Tag: Bengali news

Bengali news

  • India Embassy Slams NYT: ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বলায় ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’র কড়া সমালোচনা ভারতের

    India Embassy Slams NYT: ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বলায় ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’র কড়া সমালোচনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরকে ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ হিসেবে উল্লেখ করায় মার্কিন সংবাদপত্র ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’র তীব্র সমালোচনা করল আমেরিকার ভারতীয় দূতাবাস (India Embassy Slams NYT)। সংবাদপত্রটির ব্যবহৃত শিরোনামকে “বিভ্রান্তিকর ও ভুল” বলে অভিহিত করেছে দূতাবাস। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের বিষয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানও ফের একবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে (POK)। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে যে অস্থিরতা চলছে, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই পাকিস্তানি কাশ্মীরে সংঘর্ষ।” ওই প্রতিবেদনে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় ছড়িয়ে পড়া হিংসার ঘটনাগুলি তুলে ধরা হয়।

    শিরোনাম বিভ্রান্তিকর ও ভুল

    এর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতীয় দূতাবাস সংবাদপত্রটির ব্যবহৃত পরিভাষা প্রত্যাখ্যান করে। দূতাবাস বলেছে, “নিউইয়র্ক টাইমসের শিরোনাম বিভ্রান্তিকর ও ভুল। ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বলে কিছু নেই, রয়েছে শুধুই পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর।” দূতাবাস আরও জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অতীতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বেআইনিভাবে পাকিস্তানের দখলে থাকা ভূখণ্ডগুলিও ভারতের অংশ বলে দাবি করেছে তারা। ভারতীয় দূতাবাসের অভিযোগ, পাকিস্তান এখনও ওই অঞ্চলের কিছু অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করছে। দূতাবাসের বক্তব্য, “পাকিস্তান এই ভূখণ্ডগুলির কিছু অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে এবং এখন আবার দখল করা এলাকার মানুষের বিরুদ্ধেই হিংসা ব্যবহার করছে।” পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সেখানে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি সূত্রের দাবি, বিক্ষোভকারীদের দমন করতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। এতে ৩০ জনেরও বেশি সাধারণ মানুষ নিহত এবং অন্তত ৩৩ জন জখম হয়েছেন (India Embassy Slams NYT)।

    আছড়ে পড়ল বিক্ষোভের ঢেউ

    এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক অব্যবস্থা, কথিত রাজনৈতিক বৈষম্য এবং ওই অঞ্চলের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাওয়ালাকোট থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। অভিযোগ, সেই পদযাত্রার সময় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেন। ওই অঞ্চলে পাকিস্তান সরকারের  আয়োজিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ভারত বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। ভারতের অবস্থান, পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের কোনও আইনি বৈধতাই নেই (POK)। চলতি সপ্তাহের গোড়ায় ভারতের বিদেশমন্ত্রকও পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচনকে “লোকদেখানো নির্বাচনী প্রক্রিয়া” বলে অভিহিত করে। ভারতের দাবি, বেআইনি দখলকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেই এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। ওই অঞ্চলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছে ভারত (India Embassy Slams NYT)। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে একাধিক স্থানীয় সংগঠন। তাদের মধ্যে রয়েছে জম্মু কাশ্মীর ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশনও (India Embassy Slams NYT)।

    প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ বন্ধের দাবি

    এদিকে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছেও আবেদন জানিয়েছে। তাদের দাবি, তথাকথিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত করতে হবে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের জবাবদিহি করতে হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে রাওয়ালাকোট, মুজাফফরাবাদ-সহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে বিপুল সংখ্যায় পাক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে (India Embassy Slams NYT)। সূত্রের আরও দাবি, একাধিক সংগঠনের স্থানীয় নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে পাকিস্তানের প্রশাসন নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষেরই প্রতিফলন (POK)। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্রমশ কমছে বলে ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

     

  • Narendra Modi: মোদির ডাকে সংসদে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক, উপস্থিত ডোভাল-রাজনাথ-জয়শঙ্কর-নির্মলা

    Narendra Modi: মোদির ডাকে সংসদে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক, উপস্থিত ডোভাল-রাজনাথ-জয়শঙ্কর-নির্মলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দফতরেই বসে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির বৈঠক (CCS Meeting)। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক শীর্ষ মন্ত্রী।

    কারা ছিলেন বৈঠকে?

    প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ডাকা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। এছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, পীযূষ গয়াল, হরদীপ সিং পুরী, সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পি. কে. মিশ্রও বৈঠকে যোগ দেন।

    কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই বৈঠক?

    এই বৈঠক ঘিরে জল্পনা বাড়িয়েছে বর্তমান পরিস্থিতি। একদিকে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক তরজা, অন্যদিকে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি- দু’দিকেই নজর রয়েছে কেন্দ্রের। ফলে এই সময়ের CCS বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    কী এই সিসিএস মিটিং?

    ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS Meeting) হল কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, সীমান্ত পরিস্থিতি, কৌশলগত সিদ্ধান্ত, বিদেশনীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই কমিটিতেই পর্যালোচনা করা হয়। দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও সাধারণত এই কমিটির মাধ্যমেই নেওয়া হয়।

    কী নিয়ে আলোচনা?

    সরকারিভাবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি প্রকাশ করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। অর্থমন্ত্রী ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর উপস্থিতি থেকে মনে করা হচ্ছে, নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    এখন নজর কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপে

    বৈঠক শেষে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র যে নিবিড় নজর রাখছে, তা স্পষ্ট। আগামী কয়েকদিনে সরকারের তরফে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।

  • Rajeev Chandrasekhar: ‘নেতা বুঝে বেছে নিন’, সিজেপি নিয়ে ছাত্র-অভিভাবকদের সতর্ক করলেন বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর

    Rajeev Chandrasekhar: ‘নেতা বুঝে বেছে নিন’, সিজেপি নিয়ে ছাত্র-অভিভাবকদের সতর্ক করলেন বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিজেপি (Cockroach Janata Party)-কে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল। এবার কেরল বিজেপির সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর (Rajeev Chandrasekhar) সরাসরি ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের সতর্ক থাকার বার্তা দিলেন। সমাজমাধ্যমে সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের সঙ্গে ২০২০ সালের দিল্লি হিংসার মামলার অন্যতম অভিযুক্ত উমর খালিদের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যাঁরা ভারতের ভবিষ্যৎ গড়ার দাবি করছেন, তাঁরা আসলে কারা?’’

    সৌরভের পুরনো পোস্টও তুলে ধরলেন

    শুধু ছবিই নয়, সৌরভ দাসের একটি পুরনো এক্স (X) পোস্টও শেয়ার করেন রাজীব (Rajeev Chandrasekhar)। সেই পোস্টে উমর খালিদের কারাবাসকে ‘‘ভারতের বিচারব্যবস্থার এক কলঙ্ক’’ বলে মন্তব্য করেছিলেন সৌরভ। এই পোস্ট সামনে এনে বিজেপি নেতার দাবি, সিজেপি-র নেতৃত্ব ও তাদের মতাদর্শ সম্পর্কে দেশের মানুষ, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

    ‘কার সঙ্গে আছেন জানুন’

    নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনে যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশে রাজীব চন্দ্রশেখর (Rajeev Chandrasekhar) বলেন, ‘‘অনেকেই হয়তো ন্যায্য দাবির জন্য রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু আন্দোলনের নেতৃত্ব কার হাতে এবং কোন শক্তি সেই আন্দোলনকে প্রভাবিত করছে, তা বুঝে নেওয়া জরুরি।’’

    দেশের ঐক্য ভাঙতে চাইলে বিরোধিতা করুন

    নিজের পোস্টে রাজীব (Rajeev Chandrasekhar) লেখেন, ‘‘যারা ভারতকে ভাঙতে ও ধ্বংস করতে চায়, তারাই আবার তোমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার দাবি করছে। কিছু মতাদর্শভিত্তিক গোষ্ঠী দেশের যুবসমাজকে ব্যবহার করে ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। যে নামেই তারা সামনে আসুক না কেন, তাদের বিরোধিতা করা প্রত্যেক ভারতীয়র দায়িত্ব।’’

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণেরও উল্লেখ

    সিজেপি (CJP)-র আন্দোলন ঘিরে মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তদন্ত হলে শুধু পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নয়, পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনাও সমান গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘‘সত্য সামনে আসতেই হবে।’’ একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা দিলেও হিংসার অভিযোগে চলা তদন্তে স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যেখানে অপরাধের প্রমাণ মিলবে, সেখানে দায় ঠিক করতেই হবে।

    উমর খালিদকে ঘিরে কী বলছে তদন্ত?

    দিল্লি পুলিশের দাবি, ২০২০ সালের দিল্লি হিংসার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত উমর খালিদ। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ইউএপিএ (UAPA)-এর অধীনে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, ঘটনাটি শুধু একটি বিক্ষোভের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা নয়; তদন্তকারী সংস্থার নথিতে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক ভিত্তি রয়েছে।

    নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    সম্প্রতি দিল্লির প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার এস. এন. শ্রীবাস্তব-সহ কয়েকজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন, ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁদের মতে, এর পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র, তথ্যযুদ্ধ এবং সরকার অস্থির করার চেষ্টার দিকও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটেই রাজীব চন্দ্রশেখরের (Rajeev Chandrasekhar) বার্তা, ‘‘ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা যেন আন্দোলনের মুখ নয়, আন্দোলনের নেতৃত্বকেও চিনে নেন।’’

  • Gyanendra Pratap Singh: ‘সৎ উদ্দেশ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তের দায় আমার’, বাহিনীকে আশ্বাস সিআরপিএফ ডিজির

    Gyanendra Pratap Singh: ‘সৎ উদ্দেশ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তের দায় আমার’, বাহিনীকে আশ্বাস সিআরপিএফ ডিজির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়ে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক, তদন্ত এবং আদালতের নজরদারি চলছে, ঠিক সেই সময় জওয়ানদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF)-র ডিজি জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং (Gyanendra Pratap Singh)। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনের সময় সৎ উদ্দেশ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্য কোনও জওয়ানকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে সেই সিদ্ধান্তের দায়ভার তিনি নিজেই নেবেন।

    ‘আপনারা কাজ করুন, দায়িত্ব আমার’

    ২৭ জুলাই সিআরপিএফ (CRPF)-এর ইনভেস্টিচার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং (Gyanendra Pratap Singh) বলেন, ‘‘দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, যদি তা সৎ উদ্দেশ্যে কর্তব্য পালনের অংশ হয়, তাহলে তার দায়িত্ব আমি নেব। নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করুন। নিজের কর্তব্য পালন করতে গিয়ে কোনও রকম দ্বিধা বা ভয় রাখবেন না। যেখানে জবাবদিহির প্রয়োজন হবে, সিআরপিএফ-এর ডিজি (Gyanendra Pratap Singh) হিসেবে সেই দায়িত্ব আমি নেব।’’

    জওয়ানদের ধৈর্যের প্রশংসা 

    সিআরপিএফ (CRPF) সদর দফতর থেকে বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো এক বার্তায় সাম্প্রতিক কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনকারী জওয়ানদের ধৈর্য, সংযম ও পেশাদারিত্বের প্রশংসাও করেন তিনি। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, দেশের স্বার্থে এবং দায়িত্ব পালনের সময় সৎ উদ্দেশ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বাহিনী সদস্যদের পূর্ণ সমর্থন করবে। তবে একই সঙ্গে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে- কোনও জওয়ান যদি দায়িত্বজ্ঞানহীন, অযৌক্তিক বা নিয়মবহির্ভূত কাজ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে সিআরপিএফ-এর নিয়ম এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী কড়া বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বলপ্রয়োগের অভিযোগে শুরু হয়েছে তদন্ত

    দিল্লির ঘটনার পর র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে সিআরপিএফ। তদন্তে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থলে থাকা জওয়ান, কোম্পানি কমান্ডার ও শীর্ষ আধিকারিকদের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পেলেট গান ও শক ব্যাটন ব্যবহারের অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে। যদি তদন্তে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলে, তাহলে আনুষ্ঠানিক কোর্ট অফ ইনকোয়ারি গঠন করা হবে বলে সূত্রের খবর।

    পেলেট ব্যবহারের অভিযোগে বাড়ছে বিতর্ক

    ২০ জুলাইয়ের সরকারি মোতায়েন সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে, দিল্লি পুলিশের নির্দেশে যন্তর মন্তর এলাকায় র‌্যাফ সদস্যরা দুটি প্লাস্টিক পেলেট রাউন্ড-সহ একাধিক নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। যদিও দিল্লি পুলিশের দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কোনও পেলেট ছোড়া হয়নি। তা সত্ত্বেও আহতদের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক থামেনি।

    সংসদ থেকে সুপ্রিম কোর্ট- সর্বত্র উঠছে প্রশ্ন

    এই ইস্যু ইতিমধ্যেই সংসদ এবং সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, পুলিশি পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শাসকপক্ষ অবশ্য সেই অভিযোগ খারিজ করে প্রমাণ দাবি করেছে। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে ধাতব পেলেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং আহতদের ক্ষতিপূরণের আবেদন জানানো হয়েছে।

    আন্দোলন শেষ, কিন্তু বিতর্ক নয়

    শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর প্রায় এক মাস ধরে চলা নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের সমাপ্তি হয়েছে। তবে আন্দোলন মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ কতটা আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয় ছিল, তা নিয়েই এখন তদন্ত, রাজনৈতিক তরজা এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে সিআরপিএফ প্রধানের (Gyanendra Pratap Singh) বার্তাকে বাহিনীর মনোবল বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • Minar Mondal Arrest: বাস চালক থেকে ‘ধনকুবের’, গ্রেফতার টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়িতে ২৮ কোটি! মিনারের উত্থানের নেপথ্যে কী রহস্য?

    Minar Mondal Arrest: বাস চালক থেকে ‘ধনকুবের’, গ্রেফতার টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়িতে ২৮ কোটি! মিনারের উত্থানের নেপথ্যে কী রহস্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমের মহম্মদবাজারে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা। তার পরে রাতভর চলে ‘সিজ়ার লিস্ট’ তৈরির কাজ। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন মিনার মণ্ডল (Minar Mondal Arrest)। ইতিমধ্যেই গোটা বাড়ি সিল করা হয়েছে। পরিবারের বাকি সদস্যরা অন্যত্র ঠাঁই নিয়েছেন। পেশায় একজন সরকারি বাসচালক ছিলেন। সেখান থেকে কীভাবে এত সম্পত্তি?

    বাসচালক থেকে ‘ধনকুবের’

    মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া অভিযান বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলে। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নগদ। পাশাপাশি উদ্ধার হয় প্রায় ১৫ কেজি সোনা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। মহম্মদবাজারের ডেউচা বাসস্ট্যান্ডের পাশেই মিনারের বাড়ি। বাইরে থেকে বাড়িটি একেবারেই সাধারণ। রং চটা দেওয়াল, নেই কোনও বিলাসিতার ছাপ। কিন্তু সেই বাড়ির আলমারিতেই লুকিয়ে ছিল কোটি কোটি টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সোনা।

    বাজেয়াপ্ত ট্রাঙ্ক ও আলমারি

    বৃহস্পতিবার সকালে মিনার মণ্ডলকে গ্রেফতার (Minar Mondal Arrest) করে পুলিশ। এদিনই তাঁকে সিউড়ি আদালতে পেশ। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনা বাজেয়াপ্ত করে তদন্তকারীরা সেগুলি ট্রেজারিতে নিয়ে যান। তদন্তকারী দল বাড়ি থেকে ছ’টি ট্রাঙ্ক এবং দুটি আলমারি বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশের দাবি, এই ট্রাঙ্ক ও আলমারিগুলির মধ্যেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিপুল নগদ অর্থ এবং সোনা।  রাতভর চলে সেগুলির হিসাব ও বাজেয়াপ্ত তালিকা (সিজার লিস্ট) তৈরির কাজ। পুরো অভিযান চলাকালীন মিনারের বাড়ি ঘিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    টাকার উৎস নিয়ে নীরব মিনার

    গ্রেফতারের (Minar Mondal Arrest) সময় সাংবাদিকরা বারবার জানতে চান, এত বিপুল টাকা ও সোনার উৎস কী? এই সম্পদের মালিক কে? তবে কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দেননি মিনার মণ্ডল। অন্যদিকে, মিনারের ছেলের দাবি, বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ নগদ ও সোনা রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের কোনও ধারণাই ছিল না। তবে বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বুন্দেশ জানিয়েছেন, তল্লাশির সময় মিনার প্রাথমিকভাবে দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনা টুলু মণ্ডলের অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    ডাকাতদের জেরায় খুলল গোপন ভাণ্ডার!

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার মহম্মদবাজার থানার পুলিশ ডাকাতির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতরা হলেন অর্জুন লোহার, শেখ গিয়াসউদ্দিন, শেখ ফরজুদ্দিন, পুলক সাহা, শেখ ফিরোজ আহমেদ, অভিনব ভাতসা এবং রবিকুমার গুপ্ত। বুধবার সিউড়ি আদালত তাঁদের দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই সাত অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার গভীর রাতে মহম্মদবাজারের ডেউচায় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এরপর টানা বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলে পুলিশি অভিযান। তল্লাশির সময় বাড়ির বিভিন্ন আলমারি ও লুকোনো জায়গা থেকে একের পর এক নোটের বান্ডিল উদ্ধার হয়।

    টুলু-যোগ!

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় মিনার মণ্ডল সরকারি বাসের চালক ছিলেন। পরে তিনি সেই কাজ ছেড়ে দেন। তিনি পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ওরফে নিজামুদ্দিনের শ্যালক। এরপর টুলু মণ্ডলের সঙ্গে পাথর ব্যবসায় যুক্ত হন। তারপর থেকেই তাঁর আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি।

    মিনারের অনুব্রত (Anubrata Mondal)-যোগ!

    বীরভূমে বালি ও পাথর ব্যবসাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। জেলা বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে তথাকথিত ‘ডিসিআর’ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব লুঠ হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ তৃণমূলের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ছিলেন অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) ঘনিষ্ঠ। গরুপাচার মামলার তদন্তের সময় টুলু মণ্ডলকেও দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। মিনার মণ্ডল টুলু মণ্ডলের আত্মীয় (শ্যালক) হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তাই মিনারকেও অনুব্রত (Anubrata Mondal)-ঘনিষ্ঠ বলেই দাবি শাসক শিবিরের। যদিও এবিষয়ে অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) কাছে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    সরকারের কড়া বার্তা

    এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকবে। তাঁর বক্তব্য, সরকারি সম্পদ লুঠ, দুর্নীতি বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যাঁরা অবৈধ সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, তদন্তকারীদের মতে, এই বিপুল নগদ অর্থ ও সোনা কোথা থেকে এসেছে? কারা এর সঙ্গে জড়িত? এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র রয়েছে কি না? তা পুরোটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই এই মামলায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮, বানের জলে ভাসল হাজার হাজার পশু, জলমগ্ন ৫৫১ গ্রাম

    Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮, বানের জলে ভাসল হাজার হাজার পশু, জলমগ্ন ৫৫১ গ্রাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮-এ পৌঁছল।  বুধবার শিবসাগর ও গোলাঘাট জেলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে রাজ্যের সাতটি জেলায় এখনও পর্যন্ত বন্যায় (Assam Floods) ক্ষতিগ্রস্ত তিন লাখেরও বেশি মানুষ। সর্বশেষ সরকারি বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে (Rain Alert)। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নতুন করে মৃতদের মধ্যে দু’জন শিবসাগরের এবং একজন গোলাঘাটের বাসিন্দা। এর ফলে চলতি বছরে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, যোরহাট, নগাঁও, বিশ্বনাথ এবং কামরূপ মহানগর—এই সাত জেলায় মোট ৩,০০,০৩১ জন এখনও বন্যার কবলে রয়েছেন।

    বন্যার কবলে (Assam Floods)

    বন্যার জলে এখনও ২১টি রাজস্ব চক্র এবং ৫৫১টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত। ২১,৫২৩.০৮ হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায়। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ চরাইদেও জেলায়—১,৩৭,৫৬১ জন। এরপর রয়েছে শিবসাগর, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮৪,৬০০, এবং যোরহাটে ৪৯,৯১১ জন। মঙ্গলবার ছ’টি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৩.৩২ লাখ। ফলে বুধবার আরও একটি জেলা বন্যার কবলে এলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঘরছাড়া ১৬,৫০০-রও বেশি মানুষ ৭১টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। আরও ৭২,০০০-এরও বেশি মানুষকে ৩০টি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চিকিৎসা ও পশুচিকিৎসা দল এবং একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বন্যায় বাঁধ, রাস্তা, বাড়িঘর, স্কুল-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো এবং সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ১১,০০০-এরও বেশি পশু বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে, আরও প্রায় ১৭,০০০ গবাদি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর জল উপচে পড়ার পাশাপাশি কামরূপ মহানগর জেলায়ও বন্যা অব্যাহত রয়েছে। সরকারি বুলেটিন অনুযায়ী, কামরূপ মহানগরের তিনটি রাজস্ব চক্র এবং ১০টি এলাকা বা ওয়ার্ড এখনও ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যে রয়েছে পদুমবাড়ি, বোরাগাঁও, এক্সেলকেয়ার হাসপাতাল এলাকা, লাচিত নগর, চিড়িয়াখানা রোড, রুক্মিণীগাঁও, অনিল নগর, নবীন নগর, সাতগাঁও, বেহারবাড়ি, হাতিগাঁও, ওয়্যারলেস, জোরাবাট এবং জুবিন ক্ষেত্রের কাছে কামারকুচি। তবে সরকারি বুলেটিনে বলা হয়েছে, বন্যার কারণে শহরে কোনও জনসংখ্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা, তার পরিসংখ্যান মেলেনি।

    হিমন্ত-অমিত কথা

    বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে কথা বলে বন্যা (Assam Floods) পরিস্থিতি এবং ত্রাণকার্যের বিষয়ে আলোচনা করেন। সাত দিনের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার দু’জনের মধ্যে কথা হল। এর আগে ২৩ জুলাই শাহ অসমের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছিলেন। কথোপকথনের পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন এবং ত্রাণ, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কেন্দ্রের সব সংস্থা ও সম্পদ অসমের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান। বিজেপি কর্মীদের সংগ্রহ করা ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর কর্মসূচির সূচনা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২১ জুলাইয়ের পর ভারী বৃষ্টি হয়নি এবং বন্যার জলও কমেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনও অত্যন্ত গুরুতর। তিনি বলেন, “বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি এতটাই ব্যাপক যে বহু মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। কারও বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার বাড়ি কাদা ও পলিতে ভরে গিয়েছে। নাগাল্যান্ডের পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদার কারণে কয়েকটি জায়গায় রাস্তা এখনও বন্ধ রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে বন্যাকবলিত পরিবারগুলির দুর্ভোগ কমানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নাকচ করে বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার—উভয়েই এই সঙ্কট মোকাবিলায় সক্ষম। সারা দেশ থেকে অসমের জন্য অনুদান আসছে বলেও জানান তিনি। অনুদান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বন্যাকবলিতদের ঋণে বিশেষ সাহায্য

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের নির্দেশে বৃহস্পতিবার অসমে কাজ করা (Rain Alert) সমস্ত ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাকবলিত নাগরিকদের নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হবে। ২৮ ও ২৯ জুলাই পূর্বাঞ্চলে দু’দিনের সফরের সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠও অসমের বন্যায় ত্রাণকার্য পর্যালোচনা করেন (Assam Floods)। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, সেনাপ্রধান উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সামরিক প্রস্তুতি এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে চলা কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করেন। দাও ডিভিশন ও স্পিয়ারহেড ডিভিশন-সহ বিভিন্ন সেনা গঠনের প্রস্তুতি পর্যালোচনার সময় তাঁকে বন্যা ত্রাণকাজের বিষয়েও অবহিত করা হয়। সঙ্কটের সময়ে অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য সেনাদের প্রশংসাও করেন তিনি। ওই সফরে জেনারেল শেঠ অসম রাইফেলসের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও পর্যালোচনা করেন। তিনি ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ইম্ফলে ১৩৫তম ইন্ডিয়ান অয়েল ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন।

    ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    এদিকে, বন্যার জল কমতে শুরু করলেও, অসম-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ফের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর। ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত অসম, অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তিনসুকিয়া জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নাগাল্যান্ডের মন, মোককচুং এবং ওখা জেলায়ও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর প্রভাব অসমের পার্শ্ববর্তী চরাইদেও, শিবসাগর, যোরহাট এবং গোলাঘাট জেলায় পড়তে পারে (Rain Alert)। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নতুন করে বৃষ্টি হলে জল জমে থাকা ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি হড়পা বান, যান চলাচলে ধীরগতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থানীয়ভাবে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে (Assam Floods)। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সব জেলার প্রশাসন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা সতর্ক রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

     

  • Terrorism Arrest Warrant: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ, জারি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা

    Terrorism Arrest Warrant: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ, জারি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের (Pavel Durov) বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছে রাশিয়ার ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসবি)। একই সঙ্গে তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় তোলার প্রক্রিয়াও শুরু (Terrorism Arrest Warrant) হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস। এফএসবি জানিয়েছে, টেলিগ্রাম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দুরভের বিরুদ্ধে রুশ ফৌজদারি আইনের ২০৫.১ ধারার ১.১ অংশে মামলা করা হয়েছে। ওই ধারাটি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে সাহায্যেপ সঙ্গে সম্পর্কিত। তাসের প্রতিবেদনে এফএসবির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “টেলিগ্রাম প্রশাসনের প্রধান পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন একটি ফৌজদারি মামলার অংশ হিসেবে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির জন্য আন্তর্জাতিক পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।”

    স্পুটনিকের বক্তব্য (Terrorism Arrest Warrant)

    রুশ আইনজীবী ভ্লাদিমির ঝেরেবেনকভ জানিয়েছেন, দুরভের অনুপস্থিতিতেও তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাসকে ঝেরেবেনকভ বলেন, “রাশিয়ায় কোনও ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের জন্য এটি একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া। রুশ আদালত কারও অনুপস্থিতিতেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর রুশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ওই ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের মাধ্যমও রয়েছে। দুরভের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।” আইনি প্রতিনিধির বক্তব্য দিয়ে রুশ সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক জানিয়েছে, দুরভের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এদিকে, এফএসবির তথ্য উদ্ধৃত করে স্পুটনিক দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রাশিয়ার অভ্যন্তরে জঙ্গি হামলা এবং ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা সমন্বয়ের জন্য টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেল, চ্যাট ও বট ব্যবহার করলেও, সেগুলি সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি টেলিগ্রাম।

    রাশিয়ার দাবি

    রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই কর্মকাণ্ডের ফলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নারী এবং শিশুও রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকশ’ কোটি ডলারের সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা (Terrorism Arrest Warrant)। স্পুটনিক আরও জানিয়েছে, এফএসবির অভিযোগ অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা টেলিগ্রামের পরিচয়-পরিচয় সেবা ব্যবহার করে তরুণী সেজে রুশ পুরুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে তাঁদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করা হত। এফএসবির আরও দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে রাশিয়ার ১৬টি অঞ্চলে ওই পরিচয়-পরিচয় সেবার ৪৬ জন তরুণ ব্যবহারকারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং অগ্নিসংযোগের মতো কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ফরাসি কৌঁসুলিদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ৪১ বছর বয়সী এই ধনকুবেরের বিরুদ্ধে টেলিগ্রাম-সংক্রান্ত একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপাদান ছড়িয়ে দেওয়া, প্রতারণা এবং মাদক বিক্রির অভিযোগও ছিল। সেই সময় দুরভ বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে যোগাযোগের একটি মঞ্চ পরিচালনার ক্ষেত্রে (Pavel Durov) ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশে সরকারি দাবি মেনে নেওয়ার চেয়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়াকেই (Terrorism Arrest Warrant) তাঁর সংস্থা বেছে নিতে প্রস্তুত ছিল।

  • US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক অভিযানে সাময়িক বিরতির পর বৃহস্পতিবার ইরানের বিভিন্ন টার্গেটে ফের বিমান হামলা চালাল আমেরিকা (US Resumes Airstrikes)। ওয়াশিংটনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করার পর তার জবাবেই এই অভিযান (Missile Attack) শুরু করা হয়েছে। হামলা শুরুর পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে হামলা (US Resumes Airstrikes)

    মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড বলেছে, “আজ রাত ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের গতকালের হামলার চেষ্টার জোরালো জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।” মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিস্ফোরণের খবর আসে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। দ্বীপটির একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি বুশেহর-সহ দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    এর কয়েক দিন আগে ইরানের ভূখণ্ড থেকে জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, সবক’টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়। ফলে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে মার্কিন কমান্ড বিস্তারিত কিছু না জানালেও দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীও জানিয়েছে, তারা জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং আরও একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর এটিই ছিল ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানে প্রথম সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা। ওই বিরতির উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সুযোগ তৈরি করা।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এবার আমাদের পালা। আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব।” তবে সামরিক পাল্টা জবাবের কথা বললেও কূটনীতির দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, সংঘাত শেষ করতে শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা ওয়াশিংটন পর্যালোচনা করবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষের মধ্যে “ভালো আলোচনা” চলছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, কূটনৈতিক সমঝোতার এখনও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের সামরিক অভিযান (Missile Attack) শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা ভালো আলোচনা করছি। আমার মনে হয়, কিছু একটা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি তা না হয়, তাহলে আমরা দু’দিন আগে যা করছিলাম, সেটাই আবার শুরু করব (US Resumes Airstrikes)।”

    মার্কিন সেনার দাবি

    গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের সুযোগ দেওয়ার জন্যই ওই বিরতি নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস বৈঠকের পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল। ওই বৈঠকে ইরান ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে “ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেছে (US Resumes Airstrikes)। এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আমেরিকা ও সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে ইরাকে যৌথ হামলা চালায়। মার্কিন সেনা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলার পর ওই অভিযান চালানো হয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, তিন দিনে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং অস্ত্রভান্ডারকে লক্ষ্য করে যৌথ অভিযান চালানো হয়। ওয়াশিংটন ওই হামলাগুলির জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে দায়ী করেছে। ইরাকের জনপ্রিয় জনসমাবেশ বাহিনী জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন (US Resumes Airstrikes)।

    ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হামলা!

    এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, দেশটির পূর্বাঞ্চলে তেল কারখানাগুলি লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রিয়াধের অভিযোগ, ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ওই হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের ক্ষেত্রে এই পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে (Missile Attack)। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও চলছে বলে জানা গেলেও, ইরানে মার্কিন বিমান হামলা ফের শুরু হওয়া এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর নতুন করে তৈরি করেছে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা (US Resumes Airstrikes)।

     

  • NTPC: ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এনটিপিসি, নবীকরণযোগ্য-পারমাণবিক বিদ্যুতে বড় বাজি

    NTPC: ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এনটিপিসি, নবীকরণযোগ্য-পারমাণবিক বিদ্যুতে বড় বাজি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা এনটিপিসি আগামী ১১ বছরে ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা (প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা  ঘোষণা করেছে। সংস্থার ইতিহাসে এটিই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় মূলধনী বিনিয়োগ। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি বহুমুখী পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সংস্থায় রূপান্তরই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

    বড় লগ্নির পরিকল্পনা (NTPC)

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৭ সালের মধ্যে এনটিপিসি তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে ২৫০ গিগাওয়াটে নিয়ে যেতে চায়। পাশাপাশি, ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ু-সহ ১০টি রাজ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করতে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। এনটিপিসির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুরদীপ সিং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা যদি ২০৩৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত হিসাব করি, তাহলে আগামী প্রায় ১০ বছরে ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি বিনিয়োগ করব। বিনিয়োগের পরিমাণ এই স্তরেই পৌঁছবে।” তিনি জানান, ২০৩২ অর্থবর্ষের পর পারমাণবিক বিদ্যুৎ হবে সংস্থার সম্প্রসারণের পরবর্তী বড় ধাপ। প্রচলিত চাপযুক্ত ভারী জলচালিত পারমাণবিক চুল্লির পাশাপাশি আধুনিক চুল্লি প্রযুক্তির উন্নয়নেও কাজ করছে এনটিপিসি।

    বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা

    তিন ধাপে এই বিপুল বিনিয়োগ করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১.০৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এরপর ২০২৮ থেকে ২০৩২ অর্থবর্ষের মধ্যে ৫.৯৭ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যার বড় অংশ যাবে নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতে। ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ অর্থবর্ষের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আরও ৯.৬৩ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এনটিপিসি বছরে গড়ে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা মূলধনী ব্যয় করে। গুরদীপ বলেন, “নবীকরণযোগ্য জ্বালানিই ভবিষ্যতে এনটিপিসির প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হবে।” তাঁর মতে, বর্তমানে সংস্থার নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১২ গিগাওয়াট। সেটিকে ২০৩২ অর্থবর্ষের মধ্যে ৬০ গিগাওয়াট এবং ২০৩৭ অর্থবর্ষের মধ্যে ১৩৬ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    ব্যাটারি জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা

    এই সম্প্রসারণে সহায়তা করবে ৩৮.৯ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতার ব্যাটারি জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং ৮০ গিগাওয়াটেরও বেশি পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্প। পাশাপাশি, বিশাখাপত্তনমের কাছে পুদিমাদকায় ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সবুজ হাইড্রোজেন কেন্দ্র গড়ে তুলছে এনটিপিসি। সেখানে সবুজ হাইড্রোজেনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও রাসায়নিক উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। নীতি আয়োগের পূর্বাভাস, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৭৫০ গিগাওয়াটে পৌঁছতে পারে। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা রেকর্ড ২৭১ গিগাওয়াটে পৌঁছেছিল। নবীকরণযোগ্য জ্বালানির প্রসারের ফলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমলেও, এনটিপিসির নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন বছরে ২৪ শতাংশ হারে বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে গুরদীপ বলেন, “আমাদের পিছিয়ে পড়ার কোনও কারণ নেই।” এদিকে, এনটিপিসি এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ ‘অনুশক্তি বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (অশ্বিনী)’ রাজস্থানের মাহি বানসওয়ারায় ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে।

     

  • Public Examination Amendment Bill 2026: দীর্ঘ বিতর্কের পর লোকসভায় পাশ সরকারি পরীক্ষা সংশোধনী বিল, প্রশ্নফাঁসে আরও কড়া শাস্তি

    Public Examination Amendment Bill 2026: দীর্ঘ বিতর্কের পর লোকসভায় পাশ সরকারি পরীক্ষা সংশোধনী বিল, প্রশ্নফাঁসে আরও কড়া শাস্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় নয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানা আলোচনা, সরকার ও বিরোধী পক্ষের তীব্র বাকযুদ্ধ এবং একাধিক বিতর্কের পর বুধবার লোকসভায় (Lok Sabha) পাশ হল সরকারি পরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল (Public Examination Amendment Bill 2026), ২০২৬। মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিল নিয়ে আলোচনা চলে। বুধবার ফের আলোচনা শুরু হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে বিলটি (Public Examination Amendment Bill 2026) পাশ হয়।

    আরও কঠোর শাস্তি

    নতুন সংশোধনী (Public Examination Amendment Bill 2026) অনুযায়ী, পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে জড়িতদের ন্যূনতম কারাদণ্ড তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি হবে দশ বছর পর্যন্ত। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

    সংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা

    সংগঠিতভাবে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত চক্রের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সাত বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সেই সাজা দশ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ জরিমানা এক কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে দশ কোটি টাকা করার প্রস্তাবও রয়েছে।

    পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার জন্যও কড়া নিয়ম

    যে সব সংস্থা পরীক্ষার কাজ পরিচালনা করে, তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ জরিমানা পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি সরকারি পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    বিশেষ তদন্তকারী দল ও দ্রুত বিচার

    বিলে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের ক্ষমতা কেন্দ্রকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। অভিযোগপত্র জমা পড়ার পর ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে প্রতিদিন শুনানি চালিয়ে তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ করারও প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিটি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের জন্য বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    লোকসভায় উত্তপ্ত বিতর্ক

    বিল নিয়ে আলোচনায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্রদের আন্দোলন কোনও হিংসা নয়, বরং দেশের তরুণদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শুধু একটি প্রতীক; দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অন্য শক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ঠুর এবং তরুণদের স্বাধীনভাবে ভাবার সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে। রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সময় শাসক দলের সদস্যরা আপত্তি জানান। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তাঁর বক্তব্যের একটি শব্দের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলেন। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা রাহুলকে ভাষা ও অভিযোগের ক্ষেত্রে সংযত থাকার পরামর্শ দেন।

    সরকারের পাল্টা জবাব

    জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা না করে বিরোধীরা রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন। দেশের যুব সমাজকে অপমান করে সংসদীয় ভাষার সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলি চালানোর অভিযোগও খারিজ করেন তিনি। জিতেন্দ্র সিং বলেন, কোথাও গুলি চালানো হয়নি, কেবল কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কোনও মন্ত্রীর নয়, সেই সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারিক আধিকারিক।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিল?

    গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সরকারি চাকরি ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সেই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে, প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে। লোকসভায় (Lok Sabha) পাশ হওয়ার পর এবার বিলটি (Public Examination Amendment Bill 2026) রাজ্যসভায় তোলা হবে।

LinkedIn
Share