Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Dol Utsav 2026: দোলের মিষ্টিমুখ মানেই মট-ফুটকড়াই, জানেন এই মিঠাইয়ের উৎস কোথায়?

    Dol Utsav 2026: দোলের মিষ্টিমুখ মানেই মট-ফুটকড়াই, জানেন এই মিঠাইয়ের উৎস কোথায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কিছু দিন আগ অবধিও দোলের মিষ্টি (Dol Utsav 2026) মানেই ছিল মট। এখন যদিও অনেক রকম মিষ্টির (Dol Utsav Traditional Sweets) সমাগম হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতিতে। কিন্তু আগে বাঙালির দোল মট ছাড়া অপূর্ণ থাকত। সঙ্গে থাকত ফুটকড়াই ও তার সঙ্গে সাদা মুড়কি। দেবতার পায়ে ‘আবির’ দিয়ে পরিবারের সকল বয়স্কদের পায়ে আবির মাখিয়ে শুরু হত বাঙালির দোল উৎসব। দুদিন ধরেই চলত সেই দোল।

    মট মূলত পর্তুগিজ মিষ্টি!

    মট আদতে চিনির মণ্ড। চিনিকে গলিয়ে বিভিন্ন ছাঁচে, বিভিন্ন আকার দিয়ে তৈরি হয় এই মিষ্টি। মোমবাতি, ফুল, পাখি-সহ বিভিন্ন আকারের হয়। বিভিন্ন রঙও দেওয়া হয় এই মিষ্টিতে। রঙ খেলার ফাঁকে একে অপরের মুখে মট ও ফুটকড়াই গুঁজে দেওয়া ছিল বাংলার রেওয়াজ। একটি বড় থালায় প্রচুর মট সাজানো থাকত আর পাশে থাকত ফুটকড়াই। দোল খেলার সময়ে এগুলি ছিল আবশ্যিক। কিন্তু জানেন কি, বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিকভাবে (Dol Utsav 2026) মিশে যাওয়া এই মিষ্টি আদেও বাঙালি সংস্কৃতির অংশই ছিল না। মটের ইতিহাস বেশ পুরনো। মট মূলত পর্তুগিজ মিষ্টি। হুগলির ব্যান্ডেল চার্চে প্রথম এই মিষ্টি প্রভু যিশুর প্রসাদী থালায় দেওয়া হত। পরে বাঙালি ময়রারা মটকে আপন করে নেন। তাকে গোলাপি, হলুদ, লাল নানান রঙে রাঙিয়ে দোলের (Dol Utsav Traditional Sweets) অঙ্গ করে তোলেন।

    কীভাবে তৈরি হয় মট

    চিনির কড়া পাক দিয়ে সেই সান্দ্র তরল কাঠের ছাঁচে (Dol Utsav 2026) জমিয়ে বা ফুটো পাত্রের ভিতর দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা ফেলে এই মট প্রস্তুত করা হয়। এটি ৫-৬ সেন্টিমিটার উঁচু একটি শুকনো ও অত্যন্ত পরিচিত মিষ্টি (Dol Utsav Traditional Sweets)। এই মট তৈরির এই ধারা আজও বর্তমান রেখেছেন হাওড়ার উনসানি শিউলি পাড়ার স্বপন মণ্ডল ও তাঁর পরিবার। কিন্তু এখন এই মিষ্টিগুলি শুধুই নস্ট্যালজিয়া। অনেকে জানেনও না মট-ফুটকড়াই-কদমা-সাদা মুড়কির নাম। দোকানে অনেক খুঁজলে তবেই মিলবে নানা আকৃতির মট। অবশ্য স্বাস্থ্যের কথা ভেবেও অনেকে মিষ্টি খান না। যাই হোক বছরের এই একটা দিনে সেই মট, কদমা, ফুটকড়াই দেবতার প্রসাদ হয়ে কোনওক্রমে বেঁচে আছে বাঙালির নসট্যালজিয়ায়।

  • Chandra Grahan 2026: রাতের আকাশে ‘ব্লাড মুন’! দোলে বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, দেখতে পাবেন কলকাতাবাসীও

    Chandra Grahan 2026: রাতের আকাশে ‘ব্লাড মুন’! দোলে বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, দেখতে পাবেন কলকাতাবাসীও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দোল উৎসবে ২০২৬ সালে রয়েছে চন্দ্রগ্রহণের কালো ছায়া। আর এই গ্রহণ এবার ভারত থেকে দেখা যাবে। শুধু তাই নয়। কলকাতার আকাশ থেকেও এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৬ সালের এই চন্দ্রগ্রহণই হবে বছরের দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণ শুরু হবে দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে। মোট ৩ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ধরে চলেছে গ্রহণ । পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে, যখন চাঁদ সম্পূর্ণভাবে পৃথিবীর ছায়ায় প্রবেশ করবে। আগামী ৩ মার্চ আকাশে দেখা যাবে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য।

    কখন কোথায় দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ

    ৩ মার্চ সন্ধ্যায় কলকাতার আকাশ থেকেও দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ। কলকাতায় সন্ধ্যা ৬ টায় আংশিক চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। নয়া দিল্লিতে সন্ধ্যা ৬.২৬ মিনিটে, লখনউতে সন্ধ্যা ৬.১৮ মিনিটে,ভুবনেশ্বরে সন্ধ্যা ৬ টা ০৫ মিনিটে, পাটনায় সন্ধ্যা ৬. ১২ মিনিটে দেখা যাবে গ্রহণ। জয়পুরে দেখা যাবে সন্ধ্যা ৬ টা ২৮ মিনিটে, ভোপালে সন্ধ্যা ৬ টা ২৪ মিনিটে দেখা যাবে গ্রহণ। মুম্বইতে সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে, আমেদাবাদে ৬.৩৫ মিনিটে, পুনেতে ৬.৩২ মিনিটে এই গ্রহণ দেখা যাবে। বলা হচ্ছে, উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলি থেকে খুব ভালোভাবে দেখা যাবে এই গ্রহণ। গুয়াহাটিতে বিকেল ৫ টা ৪৫ মিনিট, ডিব্রুগড়ে বিকেল ৫ টা ৪০ মিনিট, ইটানগরে বিকেল ৫ টা ৩৫ মিনিট, শিলংয়ে ৫ টা ৪০ মিনিটে দেখা যাবে গ্রহণ।

    ‘ব্লাড মুন’-এর বিরল দৃশ্য

    গ্রহণের সময় উজ্জ্বল সাদা চাঁদ খানিকটা লাল বর্ণ ধারণ করে। অনেকেই একে ‘ব্লাড মুন’ বলে থাকেন। তাও দেখা যাবে আকাশে।

    গ্রহণ শুরু – দুপুর ২:১৬টোয়
    পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শুরু – বিকেল ৪:৩৪ টেয়
    পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ – বিকেল ৫:০৪ টায়
    পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শেষ – বিকেল ৫:৩৩ টায়
    গ্রহণ শেষ – সন্ধ্যা ৬:৪৮ টায়

    সূতক-কালে কী করবেন

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ভারতে সম্পূর্ণরূপে দৃশ্যমান হবে। পরিষ্কার আকাশ থাকলে খালি চোখেই গ্রহণ দেখা যাবে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, চন্দ্রগ্রহণের সূতককাল গ্রহণ শুরুর প্রায় ৯ ঘণ্টা আগে শুরু হয়। সেই হিসেবে সূতক শুরু হবে ৩ মার্চ সকাল ৬টা ২০ মিনিটে এবং সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে সূতকের সমাপ্তি ঘটবে। যেহেতু এই গ্রহণ ভারতে দেখা যাবে, তাই সূতকের নিয়ম এখানে প্রযোজ্য হবে। সূতক ও গ্রহণের সময় কিছু নিয়ম মানার কথা বলা হয়েছে। এই সময় খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, যদিও শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। সূঁচ, কাঁচি বা ধারালো জিনিস ব্যবহার, নতুন বা শুভ কাজ শুরু, মন্দিরে প্রবেশ ও মূর্তি স্পর্শ নিষিদ্ধ বলে ধরা হয়। পাশাপাশি ঘুমানো, ভ্রমণ ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রহণের সময় ভগবানের নাম জপ করা, যেমন ‘ওম নমঃ শিবায়’ বা ‘মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র’ পাঠ করা শুভ বলে মনে করা হয়। খাবারে আগে থেকেই তুলসী পাতা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। রামায়ণ, গীতা বা হনুমান চালিসা পাঠ করাও এই সময় পুণ্যদায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়। গ্রহণের আগে ও পরে স্নান করার রীতি রয়েছে। গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই স্নান করে ঘর ও মন্দিরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ করা হয়।পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্ন, বস্ত্র বা অর্থ দান করাও শুভ বলে মনে করা হয়।

  • Holi 2026: বসন্তের রঙিন উৎসবে অসাবধান হলেই বিপদ! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    Holi 2026: বসন্তের রঙিন উৎসবে অসাবধান হলেই বিপদ! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আজ দোল। কাল হোলি। দুদিন রঙের উৎসব। কচিকাঁচা থেকে বয়স্ক, সকলেই মেতে উঠবেন দোলের উৎসবে। বসন্তের উৎসবে রং লাগানো, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়ার মাঝে তাল কাটতে পারে অসাবধানতা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দোল উৎসব উদযাপনের সময় কয়েকটি দিকে বিশেষ নজরদারি জরুরি। তবেই সুস্থ ভাবে উৎসব উদযাপন সম্ভব। না হলেই বাড়বে বিপদ। বিশেষত শিশুদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    কোন বিপদের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক মহল?

    দোল উৎসবে অসাবধানতা থেকে সবচেয়ে বেশি বিপদ হয় চামড়ার। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রত্যেক বছর দোলের পরে অনেকেই চামড়ায় নানান রকমের লাল দাগ, চুলকানির মতো সমস্যা নিয়ে ভোগেন। অনেকের নানান রকমের অ্যালার্জি হয়‌। তাই রং ব্যবহারের সময় সচেতনতা জরুরি। রং খেলার সময় সবচেয়ে বেশি চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। বিশেষত শিশুরা রং খেলায় অংশ নিলে, কোনো ভাবেই যাতে তাদের চোখে রং না ঢোকে সে দিকে নজর দিতে হবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখে বিশেষত কর্ণিয়ায় রং লাগলে, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করতে পারে। কনজাংটিভাইটিসের মতো চোখের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। রঙের উৎসবে অসাবধানতার জেরে অনেকেই শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শুকনো রং নাকে-মুখে ঢুকে অনেক সময়েই হাঁপানির সমস্যা তৈরি করে। রং মেশানো জল কানে ঢুকলে, কানের ভিতরে সংক্রমণ তৈরি হতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    সুস্থ ভাবে উৎসব উদযাপনের কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, উদযাপনের সময় সতর্ক ও সচেতন থাকলেই সমস্ত হয়রানি আটকানো সহজ। তাঁরা জানাচ্ছেন—

    • ● রং কেনার সময় ভেষজ রং কেনা উচিত। ফুলের পাঁপড়ি দিয়ে তৈরি রং অ্যালার্জি এবং অন্যান্য চামড়ার অসুখের ঝুঁকি কমায়‌
    • ● শিশুদের রং খেলার সময় নজরদারি জরুরি। অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিশুরা দোল উৎসব পালন করলে বড় দূর্ঘটনা এড়ানো সহজ হয়।
    • ● এখন দোল উপলক্ষে শিশুদের জন্য নানান মজাদার সানগ্লাস বাজারে দেদার পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো পরে রঙিন উৎসব পালন করলে চোখে রং যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।
    • ● রঙ উৎসব পালনের আগে ত্বকে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাতে রঙ সহজেই মুছে ফেলা যায়। চামড়ার বড় ক্ষতি হয় না।
    • ● যাদের হাঁপানির সমস্যা রয়েছে, বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের, রঙ খেলার সময় বাড়তি যত্ন জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
  • Israel Strikes on Iran: ইরানে ইজরায়েলি হামলার জেরে ভারতে হিংসার আশঙ্কা! সব রাজ্যকে সতর্ক করল কেন্দ্র

    Israel Strikes on Iran: ইরানে ইজরায়েলি হামলার জেরে ভারতে হিংসার আশঙ্কা! সব রাজ্যকে সতর্ক করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সাম্প্রতিক ইরান হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনির মৃত্যুর প্রেক্ষিতে ভারতের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (এমএইচএ)। সম্ভাব্য সহিংসতা ও ছিটেফোঁটা বিক্ষোভের আশঙ্কায় রাজ্যগুলিকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ‘আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে হবে।’

    শিয়া সংগঠনগুলির উদ্যোগে বিক্ষোভ

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেইনি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায়। শিয়া সংগঠনগুলির উদ্যোগে উত্তরপ্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, কর্নাটক এবং দিল্লি-সহ বিভিন্ন স্থানে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যগুলির মুখ্যসচিব ও ডিজির কাছে কাছে পাঠানো এক বার্তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, ইরানপন্থী ও বিরোধী উভয় গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও জমায়েতের ওপর নজর রাখতে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজর

    বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলির সামনে প্রতিবাদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এছাড়া ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে হিংসায় প্ররোচনা দেওয়া হতে পারে’ এমন ইরানপন্থী কট্টরপন্থী ধর্মীয় বক্তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ইরানপন্থী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের অ্যাকাউন্টগুলির ওপর নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানপন্থী ছাত্র সংগঠন ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলির কার্যকলাপের দিকেও নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কা

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন যেমন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং আল-কায়েদা ভারতে মার্কিন ও ইজরায়েলি দূতাবাস-কনস্যুলেট, তাদের কর্মী, প্রতিনিধি দল, ব্যবসায়ী, পর্যটনকেন্দ্র, পশ্চিমের দেশগুলির নাগরিকদের যাতায়াতের স্থান, সিনাগগ, চাবাড হাউস ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষদের জমায়েতের স্থানগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। একইভাবে ইরানের দূতাবাস, কনস্যুলেট ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলিও নিশানায় থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যগুলিকে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করার পাশাপাশি দূতাবাস, কনস্যুলেট ও বিদেশি পর্যটকদের ভিড় থাকে এমন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো এবং বিস্ফোরক বা আইইডি-র উপস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

  • Modi on Iran Israel War: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে শান্তির আহ্বান! কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা মোদির

    Modi on Iran Israel War: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে শান্তির আহ্বান! কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে সদা সতর্ক ভারত (Modi on Iran Israel War)। রবিবার রাতেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি (ক্যাবিনেট কমিটি অফ সিকিয়োরিটি)-র বৈঠক আয়োজন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে আসার বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, বলে খবর। অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার রাতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ৷ অসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার উপর তিনি বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত এই হানাহানি বন্ধ করার কথাও বলেন ৷ প্রধানমন্ত্রী মোদি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৷ এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

    ভারতীয়দের নিরাপদে উদ্ধার নিয়ে আলোচনা

    ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলায় উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য রবিবার রাতেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) একটি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ মন্ত্রিসভা কমিটি সমস্ত বিভাগকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়ার কথা বলেছে ৷ দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতিতে ফিরে আসার উপরও জোর দিয়েছে ভারত ৷ দু’দিনের সফরে গুজরাট, রাজস্থান, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু সফর সেরে রবিবার রাতে দিল্লি ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী। রাত সাড়ে ৯টায় দিল্লিতে ফিরেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে যোগ দেন মোদি। সূত্রের দাবি, রবিবার রাতের বৈঠকে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দিল্লি

    ইরান এবং ওমানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলভাগ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। বিশ্বের মোট রফতানিযোগ্য এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ ধরেই রফতানি করা হয়। আর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। তা ছাড়া, ভারত অভ্যন্তরীণ জ্বালানি-চাহিদা পূরণে ৮০ শতাংশ তেল অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করে থাকে। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে তেল কেনে ভারত। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে নয়াদিল্লি। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প উপায় নিয়েও রবিবার রাতের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

    মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বিবৃতি

    সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য সিসিএস বৈঠক হয়েছে ৷ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই অঞ্চলে বৃহৎ ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি ৷” বৈঠকে এই অঞ্চলে যাতায়াতকারী সাধারণ ভারতীয় পর্যটক, শিক্ষার্থীদের অসুবিধা, সেইসঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের উপর কী কী প্রভাব পড়বে তা নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সিসিএস সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে এই ঘটনাবলীর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় এবং সম্ভাব্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত শত্রুতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতিতে ফিরে আসার গুরুত্বের উপরও জোর দিয়েছে কমিটি ৷” সিসিএস সভায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পিকে মিশ্র এবং শক্তিকান্ত দাস, প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব টিভি সোমনাথন এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি উপস্থিত ছিলেন।

    দুবাই হামলার তীব্র নিন্দা

    এছাড়াও ইরানের দুবাই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi on West Asia Crisis)৷ রবিবার রাতে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন৷ জানান যে, এই কঠিন সময়ে সংহতির সঙ্গে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পাশে থাকবে। নরেন্দ্র মোদি দুবাইয়ে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা প্রদানের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ৷ তিনি বলেছেন যে, নয়াদিল্লি উত্তেজনা হ্রাস, আঞ্চলিক শান্তি, সুরক্ষা এবং স্থিতিশীলতা সমর্থন করে। এক্স পোস্টে মোদি লেখেন, “সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট, আমার ভাই শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এই হামলায় প্রাণহানির জন্য সমবেদনা জানাই। এই কঠিন সময়ে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে থাকবে৷ সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। আমরা উত্তেজনা কমানো, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা সমর্থন করি।”

    বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা

    ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। পালটা হামলা চালাচ্ছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার রাতেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা পরিষদের (ক্যাবিনেট কমিটি অফ সিকিয়োরিটি) জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে ইরান-ইজরায়েল-সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানো, যুদ্ধে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এরপরই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মোদি। সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে ভারত যথেষ্ট উদ্বেগ তাও তাঁকে জানানো হয়েছে ৷ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে ৷”

    ভারতীয় নাগরিকদের আশ্বাস বিদেশমন্ত্রকের

    সূত্রের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসরত এবং বর্তমানে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। সামরিক উত্তেজনার জেরে পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুবাই, দোহা-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শতাধিক ভারতীয় যাত্রী আটকে পড়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বর্তমানে ইরানে প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক বাস, পড়াশোনা ও কাজ করেন এবং ইজরায়েলে রয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার ভারতীয়। উপসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মোট প্রায় ৯০ লক্ষ ভারতীয় বসবাস করেন। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলি সেখানকার ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং জরুরি সহায়তার জন্য হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়া-সহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ভারত সফলভাবে তার নাগরিকদের উদ্ধার করেছে বলেও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • US Central Command: ইরানে আইআরজিসি-র সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি মার্কিন সেনার

    US Central Command: ইরানে আইআরজিসি-র সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি মার্কিন সেনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার আবহে সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হামলাকে তারা “সাপের মাথা কেটে ফেলা” বলে আখ্যা দিয়েছে।

    “সাপের মাথাটাকেই কেটে দিয়েছি”

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর এক্স (X) হ্যান্ডেলে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মার্কিন নৌজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর একটি শহুরে কম্পাউন্ড সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, “গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) ১০০০-এরও বেশি মার্কিন নাগরিককে হত্যা করেছে৷ গতকাল, একটা বড় বিমান অভিযানে সেই সাপের মাথাটাকেই কেটে দিয়েছি।” সেন্টকম আরও দাবি করেছে, “আমেরিকার সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এবং এখন আইআরজিসি-এর আর কোনও সদর দফতর নেই।” বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসি-র সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়ার অর্থ—

    • ● ইরানের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আঘাত
    • ● মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কৌশল
    • ● অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় চাপ সৃষ্টি

    মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলা

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে একের পর এক বিমান হামলা ও বিমান অভিযানের সাইরেনের খবর মিলছে। প্রতিশোধমূলক অভিযানে তেহরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। এর জবাবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, ওমান ও ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একাধিক শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনেইযের মৃত্যু তিনটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে—

    • ● ইরানের ভেতরে রাজনৈতিক শূন্যতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
    • ● আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর আরও আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া
    • ● সংঘাতকে “রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র” যুদ্ধের স্তরে নিয়ে যাওয়া

    এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে অভিযান, বললেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। আমাদের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মজুত আছে।” আরও এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “এটি শুরু থেকেই চার সপ্তাহের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে পরিকল্পিত ছিল।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান সীমিত প্রতিশোধমূলক হামলা নয়, বরং পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে দ্রুত শেষ করার বদলে কৌশলগত চাপে রাখতে চাইছে। এর আগে দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় এবং তিনি তাতে সম্মত হয়েছেন। তবে কবে ও কার সঙ্গে এই আলোচনা হবে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।

    প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের

    ইরান সরকার জানিয়েছে, আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর হত্যাকাণ্ড “মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমান।” ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, “এই ঐতিহাসিক অপরাধের নেপথ্যের কারিগরদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া ইরানের ন্যায্য অধিকার ও কর্তব্য।” এদিকে আইআরজিসি-ও “বৃহৎ পরিসরের হামলা” চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে তারা। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি বলেন, “আজ আমরা এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করব, যা তারা আগে কখনও অনুভব করেনি।” বর্তমানে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের আশঙ্কা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

  • T20 World Cup 2026: সুপার-সঞ্জুর ছন্দে ইডেনে উঠল মেক্সিকান ওয়েভ, ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো থামিয়ে সেমিফাইনালে ভারত

    T20 World Cup 2026: সুপার-সঞ্জুর ছন্দে ইডেনে উঠল মেক্সিকান ওয়েভ, ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো থামিয়ে সেমিফাইনালে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়েক দিন আগে যে ব্যাটারকে দেখে মনে হচ্ছিল, বেঞ্চে বসেই বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) শেষ হয়ে যাবে, সেই ব্যাটারই ভারতকে সেমিফাইনালে তুললেন। ইডেনে সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারাল ভারত (India vs West Indies)। ৯৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন সঞ্জু। ভাঙলেন কিং কোহলির রেকর্ডও। ক্রিকেটের নন্দন কাননে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সমীকরণ স্পষ্ট ছিল। দুই যুযুধান প্রতিপক্ষের মধ্যে জয়ী দলই সেমিফাইনালের টিকিট পাকা করবে। সপ্তাহান্তের টানটান ম্যাচে সুপার সঞ্জুর দাপটে এই নিয়ে ষষ্ঠবার ভারত টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল।

    সঞ্জুর চওড়া ব্যাটেই শেষ চারে

    ১৯৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। টিম ইন্ডিয়ার হয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন সঞ্জু স্য়ামসন এবং অভিষেক শর্মা। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে ভারত হারায় অভিষেক শর্মার উইকেট। অভিষেক ১১ বলে ১০ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ৬ বলে ১০ রান করে ফেরেন ঈশান কিষানও। শুরুতেই জোড়া উইকেট হারিয়ে বেশ খানিকটা চাপে পড়ে যায় ভারত। ইডেনের গ্যালারিতে তখন নিস্তব্ধতা। ছোটদের মুখে হতাশা, বড়রা ব্যস্ত ভুল-ত্রুটি বাছতে। প্রশ্ন উঠছিল টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়া নিয়েও। কিন্তু অধিনায়ক সূর্য যে ফিল্ডিং নিয়ে ভুল করেননি তা প্রমাণ করলেন সূর্য। দেখালেন ক্রিজে টিকে থাকলে এই পিচে ব্যাট করা বেশ সহজ। ঈশান কিষান ফিরতেই দলের হাল ধরেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং সঞ্জু স্যামসন। ২৬ বলে ঝকঝকে হাফসেঞ্চুরি বেরিয়ে এল সঞ্জুর ব্যাট থেকে। এরপরই তৃতীয় ধাক্কা খেল ভারত। ১৬ বলে ১৮ রান করে ফিরে যান সূর্যকুমার যাদব। তবে ভারতের রানের গতি থামেনি। ১১ ওভার শেষে ১০০ রান পূরণ করে ফেলে। মিডল অর্ডারে কিছুটা হলেও ভরসা দিয়েছিলেন তিলক বর্মা। ১৫ বলে ২৭ রান করে তিনিও ফিরে যান। ১৭ রান করে আউট হয়ে যান হার্দিকও। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেন সঞ্জু স্যামসন। তিনি ৯৭ রানে শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। চার বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে জেতালেন টিম ইন্ডিয়াকে।

    অনেককে জবাব দেওয়ার ছিল সঞ্জুর

    কয়েক দিন আগে এই সঞ্জুকে খেলানো নিয়ে প্রশ্নের জবাব অধিনায়ক সূর্য বলেছিলেন, “আপনি চাইছেন আমি অভিষেককে বসিয়ে সঞ্জুকে খেলাই।” সেই কথার মধ্যে কোথাও একটি তাচ্ছিল্য মেশানো ছিল। ফলে অনেককে জবাব দেওয়ার ছিল সঞ্জুর। বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে মঞ্চ করে তুললেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, সুযোগ পেলে তা কীভাবে কাজে লাগাতে হয়। এই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে কোনও সুযোগ দেননি সঞ্জু। ক্রিকেটের পরিভাষায় ক্লিনিক্যাল ইনিংস যাকে বলে। ঝুঁকি নিয়ে একটিও শট খেলেননি। যখন বড় শট খেলেছেন, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেছেন। যত সময় গড়াচ্ছিল, তত ভারত জয়ের পথে এগোচ্ছিল। তার মধ্যে হার্দিকের ক্যাচ ফস্কান হোল্ডার। তত ক্ষণ ভাল ফিল্ডিং করছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু কঠিন সময়ে চাপ সামলাতে পারল না তারা। শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে দলকে জেতালেন সঞ্জু। ৫০ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকলেন। ১২ চার ও চার ছক্কা মারেন। ৩ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া হলেও এই ইনিংস শতরানের থেকে কম নয়। দলকে জিতিয়েও কোনও বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখাননি সঞ্জু। পিচে হাঁটু মুড়ে বসে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। হাতজোড় করে প্রণাম করলেন। তার পর মাঠ ছাড়লেন।

    ‘‘এই ইনিংসটা আমার কাছে গোটা পৃথিবী’’

    সেরার পুরস্কারটা নিতে এসে বললেন, ‘‘এই ইনিংসটা আসলে আমার কাছে গোটা পৃথিবী। যেদিন থেকে আমি খেলা শুরু করেছি, সেদিন থেকেই দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। এমন একটা ইনিংসের জন্যই আমি এতদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। এই যাত্রাটা এককথায় অসাধারণ। রাস্তায় অনেক চড়াই-উতরাই এসেছে। কখনও নিজের উপর সন্দেহ হয়েছে। আশঙ্কা দানা বেঁধেছিল, আদৌ দায়িত্ব পূরণ করতে পারব কি না? তবে আজ ঈশ্বর যেভাবে আমাকে আশীর্বাদ করেছেন, সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ।’’ একইসঙ্গে, রোহিত-কোহলিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেন, ‘‘এই ফরম্য়াটে আমি অনেকদিন ধরে খেলছি। কোহলি, ধোনি, রোহিত শর্মাদের মতো কিংবদন্তীদের থেকে অনেককিছু শিখেছি। পরিস্থিতি অনুসারে কীভাবে খেলা বদলাতে হয়, তা জেনেছি। আজকের দিনটা আমার জীবনে অবশ্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পরিস্থিতি অনুসারে ব্যাট করেছি। প্রত্যেকটা বলের মেরিট অনুসারে খেলেছি।’’

    ভাঙলেন কোহলির রেকর্ড

    ইডেনে রান তাড়া করতে নেমে একটি রেকর্ডও গড়লেন সঞ্জু। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এত দিন ভারতের হয়ে রান তাড়া করতে নেমে সবচেয়ে বেশি রান ছিল বিরাট কোহলির দখলে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৮২ রান করেছিলেন তিনি। সেই রেকর্ড এই ম্যাচে ভেঙে দিলেন সঞ্জু। টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন সূর্য। ব্রেন্ডন কিং না থাকায় এই ম্যাচে হোপের সঙ্গে ওপেন করতে নামেন রস্টন চেজ। পাওয়ার প্লে-তে সাবধানি ব্যাটিং করেন দু’জনে। রান তোলার গতি খুব বেশি না থাকলেও উইকেট পড়েনি। তবে পড়তে পারত। জসপ্রীত বুমরার বলে ক্যাচ তোলেন চেজ। বলের নীচে পৌঁছেও গিয়েছিলেন অভিশেক শর্মা। কিন্তু সহজ ক্যাচ ফেলেন তিনি। সেই ক্যাচ ধরা নয়, ফস্কানো কঠিন। অভিষেক সেটাই করে দেখান। সুযোগ কাজে লাগান চেজ।

    বুমরার বলে বাজিমাত

    ওপেনিং জুটিতে ৬৮ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জুটি ভাঙেন বরুণ চক্রবর্তী। তাঁর বল পিছনের পায়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন হোপ। ৩৩ বলে ৩২ রান করেন তিনি। তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারলেও ১৭টি ডট বল খেলেন তিনি। হোপ আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নামেন শিমরন হেটমায়ার। চলতি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা ব্যাটার। শুরু থেকেই হাত খুলে শট মারতে শুরু করেন তিনি। এক ধাক্কায় দলের রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন তিনি। বাধ্য হয়ে বুমরার হাতে বল তুলে দেন সূর্য। অধিনায়ককে নিরাশ করেননি বুমরা। আউট করেন হেটমায়ারকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ব্যাটারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৩ বল করেছেন বুমরা। আউট করেছেন ছ’বার। ১২ বলে ২৭ রানে আউট হন হেটমায়ার। দু’বল পরেই বুমরা ফেরান চেজকে। তিনি করেন ২৫ বলে ৪০ রান।

    সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি ভারতের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়। এর আগে ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৭৩ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। ১২ বছর পর সেই নজির ভাঙল। ১০ বছর পর একটি বদলাও নিল ভারত। ২০১৬ সালে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে ১৯২ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিদায় নিয়েছিল ভারত। সেই হারের বদলা ইডেনে নিল ভারত।

    সেমিফাইনালে কারা

    বিশের বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) খেতাব জয়ের থেকে চার দলই কেবল দুই জয় দূরে দাঁড়িয়ে। একদিকে যেখানে ভারত আর ইংল্যান্ড রেকর্ড তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে, সেখানে নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমবার বিশের বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া। চার সেমিফাইনালিস্ট। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সুপার এইটে গ্রুপ ১-র শীর্ষে শেষ করা দল গ্রুপ ২-র রানার্সের বিরুদ্ধে খেলবে এবং আরেক সেমিফাইনালে গ্রুপ ২-র শীর্ষে থাকা দল খেলবে গ্রুপ ১-র রানার্স আপের বিরুদ্ধে। এই সমীকরণ অনুযায়ী বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুম্বইয়ে ভারত মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের, আর ইডেনে নিউজিল্যান্ড খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। সেমিফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইডেনও। তবে, রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ইডেন ছিল আপন ছন্দে। ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো থামিয়ে সঞ্জুর প্রতিটা শটে উঠেছে মেক্সিকান ওয়েভ। সূর্য-হার্দিকদের সঙ্গে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার উল্লাসে মেতেছে ইডেনের গ্যালারি।

  • P-75I: চেয়েছিল পাকিস্তানও, আগ্রহ দেখায়নি বার্লিন! জার্মানির সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সাবমেরিন চুক্তির পথে ভারত! কী এই ‘প্রজেক্ট ৭৫আই’?

    P-75I: চেয়েছিল পাকিস্তানও, আগ্রহ দেখায়নি বার্লিন! জার্মানির সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সাবমেরিন চুক্তির পথে ভারত! কী এই ‘প্রজেক্ট ৭৫আই’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) সাবমেরিন শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) প্রকল্পে অবশেষে বড় অগ্রগতি ঘটল। ভারতীয় নৌবাহিনী এবং জার্মান সংস্থা টুসেনক্রপ মারিনা সিস্টেমস্ (TKMS)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা খরচ সংক্রান্ত আলোচনা শেষ হয়েছে। সূত্রের মতে, আগামী অর্থবছরের শুরুতেই এই বহুচর্চিত চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রকল্পের কৌশলগত গুরুত্ব

    প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) প্রকল্পের আওতায় ভারতে ছয়টি আধুনিক ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন তৈরি হবে, যেগুলিতে থাকবে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তির ফলে সাবমেরিন দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকতে পারবে, যা ভারতীয় নৌবাহিনীর নজরদারি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে। এই প্রকল্প শুধুমাত্র একটি ডুবোজাহাজ কেনার চুক্তি নয়, বরং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কারণ, চুক্তিটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সঙ্গে এটি সরাসরি সংযুক্ত হতে চলেছে।

    খরচ ও দরকষাকষির বাস্তবতা

    প্রকল্পটির চূড়ান্ত মূল্য প্রকাশ না হলেও অনুমান করা হচ্ছে, মোট ব্যয় কমপক্ষে প্রায় ৯ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা)। এটিই হতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রচলিত শক্তিচালিত সাবমেরিন চুক্তি। প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা মাঝগাঁও ডকইয়ার্ড লিমিটেড (MDL) ও টুসেনক্রপ-এর দর ছিল ১.২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। ২০১৮ সালে প্রকল্পের ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল মাত্র ৪৩,০০০ কোটি টাকা। ফলে ব্যয়ের এই বিপুল বৃদ্ধি নিয়ে প্রতিরক্ষা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে, জার্মান সংস্থার সঙ্গে নতুন করে দর-কষাকষি করে খরচের ভার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয় এমডিএলের নতুন ম্যানেজমেন্ট। নৌসেনার লক্ষ্য ছিল ৬০,০০০–৭০,০০০ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তা ৮০ থকে ৮২ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকতে পারে বলে অনুমান।

    কানাডার চুক্তির সঙ্গে তুলনা

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের এই প্রকল্পের খরচকে ব্যতিক্রমী বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, কানাডা জার্মানির থেকে ১২টি এই একই ‘টাইপ-২১৪’ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন কিনছে প্রায় ১২ লক্ষ কোটি ডলারে। অর্থাৎ, প্রতিটি সাবমেরিনের খরচ আনুমানিক ১ লক্ষ কোটি ডলার। অন্যদিকে, ভারতের ক্ষেত্রে এই দর পড়ছে প্রায় দেড়গুণ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের প্রকল্পের ব্যয় বেশি হওয়ার মূল কারণ প্রযুক্তি হস্তান্তর (Technology Transfer) এবং দেশীয় উৎপাদন পরিকাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্ব। অন্যদিকে কানাডার ক্ষেত্রে সব সাবমেরিন জার্মানিতেই তৈরি হবে, প্রযুক্তি স্থানান্তরেরও কোনও শর্ত নেই। ফলে, সেই দিক দিয়ে দাম ঠিক আছে।

    প্রক্রিয়াগত বাধা ও সময়সীমা

    সূত্র জানাচ্ছে, খরচ সংক্রান্ত আলোচনা শেষ হলেও এখনও কিছু প্রশাসনিক ধাপ বাকি রয়েছে। ফাইলটি অর্থমন্ত্রক হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা-বিষয়ক মন্ত্রিসভার কমিটি (CCS)-এর অনুমোদনের জন্য যাবে। এই প্রক্রিয়ার কারণেই চুক্তি স্বাক্ষর চলতি অর্থবছর থেকে পিছিয়ে পরবর্তী অর্থবছরে যেতে পারে। রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের সাত বছরের মধ্যে প্রথম সাবমেরিন সরবরাহ করতে হবে, যেখানে ৪৫ শতাংশ দেশীয় উপাদান থাকবে। পরবর্তী বছরগুলিতে একটির পর একটি সাবমেরিন যুক্ত হবে এবং দেশীয়করণের হার ধীরে ধীরে ৬০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

    এই সাবমেরিন পাকিস্তানও চেয়েছিল, পাত্তা দেয়নি জার্মানি

    এই চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক তাৎপর্যও রয়েছে। অতীতে পাকিস্তানও জার্মান সাবমেরিন প্রযুক্তি অর্জনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, যার মধ্যে টাইপ ২১৪ প্ল্যাটফর্মও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইসলামাবাদের সঙ্গে জ্বালানি, জলবায়ু প্রকল্প ও দক্ষতা উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা চালায় বার্লিন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহায়তাও প্রদান করে। তবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে জার্মানি এত সহজে পাকিস্তানের মতো দেশকে সন্তুষ্ট করবে না। ফলে, বার্লিন এই নিয়ে আগ্রহই দেখায়নি। সেখানে ভারতেই তৈরি হবে এই ৬টি সাবমেরিন। যার জন্য ভারতকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তর করতেও রাজি বার্লিন। এখানেই তফাত।

    সাবমেরিনের ক্ষেত্রে ভারত-জার্মানি দীর্ঘ সম্পর্ক

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সাবমেরিন নির্মাণ ও উন্নত সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে জার্মানির প্রধান অংশীদার হিসেবে ভারত উঠে এসেছে। এই প্রথম নয় যে, ভারত জার্মানির থেকে সাবমেরিন নিচ্ছে। এর আগে জার্মানি থেকে শিশুমার শ্রেণির ৪টি ডিজেল-বিদ্যুৎ ডুবোজাহাজ কিনেছিল ভারতীয় নৌসেনা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে। ফলত, জার্মান প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই মজবুত করছে না, বরং অঞ্চলজুড়ে সাবমেরিন শক্তির সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত এখন জার্মানির উন্নত সাবমেরিন প্রযুক্তির প্রধান গ্রাহক ও অংশীদার হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজ অবস্থান সুদৃঢ় করছে।

    ভারতের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ

    প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) প্রকল্প ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও সামুদ্রিক কৌশলের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যদিও এর উচ্চ ব্যয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবু প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার দিক থেকে এটি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারত শুধু সাবমেরিন শক্তিতে নয়, বরং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্প মানচিত্রেও একটি শক্তিশালী উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে (IOR) ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ও সাবমেরিন মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) প্রকল্পের সাবমেরিন ভারতীয় নৌবাহিনীর সমুদ্রতল যুদ্ধক্ষমতায় একটি কৌশলগত সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উন্নতমানের সাবমেরিনগুলি কেবল প্রতিরক্ষা শক্তিই বাড়াবে না, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে অন্যান্য নৌশক্তির দ্রুত সম্প্রসারিত সাবমেরিন বহর ভারতের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) সাবমেরিন যুক্ত হওয়ায় ভারতের দীর্ঘপাল্লার টহল ক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি সমুদ্রের গভীরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ভারতীয় নৌবাহিনী অ্যান্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া-ডিনায়াল (A2/AD) কৌশলকে আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হবে। সামগ্রিকভাবে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় নৌবাহিনী সমুদ্রতলের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বাসযোগ্য শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • T20 World Cup 2026: ৯০০ টাকার টিকিট বিকোচ্ছে ৫-৭ হাজার টাকায়! ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে ইডেনে মুখোমুখি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    T20 World Cup 2026: ৯০০ টাকার টিকিট বিকোচ্ছে ৫-৭ হাজার টাকায়! ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে ইডেনে মুখোমুখি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেট জ্বরে কাঁপছে কলকাতা। এসআইআর লিস্ট নিয়ে আমজনতার আগ্রহ অন্তত শনিবার চোখে পড়েনি। ময়দান চত্বরে একটাই আলোচনা, কীভাবে মিলবে রবিবার ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ (India vs West Indies )ম্যাচের টিকিট। রবিবার ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’। এই ম্যাচে যে জিতবে, সে পা রাখবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) সেমিফাইনালে। ম্যাচের ফলাফল কী হবে, সেটা তো সময়ই বলবে। কিন্তু তা বলে দর্শকদের জন্য বিনোদনের কমতি থাকছে না। এই হাইভোল্টেজ, ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। কিন্তু এই উন্মাদনার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে টিকিট কালোবাজারি চক্রও। ৯০০ টাকার টিকিট বিকোচ্ছে ৫-৭ হাজার টাকায়।

    ক্রীড়া-বিনোদনের জন্য মুখিয়ে ইডেন

    জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে বড়় জয়ের পরেও নিরাপদ নয় ভারতের সেমিফাইনালে ওঠা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অবশ্যই জিততে হবে ভারতকে। সেই ম্যাচ যদি বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায় তাহলে ছিটকে যাবে ভারত। তবে জিতে গেলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত ভারতের। লেজার শো থেকে দেশাত্মবোধক গান, রবিবার সবই থাকছে ক্রিকেটের নন্দনকাননে। মাঠে সূর্যকুমার-অভিষেকদের ব্যাট থেকে রানের ফুলঝুরি দেখার জন্য মুখিয়ে ক্রিকেটভক্তরা। কিন্তু ইডেন কোনওভাবেই খালি হাতে ফেরাবে না দর্শকদের। থাকছে লেজার শো। এছাড়া দেশাত্মবোধক গানও থাকছে। যার মধ্যে একটা বাংলা ভাষায়। বাজবে ‘ধুরন্ধর’-এর গান। এখানেই শেষ নয়। দর্শকদের উন্মাদনার জন্য স্লোগান উঠবে ‘বন্দে’। দর্শকরা উত্তর দেবেন ‘মাতরম’।

    টিকিটের দেদার কালোবাজারি

    ইডেনের ম্যাচে টিকিটের দেদার কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার লোয়ার টিয়ারের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার টাকায়। শনিবার টাকার অঙ্কটা ৫০ হাজারে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাছাড়াও আপার টিয়ারের টিকিট বিক্রির খবর পাওয়া গিয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকায়।

    দু’টি বিশেষ মেট্রো

    ম্যাচ শেষের পর দর্শকদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ব্লু লাইনে দু’টি বিশেষ মেট্রো চালানো হবে। এই পরিষেবাগুলি চলবে এসপ্ল্যানেড–দক্ষিণেশ্বর এবং এসপ্ল্যানেড–শহিদ ক্ষুদিরাম রুটে। দু’টি মেট্রোই রাত ১১টা ১৫ মিনিটে এসপ্ল্যানেড থেকে ছাড়বে এবং পথে সমস্ত স্টেশনে থামবে। বিশেষ এই পরিষেবার ক্ষেত্রে টিকিট কাউন্টার খোলা থাকবে শুধুমাত্র এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনে। ফলে ম্যাচ শেষে দর্শকরা সেখান থেকেই টিকিট কেটে সহজে মেট্রো ধরতে পারবেন।

    বোলিং ইউনিট নিয়ে চিন্তা

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে ভারতের সবচেয়ে চিন্তার কারণ বরুণ চক্রবর্তী এবং শিবম দুবের অফ ফর্ম। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, এই বিশ্বকাপে বোলিং ইউনিট নিয়ে চিন্তায় রয়েছে ভারতীয় দল। খোদ সূর্যকুমার নিজেও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। আসলে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মাত্র দুই ওভার বল করেছেন শিবম দুবে। দিয়েছেন ৪৭ রান। ওদিকে বরুণ চক্রবর্তী এবং অক্ষর প্যাটেল দুই জনেই ১টি করে উইকেট নিয়েছেন। দিয়েছেন ৩৫ রান। মাথায় রাখতে হবে, অক্ষর প্রথম দিকে দারুণ বল করছিলেন। তবে শেষে গিয়ে তিনিও ভাল রান দেন। আর সূর্যও এই বিষয়টা নিয়ে চিন্তিত। প্রথমে ব্যাট করে তাই স্কোরবোর্ডে বড় রান তোলাই লক্ষ্য ভারতের।

     

     

     

     

  • SIR Final List: মুখ্যমন্ত্রীর ভবানীপুরে ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ! ওই কেন্দ্রে দাঁড়াবেন কি মমতা, কী বলছে বিজেপি?

    SIR Final List: মুখ্যমন্ত্রীর ভবানীপুরে ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ! ওই কেন্দ্রে দাঁড়াবেন কি মমতা, কী বলছে বিজেপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর-র চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুর বিধানসভায় মোট ৪৭ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়েছে। ২০২১ সালের উপনির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকে ৫৮ হাজার ৮৩২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন মমতা। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপি-র প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। বেশ কিছুদিন ধরে বিজেপি হুঙ্কার দিচ্ছে, এই কেন্দ্রে তারা জিতবে। এই আবহে কত নাম বাদ পড়বে, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সংখ্যাটা সামনে এল।

    মোট কত ভোটার বাদ পড়ল ভবানীপুরে

    এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সময় কমিশন জানিয়েছিল, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মোটা ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬ হাজার ২৯৫। গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, ৪৪ হাজার ৭৮৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। এবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আরও ২ হাজার ৩২৪ জনের নাম বাদ পড়ল। সবমিলিয়ে ভবানীপুর কেন্দ্রে বাদ পড়েছে ৪৭ হাজার ৯৪ জনের নাম। শুধু ৪৭ হাজার নাম বাদ নয়, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে আরও ১৪ হাজার ১৫৪ জনের নাম অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে। নথি যাচাইয়ের পর বাদ পড়লে ভবানীপুরে নাম বাদের সংখ্যা আরও বাড়বে। ভবানীপুর কেন্দ্রে বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৫৯,২০১ জন।

    ভবানীপুরে দাঁড়াবেন মমতা!

    এই নাম বাদের কোনও প্রভাব কি বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) পড়বে? উঠছে প্রশ্ন। এদিন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “২ জায়গার ভোটার কিংবা যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে। আবার এই তালিকা প্রকাশের পরও নাম তোলার সুযোগ রয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৪৭ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। তবে যাই হোক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ভবানীপুরে দাঁড়াতে সাহস পাবেন বলে মনে হয় না।” ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রাক্কালে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদাররা একাধিকবার ভবানীপুরে এসে দাবি করেছেন, এবার বিজেপি এই আসনে জিতবে। শুক্রবার শুভেন্দু বলেছিলেন, “উনি জানেন কাদের ভোটে জিতেছিলেন। ওটা বিজেপির জায়গা। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আপনি দাঁড়ান। পালাবেন না। বাকিটা বুঝে নেব।”

    রাজ্যে কত ভোটারের নাম বাদ পড়ল

    কমিশন সূত্রে খবর, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেই ৫৮ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর নতুন করে আরও ৭ লক্ষ ভোটারের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ (Deleted) বা মুছে ফেলা হয়েছে এমন মন্তব্য লেখা হয়েছে। অর্থাৎ, সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৬৫ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর বাইরে, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকলেও তার পাশে ‘বিচারাধীন’ লেখা রয়েছে। এই নামগুলি চূড়ান্ত কি না, তা নিয়ে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন।

LinkedIn
Share