Tag: bangla news

bangla news

  • IPL 2026: বিক্রি হয়ে গেল রাজস্থান রয়্যালস ও আরসিবি, টাকার অঙ্কে বৈভবের দলকে টেক্কা কোহলিদের

    IPL 2026: বিক্রি হয়ে গেল রাজস্থান রয়্যালস ও আরসিবি, টাকার অঙ্কে বৈভবের দলকে টেক্কা কোহলিদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্রি হয়ে গেল প্রথম বারের আইপিএল (IPL 2026) চ্যাম্পিয়ন দল রাজস্থান রয়্যালস (Rajasthan Royals)। বৈভবদের টেক্কা দিল গতবারের বিজয়ী রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। বিরাট কোহলি, স্মৃতি মন্ধানাদের দল কিনে নিল ভারতের আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়াম। ১৭৮ কোটি ডলার বা প্রায় ১৬ হাজার ৭০৬ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে আরসিবির ১০০ শতাংশ মালিকানা। অন্যদিকে, আমেরিকার ব্যবসায়ী কাল সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম রাজস্থানের ১০০ শতাংশ মালিকানা কিনে নিয়েছে। ১৬৩ কোটি ডলারে বিক্রি হল রাজস্থান।

    কত টাকায় বিক্রি হল রাজস্থান

    গত বছর আইপিএলের (IPL 2026) পর দল বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বর্তমান মালিক গোষ্ঠী। দল বিক্রির প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যায়। বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী রাজস্থান কিনতে আগ্রহী ছিল। একাধিক প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করেছেন রাজস্থানের বর্তমান মালিকেরা। ভারতীয় মূল্যে প্রায় ১৫ হাজার ২৮৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে। সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়ামে রয়েছেন আমেরিকার আরও দুই ব্যবসায়ী। ওয়ালমার্টের কর্ণধার রব ওয়ালটন এবং ফোর্ডের কর্ণধার হ্যাম্প পরিবার।

    আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর হাতে আরসিবি

    রাজস্থান রয়্যালসের (RR) পর বিক্রি হয়ে গেল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও ( Royal Challengers Bengaluru)। দামে রাজস্থান রয়্যালসকে টেক্কা দিয়েছে বেঙ্গালুরু। গত বছর প্রথম বার আইপিএল (IPL 2026) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আরসিবি। সূত্রের খবর, আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়াম কোহলির দলকে কিনে নিয়েছে। এই সংস্থায় রয়েছে আমেরিকার ক্রীড়া বিনিয়োগকারী ডেভিড ব্লিটজার, আমেরিকার সংস্থা ব্ল্যাকস্টোন এবং টাইমস অফ ইন্ডিয়া গোষ্ঠী। আরসিবি বিক্রির সরকারি ঘোষণা অবশ্য হয়নি। মনে করা হচ্ছে, বর্তমান মালিক পক্ষের সঙ্গে সব কিছু চূড়ান্ত হয়ে গেলে সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হবে। দলের নতুন চেয়ারম্যান হচ্ছেন আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর ডিরেক্টর আর্যমান বিক্রম বিড়লা। ভাইস চেয়ারম্যান হচ্ছেন টাইমস অফ ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর সত্যেন গজওয়ানি। ২০২৬ সালের আইপিএলের পর তাঁরা দায়িত্ব নেবেন। এত দিন বেঙ্গালুরুর মালিক ছিল ব্রিটিশ কোম্পানি দিয়াজিও পিএলসি। ইন্ডিয়ান আর্ম ইউনাইটেড স্পিরিট লিমিটেডের মাধ্যমে আরসিবি’র কর্মকাণ্ড সামলাতো দিয়াজিও। আরসিবি কেনার লড়াইয়ে ছিল সুইডেনের সংস্থা ইকিউটি এবং মণিপাল হাসপাতাল গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন কনসর্টয়াম। আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়াম শেষ দিকে এই লড়াইয়ে ঢোকে। তবে, শেষ হাসি তারাই হাসল।

  • Assembly Election 2026: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন?’ ভবানীপুরে বিজেপির জয় নিশ্চিত, দাবি শুভেন্দুর

    Assembly Election 2026: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন?’ ভবানীপুরে বিজেপির জয় নিশ্চিত, দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে জিতবে বিজেপিই। ভবানীপুরে থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রে লড়তে ভয় পাচ্ছেন, দাবি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে জনসংযোগ করার সময় শুভেন্দু জানিয়েছেন, “কোনও চ্যালেঞ্জ নেই, অন্তত ২৫ হাজার ভোটে আমি জিতব।” আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) ভবানীপুর কার পাশে দাঁড়াবে? এই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এই কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে লড়বেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এত ভয় কেন?

    ভবানীপুরে হেভিওয়েট ডুয়েলের আগে কোমর বেঁধে ভোট ময়দানে নেমেছেন দুজনেই। নন্দীগ্রামের অফিসারকে ভবানীপুরে বদলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। আর তারই জবাব দিতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে খোঁচা দিলেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। বললেন, “নিজের বাড়ি, তাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত কেন ভয়?” রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন? নিজের বাড়ি। নিজের জায়গা। যেখানে তিনি ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করেন বলে বলেন। তাহলে কেন এসব বলছেন? উনি হারের আতঙ্ক থেকে এই ধরনের কথা বলছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারবেন। বিজেপি জিতবে। ভবানীপুর বিজেপির জায়গা। ২০১৪ সালে তথাগত রায় প্রথম দক্ষিণ কলকাতায় লড়েছিলেন এবং ভবানীপুরে লিড হয়েছিলেন। আমার পরম প্রাপ্তি তথাগত রায় আমায় মেসেজ করেছেন, আমি এই বয়সেও তোমার জন্য ভবানীপুরে কিছু করতে চাই। কি করতে হবে বলো, কবে যেতে হবে বলো। কর্মসূচিগুলো আমায় সূচনা দেবে। এটা পরম প্রাপ্তি আমার কাছে।”

    বিজেপির জয় সময়ের অপেক্ষা

    ভবানীপুরের নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের হিসাবও দিলেন শুভেন্দু। বললেন, “তিন দফাতে ৫১ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। প্রথমে ৪৫ হাজার। পরে ২ হাজার। আর বিবেচনাধীন তালিকায় প্রায় ৪ হাজার। এই ৫১ হাজার ভুয়ো ভোটের মালিক ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যথাটাও জানি। যন্ত্রণাটাও জানি। বুঝতে পারছেন আগামিদিনে কী হবে। পৃথিবীর কোনও শক্তি, কোনও মেডিসিনি নেই, এই কোমাতে চলে যাওয়া তৃণমূলকে পুনরুজ্জীবিত করে, বিজেপির জয় এখন সময়ের অপেক্ষা।” ভবানীপুরের পাশাপাশি, নন্দীগ্রাম নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “সেখানকার মানুষ জানেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় আমার ভূমিকা, সেখানকার মানুষ জবাব দেবে।” বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভবানীপুরে রামনবমীর মিছিলে তিনি থাকবেন বলেও এদিন জানিয়ে দেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, এবছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়। প্রথম দফায় রয়েছে ১৫২টি আসন, ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসন, ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ভোটগণনা হবে ৪ মে ।

  • Project Kusha: প্রজেক্ট কুশ-এর পরীক্ষায় সাফল্য ডিআরডিও-র, দেশীয় ‘সুদর্শন’ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ভারত

    Project Kusha: প্রজেক্ট কুশ-এর পরীক্ষায় সাফল্য ডিআরডিও-র, দেশীয় ‘সুদর্শন’ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামরিক স্বনির্ভরতার পথে আরও একধাপ এগোল ভারত। দেশীয় দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্রজেক্ট কুশ’-এর (মতান্তরে ‘কুশা’) প্রথম উন্নয়নমূলক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)-এর যৌথ উদ্যোগে ডুয়াল-পালস রকেট মোটরসহ গুরুত্বপূর্ণ সাব-সিস্টেমের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই ধাপটি সাধারণত যে কোনও মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রযুক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি তৈরি করে। এই সাফল্যের ফলে প্রকল্পটি প্রাথমিক নকশা পর্যায় পেরিয়ে এখন ২০২৬ সালে সম্ভাব্য সমন্বিত ফ্লাইট পরীক্ষার দিকে এগোচ্ছে।

    এস-৪০০ ‘সুদর্শন’-এর দেশীয় বিকল্প

    ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ‘প্রজেক্ট কুশ’। সরকারি ভাবে ‘এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ (ERADS) নামে পরিচিত এই প্রকল্পের লক্ষ্য রাশিয়ার এস-৪০০ ও ভবিষ্যতের এস-৫০০ শ্রেণির সিস্টেমের দেশীয় বিকল্প গড়ে তোলা। প্রায় ২১,৭০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প শুধু একটি প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এটি একটি নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক এয়ার ডিফেন্স দর্শনের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS) এই প্রকল্পকে অনুমোদন দিয়েছে।এই সিস্টেমের লক্ষ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও শহরগুলিকে বহুস্তরীয় সুরক্ষা প্রদান করা। স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ড্রোন থেকে শুরু করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র—বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম হবে এই ব্যবস্থা।

    মাল্টি-লেয়ারড ডিফেন্স: তিন স্তরের প্রতিরক্ষা বলয়

    ‘প্রজেক্ট কুশ’-এর মূল শক্তি এর তিন-স্তরবিশিষ্ট ইন্টারসেপ্টর আর্কিটেকচার— এম১, এম২ ও এম৩। এই স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘লেয়ার্ড ডিনায়াল’ কৌশলকে বাস্তবায়িত করে, যেখানে শত্রুপক্ষের আকাশপথে প্রবেশ ও অপারেশন ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে।

    • এম১ (≈১৫০ কিমি): প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। ইতিমধ্যেই এই ভ্যারিয়েন্টের সাব-সিস্টেম যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং শীঘ্রই প্রথম ফ্লাইট টেস্ট হতে পারে। এটি ‘পয়েন্ট ডিফেন্স’ ও ‘এরিয়া ডিফেন্স’-এর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে। ট্যাকটিক্যাল ফাইটার, স্ট্যান্ড-অফ ওয়েপন এবং লো-অবজারভেবল প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কার্যকর।
    • এম২ (≈২৫০ কিমি): প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতিরক্ষা বলয় বিস্তৃত করে। AESA সিকার প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ নির্ভুলতা বজায় রাখে। এটি মধ্যম স্তরের প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করে এবং এইএসএ সিকার প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ গতিশীল ও ইভেসিভ টার্গেট ট্র্যাকিং সক্ষমতা প্রদান করে। এই স্তরটি মূলত শত্রুপক্ষের স্ট্রাইক প্যাকেজকে ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
    • এম৩ (৩৫০–৪০০+ কিমি): ৩৫০-৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ—যেমন আর্লি ওয়ার্নিং বিমান বা রিফুয়েলার—ধ্বংস করতে সক্ষম। কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এটি শত্রুপক্ষের ‘হাই-ভ্যালু এয়ারবর্ন অ্যাসেট’—যেমন অ্যাওয়াক্স, এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলার—এবং নির্দিষ্ট ধরনের ব্যালিস্টিক হামলাকে দূর থেকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে শত্রুর ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ ক্ষমতা ভেঙে দেওয়া সম্ভব।

    এই তিনটি স্তরের সমন্বয়ে একটি ‘ডিফেন্স-ইন-ডেপথ’ মডেল গড়ে উঠছে, যা আধুনিক নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক যুদ্ধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    প্রযুক্তিগত দিক: সেন্সর-শুটার ইন্টিগ্রেশন

    প্রজেক্ট কুশ-এর কার্যকারিতা নির্ভর করছে উন্নত সেন্সর, রাডার এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মধ্যে রিয়েল-টাইম ডেটা লিঙ্কের উপর। এইএসএ রেডার (AESA Radar), উন্নত ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং কিল ভেহিকলের সমন্বয় একটি ‘সেন্সর-টু-শুটার’ চেইন তৈরি করবে, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করবে। ডুয়াল-পালস রকেট মোটরের ব্যবহার মিসাইলকে শেষ পর্যায়ে অতিরিক্ত গতি ও ম্যানুভারেবিলিটি প্রদান করে—যা হাই-স্পিড ও ইভেসিভ টার্গেট ইন্টারসেপ্টে গুরুত্বপূর্ণ।

    পরবর্তী ধাপ ও সময়সীমা

    গ্রাউন্ড ট্রায়াল সফল হওয়ার পর এখন মূল লক্ষ্য এম১ ক্ষেপণাস্ত্রের ফ্লাইট টেস্ট। এরপর ধাপে ধাপে এম২ ও এম৩-এর পরীক্ষাও হবে। ভারতীয় বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই একাধিক স্কোয়াড্রনের জন্য ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অফ নেসেসিটি’ অনুমোদন দিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ২০২৮ সালের মধ্যে সিস্টেমের কিছু অংশ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ তিন-স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমা বাস্তবায়িত হলে, ভারত প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ দেশীয় লং-রেঞ্জ মাল্টি-লেয়ারড এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক পাবে।

    কৌশলগত গুরুত্ব: ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ ও ভবিষ্যৎ রফতানি

    ‘মিশন সুদর্শন চক্র’-এর অংশ হিসেবে প্রজেক্ট কুশ ভারতের ভবিষ্যৎ আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ। ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় প্রতিরক্ষা জাল গড়ে তোলাই লক্ষ্য। ‘আকাশ-এনজি’ এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করে এই প্রকল্প ভারতের বিদেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াবে না, ভবিষ্যতে ভারতের জন্য উন্নত সামরিক প্রযুক্তি রফতানির নতুন দরজাও খুলে দিতে পারে। প্রজেক্ট কুশ শুধুমাত্র একটি মিসাইল সিস্টেম নয়, এটি ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তনের প্রতীক। মাল্টি-লেয়ারড, নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক এবং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ সফল হলে, ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে—এবং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা মানচিত্রে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

  • Basanti Puja 2026: শারদীয় নয়, এটাই বাঙালির প্রাচীন দুর্গাপুজো! আজ বাসন্তী সপ্তমীতে দেবী আরাধনা শুরু

    Basanti Puja 2026: শারদীয় নয়, এটাই বাঙালির প্রাচীন দুর্গাপুজো! আজ বাসন্তী সপ্তমীতে দেবী আরাধনা শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখন চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের তিথি চলছে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্ল তিথিতে আয়োজিত হয় নবরাত্রি উৎসবের। নয় রাত ধরে দেবী দুর্গার নয় রূপের আরাধনা করা হয়। আর এই সময়ে মহাধুমধামের সঙ্গে বাঙালি মেতে ওঠে বাসন্তী পুজোয়। হিন্দুশাস্ত্রমতে বসন্তকালে চৈত্র শুক্লপক্ষে আয়োজিত হয় বাসন্তী পুজো। পুরাণ অনুযায়ী, সমাধি নামক বৈশ্যের সঙ্গে মিলে রাজা সুরথ বসন্তকালে ঋষি মেধসের আশ্রমে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। যা পরে বাসন্তী পুজো (Basanti Puja) নামে প্রসিদ্ধ হয়। দেবী দুর্গার প্রথম পূজারী হিসাবে চণ্ডীতে রাজা সুরথের উল্লেখ রয়েছে। বাসন্তী পুজোই হল বাঙালির আদি দুর্গাপুজো। পরে শরত্‍কালে শারদীয়া নবরাত্রির সময় রামচন্দ্রের অকাল বোধন মেনে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়।

    কবে থেকে পুজো, দেবীর আগমন কিসে

    সপ্তমী থেকে নবমী, তিন দিন ধরে চলে বাসন্তী পুজো। দুর্গাপুজোর মতোই সব নিয়ম আচার মেনে বাসন্তী পুজো করা হয়। চলতি বছরে বাসন্তীপুজোর সপ্তমি পড়েছে আজ, বুধবার ২৫ মার্চ। এই পুজোর ষষ্ঠীই হল অশোক ষষ্ঠী। মূলত, সপ্তমী তিথিতে বাসন্তী পুজো, অষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা হয়, নবমী পালিত হয় রামনবমী হিসেবে। দেশের নানান জায়গায় যখন চৈত্র নবরাত্রির পার্বনে অনেকে উৎসবে মেতে রয়েছেন, তখন বাংলা এই চৈত্রের শুক্লপক্ষে দেবী বাসন্তীর আরাধনায় মেতে ওঠে। চলতি বছরের বাসন্তী পুজোয় দেবী দুর্গার আগমন ও গমন শাস্ত্র মতে বিশেষ বার্তাবাহক। পঞ্জিকা অনুসারে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে পালকিতে (মতান্তরে নৌকায়) এবং গমন হবে গজে বা হাতিতে (মতান্তরে ঘোড়ায়)। পালকিতে আগমন অস্থির সময়, মড়ক বা রোগব্যাধির ইঙ্গিত দিলেও গজে গমন অতিবৃষ্টি ও শস্যহানিকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

    রাজা সুরথের কাহিনী

    রাজা সুরথকে চিত্রগুপ্তবংশী রাজা (চিত্রগুপ্তের বংশধর) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দুর্গা সপ্তশতী দেবী মাহাত্ম্য এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণে। সুরথ সুশাসক ও যোদ্ধা হিসেবে বেশ খ্যাত ছিলেন। কোনও যুদ্ধে নাকি তিনি কখনও হারেননি। কিন্তু প্রতিবেশী রাজ্য একদিন তাঁকে আক্রমণ করে এবং সুরথ পরাজিত হন। এই সুযোগে তাঁর সভাসদরাও লুটপাট চালায়। কাছের মানুষের এমন আচরণে স্তম্ভিত হয়ে যান সুরথ। বনে ঘুরতে ঘুরতে তিনি মেধাসাশ্রমে পৌঁছোন। ঋষি তাঁকে সেখানেই থাকতে বলেন। কিন্তু রাজা শান্তি পান না।

    বাসন্তী পুজোর সূচনা

    এর মধ্যে একদিন তাঁর সমাধির সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানতে পারেন, সমাধিকেও তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও তিনি স্ত্রী-ছেলের ভালোমন্দ এখনও ভেবে চলেছেন। তাঁরা দুজনেই তখন ভাবলেন, যাদের কারণে তাদের সব কিছু হারিয়েছে, তাদের ভালো আজও তাঁরা কামনা করছেন। ঋষিকে একথা বলায়, তিনি বলেন সবই মহামায়ার ইচ্ছা। এরপর ঋষি মহামায়ার কাহিনি বর্ণনা করেন। ঋষির উপদেশেই রাজা কঠিন তপস্যা শুরু করেন। পরে মহামায়ার আশীর্বাদ পেতেই বসন্ত কালের শুক্লপক্ষে রাজা পুজো শুরু করেন। শুরু হয় বাসন্তী পুজো (Basanti Puja)। এই পুজো এখন কয়েকটি বাড়িতেই শুধু হয়।

  • Daily Horoscope 25 March 2026: নতুন প্রকল্প শুরু করতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 25 March 2026: নতুন প্রকল্প শুরু করতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১)  পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করে সময় কাটাবেন।

    ২) বাড়ির বাইরের ব্যক্তিদের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে বুদ্ধিমানীর সঙ্গে কাজ করুন।

    বৃষ

    ১) পরিবারের কোনও সদস্যের বিবাহে বাধা এলে তার সমাধান হবে, বিবাহ প্রস্তাবে সকলে সহমতি প্রদান করবে।

    ২) পড়াশোনার জন্য বিদেশ যাত্রার পরিকল্পনা করে থাকলে তাঁদের ইচ্ছা পূরণ হবে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে আধিকারিকরা আপনার কাজের প্রশংসা করবেন।

    মিথুন

    ১) সরকারি চাকরিজীবীদের বদলি হতে পারে।

    ২) সাবধানে আর্থিক লেনদেন করুন, তা না-হলে সম্পর্কে বিভেদ দেখা দিতে পারে।

    ৩) মার্কটিংয়ের সঙ্গে জড়িত জাতকরা ভালো কাজ শুরু করতে পারেন।

    কর্কট

    ১) ব্যবসায়ীদের জন্য দিন ঠিকঠাক।

    ২) লক্ষ্য পূরণের জন্য কঠিন পরিশ্রম করবেন।

    ৩) বন্ধু আর্থিক সাহায্য চাইলে তা পূরণ করতে সক্ষম হবেন।

    সিংহ

    ১) প্রেম জীবনে সঙ্গীর সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করবেন।

    ২) গোপন রহস্য পরিবারের সদস্যদের সামনে প্রকট হবে।

    ৩) সন্তান কোনও কারণে জেদ করতে পারে, যা আপনাদের পুরো করতে হবে।

    কন্যা

    ১) পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে হতাশাজনক সংবাদ শুনতে পাবেন।

    ২) ব্যবসায়ে নতুন পরিকল্পনা করে থাকলে তা পূরণ করতে পারেন।

    ৩) ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় সাফল্য লাভের জন্য কঠিন পরিশ্রম করতে হবে।

    তুলা

    ১) সকলকে খুশি করার চেষ্টা করবেন এবং এ কারণে সমস্যা হতে পারে।

    ২) জরুরি কাজে যাত্রা করতে পারেন এই রাশির জাতক।

    ৩) সন্তানের কেরিয়ারের কারণে চিন্তিত থাকলে, তা এবার দূর হবে।

    বৃশ্চিক

    ১) সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতার দ্বারা লাভান্বিত হবেন।

    ২) কারও কথায় আসবেন না, সমস্যা হতে পারে।

    ৩) ভালোভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য কিছু ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা বজায় রাখতে হবে।

    ধনু

    ১) পরিকল্পনা পুরো করার আগে অভিজ্ঞ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে নিন।

    ২) সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ধৈর্য ধরে থাকতে হবে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য পরিশ্রম করবেন।

    মকর

    ১) কর্মক্ষেত্রে নিজের কাজের জন্য অন্যের কাছ থেকে অধিক প্রত্যাশা করবেন না, প্রতারিত হতে পারেন।

    ২) কর্মকৌশলে বিশ্বাস রাখুন।

    ৩) ব্যবসায়ীরা নতুন প্রকল্প শুরু করতে পারেন।

    কুম্ভ

    ১) লোকদেখানোর জন্য অধিক অর্থ ব্যয় করতে পারেন।

    ২) অর্থকষ্টে কাটবে দিনটি।

    ৩) পরিশ্রম সফল হবে, কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব বাড়বে, ভয় পাবেন না।

    মীন

    ১) ব্যবসায়িক সমস্যার কারণে অবসাদগ্রস্ত হবেন।

    ২) জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মিলে ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত পরিকল্পনা করতে পারেন।

    ৩) অহংকার করবেন না।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 608: “চিদানন্দ সিন্ধুনীরে প্রেমানন্দের লহরী, মহাভাব রসলীলা কি মাধুরী মরি মরি”

    Ramakrishna 608: “চিদানন্দ সিন্ধুনীরে প্রেমানন্দের লহরী, মহাভাব রসলীলা কি মাধুরী মরি মরি”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    সপ্তদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৫শে অক্টোবর
    বিজয়াদি ভক্তসঙ্গে প্রেমানন্দে

    এই বলিয়া শ্রীরামকৃষ্ণের (Ramakrishna )পাদমূলে পতিত হইলেন ও নিজের বক্ষে তাঁহার চরণ ধারণ করিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ তখন ঈশ্বরাবেশে বাহ্যশূন্য চিত্রার্পিতের ন্যায় বসিয়া আছেন।

    এই প্রেমাবেশ, এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখিয়া উপস্থিত ভক্তেরা কেহ কাঁদিতেছেন, কেহ স্তব করিতেছেন। যাঁহার যে মনের ভাব তিনি সেই ভাবে একদৃষ্টে শ্রীরামকৃষ্ণের দিকে চাহিয়া রহিলেন! কেহ তাঁহাকে পরমভক্ত, কেহ সাধু, কেহ বা সাক্ষাৎ দেহধারী ঈশ্বরাবতার দেখিতেছেন, যাঁহার যেমন ভাব।

    মহিমাচরণ সাশ্রুনয়নে গাহিলেন (Kathamrita) — দেখ দেখ প্রেমমূর্তি — ও মাঝে মাঝে যেন ব্রহ্মদর্শন করিতেছেন, এই ভাবে বলিতেছেন —

    “তুরীয়ং সচ্চিদানন্দম্‌ দ্বৈতাদ্বৈতবিবর্জিতম্‌।”

    নবগোপাল কাঁদিতেছেন। আর একটি ভক্ত ভূপতি গাহিলেন:

    জয় জয় পরব্রহ্ম            অপার তুমি অগম্য
    পারাৎপর তুমি সারাৎসার।
    সত্যের আলোক তুমি    প্রেমের আকর ভূমি,
    মঙ্গলের তুমি মূলাধার।
    নানা রসযুত ভব,           গভীর রচনা তব,
    উচ্ছ্বসিত শোভায় শোভায়,
    মহাকবি আদিকবি,        ছন্দে উঠে শশী রবি,
    ছন্দে পুনঃ অস্তাচলে যায়।
    তারকা কনক কুচি,        জলদ অক্ষর রুচি,
    গীত লেখা নীলাম্বর পাতে।
    ছয় ঋতু সম্বৎসরে,          মহিমা কীর্তন করে,
    সুখপূর্ণ চরাচর সাথে।
    কুসুমে তোমার কান্তি,     সলিলে তোমার শান্তি,
    বজ্ররবে রুদ্র তুমি ভীম;
    তব ভাব গূঢ় অতি,          কি জানিবে মূঢ়মতি,
    ধ্যায় যুগযুগান্ত অসীম।
    আনন্দে সবে আনন্দে,    তোমার চরণ বন্দে,
    কোটি চন্দ্র কোটি সূর্য তারা!
    তোমারি এ রচনারি,        ভাব লয়ে নরনারী,
    হাহাকারে নেত্রে বহে ধারা।
    মিলি সুর, নর, ঋভু,        প্রণমে তোমায় বিভু
    তুমি সর্ব মঙ্গল-আলয়;
    দেও জ্ঞান, দেও প্রেম,    দেও ভক্তি, দেও ক্ষেম,
    দেও দেও ওপদে আশ্রয়।

    ভূপতি আবার গাহিতেছেন:

    ঝিঁঝিট—খয়রা কীর্তন

    চিদানন্দ সিন্ধুনীরে প্রেমানন্দের লহরী।
    মহাভাব রসলীলা কি মাধুরী মরি মরি
    বিবিধ বিলাস রসপ্রসঙ্গ,                 কত অভিনব ভাবতরঙ্গ,
    ডুবিছে উঠিছে করিছে রঙ্গ,              নবীন নবীন রূপ ধরি,
    (হরি হরি বলে)
    মহাযোগে সমুদয় একাকার হইল,
    দেশ-কাল ব্যবধান ভেদাভেদ ঘুচিল,
    (আশা পুরিল রে, আমার সকল সাধ মিটে গেল!)
    এখন আনন্দে মাতিয়া দুবাহু তুলিয়া, বলরে মন হরি হরি (Kathamrita)।

  • Donald Trump: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তুঙ্গে, মোদির সঙ্গে ফোনে কথা ট্রাম্পের

    Donald Trump: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তুঙ্গে, মোদির সঙ্গে ফোনে কথা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে সংঘাত। এহেন আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে। উভয় নেতাই হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এক্স হ্যান্ডেলে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সদ্য প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলেছেন।

    কী জানালেন প্রধানমন্ত্রী (Donald Trump)

    এরই কিছুক্ষণ পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ মতবিনিময় করেছেন। এক্স-এ করা পোস্টে তিনি লেখেন, “ভারত উত্তেজনা প্রশমন এবং দ্রুত শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে। হরমুজ প্রণালী খোলা, নিরাপদ ও সবার জন্য সহজলভ্য রাখা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এই ফোনালাপের সময়ই প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, “হরমুজ প্রণালীতে কোনও বিঘ্নই মেনে নেওয়া যায় না।” লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং বৈশ্বিক নৌপথে বিঘ্ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং (PM Modi) হরমুজ প্রণালীর মতো আন্তর্জাতিক জলপথে বিঘ্ন মেনে নেওয়া যায় না। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত কূটনৈতিক উপায়ে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণে ব্যবহৃত হয় হরমুজ প্রণালী। তাই এটি বৈশ্বিক জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথে সাম্প্রতিক বিঘ্ন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কটের সৃষ্টি করেছে (Donald Trump)। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “এই সঙ্কট বিশ্ব অর্থনীতিকে নড়িয়ে দিয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক সময় লাগতে পারে।”

    দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর নজর

    তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। ভারতের জন্যও এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। যুদ্ধ আমাদের বাণিজ্যিক পথগুলিকে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস এবং সারের নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।” তিনি অবশ্য আশ্বাস দেন, সরকার দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং এর প্রভাব কমাতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ করছে। এই পরিস্থিতিটি এমন একটি সময়ে সামনে এল, যার ঠিক একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করার কথা ঘোষণা করেন (PM Modi)। তিনি জানান, তাঁর সরকার তেহরানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা করেছে এবং যদি হরমুজ প্রণালী ফের চালু না হয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিকল্পিত হামলা পাঁচ দিন পিছিয়ে দেওয়া হবে।

    আমেরিকার দাবি খারিজ

    ইরানি আধিকারিকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন (Donald Trump)। তাঁদের দাবি, তেহরানের কঠোর সতর্কবার্তার পরেই পিছিয়ে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের এই দাবিকে ভুয়ো খবর আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এটি আর্থিক ও তেলবাজারে প্রভাব ফেলতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি সরাতে করা হয়েছে।”

    এক্স-এ দেওয়া পোস্টে গালিবাফ বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি ()। আর্থিক ও তেলবাজারকে প্রভাবিত করতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যে সঙ্কটে পড়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা হিসেবেই ছড়ানো হচ্ছে ভুয়ো খবর (Donald Trump)।”

     

  • SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এখনও কাটেনি এসআইআর (SIR) গেরোর জট। সোমবার রাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। তবে তাতে কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এহেন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের তরফে আবেদন জানানো হল। তাতে বলা হয়েছে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের আগের তালিকার নিরিখে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। নির্বাচন কমিশনের দাবি, প্রয়োজনে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করতে পারে তারা। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয় শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে (Supreme Court)।

    রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য (SIR)

    মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, প্রথম দফার নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৬ এপ্রিল। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ভোটার তালিকায় নাম তোলা বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর আর্জি, যে বা যাঁরা বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের আগের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে, ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। এই সময় (SIR) প্রধান বিচারপতি বলেন, “গতকাল সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাদের তথ্য পাঠাতে থাকেন।” শ্যাম বলেন, “আমাদের কয়েকটি সাজেশন রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাবে যথাক্রমে ১৬ এবং ২২ এপ্রিল। ১৪ জন এমন প্রার্থী রয়েছেন, যাঁরা বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন। তাঁরা ৬ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন না।”

    কী বললেন প্রধান বিচারপতি?

    এই সময় প্রধান বিচারপতি (Supreme Court) বলেন, “এই প্রতিটি প্রশাসনিক ইস্যু কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেখতে পারেন।” তাঁর পরামর্শ, যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নাম নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁরা অ্যাজুডিকোটিং অফিসারের কাছে গিয়ে এই বিষয়ে আবেদন করতে পারেন। এই সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, “আমরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেছি। মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলে আমরা প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে পারি।” এর পরেই প্রধান বিচারপতি বলেন, “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে। অন্য (SIR) সব রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া মসৃণভাবে হয়েছে।” তিনি জানান, কোথাও কোথাও এসআইআরের পরে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে।

     

  • Women’s Quota Law: মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে নয়া উদ্যোগ কেন্দ্রের, লোকসভায় বাড়তে পারে আসন সংখ্যা

    Women’s Quota Law: মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে নয়া উদ্যোগ কেন্দ্রের, লোকসভায় বাড়তে পারে আসন সংখ্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম তথা মহিলা সংরক্ষণ আইন (Women’s Quota Law) কার্যকর করার পথে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, আসন পুনর্বিন্যাসের আগে সংরক্ষণ চালু করতে আইনটির সংশোধনী বিল চলতি সপ্তাহেই সংসদে আনার পরিকল্পনা করছে মোদি সরকার। বর্তমান আইনে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভা, উভয় ক্ষেত্রেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াটি এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় আইনটি এখনও পর্যন্ত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া এই আইন নিয়ে চলতি বাজেট অধিবেশনেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনতে প্রস্তুত। লক্ষ্য—মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ আইনকে (মহিলা সংরক্ষণ) ২০২৯ সালের নির্ধারিত সময়ের আগেই কার্যকর করা।

    সরকারের তরফে আলোচনা শুরু

    সরকারি সূত্রে খবর, এবার সেই প্রক্রিয়াকে দ্রুত কার্যকর করতে নতুন জনগণনার অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের জনগণনাকেই সীমা পুনর্নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। যেহেতু এটি একটি সংবিধান সংশোধনী তাই তা পাস করিয়ে কার্যকর করতে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন রয়েছে। ফলে বিরোধী দলগুলির সমর্থন ছাড়া তা সম্ভব নয়। আর তা নিশ্চিত করতেই মাঠে নেমেছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার তিনি নিজে একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সরকারপক্ষের তরফে এ নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছানোর জন্য বিরোধী শিবিরের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করেছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজুজুও। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।

    কী বলছে প্রস্তাব?

    সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে লোকসভার ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে প্রায় ৮১৬ করা হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি, তফশিলি জাতি (SC) ও তফশিলি জনজাতি (ST)-দের জন্য সংরক্ষণ বজায় রেখেই “ভার্টিক্যাল বেসিস”-এ এই আসন বণ্টন করা হবে। রাজ্য বিধানসভাগুলিতেও একইভাবে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে প্রো-রাটা ভিত্তিতে মহিলা সংরক্ষণ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মহিলা সংরক্ষণ প্রথমে ১৫ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। ভবিষ্যতে সংসদ চাইলে এই সময়সীমা বাড়াতে পারবে।

    দুই বিলের খসড়া কী?

    সরকার যে দুটি বিল আনতে পারে, সেগুলি হল— একটি সংবিধান সংশোধনী বিল, যার মাধ্যমে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম-এ পরিবর্তন আনা হবে। আরেকটি সাধারণ বিল, যা ডিলিমিটেশন অ্যাক্ট সংশোধনের জন্য আনা হবে। ২০২৩ সালে পাস হওয়া মহিলা সংরক্ষণ আইন (সংবিধানের ১০৬তম সংশোধনী) অনুযায়ী, পরবর্তী জনগণনা ও ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এই সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, অর্থাৎ ২০২৯ সালের পর। তবে সরকার চাইছে এই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে আনতে। ডিলিমিটেশন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা, যার সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, বিশেষ করে মহিলা প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Maoist Papa Rao: মাও-মুক্ত ছত্তিশগড়! ১৬ সঙ্গীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাওয়ের

    Maoist Papa Rao: মাও-মুক্ত ছত্তিশগড়! ১৬ সঙ্গীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাওয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬ জন কমরেডকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করলেন ছত্তিশগড়ের শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাও (Maoist Papa Rao)। এমনই খবর জানালেন ছত্তিশগড়ের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা। তাঁদের আত্মসমর্পণ মাওবাদী দমনে রাজ্যের চালানো লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    মাও-মুক্ত ছত্তিশগড় (Maoist Papa Rao)

    রাও অস্ত্র সমর্পণ করায় প্রযুক্তিগতভাবে ও স্পষ্টভাবে বলা যায়, ওই স্তরের এমনকি তার চেয়েও নিচু স্তরের কোনও নকশাল কর্মী আর সক্রিয় নেই রাজ্যে। অন্তত এমনই জানালেন শর্মা। গত দু’দশকে দক্ষিণ বস্তারে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক প্রাণঘাতী হামলার মূলচক্রী ছিলেন এই শীর্ষ মাওবাদী নেতা। ২০১০ সালে তৎকালীন দান্তেওয়াড়া (বর্তমানে সুকমা) জেলার তাদমেতলা হামলারও ষড়যন্ত্রী ছিলেন তিনি। ওই হামলায় শহিদ হয়েছিলেন ৭৬ জন জওয়ান। মাওবাদীদের দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটিতে সক্রিয় রাও বস্তার অঞ্চলে তাঁর এক ডজনের বেশি সদস্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন বলে সোমবারই জানিয়েছিলেন শর্মা। উপমুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তিনি সামলাচ্ছেন স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বও। মঙ্গলবার পাপা অস্ত্রসমর্পণ করায় ছত্তিশগড়ে আর কোনও নকশাল কর্মী সক্রিয় নেই। শুধু তাই নয়, মাও দমনে ‘শাহি’ ডেডলাইন ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই রাজ্য হয়ে গেল সশস্ত্র নকশালবাদমুক্ত (Chhattisgarh)।

    মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট

    শর্মা বলেন, “রাওয়ের পুনর্বাসনের মাধ্যমে ছত্তিশগড়ে নকশালের উপস্থিতি কার্যত শেষ হয়ে গেল। ৩১ মার্চের মধ্যেই রাজ্য সশস্ত্র নকশালবাদ থেকে মুক্ত হবে।” তিনি জানান, পাপা রাও প্রায় ২৫ বছর ধরে সক্রিয় ছিলেন এবং বহু সংঘর্ষে জড়িত থাকলেও প্রতিবারই পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। রাজ্য সরকার তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ২৫ লাখ টাকা। শর্মা বলেন, “রাওয়ের মানসিকতা এখন বদলেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলাম (Maoist Papa Rao)। তখনই তিনি আত্মসমর্পণের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন।” তিনি জানান, পুনর্বাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে আরও আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা রয়েছে। বস্তার ডিভিশন ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির কিছু অংশে মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনাকারী দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি (DKSZC) মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হত। গত দু’দশকে বহু মারাত্মক হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। শর্মা বলেন, “বর্তমানে পার্টি ও এরিয়া কমিটি স্তরের মাওবাদীরা ছত্তিশগড়ে আর সশস্ত্র কার্যকলাপে যুক্ত নন এবং তাঁরা প্রায় সবাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন।” তিনি বলেন, “তাঁরা অস্ত্র নামিয়ে রেখেছেন এবং ইউনিফর্ম ছেড়ে দিয়েছেন।” বর্তমানে ছত্তিশগড়ের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন মাও-সদস্য মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি বা তেলঙ্গনায় সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের আত্মসমর্পণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

    মাওবাদ নির্মূলের সময়সীমা

    এদিকে, কেন্দ্রের নির্ধারিত মাওবাদ নির্মূলের সময়সীমা শেষ হতে আর এক সপ্তাহ বাকি। সোমবার ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাজি জানান, বর্তমানে রাজ্যে মাত্র ১৫ জন মাওবাদী সক্রিয় (Chhattisgarh) রয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তারা প্রসাদ বাহিনিপতির এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কান্ধামাল-কালাহান্ডি-রায়গড়া জেলার সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় প্রায় ১৫ জন নকশাল সক্রিয় রয়েছে।” কেন্দ্রের সিকিউরিটি-রিলেটেড এক্সপেন্ডিচার প্রকল্প অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু কান্ধামাল জেলাকেই মাওবাদী-প্রভাবিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৌধ, বালাঙ্গির, কালাহান্ডি, বারগড়, মালকানগিরি, নবরঙ্গপুর, নুয়াপাড়া এবং রায়গড়—এই আটটি জেলাকে ‘লেগেসি’ ও ‘থ্রাস্ট’ জেলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, কান্ধামাল-কালাহান্ডি-রায়গড় সীমান্ত অঞ্চলে একটি ছোট নকশাল গোষ্ঠী সক্রিয় থাকলেও, রাজ্যের অন্যান্য সব জেলা এখন সম্পূর্ণভাবে মাওবাদীমুক্ত। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি অনুযায়ী, যাঁরা অস্ত্র সমর্পণ করছেন, সেই মাওবাদীদের আর্থিক সহায়তা, বাসস্থান, সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত মাসিক ভাতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্য/রেশন কার্ড দেওয়া হচ্ছে (Maoist Papa Rao)।

    আত্মসমর্পণের বহর

    ২০২৪ সাল থেকে ১৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯৬ জন মাওবাদী ওড়িশা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। রাজ্য পুলিশ সতর্ক করেছে যে, ৩১ মার্চের মধ্যে যাঁরা আত্মসমর্পণ করবেন না, তাঁরা সরকারের পুনর্বাসন নীতির সুবিধাও পাবেন না। পুলিশ সূত্রে খবর, বিশেষ জোনাল কমিটির সদস্য সুক্রু এবং রাজ্যের আরও দুই মাওবাদী এখনও আত্মসমর্পণ করেনি। প্রতিবেশী ছত্তিশগড় থেকে আসা আরও ১২ জন মাওবাদী ওড়িশায় সক্রিয় ছিলেন। তাঁরা বর্তমানে আত্মগোপন করে রয়েছেন। অ্যান্টি-নকশাল অপারেশনের এডিজি সঞ্জীব পান্ডা বলেন, “কিছু নকশাল এখনও আত্মসমর্পণ না করায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আমরা (Chhattisgarh) ৩১ মার্চের মধ্যেই কেন্দ্রের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব (Maoist Papa Rao)।”

     

LinkedIn
Share