Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Bangladesh Election: বাংলাদেশে প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষায় এগিয়ে বিএনপি, জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু-ভোট!

    Bangladesh Election: বাংলাদেশে প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষায় এগিয়ে বিএনপি, জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু-ভোট!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। প্রতিবেশী দেশটির ইতিহাসে এই নির্বাচনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানত দু’টি  মুখ্য রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি (জামাত নামেই জনপ্রিয়) ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মধ্যে ভোটের লড়াই। এই দুই দলই ভোটারদের কাছে পৌঁছতে মরিয়া। এই প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত একাধিক জনমত সমীক্ষায় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

    জামাত না বিএনপি

    হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এবং মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে আওয়ামি লিগের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর, বাংলাদেশে একসময়ের মিত্র জামায়াত ও বিএনপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি দুই রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উত্থান ঘটেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনে জয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও ইসলামপন্থী জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন একটি জোট শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ কর্মীদের পরিচালিত একটি নতুন দল হাসিনা-বিরোধী রাজপথের আন্দোলনকে নির্বাচনী শক্তিতে রূপান্তরিত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে।

    সমীক্ষায় এগিয়ে বিএনপি

    বাংলাদেশের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (IILD) পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট ৪৪.১ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেতে পারে ৪৩.৯ শতাংশ ভোট। সমীক্ষা অনুযায়ী, মোট ভোটের হিসােবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি এগিয়ে থাকলেও, যেখানে জয় প্রায় নিশ্চিত—সেসব আসনে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে। ইসলামপন্থী জোট প্রায় ১০৫টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে পারে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট নিশ্চিতভাবে জিততে পারে ১০১টি আসনে। এছাড়া ৭৫টি আসনে দুই জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ বা জাতীয় সংসদে মোট ৩৫০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ৫০টি মহিলা সংরক্ষিত আসন দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বণ্টন করা হয়।

    ভারতবিরোধী জামাত পিছিয়ে

    এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (EASD) পরিচালিত আরেকটি জনমত সমীক্ষায় বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটের আরও শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিএনপি জোট পেতে পারে প্রায় ২০৮টি আসন। জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৪৬টি আসন, জাতীয় পার্টি ৩টি আসন, অন্যান্য দল ৪টি আসন, এবং ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এই সমীক্ষায় ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দও উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, ৬৬.৩ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে সমর্থন করছেন, যেখানে জামায়াতে ইসলামির সমর্থন মাত্র ১১.৯ শতাংশ। নবগঠিত ছাত্রদের দল এনসিপি (NCP) পেয়েছে ১.৭ শতাংশ সমর্থন।

    ভারতের জন্য ইতিবাচক

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ভারতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। কারণ, বিএনপি বর্তমানে উদার-মধ্যপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে, যা কিছুটা হলেও আওয়ামি লিগের মতো। বিপরীতে, জামায়াতে ইসলামির মতো ইসলামপন্থী দলগুলোর অবস্থান প্রকাশ্যেই ভারত-বিরোধী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তবে ভারত তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করার চেষ্টা করবে। উল্লেখ্য, গত মাসেই তারেক রহমান ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করেন। তবে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতবিরোধী অবস্থান না নিলেও দলটি “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতিতে বিশ্বাসী।

    আওয়ামি লিগের সমর্থকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা

    বিএনপি এবং জামায়াত উভয়ই আওয়ামি লিগের সমর্থকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, বিশেষ করে সেই আসনগুলোতে যেখানে হাসিনার দলের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের বিশিষ্ট আওয়ামি লিগ নেতা এবং হিন্দু রাজনীতিবিদ রমেশ চন্দ্র সেনের কারাগারে মৃত্যুর পর উভয় দলের শীর্ষ নেতারা তাঁর বাড়িতে ছুটে যান, যা এই পরিবর্তনশীল ভোটব্যাঙ্কের গুরুত্বকে নির্দেশ করে। রমেশ চন্দ্র সেন পাঁচবারের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং এই অঞ্চলে তাঁর ব্যাপক প্রভাব ছিল। যেহেতু দলটি প্রতিযোগিতার বাইরে, তাই উভয় দলই চায় আওয়ামি লিগের সমর্থকরা তাঁদের ভোট দিক। একটি হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনে এই দোদুল্যমান ভোটগুলোই নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু ভোট

    হাসিনা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে হিন্দু-সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হয়ে উঠেছে নিত্যদিনের ঘটনা। তবে, নির্বাচনের আবহে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়ার পর, সব দলই প্রধান সংখ্যালঘু সম্প্রদায় – হিন্দুদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, হিন্দু ভোট শেষ পর্যন্ত নির্ধারক শক্তি হয়ে উঠতে পারে। মন্দির পরিদর্শন থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্রে হিন্দুদের অবদানের প্রশংসা চলছে। জামায়াত ও বিএনপি উভয়ই এই সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু জামায়াতের কট্টরপন্থী ও উগ্রবাদী ভাবমূর্তির কারণে হিন্দুদের মধ্যে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা বেশি। সংখ্যালঘুদের ভোট পাওয়ার এই প্রচেষ্টা শুরু হয় যখন সম্প্রতি জামায়াতের একজন প্রার্থী শিক্ষা বিস্তারে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের জন্য হিন্দুদের প্রশংসা করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, “এই অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে হিন্দুদের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না।” যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উগ্রপন্থী শক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের মন জয় করতে হলে জামায়াতকে শুধু কথার চেয়ে আরও অনেক বেশি কিছু করতে হবে। হিন্দু ভোটের ক্ষেত্রে বিএনপি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

  • Delhi Police: কীভাবে প্রকাশের আগেই প্রকাশ্যে জেনারেল নারভানের বই? তদন্ত শুরু দিল্লি পুলিশের

    Delhi Police: কীভাবে প্রকাশের আগেই প্রকাশ্যে জেনারেল নারভানের বই? তদন্ত শুরু দিল্লি পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আনুষ্ঠানিক প্রকাশের আগেই প্রকাশ্যে চলে আসে ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’র একটি কপি (Unpublished Memoir)। অনুমোদন ছাড়াই ছড়িয়ে পড়ে ওই কপি। বইটি ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানের স্মৃতিকথা (Delhi Police)। এই অভিযোগে ৯ ফেব্রুয়ারি মামলা রুজু করে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ, আইনি অনুমোদন ছাড়াই বইটির অপ্রকাশিত সংস্করণ অনলাইনে এবং কয়েকটি নির্বাচিত প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে।

    অভিযোগ দায়ের পুলিশের (Delhi Police)

    পুলিশ সূত্রে খবর, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং সংবাদ ফোরামে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়। ওইসব তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাধ্যতামূলক অনুমোদন না থাকলেও বইটির প্রি-প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তের সময় তদন্তকারীরা কয়েকটি ওয়েবসাইটে একই শিরোনামের একটি টাইপসেট পাণ্ডুলিপির পিডিএফ সংস্করণ খুঁজে পান। নথিটি পেঙ্গুইন রানডম হাউস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড কর্তৃক প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে। তারাই এই স্মৃতিকথার তালিকাভুক্ত প্রকাশক। পুলিশ লক্ষ্য করেছে, কিছু অনলাইন বিপণন প্ল্যাটফর্মে বইটির চূড়ান্ত প্রচ্ছদ প্রদর্শিত হচ্ছিল, যা থেকে ইঙ্গিত মিলছিল যে বইটি কেনার জন্য উপলব্ধ, যদিও সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও প্রকাশিত হয়নি (Delhi Police)। অপ্রকাশিত প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত একটি স্মৃতিকথা ঘিরে এই সম্ভাব্য গোপনীয়তা লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, স্পেশাল সেলে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তথ্য ফাঁসের উৎস চিহ্নিত করা এবং অনুমোদনহীন প্রচারের পরিসর নির্ধারণ করতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

    ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’

    ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’তে জেনারেল নারাভানের প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনের বিবরণ রয়েছে। এতে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট থেকে শুরু করে চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ যাত্রাপথের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মৃতিকথাটিতে তাঁর সামরিক জীবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর ভারতের সঙ্গে চিনের সবচেয়ে গুরুতর সামরিক অচলাবস্থার কথাও (Unpublished Memoir)। এই স্মৃতিকথাকে ঘিরে বিতর্ক সংসদের বাজেট-পরবর্তী অধিবেশনে আরও তীব্র হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন লোকসভায় কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী একটি ম্যাগাজিনের নিবন্ধ থেকে অংশবিশেষ পাঠ করেন, যা নাকি জেনারেল নারাভানের অপ্রকাশিত বইয়ের ওপর ভিত্তি করে লেখা (Delhi Police)।

    বিজেপির তীব্র আপত্তি

    রাহুলের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত হলেও, বিজেপি নেতৃত্ব তীব্র আপত্তি জানায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের অভিযোগ, জনসমক্ষে প্রকাশ না পাওয়া একটি বইয়ের বিষয়বস্তু সংসদে উল্লেখ করেছেন রাহুল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও সংসদীয় বিতর্কে অপ্রকাশিত প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় (Unpublished Memoir)।” প্রাথমিক গন্ডগোলের কয়েক দিনের মধ্যেই রাহুল সংসদে ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’র একটি মুদ্রিত কপি হাতে নিয়ে ফের হাজির হন। তিনি জানান, বইটি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চান। সংসদ ভবন চত্বরে বই হাতে রাহুল গান্ধীর ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে (Delhi Police)। তবে এই পর্যায়ে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। পুলিশের বক্তব্য, তদন্ত এখনও প্রাথমিক স্তরেই রয়েছে (Unpublished Memoir)।

  • T20 World Cup 2026: ধরা পড়ে গেল পাকিস্তানের নাটক! বিসিবিকে দিয়ে আবেদনপত্র লেখান নকভি, সত্যি কী?

    T20 World Cup 2026: ধরা পড়ে গেল পাকিস্তানের নাটক! বিসিবিকে দিয়ে আবেদনপত্র লেখান নকভি, সত্যি কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের হুমকি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল নিয়ে এতদিন ধরে যে টানাপোড়েন চলছিল, সোমবার গভীর রাতে পাকিস্তান সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে তার ইতি পড়েছে। সরকারি নির্দেশেই পাক দলকে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত খেলাটি খেলতে নামতে হবে, সোমবার রাতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। সেই সঙ্গে শেষ হয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি দামের এই ‘দুনিয়ার সবচেয়ে দামি ম্যাচ’ নিয়ে অনিশ্চয়তা। তবে সেই নাটকের অবসানে একের পর এক অস্বস্তিকর তথ্য সামনে আসছে, যা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সূত্রের খবর, নিজের প্রভাব ও গুরুত্ব জাহির করতেই পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে অনুরোধ করেছিলেন—পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে যেন একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র লেখা হয়, যাতে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার অনুরোধ জানানো থাকে।

    ‘সম্মানজনকভাবে পিছু হটার চেষ্টা’

    বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম ‘বুলবুল’ সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করে নকভির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত এক কর্তার কথায়, “নকভি নিজেই বুলবুলকে ফোন করে বলেন, পাকিস্তানের কাছে যেন একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়। এতে করে পুরো পরিস্থিতি থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসা যাবে।” অর্থাৎ, সরাসরি আইসিসির চাপে মাথা নত না করে তৃতীয় পক্ষের অনুরোধকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল পিসিবির কৌশল। সেই পরিকল্পনা মতোই বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রশংসা করে বলেন, “এই সময় বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে পাকিস্তান যে অতিরিক্ত উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে আপ্লুত। আমাদের ভ্রাতৃত্ব দীর্ঘজীবী হোক।” তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান সফরের পর আলোচনার সম্ভাব্য ইতিবাচক ফলাফলের প্রেক্ষিতে আমি অনুরোধ করছি—১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি খেলুক পাকিস্তান, যা পুরো ক্রিকেট বিশ্বের স্বার্থেই প্রয়োজন।”

    আইসিসির ভূমিকা

    ভারত-পাকিস্তান (India Vs Pakistan) ম্যাচের আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ম্যাচ ইতিমধ্যেই রেকর্ড ভিউয়ারশিপ ও বিপুল রাজস্বের সম্ভাবনা তৈরি করেছে—যা শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটের ব্যবসায়িক দিককেই আবারও সামনে এনে দিচ্ছে। ক্রিকেটের উন্নতিতে এই ম্যাচ আয়োজনের জন্য যা করার করেছে আইসিসি। তবে, কোনও অনৈতিক দাবিকে প্রশ্রয় দেয়নি জয় শাহ-র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। আইসিসি-ও জানত, পাকিস্তান আসলে দেখানোর জন্য এই খেলা খেলছিল। তারা বাংলাদেশ ও সেখানকার জনতাকে খুশি করতে চাইছিল। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে। মহম্মদ ইউনূসের সরকার আসার পর থেকেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে ভারতের থেকে দূরে সরাতে চেষ্টা করছে। ভারতের বিরুদ্ধে টি২০ না খেলার কৌশলও সেই দিকেই ছিল। কিন্তু আইসিসির সামনে পাকিস্তানের কোনও জারিজুরি কিছুই কাজ করেনি। বহুপাক্ষিক আলোচনা, বন্ধুরাষ্ট্রগুলির অনুরোধ ও ক্রিকেটীয় চেতনার চাপ পাকিস্তানকে পিছু হটতে বাধ্য করে। আইসিসিতে ভারত স্পষ্ট অবস্থান নেয়। আইসিসিও বড় অঙ্কের জরিমানার হুমকি দেয়। শাস্তি এড়াতে পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে খেলতেই হতো। কিন্তু পাক প্রধানমন্ত্রী জনসমক্ষে এই ম্যাচ বয়কটের কথা বলেছিলেন, তাই মুখ-রক্ষার জন্য ঘুরিয়ে পথ দেখার চেষ্টা করল পাকিস্তান, অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

  • T20 World Cup 2026: শাস্তির ভয়েই মাথা নত পিসিবির! বয়কট-নাটক শিকেয় তুলে ভারতের সঙ্গে খেলতে রাজি পাকিস্তান

    T20 World Cup 2026: শাস্তির ভয়েই মাথা নত পিসিবির! বয়কট-নাটক শিকেয় তুলে ভারতের সঙ্গে খেলতে রাজি পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবারও নিজেদের শর্ত থেকে সরল পাকিস্তান। সীমান্ত হোক বা ক্রিকেটের ময়দান, পরাজয় নিশ্চিত জেনেও বারবার একই পথে পা বাড়ায় পাক-সরকার। নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করার মরিয়া চেষ্ট করে পাকিস্তান। ফের একবার তার প্রমাণ মিলল। যাবতীয় নাটকের অবসান ঘটিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হল পাকিস্তান।(India Pakistan) সোমবার রাতে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকার। এদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয় সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির। বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাক সরকার জানিয়েছে, বন্ধু দেশগুলোর অনুরোধে ও ক্রিকেটের স্বার্থে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে বাবর আজমরা। তবে, ক্রিকেট মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল সকলেই জানে আসল সত্য। আইসিসি-র চাপের মুখেই পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। এক কথায় বিনা শর্তেই ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে হবে তাদেরকে। পিসিবি প্রধানের পেশ করা তিন শর্তই খারিজ করেছে আইসিসি।

    আট দিনে সিদ্ধান্ত বদল সরকারের

    টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার ব্যাপারে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ছাড়পত্র দিয়ে দিল সেই দেশের সরকার। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে সরকারের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, টি২০ বিশ্বকাপে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে পাকিস্তান। এ দিন রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয় সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির। তিনি আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে রবিবার রাতে হওয়া বৈঠকের ব্যাপারে জানান শরিফকে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফেও পাকিস্তানকে অনুরোধ করা হয়েছিল ভারত ম্যাচ খেলার জন্য। একই অনুরোধ এসেছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং শ্রীলঙ্কা থেকেও। এই অনুরোধের পর পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন আলোচনার নির্যাস এবং বন্ধু দেশগুলির অনুরোধের পর পাকিস্তান সরকার সে দেশের ক্রিকেট দলকে ভারতের বিরুদ্ধে ‘মাঠে নামার’ নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটের সংস্কৃতিকে রক্ষা করা এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে ক্রিকেট কে আরও বেশি করে জনপ্রিয় করে তোলার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    পাকিস্তানের তিন শর্তই খারিজ

    ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার জন্য রবিবারের বৈঠকে মোট পাঁচটি দাবি আইসিসির সামনে তুলে ধরে পিসিবি। মহসিন নকভিদের মূল তিনটি শর্তই খারিজ করে দিয়েছেন জয় শাহেরা। পিসিবির তিনটি প্রধান শর্ত ছিল—

    ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ: পাকিস্তানের দাবি ছিল, ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ যেন পুনরায় শুরু করা হয়। আইসিসি এই প্রস্তাব খারিজ করে জানায়, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন তাদের আওতায় পড়ে না, এমনকী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কাঠামোর মধ্যেও নয়।

    ত্রিদেশীয় সিরিজ: ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের কথা বলা হয়। আইসিসি এই প্রস্তাবও খারিজ করে জানায়, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের মতোই ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন তাদের আওতায় পড়ে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের বক্তব্য, দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে তাদের কোনও নির্দেশ দেওয়ার অধিকার নেই।

    ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর: ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর আয়োজনের দাবিও নাকচ করে আইসিসি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের দাবি, এগুলি একদমই দুই দেশের বোর্ডের বিষয়। এখানে আইসিসি হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

    মুখরক্ষার পথ

    পিসিবির দু’টি শর্ত মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন আইসিসি কর্তারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে বাংলাদেশকে যেন কোনওভাবেই শাস্তি না দেওয়া হয় এবং আইসিসি রাজস্বের পূর্ণ অংশ পায় বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্ত অবশ্য আইসিসি আগেই স্বাধীনভাবে নিয়ে ফেলেছিল। দ্বিতীয়ত, গত বছর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশকে একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার দাবি তোলে পাকিস্তান। এমনকী, আগামী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে। রবিবার লাহোরে মুখোমুখি বসেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। সেখানে মূলত এই নিয়েই আলোচনা হয়। এরপর, সোমবার ঢাকায় এক বিবৃতিতে বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম (Aminul Islam) পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, মাঠে নামার অনুরোধ করেন। “ক্রিকেটের স্বার্থে পাকিস্তানকে ম্যাচটি খেলতে অনুরোধ করছি।” আসলে পাকিস্তানের জন্য এটিই ছিল মুখরক্ষা করার পথ। কারণ পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ভারত ম্যাচ বয়কট করবে পাকিস্তান। তাই আমিনুলের চিঠি পাকিস্তানের অবস্থান বদলের আড়াল তৈরি করল, এমনই মত বিশেষজ্ঞদের। শেষমেশ বহুপাক্ষিক চাপেই পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পাল্টাল।

    পাকিস্তানের ভয়

    পাকিস্তান এমনিতেই আত্মসমর্পণ করত, তবে বলা হচ্ছে—বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বোঝানোর পরই পাকিস্তান সরকার বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে। যদিও আসলে ভয় পেয়েছিল পাকিস্তান। আইসিসির কঠোর শাস্তির আশঙ্কা করেছিল পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একঘরে হয়ে পড়ার ভয় ছিল তাদের মধ্যে। ভারতের সঙ্গে না খেললে বড় রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করছিল পিসিবি। বিশ্বকাপের মতো বড় ইভেন্টে অনুপস্থিত থাকলে ভাবমূর্তি আরও খারাপ হতে পারত। তাই শেষ পর্যন্ত ইউ-টার্ন পাকিস্তানের।

  • India Rafale Jet Deal: ১১৪টি রাফাল কেনা নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র! প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ছাড়পত্র চলতি সপ্তাহেই?

    India Rafale Jet Deal: ১১৪টি রাফাল কেনা নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র! প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ছাড়পত্র চলতি সপ্তাহেই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সের কাছ থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রকল্পে (India Rafale Jet Deal) বড় অগ্রগতি হতে চলেছে। চলতি মাসের ১৮ তারিখ এআই সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন ইমানুয়েল মাক্রঁ। ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই সফরের আগেই প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ বা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) এই প্রস্তাবে ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) অনুমোদন দিতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

    বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন সংকট মেটানোর লক্ষ্যে…

    সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে চলতি সপ্তাহেই বৈঠকে বসছে ডিএসি (Defence Acquisition Council)। এই বৈঠকে প্রায় কয়েক লক্ষ কোটি টাকায় রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে, গত মাসে প্রতিরক্ষা সচিবের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স প্রোকিওরমেন্ট বোর্ড প্রস্তাবটিকে অনুমোদন দিয়েছে, যার ফলে আনুষ্ঠানিক দরকষাকষির পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে (India Rafale Jet Deal)। ডিএসি-র বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে, এটি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধবিমান ক্রয় চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে। চুক্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) তীব্র স্কোয়াড্রন সংকটে ভুগছে। অনুমোদিত ৪২টি স্কোয়াড্রনের তুলনায় বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে মাত্র প্রায় ২৯টি স্কোয়াড্রন, যখন পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে চিন-পাকিস্তানের সামরিক হুমকির মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে।

    ৮৮টি সিঙ্গল-সিট, ২৬টি টুইন-সিট রাফাল

    প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা হবে (India Rafale Jet Deal)। এর মধ্যে ১৮টি এফ-৪ সংস্করণের রাফাল বিমান সরাসরি ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় আমদানি করা হবে এবং বাকি ৯৬টি বিমান ভারতেই উৎপাদন করা হবে। এর মধ্যে, অন্তত শেষের ২৪টি সর্বাধুনিক এফ-৫ সংস্করণের রাফাল হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। মোট বহরের প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয়ভাবে তৈরি হওয়ার কথা, যেখানে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় দেশীয় উপাদানের ব্যবহার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ভারতীয় বায়ুসেনা ৮৮টি সিঙ্গল-সিট এবং ২৬টি টুইন-সিট রাফাল যুদ্ধবিমান পাবে। দাসো অ্যাভিয়েশন (Dassault Aviation) এই যুদ্ধবিমানগুলির স্থানীয় উৎপাদন ও সংযোজনের জন্য ভারতের বেসরকারি খাতের সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে।

    বায়ুসেনার জন্য ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ রাফাল

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ হতে চলেছে রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তি (India Rafale Jet Deal)। অত্যাধুনিক সেন্সর ও দীর্ঘপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতার জন্য এই বিমান ইতিমধ্যেই তার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। মিটিওর (Meteor) বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্ক্যাল্প (SCALP) ক্রুজ মিসাইলের মতো আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত এই প্ল্যাটফর্ম ভারতের আক্রমণ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সমন্বয় এবং ভারতের প্রতিবেশী অঞ্চলের পরিবর্তিত ভূ-কৌশলগত পরিস্থিতির কারণেই এই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক সূত্র জানিয়েছে, “ডিএসি (Defence Acquisition Council) অনুমোদন দিলে তা পৌঁছবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটি বা ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS) বৈঠকে। সেখানে অনুমোদন পেয়ে গেলে প্রকল্পটি বিস্তারিত প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক আলোচনার পর্যায়ে প্রবেশ করবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তির (India Rafale Jet Deal) চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারিত হবে।”

  • SIR in Bengal: বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার মেয়াদ ৭ দিন বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট, ১৪ তারিখের পরে কবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ?

    SIR in Bengal: বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার মেয়াদ ৭ দিন বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট, ১৪ তারিখের পরে কবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (SIR) শুনানির সময়সীমা ১ সপ্তাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার রাজ্যের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেয় বিচারপতি সূর্য কান্ত ও জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শনিবার এই পর্বের (SIR in Bengal) সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্যের অন্তত ৭-৮টি জেলায় শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে শুনানির সময় আরও একসপ্তাহ বৃদ্ধি করার আবেদন জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। সূত্রের খবর, সেই আর্জিকে মান্যতা দিল কমিশন। এর ফলে ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতে পারে।

    কেন মেয়াদ বৃদ্ধি

    জানা যাচ্ছে, রাজ্যের ৭-৮টি জেলার অন্তত ১৫-২০টি বিধানসভায় শুনানির কাজ বাকি। এদিন সেকথা জানিয়ে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, ‘বিভিন্ন জেলায় শুনানির কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বেশিরভাগ জায়গাতেই কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। মাত্র ৩-৪ শতাংশ শুনানির কাজ এখনও বাকি।’ কোন কোন বিধানসভা কেন্দ্রে শুনানি এখনও চলবে? প্রশ্নের জবাবে সিইও আরও স্পষ্ট করেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৭টি, কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, কার্শিয়াংয়ের একটি করে বিধানসভায় শুনানি সম্পূর্ণ শেষ করা যায়নি বলে তাঁকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলার ডিইও তথা জেলাশাসকরা। এছাড়া নথি আপলোডের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। ৭০ শতাংশ নথি যাচাই বা ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন। তাই শেষ মুহূর্তে কাজ দ্রুত সম্পন্নের জন্য সময়সীমা বাড়ানো হল।

    রাজ্যের ডিজিপিকে শোকজ সর্বোচ্চ আদালতের

    সোমবার রাজ্যের ডিজিপি (DGP) পীযূষ পাণ্ডেকে শোকজ করে সর্বোচ্চ আদালত। এসআইআর (SIR in Bengal) শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, রাজ্যে কমিশনের প্রতিনিধিদের নূন্যতম নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় পুলিশ কোনও সহযোগিতা করছে না, উলটে বহু জায়গায় ‘ফর্ম ৭’ জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কমিশন নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ ওঠে। শুনানি কেন্দ্রে হামলার ঘটনা শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি সাফ বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব রাজ্য সরকার ও ডিজিপি-র।’ কেন নির্বাচন আধিকারিকরা আক্রান্ত হচ্ছেন, সেই প্রশ্ন তুলে রাজ্যের পুলিশ প্রধান পীযূষ পাণ্ডেকে শোকজ করে হলফনামা দিতে বলা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, স্বচ্ছ নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না।

  • SIR Case in Supreme Court: ‘এসআইআর হবেই, রাজ্যকে এটা বুঝতে হবে’, মমতা প্রশাসনকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    SIR Case in Supreme Court: ‘এসআইআর হবেই, রাজ্যকে এটা বুঝতে হবে’, মমতা প্রশাসনকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম দুয়ারে এসআইআর নিয়ে নিরাশ রাজ্য সরকার। ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলায় (SIR Case in Supreme Court) সোমবার কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই বাধা দেওয়া যাবে না। সুষ্ঠুভাবে এই কাজ সম্পন্ন করতে সব রাজ্যকেই নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে হবে। আদালত আরও জানায়, নির্বাচন কমিশন চাইলে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজের স্বার্থে ইআরও (ERO) বা এইআরও (AERO)-দের বদল করতেই পারে, এতে রাজ্যের আপত্তির জায়গা নেই।

    কোর্টরুমে হট্টোগোল

    এদিন শুনানির শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান গত এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এসআইআর মামলার আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামীও সে সময়ে জানান, একটি মন্দির পরিচালনকারী সংস্থার নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আবেদন জানিয়েছে। কেন এমন একটি সংস্থা হস্তক্ষেপ করছে তা নিয়ে আপত্তি জানান এই আইনজীবী। অন্যদিকে, আইনজীবী মুকুল রোহতাগিও একটি ইস্যু তোলার চেষ্টা করেন। হট্টোগোল বেধে যায় কোর্টরুমে। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হন প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘আপনারা শৃঙ্খলা মেনে না চললে জানেন প্রধান বিচারপতির হাতে কী ক্ষমতা রয়েছে? সমস্ত মামলা আমি ছুড়ে ফেলে দেব। আপনারা কি সবজির বাজারে বসে আছেন নাকি? ভুলে গিয়েছেন এটা কোর্টরুম?’

    রাজ্যকে ভর্ৎসনা

    রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, নির্বাচন কমিশনের কাছে ৮ হাজার ৫০৫ জন অফিসারের নাম কমিশনকে পাঠানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতিও জানতে চান, ‘সমস্যা তো এখানেই। কর্মী দিয়েছেন। তাঁদের নামের তালিকা আছে? আমরা বলেছিলাম বাংলা জানেন এমন কর্মী প্রয়োজন।’এই নামের তালিকা কমিশন পেয়েছে কি না তা-ও জানতে চান বিচারপতি। কারণ ‘দত্ত বা দত্তা কিংবা গাঙ্গুলি বা গঙ্গোপাধ্যায়’ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি তিনিও চান না। তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, কোনও অফিসারদের নামের তালিকা তারা পায়নি। কেবলমাত্র জেলাভিত্তিক অফিসারদের সংখ্যা জানানো হয়েছে তাদের। জবাবে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, নির্বাচন কমিশনকে পাঠানোর জন্য নামের তালিকা সম্পূর্ণ তৈরি কেবলমাত্র অনুমোদনের অপেক্ষা। ৫ কিংবা ৬ ফেব্রুয়ারি এই তালিকা কমিশনের কাছে পৌঁছে যাওয়া উচিত ছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। কার্যত ভর্ৎসনা করেই প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই নামের তালিকা আগেই আপনাদের পাঠিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। কোর্টের মাধ্যমে পাঠানোর অপেক্ষার প্রয়োজন ছিল না।’

    শুধু সংখ্যা পাঠালে হবে না

    প্রধান বিচারপতি বলেন, শুধু সংখ্যা পাঠালে হবে না। অফিসারের নাম ডেজিগনেশন সহ সমস্ত তথ্য দিতে হবে। তবে তাদের ডেপুটেশনে নেওয়া সম্ভব হবে। ৪ বা ৫ তারিখ কেন তালিকা দেওয়া হল না? প্রধান বিচারপতি এদিন রাজ্যকে বলেন, “আমরা ৪ তারিখ নামের তালিকা দিতে বলেছি। ৭ তারিখ নাম দেওয়া হয়েছে। ৪ বা ৫ তারিখ নাম দেওয়া যেত। আমরা এই বিষয় নিয়ে বিতর্ক চাই না। বিতর্ক হলে আমাদের মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দিতে হবে।” রাজ্য জানিয়েছে, তালিকা তৈরি করতে একটু সময় লেগেছে। কোথায় কত আধিকারিক প্রয়োজন জানতে চাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে রাজ্য।

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

    সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর মামলার শুনানি শুরু হতে না হতেই হট্টোগোল পড়ে যায়। পক্ষে এবং বিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের বক্তব্য পেশ করার চেষ্টা করতেই ক্ষুব্ধ হন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। এদিন মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, “এসআইআর হবেই, এটা সব রাজ্যকে বুঝতে হবে। প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য যা নির্দেশ দেওয়ার আমরা দেব।” আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সওয়াল করেন, ‘পিএসইউ থেকে নেওয়া কর্মীদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোনও সম্পর্ক নেই। অথচ তাঁদের মাইক্রো অবজার্ভার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে।’ তবে এতে অসুবিধার কিছু নেই বলেই মনে করছেন প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টে কমিশন জানায়, ‘আমরা পাঁচটি চিঠি দিয়েছিলাম। যেখানে স্পষ্ট করে বলা ছিল কোন ধরনের অফিসারদেরই আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু সেই অনুযায়ী কর্মী আমাদের দেওয়া হয়নি।’

    রাজ্যের ৮৫২৪ অফিসার ও প্রশিক্ষণ

    আদালতে উপস্থিত রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জানান, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ৮,৫২৪ জন অফিসারকে নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছে। তিনি সওয়াল করেন, “কমিশন চাইলে কাল থেকেই এই সাড়ে আট হাজার অফিসার কাজ শুরু করুক।” জবাবে নির্বাচন কমিশন জানায়, এই কর্মীদের কাজ শুরুর আগে কমপক্ষে ১০ দিনের নিবিড় প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, রাজ্যের দেওয়া অফিসাররা যেন দ্রুত কাজে যোগ দেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ৮৫০৫ জন অফিসারকে ইআরও-র কাছে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার কাছে রিপোর্ট করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সব তথ্য দেখে ঠিক করবে, কাকে নিয়োগ করা হবে, কাকে নয়। ইআরও-র সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ।

    মাইক্রো অবজার্ভার নিয়ে অবস্থান

    মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় মাইক্রো অবজার্ভারদের সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে না। ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত সমস্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রাই (ERO)। নির্বাচন কমিশন চাইলে স্বচ্ছতার খাতিরে অন্য রাজ্য থেকেও মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে পারে।

    কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ

    আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করা প্রতিটি রাজ্যের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই কাজে কোনো স্তরেই যাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, তার জন্য রাজ্য সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যে ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আরও এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে স্ক্রুটিনির জন্য। অর্থাৎ এসআইআর-এর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে  রাজ্যে।

  • PM Modi’s Malaysia Visit: আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রবীণ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ, মালয়েশিয়ায় নেতাজিকে স্মরণ মোদির

    PM Modi’s Malaysia Visit: আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রবীণ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ, মালয়েশিয়ায় নেতাজিকে স্মরণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (India PM Narendra Modi) মালয়েশিয়া সফরে রবিবার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কুয়ালালামপুর (PM Modi’s Malaysia Visit)। দু’দিনের মালয়েশিয়া সফরের শেষে রবিবার প্রধানমন্ত্রী মোদি দেখা করেন আজাদ হিন্দ ফৌজের (আইএনএ) এক প্রবীণ যোদ্ধা জয়রাজ রাজা রাওয়ের (Jairaj Raja Rao) সঙ্গে। এই সাক্ষাৎকে তিনি ‘অনুপ্রেরণাদায়ক’ বলেও উল্লেখ করেন। জয়রাজ রাজা রাও ছিলেন নেতাজির ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (Indian National Army) বা আদাজ হিন্দ ফৌজের অন্যতম সদস্য। রবিবার তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন মোদি (PM Modi-Jairaj Raja Rao Meeting)।

    অসীম সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক

    স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনগুলিতে কীভাবে তাঁরা সংগ্রাম করেছেন, নানা ঘটনার অভিজ্ঞতা শুনে গভীর আপ্লুত হন প্রধানমন্ত্রী। পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ জয়রাজের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে মোদি লেখেন, “আইএনএ-র প্রবীণ সৈনিক শ্রী জয়রাজ রাজা রাও-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ আমার জন্য সৌভাগ্যের। তাঁর জীবন অসীম সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক। তাঁর অভিজ্ঞতা শুনে আমি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত।” মালয়েশিয়ায় দু’দিনের সরকারি সফরের সময়, ৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজাদ হিন্দ ফৌজ (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি–INA)-এর প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতে তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি-র ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারতীয় সমাজে তাদের স্থায়ী অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে প্রবীণ যোদ্ধা বলেন, এই মুহূর্তটি তাঁর জীবনের এক স্মরণীয় ও তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, “এটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও সৌভাগ্যের মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রীকে খুবই প্রাণবন্ত লাগছিল এবং তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অতীত সংগ্রামের কথা গভীরভাবে স্মরণ করছিলেন। তিনি আমাকে মালা পরিয়েছেন—এটি আমার জন্য বড় সম্মান। আমরা ভারতের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছি এবং আমি বিনীতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে দেশের নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য অভিনন্দন জানিয়েছি।”

    ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে আইএনএ-র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

    এদিন প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ কেবল জয়রাজ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি দেখা করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং আজাদ হিন্দ বাহিনীর (Azaad Hind Fauz) সকল মুক্তিযোদ্ধাকে। তাঁর কথায়, “নেতাজি এবং আজাদ হিন্দ বাহিনীর প্রতিটি যোদ্ধার কাছে ভারত চিরঋণী। তাঁদের সাহস ও আত্মত্যাগ ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।” এর আগে, ৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় প্রবাসীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই অঞ্চলের ভারতীয়দের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “ভারতকে স্বাধীন করতে আপনাদের পূর্বপুরুষদের অনেকেই মহান ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। তাঁদের অনেকেই কখনও ভারতে আসেননি, তবু তাঁরা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগ দিয়েছিলেন।” নেতাজির স্মৃতিরক্ষায় মালয়েশিয়ায় গৃহীত উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, “নেতাজির সম্মানে মালয়েশিয়ার ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টারের নামকরণ করা হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামে। পাশাপাশি, নেতাজি সার্ভিস সেন্টার ও নেতাজি ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রচেষ্টাকেও আমি স্যালুট জানাই।”

  • PM Modi’s Malaysia Visit: ‘‘বিশ্বাসযোগ্যতাই ভারতের শক্তিশালী মুদ্রা’’, সংস্কৃতি থেকে কূটনীতি, মালয়েশিয়া সফরে মোদির বড় বার্তা

    PM Modi’s Malaysia Visit: ‘‘বিশ্বাসযোগ্যতাই ভারতের শক্তিশালী মুদ্রা’’, সংস্কৃতি থেকে কূটনীতি, মালয়েশিয়া সফরে মোদির বড় বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উন্নতির জন্য ভারতই এখন বিশ্বস্ত অংশীদার। ব্রিটেন, আমেরিকা, ইইউয়ের মতো বেশিরভাগই দেশই ভারতকে উন্নয়নের বিশ্বস্ত পার্টনার হিসেবে দেখে, সাম্প্রতিক একাধিক বাণিজ্য চুক্তিই তার প্রমাণ। মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে সগর্বে এই কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর এটি। প্রধানমন্ত্রী মোদির দু’দিনের এই মালয়েশিয়া (PM Modi’s Malaysia Visit) সফর ভারত–মালয়েশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উদযাপন, প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে আবেগঘন সংযোগ এবং একাধিক ভবিষ্যতমুখী ঘোষণার মাধ্যমে এই সফর দুই দেশের কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-কে আরও দৃঢ় করল, বলে অনুমান কূটনীতিকদের।

    বিশ্বাসযোগ্যতাই ভারতের শক্তিশালী মুদ্রা

    কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রবাসী ভারতীয়দের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মোদি বলেন, ‘‘ভারত ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বিশ্বাসযোগ্যতাই এখন ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা।’’ মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বার্তাও দেন তিনি। তাঁর সুরেই আনোয়ার জানান, ভারত তাঁদের ‘শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার’দের মধ্যে অন্যতম। তাঁর কথায়, ‘‘শুধুমাত্র পণ্যই আমাদের মধ্যে রফতানি হয় না। বহু ভারতীয় পর্যটক মালয়েশিয়ায় এসেছেন। শুধু ২০২৫ সালেই ১৫ লক্ষের বেশি ভারতীয় ঘুরতে এসেছেন আমাদের দেশে।’’

    প্রবাসী ভারতীয়দের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা

    কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে (MIECC) প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এক নজিরবিহীন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়, যা সফরের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টারের (NSCBICC) উদ্যোগে প্রায় ৮০০ নৃত্যশিল্পী একটানা পাঁচ মিনিটের সমন্বিত নৃত্য পরিবেশন করেন, যেখানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও লোকনৃত্যের নানা রূপ তুলে ধরা হয়। “ভারতীয় প্রবাসীদের দ্বারা একক কোরিওগ্রাফিতে সর্বাধিক সংখ্যক নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণ” হিসেবে এই পরিবেশনা মালয়েশিয়া বুক অফ রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। মালয়েশিয়া বুক অফ রেকর্ডসের সিইও ক্রিস্টোফার ওয়াং শিল্পীদের সমন্বয় ও শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই পরিবেশনাকে “স্মরণীয় মুহূর্ত” বলে অভিহিত করেন।

    মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ভারতীয়দের অবদান

    প্রধানমন্ত্রী মোদি মালয়েশিয়ায় বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রায় ২৯ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বাস মালয়েশিয়ায়, যা বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম ভারতীয় প্রবাসী জনগোষ্ঠী। তিনি বলেন, এই প্রবাসীরাই দুই দেশের মধ্যে জীবন্ত সেতুবন্ধন। দীপাবলিকে ইউনেস্কোর অদৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াকে তিনি ভারত ও মালয়েশিয়ার যৌথ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন। মালয়েশিরার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারের গায়ক-সত্ত্বার প্রশংসা করেন মোদি। একই সঙ্গে অভিনেতা-রাজনীতিক এমজি রামচন্দ্রনের তামিল গানের প্রতি মালয়েশিরার প্রধানমন্ত্রীর ভালবাসার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভারতীয় এবং মালয় ভাষার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে বলেই দু’দেশের বন্ধন এত দৃঢ়! তামিল মানুষজন এখানে দীর্ঘদিন রয়েছেন। তামিল সংস্কৃতিতে অনুপ্রাণিত হয়েই আমরা মালয় ইউনিভার্সিটিতে থিরুভাল্লুভার চেয়ারের সূচনা করেছি। এর পর তৈরি হবে থিরুভাল্লুভার সেন্টার, যা আমাদের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও জোরদার করবে।

    সেতুবন্ধনের কাজ করেন প্রবাসীরা

    মোদি এ-ও জানান, ভারত এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করেন প্রবাসী ভারতীয়েরা। মোদির কথায়, “মালয়েশিয়ার ৫০০টি স্কুলে বাচ্চাদের ভারতীয় ভাষায় পড়ানো হয়”, সে কথাও ফের মনে করিয়ে দেন মোদি। তাঁর কথায়, “ভারতের সাফল্য আদতে মালয়েশিয়ার সাফল্য এবং সব মিলিয়ে সেটা এশিয়ার সাফল্য।” ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে নমোর বার্তা, “আপনাদের মালয় বন্ধুদের নিয়ে ভারতে ঘুরতে আসুন। কারণ, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়লেই বাড়বে দু’দেশের বন্ধুত্ব।” ভারত–মালয়েশিয়ার সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কুয়ালালামপুরের ইউনিভার্সিটি মালয়ায় একটি থিরুভাল্লুভর সেন্টার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, মালয়েশিয়ার ছাত্রছাত্রীদের ভারতে পড়াশোনার সুযোগ দিতে চালু হবে থিরুভাল্লুভর স্কলারশিপ।

    বন্ধু মোদি-গর্বিত মালয়েশিয়া

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বলেন,“ভারত মালয়েশিয়ার বাণিজ্যসঙ্গীদের মধ্যে অন্যতম। আমাদের মধ্যে শুধু বাণিজ্যিক আদান–প্রদান হয় না, ২০২৫ সালে ১৫ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় পর্যটক মালয়েশিয়ায় এসেছেন। মোদিজির সঙ্গে বন্ধুত্বের জন্য আমি গর্বিত।” এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও আলোচনায় উঠে আসে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন মোদি। দু’দিনের এই সফর ভারত-মালয়েশিয়ার সম্পর্ককে আরও শক্ত ভিত্তির দিকে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ভবিষ্যতের দিশা

    আজাদ হিন্দ ফৌজ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, মালয়েশিয়া ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী। সফরের অন্যতম বড় ঘোষণা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ায় ভারতের প্রথম কনস্যুলেট খোলা হবে। এই ঘোষণায় প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। নতুন কনস্যুলেটের মাধ্যমে কনস্যুলার পরিষেবা সহজতর হবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। তিনি ভারত–মালয়েশিয়া সম্পর্ককে ইমপ্যাক্ট (IMPACT অর্থাৎ India–Malaysia Partnership for Advancing Collective Transformation) নামে অভিহিত করেন এবং প্রবাসীদের ‘বিকশিত ভারত’ ও ‘মালয়েশিয়া মাদানি’—এই দুই জাতীয় স্বপ্নে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

    ডিজিটাল ভবিষ্যৎ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি

    ভারতের গত এক দশকের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং শীঘ্রই তৃতীয় স্থানে পৌঁছনোর পথে। ডিজিটাল পরিকাঠামো নিয়ে বড় ঘোষণা হিসেবে তিনি জানান, শীঘ্রই মালয়েশিয়ায় ইউপিআই-ভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবা চালু হবে, যা পর্যটন ও ব্যবসায় নতুন গতি আনবে। তিনি আরও জানান, বিশ্বের মোট রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেনের প্রায় ৫০ শতাংশই বর্তমানে ভারতে হয়।

    কল্যাণমূলক উদ্যোগ

    প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, মালয়েশিয়ার ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ক্ষেত্রে ষষ্ঠ প্রজন্ম পর্যন্ত ওসিআই কার্ডের সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় স্কলারশিপ ট্রাস্ট ফান্ডে ৩ মিলিয়ন যোগ করা হয়েছে, যা মালয়েশিয়ান-ইন্ডিয়ান ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা করবে। সফরকালে দুই প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী ভারতীয়দের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক এক বিশেষ প্রদর্শনীও পরিদর্শন করেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ঐতিহাসিক সম্পর্কই আজও ভারত–মালয়েশিয়া বন্ধুত্বের ভিত্তি। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী মোদির মালয়েশিয়া সফর স্পষ্ট বার্তা দিল—এই সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের বন্ধনে গড়ে ওঠা এক গভীর অংশীদারিত্ব। মালয়েশিয়ায় প্রায় ২৯ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ থাকেন- যা সংখ্যার বিচারে বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম ভারতীয় প্রবাসী জনসংখ্যা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান গোষ্ঠীতেও মালয়েশিয়া ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’-র অন্যতম স্তম্ভও মালয়েশিয়া।

  • Pakistan Poor Quality Weapons: জং ধরা, পুরনো নিম্নমানের গোলাবারুদ বেচার অভিযোগ! ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলির পিঠে ছুরি মারল পাকিস্তান?

    Pakistan Poor Quality Weapons: জং ধরা, পুরনো নিম্নমানের গোলাবারুদ বেচার অভিযোগ! ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলির পিঠে ছুরি মারল পাকিস্তান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের অস্ত্র রফতানি নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। যেসব দেশ সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে অস্ত্র কিনেছে অথবা ভবিষ্যতে কেনার পরিকল্পনা করছে, তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক রিপোর্টে পাকিস্তান থেকে রফতানি হওয়া গোলাবারুদের গুণমান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

    আর্মেনিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা আজারবাইজানের

    খবরে প্রকাশ, পাকিস্তান তার মিত্র দেশ আজারবাইজানকে গোলাবারুদ ও কামানের গোলার বিভিন্ন অংশ সরবরাহ করেছে। তবে এর একটি বড় অংশ কয়েক দশক পুরনো মজুত থেকে নেওয়া বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সরঞ্জামে জং ধরা, প্রপেল্যান্ট লোড কম থাকা এবং পাল্লায় ত্রুটি থাকার মতো সমস্যা ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী আর্মেনিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা চলছে আজারবাইজানের। ভারত তার মিত্র দেশ আর্মেনিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ত্রের জন্য তুরস্ক ও পাকিস্তানের ওপর নির্ভর করে থাকে আজারবাইজান। কিন্তু ককেশাস অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের দাবি, পাকিস্তান থেকে পাঠানো অস্ত্রের মান প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই দুর্বল।

    লক্ষ্যবস্তুর আগেই মাটিতে পড়ে যাচ্ছে পাক গোলা!

    যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, পাকিস্তানের সরবরাহ করা কামানের গোলাগুলোর কার্যকারিতা আশানুরূপ নয়। পাকিস্তান যে রেঞ্জের দাবি করেছে, বাস্তবে তা মাত্র ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্তই অর্জিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই গোলাগুলি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর আগেই মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। আজারবাইজানের পাশাপাশি ইউক্রেনেও পাকিস্তানি অস্ত্রের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। রাশিয়ার হামলার শুরুর দিকে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী এম৭৭৭ হাউইৎজার কামানের জন্য পাকিস্তানে তৈরি ১৫৫ মিলিমিটার গোলা কিনেছিল। পরে অভিযোগ ওঠে, এসব গোলা সময়ের আগেই বিস্ফোরিত হচ্ছিল, যার ফলে একাধিক কামান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    পিছিয়ে আসছে আরও এক মিত্র সৌদি আরবও!

    এদিকে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবও অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে। এক সময় সৌদি আরব পাকিস্তানের গোলাবারুদ ও কামানের গোলার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা ভারতের দিকে ঝুঁকেছে। রিয়াধ ভারত থেকে ৫.৫৬ মিলিমিটার, ৭.৬২ মিলিমিটার রাউন্ড এবং ১৫৫ মিলিমিটার গোলা সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষায় ভারতীয় গোলাবারুদ ধারাবাহিকভাবে সন্তোষজনক ফলাফল দেখিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানি অস্ত্রের মান নিয়ে এই অভিযোগগুলো ভবিষ্যতে দেশটির প্রতিরক্ষা রফতানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি নতুন ক্রেতা দেশগুলোর মধ্যেও আস্থা সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

LinkedIn
Share