Tag: Climate Change

Climate Change

  • Mount Everest: এভারেস্টে বরফ গলছে প্রস্রাবের তাপেও, বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর

    Mount Everest: এভারেস্টে বরফ গলছে প্রস্রাবের তাপেও, বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ এভারেস্টে প্রতি বছর পর্বতারোহীদের আনাগোনার সঙ্গে বাড়ছে পরিবেশের উপর চাপ। নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, পর্বতারোহীদের প্রস্রাব থেকেও উৎপন্ন তাপ খুম্বু হিমবাহের বরফ গলনে ভূমিকা রাখছে (Mount Everest)। তবে মানুষের তৈরি তাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর।

    এভারেস্টের (Human Urine) মূল শিবির খুম্বু হিমবাহের উপরেই গড়ে ওঠে। প্রতি বছর সেখানে প্রায় ১,৬০০টি তাঁবু ফেলা হয়। রান্নাঘর, স্নানের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র, তারবিহীন ইন্টারনেট এবং কিছু ক্ষেত্রে মেঝে গরম রাখার ব্যবস্থাও থাকে। এসব থেকে উৎপন্ন তাপ হিমবাহের উপরিভাগ ও মাটির তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

    নেপাল ও আমেরিকার একদল বিজ্ঞানীর গবেষণা আঞ্চলিক পরিবেশ পরিবর্তন বিষয়ক গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি এভারেস্টে মানুষের সরাসরি কর্মকাণ্ডও হিমবাহ গলনের গতি বাড়াচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

    নেপালে গত ২৬ অগাস্ট হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ১,২০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ওই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে হিমবাহ-উৎসারিত হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে দায়ী করা হয়।

    প্রস্রাবের তাপেও গলছে বরফ (Mount Everest)

    উচ্চতার কারণে এভারেস্টে ওঠা পর্বতারোহীদের বেশি পরিমাণে জল পান করতে হয়। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণও বাড়ে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পর্বতারোহণের মরশুমে প্রতিদিন প্রায় ৬,৭৬৬ লিটার প্রস্রাব জমা হয়েছিল।

    গবেষক খিম লাল গৌতম ও তাঁর সহকর্মীদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ প্রস্রাব শরীর থেকে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বের হয়। ফলে এতে থাকা তাপের একটি অংশ আশপাশের বরফ গলতে সাহায্য করে।

    গবেষণায় হিসাব করে দেখা গিয়েছে, ওই তাপ সম্পূর্ণভাবে বরফে পৌঁছলে সংশ্লিষ্ট পর্বতারোহণ মরশুমে প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলতে পারত। তবে বাস্তবে তাপের পুরোটা বরফে পৌঁছয় না। এর একটি বড় অংশ বাতাস ও আশপাশের পাথরে ছড়িয়ে যায়।

    সবচেয়ে বড় কারণ জ্বালানি পোড়ানো

    তবে গবেষকদের মতে, এভারেস্টের বরফ গলার ক্ষেত্রে প্রস্রাব সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। মূল সমস্যা হল মূল শিবিরকে ঘিরে বিপুল জ্বালানির ব্যবহার।

    ২০২৩ সালের মরশুমে রান্না, উত্তাপ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সেখানে প্রায় ৮২৪টি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সিলিন্ডার, ১৮,৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫,১৩০ লিটার পেট্রোল ব্যবহার করা হয়। মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে সৃষ্ট বরফ গলার প্রায় ৯৪ শতাংশের জন্য এই জ্বালানি ব্যবহারকে দায়ী করা হয়েছে। প্রস্রাবের কারণে গলার অংশ মাত্র প্রায় ৬ শতাংশ (Mount Everest)।

    দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়

    বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় হিমালয় দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর হিমবাহের বরফ ক্ষয়ের হার তার আগের সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    গবেষকদের আরও দাবি, খুম্বু হিমবাহের অন্যান্য অংশের তুলনায় মূল শিবির এলাকায় তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সেখানে প্রতি বছর তাপমাত্রা প্রায় ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    সরিয়ে নেওয়া হতে পারে এভারেস্টের মূল শিবির

    গবেষক দলটি বর্তমান মূল শিবির অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে। এ জন্য বর্তমান শিবিরের দক্ষিণ-পশ্চিমে দুটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

    তবে শিবির সরিয়ে নিলেও নতুন জায়গায় নানা ধরনের ব্যবস্থাপনা ও পরিবহনগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নতুন এলাকাতেও মানুষের কর্মকাণ্ড পরিবেশের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

    গবেষকদের পরামর্শ, হিমবাহ রক্ষায় আরও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে এবং সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে (Human Urine)। প্রয়োজনে মূল শিবিরের কিছু অংশ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে তৈরি অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সমস্যার আরও অবনতি হতে পারে (Mount Everest)।

     

  • Warmest Year: ২০২৬-এর অগাস্টে বিশ্ব ও ভারত—দুই জায়গাতেই উষ্ণতার নতুন রেকর্ড

    Warmest Year: ২০২৬-এর অগাস্টে বিশ্ব ও ভারত—দুই জায়গাতেই উষ্ণতার নতুন রেকর্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের অগাস্ট মাসে বিশ্ব ও ভারত—দুই ক্ষেত্রেই তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিবেদন এবং ভারতের আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অগাস্ট ছিল বিশ্বের উষ্ণতম অগাস্ট (Warmest Year)। একই সঙ্গে চলতি বছরই পৃথিবীর উষ্ণতম বছর হিসেবে নয়া রেকর্ড গড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে (India)।

    জলবায়ুবিজ্ঞান বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘ক্লাইমেট ব্রিঙ্কে’র তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত কোপার্নিকাস-ইসিএমডব্লিউএফ-এর ইআরএ৫ তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অগাস্টে প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। ২০২৪ সালের অগাস্টে তৈরি আগের রেকর্ডের তুলনায় এই বৃদ্ধি যথেষ্ট বেশি।

    মানবসৃষ্ট কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সূচনা হওয়ার আগের সময়কে প্রাক্-শিল্প যুগের মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। জলবায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, চলতি বছরের আট মাসের তথ্য হাতে আসায় এবং বছরের বাকি সময়ের এল নিনো পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাস আরও নির্ভরযোগ্য হওয়ায় ২০২৬ সালের এখনও পর্যন্ত উষ্ণতম বছর হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭৫ শতাংশ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কমবেশি ০.০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বেশি থাকার পথে রয়েছে। ২০২৪ সালে বিশ্বে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হার ছিল ১.৫৫ থেকে ১.৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। ফলে চলতি বছরের সম্ভাব্য বৃদ্ধি সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।

    কলকাতায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি (Warmest Year)

    বৈশ্বিক প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, গত বছর ভারতের মহানগরগুলির মধ্যে কলকাতায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ছিল সর্বাধিক। প্রাক্-শিল্প যুগের বৈশ্বিক মানদণ্ডের তুলনায় কলকাতার তাপমাত্রা ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেঙ্গালুরু, সেখানে বৃদ্ধির হার ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এক প্রবীণ অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ৫০ বছরের প্রবণতার সঙ্গেই এই তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর কথায়, সর্বশেষ রাষ্ট্রসংঘের বিশ্লেষণ ব্যবহার করে প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৮৫৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বিশ্বে এই বৃদ্ধির হার কলকাতাতেই সবচেয়ে বেশি ছিল। এরপর ছিল তেহরান ও মস্কো।

    ১৯০১ সালের পর ভারতে উষ্ণতম অগাস্ট

    ভারতের আবহাওয়া দফতরও জানিয়েছে, দেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্বের সামগ্রিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ভারতের আবহাওয়া দফতরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, ১৯০১ সালে দেশজুড়ে তাপমাত্রার নথি সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের অগাস্টই ভারতে উষ্ণতম অগাস্ট (Warmest Year)।

    আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, অগাস্টে ভারতের জাতীয় গড় তাপমাত্রা ২৮.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। দীর্ঘমেয়াদি স্বাভাবিক গড় ২৭.৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তুলনায় তা ০.৬৭ ডিগ্রি বেশি। শুধু দিনের তাপমাত্রাই নয়, রাতের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রাতেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। তা ২৪.৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যেখানে স্বাভাবিক গড় ২৩.৬৮ ডিগ্রি। ১২৫ বছরের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ রাতের গড় তাপমাত্রা।

    ভারতের আবহাওয়া দফতরের প্রাক্তন মহাপরিচালক কেজে রমেশ বলেন, ভারতের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্বব্যাপী প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ, বিশ্ব এবং ভারত—উভয় জায়গাতেই এ বছরের আগস্ট ছিল উষ্ণতম।

    ১.৫ ডিগ্রির সীমা পেরিয়ে বিপদের আশঙ্কা

    ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে দেশগুলি সর্বসম্মতভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যে সম্মত হয়েছিল। কারণ, এই সীমা অতিক্রম করলে পাহাড়ি অঞ্চল, সমুদ্রসংলগ্ন এলাকা এবং নিচু ভূমিতে বসবাসকারী মানুষের উপর অত্যন্ত ভয়াবহ জলবায়ুগত প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে জলজ বাস্তুতন্ত্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সম্প্রতি প্রকাশিত রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবী স্থায়ীভাবে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নের যুগে প্রবেশ করতে চলেছে। সর্বোত্তম পরিস্থিতিতেও গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থিত হতে পারে। আবার কয়েকটি জলবায়ু মডেল অনুযায়ী, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি হতে পারে।

    ‘ক্লাইমেট ট্রেন্ডসে’র জলবায়ু প্রভাব বিভাগের প্রধান কার্তিকী নেগি বলেন, বিশ্ব ও ভারত—দুই জায়গাতেই অগাস্টকে এখনও পর্যন্ত উষ্ণতম অগাস্ট হিসেবে ঘোষণা করা ভবিষ্যতের উষ্ণ পৃথিবী কেমন হতে পারে, তার একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোর সৃষ্টি করে (India) না। তবে এটি পৃথিবীর স্বাভাবিক উষ্ণতার ভিত্তি আরও বাড়িয়ে দেয় এবং শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে (Warmest Year)।

     

  • Nepal Tibet Flood: সুড়ঙ্গে আটকে ৩৫০? হিমবাহ ধসের পর নেপালে ভয়াবহ উদ্ধার অভিযান, মৃত্যু ৯০০ পার

    Nepal Tibet Flood: সুড়ঙ্গে আটকে ৩৫০? হিমবাহ ধসের পর নেপালে ভয়াবহ উদ্ধার অভিযান, মৃত্যু ৯০০ পার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধারকাজে নেমেছে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী। বুধবার হিমবাহ ধসের জেরে পাহাড়ি উপত্যকা ও নদীপথে নেমে আসে বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের ভয়ঙ্কর স্রোত। মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। রবিবার পর্যন্ত দুই দেশের প্রশাসনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ৯০০ পার করেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ।

    আবহাওয়ার অবনতি, পাহাড়ি এলাকার দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে উদ্ধারকাজ বারবার বাধার মুখে পড়ছে। নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নেপালের ত্রিশূলী নদীর জলস্তরও বেড়েছে। ফলে উদ্ধারকারীদের একাংশকে নিরাপদ উঁচু এলাকায় সরিয়ে নিতে হয়েছে। একই সঙ্গে আরও বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

    নেপালেই মৃত ৭৮১, নিখোঁজ আড়াই হাজারের বেশি

    নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দেশে ৭৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২,৫০২ জন। অন্যদিকে তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন এখনও নিখোঁজ। বিপর্যয়ের ব্যাপকতা এতটাই বেশি যে চিন জানিয়েছে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিকেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে মোট ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা যতটা সামনে এসেছে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তার থেকেও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    নতুন করে বন্যার আশঙ্কা, থমকে যাচ্ছে উদ্ধারকাজ

    বিপর্যয়ের পর নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ধসের কারণে একটি জলাধারের মতো জল জমে যায়। সেই জলাধার উপচে পড়তে শুরু করলে নেপালের লেহেন্দে খোলা এবং ত্রিশূলী নদীতে নতুন করে জল বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। শুক্রবার থেকেই খারাপ আবহাওয়া এবং জলাধারটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় একাধিকবার উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখতে হয়েছে। যদিও চিনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে বিপজ্জনক জলাধারটির জল অনেকটাই নেমে গিয়েছিল। কিন্তু বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। ড্রোনের মাধ্যমে শনিবার রাতে আরও একটি বড় ধসের সন্ধান মেলে। জলাধারের প্রায় ২.৮ কিলোমিটার নীচের দিকে ধস নেমে নতুন করে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ এবং জলাশয় তৈরি হয়েছে। ফলে ফের জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আপার ত্রিশূলি প্রকল্পে সুড়ঙ্গে আটকে থাকতে পারেন ৩৫০ জন

    নেপালে উদ্ধার অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি। মোট পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ভয়াবহভাবে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে আপার ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার প্রশাসনের কাছে খবর আসে, প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ৩৫০ জন আটকে থাকতে পারেন। রবিবার নেপালের সেনাবাহিনী দুর্গম এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি আকাশপথে পৌঁছে দিয়েছে।

    উদ্ধারকারীরা একটি সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন এবং সেখানে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবেশের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ এবং ক্যামেরা নিয়ে বিশেষ দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ এত বেশি যে দ্রুত ভিতরে ঢোকা সম্ভব হচ্ছে না। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। ধ্বংসাবশেষ এত বেশি যে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তা তৈরি করাও সম্ভব হচ্ছে না।

    ১০ হাজার নেপালি সেনা, পাশে ভারত ও চিন

    বিপর্যয়ের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রায় ১০ হাজার নেপালি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কাজ করছে চিন ও ভারতের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল। চরম দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছে দেওয়া, ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং নিখোঁজদের সন্ধান করা—সবকিছুই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খারাপ আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছেন, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা, মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য হিমঘর এবং পচন ধরা দেহের ফরেন্সিক সনাক্তকরণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছে নেপাল।

    শনাক্ত করা যাচ্ছে না দেহ, শুরু গণকবর

    বিপর্যয়ের কয়েক দিন পর নেপালে উদ্ধার হওয়া বহু মৃতদেহ দ্রুত পচতে শুরু করেছে। ফলে নিখোঁজ পরিজনদের খোঁজে হাসপাতাল, মর্গ ও ত্রাণকেন্দ্রে ঘুরে বেড়ানো পরিবারের সদস্যদের জন্য পরিস্থিতি আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে। চিটওয়ান জেলার দেবঘাট এলাকায় জঙ্গলের মধ্যে শত শত মৃতদেহের জন্য কবর খোঁড়া হয়েছে। বন্যায় ভেসে যাওয়া রাসুওয়া অঞ্চলের বহু দেহ নদীর স্রোতে বহু দূরে চলে এসেছিল।

    চিটওয়ানের জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে পরিচয়হীন মৃতদেহগুলির গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার ৯৬টি অজ্ঞাতপরিচয় শবদেহ কবর দেওয়া হয়েছে। রবিবার আরও ১০০টির বেশি দেহ সমাধিস্থ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্যরা যাতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদেহ সনাক্ত করতে পারেন, সে জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রতিটি কবরের অবস্থান নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

    নেপালের পুলিশ আধিকারিক অনিল থাপা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের অর্ধেকেরও বেশি এমন অবস্থায় রয়েছে যে তাঁদের সনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। অনেক দেহে মুখের কোনও চিহ্ন নেই। কোথাও শুধু হাত বা পা পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোথাও দেহের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধার হয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের যোগসূত্র খুঁজছে চিন

    এই বিপর্যয়ের সঙ্গে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের সরাসরি যোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে চিন। চিনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা থেকে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়েছে। তিব্বত মালভূমিতে বরফনির্ভর প্রাকৃতিক ব্যবস্থার বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা নতুন ও ক্রমবর্ধমান বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    চিনের বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেপালের দিক থেকে নেমে আসা কাদা, বরফ, পাথর ও জলের প্রবল স্রোত মাত্র ৬ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে গিরং সীমান্ত পারাপার এলাকায় পৌঁছে যায়। নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবিতে দেখা যায়, প্রবল স্রোত একের পর এক বাড়ি ও স্থাপনা গ্রাস করছে। প্রাণ বাঁচাতে মানুষকে ছুটে পালাতেও দেখা যায়।

    ‘সবচেয়ে ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত বিপর্যয়’

    চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই শনিবার নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। চিনা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই বিপর্যয়কে সাম্প্রতিক বছরগুলির “সবচেয়ে ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত দুর্যোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওয়াং ই জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজের মাত্রা নজিরবিহীন এবং পরিস্থিতির জটিলতাও অত্যন্ত বেশি। সীমান্তের দুই পাশে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তা, বাড়তে থাকা জলস্তর এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারীদের একসঙ্গে একাধিক ঝুঁকির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

    তিব্বতে ২,১০০-এর বেশি চিনা উদ্ধারকর্মী মোতায়েন

    চিন জানিয়েছে, তিব্বতে ২,১০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে অন্তত ২২ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করা হয়েছে। চিনের উদ্ধারকারী দল দুর্গম এলাকায় বিমানপথে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। সেনাবাহিনী নিখোঁজদের সন্ধানে জীবন শনাক্তকরণ যন্ত্র ব্যবহার করছে। তবে উদ্ধারকাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম হিমালয়, নতুন ধসের আশঙ্কা এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন।

    সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ

    এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল নিখোঁজদের সন্ধান, বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও সুড়ঙ্গগুলিতে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করা। একই সঙ্গে নদীর জলস্তর এবং নতুন করে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধগুলির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের কাছে এই বিপর্যয় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা—হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল বরফ ও জলবায়ু ব্যবস্থার সঙ্গে মানুষের বসতি, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং সীমান্তবর্তী পরিকাঠামোর ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

    একদিকে চলছে নিখোঁজদের উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা, অন্যদিকে পচনশীল মৃতদেহের গণসমাধি এবং নতুন বন্যার আশঙ্কা। ফলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এই মুহূর্তে উদ্ধার অভিযান শুধু একটি মানবিক সংকট মোকাবিলার লড়াই নয়, বরং দ্রুত পরিবর্তনশীল হিমালয় পরিবেশের বিরুদ্ধে এক কঠিন পরীক্ষাতেও পরিণত হয়েছে।

  • China: নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চিনের ক্ষতি কত? তথ্য গোপনের অভিযোগে কাঠগড়ায় ড্রাগনের দেশ

    China: নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চিনের ক্ষতি কত? তথ্য গোপনের অভিযোগে কাঠগড়ায় ড্রাগনের দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে কয়েক দিন আগে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৫০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হলেও একই দুর্যোগে চিনের তিব্বত অঞ্চলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার প্রকৃত হিসাব পাওয়া কঠিন। তিব্বত থেকে পাওয়া তথ্যের উপর চিনা (China) সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণেই এই পরিস্থিতি বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চিনা কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যার প্রবল স্রোতে কাদা ও বিশালাকার পাথর ভেসে এসে এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে (Flood Damage Assessment)। তবে নেপাল সীমান্তবর্তী চিনা অংশের গ্রামগুলিতে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করতেন বলে ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    চিনের ক্ষতি কত (China)

    দুর্যোগের পর নেপালের সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলের দিকে যান। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে তাঁরা যতটা সম্ভব দুর্গত এলাকার কাছাকাছি পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ক্যামেরার সামনে তাঁদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন সাংবাদিকেরা। ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের একটি সামগ্রিক চিত্র প্রকাশ্যে আসে।অন্যদিকে, চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে মূলত উদ্ধারকাজ নিয়েই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বন্যার স্রোতে ঠিক কী কী ধ্বংস হয়েছে বা কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সেই বিষয়ে তেমন কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “তিব্বতের একটি ত্রাণকেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত প্রতিবেদনে চিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক তাঁর পিছনে বসে থাকা কোনও মানুষের সঙ্গেই কথা বলেননি।”

    সুড়ঙ্গে আটকে বহু শ্রমিক

    তিব্বত চিনের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঞ্চল। স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে তিব্বতিদের বিক্ষোভের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। এর মধ্যে আত্মদাহের ঘটনাও রয়েছে। চিনা সরকারের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত বিশেষ সফর ছাড়া বিদেশি সংবাদমাধ্যমের পক্ষে তিব্বতে সহজে প্রবেশ করাও কঠিন। এদিকে নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে বহু শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে সফলভাবে একটি পাইপ ঢোকানোর পর তাঁদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে (China)।

    নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “ছোট ওই খোলা জায়গা দিয়ে বাতাস পাঠানো শুরু হয়েছে।” তবে বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকারী দলগুলিকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

    আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখনও ১০০-র বেশি শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে জীবিত অবস্থায় আটকে থাকতে পারেন। ত্রিশূলী-৩এ এবং ত্রিশূলী-৩বি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাতেই উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুড়ঙ্গ ধসের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় এই ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

    রাষ্ট্রসংঘের বক্তব্য

    রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিল এক বিবৃতিতে বলেন, “হিমবাহের আকস্মিক ধস এবং আকস্মিক বন্যা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, পাহাড়ি পরিবেশ কতটা ভঙ্গুর হতে পারে।”

    এদিকে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বিশেষ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নিয়ে ভারতের আরও একটি বিমান আজ কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    তিনি জানান, ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ বিমান নেপালে অতিরিক্ত সহায়তা নিয়ে পৌঁছেছে। বিমানে বিশেষজ্ঞ দল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এর (Flood Damage Assessment) মধ্যে রয়েছে সুড়ঙ্গ-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের একটি দল, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম (China)।

     

  • UV Rays: শুধু গরম নয়, ভয় অতিবেগুনি রশ্মিরও! রোদে বেরোলে কেন ইউভি ইনডেক্স দেখা জরুরি?

    UV Rays: শুধু গরম নয়, ভয় অতিবেগুনি রশ্মিরও! রোদে বেরোলে কেন ইউভি ইনডেক্স দেখা জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঝকঝকে সূর্যের আলোতেও লুকিয়ে রয়েছে বিপদ! দিনের অধিকাংশ সময় বাইরে থাকলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। সতর্কতা অবলম্বন করে চললে বড় বিপদ এড়ানো সহজ হবে। চিকিৎসকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যদি এখন থেকেই ত্বকের স্বাস্থ্য এবং সূর্যরশ্মি নিয়ে সচেতনতা, না বাড়ে, তাহলে আগামি কয়েক বছরের মধ্যে ভারতে ত্বকের ক্যান্সার সহ একাধিক জটিল রোগের প্রকোপ বাড়বে। বিশেষত ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে, যে হারে সূর্যের তেজ বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। জুলাই মাস জুড়ে চিকিৎসকেরা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি নিয়ে লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি পালন করছেন। দেশ জুড়ে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে স্কুল পড়ুয়া থেকে কর্মরত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে কয়েকটি অভ্যাস তৈরি করলে ত্বকের একাধিক সমস্যা কমানো যাবে, সে দিকগুলো চিকিৎসকেরা তুলে ধরেছেন।

    কেন সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি নিয়ে সচেতনতা জরুরি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সূর্যের আলো যেমন স্বাস্থ্যের একাধিক উপকার করে, তেমনি কিছু কিছু ক্ষতিকারক রশ্মি ও রয়েছে। যার জন্য ত্বকে চিরস্থায়ী গভীর ক্ষতি হতে পারে। এই দিক সম্পর্কে এখনো সচেতনতার হার কম। তাই নানান স্বাস্থ্য সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি বা UV রশ্মি ত্বক ও চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে। লাগাতার এই আলো শরীরে স্পর্শ করলে ত্বকের কোষগুলো নষ্ট করে দেয়। এর ফলে ত্বকের ক্যান্সারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার চোখের কর্নিয়ার ক্ষতিও করে। ফলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা হয়।

    ভারতে কি এই সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির জেরে বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত ত্বক ও চোখের সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভারতেও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কয়েক দশক আগেও ভারতে এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা অত্যন্ত ব্যতিক্রম ছিলো। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনের জেরে এখন ভারতেও এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতি বছর ত্বকের ক্যান্সার, দীর্ঘমেয়াদি সান বার্নের সমস্যা, চোখের ক্ষতি হচ্ছে, এমন সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাছাড়া এখন বাইরে কাজ করেন, এমন মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। অর্থাৎ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এখন সকলেই বাইরে যান। কাজ করেন। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্য রশ্মির স্পর্শে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এই ধরনের সমস্যাও বাড়ছে।
    তাছাড়া, বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে ভারতেও রোদের দাপট বাড়ছে। সূর্যের তেজ বাড়ছে। তেমনি গরম দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে। অর্থাৎ, ভারতের অধিকাংশ জায়গায় ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকেই রোদের দাপট দেখা দিচ্ছে। জুন মাস পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় তীব্র গরম থাকছে। এমনকি বর্ষার পরেও সূর্যের দাপট চলে। ফলে এই বাড়তি গরমে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    কীভাবে সুরক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবেশ, আবহাওয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। তবেই এই পরিবর্তিত জলবায়ুতে সুস্থ থাকতে পরিবেশ সচেতন হওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাঁদের পরামর্শ , সূর্যরশ্মির প্রকোপ কতখানি অর্থাৎ ইউভি ইন্ডেক্স (UV Index) দেখে আগাম সতর্কতা নিয়ে বাইরে যেতে হবে। অর্থাৎ আকাশ মেঘলা, বৃষ্টি হবে নাকি ঝড় হবে, এগুলোর যেমন পূর্বাভাসের খবর নেওয়া হয়, তেমনি প্রত্যেক দিনের  ইউভি ইন্ডেক্স সম্পর্কেও সজাগ থাকতে হবে। যদি সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রকোপ যেদিন বেশি থাকবে, সেদিন শরীর সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক পরা প্রয়োজন। তবে প্রত্যেক দিন বাইরে যাওয়ার আগে মুখ এবং শরীরের যে অংশ পোশাকে ঢাকা থাকছে না, সেই সব অংশে সান স্ক্রিন লাগানো জরুরি। শিশু হোক বা প্রাপ্তবয়স্ক, নিয়মিত সান স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস জরুরি। ত্বকের একাধিক সমস্যা কমাতে সাহায্য করবে। প্রয়োজন না হলে বেলা বারোটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলতে পারলেই ভালো। কারণ এই সময়ে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির দাপট সবচেয়ে বেশি। তবে, সবচেয়ে জরুরি পর্যাপ্ত জল খাওয়ার অভ্যাস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শরীরে জলের ঘাটতি না হলে সূর্যের প্রকোপে ঘটা একাধিক রোগের দাপট কমানো সহজ হয়। তাই বাইরে যাওয়ার আগে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। সঙ্গে জল রাখার অভ্যাস থাকা দরকার। যাতে বারেবারে জল খাওয়া হয়। শরীরে কখনোই জলের ঘাটতি না দেখা দেয়।

  • Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। তবে মশাবাহিত এই রোগে শুধু সংক্রমণের দাপটের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে না। উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই রোগের বদলে যাওয়া প্রকৃতি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তবে, রোগের চরিত্র বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ম্যালেরিয়ার দাপটকে কাবু করতে আরো সক্রিয় ওষুধ তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। খোদ কলকাতাতেই পরীক্ষা চলছে। আক্রান্তের কাছে একটা ডোজ পৌঁছে গেলেই, ম্যালেরিয়ার দাপট কমবে। গবেষকেরা এমনটাই আশা করছেন।

    কেন ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হচ্ছে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার বদল হচ্ছে। পৃথিবী জুড়েই জলবায়ুর পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানির মতো ইউরোপের দেশগুলোর পাশপাশি ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে জলবায়ুর পরিবর্তনের বিশাল প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যে। একাধিক রোগের প্রকৃতি বদল হচ্ছে। নানান ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার চরিত্র ও বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের জেরে বদলে গিয়েছে ম্যালেরিয়ার চরিত্র। মশাবাহিত এই রোগ আগের থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।

    বদলে যাওয়া রূপে কতখানি বিপদ বাড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়ার ওষুধ রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে তাই ম্যালেরিয়া তুলনামূলক কম বিপজ্জনক বলেই মনে হয়। কিন্তু চরিত্র বদল করে ম্যালেরিয়া ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সাধারণত দুই তিন দিন জ্বরের পরে পরীক্ষা করিয়ে আক্রান্ত সংক্রমণের বিষয়ে জানতে পারেন। তারপরে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু নতুন চরিত্রের এই ম্যালেরিয়া মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই শরীরে গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষত অন্ত্র, লিভার, মস্তিষ্কের উপরে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে, শরীরের সক্রিয়তা কমছে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বাজার চলতি ওষুধে রোগ প্রতিরোধ করতে যে সময় নিচ্ছে, তাতে আক্রান্তের অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়ে উঠছে। ফলে, মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। তাই ম্যালেরিয়া সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

    নয়া দাওয়াইয়ে কেন বাড়তি ভরসা?

    কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ম্যালেরিয়া নিয়ে নতুন ওষুধের পরীক্ষা চলছে। প্রস্তুতি পর্ব প্রায় শেষের দিকে। কর্তৃপক্ষের একাংশ জানাচ্ছেন, নতুন ওষুধ ম্যালেরিয়ার বাড়তি সঙ্কটের বোঝা কমাতে পারবে। তাঁরা আশাবাদী, ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হয়ে যাওয়ায়, যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় নতুন ওষুধ বাড়তি সাহায্য করবে। নতুন ওষুধের চতুর্থ পর্বের ট্রায়াল চলছে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন ওষুধ মাত্র একটা ডোজেই কাজ করবে। যে কোনও রকমের ম্যালেরিয়া মোকাবিলা করতে এক ডোজেই সাহায্য হবে। বাজার চলতি ম্যালেরিয়ার ওষুধ একাধিকবার খেতে হয়। ম্যালেরিয়া এখন আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে দ্রুত নিরাময় জরুরি। না হলেই লিভার, অন্ত্র ও মস্তিষ্ক বিকল হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই ম্যালেরিয়া দ্রুত নিরাময় করতে সাহায্য করবে, এমন ওষুধ প্রয়োজন। নতুন ওষুধ সেই কাজে সক্ষম হবে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কলকাতা ও তার আশপাশে কেন বাড়ছে ম্যালেরিয়ার দাপট?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেক বছরেই ম্যালেরিয়ার দাপট উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরে একদিকে ম্যালেরিয়া আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আবার আরেকদিকে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জনসচেতনতার অভাব। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া সহ একাধিক জেলায় দাপট বাড়াচ্ছে। গত বছরেও জুন মাস থেকে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছিল। চলতি বছরেও এই সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষায় অধিকাংশ জায়গায় নিকাশি ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। কলকাতা সহ একাধিক জেলায় মারাত্মক জল জমে। একদিন বৃষ্টি হলেই কয়েক দিন ধরে জমা জলের ভোগান্তি থাকে। এগুলো মশার বংশবিস্তার করে। তাছাড়া পরিচ্ছন্ন বাগান, বাড়ির আশপাশের এলাকায় জল জমলেও মশাবাহিত রোগের দাপট বাড়তে থাকে। তাই ম্যালেরিয়ার দাপট ও বাড়ে।
    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, প্রচন্ড জ্বর, তীব্র মাথার যন্ত্রণা, বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে ম্যালেরিয়া মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

  • Europe Record Heatwave: রোদেই রান্না হচ্ছে ডিম! গলছে রাস্তা-ট্রামলাইন, নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে ইউরোপে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

    Europe Record Heatwave: রোদেই রান্না হচ্ছে ডিম! গলছে রাস্তা-ট্রামলাইন, নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে ইউরোপে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে চলছে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ। একাধিক দেশে তাপমাত্রা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রবল গরমে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ, চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ফ্রান্সে মর্গ ও শ্মশান পরিষেবার উপর তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত চাপ, জার্মানিতে গলে যাচ্ছে ট্রামলাইন, আর ইউক্রেনে বিদ্যুৎ গ্রিড বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

    সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল তাপপ্রবাহের চিত্র

    এই তীব্র গরমের একাধিক ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, খোলা রোদে রাখা ফ্রাইং প্যানে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডিম ও বেকন রান্না হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গিয়েছে—

    • ● দোকানের ভিতরেই গলে যাচ্ছে চকোলেট ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য।
    • ● দীর্ঘক্ষণ রোদে পড়ে থাকা শপিং ট্রলির প্লাস্টিকের অংশ বিকৃত হয়ে যাচ্ছে।
    • ● জুতোর সোল গলে যাচ্ছে।
    • ● অতিরিক্ত গরমে কলার খোসা আলাদা হয়ে ফল নিচে পড়ে যাচ্ছে।
    • ● বার্লিনে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে জলকামান থেকে জল ছিটিয়ে দিচ্ছে পুলিশ।

    তবে এই সমস্ত ভাইরাল ছবি ও ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি মাধ্যম

    জার্মানিতে গলে গেছে ট্রামলাইন

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জার্মানির একাধিক এলাকায় অতিরিক্ত তাপের কারণে ট্রামলাইন বিকৃত ও গলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর জেরে সপ্তাহান্তে লাইপজিগ শহরে ট্রাম পরিষেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পরিবহণ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেসুস ইউরোপের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
    তিনি বলেছেন, “ইউরোপ পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। এখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ চরম তাপপ্রবাহের মধ্যে বসবাস করছেন। ২১ জুনের পর থেকে ইউরোপে অতিরিক্ত গরমের কারণে ১,৩০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বহু স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে। তেদ্রোস এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ লিখেছেন, “হিট স্ট্রেসকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। ইউরোপের বাড়ি, অফিস বা স্কুল—কোনওটাই এই ধরনের চরম তাপমাত্রার জন্য নির্মিত নয়।”

    কোথায় কত তাপমাত্রা?

    সপ্তাহান্তে ইউরোপের একাধিক দেশে রেকর্ড তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে—

    • ● চেক প্রজাতন্ত্র – ৪১.৯° সেলসিয়াস
    • ● জার্মানি – ৪১.৭° সেলসিয়াস
    • ● পোল্যান্ড – ৪০.৫° সেলসিয়াস

    এই তাপমাত্রা ওই দেশগুলির স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার তুলনায় অনেক বেশি।

    ফ্রান্সে এক হাজারের বেশি মৃত্যু

    ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহের বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত এই সময়ে সাধারণ বছরের তুলনায় প্রায় ১,০০০ জন বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফরাসি ন্যাশনাল ফিউনারেল ফেডারেশনের প্রতিনিধি এলিজাবেথ শারিয়ের জানান—

    • ● সাধারণত গ্রীষ্মকালে ফিউনারেল হোমগুলিতে ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ দখল থাকে।
    • ● বর্তমানে সেই হার বেড়ে ৬০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।

    প্যারিসের অবস্থা শোচনীয়, চাপ বাড়ছে মর্গে…

    সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজধানী প্যারিসে। শারিয়ের বলেন, “গত শুক্রবার থেকেই প্যারিসের মাত্র দুটি ফিউনারেল হোম পুরোপুরি ভর্তি। ফলে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শহরের বাইরে, উপকণ্ঠ বা আরও দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাঁর মতে—

    • ● দাহ করার জন্য অপেক্ষার সময় বেড়ে যাবে।
    • ● কবরস্থানে সমাধিস্থ করার জায়গা দ্রুত ফুরিয়ে আসবে।
    • ● কবর খোঁড়ার কাজ সীমিত গতিতে হওয়ায় চাপ আরও বাড়বে।
    • ● এর ফলে এক ধরনের ‘ডোমিনো এফেক্ট’ তৈরি হতে পারে।

    ইউক্রেনে বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়তি চাপ

    রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আগেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার উপর এই তীব্র তাপপ্রবাহ নতুন সংকট তৈরি করেছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রিভনে অঞ্চলে বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর চাপ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার ইউক্রেনের পাঁচটি অঞ্চলের বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে মঙ্গলবার ব্ল্যাকআউট হতে পারে। ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সংস্থা ইয়াসনো-র সিইও সেরহি কোভালেঙ্কো বলেন, “চার বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলা এবং একাধিক হামলা সহ্য করা বিদ্যুৎ সরঞ্জামের জন্য এই তাপপ্রবাহও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

    কেন এত বিপজ্জনক এই তাপপ্রবাহ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের অধিকাংশ দেশ ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত। ফলে—

    • ● বহু বাড়িতে এখনও পর্যাপ্ত এয়ার কন্ডিশনিং নেই।
    • ● হাসপাতাল, স্কুল ও অফিস ভবনের নকশা এত উচ্চ তাপমাত্রার উপযোগী নয়।
    • ● রেললাইন, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামোও এত বেশি তাপ সহ্য করার মতো করে নির্মিত নয়।
    • ● বয়স্ক, শিশু ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
    • ● বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গ্রিডের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি সতর্কবার্তা

    আবহাওয়াবিদদের মতে, ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চরম তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও তীব্রতা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে দীর্ঘস্থায়ী ও প্রাণঘাতী হিটওয়েভ এখন আর ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়, বরং ক্রমশ নতুন বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, শুধু জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবাই নয়, ভবিষ্যতে ইউরোপকে নগর পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো, গণপরিবহণ এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে। না হলে প্রতি বছর গ্রীষ্মেই আরও বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

  • PM Modi: তীব্র গরমে পুড়ছে ভারতের একাধিক শহর, প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলছেন বিরোধীরা

    PM Modi: তীব্র গরমে পুড়ছে ভারতের একাধিক শহর, প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলছেন বিরোধীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখনও মে মাস শুরুই হয়নি। তার আগেই তীব্র গরমে পুড়ছে (Heatwave) ভারতের বেশ কয়েকটি শহর। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশ-সহ ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। বিরোধী শিবির ও তাদের সমর্থকরা দেখাতে চাইছে, এই ঘটনা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ (PM Modi)। যদিও একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও তাপমাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে। এই চরম আবহাওয়ার পেছনে মানবসৃষ্ট কিছু কারণ থাকলেও, বেশি করে রয়েছে প্রাকৃতিক কারণ।

    সুপার এল নিনো (PM Modi)

    পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে সুপার এল নিনোর কারণে। এটি সমুদ্র থেকে অতিরিক্ত তাপ সংগ্রহ করে বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা প্রশান্ত মহাসাগরের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করছেন। এই ঘটনাবলী আগামী বছরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়াতে পারে এবং নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বর্তমানে ভারতের সমতলভূমিকে গ্রাস করা তীব্র গরম বৃহত্তর এক আবহাওয়াগত ধাঁচের অংশ, যা ছ’সপ্তাহ আগে উত্তর এশিয়া ও সাইবেরিয়ায় শুরু হয়েছিল।

    তাপমাত্রা মোকাবিলায় পদক্ষেপ

    এদিকে, এপ্রিলের শুরুতে বিভিন্ন অংশীদার একজোট হয়ে গ্লোবাল হিট হেল্থ ইনফর্মেশান নেটওয়ার্ক (GHHIN)-এর সাউথ এশিয়া হাব (South Asia Hub) গঠন করেছে। এর কারণ হল ভারত-সহ গোটা উপমহাদেশে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা মোকাবিলায় সহযোগিতা ও উদ্ভাবন বাড়ানো যায়। এটি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিওরোলজি (IITM) এবং ইন্ডিয়া মেটিওরোলজি (India Meteorological Department)-এর সঙ্গে কাজ করবে। লক্ষ্য, জলবায়ু তথ্যকে স্বাস্থ্যসেবামূলক পদক্ষেপে রূপান্তরের জন্য একটি অভিন্ন আঞ্চলিক পরিকাঠামো তৈরি করা। বিশ্ব এই পরিবর্তনের সঙ্গে লড়ছে এবং সমাধান খুঁজছে। অন্যদিকে, ভারতীয় বিরোধী দল ও বাম-উদারপন্থীরা অযৌক্তিক যুক্তি দিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সরকারকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত।

    মোদি সরকারকে দোষারোপ

    সমালোচকেরা নানা অদ্ভুত অজুহাত খাড়া করে মোদি সরকারকে দোষ দিচ্ছেন। ‘এপিক ম্যাপস’ ভারতের বাড়তে থাকা তাপমাত্রার একটি মানচিত্র প্রকাশ করে এটিকে কেবল ভারতের অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখায়, অথচ পাকিস্তান, ইয়েমেন, থাইল্যান্ড, মায়ানমার-সহ আশপাশের দেশগুলির তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি গোপন রাখে (Heatwave)। কংগ্রেস নেতা শ্রীনিবাস বিভি এই অসম্পূর্ণ তথ্যকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করেন। দিয়া মির্জা একটি পোস্ট শেয়ার করেন। তাতে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ফরেস্ট কনজারভেশন অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (Forest Conservation Amendment Act)-এর মাধ্যমে বন ধ্বংস ত্বরান্বিত হয়েছে। কারবারি আনসারির অভিযোগ, মোদি শুধু হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি করে ভোট কুড়োতে চান, জলবায়ু পরিবর্তন বা গরম নিয়ে তিনি উদাসীন।

    নিট-জিরো এমিশন

    যদিও বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ঘন বনভূমি বৃদ্ধি, ২০৭০ সালের মধ্যে নিট-জিরো এমিশন (net-zero emission) অর্জনের অঙ্গীকার করেছে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে (PM Modi)। তা সত্ত্বেও বিরোধীরা তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক প্রচারেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এআইসিসির সম্পাদক গৌরব পান্ধির দাবি, কংগ্রেস আমলে পরিস্থিতি ভালো ছিল, বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দীনেশ ওয়াদেরা বলেন, “পরিকাঠামোর উন্নয়নের ‘কংক্রিট উদ্যোগ’ই সমস্যার কারণ।” সুধীর যাদবের অভিযোগ, আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত জমি ও বন ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়ায় কাটা হয়েছে লাখ লাখ গাছ।

    “হিট ডোম”

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে গরমের প্রকৃত কারণ বহুস্তরীয়। কম বাতাস, উচ্চচাপ বলয় এবং মেঘের অভাবের কারণে তাপ ভূমির কাছাকাছি আটকে থাকে। ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেন্স (Indo-Gangetic plains) ও পূর্ব ভারতের ওপর তৈরি হওয়া “হিট ডোম” একটি বড় কারণ। এ বছর পশ্চিমী ঝঞ্ঝাও দুর্বল হয়েছে। তাই কম বৃষ্টি হয়েছে (Heatwave)। বাম-উদারপন্থীরা দাবি করলেও, ভারত বিশ্বের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে, এ কথা পুরোপুরি ঠিক নয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাটা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় বলা হয়েছে, ভারতের গড় পৃষ্ঠতাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেড়েছে ধীরে (PM Modi)।

    ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেন

    দূষণ থেকে উৎপন্ন এরোসলস (aerosols) সূর্যালোক ছড়িয়ে দেয়, কমিয়ে দেয় ভূমির ওপর সৌর বিকিরণ। এগুলি দক্ষিণ এশিয়ার ওপর এক ধরনের প্রতিফলক আবরণ তৈরি করে। এছাড়া, ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেনে (Indo-Gangetic plain) ব্যাপক সেচ বাষ্পীভবন বাড়িয়ে প্রাকৃতিক শীতলতা তৈরি করে। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের ইআরএ৫ ডেটাসেট অনুযায়ী, নয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপ প্রতি দশকে প্রায় ০.৫৩°সেলসিয়াস হারে উষ্ণ হয়েছে, যা একে পরিণত করেছে দ্রুততম উষ্ণ হওয়া মহাদেশে। আর্কটিক আরও দ্রুত, প্রতি দশকে প্রায় ০.৬৯°সেলসিয়াস হারে উষ্ণ হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশের বড় অংশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, প্রতি দশকে ০ থেকে ০.২°সেলসিয়াস।

    বস্তুত, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও তাপপ্রবাহ একটি বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা। এর সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ও আন্তরিক প্রচেষ্টা দরকার। কিন্তু বিরোধী দল ও তাদের সমর্থকেরা বাস্তব সমাধানের বদলে রাজনৈতিক আক্রমণে বেশি (Heatwave) মনোযোগী। সরকার বদলালেই বিশ্বের জলবায়ুগত বাস্তবতা বদলে যাবে না (PM Modi)।

     

  • Vanishing Lakes of Kashmir: বিপন্ন ভূস্বর্গের জীববৈচিত্র্য, লুপ্ত হয়ে গিয়েছে ৫১৮টি হ্রদ!

    Vanishing Lakes of Kashmir: বিপন্ন ভূস্বর্গের জীববৈচিত্র্য, লুপ্ত হয়ে গিয়েছে ৫১৮টি হ্রদ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৬৭ সাল থেকে ৬৯৭টি প্রাকৃতিক হ্রদের মধ্যে ৫১৮টি হয় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে অথবা আয়তনে কমে গিয়েছে (CAG)। ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতি হয়েছে জীববৈচিত্র্যেরও (Vanishing Lakes of Kashmir)। ক্যাগের রিপোর্টেই উঠে এসেছে ভূস্বর্গের চাঞ্চল্যকর এই ছবি। ক্যাগের আধিকারিকরা ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত নথিপত্র যাচাই করার ক্ষেত্রে তাঁদের সূক্ষ্মতা এবং কঠোর পর্যবেক্ষণের জন্য পরিচিত। বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরের উল্লেখ করে ক্যাগের প্রতিবেদনগুলিতে ত্রুটি, ভুলভ্রান্তি এবং ঘাটতিগুলি তুলে ধরা হয়। এসব বিশদ মন্তব্য ও সুপারিশ প্রায়ই সংশোধনের পথ দেখায়। চলতি বছরের জম্মু-কাশ্মীরের ওপর ক্যাগের রিপোর্টে বহু সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, বিশেষ করে হ্রদগুলিকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    লোপ পাচ্ছে একের পর এক হ্রদ (Vanishing Lakes of Kashmir)

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলজ এলাকা থেকে জলাভূমি, তারপর দ্বীপ এবং শেষে মানুষের বসবাসযোগ্য জমিতে রূপান্তর একটি প্রায় অপরিবর্তনীয় প্রক্রিয়া। ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সংরক্ষণ সংক্রান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোট ২৮,৯৯০ হেক্টর এলাকাজুড়ে থাকা ৬৯৭টি হ্রদের মধ্যে ৩১৫টি হ্রদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে এবং ২০৩টি হ্রদের আয়তন ১,৩১৪.১৯ হেক্টর কমেছে। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলদারিত্ব বা দুর্গম এলাকায় অনুপ্রবেশ—উভয়ই একই ফল দেয়, ক্রমেই সংকুচিত হয় উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল। মোট ৫১৮টি হ্রদের ২,৮৫১.২৬ হেক্টর এলাকা হ্রাস পেয়েছে কিংবা বিলুপ্ত হয়েছে। এশিয়ার বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ উলার হ্রদ (Wular Lake)-এর অবস্থাও একই রকম উদ্বেগজনক (Vanishing Lakes of Kashmir)। এই তালিকায়ই রয়েছে ডাল লেক এবং শ্রীনগরের অন্যান্য হ্রদগুলিও।

    ক্যাগের সুপারিশ

    কার্যকর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সময়সীমাবদ্ধ ও কাঠামোবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে ক্যাগ। আয়তনে লেকের এই কমে যাওয়া আকার পরিবেশগত পরিষেবা ব্যাহত করেছে এবং জল, খাদ্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। হ্রদের আয়তন কমে যাওয়াও জলবায়ু নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২০১৪ সালের কাশ্মীরে বন্যার  অন্যতম কারণ ছিল উলার হ্রদের অবক্ষয়, যা স্বাভাবিকভাবে বন্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (CAG)। জানা গিয়েছে, ২০৩টি সংকুচিত হ্রদের মধ্যে ৬৩টি ৫০ শতাংশেরও বেশি আয়তন খুইয়েছে, যা তাদের বিলুপ্তির ঝুঁকিতে ফেলেছে। ক্যাগের মতে, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন, বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নিয়ন্ত্রণহীন মানবিক কার্যকলাপই এই অবক্ষয়ের প্রধান কারণ (Vanishing Lakes of Kashmir)।

    সমস্যায় ডাল লেকও

    ডাল লেকের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। ২০০৭ সালে ১৫.৪০ বর্গকিমি থেকে ২০২০ সালে ১২.৯১ বর্গকিমিতে নেমে এসেছে। গত ১৩ বছরে ১০.১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে ভাসমান উদ্ভিদ, কৃষিজমি এবং বসতিস্থানের পরিমাণ বেড়েছে। ক্যাগের রিপোর্টেই  লক্ষ্য করা গিয়েছে যে লেকস কনজারভেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (Lakes Conservation and Management Authority ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (STP) সঠিকভাবে কাজ না করা, দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, এবং দুর্বল নজরদারি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। জাতীয় হ্রদ সংরক্ষণ কর্মসূচি (NLCP) এবং প্রধানমন্ত্রীর পুনর্গঠন কর্মসূচি (PMRP)-এর বাস্তবায়নেও গুরুতর ঘাটতি দেখা গিয়েছে। STP-তে ৪৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা সত্ত্বেও বর্জ্য যথাযথভাবে শোধন করা হয়নি। ওই প্রতিবেদনই জানায় যে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং পর্যবেক্ষণে ঘাটতি (CAG) থাকলে ডাল লেকের (Vanishing Lakes of Kashmir) পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে।

     

  • Children Diseases: খামখেয়ালি আবহাওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে শিশুদের! কাহিল করে দিচ্ছে কোন কোন রোগ? 

    Children Diseases: খামখেয়ালি আবহাওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে শিশুদের! কাহিল করে দিচ্ছে কোন কোন রোগ? 

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দিন কয়েক ধরে গরমে জেরবার হচ্ছিল উত্তর থেকে দক্ষিণ! শরতের রোদে প্রায় পুড়েছে সকলে! আবার চলতি সপ্তাহে শুরু প্রবল বৃষ্টি! হাওয়া অফিসের অনুমান, আগামী ছ’দিন একনাগাড়ে চলবে বৃষ্টি! আগামী সপ্তাহে আবার রোদের দেখা মিলবে! তাপমাত্রার পারদ বাড়ছে-কমছে! আর আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা স্বাস্থ্যের বিপদ (Children Diseases) বাড়াচ্ছে! বিশেষত শিশুদের ভোগান্তি বাড়ছে। তাই সতর্কতা জারি না রাখলে আরও সমস্যা বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছে চিকিৎসকদের একাংশ।

    গলাব্যথা, কাশি-সর্দি এবং জ্বর (Children Diseases)

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, আবহাওয়ার এই রকমফের বাতাসে একাধিক ভাইরাসের দাপট বাড়াচ্ছে। সক্রিয় হচ্ছে একাধিক রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু। আর তার জেরেই নানান রোগের প্রকোপ বাড়ছে। গত দু’সপ্তাহে শিশুদের ভাইরাসঘটিত জ্বরের প্রকোপ কয়েক গুণ বেড়েছে। গলাব্যথা, কাশি-সর্দি এবং জ্বর! এই উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ গরম আবার তারপরেই লাগাতার বৃষ্টি-সব মিলিয়েই এই ধরনের সমস্যা বাড়ছে বলে জানাচ্ছে চিকিৎসকদের একাংশ। 
    আবার দিন কয়েক আগে তাপমাত্রা হঠাৎ অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় (Strange weather) বহু শিশু ‘হিট বার্ন’-এর মতো সমস্যায় ভুগছে বলেও জানাচ্ছে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সর্দি-কাশি বা অন্য কোনও ভাইরাসঘটিত রোগের কবলে না পড়লেও বহু শিশুর দেহের তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। থার্মোমিটারে মাপলে মনে হবে শিশুর জ্বর হয়েছে। দূর্বলতাও দেখা দিচ্ছে। কিন্তু আবহাওয়া হঠাৎ গরম হয়ে যাওয়ার জেরে শিশুর দেহ এই হঠাৎ বদলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো তাদের দেহ পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেকে ঠান্ডা রাখতে পারে না। তাই শরীর গরম হয়ে যাচ্ছে।

    পেটের অসুখ

    জ্বরের পাশপাশি পেটের অসুখের সমস্যাও বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, রাজ্যের একাধিক জেলায় জল জমে রয়েছে। বন্যা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিশুরা মারাত্মক পেটের অসুখে ভুগছে। অনেক জায়গায় পরিশ্রুত জল নেই। ফলে সমস্যা (Children Diseases) আরও বাড়ছে‌। এই আবহাওয়ায় আরেকটি সমস্যা হচ্ছে ছত্রাক সংক্রমণ। ত্বক বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, শুষ্ক আর ভিজে আবহাওয়ার এই ঘনঘন পরিবর্তনের জেরে শিশুদের ত্বকে নানান ছত্রাক সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে! ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া আবার হালকা একটা আস্তরণ দেখা দিচ্ছে!

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা? (Children Diseases)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, বর্ষায় রাজ্যে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার প্রকোপ মারাত্মক। তাই জ্বর হলে কোনও ভাবেই অবহেলা করা চলবে না।‌ দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। তবে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনায় ভাইরাস ঘটিত অসুখ থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি। পাশপাশি নিয়মিত লেবু জাতীয় ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, যে কোনও লেবু জাতীয় ফলে থাকে ভিটামিন সি। সর্দি-কাশি কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে এই ধরনের ফল বিশেষ সাহায্য করে। স্কুল পড়ুয়াদের টিফিনে নিয়মিত কিউই জাতীয় ফল দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এতে ভাইরাস ঘটিত অসুখের (Children Diseases) প্রকোপ কমবে‌। 
    ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে শিশুকে নিয়মিত স্নান করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে এই ধরনের অসুখের ঝুঁকি কমে। 
    জলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্ষার জেরে বহু জায়গায় জলের পাইপ ফেটে গিয়েছে‌। পরিশ্রুত পানীয় জল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই জলঘটিত অসুখ যেমন কলেরা, ডায়ারিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধ করতে শিশুদের জল ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share