Tag: Bengali news

Bengali news

  • ECI: পাঁচ রাজ্যের ভোটে বাংলার স্বরাষ্ট্রসচিব সহ ২৫ আধিকারিককে পর্যবেক্ষক করল কমিশন

    ECI: পাঁচ রাজ্যের ভোটে বাংলার স্বরাষ্ট্রসচিব সহ ২৫ আধিকারিককে পর্যবেক্ষক করল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুয়ারে পাঁচ রাজ্যের ভোট। এই রাজ্যগুলি হল পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি। তাই এই রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। এই রাজ্যগুলির ভোট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষকের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ২৫ জন প্রবীণ আধিকারিকও রয়েছেন (ISP)। এর মধ্যে ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস। এই পঁচিশ জনের তালিকায় রয়েছেন হাওড়া পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠি এবং আসানসোলের কমিশনারেরও। এই তালিকায় ঠাঁই হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনারও। কেবল স্বরাষ্ট্রসচিব নয়, ওই তালিকায় নাম রয়েছে উলগানাথান, সঞ্জয় বনশল এবং শুভাঞ্জন দাসেরও। ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁদের ট্রেনিং নেওয়ার সময় ধার্য করা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক (ECI)

    কমিশন কেন এই তালিকা প্রকাশ করল, তাও জানিয়ে দিয়েছে তারা। কমিশনের দাবি, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকারের অন্তত পাঁচবার অফিসারদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও উত্তর না মেলায় কমিশন নিজেই পর্যবেক্ষকদের তালিকা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করেছে। সূত্রের খবর, এ নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (ECI)।পর্যবেক্ষকদের তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ব্যাচভিত্তিক তালিকাভুক্ত সমস্ত আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকদের জন্য বাধ্যতামূলক ব্রিফিং বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

    কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশিকা

    নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ব্রিফিং বৈঠকে কোনও আধিকারিকের অনুমোদিত অনুপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে নির্বাচন কমিশন। এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। কমিশনের এই নির্দেশ কার্যকর করতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশ সার্ভ করার কথাও বলা হয়েছে। ই-মেইল, সরাসরি যোগাযোগ বা অন্য যে কোনও উপলদ্ধ মাধ্যম ব্যবহার করে নোটিশ পৌঁছে দিতে হবে এবং তা অবশ্যই আধিকারিকের স্বীকৃতি-সহ গ্রহণ করাতে হবে। নোটিশ সার্ভ করার পর প্রত্যেক আধিকারিকের কাছ থেকে পাওয়া স্বীকৃতিপত্র সংযুক্ত করে একটি লিখিত নিশ্চিতকরণ রিপোর্ট কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে। সেই রিপোর্ট ই-মেইলের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে (ISP)।

    প্রসঙ্গত, এই ব্রিফিং বৈঠকের জন্য ব্যাচভিত্তিক মিনিট-টু-মিনিট প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। অ্যানেক্সার-১, ২ এবং ৩-এ সংযুক্ত সেই কর্মসূচির বিস্তারিত সমস্ত সংশ্লিষ্ট আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সেই ১৯৫২ সাল থেকে ব্যাচ ধরেই তালিকা তৈরি করে কমিশন (ECI)।”

  • India-EU: ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে কোন কোন পণ্য হবে সস্তা? জেনে নিন

    India-EU: ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে কোন কোন পণ্য হবে সস্তা? জেনে নিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (India-EU) মধ্যে মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় ভোক্তারা এখন থেকে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ব্যাপক মূল্য হ্রাসের আশা করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক মুক্ত বাণিজ্যে (Free Trade Agreement) ভারতের জন্য তাতে অনেকটাই সুবিধাজনক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    ৯৬ শতাংশের বেশি আইটেমে শুল্ক হ্রাস (India-EU)

    সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ভারতে (India-EU) রফতানি করা ইউরোপীয় পণ্যের ৯৬ শতাংশের বেশি সামগ্রীর ওপর থেকে শুল্ক হ্রাস (Free Trade Agreement) করা হবে। এর ফলে বিলাসবহুল গাড়ি থেকে শুরু করে নিত্যদিনের মুদি পণ্য—সবকিছুর দামেই বড় পরিবর্তন আসার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আসুন জেনে নিই কোন কোন পণ্যে মিলবে ছাড়।

    বিলাসবহুল গাড়ি

    সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরিবর্তন আসছে অটোমোবাইল খাতে। বার্ষিক ২.৫০ লক্ষ গাড়ির কোটার জন্য আমদানিকৃত ইউরোপীয় (India-EU) গাড়ির ওপর শুল্ক ১১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। তবে তা অবশ্যই পর্যায়ক্রমে কয়েক বছরের মধ্যে। মার্সিডিজ-এএমজি, বিএমডব্লিউ, অডি, পোর্শে, ল্যাম্বরগিনি এবং রোলস-রয়েসের মতো ব্র্যান্ডগুলো ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী (Free Trade Agreement) হয়ে উঠবে।

    সুরাজাতীয় পানীয়

    ইউরোপীয় (India-EU) ওয়াইনের ওপর শুল্ক ১৫০ শতাংশ থেকে কমে ২০-৩০ শতাংশে নামবে। এছাড়া স্পিরিটের ক্ষেত্রে শুল্ক হবে ৪০ শতাংশ এবং বিয়ারের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ।

    খাদ্যদ্রব্য

    চকলেট, বিস্কুট, পাস্তা, পাউরুটি এবং অলিভ অয়েলের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর শুল্ক প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

    স্বাস্থ্যসেবা

    চশমা (অপটিক্যাল), মেডিকেল এবং সার্জিক্যাল সরঞ্জামের ওপর বর্তমান ২৭.৫ শতাংশ শুল্ক প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হবে। এছাড়া ওষুধ ও মেডিকেল ডিভাইসের ওপর থেকে ১১ শতাংশ শুল্কও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরিয়ে দেওয়া হবে।

    শিল্প খাত

    রাসায়নিক (বর্তমানে ২২% পর্যন্ত শুল্ক), যন্ত্রপাতি (৪৪% পর্যন্ত শুল্ক) এবং প্লাস্টিকের ওপর থেকেও শুল্ক প্রত্যাহার (Free Trade Agreement) করা হবে।

    চুক্তির প্রভাব ও বাস্তবায়ন

    এই চুক্তিটি (Free Trade Agreement) বিশ্বের ২৫ শতাংশ জিডিপি এবং প্রায় ২০০ কোটি মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে ইউরোপীয় (India-EU) রফতানি কারকরা বার্ষিক প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন ডলার শুল্ক সাশ্রয় করবেন, যার সরাসরি সুফল পাবেন ভারতের সাধারণ মানুষ। আইনি যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের পর চলতি বছরের মধ্যেই এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Economic Survey: রবিবার বাজেট, তার আগে সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ নির্মলার, কী এর গুরুত্ব?

    Economic Survey: রবিবার বাজেট, তার আগে সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ নির্মলার, কী এর গুরুত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরু হয়েছে বাজেট অধিবেশন (Budget 2026) । আজ, বৃহস্পতিবার সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ (Economic Survey) করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার কথা ১৩ ফেব্রুয়ারিতে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার আগের ধাপ হল অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ। ফি বছর অর্থনৈতিক সমীক্ষার দিকে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক বিশ্লেষকদের বিশেষ নজর থাকে। কারণ এই নথিতে গত এক বছরে ভারতীয় অর্থনীতির সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বিস্তারিত মূল্যায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা মেলে।

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা কী (Economic Survey)

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা একটি বিস্তৃত বাৎসরিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা, যা অর্থ মন্ত্রকের অধীন অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের (ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স) অর্থনৈতিক বিভাগ প্রস্তুত করে। এই সমীক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন ভি অনন্ত নাগেশ্বরন। এই নথিতে অর্থনৈতিক সূচক, গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব ও আর্থিক সূচকগুলির গভীর বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতমুখী মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স নথি হিসেবে কাজ করে, যা প্রায়ই আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে কী ধরনের নীতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারিত হতে পারে, তার ইঙ্গিত দেয় (Economic Survey)।

    বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ সংসদের উভয় কক্ষে পেশ করা হবে বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ, সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে। এর পরেই প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার নেতৃত্বে হবে সাংবাদিক বৈঠক। অর্থনৈতিক সমীক্ষা সাধারণত দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবণতার সার্বিক ছবি তুলে ধরে। চলতি বছরে এতে বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিস্থাপকতা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সম্ভাব্য প্রভাব, কর্মসংস্থানে এআইয়ের প্রভাব এবং মার্কিন ডলারের তুলনায় রুপির মূল্য হ্রাস নিয়ে আলোচনার কথা থাকতে পারে। এই সমীক্ষায় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নতুন নীতি-ভাবনাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রথম চালু হয় ১৯৫০–৫১ অর্থবর্ষে বাজেট নথির অংশ হিসেবে। পরবর্তী সময়ে এটি একটি স্বতন্ত্র নথি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যা কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে সংসদে পেশ করা হয়। প্রতি বছর সমীক্ষার মূল থিম নীতিনির্ধারক ও পর্যবেক্ষকদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে (Budget 2026)। এই সমীক্ষায় খাতভিত্তিক বিশদ পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলাদা অধ্যায়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে (Economic Survey)।

  • Ramakrishna 568: “প্রার্থনা কম পড়ে যাচ্ছে; আজকাল ‘আমি’টা খুঁজে পাচ্ছি না, দেখছি তিনিই এই খোলটার ভিতরে রয়েছেন”

    Ramakrishna 568: “প্রার্থনা কম পড়ে যাচ্ছে; আজকাল ‘আমি’টা খুঁজে পাচ্ছি না, দেখছি তিনিই এই খোলটার ভিতরে রয়েছেন”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২০শে ও ২৪শে সেপ্টেম্বর

    অসুস্থ শ্রীরামকৃষ্ণ ও ডাক্তার রাখাল—ভক্তসঙ্গে নৃত্য

    শ্রীরামকৃষ্ণের রোগ কেন?

    ডাক্তার ব্যবস্থা করার পর শ্রীরামকৃষ্ণ আবার কথা কহিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) ভক্তদের প্রতি—আচ্ছা, লোকে বলে ইনি যদি এত—(এত সাধু) তবে রোগ হয় কেন?

    তারক—ভগবানদাস বাবাজী অনেকদিন রোগে শয্যাগত হয়েছিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ(Ramakrishna)—মধু ডাক্তার, ষাট বছর বয়সে রাঁড়ের জন্য তার বাসায় ভাত নিয়ে যাবে; এদিকে নিজের কোন রোগ নাই।

    গোস্বামী—আজ্ঞা, আপনার যে অসুখ সে পরের জন্য; যারা আপনার কাছে আসে তাদের অপরাধ আপনার নিতে হয়, সেই সকল অপরাধ, পাপ লওয়াতে আপনার অসুখ হয়!

    একজন ভক্ত—আপনি যদি মাকে বলেন মা, এই রোগটা সারিয়ে দাও, তা হলে শীঘ্র সেরে যায়।

    সেব্য-সেবকভাব কম—‘আমি’ খুঁজে পাচ্ছি না

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—রোগ সারাবার কথা বলতে (Kathamrita) পারি না; আবার ইদানীং সেব্য-সেবক ভাব কম পড়ে যাচ্ছে। এক-একবার বলি, ‘মা, তরবারির খাপটা একটু মেরামত করে দাও’; কিন্তু ওরূপ প্রার্থনা কম পড়ে যাচ্ছে; আজকাল ‘আমি’টা খুঁজে পাচ্ছি না। দেখছি তিনিই এই খোলটার ভিতরে রয়েছেন।

    কীর্তনের জন্য গোস্বামীকে আনা হইয়াছে। একজন ভক্ত জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘কীর্তন কি হবে?’ শ্রীরামকৃষ্ণ অসুস্থ, কীর্তন হইলে মত্ততা আসিবে; এই ভয় সকলে করিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ বলিতেছেন, “হোক একটু। আমার নাকি ভাব হয়, তাই ভয় হয়। ভাব হলে গলার ওইখানটা গিয়ে লাগে (Kathamrita)।”

    কীর্তন শুনিতে শুনিতে ঠাকুর ভাব সম্বরণ করিতে পারিলেন না; দাঁড়াইয়া পড়িলেন ও ভক্ত সঙ্গে নৃত্য করিতে লাগিলেন।

    ডাক্তার রাখাল সমস্ত দেখিলেন; তাঁহার ভাড়াটিয়া গাড়ি দাঁড়িয়া আছে। তিনি ও মাস্টার গাত্রোত্থান করিলেন, কলিকাতায় ফিরিয়া যাইবেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে উভয়ে প্রণাম করিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) সস্নেহে মাস্টারের প্রতি—তুমি কি খেয়েছ?

  • Ajit Pawar: অজিত প্রয়াত, ‘আসল’ এনসিপির নেতৃত্বে এবার কে?

    Ajit Pawar: অজিত প্রয়াত, ‘আসল’ এনসিপির নেতৃত্বে এবার কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar)। তার পরেই উঠছে সেই মোক্ষম প্রশ্নটি, ‘আসল’ এনসিপির (NCP) নেতৃত্বে এবার কে? ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি সাধারণত কমিটি নয়, ব্যক্তিনির্ভর নেতৃত্বে চলে। সংগঠনিক কর্তৃত্বের চেয়ে এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ক্যারিশমার গুরুত্ব বেশি, এনসিপিও এর ব্যতিক্রম নয়।

    ‘গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান’ (Ajit Pawar)

    মহারাষ্ট্র রাজনীতির ‘গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান’ শরদ পাওয়ারের হাতে গড়া ও লালিত এই দলটিতে বরাবরই নেতৃত্বে ছিলেন কোনও না কোনও ‘পাওয়ার’। ২০২৩ সালের মে মাসে এর এক আবেগঘন উদাহরণ দেখা গিয়েছিল। সেদিন ভাইপো অজিত পাওয়ারের বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়া ঠেকাতে শরদ পাওয়ার দল ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।  কিন্তু তৎক্ষণাৎ দলীয় কর্মীরা তাঁকে স্লোগানে স্লোগানে ভরিয়ে দেন। এমনকি যখন এনসিপি ভেঙে দু’টি শিবির তৈরি হয়েছিল, তখনও দলের রাশ ছিল পাওয়ার পরিবারেরই হাতে। কিন্তু অজিত পাওয়ারের অকাল মৃত্যুর পর সেই সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। অজিত-উত্তর ‘আসল’ এনসিপির মালিকানা নিয়ে শীঘ্রই টানাপোড়েন শুরু হতে পারে। কারণ, এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেও সরকার চালাতে হবে, মন্ত্রিসভায় শূন্য পদ, এমনকি উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদও পূরণ করতে হবে। এরই মধ্যে দু’টি স্পষ্ট ক্ষমতার ভরকেন্দ্র প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

    প্রথম শিবির

    প্রথম শিবির পাওয়ার পরিবার। এই শিবিরের কেন্দ্রে রয়েছেন অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। অন্তত আপাতত তিনি বিপুল সহানুভূতির হাওয়া পাবেন, এমনকি তাঁদের কাছ থেকেও, যাঁরা সাধারণত এনসিপি বা অজিত পাওয়ারের রাজনীতির সমর্থক নন। রাজনীতিতে বংশানুক্রমের দৃষ্টিভঙ্গি ধরলে, স্বামীর উত্তরসূরি হিসেবে সুনেত্রাই দলীয় নেতৃত্বের সবচেয়ে স্বাভাবিক পছন্দ। তবে সুনেত্রা রাজনৈতিকভাবে নবাগত। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গিয়েছিলেন। বর্তমানে সুনেত্রা রাজ্যসভার সাংসদ। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা প্রবীণ ও কৌশলী নেতা, যেমন ছগন ভুজবল বা সুনীল তটকরের পূর্ণ আনুগত্য আদায় করার পক্ষে যথেষ্ট নাও হতে পারে (Ajit Pawar)। এই শিবিরে (NCP) রয়েছেন অজিতের দুই ছেলে—পার্থ ও জয় পাওয়ার। তবে দু’জনকেই সুনেত্রার থেকেও কম বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পার্থকে ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। পুনে জেলার মাভাল কেন্দ্র থেকে তিনি প্রার্থী হন। কিন্তু শিবসেনার শ্রীরং বার্নের কাছে বিরাট ব্যবধানে হেরে যান তিনি। পার্থ পাঁচ লাখের কিছু বেশি ভোট পেলেও, বার্নে পেয়েছিলেন ৭.২ লাখেরও বেশি ভোট। এর পর থেকে পার্থকে আর সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি। ভোটারদের মধ্যে আবেগ তৈরি করতে তাঁর প্রত্যাবর্তন কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারলেও, তাঁর বিরুদ্ধে চলা একাধিক আইনি মামলার কারণে সেই সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ।  অজিতের ছোট ছেলে জয় এই তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বিকল্প বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। গত কয়েক বছর ধরে জয় মূলত পারিবারিক ব্যবসার দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। বোর্ডরুমের কাজেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ বলে মনে করা হয়। যদিও বারামতিতে, পরিবারের শক্ত ঘাঁটিতে, গ্রামস্তরে কিছু সক্রিয়তার খবর পাওয়া গিয়েছে। এবং সেটাও সম্ভবত তাঁকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা হিসেবে করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, জয় কখনও কোনও নির্বাচনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, যা তাঁর বিরুদ্ধে যেতে পারে।

    দ্বিতীয় শিবিরে কারা?

    এতো গেল প্রথম শিবিরের কথা। দ্বিতীয় শিবিরে রয়েছেন এনসিপির শক্তিমান নেতারা। এই শিবিরে রয়েছেন অজিত -ঘনিষ্ঠ প্রবীণ তিন নেতাও, ছগন ভুজবল, সুনীল তটকরে এবং প্রফুল্ল প্যাটেল (NCP)। এঁদের মধ্যে প্রফুল্ল প্যাটেলই বর্তমানে অজিতের এনসিপির সবচেয়ে সিনিয়র নেতা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্যাটেল একসময় দিল্লিতে শরদ পাওয়ারের দরকষাকষির প্রধান মুখ ছিলেন (Ajit Pawar)। সংসদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় রাজধানীতে যোগাযোগের জোরে তিনি অজিতের এনসিপির স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। তবে অনেকের মতে, দলের কর্মী ও ভোটারদের মধ্যে অজিতের যে দাপট ছিল, তা প্যাটেলের নেই। তাই দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব তাঁর পক্ষে কঠিন হতে পারে। তবুও, দল পুনর্গঠনের সময় তিনি একজন আদর্শ তত্ত্বাবধায়ক নেতা হতে পারেন। সুনীল তটকরে আবার একেবারে তৃণমূলস্তর থেকে উঠে আসা নেতা। রায়গড় জেলায় অজিতের এনসিপি গড়ে তুলতে তাঁর বিরাট ভূমিকা ছিল। তিনি মহারাষ্ট্রের জলসম্পদ মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন।

    অজিতের এনসিপি কি আবার শরদ পাওয়ারের দলে?

    তবে প্যাটেলের মতো তাঁরও রাজ্যজুড়ে পূর্ণ কর্তৃত্ব নেই, যা ভবিষ্যতে দলের ভেতরে বিদ্রোহ হলে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটা বড় অংশের মতে, সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পরিণতি হতে পারে এটিই – যে এনসিপি বিধায়কদের শরদ পাওয়ার ছেড়ে অজিত পাওয়ারের দিকে টানা হয়েছিল, তাঁরা ‘পাইড পাইপারে’র মৃত্যুর পর পুরানো শিবিরে ফিরে যেতে পারেন। এমনটা কি হতে পারে? অজিতের এনসিপি কি আবার শরদ পাওয়ারের দলে, বা কার্যত তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলের নেতৃত্বাধীন এনসিপির সঙ্গে মিশে যেতে পারে (NCP)? সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। চলতি মাসের শুরুতেই পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা নির্বাচনে শরদ ও অজিত সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। ফল আশানুরূপ না হলেও, এবং বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোটে অজিতের কোণঠাসা হওয়ার ফলেই এই জোট গড়ে উঠলেও, পুনর্মিলনের সম্ভাবনা কিন্তু রয়েই গিয়েছে (Ajit Pawar)।

  • Suvendu Adhikari: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শ্মশানে পরিণত হয়েছে সিঙ্গুর”, তোপ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শ্মশানে পরিণত হয়েছে সিঙ্গুর”, তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “প্রধানমন্ত্রীর সভা সফল হয়েছে দেখে চিন্তিত হয়ে তড়িঘড়ি সভা করতে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে টাটাকে তাড়ানো হয়েছিল এই রাজ্য সরকারের নেতৃত্বে। ব্যাড এম বলেছিলেন রতন টাটা, সেটা এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গুড এম বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদিকে। সিঙ্গুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শ্মশানে পরিণত হয়েছে। কোনও বড় বিনিয়োগ আসেনি এই বাংলায়।” এক নাগাড়ে কথাগুলি বলে খানিক থামলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পরে বলেন, “আজ মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে সভা করছেন। প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরের মাটি থেকে বলেছেন আইন শৃঙ্খলা ঠিক করলে শিল্প আসবে।”

    ভিড় দেখেই চক্ষু চড়কগাছ! (Suvendu Adhikari)

    দিন দুয়েক আগেই সিঙ্গুরে জনসভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই সভায় ভিড় দেখেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের ভোট ম্যানেজারদের। তার পরেই সাত তাড়াতাড়ি করে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে সভা করানো হয় সেই তাপসী মালিকের সিঙ্গুরে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ওখানে গিয়েছেন বাংলার বাড়ি দেবেন বলে। প্রধানমন্ত্রী এর আগেই আবাস যোজনা চালু করেন। ৪০ লাখ ইউনিট আবাস যোজনার বাড়ি দিয়েছে। যেটা সাধারণ মানুষ পায়নি, কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা সেই টাকা তুলে নিয়ে খেয়ে নিয়েছে, নিজেদের বাড়ি বানিয়েছে।”

    শুভেন্দুর চাঁদমারি

    এদিন শুভেন্দু প্রথম থেকেই চাঁদমারি করেন তৃণমূলকে। তৃণমূল জমানায় দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “যেভাবে বাংলার বালি চুরি হচ্ছে সেখানে এই টাকায় কোনও বাড়ি তৈরি হয় না। বিজেপিকে আনুন, বাড়ি করে দেবে বিজেপি। সোলার প্যানেল, জল, শৌচালয় দেবে বিজেপি। ২০০০ টাকার বালি হয়েছে ১৫,০০০ টাকা। অবৈধ বালি তোলা আর তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা তোলার কারণে দাম বেড়েছে সব জিনিসের। মিথ্যাচারের পর্দা ফাঁস করা দরকার, ৪০ লাখ বাড়ি লুঠ করেছে।” তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে সর্ষের বীজ ছড়িয়েছিলেন, এখন সিঙ্গুরের মানুষ চোখে সর্ষেফুল দেখছেন।” শুভেন্দু বলেন, “এ রাজ্যে কোনও শিল্প হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে গত ১৫ বছরে রাজ্য থেকে ৬ হাজার ৪৮৮টি শিল্প চলে গিয়েছে। এটাই পশ্চিমবঙ্গের আসল ছবি (Suvendu Adhikari)।”

    এদিন সিঙ্গুর থেকেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করেন মমতা। বলেন, “বারবার ডিভিসির জলে ভাসে ঘাটাল। ১০ বছর ধরে কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছি। তার বদলে পেয়েছি শুধুই ধোঁকা।” তিনি বলেন, “অনেকেই বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু কথা রাখেন না। কিন্তু আমি ১০০ শতাংশ কথা রাখার চেষ্টা করি, জুমলা করি না।” এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “ভোটের জন্যই তড়িঘড়ি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের শিলান্যাস করা হয়েছে (Mamata Banerjee)। পুরোটাই মিথ্যাচার। ঘাটালবাসী পরপর ভোট দিয়ে গিয়েছেন, অথচ মাস্টার প্ল্যান আজও হয়নি (Suvendu Adhikari)।”

     

  • President Murmu: “এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত তার ভিত্তি মজবুত করেছে”, সংসদে বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি

    President Murmu: “এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত তার ভিত্তি মজবুত করেছে”, সংসদে বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বুধবার শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের সংসদের বাজেট অধিবেশন (Budget Session)। এই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Murmu) লোকসভা ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এই অধিবেশনের মধ্যে দিয়ে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের আগে সংসদীয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল। অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে রাষ্ট্রপতি সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি তুলে ধরেন। তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, “গত এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত তার ভিত্তি মজবুত করেছে এবং বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে যাত্রাপথে এখন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।”

    রাষ্ট্রপতির বক্তব্য (President Murmu)

    রাষ্ট্রপতি জানান, গত দশ বছরে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচ থেকে উঠে এসেছেন এবং দরিদ্রদের জন্য প্রায় চার কোটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ।” সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৫ কোটি নাগরিক রয়েছেন, যেখানে ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫ কোটি।” তিনি বিআর আম্বেদকরের আদর্শের কথা স্মরণ করে সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের কথাও জানান। কর্মসংস্থানের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রস্তাবিত ‘বিকশিত ভারত–গ্রাম আইন’ গ্রামীণ এলাকায় ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে (President Murmu)। নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি জাতীয় প্রতিরক্ষা অ্যাকাডেমি (এনডিএ) থেকে প্রথম ব্যাচের মহিলা ক্যাডেটদের স্নাতক হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এটি জাতীয় উন্নয়নে নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।”

    মাওবাদী হিংসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে

    অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “মাওবাদী হিংসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বর্তমানে তা মাত্র আটটি জেলায় সীমাবদ্ধ। আগে যেসব অঞ্চল মাওবাদী সমস্যায় দীর্ণ ছিল, সেখানে এখন শান্তি ফিরছে। গত এক বছরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বহু ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করেছেন (President Murmu)।” জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি ‘অপারেশন সিঁদুরে’র কথা উল্লেখ করে বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের নীতি দৃঢ় ও আপসহীন। প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করতে সরকার ‘মিশন সুদর্শন চক্রে’র ওপর কাজ করছে।” রেল উন্নয়নের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ভারতীয় রেল শীঘ্রই সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে পৌঁছতে চলেছে।” তিনি দিল্লি–আইজল রাজধানী এক্সপ্রেস এবং কামাখ্যা–হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন-সহ নতুন রেল পরিষেবার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও উন্নত হবে (Budget Session)।”

    রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণের মাধ্যমে বাজেট অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করেন। ২৯ জানুয়ারি অর্থনৈতিক সমীক্ষা সংসদে পেশ করা হবে এবং ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে পেশ হবে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট (President Murmu)।

  • Nitin Nabin: “পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে”, মমতা সরকারকে আক্রমণ নিতিন নবীনের

    Nitin Nabin: “পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে”, মমতা সরকারকে আক্রমণ নিতিন নবীনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে এলেন নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে নতুন সর্ব ভারতীয় সভাপতি  বিজেপির কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক অনুপ্রেরণা দেবেন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। বঙ্গের মাটিতে পা রেখেই তিনি বঙ্গভূমিকে প্রণাম জানান। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর, মহানায়ক উত্তম কুমার সহ বিশিষ্টজন এবং বঙ্গের সংস্কৃতির প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানান। বুধবার দুর্গাপুরের (Durgapur) মাটি থেকেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের রাজনৈতিক স্বৈরাচার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে চরম নিশানা করেন তিনি। নিতিন বলেন, “শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়ে কিছু নেতা জেলে আছেন, কিছু নেতা বেলে আছেন। যারা বেলে আছেন তাঁদেরও জেলে যেতে হবে। কাউকে ছেড়ে কথা বলা হবে না, সে যেই হোক।”

    সনাতনীদের বাঁচতে হবে (Nitin Nabin)

    হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিতিন নবীন (Nitin Nabin) বলেন, “শক্তির আরাধনা দুর্গাপুজো থেকে হয়। সেটা এই বাংলা থেকে পুরো দেশে পৌঁছয়। কিন্তু মায়ের পুজোও বন্ধ করার চেষ্টা করে এই সরকার। আমি বলতে পারি, আজান পড়ার সময় কোনও সমস্যা হয় না তবে দুর্গার আরাধনার সময় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। এটা কোনও হিন্দু বরদাস্ত করবে না। আমরা পরম্পরা রক্ষায় যে কোনও বলিদান দেব। এখানে ভৌগলিক অবস্থান বদলের চেষ্টা চলছে। তামিলনাড়ুতে দীপমে পুজো করার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে আজানের জন্য। সেখানকার সরকার ইন্ডি জোটে রয়েছে। এরা এই পুজো রোধ করার জন্য কোর্ট পর্যন্ত চলে গিয়েছে। আদালত বলল পুজো হবে, তখন বিচারপতিকে সরাতে ইমপিচমেন্টের জন্য কংগ্রেসের আর তৃণমূলের নেতারা একজোট হয়ে গেল। সনাতনীদের বাঁচাতে হবে। বাংলার পাশাপাশি আমরা ভারতের সংস্কৃতিকে বাঁচানোর লড়াই লড়ছি।”

    ডিএম, এসডিও- সরকারি আমলাদের হুঁশিয়ারি

    নিতিন নবীন বলেন, “ডিএম-এসডিওদের বলছি, এটা চারদিনের সরকার। এদের কথায় নাচবেন না। কাঠের পুতুল হবেন না। আপনারা প্রশাসনের লোক, জনতার পাশে দাঁড়ান। বিজেপি কর্মীদের বলছি, আমাদের সাধারণ মানুষের ঘরে-ঘরে পৌঁছে জানাতে হবে তৃণমূলের দুর্নীতির কথা। আর দিদিকে বলছি, এখন থেকে বাংলার রাজনীতিতে যে অরাজকতা তৈরি করেছেন, বাংলার জনতা আপনার উল্টো গোনা শুরু করেছে। এখন ওই দিন দূরে নেই বাংলার বিকাশে বিজেপি পাশে থাকবে।”

    কোন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের স্থান নেই

    বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin) বলেন, “এসআইআর নিয়েও খেলা করছে। এখন দিল্লি গিয়ে কাঁদবে। এসপি, ডিএমদের কাঠের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন আর এখানকার মানুষদের খেলাচ্ছেন আর বলছেন নির্বাচন কমিশন করছেন? কমিশন তো অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে চাইছে। যাঁদের জন্ম বাংলায়, যাঁরা এই বাংলার মাটিতে রয়েছেন তাঁদেরই বাংলার অধিকার মিলবে। বাংলাদেশ থেকে আসা কোনও অনুপ্রবেশকারীকে থাকার অধিকার দেওয়া হবে না।”

    পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলরাজের অবসান

    জঙ্গলরাজের প্রসঙ্গ টেনে নিতিন নবীন (Nitin Nabin) বলেন, “এখানকার তৃণমূলের বিধায়ক-মন্ত্রীরা তোলাবাজি করেন। পূর্বের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় আপনি বাংলার মানুষদের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন সমস্ত দুর্নীতি আপনি রোধ করবেন। কিন্তু এখন তার থেকে বড় কারখানা আপনি খুলেছেন, যেখানে তোলাবাজি আর দুর্নীতি ক্রমাগত তৃণমূলের বিধায়ক আর মন্ত্রীরাই করে চলেছেন। স্পষ্টভাবে বলছি, আমরা অনেক রাজ্যেই এমন জঙ্গলরাজ ধ্বংস করে দিয়েছি। উত্তরপ্রদেশ-বিহারেও আগের সরকারকে উৎখাত করেছি। এবার বাংলার সময়। জনগণ তৈরি হোন, বিজেপির কর্মকর্তারাও তৈরি হন এই সরকারকে উপড়ে ফেলার সময় এসে গিয়েছে।কোনও বিজেপি কর্মী চিন্তা করবেন না, এক একজন বিজেপির কর্মকর্তার পিছনে পুরো বিজেপি পরিবার রয়েছে। আপনারা সংঘর্ষ করুন খালি।”

    মহিলাদের সুরক্ষা দেননি

    রাজ্যের মহিলা সুরক্ষা এবং শিল্পের সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি (Nitin Nabin) বলেন, “আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি, দুর্গাপুরে শিল্পাঞ্চলে আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে যুবরা চাকরির জন্য আসতেন। মমতার সরকার আসার সময় যুবদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রি হবে, কিন্তু হয়নি। আর এখন চাকরির খোঁজে অন্য রাজ্যে যাচ্ছে এই শহরের যুবরা। যে সিঙ্গুরে আন্দোলন করেছিলেন, এখন সেখানকার লোক দুঃখে আছেন। কারণ সেখানে কিছুই উন্নয়ন করেননি। মহিলাদের সুরক্ষা দেননি, যুবকরা পালিয়ে যাচ্ছে, এর দোষী কে?

    আমরা দেখেছি এই দুর্গাপুরে (Durgapur) কীভাবে ধর্ষণ হয়েছে। আর তারপর এখানকার সরকার অপরাধীদের বাঁচিয়ে যাচ্ছে। ধর্ষণ নিয়ে কী ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে তা সব দেখেছি। আমি ওই মানসিকতার বিরোধিতা করি। আমি তীব্র নিন্দা করছি মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের, উনি বলেছিলেন সন্ধেবেলা বেরনোর প্রয়োজনীতা কী মহিলাদের। বাংলার মহিলারা আধুনিকা। তাঁরাই বাংলার সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁদেরই ঘরে থাকতে বলছেন?”

    বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা

    বাংলাদেশকে কোন শক্তি পরিচালিত করছে এই ভাবনার কথা উস্কে দিয়ে নিতিন নবীন (Nitin Nabin) বলেন, “বাংলাকে ফের বাংলাদেশ বানাতে চাইছে। অনুপ্রবেশকারীদের ঢোকানোর সরকার এখানে রয়েছে। ওরা চাইছে বাংলাকে বাংলাদেশে নিয়ে যায়। আমরা যে কোনও বলিদান দিতে প্রস্তুত, তবে কোনও ভাবেই বাংলাকে বাংলাদেশ বানাতে দেব না। তাই এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন প্রস্তুত করুন। মমতা সরকারকে স্পষ্ট বলছি, তৃণমূলের গুণ্ডারা যেভাবে মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, এটা হতে পারে না। আমাদের কার্যকর্তারা প্রস্তুত রয়েছে মহিলাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য।”

  • Bangladesh: ঢাকার ইস্কন মন্দিরে হামলা ইসলামপন্থী দুষ্কৃতীদের, ১৪টি বিগ্রহ, সোনা ও দানবাক্স লুট

    Bangladesh: ঢাকার ইস্কন মন্দিরে হামলা ইসলামপন্থী দুষ্কৃতীদের, ১৪টি বিগ্রহ, সোনা ও দানবাক্স লুট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) আবার হিন্দুদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। ইস্কন মন্দিরে (ISKCON Temple) লুটপাট করে ১৪টি বিগ্রহ চুরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মন্দির থেকে নগদ টাকা, সোনা ও দানবাক্স চুরি করে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। গত ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট হাসিনাকে দেশ থেকে বিতারিত করার পর থেকে লাগাতার হিন্দু নির্যাতন চলছে। আগামী ১২ ফেব্রিয়ারি জাতীয় নির্বাচন এই দেশের। তাঁর আগে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে দেশে ব্যাপক ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করছে ইসলামি কট্টরপন্থীরা। এমনটাই মত প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা।

    চুরি যাওয়া সম্পত্তির পরিমাণ (Bangladesh) 

    ঢাকার (Bangladesh) মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে চুরি যাওয়া ১৪টি প্রতিমার মধ্যে ছয়টি পিতলের তৈরি এবং আটটি পাথরের মূর্তি। প্রতিমা ছাড়াও, চোরেরা একটি রূপার জুতো, একটি বাঁশি, পিতলের বাসনপত্র, একটি হারমোনিয়াম, একটি বালতি, একটি পিতলের আসন, পিতলের গ্লাস এবং দুটি দান বাক্সে রাখা নগদ টাকা চুরি করেছে। পুরোহিত আরও জানান, চুরির সময় প্রায় ২০,০০০ টাকা নগদ, সোনার অলঙ্কার, একটি জলের মোটর মেশিন এবং দুটি দান বাক্সও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    আমাদের অপরাধ কী?

    মন্দিরের পুরোহিত লিপি রানী গোপ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং মন্দিরকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের অপরাধ কী? কেন আমাদের বারবার এমন নির্যাতনের শিকার করা হচ্ছে? আমরা নিরাপদ বোধ করছি না। যদি আমরা নিরাপদ বোধ করতাম, তাহলে আমাদের মন্দিরে চুরি-ডাকাতি কেন হত?”

    মন্দিরের সাথে যুক্ত আরেক বাসিন্দা, শিল্পা রানী মালাকার, তার যন্ত্রণার কথা বর্ণনা করে বলেন, “আমার ঘরেও ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল আমি মাধবপুরে (Bangladesh) ছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমার ঘরের তালা ভাঙা। প্রায় ২০,০০০ টাকা নগদ এবং সোনার অলঙ্কার লুট হয়ে গেছে। আমার স্বামী বা সন্তান নেই। আমি প্রভুর সেবা করি।”

    আবার মন্দিরের প্রধান সুখদা বলরাম দাসও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “গত রাতে আমার মন্দিরের মূর্তি চুরি হয়েছে। এছাড়াও, নগদ টাকা, সোনার অলঙ্কার এবং একটি বিশুদ্ধ জলের মোটর চুরি করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনায় অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।”

    গত কয়েক মাস ধরে চলছে সংখ্যালঘু নির্যাতন (Bangladesh)

    স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে, একদল দুষ্কৃতী মন্দিরে (ISKCON Temple) প্রবেশ করে তছনছ চালায়। তারা কেবল লুটপাট করেনি, বরং মন্দির সংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং শারীরিক নিগ্রহের ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। যদিও ইউনূস প্রশাসন তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

    আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনার ধর্মীয় সংগঠন ইস্কন (ISKCON Temple) কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী (Bangladesh) সরকারের কাছে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে। তবে যেহেতু বাংলাদেশ এখন নির্বাচনী আবহ চলছে তাই দেশে কট্টরপন্থীরা হিন্দু সমাজকে টার্গেট করছে বলে মত প্রকাশ করেছেন ওয়াকিবহাল সামাজের মানুষ।

  • India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর এই চুক্তিতে (India EU FTA) ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।” কথাগুলি বললেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা। তাঁর মতে, এই চুক্তিটি ইউরোপীয় বাজারে ভারতের প্রবেশাধিকার আরও বাড়িয়ে দিয়ে নয়াদিল্লিরই সুবিধে করে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “এই চুক্তিতে ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। চুক্তি কার্যকর হলে নয়াদিল্লি কার্যত গোল্ডেন টাইম উপভোগ করবে।” তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত চুক্তির কিছু খুঁটিনাটি আমি দেখেছি। সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয় এতে ভারতই এগিয়ে থাকবে। তারা ইউরোপের বাজারে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।”

    ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে (India EU FTA)

    প্রস্তাবিত চুক্তির বিস্তারিত দিকগুলির উল্লেখ করে গ্রিয়ার বলেন, “শুনে মনে হচ্ছে, এতে ভারতের জন্য অতিরিক্ত কিছু অভিবাসন সুবিধাও থাকতে পারে। আমি নিশ্চিত নই, তবে ইইউয়ের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ইউরোপে ভারতীয় শ্রমিকদের যাতায়াত বা মোবিলিটি নিয়ে কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে আমার ধারণা, এই চুক্তির ফলে ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে।” মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে। একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি যৌথ বাজার তৈরি হবে এবং বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করার লক্ষ্যে একটি রূপান্তরধর্মী পাঁচ বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে (India EU FTA)।

    গ্রিয়ারের বক্তব্য

    এই চুক্তি গ্লোবাল মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানির ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯৭ শতাংশের বেশি রফতানির ওপর শুল্ক হ্রাস করা হবে। তবে আমেরিকার শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা এই অগ্রগতির গুরুত্ব কিছুটা খাটো করে দেখান। তাঁর মতে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য করছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আরও কঠোর বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করছে (India EU FTA)। গ্রিয়ার বলেন, “কৌশলগতভাবে এটা বোঝা জরুরি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং কার্যত অন্য দেশগুলির জন্য আমাদের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এক ধরনের ফি আরোপ করেছেন। ফলে এসব দেশ তাদের অতিরিক্ত উৎপাদনের জন্য নতুন বাজার খুঁজছে। সেই কারণেই ইইউ ভারতের দিকে ঝুঁকছে।” তিনি এও বলেন, “ইইউ অত্যন্ত বাণিজ্যনির্ভর।”

    কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা

    গ্রিয়ারের মতে, কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা নিয়ে এই চুক্তি ভারতের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াবে, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্যত গ্লোবালাইজেশনকে আরও জোরদার করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে বিশ্বের দুটি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক নিখুঁত উদাহরণ বলে অভিহিত করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি আমাদের নিজস্ব বিশ্বে মানুষ ও অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতে সহায়ক হবে।” তিনি বলেন, “ভারত এগিয়ে এসেছে, আর ইউরোপ সত্যিই আনন্দিত। কারণ ভারত সফল হলে বিশ্ব আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ হয়, এবং তার সুফল আমরা সবাই পাই।”

    ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিক

    এদিকে, এই চুক্তি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চর্চার খোরাক জুগিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যমই এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিকে আলোকপাত করেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের হেডলাইন হল, “ট্রাম্পের ছায়ায়, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ”। এখানে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের বাণিজ্য সম্পর্ক যখন ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি আরও গভীর হচ্ছে (India EU FTA)। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার আবহে ইউরোপ ও ভারত একটি ‘ব্লকবাস্টার’ বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। সিএনএন বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছে, ট্রাম্পের নীতিতে আঘাতপ্রাপ্ত ভারত ও ইউরোপ একে অপরের দিকে ঝুঁকছে, যাকে তারা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতীকী গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে।

    সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল চুক্তিটির ব্যাপ্তি তুলে ধরে জানিয়েছে, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাক্ষরিত জনসংখ্যাভিত্তিক সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। একই সঙ্গে এটি এমন এক বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে ট্রাম্প-যুগের শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় বড় অর্থনীতিগুলি বিকল্প বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। সিএনবিসি বারবার এই চুক্তিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠন, ইউরোপের গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ রফতানির সম্ভাবনা এবং আমেরিকা–ভারত ও আমেরিকা–ইইউ বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় বস্ত্র ও পরিষেবা খাতের জন্য উন্নত বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেছে। এনবিসি একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি ‘ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, পাশাপাশি ইউরোপকে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ দেয় (India EU FTA)।

    ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’

    দ্য ডিপ্লোম্যাট এটিকে ‘ট্রাম্প-পরবর্তী, বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তি ভারতের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনকে ইউরোপের শিল্পভিত্তির সঙ্গে যুক্ত করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের কাঠামো নতুনভাবে সাজিয়ে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারত ও ইইউয়ের মধ্যে প্রায় দুই দশক ধরে চলা বাণিজ্য আলোচনার পর এই চুক্তি সম্পন্ন হল। এর সমাপ্তি এমন একটা সময়ে হল, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ড সংযুক্তির বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন (যদিও পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন)। ইইউয়ের জন্য আমেরিকা এখনও সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। ফলে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্য আনার দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে শুধু শুল্ক বা বাজার প্রবেশাধিকারের চুক্তি হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতার মুখে বড় অর্থনীতিগুলি কীভাবে একক দেশের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প জোট গড়ে তুলছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে (India EU FTA)। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব মাঝারি হতে পারে, যদিও এর ভূরাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। এটি ভারত ও ইউরোপকে স্বাধীন, স্থিতিশীল এবং সক্ষম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

LinkedIn
Share