। গতবারের রানার্স ফ্রান্সকে প্রায় একপেশে ম্যাচে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনালে ইয়ামালরা। তাদের সামনে ইউরো জয়ের দু’বছর পরে বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ। যে ‘ডাবল’ স্পেন আগেও করেছে ২০০৮ ইউরো ও ২০১০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে। আবারও বড় মঞ্চে ফ্রান্সের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান লামিন ইয়ামাল (Lamine Yamal)। আর আবারও শেষ হাসি স্পেনের। ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপেদের ২-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে উঠল লা রোজা।

    ডিগনে-র ভুলের খেসারত

    বক্সে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ইয়ামালের গায়ে সরাসরি পা চালিয়ে দেন ডিগনে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ম্যাচের ২০ মিনিটে এই ভুলের খেসারত দিতে হল দিদিয়ের দেশঁর দলকে। পেনাল্টি পায় স্পেন। গোল করতে ভুল করেননি মিকেল ওয়ারজাবাল। চলতি মরসুমে দেশের হয়ে ১৪টি গোল হয়ে গেল তাঁর। স্পেনের আর কোনও ফুটবলার এক মরসুমে দেশের জার্সিতে এত গোল করতে পারেননি। চাপে পড়ে যায় ফ্রান্স। পিছিয়ে পড়লেও গুটিয়ে যায়নি ফ্রান্স। ধীরে ধীরে মাঝ মাঠে দাপট বাড়াতে থাকে তারা। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচ। দলগত কৌশল এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার লড়াইয়ে তবু বার বার আটকে গিয়েছে ফ্রান্স

    নজরবন্দি এমবাপে

    পারফরম্যান্সের নিরিখে বিশ্বকাপের সেরা দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল প্রথম সেমিফাইনালে। মাঠে ফুটবলারদের লড়াইয়ের পাশাপাশি আগ্রহ ছিল দুই কোচের কৌশলের টক্কর নিয়েও। তাতে দেশঁকে পিছনে ফেলে দিলেন লুই দে লা ফুয়েন্তে। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেছিল স্পেন। পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তেরা মাঝ মাঠেই অফসাইডের ফাঁদ পেতে রেখেছিলেন। ফর্মে থাকা এমবাপে এবং উসমান দেম্বেলে জুটিকে এক রকম অকেজো করে দেন অফসাইডের ফাঁদে ফেলে। প্রথমার্ধে একাধিক বার মাঝ মাঠ পেরিয়েই অফসাইডে আটকে যান এমবাপেরা! কুবারসি প্রায় সারাক্ষণ নজরবন্দি করে রাখেন ফরাসি অধিনায়ককে।

    স্পেনের রক্ষণে তাল কাটল ফ্রান্সের

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন এমবাপেরা। স্পেনের রক্ষণে চাপ বাড়াতে শুরু করেন। তবে বক্সের মধ্যে তাল কেটে যায় এমবাপেদের। কয়েক বার পরিস্থিতি সামলান সিমন। স্পেন এ সময় খেলছিল প্রতি আক্রমণমূলক ফুটবল। ৫৮ মিনিটে তেমনই একটি আক্রমণে ভুল করে বসে ফরাসি রক্ষণ। বক্সের একদম ফাঁকায় বল পেয়ে যান পেদ্রো পোরো। ডান পায়ের শটে পরাস্ত করেন মাইক মাইগনান। আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। বলটা তো আমার, কাউকে দেব কেন— টিপিক্যাল স্প্যানিশ ফিলসফির এই চেনা ছবিটাই ডালাসের স্টেডিয়ামে প্রকট হয়ে ওঠে। অপ্রতিরোধ্য এমবাপে–ওলিজে–দেম্বেলেরা মঙ্গলবার রাতে স্প্যানিশ ডিফেন্সের সামনে যেন খোলসে ঢুকে পড়লেন।

    জমাট রক্ষণে বিশ্বকাপের স্বপ্ন

    গোটা বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সের মতো অ্যাটাক সামলাতে হয়নি স্পেনকে। আবার স্পেনের মতো ডিফেন্সের সামনেও পড়েনি ফ্রান্স। শেষ চারের এই টক্করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেনই দেখিয়ে দিল, কী ভাবে এমবাপে–ওলিজদের ডিফেন্ড করতে হয়। ফ্রান্সের ফ্লুইড গতি থামিয়ে দিল স্পেনের মাঝমাঠ ও ডিফেন্সিভ অর্গানাইজেশন। বিশ্বকাপের সেরা সেন্টারব্যাক জুটি কুবার্সি–লাপোর্তে এবং তাঁদের সামনে রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইস বারবার রুখে দিচ্ছিলেন দেম্বেলে–ওলিজেদের। আর বলতেই হবে স্প্যানিশ লেফটব্যাক মার্ক কুকুরেইয়ার কথা। মাঠের প্রায় সব জায়গাতেই যেন হাজির হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সে রকমই তৎপর ছিলেন কিপার উনাই সিমোন। কখনও বক্সের ভিতরে লাফিয়ে, কখনও বক্সের বাইরে বেরিয়ে সামাল দিচ্ছিলেন ফরাসি আক্রমণ। সাত ম্যাচে এটি তাঁর ছয় নম্বর ক্লিনশিট। পুরো টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন (Spain vs France)। ফাইনালে তাদের সামনে মেসিই থাকুন বা কেন-বেলিংহ্যাম বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে স্পেন।

    স্পেনের সামনে কে?

    দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার রাতে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড। দুটো দেশের অতীত ফুটবল ইতিহাসে গৌরব আর কলঙ্ক হাত ধরাধরি করে থাকলে কী হবে, এই সেমিফাইনালে এখন সেগুলো স্রেফ পুরোনো অলঙ্কার বিশেষ। স্বয়ং মেসি ইতিহাস না টেনে বলছেন, ‘সত্যিটা হলো, এটা স্পেশ্যাল ম্যাচ, কারণ সব টিমের বিরুদ্ধে খেললেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমি কখনও খেলিনি। বিগ টিম, পাওয়ার হাউস। সেটা মাথায় আছে টিমের।’ আবার ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার ওরিলির বক্তব্য, ‘মেসির বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাওয়াটা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কিন্তু ইংল্যান্ডকে জেতাতে মাঠে আসুন।’

    ইংল্যান্ডের সামনে মেসি-ফ্যাক্টর

    ২০০২ সালে যখন বেকহ্যামের পেনাল্টিতে ইংল্যান্ড জিতেছিল, জুড বেলিংহ্যাম জন্মাননি, মেসির বয়স ছিল ১৫! মোট ২০৫টা আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১২৫ গোল, কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে কোনওদিন মেসিকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামতে হয়নি। বিশ্বকাপে টানা আটটা ম্যাচে গোলের পরে নয় নম্বর ম্যাচে সুইসদের বিরুদ্ধে প্রথমবার গোল আসেনি। মেসিকে সামান্য ক্লান্তও দেখিয়েছে। ওয়েন রুনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন সে কথা, ‘মেসি ডিফেন্সকে সাহায্য করতে নীচে নেমে আসে না। মেসি মানে মুহূর্তের মনোসংযোগ ও কমিউনিকেশন। এমন জায়গায় পৌঁছে যাওয়া, যা কেউ ভাববে না। এখানেই সতর্ক থাকতে হবে ইংল্যান্ডকে।’

    দুই কোচের স্বপ্ন

    ফিফার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এ বার বারবার আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে উঠেছে। কিন্তু সে সব ছাপিয়ে টিম শেষ চারে পৌঁছেছে। বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচে অপরাজিত থাকাটা ফ্লুকে অসম্ভব। গোটা টিম মেসিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত, গোটা টিম আপ্রাণ চেষ্টা করেছে, যাতে ফুটবল ঈশ্বরের জীবনের শেষ বিশ্বকাপ হঠাৎ যেন শেষ না হয়ে যায়। কোচ স্কালোনি বলছেন, ‘এই টিম কী করে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসে, আমি নিজেই বলতে পারব না। একটাই বোধহয় ব্যাখ্যা হয়। এরা জানে, জেতা ছাড়া আর্জেন্তিনার কোনও বিকল্প নেই।’ ১৯৬৬ সালের পরে ৬০ বছর পরে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড। সে দেশের মিডিয়াই মেনে নিচ্ছে, জুড বেলিংহ্যাম না থাকলে ইংল্যান্ড মোটেই সেমিফাইনালে যায় না। হ্যারি কেন নন, রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডারই এ বার থ্রি লায়ন্সের আসল নায়ক। মেক্সিকো এবং নরওয়ে, পরপর দুটো ম্যাচে ব্রেস (জোড়া গোল), ১৯৮৬ সালে মারাদোনার পরে একটা বিশ্বকাপে পরপর দুটো নক আউটে জোড়া গোল করার রেকর্ড এখন বেলিংহ্যামের।

     

     

  • Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। তবে মশাবাহিত এই রোগে শুধু সংক্রমণের দাপটের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে না। উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই রোগের বদলে যাওয়া প্রকৃতি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তবে, রোগের চরিত্র বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ম্যালেরিয়ার দাপটকে কাবু করতে আরো সক্রিয় ওষুধ তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। খোদ কলকাতাতেই পরীক্ষা চলছে। আক্রান্তের কাছে একটা ডোজ পৌঁছে গেলেই, ম্যালেরিয়ার দাপট কমবে। গবেষকেরা এমনটাই আশা করছেন।

    কেন ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হচ্ছে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার বদল হচ্ছে। পৃথিবী জুড়েই জলবায়ুর পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানির মতো ইউরোপের দেশগুলোর পাশপাশি ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে জলবায়ুর পরিবর্তনের বিশাল প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যে। একাধিক রোগের প্রকৃতি বদল হচ্ছে। নানান ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার চরিত্র ও বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের জেরে বদলে গিয়েছে ম্যালেরিয়ার চরিত্র। মশাবাহিত এই রোগ আগের থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।

    বদলে যাওয়া রূপে কতখানি বিপদ বাড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়ার ওষুধ রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে তাই ম্যালেরিয়া তুলনামূলক কম বিপজ্জনক বলেই মনে হয়। কিন্তু চরিত্র বদল করে ম্যালেরিয়া ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সাধারণত দুই তিন দিন জ্বরের পরে পরীক্ষা করিয়ে আক্রান্ত সংক্রমণের বিষয়ে জানতে পারেন। তারপরে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু নতুন চরিত্রের এই ম্যালেরিয়া মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই শরীরে গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষত অন্ত্র, লিভার, মস্তিষ্কের উপরে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে, শরীরের সক্রিয়তা কমছে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বাজার চলতি ওষুধে রোগ প্রতিরোধ করতে যে সময় নিচ্ছে, তাতে আক্রান্তের অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়ে উঠছে। ফলে, মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। তাই ম্যালেরিয়া সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

    নয়া দাওয়াইয়ে কেন বাড়তি ভরসা?

    কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ম্যালেরিয়া নিয়ে নতুন ওষুধের পরীক্ষা চলছে। প্রস্তুতি পর্ব প্রায় শেষের দিকে। কর্তৃপক্ষের একাংশ জানাচ্ছেন, নতুন ওষুধ ম্যালেরিয়ার বাড়তি সঙ্কটের বোঝা কমাতে পারবে। তাঁরা আশাবাদী, ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হয়ে যাওয়ায়, যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় নতুন ওষুধ বাড়তি সাহায্য করবে। নতুন ওষুধের চতুর্থ পর্বের ট্রায়াল চলছে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন ওষুধ মাত্র একটা ডোজেই কাজ করবে। যে কোনও রকমের ম্যালেরিয়া মোকাবিলা করতে এক ডোজেই সাহায্য হবে। বাজার চলতি ম্যালেরিয়ার ওষুধ একাধিকবার খেতে হয়। ম্যালেরিয়া এখন আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে দ্রুত নিরাময় জরুরি। না হলেই লিভার, অন্ত্র ও মস্তিষ্ক বিকল হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই ম্যালেরিয়া দ্রুত নিরাময় করতে সাহায্য করবে, এমন ওষুধ প্রয়োজন। নতুন ওষুধ সেই কাজে সক্ষম হবে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কলকাতা ও তার আশপাশে কেন বাড়ছে ম্যালেরিয়ার দাপট?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেক বছরেই ম্যালেরিয়ার দাপট উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরে একদিকে ম্যালেরিয়া আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আবার আরেকদিকে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জনসচেতনতার অভাব। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া সহ একাধিক জেলায় দাপট বাড়াচ্ছে। গত বছরেও জুন মাস থেকে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছিল। চলতি বছরেও এই সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষায় অধিকাংশ জায়গায় নিকাশি ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। কলকাতা সহ একাধিক জেলায় মারাত্মক জল জমে। একদিন বৃষ্টি হলেই কয়েক দিন ধরে জমা জলের ভোগান্তি থাকে। এগুলো মশার বংশবিস্তার করে। তাছাড়া পরিচ্ছন্ন বাগান, বাড়ির আশপাশের এলাকায় জল জমলেও মশাবাহিত রোগের দাপট বাড়তে থাকে। তাই ম্যালেরিয়ার দাপট ও বাড়ে।
    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, প্রচন্ড জ্বর, তীব্র মাথার যন্ত্রণা, বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে ম্যালেরিয়া মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

  • India-UK FTA: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর! সস্তা হবে স্কচ, চকোলেট, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ভারতীয় রফতানি

    India-UK FTA: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর! সস্তা হবে স্কচ, চকোলেট, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ভারতীয় রফতানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (CETA) বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে একদিকে যেমন ভারতে স্কচ হুইস্কি, জিন, চকোলেট, বিস্কুট, প্রসাধনী-সহ একাধিক ব্রিটিশ পণ্য ধাপে ধাপে সস্তা হবে, অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রায় ৯৯ শতাংশ ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হবে। ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য খুলে যাবে বিশাল বাজার। প্রায় এক বছর আগে, ২৪ জুলাই ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত এই চুক্তি ১৪ দফা আলোচনার পর চূড়ান্ত হয়। মোট ৩০টি অধ্যায় নিয়ে তৈরি এই চুক্তিতে শুধু পণ্যের শুল্ক হ্রাস নয়, ডিজিটাল বাণিজ্য, টেলিকম, আর্থিক পরিষেবা, মেধাস্বত্ব, উদ্ভাবন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, টেকসই উন্নয়ন, সরকারি ক্রয় এবং স্বচ্ছতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    ভারতীয় রফতানিতে বড় সুবিধা

    এই চুক্তির ফলে ব্রিটেনে ভারতীয় পণ্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ ট্যারিফ লাইনে শূন্য শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এর ফলে বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, সামুদ্রিক খাদ্য, খেলনা, ক্রীড়াসামগ্রী, রত্ন ও গয়না শিল্প সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, অটো পার্টস, ইঞ্জিন এবং জৈব রাসায়নিক রফতানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ব্রিটিশ পণ্য হবে আরও সস্তা

    ভারত ধাপে ধাপে ৯০ শতাংশ ট্যারিফ লাইনে শুল্ক কমাবে বা তুলে দেবে। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ পণ্য আগামী ১০ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত হবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবে ব্রিটিশ স্কচ হুইস্কি ও জিন শিল্প। বর্তমানে স্কচের ওপর ১৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রথম ধাপে ৭৫ শতাংশে নামবে এবং আগামী ১০ বছরে তা ৪০ শতাংশে নেমে আসবে। এছাড়া নির্দিষ্ট কোটার আওতায় ব্রিটিশ গাড়ির ওপর বর্তমান ১১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধাপে ধাপে কমে ১০ শতাংশে পৌঁছাবে। বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও একইভাবে পর্যায়ক্রমে শুল্ক কমানো হবে। চকোলেট, মিষ্টি বিস্কুট, সফট ড্রিংকস এবং বিভিন্ন ব্রিটিশ খাদ্যপণ্যও এই চুক্তির ফলে তুলনামূলক সস্তা হবে।

    ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য বড় স্বস্তি

    চুক্তির পাশাপাশি ডাবল কন্ট্রিবিউশন কনভেনশন (DCC)-ও ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে ব্রিটেনে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের আর দুই দেশেই একসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা (Social Security) বাবদ অর্থ জমা দিতে হবে না। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ালের দাবি, এর ফলে ভারতীয় কর্মীরা তাঁদের বেতনের প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবেন এবং সেই অর্থ ভারতের প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF)-এ জমা হয়ে সুদও পাবে।

    দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন গতি

    ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৫.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের ২৩.১৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেশি। তবে একই সময়ে ব্রিটেন থেকে ভারতের আমদানি ৩৬.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১.৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমে ১.৭৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবর্ষে ছিল ৫.৯৭ বিলিয়ন ডলার।

    ২০৪০ সালের মধ্যে বাণিজ্যে বড় সাফল্যের আশা

    ব্রিটেন সরকারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের বাজারে ব্রিটিশ রফতানি প্রায় ৬০ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ভারতীয় রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কৃষিক্ষেত্রে ভারতের সুরক্ষা, বিস্তৃত সহযোগিতা

    ভারত এই চুক্তিতে দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় দুগ্ধজাত পণ্য, আপেল, চিজ, চিনি, চাল, শূকরের মাংস, মুরগি ও ডিমের মতো সংবেদনশীল কৃষিপণ্যকে শুল্ক ছাড়ের বাইরে রেখেছে। ফলে দেশীয় কৃষি ও দুগ্ধ শিল্পের ওপর বিদেশি প্রতিযোগিতার চাপ বাড়বে না। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে ডিজিটাল বাণিজ্য, গবেষণা ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, মেধাস্বত্ব, নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ, পেশাজীবীদের অস্থায়ী চলাচল এবং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় সহযোগিতার মতো একাধিক নতুন ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে ইস্পাত রফতানির কোটা ব্যবস্থা এবং ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে চলা ব্রিটেনের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (CBAM) নিয়ে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে ভারতীয় ইস্পাত রফতানিকারকদের এই নতুন নিয়মের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

  • Ankit Sharma Murder Case: আই বি আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা খুনের ঘটনায় দীর্ঘ ছয় বছর পর দোষী তাহির হুসেন

    Ankit Sharma Murder Case: আই বি আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা খুনের ঘটনায় দীর্ঘ ছয় বছর পর দোষী তাহির হুসেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ছয় বছর পর মিলল বিচার। ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার সময় ইন্টিলিজেন্স ব্যুরোর আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা হত্যাকাণ্ডে (Ankit Sharma Murder Case) প্রাক্তন আম আদমি পার্টি কাউন্সিলর তাহির হুসেন-সহ (Tahir Hussain) পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করল দিল্লির একটি আদালত। সোমবার করকরডুমা আদালত তাহির হুসেন, জাভেদ, আনাস, নাজিম এবং কাসিমকে হত্যাকাণ্ডে দোষী ঘোষণা করেছে। সোমবার রায়ে তাহিরের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গায় অংশ নেওয়া, হামলা এবং খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিচারক। তবে এখনও শাস্তি ঘোষণা হয়নি প্রাক্তন আপ নেতার।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় মোট ১১ জনের জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে ৬ জনকে বেকসুর খালাস করেছে আদালত। বিচারক জানিয়েছেন, ওই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ পেশ করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। আর পাঁচ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দোষীদের সাজা এখনও ঘোষণা করেনি আদালত। সাজা নির্ধারণ নিয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট মামলার অভিযোগ ও নথিপত্র বিবেচনা করে তাহির হুসেনের জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। ইতিমধ্যেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন করার কথা জানিয়েছেন তাহিরের আইনজীবী আবদুল গফফর।তাহিরকে দোষী সাব্যস্ত করার পরেই তাঁর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন নিহত আইবি আধিকারিক অঙ্কিত শর্মার ভাই অঙ্কুর শর্মা।

    দিল্লি পুলিশের দাবি

    ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলছা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরপেক্ষ তদন্তই অগ্রাধিকার ছিল। তদন্তকারী দল সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে পেশ করেছে। আদালতের রায়ে সেই তদন্তেরই প্রতিফলন ঘটেছে।’ উল্লেখ্য, ২০২০-তে সিএএ বিরোধী আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা দিল্লি। রাজধানী জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল হিংসা। চলছিল দেদার লুটপাট, ভাঙচুর। সেই সময়ে খাজুরি খাস এলাকার একটি নর্দমা থেকে আইবি আধিকারিক অঙ্কিত শর্মার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর শরীরে ৫১টি ছুরির আঘাত ছিল বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ, পরিচয় গোপন করতে মুখ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে অ্যাসিড ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা।

  • Strait of Hormuz: জলপথে অবরোধ করে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিল আমেরিকা! হরমুজে দু’টি জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের, প্রাণ গেল ভারতীয় নাবিকের

    Strait of Hormuz: জলপথে অবরোধ করে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিল আমেরিকা! হরমুজে দু’টি জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের, প্রাণ গেল ভারতীয় নাবিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের অশান্ত হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল মধ্যপ্রাচ্যে। দুই দেশ আমেরিকা-ইরানের (US Iran Conflicts) মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত। মার্কিন হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। আর এই দুই মহাশক্তির ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন একজন ভারতীয় নাবিক (Indian Killed), আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা যেমন বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে, তেমনই এক ধাক্কায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

    নিহত ১ ভারতীয়, আহত আরও ৬

    জানা গিয়েছে, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় ‘মোমবাসা’ (Mombasa) ‘আল বাহিয়াহ’ (Al Bahiyah)নামে দুটি আমিরশাহির তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ‘মোমবাসা’ জাহাজেই নিহত ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দু’জন ইউক্রেনের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর দুই জাহাজেই আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার খোঁজখবর নিচ্ছে ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। যোগাযোগ করা হচ্ছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও।

    কড়া প্রতিক্রিয়া আরব আমিরশাহির

    আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির। যেকোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের সেনাবাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা ব্যবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রয়েছে।

    কেন হামলা, জানাল ইরান

    ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, দু’টি ট্যাঙ্কার তাদের সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করেছিল। জাহাজগুলি নাকি নিজেদের নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে ‘মাইন পাতা রুট’ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই কারণেই ওই জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তেহরানের। আইআরজিসি-র অভিযোগ, আমেরিকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে একটি ভুল রুট ব্যবহার করতে উৎসাহ দিচ্ছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হতে আরও দেরি হবে এবং বিশ্ব জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ঘটনার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক ধাক্কায় ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮১.৯২ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও এটি যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ ১২০ ডলারের চেয়ে কম, তবুও বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    আবার মার্কিন হামলা ইরানে

    পরপর তিনদিন ইরানের উপর হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা। পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরানও। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন পরিকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা খুব জোরালোভাবে আঘাত করেছি। ইরানের আক্রমণ করার ক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছি। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে থাকবে এবং অবরোধও ফের কার্যকর করা হচ্ছে।” এদিকে হরমুজে যাতায়াতকারী জাহাজের উপর করও আরোপ করেছে আমেরিকা।

    হরমুজের রক্ষাকর্তা আমেরিকা!

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবার নিজেদের হাতে নিতে চলেছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, এই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ সুরক্ষিত রাখার বিনিময়ে ওয়াশিংটনের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্প মার্কিন প্রশাসনকে এই জলপথের রক্ষাকর্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী এই প্রণালীটি পরিচালনা করবে এবং এর নতুন নাম দেবে ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট’। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন পারস্য উপসাগরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত চলছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পারষ্পরিক দাবি-পাল্টা দাবি তুঙ্গে উঠেছে।

    ইরানের হুঁশিয়ারি

    পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই, এই রুটে যেকোনও ধরনের সামরিক অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সেনার পাহারার কারণেই এতদিন এই রুট নিরাপদ ছিল, তাই বিশ্ববাসীর উচিত এর খরচ মেটানো। ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তেহরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মার্কিন হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অনুমতি ছাড়া কোনও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা সেনাদল হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলিকেও মার্কিন বাহিনীর পাশে না দাঁড়াতে সতর্ক করেছে তেহরান। বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনও ধরনের সামরিক বা কৌশলগত সহযোগিতা সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বলে গণ্য করা হবে। এই সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলি।

  • FIFA World Cup 2026: ইউরোপীয় মহারণ! বিশ্বকাপের শেষ চারে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন, এগিয়ে কারা?

    FIFA World Cup 2026: ইউরোপীয় মহারণ! বিশ্বকাপের শেষ চারে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন, এগিয়ে কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হতে চলেছে ইউরোপীয় ফুটবলের প্রথম দুই দেশ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে নামবে ফ্রান্স ও স্পেন (France vs Spain)। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপে এটাই হবে দুই দলের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। প্রথমটি হয়েছিল ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে। শেষ ষোলোর সেই ম্যাচে ফ্রান্স ৩-১ গোলে হারায় স্পেনকে। তবে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্স ও স্পেন ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। লা রোহা ব্রিগেডের জয় ১৮টি। ফরাসিরা জিতেছে ১৩ বার। ড্র ৭টি। ২০২৫ নেশনস লিগের সেমি-ফাইনালে দু’দলের শেষ সাক্ষাতে ইয়ামালের জোড়া গোলে ৫-৪ জয় স্পেনের।

    দুই দলের কে কোথায় এগিয়ে-পিছিয়ে

    এমবাপেই ফ্রান্সের সবচেয়ে বিধ্বংসী অস্ত্র। ৮টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্টের সুবাদে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার সামনে তিনি। এছাড়া আক্রমণভাগে ডেম্বেলে (৫টি গোল) এবং মাইকেল ওলিসেও (৫টি অ্যাসিস্ট) দুর্দান্ত ফর্মে। অন্যদিকে, মাঠমাঝে রড্রি ও অ্যাটাকিং থার্ডে ড্যানি ওলমো স্পেনকে পরিচালনা করছেন। ওয়ারজাবালের নামের পাশে ৪টি গোল। কোচের আস্থার মর্যাদা রাখছেন সুপার-সাব মিকেল মেরিনো। সেরা তারকা লামিনে ইয়ামালও ক্রমশ ছন্দে ফিরছেন। অত্যন্ত শক্তিশালী ও ঈর্ষণীয় আক্রমণভাগ ফ্রান্সের। ডেম্বেলের সঙ্গে এমবাপের যুগলবন্দি দুর্দান্ত জমেছে। মাঝমাঠে খেলা তৈরি করছেন ওলিসে ও ডুয়ে। তবে, গ্রুপ পর্বে ফরাসিদের রক্ষণভাগে দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল। নক-আউটে গত তিনটি ম্যাচে গোল হজম না করলেও ছোটোখাটো ভুল চোখে পড়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত এমবাপে নির্ভরতা কাটাতে হবে। শক্তিশালী মাঝমাঠ স্পেনের ভরসা। সঙ্গে সুদৃঢ় রক্ষণভাগ। ছয় ম্যাচে স্পেন মাত্র একটি গোল খেয়েছে। বল দখলে রেখে খেলার দক্ষতায়ও লা রোহা ব্রিগেড প্রতিপক্ষের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। যদিও আক্রমণভাগে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও ভেদশক্তির অভাবে ভুগছে স্প্যানিয়ার্ডরা। ইয়ামালকেও আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।

    সাম্প্রতিক দ্বৈরথে স্পেনের দাপট

    বিশ্বকাপে না হলেও দুই দলের সাক্ষাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনই বেশি সফল। ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে নয় গোলের এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে স্পেন ৫-৪ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারায়। সেই ম্যাচে লামিনে ইয়ামাল জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক হন। এরও এক বছর আগে, ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে স্পেন ২-১ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। ওই ম্যাচে গোল করেন লামিনে ইয়ামাল ও দানি ওলমো। তবে ২০২১ সালের উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে ফ্রান্স ২-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। এবার দুই দলই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। একদিকে কিলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে ফ্রান্স, অন্যদিকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তাই ডালাসের সেমিফাইনালটি হতে পারে পুরো বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা লড়াই। ভারতীয় সময় আজ ১২:৩০ টায় শুরু হওয়া এই লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে।

  • TCS New Unit: এআই-র যুগে বড় বদল টিসিএস-এ, গড়ে উঠল ৫টি নতুন বিজনেস ইউনিট

    TCS New Unit: এআই-র যুগে বড় বদল টিসিএস-এ, গড়ে উঠল ৫টি নতুন বিজনেস ইউনিট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র দ্রুত প্রসারের মধ্যে ভারতের বৃহত্তম আইটি পরিষেবা সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) তাদের শীর্ষ নেতৃত্বে বড়সড় রদবদল করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক চাহিদার কথা মাথায় রেখে সংস্থা পাঁচটি নতুন বিজনেস ইউনিট খুলেছে। সম্প্রতি সংস্থার সিইও কে. কৃতিভাসন এবং সিওও আর্থি সুব্রহ্মণ্যমের জারি করা একাধিক অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকায় এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে।

    টিসিএস-এ নানা পদে পরিবর্তন

    টিসিএস (TCS) জানিয়েছে, সংস্থার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক ক্ষেত্র ব্যাংকিং, ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স (BFSI)-এর মার্কিন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে আমেরিকার ব্যাংকিং ইউনিটকে ইউএস ওয়েস্ট এবং ইউএস ইস্ট—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। রাকেশ কুমার ইউএস ওয়েস্ট-এর এবং মোহন ভিটুরি ইউএস ইস্ট-এর নেতৃত্ব দেবেন। বর্তমান ইউএস ব্যাংকিং প্রধান সুশীল বাসুদেবন সংস্থার সিইও-র অধীনে একটি কৌশলগত (Strategic) দায়িত্বে যোগ দিচ্ছেন। অন্যদিকে, বর্তমানে কানাডার ব্যাংকিং ইউনিটের প্রধান মনমিত ছাবড়া টিসিএস-এর কানাডা কান্ট্রি হেড হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

    টিসিএস-এর পাঁচটি ইউনিট

    এছাড়াও সংস্থা পাঁচটি নতুন ব্যবসায়িক ইউনিট তৈরি করেছে। এগুলি হল— সার্ভিস নাউ প্র্যাকটিস (Service Now Practice), ট্রাভেল অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ক্লাইন্টস (Travel & Transport Clients), এনার্জি অ্যান্ড ইউটিলিটি ক্লাইন্টস (Energy & Utility Clients), ইউএস ওয়েস্ট কোস্ট বিজনেস (US West Coast Business), গ্লোবাল অটোনমাস বিজনেস (Global Autonomous Businesses)। প্রতিটি ইউনিটের জন্য আলাদা প্রধান নিযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার সিকিউরিটি, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের লাইফ সায়েন্সেস এবং কমিউনিকেশন ও মিডিয়া বিভাগেও নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ করা হয়েছে।

    সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে ভারতের প্রায় ৩১৫ বিলিয়ন ডলারের আইটি পরিষেবা শিল্প বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে। এআই-এর কারণে বড় ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের চাহিদা কমতে পারে, প্রকল্পের সময়সীমা ছোট হতে পারে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুবিধা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চাপ বাড়তে পারে। সেই কারণেই টিসিএস ভবিষ্যতের বাজার ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফল প্রকাশ করে টিসিএস বাজারের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যায়। মূলত ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের ব্যয় বৃদ্ধি এবং টাকার তুলনায় ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের ফলে সংস্থার আয় প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে।

  • India’s Defence Sector: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বড় সংস্কার! এবার বেসরকারি সংস্থার হাতেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন

    India’s Defence Sector: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বড় সংস্কার! এবার বেসরকারি সংস্থার হাতেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন (India’s Defence Sector) ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রের মোদি সরকার (Modi Govt Missile Manufacture)। প্রথমবারের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) তৈরির ক্ষেত্রে বেসরকারি ভারতীয় সংস্থাগুলিকে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, সরকারি কারখানার উপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা রফতানির বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং বন্ধু দেশগুলির কাছ থেকে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহের কথা মাথায় রেখেই এই নীতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    অ্যাস্ট্রা এমকে-২ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে বেসরকারি সংস্থাকে সুযোগ

    সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই অ্যাস্ট্রা এমকে-২ (Astra Mk-2) বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (BVR) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল উৎপাদনের জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করতে পারে। ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার। ভবিষ্যতে এটি তেজস এমকে-১এ, মিগ-২৯, সুখোই সু-৩০ এমকেআই এবং রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি একাধিক বন্ধু দেশ ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে শুধু সরকারি উৎপাদন সংস্থার উপর নির্ভর করলে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি শিল্পকে যুক্ত করে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া এবং দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য।

    কোন কোন সংস্থা লাভবান হতে পারে?

    যদিও এখনও কোনও সংস্থাকে চূড়ান্তভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, তবুও প্রতিরক্ষা শিল্পের বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি বড় ভারতীয় সংস্থা এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার জন্য সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। সম্ভাব্য সংস্থাগুলি হল—

    টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেম (Tata Advanced Systems)
    আদানি ডিফেন্ল অ্যান্ড অ্যারো স্পেস (Adani Defence & Aerospace)
    লারসেন অ্যান্ড টোব্রো (Larsen & Toubro-L&T)
    ভারত ফোর্জ (Bharat Forge)
    কল্যানী স্ট্র্যটেজিক সিস্টেম (Kalyani Strategic Systems)

    ইতিমধ্যেই এই সংস্থাগুলি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, মহাকাশ প্রযুক্তি, আর্টিলারি, ড্রোন, সাঁজোয়া যান এবং ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন উপাদান তৈরি করছে।

    প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পেও বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভাবনা

    অ্যাস্ট্রা এমকে-২ প্রকল্পের পর সরকার ‘প্রলয়’ (Pralay) ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনেও বেসরকারি সংস্থাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র উচ্চ গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে এই নীতি কার্যকর হলে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে বেসরকারি শিল্পের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও প্রতিরক্ষা রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন গতি আসতে পারে।

  • Lindsey Graham: ভারতের উপর শুল্ক চাপাতে বলেছিলেন! ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রয়াত

    Lindsey Graham: ভারতের উপর শুল্ক চাপাতে বলেছিলেন! ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রয়াত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত মার্কিন সেনেটের দীর্ঘ দিনের সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম (Lindsey Graham)। বারাক ওবামার আমল থেকেই ইরান-বিরোধী নেতা হিসেবেই পরিচিত তিনি। সেই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘর্ষের আবহেই প্রয়াত হলেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। বয়স হয়েছিল ৭১। বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন গ্রাহাম। রবিবার গ্রাহামের কার্যালয়ের তরফে এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় প্রবীণ নেতার মৃত্যু হয়েছে। প্রবীণ এই সেনেটর আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গ্রাহামের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘‘লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকৃত আমেরিকাপ্রেমী ছিলেন।’’ তাঁর মৃত্যু ‘বড় ক্ষতি’ বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর পরামর্শ

    গ্রাহাম (US Senator Death) তাঁর কর্মজীবনে নানা সময়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। তাঁর করা নানা মন্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে সর্বস্তরে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘উল্লেখযোগ্য ভাবে’ রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে ভারত। আর ভারতের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের শুল্কনীতি। গ্রাহামের দাবি, কী ভাবে একটা নীতিগত পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশের কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে, তার ‘ভাল উদাহরণ’ দিল্লির উপর আরোপিত ট্রাম্পের শুল্ক। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা বলেছিলেন গ্রাহাম। তিনি দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প এমন একটি বিলে (গ্রাহাম-ব্লুমেন্থাল নিষেধাজ্ঞা বিল) অনুমোদন দিয়েছেন, যা নিয়ে তিনি কয়েক দিন ধরে কাজ করছিলেন। এই বিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেবে, যার বলে তিনি রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়কারী ভারত-সহ দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন। এই শুল্ককে ‘শাস্তি’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন রিপাবলিকান সেনেটর গ্রাহাম।

    ইরান-বিরোধী বলে পরিচিত

    ইরানের আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে ‘হত্যা’ করার পরামর্শও দিয়েছিলেন গ্রাহাম। ইরানে হামলার প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি যদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জায়গায় থাকতাম, তবে যাঁরা গণহত্যা করছেন, তাঁদের খুন করতাম।’’ গ্রাহাম এ-ও দাবি করেছিলেন, ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেইকে ‘হত্যা’ করলে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে। গ্রাহাম পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘আমার কাছে এটা স্পষ্ট যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান অত্যন্ত সমস্যাজনক। ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের শত্রুতা অনেক দিনের। এটা স্বীকার করতেই হবে পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটিগুলিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখা হচ্ছে।’’ প্রসঙ্গত, জুন মাসেই সেনেটে পঞ্চম বারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গ্রাহাম। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘উনি আমার দেখা অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব এবং সেনেটর ছিলেন। লিন্ডসে একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ছিলেন, যিনি দেশের জন্য সবসময় কাজ করে গিয়েছেন। ওঁর কথা আমাদের সব সময়ে মনে পড়বে।’

  • Baruipur Incident: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের পর হিংসায় উসকানির অভিযোগ, ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলি

    Baruipur Incident: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের পর হিংসায় উসকানির অভিযোগ, ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুর কাণ্ডে (Baruipur Incident) অশান্তিতে উস্কানির অভিযোগে গ্রেফতার সিপিএম নেতা লাহেক আলি। সূর্যপুরে অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম থেকে প্রার্থীও হয়েছিলেন তিনি। রবিবার ১২ জুলাই রাতে বারুইপুরে বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করা হয় লাহেক আলিকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এলাকায়। সেই ঘটনার জেরে হওয়া বিক্ষোভে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে এবার গ্রেফতার হলেন স্থানীয় সিপিএম নেতা। এই ঘটনায় এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত বাম নেতাকে আজ, সোমবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।

    তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার

    পুলিশ সূত্রে খবর, সূর্যপুরের ঘটনার পর গত রবিবার এলাকায় তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা রাস্তা অবরোধ করেন এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ওপর চড়াও হন। দফায় দফায় ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের গাড়িতে। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও এই হামলায় জখম হন। অভিযোগ, ঘটনার দিন আন্দোলনের নামে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানো এবং পুলিশের ওপর হামলায় সরাসরি উস্কানি দিয়েছিলেন সিপিএম নেতা লাহেক আলি। ঘটনার সময় তিনি সশরীরে সেখানে উপস্থিতও ছিলেন। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনার দিনের বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং প্রাথমিক তদন্তে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই লাহেক আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার (Baruipur violence) দিন আইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ কঙ্করপ্রসাদ বারুইের পাশেও দেখা যায় এই লাহেক আলিকে। ঘটনার পর পুলিশ একটি এফআইআর করে। যেখানে সুজন চক্রবর্তী ও লাহেক আলি-লহ চারজনের নাম ছিল।

    কোন কোন ধারায় মামলা রুজু

    ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলির বিরুদ্ধে বিএনএস- এর ২০টি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। উস্কানি, প্ররোচনা, গন্ডগোল পাকানো, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ধারায় মামলা হয়েছে লাহেক আলির বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, লাহেক আলির বিরুদ্ধে রেলওয়ে অ্যাক্টেও মামলা দায়ের হয়েছে। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, গণপিটুনিতে খুন, প্ররোচনা দেওয়া, বেআইনি সমাবেশ, দাঙ্গা, প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে আসা, উস্কানি দেওয়া, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা-বিদ্বেষ ছড়ানো, জনসাধারণের সম্পত্তি নষ্ট করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা, সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীর উপর হামলা, অপরাধমূলক ভয় দেখানো, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, সংরক্ষিত সম্পত্তি নষ্ট করা, অবৈধ কাজ করা, রেলের সম্পত্তির ক্ষতি করা, রেলকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত – এই ধারাগুলিতে মামলা রুজু হয়েছে ধৃত লাহেক আলির বিরুদ্ধে।

LinkedIn
Share