Tag: congress

congress

  • Donald Trump: ট্রাম্প কি ‘মানসিকভাবে সুস্থ?’ মার্কিন আইনপ্রণেতার প্রশ্নে ক্ষিপ্ত আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    Donald Trump: ট্রাম্প কি ‘মানসিকভাবে সুস্থ?’ মার্কিন আইনপ্রণেতার প্রশ্নে ক্ষিপ্ত আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সরব হলেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের শুনানিতে (US Congress) এই প্রশ্ন ঘিরে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। প্রশ্নের মুখে পড়েন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ (Pete Hegseth)। ইরানকে কেন্দ্র করে চলা সংঘাতের আবহে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য—বিশেষ করে “পুরো সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে” এই ধরনের হুমকি—নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষিতেই কংগ্রেসে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন ডেমোক্র্যাট সাংসদ সারা জেকব্স (Sara Jacobs)। তাঁর প্রশ্ন ছিল, ট্রাম্প কি “কমান্ডার-ইন-চিফ” হওয়ার মতো মানসিকভাবে স্থিতিশীল?

    প্রেসিডেন্টকে রক্ষার চেষ্টা

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ-পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কংগ্রেসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মানসিক স্থিতিশীলতা’ এবং তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘অসংলগ্ন’ পোস্টগুলো নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর একটি পোস্টে এমনকি ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। ক্যাপিটল হিলে শুনানির সময় এই প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ যা বলেছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সেখানে তিনি সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর না দিয়ে প্রেসিডেন্টকে রক্ষার চেষ্টা করেন।

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রশ্ন

    ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সারা জেকব্স প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে জিজ্ঞেস করছেন, ‘কমান্ডার ইন চিফ’ হওয়ার মতো ট্রাম্প ‘মানসিকভাবে যথেষ্ট স্থিতিশীল’ কি না। সারা বলেন, “আমাদের রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে এই প্রশ্নটি করতেও আমার কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে, আপনারা কি মনে করেন যে রাষ্ট্রপতি সর্বাধিনায়ক হওয়ার জন্য মানসিকভাবে যথেষ্ট স্থিতিশীল?” এ সময় অনেকটা বিরক্ত মুখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দ্রুত প্রেসিডেন্টের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেনের ক্ষেত্রেও কি চার বছর ধরে একই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। জেকব্স উত্তর দেন, জো বাইডেন এখন প্রেসিডেন্ট নন। ট্রাম্প দেড় বছর ধরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন। রাগান্বিত হেগসেথ বলেন, ‘আপনি কমান্ডার ইন চিফকে যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন, আমি সেই পর্যায়ে তর্কে জড়াব না।’ পরে তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্প একজন ‘অসাধারণ কমান্ডার ইন চিফ, যিনি আমাদের সৈন্যদের স্বার্থকে সবার আগে দেখেন। জেকব্স যুক্তি দেন যে ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ দলমত নির্বিশেষে সবার মধ্যেই রয়েছে এবং এ প্রসঙ্গে তিনি মার্জোরি টেইলর গ্রিন, ক্যান্ডেস ওয়েন্স, মেগিন কেলি, টাকার কার্লসন, অ্যালেক্স জোনস এবং স্টেফানি গ্রিশামের মতো ব্যক্তিত্বদের সমালোচনার কথা উল্লেখ করেন।

    আমেরিকার সামরিক বাজেট

    হাউস ও সেনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্যরা ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৭ সালের সামরিক বাজেট প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই প্রস্তাবে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে ঐতিহাসিকভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে হেগসেথ বলেন, এই রেকর্ড পরিমাণ বাজেটের অনুরোধ বছরের পর বছর ধরে চলা ‘অল্প বিনিয়োগ এবং অব্যবস্থাপনা’ দূর করে ‘আমাদের বাহিনীকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করবে।’ হেগসেথ বলেন, ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের এই বাজেট নিশ্চিত করবে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সক্ষম সামরিক বাহিনী হিসেবে টিকে থাকবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই প্রস্তাবকে মার্কিন সামরিক শক্তির একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি শিল্প সক্ষমতা, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং সৈন্যদের কল্যাণে বিনিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি তরুণ তালিকাভুক্ত কর্মীদের বেতন ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করার কথা জানিয়ে বলেন, এই বাজেটের মাধ্যমে ‘নিম্নমানের বা জরাজীর্ণ সব ব্যারাক’ নির্মূল করা হবে। হেগসেথ আরও বলেন, একটি জাতির দ্রুত ও বড় পরিসরে উদ্ভাবন করা, নির্মাণ করা এবং যোদ্ধাদের সংকটকালীন প্রয়োজনগুলো মেটানোর সক্ষমতাই হলো তার প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং টিকে থাকার মূল ভিত্তি।

    ট্রাম্পের মানসিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ কেন

    ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বেশ কিছু হুমকিমূলক এবং উত্তেজনাকর পোস্ট করেন। এর মধ্যে অনেক পোস্ট মাঝরাতে করা হয়েছে, যখন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ঘুমিয়ে থাকেন, যা তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, এমনই অভিমত সেনেটের। একটি বিশেষ ঘটনায় ট্রাম্প পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি ঘোষণা করেন, ইরান যদি তাঁর দাবি মেনে না নেয়, তবে ‘এক রাতে একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস হবে’। ট্রাম্প এআই-প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি নিজের একটি ছবিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তাঁকে যিশুখ্রিষ্টের মতো একটি ঐশ্বরিক অবয়বে দেখানো হয়েছে এবং তাঁর হাত থেকে পবিত্র আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ছবিটি সরিয়ে নেন। তবে নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘ছবিটিতে আমাকে একজন চিকিৎসক হিসেবে দেখানোর কথা ছিল, যে মানুষকে সুস্থ করার কাজ করছে।’

  • JD Vance: ‘ইরান যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্পকে দেওয়া পেন্টাগনের রিপোর্ট সঠিক নয়’, আশঙ্কা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের

    JD Vance: ‘ইরান যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্পকে দেওয়া পেন্টাগনের রিপোর্ট সঠিক নয়’, আশঙ্কা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং শীর্ষ সামরিক কর্তাদের ইরান যুদ্ধের (Iran War) অগ্রগতি নিয়ে দেওয়া বিভিন্ন রিপোর্ট সঠিক নয় বলেই আশঙ্কা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের (JD Vance)। তাঁর মতে, যুদ্ধে আমেরিকার সাফল্য সম্পর্কে পেন্টাগনের অতিরঞ্জিত উপস্থাপন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত করতে পারে। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ এই মতভেদ প্রকাশ করেছে ‘দ্য আটলান্টিক’।

    ভ্যান্সের সন্দেহ (JD Vance)

    প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের দাবি, আট সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, নিরাপদে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার। গোপন বৈঠকে ভান্স বারবার এসব দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে অসমর্থিত সূত্রের খবর। ভ্যান্সের সন্দেহ, আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র মজুতে বড় ঘাটতি রয়েছে, এ তথ্য লুকিয়ে রেখেছে পেন্টাগন। তিনি ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, বর্তমান অস্ত্রসঙ্কট ভবিষ্যতে চিন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।

    পেন্টাগনের দাবি

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মতে, আমেরিকা ইতিমধ্যেই তার অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। পেন্টাগনের দাবি, ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশসীমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডার একটুও কমেনি। তবে ভ্যান্স মনে করছেন, বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান এখনও তার বিমানবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার দুই-তৃতীয়াংশ ধরে রেখেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে সক্ষম ইরানি নৌযানও এখনও হুমকি হিসেবেই রয়ে গিয়েছে (JD Vance)।

    সমালোচকদের অভিযোগ

    সমালোচকদের অভিযোগ, পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ বাস্তব পরিস্থিতি জানানোর বদলে ট্রাম্প যা শুনতে চান, তাই বলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফক্স নিউজে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে হেগসেথ ট্রাম্পের মনোভাব অনায়াসেই বুঝতে পারেন (Iran War)। ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার আগেই ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, “এতে ব্যাপক প্রাণহানি হবে এবং অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।” তবে এখন ভ্যান্স অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোচ্ছেন, কারণ তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিজের ভালো সম্পর্ক এবং ২০২৮ সালের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের বিষয়টি মাথায় রাখছেন।

    মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত

    এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত, ইরানের বিমানবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনও অনেকটাই অক্ষত রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অভিযান চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে ইরানের (JD Vance)। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ প্রায় ছ’ঘণ্টাব্যাপী এক শুনানিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর শপথ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার এটাই ছিল তাঁর প্রথম উপস্থিতি। বুধবার প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির সামনে হাজির হন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষা (Iran War) বিভাগের প্রধান আর্থিক কর্তা জুলস হার্স্ট।

    হেগসেথের বক্তব্য

    উদ্বোধনী বক্তব্যে হেগসেথ বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হল ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকানের বক্তব্য।” কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সংঘাতে ফেডারেল অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। হার্স্ট জানান, এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে আমেরিকার খরচ হয়েছে ২৫ বিলিয়ন ডলার। এর বেশিরভাগটাই ব্যয় হয়েছে গোলাবারুদ এবং সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে। খরচের পুরো হিসেব পরে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তি আলোচনায় বসতে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, যদিও সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও শেষ হয়নি (JD Vance)।

    প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর দাবি

    অর্থের বিষয়টি শুনানির বড় আলোচ্য বিষয় ছিল। হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে প্রতিরক্ষা বাজেট ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার অনুরোধ করেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সামরিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি (Iran War)। হেগসেথ বলেন, “বাজেট প্রস্তাবটি সময়ের জরুরির বিষয়টি প্রতিফলিত করে।” জেনারেল কেইন বলেন, “১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ঐতিহাসিক অগ্রিম বিনিয়োগ, যা দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখবে।” ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রায়ই ইরানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া চালানো ‘ব্যয়বহুল পছন্দের যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

    ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট জন গারামেন্ডি বলেন, “আপনি প্রথম দিন থেকেই এই যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকান জনগণকে মিথ্যে বলে আসছেন, এবং প্রেসিডেন্টও তাই (JD Vance) করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প পশ্চিম এশিয়ার আর একটি যুদ্ধে একেবারে কাদায় আটকে গিয়েছেন (Iran War)”।

     

  • Assembly Elections 2026: অসম ফের বিজেপির দখলে, বাকি দুই রাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, বলছে এক্সিট পোল

    Assembly Elections 2026: অসম ফের বিজেপির দখলে, বাকি দুই রাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, বলছে এক্সিট পোল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, আগামী ৪ মে ফল ঘোষণা হবে দেশের আরও তিন রাজ্যের বিধানসভার (Assembly Elections 2026)। এই রাজ্য তিনটি হল অসম, তামিলনাড়ু এবং কেরল। কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরির ফল ঘোষণাও হবে ওই দিনই (Exit Poll)। বুধবারই বাংলায় সাঙ্গ হল দু’দফার ভোট-পর্ব। তার পরেই শুরু হয়ে গিয়েছে কোন রাজ্যে কে ক্ষমতায় আসছে, তা নিয়ে জল্পনা। এর কারণ একাধিক এক্সিট পোল বা  বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল। দেখে নেওয়া যাক, কী বলছেন ভোট বিশেষজ্ঞরা।

    অসমের এক্সিট পোল

    ১২৬ আসন বিশিষ্ট অসম বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ৬৪। একাধিক বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল বলছে, অসমে ফের ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৮ থেকে ১০০টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ২৪ থেকে ৩৬টি আসন। একটিও আসনও পাচ্ছে না এআইইউডিএফ। অন্যরা পেতে পারে শূন্য থেকে ৩টি আসন। জনমত পোলস-এর বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৭ থেকে ৯৮টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ২৯ থেকে ৩০টি আসন। অন্যরা কোনও আসন পাবে না। জেভিসির বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৮ থেকে ১০১টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে যেতে পারে ২৩ থেকে ৩৩টি আসন। এআইইউডিএফ পেতে পারে ২ থেকে ৫টি আসন (Exit Poll)। কামাক্ষ্যা অ্যানালিটিকসের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৫ থেকে ৯৫টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ২৬ থেকে ৩৯টি আসন। অন্যরা পেতে পারে বড়জোর ৩টি আসন (Assembly Elections 2026)।

    তামিলনাড়ুর এক্সিট পোল

    দক্ষিণের দুটি রাজ্যেও হয়েছে বিধানসভার নির্বাচন। তামিলনাড়ু বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৩৪। ম্যাজিক ফিগার ১১৮টি আসন। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, তামিলনাড়ুতে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা। লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে শাসকদল ডিএমকে, এডিএমকে এবং অভিনেতা বিজয়ের নয়া রাজনৈতিক দল টিভিকে-ও। এবার সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে এই নয়া দল। ঘুরে দাঁড়াতে পারে এডিএমকে-ও। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, ডিএমকে পেতে পারে ৯২ থেকে ১১০টি আসন। এডিএমকে পেতে পারে ২২ থেকে ২৩টি আসন। টিভিকের ঝুলিতে যেতে পারে ৯৮ থেকে ১২০টি আসন।

    বুথ ফেরত সমীক্ষা

    জেভিসির বুথ ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, ডিএমকে পেতে পারে ৭৫ থেকে ৯৫টি আসন। এডিএমকে পেতে পারে ১২৮ থেকে ১৪৭টি আসন। টিভিকে পেতে পারে ৮ থেকে ১৫টি আসন। অন্যরা কোনও আসনই পাবে না (Assembly Elections 2026)।কামাক্ষ্যা অ্যানালেটিকসের বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল বলছে, ডিএমকে পেতে পারে ৭৮ থেকে ৯৫টি আসন। এডিএমকে পেতে পারে ৬৮ থেকে ৮৪টি আসন। টিভিকে পেতে পারে ৬৭ থেকে ৮১টি আসন (Exit Poll)। ম্যাট্রিজের বুথ ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, ডিএমকে পেতে পারে ১২২ থেকে ১৩২টি আসন। এডিএমকে পেতে পারে ৮৭ থেকে ১০০টি আসন। টিভিকের ঝুলিতে পড়তে পারে ১০ থেকে ১২টি আসন। অন্যরা খুব বেশি হলে পেতে পারে ৬টি আসন।

    কেরলের এক্সিট পোল

    দক্ষিণের আর এক রাজ্য কেরলেও হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। ১৪০ আসন বিশিষ্ট এই বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ৭১টি আসন। একাধিক বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল বলছে, কেরলে এবার সরকার পরিবর্তন হতে চলেছে। বামেদের ক্ষমতাচ্যুত করে সরকার গড়তে পারে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, এলডিএফ ৪৯ থেকে ৬২টি আসন পেতে পারে। ইউডিএফ পেতে পারে ৭৮ থেকে ৯০টি আসন। বিজেপি পেতে পারে সর্বোচ্চ ৩টি আসন (Assembly Elections 2026)। পিপলস ইনসাইটের বুথ ফেরত সমীক্ষায় দাবি, বামেদের জোট এলডিএফ পেতে পারে ৫৮ থেকে ৬৮টি আসন। ইউডিএফ পেতে পারে ৬৬ থেকে ৭৬টি আসন। পদ্ম-ঝুলিতে পড়তে পারে ১০ থেকে ১৪টি আসন। অন্যরা পাবে সর্বোচ্চ একটি আসন (Exit Poll)। পিপলস পালসের বুথ ফেরত সমীক্ষায় দাবি, এলডিএফ পেতে পারে ৫৫ থেকে ৬৫টি আসন। ইউডিএফ পেতে পারে ৭৫ থেকে ৮৫টি আসন। বিজেপি পেতে পারে সর্বোচ্চ ৩টি আসন। ভোট ভাইবের বুথ ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, এলডিএফ পেতে পারে ৫৮ থেকে ৬৮টি আসন। ইউডিএফ পেতে পারে ৭০ থেকে ৮০টি আসন। অন্যরা পেতে পারে বড়জোর ৪টি আসন। বিজেপি কোনও আসনই পাবে না (Assembly Elections 2026)।

    পুদুচেরির এক্সিট পোল

    কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি বিধানসভার ফলও বেরবে ৪ তারিখেই। ৩০ আসন বিশিষ্ট এই বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৬টি আসনের। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, এনআরসির নেতৃত্বাধীন শাসকদল এবার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, এনআরসি পেতে পারে ১৬ থেকে ২০টি আসন। কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা পেতে পারে ৬ থেকে ৮টি আসন। অভিনেতা বিজয়ের টিভিকের ঝুলিতে যেতে পারে ২ থেকে ৪টি আসন। অন্যরা পেতে পারে এক থেকে তিনটি আসন (Exit Poll)। কামাক্ষ্যা অ্যানালিটিকসের বুথ ফেরত সমীক্ষার দাবি, এনআরসি এবং তার সহযোগীরা পেতে পারে ১৭ থেকে ২৪টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে পড়তে পারে ৪ থেকে ৭টি আসন। টিভিকে পেতে পারে ১ থেকে ২টি আসন। অন্যরা পেতে পারে সর্বোচ্চ একটি আসন। পিপলস পালসের সমীক্ষা বলছে, এনআরসি পেতে পারে ১৬ থেকে ১৯টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে যেতে পারে ১০ থেকে ১২টি আসন। টিভিকে কোনও আসনই পাচ্ছে না। অন্যরা পেতে পারে ১ থেকে ২টি আসন (Assembly Elections 2026)। প্রাইয়া পোলের বুথ ফেরত সমীক্ষার দাবি, এনআরসি এবং তাদের সহযোগীরা পেতে পারে ১৯ থেকে ২৫টি আসন। কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা পেতে পারে ৬ থেকে ১০টি আসন। টিভিকে কোনও আসন পাবে না। অন্যদের অবস্থাও তথৈবচ (Exit Poll)।

     

  • PM Modi: তীব্র গরমে পুড়ছে ভারতের একাধিক শহর, প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলছেন বিরোধীরা

    PM Modi: তীব্র গরমে পুড়ছে ভারতের একাধিক শহর, প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলছেন বিরোধীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখনও মে মাস শুরুই হয়নি। তার আগেই তীব্র গরমে পুড়ছে (Heatwave) ভারতের বেশ কয়েকটি শহর। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশ-সহ ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। বিরোধী শিবির ও তাদের সমর্থকরা দেখাতে চাইছে, এই ঘটনা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ (PM Modi)। যদিও একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও তাপমাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে। এই চরম আবহাওয়ার পেছনে মানবসৃষ্ট কিছু কারণ থাকলেও, বেশি করে রয়েছে প্রাকৃতিক কারণ।

    সুপার এল নিনো (PM Modi)

    পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে সুপার এল নিনোর কারণে। এটি সমুদ্র থেকে অতিরিক্ত তাপ সংগ্রহ করে বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা প্রশান্ত মহাসাগরের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করছেন। এই ঘটনাবলী আগামী বছরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়াতে পারে এবং নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বর্তমানে ভারতের সমতলভূমিকে গ্রাস করা তীব্র গরম বৃহত্তর এক আবহাওয়াগত ধাঁচের অংশ, যা ছ’সপ্তাহ আগে উত্তর এশিয়া ও সাইবেরিয়ায় শুরু হয়েছিল।

    তাপমাত্রা মোকাবিলায় পদক্ষেপ

    এদিকে, এপ্রিলের শুরুতে বিভিন্ন অংশীদার একজোট হয়ে গ্লোবাল হিট হেল্থ ইনফর্মেশান নেটওয়ার্ক (GHHIN)-এর সাউথ এশিয়া হাব (South Asia Hub) গঠন করেছে। এর কারণ হল ভারত-সহ গোটা উপমহাদেশে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা মোকাবিলায় সহযোগিতা ও উদ্ভাবন বাড়ানো যায়। এটি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিওরোলজি (IITM) এবং ইন্ডিয়া মেটিওরোলজি (India Meteorological Department)-এর সঙ্গে কাজ করবে। লক্ষ্য, জলবায়ু তথ্যকে স্বাস্থ্যসেবামূলক পদক্ষেপে রূপান্তরের জন্য একটি অভিন্ন আঞ্চলিক পরিকাঠামো তৈরি করা। বিশ্ব এই পরিবর্তনের সঙ্গে লড়ছে এবং সমাধান খুঁজছে। অন্যদিকে, ভারতীয় বিরোধী দল ও বাম-উদারপন্থীরা অযৌক্তিক যুক্তি দিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সরকারকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত।

    মোদি সরকারকে দোষারোপ

    সমালোচকেরা নানা অদ্ভুত অজুহাত খাড়া করে মোদি সরকারকে দোষ দিচ্ছেন। ‘এপিক ম্যাপস’ ভারতের বাড়তে থাকা তাপমাত্রার একটি মানচিত্র প্রকাশ করে এটিকে কেবল ভারতের অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখায়, অথচ পাকিস্তান, ইয়েমেন, থাইল্যান্ড, মায়ানমার-সহ আশপাশের দেশগুলির তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি গোপন রাখে (Heatwave)। কংগ্রেস নেতা শ্রীনিবাস বিভি এই অসম্পূর্ণ তথ্যকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করেন। দিয়া মির্জা একটি পোস্ট শেয়ার করেন। তাতে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ফরেস্ট কনজারভেশন অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (Forest Conservation Amendment Act)-এর মাধ্যমে বন ধ্বংস ত্বরান্বিত হয়েছে। কারবারি আনসারির অভিযোগ, মোদি শুধু হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি করে ভোট কুড়োতে চান, জলবায়ু পরিবর্তন বা গরম নিয়ে তিনি উদাসীন।

    নিট-জিরো এমিশন

    যদিও বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ঘন বনভূমি বৃদ্ধি, ২০৭০ সালের মধ্যে নিট-জিরো এমিশন (net-zero emission) অর্জনের অঙ্গীকার করেছে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে (PM Modi)। তা সত্ত্বেও বিরোধীরা তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক প্রচারেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এআইসিসির সম্পাদক গৌরব পান্ধির দাবি, কংগ্রেস আমলে পরিস্থিতি ভালো ছিল, বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দীনেশ ওয়াদেরা বলেন, “পরিকাঠামোর উন্নয়নের ‘কংক্রিট উদ্যোগ’ই সমস্যার কারণ।” সুধীর যাদবের অভিযোগ, আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত জমি ও বন ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়ায় কাটা হয়েছে লাখ লাখ গাছ।

    “হিট ডোম”

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে গরমের প্রকৃত কারণ বহুস্তরীয়। কম বাতাস, উচ্চচাপ বলয় এবং মেঘের অভাবের কারণে তাপ ভূমির কাছাকাছি আটকে থাকে। ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেন্স (Indo-Gangetic plains) ও পূর্ব ভারতের ওপর তৈরি হওয়া “হিট ডোম” একটি বড় কারণ। এ বছর পশ্চিমী ঝঞ্ঝাও দুর্বল হয়েছে। তাই কম বৃষ্টি হয়েছে (Heatwave)। বাম-উদারপন্থীরা দাবি করলেও, ভারত বিশ্বের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে, এ কথা পুরোপুরি ঠিক নয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাটা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় বলা হয়েছে, ভারতের গড় পৃষ্ঠতাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেড়েছে ধীরে (PM Modi)।

    ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেন

    দূষণ থেকে উৎপন্ন এরোসলস (aerosols) সূর্যালোক ছড়িয়ে দেয়, কমিয়ে দেয় ভূমির ওপর সৌর বিকিরণ। এগুলি দক্ষিণ এশিয়ার ওপর এক ধরনের প্রতিফলক আবরণ তৈরি করে। এছাড়া, ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেনে (Indo-Gangetic plain) ব্যাপক সেচ বাষ্পীভবন বাড়িয়ে প্রাকৃতিক শীতলতা তৈরি করে। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের ইআরএ৫ ডেটাসেট অনুযায়ী, নয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপ প্রতি দশকে প্রায় ০.৫৩°সেলসিয়াস হারে উষ্ণ হয়েছে, যা একে পরিণত করেছে দ্রুততম উষ্ণ হওয়া মহাদেশে। আর্কটিক আরও দ্রুত, প্রতি দশকে প্রায় ০.৬৯°সেলসিয়াস হারে উষ্ণ হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশের বড় অংশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, প্রতি দশকে ০ থেকে ০.২°সেলসিয়াস।

    বস্তুত, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও তাপপ্রবাহ একটি বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা। এর সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ও আন্তরিক প্রচেষ্টা দরকার। কিন্তু বিরোধী দল ও তাদের সমর্থকেরা বাস্তব সমাধানের বদলে রাজনৈতিক আক্রমণে বেশি (Heatwave) মনোযোগী। সরকার বদলালেই বিশ্বের জলবায়ুগত বাস্তবতা বদলে যাবে না (PM Modi)।

     

  • PM Modi: “নারীদের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী শক্তি”, মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়ায় বিরোধীদের নিশানা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: “নারীদের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী শক্তি”, মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়ায় বিরোধীদের নিশানা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “নারীদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী শক্তি (Womens Bill) ও দেশের অগ্রগতি—উভয়ই।” ১৮ এপ্রিল, শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়ায় এদিন বিরোধী দলগুলিকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। বিরোধীরা সংবিধান এবং মহিলাদের আকাঙ্ক্ষা—উভয়ের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলেও তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী।

    বিরোধীদের তোপ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য এই আইনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বিলটি একবিংশ শতাব্দীর মহিলাদের জন্য ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।” প্রধানমন্ত্রী একে ‘সময়ের দাবি’ বলেও বর্ণনা করেন। তিনি এও বলেন, “ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় নারীদের সমান অংশীদার করার জন্য এটি (বিলটি) একটি পরিষ্কার ও সৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল।” লোকসভায় বিলটি পাশ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ দেখছে কীভাবে নারীদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী শক্তি ও দেশের অগ্রগতি—উভয়ই।” সংসদে বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া জানানোরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “তাঁরা যা করেছেন, তা শুধু ডেস্কে আঘাত করা নয়, বরং মহিলাদের আত্মসম্মানের ওপর আক্রমণ।”

    বিরোধীদের আসল চেহারা প্রকাশ

    কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলিকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী তাদের সংবিধান ও নারী ক্ষমতায়নের বিরোধী বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, তারা (বিরোধীরা) ঐতিহাসিকভাবে নারীদের সংরক্ষণ আনার প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করেছে (PM Modi)। তিনি বলেন, “কংগ্রেস মহিলাদের সংরক্ষণের ধারণাকে ঘৃণা করে এবং সবসময় বাধা সৃষ্টি করেছে (Womens Bill)। বিরোধীরা দেশের সামনে তাদের আসল চেহারাও প্রকাশ করেছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি আশা করেছিলাম কংগ্রেস তাদের দীর্ঘদিনের ভুল সংশোধন করবে, মহিলাদের সমর্থনে দাঁড়াবে, কিন্তু তারা ইতিহাস গড়ার সুযোগ হারিয়েছে।” বিরোধীদের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, তাদের কাজ আবারও প্রমাণ করেছে যে তাদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার জাতীয় স্বার্থের ওপরে (PM Modi)।

     

  • Mayawati: ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতীর

    Mayawati: ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার জন্য প্রস্তাবিত ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল (Womens Reservation Bill) সমর্থন করেছেন বহুজন সমাজবাদী পার্টির প্রধান মায়াবতী (Mayawati)। এই বিলটি পাশ করাতে কয়েক দিনের মধ্যে একটি বিশেষ অধিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংসদ। এই অধিবেশনেই মহিলাদের সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা ও পাস করা হবে। এই প্রেক্ষিতে বহুজন সমাজ পার্টি সুপ্রিমোর ভিন্ন সুরে যারপরনাই খুশি বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ। মায়াবতী বলেন, “এটি অন্তত মহিলাদের প্রাপ্য প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার একটি সূচনা।
    সংখ্যাটা হয়তো কম, কিন্তু এটি একটি শুরু, এবং আমরা একে স্বাগত জানাই। ৫০ না হলেও, ৩৩ শতাংশই চলবে।”

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য (Mayawati)

    উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দল বিএসপি আগে থেকেই মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্য কোনও দল এতে রাজি হয়নি, ভবিষ্যতেও সম্মত হবে বলে মনে হয় না। আমরা শ্রদ্ধেয় বিআর আম্বেদকরকেও ধন্যবাদ জানাই, যিনি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমান ভোটাধিকারের ব্যবস্থা করেছিলেন।” তিনি জানান, ২০২৩ সালে প্রথম পাশ হওয়া আইন বাস্তবায়িত হতে দেরি হলেও তার দল একে স্বাগত জানায় এবং ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যদিও দেরি হয়েছে, তবুও আমরা একে স্বাগত জানাই। যদি প্রকৃতপক্ষে শোষিত ও বঞ্চিত মহিলাদের—বিশেষত এসসি, এসটি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের মহিলাদের জন্য আলাদা সংরক্ষণ দেওয়া হয়, তবে তা যথাযথ ও ঐতিহাসিক (Mayawati) হবে।”

    নারী ক্ষমতায়ন নিয়েও আলোচনা

    মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মায়াবতী বলেন, “মহিলাদের অধিকার নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও সুস্পষ্ট নীতি ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। আগামীকাল থেকে সংসদের তিন দিনের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও সঠিক নীতি ও ইচ্ছেশক্তির অভাবে তা যথাযথভাবে এগোয়নি। অন্যান্য (Womens Reservation Bill) বঞ্চিত গোষ্ঠীর মতো মহিলারাও এখনও বিভিন্ন অপরাধ ও হিংসার শিকার হচ্ছেন (Mayawati)।”

    কংগ্রেসকে নিশানা মায়াবতীর

    কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর দলটির নীতিতে জাতিভেদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং এর ফলে মহিলাদের সংরক্ষণ বিলম্বিত হয়েছে।” মায়াবতী বলেন, “তৎকালীন কংগ্রেস সরকার জাতিভেদের কারণে এটি গ্রহণ করেনি এবং পরে ধাপে ধাপে তা পাশ করে। ফলে আম্বেদকরকে দেশের প্রথম আইনমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়। কারণ ওবিসিদের জন্য সংরক্ষণ এবং মহিলাদের নিরাপত্তা ও উন্নতির জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” প্রসঙ্গত, এর আগে মঙ্গলবার, সরকার ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে ৮১৫টি আসন রাজ্যগুলির জন্য এবং ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত হবে বলে সূত্রের খবর। বর্তমানে লোকসভায় ৫৪৩টি আসন রয়েছে। সরকার ১৬, ১৭ এবং ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে চায়, যাতে ২০২৯ থেকে লোকসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা যায় (Mayawati)। প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে সব রাজ্যের আসন সংখ্যা বাড়বে। এই বিশেষ অধিবেশনে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম, ২০২৩ সংশোধন এবং প্রস্তাবিত (Womens Reservation Bill) ডিলিমিটেশন বিলও নিয়ে আলোচনা হবে।

     

  • PM Modi: জোরকদমে ভোট চলছে কেরল-অসম-পুদুচেরিতে, কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi: জোরকদমে ভোট চলছে কেরল-অসম-পুদুচেরিতে, কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জোরকদমে ভোটগ্রহণ চলছে কেরল, অসম এবং পুদুচেরি বিধানসভায় (Assembly Elections)। আজ, ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) আহ্বান, তাঁরা যেন বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি বিশেষভাবে যুবসমাজ এবং মহিলাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (PM Modi)

    এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কেরলের জনগণকে বিপুল সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। রেকর্ড অংশগ্রহণ কেরলের গণতান্ত্রিক চেতনায় নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে। বিশেষ করে রাজ্যের যুবক-যুবতী এবং মহিলাদের আমি অনুরোধ করছি, তাঁরা যেন এগিয়ে এসে অধিক সংখ্যায় ভোট দেন।” কেরলে ২.৬ কোটিরও বেশি ভোটার রয়েছেন। রাজ্যের ১৪০টি বিধানসভা আসনে ৮৮৩ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। এই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে শাসক বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF), কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (UDF) এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (NDA)-এর মধ্যে।

    অসমবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    অসম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি অসমের জনগণকে বৃহৎ সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই। আশা করি, রাজ্যের যুবসমাজ এবং মহিলা ভোটাররাও উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন এবং এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের উৎসবে পরিণত করবেন (PM Modi)।” অসমে ২.৫ কোটিরও বেশি ভোটার ১২৬ সদস্যের বিধানসভা গঠনের জন্য ভোট দেবেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭২২ জন। ভোট হচ্ছে পুদুচেরিতেও। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পুদুচেরি বিধানসভা নির্বাচন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি প্রতিটি ভোটারকে অনুরোধ করছি যেন তাঁরা রেকর্ড সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে যুবসমাজ এবং মহিলা ভোটারদের প্রতি আমার আবেদন, তাঁরা যেন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এগিয়ে আসেন। প্রতিটি ভোট পুদুচেরির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ (Assembly Elections)।” পুদুচেরিতে ভোটার রয়েছেন ১০,১৪,০৭০ জন। এঁদের মধ্যে ৫,৩৯,১২৫ জন মহিলা, ৪,৭৪,৭৮৮ জন পুরুষ এবং ১৫৭ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। ১৮-১৯ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা ২৪,১৫৬ এবং ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ ভোটার রয়েছেন ৬,০৩৪ জন।

    সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন

    এদিকে, এদিন সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন পড়ছে অসম, কেরল এবং পুদুচেরির বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে। কেরলের ১৪০টি, অসমের ১২৬টি এবং পুদুচেরির ৩০টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে এক দফায়ই। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে (PM Modi)। অসমে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন শাসক দল বিজেপি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে লড়ছে। আর কংগ্রেস ২০১৬ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ফের ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈ, বিধানসভার স্পিকার বিশ্বজিৎ দৈমারি, বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া, এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল, রাইজর দলের সভাপতি অখিল গগৈ এবং অসম জাতীয় পরিষদের প্রধান লুরিঞ্জ্যোতি গগৈ (Assembly Elections)।

    লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন যাঁরা

    শাসক জোট এনডিএর প্রধান দলগুলি হল বিজেপি, অসম গণ পরিষদ (AGP) এবং বডো পিপলস ফ্রন্ট (BPF)। বিরোধী জোটে রয়েছে কংগ্রেস, রাইজর দল, অসম জাতীয় পরিষদ, সিপিআই(এম), এপিএইচএলসি এবং সিপিআই(এমএল)। কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে লড়ছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এখানে তৃতীয় শক্তি বিজেপি। কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরিতে ভোটার রয়েছেন ৯.৫০ লাখ। পুদুচেরিতে ২৩টি, কারাইকালে ৫টি এবং মাহে ও ইয়ানামে ১টি করে বিধানসভা আসন রয়েছে। এআইএনআরসি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং কংগ্রেস, ডিএমকে ও ভিসিকের জোট প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের (Assembly Elections) দল টিভিকের অংশগ্রহণ বড় প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে (PM Modi)।

  • Assam Election: অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কংগ্রেস ছাড়লেন প্রার্থী

    Assam Election: অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কংগ্রেস ছাড়লেন প্রার্থী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিরাট ধাক্কা খেল কংগ্রেস (Congress)। অসমের (Assam Election) উদালগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী সুরেন দাইমারি দল ছেড়ে দিয়েছেন। ভোটের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের আগে নিজের প্রার্থীপদও প্রত্যাহার করেছেন তিনি। বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন (বিটিআর)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে কংগ্রেস প্রার্থীর এহেন আচরণ দলের পক্ষে এক বিরাট ধাক্কা বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

    কংগ্রেসকে আক্রমণ (Assam Election)

    দল ছাড়ার আগে দাইমারি কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়ে জানান, “মুসলিম তোষণ রাজনীতিই তাঁর দলত্যাগের কারণ। তিনি বলেন, “দল আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কারণ কোনও শীর্ষ নেতা আমার হয়ে প্রচারে আসেননি।” তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে তফশিলি উপজাতি (ST)-বিরোধী মনোভাব রয়েছে। তারা ব্যস্ত সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতিতে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, উদালগুড়ি ও আশপাশের অঞ্চলের নির্বাচনী সমীকরণে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

    অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি

    এদিকে, নির্বাচন কমিশন অসম বিধানসভা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রাজ্যে ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার হবে ভোটগ্রহণ। অসমের প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক অনুরাগ গোয়েল জানান, সংশ্লিষ্ট সবাই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন (Congress)। আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী ব্যয়-সহ সব বিষয় কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে (Assam Election)। এসভিইইপি কর্মসূচির আওতায় রাজ্যজুড়ে ভোটারদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারও চালানো হয়েছে। পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩১,৪৯০টি ভোটকেন্দ্রেই (৩১,৪৮৬টি প্রধান ও ৪টি সহায়ক কেন্দ্র) এই সুবিধা চালু রয়েছে। এর ফলে জেলা নির্বাচন আধিকারিক, প্রধান নির্বাচন আধিকারিক এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে রিয়েল-টাইমে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা হবে।

    জোরদার নিরাপত্তার ব্যবস্থা

    নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, যার মধ্যে রয়েছেন সিআরপিএফ (CRPF) কর্মীরাও, মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তাই সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলিতে নিয়োগ করা হয়েছে মাইক্রো-অবজারভারও (Assam Election)। সব ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, ব্যবস্থা করা হয়েছে পানীয় জল, অপেক্ষা করার জায়গা, শৌচাগার এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার। ভোটারদের লাইনের পাশে বসার ব্যবস্থা (বেঞ্চ) এবং মোবাইল ফোন নিরাপদে রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে (Congress)। নির্বাচন পরিচালনায় মোট ১,৫১,১৩২ জন ভোটকর্মী নিয়োজিত। ভোটগ্রহণের জন্য ৪১,৩২০টি ব্যালট ইউনিট, ৪৩,৯৭৫টি কন্ট্রোল ইউনিট এবং ৪৩,৯৯৭টি ভিভিপ্যাট মেশিন রাখা হয়েছে।

    চুম্বকে ভোট তত্ত্ব

    সব মিলিয়ে মোট ৭২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২,৫০,৫৪,৪৬৩ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ১,২৫,৩১,৫৫২ জন পুরুষ, ১,২৫,২২,৫৯৩ জন মহিলা এবং ৩১৮ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। ৬৩,৪২৩ জন সার্ভিস ভোটারও রয়েছেন। ভোটারদের মধ্যে ১৮–১৯ বছর বয়সী রয়েছেন ৬,৪২,৩১৪ জন, ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে রয়েছেন ২,৫০,০০৬ জন এবং ২,০৫,০৮৫ জন প্রতিবন্ধীও রয়েছেন। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ৬০(সি) অনুযায়ী ৮৫ বছরের বেশি বয়স্ক নাগরিক ও চিহ্নিত প্রতিবন্ধীদের জন্য বাড়ি থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৬,০৩২ জন প্রবীণ (৮৫+) এবং ৮,৩৭৩ জন প্রতিবন্ধী এই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন (Congress)। প্রধান নির্বাচন আধিকারিক অনুরাগ গোয়েল সব পক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে প্রত্যেক নাগরিক তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন (Assam Election)।

     

  • Assam Assembly Election: অসমে শেষ ভোট প্রচার, উগ্র বিদ্বেষমূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগে কাঠগড়ায় কংগ্রেস

    Assam Assembly Election: অসমে শেষ ভোট প্রচার, উগ্র বিদ্বেষমূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগে কাঠগড়ায় কংগ্রেস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবারই শেষ হল ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনের (Assam Assembly Election) প্রচার। এদিনই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের (Mallikarjun Kharge) বিরুদ্ধে উগ্র বিদ্বেষমূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

    কাঠগড়ায় খাড়্গে (Assam Assembly Election)

    হিন্দুদের প্রতি চরম হতাশা ও বিদ্বেষের প্রকাশ হিসেবে, শ্রীভূমি জেলার দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের এক নির্বাচনী জনসভায় খাড়্গে দলের মুসলিম সমর্থকদের উসকানি দেন বলে অভিযোগ। কংগ্রেসের সভাপতি বলেন, “প্রয়োজনে মাঝপথে নমাজ আদায় ছেড়ে দিয়েও আরএসএস এবং বিজেপি কর্মীদের আক্রমণ করতে হবে।” এই দুই সংগঠনকে তিনি তুলনা করেন বিষধর সাপের সঙ্গে। খাড়্গে বলেন, “কোরআনে বলা আছে, যদি বিষধর সাপ দেখ, তাহলে তাকে মেরে ফেলতে হবে, এমনকি যদি নমাজ আদায় মাঝপথে ছাড়তেও হয়। আরএসএস-বিজেপি সেই বিষধর সাপের মতো। যদি তাদের না মারো, তবে তোমরা নিরাপদে থাকবে না।”

    একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের

    কংগ্রেস নেতার এহেন মন্তব্যে রাজ্যজুড়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে গিয়েছে। আরএসএসের তরফে অভিযোগ দায়ের হয়েছে দিশপুর এবং শিলচর থানায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, দক্ষিণ অসমের এক নির্বাচনী সভায় দেওয়া এই বক্তব্য অবমাননাকর, উসকানিমূলক এবং সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল (Mallikarjun Kharge)। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কংগ্রেস সভাপতির এই মন্তব্যে আরএসএস এবং বিজেপির মতাদর্শকে বিষধর সাপের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং তাদের নির্মূল করার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে (Assam Assembly Election)। আরএসএস জানিয়েছে, এই ধরনের বক্তব্য উত্তেজনা ছড়াতে পারে এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে শত্রুতা, ভয়ভীতি ও হিংসা উসকে দিতে পারে। নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় ভাবাবেগকে হাতিয়ার করাও খাড়্গের বক্তব্যে স্পষ্ট।

    জনপ্রতিনিধিত্ব আইন

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই বক্তব্য ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮৩ নম্বর ধারার অধীনে দুর্নীতিপূর্ণ নির্বাচনী আচরণের মধ্যে পড়ে। এটি জনসাধারণকে ভয় দেখানো এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর শামিল (Assam Assembly Election)। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আরএসএস এবং বিজেপির মতাদর্শকে “বিষাক্ত” বলে চিহ্নিত করা এবং তাদের নির্মূল করার আহ্বানকে সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের প্ররোচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এফআইআরে আরও বলা হয়েছে, এই মন্তব্য হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে এবং অসমে জনশান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করতে পারে। এমন বক্তব্য সময়মতো মোকাবিলা করা না হলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে।

    আরএসএসের বক্তব্য

    আরএসএসের তরফে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক আলোচনাকে সংবিধান ও আইনের সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং নির্বাচনী প্রচারে এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়, যা সামাজিক ঐক্য ও শান্তিকে বিপন্ন করে (Assam Assembly Election)। এদিকে, খাড়্গের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে গুয়াহাটি থানায় এফআইআর দায়ের করেছে বিজেপিও। অসম বিজেপির দাবি, ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির জন্য কংগ্রেস এমন পর্যায়ে নেমে গিয়েছে যে তারা সনাতন সভ্যতার পবিত্র প্রতীকগুলিকেও আক্রমণ করছে। কংগ্রেস নেতার এই উসকানিমূলক মন্তব্যকে হিন্দু বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অপমান হিসেবে তীব্র নিন্দে করেছে অসম প্রদেশ বিজেপি।

    প্রকাশ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্য

    পদ্মশিবিরের মতে, আরএসএস-বিজেপিকে নিষিদ্ধ করার দাবি রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার পরিচয় এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যও প্রকাশ করে। বিজেপির অভিযোগ, সনাতন সভ্যতায় প্রকৃতি ও জীবজগতকে পবিত্র হিসেবে মানা হয়, কিন্তু ভোটের মেরুকরণের উদ্দেশ্যে কংগ্রেস (Mallikarjun Kharge) এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যাতে ভগবান শিবের পবিত্র অলঙ্কারকেও ক্ষতিকর হিসেবে দেখানো হয়েছে—যা লাখ লাখ ভক্তের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে (Assam Assembly Election)। এই ধরনের বক্তব্য শুধু নিন্দনীয় নয়, সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে বিপজ্জনকও। অসম বিজেপি এই উসকানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে গুয়াহাটি শহরের বাসিষ্ঠ থানায় এফআইআর দায়ের করেছে। অভিযোগ জানানো হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনেও। নির্বাচনী প্রচারে উত্তেজনামূলক ও সমাজবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় খাড়্গের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

  • India Pakistan Relation: ‘ওরা বোধহয় ১৯৭১ সালের কথা ভুলে গিয়েছে…’, পাক মন্ত্রীর “কলকাতায় হামলা” মন্তব্যের সমালোচনা ভারতে

    India Pakistan Relation: ‘ওরা বোধহয় ১৯৭১ সালের কথা ভুলে গিয়েছে…’, পাক মন্ত্রীর “কলকাতায় হামলা” মন্তব্যের সমালোচনা ভারতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ (Khawaja Asif)-এর “ভবিষ্যৎ সংঘাতে কলকাতায় হামলা” (Pak Target Kolkata) সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি এবং বিরোধী কংগ্রেস উভয়ই এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে। প্রয়োজন পড়লে কলকাতাতেও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘‘ভারত যদি আবার আক্রমণের চেষ্টা করে, তবে গত বছরের চেয়েও বড় অপমানের মুখে পড়বে। এবার সংঘাত ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তা আমরা কলকাতা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাব। আমরা তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করব এবং তাদের নিজেদের ঘরের ভিতরেই আঘাত করব।’’ তাঁর অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদের ভুয়ো অভিযোগ তুলে পাকিস্তানকে দোষারোপ করতে পারে ভারত (India Pakistan Relation)।

    পাকিস্তানের নিশানায় কলকাতা

    গত ২ এপ্রিল ‘অপারেশন সিঁদুর’এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এবার আসিফের গলায় পালটা হুঁশিয়ারির সুর শোনা গেল। আসিফ বলেন, ‘সাজানো অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এর জন্য ওরা নিজেদের লোক ব্যবহার করবে। নাহলে ওদের হেপাজতে থাকা পাকিস্তানি বন্দিদেরও কাজে লাগাতে পারে। কয়েকটি মৃতদেহ ছুড়ে দিয়ে ওরা দাবি করবে, তারা জঙ্গি ছিল।’ আসিফের দাবি, ‘এক বছর আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি নিয়ে ওদের নিজেদের লোকও প্রশ্ন তুলেছিল। এবার যদি তেমন কোনও নাটকের চেষ্টা করা হয় তাহলে আমরাও জবাব দেব। বিষয়টি কলকাতা পর্যন্ত চলে যাবে।’ ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। গত বছর কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানার পর দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে আরও। ওই সন্ত্রাসী হামলায় হাত রয়েছে পাকিস্তানের, এমন‌ই অভিযোগ তুলে ‘সিঁদুর অভিযান’-এর মাধ্যমে প্রত্যাঘাত করে নয়াদিল্লি। গত বছর মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিন সংঘর্ষ চলে। পরে সংঘর্ষবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাতে ইতি পড়লেও উত্তেজনা এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত।

    সন্ত্রাসবাদের মূল কেন্দ্র পাকিস্তানই

    পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যের জবাবে কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি বলেন, “১৯৭১ সাল থেকে পাকিস্তান নিজেই ভুয়ো অপারেশন চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে তারা যেন পিএইচডি করেছে।” তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের মূল কেন্দ্র পাকিস্তানই। বিজেপির মুখপাত্র প্রতুল শাহ দেও পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অপারেশন সিঁদুরে আমরা তাদের ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করেছি। পাকিস্তান নিশ্চয়ই সেই অভিজ্ঞতা ভুলে যায়নি।” তাঁর দাবি, সেই সময় পাকিস্তানই যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছিল এবং ভারত নিজেদের শর্তে তা মেনে নেয়। তিনি আরও বলেন, “কলকাতা পাকিস্তানের নাগালের বাইরে। তারা শুধু বড় বড় কথা বলে। ভারত চাইলে পাকিস্তানের যেকোনও স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।” এছাড়া জনতা দল (ইউনাইটেড) নেতা নীরজ কুমার-ও একই সুরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যকে “অত্যন্ত আপত্তিকর” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, “অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি কয়েক মিনিটে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই ক্ষত এখনও টাটকা থাকা উচিত।”

    নজর ঘোরাতে এই মন্তব্য

    খোয়াজা আসিফের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল বলেন, “পাকিস্তানের ভেতরের অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তানে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, ঋণ শোধে চাপে সরকার, সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে। এই পরিস্থিতিতে এমন মন্তব্য আসলে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা।” একই সুরে বিজেপি নেতা শ্রীনিবাসও আসিফের বক্তব্যের নিন্দা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চলতে থাকলে ভারত কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।” প্রয়োজনে ‘অপারেশন সিঁদুর-২’-এর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। অন্যদিকে, কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ প্রবীণ আইনজীবী ও প্রাক্তন সাংসদ মজিদ মেমন কূটনৈতিক সংযম বজায় রাখার উপর জোর দেন। তাঁর কথায়, “কোনও দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পক্ষে এ ধরনের যুদ্ধংদেহী মন্তব্য করা উচিত নয়। শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই উচিত।”

    আসিফকে কটাক্ষ নেটিজেনদের

    আসিফের অভিযোগ, ফের সাজানো হামলার পরিকল্পনা করছে নয়াদিল্লি। এই অভিযানে স্থানীয়দের পাশাপাশি জেলে বন্দি পাকিস্তানিদের ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও এহেন দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পেশ করতে পারেননি আসিফ। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে কটাক্ষ। হুমকির ভিডিও সামনে আসতেই আসিফের সমালোচনায় সরব সোশ্যাল মিডিয়া। এক ব্যক্তি লেখেন, ‘প্রথমে নিজেদের দেশের মানুষকে পর্যাপ্ত খাবার দিন। পাকিস্তানের জেনারেল আর রাজনৈতিক নেতারা শুধু ফাঁপা হুঁশিয়ারি দিতে পারেন। দেশ বাঁচাতে মানুষের বিদ্রোহ ঘোষণা করা উচিত। কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের মানুষকে বোকা বানাচ্ছে জেনারলেরা।’ আরেক ব্যক্তির কটাক্ষ, ‘বাঙালিরা ক্ষেপণাস্ত্র ধরে মাছের ঝোল বানিয়ে খেয়ে ফেলবে।’ ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে আরেকজন লেখেন, ‘ওরা বোধহয় ১৯৭১ সালের কথা ভুলে গিয়েছে। ঢাকার স্বাধীনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল কলকাতা। তাই সাজানো অভিযানের অজুহাত দিয়ে কৌশলগত ব্যর্থতা ঢাকা যাবে না।’

LinkedIn
Share