Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • PM Modi: ‘‘বুথ শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়’’ ভোটের আগে বুথকর্মীদের ভোকাল টনিক মোদির

    PM Modi: ‘‘বুথ শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়’’ ভোটের আগে বুথকর্মীদের ভোকাল টনিক মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুথ শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়, আর গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে দেশ এগিয়ে যায়।’মেরা বুথ, সবসে মজবুত’ কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বুথের কর্মীদের এই কথাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুথকর্মীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রায় ১ ঘণ্টা কথা বলেন মোদি (PM Modi)। কর্মীদের পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান তিনি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বাংলা সফরের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।

    বুথে বুথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে হবে

    হাতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরেই বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন। তার আগে বুথস্তরে আলাদা করে নজর বিজেপির। আগের ভোটগুলি দেখলেও দেখা যাবে বরাবরই নির্বাচনের আগে বুথস্তরে সবথেকে বেশি জোর দিয়েছে পদ্ম শিবির। এবারও তার অন্যথা হল না। এবার বাংলার বুথ কর্মীদের সঙ্গে কথা বললেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলছেন, বুথে বুথে গিয়ে মানুষকে বোঝান। যেখানে যেখানে বিজেপির সরকার আছে সেখানে কোনও সিন্ডিকেট রাজ নেই। কর্মীদের এই বার্তাও দেন মোদি। বুথ স্তরে কর্মীদের উদ্দেশ্যে মোদির সাফ কথা, বাংলায় ভয়ের পরিবেশ রয়েছে। রাজনৈতিক হিংসা থেকে দুর্নীতি যত খারাপ জিনিস হয় সব বাংলায় চরম সীমায় রয়েছে। সব এতে অতিষ্ট। মহিলা ও যুবদের মধ্যে প্রভাব সর্বাধিক। তাঁদের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনারা তৃণমূল স্তরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের এরকমই ক্ষোভ দেখতে পান। মানুষকে বোঝাতে হবে নির্মম সরকার থাকলে কোনও উন্নয়ন হবে না। বুথে বুথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে হবে।

    বাংলার সঙ্গে এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক

    এদিন মোদি জানান, বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর কণ্ঠে ছিল আবেগ, আর সেই আবেগের মধ্যেই ছিল বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক বাংলার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে তিনি মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত শক্তি, উৎসাহ এবং পরিবর্তনের ইচ্ছা অনুভব করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এই শক্তির ভিত্তি হল বুথ স্তরের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং মানুষের অটুট বিশ্বাস।’মেরা বুথ, সবসে মজবুত’ শুধুমাত্র একটি স্লোগান নয়, বরং গণতন্ত্রকে তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী করার এক বাস্তব আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরেন মোদি।

    সাধারণ মানুষ দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের চাপে ভুগছেন

    কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, শ্রমিকরা শোষণের শিকার হচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষ দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের চাপে ভুগছেন। তিনি এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের যেসব রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে সেখানে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। বাংলার মানুষও সেই পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। সেই শক্তি বাংলার মানুষের মধ্যে রয়েছে। যুব সমাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলার বহু যুবক আজ নিজের রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা অত্যন্ত কষ্টের। তিনি আশ্বাস দেন, এমন এক পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা হবে যেখানে যুবকদের স্বপ্ন পূরণ হবে নিজের মাটিতেই।

    ‘বুথ সশক্তিকরণ অভিযান’

    ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে ২০২১-এর ‘ভুল’ করতে চাইছে না বিজেপি। ‘আমার বুথ, সবচেয়ে মজবুত’ ‘বুথ সশক্তিকরণ অভিযান’ কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। বুথস্তরে শক্তির মূল্যায়ন করা হচ্ছে প্রতিটি মণ্ডল ধরে। বুথে বুথে শক্তি বাড়ানোর যে ব্লু প্রিন্ট বিজেপি তৈরি করেছে, তাতে কমিটিতে কারা থাকবেন, কত জন থাকবেন এবং কার কী কাজ হবে তা-ও সবিস্তার বলা রয়েছে। ১১ জনের বুথ কমিটি গড়ার পাশাপাশি নির্দেশ প্রতিটি কমিটিতে ২০ জন সদস্য থাকা চাই। যাঁরা ওই বুথের ভোটার তালিকার এক একটি পাতার দায়িত্বে থাকবেন। তাঁদের বলা হবে পৃষ্ঠা প্রমুখ। এঁরা ওই পাতায় নাম থাকা পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন ও দলের হয়ে কথা বলবেন। গড়ে পাঁচটি করে বুথ নিয়ে একটি করে শক্তিকেন্দ্র বানিয়ে তারও এক জন প্রধান থাকবেন। সকলে মিলে এলাকার ভোটারদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবেন। কোনও বুথ এলাকায় তফসিলি জাতি, জনজাতি সম্প্রদায়ের বসবাস হলে তাঁদেরও বুথ কমিটিতে রাখতে হবে।

    বিধানসভায় জেতার অঙ্ক

    প্রধানমন্ত্রী কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বুথ স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে হবে, উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে ছিল কৌশল, দিকনির্দেশনা এবং এক প্রবল অনুপ্রেরণা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সাধারণ মানুষের কাছে কোন কোন বিষয় নিয়ে যাবেন বুথ স্তরের কর্মীরা তাও একবার পরিষ্কার করে দিলেন স্বয়ং মোদি। কারণ, বুথে বুথে এগিয়ে থাকতে পারলেই সংশ্লিষ্ট বিধানসভায় জেতার অঙ্কটা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

     

  • Poila Baisakh: হারিয়ে যাচ্ছে হালখাতা! বড়দের প্রণাম-মিষ্টিমুখ-মাছভাত ছেড়ে দিনের শেষে রেস্তরাঁ, নবরূপে নববর্ষ

    Poila Baisakh: হারিয়ে যাচ্ছে হালখাতা! বড়দের প্রণাম-মিষ্টিমুখ-মাছভাত ছেড়ে দিনের শেষে রেস্তরাঁ, নবরূপে নববর্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা নববর্ষের (Poila Baisakh) সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা প্রাচীন ব্যবসায়িক ও সাংস্কৃতিক রীতি ‘হালখাতা’। বাংলার ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রথম দিনটাকে হালখাতা হিসেবে পালন করে থাকেন। তার সঙ্গে দোকানে লক্ষ্মী-গণেশের পুজো ও ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। বাঙালির ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এই হালখাতা। সময়ের স্রোতে এখন অনেকটাই ম্লান এই উৎসব। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে কাগজের খাতার প্রয়োজনীয়তা কমেছে। ডিজিটালের ছোঁয়ায় পয়লা বৈশাখের সেই হালখাতার উৎসব ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার পথে। এখন হালখাতা উৎসব যেন পরিণত হয়েছে নিয়ম রক্ষার উৎসবে। দোকানগুলোতে আর নেই সেই আলোকসজ্জা। হালখাতার কার্ড ছাপানোয় নেই সেই তড়িঘড়ি।

    ডিজিটালে বাঁধা জীবন

    দোকান সাজিয়ে খরিদ্দারকে আপ্যায়ন করার দিন শেষ। ক্রেডিট কার্ড, অনলাইন শপিং, অনলাইনে পেমেন্ট করার ধাক্কায় হালখাতার পলেস্তারা খসছে দিনকে দিন। পুরনো বছরের বকেয়া শোধ করাতে আর খে্রোর খাতা খোলার দরকার নেই, ধারকর্যের হিসেবটা মনে করাতে এসে গিয়েছে ‘স্মার্ট পেমেন্ট রিমাইন্ডার’। এখনকার সময়ের ডিজিটাল হালখাতা বলা যেতে পারে। এআই অ্যাপ স্বয়ংক্রিয় ভাবে গ্রাহকদের ধার শোধ করার বার্তা পাঠায় হোয়াট্‌সঅ্যাপ বা এসএমএসে। পয়লা বৈশাখে গণেশ পুজোর পর প্রথম টাকা নেওয়া এখন ই-ওয়ালেটে হয়। ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন সরাসরি ব্যাঙ্কে জমা হয় এবং ডিজিটাল লেজারে তার হিসেব সংরক্ষিত হয়ে থাকে। ভুল হওয়ার বা গড়মিলের কোনও জায়গাই নেই।

    বাড়িতে নয়, স্বাদ বদল রেস্তরাঁয়

    একটা সময় পয়লা বৈশাখ মানেই ছিল দিনের শুরুতে নতুন জামা পরে পরিবারের বড়দের প্রণাম করা, দুপুরে বাড়িতে ঘরোয়া ভাবেই খাওয়াদাওয়ার বিশেষ আয়োজন আর সন্ধ্যাবেলা বাড়িতে ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজনের জমায়েত। এখন বাঙালির কাছে পয়লা বৈশাখ মানে সারাদিনের কাজকর্ম সেরে কোনও এক বাঙালি রেস্তরাঁয় খেতে যাওয়া। বড়দের প্রণাম করাটাও এখন ফোনে ফোনেই সেরে ফেলা হয়। তাই বাংলা নববর্ষের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে হালখাতা। তবে আগের থেকে এখনকার দিনে হালখাতার উদযাপন অনেকটাই কমে এসেছে। আগে অনেক দোকানী হালখাতা উপলক্ষ্যে রীতিমত নিমন্ত্রণ পত্র ছাপিয়ে উত্‍সবের আয়োজন করতেন। এখন বিভিন্ন অ্যাপ ও অনলাইন শপিং-এর কারণে হালখাতার সেই আগেকার দিনের জৌলুস কমে এসেছে। কম্পিউটারেই ব্যবসার হিসেব রাখেন বেশিরভাগ দোকানীরা। তাই খাতার ব্যবহারও কমে গিয়েছে অনেকটাই।

    ধর্মীয় রীতি এখনও এক

    সময়ের চাকায় বদল এলেও উৎসব আছে। রয়েছে মঙ্গলময় ভাবনা। নববর্ষের প্রথম দিনে দোকান পরিষ্কার করে, ফুল দিয়ে সাজিয়ে, লক্ষ্মী গণশের পুজো করা হয়ে থাকে। তার সঙ্গে থাকে ক্রেতাদের জন্য সামান্য হলেও মিষ্টিমুখের আয়োজন ও একটা বাংলা ক্যালেন্ডার। নতুন বছরে নতুন যে খাতায় ব্যবসার হিসেব রাখা হবে, সেই খাতাটি কোনও মন্দিরে নিয়ে গিয়ে পুজো করিয়ে আনার প্রথা আছে। খাতার প্রথম পাতায় সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ব এঁকে দেন পুরোহিতরা। কালীঘাট মন্দিরে এদিন ভিড় উপচে পড়ে ব্যবসায়ীদের। হিন্দুধর্মে স্বস্তিক চিহ্ন বিশেষ মঙ্গল বার্তা বহন করে। তাই যে কোনও পুজো বা শুভ অনুষ্ঠানে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক এঁকে দেওয়া হয়।

    পাড়ার মোড়ে  প্রভাতফেরি কোথায়

    ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ২০২৬ সাল। আজ পয়লা বৈশাখ। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের শ্রেষ্ঠ উৎসব। তবে উৎসবের মেজাজ এক থাকলেও, যান্ত্রিকতা আর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে পালনের ধরন। ফিরে তাকালে দেখা যায়, বিশ শতকের শেষার্ধ বা একুশ শতকের শুরুর সেই সাবেকিয়ানা আর আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের বৈশাখের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। আগেকার দিনে পয়লা বৈশাখ মানেই ছিল সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে নতুন জামা পরে গুরুজনদের প্রণাম করা। পাড়ার মোড়ে মোড়ে তখন চলত প্রভাতফেরি। শান্তিনিকেতনী ঘরানায় গান-কবিতায় বরণ করে নেওয়া হতো নতুন বছরকে। বৈশাখের আগের মাস জুড়ে চলত ‘চৈত্র সেল’। আর পয়লা বৈশাখে গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র বসত মেলা। নাগরদোলা, মাটির পুতুল আর জিলিপির গন্ধে ম ম করত মেলার মাঠ।

    নববর্ষে সোশ্যাল মিডিয়া লাইভ

    ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে চিত্রটা অনেকটাই আধুনিক। এখন আর নিমন্ত্রণ পত্রের বদলে হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ডিজিটাল কার্ড’ পাঠাতেই মানুষ বেশি অভ্যস্ত। তবুও বাঙালির আবেগে খুব একটা ভাটা পড়েনি। কেনাকাটার ধরণ বদলেছে। চৈত্র সেলের ভিড় এখন অনেকটাই স্থানান্তরিত হয়েছে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে।  এখন মানুষ সশরীরে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি ভিডিও কলে প্রবাসী পরিজনদের সাথে উৎসবে সামিল হয়। পাড়ার সেই জলসা আজ হয়তো কম দেখা যায়, কিন্তু তার জায়গা করে নিয়েছে বর্ণাঢ্য মেগা ইভেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া লাইভ। রূপ বদলালেও নস্টালজিয়া রয়েছে। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো হলেও, নববর্ষের আলাদা গুরুত্ব আছে। বর্তমানে এই বিশেষ দিন উপলক্ষে সেজে ওঠে সমস্ত শপিং মল থেকে শহরের রাস্তাঘাট। সকলে রাগ-অভিমান, দুঃখ -কষ্ট ভুলে গা ভাসান উৎসবের আনন্দে।

     

  • Vikram Misri’s US Visit: ভারত-আমেরিকা জ্বালানি চুক্তি নিয়ে আলোচনা, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর মার্কিন সফরে নয়া দিক

    Vikram Misri’s US Visit: ভারত-আমেরিকা জ্বালানি চুক্তি নিয়ে আলোচনা, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর মার্কিন সফরে নয়া দিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো আসতে পারেন ভারত সফরে। তিনদিনের আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী (Vikram Misri’s US Visit)। সেখানে বাণিজ্য এবং ‘কোয়াড’-সহ নানা বিষয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তার পরই আমেরিকার বিদেশ সচিবের ভারত সফরের বিষয়টি গতি পেয়েছে। বিক্রমের আমেরিকা সফরে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকগুলিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোরে। তিনি পরে সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘বিক্রম মিস্রীকে স্বাগত জানাই। মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রুবিয়ো ভারত সফরে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন’।

    পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা

    বিক্রম মিস্রী-র (Vikram Misri) সাম্প্রতিক এই সফর (৮–১০ এপ্রিল) ভারত–মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক ও জ্বালানি সহযোগিতায় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছে। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট (Chris Wright)-এর সঙ্গে বৈঠকে উভয় দেশ অসামরিক পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অগ্রগতির মূল ভিত্তি হল ভারতের নতুন পরমাণু আইন, যা গত ডিসেম্বর মাসে পাস হয়েছে।

    শান্তি আইন (SHANTI) কী

    ভারতের পরমাণু শক্তি খাতে বেসরকারি সংস্থাগুলির প্রবেশের পথ প্রশস্ত করেছে ‘সাসটেনেবল হারনেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অফ নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া (SHANTI)’ আইন। এই আইনের প্রধান লক্ষ্য, স্বাধীনতার ১০০ বছর তথা ২০৪৭-এ পরমাণু বিদ্যুতের পরিমাণ ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ভারতের ‘শান্তি’ আইন ২০২৫-কে স্বাগত জানিয়েছে। বিলটি পাশ হওয়ার পরেই এটিকে ‘শক্তিশালী শক্তি নিরাপত্তা অংশীদারি’ এবং ‘শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা’র দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে আমেরিকা। কেন্দ্রের দাবি, এখন ৮.৮ গিগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। ২০৪৭-এ তা ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়া, যাতে পেট্রল-ডিজ়েল আমদানির উপরে নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়, সে জন্যই পরমাণু বিদ্যুৎক্ষেত্রে বেসরকারি লগ্নি প্রয়োজন।

    পরমাণু খাতে বড় সংস্কার

    নতুন শান্তি আইন (SHANTI) ভারতের পরমাণু নীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এতদিন এই খাত পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, এখন থেকে বেসরকারি সংস্থাগুলিও পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে। এই আইনের ফলে—
    বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। পরমাণু উৎপাদন ক্ষেত্রে মার্কিন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশগ্রহণ সহজ হবে। পরমাণু শক্তি উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত হবে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই আইনি সংস্কার ভারত–মার্কিন শক্তি সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

    ২০৪৭ লক্ষ্য: ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু শক্তি

    ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে— আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর সফরে শুধু জ্বালানি নয়, আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে— বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) উপর জোড় দিয়েছে দুই দেশ। ইন্দো-প্যাসিফিক ও পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়।

    বাণিজ্য চুক্তি

    চলতি মাসের শেষেই আমেরিকা সফরে যাচ্ছে এক উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধি দল। লক্ষ্য, দুই দেশের মধ্যেকার বাণিজ্য চুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এই খবর জানিয়েছেন। সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ রাষ্ট্রদূত জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যিক নীতিগুলি সফল করতে মার্কিন প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে তাঁর ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে। সার্জিও গর বলেন, “ভারত ও আমেরিকা ইতিমধ্যেই একটি বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি হয়েছে। এই মাসেই ভারতীয় প্রতিনিধি দলকে ওয়াশিংটনে স্বাগত জানাতে আমরা প্রস্তুত।”

    দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি

    বিদেশ মন্ত্রক একটি সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “বিদেশ সচিবের ওয়াশিংটন ডিসি সফরের ফলে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা করার এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে চলমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “এই সফরে বিদেশ সচিব মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত এমন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিও আলোচনায় উঠে আসে।”

  • ED Summons: ইডির নজরে প্রতীক জৈনের পরিবার, আইপ্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতার ভাই ও স্ত্রীকে তলব

    ED Summons: ইডির নজরে প্রতীক জৈনের পরিবার, আইপ্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতার ভাই ও স্ত্রীকে তলব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অর্থ পাচার মামলায় ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের স্ত্রী এবং ভাইকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Summons)। মঙ্গলবারই সংস্থার অন্যতম কর্ণধার ভিনেশ চান্ডেলকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, আইপ্যাক মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হাওয়ালা লেনদেনের অভিযোগের তদন্তে নেমে ইডি প্রতীকের ভাই পুলকিত জৈন এবং স্ত্রী বার্বি জৈনকে ১৫ এপ্রিল, অর্থাৎ বুধবার ডেকে পাঠিয়েছে। দিল্লিতে সংস্থার সদর দফতরে যেতে বলা হয়েছে আইপ্যাক কর্তার স্ত্রী এবং ভাইকে।

    অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে জিজ্ঞাসাবাদ

    জানুয়ারিতেই কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলায় কলকাতায় প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি (ED Summons)। এরপর ফের একবার ইডি হানা। একই মামলায় হায়দরাবাদ, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুতে আই-প্যাকের বিভিন্ন অফিসে তল্লাশি চলে এপ্রিল মাসের শুরুতে। হায়দরাবাদ, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুতে আই-প্যাকের বিভিন্ন অফিসে হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। পাশাপাশি, সংস্থার আরেক ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিং-এর বেঙ্গালুরুর বাড়িতেও হানা দিয়েছে সংস্থা। উল্লেখ্য, পুলকিতও আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত। ওই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ইডি-র সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, বুধবার অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর মামলায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    শীর্ষ আদালতে পিছোলো শুনানি

    সোমবার আইপ্যাক-কর্তা ভিনেশের দিল্লির ঠিকানায় হানা দিয়েছিল ইডি (ED Summons)। ওই রাতেই তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থাটির অন্যতম পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতাকে তারা গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার ভোরে পটীয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক (এএসজে) শেফালি বার্নালা ট্যান্ডন বিনেশের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন। আদালতে ইডি জানিয়েছে, আইপ্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ৩৩ শতাংশের অংশীদার। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর অধীনে একটি মামলায় তিনি তদন্তাধীন রয়েছেন। দিল্লি পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআর থেকে এই মামলার সূত্রপাত। এই মামলার উত্তাপ ছড়িয়েছে কলকাতাতেও। গত ৮ জানুয়ারি যখন কলকাতার আইপ্যাক দপ্তর এবং প্রতীকের বাসভবনে ইডি তল্লাশি চালায়, তখন সেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। ইডির অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নথিপত্র এবং ল্যাপটপ সরিয়ে তদন্তে বাধা দিয়েছেন। এই অভিযোগে ইডি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও, মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত সেই শুনানি অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে।

     

     

     

     

     

  • Charak Festival: “আমরা দুটি ভাই শিবের গাজন গাই…” বাংলায় উদযাপিত একটি সনাতন ধর্মীয় লোক উৎসব গাজন

    Charak Festival: “আমরা দুটি ভাই শিবের গাজন গাই…” বাংলায় উদযাপিত একটি সনাতন ধর্মীয় লোক উৎসব গাজন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমরা দুটি ভাই শিবের গাজন গাই…” গ্রাম বাংলায় এক বহুল প্রচলিত উৎসব গাজন। পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশেও সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষরা শিবের গাজনের মাধ্যমে নিজেদের ইষ্টের সঙ্গে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করেন। তার জন্য অনেকে পুরো চৈত্র মাস ধরে পালন করেন সন্ন্যাস। যার অবসান হয় চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত গাজন উৎসবের মধ্যে দিয়ে। আর গাজনের পরিসমাপ্তি হয় চড়ক পুজোতে (charak puja)। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে পয়লা বৈশাখের আগের দিন বা চৈত্র সংক্রান্তিতে পালিত হয় চড়কের পুজো। চৈত্র সংক্রান্তি (Chaitra Sankranti Gajon) থেকে শুরু হয়ে নববর্ষের প্রথম দু-তিন দিন ধরে চড়ক পুজোর (Charak Festival)  উৎসব চলে। এই উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হল মেলা।

    চড়কের ইতিহাস নিয়ে নানা কাহিনি

    এই চড়কের ইতিহাস নিয়ে নানা কাহিনি প্রচলিত আছে। লিঙ্গপুরাণ, বৃহদ্ধর্মপুরাণ এবং ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে চৈত্র মাসে মহাদেবের পুজো ও সেই উপলক্ষ্যে উৎসবের উল্লেখ থাকলেও চড়ক পুজোর কথা বলা নেই। তবে প্রাচীনকালে পাশুপত সম্প্রদায়ের মানুষেরা এই উৎসব পালন করতেন। প্রচলিত কাহিনি অনুসারে ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামের এক রাজা প্রথম চড়ক পুজোর প্রচলন করেছিলেন। চড়ক পুজো উপলক্ষ্যে গাজনের মেলা বসে এই সময়। একটি লম্বা কাঠকে চড়ক গাছ হিসেবে পুজো করা হয়। এই চড়কগাছে একজন ভক্ত বা সন্ন্যাসীকে চাকার সঙ্গে বেঁধে দ্রুতবেগে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর পিঠে, হাতে, পায়ে এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গে জ্বলন্ত বাণ শলাকা ঢুকিয়ে দেওয়ার রীতিও প্রচলিত রয়েছে। তবে এখনকার দিনে এই প্রথা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে এসেছে। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার আইন করে এই নিয়ম বন্ধ করে দেয়। তবে গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের মধ্যে কোথাও কোথাও এখনও তা প্রচলিত আছে।

    কীভাবে হয় চড়ক পুজো

    শিব পার্বতীর বিয়ের উত্‍সব হিসেবেও চড়ক পালন করেন অনেকে। চড়ক সংক্রান্তির আগের দিন দিন নীল পুজো থেকে সন্ন্যাসীরা উপোস থাকেন। পরদিন বিকেলে এই বিশেষ চড়ক পুজো শেষ করেই তারা নিজেদের উপোস ভাঙেন। এই পুজোর আর এক নাম গম্ভীরাপুজো বা শিবের গাজন। আগের দিন চড়ক গাছটিকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে রাখা হয়। এতে জলভরা একটি পাত্রে শিবলিঙ্গ রাখা হয়, যা বুড়োশিব নামে পরিচিত। যেখানে চড়ক গাছ থাকে, সেই জায়গাটিকে গ্রামের দিকে বুড়ে শিবতলাও বলা হয়ে থাকে অনেক জায়গায়। কোনও পতিত ব্রাহ্মণ এই পুজোর পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন।

    গাজন-গান, বহুরূপী

    গাজনের সন্ন্যাসী বা ভক্তরা নিজেদের শরীরকে বিভিন্ন উপায়ে যন্ত্রণা দিয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে ইষ্ট দেবতাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন। গাজন উপলক্ষ্যে তাঁরা শোভাযাত্রা সহকারে দেবতার মন্দিরে যান। শিবের গাজনে দু’জন সন্ন্যাসী শিব ও গৌরী সাজেন এবং অন্যান্যরা নন্দী, ভৃঙ্গী, ভূতপ্রেত ও দৈত্য-দানব প্রভৃতির সং সেজে নাচ করতে থাকেন। শিবের নানান লৌকিক ছড়া, আবৃত্তি ও গান করা হয়। চৈত্র সংক্রান্তির গাজনে কালীর নাচও একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান। অনেক জায়গায় শিব পার্বতী সেজেও গ্রামের রাস্তায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে নানা ভাবে মনোরঞ্জন করে থাকেন অনেকে। এই ভাবে বাড়ি বাড়ি ঘুরে দান সংগ্রহ করেন এঁরা। এঁদের বহুরূপী বলা হয়ে থাকে। আগেকার দিনের বাংলা সাহিত্যে বহুরূপীর উল্লেখ অনেক স্থানে পাওয়া যায়।

    সনাতন ধর্মীয় লোক উৎসব

    গাজন উৎসব (Chaitra Sankranti Gajon) ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ও বাংলাদেশে উদযাপিত একটি সনাতন ধর্মীয় লোক উৎসব। এই উৎসব শিব, মনসা ও ধর্মরাজ ঠাকুরের পুজোকেন্দ্রিক উৎসব। মালদায় এই গাজনের নাম গম্ভীরা আর জলপাইগুড়িতে গমীরা। চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহজুড়ে সন্ন্যাসী বা ভক্তদের মাধ্যমে শিবের গাজন অনুষ্ঠিত হয়। আর চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক পুজোর সঙ্গে সঙ্গে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। প্রাচীনকাল থেকেই রাঢ়বঙ্গের শৈব-সংস্কৃতির একটি বিশেষ অঙ্গ হচ্ছে গাজন। গাজন কথাটির মানে হল, গাঁ বা গ্রাম এবং জন বা জনগণ। অর্থাৎ গাজন হল গ্রামের জনগণের নিজস্ব উৎসব। অন্য মতে, গাজন শব্দটি এসেছে ‘গর্জন’ থেকে। অনেকে বলেন, সন্ন্যাসীদের হুঙ্কারই শিবসাধনায় গাজন নামে প্রচলিত হয়।

    বাংলা সাহিত্যে চড়ক

    বাংলার মঙ্গলকাব্যেও গাজনের উল্লেখ মেলে। ধর্মমঙ্গল কাব্যে রানি রঞ্জাবতী ধর্মকে তুষ্ট করতে গাজন পালন করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। সাহিত্যেও গাজনের উল্লেখ মেলে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’তে গ্রামবাংলায় গাজন উৎসবের উল্লেখ রয়েছে। তিনি লিখেছেন– ‘চড়কের আর বেশি দেরি নাই। বাড়ি বাড়ি গাজনের সন্ন্যাসী নাচিতে বাহির হইয়াছে। দুর্গা ও অপু আহার নিদ্রা ত্যাগ করিয়া সন্ন্যাসীদের পিছনে পিছনে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরিয়া বেড়াইল।’ শিবের আরাধনায় গাজনের সাড়ম্বর রূপের বিস্তার বাংলায় কমবেশি সর্বব্যাপী। আঞ্চলিক বিভিন্নতায় রীতিনীতিতে প্রভেদ থাকলেও, শিবগাজন একান্ত ভাবে সাধারণ মানুষের। গাজন-সংশ্লিষ্ট নাচ, গান, নাটক, মেলা নিয়ে যে সার্বিক আবহ তা গ্রাম-সংস্কৃতির এক অনন্য ছন্দোবদ্ধ প্রকাশ। ছো, সঙ, গম্ভীরা, গমীরা, বোলান ইত্যাদি কত বঙ্গীয় সংগীত-নৃত্য-নাট্যধারা মিশে থাকে গাজনের সঙ্গে।
    কলকাতার দুজায়গায় চড়ক-গাজন খুব ভালো ভাবে হয়– একটি হল উত্তরে ছাতুবাবু-লাটুবাবুর বাজারে, অন্যটি দক্ষিণে কালীঘাট অঞ্চলে। কলকাতার এ দুটি জায়গা ছাড়াও হাওড়ার বাইনান, নদিয়ার শান্তিপুরে এবং বর্ধমানের অম্বিকা কালনাতেও গাজন খুব বর্ণময়। কলকাতার গাজন-চড়ক নিয়ে হুতোম প্যাঁচার নকশায় উল্লেখ হয়েছে। তারও আগে এর উল্লেখ রয়েছে দেওয়ান রামকমল সেনের লেখায়। এশিয়াটিক সোসাইটির সচিব রামকমল সেন লিখেছেন চড়ক (Charak Festival)  শব্দটি এসেছে চক্র থেকে, যা চক্রাকারে ঘোরে। চড়কগাছে কিন্ত এই বৃত্তকার ঘোরার বিষয়টি রয়েছে।

     

  • I-PAC Director Arrested: গ্রেফতার আই-প্যাকের ডিরেক্টর ও সহ প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেল, ১০ দিনের ইডি হেফাজত

    I-PAC Director Arrested: গ্রেফতার আই-প্যাকের ডিরেক্টর ও সহ প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেল, ১০ দিনের ইডি হেফাজত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়লা পাচার মামলায় (coal scam case) গ্রেফতার হলেন আই-প্যাকের (I-PAC) অন্যতম ডিরেক্টর ও সহ প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেল (Vinesh Chandel Arrested)। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ১০দিন আগে এই গ্রেফতারি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বেআইনি লেনদেন সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার ভিনেশ চান্ডেল। তাঁকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করেছে ইডি। গত ২ এপ্রিল ভিনেশের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চলেছিল। সেই সময় বেশ কিছু নথিপত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে ইডি সূত্রে দাবি।

    কেন গ্রেফতার

    ইডি সূত্রে খবর, ভোটের সঙ্গে এই গ্রেফতারির কোনও যোগ নেই। কয়লা পাচার মামলায় আগে থেকেই তদন্ত চলছিল। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়। ইডি সূত্রে খবর, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে ভিনেশ চান্ডেলকে দিল্লিতে গ্রেফতার (I-PAC Director Arrested) করা হয়েছে। গত ২ এপ্রিল দিল্লিতে চান্ডেলের বাড়ি ছাড়াও, বেঙ্গালুরুতে আই-প্যাকের আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ঋষি রাজ সিংয়ের বাসভবনে তল্লাশি করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এর আগেই আইপ্য়াকের ২ কর্তা প্রতীক জৈন ও ঋষিরাজ সিংকে দিল্লির অফিসে তলব করে নোটিস দেওয়া হয়। ৩০ এপ্রিলের পরে হাজিরা দিতে চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে যান তাঁরা। ১৭ এপ্রিল দিল্লি হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানি রয়েছে। ডির তরফে দাবি, ভিনেশের বাড়িতে তল্লাশির পরও তাঁদের তদন্ত চলছিল। তদন্তকারীদের হাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আসে। সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই এই গ্রেফতারি বলে দাবি কেন্দ্রীয় এজেন্সির। ইডি সূত্রে খবর, আইপ্যাকের অন্যতম ডিরেক্টরের উত্তরে সন্তুষ্ট না হওয়ার কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    কে এই ভিনেশ চান্ডেল

    ভিনেশ চান্ডেল ভোটকুশলী হিসেবে কর্মরত। তিনি ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আই-প্যাক, এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। প্রশান্ত কিশোর, প্রতীক জৈন এবং ঋষিরাজ সিং এক সঙ্গে আই-প্যাক তৈরি করেন। এই মুহূর্তে চান্ডেল আইপ্যাকের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকেন। ইডি কর্তারা জানিয়েছেন, ‘প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট’ (PMLA)-এর বিধান অনুযায়ী দিল্লিতে চান্ডেলকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার গভীর রাতেই তাঁকে দিল্লির পাটিয়ালা কোর্টের বিচারকের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চলে শুনানি। ভোর পর্যন্ত শুনানি হয়। ভিনেশকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির দাবি, বাংলায় কয়লা পাচারের প্রায় ২০ কোটি টাকা ‘হাওয়ালা’র মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে।

  • US Iran War: হরমুজ অবরোধ আমেরিকার! কাদের জাহাজ আটকাবে মার্কিন সেনা? কারা ছাড় পাবে?

    US Iran War: হরমুজ অবরোধ আমেরিকার! কাদের জাহাজ আটকাবে মার্কিন সেনা? কারা ছাড় পাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবরুদ্ধ হরমুজ। সোমবার ভারতীয় সময় অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকেই হরমুজ প্রণালীতে ‘অবরোধ’ শুরু করল আমেরিকা। তবে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সায় দেয়নি ব্রিটেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার ইরান যুদ্ধের শুরুতেই নিঃশর্ত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। কিন্তু স্টার্মার তাঁর আশা পূরণ করেননি। এবার ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী অবরোধের সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করল লন্ডন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল থেকে হরমুজ অবরোধের যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিয়েছেন, তাতে তাঁর সায় নেই, পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন ব্রিটিশ বাহিনী ইরানের বন্দর অবরোধের অভিযানে শামিল হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

    কাদের আটাকানো হবে, কারা ছাড় পাবে

    ট্রাম্পের নির্দেশের পর আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হরমুজে অবরোধ নিরপেক্ষ ভাবে সকল দেশের উপরেই প্রয়োগ করা হবে। যে সমস্ত জাহাজ ইরানের কোনও না কোনও বন্দরে প্রবেশ করার চেষ্টা করবে বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে, সেগুলিকেই আটকানো হবে। আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরগুলির ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে। তবে ইরানের বন্দরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না-রেখে যে জাহাজগুলি হরমুজ দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের বাধা দেবে না মার্কিন সেনা। তাদের জলপথে যাতায়াতের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।

    ট্রাম্পের নির্দেশ

    মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নাবিকদের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে দেওয়া হয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে শুল্ক দিয়ে যে সমস্ত দেশ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি পদক্ষেপ করবেন। সেই ভাবনা থেকেই অবরোধ শুরু করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহণের জন্য ইরানকে শুল্ক দেওয়া ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকা-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘাত শুরুর পর হরমুজের জলে যে মাইন পেতেছিল ইরানের সেনা, সেগুলিও ধ্বংস করার কাজ আমেরিকা শুরু করবে। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘যারা বেআইনি শুল্ক দেয়, তাদের কেউ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে না। আর আমাদের উপর ইরান থেকে কেউ যদি কোনও হামলা করে বা গুলি চালায়, শান্তিপূর্ণ ভাবে যাতায়াতকারী কোনও জাহাজের উপর যদি হামলা হয়, আমরা তাদের নরকে পাঠাব।’’

    ইরানের পাল্টা

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা দিয়েছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। বলা হয়েছে, হরমুজের দিকে কোনও সামরিক জাহাজ যদি এগিয়ে আসে, তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসাবে ধরা হবে এবং কঠোর ভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ আমেরিকার উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘তোমরা যদি যুদ্ধ করো, আমরাও করব। তোমরা যদি যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসো, আমরাও যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করব।

  • Asha Bhosle Funeral: চোখের জলে বিদায়,আবেগে ভাসল দেশ! রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য

    Asha Bhosle Funeral: চোখের জলে বিদায়,আবেগে ভাসল দেশ! রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চোখের জলে বিদায় সুরের সম্রাজ্ঞীকে। শিবাজী পার্ক শ্মশানে সম্পন্ন হল আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য। ত্রিবর্ণ পতাকায় মোড়া দেহ, শেষ শ্রদ্ধায় ভিড় উপচে পড়ল মুম্বইয়ের রাজপথে। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলেকে (Asha Bhosle Died) বিদায় জানাতে আবেগে ভাসল দেশ। উপস্থিত সচিন থেকে আমির খান। চোখে জল সকলের!

    শোকের আবহ

    মুম্বইয়ের লোয়ার পারেলে শোকের আবহ। সোমবার শেষযাত্রার আগে আশা ভোসলেকে তাঁর বাসভবনেই শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিজন ও অনুরাগীরা। কাসা গ্র্যান্ডে শিল্পীর বাড়িতে সোমবার পৌঁছে যান মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। সেখানেই প্রয়াত শিল্পীকে শেষশ্রদ্ধা জানান তিনি। আশার শায়িত দেহে দেশের জাতীয় পতাকা জড়িয়ে দেওয়া হয় এই দিন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান জানানো হয় তাঁকে। বলিউডের বহু তারকা এসে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আশার পরিবারের সকলেও সোমবার শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিতেশ দেশমুখ, তব্বু। সপরিবার শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন সচিন তেন্ডুলকরও। গোটা পরিবেশ এদিন ছিল গম্ভীর ও স্তব্ধ। নীরবতা, প্রার্থনা আর আবেগে ভরা এক আবহে চলে শেষ শ্রদ্ধা জানানো। বিকেল ৪টের সময়ে শিবাজী পার্কে আশার শেষকৃত্য (Asha Bhosle Funeral) সম্পন্ন হয়। শনিবার আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আশা ভোসলে। খবর ছড়াতেই উদ্বেগ ছড়ায় অনুরাগীদের মধ্যে। সকলে প্রার্থনা শুরু করেছিলেন।তবে শেষরক্ষা হয়নি। রবিবার প্রয়াত হন আশা ভোসলে।

    সব ধরনের গানেই সমান সাবলীল

    ভারতীয় সংগীতে আশা ভোঁসলের অবদান অনস্বীকার্য। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে গজল, ক্যাবারে থেকে আধুনিক—সব ধরনের গানেই সমান সাবলীল ছিলেন তিনি। গানের সংখ্যা এবং বৈচিত্র—দুই ক্ষেত্রেই ছিলেন অনন্য। একদিকে যেমন ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘ইয়ে মেরা দিল’–এর মতো ক্যাবারে ও ওয়েস্টার্ন ধারার গান। অন্য দিকে আবার ‘ইন আঁখোঁ কি মস্তি’, ‘মেরা কুছ সামান’, ‘দিল চিজ় ক্যা হ্যায়’–এর মতো গজল ও আধুনিক সুরে তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। তাঁর নাম রয়েছে সর্বাধিক স্টুডিও রেকর্ডিংয়ের বিশ্বরেকর্ডে। দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে মিলেই হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতের সোনালি যুগ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে বদলে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে সকলের থেকে আলাদা করেছে বরাবর। তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন, ২০০৮ সালে পেয়েছেন পদ্মভূষণ। এ ছাড়া, ১৯৯৭ সালে গ্র্যামির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। গোটা কেরিয়ারের শুরুটা হয়েছিল শৈশবে, বাবার মৃত্যুর পর। তারপর দীর্ঘ পথচলায় একের পর এক সাফল্য, স্মরণীয় গান আর অগণিত অনুরাগী—সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে এক অমলিন উত্তরাধিকার। তাঁর প্রয়াণে সেই অধ্যায়েরই অবসান কিন্তু রয়ে গেল তাঁর গান, যা বেঁচে থাকবে চিরকাল।

  • US Iran War: ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা সমঝোতা ব্যর্থ, হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

    US Iran War: ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা সমঝোতা ব্যর্থ, হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরুতেই ব্যর্থ ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’ (Islamabad Talk Collapses)। ফলে নতুন করে ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ (US Iran War) বাধা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে গত ১১ এপ্রিল ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’ আয়োজিত হয় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানে। সেখানে যোগ দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ও ইরানি পার্লামেন্টের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বেশ কিছু ক্ষণ পর শান্তি বৈঠক থেকে বেরিয়ে দু’পক্ষই জানিয়ে দেয় যে আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। পরে এই নিয়ে আলাদা আলাদা করে বিবৃতি দিয়েছেন ভান্স ও গালিবাফ। সেখানে একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাতে দেখা গিয়েছে তাঁদের।

    বৈঠক ভেঙে যাওয়ার প্রেক্ষাপট

    এই বৈঠককে গত কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বৈঠক শেষে ভ্যান্স স্পষ্টভাবে জানান, “ইরান আমাদের চূড়ান্ত প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করেছে।” অন্যদিকে তেহরানের অভিযোগ—মার্কিন দাবি “অতিরিক্ত” এবং “আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী”। ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমেরিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভান্স। তা ছাড়াও ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন বিশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কাশনার। ভান্স তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘আমরা কোনও সমঝোতায় পৌঁছোতে পারিনি। এই খবর আমেরিকার চেয়ে ইরানের জন্য বেশি খারাপ। সমঝোতা ছাড়াই আমরা আমেরিকায় ফিরে যাচ্ছি। আমাদের শর্তগুলো খুব পরিষ্কার ভাবে ওঁদের জানিয়েছি, কী আমরা চাই এবং কী চাই না। যতটা সম্ভব স্পষ্ট করেই আমাদের অবস্থান জানিয়েছি। ওরা সেটা মানতে চায়নি।’ বৈঠক চলাকালীন ট্রাম্পের সঙ্গে অনবরত যোগাযোগ রেখেছিলেন ভান্সরা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, ৬ থেকে ১২ বার ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের ফোনে কথা হয়েছে। ট্রাম্পের বলে দেওয়া প্রস্তাবগুলিই ইরানের সামনে রেখেছিলেন ভান্স। তাতে ইরানের জবাব, তাদের অবস্থান ফোনেই ট্রাম্পকে তিনি জানান। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও সুরাহা হল না।

    আলোচনা ভাঙার পিছনে কারণ

    ইসলামাবাদ বৈঠকের ব্যর্থতা শুধু একটি কূটনৈতিক পরাজয় নয়—এটি পুরো পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালী এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ‘চোকপয়েন্ট’। যুদ্ধ থামার বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও অস্থির হয়ে উঠছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়নি, কিন্তু পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। যে কোনও সময় আবার বড় আকারে হামলা শুরু হতে পারে। ইসলামাবাদে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।

    পারমাণবিক চুক্তি

    একটি জায়গাতেই ইরান-আমেরিকা (US Iran War) আলোচনা ধাক্কা খেয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভান্স। জানিয়েছেন, ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক বোমা তৈরি না-করার নিশ্চয়তা চান তাঁরা। তা মেলেনি। ভান্সের কথায়, ‘‘সহজ সত্যিটা হল, আমরা ইরানের কাছ থেকে পরমাণু বোমা তৈরি না-করার বিষয়ে একটা ইতিবাচক নিশ্চয়তা চাই। ওদের বলতে হবে যে, ওরা বোমা বানাবে না এবং পরমাণু বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা উপাদানও হাতে রাখবে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এটাই। সেই সমঝোতাতেই আমরা পৌঁছোতে চেয়েছি। ভান্সের এই বিবৃতির পর ইরান দাবি করেছে, আমেরিকার অবাস্তব, অযৌক্তিক দাবির কারণেই পাকিস্তানে আয়োজিত বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান যেন স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা ত্যাগ করে। কিন্তু ইরান এটিকে তার সার্বভৌম অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে প্রত্যাখ্যান করে।

    হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ

    হরমুজ প্রণালী—বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহনের পথ—এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। ইরান দাবি করে, তারা এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইঙ্গিত দেন, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে “নৌ অবরোধ” (Naval Blockade) ব্যবহার করা হতে পারে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে, ইরানের তেল রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে—যার বড় প্রভাব পড়বে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলিতে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ। কয়েকটি জাহাজই কেবল ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ইরানের পাতা মাইন (naval mines) বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    লেবানন ইস্যু

    ইরান চেয়েছিল লেবানন-এ হেজবোল্লাহ-র বিরুদ্ধে ইজরায়েল-এর হামলা বন্ধ হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল জানায়, এটি আলাদা বিষয়—এবং হামলা চলতেই থাকবে।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

    তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। সরবরাহ চেইন ব্যাহত হচ্ছে। বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কাতার ও কুয়েত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তারা সম্পূর্ণভাবে এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপগুলি চোখে পড়েতে পারে। বেড়ে যাবে মার্কিন নৌবাহিনীর টহল ও জাহাজ আটক-এর ঘটনা। ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। ইরানের পক্ষ থেকে প্রক্সি যুদ্ধের বিস্তার ঘটতে পারে।

  • Karnataka Congress: কর্নাটকে কংগ্রেসে অসন্তোষ তুঙ্গে, ৩০-র বেশি বিধায়কের দিল্লি অভিযান

    Karnataka Congress: কর্নাটকে কংগ্রেসে অসন্তোষ তুঙ্গে, ৩০-র বেশি বিধায়কের দিল্লি অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্নাটকে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের (Karnataka Congress) অন্দরে ক্রমশই বাড়ছে অসন্তোষ। মন্ত্রিসভায় রদবদল এবং নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে ৩০ জনেরও বেশি কংগ্রেস বিধায়ক রবিবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তাঁরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে এই দাবি জানাবেন বলে জানা গিয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, দিল্লিতে গিয়ে বিধায়করা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে.সি. ভেনুগোপাল, কর্নাটক দায়িত্বপ্রাপ্ত রণদীপ সুরজওয়ালা এবং রাহুল গান্ধীর-র সঙ্গে বৈঠক করবেন। সোম ও মঙ্গল এই দু’দিনের মধ্যেই বৈঠকগুলি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কী নিয়ে বিক্ষোভ কর্নাটক কংগ্রেসে

    বিধায়কদের মূল দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া যেন দ্রুত মন্ত্রিসভায় রদবদল করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ না পাওয়া সিনিয়র নেতাদের মন্ত্রীত্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস বিধায়ক বেলুর গোপালকৃষ্ণ বলেন, “অনেক নেতাকে তিন, চার, এমনকি পাঁচবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই যারা এখনও সুযোগ পাননি, তাঁদেরও এবার সুযোগ দেওয়া হোক।” অন্যদিকে, বিধায়ক অশোক পট্টন জানান, “আমাদের একটাই দাবি—যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মন্ত্রিসভা রদবদল করে আমাদের মতো সিনিয়র সদস্যদের সুযোগ দিতে হবে।” উল্লেখ্য, কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের প্রায় তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই মন্ত্রী কে.এন. রাজন্না এবং বি. নাগেন্দ্রের পদত্যাগের ফলে দুটি মন্ত্রিসভার আসন খালি রয়েছে। বিধায়কদের অভিযোগ, বহু বর্তমান মন্ত্রী একাধিকবার দায়িত্ব পেয়েছেন, ফলে অন্যদের জন্য সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

    ২৫টি মন্ত্রিত্বে পরিবর্তনের দাবি

    সূত্রের খবর, প্রায় ২৫টি মন্ত্রিত্বে পরিবর্তনের দাবি উঠতে পারে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য কংগ্রেসে (Karnataka Congress) গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের শিবিরের মধ্যে মতভেদের ইঙ্গিত মিলছে। যেখানে সিদ্দারামাইয়ার অনুগামীরা রদবদলের পক্ষে, সেখানে শিবকুমার এই প্রস্তাবে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। এখন কংগ্রেস হাইকম্যান্ড এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

LinkedIn
Share