Tag: Bilateral Relations

  • PM Modi: ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা, মোদির সঙ্গে বৈঠকে পারমেলিন

    PM Modi: ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা, মোদির সঙ্গে বৈঠকে পারমেলিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সুইজারল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সোমবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক বিনিময়, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, পরমাণু শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিস্তৃত (Trade AI Defence Cooperation) ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে দুই নেতা শান্তি, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির ফলে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।

    কী বললেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র (PM Modi)

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হায়দরাবাদ হাউসে সুইস প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। দুই নেতা ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কের সামগ্রিক দিক পর্যালোচনা করেন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক বিনিময় ও প্রতিরক্ষা উৎপাদন, পরমাণু শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।”

    তিনি আরও জানান, “ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে, দুই নেতা তা উল্লেখ করেন এবং উদ্ভাবননির্ভর অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।”

    বৈঠকে পরিবহণ, যাতায়াত ও পরিকাঠামো, অভিবাসন ও চলাচল এবং তরুণ পেশাজীবীদের নিয়ে নতুন কয়েকটি চুক্তির বিষয় উঠে আসে। স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণার নতুন উদ্যোগ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত ও সুইজারল্যান্ড।

    বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি, বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিষয়ক সচিব সিবি জর্জ-সহ অন্যান্য আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রেসিডেন্ট পারমেলিন পরস্পরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এর আগে সোমবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গণে পারমেলিনকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    সুইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

    সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সুইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “এই সফর ভারত ও সুইজারল্যান্ড উভয় দেশ এই সম্পর্ককে যে গুরুত্ব দেয়, তা তুলে ধরার একটি চমৎকার সুযোগ।”

    ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কের ভিত্তি যে অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের উপর গড়ে উঠেছে, তাও (PM Modi) উল্লেখ করেন তিনি।

    পারমেলিন বলেন, “আমার এই সফর আমাদের ঘনিষ্ঠ, বিস্তৃত এবং দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে আরও বৃদ্ধি, গভীর ও শক্তিশালী করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত ও সম্মানিত।”

    তিনি আরও বলেন, “বিশেষভাবে আমি আনন্দিত যে, ভারতে আমার এই সফরের মাধ্যমে ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম বার্ষিকী উদ্‌যাপনের সুযোগ হচ্ছে।”

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে সোমবার ভারতে আসেন গাই পারমেলিন। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের মূল লক্ষ্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভারত-সুইজারল্যান্ড সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে পারমেলিনের এটি (Trade AI Defence Cooperation) ভারতে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। তবে চলতি বছর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ভারতে এলেন তিনি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রভাব সম্মেলনে যোগ দিতে (PM Modi) ভারতে এসেছিলেন সুইস প্রেসিডেন্ট।

     

  • Bangladesh: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা বাংলাদেশের, পর্যালোচনায় ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি

    Bangladesh: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা বাংলাদেশের, পর্যালোচনায় ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজাতে চায় বাংলাদেশ। অতীতের রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে পিছনে ফেলে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের (Bangladesh) বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন, বহুপাক্ষিক মঞ্চের পরিবর্তে সরাসরি (BRICS Summit) দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করতে চায় বাংলাদেশ।

    এই বক্তব্য এমন একটা সময়ে এল, যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী নয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকার শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, এসব চুক্তির কোনগুলি বহাল থাকবে, কোনগুলি সংশোধন করা হবে এবং কোনগুলি বাতিল করা হতে পারে, তা পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    ভারতের সঙ্গে ‘নতুন সম্পর্ক’ চায় ঢাকা (Bangladesh)

    হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেও বাংলাদেশের উচিত নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা।

    তিনি বলেন, “আমরা একটি নতুন সম্পর্কের দিকে এগোতে চাই। এই সম্পর্ক বহুপাক্ষিক মঞ্চের মাধ্যমে নয়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।”

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনাও করেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভারতকে নিয়ে এই অতিরিক্ত মোহ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ভারত অন্য সব দেশের মতোই একটি দেশ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তার ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকা উচিত।”

    ভারতকেন্দ্রিক অতিরিক্ত মনোযোগ বোঝাতে তিনি বলেন, “ভারতে প্রাতরাশ, ভারতে মধ্যাহ্নভোজ, ভারতে নৈশভোজ—তা হলে নিজের দেশের খাবার খাবেন কখন?”

    হুমায়ুন কবির আরও জানান, শেখ হাসিনার সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসন কালে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক “অস্বস্তিকর” হয়ে উঠেছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ ও সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোতে চায় (Bangladesh)।

    ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে ঘিরে টানাপোড়েন

    সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের এই বার্তার ঠিক আগে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে ভারতীয় পক্ষের আমন্ত্রণ ছিল বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি থেকেই দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য পৃথক আমন্ত্রণও ছিল (BRICS Summit)।

    দু’দিনের ব্রিকস সম্মেলন রবিবার শেষ হয়েছে। সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়।

    ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা

    এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার।

    তিনি বলেন, “আমরা ১০১টি সমঝোতা স্মারক-সহ চুক্তিগুলি পর্যালোচনা করছি। খুব শিগগিরই এর ফলাফল জানতে পারবেন (Bangladesh)।”

    চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবস্থার প্রসঙ্গও ওঠে। নূরুল ইসলাম মনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে এমন কিছু ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাতে একই সময়ে বাংলাদেশি ও বিদেশি জাহাজ বন্দরে এলে বিদেশি জাহাজ সুবিধা পেত। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলি পরিবর্তন বা বাতিল করার কথাও জানান তিনি।

    তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে।

    হাসিনা প্রসঙ্গ এখনও সম্পর্কে বড় বাধা

    ২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়ে রয়েছে (Bangladesh)।

    এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ঢাকা অতীতের রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পরিবর্তে সরাসরি যোগাযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে যেতে চাইছে।

    ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক

    এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তাঁর এই সফর। তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে থাকবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।

    সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তারেকের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে কি না, সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় এই ধরনের বৈঠক অনেক ক্ষেত্রেই শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয় (BRICS Summit)।

    তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখা। পার্শ্ববৈঠকগুলির বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানা যাবে (Bangladesh)।

    সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এবং ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবার সম্পর্ক পুনর্গঠনের স্পষ্ট বার্তা এল। তবে সেই নতুন সম্পর্কের ভিত্তি হবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং (BRICS Summit) দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ—এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে ঢাকা (Bangladesh)।

     

  • PM Modi: বিশকেকে গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা মোদির, এসসিও সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা- সহযোগিতায় জোর

    PM Modi: বিশকেকে গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা মোদির, এসসিও সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা- সহযোগিতায় জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে (SCO Summit 2026) যোগ দিতে কিরগিজস্তানে সরকারি সফরে গিয়ে বিশকেকে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ৩০ অগাস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে পৌঁছন তিনি। এই সফরে ২৬তম সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

    বিশকেকে মোদি (PM Modi)

    কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণেই মোদির এই সফর। বিশকেকে পৌঁছনোর পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের মন্ত্রিসভার চেয়ারম্যান আদিলবেক কাসিমালিয়েভ। বিমানবন্দরে মোদিকে স্বাগত জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও। ঐতিহ্যবাহী কিরগিজ নৃত্যের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। স্থানীয় সংস্কৃতির এই উপস্থাপনা দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগের দিকটিও তুলে ধরে।বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পৌঁছনোর পরেও মোদিকে ঘিরে ছিল উষ্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন। সেখানে উপস্থিত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও প্রবাসী ভারতীয়রা “বন্দে মাতরম” ধ্বনি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। তাঁদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি মোদি একটি যোগ প্রদর্শনীও দেখেন। দেশাত্মবোধক গান “মা তুঝে সালামে”র সঙ্গে পরিবেশিত হয় সেই যোগ প্রদর্শনী। পরে ভগবান শিবকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক নৃত্যও দেখেন তিনি। এর মাধ্যমে ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ভাবধারার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

    ২৫ বছর পূর্ণ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার

    এবারের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, চলতি বছর এই আঞ্চলিক সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনে প্রথম দিকে ছিল চিন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান। পরবর্তীতে সংগঠনের পরিধি আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। এরপর ২০২৩ সালে ইরান এবং ২০২৪ সালে বেলারুশ পূর্ণ সদস্য হওয়ায় সংগঠনটির পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে।

    সম্মেলনের আগে সফর শুরুর সময় দেওয়া বিবৃতিতে মোদি এই অঞ্চলের জন্য ভারতের ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আঞ্চলিক অগ্রগতির ভিত্তি হওয়া উচিত নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও সুযোগ। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং উগ্রবাদের মতো চ্যালেঞ্জমুক্ত একটি অঞ্চল গড়ে তুলতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন তিনি।

    মোদির এই বক্তব্যের তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ এশিয়া এবং ইউরেশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যা, সন্ত্রাসবাদ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ফলে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে সদস্য (SCO Summit 2026) দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি ভারতের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (PM Modi)।

    নিরাপত্তা থেকে বাণিজ্য, আলোচনায় একাধিক বিষয়

    সম্মেলনে সদস্য দেশগুলির নেতারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা ওয়াকিবহাল মহলের। বিশেষ করে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

    এই সম্মেলনে মোদির উপস্থিতি ভারতের বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক অবস্থানেরও প্রতিফলন। সদস্য দেশগুলির সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে অভিন্ন সমস্যাগুলির সমাধান খোঁজার বিষয়ে ভারতের আগ্রহ রয়েছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়াতে চায় নয়াদিল্লি।

    উজবেকিস্তান সফরের পর কিরগিজস্তানে মোদি

    কিরগিজস্তানে পৌঁছনোর আগে মোদি শেষ করেন দু’দিনের উজবেকিস্তান সফর। সেখানে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করে সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে সম্মত হয় (PM Modi)।

    দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে ভারত ও উজবেকিস্তান যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী, তা স্পষ্ট হয়েছে। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

    উজবেকিস্তানের পর কিরগিজস্তান সফরও সেই একই কৌশলগত ধারার অংশ। কিরগিজস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং জনসম্পর্কের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও মোদির আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে (SCO Summit 2026)।

    প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও যোগাযোগ

    মোদির বিদেশ সফরে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিরগিজস্তানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশকেকে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। প্রবাসীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সফরের আবেগঘন দিকটিও সামনে এনেছে।

    যোগ প্রদর্শনী এবং শিবকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক নৃত্যের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতির বহুমাত্রিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। একদিকে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ, অন্যদিকে স্থানীয় সংস্কৃতির মাধ্যমে কিরগিজস্তানের পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা—দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (PM Modi)।

    মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি

    মোদির এই সফরকে শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ হিসেবে দেখছে না নয়াদিল্লি। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রয়াসের অংশ হিসেবেও এই সফরকে দেখা হচ্ছে।

    বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে শক্তির ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সময়ে মধ্য এশিয়া ভারতের কাছে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার মতো একাধিক ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মঞ্চ সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করে। ফলে বিশকেক সম্মেলনে মোদির অংশগ্রহণের মাধ্যমে একদিকে যেমন ভারতের আঞ্চলিক স্বার্থ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি সদস্য দেশগুলির সঙ্গে নতুন সমঝোতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে (SCO Summit 2026)।

    সম্মেলন শেষে বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা এবং সহযোগিতামূলক উদ্যোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হতে পারে বলেও অনুমান। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারত যেমন লাভবান হবে, তেমনই সম্ভাবনা রয়েছে বৃহত্তর সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশগুলির মধ্যেও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার (PM Modi)।

     

  • India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেজিংয়ে দু’দিনের সফরে গিয়ে মঙ্গলবার চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA Ajit Doval) অজিত ডোভাল। বৈঠকে ভারত-চিন (India China Talks) সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

    ডোভালের চিন সফর (India China Talks)

    ডোভালের চিন সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হল ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার বৈঠক। মঙ্গলবারই চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সেই বৈঠকে বসার কথা ডোভালের। সীমান্ত-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে। হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর চিনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ২৫ অগাস্ট ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি অজিত ডোভাল চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই পক্ষ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। পাশাপাশি দুই দেশের নেতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা

    সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা ২০০৩ সালে গড়ে ওঠে। এর উদ্দেশ্য হল ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যার একটি সামগ্রিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। এর আগে ২০২৫ সালের অগাস্টে ২৪তম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে সীমান্ত প্রশ্ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে একাধিক সমঝোতা হয়েছিল (NSA Ajit Doval)। এবারের বৈঠকও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনার প্রধান মাধ্যম। একই সঙ্গে এটি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এবারের আলোচনায় সীমান্ত প্রশ্নের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা।

    “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” আলোচনা

    ডোভাল ও ওয়াং ই-র মধ্যে এর আগে জুন মাসে নয়াদিল্লিতে সাক্ষাৎ হয়েছিল। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের ফাঁকে পার্শ্ববৈঠকে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পর ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক দুই পক্ষের আলোচনাকে “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” বলে বর্ণনা করেছিল। তখন সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করে দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য ছিল, স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য এবং গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে (India China Talks)। ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপথে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছিল। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক উত্তেজনা বজায় ছিল। পরবর্তী সময়ে একাধিক দফায় কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি দেখা যায়।

    মোদি-জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক

    এর পর ২০২৫ সালের ৩১ অগাস্ট চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতিবাচক গতি এবং অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তাঁরা দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়ন-সহযোগী হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মতপার্থক্য যাতে বিরোধে পরিণত না হয়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয় (NSA Ajit Doval)। ওই বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং একে অপরের সংবেদনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের মতে, ভারত ও চিনের মধ্যে স্থিতিশীল সহযোগিতা শুধু দুই দেশের উন্নয়নের জন্যই নয়, বহুমেরু বিশ্ব এবং বহুমেরু এশিয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

    ডোভালের বেজিং সফরের গুরুত্ব

    অজিত ডোভালের এবারের বেজিং সফর সেই বৃহত্তর সম্পর্ক-স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে যেমন সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে, তেমনই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন করে আস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। ফলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য কমানোই আপাতত নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য (India China Talks)।আগামী দিনের ভারত-চিন সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল হবে, তার ক্ষেত্রে এই আলোচনাগুলির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, সামরিক উত্তেজনা এড়ানো এবং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরই দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্ব অনেকটাই নির্ভর করছে। অজিত ডোভাল ও ওয়াং ই-র ২৫তম দফার বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত সমস্যা নিয়ে (NSA Ajit Doval) আলোচনা নয়, বরং বৃহত্তর ভারত-চিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ (India China Talks)।

     

  • PM Modi in New Zealand: ‘ভারত শুধু বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড’ নিউজিল্যান্ডে শিল্পমহলের সামনে বার্তা মোদির

    PM Modi in New Zealand: ‘ভারত শুধু বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড’ নিউজিল্যান্ডে শিল্পমহলের সামনে বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এখন শুধু একটি বড় বাজার নয়, বরং বিশ্বের প্রবৃদ্ধির অন্যতম ‘লঞ্চপ্যাড’। নিউজিল্যান্ড সফরে সে দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী মহলের সামনে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in New Zealand)। একই সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ডের সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পরিষেবা এবং দক্ষ জনশক্তির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন মোদি। দুই দিনের নিউজিল্যান্ড সফরের অংশ হিসেবে ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড বিজনেস অ্যান্ড স্পোর্টস এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র নয় মাসের রেকর্ড সময়ে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, বলেও বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর।

    ভারতের উন্নয়ন-যাত্রার অংশীদার

    প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তিনি বলেন, “এটি শুধু বিনিয়োগ নয়, ভারতের উন্নয়নের যাত্রার অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার। ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, “বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারতের ভিত্তি এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ব্যাপক পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারত অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সংস্কার, কর্মদক্ষতা এবং রূপান্তর— এই তিন স্তম্ভের উপরই আমাদের শাসনব্যবস্থা দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারতে রয়েছে নীতিগত স্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। তাই বিশ্বের উদ্দেশে আমাদের বার্তা স্পষ্ট— ভারত শুধু একটি বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড।”

    ভারতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ

    দেশে বিনিয়োগের নতুন সুযোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি জানান, স্মার্ট সিটিজ মিশনের অধীনে দেশের ১০০টি শহরে ৮,০০০-রও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নগর পরিবহণ, জল ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সংস্থাগুলিকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও ভারতে ক্যাম্পাস স্থাপনের আমন্ত্রণ জানান। নিউজিল্যান্ডের মাওরি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের প্রাচীন সভ্যতার মূল্যবোধ এবং মাওরি সংস্কৃতির মধ্যে প্রকৃতি, সমাজ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি একই ধরনের শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে মাওরি ব্যবসায়ীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ

    পরে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন আয়োজিত এক নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, গত বছর লাক্সনের ভারত সফরের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করছেন। মোদির কথায়, “আমার পূর্বসূরিরা অনেক ভালো কাজ অসম্পূর্ণ রেখে গিয়েছিলেন। সেই কাজগুলিই আমি সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছি।” এদিন দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করে এবং ‘ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ: রোডম্যাপ টু ২০৩০’ গ্রহণ করে। এই রোডম্যাপে বাণিজ্য, কৃষি, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উদ্ভাবন, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য ৭ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার ব্যাপারেও উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

    লাক্সন-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ১০টি সমঝোতা স্মারক

    লাক্সন-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ১০টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সাক্ষর হয়েছে। প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, কৃষি, ক্রীড়া, শিক্ষা ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী ও নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিকস সহায়তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, হাইড্রোগ্রাফি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলা, পশুপালন ও দুগ্ধ শিল্প, পর্যটন, ক্রীড়া, সামুদ্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কেও একাধিক সমঝোতা হয়েছে। এছাড়াও মেরিটাইম সিকিউরিটি ডায়ালগ চালু করা, ইন্দো-প্যাসিফিক ওশানস ইনিশিয়েটিভ (IPOI)-এর সামুদ্রিক নিরাপত্তা অংশে নিউজিল্যান্ডের যোগদান, গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্সে সদস্যপদ গ্রহণ, নাগাল্যান্ড ও উত্তরাখণ্ডে কিউইফ্রুট সেন্টার অফ এক্সেলেন্স স্থাপন, অ্যান্টার্কটিকা গবেষণা এবং খাদ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করা হয়েছে।

  • PM Modi in New Zealand: চার দশক পর নিউজিল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা মোদির

    PM Modi in New Zealand: চার দশক পর নিউজিল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৪০ বছর পর নিউজিল্যান্ডে পা পড়ল ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi in New Zealand)। শুক্রবার অকল্যান্ডে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও। ১৯৮৬ সালের পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করেননি। এই দীর্ঘ বিরতির পর মোদির সফর দুই দেশের মধ্যে পুরনো বন্ধুত্বকে নতুন করে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে সফরের শুরু হয়। দুই নেতা হাত মিলিয়ে কথা বলেন এবং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    ‘ঐতিহাসিক’ সফর আখ্যা মোদির

    অকল্যান্ডে পা রাখার পরেই নিজের নিউজিল্যান্ড সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ দেন। তিনি লেখেন, “কিছুক্ষণ আগেই অকল্যান্ডে পৌঁছলাম। বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী লাক্সনকে ধন্যবাদ। এই সফর ঐতিহাসিক, কারণ চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডে এলেন।” নিজের পোস্টের সঙ্গে সফরের কিছু ছবিও শেয়ার করেন মোদি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং অকল্যান্ডে কমিউনিটি ভাষণ নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ড বন্ধুত্বের সব দিক নিয়ে আলোচনার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। আগামী কাল অকল্যান্ডে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানেও ভাষণ দেব।” শুক্রবার অকল্যান্ডে বিমান থেকে নামার পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। দুই নেতা একে অপরকে উষ্ণ আলিঙ্গন করেন। লাক্সনের আমন্ত্রণেই মোদির এই সফর। দীর্ঘ ৪০ বছর পর এটিই নিউজিল্যান্ডে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির কর্মসূচি

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অকল্যান্ডে দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসবেন। গত দু’বছরে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি, বিশেষ করে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কতটা উন্নতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে দেখবেন তাঁরা। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, অকল্যান্ডে থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদি সেখানকার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও কথা বলবেন। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মজবুত সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে তিনি প্রবাসী ভারতীয়দের এক বড় সমাবেশে ভাষণও দেবেন। এই বছরের এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) সই হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ক্রিস্টোফার লাক্সন যখন ভারত সফরে এসেছিলেন, তখন দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে নয়াদিল্লিতে বৈঠক হয়েছিল।

    ভারত-নিউজিল্যান্ড ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট

    সফরের সবচেয়ে বড় খবর হল ভারত-নিউজিল্যান্ড ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (FTA) নিয়ে অগ্রগতি। দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ায় উভয় দেশই উচ্ছ্বসিত। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলে দুই দেশের বাণিজ্য অনেক বেড়ে যাবে। বিশেষ করে কৃষি পণ্য, দুগ্ধজাত দ্রব্য, আইটি সেবা, শিক্ষা এবং পর্যটন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস লাক্সন বলেন, “ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর আমাদের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এফটিএ চুক্তি দুই দেশের অর্থনীতির জন্য গেম চেঞ্জার হবে।” অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক নয়, সাংস্কৃতিক ও মানুষের মধ্যে সংযোগও গভীর। এই সফর সেই বন্ধনকে আরও মজবুত করবে।” দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে কয়েক বিলিয়ন ডলারের। ভারত নিউজিল্যান্ড থেকে দুধ, মাংস, ফলমূল এবং ওয়াইন আমদানি করে, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ভারত থেকে ওষুধ, আইটি সেবা, টেক্সটাইল এবং মেশিনারি পায়। চুক্তির ফলে শুল্ক হ্রাস পাবে, যা উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক হবে। সফরের এজেন্ডায় শুধু বাণিজ্য নয়, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি সহযোগিতাও রয়েছে।

    বিনা শুল্কে বাণিজ্য

    ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ভারত–নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য চুক্তি (India New Zealand Trade Deal) কার্যকর হলে প্রথম দিন থেকেই নিউজিল্যান্ডের ভারতের উদ্দেশে রফতানির ৫৭ শতাংশ পণ্যের ওপর কোনও শুল্ক (ট্যারিফ) থাকবে না। সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতের বিশাল বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত–নিউজিল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর।

    ইন্দো-প্যাসিফিক সফরের শেষ পর্ব

    নিউজিল্যান্ড সফরটি প্রধানমন্ত্রী মোদির তিন দেশব্যাপী ইন্দো-প্যাসিফিক সফরের শেষ পর্যায়। এর আগে তিনি ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন), উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলার লক্ষ্যকেও এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারত এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মোদির নিউজিল্যান্ড সফর এবং সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

     

     

     

     

  • PM Modi in Indonesia: ‘সোনালি অধ্যায়ের’ সূচনা! সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেলেন মোদি, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

    PM Modi in Indonesia: ‘সোনালি অধ্যায়ের’ সূচনা! সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেলেন মোদি, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, ব্লু ইকোনমি এবং প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল নয়াদিল্লি ও জাকার্তা। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবয়ো সুবিয়ান্তোর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সোনালি অধ্যায়’-এর সূচনা হল। তাঁর দাবি, এই নতুন অধ্যায় শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, ২১ শতকের বিশ্ব ও মানবতার জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মোদির কথায়, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস যত বাড়ছে, ততই প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে যাচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় জোর

    বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিনিময় কর্মসূচি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের কোস্ট গার্ড যৌথভাবে কাজ করবে। এর পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি, বন্দর উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

    মোদিকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান

    এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘বিনতাং আদিপূর্ণা মেডেল অব অনার’ প্রদান। সম্মান গ্রহণের পর মোদি বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর ব্যক্তিগত নয়, ১৪০ কোটিরও বেশি ভারতীয়র সম্মান। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, ইন্দোনেশিয়া সরকার এবং সে দেশের জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    ২০১৮ সালের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী

    মোদি জানান, ২০১৮ সালে গঠিত ভারত-ইন্দোনেশিয়ার কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ এখন আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়েছে। উন্নয়ন, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।

    স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও নতুন সহযোগিতা

    দুই দেশের আলোচনায় স্বাস্থ্য পরিষেবাও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের সাশ্রয়ী ও উন্নত মানের ওষুধ ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের কাছে আরও সহজলভ্য করা হবে। শুধু তাই নয়, ইন্দোনেশিয়ার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ভারত সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, মিড-ডে মিল এবং গণবণ্টন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

    দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকের শেষে প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ব্লু ইকোনমি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও বাণিজ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে আরও কৌশলগত গুরুত্ব দেবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের সমন্বয়কে নতুন মাত্রা দেবে।

  • Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত যদি কখনও হামলার শিকার হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়াবে”, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই আশ্বাস দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে করেন যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানেই ভারতের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এহেন বার্তা থেকেই স্পষ্ট, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বরফ ফের গলছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন করে মজবুত করারই ইঙ্গিত।

    ভারতের পাশে থাকার বার্তা (Donald Trump)

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, ভারত ও আমেরিকা এই দুই দেশের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। তা সত্ত্বেও ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। কিন্তু ভারত আক্রান্ত হলে আমরা অবশ্যই সাহায্য করতে এগিয়ে আসব।” তাঁর এই মন্তব্যকে ভারতের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম শক্তিশালী প্রকাশ্য নিরাপত্তা আশ্বাস হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, মোদি বিশ্বের অন্যতম কঠিনতম নেতা এবং সবসময় ভারতের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেন।

    ‘উনি দেবদূতের মতো’

    ট্রাম্পের (Donald Trump) কথায়, “উনি খুবই ভদ্র মানুষ। কিন্তু অত্যন্ত কঠোর এক নেতা, যিনি সব সময় নিজের দেশের মানুষের জন্য লড়াই করেন।” তিনি বলেন, “মোদি যেমন ধীরস্থির, শান্ত এবং একই সঙ্গে কঠোর…আমি কিন্তু ওরকম নই!” ‘দেখতে দেবদূতের মতো’ এই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্পের গলায় বারবার শোনা গিয়েছে মোদি-প্রশস্তি। কথা প্রসঙ্গে এক সময় রসিকতার সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, মোদির শান্ত ও নম্র চেহারার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অত্যন্ত দৃঢ় এক নেতৃত্বের গুণ।তিনি বলেন, “উনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) দেখতে খুবই ভালো। দেখতে দারুণ লাগে, যেন সাক্ষাৎ দেবদূত। তবে, প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ করতে পিছপা হন না। কিন্তু এত সুন্দর দেখতে যে সবাই চমকে যান। এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়। উনি ভারতীয়দের যেমন ভালবাসেন, আমেরিকাকেও ভালবাসেন। হিউস্টনে ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান হয়েছিল। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়াম। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ফের ভারত সফরে যাব কখনও”।

    স্মৃতির সুখসাগরে ডুব ট্রাম্পের

    এর পরেই স্মৃতির সুখসাগরে ডুব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর (Donald Trump) ভারত সফরের কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জানান, সেই সফরে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে দিয়েছিল দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা (PM Modi)। আবারও একবার মোদির প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “উনি বেশ কঠোর।…তবে, একবার মানুষটির দিকে তাকান। অত্যন্ত সুন্দর দেখতে।” ট্রাম্পের (Donald Trump) এই মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির রোল পড়ে যায়।

    উষ্ণ বার্তা

    সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত এবং আমেরিকা দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ভারত সরকার ওই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অসামরিক নৌযান ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। এই ঘটনার পর ভারতকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করার চেষ্টা বলেই মত বিশ্লেষকদের।

    সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

    দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সরবরাহ শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলেই খবর। এছাড়াও, ভারত-আমেরিকার মধ্যে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প (PM Modi)।

    হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী সবসময় নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা জরুরি।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের সামুদ্রিক খাতে কর্মরত নাবিকদের প্রায় ১০ শতাংশই (Donald Trump) ভারতীয় এবং তাঁদের নিরাপত্তা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    আমেরিকায় ভারতের লগ্নিরও প্রশংসা

    ট্রাম্প ভারতের অর্থনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে, যা দুই দেশেরই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিনের বন্ধু। তাঁর সঙ্গে আবার দেখা হওয়া খুবই আনন্দের।”

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যে শেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (PM Modi) হয়েছিল। পরবর্তীকালে শুল্কনীতি ও ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে কিছু মতপার্থক্য তৈরি হলেও, সাম্প্রতিক এই বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে (Donald Trump) আরও এগিয়ে নেওয়ারই বার্তা দিয়েছে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের।

     

  • China: ‘ভারত প্রতিযোগী নয়, সহযোগী অংশীদার’, বলল চিন, সম্পর্ক উন্নতির বার্তা বেজিংয়ের

    China: ‘ভারত প্রতিযোগী নয়, সহযোগী অংশীদার’, বলল চিন, সম্পর্ক উন্নতির বার্তা বেজিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে (India) ‘প্রতিযোগী নয়, বরং সহযোগী অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বার্তা দিল চিন (China)। বেজিং এও জানিয়েছে, দুই দেশের উন্নয়নকে একে অন্যের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। চিন-ভারত-রাশিয়ার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষেও সওয়াল করেছে ড্রাগনের দেশ।

    চিনা বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (China)

    চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, “ভারত ও চিন সীমান্ত-সহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে।” তাঁর মতে, ইউরেশিয়ার তিন প্রধান শক্তি—চিন, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির স্বার্থেই নয়, বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। লিন জিয়ান জানান, বর্তমানে ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতি মোটের ওপর স্থিতিশীল রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ের যোগাযোগও স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তিনি এও বলেন, “চিন ও ভারতের উচিত একে অন্যকে প্রতিযোগী হিসেবে নয়, সহযোগী হিসেবে দেখা এবং পারস্পরিক উন্নয়নকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।”

    কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে চিনের বক্তব্য

    তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মতপার্থক্যকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা উচিত, যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) ঘিরে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থার পর সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে (China)। উভয় দেশই সম্পর্ক স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে শি জিনপিংয়ের দেশ। বেজিং জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মতপার্থক্যের অবসান হওয়া উচিত। ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহংও এক্স হ্যান্ডেলে একই বার্তা দিয়ে বলেন, “ভারত ও পাকিস্তান চিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। তাদের উচিত আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।” প্রসঙ্গত, সীমান্তপার সন্ত্রাস-সহ একাধিক ইস্যুকে (India) কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে (China)।

     

  • Canada: ঢোক গিলল কানাডা! খালিস্তানপন্থীরা উদ্বেগের কারণ, এবার জানাল সেদেশের গোয়েন্দা সংস্থাও

    Canada: ঢোক গিলল কানাডা! খালিস্তানপন্থীরা উদ্বেগের কারণ, এবার জানাল সেদেশের গোয়েন্দা সংস্থাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ কূটনৈতিক জয় হল ভারতেরই! ঢোক গিলতে হল কানাডাকে। খালিস্তানপন্থীরা যে ক্রমেই কানাডায় জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, তা জানিয়ে দিয়েছে কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (CSIS)। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে, খালিস্তানপন্থীরা এখনও কানাডার ভেতরে চরমপন্থী অ্যাজেন্ডা প্রচার করছে। বস্তুত, এই কথাটাই নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে কানাডাকে, প্রকাশ করেছে উদ্বেগও। এবার সেই একই উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কানাডার গোয়েন্দারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের একটি কূটনৈতিক স্বীকৃতি।

    হুমকির পরিবেশ তৈরি করছে খালিস্তানপন্থীরা (Canada)

    ২০২৫ সালের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই রিপোর্টটি কানাডার সংসদে উপস্থাপন করা হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার মাটিতে কোনও হামলা না হলেও, অব্যাহত রয়েছে উদ্বেগ। রিপোর্টটি এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৮২ বোমা হামলার ৪০তম বার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে তৈরি, যেখানে ৩২৯ জন নিহত হয়েছিলেন। কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হিসেবে বিবেচিত হয় ওই ঘটনা। যদিও ২০২৫ সালে কানাডা-ভিত্তিক খালিস্তানি চরমপন্থীদের সঙ্গে যুক্ত কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি, তবুও এতে সতর্ক করা হয়েছে যে হুমকির পরিবেশ এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং পরিবর্তনশীল। গোয়েন্দাদের মতে, “সিবিকেইদের হিংসাত্মক চরমপন্থী কার্যকলাপ অব্যাহত। এটি কানাডা এবং কানাডার স্বার্থের জন্য একটি জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে রয়ে গিয়েছে।” প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি কানাডিয়ান সমাজেও সংযুক্ত এবং তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে চরমপন্থী মতাদর্শ প্রচার করছে। সাধারণ মানুষের অজান্তে তহবিল জোগাড় করে তা হিংসাত্মক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    কানাডার ভূখণ্ডকে ঘাঁটি করা হচ্ছে

    প্রসঙ্গত, এটি গত এক বছরে সিএসআইএসের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো এমন সতর্কবার্তা। ২০২৫ সালের জুন মাসের প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছিল, খালিস্তানি চরমপন্থীরা কানাডার ভূখণ্ডকে প্রচার, তহবিল জোগাড় এবং হিংসার ষড়যন্ত্র ছকার নীল নকশার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে, যার মূল লক্ষ্য হল ভারত। এইসব তথ্য নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে। ভারত বারবার অটোয়াকে (কানাডার রাজধানী) এই ধরনের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। এই ইস্যুটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে, বিশেষ করে প্রাক্তন কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সময়ে। নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধের কারণে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পৌঁছেছিল তলানিতে।

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্য

    ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যৌথ প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ভারত সফর করেন। এই সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দশ মাসে তৃতীয়বারের মতো সাক্ষাৎ করেন, যা সম্পর্ক পুনর্গঠনের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয় বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। এই সফরের আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল অটোয়া সফর করেন, যা সংবেদনশীল নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে যে আলাপ-আলোচনা চলছে, তারই প্রতিফলন। তার সঙ্গে কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা উপদেষ্টা নাথালি দ্রুইনের আলোচনার ফলে উভয় দেশই নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যোগাযোগ রাখতে আধিকারিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য হল, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত বিনিময় করা এবং সহযোগিতা জোরদার করা।

    মার্চ মাসে ভারতের বৈঠকে মোদি সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বৈশ্বিক প্রভাবের ওপর জোর দেন। যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই চ্যালেঞ্জগুলি শুধু ভারত ও কানাডার জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই গুরুতর। এই হুমকিগুলি মোকাবিলায় দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই নয়া কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং গোয়েন্দা পর্যায়ের সমন্বয় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় সতর্ক এবং দৃঢ় প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

     

LinkedIn
Share