Tag: bangla news

bangla news

  • India T20 World Cup 2026 Champions: টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত, রেকর্ডের বন্যা মেন ইন ব্লু-র

    India T20 World Cup 2026 Champions: টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত, রেকর্ডের বন্যা মেন ইন ব্লু-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল ভারত। আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নিল ভারতীয় দল। এর ফলে টি-২০ বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করল ভারত। এই জয়ের নেপথ্যে ছিল ভারতের টপ অর্ডারের বিস্ফোরক ব্যাটিং এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং। ওপেনার সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা এবং ইশান কিশানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায় ভারত। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ দলগত সংগ্রহ।

    টপ অর্ডারের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড়

    ভারতের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দ্রুত রান তুলে নিউ জিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলে দেন তাঁরা। পরে ইশান কিশান দ্রুতগতির ইনিংস খেলে স্কোরবোর্ডকে বিশাল উচ্চতায় পৌঁছে দেন। তিন ব্যাটারের সম্মিলিত আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ফলে ফাইনালে ভারত রেকর্ড গড়া রান তোলে।

    বুমরার আগুনে বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে কিউই ব্যাটিং

    ২৫৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ভারতের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেন জসপ্রীত বুমরা। তাঁর বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। বুমরার ধারালো বোলিং এবং অন্যান্য বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে নিউ জিল্যান্ড কখনও ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে এবং ৯৬ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত।

    ফাইনালে ভারতের একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড

    এই ম্যাচে একাধিক নজির গড়েছে ভারতীয় দল। ফাইনালে ভারতের গড়া উল্লেখযোগ্য রেকর্ডগুলির তালিকা নিচে দেওয়া হল—

    • ● ১ – নিজেদের মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপ জয়ী প্রথম দল হল ভারত।
    • ● ১ – টি২০ বিশ্বকাপের শিরোপা সফলভাবে রক্ষা করার নজিরও প্রথমবার গড়ল একটি দল।
    • ● ২ – ২০২১ সালের পর দ্বিতীয়বার টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারল নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তান (২০০৭, ২০২২) ও শ্রীলঙ্কার (২০০৯, ২০১২) সঙ্গে যৌথভাবে এটি সর্বাধিক ফাইনাল হারার রেকর্ড।
    • ● ৩ – টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনটি শিরোপা জিতল ভারত। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রয়েছে দুটি করে।
    • ● ৩ – টি২০ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া তৃতীয় ভারতীয় হলেন সঞ্জু স্যামসন। এর আগে এই সম্মান পেয়েছিলেন বিরাট কোহলি (২০১৪, ২০১৬) ও জসপ্রীত বুমরাহ (২০২৪)।
    • ● ৪ – জসপ্রীত বুমরার ৪/১৫ টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো পেসারের সেরা বোলিং এবং সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় সেরা।
    • ● ৭ – টি২০ বিশ্বকাপে টানা তিনটি ম্যাচে ৫০ বা তার বেশি রান করা সপ্তম ব্যাটার হলেন সঞ্জু স্যামসন।
    • ● ১৪ – ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার তালিকায় শীর্ষে ছিলেন জসপ্রীত বুমরা ও বরুণ চক্রবর্তী।
    • ● ৮৯ – ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সঞ্জু স্যামসনের ৮৯ রান টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনও ব্যাটারের সর্বোচ্চ স্কোর।
    • ● ৯২ – পাওয়ারপ্লেতে ভারতের ৯২ রান টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের সর্বোচ্চ।
    • ● ৯৬ – নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯৬ রানের জয় টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় জয়।
    • ● ৯৮ – সঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিষানের ৯৮ রানের ওপেনিং জুটি টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ।
    • ● ২৫৫ – টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ৫ উইকেটে ভারতের ২৫৫ রান সর্বোচ্চ দলগত স্কোর এবং পুরো টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
    • ● ৩২১ – মাত্র পাঁচ ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের ৩২১ রান টি২০ বিশ্বকাপের এক সংস্করণে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের সর্বাধিক রান।

    ভারতের আধিপত্যের নতুন যুগ

    ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে ভারতের ধারাবাহিক আধিপত্যের প্রতীক। তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে তৈরি এই দল ভবিষ্যতের বিশ্ব ক্রিকেটেও বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক জয় ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল।

  • Pakistan: শ্যাম রাখি না কুল! তেহরান-রিয়াধের উত্তেজনার মাঝে পড়ে ‘চিঁড়েচ্যাপ্টা’ হওয়ার জোগাড় পাকিস্তানের

    Pakistan: শ্যাম রাখি না কুল! তেহরান-রিয়াধের উত্তেজনার মাঝে পড়ে ‘চিঁড়েচ্যাপ্টা’ হওয়ার জোগাড় পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান (Pakistan)। তেহরান ও রিয়াধের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইসলামাবাদ একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য (West Asia Test) বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কেন? কারণ একদিকে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ ও সংবেদনশীল সীমান্ত রয়েছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে রয়েছে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও আর্থিক সম্পর্ক। ইরানকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত এই যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়া এবং এর বাইরেও প্রভাব ফেলেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা বিস্ফোরণের ধাক্কায় প্রায় সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হতাহত, গুরুত্বপূর্ণ দূতাবাস বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান তার দুই মিত্র—সৌদি আরব ও ইরানের—মাঝে আটকে পড়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার ছ’টি দেশ ইতিমধ্যেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে, যা ইসলামাবাদের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    গুরুত্বপূর্ণ ৩ চ্যালেঞ্জ (Pakistan)

    বর্তমানে পাকিস্তানের সামনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলি হল— পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, দেশের সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষোভ সামাল দেওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামাবাদের কাছে তেহরান ও রিয়াধ—দু’টিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শ্যাম রাখি না কুল দশা হয়েছে পাকিস্তানের। সৌদি আরব পাকিস্তানের মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় সৌদি আরব পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা, বিলম্বিত অর্থপ্রদানের ভিত্তিতে তেল এবং লগ্নির ব্যবস্থা করে দেয়। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও ঐতিহাসিকভাবে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া লাখ লাখ পাকিস্তানি শ্রমিক ও নাগরিক সৌদি আরবে বসবাস করেন এবং সেখানেই জীবিকা নির্বাহ করেন।

    পাকিস্তানের পড়শি ইরান

    এদিকে, ইরান পাকিস্তানের পড়শি। পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইরানের সঙ্গে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ (Pakistan)। ২০২৫ সালের অগাস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ সফর করেন। অব্যাহত রয়েছে এই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ (West Asia Test)। পাকিস্তানের প্রধান চ্যালেঞ্জ হল, কোনও পক্ষ না নিয়ে তার কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা। কিন্তু গত বছর স্বাক্ষরিত পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের নেতারা নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন। সেনাপ্রধান আসিম মুনির পর্যন্ত সৌদি আরবে উড়ে গিয়ে দেশটির শীর্ষ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ্ আলি খামেনেই নিহত হন, তখন পাকিস্তান ওই হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির ওপর ইরানের পাল্টা হামলাকে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন’ বলে নিন্দে করে।

    পাক বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার জানান, তিনি ইরানকে পাকিস্তানের সৌদি আরবের প্রতি প্রতিরক্ষা দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন (Pakistan)। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানতে চান, সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা করা হবে না, এ বিষয়ে কি নিশ্চয়তা আছে। দার জানান, তিনি রিয়াধ থেকে সেই নিশ্চয়তা পেয়েছেন (West Asia Test)। এর পরপরই ইরানি ড্রোন সৌদির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, যার মধ্যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে, টার্গেট করে হামলা চালায়। টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আরসালান খান সংবাদমাধ্যমে বলেন, “পাকিস্তান একদিকে ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কারণে যুদ্ধের ঘূর্ণিতে টেনে নেওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে।” ইরানের পর পাকিস্তানেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া সম্প্রদায় রয়েছে। খামেনেইর মৃত্যুর পর করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভের ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হওয়ায় শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে (Pakistan)।

    মার্কিন মেরিনরা গুলি চালায়

    বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের দেওয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে মার্কিন মেরিনরা গুলি চালায় বলে সংবাদ সংস্থার খবর। এতে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন (West Asia Test)। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাদিহা তাহির বলেন, “এই প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসেরও।” আটের দশকে জেনারেল জিয়া-উল-হক সুন্নি ইসলামীকরণের নীতি চালু করেন। একই সময়ে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব পাকিস্তানের শিয়াদের জন্য নতুন সমর্থনের উৎস হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের প্রায় ২৪ কোটি মানুষের মধ্যে এক-পঞ্চমাংশের কাছাকাছি শিয়া মুসলিম, বাকি অংশের অধিকাংশই সুন্নি। এদিকে, ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এতে ওয়াশিংটনের কালো তালিকায় থাকা এক দশকের বেশি সময়ের অধ্যায়ের অবসান ঘটে (Pakistan)।

    আসিম মুনির

    ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে (West Asia Test)। ট্রাম্পের রাজত্বকালে পাকিস্তান ‘গাজা বোর্ড অফ পিস’ নামের একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে জায়গা পেয়েছে, সেখানে রয়েছে ইজরায়েলও। অবশ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্ক কৌশলগত স্বার্থের চেয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থ দ্বারা বেশি প্রভাবিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ, জ্বালানি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে (Pakistan)। এ বছর পাকিস্তান ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়ালের সঙ্গে একটি চুক্তি করে, যাতে তাদের ইউএসডি১ স্টেবলকয়েন আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয় (West Asia Test)। এরকম হাইভোল্টেজ পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের পক্ষে এমন কোনও পক্ষ নেওয়া কঠিন, যা ট্রাম্প ও আমেরিকার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় (Pakistan)।

  • T20 World Cup 2026: পাকিস্তানের ঝুলিতে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি! বিশ্বসেরা হয়ে কত টাকা পুরস্কার পেল ভারত?

    T20 World Cup 2026: পাকিস্তানের ঝুলিতে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি! বিশ্বসেরা হয়ে কত টাকা পুরস্কার পেল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভুবনজয়ী ভারত। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে একপেশে ম্যাচে গুঁড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন সূর্যকুমার যাদবের টিম ইন্ডিয়া। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সেলিব্রেশন। আসলে এই বিশ্বকাপ জয় (T20 World Cup 2026) বিশ্বক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য আবারও শক্তপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করে দিল। একই সঙ্গে আর্থিকভাবেও লাভবান করল টিম ইন্ডিয়াকে। বিজয়ী দল হিসেবে ভারত পেয়েছে ২.৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার সমান। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার মোট আর্থিক পুরস্কারের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঢুকেছে টিম ইন্ডিয়ার পকেটে।

    কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনি

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনি। যারা অংশ নিয়েছে, তারা প্রত্যেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়েছে। যে দল যতটা এগোতে পেরেছে, তার পুরস্কারের অঙ্ক তত বেড়েছে। রবিবার আমেদাবাদের মাঠে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। ফলে সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছেন সূর্যকুমার যাদবেরা। কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনিএ বারের বিশ্বকাপের জন্য ১২০ কোটি টাকার পুরস্কার ধার্য করেছিল আইসিসি। প্রতিটি ধাপে টাকার অঙ্ক নির্দিষ্ট ছিল। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যাওয়া দলগুলি পেয়েছে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। যে দলগুলি সুপার এইট পর্বে বাদ গিয়েছে তারা পেয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, পাকিস্তান সাড়ে ৩ কোটি টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

    রেকর্ড অঙ্কের পুরস্কার

    এ বছর টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) রেকর্ড অঙ্কের পুরস্কার দিল আইসিসি। ২০২৪ বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল আইসিসি। এবার সেটা ২০ শতাংশ বেড়ে ১২০ কোটি করা হয়েছে। পুরস্কার মূল্য বেড়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে চ্যাম্পিয়ন, সব দলেরই। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড। তারা পেয়েছে ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। ফাইনালে রানার্স দল নিউজিল্যান্ড পেয়েছে ১৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। আর বিশ্বকাপ জিতে ভারত পেয়েছে ২৭ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা।

    বিশ্বকাপের পুরস্কার মূল্য (ICC Prize Money)

    চ্যাম্পিয়ন (ভারত)
    ২৭.৪৮ কোটি

    রানার্স আপ (নিউজিল্যান্ড)
    ১৪.৬৫ কোটি

    সেমিফাইনাল
    ৭.২৪ কোটি

    সুপার এইট
    ৩.৪৮ কোটি

    গ্রুপ পর্ব
    ২.২৯ কোটি

  • T20 World Cup 2026: “সাজঘরের ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই”, বললেন গুরু গম্ভীর

    T20 World Cup 2026: “সাজঘরের ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই”, বললেন গুরু গম্ভীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাহুল দ্রাবিড়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যখন তাঁকে কোচ করে আনা হয়েছিল, দ্রাবিড়ের সঙ্গে গৌতম গম্ভীরের সম্পর্ক নিয়ে মুচমুচে খবর ছড়িয়েছিল। যেভাবে দ্রাবিড়কে সরে যেতে হয়েছিল ভারতীয় দলের কোচের পদ থেকে, গম্ভীরকে যেভাবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মেন্টর পদ থেকে ভাঙিয়ে এনে বসানো হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার কোচের চেয়ারে, অনেকে যার নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগ দেখেছিলেন। কোচ হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপ জেতার পর গম্ভীর সাফল্যের কৃতিত্ব দিলেন সেই দ্রাবিড়কেই! ২০২৬ টি–২০ বিশ্বকাপ জয়ের (T20 World Cup 2026) পর যেন একরকম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন গুরু গম্ভীর (Gautam Gambhir)। গত দু’বছর ধরে তাঁর কোচিং নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। জয় শাহের ঘনিষ্ঠ তাই কোচের পদে এমন কথাও শুনতে হয়েছিল। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হার, সমালোচনা, সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ—সব মিলিয়ে সময়টা সহজ ছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপ জিতে টিম ইন্ডিয়ার হেডস্যার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কারুর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন তিনি। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারা।

    জয়ের কৃতিত্ব চার জনকে

    এই বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব চার জনকে দিতে চান গম্ভীর। তবে তাঁরা কেউ দলের খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফ নন। গম্ভীর নাম নিয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ, অজিত আগরকর ও জয় শাহের। ভারতীয় কোচ বলেন, “এই ট্রফি আমি উৎসর্গ করতে চাই রাহুল ভাই আর লক্ষ্মণ ভাইকে। ভারতীয় ক্রিকেটকে এই জায়গায় নিয়ে আসার নেপথ্যে রাহুল ভাই কি না করেছে। পাশাপাশি লক্ষ্মণ ভাইও চুপচাপ নিজের দায়িত্ব সামলেছে। সিওএ আছে বলেই ভারতের ক্রিকেট এত উন্নত। অজিতের কথাও বলব। এত সমালোচনার পরেও ও নিজের কাজ করে গিয়েছে।”

    জয় ভাই ফোন করেছিলেন

    তাঁর জীবনে জয় শাহের কতটা ভূমিকা রয়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “জয় ভাই আমাকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছিল। এর আগে তো কোথাও কোচিং করাইনি। তার পরেও জয় ভাই ভরসা রেখেছিল। সেই ভরসা আজও আছে। নিউজিল্যান্ডের ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে চুনকামের পর একমাত্র জয় ভাই ফোন করেছে। আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। তাই এই সাফল্যের কৃতিত্ব ওদের।” ভারতীয় ক্রিকেটের দর্শন বদলে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমরা আর ১৬০ বা ১৭০ রান করার জন্য খেলি না। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে। ঝুঁকি নিতে হবে। ঝুঁকি না নিলে সফল হওয়া যাবে না। তাতে ১০০ রানে অল আউটও হয়ে যেতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে সেটাই হয়েছে। তাতে ভয়ের কিছু নেই। চেষ্টা করতে হবে ২০০-র বেশি রান করার। সেই চেষ্টাই আমরা করছি।”

    আগে দল, পরে প্লেয়ার

    তিনি নিজে খেলোয়াড় জীবনে সবসময় দলের স্বার্থের কথা আগে ভেবেছেন। কোচ হিসাবেও সেই দর্শনেই বিশ্বাস করেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আগে দল। পরে নিজের সাফল্য। আপনি যদি ৯৬ রান থেকে ১০০ করতে চার বল খেলেন, তা হলে আপনি দলের ২০ রানের ক্ষতি করলেন। ওই চার বলে চারটে ছক্কা হতে পারত। তাই যদি কেউ ৯৬ রান থেকে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয় তাতে আমার কোনও দুঃখ নেই। ওই ৯৬ আমার কাছে শতরানের সমান। এই দর্শন দলের সকলকে দিয়েছি। আমি ভাগ্যবান, দলের সকলে সেটা মেনেছে। আমরা সে ভাবেই খেলি। সকলেই দলকে আগে রাখে।”

    সমাজমাধ্যমে কাউকে জবাব দেব না

    বিশ্বকাপ জেতার পর সাংবাদিক বৈঠকে গম্ভীরকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর দলের সাজঘরের পরিবেশ কেমন। জবাবে গম্ভীর বলেন, “আশা করছি, এ বার সাজঘর নিয়ে জল্পনা বন্ধ হবে। দেখুন, সাজঘরের পরিবেশ ভালো ছিল বলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বার বার সাজঘর নিয়ে কথা হয়েছে। আমাকে নিয়ে কথা হয়েছে। লেখালিখি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। আমি অবশ্য কাউকে জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। সাজঘরের ওই ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই।”

    খেলোয়ার ও কোচ হিসেবে বিশ্বজয়ের নজির

    গৌতম গম্ভীর ইতিহাসের পাতায় নাম লিখে ফেললেন। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ডাবল জিতলেন। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন গম্ভীর। আবার এই ২০২৬ সালে গম্ভীর ভারতীয় দলের হেড কোচ। কোচ ও প্লেয়ার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ী আর নেই ভূভারতে। হেড কোচ হওয়ার আগে গৌতম গম্ভীর ছিলেন আইসিসি টুর্নামেন্টের সবথেকে সফল পারফরমার। ২০০৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে গম্ভীর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫৪ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ২০১১ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনালে গম্ভীর ৯৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন। কোচ হয়ে আসার পরই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। গোটা টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকার পরে ভারত নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। প্রায় এক যুগের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খরা কাটিয়েছিল ভারতীয় দল। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে গম্ভীরের ভারত ধরাছোঁয়ার বাইরের এক কক্ষপথে পৌঁছে গিয়েছে।

    ‘‘কোচ সাহেব, আপনার হাসি আপনাকে খুবই মানিয়েছে’’

    ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে দলকে অভিনন্দন জানান। দীর্ঘদিন পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। তিনি ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর মুখের হাসি এই জয়ের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি। ধোনি তাঁর বার্তায় বলেন, ‘‘আমেদাবাদে ভারতীয় দল ইতিহাস তৈরি করেছে।’’ তিনি দল, কোচিং স্টাফ এবং সব সমর্থকদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন নেতৃত্বে দল যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা দেখতে খুবই আনন্দের। ধোনি লেখেন,“আমেদাবাদে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। দল, সহকারী কর্মী এবং বিশ্বজুড়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সব সমর্থককে অনেক অভিনন্দন। তোমাদের সবাইকে খেলতে দেখা সত্যিই দারুণ আনন্দের। কোচ সাহেব, আপনার হাসি আপনাকে খুবই মানিয়েছে। হাসির সঙ্গে সেই তীব্র মনোভাব—দুটো মিলে অসাধারণ এক সমন্বয়। দারুণ কাজ করেছেন। সবাই এই সাফল্য উপভোগ করো।”

    সাদা বলের ক্রিকেটের রাজা

    তাঁকে নিয়ে কত কথা। কত আলোচনা। দেশজুড়ে তাঁকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। রবি-রাতের পরে বলাই যায় ভারতের হেডস্যর গৌতম গম্ভীর একই সঙ্গে নিন্দিত ও নন্দিত ব্যক্তি। এবার তাঁর জবাব দেওয়ার পালা। গম্ভীর কোচ বা ক্রিকেটার হিসেবে কোনও ফাইনাল হারেননি । আইপিএল হোক বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ওয়ান ডে বিশ্বকাপ, টি-২০ বিশ্বকাপ – কখনও হারেননি গম্ভীর। সে ক্রিকেট কেরিয়ারে হোক বা কোচ হিসেবে। লাল বলের ক্রিকেটে না হলেও সাদা বলের ক্রিকেটের রাজা তিনি।

  • S Jaishankar: “ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায়”, বললেন জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: “ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায়”, বললেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে।” সোমবার রাজ্যসভায় সাফ জানিয়ে দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। সতর্ক করে (Iran War) দিয়ে তিনি বলেন, “এই সঙ্কটের কারণে বিঘ্ন ঘটতে পারে সরবরাহ শৃঙ্খলে।”

    জয়শঙ্করের বক্তব্য (S Jaishankar)

    বিরোধী সাংসদদের স্লোগানের মধ্যেই সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, সম্প্রতী ওই অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ, নৌ-পথ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, সরকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কী  হতে পারে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি একটি বিবৃতি দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।” জয়শঙ্কর এও বলেন, “উত্তেজনা কমাতে আলোচনা ও কূটনীতির পথই অনুসরণ করা উচিত বলে আমরা এখনও বিশ্বাস করি।” মন্ত্রী বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়াকে অবশ্যই স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে।” তিনি জানান, ভারত তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

    জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার

    জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের জাতীয় স্বার্থ—বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভারতীয় উপভোক্তাদের কল্যাণ—সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ও কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।” সংসদে তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে প্রায় ৬৭,০০০ ভারতীয় নাগরিক ইতিমধ্যেই দেশে ফিরে এসেছেন। ইরানের অনুরোধে ওই অঞ্চলে তিনটি জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ভারত আইআরআইএস লাভান নামের একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে কোচি বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেয়। ১ মার্চ এই অনুমোদন দেওয়া হয়, জাহাজটি বন্দরে পৌঁছয় ৪ মার্চ (S Jaishankar)।

    ইরানি নৌ-জাহাজ

    এর আগে শনিবার রাইসিনা ডায়ালগে ভাষণ দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেছিলেন, “ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মানবিকতার খাতিরে, কোনও ভূরাজনৈতিক বিবেচনা থেকে নয়। জাহাজটিতে ১৮৩ জন নাবিক ছিলেন, যাঁদের বেশিরভাগই তরুণ ক্যাডেট, এবং যাত্রাপথে জাহাজটির প্রযুক্তিগত একটি সমস্যা দেখা দিয়েছিল (Iran War)।” এই ঘটনার কয়েক দিন পরে ৪ মার্চ ভারত মহাসাগরে আর একটি ইরানি নৌ-জাহাজ আইআরআইএস ডেনা ডুবে যায় একটি মার্কিন সাবমেরিনের হামলায়। এতে ৮০ জনেরও বেশি নাবিক নিহত হন। পরে শ্রীলঙ্কা নেভি প্রায় ৩২ জনকে উদ্ধার করে (S Jaishankar)।

    বিপদের সংকেত

    এই ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, জাহাজটি বিপদের সংকেত পাঠিয়েছিল। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য ভারত সেখানে আগেই মোতায়েন করেছিল সামুদ্রিক বিভিন্ন সরঞ্জাম, যার মধ্যে ছিল টহলদারি বিমান এবং নৌবাহিনীর জাহাজও। মন্ত্রী বলেন, “লাভান জাহাজটিকে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।” তিনি ফের মনে করিয়ে দেন, “পরিস্থিতির আরও অবনতি রুখতে ভারত সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক (Iran War) আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়ে যাচ্ছে (S Jaishankar)।”

     

  • Bangladesh Blast: বাংলাদেশের মন্দিরে আইইডি বিস্ফোরণ, জখম পুরোহিত

    Bangladesh Blast: বাংলাদেশের মন্দিরে আইইডি বিস্ফোরণ, জখম পুরোহিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ফের হামলা হিন্দু মন্দিরে (Bangladesh Blast)। শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা শহরে এক মুখোশধারী ব্যক্তি একটি মন্দিরে (Shani Puja) বোমা মারে। কালী গাছতলা শিব মন্দিরে তাজা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জখম হন মন্দিরের পুরোহিত। হামলার সময় মন্দিরে পুজো চলছিল। মন্দিরের কাছাকাছি সড়কে একই ধরনের আরও দুটি বিস্ফোরণেও জখম হন আরও তিনজন।

    ব্যাগ হাতে মুখোশধারী (Bangladesh Blast)

    প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। সন্দেহজনক ব্যাগ হাতে মুখোশ পরা এক ব্যক্তি দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া (বাগানবাড়ি) এলাকার মন্দির চত্বরে প্রবেশ করে। তখন সেখানে পুজো উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু-সহ বেশ কয়েকজন ভক্ত। এই সময়ই মন্দিরের বেদির কাছে ব্যাগটি রেখে পালিয়ে যায় মুখোশধারী ওই ব্যক্তি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে ব্যাগটিতে। আইইডি বিস্ফোরণের জেরে ভয়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন ভক্তরা। গুরুতর জখম হন মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী। বিস্ফোরণের সময় পুজো করছিলেন তিনি। মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজেও দেখা যায়, বিস্ফোরণের আগে ওই মুখোশধারী ব্যক্তি ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়। এরই কিছুক্ষণ পরেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

    ককটেল বোমা

    এর খানিক পরেই দুষ্কৃতীরা আরও দুটি ককটেল বোমা ছোড়ে। সেগুলি ফাটে মন্দিরের কাছাকাছি সড়কে। ওই জায়গায় রয়েছে একটি বৌদ্ধ মন্দির ও একটি ব্র্যাক (BRAC) অফিস। এই দ্বিতীয় বিস্ফোরণের ঘটনায় জখম হন ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুজাত আলির ছেলে এ বারেক এবং নজরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ। আহতদের দ্রুত কুমিল্লা জেনারেল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় (Bangladesh Blast)। পুরোহিতের অবস্থা গুরুতর হলেও, স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল জানিয়েছে। সড়কে হওয়া বিস্ফোরণে জখম দুই ব্যক্তিকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। রবিবার সকাল পর্যন্তও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মো তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ জোগাড় করেছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। এখনই বলা সম্ভব নয় কেন বা কারা এই বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তবে জড়িতদের গ্রেফতার করতে চলছে তল্লাশি অভিযান (Bangladesh Blast)।” ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই কুমিল্লার এসপি মো আনিসুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে (Shani Puja) এবং দোষীদের ধরতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

  • T20 World Cup 2026: বজরংবলীর প্রার্থনা, এবার লক্ষ্য অলিম্পিক্স! অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিশ্বজয়ের পর কী বললেন সূর্য?

    T20 World Cup 2026: বজরংবলীর প্রার্থনা, এবার লক্ষ্য অলিম্পিক্স! অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিশ্বজয়ের পর কী বললেন সূর্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সূর্যকুমার যাদব। অধিনায়ক হিসাবে প্রথম বার বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) নেমেই চ্যাম্পিয়ন। তবে এখনই থামতে রাজি নন তিনি। এবার লক্ষ্য অলিম্পিক ক্রিকেটে প্রথম সোনাজয়। বিশ্বজয়ের রাতেই নিজের পরের দুই লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিলেন সূর্য। বিশ্বকাপ জিতে সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতই চমক দেন সূর্য (Surya Kumar Yadav)। মহিলা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাঁকে আন্তর্জাতিক নারীদিবসের শুভেচ্ছা জানান। তার পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত অধিনায়ক হিসেবে তাঁর পরের লক্ষ্য কী। তিনি বলেন, “সবে তো শুরু। এর পরের লক্ষ্য হল ২০২৮ সালের অলিম্পিক্সে সোনা জেতা। সেই বছরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেটাও জিততে নামব।” একইসঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানালেন ঈশ্বরের প্রতি। মাঠ থেকেই সোজা গুরু গম্ভীর ও আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ-র সঙ্গে গেলেন স্থানীয় বজরংবলীর মন্দিরে পুজো দিতে।

    প্রথম বারই অলিম্পিকে সোনা জয়

    ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রথম বারই সোনা জেতার লক্ষ্যে নামবেন সূর্য। পাশাপাশি দু’টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কও হতে চান তিনি। পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও ২০২৮-এ। ততদিন নিজেকে ধরে রাখতে চান সূর্য। আমেদাবাদের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে সূর্য বলেন, “এই গল্পটা ২০২৪ সালে শুরু হয়েছিল। জয় ভাই তখন সচিব ছিলেন। উনি আমার উপর ভরসা দেখিয়েছিলেন। রোহিত ভাইও আমার হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন। তার পর থেকে অনেক পরিকল্পনা করেছি। অনেক পরিশ্রম করেছি। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ের অভ্যাস এবারও ধরে রেখেছি।”

    গুরু গম্ভীরে আস্থা, বুমরা জাতীয় সম্পদ

    সূর্য জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের সম্পর্ক খুব ভালো। ভারত অধিনায়ক বলেন, “গৌতি ভাইয়ের অধীনে আমি চার বছর খেলেছি। ওকে খুব ভালোভাবে চিনি। আমাদের ভাবনা মেলে। আমরা দু’জনেই দলের ভালোর কথাই ভাবি। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। গৌতি ভাইকে আমি চোখ বন্ধ করে ভরসা করি।” বিশ্বকাপ জিতে বুমরার কথা শোনা গিয়েছে সূর্যের মুখে। আগের দিন সঞ্জু স্যামসন জানিয়েছিলেন, এক প্রজন্মে বুমরার মতো ক্রিকেটার একজনই আসে। আরও খানিকটা এগিয়ে গেলেন সূর্য। তিনি বললেন, “সঞ্জু আগের দিন বলেছিল, বুমরার মতো বোলার এক প্রজন্মে একজনই আসে। আমি বলব, বুমরা জাতীয় সম্পদ। ও জানে ওকে কী করতে হবে, কীভাবে করতে হবে। আমাকে কিছু বলতে হয় না।”

    সাজঘরে বাক্‌স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ

    সূর্যের মতে, দলের প্রত্যেকে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেকের কথা আলাদা ভাবে শোনেন তিনি। অধিনায়ক বলেন, “গত দু’বছর ধরে এই কাজটাই করছি। একটা ভালো সাজঘর তৈরি করেছি। কারও কোনও সমস্যা থাকলে তাকে নৈশভোজে নিয়ে যাই। কথা শুনি। আমি প্রত্যেকের কথা শুনি। কারণ আমার মতে, প্রত্যেকের যদি বাক্‌স্বাধীনতা না থাকে, তা হলে সেই দল সফল হতে পারে না। তাই সকলের কথা শোনাটা জরুরি। সেই কারণেই ওরা আমার কথাও শোনে।” ক্রিকেটারের জীবনে সাফল্যের চেয়েও ব্যর্থতা বেশি আসে বলে মনে করেন সূর্য। তবে তার মধ্যেই এগিয়ে যেতে হয়। সূর্য বলেন, “জীবনে উত্থান-পতন হবেই। গত বছর একটাও অর্ধশতরান করতে পারিনি। আমারও কঠিন সময় গিয়েছে। কিন্তু নিজের উপর ভরসা রেখেছি। পরিশ্রম করেছি। সকলকেই সেটা করতে হবে। এটাই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র।”

    ট্রফি হাতে হনুমান মন্দিরে আরাধনা

    আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের পাশেই রয়েছে হনুমান টেকরি মন্দির। সাংবাদিক বৈঠকের পর মাঠ থেকেই মন্দিরে বজরংবলীর আশীর্বাদ নিতে যান সূর্য। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গুরু গৌতম গম্ভীর। সঙ্গে ছিলেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। তিন জন মিলে পুজো দেন। সূর্যের গলায় ছিল গাঁদা ফুলের মালা। পুজো দেওয়ার পর আবার স্টেডিয়ামে ফেরেন তাঁরা। সেখান থেকে দলের সঙ্গে হোটেল যান কোচ ও অধিনায়ক। ঈশ্বরের আশীষ নিয়েই আগামী লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে চান ভারতীয় ক্রিকেটের নয়া সূর্য।

  • Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁও হামলায় জঙ্গিদের ব্যবহৃত ক্যামেরায় থাকা ডেটা পেতে চিনের দ্বারস্থ এনআইএ

    Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁও হামলায় জঙ্গিদের ব্যবহৃত ক্যামেরায় থাকা ডেটা পেতে চিনের দ্বারস্থ এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গি হামলা হয় (Pahalgam Terror Attack)। অনুমান, ওই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল একটি গো-প্রো হিরো ১২ ক্যামেরা, যা অভিযানের সময় উদ্ধার করে সেনা। ক্যামেরার ব্যবহারিক প্রযুক্তি ও তথ্য জমা রয়েছে চিনের একটি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে। ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি ডিভাইসটির ক্লাউড মেমরিতে থাকা তথ্য পাওয়ার জন্য বেইজিংয়ের সাহায্য চেয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারী সংস্থা জম্মুর একটি আদালতে দাখিল করা আবেদনে জানিয়েছে, ক্যামেরাটির তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি লেটার রোগেটরি (Letter Rogatory বা LR) জারি করা হচ্ছে। এটি এমন একটি অনুরোধ, যার মাধ্যমে ভিন দেশের কাছে তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়।

    গো-প্রো হিরো ১২ ব্ল্যাক ক্যামেরা (Pahalgam Terror Attack)

    সোমবার জম্মু আদালতের এক আদেশে বলা হয়েছে, “এই মামলার তদন্ত চলাকালে ওই জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বস্তুগত প্রমাণ এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস হল গো-প্রো হিরো ১২ ব্ল্যাক ক্যামেরা, যার সিরিয়াল নম্বর সি৩৫০১৩২৫৪৭১৭০৬। পহেলগাঁও  হামলায় জড়িত জঙ্গি মডিউলের হামলার পূর্ববর্তী নজরদারি, চলাচল এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই ডিভাইসটি গুরুত্বপূর্ণ।” এই আদেশের মাধ্যমে আদালত এনআইএকে চিনের কাছে লেটার রোগেটরি পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। এর আগে,  এনআইএ নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত গো-প্রো ক্যামেরার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছেও যোগাযোগ করে ডিভাইসটির সাপ্লাই চেইন এবং অ্যাক্টিভেশন সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছিল (Pahalgam Terror Attack)।

    ডিভাইসের পরবর্তী লেনদেন

    ভারতের আবেদনের জবাবে নেদারল্যান্ডসের ওই সংস্থা জানায়, তারা কেবলমাত্র ক্যামেরাটি উৎপাদন করে। ব্যবহারিক প্রযুক্তি চিনের কাছে রয়েছে। নির্মাতা সংস্থা জানিয়েছে যে, তাদের কাছে ডিভাইসটির পরবর্তী লেনদেন বা শেষ ব্যবহারকারীর সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই। তারা আরও জানায়, ডিভাইসটির অ্যাক্টিভেশন, প্রাথমিক ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের তথ্য চিনের ভৌগোলিক অধিক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে। ফলে ক্রেতা, শেষ ব্যবহারকারী এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্য জানতে হলে চিনা কর্তৃপক্ষের বিচার বিভাগের সাহায্য প্রয়োজন (NIA)। এই কারণেই এনআইএ আদালতের কাছে আবেদন করেছিল এবং আদালত চিনের কাছে এলআর পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের মনোরম বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গি হামলা ভারত ও পাকিস্তানকে প্রায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’

    ভারত ৭ মে ভোরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালু করে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) জঙ্গি পরিকাঠামোর ওপর হামলা চালায়। পরে ১০ মে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই হামলায় জড়িত তিন জঙ্গি— সুলেমান শাহ, হামজা আফগানি (ওরফে আফগান) এবং জিবরান, ২২ এপ্রিল বাইসারান মেদোয় গুলি চালিয়ে ২৫ জন পর্যটক ও একজন পনি চালককে হত্যা করেছিল। পরে ২৮ জুলাই দাচিগাম বনাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তারা (NIA) খতম হয় (Pahalgam Terror Attack)।

  • Mojtaba Khamenei: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই, ‘‘বেশি দিন টিকতে পারবে না’’ প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের

    Mojtaba Khamenei: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই, ‘‘বেশি দিন টিকতে পারবে না’’ প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হলেন মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei)। রবিবার গভীর রাতে ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস (Assembly of Experts) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ্ আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)-র উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

    সুপ্রিম লিডার মোজতবা…

    আয়াতোল্লার মেজো ছেলে ৫৬ বছর বয়সি কট্টরপন্থী ধর্মগুরু মোজতবাই যে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর পদে বসতে চলেছেন, তেমন একটা আভাস আগেই মিলেছিল। দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতাকেন্দ্রের একাংশ তাঁকে আয়াতোল্লাহ্ আলি খামেনেইয়ের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছিল। মোজতবা খামেনেই একজন মধ্যমস্তরের শিয়া ধর্মগুরু এবং ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (Islamic Revolutionary Guard Corps)-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। উল্লেখ্য, যৌথ মার্কিন–ইজরায়েলি হামলায় নিহত হন আলি খামেনেই। সেই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনেই এখন ইরানের রাষ্ট্রনীতি, সামরিক সিদ্ধান্ত এবং কূটনীতির ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব পাবেন।

    হুঁশিয়ারি আমেরিকা-ইজরায়েলের

    এদিকে এই নিয়োগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “যদি সে আমাদের অনুমোদন না পায়, তাহলে বেশি দিন টিকতে পারবে না।” ঘোষণার আগেই ইজরায়েল হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা যেই হোক না কেন, তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। যদিও ইরানের রাজনৈতিক মতাদর্শে পারিবারিক উত্তরাধিকারের ধারণা নিরুৎসাহিত করা হয়, তবুও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস এবং প্রয়াত খামেনেইয়ের দফতরের একটি শক্তিশালী অংশ মোজতবার পক্ষে ছিল। অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস এক বিবৃতিতে জানায়, “নির্ণায়ক ভোটের মাধ্যমে আয়াতোল্লাহ্ সঈদ মোজতবা হোসেইনি খামেনেইকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।” ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে পরিষদের সদস্য আয়াতোল্লাহ্ মোহসেন হায়দারি আলেকাসির বলেন, প্রয়াত আলি খামেনেইয়ের নির্দেশ ছিল এমন একজন নেতাকে বেছে নেওয়া, যাকে শত্রুরা ঘৃণা করে। তাঁর কথায়, “মহাশয়তান (যুক্তরাষ্ট্র) পর্যন্ত তাঁর নাম উল্লেখ করেছে,”— ইঙ্গিত ছিল ট্রাম্পের সমালোচনার দিকে।

    কে এই মোজতবা খামেনেই?

    ১৯৬৯ সালে ইরানের শিয়া ধর্মীয় শহর মশদ-এ জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা খামেনেই। তিনি এমন এক সময়ে বড় হন, যখন তাঁর বাবা শাহ-বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তরুণ বয়সে তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ইরানের শিয়া ধর্মতত্ত্বের প্রধান কেন্দ্র ‘কওম’-এ ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। মোজতবা কখনও ইরানের সরকারি ব্যবস্থায় কোনো নির্বাচিত পদে ছিলেন না। তবে মার্কিন অর্থ দফতর ২০১৯ সালে তাঁর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তাদের অভিযোগ ছিল, কোনও সরকারি পদে না থেকেও তিনি তাঁর বাবার প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতেন। এছাড়াও ২০০৫ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কট্টরপন্থী নেতা মাহমুদ আহমেদিনেজাদ-এর উত্থানের নেপথ্যে মোজতবা খামেনেইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হয়ে আসছে।

     

  • T20 World Cup 2026: সবরমতীর তীরে শাপমোচন! প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা, ঘরের মাঠে প্রথম বিশ্বজয়, কোন পথে টি-২০ চ্যাম্পিয়ন ভারত?

    T20 World Cup 2026: সবরমতীর তীরে শাপমোচন! প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা, ঘরের মাঠে প্রথম বিশ্বজয়, কোন পথে টি-২০ চ্যাম্পিয়ন ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিশপ্ত আমেদাবাদেই গৌরবের রাত। নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে টি-২০ ক্রিকেটে ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন (T20 World Cup 2026) টিম ইন্ডিয়া। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামেই তৈরি হল ইতিহাস। টি-২০ বিশ্বকাপে এর আগে কোনও দেশ পরপর দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়নি। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ -পরপর দুবার বিশ্বসেরার মুকুট জিতে রেকর্ডবুক নতুন করে লিখল ভারত। গ্যালারির ভিআইপি বক্সে বসে যে গৌরব তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী আগের দুই ভারত অধিনায়ক – মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রোহিত শর্মা। উপভোগ করলেন ৮৩-বিশ্বকাপজয়ী নেতা কপিল দেব। যুদ্ধ জয়ের উচ্ছ্বাস ধরা পড়ল দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের চোখে। স্মিত হাসি আইসিসি সভাপতি জয় শাহের মুখেও। আসলে ক্রিকেট বিশ্বে ভারত যে কেন শেষ কথা বলে তা ফের একবার বুঝিয়ে দিলেন তিনি। স্টেডিয়ামের মিউজিক সিস্টেমে কখনও বাজতে থাকল ‘চক দে ইন্ডিয়া’, কখনও ‘লেহরা দো’। সঙ্গে এ আর রহমানের বিখ্যাত ‘বন্দেমাতরম’। যে গান ভারতীয় দলের থিম সং হয়ে গিয়েছে কার্যত। গলা মেলালেন স্টেডিয়ামে হাজির ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষ।

    দৃঢ় সংকল্প, দলগত চেষ্টারই প্রতিফলন

    সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) নেতৃত্বাধীন ভারত কিউয়িদের হারাতেই এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স! আইসিসি মেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার জন্য ভারতীয় দলকে অনেক অনেক অভিনন্দন! এই অসাধারণ জয় অসাধারণ দক্ষতা, দৃঢ় সংকল্প এবং দলগত চেষ্টারই প্রতিফলন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দলের সকলে অসামান্য ধৈর্য ও সাহসের প্রদর্শন করেছে। এই জয় প্রতিটি ভারতীয়র হৃদয়কে গর্ব ও আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছে। সাবাশ, টিম ইন্ডিয়া!’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে বরাবরই উন্নয়নের চেষ্টা করেন। ক্রীড়াবিদদের উদ্বুদ্ধও করেন। ভারতের অ্যাথলিটরা যখন কোনও মাল্টি স্পোর্টস ইভেন্টে যান, তখনও পেপটক দেন মোদি। পাশাপাশি ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা বিশ্বমঞ্চে কোনও টুর্নামেন্টে অংশ নিলেই মোদি তাঁদের সঙ্গে দেখাও করেন। এ বার তাঁর নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামে ভারত নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল, শীঘ্রই তাঁর বাসভবনে সাক্ষাতের জন্য ডাক পড়তে পারে স্কাই ব্রিগেডের।

    টসে জিতেও হেরে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড

    হওয়ার কথা ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কার্যত হয়ে দাঁড়াল একপেশে ম্যাচ। আমেদাবাদের পিচে টস জিতে যে কোনও অধিনায়ক চোখ বুজে ব্যাটিং নেবেন। ফাইনালের মতো ম্যাচে কে না রানের বোঝা বিপক্ষের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চায়! মিচেল স্যান্টনার করলেন ঠিক উল্টোটা। টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিলেন। যুক্তি দিলেন, পিচে অল্প ঘাস রয়েছে। পেসারদের দিয়ে তিনি ভারতের টপ অর্ডারকে বিপদে ফেলতে চান। তা তো হলই না। উল্টে ভারতের ওপেনারেরা এমন ভাবে শুরু থেকে কিউয়ি বোলারদের পেটাতে লাগলেন যে কয়েক ওভার যেতে না যেতে নিশ্চিত ভাবেই হাত কামড়াতে শুরু করেছিলেন স্যান্টনার। দিনের প্রথম ৬ ওভারের শেষের ভারতের স্কোর ছিল ৯২/০। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লে-তে যুগ্ম সর্বোচ্চ। তা-ও আবার ফাইনাল ম্যাচে। সেখানে নিউ জিল্যান্ড পাওয়ার প্লে-তে তুলল ৫২ রান। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, তারা হারায় তিন-তিনটি উইকেট। সাজঘরে ফিরে যান দলের তিন সেরা অস্ত্র ফিন অ্যালেন, রাচিন রবীন্দ্র এবং গ্লেন ফিলিপস। ওখান থেকে ম্যাচ বার করা নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে কার্যত অসম্ভব ছিল। ভারতের জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা।

    ওস্তাদের মার শেষ রাতে

    গোটা বিশ্বকাপ জুড়েই চর্চায় ছিল তাঁর ফর্ম। কিন্তু কথায় বলে, ওস্তাদের মার শেষ রাতে। তাই যেন প্রমাণ করলেন অভিষেক শর্মা। তাঁর প্রতিটি ছয়, প্রতিটি চার এবং প্রতিটি উল্লাস ছিল নিন্দকদের প্রতি এক-একটি জবাব। জেকব ডাফিকে পর পর দু’টি চার মেরে শুরু। কী অবলীলায় একের পর এক শট খেললেন! লকি ফার্গুসনের মতো বোলারকে অনায়াসে পাঠিয়ে দিলেন মাঠের বাইরে। দেখে মনেই হয়নি তিনি এত দিন খারাপ ছন্দে ছিলেন। ২০২৩-এর এক দিনের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেননি অক্ষর। আগের ম্যাচে রান হজম করেছিলেন। অভিষেকের মতো ফাইনালে তিনিও যেন নেমেছিলেন সব কিছুর জবাব দিতে। দর্শকাসনে তাঁর পরিবার এবং পাড়াপড়শিদের অনেকে ছিলেন। প্রথম ওভারেই তিনি ফেরালেন অ্যালেনকে, যাঁকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তা ছিল ভারতীয় শিবিরে। পরের ওভারে তিনি ফেরালেন গ্লেন ফিলিপসকে। অক্ষরের হাত থেকে বেরোল ‘স্লাইডার’, যা বাইরের দিকে ঘোরার বদলে ঢুকে এল ভেতরে। সোজা শট খেলতে গিয়েছিলেন ফিলিপস। সম্পূর্ণ বোকা বনে গেলেন কিউয়ি ব্যাটার। বল এসে ভেঙে দিল লেগ স্টাম্প। দু’টি উইকেট নেওয়ার পরেই দর্শকাসনের দিকে তাকিয়ে বিশেষ একটি উৎসব করতে দেখা গেল অক্ষরকে। তৃতীয় উইকেটটি পেলেন তৃতীয় ওভারে।

    বুম বুম বুমরা, স্বপ্নের ফর্মে সঞ্জু

    তাঁকে নিয়ে আর নতুন করে কী-ই বা বলার আছে। বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন তিনি। রবিবার তাঁর সামনে মঞ্চ তৈরিই ছিল। সেটাকে কাজে লাগালেন পুরোদমে। অহমদাবাদ বুমরাহেরও ঘরের মাঠ। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ম্যাচে তাঁর বোলিং ফিগার ৪-০-১৫-৪। অর্থাৎ প্রতি ওভারে চারেরও কম রান দিয়েছেন। সঙ্গে চারটি উইকেট। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। বুমরা ছিলেন প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট। ২০২৬-ফাইনালে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ। সুপার এইট থেকে স্বপ্নের ফর্মে সঞ্জু। টানা তিন ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করলেন। স্পর্শ করলেন শাহিদ আফ্রিদি ও বিরাট কোহলির কীর্তি। আফ্রিদি ও কোহলি টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন। সঞ্জুও সেই কীর্তিতে ভাগ বসালেন। চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে ২৪টি ছক্কা মেরেছেন স্যামসন। সেটিও রেকর্ড। কোনও এক বিশ্বকাপে এত ছক্কা কেউ মারেননি। প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্টও সঞ্জু।

    ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, পরাস্ত ইতিহাস

    ২০২৬-এ এসে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হল। একই সঙ্গে ইতিহাসকেও পরাস্ত করল ভারত। কোনও দেশ এখনও পর্যন্ত তিনবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। কোনও দলই বিশ্বকাপ ডিফেন্ড করতে পারেনি। কোনও আয়োজক দেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে পারেনি। একই সঙ্গে তিনটি রেকর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল সূর্যর ভারত। বিশ্বজয়ের উল্লাসের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল গ্যালারি থেকে আমেদাবাদের রাজপথে। এই উচ্ছ্বাস-উল্লাস খুবই সংক্রামক। তা নিমেষে ছড়িয়ে পড়ল গোটা দেশ।

     

     

     

     

LinkedIn
Share