Bastar: বদলাচ্ছে বস্তার! বন্দুক হাতে জঙ্গল থেকে ফ্যাশন শো-এর মঞ্চে, প্রাক্তন মহিলা নকশালদের নয়া জীবনের বার্তা

bastar former women naxals who once roamed in forests now walk fashion show in raipur

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় বস্তারের জঙ্গলে হাতে অস্ত্র নিয়ে ঘুরতেন। আজ সেই মহিলারাই আত্মসমর্পণের পর পা রাখলেন ফ্যাশন র‍্যাম্পে। জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উপলক্ষে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে আয়োজিত একটি আদিবাসী ফ্যাশন শো-তে অংশ নিলেন বস্তারের ওই একদল মহিলা। ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাকে তাঁদের আত্মবিশ্বাসী র‍্যাম্প ওয়াক দর্শকদের নজর কাড়ে। তাঁদের হাঁটার সময় দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। কারও কারও র‍্যাম্পে কিছুক্ষণ থেমে পোশাক প্রদর্শন করতে দেখা যায়। পরে ঘুরে আবার মঞ্চের দিকে ফিরে এসে হাসিমুখে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন তাঁরা।

জঙ্গল থেকে ফ্যাশন র‍্যাম্পে

সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদা নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ওই মহিলারা রঙিন ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাকে র‍্যাম্পে হাঁটছেন। তাঁদের চলাফেরায় ছিল আত্মবিশ্বাস ও স্বচ্ছন্দতা। তবে তাঁদের কাছে এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি ফ্যাশন শো ছিল না। বরং এটি ছিল তাঁদের জীবনের আমূল পরিবর্তনের একটি প্রতীক। একসময় নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে বস্তারের জঙ্গলে সশস্ত্র জীবন কাটানো এই মহিলারা আত্মসমর্পণের পর ধীরে ধীরে মূলস্রোতের সমাজে ফিরে এসেছেন।

আত্মসমর্পণের পর নতুন জীবনের সন্ধান

বস্তারে আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন নকশালদের পুনর্বাসন ও জীবিকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাঁদের স্বনির্ভর করে তুলতে জীবিকামূলক প্রকল্প, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। র‍্যাম্পে তাঁদের উপস্থিতিও সেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার একটি ইতিবাচক ছবি তুলে ধরেছে। অস্ত্রের জীবন ছেড়ে সমাজের সামনে নিজেদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ছত্তিশগড় সরকার বস্তারে নকশাল হিংসার অবসান এবং উন্নয়নের উপর জোর দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই সম্প্রতি দাবি করেছেন, কয়েক দশকের নকশাল সমস্যার পর বস্তার এখন নকশালমুক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। এএনআই-কে সাই বলেন, “৪০-৫০ বছর পর আমাদের বস্তার অঞ্চল অবশেষে নকশালমুক্ত হয়েছে। এখন উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এই আবহে প্রাক্তন মহিলা নকশালদের হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাক নিয়ে র‍্যাম্পে হাঁটার দৃশ্য বস্তারের পরিবর্তিত বাস্তবতার একটি মানবিক ছবি তুলে ধরেছে।জঙ্গল থেকে র‍্যাম্পে তাঁদের এই যাত্রা শুধু পোশাক বা ফ্যাশনের গল্প নয়—এটি আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসন, আত্মনির্ভরতা এবং মূলস্রোতের সমাজে ফিরে আসার এক প্রতীকী কাহিনি।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share