Tag: Bengali news

Bengali news

  • Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে গত পাঁচ দশকে যে পিছিয়ে পড়ার ছবি তৈরি হয়েছে, তা বদলে রাজ্যকে নতুন শিল্পায়নের পথে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে ‘টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সেই পরিস্থিতি বদলে পশ্চিমবঙ্গকে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা (Industrial Investment)। ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারে’র হাত ধরে রাজ্য উন্নয়নের নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    বিনিয়োগের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)

    শিল্পপতি, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী মহলের কাছে বাংলায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় রাজ্যে শিল্পের গতি কার্যত থমকে গিয়েছিল। এর জেরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির একাধিক সম্ভাবনা হাতছাড়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিগত ৫০ বছরে বাংলা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এখন ‘অমৃত কাল’ ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নেতৃত্বে আমরা শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছি। তোলাবাজি ও মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। বাংলা এখন এগোতে প্রস্তুত, তাই নির্ভয়ে এখানে বিনিয়োগ করুন।”

    অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন

    শিল্পায়নের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার সম্পর্কের বিষয়টিও এদিন গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে গুন্ডাগিরি, তোলাবাজি এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করা গেলে শিল্পপতিদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়বে। সেই আস্থা থেকেই নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং রাজ্যে শিল্পের প্রসার ঘটবে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল উন্নতি ঘটানো সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যেই রাজ্যের অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সেই সময়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের আকর্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমান সরকার মানুষের সরকার এবং নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ

    কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বস্ত্র ও চা শিল্পের প্রসার এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে রাজ্যের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী ২৪ থেকে ২৮ অগাস্ট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর রাজ্য সফরের সময় বস্ত্রশিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে শিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে সরাসরি আলোচনা হতে পারে বলেও জানান তিনি। বস্ত্রশিল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নতুন শিল্পায়নের পরিকল্পনার কথাও এদিন স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী তাঁত, পোশাক এবং বস্ত্রশিল্পকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, দ্রুত অনুমোদন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজতর ব্যবস্থা চালু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Industrial Investment)।

    ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’

    বিশেষ করে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বড় শিল্প প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগকারীদের যাতে একাধিক দফতর, পুরসভা বা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে অনুমোদনের জন্য ঘুরতে না হয়, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমে’র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্পপতিদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ এবং সময়সাশ্রয়ী করা হবে (Suvendu Adhikari)। জমি সংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি ক্রয় নীতি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে বলেও জানান রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। খুব শীঘ্রই নতুন ভূমি উন্নয়ন নীতি আনার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া আরও সরল করতে প্রয়োজনে বিধানসভায় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি, অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতা কমিয়ে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

    একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ

    রাজ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, লাক্স কোজি, আমূল, শ্যাম স্টিল এবং অমিত মেটালিক্স-সহ একাধিক সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর আগামী এক মাসের মধ্যে অন্তত ২৫ জন শিল্পপতির হাতে নতুন শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি (Suvendu Adhikari)। শিল্পায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টিকেও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, নতুন শিল্প হলে একদিকে যেমন বিনিয়োগ বাড়বে, তেমনই সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। এর ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পাবে এবং পশ্চিমবঙ্গ আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে (Industrial Investment)।

    বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরির আশ্বাস

    তাঁত ও বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে বাংলার ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক শিল্প কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজ্যের দীর্ঘদিনের তাঁতশিল্প ও পোশাক উৎপাদনকে আধুনিক প্রযুক্তি, বাজার এবং বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। প্রশাসনিক সংস্কার, দ্রুত অনুমোদন, জমি নীতির পরিবর্তন এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে বস্ত্রশিল্পে নতুন বিনিয়োগের দরজা খুলতে চাইছে রাজ্য সরকার। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সের মঞ্চ থেকে তাই একই সঙ্গে তিনটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী—শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো। তাঁর দাবি, এই তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনতে পারলে পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় শিল্প ও বিনিয়োগকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যে সেই (Industrial Investment) পরিবর্তনের প্রতিফলন রাজ্যের অর্থনীতিতে দেখা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (RG Kar Medical College) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলার (RG Kar Case) তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। তদন্তের ধীরগতি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের প্রশ্ন, “আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা? সবাই বিচার চাইছে, আর কতদিন অপেক্ষা করবে?”

    তদন্ত নিয়ে কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের (Kolkata High Court)

    শুনানির সময় বিচারপতিরা সিবিআই (CBI)-এর তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। আদালতের (Kolkata High Court) পর্যবেক্ষণ, “ঘটনার এতদিন পরেও তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে শুধু নির্যাতিতার পরিবার নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।”

    বিচারপতি শম্পা সরকারের বক্তব্য

    বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, “সিবিআই (CBI)-এর জমা দেওয়া রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট যে ঘটনাস্থলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে এবং মৃতদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ সেই বিষয়গুলিতে তদন্তে এখনও সন্তোষজনক অগ্রগতি নেই।”

    ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা?’

    আদালত সিবিআই (CBI)-কে নির্দেশ দিয়েছে, ঘটনার দিন ঠিক কী কী ঘটেছিল? তার পূর্ণ পুনর্নির্মাণ (রিকনস্ট্রাকশন) করতে হবে। আগের তদন্তের ত্রুটি সংশোধন করে নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশও দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। এ সময় বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআই-এর উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “আগের নির্দেশই যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে তদন্ত এগোবে কীভাবে? এইভাবে কতদিন একটি মামলাকে বিচারাধীন রেখে দেব?”

    সিবিআই-এর ভূমিকায় প্রশ্ন

    এদিন সওয়াল জবাবে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, “সিবিআই (CBI)-এর তদন্তে কোনও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। সিবিআই যদি নিজেদের অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করা বিষয়গুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করত, তাহলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারত। ঘটনার রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে আরও চারজন চিকিৎসক রাতের খাবার খেয়েছিলেন এবং গভীর রাতে ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত ১৬ জন ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে কোনও যোগসূত্র ছিল কি না? তা এখনও স্পষ্ট নয়। কেন এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি?” সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    সিবিআই-এর সাফাই

    সিবিআই (CBI)-এর পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, “নির্যাতিতার সঙ্গে শেষবার যিনি নৈশভোজ করেছিলেন, সেই জুনিয়র চিকিৎসকের এখনও বয়ান নেওয়া হয়নি। তবে সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোথাও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।” আশ্বাস আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর। পাশাপাশি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে আদালতের কাছে আরও সময় চান তিনি।

    ‘এটা কি পোস্টকার্ড পাঠানোর মতো সহজ?’

    সিবিআই (CBI)-এর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। সিবিআইয়ের আইনজীবীর জবাবের চরম কটাক্ষ বিচারপতি শম্পা সরকারের। ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, “একরাতের মধ্যে হঠাৎ করে একটা পরিকাঠামো ভেঙে পড়ল আর আপনারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার নাম করে ঢুকে পড়েছেন? তদন্তটা কি জলপাইগুড়ি জেলা থেকে একটা পোস্টকার্ড পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সহজ বিষয়?” মৃত্যুর প্রকৃত সময় কখন ছিল? সিবিআই কি তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পেরেছে? সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। আদালতের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তদন্তে কোনওরকম গাফিলতি বা শিথিলতা মেনে নেওয়া যায় না।

    ‘এটা নিম্ন আদালত নয়’

    শুনানির সময় সিবিআই (CBI) জানায়, তারা গত ৭ জুলাই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর কাছ থেকে মামলার নথি ও তদন্তভার গ্রহণ করেছে। এর জবাবে বিচারপতি শম্পা সরকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মনে রাখবেন, এটা নিম্ন আদালত নয়। আমরা পুরো বিষয়টির উপর সরাসরি নজরদারি করছি।” আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তদন্তের প্রতিটি ধাপের উপর কড়া নজর রাখবে হাইকোর্ট।

    পরবর্তী শুনানি ২৮ অগাস্ট

    দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের শেষে ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলায় আর কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের (Kolkata High Court) নির্দেশ অনুযায়ী নতুন তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে? কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? তার বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী ২৮ অগাস্ট জমা দিতে হবে সিবিআই (CBI)-কে। ওই দিনই মামলার (RG Kar Case) পরবর্তী শুনানি হবে।

  • Tarun Tejpal: সেশনস কোর্টের রায় খারিজ! ২০১৩-র যৌন নির্যাতন মামলায় দোষী তরুণ তেজপাল, ১০ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ

    Tarun Tejpal: সেশনস কোর্টের রায় খারিজ! ২০১৩-র যৌন নির্যাতন মামলায় দোষী তরুণ তেজপাল, ১০ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ে বড় মোড়। ২০১৩ সালের বহুল আলোচিত যৌন নির্যাতন মামলায় প্রাক্তন ‘তেহেলকা’ সম্পাদক তরুণ তেজপালকে (Tarun Tejpal) ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ (Bombay High Court)। ২০২১ সালে গোয়ার সেশনস কোর্ট যে খালাসের রায় দিয়েছিল, তা বাতিল করে তেজপালকে (Tarun Tejpal) দোষী সাব্যস্ত করেছে হাই কোর্ট। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি।

    কী অভিযোগ?

    ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তরুণ তেজপাল (Tarun Tejpal)। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের সময় হোটেলের লিফটে পরপর দু’দিন এক তরুণী সহকর্মী সাংবাদিককে যৌন নির্যাতন করেন তিনি। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধর্ষণ, যৌন হেনস্থা এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখার মতো একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়।

    সেশনস কোর্টে খালাস, হাইকোর্টে উল্টো রায়

    ২০২১ সালে গোয়ার সেশনস কোর্ট তেজপালকে বেকসুর খালাস দেয়। আদালতের মতে, অভিযোগ প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ প্রসিকিউশন তুলে ধরতে পারেনি। চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণের অভাব এবং অভিযোগকারিণী ও তেজপালের (Tarun Tejpal) মধ্যে হওয়া বার্তা আদান-প্রদানও সেই রায়ে গুরুত্ব পায়। এরপর ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাইকোর্টে যায় গোয়া সরকার। রাজ্যের দাবি ছিল, নিম্ন আদালত প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন করেনি। সেই যুক্তি মেনে হাই কোর্ট খালাসের রায় বাতিল করে তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে। বৃহস্পতিবার আদালত তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করে।

    কী বললেন তারুণ তেজপাল?

    রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তরুণ তেজপাল (Tarun Tejpal) বলেন, “আমরা অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টে যাব। তেহেলকা-র সাংবাদিকতার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।” তবে এই দাবি আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    তদন্তকারী অফিসারের প্রতিক্রিয়া

    মামলার প্রাক্তন তদন্তকারী অফিসার সুনীতা সাওয়ান্ত বলেন, “সেশনস কোর্টের রায়ে গুরুতর ত্রুটি ছিল বলেই রাজ্য সরকার আপিল করেছিল।” হাই কোর্ট সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখে সেই রায়ে থাকা অসঙ্গতিগুলি চিহ্নিত করেছে বলেও তাঁর দাবি।

    নতুন অধ্যায়, শেষ নয় আইনি লড়াই

    দেশের অন্যতম আলোচিত যৌন নির্যাতন মামলায় হাইকোর্টের এই রায় নিঃসন্দেহে বড় আইনি মোড়। তবে মামলার পর্দা এখনও নামেনি। সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তরুণ তেজপাল (Tarun Tejpal)। ফলে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতেই এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী লড়াইয়ের দিকে নজর থাকবে।

  • WB Pollution Control Board: মাইক নয়, কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স! ধর্মীয় স্থানে মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কড়া রাজ্য, জেলায় জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা

    WB Pollution Control Board: মাইক নয়, কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স! ধর্মীয় স্থানে মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কড়া রাজ্য, জেলায় জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শব্দদূষণ (Noise Pollution) রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত বিজেপি সরকার (WB Govt)। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এবার মাঠে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দদূষণ (Noise Pollution) সংক্রান্ত বিধি (Loudspeaker Rules) কঠোরভাবে কার্যকর করতে শুরু হয়েছে অভিযান। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ছাদের লাউডস্পিকার সরিয়ে কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগের পর ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় মসজিদ থেকে উচ্চ ক্ষমতার মাইক খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, এতে ধর্মীয় কার্যক্রমে কোনও বাধা তৈরি হবে না, একই সঙ্গে শব্দদূষণও (Noise Pollution) নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

    কী নির্দেশ দিয়েছে সরকার?

    রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (WB Pollution Control Board) নির্ধারিত শব্দসীমা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সেই নিয়ম অনুযায়ী- আবাসিক এলাকায় দিনের বেলা সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ করা যাবে। রাতের বেলা শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন জেলার পুলিশ প্রশাসন মসজিদ কমিটিগুলির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। সেখানে ছাদের উচ্চ ক্ষমতার লাউডস্পিকারের পরিবর্তে কম মাত্রার সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের জবাব

    সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF) এবং কয়েকটি সংখ্যালঘু সংগঠনের অভিযোগ, শুধুমাত্র মসজিদগুলিকেই লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসনের দাবি, এই নির্দেশ কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের জন্য নয়। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (WB Pollution Control Board)  নিয়ম অনুযায়ী মন্দির, মসজিদ-সহ সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেই একই আইন মেনে চলতে হবে।

    কী বললেন মন্ত্রীরা?

    পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজ্যের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে শব্দবিধি মেনে চলতেই হবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapash Roy)-ও সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সরকারের নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আইন সবার জন্য সমান এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনও ভেদাভেদ করা হবে না।”

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আগেই জানিয়েছেন, “ধর্মীয় প্রার্থনা নিজ নিজ উপাসনালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। রাস্তা দখল করে বা সাধারণ মানুষের অসুবিধা তৈরি করে কোনও ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

    শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য

    এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “মসজিদে নামাজ পড়ুন, মন্দিরে মন্ত্রপাঠ করুন। মাইক বাজানোর দরকারটাই বা কী?  ধর্ম করুন বাড়িতে। কোনও আপত্তি নেই।” শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এই অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কোনও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করা নয়, বরং আদালতের নির্দেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিধি মেনে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা। প্রশাসনের বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান- মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা অন্য যে কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, প্রত্যেককেই একই নিয়ম মেনে চলতে হবে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের শব্দদূষণজনিত ভোগান্তি কমবে, তেমনই পরিবেশ রক্ষায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

  • Caste Certificate Reverification: ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটে বড় পদক্ষেপ! প্রশাসনের নজর ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্রে

    Caste Certificate Reverification: ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটে বড় পদক্ষেপ! প্রশাসনের নজর ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্রে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্রের বিরুদ্ধে বড় অভিযান শুরু হয়েছে। গত ১৫ বছরে ইস্যু হওয়া কাস্ট সার্টিফিকেট খতিয়ে দেখে একের পর এক অসঙ্গতি সামনে আসছে বলে নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর। এবার তৃণমূল আমলে গত প্রায় ১৫ বছরে ইস্যু হওয়া জাতিগত শংসাপত্র (কাস্ট সার্টিফিকেট) নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নির্দেশে শুরু হয়েছে ব্যাপক পুনর্যাচাই (Caste Certificate Reverification)। ইতিমধ্যেই বহু শংসাপত্র বাতিল হয়েছে, আর সন্দেহের তালিকায় রয়েছে ৪৫ হাজারেরও বেশি কাস্ট সার্টিফিকেট। শুনানির পর প্রমাণ দিতে না পারলে সেগুলিও বাতিল হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    ১ লক্ষের বেশি কাস্ট সার্টিফিকেটের পুনর্যাচাই

    অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ১,২২,১১৭টি জাতিগত শংসাপত্র পুনর্যাচাই (Caste Certificate Reverification) করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬,৭৫০টি (প্রায় ৬২.৮ শতাংশ) শংসাপত্র বৈধ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে যাচাই চলাকালীন একের পর এক অসঙ্গতি সামনে এসেছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

    ইতিমধ্যেই বাতিল ১৩৫টি শংসাপত্র

    যাচাইয়ের পর এখনও পর্যন্ত ১৩৫টি কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-  ৮৩টি তফসিলি জাতি (SC), ৪১টি তফসিলি জনজাতি (ST) ও ১১টি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC)। এছাড়াও আরও ২৯টি শংসাপত্রকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    কোন কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বাতিল?

    বাতিল হওয়া শংসাপত্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে- উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহার, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান। এই জেলাগুলিতেই সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে বলে নবান্ন (Nabanna) সূত্রের দাবি। বর্তমানে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় নজর ৪৫,৩৬৭টি কাস্ট সার্টিফিকেটের উপর। এগুলিকে সন্দেহজনক তালিকায় রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের একে একে শুনানিতে ডাকা হবে। সেখানে তাঁদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। যদি কেউ বৈধ নথি দেখাতে না পারেন, তাহলে সেই কাস্ট সার্টিফিকেটও অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করা হবে। এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক শংসাপত্র?

    সন্দেহের তালিকায় থাকা শংসাপত্র সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে— উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, হুগলি, মালদহ, বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলাগুলির শংসাপত্র বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই শুরু হয় অভিযান

    নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, গত কয়েক বছরে ইস্যু হওয়া কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুনর্যাচাইয়ের (Caste Certificate Reverification) নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর রাজ্যজুড়ে এই বিশেষ যাচাই অভিযান শুরু করে। প্রশাসনের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতেই এই পুনর্যাচাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যাঁরা ভুয়ো বা অবৈধভাবে জাতিগত শংসাপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Tata Motors: টাটার সঙ্গে বরফ গলছে! ৭৬৬ কোটি ক্ষতিপূরণ মেটাতে উদ্যোগ, বিনিয়োগেও জোর শুভেন্দু সরকারের

    Tata Motors: টাটার সঙ্গে বরফ গলছে! ৭৬৬ কোটি ক্ষতিপূরণ মেটাতে উদ্যোগ, বিনিয়োগেও জোর শুভেন্দু সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিঙ্গুরের পরিত্যক্ত কারখানার জমি, রাজনৈতিক আন্দোলন আর দীর্ঘ দেড় দশকের তিক্ত আইনি যুদ্ধ- সবকিছু পিছনে ফেলে অবশেষে বরফ গলতে শুরু করেছে কলকাতা থেকে মুম্বইয়ের অন্দরে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে টাটা গোষ্ঠীর (Tata Motors) সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর রাজ্য শিল্প মহলে এখন এক নতুন আশার আলো। অতীত সংঘাতের তিক্ততা ভুলে গিয়ে ফের কি বাংলায় বড় বিনিয়োগের পথে হাঁটবে টাটা গোষ্ঠী? শিল্প মহলে এখন এটাই সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।

    মুম্বইয়ে বৈঠক, আলোচনায় ক্ষতিপূরণ ও বিনিয়োগ

    সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগম (WBIDC)-এর প্রতিনিধিরা এবং রাজ্যের শিল্প দপ্তরের সচিব বন্দনা যাদব মুম্বইতে টাটা গোষ্ঠীর (Tata Motors) সদর দফতরে গিয়ে এক দফায় দীর্ঘ বৈঠক সেরে এসেছেন। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আলোচনার পিছনে মূলত দুটি বড় উদ্দেশ্য ছিল- প্রথমত, আর্বিট্রেশন ট্রাইবুনালের নির্দেশ মেনে টাটাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ মেটানোর প্রশাসনিক রূপরেখা তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, অতীতের জটিলতা দূরে সরিয়ে নতুন করে পশ্চিমবঙ্গে টাটাদের (Tata Motors) শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।

    সিঙ্গুর (Singur) আন্দোলন থেকে সুপ্রিম কোর্ট

    সিঙ্গুর (Singur) ও টাটাদের (Tata Motors) এই আইনি লড়াইয়ের মূল শিকড় লুকিয়ে রয়েছে দেড় দশক আগের রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনে-

    ২০০৬-এর অধিগ্রহণ ও ২০০৮-এর প্রস্থান: ২০০৬ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার সিঙ্গুরে  (Singur) অত্যন্ত সুলভ মূল্যের ১ লাখ টাকার ‘ন্যানো’ গাড়ি কারখানার জন্য কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে টাটা মোটর্সকে (Tata Motors) হস্তান্তর করে। তবে জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতি ও অনিচ্ছুক চাষিদের স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আন্দোলনের চাপে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ২০০৮ সালের পুজোর ঠিক আগে বাংলা ছেড়ে গুজরাতে কারখানা স্থানান্তরের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন টাটার তৎকালীন প্রধান রতন টাটা (Ratan Tata)।

    ২০১১-র রাজ্য রাজনীতিতে বদল ও জমি ফেরত: ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদল হয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। সরকার গড়েই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিঙ্গুরের (Singur) জমি চাষিদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চাষিরা জমি ফেরত পেলেও কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কারখানা গড়তে না পারায় চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ে টাটা গোষ্ঠী (Tata Motors)।

    আইনি লড়াই ও ২০২৩-এর আইনি নির্দেশ: এই ক্ষতির প্রতিকার চেয়ে আইনি লড়াইয়ে নামে টাটা মোটর্স (Tata Motors)। আইনি প্রক্রিয়া গড়ায় আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে। সেখানে রাজ্যের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হলে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে, কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত তা খারিজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের অক্টোবরে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেয়- সিঙ্গুরের ন্যানো গাড়ি প্রকল্পের ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাজ্য সরকারকে টাটা মোটর্সকে মেটাতে হবে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত বার্ষিক ১১ শতাংশ হারে সুদ গুণতে হবে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমকে। এর পাশাপাশি নিগমকে আরও ১ কোটি টাকা মামলার আইনি খরচ হিসেবে টাটাদের মেটাতে হবে।

    তৃণমূল আমলের আইনি স্থগিতাদেশ: তৎকালীন তৃণমূল সরকার আলোচনার মাধ্যমে এই সঙ্কট নিষ্পত্তির পথে না গিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। শিল্পোন্নয়ন নিগমকে সামনে রেখে কলকাতা হাইকোর্টে আপিল পিটিশন করা হলে বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালের রায়ের উপর ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। ফলে ক্ষতিপূরণের পাওনা নিয়ে দীর্ঘ জটিলতা তৈরি হয়।

    নতুন সরকারের গতিশীল কূটনীতি

    চলতি বছরের মে মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরো আইনি অচলাবস্থা কাটানোর জন্য অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে নতুন সরকার। পুরনো তিক্ততা ধরে না রেখে আলোচনার টেবিলে বসে জটিলতা কাটানোর উদ্যোগ নেয় নবান্ন।

    প্রায় ৭৬৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ নিয়ে কী আলোচনা? কলকাতা হাইকোর্টে চলতে থাকা মামলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যেই মুম্বইতে টাটাদের সদর দফতরে যান রাজ্যের শিল্প সচিব বন্দনা যাদব (Bandana Yadav)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টাটাকে সিঙ্গুরের (Singur) জমির ক্ষতিপূরণ মেটাতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মানতে রাজি রাজ্য সরকার। নবান্ন (Nabanna) সূত্রের খবর, টাটার পাওনা এই বিশাল অঙ্কের অর্থ কীভাবে এবং কতদিনের মধ্যে মেটানো হবে, সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ ‘গাইডলাইন’ বা নীতিমালা প্রস্তুত করেছে নবান্ন।

    সমঝোতার পথে দুই পক্ষ? সম্পর্কের এই সুবাতাসকে আরও এগিয়ে নিতে রাজ্য সরকার পূর্ণ প্রস্তুত। টাটা (Tata Motors) কর্তৃপক্ষ সম্মত হলেই রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapash Roy) সরকারি শীর্ষ আধিকারিকদের একটি উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে নিজে মুম্বই গিয়ে টাটাদের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে রাজি আছেন।

    পাখির চোখ বাংলায় নতুন বিনিয়োগ

    নবান্নের (Nabanna) একাংশের মতে, শুধুই পুরানো একটি প্রকল্পের বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়া এই উদ্যোগের শেষ কথা নয়। রাজ্যের নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বৃহৎ শিল্প বিনিয়োগ টানতে বড় বড় কর্পোরেট হাউসের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখা। মুম্বইয়ের বৈঠকে টাটাদের সামনে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শিল্পনীতি, উন্নত অবকাঠামো, সুসংহত লজিস্টিক সুবিধা এবং আগামী দিনের বিনিয়োগের নানা সুযোগ বিশদে তুলে ধরা হয়েছে। পুরোনো সমস্ত জটিলতা দূর করে নতুন কোনো মেগা প্রজেক্টে অংশ নেওয়ার জন্য টাটাদের ইতিবাচক আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও এই বৈঠক বা আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে রাজ্য সরকার কিংবা টাটা গোষ্ঠীর (Tata Motors) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য বা স্পষ্ট বিবৃতি জারি করা হয়নি, তবে সরকারি সূত্রের দাবি- উভয় পক্ষই পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের মামলা নিষ্পত্তি করতে এবং শিল্পায়নের স্বার্থে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

  • India: বিদেশে পালিয়েও রেহাই নেই, ৩৬ দেশ থেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে ২৭৪ পলাতককে, জানাল কেন্দ্র

    India: বিদেশে পালিয়েও রেহাই নেই, ৩৬ দেশ থেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে ২৭৪ পলাতককে, জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশে পালিয়ে গিয়ে আইনের হাত থেকে দীর্ঘদিন রেহাই পাওয়ার দিন শেষ হতে (India) চলেছে। বিজয় মাল্যর লন্ডনে পৌঁছে যাওয়া, ব্রিটেনে নীরব মোদির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াই কিংবা আমেরিকা থেকে ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত তাহাউর হুসেন রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া—এই ধরনের ঘটনায় বহুদিন ধরেই দেশে প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া (Fugitives) অপরাধীদের কি আদৌ ভারতীয় আইনের আওতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব? দীর্ঘদিন ধরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের দেশে ফেরাতে সরকারের প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কৌশলের অভাব রয়েছে। তবে সংসদে পেশ করা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই ধারণার সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক অপরাধী, সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত, সংগঠিত অপরাধী, গ্যাং সদস্য এবং খুন, ধর্ষণ, পকসো আইন লঙ্ঘন, মাদক পাচার ও সাইবার অপরাধের মতো গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

    মামলা চলত বছরের পর বছর (India)

    লন্ডন, দুবাই, কানাডা, আমেরিকা কিংবা অন্য কোনও দেশে বসে থাকা অপরাধীরা বহু বছর ধরে ভারতীয় আইনের নাগালের বাইরে থেকে যেতেন। আদালতে মামলা চলত বছরের পর বছর, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকতেন ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে বিদেশি সরকারের সঙ্গে লাগাতার চিঠিপত্র চালাচালি করতে হত। সময় যত গড়াত, মামলার নথি ততই বাড়ত, এবং অনিশ্চয়তাও গভীর হত। ফলে দেশে বারবার প্রশ্ন উঠত—বিদেশের মাটি থেকে কি আদৌ অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে পারবে ভারত? এই জায়গায়ই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছিল। সমালোচকদের দাবি ছিল, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার মতো দৃঢ়তা সরকারের নেই। কিন্তু সরকারের পেশ করা তথ্য বলছে অন্য কথা। সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকনির্দেশনায় ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    আগের ব্যবস্থার দুর্বলতাই ছিল বড় বাধা

    সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগে ভারতের প্রত্যর্পণ ব্যবস্থায় একাধিক সমস্যা ছিল। প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনগুলি অনেকটাই পুরনো হয়ে গিয়েছিল এবং বর্তমান সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে সেগুলির সামঞ্জস্য ছিল না। অর্থনৈতিক অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য নির্দিষ্ট আইনও ছিল না। বিভিন্ন মন্ত্রক ও তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও কাঠামোগত ঘাটতি ছিল। বিদেশি আদালতে জমা দেওয়া নথি অনেক সময় অসম্পূর্ণ থাকত। বিভিন্ন দেশের আলাদা আইনি কাঠামো ও নিয়ম মেনে নথি তৈরির জন্য কোনও অভিন্ন ব্যবস্থা ছিল না। এর ফলে ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে মাত্র চারজন পলাতককে ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। একই সময়ে ১১০টি প্রত্যর্পণ অনুরোধ ঝুলে ছিল। অনেক ক্ষেত্রে “দ্বৈত অপরাধ” এবং “একই অপরাধে দু’বার বিচার না করার নীতি”-র মতো আইনি যুক্তিতে ভারতের আবেদন খারিজ হয়ে যেত। ফলে বহু অভিযুক্ত বছরের পর বছর বিদেশের মাটিতে আইনের নাগালের বাইরে থেকে যেতেন।

    রাজনৈতিক সদিচ্ছায় বদলেছে কৌশল

    সরকারের দাবি, ২০১৪ সালের পর পলাতক অপরাধীদের দেশে ফেরানোর বিষয়টিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই বিষয়টিকে জাতীয় অগ্রাধিকারের পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকনির্দেশনায় গড়ে তোলা হয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—বিশ্বব্যাপী অভিযান, শক্তিশালী সমন্বয় এবং কৌশলী কূটনীতি।এর ভিত্তিতে বিদেশমন্ত্রক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, রাজ্য পুলিশ, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা এবং বিদেশি সরকারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রত্যর্পণের আবেদনও আগের তুলনায় আরও পেশাদার পদ্ধতিতে তৈরি করা শুরু হয়। যে দেশের আদালতে আবেদন করা হচ্ছে, সেই দেশের নির্দিষ্ট আইনি প্রয়োজন অনুযায়ী নথি প্রস্তুত করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী লিখিত নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়, যাতে বিদেশি আদালতে ভারতের বক্তব্য আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা যায়।

    অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বড় অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার শক্তিশালী আইনি ভিত্তি তৈরি হয় (Fugitives)। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল, অর্থনৈতিক অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া। সরকারের মতে, আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে এই আইন। ২০১৯ সালে জাতীয় তদন্ত সংস্থা আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনেও সংশোধন করা হয়। এর ফলে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার পরিধি শুধু সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিদেশে থাকা সন্ত্রাসবাদী, তাদের বিদেশি নিয়ন্ত্রক, অর্থ জোগানের নেটওয়ার্ক এবং সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়ে (India)।সরকারের বক্তব্য, আধুনিক সন্ত্রাসবাদ কোনও দেশের সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর্থিক নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের কারণে সন্ত্রাস মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সেই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হয়েছে।

    নতুন তিন ফৌজদারি আইনে নতুন পথ

    ২০২৪ সালে কার্যকর হওয়া তিনটি নতুন ফৌজদারি আইনে পলাতক অপরাধীদের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫৫ ও ৩৫৬ ধারায় প্রথমবারের মতো অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেও বিচার চালানোর বিধান আনা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনও পলাতক ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বিচারপ্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে আদালত বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। সরকারের ধারণা, এর ফলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে এবং মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে।

    আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ভারতের জোর

    ২০২২ সালে ভারত আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার ৯০তম সাধারণ পরিষদের আয়োজন করে। সেই মঞ্চ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় তিনটি নীতির কথা তুলে ধরেন—যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয়।সরকারের বক্তব্য, দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান, পারস্পরিক আস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সহযোগিতাও আরও জোরদার হয়। ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনার ফলে একাধিক মামলায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও গতি পায়।

    তথ্য নেটওয়ার্কের নতুন মেরুদণ্ড ‘ভারতপোল’

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘ভারতপোল’ চালু করেন। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, রাজ্য পুলিশের সদর দফতর, জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে একটি বিস্তৃত তথ্য পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে (India)। বর্তমানে ১,৪০০-র বেশি সংস্থা এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। আগে যে তথ্য পেতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগত, বহু ক্ষেত্রে এখন তা তিন থেকে দশ দিনের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আদানপ্রদান করা হচ্ছে। তথ্যপ্রবাহের এই গতি প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত মামলার প্রস্তুতিকে আরও সুসংগঠিত করেছে (Fugitives)।

    প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধীদের খোঁজ

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীরা অনেক সময় পরিচয় বদলায়, নতুন নথি ব্যবহার করে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে জায়গা পরিবর্তন করে আইনকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে প্রচলিত তদন্তপদ্ধতি অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল গ্রহণ করেছে ভারত। ‘অপারেশন ত্রিশূলে’র মাধ্যমে উপগ্রহ প্রযুক্তি, ডিজিটাল গতিবিধির বিশ্লেষণ, নজরদারি এবং অপরাধীদের গতিবিধির মানচিত্র তৈরির মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিদেশে লুকিয়ে থাকা পলাতকদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে। অপরাধীদের ডিজিটাল কর্মকাণ্ড, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াত বিশ্লেষণ করে তাদের প্রকৃত অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। বিদেশে নাম বা পরিচয় বদলানোর চেষ্টা করলেও, ডিজিটাল চিহ্ন এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনেকের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

    রেড নোটিশ জারিতে গতি

    অপরাধীদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার রেড নোটিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পুলিশের মধ্যে অভিযুক্ত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ তৈরি হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রেড নোটিশ জারির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেখে নেওয়া যাক ছোট্ট একটা পরিসংখ্যান:
    ২০২২ সালে — ৪০টি
    ২০২৩ সালে — ১০০টি
    ২০২৪ সালে — ১০৭টি
    ২০২৫ সালে — ১১২টি
    ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত — ১৮২টি

    গত তিন বছরে মোট ৪০১ জন পলাতক অপরাধীর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়েছে। সরকারের মতে, এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতাকে তদন্ত কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলেছে ভারত (India)।

    অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী পদক্ষেপ

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে অর্থ ও সম্পত্তির বিষয়টিকেও কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করেছে কেন্দ্র। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত মোট ১৭,৮৭৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে (Fugitives)। একই সময়ে ১৮,৭৬২ কোটি টাকা সফলভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত অর্থও রয়েছে। অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ সুরক্ষিত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সরকার।

    বিদেশে পলাতকদের ধরতে বিশেষ কেন্দ্র

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বিদেশে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের খুঁজে বের করতে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক অভিযান কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে এই কেন্দ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। এছাড়া রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যেও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে তথ্য আদানপ্রদানের গতি আরও বেড়েছে।

    ২৭৪ পলাতক ফেরত, কোন অপরাধে কতজন?

    ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে মোট ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গুরুতর বিভিন্ন অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এই তালিকায় রয়েছেন। অপরাধের ধরন অনুযায়ী পরিসংখ্যান বলছে, খুন, ডাকাতি ও হিংসাত্মক অপরাধের মামলায় সর্বাধিক ৬২ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং পকসো-সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ৫৩ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সংগঠিত অপরাধ, গ্যাং-সংক্রান্ত কার্যকলাপ এবং তোলাবাজির মামলায় ৪২ জনকে দেশে ফেরানো হয়েছে। মানবপাচার ও অপহরণের মামলায় ১৮ জন, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, দেশবিরোধী কাজ এবং মাদক-সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত ১৭ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মাদকদ্রব্য ও মাদক পাচারের মামলায় অভিযুক্ত ১৬ জনও দেশে (India) ফিরেছেন। সাইবার অপরাধ, জাল নোট এবং নিষিদ্ধ পণ্য পাচারের মতো অপরাধে অভিযুক্ত ১২ জন এবং অর্থনৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত ৯ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    বছরভিত্তিক প্রত্যর্পণের গতি

    বিদেশ থেকে পলাতকদের দেশে ফেরানোর পরিসংখ্যানেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০১৯ সালে ৯ জন, ২০২০ সালে ৭ জন, ২০২১ সালে ২৩ জন, ২০২২ সালে ৪০ জন, ২০২৩ সালে ৩৭ জন, ২০২৪ সালে ৪৩ জন, ২০২৫ সালে ৭০ জন এবং ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৪৫ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আইনি প্রস্তুতির উন্নতি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলেই এই সাফল্য এসেছে। বিশেষ করে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পলাতকদের দেশে ফেরানোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Fugitives)।

    তাহাউর রানার মামলা: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের নজির

    আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত মামলাগুলির মধ্যে তাহাউর হুসেন রানার প্রত্যর্পণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। আমেরিকা থেকে তাকে ভারতে ফেরাতে দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক লড়াই চালিয়েছে ভারত। সরকারের মতে, এই মামলা প্রমাণ করে যে জটিল সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায়ও দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক আলোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। জম্মু ও কাশ্মীর-সংক্রান্ত একাধিক মামলায়ও বিদেশে থাকা পলাতক এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সীমান্তপারের কার্যকলাপে সহায়তার চেষ্টা সামনে এসেছে। এই ধরনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

    ‘সমগ্র সরকার’ মডেলে একযোগে অভিযান

    পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একাধিক সংস্থা একযোগে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা ব্যুরো, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখা, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিদেশমন্ত্রক, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো, জিএসটি গোয়েন্দা দফতর এবং বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ। সরকার এই ব্যবস্থাকে “সমগ্র সরকার” মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই ব্যবস্থায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা একটি অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে একসঙ্গে কাজ করে (India)।

    ভবিষ্যৎ কৌশলে নয়া নজর

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গোয়েন্দা ব্যুরোর বহু-সংস্থা কেন্দ্রের অধীনে একটি স্থায়ী বিশেষ গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পলাতকদের চিহ্নিত করা, মামলার নথির অভিন্ন কাঠামো তৈরি করা, তথ্যের ঘাটতি দূর করা, বিদেশি সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং রাজ্যগুলিকে জাতীয় স্তরে সাহায্য করা (Fugitives)।  সব মিলিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভারতের বর্তমান কৌশলের মূল বার্তা স্পষ্ট—দেশে অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে গেলেই আইনের নাগালের বাইরে থাকা যাবে না। ২৭৪ জন পলাতককে দেশে ফিরিয়ে আনা, ৪০১টি রেড নোটিশ জারি, হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও পুনরুদ্ধার, ‘ভারতপোলে’র মতো ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি বৃদ্ধির ঘটনা প্রমাণ করে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় ভারত তার কৌশল আরও বিস্তৃত করেছে। বিদেশে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের উদ্দেশে সরকারের বার্তা এখন স্পষ্ট—অপরাধ করে ঠিকানা বদলালেই অপরাধ মুছে যায় না। কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশের মাটি থেকে পলাতক অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে (India) যাবে।

     

  • Shakib Al Hasan: হাসিনার ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দিতেই শাকিবের বাড়িতে ‘পেট্রলবোমা হামলা’! বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

    Shakib Al Hasan: হাসিনার ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দিতেই শাকিবের বাড়িতে ‘পেট্রলবোমা হামলা’! বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক শাকিব আল হাসানের (Shakib Al Hasan) মাগুরার বাড়িতে পেট্রলবোমা হামলার অভিযোগ। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাড়িতে (Bangladesh) কেউ ছিলেন কি না, তা জানা যায়নি। হামলায় কেউ আহতও হননি।

    শাকিবের বাড়িতে হামলা (Shakib Al Hasan)

    স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ শাকিবের বাড়িতে হামলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বাড়িতে ইট-পাটকেল ছুড়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করে, পরে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার সময় বাড়িতে পেট্রলবোমাও ছোড়া হয়। যদিও পুলিশ পেট্রলবোমা ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “কয়েকজন দুষ্কৃতকারী বাড়িতে ইটের টুকরো ছুড়ে জানালা ভাঙচুর করেছে। তারা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেছে।” হামলার সময় শাকিবের বাড়ির বাইরে আতশবাজির মতো বিকট শব্দ শোনা যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকেও প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে শাকিবের বাড়ির বাইরে আতশবাজির মতো শব্দ। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম।  শাকিব মাগুরা-১ কেন্দ্রের প্রাক্তন আওয়ামি লিগ সংসদ। ঘটনার পর তাঁর বাড়ির বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীরা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ

    শাকিবের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে দিল্লি থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল ভাষণে অংশ নেওয়া একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে শাকিবের যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই। দক্ষিণ এশিয়ার বিদেশি সংবাদদাতাদের সংগঠনের উদ্যোগে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন মোকাবিলায় তাঁর সরকারের ভূমিকার পক্ষে সাফাই দেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ছিল না, ছিল সুপরিকল্পিতভাবে সরকার পরিবর্তনের একটি ছক। অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেন। অভিযোগ, কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার না করার ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছিল।আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানে শাকিবের অংশগ্রহণের কারণেই তাঁর বাড়িতে হামলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও হামলার সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানের কোনও যোগসূত্রের প্রমাণ পায়নি। হামলাকারীদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি (Bangladesh)।

    রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিতর্কে শাকিব

    বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত শাকিব দীর্ঘদিন ধরেই দেশের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ নাম। তবে আওয়ামি লিগের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যোগ থাকায় তিনি একই সঙ্গে বিতর্কিতও হয়ে উঠেছেন (Shakib Al Hasan)।২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামি লিগের প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ নির্বাচিত হন শাকিব। বিরোধী একাধিক দল ওই নির্বাচনকে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন হিসেবে সমালোচনা করেছিল। ওই বছরের অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়। বুধবারের বক্তব্যে হাসিনা তাঁর দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও, বাংলাদেশে ফেরার আসার ইচ্ছার কথাও ফের জানান তিনি। এই পরিস্থিতিতে হাসিনার ওই অনুষ্ঠানে শাকিবের অংশগ্রহণ আওয়ামি লিগের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক এখনও অব্যাহত থাকার বিষয়টিকে প্রকাশ্যে এনেছে।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফেরেননি শাকিব

    হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে শাকিব আর বাংলাদেশে ফেরেননি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায়ও তাঁকে একাধিক অভিযুক্তের সঙ্গে আসামি করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক একাধিকবার বলেছেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এবং হয়রানি থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় বসবাস করছেন শাকিব। সেখান থেকেই বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলছেন। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের মতো প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।বাংলাদেশ (Bangladesh) ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য আগে একবার জানিয়েছিল, জাতীয় দলে শাকিবের ফেরার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি (Shakib Al Hasan)।

     

  • Sheikh Hasina: “গ্রেফতার বা মৃত্যুভয় আমাকে কর্তব্য থেকে সরাতে পারবে না”, বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়ে বললেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: “গ্রেফতার বা মৃত্যুভয় আমাকে কর্তব্য থেকে সরাতে পারবে না”, বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়ে বললেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দু’বছর পরে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফেরার কথা ঘোষণা করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বুধবার এক প্রকাশ্য ভাষণে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান তিনি। ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরে ঢাকা ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে বলে কবুল করেছেন হাসিনা। তবে কোনও ভয়ই তাঁকে দেশে ফেরা থেকে বিরত রাখতে পারবে না বলেও দৃঢ়ভাবে জানান তিনি।

    ‘হত্যাও করা হতে পারে’ (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, “আমাকে জেলে পাঠানো হতে পারে, এমনকি হত্যাও করা হতে পারে। কিন্তু মানুষের প্রতি আমার কর্তব্য কী হবে, তা ভয় দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছি এবং ছ’বছর নির্বাসনে কাটিয়েছি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই, আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।” দেশে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসিনা জানান, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা ফের প্রতিষ্ঠিত করা এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, শান্তি ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য। ক্ষমতায় ফেরার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন তিনি।

    ‘আমি ফিরতে চাই’

    প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ফিরতে চাই, কারণ বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং শান্তির অধিকারী। তারা এমন একটি রাষ্ট্র পাওয়ার অধিকারী, যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন তারা দেখেছিল এবং এমন একটি অর্থনীতি পাওয়ার অধিকারী, যা তাদের সামনে সুযোগ তৈরি করবে। আমার ফেরা ক্ষমতার জন্য নয়, বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের জীবনযাত্রার উন্নতিতে সাহায্য করতে ফিরতে চাই। সমস্ত ক্ষমতার উৎস হল জনগণ।” দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও, দেশের মানুষের সঙ্গে তাঁর কখনও বিচ্ছেদ ঘটেনি বলেও দাবি করেন হাসিনা। বলেন, “গত দু’বছর ধরে আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশকে কষ্ট পেতে দেখেছি… এ সেই বাংলাদেশ নয়, যে বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছিলাম। এ সেই বাংলাদেশও নয়, যার জন্য ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।”

    ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল না

    ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন নিয়ে হাসিনা জানান, তাঁর সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া সেই (Bangladesh) আন্দোলন কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর দাবি, ছাত্রদের সামনে রেখে হিংসা ও সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়েছিল। হাসিনা বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের সত্যটা আমি আপনাদের জানাতে চাই। এটি কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। এটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র প্রতিবাদও ছিল না।” আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমালোচনা প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মানুষের জীবন এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব (Sheikh Hasina)। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, “যখন পুলিশ ও সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া হয় এবং সেগুলি লুট করা হয়, তখন মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করার কি রাষ্ট্রের কোনও দায়িত্ব নেই?” হাসিনা জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই হিংসার ঘটনার তদন্ত এবং প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করার জন্য তিনি একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলেন। তিনি বলেন, “উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করা।”

    ভারতকে ‘চিরকালের বন্ধু’ বললেন হাসিনা

    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কথাও উঠে আসে হাসিনার বক্তব্যে। প্রতিবেশী দেশ ভারতকে তিনি “মহান বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে ভারত সরকার অবগত কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “তিনি দেশে ফিরতে চান—এই খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে। তাই ভারতের সকলেই এ বিষয়ে জানবেন।” গত দু’বছর ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গে জয় বলেন, তাঁকে একজন সরকারপ্রধানকে যে মর্যাদা ও নিরাপত্তা দেওয়া হয়, সেই মর্যাদা ও নিরাপত্তাই দেওয়া হয়েছে (Sheikh Hasina)। তিনি বলেন, “ভারত তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধানের মতো মর্যাদা দিচ্ছে এবং তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করছে। তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের মতো পূর্ণ নিরাপত্তায় এখানে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়েছে (Bangladesh)।”

    বাংলাদেশের ক্ষোভ

    হাসিনার এই বক্তব্যের পর দিল্লিতে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ভারত সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে হাসিনাকে “পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারী” বলে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছে, তাঁকে দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে “বিষোদ্গার” করেছেন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগে থেকেই ভারত সরকারকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি প্রকাশ্যে আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে (Sheikh Hasina)।

    ভারতের বক্তব্য

    তবে মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের যে যোগাযোগের কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আপনারা যে যোগাযোগের কথা বলছেন, সেটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করছে। এর সঙ্গে সরকারের কোনও ধরনের সম্পৃক্ততা নেই (Bangladesh)। ওই মঞ্চে যে মতামত প্রকাশ করা হবে, সরকার তার (Sheikh Hasina) কোনওটিই সমর্থনও করে না।”

     

  • Bangladeshi Detained: নথি যাচাইয়ে বড় সাফল্য! জম্মু-কাশ্মীরে ২১, দিল্লিতে ৬ সন্দেহভাজন বাংলাদেশি আটক

    Bangladeshi Detained: নথি যাচাইয়ে বড় সাফল্য! জম্মু-কাশ্মীরে ২১, দিল্লিতে ৬ সন্দেহভাজন বাংলাদেশি আটক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একদিকে জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir), অন্যদিকে রাজধানী দিল্লি (Delhi)- দুই জায়গাতেই নথি যাচাই অভিযানে ধরা পড়লেন মোট ২৭ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক (Bangladeshi Detained)। জম্মু-কাশ্মীরের রামবান জেলার বানিহাল এলাকায় কাশ্মীর উপত্যকার উদ্দেশে যাওয়ার পথে ২১ জনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বৈধ ভ্রমণ বা অভিবাসন সংক্রান্ত নথি দেখাতে না পারায় তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। একই সময়ে দিল্লির একটি হোটেল থেকে আরও ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে (Bangladeshi Detained) আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ভারতে অবস্থান করছিলেন। দুই ঘটনাকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন।

    নথি যাচাইয়েই ধরা পড়েন ২১ জন

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রামবান জেলার বানিহাল এলাকায় নিয়মিত নথি যাচাই অভিযানের সময় দুটি গাড়িকে থামানো হয়। গাড়ি দুটি জম্মু থেকে কাশ্মীর (Jammu Kashmir) উপত্যকার দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, যাত্রীদের পরিচয় ও ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, ২১ জনের কেউই ভারতে বৈধভাবে অবস্থানের উপযুক্ত নথি বা অভিবাসন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এরপর তাঁদের সকলকে আটক (Bangladeshi Detained) করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে প্রত্যেকের পরিচয়, যাতায়াতের উদ্দেশ্য এবং ভারতে প্রবেশের পথ সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    বাংলাদেশ-যোগ!

    আটক ব্যক্তিরা বাংলাদেশের (Bangladeshi Detained) সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই উঠে এসেছে। পাশাপাশি তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁরা প্রথমে অসম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর রেলপথে জম্মু (Jammu) পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কাশ্মীর (Kashmir) উপত্যকার দিকে রওনা দিয়েছিলেন। তবে এই তথ্য এখনও তদন্তাধীন এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই পুলিশ সূত্রের খবর।

    অনুপ্রবেশে কোনও সক্রিয় চক্র রয়েছে?

    কীভাবে ওই ব্যক্তিরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করলেন? তাঁদের যাতায়াতে কোনও দালালচক্র বা আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কি না? এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে তাঁদের চলাচলের জন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন সাহায্য করেছে কি না? সমস্তটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রয়োজনে বিভিন্ন রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গেও তথ্য আদানপ্রদান করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

    বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতেই অভিযান!

    গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, তদন্তে যা তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ও অভিবাসন সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধ নথি ছাড়া ভারতে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতে যে বিশেষ যাচাই অভিযান চলছে, এই ঘটনাও তারই অংশ। ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

    দিল্লির হোটেল থেকেও আটক বাংলাদেশি

    অন্যদিকে, রাজধানী দিল্লিতে (Delhi) মধ্য জেলার বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় পুলিশের বিশেষ নথি যাচাই অভিযান চালানো হয়। সেই সময় নবী করিম এলাকার আরাকাশান রোডের একটি হোটেল থেকে ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক (Bangladeshi Detained) করা হয়। তদন্তে জানা যায়, তাঁরা দ্বৈত-প্রবেশ ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও তাঁরা দেশে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ।

    শুরু বহিষ্কারের প্রক্রিয়া

    আটক ছয়জনকে পরে বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের (FRRO) সামনে হাজির করা হয়। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ জারি করে তাঁদের একটি আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেই জানিয়েছে প্রশাসন। যদিও আটক ছয়জনের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিবাসন সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা বলেই সূত্রের খবর। একইসঙ্গে তাঁদের ভারতে আসার উদ্দেশ্য এবং অবস্থানের সম্পূর্ণ তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

LinkedIn
Share