Tag: bastar

bastar

  • Amit Shah: মাওবাদ ইস্যুতে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শাহের, ছত্তিশগড়কে দেশের প্রথম সারির পর্যটনকেন্দ্র করার লক্ষ্য

    Amit Shah: মাওবাদ ইস্যুতে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শাহের, ছত্তিশগড়কে দেশের প্রথম সারির পর্যটনকেন্দ্র করার লক্ষ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাওবাদ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রশ্নে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদীদের প্রতি নরম মনোভাব পোষণ করে আসছে। মাওবাদীদের তৈরি অসাংবিধানিক সমান্তরাল প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেও সমর্থন করেছে তারা। ছত্তিশগড়ের মাওবাদী (Naxalism) প্রভাবিত এলাকায় চালু হওয়া তথাকথিত ‘জনতানা সরকার’র প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসের সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি (Amit Shah)। সংসদীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে কংগ্রেস প্রতীকী সংসদ আয়োজন করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে উপহাস করছে বলেও অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    ৩ নভেম্বর রায়পুরে ছত্তিশগড় রাজ্যোৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন শাহ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন-সহ বিরোধীদের উত্থাপিত যে কোনও বিষয়ে সংসদে আলোচনায় বসতে কেন্দ্র প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, সংসদীয় অধিবেশন বারবার অচল করে না রেখে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত বলেও জানান শাহ।

    কংগ্রেসকে নিশানা (Amit Shah)

    ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় জনতানা সরকার গঠনের প্রসঙ্গ তুলে শাহ প্রশ্ন করেন, ভারতের সংবিধানের বাইরে এ ধরনের সমান্তরাল সরকার চালানোর অনুমতি তাদের কে দিয়েছিল? মাওবাদীদের নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং অন্যান্য আধিকারিক থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে দেশের সংবিধানের সমান্তরালে পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।

    তাঁর অভিযোগ, মাওবাদীদের তথাকথিত জন আদালতে বিচার চালিয়ে সাংবাদিক, সমাজকর্মী এবং ছাত্রছাত্রী-সহ একাধিক নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের গাছে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে। এই ধরনের অসাংবিধানিক ব্যবস্থাকে কংগ্রেসের নেতারা সংসদে সমর্থন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    ২০১০ সালে তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট সরকারের এক প্রবীণ মন্ত্রীর মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন শাহ। তাঁর দাবি, ওই মন্ত্রী বলেছিলেন, মাওবাদীদের অস্ত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু অশান্তি সৃষ্টি করা বন্ধ করলেই চলবে।

    এই অবস্থানের বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অস্ত্র হাতে রাখা সশস্ত্র চরমপন্থীদের অনুমতি দিয়ে হিংসা বন্ধ করা সম্ভব নয়। সরকারের নীতি স্পষ্ট। যারা আত্মসমর্পণ করে মূলস্রোতে ফিরতে চান, তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু যারা অস্ত্র হাতে হিংসা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাবাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

    শাহের দাবি, মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাঁদের নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ আত্মসমর্পণ করেছেন এবং প্রায় ১০ শতাংশ নিহত হয়েছেন। আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের নীতির ফলে ইতিবাচক ফল মিলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ

    কংগ্রেসের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও সরব হন শাহ। তাঁর অভিযোগ, সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে কংগ্রেস প্রতীকী সংসদ আয়োজন করে রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করার চেষ্টা করছে।

    বিরোধী দলনেতার উদ্দেশে তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদির সরকার বিরোধীদের উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে আলোচনার দাবি উঠলে সরকার সেই আলোচনার জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

    তাঁর বক্তব্য, সংবিধানের একটি অনুলিপি হাতে রাখলেই সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রমাণিত হয় না। রাজনৈতিক আচরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি সম্মানের মধ্যে দিয়েই সেই দায়বদ্ধতা প্রকাশ পায়।

    সংসদীয় অধিবেশন বারবার ব্যাহত করার পরিবর্তে কংগ্রেস নেতাদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শাহের মতে, সংসদে খোলামেলা বিতর্ক হলে দেশের মানুষই বুঝতে পারবেন কে সত্য তুলে ধরছেন এবং কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

    আদিবাসীদের মানবাধিকার উপেক্ষা করা যায় না

    দীর্ঘদিনের মাওবাদী হিংসার কারণে ছত্তিশগড়ের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির উন্নয়ন কীভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে, তা তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, মাওবাদী কার্যকলাপের কারণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আদিবাসী শিশুরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    বস্তার অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে শাহ বলেন, যেখানে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের করিডর গড়ে ওঠার কথা ছিল, সেখানে তৈরি হয়েছে লাল করিডর। মহুয়া, তেন্দুপাতা এবং লোকসংগীতের জন্য পরিচিত হওয়ার কথা ছিল যে বনাঞ্চলের, তা মাওবাদী হিংসা, ল্যান্ডমাইন এবং সশস্ত্র সংঘর্ষের কারণে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

    তাঁর বক্তব্য, যে শিশুদের হাতে বই ও কলম থাকার কথা, তাদের স্কুল থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্র ধরতে বাধ্য করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পরিবর্তে স্কুলবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। রাস্তা ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক পরিকাঠামো নির্মাণের কাজে যুক্ত ব্যক্তিরাও মাওবাদী হিংসার শিকার হয়েছেন।

    মানবাধিকারের নামে মাওবাদীদের সমর্থনকারীদের উদ্দেশে শাহ প্রশ্ন তোলেন, মানবাধিকার কি শুধুমাত্র উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করা সশস্ত্র চরমপন্থীদের জন্য, নাকি দরিদ্র আদিবাসীদেরও সমান মানবাধিকার রয়েছে?

    তিনি জানান, গত তিন দশকে মাওবাদীদের বোমা হামলায় হাত-পা হারানো বহু মানুষকে কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।

    বস্তারের পরিস্থিতি নিয়ে দূর থেকে মন্তব্য করা বিভিন্ন লেখক ও সমাজকর্মীদেরও ওই অঞ্চলে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি চাক্ষুষ করার আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় মানুষের দুর্দশা, হিংসার প্রভাব এবং বর্তমানে যে পরিবর্তন ঘটছে, তা প্রত্যক্ষ করে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরার পরামর্শ দেন শাহ (Amit Shah)।

    উন্নয়নের পথে ছত্তিশগড়

    মাওবাদ দমনে ছত্তিশগড় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন শাহ। তাঁর মতে, নিরাপত্তাবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং কেন্দ্রের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ফলেই রাজ্যকে মাওবাদমুক্ত করার লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হয়েছে।

    ছত্তিশগড়ে বিজেপি ক্ষমতায় ফেরার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে মাওবাদ নির্মূল করার সংকল্প নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সশস্ত্র হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নীতি অনুসরণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

    শাহ বলেন, যাঁরা আইন মেনে চলবেন, তাঁদের সাধারণ নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। কিন্তু যাঁরা হিংসার পথ বেছে নেবেন এবং আইন ভাঙবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বস্তার, উত্তর-পূর্ব ভারত কিংবা জম্মু ও কাশ্মীর—যেখানেই হোক, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তাঁর মতে, মাওবাদ নির্মূল হলে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত অঞ্চলগুলিতে পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য জনপরিষেবা সম্প্রসারণের পথ আরও প্রশস্ত হবে।

    সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ

    ছত্তিশগড়ের উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের উপরেও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গুরু ঘাসিদাস এবং গুরু নানক দেবজির শিক্ষা ও আদর্শের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেবা, সাম্য এবং সত্যের মতো মূল্যবোধ ছত্তিশগড়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

    লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত ছত্তিশগড় পাণ্ডুম এবং বস্তার অলিম্পিকের প্রশংসা করেন তিনি। পন্থী, পাণ্ডবানি, রাউত নাচ, কর্মা ও শৈলা নৃত্যের মতো ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি ঢোকরা শিল্প, ঘণ্টাধাতুর কারুশিল্প, কাঠের কাজ এবং কোসা রেশমের কথাও তুলে ধরেন।

    বস্তার দশেরার বিশেষ ৭৫ দিনের ঐতিহ্যকে ওই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করেন শাহ। তাঁর দাবি, বস্তার পাণ্ডুম এবং বস্তার অলিম্পিকের মতো উদ্যোগের ফলে আদিবাসী সমাজের প্রাচীন খেলাধুলা, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, গান ও নৃত্যের পুনরুজ্জীবন ঘটছে। লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী এই সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।

    আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির উপরেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

    উন্নয়নের খতিয়ান

    ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এবং উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মার উপস্থিতিতে রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতির ৭০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দুই উপমুখ্যমন্ত্রী।

    মহতারি বন্দন যোজনার উল্লেখ করে শাহ জানান, এই প্রকল্পের ৩৩তম কিস্তির অর্থ মহিলা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ধান সংগ্রহ, কৃষি, বনজ সম্পদ, পশুপালন এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    কৃষক, মহিলা, আদিবাসী এবং সমাজের অন্যান্য অংশের মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোই রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান শাহ।

    প্রথম তিন পর্যটন রাজ্যের মধ্যে ছত্তিশগড়

    ছত্তিশগড়ের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পর্যটনকে চিহ্নিত করেন অমিত শাহ। তাঁর প্রত্যাশা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পর্যটনক্ষেত্রে দেশের প্রথম তিনটি রাজ্যের মধ্যে জায়গা করে নেবে ছত্তিশগড়।

    রাজ্যের জলপ্রপাত, অরণ্য, বন্যপ্রাণী, মন্দির এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে বিপুল পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে চিত্রকোট জলপ্রপাত, তীরথগড় জলপ্রপাত, কাঙ্গের উপত্যকা জাতীয় উদ্যান, মা বমলেশ্বরী মন্দির এবং দান্তেওয়াড়ার মা দন্তেশ্বরী মন্দিরের কথার উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বস্তার দশেরাকেও দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার উপর জোর দেন।

    শাহের মতে, মাওবাদী হিংসা কমে যাওয়ায় রাজ্যে পর্যটনের প্রসার ঘটানো সহজ হবে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বিকল্প জীবিকার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং অন্যান্য শিল্পের জন্য নতুন বাজার তৈরি হতে পারে।

    বিপুল পরিমাণ বেড়েছে রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন

    ছত্তিশগড় গঠনের পর থেকে রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন শাহ। তিনি জানান, একসময় প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার নিরিখে পিছিয়ে ছিল ছত্তিশগড়। আগামী দশকের মধ্যে সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে আশাবাদী তিনি।

    শাহের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্য গঠনের পর থেকে ছত্তিশগড়ের বার্ষিক বাজেট বেড়েছে ৩০ গুণ। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ গুণ এবং রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণ।

    শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্যে শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সংখ্যা বেড়েছে তিন গুণ এবং পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছয় গুণ হয়েছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও বেড়েছে ছয় গুণ। অন্যদিকে, রাজ্যের সাক্ষরতার হার ৬৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

    শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানকে দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে শাহ বলেন, গ্রামাঞ্চল ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার সাধারণ মানুষের কাছেও উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে (Naxalism) সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার

    বক্তব্যের শেষপর্বে ছত্তিশগড়কে নিরাপত্তাহীনতা ও অনুন্নয়নের পরিচিতি থেকে বের করে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরেন শাহ।

    তাঁর (Amit Shah) কথায়, রাজ্যে বিজেপি সরকারের চতুর্থ মেয়াদের মূল লক্ষ্য হবে মানুষের মনে ভয় দূর করে আস্থা তৈরি করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তিতে পরিণত করা।

    শুধু খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার নয়, সেই সম্পদ থেকে সৃষ্ট উন্নয়নের সুফল যাতে রাজ্যের সাধারণ মানুষ সমানভাবে পান, তা নিশ্চিত করার উপরেও জোর দেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাইয়ের নেতৃত্বে ছত্তিশগড় আগামী দিনে উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির একটি আদর্শ রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, মাওবাদ নির্মূলের মধ্য দিয়ে রাজ্যের সামনে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে গিয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাংস্কৃতিক পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

     

  • Naxal Hotbed: কল্পবৃক্ষের নারকেলেই বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ছবি, রফতানিতে বিপুল লক্ষ্মীলাভ ভারতের

    Naxal Hotbed: কল্পবৃক্ষের নারকেলেই বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ছবি, রফতানিতে বিপুল লক্ষ্মীলাভ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খাদ্য, পানীয়, ওষুধ, তন্তু, কাঠ ও জ্বালানি—জীবনের প্রায় প্রতিটি প্রয়োজন মেটাতে পারে একটি গাছ। তাই (Naxal Hotbed) ভারতীয় সংস্কৃতিতে নারকেলকে বলা হয় ‘কল্পবৃক্ষ’, অর্থাৎ এমন এক বৃক্ষ যা মানুষের প্রায় সমস্ত প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। ক্রান্তীয় অঞ্চলের বহু সভ্যতাই হাজারো ব্যবহারের কারণে নারকেল গাছকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। ভারতে এই গাছের চাষ ও ব্যবহার নিয়ে প্রায় তিন হাজার বছরের নথিবদ্ধ ইতিহাস রয়েছে (Coconut Hub)।

    বিয়ে থেকে মন্দিরের প্রবেশদ্বার, রান্নাঘর থেকে ওষুধের বাক্স—সর্বত্রই নারকেলের উপস্থিতি। বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষ নারকেলভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি কৃষক।

    এই ক্ষেত্রের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে। ফলে নারকেল চাষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক বৃদ্ধির একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে নারকেলের মূল্যশৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা গেলে তার সুফল প্রথমে পৌঁছয় ক্ষুদ্রতম জমির মালিকের কাছেই। এই ভাবনা সরাসরি অন্ত্যোদয়ের দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    নারকেল উৎপাদনে বিশ্বসেরা ভারত (Naxal Hotbed)

    বিশ্বে নারকেল উৎপাদনে ভারত প্রথম এবং চাষের জমির পরিমাণের বিচারে তৃতীয়। বিশ্ব উৎপাদনের ৩১.২৪ শতাংশ এবং মোট চাষের জমির ১৭.৯০ শতাংশ ভারতের দখলে।

    কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২১.৯ লক্ষ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ২০,৩০১.২২ মিলিয়ন নারকেল উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন হয়েছে ৯,২৪৯টি নারকেল।

    চাষের জমির পরিমাণে কেরল এগিয়ে। সেখানে প্রায় ৭.৫৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে নারকেল চাষ হয় এবং উৎপাদন প্রায় ৫,১৪৯.৮৭ মিলিয়ন। উৎপাদনে তামিলনাড়ু এগিয়ে, আর উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে শীর্ষে অন্ধ্রপ্রদেশ। এরপর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু।

    একসময় মূলত উপকূলীয় অঞ্চলের ফসল হিসেবে পরিচিত নারকেল এখন ওড়িশা, গুজরাট, অসম এমনকি অরুণাচল প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এটি ক্রমেই জাতীয় জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

    বস্তারে নারকেল চাষে নীরব বিপ্লব

    এই পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ এসেছে ছত্তিশগঢ়ের বস্তার মালভূমি থেকে। একসময় নকশাল সমস্যার জন্য পরিচিত এই অঞ্চলের কৃষকেরা মূলত ধান, বিভিন্ন ধরনের বাজরা, ভুট্টা এবং ক্ষুদ্র বনজ পণ্য উৎপাদন করতেন।

    কোণ্ডাগাঁওয়ে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদের প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামারের উদ্যোগে সেখানে নারকেল চাষ একটি সম্ভাবনাময় জীবিকার পথ হিসেবে উঠে এসেছে। নতুন নারকেল গাছ ফলন দেওয়া শুরু করার আগে গাছের মধ্যবর্তী খালি জমিতে উপযুক্ত সাথি ফসল চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কৃষকদের। ফলে নারকেল গাছ থেকে ফলন আসার আগেই কৃষকের হাতে আয় আসতে শুরু করে।

    বাকাওয়ান্ড ব্লকের ৩৬ বছর বয়সি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ঈশাংশ সিংহ রাঠোর এই উদ্যোগের অন্যতম উদাহরণ। কৃষক পরিবারের সন্তান রাঠোর কর্পোরেট ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে পর্ষদের কারিগরি সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে নারকেল চাষ শুরু করেন। তিনি ২,৫০০টি নারকেল গাছ লাগিয়েছেন, যার বেশিরভাগই খাটো জাতের। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি গাছে ইতিমধ্যেই ফলন শুরু হয়েছে।

    এর পর তিনি বহুস্তরীয় চাষপদ্ধতি গড়ে তোলেন। নারকেল বাগানের নীচে ৪,০০০টি আনারস, ৮০০টি ড্রাগন ফল, ১,০০০টি আমগাছ এবং ৬০০টি লেবুজাতীয় গাছ লাগিয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছে কলা, পেয়ারা, পেপে, লিচু, কফি, স্ট্রবেরি ও মরসুমি সবজি।

    ফলে জমির উৎপাদনশীলতা বেড়েছে এবং সারা বছর আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর খামার থেকে বছরে নারকেল বিক্রি করে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় হয়। সাথি ফসল থেকে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা আসে (Naxal Hotbed)।

    রাঠোরের সাফল্য বস্তারের বহু কৃষককে এই নারকেলভিত্তিক চাষপদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে একসময় কৃষির দিক থেকে পিছিয়ে থাকা একটি জেলা উচ্চমূল্যের উদ্যানপালনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    শুকনো নারকেল থেকে কুমারী তেল, রফতানিতে বড় লাফ

    নারকেলজাত পণ্যের রফতানিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে নারকেলজাত পণ্যের রফতানি বেড়ে ৭,০৩৮.৩৫ কোটি টাকা বা ৭৯৪.৭০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছর এই রফতানির পরিমাণ ছিল ৪,৩৪৯.০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধি প্রায় ৬২ শতাংশ।

    ২০০১-০২ অর্থবর্ষে নারকেলজাত পণ্যের রফতানি ছিল মাত্র ২৫.৩ কোটি টাকা। তখন মূলত নারকেলের খোলের কাঠকয়লা ও নারকেল তেলের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যই রফতানি হত। গত পাঁচ বছরেও এই খাতের লেনদেন ৩,২৩৬.৮৩ কোটি টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    রফতানি পণ্যের ধরনও বদলেছে। এখন ভারত বিশ্ববাজারে কুমারী নারিকেল তেল, নারিকেলের দুধ ও নারকেলের জল সরবরাহ করছে। সক্রিয় কার্বন, নারিকেল তেল, তাজা, হিমায়িত ও কোরানো নারিকেল, শুকনো নারকেল এবং শুষ্ক নারকেল অন্যতম প্রধান রফতানি পণ্য। এর মধ্যে সক্রিয় কার্বন ধারাবাহিকভাবে রফতানির পরিমাণে বড় অংশ দখল করে রয়েছে।

    আগে রফতানি মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ছিল। এখন ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও বাজার বিস্তৃত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, শ্রীলঙ্কা, জার্মানি, রাশিয়া, তুরস্ক, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য এবং নেদারল্যান্ডস গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে।

    কাঁচা পণ্য রফতানি থেকে মূল্য সংযোজিত ও ব্র্যান্ডভিত্তিক পণ্যের দিকে এই পরিবর্তনকে আত্মনির্ভরতার বাস্তব রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ কোটি মার্কিন ডলার এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ২১ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের রফতানির লক্ষ্যে এই খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Naxal Hotbed)।

    বৃদ্ধির পিছনে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ

    ১৯৮১ সালের ১২ জানুয়ারি কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ গঠিত হয়। কোচিতে সদর দফতর থাকা এই পর্ষদ দেশের ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নারকেল চাষ ও শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।

    উন্নত মানের চারা সরবরাহ, চাষের এলাকা সম্প্রসারণ, পুরনো বাগানে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, কীটপতঙ্গ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ—পর্ষদের মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পর্ষদের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ১৪৭.২১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।

    নারকেলের খোসা ও তন্তু থেকে তৈরি পণ্য বাদে অন্যান্য নারকেলজাত পণ্যের জন্য পর্ষদ রফতানি উন্নয়ন পরিষদ হিসেবেও কাজ করে। ২০২৫-২৬ পর্যন্ত ৮,২৯৯ জন রফতানিকারী পর্ষদের সঙ্গে নথিভুক্ত ছিলেন। ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৭০০।

    গত পাঁচ বছরে পর্ষদ দেশের ২০টি বাণিজ্য মেলায় ৭২ জন উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ২২৪ জন রফতানিকারীর অংশগ্রহণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি ৩৯২টি দেশীয় ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলনও আয়োজিত হয়েছে (Coconut Hub)।

    ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে কৃষকের আয় সুরক্ষা

    নারকেল চাষিদের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা হল দামের নিশ্চয়তা। শুকনো নারকেলের শাঁস, অর্থাৎ কোপরা, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আওতাভুক্ত ২২টি নির্ধারিত ফসলের অন্যতম।

    ভারতে মূলত দুই ধরনের কোপরা উৎপাদিত হয়। একটি হল মিলিং কোপরা, যা খোল থেকে শাঁস বের করে শুকিয়ে তৈরি করা হয় এবং মূলত তেল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। অন্যটি বল কোপরা, যেখানে গোটা পাকা নারকেল শুকিয়ে ভিতরের শাঁস শক্ত করা হয়। এটি শুকনো ফল হিসেবে খাওয়া হয় এবং ধর্মীয় আচারেও ব্যবহার করা হয়।

    ২০২৬ মরসুমের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। মিলিং কোপরার দাম প্রতি কুইন্টালে ১২,০২৭ টাকা এবং বল কোপরার দাম ১২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের যথাক্রমে ১১,৫৮২ টাকা ও ১২,১০০ টাকার তুলনায় বৃদ্ধি হয়েছে ৪৪৫ টাকা ও ৪০০ টাকা। উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৫০ শতাংশ বেশি রাখা হয়েছে (Naxal Hotbed)।

    কেন্দ্রীয় সংগ্রহের জন্য নাফেড ও এনসিসিএফকে কেন্দ্রীয় নোডাল সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যস্তরের সংস্থাগুলিও এই কাজে সহায়তা করছে।

    চারা উৎপাদন থেকে ভবিষ্যতের বাগান সম্প্রসারণ

    নারকেল চাষের ভিত্তি মজবুত করতে প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উন্নত মানের চারা উৎপাদনে। প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামার প্রকল্পের অধীনে নতুন তৈরি খামারগুলির জন্য প্রথম দুই বছরে ৩০ লাখ টাকা এবং তৃতীয় বছর থেকে ফলন স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত প্রতি হেক্টরে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। ফলন স্থিতিশীল হতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় ধরা হয়।

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১১টি প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামারে ২.৪১ লাখ উন্নত মানের চারা উৎপাদন করা হয়েছে।

    বীজ উদ্যানগুলির জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০.২৯ লাখ টাকা ব্যবহার হয়েছে। সহায়তার মাধ্যমে ১২টি নতুন নার্সারি তৈরি হয়েছে। এগুলির সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ১.০৬ লাক চারা। পাশাপাশি ছয়টি পুরনো নার্সারিও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে।

    সরকারি নার্সারিগুলিকে ২৩৯.৩৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ১১.৯৭ লাখ চারা উৎপাদনের ব্যবস্থা হয়েছে, যা আনুমানিক ৬,৮৫০ থেকে ৭,৫০০ হেক্টর জমির জন্য যথেষ্ট।

    চাষের এলাকা বাড়াতে প্রতি হেক্টরে ৫৬ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। দুই কিস্তিতে এই টাকা দেওয়া হয় এবং একজন সুবিধাভোগী সর্বোচ্চ দুই হেক্টর ও সর্বনিম্ন ০.০৮ হেক্টর জমির জন্য এই সহায়তা পেতে পারেন।

    ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২০৯.২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও ২,৯৭৯ হেক্টর জমি নারকেল চাষের আওতায় এসেছে। উপকৃত হয়েছেন ১৩,০৬৮ জন কৃষক। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেরল ও কর্নাটক থেকে ওড়িশা, অসম ও অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ২,১৭৫ হেক্টর জমিতে নতুন করে চাষ হয়েছে। এ জন্য ৬৩২.৭৭ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    নারকেলভিত্তিক মিশ্র চাষে বাড়ছে উৎপাদনশীলতা

    নারকেলভিত্তিক ফসল ব্যবস্থা কর্মসূচির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে। গুচ্ছভিত্তিক এই কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ দুই হেক্টর জমির জন্য প্রতি হেক্টরে ৪২ হাজার টাকা, অর্থাৎ ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হয়।

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৬৬টি গুচ্ছে ১৮,৮০০ হেক্টর জমি এই কর্মসূচির আওতায় আসে। উপকৃত হন ৪৮,৬৯৬ জন কৃষক। এর জন্য খরচ হয়েছে ৩,৯৪৩ লাখ টাকা। রাজ্য সরকারের সমন্বিত সহায়তায় আরও ৫,৯৩৫ হেক্টর জমি যুক্ত হয়েছে এবং ব্যয় হয়েছে ১,২৪৬ লাখ টাকা।

    শুধু কেরলেই এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে ৮,০৮৯ হেক্টর জমি এবং উপকৃত হয়েছেন ৩৩,২৫০ জন কৃষক। চলতি বছরে এই কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ২২,৪৩০ হেক্টর করা হয়েছে।

    পুরনো ও বয়স্ক বাগানের জন্য পুনরায় চারা রোপণ ও পুনরুজ্জীবন কর্মসূচি রয়েছে। দুই বছরে প্রতি হেক্টরে সর্বোচ্চ ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। গত পাঁচ বছরে ২৫,৫১৭ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে এবং খরচ হয়েছে ১৩০.৪৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষেই ১,৬৭২ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে।

    এর পাশাপাশি জলসম্পদ তৈরি, জৈব চাষ এবং কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    দক্ষতা, উদ্যোগ এবং ‘নীরা’-র সম্ভাবনা

    কেউ গাছে উঠতে না পারলে নারকেল গাছের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব নয়। তাই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘নারকেল গাছের বন্ধু’ কর্মসূচির মাধ্যমে বেকার যুবকদের যন্ত্রের সাহায্যে নারকেল গাছে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গাছের সুরক্ষা ও উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আরও ৩৭৮ জনকে গাছে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    একইসঙ্গে গাছের বিভিন্ন অংশ দিয়ে হস্তশিল্পের সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে তরুণদের।

    ২০২৫ সালে পর্ষদ একক প্রশিক্ষণ থেকে সংগঠিত উদ্যোগের দিকে এগিয়েছে। ‘কোকোমিত্র’ নামে নারকেল গাছে ওঠার কর্মীবাহিনী তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত কর্মীদের ছয় থেকে দশজনের নিবন্ধিত দলে সংগঠিত করা হচ্ছে। আধুনিক গাছে ওঠার যন্ত্র, উদ্ভিদ সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং চলাচলের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তাদের।

    ‘কেরা কৌশল কেন্দ্রে’র মাধ্যমে খোল, কাঠ ও তন্তু দিয়ে তৈরি পণ্যের জন্য হস্তশিল্প কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৫ সদস্যের দলকে আইনগত সংস্থা হিসেবে নথিভুক্ত করে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২.৬৭ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    নারিকেল গাছের পুষ্পমঞ্জরি থেকে সংগ্রহ করা অপরিশোধিত ও অপরিস্ফুটিত রস ‘নীরা’ নামেও পরিচিত। এতে অ্যালকোহল নেই এবং এটি পুষ্টিকর পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নীরা সংগ্রহের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত কৃষক উৎপাদক সংগঠনের মাধ্যমে সাত দিনের মাঠভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রস সংগ্রহের জন্য প্রযুক্তিবিদ তৈরি করাই এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পর্ষদ ৪১৪টি সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।

    গাছে ওঠার শ্রমিক, নীরা সংগ্রহকারী প্রযুক্তিবিদ, সংকরায়ন কর্মী এবং নারকেল শ্রমিকদের দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা দিতে ‘কেরা সুরক্ষা বিমা প্রকল্প’ চালু রয়েছে। পাশাপাশি কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির উন্নয়নে নারকেল বিষয়ক প্রযুক্তি মিশন কাজ করছে (Naxal Hotbed)।

    ২০২৬-২৭ বাজেটে নারকেলের জন্য নতুন উদ্যোগ

    ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে নারিকেল উন্নয়নের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘নারকেল উন্নয়ন প্রকল্পে’র মাধ্যমে কীটপতঙ্গের আক্রমণ, শিকড় শুকিয়ে যাওয়ার রোগ এবং বয়স্ক বাগানের সমস্যা মোকাবিলায় বড় আকারে চারা উৎপাদন, সম্ভাবনাময় এলাকায় চাষ সম্প্রসারণ, ধাপে ধাপে পুনরায় চারা রোপণ, সমন্বিত ফসল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং মূল্য সংযোজন ও রফতানির জন্য সমন্বিত প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কাজটি মোট ৩৫০ কোটি টাকার উচ্চমূল্যের কৃষি খাতের বৃহত্তর বরাদ্দের অংশ। এই বরাদ্দের আওতায় কাজুবাদাম ও কোকো চাষও রয়েছে। লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে নারকেল ও নারকেল তন্তু রপ্তানিতে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং একইসঙ্গে কৃষকদের আয় বাড়ানো (Coconut Hub)।

    পরিসংখ্যান বলছে, সেই লক্ষ্য এখন আর দূরের নয়। ২৫.৩ কোটি টাকার রফতানি থেকে ৭,০০০ কোটিরও বেশি টাকায় পৌঁছনো, উপকূলীয় ফসল থেকে অরুণাচল প্রদেশের মতো দূরবর্তী অঞ্চলে চাষের বিস্তার, কাঁচা কোপরা থেকে সক্রিয় কার্বন ও কুমারী নারকেল তেল উৎপাদন—সব মিলিয়ে ভারতের ‘কল্পবৃক্ষ’ তার প্রাচীন নামের যথার্থতা প্রমাণ করছে (Naxal Hotbed)।

     

  • Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলের জঙ্গলগুলিতে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি, মাইনমুক্তকরণ এবং এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযান আরও (Forest Operations) জোরদার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। এই অভিযানে বীজাপুর ও সুকমা জেলায় একাধিক গোপন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।

    চলতি মাসেই বীজাপুর জেলায় একাধিক অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে বেদ্রে থানার অধীন লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি বড় অস্ত্রভাণ্ডারও রয়েছে। সেখান থেকে একটি এসএলআর/এলএমজি রাইফেল, একটি ইনসাস রাইফেল, একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক, দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার, বিপুল গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন এবং একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে (Maoist)।

    সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার অধীন ছোট কাঞ্চলা গ্রামের কাছের জঙ্গল থেকেও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী একটি গোপন মাওবাদী ডেরার খোঁজ পেয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি একনলা বন্দুক, বেতার যোগাযোগের সরঞ্জাম, হাতে বহনযোগ্য তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, বৈদ্যুতিন সামগ্রী, মোবাইল ফোন, অপটিক্যাল সরঞ্জাম, মাওবাদী সাহিত্য এবং অন্যান্য উপকরণ। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, মাওবাদী কার্যকলাপের সময় জঙ্গলের প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে লাগাতার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

    চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড-সহ অস্ত্র উদ্ধার (Forest Operations)

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে বেদ্রে থানার অধীনে সাম্প্রতিক বড়সড় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ওই সময় নিরাপত্তাকর্মীরা একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করেন। সেখানে তল্লাশি চালাতেই মেলে মাটির নীচে লুকানো অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ।

    পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর/এলএমজি, একটি ইনসাস রাইফেল এবং একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক। দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারও উদ্ধার করা হয়েছে (Forest Operations)।

    উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে ১৭টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের গোলা, একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড, ৪৯টি তাজা এসএলআর গুলি, ০.৩১৫ বোরের ১৫টি গুলি এবং ১৫টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের কার্তুজ। চারটি এসএলআর ম্যাগাজিন এবং একটি ০.৩১৫ বোরের ম্যাগাজিনও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

    ঘটনাস্থল থেকে আরও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    পুলিশ আধিকারিক সিদ্ধার্থ সিং চৌহান বলেন, “বীজাপুরে লাগাতার তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান চলছে। এই অভিযানেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। চলতি মাসের বিভিন্ন দিনেও অভিযানের সময় অস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”

    একের পর এক অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ

    লঙ্কা পাহাড়ির উদ্ধার অভিযানটি সেপ্টেম্বর মাসে বীজাপুরে হওয়া একাধিক অভিযানের একটি।

    ২০ সেপ্টেম্বর ভৈরামগড় থানার আদওয়ারা জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একে-৪৭, ০.৩১৫ বোরের অস্ত্র, একটি একনলা পিস্তল, গোলাবারুদ এবং ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

    ১৬ সেপ্টেম্বর বডে আলওয়াড়া জঙ্গল থেকে একটি ০.৩১৫ বোরের রাইফেল, ৪৯টি তাজা গুলি, ২৫টি ০.৩০৩ গুলি, ৪৯টি ১২ বোরের গুলি, জিলেটিন, বেতার যন্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।

    ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৯৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ন পিডিয়া-কুপ্পাগুড়া এলাকায় বড়সড় অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এদরি, হররা, নয়াপাড়া এবং সরপঞ্চপাড়ার আশপাশের জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে ১৪টি সন্দেহভাজন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয় (Forest Operations)।

    ৩ সেপ্টেম্বর নীলামডগু নদীর তীরবর্তী এলাকায়ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। একটি ফাঁপা গাছের ভিতরে লুকিয়ে রাখা একটি দেশি ১২ বোরের বন্দুক, ক্ষতিগ্রস্ত একটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার রাইফেল, আটটি গ্রেনেড লঞ্চার সেল এবং ১০টি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    বীজাপুরের পুলিশ সুপার উমেশ প্রসাদ গুপ্ত জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল এলাকাগুলিতে তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যাতে মাওবাদীরা অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখতে না পারে (Maoist)।

    সুকমায় মাওবাদী ডেরার খোঁজ

    এদিকে সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার ছোট কাঞ্চলা গ্রামের জঙ্গলেও মিলেছে মাও-ডেরার খোঁজ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৫০ নম্বর ব্যাটালিয়ন এই অভিযান চালায়। ২০ সেপ্টেম্বর ইউনিটের গোয়েন্দা শাখা মাটির নীচে লুকোনো আস্তানার খোঁজ পায়। শুরু হয় অভিযান।

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ঘন জঙ্গল পেরিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা সন্দেহভাজন এলাকায় পৌঁছন। সেখানে হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র থাকার আশঙ্কায় এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়। এরপর প্রশিক্ষিত কুকুরের দল এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সাহায্যে তল্লাশি চালানো হয়।

    প্রশিক্ষিত কুকুরের দল একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করে। সেখান থেকে মাটির নীচে পুঁতে রাখা দুটি লোহার ড্রাম উদ্ধার করা হয়।

    বাজেয়াপ্ত নানা সামগ্রী

    উদ্ধার হওয়া ড্রামের ভিতরে ছিল বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে একটি একনলা বন্দুক, তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, ভিএইচএফ বেতার যন্ত্র, বেতার যন্ত্রের ব্যাটারি চার্জার, বিভিন্ন বৈদ্যুতিন বর্তনী, অ্যান্টেনা এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম (Forest Operations)। দুটি মোবাইল ফোন, দূরবীক্ষণ যন্ত্র, সাইরেনের শব্দ তৈরির যন্ত্র এবং ঢালের কোণ মাপার যন্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।

    নিরাপত্তাকর্মীরা মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একটি লাল পতাকা এবং মাওবাদী সাহিত্যও বাজেয়াপ্ত করেছেন। উদ্ধার হয়েছে একটি পিঠু ব্যাগ, গ্যাস সিলিন্ডার, ওষুধ এবং হেডফোনও।

    তদন্তকারীদের বিশেষ নজরে এসেছে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি বেতার যোগাযোগের সরঞ্জামে থাকা চিহ্ন। ওই যন্ত্রগুলিতে “পিএল-০৪” এবং “পামদে ডিভিশনে”র মতো ইউনিট-চিহ্ন রয়েছে।

    এই চিহ্ন এবং বেতার সরঞ্জামগুলি কী কাজে ব্যবহার করা হত এবং মাওবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে এগুলির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    বেতার সরঞ্জামের উৎস খতিয়ে দেখছে পুলিশ

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর কর্তা আনন্দ সিং রাজপুত বলেন, “মাওবাদী ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া বেতার যন্ত্রগুলি পরীক্ষা করা হচ্ছে। মাওবাদীরা কোথা থেকে এই বেতার যন্ত্রগুলি লুট করেছিল বা সংগ্রহ করেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।”

    উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলির উৎস, মাওবাদী সংগঠনের কোন কোন ইউনিট সেগুলি ব্যবহার করত এবং কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেগুলি তাদের হাতে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন (Maoist) তদন্তকারীরা।

    বস্তারজুড়ে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত

    বীজাপুর ও সুকমায় এই অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মেলার পর বস্তারজুড়ে শুরু হয়েছে জোরদার নিরাপত্তা অভিযান। পুলিশের বক্তব্য, ৩১ মার্চ ছত্তিশগড়কে সশস্ত্র মাওবাদী উপস্থিতি থেকে মুক্ত ঘোষণা করার পরেও, জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।

    বিস্তীর্ণ জঙ্গল, প্রত্যন্ত বসতি এবং দুর্গম যাতায়াতের পথের কারণে এই অঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযানকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন এলাকাগুলিতে তল্লাশির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার ও অন্যান্য সামগ্রীর খোঁজও চালানো হচ্ছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে একাধিক এলাকায় অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, তল্লাশি কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; বস্তারের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকাতেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার এবং সুকমার ছোট কাঞ্চলার কাছে মাটির নীচে লুকোনো ডেরার খোঁজ মেলার পর আশপাশের জঙ্গলে নজরদারি ও তল্লাশি আরও বাড়ানো হয়েছে।

    সন্দেহজনক সামগ্রী দেখলে পুলিশকে জানানোর আবেদন

    বীজাপুর পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, জঙ্গলে বসবাসকারী মানুষ এবং প্রত্যন্ত এলাকার মধ্যে দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের কাছে আবেদন জানিয়েছে, কোনও সন্দেহজনক বস্তু, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক বা অপরিচিত সামগ্রী চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দিতে।

    বিশেষ করে নির্জন জঙ্গল এলাকায় কোনও সন্দেহজনক বস্তু দেখা গেলে সেটি স্পর্শ, সরানো বা তার কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মাটির নীচে বা অন্যত্র লুকিয়ে রাখা সামগ্রী গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে (Forest Operations) বলেও বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

     

  • Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় মাওবাদী-বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। জেলার জঙ্গলে ঘেরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে (Chhattisgarh) উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী (Maoist Arms)। গত ২৪ অগাস্ট ভেজ্জি থানার ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা জঙ্গল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর জেলা বাহিনী, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং বস্তার ফাইটার্সের যৌথ দল সোমবার সকালে ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডার জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

    গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান (Chhattisgarh)

    তল্লাশির সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান পান। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ২৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৯২টি তাজা গুলি, ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড। বিপুল পরিমাণ বিজিএল গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে।উদ্ধার হওয়া ২৩টি অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর রাইফেল, একটি দশমিক ৩১৫ বোরের রাইফেল, একটি দশমিক ৪১০ মাসকেট রাইফেল, ছ’টি বিজিএল লঞ্চার, একটি একনলা রাইফেল, একটি দেশীয় দশমিক ৩১৫ বোরের আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ১২ বোরের রাইফেল এবং সাতটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র। এসএলআর এবং দশমিক ৩০৩ রাইফেলের ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ বিজিএল সেল উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৪৯২টি গুলির মধ্যে একে-৪৭, এসএলআর, ইনসাস, দশমিক ৩০৩, দশমিক ৩১৫ এবং ১২ বোরের বিভিন্ন ধরনের গুলি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমান, দীর্ঘ সময় ধরে মাওবাদী সংগঠনের ব্যবহারের জন্য ওই গোপন ভান্ডারে ধাপে ধাপে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করা হয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের উপস্থিতিই তার প্রমাণ।

    বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার

    অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার, ৬৬টি বিজিএল কার্তুজ, আতসবাজির মতো ৪০টি বিস্ফোরক যন্ত্র এবং ছ’টি অ্যাক্সিলারেটর প্লাগ। এছাড়া বিভিন্ন আকারের ৮৯টি বিজিএল সেল এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে (Maoist Arms)। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। অস্ত্র-বিস্ফোরকের পাশাপাশি ওই গোপন ভান্ডার থেকে মাওবাদী সদস্যদের দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাত জোড়া কালো পোশাক, ৩২টি কালো ও ২২টি সবুজ কোমরবন্ধ, ১১টি বাঁশি-রক্ষাকবচ, সাতটি বাঁদরটুপি, দুটি ওয়েল্ডিং ঢাল, দু’টি সৌর প্যানেল এবং সাতটি পিঠের ব্যাগ। এছাড়া ম্যাগাজিন রাখার ব্যাগ, অন্যান্য ব্যাগ এবং ওষুধও উদ্ধার হয়েছে (Chhattisgarh)।

    ভান্ডারপদর দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদী-প্রভাবিত এলাকা

    ভান্ডারপদর জঙ্গল এলাকায় এর আগেও মাওবাদীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ২০২৪ সালে ওই এলাকায় সংঘর্ষে ১০ জন মাওবাদী নিহত হয়েছিল বলে নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এটা স্পষ্ট, ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামগ্রী লুকিয়ে রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্য পুরানো অস্ত্রভান্ডারের অবস্থান চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

    শুধু অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার নয়, এই ধরনের অভিযান থেকে মাওবাদীদের সংগঠন, তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জঙ্গলে থাকা পুরানো পরিকাঠামো সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে বলে মনে করছে প্রশাসন (Chhattisgarh)।

    পুরনো অস্ত্রভান্ডার খুঁজতে জোর তল্লাশি

    সুকমার পুলিশ সুপার ময়াঙ্ক গুর্জর জানিয়েছেন, জঙ্গল এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় মাইনমুক্ত করার কাজও ধারাবাহিকভাবে চলছে। কোথাও বিস্ফোরক যন্ত্র বা অন্য কোনও বিস্ফোরক সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেলে নিরাপত্তা বিধি মেনে সেগুলি দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে (Maoist Arms)।

    পুলিশ সুপারের দাবি, গত ৩১ মার্চ থেকে মাওবাদীদের পুরানো অস্ত্র ও বিস্ফোরকের গোপন ভান্ডার উদ্ধারের পাশাপাশি মাইনমুক্ত করার অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে দুর্গম জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা সামগ্রী খুঁজতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার হওয়ার পর প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীরা বিস্ফোরকগুলি নিষ্ক্রিয় করছেন।

    এই অভিযানে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বহু পুরনো ও গোপন অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    অগাস্টে সুকমায় তৃতীয় বড় অস্ত্রভান্ডারের খোঁজ

    চলতি অগাস্ট মাসে সুকমা জেলায় মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভান্ডার উদ্ধারের এটি তৃতীয় বড় ঘটনা (Chhattisgarh)। এর আগে ১৮ অগাস্ট চিন্তলনার থানার ইট্টালঙ্কা গ্রামের কাছে একটি গোপন ভান্ডার থেকে বিস্ফোরক, গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। তারও আগে ৩ অগাস্ট ভেজ্জি থানার বোধরাজপদর জঙ্গলে একটি মাওবাদী অস্ত্রভান্ডারের হদিশ পায় নিরাপত্তা বাহিনী।

    একই মাসে পরপর এই ধরনের উদ্ধার অভিযান থেকে স্পষ্ট, সুকমার দুর্গম জঙ্গলগুলিতে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলার বিষয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জোর দিয়েছে। জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় অস্ত্রভান্ডারের সন্ধানে এলাকা দখল ও তল্লাশি অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে জানিয়েছে সুকমার পুলিশ।

    প্রশাসনের বক্তব্য, এই ধারাবাহিক অভিযানের লক্ষ্যই হল মাওবাদীদের অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস করার পাশাপাশি জেলার নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখা এবং উন্নয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা (Maoist Arms)। অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় শুরু হয়েছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপও (Chhattisgarh)।

     

  • Bastar: বদলাচ্ছে বস্তার! বন্দুক হাতে জঙ্গল থেকে ফ্যাশন শো-এর মঞ্চে, প্রাক্তন মহিলা নকশালদের নয়া জীবনের বার্তা

    Bastar: বদলাচ্ছে বস্তার! বন্দুক হাতে জঙ্গল থেকে ফ্যাশন শো-এর মঞ্চে, প্রাক্তন মহিলা নকশালদের নয়া জীবনের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় বস্তারের জঙ্গলে হাতে অস্ত্র নিয়ে ঘুরতেন। আজ সেই মহিলারাই আত্মসমর্পণের পর পা রাখলেন ফ্যাশন র‍্যাম্পে। জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উপলক্ষে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে আয়োজিত একটি আদিবাসী ফ্যাশন শো-তে অংশ নিলেন বস্তারের ওই একদল মহিলা। ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাকে তাঁদের আত্মবিশ্বাসী র‍্যাম্প ওয়াক দর্শকদের নজর কাড়ে। তাঁদের হাঁটার সময় দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। কারও কারও র‍্যাম্পে কিছুক্ষণ থেমে পোশাক প্রদর্শন করতে দেখা যায়। পরে ঘুরে আবার মঞ্চের দিকে ফিরে এসে হাসিমুখে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন তাঁরা।

    জঙ্গল থেকে ফ্যাশন র‍্যাম্পে

    সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদা নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ওই মহিলারা রঙিন ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাকে র‍্যাম্পে হাঁটছেন। তাঁদের চলাফেরায় ছিল আত্মবিশ্বাস ও স্বচ্ছন্দতা। তবে তাঁদের কাছে এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি ফ্যাশন শো ছিল না। বরং এটি ছিল তাঁদের জীবনের আমূল পরিবর্তনের একটি প্রতীক। একসময় নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে বস্তারের জঙ্গলে সশস্ত্র জীবন কাটানো এই মহিলারা আত্মসমর্পণের পর ধীরে ধীরে মূলস্রোতের সমাজে ফিরে এসেছেন।

    আত্মসমর্পণের পর নতুন জীবনের সন্ধান

    বস্তারে আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন নকশালদের পুনর্বাসন ও জীবিকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাঁদের স্বনির্ভর করে তুলতে জীবিকামূলক প্রকল্প, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। র‍্যাম্পে তাঁদের উপস্থিতিও সেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার একটি ইতিবাচক ছবি তুলে ধরেছে। অস্ত্রের জীবন ছেড়ে সমাজের সামনে নিজেদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ছত্তিশগড় সরকার বস্তারে নকশাল হিংসার অবসান এবং উন্নয়নের উপর জোর দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই সম্প্রতি দাবি করেছেন, কয়েক দশকের নকশাল সমস্যার পর বস্তার এখন নকশালমুক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। এএনআই-কে সাই বলেন, “৪০-৫০ বছর পর আমাদের বস্তার অঞ্চল অবশেষে নকশালমুক্ত হয়েছে। এখন উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এই আবহে প্রাক্তন মহিলা নকশালদের হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাক নিয়ে র‍্যাম্পে হাঁটার দৃশ্য বস্তারের পরিবর্তিত বাস্তবতার একটি মানবিক ছবি তুলে ধরেছে।জঙ্গল থেকে র‍্যাম্পে তাঁদের এই যাত্রা শুধু পোশাক বা ফ্যাশনের গল্প নয়—এটি আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসন, আত্মনির্ভরতা এবং মূলস্রোতের সমাজে ফিরে আসার এক প্রতীকী কাহিনি।

  • Maoist Papa Rao: মাও-মুক্ত ছত্তিশগড়! ১৬ সঙ্গীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাওয়ের

    Maoist Papa Rao: মাও-মুক্ত ছত্তিশগড়! ১৬ সঙ্গীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাওয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬ জন কমরেডকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করলেন ছত্তিশগড়ের শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাও (Maoist Papa Rao)। এমনই খবর জানালেন ছত্তিশগড়ের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা। তাঁদের আত্মসমর্পণ মাওবাদী দমনে রাজ্যের চালানো লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    মাও-মুক্ত ছত্তিশগড় (Maoist Papa Rao)

    রাও অস্ত্র সমর্পণ করায় প্রযুক্তিগতভাবে ও স্পষ্টভাবে বলা যায়, ওই স্তরের এমনকি তার চেয়েও নিচু স্তরের কোনও নকশাল কর্মী আর সক্রিয় নেই রাজ্যে। অন্তত এমনই জানালেন শর্মা। গত দু’দশকে দক্ষিণ বস্তারে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক প্রাণঘাতী হামলার মূলচক্রী ছিলেন এই শীর্ষ মাওবাদী নেতা। ২০১০ সালে তৎকালীন দান্তেওয়াড়া (বর্তমানে সুকমা) জেলার তাদমেতলা হামলারও ষড়যন্ত্রী ছিলেন তিনি। ওই হামলায় শহিদ হয়েছিলেন ৭৬ জন জওয়ান। মাওবাদীদের দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটিতে সক্রিয় রাও বস্তার অঞ্চলে তাঁর এক ডজনের বেশি সদস্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন বলে সোমবারই জানিয়েছিলেন শর্মা। উপমুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তিনি সামলাচ্ছেন স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বও। মঙ্গলবার পাপা অস্ত্রসমর্পণ করায় ছত্তিশগড়ে আর কোনও নকশাল কর্মী সক্রিয় নেই। শুধু তাই নয়, মাও দমনে ‘শাহি’ ডেডলাইন ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই রাজ্য হয়ে গেল সশস্ত্র নকশালবাদমুক্ত (Chhattisgarh)।

    মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট

    শর্মা বলেন, “রাওয়ের পুনর্বাসনের মাধ্যমে ছত্তিশগড়ে নকশালের উপস্থিতি কার্যত শেষ হয়ে গেল। ৩১ মার্চের মধ্যেই রাজ্য সশস্ত্র নকশালবাদ থেকে মুক্ত হবে।” তিনি জানান, পাপা রাও প্রায় ২৫ বছর ধরে সক্রিয় ছিলেন এবং বহু সংঘর্ষে জড়িত থাকলেও প্রতিবারই পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। রাজ্য সরকার তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ২৫ লাখ টাকা। শর্মা বলেন, “রাওয়ের মানসিকতা এখন বদলেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলাম (Maoist Papa Rao)। তখনই তিনি আত্মসমর্পণের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন।” তিনি জানান, পুনর্বাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে আরও আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা রয়েছে। বস্তার ডিভিশন ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির কিছু অংশে মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনাকারী দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি (DKSZC) মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হত। গত দু’দশকে বহু মারাত্মক হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। শর্মা বলেন, “বর্তমানে পার্টি ও এরিয়া কমিটি স্তরের মাওবাদীরা ছত্তিশগড়ে আর সশস্ত্র কার্যকলাপে যুক্ত নন এবং তাঁরা প্রায় সবাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন।” তিনি বলেন, “তাঁরা অস্ত্র নামিয়ে রেখেছেন এবং ইউনিফর্ম ছেড়ে দিয়েছেন।” বর্তমানে ছত্তিশগড়ের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন মাও-সদস্য মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি বা তেলঙ্গনায় সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের আত্মসমর্পণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

    মাওবাদ নির্মূলের সময়সীমা

    এদিকে, কেন্দ্রের নির্ধারিত মাওবাদ নির্মূলের সময়সীমা শেষ হতে আর এক সপ্তাহ বাকি। সোমবার ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাজি জানান, বর্তমানে রাজ্যে মাত্র ১৫ জন মাওবাদী সক্রিয় (Chhattisgarh) রয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তারা প্রসাদ বাহিনিপতির এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কান্ধামাল-কালাহান্ডি-রায়গড়া জেলার সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় প্রায় ১৫ জন নকশাল সক্রিয় রয়েছে।” কেন্দ্রের সিকিউরিটি-রিলেটেড এক্সপেন্ডিচার প্রকল্প অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু কান্ধামাল জেলাকেই মাওবাদী-প্রভাবিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৌধ, বালাঙ্গির, কালাহান্ডি, বারগড়, মালকানগিরি, নবরঙ্গপুর, নুয়াপাড়া এবং রায়গড়—এই আটটি জেলাকে ‘লেগেসি’ ও ‘থ্রাস্ট’ জেলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, কান্ধামাল-কালাহান্ডি-রায়গড় সীমান্ত অঞ্চলে একটি ছোট নকশাল গোষ্ঠী সক্রিয় থাকলেও, রাজ্যের অন্যান্য সব জেলা এখন সম্পূর্ণভাবে মাওবাদীমুক্ত। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি অনুযায়ী, যাঁরা অস্ত্র সমর্পণ করছেন, সেই মাওবাদীদের আর্থিক সহায়তা, বাসস্থান, সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত মাসিক ভাতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্য/রেশন কার্ড দেওয়া হচ্ছে (Maoist Papa Rao)।

    আত্মসমর্পণের বহর

    ২০২৪ সাল থেকে ১৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯৬ জন মাওবাদী ওড়িশা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। রাজ্য পুলিশ সতর্ক করেছে যে, ৩১ মার্চের মধ্যে যাঁরা আত্মসমর্পণ করবেন না, তাঁরা সরকারের পুনর্বাসন নীতির সুবিধাও পাবেন না। পুলিশ সূত্রে খবর, বিশেষ জোনাল কমিটির সদস্য সুক্রু এবং রাজ্যের আরও দুই মাওবাদী এখনও আত্মসমর্পণ করেনি। প্রতিবেশী ছত্তিশগড় থেকে আসা আরও ১২ জন মাওবাদী ওড়িশায় সক্রিয় ছিলেন। তাঁরা বর্তমানে আত্মগোপন করে রয়েছেন। অ্যান্টি-নকশাল অপারেশনের এডিজি সঞ্জীব পান্ডা বলেন, “কিছু নকশাল এখনও আত্মসমর্পণ না করায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আমরা (Chhattisgarh) ৩১ মার্চের মধ্যেই কেন্দ্রের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব (Maoist Papa Rao)।”

     

LinkedIn
Share