Tag: Bengali news

Bengali news

  • Satyendar Jain: দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার আপ নেতা সত্যেন্দ্র, জালে আরও ৫

    Satyendar Jain: দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার আপ নেতা সত্যেন্দ্র, জালে আরও ৫

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়মের (Jal Board Corruption Case) অভিযোগে আম আদমি পার্টির নেতা এবং দিল্লির প্রাক্তন জলমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে (Satyendar Jain) গ্রেফতার করল দুর্নীতি দমন শাখা। অর্থ পাচার মামলায় ইতিমধ্যেই ১৮ মাস জেলে কাটিয়েছেন জৈন। তাঁর এই গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

    যেসব অভিযোগে গ্রেফতার সত্যেন্দ্ররা (Satyendar Jain)

    এই মামলায় জৈন ছাড়াও আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক তথা আইএএস অফিসার উদিত প্রকাশ রাই, প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব এবং তিন বেসরকারি ব্যক্তি নাগেন্দ্র যাদব, রাজা কুমার কুররা ও পঙ্কজ বর্মা। দিল্লি দুর্নীতি দমন শাখার দাবি, ২০২৪ সালের ১১ মে দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের সরকারের নজরদারি অধিদফতরের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার সূত্রপাত। অভিযোগ, দিল্লি জল বোর্ডের অধীনে নিকাশি জল শোধনাগারের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য বিভিন্ন কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছিল। টেন্ডারের শর্ত বদলে দেওয়া, প্রক্রিয়ায় কারচুপি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও উঠেছে। মামলায় ঘুষ, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন শাখার বক্তব্য, তদন্তে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপির প্রাথমিক প্রমাণ সামনে আসার পরেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে।

    আপের প্রশ্ন

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম হল সত্যেন্দ্র (Satyendar Jain)। দিল্লির জলমন্ত্রী থাকাকালীন জল বোর্ডের সঙ্গে তাঁর সরাসরি প্রশাসনিক যোগ ছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সময়কাল ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আম আদমি পার্টি। দলের নেতা ধান্ডা সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, “আর কত প্রমাণ দরকার যে বিজেপি আম আদমি পার্টিকে ভয় পায়?” তাঁর আরও প্রশ্ন, জৈন যখন ১৮ মাস জেলে ছিলেন, তখন তাঁর অনুপস্থিতিতে ঘটে যাওয়া অনিয়মের জন্য তাঁকে কীভাবে দায়ী করা যায়? জৈনের গ্রেফতারির সঙ্গে আসন্ন পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকেও যুক্ত করেছে আম আদমি পার্টি। বর্তমানে পাঞ্জাবে দলের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে কাজ করছেন জৈন। দলের অভিযোগ, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এদিকে, দুর্নীতি দমন শাখা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও কারচুপির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তদের। মামলায় সত্যেন্দ্রকে দিল্লির প্রাক্তন জলমন্ত্রী, উদিত প্রকাশ রাইকে দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক এবং অঙ্কিত শ্রীবাস্তবকে প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নাগেন্দ্র, রাজা, এবং পঙ্কজকে এফআইআরে নাম থাকা সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    পুরো তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিকাশি জল শোধন পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগ। ফলে অভিযুক্তদের (Satyendar Jain) রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ জনপরিকাঠামো প্রকল্পও (Jal Board Corruption Case) এই মামলাকে করে তুলেছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

     

  • RSS: নিতিন নবীনের নয়া সাংগঠনিক দল, আরএসএসের সঙ্গে সমন্বয়-নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জোর বিজেপির

    RSS: নিতিন নবীনের নয়া সাংগঠনিক দল, আরএসএসের সঙ্গে সমন্বয়-নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জোর বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপির নয়া সাংগঠনিক দলকে নিছক নিয়মমাফিক রদবদল হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টির তাৎপর্য ধরা পড়বে না। নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) নেতৃত্বে গঠিত নতুন দলে যাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যাঁদের দায়িত্বে রাখা হয়েছে এবং যাঁদের পদোন্নতি হয়েছে, তাঁদের তালিকা থেকে বিজেপির সাংগঠনিক অগ্রাধিকারের একটি স্পষ্ট ছবি উঠে আসছে। দলের নতুন বিন্যাসে আরএসএসের (RSS) সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়, সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর বাড়তি গুরুত্ব এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার প্রবণতা স্পষ্ট।

    নয়া সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা (RSS)

    নয়া সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাগুলির একটি হল রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন। তাঁকে দলের জাতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে। আরএসএসের দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুখ প্রায় এক দশক আগে বিজেপির সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এসেছিলেন। সংঘের সঙ্গে বিজেপির সমন্বয় এবং দলের প্রচলিত হিন্দি বলয়ের বাইরে উত্তর-পূর্ব ভারত ও জম্মু-কাশ্মীরে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একজন সাংগঠনিক কৌশলবিদ হিসেবে রাম মাধব বিজেপির ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। এবার তাঁর প্রত্যাবর্তনের ফলে দলের জাতীয় কাঠামোর মধ্যে অভিজ্ঞ সংঘ-ঘনিষ্ঠ নেতৃত্ব আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেল। ফলে তাঁর ফিরে আসাকে বিজেপি কিংবা সংঘ—কোনও পক্ষই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মহলে এই প্রত্যাবর্তনকে দুই সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    সন্তোষ-তাওড়ে-বনসল

    রাম মাধবের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পদে বিএল সন্তোষকে বহাল রাখা এবং জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিনোদ তাওড়ে ও সুনীল বনসলকে দায়িত্বে রাখাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে এই তিন নেতাকেই বিজেপির সাংগঠনিক মেরুদণ্ডের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখা হয়। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনজনেরই আরএসএসের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে। বিনোদ এবং সুনীলের মতো নেতাদের উপস্থিতি বিজেপির নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও অভিজ্ঞ করে তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে নির্বাচনী সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতা দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন কমিটিতে সংগঠন পরিচালনা এবং ভোটের ময়দানে কৌশল প্রয়োগ—দুই ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকেই একসঙ্গে কাজে লাগানোর চেষ্টা রয়েছে।সতীশ পুনিয়াকেও নতুন সাংগঠনিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠন এবং আরএসএসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর পদোন্নতিও ইঙ্গিত করছে যে, বিজেপি শুধু জনসমক্ষে দৃশ্যমানতা বা নির্বাচনী জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নতুন সাংগঠনিক দল তৈরি করছে না। দলের নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আদর্শগত ভিত্তিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Nitin Nabin)।

    উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রেও নয়া সাংগঠনিক বিন্যাস

    উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রেও নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসে বিশেষ নজর রয়েছে। স্বদেশ সিংহকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং মৃগাঙ্ক দেও বর্মনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উন্নীত করা সেই দিকটিরই ইঙ্গিত। এঁরা এমন নেতা নন, যাঁদের নাম নিয়মিতভাবে টেলিভিশনের আলোচনাকেন্দ্রে বা বড় নির্বাচনী সমাবেশে সামনে আসে। কিন্তু সাংগঠনিক রাজনীতিতে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দলের প্রচার-নির্ভর রাজনীতির বাইরে নিচুতলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এই ধরনের নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে শিবপ্রকাশ ও সৌদান সিংহকে জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং সংঘের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে এমন নেতৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রেখে বিজেপি মূলত দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করতে চাইছে। নয়া তালিকায় বিপ্লব কুমার দেবের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে উন্নীত হওয়াও উল্লেখযোগ্য। ত্রিপুরায় বিজেপির সংগঠন গড়ে তোলা থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া এবং পরে জাতীয় স্তরের সংগঠনে ফিরে আসা—তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা দলের সাংগঠনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সরকারের কাজের অভিজ্ঞতার একটি সমন্বিত উদাহরণ। তাঁর দায়িত্ববৃদ্ধি থেকে বোঝা যায়, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক ভিতরে কাজ করার অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে পদ্ম শিবির(RSS)। এদিকে, দলের রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখগুলিকেও নতুন কাঠামো থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। স্মৃতি ইরানির প্রত্যাবর্তন এবং উত্তরপ্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের দায়িত্ব পাওয়া সংগঠনের মধ্যে নির্বাচনী শক্তিকে আরও জোরদার করবে। জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ। ফলে সেখানে সাংগঠনিক দায়িত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যুক্ত করা দলের নির্বাচনী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে (Nitin Nabin)।

    রাজনীতি ও সংগঠনের মেলবন্ধন

    বিজেপির নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এখানেই। দলটি রাজনীতি ও সংগঠনের মধ্যে কোনও একটিকে বেছে নিচ্ছে না, বরং দুই ক্ষেত্রকে একসঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করছে। নিতিন নবীনের নেতৃত্বে দলের নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসের প্রকৃত তাৎপর্য সম্ভবত এই জায়গায়ই।

    বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী সংগঠিত করা, আদর্শগত ঐক্য বজায় রাখা এবং বুথস্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরএসএসের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতি ক্রমশ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভোটের লড়াইয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনাও আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। এই পরিস্থিতিতে পুরনো সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও নিখুঁত ও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজন বেড়েছে বিজেপির।

    নতুন দায়িত্ব বণ্টন সেই প্রয়োজনেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। শীর্ষস্তরে তুলনামূলকভাবে তরুণ নেতৃত্ব, গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিজ্ঞ নির্বাচনী ব্যবস্থাপক এবং সংগঠন বা সংঘের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত নেতাদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এর ফলে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচার, নির্বাচনী কৌশল এবং সাংগঠনিক কর্মসূচির মধ্যে আরও নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে (RSS)।

    আরএসএসের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সাংগঠনিক বিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি ও সংঘের মধ্যে যে প্রাতিষ্ঠানিক সেতু দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে, নতুন দল সেই সেতুকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। অন্যদিকে নিতিন নবীনের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ। নতুন সাংগঠনিক দল গঠনের মাধ্যমে তিনি নিজের সাংগঠনিক পরিচয় ও নেতৃত্বের ধরন স্পষ্ট করার সুযোগ পাচ্ছেন।

    বিজেপির বার্তা স্পষ্ট

    সব মিলিয়ে বিজেপির নতুন সাংগঠনিক দলের বার্তা যথেষ্ট পরিষ্কার। সামনে যে নির্বাচনী পর্ব আসছে, তার আগে দল সংগঠনের ওপর আরও জোর দিতে চাইছে। শুধু জনপ্রিয় মুখ বা নির্বাচনী প্রচারের ওপর নির্ভর না করে বুথস্তর থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে দলের সমন্বয়ও আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

    নিতিন নবীনের নেতৃত্বে এই নতুন বিন্যাস তাই কেবল কয়েকটি পদে পরিবর্তনের ঘটনা নয়। বরং এর মধ্যে দিয়ে বিজেপি আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য সংগঠন, আদর্শ, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। আগামী নির্বাচনী ফল এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়েছে তা শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে (Nitin Nabin)। তবে নতুন সাংগঠনিক দল থেকে আপাতত যে বার্তাটি সবচেয়ে স্পষ্ট, তা হল—বিজেপি সংগঠনকে আরও আঁটসাঁট করছে এবং তার সঙ্গে আরএসএসের সম্পর্কও হয়ে উঠছে আগের তুলনায় ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ (RSS)।

     

  • NTA: বড়সড় সংস্কারের পথে এনটিএ, সরানো হল ৫০-এর বেশি কর্মীকে

    NTA: বড়সড় সংস্কারের পথে এনটিএ, সরানো হল ৫০-এর বেশি কর্মীকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক একাধিক প্রশ্নের পর জাতীয় পরীক্ষা সংস্থায় (এনটিএ) বড়সড় সংস্কারের উদ্যোগ নিল (NTA) কেন্দ্র। সংস্থার পরীক্ষা পরিচালনা এবং গোপনীয় কার্যক্রমে একাধিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Exam Security)। সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ৫০-এর বেশি কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৮ অগাস্ট শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এনটিএর পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব, এনটিএ কর্তা-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। সংস্থার নেওয়া পদক্ষেপ এবং সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ (NTA)

    বৈঠকে জানানো হয়, যে সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে, তার অংশ হিসেবে এনটিএর ৫০-এর বেশি কর্মীকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থার পেশাদার নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এজন্য ১০টি নতুন উচ্চপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এই পদগুলির মধ্যে রয়েছে প্রধান প্রযুক্তি আধিকারিক, প্রধান অর্থ আধিকারিক, এবং প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিকও। এনটিএর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে বেসরকারি ক্ষেত্র থেকেও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা, মনোবৈজ্ঞানিক পরিমিতি এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁদের কাজে লাগানো হবে। পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সব নিয়ম ও নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষার পরিচালনা ও নিরাপত্তায় কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না—বৈঠকের নির্দেশনায় এমনই কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।

    বড়সড় সংস্কার

    এনটিএর গোপন কার্যক্রমের কাঠামোয়ও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বড়সড় সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ ও বিচ্ছিন্ন কক্ষের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, বহিরাগত নেটওয়ার্ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কম্পিউটার ব্যবস্থা ব্যবহার এবং সংবেদনশীল পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজের জায়গায় ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিন যন্ত্র জমা রাখার নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা। এর লক্ষ্য, পরীক্ষার গোপনীয় প্রক্রিয়ায় অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানো এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। এছাড়াও এনটিএর সমস্ত পরীক্ষা পরিচালনা প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথায় কী ধরনের ত্রুটি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে কী কী সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতেও বলা হয়েছে। এনটিএকে (NTA) ঘিরে পরীক্ষা পরিচালনা, নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হল। নতুন পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে সংস্থার অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো এবং পরীক্ষা পরিচালনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। শিক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকে মূলত এনটিএর সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে (Exam Security)। সংশোধনমূলক পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করার জন্য সংস্থাকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (NTA)।

     

  • Teesta Water Ties: “তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ”, বললেন ঢাকার জলসম্পদমন্ত্রী

    Teesta Water Ties: “তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ”, বললেন ঢাকার জলসম্পদমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তিস্তা নদীর জলবণ্টন চুক্তিকে (Teesta Water Ties) কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ।” অন্তত এমনই বললেন বাংলাদেশের জলসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী আনে।তবে একইসঙ্গে নিজেদের স্বার্থের কথাও নয়াদিল্লিকে (India Bangladesh) বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, “প্রতিবেশী দেশ একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। তাদের যেমন নিজেদের স্বার্থ রয়েছে, তেমনই আমাদেরও স্বার্থ রয়েছে—এই বিষয়টি তাদের ভাবতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “একজন বন্ধু আর এক বন্ধুর স্বার্থ রক্ষা করবে। তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কখনও নষ্ট হোক, আমরা তা চাই না।”

    তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের তৎপরতা (Teesta Water Ties)

    দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের নতুন করে তৎপরতার মধ্যেই জলসম্পদমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য সামনে এল। এর অংশ হিসেবে চিনের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত তিস্তা নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করছে ঢাকা। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, উত্তর বাংলাদেশের বারবার দেখা দেওয়া বন্যা, নদীভাঙন এবং শুকনো মরশুমে জলসংকট মোকাবিলা করা। মন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে সরকার একাধিক সেমিনার ও পরামর্শ বৈঠকের আয়োজন করেছে। এসব আলোচনায় পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে। সেই সমীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সরকার।তিস্তা প্রকল্পকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নদীভাঙন-সহ নানা সমস্যায় বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলের পাঁচ-ছ’টি জেলার মানুষের এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা যদি এটি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হই, তাহলে ওই এলাকার পরিবারগুলির ক্ষয়ক্ষতি ও সমস্যার পরিমাণ আরও বাড়তে থাকবে। যে কোনও মূল্যে আমাদের এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে (Teesta Water Ties)।”

    জলবণ্টন নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বিরোধ

    তিস্তা নদীর জলবণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ রয়েছে। হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে নদীটি সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং পরে বাংলাদেশের যমুনা নামে পরিচিত ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। উত্তর বাংলাদেশের কৃষি ও মানুষের জীবিকার জন্য তিস্তার জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই নদীর জল গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের একাধিক জেলার মানুষের জীবন ও কৃষি নির্ভরশীল তিস্তার ওপর। আটের দশক থেকেই তিস্তার জল ভাগাভাগি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ১৯৮৩ সালে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থায় তিস্তার জলের ৩৯ শতাংশ ভারতের জন্য এবং ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়। বাকি ২৫ শতাংশ জল বণ্টন করা হয়নি (India Bangladesh)।

    তিস্তার জল বণ্টন চুক্তি জরুরি প্রয়োজন

    এরপর ২০১১ সালে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। তাতে শুষ্ক মরশুমে তিস্তার জল ভাগাভাগির একটি সূত্র প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে জলের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই ব্যবস্থার বিরোধিতা করায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি (Teesta Water Ties)। জলসম্পদমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিস্তা নিয়ে একটি চুক্তি “জরুরি প্রয়োজন” বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেটিকে তিস্তা চুক্তি বা অন্য কোনও ব্যবস্থার নামে অভিহিত করা হোক না কেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চিন সফর

    জুন মাসে বেজিংয়ে সরকারি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিনের নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে প্রস্তাবিত তিস্তা পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিনের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে (India Bangladesh)। তিস্তা প্রকল্পে চিনকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের এই জলবণ্টন বিরোধে নতুন কৌশলগত মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ভারতের কাছে বিষয়টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল, কারণ উত্তর বাংলাদেশের ওই অঞ্চলের অবস্থান ভারতের শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেন্স নেকের) কাছাকাছি। এই সরু স্থলপথই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে (Teesta Water Ties)। ভারত বরাবরই বলে আসছে, তিস্তা সমস্যার সমাধান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে করা উচিত। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে।

    রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য

    জুলাই মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের মতামত বাংলাদেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সামগ্রিক অবস্থানের অংশ হিসেবে “সংশ্লিষ্ট সব উন্নয়ন” বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। তিস্তা জলবণ্টন বিরোধ ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি থেকে আলাদা। ওই চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ভারত ও বাংলাদেশের (India Bangladesh) মধ্যে মোট ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। এসব নদী ও জলসম্পর্কিত বিষয় নিয়ে দুই দেশ প্রায়ই আলোচনা করে থাকে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে (Teesta Water Ties)।

     

  • Free Treatment: সরকারি হাসপাতালে বেড না মিললে নিখরচায় চিকিৎসা হবে বেসরকারি হাসপাতালে! বড় ঘোষণা শুভেন্দুর সরকারের

    Free Treatment: সরকারি হাসপাতালে বেড না মিললে নিখরচায় চিকিৎসা হবে বেসরকারি হাসপাতালে! বড় ঘোষণা শুভেন্দুর সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি হাসপাতালে বেড না পেয়ে এ বার আর রোগী বা তাঁর পরিজনদের হন্যে হয়ে ঘুরতে হবে না এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে বেড, ভেন্টিলেটর বা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থাকলে সরকারি হাসপাতাল থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সে রোগীকে পাঠানো হবে বেসরকারি হাসপাতালে (Private Hospital)। সেখানে নিঃশুল্ক চিকিৎসার (Free Treatment) ব্যবস্থাও করবে সরকার। এমনই ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

    নিঃশুল্ক চিকিৎসা বেসরকারি হাসপাতালে (Free Treatment)

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সোমবার থেকেই এসএসকেএম হাসপাতালের সঙ্গে কেপিসি হাসপাতালের সমন্বয় শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে না পারা রোগীদের দ্রুত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। ধীরে ধীরে এই পরিষেবা শহর থেকে শহরতলি এবং বাংলার গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।সাংবাদিক বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কম করে তিন থেকে চারটি বৈঠক করেছি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে। আমরা আগেই বলেছিলাম, প্রায় আড়াই হাজার বেড সংরক্ষণ করেছি, যেগুলি নাগরিকদের নিঃশুল্ক চিকিৎসা দেবে। আজকের মহড়া সফল হয়েছে। এ বার থেকে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী যাবে। আর সেটা আজ থেকেই চালু হল—একেবারে শহর থেকে শহরতলি, বাংলার গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত।”

    কীভাবে মিলবে সুবিধা

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, কোনও রোগী চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে গেলে এবং সেখানে বেড না থাকলে, কিংবা ভেন্টিলেটর খালি না থাকলে, সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বিষয়টি কন্ট্রোল রুমে জানাবে। সেখান থেকে খবর যাবে স্বাস্থ্য দফতরের কন্ট্রোল রুমে। কোন বেসরকারি হাসপাতালে বেড খালি রয়েছে, তা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে জানা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে বেড সংরক্ষণ করে সরকারি হাসপাতালকে জানানো হবে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারি হাসপাতাল থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সে করে সরাসরি রোগীকে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে এসএসকেএম হাসপাতালের সঙ্গে কেপিসি হাসপাতালকে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনও রোগী এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হতে এসে বেড না পেলে, বিষয়টি কন্ট্রোল রুমে জানানো হবে। কন্ট্রোল রুম বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে খালি থাকা বেডের খোঁজ করবে এবং বেডের ব্যবস্থা হলে এসএসকেএমের এমার্জেন্সি বিভাগকে জানাবে। এরপর সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে করে রোগীকে সরাসরি ওই বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে (Free Treatment)।

    আরও সরকারি হাসপাতাল যুক্ত হবে

    সব বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে এই সমন্বয় তৈরি হবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতালকেই এই ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল এখনও এর আওতায় নেই। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকাও জানানো হবে।

    পর্যায়ক্রমে মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস, আরজি কর, চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল এবং সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকেও শহরের সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালগুলির (Private Hospital) সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি, সরকারি হাসপাতালে বেডের অভাবে কোনও রোগী যাতে ভর্তি হতে না পেরে ফিরে না যান। তবে এক দিনে সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। ধীরে ধীরে সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় সুতো ছিঁড়তে পারে, আবার জুড়তে হবে।”

    সরকারি হাসপাতালে ‘অমৃত ফার্মেসি’

    এ দিন সরকারি হাসপাতালগুলিতে ‘অমৃত ফার্মেসি’ চালুর বিষয়েও বিস্তারিত জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রায় ১০০টি সরকারি হাসপাতালে এই ফার্মেসি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে পাওয়া যাবে।

    সরকারি হাসপাতালে এই ফার্মেসি চালুর জন্য একটি সংস্থার সঙ্গে রাজ্য সরকারের মৌ-চুক্তি হয়েছে বলেও জানান তিনি। অমৃত ফার্মেসিতে স্টেন্টে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলবে। পাশাপাশি ক্যানসারের ওষুধ এবং চোখের লেন্সও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাবে।

    ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় ১০০টি এমন ফার্মেসি চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। সাধারণত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলির আশপাশেই এই ধরনের ফার্মেসি চালুর জন্য জায়গা চিহ্নিত করা হচ্ছে। ছাড়ের সুবিধা পেতে রোগীর প্রেসক্রিপশন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে পারবেন পরিজনেরা (Free Treatment)।

    হাসপাতালগুলিতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি

    রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির জন্য আরও একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সরকারি হাসপাতালগুলিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি হাসপাতালের পরিষেবার উপর নজরদারি রাখা হবে।

    হাসপাতালগুলিতে ২৪ ঘণ্টা সরাসরি নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে এবং মেডিক্যাল আধিকারিকরা সেই নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন। হাসপাতাল পরিষেবার কার্যকারিতা, নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে কি না, ফিল্ড লেভেলের ইউনিটগুলির সঙ্গে সমন্বয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মদক্ষতার সূচকগুলির উপরও নজর রাখা হবে (Private Hospital)।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, সরকারি হাসপাতালগুলিতে বেডের অভাবের কারণে যাতে কোনও রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে (Free Treatment)।

     

  • Donald Trump: ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় কড়া ভোটার-আইডি আইন চাইলেন ট্রাম্প

    Donald Trump: ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় কড়া ভোটার-আইডি আইন চাইলেন ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ (America Act) পাশ করার দাবি তুললেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এ বার সেই দাবির স্বপক্ষে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, ভারতে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখানোর নিয়ম রয়েছে। সেই তুলনা টেনেই আমেরিকায় ভোটার পরিচয় যাচাই এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্পের দাবি, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি তাঁর প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ট্রাম্প লেখেন, “চলতি মাসের গোড়ায় ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন হতে পারে?”

    ট্রাম্পের মুখে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ (Donald Trump)

    ভারতের সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন এবং ১ শতাংশেরও কম ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, “ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিল! ১ শতাংশেরও কম ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল।” ভারতের উদাহরণ টেনে ট্রাম্প ফের তাঁর প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ পাশ করাতে ডাক দেন কংগ্রেসকে। তিনি লেখেন, “আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা আইন পাশ করতে হবে!” ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে ট্রাম্প “সম্পূর্ণ সঠিক” কথা বলেছেন। ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে গোর বলেন, প্রত্যেক ভোটারের পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। একই সঙ্গে আমেরিকান কংগ্রেসকে সেভ আমেরিকা আইন পাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

    ‘সেভ আমেরিকা আইন’

    আমেরিকায় নির্বাচনী নিয়ম আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবিত আইনটি ট্রাম্পের (Donald Trump) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হয়ে উঠেছে। ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোট দেওয়ার যোগ্যতা হিসেবে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার মতো বিষয়ও এই উদ্যোগের আওতায় রয়েছে। ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে আমেরিকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তুলনা করে ট্রাম্প মূলত আমেরিকায় ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে চাইছেন (America Act)। ভারতের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ এবং পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে সামনে রেখে তাঁর এই রাজনৈতিক প্রচার নতুন করে দুই দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার পার্থক্য নিয়েও জন্ম দিয়েছে গভীর চর্চার (Donald Trump)।

     

  • BJP: নতুন জাতীয় কমিটিতে বড়সড় রদবদল বিজেপির, বাংলায় গুরুত্ব উত্তরবঙ্গের

    BJP: নতুন জাতীয় কমিটিতে বড়সড় রদবদল বিজেপির, বাংলায় গুরুত্ব উত্তরবঙ্গের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সর্বভারতীয় সংগঠনে বড়সড় রদবদল করল বিজেপি (BJP)। সোমবার দলের নয়া  জাতীয় পদাধিকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে একদিকে যেমন একাধিক অভিজ্ঞ নেতাকে তাঁদের পুরনো দায়িত্বেই রাখা হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা দেওয়া হয়েছে নতুন মুখকে। বিশেষ নজর কেড়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুই নেতার অন্তর্ভুক্তি (New National Committee)। জাতীয় সহ-সভাপতি পদে জায়গা পেয়েছেন মধুছন্দা কর এবং জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গাকে। ফলে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে বাংলার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গও বিশেষ গুরুত্ব পেল বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

    নয়া কমিটিতে কারা (BJP)

    নতুন কমিটি ঘোষণা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। সোমবার থেকেই নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, রাজ্যগুলিতে সাংগঠনিক বিস্তার বাড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে দলের প্রভাব বাড়ানোই নতুন কমিটির অন্যতম লক্ষ্য বলেই অনুমান। নতুন তালিকায় জাতীয় সহ-সভাপতি পদে একাধিক পুরনো মুখকে বহাল রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, তীর্থ সিং রাওয়াত, রাম মাধব, বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডা, ডি. পুরানদ্বেশ্বরী, রেখা বর্মা, বর্ষাবেন নরেন্দ্রভাই জোশী, ভারতী প্রবীণ পাওয়ার, মনপ্রীত সিং বাদল, লাল সিং আর্য, এম নাগরাজ এবং তারিক মনসুর। এই তালিকায়ই নতুন করে জায়গা পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মধুছন্দা। জাতীয় সহ-সভাপতিদের তালিকায় মোট ১৩ জনের মধ্যে পাঁচ জন মহিলা রয়েছেন। ফলে সংগঠনের শীর্ষস্তরে মহিলা নেতৃত্বকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও এই তালিকা থেকে স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মধুছন্দার অন্তর্ভুক্তি রাজ্য সংগঠনের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    বাংলার প্রতিনিধিত্ব

    জাতীয় সম্পাদক পদেও বাংলার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজকে জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের এই বিজেপি নেতার সর্বভারতীয় সংগঠনে অন্তর্ভুক্তি আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্ব আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেই অঞ্চলের এক সাংসদকে জাতীয় স্তরের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গে দলীয় সংগঠন আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা (BJP)। জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে রাখা হয়েছে। বিনোদ তাওড়ে, সুনীল বনশল, বিপ্লব কুমার দেব, স্মৃতি ইরানি, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র প্যাটেল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া এই পদে থাকছেন। আট জন জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে একমাত্র মহিলা হিসেবে জায়গা পেয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। তাঁর অন্তর্ভুক্তি নতুন কমিটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এবার দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় তাঁকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হল।

    জাতীয় সাধারণ সম্পাদক

    জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিএল সন্তোষকেও বহাল রাখা হয়েছে। সংগঠনের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের ভূমিকার উপর দল যে আস্থা রাখছে, নতুন তালিকায়ও তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিবপ্রকাশ ও সওদান সিংকে (New National Committee)। জাতীয় সম্পাদকদের তালিকায়ও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম রয়েছে। কবিতা পাটিদার, কে সুরেন্দ্রন, ভোলা সিং, প্রদীপ বর্মা, জগদীশ ঈশ্বরভাই প্যাটেল, সন্দীপ পাঠক, ফ্যাংনন কোন্যাক, সঙ্গীতা যাদব, অনিল অ্যান্টনি, এম ভেঙ্কটেশন, মনোজ টিগ্গা, সিদ্ধার্থ শম্ভু, স্বদেশ সিং, মৃগাঙ্ক দেব বর্মন, রোহন গুপ্ত এবং জয় প্রকাশকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায়ও বিভিন্ন রাজ্য ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রাখার চেষ্টা করা হয়েছে (BJP)। দলের আর্থিক কাঠামোয়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে জাতীয় কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর সহকারী হিসেবে জাতীয় যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ পদে রাজেশ মঙ্গলকে রাখা হয়েছে। পীযূষের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে দলের আর্থিক দায়িত্বে আনা নতুন কমিটির অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত।

    কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন

    কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকছেন তরুণ চুগ। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্পাদক করা হয়েছে মহেন্দ্র পাণ্ডেকে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগঠনের ক্ষেত্রেও পৃথক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সম্বিত পাত্র এবং যুগ্ম সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজীব বব্বর। দলের বিভিন্ন শাখায়ও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যুব মোর্চার সভাপতি হয়েছেন হেমাঙ্গ যোশী। মহিলা মোর্চার দায়িত্ব পেয়েছেন রূপকুমারী চৌধুরি। অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মোর্চার দায়িত্বে রয়েছেন অমরপাল মৌর্য। কৃষক মোর্চার সভাপতি হয়েছেন বংশীলাল গুর্জর। তফশিলি জাতি মোর্চার দায়িত্ব পেয়েছেন শিবেশ কুমার রাম এবং তফশিলি জনজাতি মোর্চার সভাপতি হয়েছেন মান্নালাল রাওয়াত। সংখ্যালঘু মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুঁওয়ার বাসিত আলিকে। গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। গণমাধ্যম আহ্বায়ক হয়েছেন অনিল বলুনি। সহ-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন আশিস ঊষা আগরওয়াল, প্রদীপ ভাণ্ডারী এবং সিদ্ধার্থ যাদব। সোশ্যাল মিডিয়ার আহ্বায়ক করা হয়েছে দীপক মাসকেকে। সহ-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন প্রীতি গান্ধী, শিবানন্দ দ্বিবেদী, অলোক ভাট এবং অরুণ যাদব।

    ভারসাম্য রাখার চেষ্টা

    সব মিলিয়ে নতুন জাতীয় কমিটিতে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব (New National Committee)। পুরনো মুখের উপর আস্থা রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য, মহিলা নেতৃত্ব এবং সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে মধুছন্দা এবং মনোজের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মনোজের জাতীয় সম্পাদক হওয়া উত্তরবঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (BJP)। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এখনও দূরে। কিন্তু তার আগেই জাতীয় স্তরে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিজেপি। নতুন কমিটির দায়িত্ব বণ্টন থেকে স্পষ্ট, রাজ্যভিত্তিক সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি মহিলা, যুব, কৃষক, অনগ্রসর শ্রেণি, তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে দলের সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও নতুন দুই মুখকে জাতীয় দায়িত্ব দিয়ে (New National Committee) রাজ্যে দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে পদ্ম-শিবির (BJP)।

     

  • Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাঁচিতে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে (Student Protest)। রবিবার, ১৬ অগাস্ট বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ান। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা মঞ্চের নেতৃত্বে এই আন্দোলন টানা ২৩ দিনে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তাঁদের একাধিক দাবির বিষয়ে ক্ষমতাসীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস জোট এখনও পর্যন্ত কার্যকরী কোনও পদক্ষেপ করেনি। রবিবার রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়াম থেকে আলবার্ট এক্কা চকের দিকে মশাল মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে পৌঁছে তাঁরা কুশপুতুল পোড়ান এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবন ঘেরাও করা হবে। অবশ্য ১৮ অগাস্টের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    ক্ষমতাসীন জোটকে নিশানা (Jharkhand)

    নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যার যথাযথ সমাধান করছে না ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস সরকার। কংগ্রেসের কাছেও তাঁরা ঝাড়খণ্ডে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।

    রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ানোর ঘটনা থেকে স্পষ্ট, আন্দোলন এখন আর শুধু নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। ক্ষমতাসীন জোটের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও সরাসরি নিশানা করছেন আন্দোলনকারীরা।

    এর আগে রাজ্য বিধানসভার দিকে মিছিল করার সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই আন্দোলনের সুর আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে।

    হেমন্ত সোরেন ও রাহুল গান্ধীর ‘শোক’ পালন

    রবিবারের বিক্ষোভে এক আন্দোলনকারী মাথা ন্যাড়া করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। হেমন্ত ও রাহুলের প্রতি ‘শোক’ প্রকাশের প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে তিনি ন্যাড়া হন। নিজেকে দুই নেতারই “ছোট ভাই” বলে দাবি করে ওই আন্দোলনকারী অভিযোগ করেন, পড়ুয়াদের সমস্যার প্রতি তাঁরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

    তাঁর আরও অভিযোগ, সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের সমস্যা সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক স্বার্থ নিয়েই বেশি ব্যস্ত (Jharkhand)।

    আর এক বিক্ষোভকারী রাহুলের ছাত্র-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যত্র পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে রাহুল সরব হলেও, ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের অভিযোগের সমাধানে তিনি যথেষ্ট উদ্যোগী নন।

    তবে এর আগে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের মিছিলে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন রাহুল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শোনার জন্য তিনি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছিলেন (Student Protest)।

    কী কী দাবি পড়ুয়াদের?

    নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য একাধিক দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হল—১. অনিয়মের অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে।

    ২. নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করতে হবে।

    ৩. তদন্তের ফল প্রকাশ করতে হবে।

    ৪. অনিয়মের জন্য দায়ী আধিকারিক ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ৫. ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনতে হবে।

    ৬. অর্থ দফতরের শাখা আধিকারিক সন্তোষ কুমার মাস্তানার সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলনকারীরা তাঁকে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আনা এক তথ্যপ্রকাশকারী হিসেবে দাবি করছেন।

    ৭. মাস্তানার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে হবে।

    আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁদের সমস্যা কোনও একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাকে ঘিরে নয়। গোটা সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই দাবি যুক্ত (Jharkhand)। ২০ অগাস্টের প্রস্তাবিত ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের রাঁচিতে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ফের আলোচনায় বসার ডাক সরকারের

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই ঝাড়খণ্ড সরকার ১৭ অগাস্ট আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

    এর আগে সরকার ও পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও অচলাবস্থা কাটেনি। সরকারের পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের কয়েকটি দাবি মেটানোর চেষ্টা করা হলেও, আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা বাতিল এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

    ২০ অগাস্টের ঘেরাও কর্মসূচির আগে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Student Protest)।

    নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের ঘোষণা হেমন্তর

    সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের আস্থায় প্রভাব পড়েছে।

    তিনি জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে করা হবে এবং যে-ই দোষী প্রমাণিত হোন না কেন, তাঁর পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট বার্ষিক পরীক্ষা-পঞ্জি, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সময়মতো উত্তরপত্রের কী ও ওএমআর শিট প্রকাশ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক স্তরে জবাবদিহির ব্যবস্থা।

    পড়ুয়া, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের কাছ থেকে পরীক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ নিতে রাজ্য সরকার ‘পড়ুয়াদের সঙ্গে পড়ুয়াদের কণ্ঠস্বর’ উদ্যোগও শুরু করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলেও ফের জানিয়েছেন (Jharkhand) সোরেন।

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করবে কংগ্রেস

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছে কংগ্রেসও। ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের গণমাধ্যম দায়িত্বপ্রাপ্ত রাকেশ সিং জানান, ১৮ অগাস্ট রাজ্য কংগ্রেস একটি বৈঠক করবে। সেখানে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরিচালিত পরীক্ষায় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে।

    দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে  আলোচনা হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে (Student Protest)।

    রাজনৈতিক মাত্রা বাড়ছে আন্দোলনে

    দীর্ঘস্থায়ী এই আন্দোলন ক্রমশ রাজনৈতিক মাত্রা পাচ্ছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন এখন ক্ষমতাসীন জোটের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি সমালোচনায় পরিণত হয়েছে। হেমন্তর পাশাপাশি রাহুল ও তেজস্বীর কুশপুতুল পোড়ানো সেই উত্তেজনা আরও ইন্ধন জুগিয়েছে।

    ১৭ অগাস্ট সরকারের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার সুযোগ অচলাবস্থা কাটাতে পারে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা হবে (Jharkhand)।

     

  • Bihar Temple Stampede: বিহারের মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ৭ পুণ্যার্থীর মৃত্যু, আহত ১২, শোক রাষ্ট্রপতি-মোদি-রাজনাথের

    Bihar Temple Stampede: বিহারের মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ৭ পুণ্যার্থীর মৃত্যু, আহত ১২, শোক রাষ্ট্রপতি-মোদি-রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের লাখিসরাই জেলার অশোকধাম মন্দিরে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাত পুণ্যার্থীর। আহত হয়েছেন প্রায় ১২ জন। সোমবার ভোরে শ্রাবণ মাসের সোমবার উপলক্ষে মন্দিরে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়েছিল (President Droupadi Murmu)। সেই সময়ই আচমকাই ভিড়ের চাপ বেড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের অধিকাংশই মহিলা বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর (Temple Stampede)। ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই। আহত সকলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

    শ্রাবণী সোমে ব্যাপক ভিড় (President Droupadi Murmu)

    প্রশাসন সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। শ্রাবণ মাসের সোমবার হওয়ায় ভোর থেকেই অশোকধাম মন্দিরে পুণ্যার্থীদের থিকথিকে ভিড় জমতে শুরু করেছিল। শিবের উদ্দেশে প্রার্থনা ও জলাভিষেক করতে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ মন্দিরে এসেছিলেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় পুণ্যার্থীদের একাংশ ব্যারিকেড ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ভিড় চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ঠেলাঠেলির চোটে আচমকাই কয়েক জন মাটিতে পড়ে যান। তাঁদের উপর দিয়েই অন্যরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মন্দির চত্বরে। ওই সময়ই স্থানীয় রেলস্টেশনে চলে আসে পর পর আরও দু’টি ট্রেন। তার জেরে মন্দিরে ভিড় আরও বেড়ে যায়। ভিড়ের চাপে মন্দির চত্বরে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে। সেই কারণেও ভয়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় পুণ্যার্থীদের মধ্যে। তবে ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

    ভিড় নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ

    দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। আহতদের কাছাকাছি বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই অনুমান। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত। অশোকধাম মন্দিরটি ইন্দ্রমণেশ্বর মহাদেব মন্দির নামেও পরিচিত। লাখিসরাই জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিবমন্দির এটি (President Droupadi Murmu)। শ্রাবণ মাসে এই মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে সোমবারগুলিতে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে জলাভিষেক করেন ভক্তরা। সোমবারের দিনগুলিতে তাই মন্দিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় (Temple Stampede)। এবার ভিড় আরও বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার। ধর্মীয় উৎসবের আবহের সঙ্গে বিপুল পুণ্যার্থী সমাগম এবং রেলপথে মানুষের আগমন—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

    মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ

    দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী প্রতিটি মৃত পুণ্যার্থীর পরিবারের জন্য ৪ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন। মন্দিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরের ব্যারিকেড ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বেরিয়ে আসার পথ, নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।

    শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

    অশোকধাম মন্দিরের দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি অত্যন্ত ব্যথিত। এই শোকের সময়ে আমার ভাবনা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির সঙ্গে রয়েছে। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করছে (President Droupadi Murmu)।”

    প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেন। এক বার্তায় নীতীশ কুমার বলেন, “লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্টের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। দুর্ঘটনায় পুণ্যার্থীদের মৃত্যুর খবর আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি (Temple Stampede)।”

    শোক প্রকাশ রাজনাথের

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

    শ্রাবণ মাসে দেশের বিভিন্ন শিবমন্দিরে বিপুল পুণ্যার্থী সমাগম হয়। ফলে এই সময় মন্দিরগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পৃথক পথ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অশোকধাম মন্দিরের এই দুর্ঘটনা সেই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকেই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে। প্রশাসনের তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন (Temple Stampede) ঘটনা রুখতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, এখন সেদিকেই নজর সকলের (President Droupadi Murmu)।

     

  • BJP: ১০০ দিনে সরকারের খতিয়ান নিয়ে প্রচারে বিজেপি, শাহের সফর ঘিরে পদ্ম শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে

    BJP: ১০০ দিনে সরকারের খতিয়ান নিয়ে প্রচারে বিজেপি, শাহের সফর ঘিরে পদ্ম শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি (BJP) সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে ৪১ পাতার বিশেষ বই প্রকাশ করল বঙ্গ বিজেপি। ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংকল্প এবং সাফল্যের ১০০ দিন’ (Sankalp Achievements) শীর্ষক এই বইয়ে নয়া সরকারের প্রথম ১০০ দিনের বিভিন্ন কাজ, সামাজিক প্রকল্প, বিনিয়োগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রুখতে গৃহীত পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। বইয়ের প্রচ্ছদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনা, এই বইয়ের তথ্য নিয়েই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা।

    প্রথম ১০০ দিনের সাফল্য (BJP)

    রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যকে সামনে রেখে জনসংযোগ বাড়ানোই পদ্মশিবিরের মূল লক্ষ্য। নিউটাউনে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা কত মানুষ পেয়েছেন, রাজ্যে কত বিনিয়োগ এসেছে এবং উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রকাশিত বইটিতে এ সংক্রান্ত একাধিক পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার এই প্রকল্প চালু করেছে। সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২৮ লাখেরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছনোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, দেড় মাসের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মহিলা এই সুবিধা পেয়েছেন এবং যোগ্য বাকি প্রাপকদেরও প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পরে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

    একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

    শুধু অন্নপূর্ণা যোজনাই নয়, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, নারীকল্যাণ, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথাও বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। জুন মাসে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরগুলিতেও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, সুকন্যা সমৃদ্ধি, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা হয়েছিল (Sankalp Achievements)। শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যের হিসাব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পের সম্ভাবনা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতিকে সরকারের সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে বইয়ে উল্লিখিত মোট বিনিয়োগের অঙ্ক দলীয় প্রকাশনার পরিসংখ্যান হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে (BJP)।

    সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ

    সীমান্ত সুরক্ষাও এই প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি নতুন সরকারের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফকে দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। পরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৭২.৬ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে মোট ১,০২৪.৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ রোখার বিষয়টিও বিজেপির প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, বিএসএফকে জমি দেওয়া এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বারবার জানিয়েছে রাজ্য সরকার। দলীয় প্রকাশনায় কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বা এই বিষয়ে কতগুলি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও রাখা হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

    সংগঠন নিয়ে কড়া বার্তা

    ১০০ দিন পূর্তির এই প্রচারের পাশাপাশি সংগঠন নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নিউটাউনের প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তোলাবাজি বা কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল কোনওরকম আপস করবে না। শিবিরে তিনি বলেন, “বিধায়ক বা জেলা স্তরের কোনও নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি বা কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল তাঁকে বরখাস্ত করতে দ্বিধা করবে না।” এই বক্তব্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অনুমতি নিয়েই বলা হয়েছে বলেও জানান শমীক। দলীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে বিজেপির বিধায়কদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন দল ছেড়ে চলে গেলেও, সংগঠনের উপর তার বিশেষ প্রভাব পড়বে না—এমন বার্তাও শিবিরে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ব্যক্তির চেয়ে সংগঠনই যে বড়, এই অবস্থানও স্পষ্ট করতে চাইছেন রাজ্য নেতৃত্ব। ক্ষমতায় আসার পর দলের অভ্যন্তরে ‘শুদ্ধিকরণে’র যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার সঙ্গেও এই বার্তার যোগ রয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা (BJP)।

    দুর্নীতির অভিযোগে সাসপেন্ড বহু নেতা-কর্মী

    বিজেপির অন্দরে ইতিমধ্যেই একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপ, তোলাবাজি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সাসপেন্ডের সংখ্যা আড়াইশো ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে জেলা স্তরের সংগঠন নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে। কয়েকটি জেলায় সভাপতিরা সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও (Sankalp Achievements) দলের অন্দরে আলোচনা রয়েছে। সেই কারণেই খুব শীঘ্রই এক ডজনেরও বেশি জেলা সভাপতিকে সরিয়ে সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করা হতে পারে বলে খবর।

    বঙ্গ সফরে আসছেন শাহ!

    এমন আবহে শাহের সম্ভাব্য বঙ্গ সফর ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়ছে। বিজেপি সূত্রে খবর, তিন দিনের সফরে আগামী ২০ অগাস্ট কলকাতায় আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২১ ও ২২ অগাস্ট তাঁর একাধিক দলীয় ও সরকারি কর্মসূচি থাকতে পারে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সেই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। শুধু প্রশাসনিক বৈঠক নয়, শাহ নবান্নেও যেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। সেখানে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটি এবং রাজ্য কমিটির বর্ধিত বৈঠকেও উপস্থিত থাকতে পারেন শাহ। ফলে তাঁর সফরকে একই সঙ্গে প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পদ্ম নেতৃত্ব।

    বিজেপির অন্দরে তৎপরতা তুঙ্গে

    আগামী ১৯ অগাস্ট রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সেই উপলক্ষে একদিকে যেমন সরকারের কাজের প্রচারকে তৃণমূল স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে তেমনি সংগঠনের ভিতরে শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে (BJP)। ১০০ দিনের সাফল্যের খতিয়ান সম্বলিত বই সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি প্রচার, সামাজিক প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য তুলে ধরা, সীমান্ত সুরক্ষায় জমি হস্তান্তরের পরিসংখ্যান জানানো এবং সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। তার মধ্যেই শাহের সম্ভাব্য সফর এবং জেলা স্তরে সাংগঠনিক (Sankalp Achievements) রদবদলের জল্পনা—সব মিলিয়ে সরকারের ১০০ দিন পূর্তিকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপির অন্দরে তৎপরতা এখন তুঙ্গে (BJP)।

LinkedIn
Share