Tag: congress

congress

  • PM Modi: ‘অর্ধেক জল, অর্ধেক বাতাস—গ্লাস পুরো ভরা’, ১৩ বছর পরে এসআরসিসিতে নিজের পুরনো বার্তা স্মরণ মোদির

    PM Modi: ‘অর্ধেক জল, অর্ধেক বাতাস—গ্লাস পুরো ভরা’, ১৩ বছর পরে এসআরসিসিতে নিজের পুরনো বার্তা স্মরণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৩ বছর পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সে (SRCC) ফিরে নিজের পুরনো ‘অর্ধেক ভরা গ্লাসে’র উদাহরণ স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার সন্ধ্যায় এসআরসিসির শতবর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ২০১৩ সালের সেই বক্তৃতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি বরাবর সম্ভাবনার দিকটি দেখেছেন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ওই কলেজে বক্তৃতা দিয়েছিলেন মোদি। হাতে এক গ্লাস জল তুলে তিনি বলেছিলেন, আশাবাদীরা সেটিকে অর্ধেক ভরা এবং হতাশাবাদীরা অর্ধেক খালি বলবেন। কিন্তু তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আলাদা—গ্লাসটি অর্ধেক জলে এবং অর্ধেক বাতাসে পূর্ণ। শনিবার সেই প্রসঙ্গ ফের তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি গ্লাসটিকে পুরো ভরা হিসেবে দেখি—অর্ধেক জল এবং অর্ধেক বাতাস।’’ তাঁর দাবি, ২০১৩ সালের সেই বক্তব্যের প্রভাব এখনও অনুভব করা যায়। সেই সময় বিজেপি বিরোধী আসনে ছিল এবং কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। তা সত্ত্বেও তিনি ওই কলেজের মঞ্চকে রাজনৈতিক সমালোচনার জন্য ব্যবহার করেননি বলেও জানান। তাঁর কথায়, যা বলেছিলেন, তা বিশ্বাস থেকেই বলেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে সেই পথেই এগিয়েছেন।

    উন্নয়নের গতি এখন অনেক বেশি’ (PM Modi)

    শনিবারের বক্তৃতার বড় অংশ জুড়ে ছিল ২০১৩ সালের ভারত এবং বর্তমান ভারতের তুলনা। পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করবে ভারত।

    ২০১৩ সালের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় সংবাদপত্রের শিরোনামে থাকত সীমান্তে সেনা নিহত হওয়া, ১০ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতির মতো বিষয়। দেশের সর্বত্র ‘পলিসি প্যারালাইসিসে’র আলোচনা ছিল এবং ভারতকে বিশ্বের ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ অর্থনীতির তালিকায় রাখা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এর বিপরীতে বর্তমান ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগেই প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপির পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ব যখন সংকটের মধ্যে রয়েছে, সেই সময় এই পরিসংখ্যান ভারতের শক্তি স্পষ্ট করে।’’

    তাঁর দাবি, যারা ভারতকে ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভে’র মধ্যে দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁরা বর্তমান পরিসংখ্যান মেনে নিতে পারছেন না। গাড়ি বিক্রি, নির্মাণ, উৎপাদন এবং শিল্পক্ষেত্রের কার্যকলাপ বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। মোদির বক্তব্য, ভারত শুধু বাড়ছে না, দ্রুত গতিতেও এগিয়ে চলেছে।

    তবে প্রথম ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে ইতিমধ্যেই কয়েকজন অর্থনীতিবিদ এবং বিরোধী নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের সরাসরি নাম না করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ‘নাখোশ ফুফাজি’ বা সবকিছুর মধ্যে নেতিবাচক দিক দেখতে অভ্যস্ত মানুষ হিসেবে কটাক্ষ করেন (PM Modi)।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়েও বার্তা

    দেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এখন সন্ত্রাসবাদ শেষ পর্যায়ে। তারা যদি সাহস দেখায়, তাহলে সেনাবাহিনী ভিতরে ঢুকে তাদের শেষ করে দেয়।’’ সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুরে’র প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

    বিরোধীদের কটাক্ষ

    মোদির বক্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের তরফেও তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। কংগ্রেস সাংসদ তথা মুখপাত্র পবন খেরা এক্স-এ লেখেন, বক্তৃতাটি এতটাই বিরক্তিকর ছিল যে ‘‘পেঁয়াজও কেঁদে ফেলত’’।

    কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় শুধু ২০১৩ এবং ২০৪৭ সালের কথা বলেছেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের বর্তমান সমস্যাগুলি নিয়ে কথা বলেননি।

    ১৩ বছর পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসআরসিসিতে মোদি

    ২০১৩ সালে এসআরসিসিতে মোদি এসেছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। তখন গুজরাটে তাঁর চতুর্থ দফার মুখ্যমন্ত্রিত্বের কয়েক সপ্তাহ কেটেছে এবং জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সেই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ১২ বছর পূর্ণ হয়েছিল।

    ১৩ বছর পর শনিবার তিনি সেই এসআরসিসিতে ফিরলেন টানা তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন তিনি। আগামী মাসে গুজরাট ও কেন্দ্র—দুই পর্যায়ের দায়িত্ব মিলিয়ে সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর ২৫ বছর পূর্ণ হবে (PM Modi)।

    ২০১৩ সালের এসআরসিসি বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘এমার্জিং বিজনেস মডেলস ইন দ্য গ্লোবাল সিনারিও (Emerging Business Models in the Global Scenario)’। তবে সেই বক্তৃতা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে সেটি কার্যত একটি শাসন-ভাবনার ঘোষণাপত্র হয়ে উঠেছিল।

    তখন মোদি বলেছিলেন, সমাজের একটি অংশ, বিশেষ করে রাজনৈতিক মহলের অনেকে দেশের যুবসমাজকে শুধু ‘নতুন প্রজন্মের ভোটার’ হিসেবে দেখেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ভারতকে বোঝানো যে দেশের যুবসমাজ আসলে ‘নতুন যুগের শক্তি’।

    ঘটনাচক্রে শনিবার ছিল শিক্ষক দিবস। এদিনই ওই কলেজে বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৩ সালে গুজরাটের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেছিলেন, কোনও ব্যবসায়ী বিদেশে পণ্য রফতানি করতে গেলে ডলার ও পাউন্ড নিয়ে আসেন। কিন্তু একজন শিক্ষক বিদেশে গেলে তিনি একটি গোটা প্রজন্মকে গড়ে তোলেন।

    এর আগে (SRCC) এপ্রিল মাসে নিজের বাসভবনে এসআরসিসির পরিচালন পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। শতবর্ষ উপলক্ষে (PM Modi) একটি স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

     

  • Rahul Gandhi: খাড়গের সভার পর ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্ক, রাহুলের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা

    Rahul Gandhi: খাড়গের সভার পর ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্ক, রাহুলের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হলদ্বানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভার পর রামলীলা ময়দানে তথাকথিত শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানকে (Purification Controversy) কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, এই ঘটনাকে ঘিরে রাহুলের মন্তব্যে দলিত সম্প্রদায়ের পাশাপাশি শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদেরও অপমান করা হয়েছে।

    রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর (Rahul Gandhi)

    হলদ্বানি কোতোয়ালি থানায় এই মামলা দায়ের হয়েছে হলদ্বানির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অমিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে। তিনি ওই শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ ও ২৯৯ ধারা এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের ৩(১)(কিউ) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

    অমিত কুমার এবং বিনোদ কুমার আর্য এর আগে রাহুলের মন্তব্য নিয়ে হলদ্বানি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, রামলীলা ময়দানে তথাকথিত শুদ্ধিকরণ নিয়ে রাহুলের মন্তব্যে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে মামলা রুজু করা হয়।

    খাড়গের সভার পর থেকেই বিতর্ক

    গত ৮ অগাস্ট হলদ্বানির রামলীলা ময়দানে একটি জনসভায় ভাষণ দেন খাড়গে। সভা শেষ হওয়ার পর বিজেপির নেতা ও কর্মীরা ওই ময়দানে শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ করেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি গোটা চত্বরে গঙ্গাজল ছড়ানো হয় বলেও জানা যায়।

    এই শুদ্ধিকরণ কর্মসূচির পক্ষে সওয়াল করেন বিজেপির উত্তরাখণ্ড সভাপতি মহেন্দ্র ভট্ট-সহ দলের একাধিক নেতা। এদিকে, কংগ্রেস এই ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানায়। দলের অভিযোগ ছিল, খাড়গে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ার কারণেই তাঁর সভাস্থল শুদ্ধিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানায় কংগ্রেস।

    বিষয়টি নিয়ে সরব হন রাহুল

    পরবর্তী সময়ে রাহুলের বক্তব্যেও উঠে আসে রামলীলা ময়দানের শুদ্ধিকরণের প্রসঙ্গ। তিনি শুদ্ধিকরণ কর্মসূচির সঙ্গে দলিতদের মর্যাদার প্রশ্নটি যুক্ত করেন এবং খাড়গের সভার পর কেন এমন কর্মসূচির প্রয়োজন হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন (Rahul Gandhi)।

    কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, খাড়গের সভার পর অনুষ্ঠানস্থল শুদ্ধিকরণ করা আসলে দলিত সম্প্রদায়ের প্রতি অপমান এবং বৈষম্যের প্রকাশ।

    অন্যদিকে, রাহুলের মন্তব্যকেই অপমানজনক বলে অভিযোগ করেছেন মামলার অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, ওই মন্তব্যে দলিত সম্প্রদায়ের পাশাপাশি শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষদেরও অসম্মান করা হয়েছে।

    কোন কোন ধারায় মামলা?

    মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এই ধারায় ধর্ম, জাতি, জন্মস্থান, বসবাসের স্থান, ভাষা, জাতপাত বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করা কিংবা তা বাড়ানোর চেষ্টা-সহ সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারা ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষপূর্ণ এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত, যার উদ্দেশ্য কোনও শ্রেণির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা বা তাদের ধর্ম ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে ক্ষোভ সৃষ্টি করা।

    অন্যদিকে, তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের ৩(১)(কিউ) ধারায় কোনও সরকারি কর্মচারীকে মিথ্যা বা জাল তথ্য দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার উদ্দেশ্য সেই কর্মচারীকে তাঁর আইনসিদ্ধ ক্ষমতা ব্যবহার করে তফসিলি জাতি বা তফসিলি জনজাতির কোনও সদস্যের ক্ষতি বা হয়রানি করার দিকে পরিচালিত করা।

    রাজনৈতিক বিতর্ক এবার আইনি লড়াইয়ে

    রামলীলা ময়দানের তথাকথিত শুদ্ধিকরণকে ঘিরে বিজেপি ও কংগ্রেসের পরস্পরবিরোধী অভিযোগ এবার আইনি লড়াইয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। কংগ্রেস যেখানে ঘটনাটিকে দলিতদের মর্যাদা ও বৈষম্যের (Purification Controversy) প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছে, সেখানে মামলার অভিযোগকারী রাহুলের মন্তব্যকেই দলিত সম্প্রদায় এবং শুদ্ধিকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি অপমানজনক বলে দাবি করেছেন (Rahul Gandhi)।

     

  • Rahul Gandhi: হালদ্বানিতে ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে নয়া মোড়, রাহুলের অভিযোগ খারিজ দলিত ব্যক্তির

    Rahul Gandhi: হালদ্বানিতে ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে নয়া মোড়, রাহুলের অভিযোগ খারিজ দলিত ব্যক্তির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের হালদ্বানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’ যজ্ঞকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মোড়। রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) যেখানে ঘটনাটিকে দলিতদের বিরুদ্ধে অস্পৃশ্যতার প্রকাশ বলে অভিযোগ করেছেন, সেখানে ওই যজ্ঞে অংশ নেওয়া দলিত সম্প্রদায়েরই এক ব্যক্তি সেই অভিযোগ খারিজ করেছেন (BJP)।

    অঙ্কিত পাল নামে ওই ব্যক্তি বাল্মীকি সম্প্রদায়ের সদস্য এবং ‘শ্রী রাম সেবা ধর্মার্থ ন্যাসে’র সঙ্গে যুক্ত বলে খবর। সংগঠনটির সদস্যরাই গত ১০ অগাস্ট হালদ্বানির রামলীলা ময়দানে যজ্ঞ ও কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করেছিলেন। এর দু’দিন আগে, ৮ অগাস্ট ওই একই জায়গায় কংগ্রেসের একটি জনসভা হয়েছিল। সভায় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, যিনি আবার দলিত সম্প্রদায়ের নেতা।

    ২৯ অগাস্ট সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অঙ্কিত দাবি করেন, খাড়গে দলিত হওয়ার কারণে ওই যজ্ঞ করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের সভার পর রামলীলা আয়োজনের ঐতিহ্যবাহী ওই জায়গাটি নোংরা অবস্থায় পড়ে ছিল। সভায় আসা কিছু মানুষ সেখানে প্রস্রাব ভর্তি বোতলও ফেলে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। সেই কারণেই জায়গাটি পরিষ্কার করার পর পবিত্রতা ফিরিয়ে আনতে যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

    অঙ্কিত আরও দাবি করেন, ওই কংগ্রেস সভায় হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হওয়ার জন্য ব্যবহৃত মঞ্চ থেকে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল। তবে এই স্লোগান ঠিক কোথা থেকে এবং কী পরিস্থিতিতে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যদিও, খবরের সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

    শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ! (Rahul Gandhi)

    অঙ্কিত বলেন, “শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ করা হয়েছিল কারণ ওই মঞ্চে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হয়েছিল। প্রথমত, এটি একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ এবং কোনও রাজনৈতিক দলকে ওই মঞ্চ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। ওই মঞ্চ থেকেই ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, আমরা যে ভিডিয়োগুলি পেয়েছি তাতে তা দেখা গিয়েছে। তাই জায়গাটির শুদ্ধিকরণের জন্য সেখানে যজ্ঞ করা হয়েছিল।”

    অঙ্কিতের এই বক্তব্য কংগ্রেসের সেই অভিযোগকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে খাড়গে দলিত হওয়ার কারণেই সভাস্থলের ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে, যজ্ঞের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি যোগ থাকার অভিযোগও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অঙ্কিত জানিয়েছেন, তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত নন; তিনি ‘শ্রী রাম সেবা ধর্মার্থ ন্যাসে’র সঙ্গে যুক্ত (Rahul Gandhi)।

    রাহুলের অভিযোগ, ‘শুদ্ধিকরণ’ আসলে অস্পৃশ্যতা

    এর আগে কংগ্রেস এই ঘটনাকে দলিত-বিরোধী মানসিকতার প্রকাশ বলে অভিযোগ করেছিল। কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, খাড়গের মতো একজন দলিত নেতা সভায় আসার পর মঞ্চের ‘শুদ্ধিকরণ’ করা আসলে অস্পৃশ্যতারই একটি রূপ।

    ২৯ অগাস্ট রাহুল এই ইস্যুতে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতির উপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করার দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাটি সংবিধানবিরোধী এবং বিজেপি-আরএসএসের মানসিকতার প্রতিফলন।

    রাহুল বলেন, “এটি একটি অপরাধ। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী এটি একটি অপরাধ।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলিতরা যত বেশি সাফল্য অর্জন করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তত বেশি আক্রমণ হয়। তাঁর দাবি, হালদ্বানির ঘটনাটি শুধু খাড়গের বিষয় নয়, দেশের সমস্ত দলিত মানুষের সম্মানের সঙ্গে যুক্ত।

    বিজেপির পাল্টা দাবি

    কংগ্রেসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের বক্তব্য, ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানটি খাড়গের জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। হালদ্বানি ময়দানে সভার পর (BJP) পড়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করার পর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল (Rahul Gandhi)।

     

  • Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও রাজনৈতিক নেতার স্মৃতিকথা তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে। সেখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন এবং সমকালীন ঘটনাবলী সম্পর্কে লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যা থাকলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেই বই প্রকাশে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। কিন্তু কোনও বইয়ে প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক সংগঠন (Congress), ভারত-চিন সীমান্ত কিংবা ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কোনও দাবি থাকলে বিষয়টি শুধুমাত্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন সামনে আসে তথ্য, প্রমাণ এবং প্রকাশকের দায়িত্বের প্রশ্ন। এই বিতর্কের কেন্দ্রেই রয়েছে সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi Book Row) প্রস্তাবিত স্মৃতিকথা “বিলংগিং: এ জার্নি অফ লাভ”। বইটির আন্তর্জাতিক সংস্করণ আগামী ১০ নভেম্বর, ২০২৬ প্রকাশিত হওয়ার কথা। পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউসের আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে বইটিকে ৫৪৪ পৃষ্ঠার একটি স্মৃতিকথা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক (Sonia Gandhi Book Row)

    ভারতে বইটির প্রকাশনা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া এবং সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ, ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের কথিত অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সোনিয়া সেই পরিবর্তনগুলি মেনে নেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এর পরেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ওঠে, একই বই বিদেশে প্রকাশিত হলেও ভারতে কেন প্রকাশিত হচ্ছে না। দলের কয়েকজন নেতা বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তোলেন। কিন্তু বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে প্রকাশকের বক্তব্যের পর।

    পেঙ্গুইনের বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

    ২৮ অগাস্ট পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া প্রকাশ্যে জানায় যে ভারতে “বিলংগিং” বইটির প্রকাশক তারা নয়। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানায়, সোনিয়া সম্পাদকীয় পরিবর্তন মেনে না নেওয়ায় তারা বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত বদল করেছে—এমন দাবি পুরো পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না। প্রকাশকের বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্য যাচাই করা এবং লেখকদের সম্পাদকীয় পরামর্শ দেওয়া প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। সংশ্লিষ্ট আলোচনার সময় বইটি প্রকাশ করার বিষয়ে তারা আগ্রহী ছিল বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে গোপন আলোচনার বিষয়ে তারা আর কোনও মন্তব্য করতে চায়নি (Congress)। এই বক্তব্যের পর বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে এসেছে—প্রকাশক নিজেই যখন সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করছে না, তখন সরাসরি মোদি সরকারের সঙ্গে বই প্রকাশ না হওয়ার সিদ্ধান্তকে যুক্ত করার ভিত্তি কী?

    প্রশ্ন শুধু সোনিয়ার বই নিয়ে নয়

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ কি কোনও লেখক যে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকার বা সেনাবাহিনী সম্পর্কে যে কোনও দাবি করতে পারবেন এবং প্রকাশককে তা তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রকাশ করতে হবে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ার প্রয়োজনই বা কোথায়? বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্বশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলিতে সম্পাদকীয় পর্যালোচনা, তথ্য যাচাই এবং আইনি পর্যালোচনা প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। কোনও বইয়ে জীবিত ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগ, সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুতর মন্তব্য, সামরিক অভিযান সংক্রান্ত তথ্য অথবা কোনও দেশের সীমান্ত নিয়ে দাবি থাকলে সেই দাবির ভিত্তি খতিয়ে দেখা স্বাভাবিক। লেখকের লেখার অধিকার রয়েছে, কিন্তু কোনও প্রকাশককে নির্দিষ্ট আকারে সেই লেখা প্রকাশ করতে বাধ্য করা যায় না।

    ভারত-চিন সীমান্তের প্রশ্ন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়

    সোনিয়ার বইকে ঘিরে বিতর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশটি ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্তে চিনের কার্যকলাপ, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা, ভারতীয় ভূখণ্ডের অবস্থান এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ সাধারণ রাজনৈতিক মন্তব্যের বিষয় নয়। এই বিষয়গুলির সঙ্গে সরাসরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও স্মৃতিকথায় যদি বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ে চিন ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল, কোনও সরকার পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দিতে পারেনি, অথবা কোনও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তাহলে পাঠকের জানার অধিকার রয়েছে—এগুলি কি লেখকের ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন, নাকি যাচাই করা তথ্য? এখানেই প্রকাশকের দায়িত্ব শুরু হয়। তথ্য চাওয়া সেন্সরশিপ নয়। বরং বহু ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করাই প্রকাশকের দায়িত্ব। কোনও রাজনৈতিক নেতা যদি লেখেন, কোনও নির্দিষ্ট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট কথা বলেছিলেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারে। কিন্তু একই বইয়ে কোনও সামরিক ঘটনা, সীমান্ত বিরোধ বা সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে তুলে ধরা হলে সেই দাবির প্রকৃতি বদলে যায় (Sonia Gandhi Book Row)। তখন প্রশ্ন উঠবেই—এর উৎস কী? কোনও নথি রয়েছে কি? অন্যান্য সূত্র কী বলছে? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি? সরকারি নথি বা জনসমক্ষে থাকা তথ্য দিয়ে দাবিটির সত্যতা নিশ্চিত করা যায় কি? এই প্রশ্নগুলি করা লেখকের কণ্ঠরোধ করা নয়, বরং পাঠকের জানার অধিকার রক্ষা করা (Congress)।

    কংগ্রেসের যুক্তি এবং তার দুর্বল জায়গা

    কংগ্রেসের নেতারা গোটা ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। অশোক গেহলট, কমল নাথ-সহ দলের একাধিক নেতার প্রশ্ন, বিদেশে বইটি প্রকাশিত হতে পারলে ভারতে প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা কোথায় এবং কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না। অবশ্যই এটি গুরুতর অভিযোগ। কিন্তু গুরুতর অভিযোগের জন্যও প্রয়োজন জোরালো প্রমাণ। যদি কেন্দ্রীয় সরকার পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়াকে বইয়ের কোনও অংশ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকে, তাহলে সেই নথি প্রকাশ করা উচিত। কোনও সরকারি আধিকারিক প্রকাশকের উপর চাপ দিয়ে থাকলে তার প্রমাণও সামনে আনা উচিত। কোনও মন্ত্রক বইটি আটকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকলে সেই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসা উচিত। বর্তমানে প্রকাশকের যে বক্তব্য সামনে এসেছে, তাতে এমন কোনও সরকারি নির্দেশের উল্লেখ নেই। বরং সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রকাশক সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া এবং তথ্য যাচাইকেই প্রকাশনার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তাই এই পর্যায়ে “মোদি সরকার বইটি আটকে দিয়েছে”—এমন বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়, বরং রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা যায়।

    লেখকের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের স্বাধীনতা

    এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে কি প্রকাশকের স্বাধীনতাকে উপেক্ষা করা যায় (Sonia Gandhi Book Row)? সোনিয়ার নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই কোনও পাণ্ডুলিপিতে তথ্য যাচাই প্রয়োজন বলে মনে হলে প্রকাশকের লেখককে প্রশ্ন করার অধিকারও রয়েছে। লেখক কোনও পরিবর্তন গ্রহণ করতে না চাইলে সেটিও তাঁর অধিকার। একইভাবে, সেই আকারে বই প্রকাশ করতে প্রকাশক অনিচ্ছুক হলে সেটিও প্রকাশকের অধিকার। গণতন্ত্র উভয় পক্ষের স্বাধীনতার কথা বলে। এক পক্ষের স্বাধীনতা যখন অন্য পক্ষের উপর বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়, তখনই ব্যবস্থাটি অসুস্থ হয়ে ওঠে।

    পেঙ্গুইনের আগের বিতর্কও কি প্রাসঙ্গিক?

    পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার নাম এর আগেও বিতর্কিত প্রকাশনা সংক্রান্ত ঘটনায় উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জুনে ২০১৩ সালের মুজফফরনগর দাঙ্গার উপর ভিত্তি করে জো সাকোর গ্রাফিক প্রতিবেদন “দ্য ওয়ান্স অ্যান্ড ফিউচার রায়ট” ভারতে বিতরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল সংস্থাটি। সাকোর দাবি ছিল, বইয়ে ব্যবহৃত কয়েকটি উদ্ধৃতি নিয়ে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া পরিবর্তন চেয়েছিল। অতএব, সোনিয়ার বইকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। তবে “মোদিকে প্রশ্ন করা” এবং “মোদিকে দোষারোপ করা”—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সরকারকে প্রশ্ন করা বিরোধী দলের অধিকার। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করাও গণতান্ত্রিক অধিকার। ভারত-চিন নীতি নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাওয়াও সম্পূর্ণ বৈধ। কিন্তু কোনও প্রমাণ ছাড়াই প্রকাশকের সিদ্ধান্তকে সরকারের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় (Congress)। প্রশ্ন করা গণতন্ত্রের অংশ। কিন্তু প্রমাণ ছাড়াই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা গণতন্ত্রের মানকে দুর্বল করে।

    সরকার বদলালেও কি তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলাবে?

    কংগ্রেস যদি মনে করে বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তাহলে তাদের সেই দাবির প্রমাণ সামনে আনা উচিত। কিন্তু প্রমাণ না থাকলে প্রতিটি সম্পাদকীয় মতপার্থক্যকে মোদি সরকারের ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরলে রাজনৈতিক বিতর্কের গভীরতা কমে যায়। আগামী দিনে সরকার বদলালে কি এই মানদণ্ডও বদলে যাবে? এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তার আগে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ছিল। ভবিষ্যতে অন্য কোনও দল ক্ষমতায় আসতে পারে। তাহলে কি সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকাশনার স্বাধীনতার মানদণ্ডও বদলে যাবে? উত্তর হওয়া উচিত—না। আজ বিজেপি সরকারের সঙ্গে যুক্ত কোনও নেতাকে নিয়ে প্রকাশিত বইয়ে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তথ্য যাচাই প্রয়োজন। আগামীকাল যদি কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকে এবং কোনও কংগ্রেস নেতাকে নিয়ে গুরুতর অভিযোগসম্বলিত বই প্রকাশিত হয়, তাহলেও তথ্য যাচাই প্রয়োজন হবে। এটাই গণতান্ত্রিক নীতি। রাজনৈতিক দল বদলায়। সরকার বদলায়। প্রধানমন্ত্রী বদলায়। কিন্তু তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলানো উচিত নয় (Sonia Gandhi Book Row)।

    সেনাবাহিনী নিয়ে কে কী লিখতে পারেন, প্রশ্নটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    চিন এবং ভারতীয় ভূখণ্ড সংক্রান্ত অংশের কথা সামনে আসায় জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বিতর্ককে দেখা প্রয়োজন। ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনও রাজনৈতিক দল নয়। সীমান্তে সেনাবাহিনীর অভিযান, সিদ্ধান্ত এবং মোতায়েন নিয়ে গুরুতর কোনও দাবি জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্মৃতিকথার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী সম্পর্কিত কোনও বক্তব্য যাচাই না করেই গ্রহণ করা সমীচীন নাও হতে পারে। এখানে উদ্দেশ্য কোনও সরকারকে রক্ষা করা হওয়া উচিত নয়। কোনও সরকার সীমান্তে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক প্রশ্ন থাকা উচিত। সেনাবাহিনীর কোনও ত্রুটি হয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। চিন কোনও পদক্ষেপ নিয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা দরকার। আবার অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে খণ্ডন করা উচিত।দেশপ্রেমের অর্থ সরকারের বলা প্রতিটি কথাকে সঠিক বলে মেনে নেওয়া নয়। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের নামে কোনও যাচাই না-করা দাবিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও দেশপ্রেম নয়। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের মূল প্রশ্ন তাই শুধু সোনিয়ার বই প্রকাশিত হবে কি না, তা (Congress) নয়। প্রশ্ন হল—গণতন্ত্রে লেখকের স্বাধীনতা, প্রকাশকের স্বাধীনতা এবং পাঠকের সত্য জানার অধিকার—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনই সংবেদনশীল দাবির ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রমাণের গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না (Sonia Gandhi Book Row)।

     

  • Kangana Attacks Rahul: ‘ব্রো, দাঁড়াও… ভারত মাতা কি জয়’— কৃতি অভিনীত রাখির বিজ্ঞাপন বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে তুলোধনা কঙ্গনার

    Kangana Attacks Rahul: ‘ব্রো, দাঁড়াও… ভারত মাতা কি জয়’— কৃতি অভিনীত রাখির বিজ্ঞাপন বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে তুলোধনা কঙ্গনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের নিশানায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Kangana Attacks Rahul)। রাখির বিজ্ঞাপনে কৃতি শ্যাননের পোশাক নিয়ে বিতর্কের জল গড়াল রাজনৈতিক তরজায়। অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে মহিলাদের পোশাক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে প্রশ্ন না তোলার বার্তা দিয়েছিলেন রাহুল। ‘পিতৃতন্ত্র ভাঙার’ সেই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। বিজেপির একটি পোস্ট শেয়ারের মাধ্যমে রাহুলকে নিশানা করে কঙ্গনার মন্তব্য, “ভাই, একটু দাঁড়াও। ভারতমাতার জয়। চলো শুরু করি।”

    ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টে রাহুলকে আক্রমণ

    বিজেপির ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে রাহুল গান্ধীর নারী অধিকার ও পিতৃতন্ত্র-বিরোধী অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। পোস্টটির একটি ছবিতে রাহুলকে বলতে দেখা যায়, “স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি!” এর জবাবে এক নারী বলেন, “ব্রো, ওয়েট। ভারত মাতা কি জয়। শুরু করতে হ্যায়।” বিজেপির বক্তব্য, সেখানে রাহুলের মন্তব্যকে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। পরের ছবিতে প্রশ্ন তোলা হয় মহিলা সংরক্ষণ বিলের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের পুরনো অবস্থান নিয়ে। আরও একটি ছবিতে শাহ বানো মামলার প্রসঙ্গও আনা হয়। বিজেপির পোস্টের শেষের দিকে কর্নাটক মন্ত্রিসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ৩৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় একজনও মহিলা নেই—এমন দাবি তুলে রাহুলের প্রতিক্রিয়াকে ব্যঙ্গাত্মক ভাবে দেখানো হয়। কঙ্গনা এই পোস্ট শেয়ার করেন ও ব্যঙ্গচিত্রটি তুলে ধরেন।

    কৃতি-কঙ্গনা বিতর্ক

    এই বিতর্কের সূত্রপাত কৃতি শ্যাননের একটি রাখি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। গয়না সংস্থা জিভার ৩৬ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনে অফ-হোয়াইট ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। বিজ্ঞাপনে ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধার পাশাপাশি পোষ্য কুকুরকেও রাখি পরাতে দেখা যায় তাঁকে। পোশাক এবং বিজ্ঞাপনের উপস্থাপনা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হয়। কঙ্গনা এর আগে পোশাক নিয়ে আপত্তি তুলে প্রশ্ন করেছিলেন, রাখি বাঁধার সময় কেন এমন পোশাক বেছে নেওয়া হল। বিজ্ঞাপনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অস্বস্তিকর। এর জবাবে কৃতি পোশাকের সঙ্গে সংস্কৃতি ও নারী স্বাধীনতাকে এক করে দেখার কথা তোলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, কোনও মহিলার সংস্কৃতির প্রতি সম্মান তাঁর পোশাক দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। পোশাক নিয়ে মহিলাদের নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। কৃতির বোন নূপুর শ্যাননও কঙ্গনার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

    কৃতির পাশে রাহুল

    কৃতি-কঙ্গনা বিতর্কের আবহে নারী স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে কৃতি শ্যাননের ‘ঢাল’ হয়ে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। কৃতির বক্তব্য শেয়ার করে রাহুল লেখেন, ‘কোনও মহিলা কী পরবেন, কী করবেন বা কোথায় যাবেন, তা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। মহিলারা স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দ প্রকাশ করলে তাঁদের ট্রোল করা বন্ধ করা হোক।’ রাহুলের এহেন মন্তব্য ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধী শিবিরের তারকা সাংসদ কঙ্গনাকেই কি খোঁচা দিলেন তিনি? যদিও রাহুল গান্ধী তাঁর পোস্টে কারও নামোল্লেখ করেননি, কিন্তু কংগ্রেস সাংসদের এহেন শব্দবাণ যে কঙ্গনার উদ্দেশেই, তেমনটাই অনুমান নেটভুবনের একাংশের।

    ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ হ্যাশট্যাগ

    রাহুল তাঁর পোস্টে ব্যবহার করেন ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ হ্যাশট্যাগ। এরপরই বিজেপির পোস্টে রাহুলের ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ বার্তাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। কঙ্গনা সেই পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, “ব্রো, ওয়েট। ভারত মাতা কি জয়। শুরু করতে হ্যায়। কঙ্গনার দাবি রাহুল মুখে নারী অধিকারের কথা বললেও, তাঁর দল কংগ্রেস আদতে নারীদের সমানাধিকার নিয়ে চিন্তিত নয় তাহলে তারা মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন করত। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করানো যায়নি। একযোগে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূলের মতো বিরোধী দলগুলিকে এই বিল সমর্থন করেনি। স্বার্থপর রাজনীতির জন্য দেশের নারীশক্তির ক্ষতি করেছে তারা।

    রাহুল-কঙ্গনা বিতর্ক নতুন মাত্রা

    এর আগে পুনের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিতেও রাহুল পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছিল। মেয়েরা নিজেদের, বাবার, স্বামী বা ছেলের অধীন নন—এমন বার্তা দিয়ে এই ধরনের মানসিকতার সমালোচনাও করেছিলেন তিনি। সেই মন্তব্যের আবহেই এবার কৃতিকে ঘিরে বিতর্কে রাহুল-কঙ্গনা সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। এই আবহে  বিতর্কের সূত্রপাত যে বিজ্ঞাপনকে ঘিরে গয়না সংস্থা জিভা তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারা জানায়, বিজ্ঞাপনটি সমাজের কোনও অংশের মানুষের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুভূতিতে আঘাত করুক, তারা তা চায় না। একটি সরকারি বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, “ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং উৎসবের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও গভীর সম্মান রয়েছে। একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা সবসময় পরিবারের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত উদযাপনে বিশ্বাস করি। এবার আমরা সেই ভালোবাসা ও উদযাপনের পরিসরে পোষ্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলাম।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমাদের সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনটি যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে সমাজের কোনও অংশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে থাকে, তা কখনওই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সম্মানের কথা মাথায় রেখে আমরা সমস্ত মাধ্যম থেকে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”

  • Vande Mataram Row: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবককে অনুমোদন! কংগ্রেসকে তুলোধনা শাহ-নবীনের

    Vande Mataram Row: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবককে অনুমোদন! কংগ্রেসকে তুলোধনা শাহ-নবীনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক গাওয়া নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করে আসছে এবং পুরো জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পরিবর্তে শুধু প্রথম দুই স্তবক (Vande Mataram Row) গাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই রাজনীতিরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার শাহ বলেন, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থবিরোধী। তাঁর দাবি, ১৯৩৭ সালের কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে দলের বর্তমান নেতৃত্ব বন্দে মাতরমের শুধু প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার অবস্থান বজায় রেখেছে।

    শাহি-কথা (Vande Mataram Row)

    সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহ (Amit Shah) বলেন, “গতকাল (বুধবার) কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটি একটি বিস্ময়কর এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৩৭ সালের দলের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে তারা মহান গান বন্দে মাতরমের মাত্র দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” শাহের দাবি, ১৯৩৭ সালে রাজনৈতিক কারণে বন্দে মাতরমের পরিবেশন সীমিত করার সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে দ্বিজাতিতত্ত্বের ধারণা শক্তিশালী হওয়ার পরিবেশ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত দেশভাগের পথ প্রশস্ত হয়।

    শাহ বলেন, “আমি গোটা দেশকে মনে করিয়ে দিতে চাই, ১৯৩৭ সালে মুসলিম তুষ্টিকরণের জন্য কংগ্রেস বন্দে মাতরমকে দুই ভাগে ভাগ করে দেশভাগের ভিত্তি তৈরি করেছিল। সেখান থেকেই দ্বিজাতিতত্ত্ব শক্তিশালী হয় এবং শেষ পর্যন্ত দেশভাগ হয়, পাকিস্তানের জন্ম হয়।” কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সমস্ত সরকারি দফতরে জাতীয় সঙ্গীত বন্দে মাতরম পরিবেশনের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, কংগ্রেস তার পক্ষে না থাকায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, বন্দে মাতরমের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে এই গানকে সামনে রেখে লড়াই করা দেশপ্রেমিকদের ঐতিহ্যের প্রতিও কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অসম্মানজনক।

    কংগ্রেসের যুক্তি

    তবে কংগ্রেস তাদের অবস্থান থেকে সরেনি। দলের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানান, সেই সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, দলের কর্মীরা এখনও সেটিই অনুসরণ করবেন (Vande Mataram Row)। বেণুগোপাল বলেন, “আমাদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। ১৯৩৭ সালের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেখানে মহাত্মা গান্ধী, পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং সর্দার প্যাটেল-সহ সেই সময়ের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমরা সেটিই মেনে চলব। আমাদের কংগ্রেস কর্মীরা সেই সিদ্ধান্তই অনুসরণ করবেন। এটাই আমাদের অবস্থান।”

    তাল কাটে কংগ্রেসের স্বাধীনতা দিবস পালনের অনুষ্ঠানে

    গত ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। কংগ্রেসের সদর দফতরে বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার কথাবার্তার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি নেতারা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জাতীয় গানের প্রতি অসম্মানের অভিযোগ তোলেন। বিজেপির অভিযোগ ছিল, পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম (Vande Mataram Row) পরিবেশন নিয়ে কংগ্রেস আপত্তি জানিয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস। এর পরেই বিষয়টি বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নেয়। জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় প্রতীকের ব্যবহার, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস এবং জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা নিয়ে দুই দলের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।

    কংগ্রেসের আত্মপক্ষ সমর্থন

    কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও দলের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনেই বন্দে মাতরমের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ পরিবেশন করছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে গান্ধী, নেহরু ও প্যাটেলের মতো নেতাদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের মতো বিষয়কে বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন খাড়্গে। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দিষ্ট সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম পরিবেশনের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিধি বা রীতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় গানটির মর্যাদা ও পরিবেশন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়েও সংসদে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বিতর্কটি এখন শুধু কতগুলি স্তবক গাওয়া হবে, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয় প্রতীক, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস, অতীতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিও এই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

    কংগ্রেসকে ‘মুসলিম লিগ’-এর সঙ্গে তুলনা গিরিরাজ সিংয়ের

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংও কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বন্দে মাতরমের বিরোধিতা আসলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরোধিতা। তিনি বলেন, “এটি শুধু বন্দে মাতরমের বিরোধিতা নয়, আমাদের বিপ্লবীদের বিরোধিতাও। এখন কংগ্রেস মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। এটি গান্ধীজির কংগ্রেস নয় (Amit Shah), এটি সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস।”

    ১৫ অগাস্ট কংগ্রেসের সদর দফতরে পুরো বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় সোনিয়া, রাহুল এবং খাড়্গের প্রতিক্রিয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন গিরিরাজ। তিনি বলেন, “১৫ অগস্ট কংগ্রেস দফতরে পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গের মুখের দিকে তাকান। মনে হচ্ছিল, কেউ যেন তাঁদের জোর করে বিষ পান করাচ্ছে (Vande Mataram Row)।”

    কংগ্রেসকে নিশানা নিতিন নবীনেরও

    বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনও কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বন্দে মাতরমের মতো পবিত্র মাতৃভূমির বন্দনার প্রতি কংগ্রেসের অবস্থান দেশের জন্য আত্মবলিদান দেওয়া শহিদদের প্রতি অসম্মানের সমান। তিনি বলেন, “ভারতমাতার পবিত্র বন্দনার এই অসম্মান সেই হাজার হাজার শহিদের প্রতি অবজ্ঞা, যাঁরা এই গানকে হৃদয়ে ধারণ করে দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আজ কংগ্রেস নতুন মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষা নয়, বরং সেই ভোটব্যাঙ্কের প্রতি ক্ষুধার প্রমাণ, যার বেদিতে কংগ্রেস বারবার দেশের আত্মসম্মান বন্ধক রেখেছে (Amit Shah)।”

    ফলে বন্দে মাতরমের কতগুলি স্তবক পরিবেশন করা হবে, সেই প্রশ্নটি এখন নিছক সাংস্কৃতিক বা আনুষ্ঠানিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরাধিকার, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে বিজেপি-কংগ্রেসের সংঘাত (Vande Mataram Row)।

     

  • Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাঁচিতে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে (Student Protest)। রবিবার, ১৬ অগাস্ট বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ান। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা মঞ্চের নেতৃত্বে এই আন্দোলন টানা ২৩ দিনে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তাঁদের একাধিক দাবির বিষয়ে ক্ষমতাসীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস জোট এখনও পর্যন্ত কার্যকরী কোনও পদক্ষেপ করেনি। রবিবার রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়াম থেকে আলবার্ট এক্কা চকের দিকে মশাল মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে পৌঁছে তাঁরা কুশপুতুল পোড়ান এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবন ঘেরাও করা হবে। অবশ্য ১৮ অগাস্টের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    ক্ষমতাসীন জোটকে নিশানা (Jharkhand)

    নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যার যথাযথ সমাধান করছে না ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস সরকার। কংগ্রেসের কাছেও তাঁরা ঝাড়খণ্ডে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।

    রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ানোর ঘটনা থেকে স্পষ্ট, আন্দোলন এখন আর শুধু নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। ক্ষমতাসীন জোটের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও সরাসরি নিশানা করছেন আন্দোলনকারীরা।

    এর আগে রাজ্য বিধানসভার দিকে মিছিল করার সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই আন্দোলনের সুর আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে।

    হেমন্ত সোরেন ও রাহুল গান্ধীর ‘শোক’ পালন

    রবিবারের বিক্ষোভে এক আন্দোলনকারী মাথা ন্যাড়া করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। হেমন্ত ও রাহুলের প্রতি ‘শোক’ প্রকাশের প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে তিনি ন্যাড়া হন। নিজেকে দুই নেতারই “ছোট ভাই” বলে দাবি করে ওই আন্দোলনকারী অভিযোগ করেন, পড়ুয়াদের সমস্যার প্রতি তাঁরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

    তাঁর আরও অভিযোগ, সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের সমস্যা সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক স্বার্থ নিয়েই বেশি ব্যস্ত (Jharkhand)।

    আর এক বিক্ষোভকারী রাহুলের ছাত্র-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যত্র পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে রাহুল সরব হলেও, ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের অভিযোগের সমাধানে তিনি যথেষ্ট উদ্যোগী নন।

    তবে এর আগে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের মিছিলে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন রাহুল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শোনার জন্য তিনি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছিলেন (Student Protest)।

    কী কী দাবি পড়ুয়াদের?

    নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য একাধিক দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হল—১. অনিয়মের অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে।

    ২. নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করতে হবে।

    ৩. তদন্তের ফল প্রকাশ করতে হবে।

    ৪. অনিয়মের জন্য দায়ী আধিকারিক ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ৫. ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনতে হবে।

    ৬. অর্থ দফতরের শাখা আধিকারিক সন্তোষ কুমার মাস্তানার সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলনকারীরা তাঁকে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আনা এক তথ্যপ্রকাশকারী হিসেবে দাবি করছেন।

    ৭. মাস্তানার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে হবে।

    আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁদের সমস্যা কোনও একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাকে ঘিরে নয়। গোটা সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই দাবি যুক্ত (Jharkhand)। ২০ অগাস্টের প্রস্তাবিত ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের রাঁচিতে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ফের আলোচনায় বসার ডাক সরকারের

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই ঝাড়খণ্ড সরকার ১৭ অগাস্ট আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

    এর আগে সরকার ও পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও অচলাবস্থা কাটেনি। সরকারের পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের কয়েকটি দাবি মেটানোর চেষ্টা করা হলেও, আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা বাতিল এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

    ২০ অগাস্টের ঘেরাও কর্মসূচির আগে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Student Protest)।

    নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের ঘোষণা হেমন্তর

    সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের আস্থায় প্রভাব পড়েছে।

    তিনি জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে করা হবে এবং যে-ই দোষী প্রমাণিত হোন না কেন, তাঁর পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট বার্ষিক পরীক্ষা-পঞ্জি, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সময়মতো উত্তরপত্রের কী ও ওএমআর শিট প্রকাশ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক স্তরে জবাবদিহির ব্যবস্থা।

    পড়ুয়া, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের কাছ থেকে পরীক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ নিতে রাজ্য সরকার ‘পড়ুয়াদের সঙ্গে পড়ুয়াদের কণ্ঠস্বর’ উদ্যোগও শুরু করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলেও ফের জানিয়েছেন (Jharkhand) সোরেন।

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করবে কংগ্রেস

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছে কংগ্রেসও। ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের গণমাধ্যম দায়িত্বপ্রাপ্ত রাকেশ সিং জানান, ১৮ অগাস্ট রাজ্য কংগ্রেস একটি বৈঠক করবে। সেখানে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরিচালিত পরীক্ষায় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে।

    দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে  আলোচনা হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে (Student Protest)।

    রাজনৈতিক মাত্রা বাড়ছে আন্দোলনে

    দীর্ঘস্থায়ী এই আন্দোলন ক্রমশ রাজনৈতিক মাত্রা পাচ্ছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন এখন ক্ষমতাসীন জোটের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি সমালোচনায় পরিণত হয়েছে। হেমন্তর পাশাপাশি রাহুল ও তেজস্বীর কুশপুতুল পোড়ানো সেই উত্তেজনা আরও ইন্ধন জুগিয়েছে।

    ১৭ অগাস্ট সরকারের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার সুযোগ অচলাবস্থা কাটাতে পারে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা হবে (Jharkhand)।

     

  • Bankim Chandra: ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে সোনিয়াকে চিঠি বঙ্কিমচন্দ্রের বংশধরের, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

    Bankim Chandra: ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে সোনিয়াকে চিঠি বঙ্কিমচন্দ্রের বংশধরের, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্দে মাতরম’ সম্পূর্ণ গাওয়া নিয়ে বিতর্কের জেরে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশধর তথা পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক বিজেপির সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও যন্ত্রণা প্রকাশ করে তিনি সোনিয়ার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সুমিত্র ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নৈহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছেন। চিঠিতে সুমিত্র অভিযোগ করেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ পরিবেশনা থামানোর চেষ্টা আসলে “ঐতিহাসিক ভুলের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি”। তাঁর দাবি, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়ার সময় কংগ্রেস কর্মীদের থামানোর বারবার চেষ্টা তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ (Bankim Chandra)

    সুমিত্রর কথায়, “আজ, ১৫ আগস্ট ২০২৬, স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তির এই পবিত্র সকালে, যখন দেশের প্রতিটি মানুষ ভারতমাতাকে শ্রদ্ধা জানাতে নিবেদিত, তখন সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সদর দফতরে যা ঘটেছে, তা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, বরং ঐতিহাসিক ভুলের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি।” তিনি এও বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ কংগ্রেস কর্মীরা যখন গাইছিলেন, তখন তাঁদের অস্বস্তি, অসন্তোষ এবং বারবার থামানোর চেষ্টা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক, দেশপ্রেমিক এবং সর্বোপরি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সরাসরি বংশধর হিসেবে গভীর বেদনা, শূন্যতা ও যন্ত্রণা নিয়ে আমি এই চিঠি লিখছি।” কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগও তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক। ১৯৩৭ সালে মুসলিম লিগের অধিবেশনে মহম্মদ আলি জিন্নার ‘বন্দে মাতরম’-কে মুসলিমবিরোধী আখ্যা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, সেই আপত্তির জেরে কংগ্রেস সরকারি অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দু’টি প্রকৃতিবন্দনামূলক স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই আপসের ছায়া এখনও কংগ্রেসের মতাদর্শ ও আচরণে দেখা যায়।

    দ্বিচারিতা নতুন কিছু নয়

    চিঠিতে সুমিত্র লেখেন, “ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, আপনাদের কথিত দ্বিচারিতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৩৭ সালের অক্টোবরে আপনারাও মহম্মদ আলি জিন্নার অযৌক্তিক আপত্তির কাছে নতিস্বীকার করে এই চিরন্তন দেশাত্মবোধক গানকে খণ্ডিত করেছিলেন। সেই আপসের ছায়া এখনও আপনাদের মতাদর্শে দৃশ্যমান এবং আজ আপনাদের আচরণে তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।” ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগেও আঘাত লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আজকের এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগ গভীরভাবে আহত হয়েছে। বিষয়টি আপনাকে জানানো আমার নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করি।” সোনিয়ার উদ্দেশে তাঁর আবেদন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের বংশধর হিসেবে অত্যন্ত বিনীত কিন্তু দৃঢ় ভাষায় আমি আপনাকে আত্মসমালোচনা করে আমার সমস্ত দেশবাসীর কাছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে, আপনার আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। যে নেতৃত্ব নিজের স্বাধীনতার মন্ত্রকেই সম্মান করতে ব্যর্থ হয়, ইতিহাসে তাঁর স্থান বিস্মৃতির অন্ধকারে।”

    অমিত মালব্যর অভিযোগ

    এর আগে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য অভিযোগ করেছিলেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সদর দফতরে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ পরিবেশনা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের প্রথম স্তবকগুলি গাওয়ার পর সোনিয়া “অসন্তুষ্ট” হয়ে তা থামানোর কথা বলেছিলেন। রাহুলও (গান্ধী) গান শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন মালব্য। তবে পরে তাঁদের জানানো হয় যে গানটি চলবে এবং শেষ পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ পূর্ণাঙ্গ পরিবেশন করা হয়। এই ঘটনার নিন্দা করে মালব্য অভিযোগ করেন, গান্ধী পরিবারের সঙ্গে সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস ও সভ্যতাগত শিকড়ে প্রতিষ্ঠিত ভারতের ধারণার সম্পর্ক বরাবরই অস্বস্তিকর। ঘটনা প্রসঙ্গে সুমিত্র বলেন, “তাঁর কাজ সত্যিই লজ্জাজনক। এটি দেশের প্রতি অপমান। গোটা ভারত এবং বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রতি অপমান। আমার গোটা পরিবার এতে ব্যথিত হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, এত বছর ভারতে বসবাস করেও সোনিয়া গান্ধী তাঁর ইতালীয় সংস্কৃতিকে ভুলতে পারেননি।”

    সোনিয়াকে ই-মেলে চিঠি

    তিনি জানান, বিষয়টি জানিয়ে সরাসরি সোনিয়াকে ই-মেলে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও তার প্রতিলিপি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “দেখা যাক, তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারেন কি না।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ভারতের রাষ্ট্রপতি বা অন্য কোনও সরকারি আধিকারিককে তিনি চিঠি দেননি, যাঁকে এই ঘটনার জন্য দায়ী মনে করেছেন, তাঁকেই সরাসরি জানিয়েছেন এবং দলের প্রধানকে প্রতিলিপি পাঠিয়েছেন।

     

  • Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনাকে সস্তা রাজনৈতিক নাটক বানিয়েছেন রাহুল, দাবি বিজেপির

    Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনাকে সস্তা রাজনৈতিক নাটক বানিয়েছেন রাহুল, দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতিকে উপহাস করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) যে ভাষা প্রয়োগ করেছেন তা ‘অস‌ংযত ও অশালীন’ বলে অভিযোগ করল বিজেপি (BJP Attacks Rahul)। এমন ভাষার ব্যবহার তাঁর পদমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। এই প্রসঙ্গে রাহুলের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, ‘‘মনে হয় এবার অন্তত ওঁর সাবালকের মতো আচরণ করা উচিত।’’

    রাহুলকে পরিণত হতে বার্তা

    দিল্লিতে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নতুন মঞ্চ ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’-এর প্রথম জাতীয় সম্মেলনে রাহুল দাবি করেছিলেন, মোদি সরকারের একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্তে দেশের আমজনতার আক্রোশ ক্রমশ বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘‘আমজনতার প্রতিবাদ, বিক্ষোভের কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না!’’ সেই সঙ্গে মোদি সরকারের বিদেশনীতিরও কড়া সমালোচনা করেন রাহুল। তাঁর মতে, আরএসএস এবং বিজেপির বর্তমান কর্তারা হলেন ‘একদল ভাঁড়’। প্রহ্লাদ শুক্রবার অভিযোগ করেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে আদতে ভারতের জনগণকে অপমান করেছেন রাহুল।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘রাহুল গান্ধী, আপনি কবে পরিণত হবেন? ভারত চালানোর জন্য পরিণত নেতৃত্ব প্রয়োজন, অপেশাদার নাট্যাভিনয় নয়। গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে ‘ভাঁড়’ বলা প্রমাণ করে যে আপনি সীমা লঙ্ঘন করছেন।’’

    ব্যর্থ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের মতো আচরণ রাহুলের

    রাহুল ছাড়াও কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গ টেনে মোদির বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। বিজেপির অভিযোগ, বিদেশনীতি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনার পরিবর্তে রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগত ইঙ্গিত ও রসিকতার আশ্রয় নিয়েছেন। বিজেপির দাবি, সরকারের বিদেশনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কূটনীতি নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন তোলার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই সমালোচনা তথ্য, নীতি ও কূটনৈতিক ফলাফলের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা মঞ্চস্থ করা রাজনৈতিক রসিকতার মাধ্যমে নয়। বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তাঁর আচরণ তাঁকে ‘লোকসভার বিরোধী দলনেতার চেয়ে ব্যর্থ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের মতো’ বেশি তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ‘লকার-রুম টক’ এবং ‘সস্তা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য’-এর আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের মানুষ এমন একজন বিরোধী দলনেতা প্রত্যাশা করেন যিনি সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা বজায় রাখবেন।

    ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা কটাক্ষ কেন

    বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালাও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক আর কতটা নীচে নামতে পারে। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে এবং তাঁকে কঠোরভাবে আক্রমণ করাও বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু একজন মহিলা বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে টেনে এনে ব্যক্তিগত রসিকতা করা কোনওভাবেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বা রসবোধের পরিচয় নয়। বিজেপির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নিয়ে বিরোধীরা যতটা আগ্রাসী সমালোচনা করতে চান, করতে পারেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা কটাক্ষ দিয়ে সেই রাজনৈতিক বক্তব্যের শক্তি বাড়ে না, বরং মূল ইস্যু থেকে আলোচনা সরে যায়।

    কার্যকর রাজনৈতিক বার্তার অভাব

    এখানেই ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’ নামের অনুষ্ঠান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘রচনাত্মক বিরোধিতা’র অর্থ হওয়া উচিত বেকারত্ব, অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, বিদেশনীতি এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে সরকারকে তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানো। লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর কাছে সেই রাজনৈতিক মঞ্চ এবং সাংবিধানিক সুযোগ দুটোই রয়েছে। তাই তাঁর সমালোচনা ব্যক্তিগত কটাক্ষের পরিবর্তে নীতি, তথ্য ও সরকারের বাস্তব ফলাফলের উপর কেন্দ্রীভূত হলে তা আরও কার্যকর রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • Rahul Gandhi: ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর হামলা, রাহুলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Rahul Gandhi: ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর হামলা, রাহুলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) নিশানা করলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কংগ্রেস মিথ্যা রটাচ্ছে বলে অভিযোগ করার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand Parliament) পড়ুয়াদের ওপর হিংসার ঘটনায় রাহুলের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সোমবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিবৃতি দেওয়ার দাবি করেছিলেন রাহুল। তার পরের দিনই কংগ্রেস এবং রাহুলকে নিশানা করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের স্বার্থ নিয়ে কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা রটিয়ে চলেছে। রাহুল গান্ধীর কাছে তথ্য নেই। যে বিরোধী দলনেতা অভ্যাসগতভাবে মিথ্যা বলেন, তিনি সংসদে আসতে বা জবাব শুনতেও চান না। তাঁরা শুধু নিজেদের মিথ্যা রটাতে এবং কুমিরের কান্না কাঁদতে চান।’’

    রাহুল গান্ধী নীরব কেন?’ (Rahul Gandhi)

    অমিত শাহের বিরুদ্ধে রাহুল ও কংগ্রেস ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলছে বলেও দাবি করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর বক্তব্য, সংসদে যে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত। কংগ্রেস সংসদের কাজ ব্যাহত করছে এবং দেশের ও যুবসমাজের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এর পরেই ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ে রাহুলকে নিশানা করেন প্রধান। বলেন, ‘‘ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে, তা গোটা দেশ দেখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, যে রাহুল গান্ধী প্রতিটি বিষয় নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন, তিনি আজ নীরব কেন?’’ কংগ্রেস গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাছাই করা নীতি অনুসরণ করে বলেও অভিযোগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর দাবি, যেখানে কংগ্রেস ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে যুবকদের বিরুদ্ধে হিংসার আশ্রয় নেওয়া হয়। আবার রাজনৈতিক নজর কাড়ার প্রয়োজন হলে মিথ্যা এবং হইচইও করা হয়। তিনি বলেন, ‘‘দেশের যুবসমাজ কংগ্রেসের এই দ্বিচারিতা সম্পূর্ণভাবে বুঝে গিয়েছে।’’

    রাহুলকে সংসদে আলোচনায় যোগ দেওয়ার আহ্বান নাড্ডার

    সংসদে অচলাবস্থা নিয়ে রাহুলকে আক্রমণের একদিন পর ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই মন্তব্য সামনে এল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাও রাহুলের বিরুদ্ধে সংসদের কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ১৫ দিন ধরে ব্যাহত করার এবং দেশকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছিলেন (Rahul Gandhi)। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডার দাবি, রাহুল গান্ধীর দাবির পর সরকার সংসদে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়েছিল। কিন্তু পরে রাহুল তাঁর দাবি বদলে ফেলেন। নাড্ডা বলেন, “যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করছিলেন রাহুল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দাবিতে রাজি হওয়ার পর কংগ্রেস নেতা নিজের দাবিই বদলে ফেললেন এবং রাম মন্দিরের অনুদানে কথিত আর্থিক অনিয়ম নিয়ে আলোচনার দাবি তুলতে শুরু করলেন।” সংসদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য রাহুলকে আহ্বান জানান নাড্ডাও। তিনি বলেন, ‘‘তিনি (রাহুল) আলোচনা থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন কেন? আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাহুল গান্ধী, আলোচনা থেকে পালাবেন না। আমরা প্রস্তুত। সংসদের ভিতরে প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত। পালিয়ে যাবেন না।’’

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জরুরি অবস্থার যুগের মানসিকতা নিয়ে চলার অভিযোগও করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর বক্তব্য (Jharkhand Parliament), গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বৈরতন্ত্রের কোনও ঠাঁই নেই। তিনি বলেন, ‘‘জরুরি অবস্থার যুগের মানসিকতা নিয়ে চলা রাহুল এবং কংগ্রেস পার্টির এটা ভালো করে বুঝে নেওয়া উচিত (Rahul Gandhi)।’’

LinkedIn
Share