Tag: Bangladesh Awami League

Bangladesh Awami League

  • Bangladesh Crisis: এখনও থমথমে বাংলাদেশ! কার্ফু উঠলেও চালু হল না বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন

    Bangladesh Crisis: এখনও থমথমে বাংলাদেশ! কার্ফু উঠলেও চালু হল না বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার সকালে নতুন করে কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির খবর মেলেনি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলিতে। হাসিনা দেশ (Bangladesh Crisis) ছেড়ে চলে যাওয়ার পর এবং তার পরবর্তী এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তুলে দেওয়া হল কার্ফু। চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অফিস-কাছারি। উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলি খুললেও এখনও চালু হয়নি পঠনপাঠন।

    আন্তবাহিনীর পক্ষ থেকে কী জানানো হয়েছে? (Bangladesh Crisis)

    বাংলাদেশ (Bangladesh Crisis) প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর সোমবার রাতেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। সেখানে জানানো হয়েছিল, মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্ফু কার্যকর থাকবে। এর পর মঙ্গলবার থেকেই স্কুল- কলেজ, অফিস-কাছারি, কারখানা খোলা যাবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতরের বিজ্ঞপ্তির পর মঙ্গলবার থেকেই পদ্মাপারের বেশির ভাগ অফিস, আদালত খুলে গিয়েছে বলে ‘প্রথম আলো’-য় প্রকাশিত হয়েছে। খুলেছে ব্যাঙ্কও। বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, অঞ্চলভিত্তিক ঝুঁকি বিবেচনা করে ব্যাঙ্কগুলি নিজেদের শাখা খোলা রাখতে পারবে।

    আরও পড়ুন: ‘‘১ কোটির ওপর বাংলাদেশি হিন্দু আসবেন পশ্চিমবঙ্গে’’, বড় দাবি শুভেন্দুর

    পঠনপাঠন চালু হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে

    মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে কার্ফু প্রত্যাহার করা হয়েছে বাংলাদেশে (Bangladesh Crisis)। অফিস, কারখানা, স্কুল-কলেজ পুনরায় খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খুললেও, এখনই শুরু হল না বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বাভাবিক পঠনপাঠন। সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি বাংলা’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পড়ুয়াকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ক্যাম্পাস খোলা থাকলেও, পঠনপাঠনের প্রক্রিয়া এখনই চালু হচ্ছে না। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকের পরই পঠনপাঠন শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একই ছবি রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও।

    সাংসদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ১৩টি থানায় হামলা!

    শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা এবং বাংলাদেশ (Bangladesh Crisis) থেকে চলে যাওয়ার পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। সোমবার বিকেলে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান দেশবাসীর কাছে অনুরোধ করেছেন এ সব থেকে বিরত থাকার জন্য। রাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহবুদ্দিনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করার বার্তা দিয়েছিলেন। তবে সোমবার রাতেও বেশ কিছু প্রান্ত থেকে অশান্তি ও গোলমালের অভিযোগ উঠে এসেছে। নাটোর ২-এর সাংসদ শফিকুল ইসলামের বাড়িতে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছিল। সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-য় প্রকাশ, মঙ্গলবার সকালে তাঁর বাড়ি থেকে তিন জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। সোমবার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মাঝেই ঢাকায় ১৩টি থানা ও দু’টি সংশোধনাগারে হামলা চালানো হয়। বন্দিদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। ভাঙচুর চালানো হয়েছে বাড্ডা, ভাটারা, যাত্রাবাড়ি, মহম্মদপুর-সহ একাধিক থানায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh Crisis: হাসিনার জন্য তৈরি ছিল রাফাল! বাংলাদেশের উপর কড়া নজর কেন্দ্রের

    Bangladesh Crisis: হাসিনার জন্য তৈরি ছিল রাফাল! বাংলাদেশের উপর কড়া নজর কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ভারতে এসেছিলেন সেদেশের বায়ুসেনার সি১৩০জে বিমানে। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে উড়েছিলেন শেখ হাসিনা, কিন্তু তার পর সি-১৩০জে বিমান দেওয়া হয় তাঁকে। সেই বিমানেই ভারতে আসেন। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি (Bangladesh Crisis) এ বিষয়ে কড়া নজর রেখেছিল। হাসিনা যে বিমানে ভারতে আসেন, তার কল সাইন ছিল ‘এজেক্স ১৪৩১’ এবং ওই বিমান ভারতীয় সীমান্তে দুপুর তিনটে নাগাদ প্রবেশ করে। ভারতীয় র‍েডারগুলি বিমানের উপর কড়া নজর রেখেছিল।

    যে পথে ভারতে এলেন হাসিনা (Sheikh Hasina)

    জানা গিয়েছে, ওই বিমানটি কলকাতার উপর দিয়ে উড়ে যায়। পাটনা হয়ে বিমানের গন্তব্য ছিল গাজিয়াবাদের হিন্ডন এয়ারবেস। ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করার পর দুটি রাফাল বিমানকে সক্রিয় করা হয়। যাতে কোনও সমস্যা হলে তারা ওই বিমানকে সুরক্ষা দিতে পারে। বিমানটি যখন পাটনার উপর দিয়ে উড়ে যায়, তখন বিকেল চারটে হয়ে গিয়েছিল। বিকেল ৫:৪৫ নাগাদ গাজিয়াবাদে অবতরণ করেন শেখ হাসিনা এবং তাঁর বোন শেখ রেহানা। তাঁকে স্বাগত জানান এনএসএ অজিত ডোভাল। তড়িঘড়ি দুই পক্ষের মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি (Bangladesh Crisis) এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।

    পরিস্থিতির উপর নজর ভারতের (Bangladesh Crisis) 

    এদিকে সূত্রের খবর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র ত্রিবেদী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেও ম্যাথিউ সহ ভারতের শীর্ষ নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকরা (Bangladesh Crisis) পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।

    আরও পড়ুন: ব্রিটেন রাজনৈতিক আশ্রয় না দেওয়া পর্যন্ত কি ভারতেই থাকবেন হাসিনা?

    এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, অজিত ডোভালের সঙ্গে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন। তিনি বৈঠকে মন্ত্রীদের বর্তমান অবস্থা এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে তাঁদের পরামর্শ দেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

     

  • Sheikh Hasina: ব্রিটেন রাজনৈতিক আশ্রয় না দেওয়া পর্যন্ত কি ভারতেই থাকবেন হাসিনা?

    Sheikh Hasina: ব্রিটেন রাজনৈতিক আশ্রয় না দেওয়া পর্যন্ত কি ভারতেই থাকবেন হাসিনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গদিচ্যুত হয়েছেন শেখ হাসিনা। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সোমবার ভারতে আসেন হাসিনা (Sheikh Hasina)। তবে এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী? কোথায় থাকবেন হাসিনা? শেখ হাসিনা কি ভারতেই রাজনৈতিক আশ্রয় নেবেন নাকি ব্রিটেনে যাবেন? এই নিয়ে চরম জল্পনা চলছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, হিন্ডন থেকে বাংলাদেশি বায়ুসেনার বিমানটি আকাশে ওড়ার পর থেকেই পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে চলেছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থা এবং গোয়েন্দারা। এই পরিস্থিতিতে হাসিনার পরবর্তী গন্তব্য ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। এদিকে, হাসিনার ছেলে ওয়াজেদ সজীব ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর মা আর বাংলাদেশে ফিরবেন না। রাজনীতিতে যোগ দেবেন না। বিশেষ সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, ব্রিটেন রাজনৈতিক আশ্রয় না দেওয়া পর্যন্ত আপাতত ভারতেই থাকবেন হাসিনা। ইতিমধ্যেই তাঁকে সাময়িকভাবে ভারতে থাকার অনুমোদন দিয়েছে নয়াদিল্লি।  

    যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চাইছেন হাসিনা (Sheikh Hasina)

    গণ-আন্দোলনে জ্বলছে অশান্ত বাংলাদেশ। সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ দিল্লির কাছে হিন্ডন সামরিক বিমানঘাঁটিতে শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন রেহানাকে নিয়ে অবতরণ করে একটি বাংলাদেশি বায়ুসেনার সিজে-১৩০ বিমান। শোনা যাচ্ছিল, জ্বালানি নিয়ে সেটি রওনা দেবে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে। কিন্তু তারপর শোনা যায়, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ইতিবাচক নির্দেশ পাওয়া যায়নি। ফলে এরপর আর ভারত (India) ছাড়তে পারেননি হাসিনা। জানা গিয়েছে, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ভারতেই থাকবেন তাঁরা। তবে উল্লেখ্য, “বাংলাদেশের জনক” শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে অর্থাৎ হাসিনার বোন রেহানা ব্রিটিশ নাগরিক। 

    আরও পড়ুন: ভারতে আশ্রয় পেলেন হাসিনা, অশান্ত বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তায় দিল্লি

    ভারত-বাংলাদেশ সমন্বয়

    প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) পদত্যাগের পর অভিভাবকহীন দেশের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। অর্থাৎ প্রতিবেশি দেশটির ক্ষমতা এখন সেনাবাহিনীর হাতে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, ” আমরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করব।” এদিকে, এই অশান্ত পরিবেশের ফাঁকে বাংলাদেশে বিভিন্ন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে রাতের বেলা সেনার তরফ থেকে কমান্ডারদের ফোন নম্বর প্রকাশ করা হয়। হিন্দুদের ওপর হামলা হলে সেই সব নম্বরে ফোন করতে বলা হয়। প্রতিবেশী দেশের এই পরিস্থিতিতে ঢাকার ভারতীয় (India) হাইকমিশন হাই অ্যালার্টে রয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা সেখানে ভারত-বাংলাদেশ সমন্বয় প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ভারতীয় এজেন্সিগুলির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বর্তমানে বাংলাদেশের মাটিতে রয়েছেন, যাঁরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম— সমস্ত এলাকায় উপস্থিত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভারত সরকারের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh Crisis: কোটা বিরোধী আন্দোলন থেকে হাসিনার পতন! ফিরে দেখা ঘটনাক্রম

    Bangladesh Crisis: কোটা বিরোধী আন্দোলন থেকে হাসিনার পতন! ফিরে দেখা ঘটনাক্রম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার ৫ অগাস্ট ইস্তফা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। প্রসঙ্গত, ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। সরকার বিরোধী আন্দোলনের জেরে অগ্নিগর্ভ হয় বাংলাদেশের পরিস্থিতি (Bangladesh Crisis)। যার ফলে মৃত্যু হয় ৩০০ জন মানুষের। হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিকরা শেখ হাসিনার বাড়িতে হামলা চালান। এরপরেই বোন শেখ রেহেনাকে নিয়ে দেশ ছাড়েন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (Sheikh Hasina)। নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চলে আসেন ভারতে এবং গাজিয়াবাদের এক গোপন আস্তানায় তাঁকে রাখা হয়।

    এরইমধ্যে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঘোষণা করেন যে দেশে অন্তর্বর্তী সরকার তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি, তিনি প্রতিশ্রুতিও দেন যে দেশের সমস্ত অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে এবং নাগরিক হত্যার সুবিচার দেওয়া হবে। সোমবারই গণভবন দখলের পরে বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে উল্লাস করতে থাকে (Bangladesh Crisis)। ৫ অগাস্ট গণভবন দখল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইস্তফা, তাঁর দেশ ছেড়ে যাওয়া- এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। আমরা সেই সমস্ত ঘটনাক্রমগুলি নিয়েই আজকে আলোচনা করব।

    প্রথম পর্যায়ের বিক্ষোভ

    বাংলাদেশে অশান্তি শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের গোড়াতেই। সংরক্ষণের নিয়ম নিয়েই এই অশান্তির সূত্রপাত। সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ নীতিকে নিয়েই বিতর্কে সূত্রপাত। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পরিবারদের চাকরিতে ব্যাপক কোটা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি, মহিলাদেরও অনেকটাই সংরক্ষণ দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা অংশগ্রহণ করেছিলেন সেই সমস্ত পরিবারের উত্তরসূরিদের ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে হাইকোর্টও এই সংরক্ষণ নীতিতে সিলমোহর দেয়। এরপরেই প্রথমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয় সেদেশে, পরবর্তীকালে তা ব্যাপক সহিংস আকার ধারণ করে। গত ১৮ জুলাই ঢাকায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের সদর দফতরে আগুন লাগিয়ে দেয় সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনকারীরা। ছাত্র-ছাত্রীদের এই বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ রবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের পাশাপাশি গুলিও চালায়। এর ফলে মৃত্যুর সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। বাড়ে আহতদের সংখ্যাও (Bangladesh Unrest)।

    ২০১৮ সালেও একই ইস্যুতে উত্তাল হয়েছিল বাংলাদেশ

    ২০১৮ সালেও একই বিষয়ে আন্দোলন উত্তাল হয়ে উঠেছিল দেশটি। সরকারি চাকরিতে সে দেশে মোট ৫৬ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল, যার মধ্যে ৪৪ শতাংশ আসন সাধারণের জন্য নির্ধারিত ছিল। ৫৬ শতাংশ আসনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশ, মহিলাদের জন্য ১০%, জেলার জন্য ১০%, জনজাতিদের জন্য ৫ শতাংশ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ ছিল। ২০১৮ সালে সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ শতাংশ, নারীদের ১০ শতাংশ ও জেলার ১০ শতাংশ আসন বাতিল করে দেয়। রাখা হয় শুধু জনজাতিদের ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ সংরক্ষণ। এ নিয়ে মামলা গড়ায় বাংলাদেশের হাইকোর্টে। চলতি বছরের ৫ জুন হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, হাসিনা সরকারের (Sheikh Hasina) নির্দেশ অবৈধ। ফের প্রতিবাদ আন্দোলনে নামেন পড়ুয়ারা। অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশের প্রথম পর্যায়ের আন্দোলনে নিহত হন ২০০-এর ওপর মানুষ।

    দ্বিতীয় পর্যায়ের বিক্ষোভ (Bangladesh Crisis)

    গত ২১ জুলাই সংরক্ষণ মামলায় রায় দেয় বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত নিজেদের রায়ে জানায়, সরকারি চাকরিতে ৭ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সন্তানদের জন্য। বাকি ২ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে অন্যান্য শ্রেণির জন্য। বাকি ৯৩ শতাংশ নিয়োগই হবে মেধার ভিত্তিতে। এর পাশাপাশি, পড়ুয়াদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ফিরে যেতে বলে শীর্ষ আদালত। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ে হিংসা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এই পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা দাবি জানান যে, মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সংরক্ষণ, সরকারি চাকরিতে একেবারে প্রত্যাহার করতে হবে। এর পাশাপাশি, আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে যেভাবে ২০০ জন আন্দোলনকারীকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশের পুলিশ ও সেনাবাহিনী হত্যা করেছে, সেটার ন্যায়-বিচারের দাবিতেও আবার দলে দলে মানুষ রাস্তায় নামতে থাকেন। ঢাকা, খুলনা, সিলেট, নরসিংদি, চট্টগ্রাম প্রভৃতি স্থানে মসজিদে নমাজের পরেই অসংখ্য হিংসার (Bangladesh Crisis) ঘটনা সামনে আসতে থাকে। চট্টগ্রামে জুম্মার নামাজের পরে সেখানকার স্থানীয় ওয়াসা মোড়ে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন লাগিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুড়তে থাকেন। পাল্টা আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে, রবার বুলেট চালায়, টিয়ার গ্যাস ছুড়ে জবাব দেয়, চলে গুলিও।

    বিক্ষোভের তৃতীয় পর্যায়

    দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া হিংসার পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) পদত্যাগ দাবি করতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। গত ৪ অগাস্ট আওয়ামি লিগ সমর্থক ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এর ফলে শতাধিক মানুষ নিহত হন। জানা যায়, নিহতদের মধ্যে ১৪ জন পুলিশ কর্মীও ছিলেন। বাংলাদেশের এমন সহিংস পরিস্থিতিতে রবিবারই দেশজুড়ে ফের একবার কার্ফু জারি করে সরকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ৫ থেকে ৭ অগাস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নেয় হাসিনা সরকার। ঠিক এই আবহে ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্ররা’- এই দাবি তুলে আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে পড়ুয়ারা ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ অভিযান শুরু করেন সোমবার। একমাত্র লক্ষ্য হয় শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা (Bangladesh Crisis)।

    সক্রিয় ভূমিকা জামাত ও বিএনপির

    বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে এই তীব্র সংঘর্ষের আবহে বাংলাদেশের জামাত-এ-ইসলামি ও বিএনপি ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগ সরকারকে ফেলার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে। তারাও যোগ দেয় এই বিক্ষোভে। এর ফলে দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিএনপি ও জামাতের কর্মী-সমর্থকরা দলে দলে যোগ দেয় হাসিনা সরকারের পতন অভিযানে। অর্থাৎ, সামনে ছাত্র আন্দোলন এবং পিছনে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন জামাত-বিএনপির। এই দুই সংগঠন হিন্দু বিরোধী ও ভারত বিরোধী বলেই পরিচিত। উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি বিএনপি ভারতীয় পণ্য বয়কটের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে এবং ভারত বিরোধী ‘ইন্ডিয়া আউট’ প্রচার আন্দোলন চালায় (Bangladesh Crisis)।

    আন্দোলনের রাশ জামাতের হাতে

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভকারীরা এখন বর্তমানে জামাত ও বিএনপি’র হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। ঠিক সে কারণেই তাদের কার্যকলাপগুলিও সেভাবে দেখা যাচ্ছে। হিন্দু মন্দির গুলিতে হামলা হচ্ছে। শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক যুগের অবসান (Bangladesh Crisis) ঘটল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sheikh Hasina: তাঁর আমলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথ দেখিয়েছিলেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: তাঁর আমলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথ দেখিয়েছিলেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ১৫ বছরের হাসিনা-যুগের সমাপ্তি ঘটল। পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন মুজিব-কন্য়া। শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) দেশ ছাড়ার পর ঢাকার রাজপথে চোখে পড়ল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। এই হাসিনাই বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথ দেখিয়েছিলেন। সেনা-শাসন থেকে ক্ষমতা গিয়েছিল মানুষের হাতে। ৭৬ বছরের হাসিনা, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দিন ধরে সরকারে থাকা নেত্রীদের মধ্যে একজন। বাংলাদেশের (Bangladesh) ‘আয়রন লেডি’ হাসিনার আমলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটেছিল ঢাকার। সন্ত্রাস দমনে কঠোর ভূমিকা নিয়েছিল হাসিনা সরকার। এককালে সেনা শাসিত বাংলাদেশকে যিনি স্থিরতা দিয়েছিলেন, সেই হাসিনার বিরুদ্ধেই উঠেছে অত্যাচার, দুর্নীতির অভিযোগ।  

    বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে (Sheikh Hasina)

    তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) ১৯৪৭ সালে জন্ম হাসিনার। বাবা মুজিবর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তিনি ১৯৬০ সালের সময়কালে রাজনীতিতে পা রাখেন। বাবা মুজিব জেলে থাকা অবস্থাতে বাবার দেখানো রাজনীতিকে দেশে ধরে রাখতে লড়াই চালান হাসিনা। এরপর দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমান হন সেদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

    কীভাবে উত্থান (Bangladesh)

    ৪৯ বছর আগের ঘটনা। ১৯৭৫ সাল। সেই সময় শেখ মুজিবর রহমানের মেয়ে শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) আশ্রয় দিয়েছিল ভারত। দিনটা ছিল ১৫ অগাস্ট। বাংলাদেশ (Bangladesh) স্বাধীন হয়েছে মাত্র ৪ বছর। ঢাকায় ধানমন্ডির বাসভবনে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে খুন করা হয়। বঙ্গন্ধুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালও নিহত হয়েছিলেন ঘাতকের বুলেটে। তাঁর দুই মেয়ে – শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা – তখন বিদেশে, ফলে এই দু’জনই কেবল প্রাণে বাঁচেন। ১৯৭৫ সালে মুজিব-হত্য়ার সময় জার্মানিতে ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালের ২৪ অগাস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন হাসিনা। ৬ বছর ভারতে পরিচয় গোপন করে থাকার পর দেশে ফেরেন তিনি। হাল ধরেন বাবার প্রতিষ্ঠিত পার্টি আওয়ামি লিগের। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে সেনা শাসিত বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে সওয়াল করতে থাকেন হাসিনা। যার জেরে তাঁকে বহুবার গৃহবন্দি করা হয়। শুরু হয় হাসিনার রাজনৈতিক লড়াই।

    ক্ষমতার অলিন্দে হাসিনা (Bangladesh)

    ১৯৯১ সালের বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে হাসিনার (Sheikh Hasina) আওয়ামি লিগ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। জেতে খালেদা জিয়ার বিএনপি। ১৯৯৬ সালে মসনদে আসেন হাসিনা। পরে ২০০১ সালে ফের তিনি ভোটে হেরে যান। ২০০৮ সালে বিএনপির খেকে মসনদ ছিনিয়ে নিয়ে দাপুটে জয়ে ক্ষমতায় ফেরেন মুজিব কন্যা ও তাঁর দল। সেই থেকে, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের আগে তাঁর গদি কেউ টলাতে পারেনি। ২০০৪ সালে এক সভায় গ্রেনেড বিস্ফোরণে হাসিনাকে খুনের চেষ্টা করা হয়। এরপর ২০০৯ সালে ক্ষমতায় ফিরে ১৯৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধের অপরাধীদের সাজা দেওয়ার পথ নেয় হাসিনা সরকার। বিপক্ষের প্রধান খালেদা জিয়ার ১৭ বছরের জেল হয়। বহু বিপক্ষের তাবড় নেতাকে এই সময় সাজা দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে জামাত-এ-ইসলামিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। সদ্য জানুয়ারি মাসেই তিনি চতুর্থবারের জন্য জিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন। 

    আরও পড়ুন: ভারতে আশ্রয় পেলেন হাসিনা, অশান্ত বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তায় দিল্লি

    বাংলাদেশের উন্নয়নে হাসিনা

    বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) প্রথম মেয়াদকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তিনি অর্থনীতির উদারীকরণ করেছিলেন, বিদেশি বিনিয়োগকে আকর্ষণ করেন এবং জীবনযাত্রা মান বৃদ্ধির চেষ্টা করেন। তাঁর সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ বিশ্বের শিল্প মানচিত্রে স্থান করে নেয়। শেখ হাসিনার সময়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবারও সমূহ উন্নতি হয়েছে। তাঁর সময়ে উল্লেখযোগ্য হল স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান। 

    সন্ত্রাস দমনে সক্রিয় 

    অস্থির বাংলাদেশকে শান্তও করেছিলেন হাসিনা (Sheikh Hasina)। দেশে সন্ত্রাস দমন করেছিলেন। তবে শেখ হাসিনার সময়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়। রাজনৈতিক ভিন্ন মত পোষণকারী বিশেষ করে ইসলামপন্থী জামাত-এ-ইসলামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন হাসিনা। এ বিষয়ে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলিও হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে। ২০২৪-এ টানা চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হওয়ার পরে আমেরিকা ও ব্রিটেনের তরফে বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না বলেও অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকেই বাংলাদেশের নানা প্রান্তে শুরু হয় হাসিনা-বিরোধী আন্দোলন। তবে এর পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তা নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Suvendu Adhikari: ‘‘১ কোটির ওপর বাংলাদেশি হিন্দু আসবেন পশ্চিমবঙ্গে’’, বড় দাবি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘‘১ কোটির ওপর বাংলাদেশি হিন্দু আসবেন পশ্চিমবঙ্গে’’, বড় দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে (Bangladeshi Hindus) ইস্তফা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনাবাহিনীর হাতে গিয়েছে দেশের ক্ষমতা। এমন অবস্থায় ভারতের এই প্রতিবেশী রাষ্ট্রে জামাত-বিএনপি’র আক্রমণে হিন্দু নিধন চলছেই। হিন্দু সাংবাদিক থেকে হিন্দু নেতাদের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এর পাশাপাশি মন্দিরগুলিতেও আক্রমণ চলছে। ঠিক এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বড় দাবি করলেন। সোমবার তিনি জানিয়েছেন, ১ কোটি বাংলাদেশি হিন্দু পশ্চিমবঙ্গে আসবেন, এর জন্য রাজ্যের মানুষকে প্রস্তুত থাকতে হবে। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘হিন্দু সংখ্যালঘুদের বাংলাদেশ হত্যা করা হচ্ছে। কাউন্সিলরকে হত্যা করা হয়েছে সিরাজগঞ্জে। ১৩ জন পুলিশ কর্মীকে খুন করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন হিন্দু। তাই প্রস্তুত থাকুন। এক কোটির বেশি বাংলাদেশি হিন্দু পশ্চিমবঙ্গে আসবেন।’’

    কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলতে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালকে আবেদন শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)  

    সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর পাশাপাশি নন্দীগ্রামের বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল সিভি বোসের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অতি অবশ্যই কেন্দ্রের সঙ্গে তাঁরা যেন কথা বলেন। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের (Bangladeshi Hindus) সংঘর্ষে রংপুরে চারজন মানুষকে হত্যা করা হয়। যার মধ্যে একজন হলেন হারাধন রায়, যিনি ছিলেন পরশুরাম থানা আওয়ামী লিগের সভাপতি এবং স্থানীয় পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এর পাশাপাশি, হত্যা করা হয় প্রদীপ কুমার ভৌমিক নামের এক সাংবাদিককেও। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের রায়গঞ্জের স্থানীয় ডেইলি খবরপত্র নামের একটি সংবাদ মাধ্যমে সাংবাদিকতা করতেন নিহত প্রদীপবাবু।

    হিংসাত্মক আন্দোলন সাম্প্রদায়িক রূপ নিয়েছে

    সে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক নাজমুল আহসান বলছেন, ‘‘ক্রমশই আন্দোলন হিংসাত্মক ও সাম্প্রদায়িক রূপ নিয়েছে এবং এগুলি বেশিরভাগই ছড়ানো হচ্ছে সমাজ মাধ্যমের পাতা থেকে।’’ বাংলাদেশের এই হিংসায় দেশভাগ ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ছায়া ফুটে উঠেছে। ফের যেন বাংলাদেশে ফিরে এসেছে রাজাকাররা। আন্দোলনের নামে আক্রমণ চালানো হয়েছে ইস্কনের মন্দির, কালী মন্দির সমেত হিন্দুদের একাধিক ধর্মস্থানে। বাদ যাচ্ছে না হিন্দুদের ঘরবাড়িও। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sheikh Hasina: ভারতে আশ্রয় পেলেন হাসিনা, অশান্ত বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তায় দিল্লি

    Sheikh Hasina: ভারতে আশ্রয় পেলেন হাসিনা, অশান্ত বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তায় দিল্লি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্ষোভে ভীত হয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে এসেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। ভারতে তিনি আগেও নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছিলেন। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সোনার বাংলা (Unrest Bangladesh) জ্বলছে। কোটা সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা বা কোনও ষড়যন্ত্র কাজ করছে কি না তা সময় বলবে। তবে আপাতত বন্ধু হাসিনাকে সাময়িক সাহায্য করছে ভারত। এতে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন থাকবে তা নিয়ে চিন্তিত কূটনৈতিক মহল। তবে ভারত অতিথিকে ফেরায় না। আশ্রয় চাইলে আশ্রয় দানই ভারতের নীতি। তাই কয়েকদিন দিল্লিই হাসিনার ঠিকানা।

    ভারতে হাসিনা

    আপাতত ব্রিটেনে যেতে পারছেন না বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। দিল্লিতে গাজিয়াবাদের হিন্ডন এয়ারবেসে রয়েছে তাঁর বিমান। বাংলাদেশ সেনার মালবাহী বিমানে দিল্লির গাজিয়াবাদের হিন্ডন এয়ারবেসে পৌঁছেছেন তিনি। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর বোন রেয়াত। তিনি ব্রিটেনের নাগরিক। জানা গিয়েছে শেখ হাসিনা লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্রিটেন সরকার তাঁকে অনুমতি দেয়নি। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর আপাতত তিনি ভারতেই থাকবেন কয়েকটা দিন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছ থেকে যাবতীয় তথ্য নিয়েছেন।

    আগেও ভারতে ছিলেন হাসিনা 

    ১৯৭৫ সালে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) পিতা ও তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশেরই সেনাবাহিনীর একাংশ খুন করেছিল। ঢাকায় সপরিবারে নিহত হয়েছিলেন মুজিবুর রহমান। তবে দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা যেহেতু বিদেশে ছিলেন তাই বেঁচে গেছিলেন। তাঁদের ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। নয়াদিল্লিতেই স্বামী, পুত্র কন্যা ও বোনকে নিয়ে থাকতেন হাসিনা। তারপর জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের বিরোধী গণআন্দোলনে নেমেছিলেন বা়ংলাদেশের বিরোধী নেত্রী হন। পরে বারবার সরকার গড়েছেন শেখ হাসিনা। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নারী নেত্রী হিসেবে চিহ্নিত হন। সর্বশেষ নির্বাচনে বিপুল জয় পেলেও জনতার বিক্ষোভে তাঁকে দেশ ছাড়তে হল। সোমবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে লেখা হয়ে গেলে হাসিনার পতন কাহিনী। গণবিক্ষোভে নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন ছেড়ে সেনাবাহিনীর সাহায্যে ভারতে চলে আসেন শেখ হাসিনা। এর প্রভাব পড়বে ভারতেও এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ষড়যন্ত্রের আভাস

    বাংলাদেশে (Unrest Bangladesh) নতুন করে হিংসা শুরু হতেই সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) বলেছিলেন, বর্তমানে যারা হিংসা ছড়াচ্ছে, তারা ছাত্র নয়, জঙ্গি। এই আবহে রিপোর্টে দাবি করা হয়, হাসিনা সরকার নাকি দিল্লিকে জানিয়েছে, এই আন্দোলনের নেপথ্যে এখন কলকাঠি নাড়ছে জামাতের নিষিদ্ধ ছাত্র সংঘঠন। এবং ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তানের হাইকমিশন থেকে মদত পাচ্ছে তারা। এরপরই সতর্ক হয় ভারত সরকার। ভারত চিরকালই হাসিনা ও তাঁর পরিবারের বন্ধু দেশ। হাসিনার শাসনকালে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রভূত উন্নতি হয়েছিল। তাই হাসিনা সরকারের পতনের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে তা সময় বলবে।

    আরও পড়ুন: ‘জামাতের হাতে রাশ, নেপথ্যে পাকিস্তান’! হিংসা নিয়ে দিল্লিকে কী জানাল ঢাকা?

    সেনার অধীনে সরকার

    হাসিনা (Sheikh Hasina) দেশ ছাড়ার পরই বাংলাদেশে সেনার অধীনে অন্তর্বর্তী তদারকি সরকার গঠিত হচ্ছে। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। হাসিনা বাংলাদেশের (Unrest Bangladesh) আকাশসীমা অতিক্রম করার পর তাঁর ভাষণ শুরু হয়। বাংলাদেশ সংসদের স্পিকারকে আপাতত ক্ষমতা হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে খবর। তার পরে তদারকি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে বাংলাদেশে তদারকি সরকার গঠিত হবে। বছরখানেক পরে সাধারণ নির্বাচন হতে পারে। তবে এ সবই এখন খুবই প্রাথমিক স্তরের বক্তব্য। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় তার দিকে কড়া নজর রয়েছে দিল্লির।

    উদ্বিগ্ন ভারত!

    বাংলাদেশী (Unrest Bangladesh) জনগণের কাছ থেকেও ধাক্কা খাওয়ার একটি সত্যিকারের ঝুঁকি রয়েছে — আওয়ামী লীগের শাসনের বছরগুলিতে, বাংলাদেশের বিরোধীরা ভারতকে হাসিনার (Sheikh Hasina) সমর্থনকারী হিসেবেই দেখেছে। তাই হাসিনা-হীন ঢাকায় এখন কারা ক্ষমতায় থাকবেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়া দিল্লি। ভারতের প্রতি তারা কী মনোভাব নেবে তা নিয়ে ভাবতে হবে। অতীতে, যখন বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী দল বা সেনাবাহিনী দেশ শাসন করেছে, তখন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসিনা পরবর্তী সময়ে এই পরিস্থিতি আবার দেখা দিতে পারে,বলে অনুমান দিল্লির।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh Protest: ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হল মুজিবের স্মৃতি বিজড়িত ধানমন্ডি, গণভবনে লুটপাট!

    Bangladesh Protest: ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হল মুজিবের স্মৃতি বিজড়িত ধানমন্ডি, গণভবনে লুটপাট!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িটিকে বাংলাদেশের (Bangladesh Protest) সকলেই চেনেন। কারণ, বহু ইতিহাসের সাক্ষী দেশের সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) এই বাসভবন। আন্দোলনকারীদের লাগাতার আন্দোলনে পিছু হঠলেন হাসিনা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। বোনকে নিয়ে দেশত্যাগ করলেন। আর তারপরই তাঁদর পৈত্রিক বাসভবনে চলল তান্ডব।

    ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হল মুজিবের স্মৃতি বিজড়িত ভবন! (Bangladesh Protest)

    ধানমন্ডির (Bangladesh Protest) বাড়ির সিঁড়ির মাঝ বরাবর রাখা ছিল বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের বুলেটবিদ্ধ দেহের সাদা-কালো ছবি। পাঁচ দশক আগে বাংলাদেশে রক্তাক্ত পালাবদলের সময় ওখানেই গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। মুজিব-কন্যা হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির সেই বাড়িটিকে পরিণত করেছিলেন সংগ্রহশালায়। সোমবার তাঁর সরকারের পতনের পরেই উন্মত্ত জনতা ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দিল মুজিবের স্মৃতি বিজড়িত সেই ভবনটি।

    আরও পড়ুন: পরপর মন্দিরে হামলা, নেতাকে হত্যা! বাংলাদেশে ফের টার্গেট হিন্দুরা

    গণভবন থেকে আসবাবপত্র নিয়ে চলে যান উন্মত্ত জনতা!

    সোমবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ ঢাকার বাসভবন, গণভবন (Bangladesh Protest) ছেড়ে ‘নিরাপদ আশ্রয়ের’ উদ্দেশ্যে রওনা হন হাসিনা এবং তাঁর বোন। তার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই গণভবনে চড়াও হন কয়েক হাজার মানুষ। চলতে থাকে যথেচ্ছ লুটপাট। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম ‘প্রথম আলো’ লিখেছে বহু সাধারণ মানুষ গণভবনে ঢুকে পড়েন। তাঁদের হাতে গণভবনে ব্যবহৃত জিনিসপত্রও দেখা যায়। গণভবনের ভিতর থেকে ঘাড়ে, কাঁধে, পিঠে নানা আসবাব সামগ্রী নিয়ে বেরিয়ে আসার ছবি, ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। সেই রকমই একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেন বাংলাদেশের এক ছাত্র আন্দোলনকারী। ভিডিও বিবরণে লেখা ‘হাসিনার রুমে’। তাতে দেখা যাচ্ছে, মাথায় বাংলাদেশের পতাকার ফেট্টি বাঁধা এক তরুণ জুতো পায়ে উঠে পড়েছেন একটি পরিপাটি নীল চাদরে মোড়া বিছানায়। পায়ের ওপর পা তুলে বিছানায় শুয়ে তিনি চিৎকার করে জানাচ্ছেন, তাঁরা গণভবনের দখল নিয়েছেন।

    মাংসের হাড় চিবোচ্ছেন আন্দোলনকারীরা!

    একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে গণভবনের (Bangladesh Protest) পাকশালে রান্না করা খাবারে দেদার ভোজ সারছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ (সেই ভিডিও সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম)। তবে সমাজমাধ্যমে বাংলাদেশের অনেকেই ওই ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, আন্দোলনকারীরা গণভবনের রান্নাঘরে ঢুকে পড়েছেন। সোমবার হাসিনার পদত্যাগের খবর আসে অকস্মাৎই। তাঁকে যে বাড়ি ছাড়তে হতে পারে, সে খবর সম্ভবত জানা ছিল না গণভবনের রান্নাঘরের দায়িত্বে যিনি বা যাঁরা থাকেন তাঁদেরও। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে থরে থরে সাজানো রয়েছে ভাত, ডাল, মাংসের পাশাপাশি নানা পদ। ভিডিওতে দেখা যায়, সেই খাবারে হামলে পড়েছেন কিছু তরুণ। তারিয়ে তারিয়ে মাংসের হাড় চিবোচ্ছেন তাঁরা।

    <

    p> 

    ধানমন্ডির বাড়িতে দুই মেয়ে বাদে সপরিবারে খুন হন বঙ্গবন্ধু

    প্রসঙ্গত, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা নিপীড়নের প্রতিবাদে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “রক্ত দিয়েই রক্তের ঋণ শোধ করতে আমি প্রস্তুত।” তাঁর সেই বক্তৃতা সূচনা করেছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের। যার পরিণামে সে বছরের ডিসেম্বরেই বদলে গিয়েছিল এশিয়ার মানচিত্র। কিন্তু স্বাধীনতার পরে মুজিবের শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট ভোরে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির সরকারি বাসভবনে অভ্যুত্থানকারী সেনাদের গুলিতে নৃংশস ভাবে খুন হয়েছিলেন তিনি। শুধু মুজিব নন, ঢাকা শহরের ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ফজিলা তুন্নেসা, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালও নিহত হয়েছিলেন ঘাতকের বুলেটে। বিদেশে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলেন মুজিবের দুই কন্যা, হাসিনা এবং রেহানা। ঘটনাচক্রে, সোমবার তাঁরা দু’জন সেনার কপ্টারে ঢাকা ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন ছাই হয়ে গেল মুজিবের স্মৃতি বিড়জিত ৩২ নম্বর ধানমন্ডি রোডের সেই সংগ্রহশালা।

    ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বদলে হয়েছিল- ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’!

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেনার সমর্থনে প্রেসিডেন্ট হওয়া খোন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকার বাংলাদেশ বেতারের নাম পাল্টে রেডিও বাংলাদেশ করেছিল। ৭১’-এর মুক্তিযুদ্ধে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বদলে গিয়ে চালু হয়েছিল – ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত প্রায় ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী জেল থেকে বেরিয়ে আসে তার পরবর্তী এক বছরের মধ্যেই। সেই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের সমর্থকদের কোণঠাসা করা শুরু হতে থাকে বলে অভিযোগ। সেনাপ্রধানের কুর্সিতে বসে ক্ষমতা দখল করা জিয়াউর রহমান, হুসেন মহম্মদ এরশাদ এমনকী, অবাধ ভোটে ক্ষমতা দখলকারী খালেদা জিয়ার আমলেও সেই সেই ধারা বজায় থাকার অভিযোগ উঠেছে বারে বারে। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদের ভোটে জিতে হাসিনা (Sheikh Hasina) দ্বিতীয় বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে সেই ধারা কিছুটা বদলেছিল বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন। এবার হাসিনা বিরোধী আন্দোলেন ‘নিষিদ্ধ’ জামাতে ইসলামির সক্রিয় অংশগ্রহণ কি আবার ফিরিয়ে আনবে সেই পুরনো স্মৃতি। মুজিবের মূর্তি ভাঙা এবং ধানমন্ডির সংগ্রহশালায় অগ্নিসংযোগ ‘ইঙ্গিতবাহী’ বলেই মনে করছেন তাঁরা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sheikh Hasina: অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, দেশ ছেড়েছেন হাসিনা, সীমান্তে নজরদারি বাড়াল ভারত

    Sheikh Hasina: অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, দেশ ছেড়েছেন হাসিনা, সীমান্তে নজরদারি বাড়াল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বাংলাদেশ এখন অগ্নিগর্ভ। সারা দেশের আন্দোলন এখন হিংসাত্মক এবং সাম্প্রদায়িক রূপ নিয়েছে। ঢাকার গণভবনে চলছে ব্যাপক লুটপাট। একাধিক জায়গায় ভাঙা হয়েছে শেখ মজিবুর রহমানের মূর্তি, হামলা করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতেও। আওয়ামী লিগের অবশ্য দাবি, সবটাই জামাত-এ-ইসলামির ইন্ধনে হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান ঘোষণা করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে দেশ চালানো হবে। তাই এই আবহে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। ভারতের পূর্বাঞ্চলের সীমান্তে ইতিমধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। কলকাতা থেকে এডিজি ইস্টার্ন কমান্ড বাহিনীকে সবরকম প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সীমান্তে। বিএসএফের ডিজি ইতিমধ্যে কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন।

    হাসিনার সুরক্ষার দায়িত্ব নেবে বিএসএফ (Sheikh Hasina)

    সূত্রের খরব, শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ভারতের আগরতলায় অবতরণ করে সেখান থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন বলে খবর। ভারতে শেখ হাসিনা পদার্পণ করা পর্যন্ত তাঁর যাবতীয় নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার দায়িত্ব নেয় বিএসএফ। ভারতীয় সেনা সবটা দেখলেও মূল পরিচালনার কাজ করবে বিএসএফ। হাসিনা এবং তাঁর পরিজনরা যাতে ভারতে সুরক্ষিত ভাবে প্রবেশ করতে পারেন, সেই দিকে নজর রাখা হয়েছে। একই ভাবে আন্দোলনকারীরা যাতে ভারতে প্রবেশ করে অশান্তি না করতে পারে, সেই দিকেও খেয়াল রাখছে বিএসএফ।

    আরও পড়ুনঃ নেতার পর এবার সাংবাদিক! অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে হিন্দু নিধন হয়েই চলছে

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সম্পূর্ণ দখল নিয়েছে বিএসএফ

    উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করেনি। কারণ বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি (Sheikh Hasina) একটি আভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এই বিষয়ে ভারত মন্তব্য করেনি। কিন্তু সে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তীব্র সঙ্কটে। যার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরায়। এই জন্য সীমান্তে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বিএসএফ। জারি করা হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। এদিকে, বাংলাদেশের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে দিল্লির নর্থ ব্লক এবং সাউথ ব্লকে চরম তৎপরতা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, বিদেশমন্ত্রক, প্রতিরক্ষামন্ত্রক, প্রধানমন্ত্রীর দফতর সবগুলিই এই এলাকায়। তবে কী ধরনের তৎপরতা রয়েছে তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট হয়নি। সীমান্তে যদি বাংলাদেশিরা প্রবেশ করতে চায় তাহলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ হতে পারে, তা ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের পরই জানা যাবে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Shakib Al Hasan: বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন সাকিব আল হাসান?

    Shakib Al Hasan: বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন সাকিব আল হাসান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপে জঘন্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছে সাকিব আল হাসানের (Shakib Al Hasan) নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারকে টাইম আউট করা নিয়ে বিতর্কও কম ওঠেনি। উঠেছে নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্নও। এবার দেশে ফিরে জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন সাকিব রাজনীতিতে যোগদান দিচ্ছেন এমনই জোর চর্চা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। জল্পনা অবশ্য বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে। সূত্রের খবর, তিনটি আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাকিব আল হাসান।

    আওয়ামী লিগের প্রার্থী হবেন সাকিব?

    ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লিগের হয়ে মনোনয়নপত্র কিনেছেন তিনি (Shakib Al Hasan)। এমনটাই জানা গিয়েছে। অর্থাৎ আগামী ৭ জানুয়ারি হতে চলা বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যেতে পারে সাকিবকে। শেখ হাসিনার দলের হয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন লড়তে পারেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। সূত্রের খবর সাকিবুল হাসানের হয়ে এক প্রতিনিধি ঢাকায় আওয়ামী লিগের দফতরে যান এবং সেখান থেকেই মনোনয়নপত্র নিয়ে আসেন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদপত্র প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিবের এক আত্মীয় জানান যে বর্তমানে সাকিব (Shakib Al Hasan) দেশের বাইরে রয়েছেন এবং দেশে ফেরার পরই মনোনয়নপত্র জমা দেবেন তিনি।

    কী বলছে আওয়ামী লিগ? 

    অন্যদিকে আওয়ামী লিগের এক শীর্ষ নেতা বাহাউদ্দিন নাসিম জানিয়েছেন ঢাকার ১০ নম্বর আসন থেকে সাকিবের হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছেন একজন। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান অধিনায়ক এই মুহূর্তে মার্কিন সফরে রয়েছেন। তবে রাজনীতিতে সাকিবের যোগদান নিয়ে চর্চা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নামে একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে যোগদান করবেন সাকিব, এমন খবর রটেছিল। যদিও এই খবরের কোনও ভিত্তি নেই বলেই পরবর্তীকালে জানিয়েছিলেন সাকিব (Shakib Al Hasan)। এবারে তাঁর আওয়ামী লিগের হয়ে মনোনয়নপত্র তোলার ঘটনাতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কোনও কোনও মহলের প্রশ্ন, এবার তবে ক্রিকেট থেকে কি সন্ন্যাস নিতে চলেছেন সাকিব? সে কারণেই কি রাজনীতিতে আসতে চাইছেন? যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য শোনা যায়নি সাকিবের মুখে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share