Tag: bangla news

bangla news

  • Baruipur Minor Murder: বারুইপুরে নাবালিকা-হত্যা, তদন্তে গতি, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, একের পর এক পদক্ষেপ পুলিশের

    Baruipur Minor Murder: বারুইপুরে নাবালিকা-হত্যা, তদন্তে গতি, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, একের পর এক পদক্ষেপ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় তদন্তে আরও গতি আনল পুলিশ। ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ধারাবাহিক তল্লাশি চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করেছে তদন্তকারী দল। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে একাধিক জায়গায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে সিট।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তদন্ত

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে গঠিত সিট ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি নতুন করে আটক হওয়া তিনজনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, ঘটনাস্থলে তাঁদের উপস্থিতি ছিল কি না, অপরাধ সংঘটনে তাঁরা কোনওভাবে সহযোগিতা করেছিলেন কি না অথবা গোটা ঘটনার নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন কি না। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    তিনটি পৃথক মামলা দায়ের

    বারুইপুর থানার পুলিশ এই ঘটনায় মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজু করেছে। প্রথম মামলাটি নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। এছাড়া আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, পুলিশের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পথ ও রেল অবরোধ এবং গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে আরও দুটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের মোবাইলে তোলা ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে অশান্তি ও ভাঙচুরে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

    এলাকায় জারি বিএনএসের ১৬৩ ধারা

    রবিবারের উত্তেজনার পর সোমবারও বারুইপুরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে। কার্যত থমথমে পরিস্থিতি গোটা এলাকায়। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং রাস্তায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও খুবই কম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা টহল দিচ্ছেন। নতুন করে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

    ভবানী ভবনেরও নজরে তদন্ত

    শুধু জেলা পুলিশ নয়, রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরাও ঘটনার উপর নজর রাখছেন। রবিবারই ভবানী ভবন থেকে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। অশান্তি ছড়ানো, পুলিশের উপর হামলা এবং পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা তৈরির অভিযোগগুলিও পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্রেফতার ও আটক ব্যক্তিদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা চলছে।

    নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা মুখ্যমন্ত্রীর

    ঘটনার পর প্রশাসনিক তৎপরতাও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে গভীর শোকপ্রকাশ করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে কলকাতার ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তদন্তের অগ্রগতি এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    কী ঘটেছিল বারুইপুরে?

    পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ১২ বছরের ওই নাবালিকা। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। রবিবার ভোরে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় তার দেহ। পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশ কুলপি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধের পাশাপাশি শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। এই উত্তেজনার মধ্যেই এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ, পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

    তদন্তের দিকে নজর

    বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা, নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে শক্তিশালী প্রমাণ পেশ করতে পারবে কি না এবং প্রকৃত দোষীরা কত দ্রুত আইনের আওতায় আসবে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

  • PM Modi: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা মোদির, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা মোদির, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্লগ লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেখানে তিনি জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Syamaprasad Mukherjee) ভারতের ঐক্য ও অগ্রগতির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর জীবন আজও সাহস, আদর্শ এবং মাতৃভূমির প্রতি অটল নিষ্ঠার এক চিরন্তন উদাহরণ। ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘তিনি সচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও দেশের স্বার্থে আত্মত্যাগ ও জনসেবার পথই বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ঔপনিবেশিক শাসন, সাম্প্রদায়িকতা কিংবা মানবিক সঙ্কট— কোনও ক্ষেত্রেই তিনি নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারেন না।’

    ব্লগে শ্যামাপ্রসাদ স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    ব্লগে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জনজীবনের অন্যতম প্রধান আদর্শ ছিল ভারতের অখণ্ডতা। তাঁর কথায়, “দেশভাগের অস্থির সময়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন যাতে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থেকে যায়। কয়েক বছর পর সেই একই বিশ্বাস তাঁকে জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ে যায়। কারাবাস তাঁকে দমাতে পারেনি, বিচ্ছিন্নতাও তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। অসংখ্য মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়েই বন্দি অবস্থায় তাঁর জীবনের আকস্মিক অবসান ঘটে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি সবচেয়ে উপযুক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি ছিল তাঁর সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫(ক) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয় এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয় (PM Modi)।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য

    প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় গ্রন্থাগারের পরিকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং প্রত্নবস্তুর অধ্যয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের উন্নয়নের জন্য একটি বিকল্প রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একই সঙ্গে দেশের সাংস্কৃতিক শেকড়ের সঙ্গেও তিনি দৃঢ়ভাবে যুক্ত ছিলেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শিল্পকে দেশের মর্যাদা, কর্মসংস্থান এবং আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেখেছিলেন। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন এবং সিন্দ্রি সার কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

    শ্যামাপ্রসাদের দূরদর্শিতা

    ব্লগে প্রধানমন্ত্রী নেহরু সরকারের আনা প্রথম সংবিধান সংশোধনীর বিরোধিতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syamaprasad Mukherjee) অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের নীতির বিরুদ্ধে শ্যামাপ্রসাদ যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে তা (PM Modi) পরবর্তীকালে সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

  • Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা, পশ্চিমবঙ্গের জন্ম, স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের ভিত্তি নির্মাণ কিংবা কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই—এই প্রতিটি অধ্যায়ে বারবার ফিরে আসে একটি নাম। তিনি ‘ভারত কেশরী’ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। আজ, ৬ জুলাই, তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কেন তিনি ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিত্ব, সেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তাঁর জীবন, দর্শন ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারে।

    কলকাতার এক মেধাবী ছাত্র থেকে জাতীয় নেতা

    ১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরে জন্মগ্রহণ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর বাবা ছিলেন ‘বাংলার বাঘ’ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং মা যোগমায়া দেবী। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর অসামান্য মেধার পরিচয় মিলেছিল। মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে মেধাবৃত্তিসহ ম্যাট্রিক, প্রেসিডেন্সি কলেজে ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ-তেও প্রথম স্থান—প্রতিটি ধাপেই তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হওয়া ছিল সেই সময়ের এক বিরল নজির।

    শিক্ষাক্ষেত্রে যে সংস্কার আজও স্মরণীয়

    আইনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে তিনি কেবল আইনজীবী হয়ে থেমে থাকেননি। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮—এই চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিবর্তনগুলি তিনি আনেন, তা সময়ের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে ছিল। কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স, চীনা ও তিব্বতি ভাষা শিক্ষা, আধুনিক কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সম্প্রসারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের সূচনা—সবই তাঁর উদ্যোগে। তাঁর আমলেই প্রথমবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তৃতা দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শিক্ষাকে কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখতেন তিনি।

    বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের ভারত ছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময়। এই সময়েই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৪১ সালে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন শ্যামা-হক মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালির দাঙ্গার সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন, খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং ত্রাণ কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা সেই সময়ের নানা বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। দেশভাগের আগে অবিভক্ত বাংলার হিন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে তিনি অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের ঐতিহাসিক ভোটাভুটি পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা আজও আলোচিত।

    স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের প্রথম রূপরেখা

    স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় দেশের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর সময়েই ভারতের প্রথম শিল্পনীতি প্রণয়ন, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ কারখানা, সিন্ধ্রি সার কারখানা এবং একাধিক শিল্পপ্রকল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়। খড়্গপুরে দেশের প্রথম আইআইটি প্রতিষ্ঠার ভাবনা এবং কলকাতায় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও তাঁর দূরদর্শিতার পরিচায়ক। আজ ‘আত্মনির্ভর ভারত’ বা দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির যে আলোচনা হয়, তার প্রাথমিক শিল্পভিত্তি নির্মাণের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

    মতাদর্শের প্রশ্নে মন্ত্রিসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসা

    ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে তিনি নেহরু মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এটি ছিল কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; তাঁর আদর্শগত অবস্থানেরও প্রকাশ। এরপরই তিনি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ: যে বীজ থেকে বিজেপির উত্থান

    ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনসঙ্ঘ। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সমর্থনে গড়ে ওঠা এই দলেই পরবর্তীকালে যুক্ত হন দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী-সহ বহু নেতা। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এই জনসঙ্ঘই পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টির ভিত্তি হয়ে ওঠে। ফলে বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্ব কেবল একজন নেতা হিসেবে নয়, একটি রাজনৈতিক ধারার স্থপতি হিসেবেও মূল্যায়িত হয়।

    ৩৭০ ধারা নিয়ে যে আন্দোলন ইতিহাস হয়ে রয়েছে

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদার বিরোধিতা। ‘এক দেশে দুই বিধান, দুই নিশান, দুই প্রধান চলবে না’— এই স্লোগান তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক হয়ে ওঠে। পারমিট ব্যবস্থা অমান্য করে কাশ্মীরে প্রবেশের চেষ্টা করলে ১৯৫৩ সালের ১১ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২৩ জুন বন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়, যা আজও নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের বিষয়। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর তাঁর এই আন্দোলন নতুন করে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় ফিরে আসে।

    ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক?

    সময়ের সঙ্গে রাজনীতি বদলেছে, দল বদলেছে, কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে আলোচনা থামেনি। কারণ, তাঁর জীবনকে একমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ শিক্ষাবিদ, সফল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক, স্বাধীন ভারতের শিল্পনীতির অন্যতম স্থপতি, সংসদীয় রাজনীতির প্রভাবশালী বক্তা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম সংগঠক। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন নেতা, যাঁর রাজনৈতিক দর্শন আজও ভারতের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের আদর্শগত ভিত্তির অংশ।

    ইতিহাসের মূল্যায়ন কখনও একরৈখিক নয়

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে সমালোচকেরা তাঁর রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে একটি বিষয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিস্তর ঐকমত্য রয়েছে— স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের রাজনীতি, পশ্চিমবঙ্গের গঠন, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা এবং কাশ্মীর প্রশ্নের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সম্ভব নয়। ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাই তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন নেতাকে স্মরণ করা নয়; বরং স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রগঠন, শিক্ষাব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন করে ফিরে দেখা।

  • FIFA World Cup 2026: অবসর নেইমারের! হালান্ডের জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের, শেষ আটে ইংল্যান্ড

    FIFA World Cup 2026: অবসর নেইমারের! হালান্ডের জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের, শেষ আটে ইংল্যান্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) এখনও পর্যন্ত সেরা ম্যাচ খেলল ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো। গোটা ম্যাচ জুড়ে টান টান লড়াই। ৫ গোল। দুই পেনাল্টি। লাল কার্ড। শেষ পর্যন্ত ১০ জনে খেলেই মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। আরও এক বার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হল মেক্সিকোকে। কানাডার পর বিদায় নিল আরও এক আয়োজক দেশ। এর আগেই এদিন চলতি বিশ্বকাপ থেকে ছুটি হয়ে গিয়েছিল ব্রাজিলের। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল নরওয়ে। আগের দু’টি বিশ্বকাপে ব্রাজিল ছিটকে গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। এবার তার থেকে এক রাউন্ড আগেই ছিটকে গেল তারা। ২০০৬ থেকে ২০২৬ দীর্ঘ ২০ বছর সাম্বার তালে নাচতে পারেনি বিশ্ব-ফুটবল। এবারও তার অন্যথা হল না। বরং আরও জঘন্য-দিশাহীন ফুটবল খেললেন সেলেকাওরা। আর নয় তাই, চোখের জলেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ব্রাজিলের ব্যর্থ নায়ক নেইমার।

    বেলিংহ্যামের ঝড়, হ্যারিকেন-এর দাপট

    এই ম্যাচে নামার আগে আজতেকায় পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল। মেক্সিকোয় তারা কোনও দিন মেক্সিকোকে হারাতে পারেনি। শেষ বার ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে এই মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোলের স্মৃতি এখনও টাটকা ইংরেজ সমর্থকদের মনে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৫০০ ফুটের বেশি উচ্চতা। তার উপর ৮০,০০০ দর্শকের সিংহ ভাগই মেক্সিকোর। ইংল্যান্ড জানত, তাদের সামনে কী আসতে চলেছে। ম্যাচের আগে থেকে মেক্সিকোর সমর্থকদের উগ্র আচরণ বা কোচের হুমকি হালকা ভাবে নেননি টমাস টুখেল। তিনি জানতেন, এই ম্যাচে কেনকে নড়তে দেবেন না মেক্সিকোর ডিফেন্ডারেরা। সেই কারণে কেনের বদলে তিনি গোল করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন জুড বেলিহ্যামকে। নিজের কাজ ভাল ভাবে পালন করলেন বেলিংহ্যাম। প্রথম ৩০ মিনিট মেক্সিকো দাপট দেখায়। ঘরের মাঠে সেটাই স্বাভাবিক। ইংল্যান্ডকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, চাপ সামলে প্রতি আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা করেছেন। বেলিংহ্যামকে শুরু থেকেই ছটফটে লাগছিল। ৩৬ মিনিটের মাথায় খেলার গতির বিপরীতে গোল ইংল্যান্ডের। বল জালে জড়ান বেলিংহ্যাম। সেই গোলের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আবার গোল বেলিংহ্যামের। ৯৮ সেকেন্ডের মধ্যে। মেক্সিকোর ফুটবলারের পা থেকে বল কেড়ে কেনকে পাস দেন গর্ডন। কেনের মাইনাস পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দেন বেলিংহ্যাম। মেক্সিকোর সমর্থকদের দেখে মনে হচ্ছিল, বিশ্বাস করতে পারছেন না। বিশ্বাস হচ্ছিল না টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখা দর্শকদেরও।

    অ্যান্থনি গর্ডন-পিকফোর্ডও দুরন্ত

    এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের তিন ফুটবলার সবচেয়ে বেশি নজর কাড়লেন। বেলিংহ্যামের পাশাপাশি অ্যান্থনি গর্ডন দুর্দান্ত খেললেন। আগের ম্যাচে পরিবর্ত হিসাবে নেমে ইংল্যান্ডের দু’টি গোলেই তাঁর অবদান ছিল। ফলে এই ম্যাচে শুরু থেকে তাঁকে খেলান টুখেল। কোচের ভরসা রাখলেন তিনি। তৃতীয় নাম গোলরক্ষক জর্ডন পিকফোর্ড। তিনি না থাকলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ত ইংল্যান্ড। রাউল হিমেনেজের হেড দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। গোটা ম্যাচে বেশ কয়েক বার ইংল্যান্ডের পতন রোধ করেন তিনি। বিরতির আগে ফ্রি কিক থেকে ফিরতি বলে এক গোল শোধ করেন জুলিয়ান কিনোনেস। মেক্সিকো প্রাণ ফিরে পায়। পরের কয়েক মিনিট ইংল্যান্ডের রক্ষণে ত্রাহিরব তোলে তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আবার টান টান ফুটবল। কেউ কাউকে জমি ছাড়ছিল না। কিন্তু ৫৪ মিনিটের মাথায় বড় সিদ্ধান্ত নিলেন রেফারি আলি রেজা ফাঘানি। ভার রিপ্লে দেখে ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালেন তিনি। এই মাঠে আধ ঘণ্টার বেশি সময় এক জন কম খেলে মেক্সিকোকে আটকে রাখা কঠিন ছিল। বাধ্য হয়ে পরিকল্পনা বদলালেন টুখেল। রাইসকে নীচে নামালেন। সাকাকে তুলে নামিয়ে দিলেন জন স্টোন্সকে। দুই অভিজ্ঞ ফুটবলার ইংল্যান্ডের রক্ষণ সামলালেন। ১০ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও আক্রমণ থামায়নি ইংল্যান্ড। তার ফলও পায় তারা। বক্সের মধ্যে গর্ডনের গতি বুঝতে পারেননি মেক্সিকোর গোলরক্ষক। ফাউল করে বসেন। পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। গোল করতে ভুল করেননি কেন।

    দিশাহীন ফুটবল ব্রাজিলের

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধেই দুর্বলতা বোঝা গিয়েছিল। শেষ ৩২-এ জাপান দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। তা থেকে শিক্ষাই নিল না ব্রাজিল। সঙ্গত কারণেই বিশ্বকাপ থেকে ছুটি হয়ে গেল ব্রাজিলের। ছুটি করে দিলেন আর্লিং হালান্ড, যিনি সাত গোল করে বিশ্বকাপে লিয়োনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। বিশ্বকাপের নকআউটে কোনও না কোনও দলকে হারতেই হবে। সেটাই নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় সেই হারেও থাকে গর্ব। যেমন কিছু দিন আগে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কাবো ভার্দে হারলেও মন জয় করে নিয়েছিল। কিন্তু এ দিন ব্রাজিল যে ফুটবলটা খেলল, তাকে জঘন্য, দিশাহীন, লজ্জাজনক বললেও কম বলা হয়। গোটা ম্যাচে এক বারও দেখে মনে হয়নি তারা জিততে পারে। পেনাল্টি নষ্ট করেন ব্রুনো গিমারায়েস। এই কি সেই ব্রাজিল, যেখানে খেলে গিয়েছেন রোনাল্ডো, রিভাল্ডো, রোনাল্ডিনহোর মতো ফুটবলার? তিন জনেই এ দিন নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। অবসর ভেঙে তারা ফিরে এলে বোধহয় কাসেমিরো, ব্রুনোদের চেয়ে ভাল খেলতেন। অন্তত এ ভাবে মাথা নিচু করে, লজ্জা নিয়ে ফিরতে হত না। নরওয়ের কাছে আগেই নিজেদের সমর্পণ করে দিয়েছিল ব্রা‌জিল। শুরু থেকেই ভয় নিয়ে ফুটবল খেলেছে তারা। ভাবটা এমন, যেন সামনে ফ্রান্স বা আর্জেন্টিনার মতো দল খেলছে। এত রক্ষণাত্মক ফুটবল ব্রাজ়িল কবে খেলেছে তা মনে পড়া দুষ্কর।

    লম্বা রেসের ঘোড়া হালান্ড

    বিশ্বকাপ তাঁকেই মনে রাখে, যিনি বড় ম্যাচে কাজের কাজ করে দেখাতে পারেন। ঠিক সেটাই করে দেখালেন হালান্ড। প্রথম গোলটি করলেন হেডে। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতায় হওয়ায় এমনিই বাড়তি সুবিধা পান। ব্রাজ়‌িলের দুই ডিফেন্ডারের মাঝে লাফিয়ে হেড করতে অসুবিধাই হয়নি। দ্বিতীয় গোলটি ব্রাজ়‌িলকে আরও লজ্জায় ফেলার মতো। অন্তত তিন জন ডিফেন্ডার দাঁড়িয়েছিলেন সামনে। তাঁদের পিছনে ছিলেন ব্রাজিলের গোলকিপার। বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বাঁ পায়ে মাটি ঘেষা শট মারলেন তিনি। সকলকে টপকে বল জালে জড়িয়ে গেল। ম্যাচের শেষে সমর্থক এবং সতীর্থদের সঙ্গে ‘ভাইকিং রো’ করতেও দেখা গেল তাঁকে। হালান্ড বোঝালেন, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া।

    বিশ্বকাপ স্পর্শের স্বপ্ন অধরা নেইমারের

    ১৬ বছর আগে মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর। ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল এই মাঠেই। রবিবার রাতে যেন সম্পূর্ণ হলো একটা বৃত্ত। যেখান থেকে শুরু হয়েছিল পথচলা, সেখানেই ইতি টানলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার (Neymar)। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিরুদ্ধে হেরে ব্রাজিল ছিটকে যেতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচ শেষে ঘোষণা করেন অবসরের। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরে নেইমারের এই ঘোষণায় আরও ভেঙে পড়েছেন ব্রাজিল ভক্তরা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক চেষ্টা করেছি। নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এ বার সব শেষ। এখানেই যাত্রা শুরু করেছিলাম আমি। এখানেই শেষ করলাম।’ ১৬ বছরের কেরিয়ার শেষ হলো হার দিয়ে। ছিটকে যাওয়ার যন্ত্রণা দিয়ে। চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি। ফুটবল ইতিহাসে একটা যুগের যেন অবসান ঘটল রবিবার। চোটসমস্যা, ফর্মের ওঠাপড়া, মাঠের বাইরের একাধিক বিতর্ক পেরিয়েও নেইমার স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্বকাপে খেলার। তবে শেষটা হলো বেদনাদায়ক। জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের পরিসংখ্যান অসাধারণ। ১৩০ ম্যাচ খেলে ৮০টি গোল করেছেন নেইমার। রয়েছে চারটি হ্যাটট্রিকও। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ২০১০ সালে অভিষেক হয় জাতীয় দলের জার্সিতে। খেলেছেন চারটি বিশ্বকাপ। তবুও ব্যর্থ নায়ক নেইমার।

  • VB-G RAM-G: পশ্চিমবঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের জন্য ১,২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

    VB-G RAM-G: পশ্চিমবঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের জন্য ১,২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের মাত্র দু’মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই রাজ্যের জন্য ১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রথম কিস্তির অর্থ বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১,২৬৪.৪৯ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১ জুলাই থেকে রাজ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি কেন্দ্রের তরফে রাজ্যের জন্য অন্যতম বড় আর্থিক বরাদ্দ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রবিবার কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড়ার ঘোষণা করেন।

    দেশজুড়ে ২৫,৮৬৩ কোটি টাকার বরাদ্দ

    কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এদিন গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য মোট ২৫,৮৬৩ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দের নিরিখে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে দেওয়া হয়েছে ৩,২১০.৭৬ কোটি টাকা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই ওই রাজ্যে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রাখা হয়েছে।

    দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল কেন্দ্রীয় অর্থপ্রবাহ

    বিগত সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে ছিল। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে প্রকৃত শ্রমিকদের কাছে মজুরি পৌঁছাতে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল রাজ্যে পরিদর্শন করে। পরে বিভিন্ন সুপারিশের ভিত্তিতে উপভোক্তা তালিকা সংশোধন ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

    এবার জোর স্বচ্ছতা ও সময়মতো মজুরি প্রদানে

    কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মজুরি পৌঁছে দেওয়ার উপর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রতিটি স্তরে নজরদারি আরও কঠোর করা হবে যাতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা যায় এবং প্রকৃত উপভোক্তারাই এর সুবিধা পান।

    ১০০ দিনের বদলে এখন ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান

    একসময় মনরেগা (MGNREGA) নামে পরিচিত এই গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের নতুন নাম হয়েছে ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ভিবি-জিরাম-জি। নতুন কাঠামোয় বছরে কর্মসংস্থানের সীমা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এর ফলে গ্রামীণ পরিবারের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য পূরণ হবে। পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বড় আর্থিক বরাদ্দকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি প্রদান এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়গুলিই সবচেয়ে বেশি নজরে থাকবে।

  • Jodhpur Airport: যোধপুরে রাজকীয় ঐতিহ্যের আধুনিক রূপান্তর, প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ডানা মেলল নয়া ‘উড়ান’

    Jodhpur Airport: যোধপুরে রাজকীয় ঐতিহ্যের আধুনিক রূপান্তর, প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ডানা মেলল নয়া ‘উড়ান’

    মাধ্য়ম নিউজ ডেস্ক: দ্রুত বদলাচ্ছে আজকের ভারত। রাস্তাঘাট, রেল ব্যবস্থা থেকে বিমান পরিষেবা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও অনায়াস করে তুলছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ হোক বা পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন-বিশ্বমঞ্চে ভারত আজ শক্তিশালী দেশ হিসেবে এগিয়ে চলেছে। এই উন্নয়নের ধারা বজায় রেখেই রাজস্থানে (Rajasthan) একগুচ্ছ বড় প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)।

    যোধপুর বিমানবন্দরের নয়া টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন (Jodhpur Airport)

    ইতিহাসের শহর যোধপুরে এবার আধুনিকতার ছোঁয়া। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে মরু শহরে বইল উন্নয়নের জোয়ার। যোধপুর বিমানবন্দরের নতুন এবং আধুনিক টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মাও (Bhajanlal Sharma)। প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা খরচে এই নতুন টার্মিনাল ভবনটি তৈরি হয়েছে। এটি রাজস্থানের পুরনো ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির এক চমৎকার মেলবন্ধন। টার্মিনালটি (Terminal) রাজস্থানের রাজকীয় রাজপ্রাসাদের মতো করে সাজানো হয়েছে। এর দেওয়ালে রয়েছে বিভিন্ন নকশা। খিলান ও ঝরোকার মতো নকশাগুলি পর্যটকদরে নজর কাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    পরিবেশবান্ধব ভাবনা

    শুধু আধুনিকতাই নয়, পরিবেশের সুরক্ষাকেও রাখা হয়েছে অগ্রাধিকারের তালিকায়। বিদ্যুৎ ও জলের অপচয় রোধে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যার মূল লক্ষ্য দেশের অন্যতম সেরা ৫-স্টার GRIHA রেটিং অর্জন করা। বিশাল আয়তনের এই নতুন টার্মিনাল ভবনটি প্রায় ২৩,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। বছরে প্রায় ২০ লক্ষ যাত্রীকে বিশ্বমানের পরিষেবা দেবে। ব্যস্ততম সময়ে ১ হাজারেরও বেশি যাত্রী সামলাতে সক্ষম।

    বালোত্রায় মেগা প্রকল্প 

    যোধপুরের অনুষ্ঠান শেষ করেই সোজা বালোত্রায় চলে যান প্রধানমন্ত্রী। রাজস্থানের উন্নতির স্বার্থে ১.০৬ লাখ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। দেশবাসীর বিমানযাত্রার স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সূচনা হলো ‘উড়ান’ (UDAN) প্রকল্পের। এর মূল লক্ষ্য হল, দেশের প্রত্যন্ত ও ছোট শহরগুলিকে বিমান মানচিত্রে যুক্ত করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত এবং গতিশীল করা। আগামী ১০ বছরের জন্য এই প্রকল্পের বাজেট ২৮,৮৪০ কোটি টাকা। প্রকল্পের লক্ষ্য হল দেশের যেসব ছোট শহরে বিমান চলে না বা পুরানো রানওয়ে পড়ে রয়েছে, সেগুলিকে নতুন বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করা। পাহাড় বা দুর্গম অঞ্চলে যাতায়াত সহজ করতে ৩,৬৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০টি নতুন হেলিপ্যাড তৈরি করা। বিমান সংস্থাগুলিকে সরকার ৫ বছর পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য (VGF) দেবে। যাতে তারা কম ভাড়ায় সাধারণ মানুষকে উড়ানের সুযোগ করে দিতে পারে। ছোট বিমানবন্দর ও হেলিপ্যাডগুলি যাতে ঠিকঠাক চলে, সেজন্য সরকার বার্ষিক আর্থিক অনুদান দেবে। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দুটি উন্নত হেলিকপ্টার (HAL Dhruv) ও দুটি বিমান (HAL Dornier) এই কাজের জন্য কেনা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যোধপুর ও বালোত্রার এই নতুন প্রকল্পগুলি শুধু যাতায়াত ব্যবস্থাই উন্নত করবে না, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও পর্যটন শিল্পেও জোয়ার আনবে। আয় বাড়বে সাধারণ মানুষের।বিশেষজ্ঞদের মতে, যোধপুরের নয়া টার্মিনাল, বালোত্রার বিশাল প্রকল্প এবং ‘উড়ান’ সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় উপহার। এর জেরে মরুরাজ্যে পর্যটনের বিকাশ ঘটবে। চাঙা হবে হোটেল ও পরিবহণ ব্যবসা। হাজার হাজার মানুষের রোজগার বাড়বে, প্রশস্ত হবে কর্মসংস্থানের পথও।

    এগিয়ে চলেছে নতুন ভারত

    যোধপুর (Jodhpur Airport) বা বালোত্রার এই কাজগুলি বিচ্ছিন্ন কিছু নয়, এটি পুরো ভারতের উন্নতির একটি অংশ মাত্র। একদিকে ভারত মহাকাশ বিজ্ঞানে ‘চন্দ্রযান’ ও ‘গগনযান’ মিশন নিয়ে বিশ্বের দরবারে নাম কুড়োচ্ছে, আর অন্যদিকে দেশের ভেতরে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন, হাজার হাজার কিলোমিটার লম্বা নতুন এক্সপ্রেসওয়ে এবং আধুনিক বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মাধ্যমে যাতায়াত ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে তুলছে। পরিবেশ বাঁচাতে ভারত এখন সৌরশক্তি ও গ্রিন হাইড্রোজেনের ওপরও জোর দিচ্ছে। এককথায়, উন্নত ভারতের যে স্বপ্ন আমরা নিরন্তর দেখে চলেছি, অহরহ তার সুফল পৌঁছে যাচ্ছে দেশের প্রতিটি কোণে।

  • PM Modi: প্রয়াত প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাই, শোকস্তব্ধ ভারত, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi: প্রয়াত প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাই, শোকস্তব্ধ ভারত, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাইয়ের (Teejan Bai) প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ভারত (PM Modi)। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আজ, রবিবার রায়পুরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পাণ্ডবাণী শিল্পকলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাধক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন তীজন বাই। ছত্তীসগঢ়ের এই ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পকে দেশ-বিদেশের দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অনন্য।

    তীজন বাইয়ের প্রয়াণে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    তীজন বাইয়ের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক বার্তায় তিনি বলেন, “প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাইজির প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর অসাধারণ পরিবেশনার মাধ্যমে ছত্তীসগঢ়ের এই লোকশিল্প বিশ্বজুড়ে স্বতন্ত্র পরিচিতি লাভ করেছে। তাঁর প্রয়াণ শিল্প ও সংস্কৃতির জগতে অপূরণীয় ক্ষতি। এই শোকের মুহূর্তে তাঁর পরিবার ও অসংখ্য অনুরাগীর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। ওঁ শান্তি!” ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেন, “তীজন বাইয়ের অবদান রাজ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ সম্মান এনে দিয়েছে। তাঁর সাফল্য ছত্তীসগঢ়ের সাংস্কৃতিক পরিচিতিকে আরও উজ্জ্বল করেছে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছে।” রাজ্যের মন্ত্রী কেদার কাশ্যপ শোকপ্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, তাঁর প্রয়াণ শুধু ছত্তীসগঢ় নয়, গোটা দেশের জন্যই বড় ক্ষতি। তিনি রাজ্যের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে দেশের অন্যতম সম্মানিত সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।

    কী এই পাণ্ডবাণী শিল্প?

    শতাব্দীপ্রাচীন পাণ্ডবাণী মহাভারতের বিভিন্ন পর্ব অবলম্বনে গড়ে ওঠা একটি মৌখিক কাহিনি পরিবেশনার ধারা। তীজন বাই তাঁর শক্তিশালী কণ্ঠ, আবেগঘন বর্ণনা ও মঞ্চে অসাধারণ উপস্থিতির মাধ্যমে এই শিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তোলেন। কয়েক দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে (PM Modi) তিনি পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ এবং দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন। তাঁর (Teejan Bai) প্রয়াণে ভারত এক অসামান্য লোকশিল্পীকে হারালেও, পাণ্ডবাণীকে সংরক্ষণ ও জনপ্রিয় করে তোলার তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মের কাছে হয়ে (PM Modi) থাকবে চিরস্মরণীয়।

     

  • Child Sexual Abuse Ads: শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত আপত্তিকর সামগ্রী ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে মেটাকে নোটিশ কেন্দ্রের

    Child Sexual Abuse Ads: শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত আপত্তিকর সামগ্রী ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে মেটাকে নোটিশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত আপত্তিকর সামগ্রী ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠান (Instagram) মেটাকে নোটিশ পাঠাল কেন্দ্র। সরকারি সূত্রের দাবি, অর্থের বিনিময়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের (Child Sexual Abuse Ads) মাধ্যমে শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতনসংক্রান্ত সামগ্রীর নাগাল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রক ইনস্টাগ্রামকে অবিলম্বে ওই ধরনের সব সামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। সাত দিনের মধ্যে বিস্তারিত জবাবও চাওয়া হয়েছে।

    তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ব্যবস্থা (Child Sexual Abuse Ads)

    সরকার জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক তথ্য না দিলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের অধীনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত সামগ্রীকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগেও অবিলম্বে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, মেটার সুপারিশভিত্তিক ব্যবস্থা শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ভিডিও ছড়িয়ে দিতে অবদান রাখছিল। ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এমন কিছু অর্থের বিনিময়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপন দেখা গিয়েছে, যেখানে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলে পাঠানো হচ্ছিল। সেখানে এই ধরনের সামগ্রী বিক্রির অভিযোগও ওঠে।

    সংস্থাকে জবাবদিহি করতে হবে

    সরকার জানতে চেয়েছে, এই ধরনের বিজ্ঞাপন কীভাবে অনুমোদন পেল, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সংস্থা কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেবে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, “শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত সামগ্রী প্রচারের অভিযোগে অর্থের বিনিময়ে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের সামগ্রীর অজুহাত দেখিয়ে দায় এড়ানো যাবে না। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংস্থাকে জবাবদিহি করতে হবে (Child Sexual Abuse Ads)।” সংস্থার এক মুখপাত্র বলেন, “শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত সামগ্রী চাওয়া, ভাগ করে নেওয়া বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ব্যবহার করে (Instagram) আমরা নিয়মভঙ্গকারী সামগ্রী শনাক্ত করি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করছি (Child Sexual Abuse Ads)।”

     

  • Hindus Under Attack: হিন্দু নির্যাতন চলছেই, রাম মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার এক মুসলিম, আর কোথায় কী?

    Hindus Under Attack: হিন্দু নির্যাতন চলছেই, রাম মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার এক মুসলিম, আর কোথায় কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ-সহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা, এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week) উদ্বেগের। ২৮ জুন থেকে ৪ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত  সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে।

    ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে বিদেশি অর্থের অপব্যবহার!

    ভারতে ধর্মীয় অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ২০১১ সালের বিধিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশোধন আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে বিদেশি অর্থের অপব্যবহার রোধে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার গঙ্গোহ এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ সোহেলকে কর্নাটক থেকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা এবং সন্ত্রাসবাদ দমন শাখার যৌথ দল। অভিযোগ, তিনি অযোধ্যার রাম মন্দিরকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।

    গরু জবাইয়ের চেষ্টা ভন্ডুল

    উত্তরপ্রদেশের মিরাট জেলার সারধানা এলাকায় গরু জবাইয়ের একটি চেষ্টাও ভন্ডুল করে দিয়েছে পুলিশ। ওই ঘটনায় মনীশ, দিলশাদ ও সারতাজ নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। উদ্ধার হয়েছে প্রায় এক কুইন্টাল গোমাংস, একটি গরু এবং জবাই করার বিভিন্ন সরঞ্জাম। হায়দরাবাদের সমাজকর্মী এএস সন্তোষের অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তেলঙ্গানা সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আগাপে অনাথ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসকারী সংক্রমণে আক্রান্ত অনাথ শিশুদের পরিচয় অর্থ সংগ্রহের বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, এবং শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

    বিতর্কের মূলে কী

    কর্নাটকের প্রবেশিকা পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের পবিত্র জেনেউ ও কালাভা খুলে ঢোকার নির্দেশকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, এটি কেবল পরীক্ষার নিয়ম নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংবিধানিক সমতা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন। এদিকে, একটি বহুজাতিক রাসায়নিক ও প্লাস্টিক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মুম্বই শাখায় কর্মরত বহু প্রাক্তন কর্মীর অভিযোগ, ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া সাংগঠনিক পরিবর্তনের আড়ালে ভারতীয় হিন্দু পেশাজীবীদের পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও সংখ্যালঘু হিন্দুদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামি লিগের অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর রামের মূর্তি ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে (Hindus Under Attack)।

     

  • Jammu Kashmir: স্কুল শিক্ষা দফতরের ৮ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের, কারণ জানেন?

    Jammu Kashmir: স্কুল শিক্ষা দফতরের ৮ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের, কারণ জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল শিক্ষা দফতরের আট আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা। অভিযোগ, সরকারি বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির জন্য (LG Manoj Sinha) নির্বাচিত দু’টি বইয়ে সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের জেরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বিতর্কের কেন্দ্রে যে দু’টি বই (Jammu Kashmir)

    সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলাবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত বই দু’টি হল ‘পার্সোনালিটিজ অ্যান্ড লেজেন্ডস অব জম্মু ও কাশ্মীর (সিরিজ-৪)’ এবং ‘গ্রেট পার্সোনালিটিজ অব জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর’। বই দু’টি বিশেষজ্ঞ সাবকমিটির অনুমোদনের পর সমগ্র শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় জম্মু, রামবান, উধমপুর ও বারামুলা-সহ কয়েকটি জেলার সরকারি বিদ্যালয়ে সীমিত সংখ্যায় পাঠানো হয়েছিল। ৩ জুলাই সেগুলি তুলে নেওয়া হয়।

    তরুণ মনে বিষ ঢালার চেষ্টা!

    অভিযোগ অনুযায়ী, বই দু’টিতে জেকেএলএফ প্রতিষ্ঠাতা মকবুল ভাট, লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি, শব্বির শাহ, মিরওয়াইজ উমর ফারুক ও মাসারত আলম ভাটকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি “ভারত অধিকৃত কাশ্মীর” শব্দবন্ধ ব্যবহার করে বিচ্ছিন্নতাবাদ-সমর্থক বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ। শাসক দলের নেতাদের দাবি, “বইগুলিতে অত্যন্ত আপত্তিকর বিষয়বস্তু রয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।” তাঁদের আরও অভিযোগ, “এটি শিক্ষার মোড়কে তরুণ প্রজন্মের মনে বিষ ঢেলে দেওয়ার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।”

    আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    সরকারের বক্তব্য, বই নির্বাচন, মূল্যায়ন ও সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা না নেওয়া, গুরুতর গাফিলতি এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা (Jammu Kashmir) নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো নির্বাচন ও সংগ্রহ প্রক্রিয়ার উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ প্রশাসনিক আধিকারিক অশ্বিনী কুমারকে, এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। এর (LG Manoj Sinha) পাশাপাশি দুই লেখক ও দুই প্রকাশককে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলজুড়ে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের লেখা বা প্রকাশিত সমস্ত মুদ্রিত বই প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (Jammu Kashmir)।

     

LinkedIn
Share